মন্দিরে হিন্দু কেউ কোরআন রাখবে, তা বিশ্বাসযোগ্য নয়: হানিফ

মন্দিরে হিন্দু কেউ কোরআন রাখবে, তা বিশ্বাসযোগ্য নয়: হানিফ

মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, কুমিল্লার ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। সুপরিকল্পিতভাবে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ধ্বংস করতে এই অপতৎপরতা। হিন্দু ধর্মের কেউ মন্দিরে কোরআন রাখবে, এটা পাগল ছাড়া কেউ বিশ্বাস করবে না। এটা রাখাই হয়েছে, দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য।

কুমিল্লার ঘটনাকে সুপরিকল্পিত উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

তিনি বলেন, হিন্দু ধর্মের কেউ মন্দিরে কোরআন রাখবে, এটা পাগল ছাড়া কেউ বিশ্বাস করবে না। বিএনপি-জামায়াত জোটের ইন্ধনে দেশকে অস্থিতিশীল করতে এই ঘৃণ্য কাজ করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সদর উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের নব গঠিত কমিটির পরিচিতি সভায় যোগ দেয়ার আগে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

কুমিল্লা নগরীর নানুয়ার দিঘীর উত্তরপাড়ের একটি পূজামণ্ডপে কোরআন শরিফ পাওয়ার অভিযোগ তোলার পর শহরে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয় পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির বিপুল সংখ্যক সদস্য। তবে আলোচিত মণ্ডপের পূজার আয়োজকেরা বলছেন, সেখানে পবিত্র কোরআন শরিফ কী করে এলো সে বিষয়ে তাদের কোনো ধারণা নেই। বুধবার সকালে বিষয়টি পূজারিদের নজরে আসে। এর আগে গভীর রাত পর্যন্ত পূজা উদযাপন শেষে মণ্ডপটি জনশূন্য ছিল।

কুমিল্লার ঘটনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে পূজা মণ্ডপের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ২২ জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবি। চাঁদপুরের একটি উপজেলায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যে এক জরুরি ঘোষণায় সবাইকে সচেতন থাকার অনুরোধ জানিয়েছে ধর্মমন্ত্রণালয়। ঘোষণায় বলা হয়েছে, ‘ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে যে কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকুক, তাদেরকে অবশ্যই আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেউ আইন হাতে তুলে নেবেন না। সবাইকে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য অনুরোধ করা হলো।’

ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, কুমিল্লার ঘটনা সাম্প্রদায়িক অপশক্তির কাজ।

মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, কুমিল্লার ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। সুপরিকল্পিতভাবে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ধ্বংস করতে এই অপতৎপরতা। হিন্দু ধর্মের কেউ মন্দিরে কোরআন রাখবে, এটা পাগল ছাড়া কেউ বিশ্বাস করবে না। এটা রাখাই হয়েছে, দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য।

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আসম আখতারুজ্জামান মাসুমের সভাপতিত্বে পরিচিতি সভায় সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সদর উদ্দিন খানসহ আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, সরকার বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। আইন শৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সব এজেন্সি মাঠে রয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার অপচেষ্টাকারীদের কঠোর ভাবে দমন করা হবে।

আরও পড়ুন:
চৌমুহনীতে যুবকের মরদেহ, হিন্দু সম্প্রদায়ের বিক্ষোভ
চট্টগ্রামে ঢিলেঢালা হরতাল, আটক ৭০
কুমিল্লার ঘটনায় শিগগিরই গ্রেপ্তার হবে জড়িতরা: পুলিশ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

যুবলীগ নেতা হত্যা মামলায় ৮ জনের যাবজ্জীবন

যুবলীগ নেতা হত্যা মামলায় ৮ জনের যাবজ্জীবন

ঝিনাইদহে যুবলীগ নেতা শান্তি হত্যা মামলায় ৮ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১০ সালের ৭ জুলাই গান্না বাজার থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন তৎকালীন ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন মণ্ডল শান্তি। পথে কাশিমনগর ব্রিজের ওপর পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালায়। ১১ জুলাই সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শান্তির মৃত্যু হয়।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কাশিমনগর গ্রামের যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন মণ্ডল ওরফে শান্তি হত্যা মামলায় ৮ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

জেলা অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক শওকত হোসাইন সোমবার সকালে এ দণ্ডাদেশ দেন। প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা ও বিস্ফোরক আইনে ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়।

দণ্ডিতরা হলেন শান্তি হোসেন, আব্দুল করিম, লাভলু, আবু জাহিদ মনি, মিজানুর রহমান ওরফে টাক মিজান, ইব্রাহিদ খলিল ওরফে ইদ্রিস ওরফে ইদু, মুকুল ও নাসির।

এ মামলায় অপর আসামি গান্না ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন মালিথার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। আর মশিউর রহমান ও উজ্জল হোসেন মারা যাওয়ায় তাদের মামলা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১০ সালের ৭ জুলাই গান্না বাজার থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন তৎকালীন ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন মণ্ডল শান্তি। পথে কাশিমনগর ব্রিজের ওপর পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল পরে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসা দেয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১১ জুলাই সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শান্তির মৃত্যু হয়।

মামলা থেকে আরও জানা যায়, এ ঘটনায় নিহতের শ্বশুর সিরাজুল ইসলাম মালিথা সদর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে ১১ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয়।

মামলা চলাকালে আটকদের মধ্যে তিনজন ঘটনার দায় স্বীকার করেন। মোট ১৯ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত সোমবার এ মামলায় রায় ঘোষণা করে।

মামলায় ৮ জনকে যাবজ্জীবন ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

এ ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে করা বিস্ফোরক মামলায় ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেন বিচারক।

আরও পড়ুন:
চৌমুহনীতে যুবকের মরদেহ, হিন্দু সম্প্রদায়ের বিক্ষোভ
চট্টগ্রামে ঢিলেঢালা হরতাল, আটক ৭০
কুমিল্লার ঘটনায় শিগগিরই গ্রেপ্তার হবে জড়িতরা: পুলিশ

শেয়ার করুন

নিরাপত্তা চেয়ে রাজবাড়ীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানববন্ধন

নিরাপত্তা চেয়ে রাজবাড়ীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানববন্ধন

সহিংসতার প্রতিবাদে রাজবাড়ীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ হয়। ছবি: নিউজবাংলা

হিন্দু খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি গণেশ নারায়ণ চৌধুরী বলেন, ‘যাদের সঙ্গে আমরা একটা সিঙ্গারা ভাগ করে খাই, এক সঙ্গে ওঠাবসা করি, সামাজিক অনুষ্ঠানে চলাফেরা করি, তারা কেমন করে আমাদের ঘরে আগুন দেয়? যে চেতনা নিয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম সেই দেশ দেখতে চাই। আমরা এর প্রতিকার চাই।’

কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মন্দিরে হামলা ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনার জেরে নিরাপত্তার দাবিতে রাজবাড়ীতে মানববন্ধন করেছে হিন্দু সম্প্রদায়।

জেলা প্রেসক্লাবের সামনে সোমবার সকাল ১১টায় এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জয়দেব কুমার, হিন্দু খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি গণেশ নারায়ণ চৌধুরী, সেক্রেটারি জয়দেব কুমার, ইসকন মন্দিরের অধ্যক্ষ শান্ত নিবাস দাসসহ অনেকে।

মানববন্ধনে পূজা উদযাপন পরিষদের সেক্রেটারি জয়দেব কুমার বলেন, ‘আমরা মুসলমানদের ধর্মকে সম্মান করি। মিথ্যা অভিযোগে আমাদের উপর অত্যাচার কেন করা হলো? আমাদের কোনো নিরাপত্তা নাই। আমরা কোথায় যাব? প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

নিরাপত্তা চেয়ে রাজবাড়ীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানববন্ধন



হিন্দু খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি গণেশ নারায়ণ চৌধুরী বলেন, ‘যাদের সঙ্গে আমরা একটা সিঙ্গারা ভাগ করে খাই, এক সঙ্গে ওঠাবসা করি, সামাজিক অনুষ্ঠানে চলাফেরা করি, তারা কেমন করে আমাদের ঘরে আগুন দেয়? যে চেতনা নিয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম সেই দেশ দেখতে চাই। আমরা এর প্রতিকার চাই।’

আরও পড়ুন:
চৌমুহনীতে যুবকের মরদেহ, হিন্দু সম্প্রদায়ের বিক্ষোভ
চট্টগ্রামে ঢিলেঢালা হরতাল, আটক ৭০
কুমিল্লার ঘটনায় শিগগিরই গ্রেপ্তার হবে জড়িতরা: পুলিশ

শেয়ার করুন

আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য গ্রেপ্তার

আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য গ্রেপ্তার

নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা দলের সদস্য শামীম হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

শিবালয় থানার ওসি ফিরোজ কবির জানান, গোপন তথ্যের মাধ্যমে এন্টি টেররিজম ইউনিট শিমুলিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করেন। এ সময় তার কাছ থেকে বেশ কিছু জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়।

মানিকগঞ্জের শিবালয় থেকে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য শামীম হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

উপজেলার শিমুলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে রোববার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করেন অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা। সোমবার দুপুরে তাকে আদালতে তোলা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার শামীম শিবালয় উপজেলার শিমুলিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ কবির নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, শামীম নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের একজন সক্রিয় সদস্য। ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক, মেসেঞ্জার, টেলিগ্রামে উগ্রবাদী কন্টেন্ট প্রচার ও উগ্রবাদী বই দেয়া-নেয়া করতেন।

গোপন তথ্যের মাধ্যমে এন্টি টেররিজম ইউনিট শিমুলিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে বেশ কিছু জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়।

তার বিরুদ্ধে শিবালয় থানায় এন্টি টেররিজম ইউনিটের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
চৌমুহনীতে যুবকের মরদেহ, হিন্দু সম্প্রদায়ের বিক্ষোভ
চট্টগ্রামে ঢিলেঢালা হরতাল, আটক ৭০
কুমিল্লার ঘটনায় শিগগিরই গ্রেপ্তার হবে জড়িতরা: পুলিশ

শেয়ার করুন

শার্শার সীমান্ত থেকে অস্ত্র-গুলি জব্দ

শার্শার সীমান্ত থেকে অস্ত্র-গুলি জব্দ

যশোরের শার্শা গোগা থেকে পিস্তল, গুলি ও ম্যাগজিন উদ্ধার করেছে বিজিবি। ছবি: নিউজবাংলা

শার্শার গোগো ক্যাম্পের ১৭/৭এস ৪৪ আর পিলার থেকে প্রায় ১৫০০ গজ ভেতরে কালিয়ানী মাঠ থেকে ১টি পিস্তল, ২ রাউন্ড গুলি, ২টি ম্যাগজিন ও ২০ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয় বলে জানায় বিজিবি।

যশোরের শার্শার সীমান্ত এলাকা থেকে অস্ত্র-গুলি ও মাদকের চালান জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

শার্শার গোগা সীমান্ত এলাকার একটি মাঠ থেকে সোমবার ভোরে এসব জব্দ করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন গোগা ক্যাম্পের সুবেদার সালেহ আহম্মেদ।

তিনি জানান, ওই এলাকায় ২১ বিজিবির অধীনস্থ গোগা বিওপির টহল দল অভিযান চালায়।

হাবিলদার দবির উদ্দিনের নেতৃত্বে ১৭/৭এস ৪৪ আর পিলার থেকে প্রায় ১৫০০ গজ ভেতরে কালিয়ানী মাঠ থেকে ১টি পিস্তল, ২ রাউন্ড গুলি, ২টি ম্যাগজিন ও ২০ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয়েছে।

এসব মালামাল গোগা ক্যাম্পে জমা আছে।

তবে এসময় কাউকে আটক করা যায়নি বলে জানায় বিজিবি।

আরও পড়ুন:
চৌমুহনীতে যুবকের মরদেহ, হিন্দু সম্প্রদায়ের বিক্ষোভ
চট্টগ্রামে ঢিলেঢালা হরতাল, আটক ৭০
কুমিল্লার ঘটনায় শিগগিরই গ্রেপ্তার হবে জড়িতরা: পুলিশ

শেয়ার করুন

লুটপাট, আগুনে নিঃস্ব পীরগঞ্জের হিন্দুপাড়া

লুটপাট, আগুনে নিঃস্ব পীরগঞ্জের হিন্দুপাড়া

রংপুরের পীরগঞ্জে উত্তেজিত জনতার হামলায় ঘরবাড়ি হারিয়ে দিশেহারা এই প্রবীণ নারীর মতো হিন্দু সম্প্রদায়ের অর্ধশতাধিক পরিবার। ছবি: নিউজবাংলা

পীরগঞ্জের বড় করিমপুর কসবা গ্রামের উত্তরপাড়ায় রোববার রাতে অন্তত ২৩ বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন দেয়া হয়েছে। অনেক বাড়ির সামনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ভাঙা আসবাব, লোকজনের চোখে-মুখে আতঙ্ক আর ক্ষোভ। চারদিকে পোড়া গন্ধ আর বিলাপ।

‘হামরা খাবার বচচি, ওটি দেখি হৈ-হাঙ্গাম। পরে দেখি, কোবাকুবি, ফির দেখি আগুন জ্বলছে। পরে ক্যানে দেখি ঘুরি আসি, দোকানে, মন্দির, বাড়িত আগুন লাগি দিল। বউ বেটিত নিয়া, মানসের কানচেত কলার কাচের থোপে আচিনোং। ছাওয়া কান্দিছিল মুখ চিপি ধরি আচিনোং। আসি দেখি, নেপ তুলি কিস্তির সোগ টাতা নিয়ে গেছে।’

(আমরা খাবার খেতে বসছি, পরে দেখি কোপাকুপি, তারপর দেখি আগুন। পরে এসে দেখি দোকানে, মন্দিরে, বাড়িতে আগুন দিয়েছে। ঘরের মেয়ে-বউ-নাতি নিয়ে মানুষের বাড়ির পেছনে কলার গাছের নিচে লুকিয়ে ছিলাম। নাতি কান্না করছিল, তার মুখ চেপে রাখি। এরপর ফিরে এসে দেখি লেপ তুলে কিস্তির সব টাকা নিয়ে গেছে।)

রংপুরের পীরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নের বড় করিমপুর কসবা গ্রামে রোববার রাতে বিভীষিকাময় পরিস্থিতির কথা জানাচ্ছিলেন সুবালা রানী। তিনি থাকেন গ্রামের হিন্দু অধ্যুষিত উত্তরপাড়ায়। রোববার রাতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চলা হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এলাকাটি। এই গ্রামের দক্ষিণপাড়াটি অবশ্য রক্ষা পেয়েছে পুলিশি প্রতিরোধের কারণে।

লুটপাট, আগুনে নিঃস্ব পীরগঞ্জের হিন্দুপাড়া

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) বিপ্লব কুমার সরকার নিউজবাংলাকে জানান, হামলায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে অভিযান শুরু করা হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টা পর্যন্ত আটক হয়েছে ৪০ জন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গ্রামের উত্তরপাড়ার অন্তত ২৩ বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন দেয়া হয়েছে। অনেক বাড়ির সামনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ভাঙা আসবাব, লোকজনের চোখে-মুখে আতঙ্ক আর ক্ষোভ। চারদিকে পোড়া গন্ধ আর বিলাপ।

গ্রামজুড়ে টহল দিচ্ছে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি। নিরাপত্তা তদারকিতে আছেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) বিপ্লব কুমার সরকার।

লুটপাট, আগুনে নিঃস্ব পীরগঞ্জের হিন্দুপাড়া

ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির সামনে শূন্য দৃষ্টিতে বসে থাকা নন্দ রানী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গাড়ি পুড়ি ফেলাইছে, গরু নিয়ে গেছে, চাউল-ডাউল, ট্যাকা-পয়সা সব নিয়ে গেছে, সোনা আছলো এক ভরি- তাকো নিয়ে গেছে। হামরা এখন কী করি খামো বাবা, কী করি খামো।’

ক্ষতিগ্রস্ত আরেক বাড়ির কিরোন বালা বলেন, ‘এই দ্যাশোত থাকার চাইয়ে মরি যাওয়াই ভালো। ভয়ে রাইতোত পালাইয়ে ছিলাম। পরে পুলিশ আসি কয় তোমরা পলাইচেন ক্যান। আইজ আইচচি, আসি দেখি কিচ্চু নাই। সোনা বানা সোহ নিচে।’

(এই দেশে থাকার চেয়ে মরাই ভালো। ভয়ে রাতে পালায় ছিলাম। পরে পুলিশ এসে বলে তোমরা পালাও কেন। এখন এসেছি, দেখি কিছু নাই। সোনা-দানা নিয়ে গেছে।)

বিকাল বাবু নামের একজন জানান, হামলাকারীরা বাড়িঘরে আগুন দিতে শুরু করলে তিনি শিশুসন্তানকে নিয়ে পাশের ক্ষেতে লুকিয়ে ছিলেন।

লুটপাট, আগুনে নিঃস্ব পীরগঞ্জের হিন্দুপাড়া

তিনি বলেন, ‘যেলা আগুন নাগি দিচে, তখন আমি বাচ্চাক নিয়ে ঘাস বাড়ি যায়া নুকাইচিনুং। বাড়ির সোগ টাকা-পইসে নিচে, এখন ছৈলক বিস্কুট কাওয়ামো তার টাকা-পয়সা নাই।’

(যখন আগুন দেয়, তখন আমি বাচ্চা নিয়ে ঘাসের জমিতে লুকিয়ে ছিলাম। বাড়ির সব টাকা-পয়সা নিয়ে গেছে। বাচ্চাকে বিস্কুট কিনে খাওয়ানোর মতো টাকাও নেই।)

এসপি ও গ্রামবাসী জানায়, গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় হিন্দু ধর্মাবলম্বী ১৫ বছরের এক কিশোর রোববার বিকেলে ফেসবুকে কোনো একটি পোস্টে আপত্তিকর একটি কমেন্ট করে।

মুহূর্তে এর স্ক্রিনশট আশপাশের গ্রামের মুসল্লিদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে একদল লোক ওই কিশোরের গ্রামে উপস্থিত হয়।

লুটপাট, আগুনে নিঃস্ব পীরগঞ্জের হিন্দুপাড়া

পুলিশ জানায়, তারা খবর পাওয়ামাত্র সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ লোকজনকে বুঝিয়ে ফেরত পাঠায়। তবে এর দুই ঘণ্টা পর শুরু হয় আকস্মিক হামলা।

গ্রামবাসী জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে কয়েক শ লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে দক্ষিণপাড়া থেকে কিছুটা দূরে ক্ষেতের ওপারে স্থানীয় মসজিদে জড়ো হয়। পরে রাশেদ নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে তারা গ্রামের উত্তরপাড়ায় প্রবেশ করে ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করে।

হামলাকারীরা বাড়িঘরে ভাঙচুর ও আগুন দিতে থাকে। দুটি মন্দিরও ভাঙচুর করা হয়। লুট করা হয় স্বর্ণালংকার, টাকাসহ দরিদ্র পরিবারের নানা জিনিসপত্র। রাত ১১টা পর্যন্ত চলে এ অবস্থা। ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট গিয়ে আগুন নেভায়।

লুটপাট, আগুনে নিঃস্ব পীরগঞ্জের হিন্দুপাড়া

ক্ষতিগ্রস্তরা বলছেন, গায়ের কাপড় ছাড়া তাদের আর কিছু অক্ষত নেই। ওই পাড়ার অর্ধশত পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের অনেকে আছে খোলা আকাশের নিচে।

নারায়ণ চন্দ্র নামের একজন বলেন, ‘আমি বইনের (বোন) বাড়িতে আসছি। রাইতে খেয়ে বসে আছি। হুনতেছি (শুনছি) ওই গ্রামে একজন ফেসবুকে কী লিখছে, পুলিশ আসছে। আমরা শুনতেছি। এর কিছুক্ষণ পর হৈ দিয়ে মানুষ আসলো। ভাঙচুর আর আগুন দেয়া শুরু করল। ভয়ে ভাগনেকে নিয়ে পালায়ে গেছি। পরে ওমরা (হামলাকারীরা) যাবার পর বাড়ি আসি।’

লুটপাট, আগুনে নিঃস্ব পীরগঞ্জের হিন্দুপাড়া

পুলিশ মোতায়েনের পরও কীভাবে এত বড় হামলা হলো জানতে চাইলে এসপি বিপ্লব কুমার সরকার নিউজবাংলাকে জানান, যে কিশোরকে ঘিরে ঘটনার শুরু, তার বাড়ি গ্রামের দক্ষিণপাড়ায়। সন্ধ্যার পর থেকে মূলত ওই পাড়ায়ই থানা পুলিশ মোতায়েন ছিল।

এসপি বলেন, ‘সন্ধ্যা থেকেই ওই কিশোরের বাড়ির আশপাশে থানা পুলিশের সদস্যরা মোতায়েন ছিলেন। সেখানে পুলিশ ক্ষুব্ধ মানুষজনকে বোঝাতে চেষ্টা করে। ওই কিশোরকে আইনের আওতায় আনা হবে বলা হলে তারা শান্ত হয়ে চলে যায়। সে সময় পুলিশ দক্ষিণপাড়ায় অবস্থান করছিল।

‘তবে রাতে উত্তরপাড়ায় হাজার হাজার মানুষ উগ্রবাদী স্টাইলে হামলা চালায়। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ সময় হামলাকারীদের রাবার বুলেট ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চলে।’

লুটপাট, আগুনে নিঃস্ব পীরগঞ্জের হিন্দুপাড়া

এসপি বিপ্লব আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে অনেক তথ্য এসেছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই করছি। যাদের আটক করেছি, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। খুঁজে খুঁজে অন্য হামলাকারীদের বের করা হচ্ছে। যারাই এই ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে।’

ফেসবুকে আপত্তিকর কমেন্ট করা কিশোরকেও পুলিশ খুঁজছে জানিয়ে তিনি বলেন, ওই কিশোরকেও আইনের আওতায় আনা হবে।

সোমবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান বিভাগীয় কমিশনার আবাদুল ওয়াহাব ভুঞা, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য, জেলা প্রশাসক আসিব আহসানসহ প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন তারা।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে খাবার ও পোশাক বিতরণ করা হয়েছে।

লুটপাট, আগুনে নিঃস্ব পীরগঞ্জের হিন্দুপাড়া

এই হামলার প্রতিবাদে রোববার রাতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রলীগ। এর নেতৃত্বে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি তুষার কিবরিয়া। মিছিলে বক্তারা ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

আরও পড়ুন:
চৌমুহনীতে যুবকের মরদেহ, হিন্দু সম্প্রদায়ের বিক্ষোভ
চট্টগ্রামে ঢিলেঢালা হরতাল, আটক ৭০
কুমিল্লার ঘটনায় শিগগিরই গ্রেপ্তার হবে জড়িতরা: পুলিশ

শেয়ার করুন

টাকা চুরি দেখে ফেলায় শিশুকে ‘হত্যা’

টাকা চুরি দেখে ফেলায় শিশুকে ‘হত্যা’

সাভারের আশুলিয়া থানার সামনে নিহতের বড় বোন রুবিনা বেগম ভাইয়ের শোকে স্তব্ধ। ছবি: নিউজবাংলা

নিহত ফেরদৌসের বড় বোন রুবিনা বেগম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার বাবা আশুলিয়া ক্ল্যাসিক পরিবহনের চালক। ছোট ভাই ফেরদৌসকে তিন দিন আগে ওই পরিবহনে কাজে পাঠায়। বাসের হেলপার আর কন্ডাক্টর আমার ভাইকে হত্যা করে মরদেহ রাস্তায় ফেলে রাখে। পরে ভোর রাতে তারাই পুলিশকে খবর দিয়ে আনে।’

ঘুমিয়ে থাকা বাস কন্ট্রাকটরের পকেট থেকে হেল্পারের টাকা চুরি দেখে ফেলায় বাসটির চালকের শিশু ছেলেকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

সাভারের আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকা থেকে সোমবার ভোরের দিকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে শিশুটিকে হত্যা করা হয়, রোববার ১২টার দিকে।

বিষয়টি সোমবার সকাল ১০টার দিকে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করে আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সামিউল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় বাসের ওই কন্ট্রাকটরকে আটক করা হয়েছে। আর পলাতক হেল্পারকে আটকে অভিযান চলছে।

নিহত ১১ বছর বয়সী মো. ফেরদৌস ‘আশুলিয়া ক্ল্যাসিক’ পরিবহনে কাজ করত। সে শেরপুর জেলার সদর থানার মুন্সিপাড়া গ্রামের বাসচালক রইচ উদ্দিনের ছেলে। পরিবারের সঙ্গে থাকত আশুলিয়ার পল্লী বিদ্যুৎ বালুর মাঠ এলাকায়।

এ ঘটনায় আটক ২০ বছর বয়সী মো. হৃদয় ‘আশুলিয়া ক্ল্যাসিক’ পরিবহনের কন্ডাক্টর ছিলেন।

নিহত ফেরদৌসের বড় বোন রুবিনা বেগম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার বাবা আশুলিয়া ক্ল্যাসিক পরিবহনের চালক। ছোট ভাই ফেরদৌসকে তিন দিন আগে ওই পরিবহনে কাজে পাঠায়। বাসের হেলপার আর কন্ডাক্টর আমার ভাইকে হত্যা করে মরদেহ রাস্তায় ফেলে রাখে। পরে ভোর রাতে তারাই পুলিশকে খবর দিয়ে আনে।’

আটক হৃদয়ের বরাতে পুলিশ জানায়, রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর থেকে রাত ১২টার দিকে ‘আশুলিয়া ক্ল্যাসিক’ বাসটি বাইপাইল পৌঁছায়। বাসের মধ্যে কন্ডাক্টর হৃদয় ও হেলপার পারভেজ ঘুমিয়ে পড়েন। এ সময় পারভেজকে হৃদয়ের পকেট থেকে টাকা চুরির ঘটনা দেখে ফেলে ফেরদৌস।

এসআই সামিউল ইসলাম বলেন, পরে ঘুম ভাঙলে পকেট থেকে ৫০০ টাকা খোয়া যাওয়ার বিষয়টি টের পান হৃদয়। এ নিয়ে তিন জনের মধ্যে কথাকাটাকাটির জেরে পারভেজকে টাকা চুরি করতে দেখে ফেলের কথা জানায় ফেরদৌস। একপর্যায়ে পারভেজকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন হৃদয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পারভেজ ফেরদৌসকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

পারভেজ ও হৃদয় মিলে নিহত ফেরদৌসের মরদেহ সড়কে ফেলে রেখে সাভার হাইওয়ে পুলিশকে দুর্ঘটনার খবর দেন বলে জানায় পুলিশ।

পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

দুর্ঘটনায় নিহতের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন না পাওয়ায় বিষয়টি আশুলিয়া থানা পুলিশকে অবহিত করে সাভার হাইওয়ে পুলিশ। এ সময় হৃদয়কে আটক করা গেলেও পারভেজ পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আরও পড়ুন:
চৌমুহনীতে যুবকের মরদেহ, হিন্দু সম্প্রদায়ের বিক্ষোভ
চট্টগ্রামে ঢিলেঢালা হরতাল, আটক ৭০
কুমিল্লার ঘটনায় শিগগিরই গ্রেপ্তার হবে জড়িতরা: পুলিশ

শেয়ার করুন

দৌলতদিয়া ঘাটে ৩ কিলোমিটার যানজট

দৌলতদিয়া ঘাটে ৩ কিলোমিটার যানজট

দৌলতদিয়া ঘাটে তিন কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক জামাল হোসেন জানান, ছোট বড় মিলে এই রুটে ১৯টি ফেরি চলাচল করছে। দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ঘাটে ড্রেজিং কাজ এবং শিমুলিয়া বাংলাবাজার নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় এই যানজট সৃষ্টি হয়েছে। যানজট নিরসনে কাজ করছে ঘাট কর্তৃৃপক্ষ।

বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে আবারও ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় দৌলতদিয়া ঘাটে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। এতে ঘাটে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পারের অপেক্ষায় রয়েছে কয়েকশ যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক।

সোমবার ভোরে ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, দৌলতদিয়া ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত পণ্যবাহী ট্রাক ও বাসের দীর্ঘ সারি। ফেরি পার হতে তিন থেকে চার ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে ঘাট এলাকায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক ও যাত্রীরা।

দৌলতদিয়া ঘাটে ৩ কিলোমিটার যানজট

শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ এবং ঘাটে ড্রেজিং কাজ চলায় এই যানজট সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে ঘাট কর্তপক্ষ। তবে অগ্রাধিকার দিয়ে বাস ও কাঁচামালবাহী ট্রাকগুলোে আগে পারাপার করা হচ্ছে।

দীর্ঘ জট থাকায় ঘাট পার হতে কয়েকগুণ বেশি সময় লাগছে। এতে ভ্যাপসা গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন পারাপারের অপেক্ষায় থাকা চালক ও যাত্রীরা।

খুলনা থেকে ঢাকাগামী যাত্রী রাশেদ কবির বলেন, ‘সকাল থেকে ঘাটে আটকে আছি। প্রায় দুই ঘণ্টা হয়ে গেল এখনও ঘাটের দেখা পাইনি। তার ওপর সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। সব কিছু মিলে এই ভোগান্তি আর ভালো লাগছে না।’

দৌলতদিয়া ঘাটে ৩ কিলোমিটার যানজট

কমফোর্ট পরিবহণের যাত্রী শরীফ বলেন, ‘সকালে এসে পারের জন্য দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বসে আছি। এতো সময় জ্যামে আটকে থেকে আর ভালো লাগছে না। আমাদের ভোগান্তি শেষ হবে কবে তাও জানিনা।’

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক জামাল হোসেন জানান, ছোট বড় মিলে এই রুটে ১৯টি ফেরি চলাচল করছে। দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ঘাটে ড্রেজিং কাজ এবং শিমুলিয়া বাংলাবাজার নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় এই যানজট সৃষ্টি হয়েছে। যানজট নিরসনে কাজ করছে ঘাট কর্তৃৃপক্ষ।

আরও পড়ুন:
চৌমুহনীতে যুবকের মরদেহ, হিন্দু সম্প্রদায়ের বিক্ষোভ
চট্টগ্রামে ঢিলেঢালা হরতাল, আটক ৭০
কুমিল্লার ঘটনায় শিগগিরই গ্রেপ্তার হবে জড়িতরা: পুলিশ

শেয়ার করুন