জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমে স্লোগান

player
জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমে স্লোগান

জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমে একদল মুসল্লিকে স্লোগান দিতে দেখা যায়। ছবি: নিউজবাংলা

নামাজের সালাম ফেরানোর সঙ্গে সঙ্গে দৌড়ে গেটের সামনে চলে আসে একদল মুসল্লি। তাদের অনেককে ‘ইসলামের শত্রুরা হুঁশিয়ার, সাবধান’, ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।

জুমার নামাজের পরপরই জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সামনে স্লোগান দিতে দেখা গেছে একদল মুসল্লিকে।

নামাজের সালাম ফেরানোর সঙ্গে সঙ্গে দৌড়ে গেটের সামনে চলে আসে এসব মুসল্লি। তাদের অনেককে ‘ইসলামের শত্রুরা হুঁশিয়ার, সাবধান’, ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।

মুসল্লিদের কয়েকজনের হাতে ব্যানার দেখা যায়, তবে দ্রুত সামনের নিয়ে এগিয়ে যাওয়ায় সে ব্যানারে কী লেখা ছিল, তা দেখা যায়নি।

জাতীয় মসজিদের গেট থেকে বেরিয়ে মুসল্লিদের অনেককে নাইটিঙ্গেল মোড়ের দিকে যেতে দেখা যায়। সেখানে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। এতে ছত্রভঙ্গ হয়ে আশপাশের গলিতে ঢুকে যায় তারা।

জুমার নামাজের আগে একটি গেট বন্ধ করে দেয়াকে কেন্দ্র করে বায়তুল মোকাররমে উত্তেজনা দেখা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে মসজিদের উত্তর পাশের একটি কেঁচি গেট বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দেয় পুলিশ। ওই সময় একজন নিরাপত্তারক্ষী গেটটি বন্ধ করে দিলে নামাজ পড়তে আসা একদল মুসল্লি উত্তেজিত হয়ে পড়েন।

ওই নিরাপত্তারক্ষীকে ধাওয়াও দেয় উত্তেজিত লোকজন। ইসলামী ফাউন্ডেশনের গেটের দিকে ছুটলে নিরাপত্তারক্ষীকে রক্ষা করেন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা।

এরপর থেকেই উত্তর পাশের সিঁড়িতে থাকা একদল মুসল্লি নানা ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন। নামাজ শেষ হওয়ামাত্রই কিছু মুসল্লিকে দৌড়ে নাইটিঙ্গেল মোড়ের দিকে যেতে দেখা যায়।

দুর্গাপূজার বিসর্জনকে কেন্দ্র করে জুমার নামাজের পর যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য সকাল থেকে বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকায় সতর্ক অবস্থান নেয় পুলিশ। তাদের সঙ্গে কড়া প্রহরায় দেখা যায় র‌্যাব ও বিজিবি সদস্যদের।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, শুক্রবার জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিকভাবেই পল্টন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে। সম্প্রতি কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার অভিযোগে বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় অন্য সময়ের চেয়ে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়।

এ বিষয়ে খিলগাঁও জোনের সহকারী কমিশনার (প্যাট্রল) খন্দকার রেজাউল হাসান জুমার নামাজের আগে নিউজবাংলাকে বলেছিলেন, ‌‘অন্যান্য সময়েও শুক্রবার এ এলাকায় নিরাপত্তা বেশি নেয়া হয়। তবে আজকে আমরা আরও বেশি সতর্ক রয়েছি।

‌‘যেহেতু কুমিল্লাতে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে এবং এ নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় উত্তেজনাও দেখা গেছে, তাই বাড়তি সতর্কতা হিসেবে আমরা বায়তুল মোকররমসহ এই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে র‍্যাব, বিজিবির সদস্যরাও রয়েছে। তারা এই এলাকায় টহল দিচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
গেট বন্ধ নিয়ে বায়তুল মোকাররমে উত্তেজনা
বায়তুল মোকাররমে পুলিশ-র‍্যাব-বিজিবির কড়া প্রহরা
বায়তুল মোকাররমের ইমামের বয়স জালিয়াতি
শাটডাউনের জুমায় মসজিদের চিত্র
হেফাজতে ইসলামকে নিষিদ্ধের দাবি শেখ সেলিমের

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শাবি উপাচার্য ভবন পানি-বিদ্যুৎহীন

শাবি উপাচার্য ভবন পানি-বিদ্যুৎহীন

শিক্ষার্থীদের পক্ষে মোহাইমিনুল বাশার রাজ বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা প্রায় ১০০ ঘণ্টা ধরে অনশন করছেন। অথচ এখন পর্যন্ত উপাচার্যের পদত্যাগের কোনো লক্ষণ নেই। এ অবস্থা চলতে থাকলে আমরা উপাচার্যকে পূর্ণ অবরুদ্ধ করতে বাধ্য হব।’

সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের বাসভবনের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

রোববার রাত পৌনে ৮টার দিকে এই জরুরি পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করে দেন শিক্ষার্থীরা।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আন্দোলকারী শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন।

অনশনের পরও উপাচার্য (ভিসি) পদত্যাগ না করলে তাকে পূর্ণ অবরুদ্ধ করে রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনকারীদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে রোববার সন্ধ্যায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানান শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল বাশার রাজ।

এর আগে শিক্ষার্থীরা তাদের মঞ্চ থেকে ঘোষণা দেন, রোববারের পর থেকে উপাচার্যের বাসভবনে পুলিশ ছাড়া আর কেউ ঢুকতে পারবেন না। তার বাসায় পানি, বিদ্যুৎসহ সব পরিষেবা বন্ধ করে দেয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে এসে শিক্ষার্থীদের পক্ষে মোহাইমিনুল বাশার রাজ বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা প্রায় ১০০ ঘণ্টা ধরে অনশন করছেন। অথচ এখন পর্যন্ত উপাচার্যের পদত্যাগের কোনো লক্ষণ নেই। এ অবস্থা চলতে থাকলে আমরা উপাচার্যকে পূর্ণ অবরুদ্ধ করতে বাধ্য হব।

‘তখন তার বাসার জরুরি পরিষেবাও (পানি, বিদ্যুৎ) বন্ধ করে দেব আমরা। আর আজ থেকে পুলিশ ছাড়া কেউ তার বাসায় প্রবেশ করতে পারবেন না।’

উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তার পদত্যাগ দাবিতে গত ১৭ জানুয়ারি থেকে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। গত বুধবার থেকে একই স্থানে অনশন শুরু করেন ২৪ শিক্ষার্থী।

বাসভবনের সামনে অবস্থানের কারণে গত ১৭ জানুয়ারি থেকেই অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থী ইয়াছির সরকার বলেন, ‘এই উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। মৃত্যুবরণ করার আগ পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। অনশনের চেয়ে বড় কোনো অহিংস আন্দোলন হতে পারে না। আমরা এটিই চালিয়ে যাব।’

আরও পড়ুন:
গেট বন্ধ নিয়ে বায়তুল মোকাররমে উত্তেজনা
বায়তুল মোকাররমে পুলিশ-র‍্যাব-বিজিবির কড়া প্রহরা
বায়তুল মোকাররমের ইমামের বয়স জালিয়াতি
শাটডাউনের জুমায় মসজিদের চিত্র
হেফাজতে ইসলামকে নিষিদ্ধের দাবি শেখ সেলিমের

শেয়ার করুন

সুমিত্রা-রুপাদের পাশে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ

সুমিত্রা-রুপাদের পাশে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ

সুমিত্রা-রুপাদের পাশে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ। ছবি: নিউজবাংলা

বাপ-দাদার ভিটেমাটি থাকতেও দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সুমিত্রা রানী ও তার স্বজনরা। তাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী এক পরিবারের শখের বাগানবাড়ি বানাতে গিয়ে উচ্ছেদ করা হয় ওই পরিবারটিকে।

ভিটেমাটি হারানো সেই সুমিত্রা-রুপাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ফরিদপুর ও শরীয়তপুর জেলার নেতারা।

রোববার দুপুরে ওই বাড়িটি পরিদর্শনে যান তারা।

এ সময় শরীয়তপুর পূজা উদযাপন পরিষদ ও হিন্দু মহাজোট সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা ওই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বিক বিষয় সম্পর্কে খোঁজ নেন।

পরে ওই পরিবারকে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি খাদ্যসামগ্রী ও শীতবস্ত্র দিয়ে পাশে দাঁড়ায় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ ফরিদপুর জেলা।

নগদ ৭ হাজার টাকা, চাল, ডাল, তেল ও লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু সামগ্রী, পরিধেয় পোশাক ও শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল দেয়া হয়।

এ ছাড়া ওই পরিবারের তিন কন্যার পড়াশোনার জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা করে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ভবতোষ কুমার বসু রায়।

এ সময় ভবতোষ কুমার বসু জানান, গত শনিবার সুমিত্রা-রুপাদের ভিটেমাটি হারানোর বিষয়ে নিউজবাংলার সংবাদটি তার নজরে আসে।

তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি অমানবিক। পরিবারটিতে সবাই নারী সদস্য। একদিকে যেমন অর্থনৈতিক সমস্যা, অন্যদিকে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে তারা। অসহায় এই পরিবারটি যেন তাদের জমি ফিরে পায় সে জন্য আমাদের সংগঠন থেকে সব ধরনের আইনি সহযোগিতা করা হবে।’

এর আগে গত শনিবার নিউজবাংলায় ‘সুমিত্রা রুপাদের স্বপ্ন কেড়ে নিল সিকদারের বাগানবাড়ি’ শিরোনামে খবরটি প্রকাশিত হয়।

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার ডিঙ্গামানিক মৌজার মধুপুর গ্রামে ৩০ একর জমির ওপর একটি বাগানবাড়ি নির্মাণ করেছে প্রয়াত ব্যবসায়ী জয়নুল হক সিকদারের পরিবার।

অভিযোগ উঠেছে, এই বাগানবাড়ি বানাতে গিয়ে একটি হিন্দু পরিবারকে জোর করে উচ্ছেদ করেছে সিকদার রিয়েল এস্টেট।

পরে নানা ঘাত-প্রতিঘাতে ওই পরিবারের দুই পুরুষ সদস্যের মৃত্যু হলে ভাইয়ের তিন মেয়েকে নিয়ে ডিঙ্গামানিক গ্রামের কাদির শেখের পরিত্যক্ত রান্নাঘরে আশ্রয় নেন সুমিত্রা।

আরও পড়ুন:
গেট বন্ধ নিয়ে বায়তুল মোকাররমে উত্তেজনা
বায়তুল মোকাররমে পুলিশ-র‍্যাব-বিজিবির কড়া প্রহরা
বায়তুল মোকাররমের ইমামের বয়স জালিয়াতি
শাটডাউনের জুমায় মসজিদের চিত্র
হেফাজতে ইসলামকে নিষিদ্ধের দাবি শেখ সেলিমের

শেয়ার করুন

শাবি উপাচার্য ভবনে পানি-বিদ্যুৎ বন্ধের ঘোষণা

শাবি উপাচার্য ভবনে পানি-বিদ্যুৎ বন্ধের ঘোষণা

শাবি উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে টানা আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল বাশার রাজ বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা প্রায় ১০০ ঘণ্টা ধরে অনশন করছেন। অথচ এখন পর্যন্ত উপাচার্যের পদত্যাগের কোনো লক্ষণ নেই। এ অবস্থা চলতে থাকলে আমরা উপাচার্যকে পূর্ণ অবরুদ্ধ করতে বাধ্য হব।’

অনশনের পরও উপাচার্য (ভিসি) পদত্যাগ না করলে তাকে পূর্ণ অবরুদ্ধ করে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনকারীদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে রোববার সন্ধ্যায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানান শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল বাশার রাজ।

এর আগে শিক্ষার্থীরা তাদের মঞ্চ থেকে ঘোষণা দেন, রোববারের পর থেকে উপাচার্যের বাসভবনে পুলিশ ছাড়া আর কেউ ঢুকতে পারবে না। তার বাসায় পানি, বিদ্যুৎসহ সব পরিষেবা বন্ধ করে দেয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে এসে শিক্ষার্থীদের পক্ষে মোহাইমিনুল বাশার রাজ বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা প্রায় ১০০ ঘণ্টা ধরে অনশন করছেন। অথচ এখন পর্যন্ত উপাচার্যের পদত্যাগের কোনো লক্ষণ নেই। এ অবস্থা চলতে থাকলে আমরা উপাচার্যকে পূর্ণ অবরুদ্ধ করতে বাধ্য হবো।

‘তখন তার বাসার জরুরি পরিষেবাও (পানি, বিদ্যুৎ) বন্ধ করে দেব আমরা। আর আজ থেকে পুলিশ ছাড়া কেউ তার বাসায় প্রবেশ করতে পারবেন না।’


শাবি উপাচার্য ভবনে পানি-বিদ্যুৎ বন্ধের ঘোষণা


উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তার পদত্যাগ দাবিতে গত ১৭ জানুয়ারি থেকে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। গত বুধবার থেকে একই স্থানে অনশন শুরু করেন ২৪ শিক্ষার্থী।

বাসভবনের সামনে অবস্থানের কারণে গত ১৭ জানুয়ারি থেকেই অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। তবে তার বাসায় প্রতিদিনই শিক্ষক, কর্মকর্তা, পুলিশ ও সাংবাদিকরা যাওয়া-আসা করছেন। চালু রয়েছে তার বাসার সব জরুরি পরিষেবাও।

উপাচার্যের বাসার সামনে মানবপ্রাচীর গড়ে তোলা হবে বলেও জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থী ইয়াছির সরকার বলেন, ‘এই উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। মৃত্যুবরণ করার আগ পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। অনশনের চেয়ে বড় কোনো অহিংস আন্দোলন হতে পারে না। আমরা এটিই চালিয়ে যাব।’

আরও পড়ুন:
গেট বন্ধ নিয়ে বায়তুল মোকাররমে উত্তেজনা
বায়তুল মোকাররমে পুলিশ-র‍্যাব-বিজিবির কড়া প্রহরা
বায়তুল মোকাররমের ইমামের বয়স জালিয়াতি
শাটডাউনের জুমায় মসজিদের চিত্র
হেফাজতে ইসলামকে নিষিদ্ধের দাবি শেখ সেলিমের

শেয়ার করুন

অনশনে অনড় শাবি শিক্ষার্থীরা, আলোচনা নিয়ে শঙ্কা

অনশনে অনড় শাবি শিক্ষার্থীরা, আলোচনা নিয়ে শঙ্কা

শিক্ষার্থী ইয়াছির সরকার বলেন, ‘আজ দুপুরে শিক্ষামন্ত্রীর প্রতিনিধির সঙ্গে আমাদের সবশেষ আলাপ হয়েছে। তিনি আমাদের সম্ভব হলে অনশন ভেঙে আলোচনায় আসার আহ্বান জানিয়েছেন... এরপর তাদের সঙ্গে আমাদের আর কোনো আলাপ হয়নি।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান সংকট নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক দফা ভার্চুয়ালি বৈঠক করলেও কোনো সমাধান হয়নি।

বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের অনশন ভেঙে আলোচনায় আসার প্রস্তাব দেন। তবে উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান শিক্ষার্থীরা।

এ অবস্থায় আজ দুপুরে আবারও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দীপু মনির বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে এদিন বিকেল ৫টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বৈঠক হয়নি।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ইয়াছির সরকার বলেন, ‘আজ দুপুরে শিক্ষামন্ত্রীর প্রতিনিধির সঙ্গে আমাদের সর্বশেষ আলাপ হয়েছে। তিনি আমাদের সম্ভব হলে অনশন ভেঙে আলোচনায় আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

‘তবে আমরা তাকে বলেছি, এতটা মানুষের জীবনের চাইতে একজনের পদ রক্ষা করা কি মূল্যবান। তিনি এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি। এরপর তাদের সঙ্গে আমাদের আর কোনো আলাপ হয়নি।’

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে না এলে পুনরায় আলোচনা না-ও হতে পারে।

শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি উপাচার্যের পদত্যাগ, এ ব্যাপারে সরকার থেকে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।

শিক্ষামন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে শনিবার শাবি ক্যাম্পাসে এসেছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল।

তিনি রোববার বিকেলে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কিছুক্ষণ আগেও আমার আলাপ হয়েছে। তিনি শিক্ষার্থীদের অনশন ভেঙে আলোচনায় আসার অনুরোধ জানিয়েছেন। অনশনরত শিক্ষার্থীদের কষ্ট তিনি মেনে নিতে পারছেন না।’

নাদেল বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী সব আলোচনায় প্রস্তুত। তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য আলোচনা করতে উদ্গ্রীব হয়ে আছেন। কিন্তু আলোচনা যৌক্তিকভাবে করতে হবে। শিক্ষার্থীরা যদি নিজ দাবিতে অনড় থাকেন, তাহলে আলোচনা কতটুকু সফল হবে সেই প্রশ্ন থেকে যায়।

‘শনিবারের আলোচনায় শিক্ষামন্ত্রী একটি ছাড়া শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। বাকি দাবি লিখিত আকারে দিতে বলেছেন। তাদের আইনগত ও অ্যাকাডেমিক সমস্যা যাতে না হয় তা দেখবেন বলেছেন। এই অবস্থায় শিক্ষার্থীদেরও কিছুটা এগিয়ে আসা উচিত।’

এখনও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছেন জানিয়ে নাদেল বলেন, ‘আমি আজ দুপুরেও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের শিক্ষামন্ত্রীর অনুরোধের কথা জানিয়েছি। আশা করছি তারা মন্ত্রীর অনুরোধ রাখবেন।’

আলোচনায় দুই পক্ষকেই ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেন নাদেল।

উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শনিবার মধ্যরাতে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল বাশার রাজ বলেন, ‘মন্ত্রী আমাদের অনশন ভাঙার অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা অনশন থেকে সরব না।’

শনিবার রাত থেকে নতুন করে অনশন শুরু করেছেন আরও চার শিক্ষার্থী।

আরও পড়ুন:
গেট বন্ধ নিয়ে বায়তুল মোকাররমে উত্তেজনা
বায়তুল মোকাররমে পুলিশ-র‍্যাব-বিজিবির কড়া প্রহরা
বায়তুল মোকাররমের ইমামের বয়স জালিয়াতি
শাটডাউনের জুমায় মসজিদের চিত্র
হেফাজতে ইসলামকে নিষিদ্ধের দাবি শেখ সেলিমের

শেয়ার করুন

প্রশ্নফাঁস: সেই চেয়ারম্যানকে জেলা আ.লীগের পদ থেকে অব্যাহতি

প্রশ্নফাঁস: সেই চেয়ারম্যানকে জেলা আ.লীগের পদ থেকে অব্যাহতি

বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবা নাসরীন রুপা। ছবি: নিউজবাংলা

বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আল রাজি জুয়েল বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও উত্তর সরবরাহের সঙ্গে রুপার জড়িত থাকার বিষয়টি জানতে পারি। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।’

সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও উত্তর সরবরাহ এবং দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে বগুড়ার সেই নারী ভাইস চেয়ারম্যানকে জেলা আওয়ামী লীগের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আল রাজি জুয়েলের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে রোববার দুপুরে বিষয়টি জানানো হয়।

দুপচাঁচিয়া উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবা নাসরীন রুপা জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন।

জুয়েল বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও উত্তর সরবরাহের সঙ্গে রুপার জড়িত থাকার বিষয়টি জানতে পারি। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।

‘তার এ ধরনের কাজে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। তাই তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেয়া হলো।’

শুক্রবার রাজধানীর তিনটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে নারী ভাইস চেয়ারম্যান রুপাসহ ১০ জন আটক করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা।

দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী হাসান জানান, শনিবার সন্ধ্যায় রুপাসহ ১০ জনের নামে মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় সবাইকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
গেট বন্ধ নিয়ে বায়তুল মোকাররমে উত্তেজনা
বায়তুল মোকাররমে পুলিশ-র‍্যাব-বিজিবির কড়া প্রহরা
বায়তুল মোকাররমের ইমামের বয়স জালিয়াতি
শাটডাউনের জুমায় মসজিদের চিত্র
হেফাজতে ইসলামকে নিষিদ্ধের দাবি শেখ সেলিমের

শেয়ার করুন

হামলার দায় প্রশাসন এড়াতে পারে না: শাবি শিক্ষকদের বিবৃতি

হামলার দায় প্রশাসন এড়াতে পারে না: শাবি শিক্ষকদের বিবৃতি

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা চরম হতাশার সঙ্গে লক্ষ্য করেছি এ সংক্রান্ত একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও বাস্তবে উল্লেখিত তদন্ত কমিটি কোনো রকম অগ্রগতি করেছে বলে দৃশ্যমান হচ্ছে না। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে-যাওয়া ঘটনার দায়ভার কোনোভাবেই প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এড়াতে পারেন না।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রশাসন দায় এড়াতে পারে না বলে মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদের’ নেতারা।

শিক্ষকদের এই প্যানেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মোহাম্মদ মস্তাবুর রহমানের এক বিবৃতিতে শনিবার রাতে এমন দাবি জানানো হয়।

হামলার ছয়দিন পর এ ঘটনায় শিক্ষকদের কোনো পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এলো।

সিরাজুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন চলাকালে গত ১৬ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিন সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে উপাচার্যকে মুক্ত করে পুলিশ। দুইপক্ষের সংঘর্ষ শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন।

হামলার পর ওই রাত থেকেই উপাচার্য, প্রক্টরিয়াল বডি ও ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। এই দাবিতে আমরণ অনশনও চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের তিনটি বলয় রয়েছে। আওয়ামী-বামপন্থি শিক্ষকদের প্যানেল ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্তচিন্তা চর্চায় ঐক্যবদ্ধ শিক্ষক পরিষদ’। আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদ’ ও বিএনপি-জামায়াতপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও ধর্মীয় মূল্যবোধে শ্রদ্ধাশীল শিক্ষক পরিষদ’।

বিশ্ববিদ্যলয়ের প্রক্টর ও ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টার দায়িত্বে রয়েছেন ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্তচিন্তা চর্চায় ঐক্যবদ্ধ শিক্ষক পরিষদ’। আর শনিবার বিবৃতি দেয়া ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদ’ প্রশাসনিক দায়িত্ব থাকা শিক্ষকদের বিরোধী বলয়ের।

‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদ’-এর বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের জীবন বিপন্ন হতে চলেছে। এমতাবস্থায় শিক্ষক হিসেবে আমরা শুরু থেকেই চলমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে লক্ষ্য করছি যে, দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের আক্রমণের ব্যাপারে কোনো অফিশিয়াল ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে না-দিয়ে কালক্ষেপণ করে অনশনরত শিক্ষার্থীদের জীবন চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন।

‘আমরা চরম হতাশার সঙ্গে লক্ষ্য করেছি এ সংক্রান্ত একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও বাস্তবে উল্লেখিত তদন্ত কমিটি কোনো রকম অগ্রগতি করেছে বলে দৃশ্যমান হচ্ছে না। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে-যাওয়া ঘটনার দায়ভার কোনোভাবেই প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এড়াতে পারেন না।’

বিবৃতি বলা হয়, ‘আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাবতীয় বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ব্যক্তিদের প্রত্যেকের অফিশিয়াল ব্যাখ্যা জনসমক্ষে উপস্থাপন করার দাবি জানান হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
গেট বন্ধ নিয়ে বায়তুল মোকাররমে উত্তেজনা
বায়তুল মোকাররমে পুলিশ-র‍্যাব-বিজিবির কড়া প্রহরা
বায়তুল মোকাররমের ইমামের বয়স জালিয়াতি
শাটডাউনের জুমায় মসজিদের চিত্র
হেফাজতে ইসলামকে নিষিদ্ধের দাবি শেখ সেলিমের

শেয়ার করুন

দীপু মনিকে লিখিত দাবি দিচ্ছেন শাবি শিক্ষার্থীরা, আলোচনা দুপুরের পর

দীপু মনিকে লিখিত দাবি দিচ্ছেন শাবি শিক্ষার্থীরা, আলোচনা দুপুরের পর

উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরণ অনশনে শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল বাশা রাজ বলেন, ‘আমাদের মূল দাবি একটাই, উপাচার্যের পদত্যাগ। এটা কালকের বৈঠকেও আমরা শিক্ষামন্ত্রীকে জানিয়েছি। এই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন থেকে সরে আসব না।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনিকে তাদের দাবি লিখিতভাবে দেবেন বলে জানিয়েছেন। দুপুরের পর তারা মন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করবেন বলেও জানান।

তবে শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের মূল দাবি উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ। এই দাবি না মানা পর্যন্ত তারা আন্দোলন থেকে সরবেন না।

উপাচার্য ইস্যুতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শনিবার গভীর রাতে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। বৈঠকে উপাচার্যের পদত্যাগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না এলেও দাবিগুলো লিখিতভাবে জমা দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

দীপু মনি আশ্বস্ত করেন, লিখিত দাবি পেলে সেগুলো সমাধানে উদ্যোগ নেবে সরকার।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল বাশা রাজ রোববার সকালে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী আমাদের দাবিগুলো লিখিতভাবে জমা দেয়ার কথা বলেছেন। এরপর আজ আবার আমাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন। আমরা সবার সঙ্গে আলোচনা করে দুপুরের মধ্যেই মন্ত্রীর কাছে আমাদের প্রস্তাব জমা দেব।

‘আমাদের মূল দাবি একটাই, উপাচার্যের পদত্যাগ। এটা কালকের বৈঠকেও আমরা শিক্ষামন্ত্রীকে জানিয়েছি। এই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন থেকে সরে আসব না।’

এখনও সময় নির্ধারণ না হলেও শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা রোববার দুপুরের পর হবে বলে জানান রাজ।

এর আগে শনিবার রাতে ঢাকায় নিজ বাসভবনে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলন করেন শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি জানান, প্রয়োজনে তার প্রতিনিধিদল শাবিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করতে প্রস্তুত। শিক্ষার্থীরা যখন কথা বলতে রাজি হবে, তখনই প্রতিনিধি যেতে পারবে। পারিবারিক কারণে এখন তিনি সিলেটে যেতে পারছেন না।

প্রতিক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের পক্ষে মোহাইমিনুল বাশার রাজ জানিয়েছিলেন, তারা আলোচনায় প্রস্তুত। শনিবার রাতে যদি সম্ভব হয়, যদি এই মুহূর্তেও সম্ভব হয়, তারা আলোচনা করতে চান।

এরপর রাত সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষামন্ত্রীর প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বসেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। মন্ত্রীর পক্ষে আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেনসহ কয়েকজন নেতা। এতে দীপু মনি ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

প্রেক্ষাপট

শাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের শুরু ১৩ জানুয়ারি। রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদ লিজার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েক শ ছাত্রী।

১৬ জানুয়ারি বিকেলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন। তখন শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে উপাচার্যকে মুক্ত করে পুলিশ।

এরপর পুলিশ ৩০০ জনকে আসামি করে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করে। সেদিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীরা তা উপেক্ষা করে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন নামেন।

বুধবার দুপুর আড়াইটা থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরণ অনশনে বসেন ২৪ শিক্ষার্থী।

তাদের মধ্যে একজনের বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি অনশন শুরুর পরদিনই বাড়ি চলে যান। বাকি ২৩ অনশনকারীর মধ্যে ১৬ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে শনিবার দুপুরে কাফন পরে ক্যাম্পাসে মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যায় দেন গণ-অনশনের ঘোষণা। রোববার আরও চারজন শিক্ষার্থী অনশনে যোগ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন:
গেট বন্ধ নিয়ে বায়তুল মোকাররমে উত্তেজনা
বায়তুল মোকাররমে পুলিশ-র‍্যাব-বিজিবির কড়া প্রহরা
বায়তুল মোকাররমের ইমামের বয়স জালিয়াতি
শাটডাউনের জুমায় মসজিদের চিত্র
হেফাজতে ইসলামকে নিষিদ্ধের দাবি শেখ সেলিমের

শেয়ার করুন