‘ধ্যাত, হাসপাতালেরই জন্ডিস হয়েছে’

‘ধ্যাত, হাসপাতালেরই জন্ডিস হয়েছে’

লালমনিরহাট রেলওয়ে হাসপাতাল। ছবি: নিউজবাংলা

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রেলওয়ের কর্মচারীর স্ত্রী বলেন, ‘হাসপাতালের প্রাণই হলো ডাক্তার। এখানে কোনো ডাক্তার আসেন না। তাই আমরা বাধ্য হয়ে বাইরে চিকিৎসা নিই। আসলে আগে এই হাসপাতালেরই চিকিৎসা দরকার।’

নিয়মিত কোনো চিকিৎসক নেই। এ কারণে হাসপাতালেও আসতে চান না কোনো রোগী। কর্মচারীরা নিজেদের ইচ্ছামতো দিনের যেকোনো একসময় অথবা সপ্তাহে একবার এসে স্বাক্ষর করেন হাজিরা খাতায়। তাদের অনুপস্থিতিতে আউটডোরে চিকিৎসকের ভূমিকা পালন করেন ক্লিনার।

চিকিৎসকের অভাবে এখন জনমানবহীন ভূতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে পশ্চিম অঞ্চলের হাসপাতালটি। অথচ একসময় এটি ছিল রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রেলের যাত্রীসহ জেলার চিকিৎসাসেবার একমাত্র ভরসা।

৩০ শয্যার হাসপাতালটিতে ৯টি নারী ও ১৮টি পুরুষ শয্যার পাশাপাশি পাঁচটি কেবিনও রয়েছে। সাত দিনের মধ্যে হাসপাতালের আউটডোর খোলা থাকে মাত্র পাঁচ দিন। চিকিৎসক না থাকায় খোলা রেখেও কোনো উপকার হচ্ছে না রোগীদের।

স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, হাসপাতালে একজন বিভাগীয় চিকিৎসা কর্মকর্তা (ডিএমও), একজন অতিরিক্ত বিভাগীয় চিকিৎসা কর্মকর্তা (এডিএমও) ও দুজন চিকিৎসক কর্মরত থাকার কথা। এদের চারজনেরই কেউই নেই।

তারা জানিয়েছেন, সৈয়দপুর রেলওয়ে মেডিক্যাল হাসপাতালের একজন ডিএমও অতিরিক্ত দায়িত্বে সপ্তাহে এক দিন আসার কথা থাকলেও নিয়মিত আসেন না তিনি। এ কারণে আউটডোর বিভাগে অফিসের একজন ক্লিনার ও একজন ফার্মাসিস্ট দিয়েই চলছে রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা।

স্থানীয় লোকজন বলছেন, ১৯৩৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালটিতে নব্বই দশকের পরও প্রচুর রোগী আসতেন। এখন হাসপাতালের লোকজন ও রোগী না আসায় পুরো এলাকা মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

তারা জানান, বর্তমানে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ জন রোগী ক্লিনার আবু জাফরের কাছ থেকে চিকিৎসা নেন। এরা রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবারের লোকজন। বাইরে থেকে কেউ এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন না।

‘ধ্যাত, হাসপাতালেরই জন্ডিস হয়েছে’

মঙ্গলবার হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ইনডোরের চিকিৎসাসেবার অবস্থা আরও শোচনীয়। ৩০ শয্যার হাসপাতালে কোনো রোগীই থাকেন না। কখনও কখনও দু-একজন রোগী ভর্তি হন একেবারে নিরুপায় হয়ে বা দারিদ্র্যের কারণে। তাদের জন্য হাসপাতালে খাবারেরও কোনো ব্যবস্থা নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রেলওয়ের কর্মচারীর স্ত্রী বলেন, ‘হাসপাতালের প্রাণই হলো ডাক্তার। এখানে কোনো ডাক্তার আসেন না। তাই আমরা বাধ্য হয়ে বাইরে চিকিৎসা নিই। আসলে আগে এই হাসপাতালেরই চিকিৎসা দরকার।’

চিকিৎসাসেবায় বিরক্তি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ধ্যাত, হাসপাতালেরই জন্ডিস হয়েছে। ওষুধ থাকলেও রোগীদের দেয় না। ছয়-সাত ভ্যান করে ওষুধ আসলেও পরের দিনই শেষ।’

হাসপাতালের ওয়ার্ড অ্যাটেনডেন্ট আবু জাফর বলেন, ‘ভবন চুইয়ে পানি পড়ায় স্টাফরা বসতে পারেন না। অনেক দামি জিনিস আছে, যেগুলো পানি পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ডাক্তার না থাকলে সবকিছুতে সমস্যা। ডাক্তার না থাকায় রোগীরা সাধারণত ভর্তি হতে চায় না।’

তিনি বলেন, ‘আমিও একজন ফার্মাসিস্ট, আমরাই রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিই।’

‘ধ্যাত, হাসপাতালেরই জন্ডিস হয়েছে’

রেলওয়ে হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘এখানে সপ্তাহে এক দিন ডাক্তার আসেন। অন্যদিনে আমি নিজেই যতটুকু জানি, ওই অনুযায়ী এখানে আসা রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে থাকি।’

হাসপাতালের প্রধান সহকারী সারাফত হোসেন বলেন, ‘আমার এখানে কর্মরত আছেন ৩৮ জন। পদায়িত ডাক্তার সপ্তাহে এক দিন আসেন। সপ্তাহের যত কাজ থাকে সব এক দিনে মেকআপ করেন। এর মধ্যে যদি রোগী আসে তখন রোগীও দেখেন।’

তিনি বলেন, ‘অতিরিক্ত দায়িত্বে একজন ডিএমও থাকলেও তিনি সপ্তাহে মাত্র এক দিন আসেন। অফিসের কাজ ও যদি কোনো রোগী থাকে, তাহলে তাদের চিকিৎসা দিয়ে চলে যান। তিনি একই সঙ্গে ডিভিশনের তিনটি হাসপাতালের দায়িত্বে রয়েছেন।’

হাসপাতালের নামে একটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও সেটি কোনো কাজে আসছে না বলেও জানান ফার্মাসিস্ট ফয়সাল আহমেদ।

লালমনিরহাট রেলওয়ে হাসপাতালের ডিভিশনাল রেলওয়ে চিকিৎসা কর্মকর্তা (ডিএমও) ডা. মো. আনিছুল ইসলাম বলেন, ‘আমি বর্তমানে একই সঙ্গে তিনটি হাসপাতালের দায়িত্বে আছি। হাসপাতালটি রেলওয়ের অধীনে রেখে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় নিলে কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা যেতে পারে। এ অবস্থার পরিবর্তন কর‍তে হাসপাতালটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় নেয়া উচিত।’

‘ধ্যাত, হাসপাতালেরই জন্ডিস হয়েছে’

লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ডাক্তাররা গেজেটেড অফিসার। তারা পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগ পান। রেলের ডাক্তাররা নন-ক্যাডারে নিয়োগ পান। এ কারণে তারা এখানে থাকতে চান না। পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগের পর তারা চলে যান। স্বাভাবিকভাবেই তখন এখানকার পদগুলো শূন্য হয়।’

রোগীদের খাবারের ব্যবস্থা না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আসলে রোগীদের খাবারের ব্যবস্থাও আছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এ ছাড়া ডাক্তার না থাকার কারণে রোগীরাও তেমন একটা আসেন না। এ কারণে রোগীদের খাবারও দেয়া হয় না।’

হাসপাতালে ৫৩টি পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ২৪ জন কর্মরত রয়েছেন বলেও জানান ডিআরএম শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ।

আরও পড়ুন:
অবহেলায় মৃত্যুর অভিযোগে ১৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট
পাঁচ মিনিটের রাস্তা যেতে লাগে ৪০ মিনিট
নির্মাণের পরদিনই হেলে পড়ে যে সেতু
১০০ শয্যার হাসপাতালে ১৫৭ রোগী
মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভে রোগীর বিড়ম্বনা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ওমিক্রনে ঝুঁকি দেখছেন না ফাউসি

ওমিক্রনে ঝুঁকি দেখছেন না ফাউসি

ওমিক্রন আতঙ্কে আফ্রিকান দেশগুলোর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত

হোয়াইট হাউসের করোনা মহামারিবিষয়ক টাস্কফোর্সের অন্যতম সদস্য অ্যান্থনি ফাউসি বলেন, ‘এখন ওমিক্রন বিষয়ে বিবৃতি দিলে তা বেশ আগে দেয়া হয়ে যায়। তবুও নতুন ভ্যারিয়েন্টকে তীব্র কোনো ভ্যারিয়েন্ট মনে হচ্ছে না। তবে ডেল্টার তুলনায় এটির ক্ষতির মাত্রা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন নিয়ে এখন পর্যন্ত যেসব তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে, তাতে বড় ধরনের ঝুঁকি দেখছেন না হোয়াইট হাউসের করোনা মহামারি মোকাবিলাবিষয়ক টাস্কফোর্সের অন্যতম সদস্য অ্যান্থনি ফাউসি।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের তীব্রতার যে প্রাথমিক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে তা বেশ আশাব্যঞ্জক। তবে এখনও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রয়োজন।

সাউথ আফ্রিকাতেও লক্ষ করা গেছে, ওমিক্রন ধরনের আবিভার্বের পরেও দেশটিতে করোনা আক্রান্তদের হাসপাতালে নেয়ার হার বৃদ্ধি পায়নি। সারা বিশ্বে এখন পর্যন্ত ওমিক্রনে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

ফাউসি বলেন, ‘এখন ওমিক্রন বিষয়ে বিবৃতি দিলে তা বেশ আগে দেয়া হয়ে যায়। তবুও নতুন ভ্যারিয়েন্টকে তীব্র কোনো ভ্যারিয়েন্ট মনে হচ্ছে না। তবে ডেল্টার তুলনায় এটির ক্ষতির মাত্রা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের ১৫টি রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে ওমিক্রন। রয়টার্সের তথ্য মতে, ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, নেবরাস্কা, নিউ জার্সি, নিউ ইয়র্ক, পেনসিলভানিয়া, উটাহ, ওয়াশিংটন ও উইসকনসিন রাজ্যে ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে।

মেডিক্যাল বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, সামনের সপ্তাহগুলোতে এর তীব্রতা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং নতুন করে বিশ্বের অনেক দেশেই ছড়িয়ে পড়তে পারে। করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের বিস্তার ঠেকাতে বিশ্বের সব দেশকে প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালক তাকেশি কাসাই বলেন, ‘কয়েক দফা মিউটেশন হওয়ায় ওমিক্রন নিয়ে আমাদের ভাবতে হচ্ছে। এ ছাড়া প্রাথমিক তথ্য বলছে, এটি অন্য সব ধরন থেকে দ্রুত সংক্রমিত হচ্ছে। আমাদের বেশি বেশি পরীক্ষা এবং পর্যবেক্ষণ করা উচিত।’

আফ্রিকার দেশ বতসোয়ানায় ১১ নভেম্বর প্রথম ‘বি.১.১.৫২৯’ ভ্যারিয়েন্টটি শনাক্ত হয়, যাকে এখন আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ওমিক্রন’ বলেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিওএইচও) । ‘বি.১.১.৫২৯’ ভ্যারিয়েন্টকে উদ্বেগজনক ধরন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করে ডব্লিউএইচও।

আরও পড়ুন:
অবহেলায় মৃত্যুর অভিযোগে ১৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট
পাঁচ মিনিটের রাস্তা যেতে লাগে ৪০ মিনিট
নির্মাণের পরদিনই হেলে পড়ে যে সেতু
১০০ শয্যার হাসপাতালে ১৫৭ রোগী
মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভে রোগীর বিড়ম্বনা

শেয়ার করুন

শীতকালে সুস্থ থাকতে যা খাবেন

শীতকালে সুস্থ থাকতে যা খাবেন

গাজর, মুলা, বিট ও শালগমের মতো মূলজাতীয় সবজি শীতকালীন খাবার হিসেবে আদর্শ। এগুলো শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে কাজ করে। শীতের সময় ফিট থাকতে নিয়মিত এ ধরনের সবজি খাওয়া জরুরি।

বছরের অন্য সময়ের থেকে শীতকাল কিছুটা সংবেদনশীল। কারণ আবহাওয়াজনিত কারণে এ সময় মানুষের নানা ধরনের অসুখ হয়। এর মধ্যে চামড়া ফাটা, সর্দি-কাশি ও জ্বর অন্যতম। এসব থেকে বাঁচতে অনেকেই ছোটেন ডাক্তারের কাছে।

তবে স্বাস্থ্যবিষয়ক সাময়িকী মেরিল্যান্ড পেইন অ্যান্ড ওয়েলনেস সেন্টারের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে শীতকালে খাদ্যাভ্যাস ঠিক রাখলেই সুস্থ থাকার নিয়মকানুন। তাই অসুস্থতার হাত থেকে বাঁচতে এ সময় কোন কোন খাবারগুলো খাবেন চলুন জেনে নেয়া যাক।

ভিটামিন সি-জাতীয় খাবার

শীতকালে ভিটামিন সি জাতীয় খাবার শরীরের জন্য অত্যন্ত জরুরি। তাই ভিটামিন সি-এর চাহিদা পূরণে সাইট্রাস জাতীয় ফলের বিকল্প নেই। শীতের সময় বেশি বেশি লেবু, পেয়ারা, কমলা ও নেক্টারের মতো ফল খাওয়ার চেষ্টা করুন। এগুলো প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি-এর জোগান দেয়ার পাশাপাশি ফাইবারের ঘাটতিও মেটায়।

স্যুপ

কনকনে শীতে শরীর চাঙা রাখতে অত্যন্ত উপকারী ও উপাদেয় একটি খাবার হলো স্যুপ। বিভিন্ন ধরনের সবজি ও মাংস দিয়ে বানানো স্যুপ শরীরের পুষ্টির ঘাটতিও পূরণ করবে।

ঘি
দুগ্ধজাতীয় খাবার হওয়ায় অনেকেই মনে করেন ঘি খেলে ওজন বেড়ে যায়। তবে শীতকালে সুস্থ থাকার জন্য ঘি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা ঘি এমনসব উপাদানে পরিপূর্ণ, যা অস্থিসন্ধির সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতারও উন্নতি করে। এ ছাড়া শীতকালে ত্বক বিবর্ণ ও শুষ্ক হয়ে যায়। এ সমস্যা কাটাতেও ঘি কার্যকর।

মধু

সুস্থ থাকতে শীতকালসহ অন্য সময়ও চিনি খাওয়া উচিত নয়। এর বিকল্প হিসেবে মধু খাওয়ার অভ্যাস করুন। মধু প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ ও অন্যান্য পুষ্টিগুণে পরিপূর্ণ। এসব পদার্থ শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এ ছাড়া মধু ঠান্ডায় শরীর গরম রাখতেও ভূমিকা রাখে।

পালং শাক

পালং শাককে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের ডিপো বলা হয়। এ ছাড়া এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও মিনারেলে। ক্যানসার প্রতিরোধেও পালং শাক কার্যকর। এসব উপকার ছাড়াও এই শাক শরীরের বাড়তি মেদ কমাতে সহায়তা করে।


মূলজাতীয় সবজি

গাজর, মুলা, বিট ও শালগমের মতো মূলজাতীয় সবজি শীতকালীন খাবার হিসেবে আদর্শ। এগুলো শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে কাজ করে। শীতের সময় ফিট থাকতে নিয়মিত এ ধরনের সবজি খাওয়া জরুরি।

আরও পড়ুন:
অবহেলায় মৃত্যুর অভিযোগে ১৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট
পাঁচ মিনিটের রাস্তা যেতে লাগে ৪০ মিনিট
নির্মাণের পরদিনই হেলে পড়ে যে সেতু
১০০ শয্যার হাসপাতালে ১৫৭ রোগী
মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভে রোগীর বিড়ম্বনা

শেয়ার করুন

হাওরে অপুষ্টিতে ভুগছে ৫২ শতাংশ শিশু

হাওরে অপুষ্টিতে ভুগছে ৫২ শতাংশ শিশু

সুনামগঞ্জের হাওরে অপুষ্টিতে ভুগছে অনেক শিশু। ছবি: নিউজবাংলা

সুনামগঞ্জ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া তথ্যমতে, জেলায় বর্তমান খর্বাকার রোগে ভুগছে ৫২ শতাংশ শিশু, ক্ষীণকার ১৫ শতাংশ, কম ওজন নিয়ে জন্ম নেয়া শিশুর সংখ্যা ২৬ শতাংশ এবং নিরাপদ মায়ের বুকের দুধের অভাবে ভুগছে ৫৫ শতাংশ শিশু। অর্থ ও সচেতনতার অভাবে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরাই বেশি অপুষ্টিতে ভুগছে।

হাওরবেষ্টিত সুনামগঞ্জ প্রাকৃতিকভাবে সমৃদ্ধ হলেও দারিদ্র্যের হার তুলনামূলক বেশি হওয়ায় অপুষ্টিতে ভুগছে অধিকাংশ শিশু।

সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসের সবশেষ জরিপ অনুযায়ী, জেলায় ৫২ শতাংশ শিশু অপুষ্টিজনিত রোগে আক্রান্ত। এ হারকে স্বাস্থ্য বিভাগ উচ্চতর সমস্যা বললেও পর্যাপ্ত জনবল সংকটে পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে হিমশিম খেতে হচ্ছে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের।

অভাব-অনটনের কারণে শিশুদের জন্য আলাদা করে পুষ্টিকর খাবার জোগাড়ে ব্যর্থতা এবং সরকারি সহযোগিতা না পাওয়ার আক্ষেপ প্রকাশ করছেন অভিভাবকরা।

সুনামগঞ্জ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া তথ্যমতে, জেলায় বর্তমান খর্বাকার রোগে ভুগছে ৫২ শতাংশ শিশু, ক্ষীণকার ১৫ শতাংশ, কম ওজন নিয়ে জন্ম নেয়া শিশুর সংখ্যা ২৬ শতাংশ এবং নিরাপদ মায়ের বুকের দুধের অভাবে ভুগছে ৫৫ শতাংশ শিশু।

অর্থ ও সচেতনতার অভাবে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরাই বেশি অপুষ্টিতে ভুগছে। সুনামগঞ্জের শাল্লা, মধ্যনগর ও দোয়ারাবাজার উপজেলার শিশুরা তুলনামূলকভাবে বেশি অপুষ্টির শিকার।

দোয়ারাবাজার ও শাল্লা উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, শহরের শিশুদের তুলনায় প্রত্যন্ত এলাকার শিশুরা রোগা ও বেটে। এসব গ্রামের মানুষের ‘দিন আনি দিন খাই’ অবস্থা হওয়ায় আলাদাভাবে শিশুর বিকাশের দিকে মনোযোগ নেই অভিভাবকদের।

সুনামগঞ্জ ধান ও মাছের জন্য বিখ্যাত হলেও শাকসবজির ফলন কম। হাওরে জেলেদের জালে ছোট-বড় দেশি পুষ্টিকর মাছ উঠলেও সেই মাছ সন্তানদের না খাইয়ে বাজারে বিক্রি করে বাড়িতে নিয়ে যান পাঙাশ মাছ।

এ অঞ্চলের মানুষের অভিযোগ, সরকারিভাবে শিশুদের টিকাদান ও ভিটামিন ক্যাপসুল খাওয়ানো ছাড়া আর কোনো কার্যক্রম নেই।

হাওরে অপুষ্টিতে ভুগছে ৫২ শতাংশ শিশু
সুনামগঞ্জের হাওরে অপুষ্টিতে ভুগছে অনেক শিশু। ছবি: নিউজবাংলা

শাল্লা উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের আছিয়া বেগম বলেন, ‘আমার চার সন্তানের সবাই বেশির ভাগ সময় অসুস্থ থাকে। ডাক্তার দেখাই কিন্তু ভালা কিচ্ছু কিনিয়া বাচ্চাগুনতে মুখও দেয়ার মুরদ নাই আমরার, আলু আর পাঙাশ মাছ ইটা দিয়াই চলরাম আমরা। যেদিন তাইনের একটু ভালা ইনকাম হয়, তে একদিন মাংস খাইলায়। কিন্তু বাজারও যে জিনিসের দাম বাড়ছে এখন তিনবেলা কোনো রকম খাইয়া বাছিয়া আছি।’

একই গ্রামের কৃষক জয়ন্ত দাস বলেন, ‘ছেলেমেয়েরে কিতা খাওয়াইতাম বাজারও যে জিনিসের দাম আগুন, এখন ধান লাগানিত গেলেও টাকা লাগব বেশি, আমরা কিতা করতাম, যা নিজে খাই তাই ছেলেরারে খাওয়াই, সরকার যদি আমরারে একটু দেখে তাইলে ভালা অইতো।’

দোয়ারাবাজারের আমবাড়ী এলাকার শিল্পী বেগম বলেন, ‘বাজারও নতুন নতুন সবজি আইছে, কিন্তু যে আগুন দাম ইতা কিনিয়া আনিয়া খাওয়ানি যাইত না। স্বাস্থ্যকর্মীরা আয় তারা টিকা আর ভিটামিন ট্যাবলেট দেয়, ইটাই শেষ আর কিচ্ছু করে না। যা কইবার মুখে কয়, কিন্তু গরিবের কথা শুনিয়া লাভ নাই, যদি পারে সাহায্য করতে পারে।’

বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (বারটান) সুনামগঞ্জের সহকারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আমরা হাওর এলাকার কৃষক-জেলে থেকে শুরু করে সব শ্রেণির মানুষকে ফসল ও শাকসবজি উৎপাদন এবং এসবের ভিটামিন সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছি। তারা প্রশিক্ষণ অনুযায়ী জীবনযাপন করলে পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা মিটিয়ে অবশিষ্ট ফসল বিক্রি করে লাভবান হতে পারবেন।’

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ‘হাওরের প্রান্তিক পর্যায়ের শিশুরাই পুষ্টিহীনতায় বেশি ভুগছে, তাদের তুলনায় শহরকেন্দ্রিক বসবাস করা শিশুরা ভালো আছে।

‘হাওরের মায়েদেরও কিছুটা দায়সারা ভাব রয়েছে। এমনও দেখা যায়, পুষ্টিকর মাছ ধরে বিক্রি করে তারা চাল, ডাল, আলু আর পাঙাশ মাছ নিয়ে যাচ্ছেন। এখানে সব মানুষের খাবারে বৈচিত্র্যের অভাব রয়েছে। এক জরিপে দেখা গেছে, সুনামগঞ্জের ৬২ দশমিক ৪ শতাংশ পরিবার দৈনিক ব্যবহারের জন্য শুধু প্রধান খাদ্য কেনে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কিছু করার নেই, এখানে আমি একাই কাজ করি। বাকি পদগুলো শূন্য রয়েছে। একা সবদিক কীভাবে দেখব। তবে প্রায় সময়ই নিয়োগের জন্য বলি, ফল হয় না।’

সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. শামস উদ্দিন বলেন, ‘জেলার প্রতিটি ওয়ার্ডেই পুষ্টিবিষয়ক কার্যক্রম চালু আছে। মা সমাবেশসহ নানা প্রচারণা চালানো হয়। তবে আলাদাভাবে আমাদের হাতে কোনো প্রকল্প নেই।’

আরও পড়ুন:
অবহেলায় মৃত্যুর অভিযোগে ১৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট
পাঁচ মিনিটের রাস্তা যেতে লাগে ৪০ মিনিট
নির্মাণের পরদিনই হেলে পড়ে যে সেতু
১০০ শয্যার হাসপাতালে ১৫৭ রোগী
মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভে রোগীর বিড়ম্বনা

শেয়ার করুন

সার্ভার জটিলতা: আড়াই লাখ টিকাগ্রহীতার তথ্য উধাও

সার্ভার জটিলতা: আড়াই লাখ টিকাগ্রহীতার তথ্য উধাও

ফাইল ছবি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিক্যাল অফিসার ডা. দেবাশিস বিশ্বাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওই দুই দিনে টিকা নেওয়া প্রায় সবার ক্ষেত্রেই এমন সমস্যার তথ্য পাওয়া গেছে। সার্ভার জটিলতায় এমনটা হয়ে থাকতে পারে।’

নিবন্ধনের তিন মাস পর ১৩ অক্টোবর জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে করোনা টিকার প্রথম ডোজ নেন নুসরাত জাবীন বিভা। নিয়ম অনুযায়ী টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার কথা এক মাস পর। তবে দেড় মাসের বেশি সময় পার হলেও টিকাসংক্রান্ত এসএমএস পাননি তিনি। এক প্রকার নিরুপায় হয়ে দ্বিতীয় ডোজ নিতে ২ ডিসেম্বর টিকাকেন্দ্রে যোগাযোগ করেন তিনি।

কেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা বলেন, ১৩ অক্টোবর যারা টিকা নিয়েছেন তাদের তথ্য সার্ভার থেকে ডিলিট হয়ে গেছে। যে কারণে ওই দিনে টিকা নেয়া কাউকেই এসএমএস দেয়া সম্ভব হয়নি। নিজ উদ্যোগে যারা টিকাকেন্দ্রে আসছেন তাদের টিকাদানের তারিখ আপডেট করে দেয়া হচ্ছে। এরপর দু-একদিনের মধ্যে তাদের এসএমএস পাঠানো হচ্ছে। এতে নতুন করে ভোগান্তিতে পড়ছেন টিকার প্রথম ডোজ গ্রহীতারা।

শুধু নুসরাত জাবীন বিভা নন, ওই দিন টিকা দেয়া আড়াই লাখের বেশি টিকাগ্রহীতার তথ্য সার্ভার উধাও হয়ে গেছে। তবে টিকা গ্রহণের তারিখ সার্ভার থেকে কেন কীভাবে উধাও হয়ে গেল, তা জানা নেই ওই কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক কর্তকর্তা স্বীকার করেছেন, সার্ভারের জটিলতার কারণেই গত ১৩ অক্টোবর সারা দেশে ২ লাখ ৬৬ হাজার ৫৬১ জন টিকাগ্রহীতার টিকা গ্রহণের তারিখ সুরক্ষা ওয়েবসাইটের (www.surokkha.gov.bd) সার্ভার থেকে উধাও হয়ে গেছে।

তারা বলছেন, ইতিমধ্যে এমন একাধিক অভিযোগ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আসছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। যাদের তথ্য গায়েব হয়েছে, তাদের কিছুদিন পর নতুন করে টিকা কার্ড ডাউনলোড করতে হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা রোববার নিউজবাংলাকে বলেন, সার্ভার জটিলতার কারণে ওই দিন হয়তো এমনটা হতে পারে। টিকাগ্রহীতার টিকা নেয়া তারিখ খুঁজে না পাওয়ায় ইতিমধ্যে বিষয়টি আইসিটি বিভাগকে জানানো হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘সমস্যার সমাধান হলে ওই দিনের টিকাগ্রহীতারা নতুন করে টিকা কার্ড ডাউনলোড করলে ৮০ শতাংশই টিকা গ্রহণের তারিখ পেয়ে যাবেন। বাকি ২০ শতাংশের ক্ষেত্রে যে সমস্যাটা তৈরি হবে, তা সরাসরি আইসিটি বিভাগকে জানানো হবে। আশা করা যায়, এরপর তাদের সমস্যারও সমাধান হবে।

‘এমন কোনো সমস্যা দেখা দিলেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বিষয়টি আইসিটি বিভাগকে জানিয়ে দেয়া হয়। এ বিষয়টি ইতিমধ্যে আমরা জানিয়ে দিয়েছি। তারা জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছে।’

এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘শুধু ১৩ অক্টোবর নয়, ওই মাসের ২৮ তারিখেও দেশের কিছু কেন্দ্রে এমন সমস্যা দেখা দেয়। তা নিয়েও কাজ করছে আইসিটি বিভাগ।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিক্যাল অফিসার ডা. দেবাশিস বিশ্বাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওই দুই দিনে টিকা নেওয়া প্রায় সবার ক্ষেত্রেই এমন সমস্যা হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। সার্ভার জটিলতার কারণে এমন সমস্যা তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তবে টিকার তথ্যগুলো আছে, কিন্তু হ্যাং হয়ে গেছে। এখনো সেগুলো উদ্ধার করা যায়নি। এখন নতুন করে নিতে গেলে একই তথ্য দুবার নেয়া হয়ে যাবে। এটা নিয়ে অধিদপ্তর ও আইসিটি বিভাগ কাজ করছে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এমন তথ্য আমার জানা নেই। তবে এমনটা হয়ে থাকলে বিষয়টি অবশ্যই আইসিটি বিভাগে জানানো হবে।’

আরও পড়ুন:
অবহেলায় মৃত্যুর অভিযোগে ১৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট
পাঁচ মিনিটের রাস্তা যেতে লাগে ৪০ মিনিট
নির্মাণের পরদিনই হেলে পড়ে যে সেতু
১০০ শয্যার হাসপাতালে ১৫৭ রোগী
মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভে রোগীর বিড়ম্বনা

শেয়ার করুন

করোনায় মৃত্যু ছাড়াল ২৮ হাজার

করোনায় মৃত্যু ছাড়াল ২৮ হাজার

দেশে এ পর্যন্ত করোনায় মৃত্যু হয়েছে ২৮ হাজার ১ জনের। ফাইল ছবি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৭৭ হাজার ৪৪৩ জনের শরীরে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৮ হাজার ১ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃত্যু ছাড়িয়েছে ২৮ হাজার।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃত্যু ছাড়িয়েছে ২৮ হাজার। এ সময়ের মধ্যে আরও ১৯৭ জনের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

রোববার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গত ২৪ ঘণ্টার এ তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৭৭ হাজার ৪৪৩ জনের শরীরে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৮ হাজার ১ জনের।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৪৮টি ল্যাবে ১৯ হাজার ১৩২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ১ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে তিন জন নারী ও তিন জন পুরুষ রয়েছেন। এদের মধ্যে ত্রিশোর্ধ্ব এক, চল্লিশোর্ধ্ব ২, ও ষাটোর্ধ্ব ৩ জন।

বিভাগ অনুযায়ী সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়। এ বিভাগে মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। এ ছাড়া ময়মনসিংহে এক জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ২২৬ জন। এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৭৭ হাজার ৪৪৩ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

দেশে করোনা প্রথম ধরা পড়ে গত বছরের ৮ মার্চ। এটি নিয়ন্ত্রণে আসার পর করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে গত মার্চ থেকে ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার মাস পাঁচেক পর এটি নিয়ন্ত্রণে আসে গত অক্টোবরে। গত দুই মাস ধরে করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকায় নতুন শনাক্ত ওক্রিমণ নিয়ে নতুন শঙ্কা দেখা দিয়েছে। নতুন শনাক্ত হওয়া এই ধরনকে রুখতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ১৫ দফা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
অবহেলায় মৃত্যুর অভিযোগে ১৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট
পাঁচ মিনিটের রাস্তা যেতে লাগে ৪০ মিনিট
নির্মাণের পরদিনই হেলে পড়ে যে সেতু
১০০ শয্যার হাসপাতালে ১৫৭ রোগী
মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভে রোগীর বিড়ম্বনা

শেয়ার করুন

ওমিক্রন: ‘এখনই সীমান্ত বন্ধের পরিকল্পনা নেই’

ওমিক্রন: ‘এখনই সীমান্ত বন্ধের পরিকল্পনা নেই’

সাভারে নবনির্মিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যানেজমেন্ট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ছবি: নিউজবাংলা

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের বর্ডার বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই। বর্ডারে আমরা পরীক্ষা, স্ক্রিনিং ও কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা জোরদার করেছি। এখনও দেশে সে রকম কোনো পরিবেশ তৈরি হয়নি যে আমাদের লকডাউনের চিন্তা করতে হবে। দেশ ভালো আছে, নিরাপদে আছে।’ 

করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের কারণে এখনই সীমান্ত বন্ধের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

সাভারে নবনির্মিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যানেজমেন্ট পরিদর্শনে গিয়ে রোববার দুপুরে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের বর্ডার বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই। বর্ডারে আমরা পরীক্ষা, স্ক্রিনিং ও কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা জোরদার করেছি। এখনও দেশে সে রকম কোনো পরিবেশ তৈরি হয়নি যে আমাদের লকডাউনের চিন্তা করতে হবে। দেশ ভালো আছে, নিরাপদে আছে।

‘যারা বিদেশ থেকে আসবেন তারা যেন সংক্রমিত হয়ে দেশে না আসেন। আমি আহ্বান করব, বিশেষ করে সংক্রমিত আফ্রিকাতে যারা আছেন আপনার এই মুহূর্তে দেশে না এলে ভালো হয়। কারণ আপনাদের পরিবার ও দেশকে নিরাপদে রাখতে হলে এখন যেখানে আছেন সেখানেই থাকুন।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাভারে গণটিকাদান কর্মসূচি পরিদর্শন করেন। তার সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ওমিক্রন: ‘এখনই সীমান্ত বন্ধের পরিকল্পনা নেই’
সাভারে নবনির্মিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যানেজমেন্ট

পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের আরও বলেন, ‘ওমিক্রন প্রতিরোধে আমাদের যা যা প্রস্তুতি নেয়া সম্ভব আমরা নিচ্ছি। আমাদের আন্তমন্ত্রণালয়ের বৈঠক হয়েছে। সেখানে অনেকগুলো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আমাদের দেশে যারা আফ্রিকা থেকে আসছে তাদের ৪৮ ঘণ্টা আগে পরীক্ষা করে আসতে হবে এবং ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। ওমিক্রন আক্রান্ত দেশ থেকে এলেও পরীক্ষা করে আসতে হবে।

‘ঢাকায় অনেকগুলো কোয়ারেন্টিন সেন্টার করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। হাসপাতালগুলোকে কোয়ারেন্টিন সেন্টার করার কথা বলা হয়েছে। যারা বিদেশ থেকে আসবে তাদের নিজ খরচে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই হাজার বর্গফুটের আরটিপিসিআর ল্যাব ছিল। সেটির আয়তন বাড়িয়ে তিন হাজারের বেশি বর্গফুটের করা হয়েছে। সেখানে পরীক্ষা, বসা, খাওয়া ও নামাজসহ সবকিছুর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমাদের হাসপাতাল ও আইসিইউ প্রস্তুত রেখেছি। সব জেলা শহর ও বিভাগীয় কার্যালয়ে চিঠি দিয়ে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে আমরা প্রস্তুত আছি।

‘জনবল বাড়ানোর জন্য ৮ হাজার নার্স ও ৪ হাজার চিকিৎসক নতুন নিয়োগ দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে টিকা কর্মসূচিও জোরদার করা হয়েছে। প্রায় সাড়ে ১০ কোটি টিকার ডোজ দেয়া হয়ে গেছে।’

আরও পড়ুন:
অবহেলায় মৃত্যুর অভিযোগে ১৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট
পাঁচ মিনিটের রাস্তা যেতে লাগে ৪০ মিনিট
নির্মাণের পরদিনই হেলে পড়ে যে সেতু
১০০ শয্যার হাসপাতালে ১৫৭ রোগী
মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভে রোগীর বিড়ম্বনা

শেয়ার করুন

টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিলেন জবির ৪০০ শিক্ষার্থী

টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিলেন জবির ৪০০ শিক্ষার্থী

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আধুনিক মেডিক্যাল সেন্টারে করোনার টিকা নিচ্ছেন এক শিক্ষার্থী। ছবি: নিউজবাংলা

মেডিক্যাল সেন্টার সূত্রে জানা যায়, সোমবার ৬০০ শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়ার পর মঙ্গলবার শেষদিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়াও শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেয়া হবে। যারা টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন শুধুমাত্র তারা দ্বিতীয় ডোজ নিতে পারবেন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আধুনিক মেডিক্যাল সেন্টারে রোববার দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিয়েছেন ৪০০ শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেয়া চলবে মঙ্গলবার পর্যন্ত।

মেডিক্যাল সেন্টার সূত্রে জানা যায়, টিকাদানের দ্বিতীয় পর্বের প্রথম দিনে রোববার সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত টিকা নেন ৪০০ শিক্ষার্থী। এরমধ্যে ২৪৯ জন ছাত্র ও ১৫১ জন ছাত্রী। তাদের সিনোফার্মের টিকা দেয়া হয়েছে।

সোমবার ৬০০ শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়ার পর মঙ্গলবার শেষদিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়াও শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেয়া হবে। যারা টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন শুধুমাত্র তারা দ্বিতীয় ডোজ নিতে পারবেন।

টিকার এ কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (ছাত্র-কল্যাণ) অধ্যাপক ড. মো. আইনুল ইসলামসহ মেডিকেল সেন্টার, আইসিটি সেল ও ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন অফিসের কর্মকর্তারা।

গত ২১ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপনের দিনে করোনার টিকা কেন্দ্র উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক। এরপর ২৫ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত টিকাদান কর্মসূচি চলে। তখন প্রথম ডোজের টিকা নেন মোট ১ হাজার ৯৬০ জন।

আরও পড়ুন:
অবহেলায় মৃত্যুর অভিযোগে ১৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট
পাঁচ মিনিটের রাস্তা যেতে লাগে ৪০ মিনিট
নির্মাণের পরদিনই হেলে পড়ে যে সেতু
১০০ শয্যার হাসপাতালে ১৫৭ রোগী
মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভে রোগীর বিড়ম্বনা

শেয়ার করুন