‘যেন পাহাড় খুঁড়ে তোলা হচ্ছে সোনা’

‘যেন পাহাড় খুঁড়ে তোলা হচ্ছে সোনা’

পাহাড়ে চলছে পাকা ধান কাটার ধুম। ছবি: নিউজবাংলা

পৌষ ও মাঘ মাস এলেই পাহাড়ের ঢালে জঙ্গল সাফ করতে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন জুম চাষিরা। শুরু হয় জুম চাষের প্রস্তুতি। ফাল্গুন ও চৈত্র মাসের তীব্র রোদে শুকিয়ে আগুনে পুড়িয়ে তৈরি করা হয় জুমক্ষেত।

পাহাড়ে এখন ধান তোলার সময়। পাকা ধান কাটার ধুম পড়েছে রাঙ্গামাটির পাহাড়ি জনপদে। জুমঘরের চারদিকে যেন ধান নয়, সোনা ছড়িয়ে আছে।

রাঙ্গামাটির মগবান ইউনিয়নের বড়াদাম, মগবান, বন্দুক ভাঙ্গা ইউনিয়ন ও কুতুকছড়ির কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দীর্ঘ নয় মাসের পরিশ্রমের ফসল কেটে ঘরে তুলছেন চাষিরা। কর্মব্যস্ততায় মুখর পাহাড়। দেখে মনে হয় যেন পাহাড় খুঁড়ে ঘরে তোলা হচ্ছে মূল্যবান সোনা।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পার্বত্য তিন জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে জুম চাষ করা হয়।

পৌষ ও মাঘ মাস এলেই পাহাড়ের ঢালে জঙ্গল সাফ করতে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন জুম চাষিরা। শুরু হয় জুম চাষের প্রস্তুতি। ফাল্গুন ও চৈত্র মাসের তীব্র রোদে শুকিয়ে আগুনে পুড়িয়ে তৈরি করা হয় জুমক্ষেত।

‘যেন পাহাড় খুঁড়ে তোলা হচ্ছে সোনা’

বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠে জুম চাষিদের ব্যস্ততা আরও বেড়ে যায়। হিড়িক পড়ে আগুনে পোড়ানো জুমের মাটিতে বিভিন্ন বীজ বপনের। দা ও কোদাল দিয়ে গর্ত খুঁড়ে একসঙ্গে বপন করা হয় ধান, হলুদ, তুলা, শিম, মারফা, আঁখ, তিল, ভুট্টা ইত্যাদি।

জুমচাষ পাহাড়িদের আদি পেশা। পাহাড়ের অধিকাংশ মানুষের জীবিকার অন্যতম উৎস জুমচাষ।

প্রতি বছরের তুলনায় করোনার কারণে এ বছর চাষ হয়েছে কম। তবে ফলন হয়েছে অনেক বেশি।

রাঙ্গামাটি সদরের বন্দুকভাঙ্গার জুম চাষি ত্রিদেবী চাকমা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মোটামুটি এ বছর জুম থেকে অনেকগুলো ধান তুলতে পেরেছি। যদি সঠিক সময়ে বৃষ্টি হতো তাহলে আরও বেশি ধান পাওয়া যেত।’

‘যেন পাহাড় খুঁড়ে তোলা হচ্ছে সোনা’

কুতুকছড়ি এলাকার জুম চাষি সুখময় চাকমা বলেন, ‘ফলন আরও বেশি পেতাম যদি কৃষি বিভাগ থেকে সাহায্য করা হতো। তবে এ বছরে ছোট জুমে অনেক ফলন পেয়েছি। বিশেষ করে মারফা ও ভুট্টা ভালো হয়েছে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষ্ণ প্রসাদ মল্লিক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ বছর ধানের পাশাপাশি সবজির ভালো ফলন হয়েছে। ফলন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। রাঙ্গামাটির ১০ উপজেলার ৫ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। যার লক্ষ্যমাত্রা ১ দশমিক ৩০ টন।’

আরও পড়ুন:
৮০০ বিঘায় হযরত আলীর ২৭১ জাতের ফল
ফেসবুকে বীজ ব্যাংক
বাদামে বদলেছে জীবনযাত্রা
কম খরচে বেশি ফলনের ধান বিনা-২১
কম কষ্টে বেশি লাভের তিল

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিনাধান-১৭ আগাম পাকে, লাভ অনেক

বিনাধান-১৭ আগাম পাকে, লাভ অনেক

বিনাধান-১৭ আবাদ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষক। ছবি: নিউজবাংলা

বিনাধান-১৭ জাতের ধানের উদ্ভাবক বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, “এ ধান গাছের প্রতিটি শীষে পুষ্ট দানার সংখ্যা ২৫০ থেকে ২৭০টি। প্রচলিত জাতের তুলনায় ইউরিয়া সার ৩০ শতাংশ কম ও জমিতে ৪০ শতাংশ পানি কম লাগে। এ কারণে ‘গ্রিন সুপার রাইস’ হিসেবেও জাতটির নামকরণ হয়েছে।”

উচ্চ ফলনশীল, স্বল্প মেয়াদি, খরাসহিষ্ণু, আলোক সংবেদনশীল ও উন্নত গুণাগুণের বিনাধান-১৭ আবাদে কৃষিখাতে বিপুল সম্ভবনা দেখছেন বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের (বিনা) বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ জাত আবাদ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষক। এখন সারাদেশে জাতটি ছড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ইন্সটিটিউটের বিজ্ঞানীরা জানান, উদ্ভাবিত এ জাতের ধানগাছ খাটো ও শক্ত বলে হেলে পড়ে না। পূর্ণবয়স্ক গাছের উচ্চতা ৯৬ থেকে ৯৮ সেন্টিমিটার। পাতা গাঢ় সবুজ ও খাড়া। ধান আগাম পেকে যাওয়ায় কাটার পর জমিতে সহজেই আলু, গম বা রবিশস্য চাষ করা যায়।

বিনাধান-১৭ আগাম পাকে, লাভ অনেক

বিনাধান-১৭ উজ্জ্বল বংয়ের। ধান ও চাল লম্বা এবং চিকন, খেতে সুস্বাদু। এ কারণে বাজার মূল্য বেশি ও বিদেশে রপ্তানির উপযোগী। চালে অ্যামাইলোজের পরিমাণ ২৪.৬ শতাংশ এবং হেক্টর প্রতি ৬.৮ টন থেকে সর্বোচ্চ আট টন পর্যন্ত ফলন হয়।

এ ধানের চাল রান্নার পর ভাত ঝরঝরে হয় এবং দীর্ঘক্ষণ রাখলেও নষ্ট হয় না। ধানের এই জাতটি পাতা পোড়া, খোল পঁচা ও কাণ্ড পঁচা ইত্যাদি রোগ তুলনামূলকভাবে বেশি প্রতিরোধ করতে পারে। এছাড়া প্রায় সব ধরনের পোকার আক্রমণ, বিশেষ করে বাদামি গাছ ফড়িং, গলমাছি ও পামরি পোকার আক্রমণ প্রতিরোধের ক্ষমতা অনেক বেশি।

বিনাধান-১৭ আগাম পাকে, লাভ অনেক

বিজ্ঞানীরা জানান, ধান চাষ বৃদ্ধির কারণে তেল ও ডাল জাতীয় শস্যের জমি কমে যাচ্ছে। বিনাধান-১৭ উচ্চ ফলনশীল এবং এর জীবনকাল তুলনামূলকভাবে অনেক কম বলে শস্য নিবিড়তা বাড়াতে খুবই কার্যকর। আগাম পাকা জাত হিসেবে এটি চাষ করে সঠিক সময়ে তেল ও ডাল ফসল চাষ সম্ভব।

লবণাক্ত এলাকা ছাড়া দেশের সব রোপা আমন অঞ্চল, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তর রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, পাবনা এবং রাজশাহীসহ ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ ও পার্বত্য অঞ্চলে জাতটির বেশি ফলন পাওয়া যায়।

বিনাধান-১৭ জাতের ধানটি উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম। সহযোগী গবেষক হিসেবে ছিলেন উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রধান ও মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শামছুন্নাহার বেগম।

বিনাধান-১৭ আগাম পাকে, লাভ অনেক

ড. শামছুন্নাহার বেগম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ জাতের ধানটি উদ্ভাবনে পাঁচ বছর গবেষণা করা হয়েছে। বিনাধান-১৭ এর কৌলিক সারি নম্বর SAGC-7, যা ইরি-বিনার সহযোগিতায় ইরি-ফিলিপাইন থেকে সংগ্রহ করা হয়। সারি C418 (ZHONG413)-এর সঙ্গে SH109/(ZHONG413)2 সংকরায়ন করে পরে খরাসহিষ্ণু (ZHONG413)2-এর সঙ্গে পশ্চাৎ সংকরায়ন ও জিন পিরামিডিংয়ের মাধ্যমে লাইনটি উদ্ভাবন করা হয়েছে।’

তিনি জানান, এটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আমন মৌসুমে ফলন পরীক্ষার মাধ্যমে জাত হিসেবে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়েছে। ২০১৫ সালে জাতীয় বীজ বোর্ড উচ্চ ফলনশীল ও স্বল্পমেয়াদি জাত হিসেবে সারাদেশে আমন মৌসুমে চাষের জন্য বিনাধান-১৭ নামে অনুমোদন দেয়।

ড. শামছুন্নাহার বলেন, ‘এ জাতে ইউরিয়া সার এক-তৃতীয়াংশ কম প্রয়োজন হয়। এছাড়া ৫০ শতাংশ সেচের অর্থ সাশ্রয় হয়। ধানটি চিকন ও ভাত খেতে সুস্বাদু হওয়ায় ভালো দাম পান কৃষক। এছাড়া অ-মৌসুমে ধান কাটায় গোখাদ্য হিসেবে খড়ের সরবরাহ বাড়বে, এতে ভালো দামে খড় বিক্রিও করা যাবে।’

বিনাধান-১৭ আগাম পাকে, লাভ অনেক

জাতটির চাষাবাদ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘পাঁচ শতাংশ বীজতলায় ১০ কেজি বীজ ফেলতে হবে। জুন মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহ (আষাঢ়ের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শেষ সপ্তাহ) পর্যন্ত বীজতলা তৈরি করে ২০ থেকে ২৫ দিনের চারা রোপন করলে ভালো ফসল পাওয়া যায়। তবে, জুলাইয়ের শেষ (শ্রাবণের দ্বিতীয়) সপ্তাহ পর্যন্তও বীজতলা করা যায়।

‘এছাড়া জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে আগস্টের শেষ সপ্তাহ (শ্রাবণ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু করে ভাদ্র মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ) পর্যন্ত ২০ থেকে ২৫ দিন বয়সের চারা রোপন করলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে। বেশি বয়সের চারা লাগালে ফলন কমে যায়, তাই চার সপ্তাহের বেশি বয়সের চারা রোপন করা কোনো অবস্থাতেই উচিত নয়।’

ড. শামছুন্নাহার জানান, বীজতলায় চারা করার পর লাইন করে চারা রোপন করলে ফলন বেশি হয়। এজন্য দুই থেকে তিনটি সুস্থ-সবল চারা একত্রে এক গুছিতে রোপন করতে হবে। সারি থেকে সারির দূরত্ব ২০ সেন্টিমিটার (আট ইঞ্চি) এবং সারিতে গুছির দূরত্ব ১৫ সেন্টিমিটার (ছয় ইঞ্চি) থাকা ভালো।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপ-পরিচালক মো. মতিউজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জেলায় গত বছর ২৩১ হেক্টর জমিতে বিনাধান-১৭ আবাদ হয়েছে। আগাম ধান হওয়ায় খুশি কৃষক। এ বছর ২৭০ হেক্টর জমিতে এ জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। আগামী বছর আরও বেশি চাষ হবে।’

বিনাধান-১৭ আগাম পাকে, লাভ অনেক

বিনাধান-১৭ জাতের ধানের উদ্ভাবক বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ জাতটি সম্পর্কে ইতোমধ্যে কৃষকদের অবগত করা হয়েছে। নওগা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ময়মনসিংহ বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি আবাদ হয়েছে। অল্প খরচে বেশি উৎপাদনসহ চাল বিক্রি করে লাভবান হওয়ায় আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের।’

তিনি বলেন, “এ ধান গাছের প্রতিটি শীষে পুষ্ট দানার সংখ্যা ২৫০ থেকে ২৭০টি। প্রচলিত জাতের তুলনায় ইউরিয়া সার ৩০ শতাংশ কম ও জমিতে ৪০ শতাংশ পানি কম লাগে। এ কারণে ‘গ্রিন সুপার রাইস’ হিসেবেও জাতটির নামকরণ হয়েছে।”

মহাপরিচালক বলেন, ‘চলতি মাসে বিভিন্ন জাতের ধানে এখনও শীষ বের হয়নি। এগুলো পরিপক্ব হতে আরও দেড় মাস লেগে যাবে। অথচ অন্য জাতের সঙ্গে একই সময়ে লাগানো বিনাধান-১৭ জাতের ধান কাটা শেষ হয়েছে। কিছু জমিতে ধান থাকলেও সেগুলোও সম্পূর্ণ পেকে গেছে। এখন কৃষক ধান কাটতে ও মাড়াইয়ের কাজে ব্যস্ত। আগাম ধান কাটা শেষ হওয়ায় একই জমিতে এরপর আলু, গম বা রবিশস্য চাষ করা যাবে।’

আরও পড়ুন:
৮০০ বিঘায় হযরত আলীর ২৭১ জাতের ফল
ফেসবুকে বীজ ব্যাংক
বাদামে বদলেছে জীবনযাত্রা
কম খরচে বেশি ফলনের ধান বিনা-২১
কম কষ্টে বেশি লাভের তিল

শেয়ার করুন

বাঁশের জমজমাট বাণিজ্যিক চাষ

বাঁশের জমজমাট বাণিজ্যিক চাষ

মাদারীপুরে ১৭৭ হেক্টর জমিতে বাঁশের চাষ হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা

একবার জমিতে বাঁশ লাগালে ২০ বছরে আর জমিতে বাঁশ লাগানোর প্রয়োজন পড়ে না। বছর বছর শুধু বাঁশের ঝাড়ে মাটি দেয়া আর আগাছা পরিষ্কার করলেই চলে। ফলে একই জমি থেকে প্রতিবছর লাখ লাখ টাকার বাঁশ বিক্রি করছেন চাষিরা।

মাদারীপুরে পরিত্যক্ত জায়গায় বাণিজ্যিকভাবে বাঁশ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। বাজারে বাঁশের ব্যাপক চাহিদা থাকায় চাষে ঝুঁকছেন তারা। ফলে প্রতিবছরই বাঁশ চাষে আবাদি জমির পরিমাণ বাড়ছে। আর বাঁশ কেনা-বেচার সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। প্রতিটি বাঁশ দুই থেকে আড়াই শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাদারীপুরের বিভিন্ন হাট ও বাঁশবাগান থেকে বাঁশ কিনে নিচ্ছেন বরিশাল, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুরসহ বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা। বাঁশ বিক্রি করে চাষিরা যেমন লাভবান হচ্ছেন, ব্যবসায়ীরাও বেশ লাভের মুখ দেখছেন।

একবার জমিতে বাঁশ লাগালে ২০ বছরে আর জমিতে বাঁশ লাগানোর প্রয়োজন পড়ে না। বছর বছর শুধু বাঁশের ঝাড়ে মাটি দেয়া আর আগাছা পরিষ্কার করলেই চলে। ফলে একই জমি থেকে প্রতিবছর লাখ লাখ টাকার বাঁশ বিক্রি করছেন চাষিরা।

একাধিক চাষির সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, বাঁশ চাষের জন্য বিখ্যাত হওয়ায় মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার একটি ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে ‘বাঁশকান্দি’। এ ইউনিয়নে রয়েছে শত শত বাঁশের ঝাড়। আর এখানকার মানুষ বাঁশ চাষ করে নিজের চাহিদা মিটিয়ে বাঁশ বিক্রি করে বেশ লাভবানও হচ্ছেন।

বাঁশের জমজমাট বাণিজ্যিক চাষ

বাঁশকান্দি ইউনিয়নের মতোই মাদারীপুর সদর উপজেলার বাহাদুরপুর, কালিকাপুর, দুধখালী, ধুরাইল, রাজৈর উপজেলার বাজিতপুর, বদরপাশাসহ কম-বেশি প্রায় সব ইউনিয়নেই শুরু হয়েছে বাণিজ্যিকভাবে বাঁশ চাষ। তবে যেসব স্থানে বাঁশ চাষ করা হচ্ছে, সেখানে সাধারণত অন্য কোনো ফসল হয় না। ফলে পরিত্যক্ত জায়গায় গড়ে উঠেছে বাণিজ্যিকভাবে বাঁশচাষ।

সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের বাঁশচাষিরা জানান, পাঁচ কাঠা জমিতে বাঁশ চাষ করতে উত্তরখালী গ্রামের আক্তার খানের খরচ হয়েছে ১০ হাজার টাকা। এ জমির বাঁশ বিক্রি করে প্রতিবছর লাখ টাকা আয় করেন তিনি।

ধুরাইল ইউনিয়নের খালাসীকান্দি গ্রামের খোকন হাওলাদার এক বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে বাঁশ চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন। আগামীতে আরো বেশি জমিতে বাঁশ চাষ করতে চান তিনি।

মাদারীপুর জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বাঁশে খরচ কম, লাভ বেশি। ফলে জেলার চারটি উপজেলার শত শত চাষি বাণিজ্যিকভাবে বাঁশচাষে ঝুঁকছেন। এটি চাষে সার বা নিড়ানি দিতে হয় না। হাট-বাজারে বাঁশের ব্যাপক চাহিদা। হাট-বাজারে নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা ভালো দামে বিক্রি করতে পারছেন চাষিরা।

বাঁশের জমজমাট বাণিজ্যিক চাষ

মাদারীপুরের বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বরিশাল, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার বাঁশ ব্যবসায়ীরা উৎরাইল, ফরাজীরহাট, টেকেরহাট ও হবিগঞ্জহাট থেকে বাঁশ কিনছেন।

মাদারীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, জেলায় ১৭৭ হেক্টর জমিতে বাঁশের চাষ হচ্ছে। এখানে প্রায় ৪ লাখ ৪২ হাজার ৫০০টি বাঁশ লাগানো হয়েছে। প্রতিটি বাঁশের মূল্য ২০০ টাকা করে ধরা হলে এর মূল্য হবে ৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

তিনি জানান, বাজারে প্রচুর পরিমাণে বাঁশের চাহিদা থাকায় চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। যারা বাঁশের বাগান করেছেন, তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। যার ফলে বাঁশের আবাদ আরও বাড়বে।

আরও পড়ুন:
৮০০ বিঘায় হযরত আলীর ২৭১ জাতের ফল
ফেসবুকে বীজ ব্যাংক
বাদামে বদলেছে জীবনযাত্রা
কম খরচে বেশি ফলনের ধান বিনা-২১
কম কষ্টে বেশি লাভের তিল

শেয়ার করুন

মানুষ বেশি ভাত খায় বলে চালের ঘাটতি: কৃষিমন্ত্রী

মানুষ বেশি ভাত খায় বলে চালের ঘাটতি: কৃষিমন্ত্রী

‘বাংলাদেশের ৫০ বছর, কৃষি রূপান্তর অর্জন’ বিষয়ে সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক।

‘আমরা অনেক বেশি চাল খাই, ভাত খাই। এজন্য চালের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। আমরা দিনে প্রায় ৪০০ গ্রাম চাল খাই অথচ পৃথিবীর অনেক দেশের মানুষ ২০০ গ্রাম চালও খায় না।’

বাংলাদেশের মানুষ বেশি ভাত খায় বলে চালের ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে মনে করেন কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক। এ জন্য তিনি খাদ্যাভ্যাস পাল্টানোর তাগিদ দিয়েছেন।

মানুষকে ভাত কম খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য বলেছেন, বিশ্বের মানুষ গড়ে যত চাল খায় বাংলাদেশের মানুষ খায় তার দ্বিগুণ।

রোববার রাজধানীতে এক কৃষি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এই কথা বলেন। সম্মেলনের বিষয় ছিল ‘বাংলাদেশের ৫০ বছর, কৃষি রূপান্তর অর্জন।’

বাংলাদেশ কৃষি সাংবাদিক ফোরাম ও বণিক বার্তা যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করে।

চাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ঘাটতির তথ্য পাওয়া যায় না। তবে প্রায়ই চালের দাম বেড়ে গেলে সরকার আমদানি উন্মুক্ত করে দেয়।

সম্প্রতি চালের দাম বেড়ে যাওয়া নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। তবে গত দুই সপ্তাহে তা কিছুটা নিম্নমুখি। তার পরেও বাজার নিয়ন্ত্রণ সরকারি সংস্থা টিসিবির হিসাবে সরু চালের দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি। এটি মূল্যস্ফীতির সার্বিক হারের চেয়ে বেশি।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অনেক বেশি চাল খাই, ভাত খাই। এজন্য চালের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। আমরা দিনে প্রায় ৪০০ গ্রাম চাল খাই অথচ পৃথিবীর অনেক দেশের মানুষ ২০০ গ্রাম চালও খায় না।

‘খাদ্যের অভাব নেই দেশে। নেই খাদ্যের সংকট ও খাবারের জন্য হাহাকার। কিন্তু মানুষ অধিক ভাত খায় বলে চালের ওপর বেশি চাপ পড়ছে। এতে প্রায়শ সংকট দেখা দিচ্ছে। বাড়ছে দামও।’

ধানজাতীয় দানাদার খাদ্যে বাংলাদেশকে সফল বলেও দাবি করেন মন্ত্রী। বলেন, খাদ্যেও দেশ অনেকটা স্বয়ংসম্পূর্ণ।

আগামী পাঁচ থেকে ছয় বছর পর দেশেই সারা বছর দেশে আম পাওয়া যাবে বলেও তথ্য দেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন কৃষিপণ্য রপ্তানিও করছি। তবে এই রপ্তানি সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দিতে হবে। সরকারের লক্ষ্য এখন খাদ্যে পরিপূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন। এর পাশাপাশি পুষ্টিজাতীয় খাদ্য নিশ্চিত করতেও উদ্যোগী হয়েছে সরকার। তবে এরজন্য কৃষির বাণিজ্যিক রূপান্তর দরকার।’

বাংলাদেশ পরিসংখ্যার ব্যুরোর হিসাবে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে চালের উৎপাদন ছিল ৩ কোটি ৪৮ লাখ টন। ২০২০ সালে উৎপাদন বেড়ে ৪ কোটি টন ছাড়িয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (ইফপ্রি) গবেষণা তথ্যমতে, ২০১৮ সালে বাংলাদেশে মানুষের দৈনিক মাথাপিছু চাল খাওয়ার পরিমাণ ছিল ৩৯৬ দশমিক ৬ গ্রাম। সংস্থাটির ২০১৬ সালের হিসাবে ছিল ৪২৬ গ্রাম।

আরও পড়ুন:
৮০০ বিঘায় হযরত আলীর ২৭১ জাতের ফল
ফেসবুকে বীজ ব্যাংক
বাদামে বদলেছে জীবনযাত্রা
কম খরচে বেশি ফলনের ধান বিনা-২১
কম কষ্টে বেশি লাভের তিল

শেয়ার করুন

‘গ্রামগঞ্জে পৌঁছাবে ইলিশের স্বাদ’

‘গ্রামগঞ্জে পৌঁছাবে ইলিশের স্বাদ’

কয়েক বছর ধরে প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ, কেনা-বেচা ও বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসছে সরকার। ফলে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে বহুগুণ। ফাইল ছবি

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা চাইব আগামীতে ইলিশ উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে। ইলিশের উৎপাদন এমন একটা জায়গায় আসুক যাতে গ্রাম-গঞ্জে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের সব মানুষ সুস্বাদু ইলিশের স্বাদ নিতে পারেন। পরিপূর্ণতার সঙ্গে পরিবার-পরিজন নিয়ে ইলিশ খেতে পারেন।’

সম্মিলিত প্রচেষ্টায় উৎপাদন বাড়ায় গ্রামে-গঞ্জেও ইলিশের স্বাদ পৌঁছানোর ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

রোববার মৎস্য ভবনে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান বাস্তবায়ন সংক্রান্ত মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যত করণীয় বিষয়ক এক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা চাইব আগামীতে ইলিশ উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে। ইলিশের উৎপাদন এমন একটা জায়গায় আসুক যাতে গ্রাম-গঞ্জে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের সব মানুষ সুস্বাদু ইলিশের স্বাদ নিতে পারেন। পরিপূর্ণতার সঙ্গে পরিবার-পরিজন নিয়ে ইলিশ খেতে পারেন।’

‘সারা বিশ্বে সবচেয়ে সুস্বাদু ও সর্বোচ্চ ইলিশ মাছ আহরণে আমাদের স্বত্বাধিকার রয়েছে। সে জন্য ইলিশ রক্ষার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে আমরা কর্মসূচি গ্রহণ করি। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ব্যাপক হারে যাতে ইলিশ রপ্তানি না হয় সে পদক্ষেপও আমরা নিয়েছি।’

‘গ্রামগঞ্জে পৌঁছাবে ইলিশের স্বাদ’

রোববার মৎস্য ভবনে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান বাস্তবায়ন সংক্রান্ত মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যত করণীয় বিষয়ক এক কর্মশালায় বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। ছবি: নিউজবাংলা

মা ইলিশ রক্ষায় গত ৪ অক্টোবর থেকে ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ, কেনা-বেচা ও বিনিময় নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকার। এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইলিশ ধরতে গিয়ে আটক হয়েছেন শতাধিক জেলে, গুনেছেন জরিমানাও।

কয়েক বছর ধরে প্রজনন মৌসুমে এই নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসছে সরকার। আর এর ফলে ইলিশের উৎপাদনও বেড়েছে বহুগুণ।

মন্ত্রী বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে কিছু প্রতিকূলতা লক্ষ্য করেছি। কিছু দুষ্ট লোক তাদের অসাধু পরিকল্পনা ও চিন্তাচেতনা বাস্তবায়ন করার জন্য দরিদ্র-অসহায় জেলেদের নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে নামাচ্ছে। যারা নিষেধাজ্ঞার সময় মৎস্য আহরণে যায় তাদের বড় অংশ অন্যের মাধ্যমে ব্যবহৃত হয়।’

‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান শতভাগ সফল করতে নতুন নতুন সৃজনশীল কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে হবে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। মৎস্যজীবী বিভিন্ন সংগঠনের ভূমিকা আরও বেশি কীভাবে রাখা যায়, সে জন্য নীতিনির্ধারণ করতে হবে। মা ইলিশ সংরক্ষণে এবারের অভিযানের সাফল্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে আরও ভালোভাবে ভবিষ্যতে অভিযান পরিচালনা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে সুস্বাদু ও ভালো মাছ হচ্ছে ইলিশ। ইলিশ মাছ সংরক্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি, এর নিরাপদ আশ্রয় ও নিরাপদ প্রজননের জন্য সরকার নানা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। মা ইলিশ রক্ষা, ইলিশের অভয়াশ্রম সৃষ্টি করা, ইলিশ গবেষণা, জাটকা সংরক্ষণসহ বিভিন্নভাবে আমরা কাজ করছি।

‘ইলিশের পরিসর বৃদ্ধির জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সব ধরনের আগ্রহ রয়েছে, পরিকল্পনা রয়েছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তরের কর্মকর্তারা সকলে মিলে ভূমিকা পালন করতে হবে।’

কর্মশালায় দেশের ৮ বিভাগের বিভাগীয় মৎস্য দপ্তরের উপপরিচালকরা নিজ বিভাগের মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের কার্যক্রম তুলে ধরেন। এতে জানানো হয়, এ বছর মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের ১ হাজার ৮৯২টি মোবাইল কোর্ট ও ১৫ হাজার ৩৮৮টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটক করা হয় ৮৮৪ লাখ মিটার অবৈধ জাল।

আরও পড়ুন:
৮০০ বিঘায় হযরত আলীর ২৭১ জাতের ফল
ফেসবুকে বীজ ব্যাংক
বাদামে বদলেছে জীবনযাত্রা
কম খরচে বেশি ফলনের ধান বিনা-২১
কম কষ্টে বেশি লাভের তিল

শেয়ার করুন

কৃষি উদ্যোক্তাদের জন্য হচ্ছে মন্ত্রণালয়ের পৃথক সেল

কৃষি উদ্যোক্তাদের জন্য হচ্ছে মন্ত্রণালয়ের পৃথক সেল

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে এখন কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি ও তাদের উৎসাহিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সারা দেশে কৃষি উদ্যোক্তারা কে কী ফসল চাষ করবে, কোন ধরনের কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করবে, তাদের কী সহযোগিতা দরকার- এসব বিষয়ে দেখভাল, সহযোগিতা এবং যোগাযোগ রক্ষা করবে এই সেল।’

কৃষি উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দিতে এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করতে একটি পৃথক সেল গঠন করছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে শনিবার কৃষি উদ্যোক্তা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা জানান কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক।

তিনি বলেন, ‘দেশে এখন কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি ও তাদের উৎসাহিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সারা দেশে কৃষি উদ্যোক্তারা কে কী ফসল চাষ করবে, কোন ধরনের কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করবে, তাদের কী সহযোগিতা দরকার- এসব বিষয়ে দেখভাল, সহযোগিতা এবং যোগাযোগ রক্ষা করবে এই সেল।’

কৃষিমন্ত্রী জানান, এ বছরের মধ্যে সারা দেশে ২৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি কৃষি ঋণ বিতরণের খোঁজ খবর রাখতে মাঠ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘কৃষকেরা সঠিকভাবে ঋণ পাচ্ছে কিনা, ঋণ পেতে কি কি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে কিনা, কোন জেলায় কী পরিমাণ ঋণ বিতরণ হচ্ছে-এসব বিষয়ে খোঁজখবর রাখতে ইতোমধ্যে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নিয়েও কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এবারের দুর্গাপূজায় যে সহিংসতা হয়েছে, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর যে আক্রমণ হয়েছে তা জাতির জন্য লজ্জাজনক। এটি আমাদের গায়ে কালিমা লেপন করেছে। এ ধরনের ঘটনা কোনোক্রমেই কাম্য নয়।

‘ধর্মের নামে অপপ্রচার চালিয়ে যারা রংপুরের জেলেপল্লিতে মানুষের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেছে, আগুনে পুড়িয়েছে তারা অমানুষ, পশুতুল্য এবং বর্বর। এ ধর্মান্ধ বর্বরদের শিকড় সমূলে উৎপাটন করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
৮০০ বিঘায় হযরত আলীর ২৭১ জাতের ফল
ফেসবুকে বীজ ব্যাংক
বাদামে বদলেছে জীবনযাত্রা
কম খরচে বেশি ফলনের ধান বিনা-২১
কম কষ্টে বেশি লাভের তিল

শেয়ার করুন

কম বৃষ্টিতে ব্যাহত শীতের সবজি চাষ

কম বৃষ্টিতে ব্যাহত শীতের সবজি চাষ

পঞ্চগড়ে এবার দেরিতে বাজারে আসা শুরু করেছে শীতকালীন সবজি। ছবি: নিউজবাংলা

পঞ্চগড়ের কৃষকরা বলছেন, এ বছর জেলায় বৃষ্টি কম হওয়ায় শীতকালীন সবজির আবাদ ব্যাহত হয়েছে। আগাম সবজি উঠতে দেরি হওয়ায় পার্শ্ববর্তী ঠাকুরগাঁও, জয়পুরহাট ও বগুড়া জেলা থেকে সবজি আসছে, এ কারণে দাম বেশি।

পঞ্চগড় জেলায় এ বছর একটু দেরিতে বাজারে আসা শুরু করেছে শীতকালীন সবজি। বাজারে মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, গাজর, শিমসহ নানা ধরনের শীতের সবজি পাওয়া গেলেও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।

অধিকাংশ সবজিই বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে তার বেশি দামে। কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শিম বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকায়, ফুলকপি ১০০, বাঁধাকপি ৮০, গাজর ২০০, শসা ৬০ ও টমেটো ২০০ টাকা কেজি দরে।

কৃষকরা বলছেন, এ বছর জেলায় বৃষ্টি কম হওয়ায় শীতকালীন সবজির আবাদ ব্যাহত হয়েছে। আগাম সবজি উঠতে দেরি হওয়ায় পার্শ্ববর্তী ঠাকুরগাঁও, জয়পুরহাট ও বগুড়া জেলা থেকে সবজি আসছে, এ কারণে দাম বেশি।

এ ছাড়া বৃষ্টির অভাবে বাঁধাকপি, ব্রকলি, ফুলকপি ও শিমে বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়ায় এসব ফসলের উৎপাদন কম হবার আশঙ্কা তাদের। সেটিও দামে প্রভাব ফেলছে।

কম বৃষ্টিতে ব্যাহত শীতের সবজি চাষ

পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলার চাকলাহাট, হাড়িভাসা, রতনিবাড়ী, বোদা উপজেলার পাঁচপীর, মড়েয়া বড়শষি আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর, আলোয়া খাওয়া, সর্দারপাড়া, দেবীগজ্ঞ উপজেলার তিস্তাপাড়া, ফুলবাড়ি, কালিগঞ্জ এবং তেঁতুলিয়া উপজেলার শড়িয়ালজোত, বিল্লাভিটা ও শালবাহানহাট এলাকায় প্রচুর পরিমাণ সবজি চাষ হয়। এসব এলাকায় আগাম উৎপাদিত শীতকালীন সবজি স্থানীয় বাজারে বিক্রির পর চলে যায় রাজধানী ঢাকায়।

বোদা উপজেলার মাড়েয়া এলাকার সবজি চাষি রফিকুল ইসলাম জানান, প্রতি বছর শীতের সবজি চাষ করে তার প্রায় ২০ লাখ টাকা লাভ থাকে। এ বছর তিনি শিম, ঝিঙ্গা, শসা, বরবটি, লাউ ও কচুর লতির আবাদ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘চলতি বছর বৃষ্টি আশাতীতভাবে না হওয়ায় সবজির ফলন ভালো হয়নি। সবজি ক্ষেতে পোকার আক্রমণ দেখা দেয়ায় উৎপাদন কিছুটা হলেও কম হবে। আর প্রতি বছর আগাম সবজি বাজারজাত করতে পারলেও এ বছর একটু দেরি হবে।’

কম বৃষ্টিতে ব্যাহত শীতের সবজি চাষ

তবে সবজির চাহিদা বেশি থাকায় ভালো দাম পাবেন বলে আশা করছেন বলে জানান তিনি।

সদর উপজেলার ভাবরঙ্গি গ্রামের মিজানুর রহমান জানান, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি ও বেগুনের আবাদ ভালো হয়েছে। তবে আগে বাজারজাত করতে না পারায় লাভ কিছুটা কম হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মিজানুর রহমান জানান, অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় সবজি চাষে ব্যাঘাত হয়েছে। শেষ সময়ের বৃষ্টিপাতে চাষিরা তা পূরণ করার চেষ্টা করছেন।

বৃষ্টি কম হওয়ায় এবার আগাম সবজি সেভাবে বাজারে ওঠেনি। তবে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সবজি সরবরাহ বাড়বে।

আরও পড়ুন:
৮০০ বিঘায় হযরত আলীর ২৭১ জাতের ফল
ফেসবুকে বীজ ব্যাংক
বাদামে বদলেছে জীবনযাত্রা
কম খরচে বেশি ফলনের ধান বিনা-২১
কম কষ্টে বেশি লাভের তিল

শেয়ার করুন

বিনা-১৭ ধানে কৃষকের হাসি

বিনা-১৭ ধানে কৃষকের হাসি

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিনা-১৭ ধানের প্রতি বিঘায় প্রায় ২৬ থেকে ২৭ মণ ফলন হয়ে থাকে। অন্যান্য জাতের ধানের তুলনায় বিঘাপ্রতি উৎপাদন খরচ দুই থেকে তিন হাজার টাকা কম হয়।

কম সময়ে, কম খরচে উৎপাদন বেশি হওয়ায় বিনা-১৭ ধান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন নওগাঁর কৃষকরা। তারা বলছেন, সার-পানি সাশ্রয়ী, আলোক সংবেদনশীল ও খরাসহিষ্ণু এই ধান। অন্য জাতের ধানের চেয়ে এক মাস আগেই বিনা-১৭ কাটার উপযোগী হয়।

এ জাতের ধানের আবাদে কৃষককে উদ্বুদ্ধ ও সহায়তা করে যাচ্ছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) উপকেন্দ্র ও নওগাঁর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, নওগাঁয় চলতি মৌসুমে ১ লাখ ৯৭ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে বিনা-১৭ জাতের ধান ১ হাজার ৩০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।

এই ধান রাণীনগরে ৫২০ হেক্টর, ধামইরহাটে ১২৫ হেক্টর, নিয়ামতপুরে ৫ হেক্টর ও মান্দা উপজেলায় ২০ হেক্টরসহ অন্যান্য উপজেলায় আংশিক আবাদ হয়েছে।

বিনা-১৭ জাতের ধানে পানি কম লাগার কারণে একে গ্রিন সুপার রাইস নামেও অভিহিত করেছেন অনেকে।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ জাতের ধানে ইউরিয়া সার এক-তৃতীয়াংশ ও সেচ ৫০ শতাংশ কম লাগে। ধানের জীবনকাল ১১০ থেকে ১১৫ দিন। এর প্রতি শিষে ২০০ থেকে ২৫০ দানা থাকে।

প্রতি বিঘায় বিনা-১৭ প্রায় ২৬ থেকে ২৭ মণ ফলন হয়ে থাকে। অন্যান্য জাতের ধানের তুলনায় বিঘাপ্রতি উৎপাদন খরচ দুই থেকে তিন হাজার টাকা কম হয়।

নিয়ামতপুর উপজেলার শালবাড়ি গ্রামের কৃষক ইব্রাহিম খলিল এই প্রথম তার চার বিঘা জমিতে বিনা-১৭ জাতের ধানের আবাদ করেছেন।

বিনা-১৭ ধানে কৃষকের হাসি

তিনি বলেন, ‘আমি কয়েক মাস আগে ইউটিউবে বিনা-১৭ জাতের ধানের সুফল দেখার পর এর উপকেন্দ্র চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও জেলার কৃষি অফিসে যোগাযোগ করি। সেখানকার কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও সহায়তা নিয়ে আমার চার বিঘা জমিতে বিনা-১৭ জাতের ধান রোপণ করেছিলাম।

‘বর্তমানে ধান কাটার উপযোগী হয়েছে। আমার জমিগুলোর পাশেই স্বর্ণা-৫, তেজ ধানি গোল্ড, বিনা-৭ জাতের ধানের আবাদ করেছে এখানকার কৃষকরা। তবে তাদের ধান এখনও কাঁচা রয়েছে। আরও প্রায় এক মাসের মতো সময় লাগবে এসব ধান কাটার উপযোগী হতে।’

এই ধান চাষে খরচ কেমন লেগেছে জানতে চাইলে ইব্রাহিম বলেন, ‘সেচ, সার, ওষুধ ও পানির খরচ অনেকটাই কম। অন্য জাতের ধানে বিঘাপ্রতি সব মিলিয়ে খরচ হয় প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার মতো, কিন্তু বিনা-১৭ জাতের ধানে বিঘাপ্রতি দুই থেকে তিন হাজার টাকা কম খরচ হচ্ছে।’

ইব্রাহিম জানান, এরই মধ্যে এক বিঘা জমির ধান কাটা হয়েছে। সেখান থেকে ২৭ মণ ধান পাওয়া গেছে। ঝড়-বৃষ্টিতে এই ধানের শিষ তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।

রাণীনগর উপজেলার জলকৈ গ্রামের কৃষক রবিউল হোসেন বলেন, ‘হামার সাত বিঘা জমিত এবার বিনা-১৭ জাতের ধানের আবাদ করিছি। পাঁচ থেকে ছয় দিনের মধ্যেই হামি জমির ধানগুলা কাটমু। ১১০ থ্যাকা ১১৫ দিনের মধ্যেই ধান পাকা গেছে। ফলনও ভাল হচে। তাই সব মিলা এই জাতের ধান আবাদ লাভজনক।’

বিনা-১৭ ধানে কৃষকের হাসি

নওগাঁ জেলা কৃষি প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কে এম মঞ্জুরে মওলা নিউজবাংলাকে জানান, বিনা-১৭ চাষে কৃষকদের প্রয়োজনীয় বীজ ও সার সহায়তা দেয়া হচ্ছে। প্রতিটি উপজেলায় কৃষকদের নিয়ে মাঠ দিবসও পালন করা হচ্ছে।

নিয়ামতপুরে কৃষক ইব্রাহিমের জমির ধান পরিদর্শনে গিয়েছেন বিনা চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও উপকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. মো. হাসানুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘বিনা-১৭ একটি স্বল্পমেয়াদি জাতের ধান। এটি খরাসহিষ্ণু, ৩০ শতাংশ পানি কম প্রয়োজন হয় এর চাষে। যে জমিতে দুটি ফসল হতো, সেখানে এ জাতের ধান চাষে এখন তিনটি ফসল করা সম্ভব। বিনা ধান-১৭ স্বল্প জীবনকালীন হওয়ায় ধান কাটার পর ওই একই জমিতে কৃষক সরিষা, মসুর বা আলু চাষ করতে পারবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরে জমি তৈরি করে বোরো ধান লাগানো যাবে। আমরা নওগাঁ, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোর জেলার কৃষকদের এই ধান চাষে উদ্বুদ্ধ করতে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
৮০০ বিঘায় হযরত আলীর ২৭১ জাতের ফল
ফেসবুকে বীজ ব্যাংক
বাদামে বদলেছে জীবনযাত্রা
কম খরচে বেশি ফলনের ধান বিনা-২১
কম কষ্টে বেশি লাভের তিল

শেয়ার করুন