শাহবাগে প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষকদের লাগাতার অবস্থান

শাহবাগে প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষকদের লাগাতার অবস্থান

দাবির বিষয়ে সুস্পষ্ট কোন বক্তব্য না আসা পর্যন্ত লাগাতার অবস্থান কর্মসূচী চলবে বলে জানান দেশের প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীরা। ছবি: নিউজবাংলা

বগুড়া জেলার একটি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চাপা খন্দকার বলেন, ‘আমাদের স্কুলগুলোতে যেসব শিক্ষার্থী রয়েছে তাদের কেউ হাঁটতে পারে না, আবার কেউ কথা বলতে পারে না। তাদেরকে আমরা পরিবহনের ব্যবস্থা করে স্কুলে নিয়ে আসি। স্কুলেই খাওয়ানোর ব্যবস্থা করি। নিজেদের টাকা দিয়ে এতোদিন স্কুলগুলো চালিয়েছি। নিজেদের টাকা খরচ করতে করতে আমরা আজ নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমাদের একটাই দাবি, প্রতিবন্ধী স্কুলগুলোর এমপিওভুক্তি চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমাদের অনুরোধ, দয়া করে আমাদের দিকে তাকান।’

এমপিওভুক্তির দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো শাহবাগে অবস্থান করছেন দেশের প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীরা।

তাদের দাবির বিষয়ে সুস্পষ্ট কোন বক্তব্য না আসা পর্যন্ত লাগাতার অবস্থান কর্মসূচী চলবে বলে জানান তারা।

সোমবার দুপুর থেকে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে তাদের অবস্থান কর্মসূচী শুরু হয়। এদিন বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর শহীদ মিনার থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্দেশে শান্তিপূর্ণ যাত্রা শুরু করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

প্রতিবন্ধীদের বিদ্যালয়গুলোকে এমপিওভুক্তির দাবিতে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির ব্যানারে এ পদযাত্রার আয়োজন করা হয়।

তবে পদযাত্রাটি শাহবাগে পৌঁছালে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। এরপর থেকেই তারা শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান করছেন। জাদুঘরের সামনের রাস্তায় চাদর, পাটি ও ব্যানার বিছিয়েই তারা রাত কাটাচ্ছেন।

বুধবার সন্ধ্যায় সেখানে গিয়ে দেখা যায়, আন্দোলনকারীদের কেউ কেউ শুয়ে আছেন, আবার কেউ মাইকে ভেসে আসা বক্তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছেন।

শাহবাগে প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষকদের লাগাতার অবস্থান

জাদুঘরের সামনের রাস্তায় চাদর, পাটি ও ব্যানার বিছিয়ে রাত কাটাচ্ছেন দেশের প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীরা। ছবি: নিউজবাংলা

বিভিন্ন প্রতিবাদী গান, কবিতা এবং বক্তব্যের মাধ্যমে আন্দোলনকারীরা তাদের দাবির বিষয়গুলো তুলে ধরছেন।

অবস্থান কর্মসূচীতে অংশ নেয়া প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব স্কুলগুলো মূলত সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের অধীনে। এসব স্কুলে প্রাথমিকের পাঁচটি শ্রেণির আগে ‘প্রাক প্রাথমিক ও প্রস্তুতিমূলক’ নামের একটি শ্রেণি রয়েছে। আর প্রাথমিকের পর শিক্ষার্থীদের বৃত্তিমূলক শিক্ষা দেয়া হয়।

শিক্ষকরা জানান, সারা দেশে প্রায় তিন হাজারের মতো প্রতিবন্ধী স্কুল রয়েছে। দুই বছর আগে তারা অনলাইনে এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করেছেন। এর মধ্যে অনেক স্কুল কলেজের এমপিওভুক্তি হয়ে গেলেও তাদের কোন স্কুলই এমপিওভুক্তির আওতায় আসেনি। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। তাই তারা বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নেমেছেন।

বগুড়া জেলার একটি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চাপা খন্দকার বলেন, ‘আমাদের স্কুলগুলোতে যেসব শিক্ষার্থী রয়েছে তাদের কেউ হাঁটতে পারে না, আবার কেউ কথা বলতে পারে না। তাদেরকে আমরা পরিবহনের ব্যবস্থা করে স্কুলে নিয়ে আসি। স্কুলেই খাওয়ানোর ব্যবস্থা করি।

‘নিজেদের টাকা দিয়ে এতোদিন স্কুলগুলো চালিয়েছি। নিজেদের টাকা খরচ করতে করতে আমরা আজ নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমাদের একটাই দাবি, প্রতিবন্ধী স্কুলগুলোর এমপিওভুক্তি চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমাদের অনুরোধ, দয়া করে আমাদের দিকে তাকান।’

শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় হাই কেয়ারের সহকারী শিক্ষক পার্থ ঘোষ বলেন, ‘বর্তমান সরকার প্রতিবন্ধীবান্ধব সরকার হলেও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আবেদন করা প্রতিবন্ধী স্কুলগুলোর স্বীকৃতির ব্যাপারে কোন আশানুরূপ পদক্ষেপ নেয়নি।

‘আমরা এসব স্কুল পরিচালনা করতে গিয়ে আর্থিক অনটনের মধ্যে পড়েছি। অনেকে জায়গা-জমি বিক্রি করেছেন। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়েছে। আমরা বর্তমানে পরিবার ও রাষ্ট্রের কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছি। সরকারের কাছে আমাদের প্রশ্ন আমরা আর কতদিন যাবৎ নিগৃহীত হবো!’

শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (এনডিডি ও অটিজম শাখা) শবনম মুস্তারী রিক্তা বলেন, এমপিওভুক্তির বিষয়ে আমরা যে আবেদন গ্রহণ করেছি সেগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি। যাচাই-বাছাইসহ আরও অনেক প্রসেস আছে। এগুলো সময়ের ব্যাপার। একদিনে এগুলো সমাধান হবে না। তারা একটু অপেক্ষা করলে ভালো হয়।

তবে উপসচিবের এ বক্তব্য প্রতিবন্ধী শিক্ষক সমিতির যুগ্ম আহবায়ককে জানালে তিনি বলেন, দীর্ঘ দুই বছর ধরে আমরা অপেক্ষা করছি। সরকারের পক্ষ থেকে কোন রকম আশ্বাস না পাওয়ায় আমরা আজ বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমে এসেছি।

‘আমরা অপেক্ষা করবো কি করবো না এই বৃহৎ জনগোষ্ঠী আমাদের বলে দিবে। আমরা আর অপেক্ষায় থাকতে চাই না। আমরা এই আন্দোলনের মাধ্যমে এই ফসলকে ঘরে তুলতে চাই। এমপিওর বিষয়ে সরকার কোন সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না দেয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরে যাবো না।’ যোগ করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
শাহবাগে প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের অবস্থান
আন্ধারিয়ার আলো ছুরাইয়া
বাকপ্রতিবন্ধীদের ‘ভাষা’ বোঝার উদ্যোগ নেই
৫ বছর পর টিকটক ভিডিওতে ‘হারিয়ে যাওয়া ছেলে’
গাছে আর খাটে শিকলে বাঁধা জীবন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নগদ-ডিআরইউ বেস্ট রিপোর্টিং পুরস্কার পেলেন ২২ সাংবাদিক

নগদ-ডিআরইউ বেস্ট রিপোর্টিং পুরস্কার পেলেন ২২ সাংবাদিক

নগদ-ডিআরইউ সেরা রিপোর্ট পুরস্কার বিতরণে অতিথিরা। ছবি: নিউজবাংলা

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তির এক সুবর্ণ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এখন দেশে অনলাইন পোর্টালসহ নিত্যনতুন গণমাধ্যমের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছি। আমাদের চলার পথে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাংবাদিকতা তাই গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যম থেকে তথ্য পাওয়ার পর আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারি। তবে এখন দায়িত্বশীল ও নৈতিকতাপূর্ণ সাংবাদিকতা খুবই জরুরি। কারণ ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে নাশকতা ঘটানো হচ্ছে‌। এজন্য প্রয়োজন উপযুক্ত সাংবাদিকতা।’

পেশাদার সাংবাদিকদের সংগঠন ঢাকা রির্পোটার্সি ইউনিটির (ডিআরইউ) গত এক বছরের সেরা প্রতিবেদকের পুরস্কার পেয়েছেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের ২২ সাংবাদিক।

‘নগদ-ডিআরইউ বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড-২০২১’ পুরস্কারে এবার প্রিন্ট-অনলাইন ক্যাটাগরিতে ১৩ জন এবং টেলিভিশন-রেডিও ক্যাটাগরিতে ৯ জন এই পুরস্কার জিতেছেন।

মঙ্গলবার ফার্মগেটস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থেকে সাংবাদিকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

ডিআরইউ সভাপতি মুরসালিন নোমানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ জার্নালের সম্পাদক শাহজাহান সরদার, নগদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভির এ মিশুক, নির্বাহী পরিচালক নিয়াজ মোর্শেদ এলিট, ডিআরইউ-এর সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খান, অ্যাওয়ার্ড কমিটির আহ্বায়ক ও ডিআরইউ সাংগঠনিক সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলসহ অন্যরা।

অনুষ্ঠানে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তির এক সুবর্ণ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এখন দেশে অনলাইন পোর্টালসহ নিত্যনতুন গণমাধ্যমের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছি। আমাদের চলার পথে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাংবাদিকতা তাই গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যম থেকে তথ্য পাওয়ার পর আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারি। তবে এখন দায়িত্বশীল ও নৈতিকতাপূর্ণ সাংবাদিকতা খুবই জরুরি। কারণ ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে নাশকতা ঘটানো হচ্ছে‌। এজন্য প্রয়োজন উপযুক্ত সাংবাদিকতা।’

তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ গণমাধ্যম। গণমাধ্যম জনজীবনের অন্যতম অনুষঙ্গ। এখন অবাধে সংবাদ প্রচার করা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে অনেক নতুন চ্যালেঞ্জ আসছে। তবে সংবাদের প্রবাহ বেগবান হয়েছে তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে। এ বছরের প্রতিযোগিতা, অন্য বছরের তুলনায় অনেক কঠিন ছিল। কারণ করোনা বাস্তবতার মধ্যেই কাজ করতে হয়েছে। গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।’

এবারের আয়োজনে ডিআরইউ-এর অংশীদার ছিল ডাক বিভাগের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’। নানান উদ্ভাবন দিয়ে ইতিমধ্যে সাড়া ফেলে ‘নগদ’। ডিআরইউ’র পেমেন্ট পার্টনার হিসেবে কাজ করছে।

নগদ দেশের ডিজিটাল লেনদেন খাতে অল্প সময়েই বড় জায়গা করে নিয়েছে। মাত্র আড়াই বছরের মধ্যে ‘নগদ’ সাড়ে ৫ কোটি গ্রাহক পেয়েছে। একই সঙ্গে দৈনিক গড় লেনদেন পৌঁছে গেছে ৭৫০ কোটি টাকায়।

নগদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভির এ মিশুক বলেন, ‘একটি ভালো রিপোর্টের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের অনেক জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে চলে আসে; যা সমাজ বদলের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। আজ যারা সেরা রিপোর্টের জন্য সম্মানিত হয়েছেন, তাদের তালিকা থেকেই সামনের দিনের মানিক মিয়া বা জহুর হোসেন চৌধুরীর মতো প্রথিতযশা সাংবাদিক বেরয়ে আসবে বলে আমার বিশ্বাস।’

এবারের ‘নগদ-ডিআরইউ বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড-২০২১’ এ প্রিন্ট-অনলাইন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন দৈনিক সমকালের আবু সালেহ রনি, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের আব্বাস উদ্দিন নয়ন ও জেবুন নেসা আলো, ডেইলি স্টারের একেএম রাশেদুল হাসান, প্রথম আলোর আদুজ্জামান, রোজিনা ইসলাম ও নাজনীন আখতার; আমাদের সময়ের কবির হোসেন, ঢাকা পোস্টের জোবায়ের হোসেন, বাংলা ট্রিবিউনের মো. শাহেদুল ইসলাম, যুগান্তরের এসএএম হামিদ-উজ-জামান, কালের কণ্ঠের জিয়াদুল ইসলাম এবং সময়ের আলোর রফিকুল ইসলাম সবুজ।

টেলিভিশন ও রেডিও ক্যাটাগরিতে অ্যাওয়ার্ড পাওয়া ৯ জন হলেন- যমুনা টিভির সুশান্ত সিনহা ও আবু সালেহ মো. পারভেজ সাজ্জাদ; একাত্তর টেলিভিশনের কাবেরী মৈত্রেয় ও আদনান খান; মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের মাজহারুল ইসলাম ও কাওসার সোহেলী, নাগরিক টেলিভিশনের শাহনাজ শারমিন, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের সাদমান সাকিব, এনটিভির শফিক শাহীন।

দেশের ১০ জন সিনিয়র সম্পাদক জমা পড়া রিপোর্টের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে সেরা রিপোর্ট নির্বাচন করেন।

আরও পড়ুন:
শাহবাগে প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের অবস্থান
আন্ধারিয়ার আলো ছুরাইয়া
বাকপ্রতিবন্ধীদের ‘ভাষা’ বোঝার উদ্যোগ নেই
৫ বছর পর টিকটক ভিডিওতে ‘হারিয়ে যাওয়া ছেলে’
গাছে আর খাটে শিকলে বাঁধা জীবন

শেয়ার করুন

বিএনপির শতাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ

বিএনপির শতাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ

বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আজকে আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ হামলা চালায়, গুলি করে। পুলিশ শতাধিক নেতা-কর্মীকে আটক করেছে। এখনও বিভিন্ন স্থান থেকে আটকের খবর পাওয়া যাচ্ছে।’

রাজধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় শতাধিক নেতা-কর্মীকে আটকের অভিযোগ করেছেন নেতারা।

মঙ্গলবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ হামলা চালায়, গুলি করে। পুলিশ শতাধিক নেতা-কর্মীকে আটক করেছে। এখনও বিভিন্ন স্থান থেকে আটকের খবর পাওয়া যাচ্ছে।’

রিজভী কয়েকজনের নামও উল্লেখ করেন। তারা হলেন কৃষক দল নেতা শাখাওয়াত হোসেন নান্নু; তাঁতী দলের নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখারর নেতা এ আর বি মামুন, আবদুর রেজ্জাক, ঢাকার যুবদল নেতা মো. ফরিদ, চায়না সুমন, মো. জসিম, রেজাউল ইসলাম প্রিন্স, মহানগর বিএনপি নেতা মো. তুহিন, মো. সুমন, মো. রাসেল, মো. রাকিব, বদরুল, জুয়েল, মো. শুক্কুর, মুতাছিন বিল্লাহ, ছাত্রদল নেতা জেহাদুল রঞ্জু, আবু সুফিয়ান, আবু হান্নান তালুকদার, জাসাস নেতা আবদুল কাইয়ুম, জসিম উদ্দিন প্রমুখ।

বিএনপির মুখপাত্রের দাবি, পুলিশের গুলি ও লাঠিপেটায় গুরুতর আহত হয়েছেন যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক গোলাম মাওলা শাহীন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি এস এম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামসহ অন্তত ১৫ জন।

রিজভী বলেন, গুরুতর আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

অবিলম্বে আটকদের নিঃশর্ত মুক্তি দেয়ার জোর দাবিও জানান তিনি।

যেভাবে সংঘর্ষ

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে নয়াপল্টনে মঙ্গলবার প্রতিবাদ মিছিলে নামা বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে বেলা পৌনে ১২টার দিকে মিছিল শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। এই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নেতা-কর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছুড়তে দেখা যায়। নেতা-কর্মীরাও পুলিশকে উদ্দেশ করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন।

পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দীন মিয়া বলেন, ‘পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩০-৩৫ জনকে আমরা আটক করেছি। যারা আটক আছেন, যাচাই-বাছাই করে সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়ে মামলার পর তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হবে।’

আরও পড়ুন:
শাহবাগে প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের অবস্থান
আন্ধারিয়ার আলো ছুরাইয়া
বাকপ্রতিবন্ধীদের ‘ভাষা’ বোঝার উদ্যোগ নেই
৫ বছর পর টিকটক ভিডিওতে ‘হারিয়ে যাওয়া ছেলে’
গাছে আর খাটে শিকলে বাঁধা জীবন

শেয়ার করুন

বিএনপি মিছিলের পর যানজটের কবলে ঢাকা

বিএনপি মিছিলের পর যানজটের কবলে ঢাকা

রাজধানীর মগবাজার ফ্লাইওভারে যানজটের ছবিটি তুলেছেন সাইফুল ইসলাম

বিএনপির প্রতিবাদ মিছিলের কারণে একপর্যায়ে নয়াপল্টন এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ঘণ্টাখানেক ধরে বন্ধ ছিল নাইটিংগেল থেকে মতিঝিল পর্যন্ত সড়কের যান চলাচল। আর তার প্রভাব পড়ে আশপাশের সড়কেও। কাকরাইল, বিজয়নগর, শান্তিনগর, রাজারবাগ, প্রেসক্লাব, পল্টন, মতিঝিল এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় গোটা ঢাকা শহরজুড়ে তৈরি হয়েছে যানজট।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে নয়াপল্টনে প্রতিবাদ মিছিলে নামা বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে মিছিল শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় বিএনপি। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দলটির নেতা-কর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছুড়তে দেখা যায়। নেতা-কর্মীরাও পুলিশকে উদ্দেশ করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন।

একপর্যায়ে নয়াপল্টন এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ঘণ্টাখানেক ধরে বন্ধ ছিল নাইটিংগেল থেকে মতিঝিল পর্যন্ত সড়কের যান চলাচল। আর তার প্রভাব পড়ে আশপাশের সড়কেও। কাকরাইল, বিজয়নগর, শান্তিনগর, রাজারবাগ, প্রেসক্লাব, পল্টন, মতিঝিল এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।

বাস চালক সাইফুল জানান, ‘এক ঘণ্টারও বেশি সময় এক জায়গায় আটকে থাকতে হয়েছে। ঝামেলার কারণে কাকরাইল থেকে গাড়িগুলো বামে যাইতে পারে নাই। তাই এইহানে আটকে থাকতে হইছে ম্যালা সময়।’

সংঘর্ষের ঘণ্টাখানেক পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। শুরু হয় যান চলাচল। পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে। রাস্তায় যান চলাচল স্বাভবিক রয়েছে।’

যান চলাচল স্বাভাবিক হলেও ভরদুপুরেও রাজধানীজুড়ে তীব্র যানজট বিরাজ করছে। যার প্রভাব পড়েছে প্রগতি সরণিতেও। এ সড়কের মধ্যবাড্ডা অংশে দুপুর দুইটার দিকেও তীব্র যানজট দেখা গেছে।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নাইটিংগেল মোড় থেকে আরামবাগ মোড় পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল স্বাভবিক হলেও যানজট রয়েছে সেখানে।

জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে পল্টন হয়ে ফকিরাপুল পর্যন্ত যানজট রয়েছে। একইভাবে পল্টন থেকে জিপিও মোড় হয়ে মতিঝিল এবং আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় সংলগ্ন সড়কেও যানজট আছে।

বাস চালকরা জানান, এই সড়কগুলোতে যানজট এমনিতেও থাকে। তবে আজকে সারা শহরেই জট লেগে আছে।

বাহন পরিবহনের চালক এমদাদ জানান, ‘আসাদগেট থেকে প্রেসক্লাব আসতে আধাঘণ্টা লাগছে। কিন্তু প্রেস ক্লাব থেকে আর সামনে আগাচ্ছে না।’

ট্রাফিক রমনা জোনের সহকারী কমিশনার রেফাতুল ইসলাম বলেন, ‘নিউমার্কেট ও এলিফেন্ট রোডের মার্কেটগুলো বন্ধ থাকায় ওই পাশে যানজট কম। সকাল থেকে সহনীয় পরিস্থিতি ছিল।’

গতকালের মতো আজকে এমন যানজট হবে না বলে আশা করছেন ট্রাফিকের এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
শাহবাগে প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের অবস্থান
আন্ধারিয়ার আলো ছুরাইয়া
বাকপ্রতিবন্ধীদের ‘ভাষা’ বোঝার উদ্যোগ নেই
৫ বছর পর টিকটক ভিডিওতে ‘হারিয়ে যাওয়া ছেলে’
গাছে আর খাটে শিকলে বাঁধা জীবন

শেয়ার করুন

১৯ বছর পর আসছে মডেল তিন্নি হত্যার রায়

১৯ বছর পর আসছে মডেল তিন্নি হত্যার রায়

মডেল সৈয়দা তানিয়া মাহবুব তিন্নি। ছবি: সংগৃহীত

লাশের ছবি পত্রিকায় ছাপা হলে সুজন নামের নিহতের এক আত্মীয় লাশটি মডেল তিন্নির বলে শনাক্ত করেন। পরে মামলাটি চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে ২০০২ সালের ২৪ নভেম্বর তদন্তভার সিআইডিতে দেয়া হয়। আর তদন্তের দায়িত্ব পান তৎকালীন সিআইডির পরিদর্শক ফজলুর রহমান।

কেরানীগঞ্জের বুড়িগঙ্গা নদীর ১ নম্বর চীন মৈত্রী সেতুর ১১ নম্বর পিলারের পাশে ২০০২ সালের ১০ নভেম্বর অজ্ঞাতপরিচয় এক মরদেহ পায় পুলিশ। পরদিন পত্রিকায় ছবি প্রকাশ হলে সেটি মডেল সৈয়দা তানিয়া মাহবুব তিন্নির বলে শনাক্ত করেন তার এক আত্মীয়।

সে ঘটনায় করা মামলায় দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে আগামী ১৫ নভেম্বর রায় ঘোষণার তারিখ দিয়েছে আদালত।

আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডে জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক অভিকে একমাত্র আসামি করে মামলাটি করা হয়।

মঙ্গলবার রায় ঘোষণার তারিখ থাকলেও ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ কেশব রায় চৌধুরী রায়ের নতুন তারিখ দেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘মামলাটির রায় আজ ঘোষণার তারিখ ধার্য ছিল। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ রায় স্থগিত করে পুনরায় যুক্তিতর্কের আবেদন করা হয়। আদালত সে আবেদন গ্রহণ করেছে। আজই রাষ্ট্রপক্ষকে যুক্তিতর্ক শেষ করতে বলেছে আদালত। রাষ্ট্রপক্ষ বিকেলে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন না করলেও আগামী ১৫ নভেম্বর আদালত মামলার রায় ঘোষণা করবেন।’

মডেল তিন্নির লাশ পাওয়ার পরদিন অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেন কেরানীগঞ্জ থানার তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সফি উদ্দিন। এ মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ওই থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) কাইয়ুম আলী সরদার।

পরে লাশের ছবি পত্রিকায় ছাপা হলে সুজন নামে নিহতের এক আত্মীয় লাশটি মডেল তিন্নির বলে শনাক্ত করেন। পরে মামলাটি চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে ২০০২ সালের ২৪ নভেম্বর তদন্তভার সিআইডিতে দেয়া হয়। আর তদন্তের দায়িত্ব পান তৎকালীন সিআইডির পরিদর্শক ফজলুর রহমান।

পরে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান সিআইডির পরিদর্শক সুজাউল হক, সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) গোলাম মোস্তফা, এএসপি আরমান আলী, এএসপি কমল কৃষ্ণ ভরদ্বাজ এবং এএসপি মোজাম্মেল হক।

সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা মোজাম্মেল হকই ২০০৮ সালের ৮ নভেম্বর সাবেক ছাত্রনেতা ও সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক অভিকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

২০১০ সালের ১৪ জুলাই অভির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত। এরপর অভিযোগপত্রভুক্ত ৪১ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

আরও পড়ুন:
শাহবাগে প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের অবস্থান
আন্ধারিয়ার আলো ছুরাইয়া
বাকপ্রতিবন্ধীদের ‘ভাষা’ বোঝার উদ্যোগ নেই
৫ বছর পর টিকটক ভিডিওতে ‘হারিয়ে যাওয়া ছেলে’
গাছে আর খাটে শিকলে বাঁধা জীবন

শেয়ার করুন

মতিঝিলের বিআইসিসি ভবনে আগুন

মতিঝিলের বিআইসিসি ভবনে আগুন

ফাইল ছবি

মোট আটটি ইউনিটের ১৯ মিনিটের চেষ্টায় ২টা ১০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা রোজিনা আক্তার।

মতিঝিলের বিআইসিসি ভবনে আগুন লেগেছে। ভবনটির ১১ তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়।

ফায়ার সার্ভিসের গণমাধ্যম কর্মকর্তা মো. রায়হান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বেলা ১টা ৫১ মিনিটে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। পরে আরও তিনটি ইউনিট যুক্ত হয়।’

মোট আটটি ইউনিটের ১৯ মিনিটের চেষ্টায় ২টা ১০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা রোজিনা আক্তার।

আরও পড়ুন:
শাহবাগে প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের অবস্থান
আন্ধারিয়ার আলো ছুরাইয়া
বাকপ্রতিবন্ধীদের ‘ভাষা’ বোঝার উদ্যোগ নেই
৫ বছর পর টিকটক ভিডিওতে ‘হারিয়ে যাওয়া ছেলে’
গাছে আর খাটে শিকলে বাঁধা জীবন

শেয়ার করুন

নয়াপল্টনে বিএনপির মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ

নয়াপল্টনে বিএনপির মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ

নয়াপল্টনে বিএনপির মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে মিছিল থেকে নেতা-কর্মীদের এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নেতা-কর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছুড়তে দেখা যায়। নেতা-কর্মীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে নয়াপল্টনে প্রতিবাদ মিছিলে নামা বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে মিছিল শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। এ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নেতা-কর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছুড়তে দেখা যায়। নেতা-কর্মীরাও পুলিশকে উদ্দেশ করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন।

এর আগে সকাল থেকেই দলটির নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন ব্যানার ফ্যাস্টুন নিয়ে নয়াপল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে নয়াপল্টন এলাকা, নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে কাকরাইল পর্যন্ত সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এদিন সকাল থেকে ওই এলাকায় বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে নয়াপল্টনে অবস্থিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাব পর্যন্ত মিছিল করার কথা ছিল বিএনপির।

এর আগে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপির সিনিয়র নেতারা বক্তব্য দেন। বক্তব্য শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন নেতা-কর্মীরা। মিছিলটি কাকরাইল মোড়ের কাছে আসতেই শুরু হয় সংঘর্ষ।

নেতা-কর্মীরা বলছেন, পুলিশ সকাল থেকেই নেতা-কর্মীদের মিছিল নিয়ে আসতে বাধা দিচ্ছিল। তারা মিছিল চলাকালীন লাঠিচার্জ শুরু করে।

উল্টো অভিযোগ পুলিশ সদস্যদের। তারা বলছেন, মিছিল থেকে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা করা হয়।

এ সময় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমাদের বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মিছিল করবই।’

ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্য কামরুল হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের পুলিশ সদস্যরা আহত হয়েছেন। মিছিল থেকে হঠাৎ করেই তারা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। আমরা তাদের নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছি।’

কতজন গ্রেপ্তার করা হয়েছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা বলা যাচ্ছে না।’

মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার আব্দুল আহাদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিএনপির নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে বের হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। তখন পুলিশ তাদের প্রতিহত করে, ছত্রভঙ্গ করে দেয়। লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট, টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করা হয়।’

মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের ইটপাটকেলের আঘাতে অন্তত ছয়জন পুলিশ আহত হয়েছেন। মিছিল ও আশপাশ থেকে ৩০ জনের বেশি নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে বলে জানান ডিসি আহাদ।

আরও পড়ুন:
শাহবাগে প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের অবস্থান
আন্ধারিয়ার আলো ছুরাইয়া
বাকপ্রতিবন্ধীদের ‘ভাষা’ বোঝার উদ্যোগ নেই
৫ বছর পর টিকটক ভিডিওতে ‘হারিয়ে যাওয়া ছেলে’
গাছে আর খাটে শিকলে বাঁধা জীবন

শেয়ার করুন

‘চোরাচালানের স্বর্ণ দিয়ে অস্ত্র ও মাদকের লেনদেন’

‘চোরাচালানের স্বর্ণ দিয়ে অস্ত্র ও মাদকের লেনদেন’

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ১২ কেজি ওজনের মোট ১০৪টি স্বর্ণের বার জব্দ করেছে বিমানবন্দরের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। ছবি: নিউজবাংলা

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রউফ বলেন, ‘অবতরণের পর উড়োজাহাজের ভেতরে রামেজিং বা বিশেষ তল্লাশির জন্য প্রবেশ করেন শুল্ক গোয়েন্দারা। এসময় কার্গো হোল্ডের মাঝখানে তিনটি প্যাকেট খুলে ১০৪টি স্বর্ণবার পাওয়া যায়। দেশে চোরাই পথে যে স্বর্ণ আসে তার একটি বড় চালান পাশের দেশে চলে যায়। কারণ ওই দেশের মানুষের স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ ও চাহিদা বেশি। এই স্বর্ণের বিনিময়ে অস্ত্র ও মাদকের লেনদেন হয়।’

দেশে চোরাই পথে যে স্বর্ণ আসে তার একটি বড় চালান পাশের দেশে চলে যায়। এই স্বর্ণের বিনিময়ে অস্ত্র ও মাদকের লেনদেন হয়। এ কারণে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারায়।

সোমবার দুপুরে কাকরাইলের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব বলেন বাহিনীটির মহাপরিচালক আব্দুর রউফ।

তিনি বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ১২ কেজি ওজনের মোট ১০৪টি স্বর্ণের বার জব্দ করেছে বিমানবন্দরের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

রোববার রাত সোয়া ৯টায় দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট নম্বর বিজি-৪১৪৮ থেকে এসব স্বর্ণের বার জব্দ করা হয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

তিনি বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানতে পারে যে, রোববার দুবাই-চট্টগ্রাম ঢাকাগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট নম্বর বিজি-৪১৪৮ এর মাধ্যমে স্বর্ণ চোরাচালান আসতে পারে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের বিভিন্ন পয়েন্টে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সতর্কতামূলক অবস্থান নেন। পরবর্তীতে দুবাই থেকে আসা বিমানের ফ্লাইটটি আনুমানিক রাত সোয়া ৯টায় হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অবতরণের পর উড়োজাহাজের ভেতরে রামেজিং বা বিশেষ তল্লাশির জন্য প্রবেশ করেন শুল্ক গোয়েন্দারা। এসময় কার্গো হোল্ডের মাঝখানের প্রবেশ মুখের বামদিকে ফ্লোরে তিনটি কাপড়ের বেল্টের ভেতরে লুকানো কালো স্কচ টেপে মোড়ানো তিনটি প্যাকেট খুলে ১০৪টি স্বর্ণবার পাওয়া যায়। যার মোট ওজন প্রায় ১২ কেজি এবং আনুমানিক বাজার মূল্য সাড়ে আট কোটি টাকা।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে আব্দুর রউফ বলেন, দেশে প্রতি বছর স্বর্ণের চাহিদা ১৬ থেকে ২৬ টন। দেশে চোরাই পথে যে স্বর্ণ আসে তার একটি বড় চালান পাশের দেশে চলে যায়। কারণ ওই দেশের মানুষের স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ ও চাহিদা বেশি। এই স্বর্ণের বিনিময়ে অস্ত্র ও মাদকের লেনদেন হয়। এ কারণে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারায়।

এ ঘটনায় একটি বিভাগীয় মামলা এবং একটি ফৌজদারী মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরে (২০২১-২০২২) কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এখন পর্যন্ত ৬৬ দশমিক ৯৬ কেজি স্বর্ণ আটক করেছে যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৪৭ কোটি টাকা। গত ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ১৭৪ দশমিক ৪৯ কেজি এবং ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ১৮০ দশমিক ৩৫ কেজি স্বর্ণ কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর আটক করে।

আরও পড়ুন:
শাহবাগে প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের অবস্থান
আন্ধারিয়ার আলো ছুরাইয়া
বাকপ্রতিবন্ধীদের ‘ভাষা’ বোঝার উদ্যোগ নেই
৫ বছর পর টিকটক ভিডিওতে ‘হারিয়ে যাওয়া ছেলে’
গাছে আর খাটে শিকলে বাঁধা জীবন

শেয়ার করুন