পূজার নিরাপত্তাকর্মীর খাবার দিচ্ছে মাদ্রাসা

পূজার নিরাপত্তাকর্মীর খাবার দিচ্ছে মাদ্রাসা

খাগড়াছড়ির নারায়ণ মন্দির ও বোয়ালখালীর ইসলামিয়া মাদ্রাসা হেফজখানা। ছবি: নিউজবাংলা

বোয়ালখালী মাদরাসার পরিচালক মাওলানা আব্দুল্লাহ মেহেরী বলেন, ‘আমাদের ধর্ম ও নবীজী বলেছেন, প্রত্যেক ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে। মাদরাসায় দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে এমন সেবা করার সুযোগ পেয়ে আমিও খুশি। দুর্গা পূজা কিংবা রাস উৎসবসহ মন্দিরের প্রতিটি উৎসবে যদি আমাদের কোনো সহযোগিতা প্রয়োজন পড়ে, আমরা দিয়ে থাকি।’

শারদীয় দুর্গোৎসবে একটি মণ্ডপের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা করছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। অনন্য সম্প্রীতির এমন নিদর্শন পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়ির দীঘিনালায়।

শুধু এবার নয়, ২১ বছর ধরে এমন ধারাবাহিকতা রেখেছে দীঘিনালার বোয়ালখালীর ইসলামিয়া মাদরাসা হেফজখানা ও এতিমখানা।

দুর্গা পূজার পাশাপাশি হিন্দুদের রাস উৎসব ও মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিল অনুষ্ঠানেও সবার জন্য খাবারের ব্যবস্থা করছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ।

দীঘিনালার বোয়ালখালী এলাকায় রাস্তার এক পাশে নারায়ণ মন্দিরে চলছে শারদীয় দুর্গোৎসব। রাস্তার অন্য পাশেই বোয়ালখালী ইসলামিয়া মাদ্রাসা হেফজখানা ও এতিম খানা। দুই সম্প্রদায়ের দুই প্রতিষ্ঠান পাশাপাশি হলেও সব কিছুই সেখানে স্বাভাবিক। প্রতিবেশীর মতো একে অপরের সহায়তায় দাঁড়িয়েছে দুই সম্প্রদায়ের মানুষ।

বোয়ালখালী নারায়ণ মন্দিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন পুলিশের পাঁচ সদস্য। দায়িত্বে থাকা পুলিশের সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই) মো. খলিলুর রহমান নিউজবাংলাকে জানান, সম্প্রীতির অনন্য নজির দেখে তিনি বিস্মিত। পুলিশ সদস্যদের প্রতি বেলার খাবার আসছে মাদরাসা থেকে।

বোয়ালখালী নারায়ণ মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি মৃদুল কান্তি সেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মন্দির ও মাদারাসার পাশাপাশি এ সহাবস্থান ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। আমাদের বিভিন্ন উৎসব ও পূজায় সহযোগিতা করছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। মাদরাসার বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও আমরা যাই।’

বোয়ালখালী মাদরাসার পরিচালক মাওলানা আব্দুল্লাহ মেহেরী বলেন, ‘আমাদের ধর্ম ও নবীজী বলেছেন, প্রত্যেক ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে। মাদরাসায় দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে এমন সেবা করার সুযোগ পেয়ে আমিও খুশি। দুর্গা পূজা কিংবা রাস উৎসবসহ মন্দিরের প্রতিটি উৎসবে যদি আমাদের কোনো সহযোগিতা প্রয়োজন পড়ে, আমরা দিয়ে থাকি। এ ছাড়া মাদরাসায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও তারা (হিন্দু সম্প্রদায়) এগিয়ে আসেন।’

দীঘিনালা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কাশেম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ উপজেলায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদীর্ঘ কাল ধরে অটুট। প্রতিটি উৎসব এখানে সব সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে সার্বজনীন রূপ পায়।’

আরও পড়ুন:
সম্প্রীতি বাংলাদেশের নাটোর জেলার আহ্বায়ক কমিটি
অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা চলছে: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বায়ুদূষণ রোধে সচেতনতায় নাটিকা

বায়ুদূষণ রোধে সচেতনতায় নাটিকা

বায়ুদূষণ রোধে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার দাবিতে বাগেরহাটে পথসভা ও নাটিকা করেছে মানব উন্নয়ন সংস্থা বাঁধন। ছবি: নিউজবাংলা

পথসভার আগে ‘ফিরিয়ে দেও পৃথিবী’ শিরোনামে নাটিকা প্রদর্শন করে মানব উন্নয়ন সংস্থা বাঁধনের বিভিন্ন যুব সংগঠনের সদস্যরা।

বায়ুদূষণ রোধে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার দাবিতে বাগেরহাটে পথসভা ও নাটিকা প্রদর্শন করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মানব উন্নয়ন সংস্থা বাঁধন ও প্রাণ বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে সভা ও নাটিকা প্রদর্শিত হয়।

পথসভার আগে ‘ফিরিয়ে দেও পৃথিবী’ শিরোনামে নাটিকা প্রদর্শন করে বাঁধনের বিভিন্ন যুব সংগঠনের সদস্যরা।

নাটিকার মাধ্যমে তরুণরা মাটি, বায়ু ও পানি দূষণমুক্ত রাখার পাশাপাশি শূন্য কার্বনভিত্তিক টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার দাবি জানায়।

পরে অনুষ্ঠিত পথসভায় বক্তব্য রাখেন বাঁধনের নির্বাহী পরিচালক এএসএম মঞ্জুরুল হাসান ও সাংবাদিক আরিফুল হকসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
সম্প্রীতি বাংলাদেশের নাটোর জেলার আহ্বায়ক কমিটি
অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা চলছে: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

২ শ পাখি পেল মুক্ত আকাশ

২ শ পাখি পেল মুক্ত আকাশ

সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, পাখি শিকারীরা উপজেলার গাজনার বিল থেকে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে পাখি শিকার করে বিক্রি করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে ১০০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

পাবনা সুজানগরে শিকারীদের কাছ থেকে উদ্ধার প্রায় ২ শ দেশীয় প্রজাতির পাখি অবমুক্ত করা হয়েছে।

সুজানগর থানা চত্বর সোমবার দুপুরের পর পাখিগুলো অবমুক্ত করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান।

এর আগে চরদুলাই বাজারে অভিযান চালিয়ে পাখিসহ তিন শিকারীকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রত্যেককে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

আটক শিকারীরা হলেন গোবিন্দপুর গ্রামের আতোয়ার শেখ, ঘোড়াদহ গ্রামের আলাউদ্দিন, চলদুলাই গ্রামের মোজাহার আলী।

সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, পাখি শিকারীরা উপজেলার গাজনার বিল থেকে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে পাখি শিকার করে বিক্রি করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে ১০০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

পাখি অবমুক্ত করার সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের মুহা. আ. লতিফসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
সম্প্রীতি বাংলাদেশের নাটোর জেলার আহ্বায়ক কমিটি
অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা চলছে: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

ভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ গেল শিশুর

ভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ গেল শিশুর

প্রতীকী ছবি

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে কয়রা থানার ওসি শাহাদাৎ হোসেন জানান, সকালে বাড়ির সামনের রাস্তায় হাঁটছিল শিশু জামিলা। এ সময় পেছন থেকে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের লোকজন শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। সেখানে চিকিৎসা চলাকালে মারা যায় শিশুটি।

খুলনার কয়রায় ব্যাটারিচালিত ভ্যানের ধাক্কায় এক শিশু নিহত হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা চলাকালে সোমবার বেলা ১১টার দিকে ওই শিশুর মৃত্যু হয়।

এর আগে উপজেলার বাগালি ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামে সরদারবাড়ির সামনে সোমবার সকাল ৯টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

মৃত শিশুর নাম জামিলা খাতুন। তিন বছরের জামিলা নারায়ণপুর গ্রামের কবিরুল ইসলামের মেয়ে।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য জানিয়েছেন কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদাৎ হোসেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওসি জানান, সকালে বাড়ির সামনের রাস্তায় হাঁটছিল শিশু জামিলা। এ সময় পেছন থেকে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের লোকজন শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। সেখানে চিকিৎসা চলাকালে মারা যায় শিশুটি।

ওসি শাহাদাৎ জানান, মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও কাউকে আটক করা যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো অভিযোগ জানানো হয়নি।

আরও পড়ুন:
সম্প্রীতি বাংলাদেশের নাটোর জেলার আহ্বায়ক কমিটি
অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা চলছে: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

নিখোঁজের ৫ দিন পর গরু ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার

নিখোঁজের ৫ দিন পর গরু ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার

প্রতীকী ছবি

গত ২০ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের কলোনি এলাকায় যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন মনসুর। তবে পরে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পাওয়ায় রোববার ডিমলা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন মনসুরের স্ত্রী সাহিদা বেগম।

নিখোঁজের পাঁচ দিন পর নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদী থেকে এক গরু ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

উপজেলার খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের দোহলপাড়ায় তিস্তার গ্রোয়িং বাঁধের নিচ থেকে সোমবার দুপুর ১টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

মৃত ব্যক্তির নাম মনসুর আলী। তার বাড়ি উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালিগঞ্জ গ্রামের দৌলতপাড়া এলাকায়।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডিমলা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বিশ্বদেব রায়।

পুলিশ জানায়, গত ২০ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের কলোনি এলাকায় যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন মনসুর। তবে পরে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পাওয়ায় রোববার ডিমলা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন মনসুরের স্ত্রী সাহিদা বেগম।

সাহিদা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গরু কেনার জন্য কলোনি যান উনি। রাত ১১টা বেজে গেলেও বাড়িতে না ফেরায় তারে কল দেই। তার মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া যায়। ক্লিনিক, হাসপাতালসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি।’

পরিদর্শক (তদন্ত) বিশ্বদেব রায় জানান, সোমবার দুপুরে দোহলপাড়ায় তিস্তার গ্রোয়িং বাঁধের নিচে স্থানীয়রা মনসুরের মরদেহ দেখতে পেয়ে থানায় জানায়। বাঁধের নিচে মরদেহটি আটকে ছিল।

ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলাও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
সম্প্রীতি বাংলাদেশের নাটোর জেলার আহ্বায়ক কমিটি
অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা চলছে: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

‘সত্য উদঘাটন করুন, গ্রেপ্তার-বাণিজ্য নয়’: সুজনের সম্পাদক

‘সত্য উদঘাটন করুন, গ্রেপ্তার-বাণিজ্য নয়’: সুজনের সম্পাদক

কুমিল্লা টাউন হল মুক্তিযোদ্ধা কর্নারে এক সংলাপে সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। ছবি: নিউজবাংলা

সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘লোক দেখানো তদন্ত না করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করুন। বিচারহীনতা, পরস্পর দোষারোপের সংস্কৃতি ও দোষীদের বিচারের আওতায় না আনা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের কারণ।’

‘কুমিল্লার ঘটনায় গ্রেপ্তার-বাণিজ্য নয়, সত্য উদঘাটন করুন’- বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।

কুমিল্লা টাউন হল মুক্তিযোদ্ধা কর্নারে এক সংলাপে সোমবার দুপুরে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘লোক দেখানো তদন্ত না করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করুন। বিচারহীনতা, পরস্পর দোষারোপের সংস্কৃতি ও দোষীদের বিচারের আওতায় না আনা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের কারণ।

‘রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানির ফলে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। নাগরিক সোচ্চার হলেই রাষ্ট্র ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে। দেশের প্রতিটি স্তরে দুর্নীতি ছেয়ে গেছে। এক শ্রেণির আমলা, ব্যবসায়ী, সরকারি চাকরিজীবী সরাসরি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছে।’

সুজন কুমিল্লার সভাপতি শাহ আলমগীর খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সোহান সরকার।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হুমায়ুন কবির মাসুদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সুজনের কুমিল্লা শাখার সাধারণ সম্পাদক আলী আশরাফ টিটু।

আরও বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রুহুল আমিন ভুইয়া, কুমিল্লা সরকারি মেডিক্যাল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোসলে উদ্দিন আহমেদ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান তারিকুল রহমান জুয়েল, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ফারহানা আমিন, সিনিয়র জেলা তথ্য অফিসার নজরুল হক, জেলা কালচারার অফিসার আয়াজ মাবুদ, প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি জহিরুল হক দুলাল।

আরও পড়ুন:
সম্প্রীতি বাংলাদেশের নাটোর জেলার আহ্বায়ক কমিটি
অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা চলছে: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

ফতুল্লায় স্টিল কারখানায় বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৫

ফতুল্লায় স্টিল কারখানায় বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৫

দগ্ধ আলী হোসেনের ভাই রুবেল ভান্ডারি বলেন, ‘আমরা দুই ভাই একই ফ্যাক্টরিতে কাজ করি। বিস্ফোরণ আমাদের ভুলেই হয়েছে। আমরা ভুলবশত মেশিন চালু করে ওই লাইনের কাজ শুরু করে দেই। এত প্রেশার নিতে না পেরেই বিস্ফোরণ হতে পারে।’

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় স্টিল কারখানায় ফার্নেস পাইপ বিস্ফোরণে পাঁচ শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

ফতুল্লার পাগলা রসুলপুর এলাকায় সিএসআরএম স্টিল কারখানায় সোমবার দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

দগ্ধরা হলেন সোহেল রানা, মো. লিটন, মো. আরিফ, বিল্লাল হোসেন ও আলী হোসেন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

কারখানার কোয়ালিটি কন্ট্রোল ম্যানেজার বদরুল আলম জানান, দুপুর ১২টার দিকে ফার্নেস পাইপ বিস্ফোরণে পাঁচ শ্রমিক দগ্ধ হন। তাদের দ্রুত বার্ন ইনস্টিটিউটে আনা হয়েছে।

বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা এস এম আইয়ুব হোসাইন বলেন, ‘যে পাঁচ শ্রমিককে আনা হয়েছে তাদের শরীরের ১১ থেকে ৫২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। আলী হোসেনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার শরীরের ৫২ শতাংশ পুড়ে গেছে।’

আলী হোসেনের ভাই রুবেল ভান্ডারি বলেন, ‘আমরা দুই ভাই একই ফ্যাক্টরিতে কাজ করি। বিস্ফোরণ আমাদের ভুলেই হয়েছে। আমরা ভুলবশত মেশিন চালু করে ওই লাইনের কাজ শুরু করে দেই। এত প্রেশার নিতে না পেরেই বিস্ফোরণ হতে পারে।’

ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন।

আরও পড়ুন:
সম্প্রীতি বাংলাদেশের নাটোর জেলার আহ্বায়ক কমিটি
অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা চলছে: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

আ. লীগ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে তারাপুরে বিক্ষোভ

আ. লীগ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে তারাপুরে বিক্ষোভ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম আউলিয়া বলেন, ‘রাজাকারের ছেলের হাতে দলীয় নৌকা প্রতীক কীভাবে গেল? কারা এখানে মদদ দিলেন? সব খতিয়ে দেখা দরকার। সাইফুলরা ৮ ভাইয়ের মধ্যে ৬ জনেই জামায়াতের কর্মী-সমর্থক।’ তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আ. লীগের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে যাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে তাকে বিতর্কিত উল্লেখ করে প্রতিবাদী বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে স্থানীয়রা।

ইউনিয়ন পরিষদের পাশে সোমবার দুপুরে চৈতন্যবাজারে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

যারা বিক্ষোভ করেছেন তাদের অভিযোগ, প্রার্থী সাইফুল ইসলামের বাবা আজিজুল হক মুক্তিযুদ্ধের সময় শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে সাইফুল দাবি করেছেন, তার সুনাম ক্ষুণ্ণ করতেই অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি পক্ষ।

মানববন্ধনে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শামছুল হক বলেন, তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সাইফুলকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি আওয়ামী লীগের কোনো পদে নেই। এমনকি তিনি দলের কর্মী-সমর্থকও ছিলেন না। সম্প্রতি তিনি সরকারি চাকরি থেকে অবসরে এসেছেন।

৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘মৌলভী আজিজুর রহমান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পিস কমিটির চেয়ারম্যান (থানা) ছিলেন। তখন তিনি স্থানীয় ইমামগঞ্জ সিনিয়র মাদ্রাসায় প্রিন্সিপাল ছিলেন। আমি দশম শ্রেণিতে পড়তাম।

‘আজিজল হক ছিলেন পিস কমিটির সদস্য। তারা পাক বাহিনীর সঙ্গে আঁতাত করে তথ্য সরবরাহ কাজে নিয়োজিত ছিল।’

এ নিয়ে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম আউলিয়া বলেন, ‘রাজাকারের ছেলের হাতে দলীয় নৌকা প্রতীক কীভাবে গেল? কারা এখানে মদদ দিলেন? সব খতিয়ে দেখা দরকার। সাইফুলরা ৮ ভাইয়ের মধ্যে ৬ জনেই জামায়াতের কর্মী-সমর্থক। তাদের মধ্যে মৌলভী তারা মিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সদস্য।’

ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আজমুল হোসেন পলাশ বলেন, ‘তিনবারের ইউপি চেয়ারম্যান ও তারাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সামাদ খোকাকে দলীয় নেতাকর্মীরা সমর্থন দিয়েছিলেন। সারা জীবন তিনি দলের সুখে দুঃখে পাশে ছিলেন। দলীয় প্রতীক তিনিই পাওয়ার যোগ্য।’

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, আওয়ামী লীগ নেতা মাহালম মিয়া, শিক্ষক নাজমুল হোসেন, ছাত্রলীগ নেতা রিপন মিয়া ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সুজন মিয়াসহ আরও অনেকে।

মানববন্ধনে সাইফুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানান বক্তারা।

অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ১৯৮০ সালে গাইবান্ধা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের প্রচার সম্পদকের দায়িত্বে ছিলাম। সরকারি চাকরি হওয়ায় সেখানে যোগদান করি। গত বছরে অবসরে এসে আমি পুনরায় ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে যোগ দেই।নেত্রী আমাকে যোগ্য প্রার্থী বিবেচনা করে নৌকার মনোনয়ন দিয়েছেন। আমি এ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করব।’

তিনি বলেন, ‘আমার পরিবারের কেউ জামায়াত কিংবা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। আমরা আওয়ামী পরিবারের সদস্য। একটি মহল আমাদের জামায়াত শিবির বানানোর পাঁয়তারা করছেন। এ ছাড়া আমার বাবা কোনো শান্তি কমিটির সদস্য কিংবা মুক্তিবাহিনীর বিপক্ষে ছিলেন না।’

আরও পড়ুন:
সম্প্রীতি বাংলাদেশের নাটোর জেলার আহ্বায়ক কমিটি
অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা চলছে: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন