‘হেল্পলাইনের সহায়তায়’ বিকাশ এজেন্টের টাকা লোপাটে মামলা

‘হেল্পলাইনের সহায়তায়’ বিকাশ এজেন্টের টাকা লোপাটে মামলা

মামলা অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট, বিকাশ ব্যবসার জন্য তৌহিদ আলী রাশেদ একটি এজেন্ট সিম নেন। গত ১ সেপ্টেম্বর দুপুরে বিকাশের স্থানীয় এসআর টিপুর নম্বর থেকে ফোন করে বলা হয়, ‘আপনাকে হেড অফিস থেকে ফোন করবে, তার সঙ্গে কথা বলবেন।’সঙ্গে সঙ্গে হেল্প লাইন নম্বর থেকে বিকাশ এজেন্ট নম্বরে ফোন আসে। ওই দিক থেকে তখন বলা হয় অ্যাপ আপডেট না করলে এজেন্ট নম্বর বন্ধ হয়ে যাবে। তখন অপর একটি নম্বর থেকে ফোন করে বিভিন্ন নিদের্শনা দেয়া হয়।

মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বিকাশের হেল্পলাইন নম্বর থেকে কল করে কয়েক দফায় এক এজেন্ট থেকে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪৩৪ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে অপারেটরটির বিরুদ্ধে।

প্রতারণার এই চক্রটিকে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতার অভিযোগও উঠেছে বিকাশের চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ অঞ্চলের এক সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভের (এসআর) বিরুদ্ধে।

বিষয়টি নিয়ে সোমবার চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী তৌহিদ আলী রাশেদ। মামলার নং ১৪/৪২২।

সেপ্টেম্বরের শুরুতে তৌহিদ আলী রাশেদ এ বিষয়ে স্থানীয় বিকাশ অফিসে অভিযোগ ও থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। এরপর দেড়মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে মামলা করলেন তিনি।

মামলা অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট, বিকাশ ব্যবসার জন্য রাশেদ একটি এজেন্ট সিম নেন। গত ১ সেপ্টেম্বর দুপুরে বিকাশের স্থানীয় এসআর টিপুর নম্বর থেকে ফোন করে বলা হয়, ‘আপনাকে হেড অফিস থেকে ফোন করবে, তার সঙ্গে কথা বলবেন।’

সঙ্গে সঙ্গে হেল্প লাইন নম্বর থেকে এজেন্ট নম্বরে ফোন আসে। ওই দিক থেকে তখন বলা হয় অ্যাপ আপডেট না করলে এজেন্ট নম্বর বন্ধ হয়ে যাবে। তখন অপর একটি নম্বর থেকে ফোন করে বিভিন্ন নিদের্শনা দেয়া হয়।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে আগ্রাবাদের বিকাশ এজেন্ট রাশেদ বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে সরাসরি বিকাশের কোনো চক্র জড়িত আছে বলে আমার বিশ্বাস। তা না হলে আমার সিম পাওয়ার তারিখ ও দোকানের নাম প্রতারকদের জানার কথা নয়। তা ছাড়া, স্থানীয় বিকাশ এসআর এর নম্বর থেকেও আমাকে ফোন করে প্রতারকদের নির্দেশনা অনুসরন করতে বলা হয়েছে। আমার একটাই দাবি দোষীদের আইনের আওতায় এনে মুখ উন্মোচন করা হোক।”

‘হেল্পলাইনের সহায়তায়’ বিকাশ এজেন্টের টাকা লোপাটে মামলা
মামলায় বাদী যে অভিযোগ করেছেন

রাশেদ তার অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, বিকাশ হেল্পলাইন নম্বর ও স্থানীয় সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ (এসআর) টিপুর মুঠোফোনের কথায় আস্থা রেখে নির্দেশনা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে চারটি ফোন নম্বরে বিভিন্ন দফায় ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪৩৪ টাকা পাঠান তিনি। টাকা বুঝে পাওয়ার পর প্রতারক কল কেটে দেয়। পরে প্রতারকের মুঠোফোন ও টাকা পাঠানো নম্বরগুলোতে একাধিকবার কল করলেও নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (পশ্চিম) মো. আব্দুল ওয়ারীশ বলেন, আগ্রাবাদে বিকাশের এক এজেন্টের সঙ্গে প্রতারণার ঘটনায় ডাবলমুরিং থানায় মামলা হয়েছে। প্রতারণার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

বিকাশ হেড অফিস হেল্পনম্বর থেকে ফোনে প্রতারণার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘মামলার তদন্তের প্রয়োজনে বিকাশ কর্তৃপক্ষকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বিকাশের হেড অব করপোরেট কমিউনিকেশন্স শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়চি তদন্তাধীন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যেভাবে আমাদের কাছে তথ্য চেয়েছে আমরা সেভাবে সব করছি। তদন্তের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
পূজার কেনাকাটায় বিকাশ পেমেন্টে ২৫% পর্যন্ত ক্যাশব্যাক
ক্যাশ আউট খরচ কমাল বিকাশ
বিকাশের লোকসান নিয়ে প্রশ্ন
বিকাশ প্রতারকদের নিত্যনতুন ফাঁদ
সহজ ফুডে বিকাশ পেমেন্টে ১০% ক্যাশব্যাক

শেয়ার করুন

মন্তব্য

টাকা ফেরত পাবে গ্রাহক, তবে সময় চায় ইভ্যালির নতুন বোর্ড

টাকা ফেরত পাবে গ্রাহক, তবে সময় চায় ইভ্যালির নতুন বোর্ড

‘আমরা চেষ্টা করছি এই প্রতিষ্ঠানকে কীভাবে বাঁচানো যায়। আমরা অনেক খোঁজখবর পেয়েছি। অনেক ইনফরমেশন পেয়েছি। অনেক কর্মকর্তার নাম পেয়েছি। সবাইকে আমরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।’

গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেয়া ও আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালিকে বাঁচানোর লক্ষ্য নিয়েই নিজেদের কাজ শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনায় উচ্চ আদালতের করে দেয়া অন্তর্বর্তীকালীন বোর্ডের প্রধান আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।

রাজধানীর ধানমন্ডিতে ইভ্যালির কার্যালয়ে মঙ্গলবার প্রথম সভা করেছে এই পরিচালনা বোর্ড। এর মধ্য দিয়ে কার্যালয়ের দখল বুঝে নিয়েছেন বলেও নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।

তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি এই প্রতিষ্ঠানকে কীভাবে বাঁচানো যায়। আমরা অনেক খোঁজখবর পেয়েছি। অনেক ইনফরমেশন পেয়েছি। অনেক কর্মকর্তার নাম পেয়েছি। সবাইকে আমরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।’

ইভ্যালির প্রধান নির্বাহীর দায়িত্বে থাকার সময় মো. রাসেলের বিরুদ্ধে বিদেশ ভ্রমণের পাশাপাশি অর্থ পাচারের অভিযোগও পেয়েছেন বর্তমান পরিচালনা বোর্ড।

শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘আমরা এই খবরও পেয়েছি যে রাসেল বারবার বিদেশে গিয়েছেন। বিদেশে টাকা পাচার করেছেন। সেই টাকাগুলোর খবর করে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করব। সোজা কথা কাউকে ছাড়ব না।’

বেশ কিছু গণমাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির আগের কর্ণধার রাসেলের সঙ্গে বর্তমান বোর্ড যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে বলে খবর এসেছে। এতে ভীষণ চটেছেন বোর্ড প্রধান।

বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘আমি পরিষ্কার করে বলে দিচ্ছি, রাসেলের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগের কোনো প্রশ্নই আসতে পারে না। বরং উল্টো রাসেলের শ্যালিকাসহ আর কারা আছে তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা আমরা করছি। তারা যেন দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন আমরা সেই ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

গ্রাহকের অর্থ ফেরত দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গ্রাহকরা কত পান না পান, সেগুলো তো আমার হিসাব করতে হবে। এদের কত সম্পদ আছে, সেটা হিসাব করতে হবে। এগুলো অডিট করার পর এসব বিষয় আসবে। এর জন্য অনেক সময় লাগবে।’

‘গ্রাহকের অর্থ যতটা সম্ভব ফেরত দেয়া যায়’ সেই চেষ্টাটা থাকবেও বলেও জানান ইভ্যালি পরিচালনায় অন্তর্বর্তীকালীন বোর্ডের প্রধান এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।

‘আতঙ্কিত হবেন না’

বৈঠকের আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি নি‌য়ে আতঙ্কিত বা হতাশ না হয়ে আস্থা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনায় হাইকোর্টের করে দেয়া বোর্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবীর মিলন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে মঙ্গলবার এক স্ট্যাটাসে তিনি এ পরামর্শ দেন।

তবে স্ট্যাটাসের কোথাও সরাসরি ‘ইভ্যালি’ শব্দটি ব্যবহার করেননি।

তিনি লিখেছেন, ‘যা কিছু দেখবেন শুনবেন জানবেন, আতঙ্কিত বা হতাশ হবেন না। আস্থা বা বিশ্বাস রাখুন, অপেক্ষা করুন। কষ্ট যা হবে, আমার হবে। হয়তো তিন গুণ কষ্ট বেড়ে যাবে, এই যা।’

আগামীতে যা হবে সেখানেও কোনো প্রকার অনিয়ম হবে না বলে আশ্বস্ত করে মাহবুব কবীর মিলন লিখেছেন, ‘যা হবে বিন্দু পরিমাণ বিচ্যুতি বা অনিয়ম বা ম্যানিপুলেশন থাকবে না। সময় দিন। অপেক্ষা করুন।’

ইভ্যালির বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারার অভিযোগ ছিল অনেক দিন ধরে। এসবের মাঝে গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাসেল ও তার স্ত্রী ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ফ্ল্যাট থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

এরপর গুলশান থানায় করা অর্থ আত্মসাৎ মামলায় তাদের তিন দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত। এই মামলায় রিমান্ড শেষে ধানমন্ডি থানায় করা অর্থ আত্মসাতের অপর এক মামলায় রাসেলকে ফের রিমান্ডে পাঠানো হয়। আসামি দুজনই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

আরও পড়ুন:
পূজার কেনাকাটায় বিকাশ পেমেন্টে ২৫% পর্যন্ত ক্যাশব্যাক
ক্যাশ আউট খরচ কমাল বিকাশ
বিকাশের লোকসান নিয়ে প্রশ্ন
বিকাশ প্রতারকদের নিত্যনতুন ফাঁদ
সহজ ফুডে বিকাশ পেমেন্টে ১০% ক্যাশব্যাক

শেয়ার করুন

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন চালু

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন চালু

আয়কর মেলাতেও অনলাইনে জমা দেয়া যাবে রিটার্ন। ফাইল ছবি

আবু হেনা বলেন, ‘অনলাইন রিটার্ন দাখিল সুবিধার্থে প্রতিটি কর অঞ্চলে দুটি করে ই-রিটার্ন হেল্প ডেস্ক থাকবে। এই ডেস্ক থেকে করদাতাদের রিটার্ন ফরম পূরণসহ আয়করসংক্রান্ত যাবতীয় সেবা দেয়া হবে।’

দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেয়ার পদ্ধতি আবার চালু করা হয়েছে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে প্রত্যেক কর অঞ্চলে যে করমেলা হবে সেখানে করদাতারা প্রচলিত প্রথার পাশাপাশি অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রাজস্ব ভবন মিলনায়তনে মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন ১০ অক্টোবর থেকে চালু করা হলেও এ দিন তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

আবু হেনা বলেন, ‘অনলাইন রিটার্ন দাখিল সুবিধার্থে প্রতিটি কর অঞ্চলে দুটি করে ই-রিটার্ন হেল্প ডেস্ক থাকবে। এই ডেস্ক থেকে করদাতাদের রিটার্ন ফরম পূরণসহ আয়করসংক্রান্ত যাবতীয় সেবা দেয়া হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘বর্তমানে টিআইএনধারীর সংখ্যা প্রায় ৬৮ লাখ। গত এক বছরে আরও ১৭ লাখ নতুন টিআইএন শনাক্ত হয়েছে।’

আরও বেশি লোকজনকে করের আওতায় আনতে ‘ডোর টু ডোর’ কার্যক্রম চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ জন্য এনফোর্সমেন্টের ওপর জোর দেয়া হয়েছে।’

করোনার কারণে এবার জাতীয়ভাবে আয়কর মেলা হচ্ছে না। তবে করদাতাদের সেবা অব্যাহত রাখতে মেলা আয়োজনের পরিবর্তে দেশের সব কর অঞ্চলে বিগত বছরের ন্যায় এবারও মেলার আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম

১ নভেম্বর শুরু হয়ে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এ আয়কর মেলা।

আরও আসছে…

আরও পড়ুন:
পূজার কেনাকাটায় বিকাশ পেমেন্টে ২৫% পর্যন্ত ক্যাশব্যাক
ক্যাশ আউট খরচ কমাল বিকাশ
বিকাশের লোকসান নিয়ে প্রশ্ন
বিকাশ প্রতারকদের নিত্যনতুন ফাঁদ
সহজ ফুডে বিকাশ পেমেন্টে ১০% ক্যাশব্যাক

শেয়ার করুন

বাণিজ্যে প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের সেতু হবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

বাণিজ্যে প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের সেতু হবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২১-এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: নিউজবাংলা

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশে ভৌগোলিক অবস্থানটা বিবেচনা করলে, যারা বিনিয়োগ করতে আসবেন তারা শুধু বাংলাদেশ পাবেন না, আমি বলব দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতেও একটা সুযোগ থাকবে এই বাজারগুলো ধরার এবং রপ্তানি করার। প্রাচ্য পাশ্চাত্যের একটা যোগাযোগের ব্রিজ হিসেবে বাংলাদেশ গড়ে উঠবে ভবিষ্যতে, যা আমাদের দেশের ব্যবসা বাণিজ্যের আরও প্রসার ঘটতে সহায়তা করবে।’

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাচ্য আর পাশ্চাত্যের যোগাযোগের সেতু হিসেবে বাংলাদেশ গড়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্য দিয়ে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের আরও প্রসার হবে বলেও মনে করেন তিনি।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২১-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশে ভৌগোলিক অবস্থানটা বিবেচনা করলে, যারা বিনিয়োগ করতে আসবেন তারা শুধু বাংলাদেশ পাবেন না, আমি বলব দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতেও একটা সুযোগ থাকবে এই বাজারগুলো ধরার এবং রপ্তানি করার। প্রাচ্য পাশ্চাত্যের একটা যোগাযোগের ব্রিজ হিসেবে বাংলাদেশ গড়ে উঠবে ভবিষ্যতে, যা আমাদের দেশের ব্যবসা বাণিজ্যের আরও প্রসার ঘটতে সহায়তা করবে।’

সপ্তাহব্যাপী এই সম্মেলনটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। এ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে বিশ্বের ৩৮টি দেশের ৫৫২টি প্রতিষ্ঠান।

প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দেশীয় ২৮১টি এবং বিদেশি ২৭১টি। ১ নভেম্বর পর্যন্ত এই সম্মেলনের ফাঁকে ৪৫০টি বিটুবি (বিজনেস টু বিজনেস) বৈঠকের কথা রয়েছে।

এই সামিটে অবকাঠামো, আইটি, চামড়াজাত পণ্য, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্মাসিউটিক্যালস, অ্যাগ্রো অ্যান্ড ফুড প্রসেসিং, প্লাস্টিক পণ্য, এফএমসিজি (ফার্স্ট মুভিং কনজিউমার গুডস) এবং পাট ও টেক্সটাইল পণ্য প্রদর্শিত হবে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ডিসিসিআই।

এই সম্মেলনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের নব নব দ্বার উন্মোচিত হবে। রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ আকর্ষণে সক্ষম হবে।’

রপ্তানি পণ্যের সংখ্যা বাড়াতে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, ‘নতুন নতুন কী পণ্য আমরা উৎপাদন করতে পারি এবং রপ্তানি করতে পারি সেটাও গবেষণা করে বের করতে হবে। সেদিকেও আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে। কোন কোন দেশে কী কী পণ্যের চাহিদা রয়েছে সেটা অনুধাবন করে সেই পণ্য আমরা বাংলাদেশে উৎপাদন করতে পারি কি না সেদিকে আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ এমন একটা দেশ আমরা ইচ্ছে করলে পারি, সবকিছু করতে পারি। এই আত্মবিশ্বাস আমার আছে। জাতির পিতা বলে গেছেন।’

বেসরকারি খাতের প্রসারে আওয়ামী লীগ সরকারের নেয়া পদক্ষেপের কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে সঙ্গে বেসরকারি খাতেও যদি উদ্যোক্তা না হয়, শিল্পের প্রসার না ঘটায় ব্যবসা বাণিজ্য কখনও শক্তিশালী ভিতের ওপর দাঁড়াতে পারে না।’

ঘনবসতির বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার জানিয়ে শিল্পের নামে যাতে কৃষি জমি নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করেছেন সরকার প্রধান।

তিনি বলেন, ‘ঘনবসতি পূর্ণ দেশ আমাদের। দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা দিতে হবে। আমাদের খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হবে, বৃদ্ধি করতে হবে। তার জন্য, যে সমস্ত জমি কৃষির জন্য ব্যবহার হবে সেগুলো যেন নষ্ট না হয়, আবার শিল্পের ক্ষেত্রে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা করে দেয়া, যেন আমাদের পরিবেশ নষ্ট না হয়। কাজেই পরিবেশ বান্ধব শিল্প উন্নয়নের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল আমার দেশজুড়ে করে দিচ্ছি। কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে।’

এর মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনীতি, মানুষের ক্রয় ক্ষমতা ও দেশে বাজার সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগ আকর্ষণ বাড়াতে ও দ্রুত বাংলাদেশে অর্থনৈতিক উন্নতির লক্ষ্য নিয়ে পিপিপি অর্থাৎ পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ এই পদ্ধতি আমরা গ্রহণ করেছি। এর আওতায় আমরা প্রায় ৭৯টি প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আমাদের বিনিয়োগ হচ্ছে।’

দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পের উৎপাদন, রপ্তানির পরিমাণ ও গতিশীলতা বাড়াতে বন্ড ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করা হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তৈরি পোশাকশিল্পের ন্যায় অন্যান্য রপ্তানিমুখী শিল্পের উৎপাদনমুখী কার্যক্রমও কাস্টমস বন্ডেড ব্যবস্থার অধীনে আসতে পারে, সেজন্য আমরা বন্ড ব্যবস্থাপনাকে অটোমেশনের প্রক্রিয়া শুরু করেছি, যা চলমান রয়েছে। যার টেন্ডার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

‘আমরা আশা করি এটি বাস্তবায়িত হলে সকল প্রকার রপ্তানিমুখী শিল্পের উৎপাদন ও রপ্তানিতে গতিশীলতা আসবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে, তাই সবকিছু ডিজিটাল পদ্ধতিতে হোক, আধুনিক পদ্ধতিতে হোক, প্রযুক্তি সম্পন্ন হোক সেটাই আমরা চাই।’

আরও পড়ুন:
পূজার কেনাকাটায় বিকাশ পেমেন্টে ২৫% পর্যন্ত ক্যাশব্যাক
ক্যাশ আউট খরচ কমাল বিকাশ
বিকাশের লোকসান নিয়ে প্রশ্ন
বিকাশ প্রতারকদের নিত্যনতুন ফাঁদ
সহজ ফুডে বিকাশ পেমেন্টে ১০% ক্যাশব্যাক

শেয়ার করুন

বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন কৌশল চায় বিডা

বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন কৌশল চায় বিডা

বিডার কনফারেন্স হলে ‘পোস্ট কোভিড ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন স্ট্র্যাটেজি’ শিরোনামে সেমিনারে আলোচকরা। ছবি: সংগৃহীত

বিডা’র নির্বাহী চেয়াম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘কোভিড পরবর্তী সময়ে পৃথিবীর বিনিয়োগ চিত্র অনেক বদলে গেছে। তাই সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় এই সময় দেশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে আমাদের নতুন কৌশল নিতে হবে। সেগুলো বাস্তবায়নও করতে হবে।’

বিনিয়োগ চিত্র অনেকটা বদলে গেছে করোনা মহামারিরতে। সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নতুন কৌশল প্রণয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)।

রাজধানীতে বিডার কনফারেন্স হলে সোমবার ‘পোস্ট কোভিড ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন স্ট্র্যাটেজি’ শিরোনামে এক সেমিনার হয়।

এতে প্রধান অতিথি বিডা’র নির্বাহী চেয়াম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘কোভিডের কারণে বিশ্বব্যাপী অর্থনীতি ও বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে। তবে লকডাউনের সময়ে ওয়ানস্টপ সার্ভিসের (ওএসএস) মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের পাশে ছিল বিডা। সার্বক্ষণিক সেবা দিয়ে গেছে। এ সময়ে নতুন নতুন সেবা যোগ হয়েছে, যেন বিনোয়গকারীদের অসুবিধা না হয়।

‘কোভিড পরবর্তী সময়ে পৃথিবীর বিনিয়োগ চিত্র অনেক বদলে গেছে। সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় এই সময় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে আমাদের নতুন কৌশল নিতে হবে। সেগুলো বাস্তবায়নও করতে হবে।’

বিডা’র নির্বাহী সদস্য মোহসিনা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন ও জাইকার ঢাকা প্রতিনিধি ইউহো হায়াকাওয়া। সেমিনারের বিডার মহাপরিচালক মো. শাহ্‌ মাহবুব, পরিচালক মো. মুজিব-উল ফেরদৌস উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে কারিগরি সহায়তা দেয়া জাইকার প্রজেক্ট লিডার তানাকা করোনা পরবর্তী বিনিয়োগ প্রচারের নানা কৌশল তুলে ধরেন। বিশ্বব্যাপী অর্থনীতি ও বিনিয়োগে করোনার প্রভাব ও বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন বলেন, ‘২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ ৪২ শতাংশ অবনমন হয়েছিল। তবে কোভিড পরবর্তী সময়ে বিদেশি বিনিয়োগ দ্রুত বাড়বে। তাই আমাদের বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রেগুলো চিহ্নিত করে এখন থেকেই প্রস্তুত হতে হবে।’

জাইকার প্রতিনিধি ইউহো হায়াকাওয়া বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে বিদ্যমান ইস্যুগুলোকে আরও সহজ করার তাগিদ দেন।

আরও পড়ুন:
পূজার কেনাকাটায় বিকাশ পেমেন্টে ২৫% পর্যন্ত ক্যাশব্যাক
ক্যাশ আউট খরচ কমাল বিকাশ
বিকাশের লোকসান নিয়ে প্রশ্ন
বিকাশ প্রতারকদের নিত্যনতুন ফাঁদ
সহজ ফুডে বিকাশ পেমেন্টে ১০% ক্যাশব্যাক

শেয়ার করুন

পর্যটনে প্রণোদনা ঋণ, আবেদন যেভাবে

পর্যটনে প্রণোদনা ঋণ, আবেদন যেভাবে

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে হাওরে গড়ে ওঠা দৃষ্টিনন্দন রিসোর্ট। ছবি: নিউজবাংলা

প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণের বিপরীতে পুনঃঅর্থায়ন গ্রহণের জন্য ১ নভেম্বর থেকে আবেদন করতে পারবে ব্যাংকগুলো। আবেদন করা যাবে ২০২২ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।  

করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত পর্যটন শিল্প। এ শিল্পে চলতি মূলধনের জোগান দিতে ১ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ তহবিল থেকে পর্যটন খাতে নিয়োজিত শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন দিতে ৪ শতাংশ সুদে উদ্যোক্তাদের এক বছর মেয়াদি ঋণ দেয়া হবে।

ঋণের বিপরীতে ৫০ শতাংশ তহবিল বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে জোগান দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাকি ৫০ শতাংশ অর্থ ব্যাংক তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে দেবে।

প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণের বিপরীতে পুনঃঅর্থায়ন গ্রহণের জন্য ১ নভেম্বর থেকে আবেদন করতে পারবে ব্যাংকগুলো। আবেদন করা যাবে ২০২২ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।

সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়।

সার্কুলারে বলা হয়, ‘ঋণ সুবিধা ভোগকারী পর্যটন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে (হোটেল, মোটেল, থিম পার্ক) বর্তমানে কর্মরত কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের লক্ষ্যে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ভিত্তিতে বিদ্যমান ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সুবিধা বাবদ মঞ্জুর করা বা প্রদত্ত সীমার সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ এবং এরূপ ক্ষতিগ্রস্ত যে সব প্রতিষ্ঠান বর্তমানে ব্যাংক হতে ঋণ সুবিধা ভোগ করছে না সেসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আগ্রহী ব্যাংকের বিদ্যমান নীতিমালার আওতায় ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সুবিধা বাবদ সম্ভাব্য ঋণ প্রাপ্যতার সীমার সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ ধরে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃক বিতরণ করা ঋণের বিপরীতে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা গ্রহণ করা যাবে।’

পুনঃঅর্থায়নের জন্য ১ নভেম্বর থেকে আগামী বছরের ৩১ অক্টোবর সময়ের মধ্যে অফ-সাইট সুপারভিশন বরাবর আবেদন করতে হবে।

ইচ্ছুক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগের সঙ্গে একটি অংশগ্রহণমূলক চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে।

ঋণের বিপরীতে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় চাওয়া হয়েছে মর্মে প্রতিটি আবেদনের সঙ্গে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্তৃক স্বাক্ষরিত প্রত্যয়ন পত্র দাখিল করতে হবে।

প্রতিটি গ্রাহকের (পুরাতন/নতুন) ঋণ সীমা (বিদ্যমান ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সুবিধার অথবা প্রাপ্যতার পরিমাণের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ) নির্ধারণ সংক্রান্ত হিসাবায়ন নির্ধারিত ছকে আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের চাহিদা মোতাবেক সংরক্ষণ করতে হবে।

শর্তসাপেক্ষে এককালীন বা কিস্তিতে ঋণ নেয়া যাবে না।

বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধের লক্ষ্যে এককালীন অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্র

যে তারিখ বা মাস হতে কর্মচারীদের বেতন বকেয়া আছে তার অব্যবহিত পূর্বের ৩ মাসের বেতনের গড় পরিমাণকে ভিত্তি ধরে হিসাব সম্পন্ন করতে হবে।

কর্মরত-কর্মচারীদের প্রকৃত সংখ্যা অনুসারে পরিশোধযোগ্য বেতনের পরিমাণ হিসাব করতে হবে।

প্রতি মাসের জন্য হিসাবায়িত বেতনের পরিমাণ প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় নির্ধারিত পরিমাণ (সর্বোচ্চ ৩০%) পর্যন্ত এককালীন বিতরণ করা যাবে। বিতরণকৃত অর্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সরবরাহ তালিকা অনুসারে সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাব আকলন করতে হবে। অর্থ প্রেরণের প্রমাণপত্র সংশ্লিষ্ট ব্যাংক সংরক্ষণ করবে।

এসব প্রমাণপত্র বাংলাদেশ ব্যাংকের চাহিদা মোতাবেক প্রদর্শন করতে হবে বা নির্দেশিত হলে বাংলাদেশ ব্যাংকে দাখিল করতে হবে।

গ্রাহক ঋণ গ্রহণের এক বছরের মধ্যে যে কোনো সময় সম্পূর্ণ বা আংশিক আসল পরিশোধ করলে পরিশোধিত অর্থ ফেরত প্রদানের ১০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে।

কিস্তিতে অর্থ বরাদ্দ যেভাবে

সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আবেদনের ভিত্তিতে ব্যাংক প্রকৃত চাহিদার পরিমাণ হিসাবায়নপূর্বক ঋণ বিতরণ করবে এবং বিতরণ করা অর্থের সদ্ব্যবহার যাচাই করে বাংলাদেশ ব্যাংক হতে পুনঃঅর্থায়ন গ্রহণের জন্য আবেদন করবে।

প্রণোদনা প্যাকেজের সময়ের আওতায় প্রতি মাসের বেতন দেয়ার ক্ষেত্রে ঋণ পরিশোধের জন্য গ্রাহক ঋণ গ্রহণের তারিখ হতে এক বছর সময় পাবেন।

ঋণের মোট সুদের হার হবে ৮ শতাংশ। এর মধ্যে উদ্যোক্তাকে দিতে হবে ৪ শতাংশ। সরকার ভর্তুকি হিসেবে দেবে ৪ শতাংশ। প্রণোদনার আওতায় উদ্যোক্তারা এক বছর এ ঋণ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

আবেদনে লাগবে যেসব দলিলা

প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় বিতরণ করা ঋণের পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা চাওয়া হয়েছে মর্মে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্তৃক স্বাক্ষর করা প্রত্যয়ন পত্র প্রয়োজন হবে।

গ্রাহকের (পুরাতন/নতুন) অনুকূলে ঋণের সীমা নির্ধারণ সংক্রান্ত হিসাবায়ন ছক।

ঋণ প্রদানের মঞ্জুরিপত্র।

গ্রাহকের ঋণ বা বিনিয়োগ হিসাব বিবরণী।

প্রাপ্যতা অনুযায়ী সম্পূর্ণ আসলসহ সম্ভাব্য সুদের পরিমাণ।

এ সংক্রান্ত তথ্য প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগে জমা দিতে হবে।

আরও পড়ুন:
পূজার কেনাকাটায় বিকাশ পেমেন্টে ২৫% পর্যন্ত ক্যাশব্যাক
ক্যাশ আউট খরচ কমাল বিকাশ
বিকাশের লোকসান নিয়ে প্রশ্ন
বিকাশ প্রতারকদের নিত্যনতুন ফাঁদ
সহজ ফুডে বিকাশ পেমেন্টে ১০% ক্যাশব্যাক

শেয়ার করুন

এনসিসি ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ, ৩ জনের নামে পরোয়ানা

এনসিসি ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ, ৩ জনের নামে পরোয়ানা

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে ২৫ কোটি ১৮ লাখ ৭৬ হাজার ৪৭৩ টাকার খেলাপি ঋণ আদায়ে আদালতে রুবাইয়া ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজের বিরুদ্ধে মামলা করে এনসিসি ব্যাংক লিমিটেড খাতুনগঞ্জ শাখা।

এনসিসি ব্যাংক লিমিটেডের চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ শাখার ২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় রুবাইয়া ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজের তিন পরিচালকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।

চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতের বিচারক মুজাহিদুর রহমান সোমবার দুপুরে এ আদেশ দেন।

যাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা দেয়া হয়েছে তারা হলেন হারুনুর রশিদ, আনজুমান আরা বেগম ও হাসনাইন হারুন।

চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রেজাউল করিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘২৫ কোটি ১৮ লাখ ৭৬ হাজার ৪৭৩ টাকার ঋণখেলাপি মামলায় গত ১৭ অক্টোবর রুবাইয়া ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজের তিন পরিচালকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন করে এনসিসি ব্যাংক লিমিটেড খাতুনগঞ্জ শাখা।

‘আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত শুনানি শেষে তাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেছে।’

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে ২৫ কোটি ১৮ লাখ ৭৬ হাজার ৪৭৩ টাকার খেলাপি ঋণ আদায়ে আদালতে রুবাইয়া ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজের বিরুদ্ধে মামলা করে এনসিসি ব্যাংক লিমিটেড খাতুনগঞ্জ শাখা।

চট্টগ্রামের এইচআর গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হারুনুর রশিদ। তার গ্রুপের অধীনে প্রায় ১৭টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে রুবাইয়া ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ একটি।

আরও পড়ুন:
পূজার কেনাকাটায় বিকাশ পেমেন্টে ২৫% পর্যন্ত ক্যাশব্যাক
ক্যাশ আউট খরচ কমাল বিকাশ
বিকাশের লোকসান নিয়ে প্রশ্ন
বিকাশ প্রতারকদের নিত্যনতুন ফাঁদ
সহজ ফুডে বিকাশ পেমেন্টে ১০% ক্যাশব্যাক

শেয়ার করুন

প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে জাপানের ৩৯ কোটি টাকা অনুদান

প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে জাপানের ৩৯ কোটি টাকা অনুদান

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন ও জাইকার ঢাকা প্রতিনিধি ইউহো হায়াকাওয়া অনুদানের চুক্তিতে সই করেন। জাপানের পক্ষে ঢাকায় দেশটির রাষ্ট্রদূত ইটো নাওকি এক্সচেঞ্জ অব নোটে সই করেন। ছবি: নিউজবাংলা

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ২০১৮-২০২৩ মেয়াদে বাস্তবায়িত হচ্ছে চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪)। কর্মসূচির আওতায় জাপান সরকারের এ সব অনুদান প্রাথমিকের পাঠ্যক্রম সংশোধন, পাঠ্যপুস্তক উন্নয়ন, শিক্ষকদের ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়ন এবং এবং বাজেট ব্যবস্থাপনা খাতে ব্যবহার করা হবে। প্রথম দুই বছর জাপান এ প্রকল্পে ৭৫ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছিল।

প্রাথমিক পর্যায়ের পাঠ্যক্রম সংশোধন, পাঠ্যপুস্তক উন্নয়ন, শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নে ৩৯ কোটি টাকা অনুদান দিচ্ছে জাপান।

‘চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪)’ শীর্ষক প্রকল্পে তৃতীয় বছরের জন্য ৫০০ মিলিয়ন জাপানি ইয়েন অনুদান দেবে দেশটি। যা বাংলাদেশে মুদ্রায় প্রায় ৩৯ কোটি টাকা।

এই বিষয়ে সোমবার দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে এক্সচেঞ্জ অব নোট এবং অনুদান চুক্তিতে সই করেন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন চুক্তিতে সই করেন। জাপানের পক্ষে ঢাকায় দেশটির রাষ্ট্রদূত ইটো নাওকি এক্সচেঞ্জ অব নোটে (দলিলাদি) সই করেন।

অনুদান চুক্তিতে সই করেন জাইকার ঢাকা প্রতিনিধি ইউহো হায়াকাওয়া।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ২০১৮-২০২৩ মেয়াদে বাস্তবায়িত হচ্ছে চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪)। কর্মসূচির আওতায় জাপান সরকারের এ সব অনুদান প্রাথমিকের পাঠ্যক্রম সংশোধন, পাঠ্যপুস্তক উন্নয়ন, শিক্ষকদের ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়ন এবং এবং বাজেট ব্যবস্থাপনা খাতে ব্যবহার করা হবে। প্রথম দুই বছর জাপান এ প্রকল্পে ৭৫ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছিল।

এর আগে জাপান সরকার ২০১১-২০১৮ মেয়াদে ‘তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৩)’ প্রকল্প বাস্তবায়নে ২৪৯০ মিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা প্রায় ১৯৮ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছিল।

জাপান বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে আর্থিক সহায়তা প্রদানকারী একক বৃহত্তম দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগী। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত দেশটি প্রায় ১৬ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছে।

আরও পড়ুন:
পূজার কেনাকাটায় বিকাশ পেমেন্টে ২৫% পর্যন্ত ক্যাশব্যাক
ক্যাশ আউট খরচ কমাল বিকাশ
বিকাশের লোকসান নিয়ে প্রশ্ন
বিকাশ প্রতারকদের নিত্যনতুন ফাঁদ
সহজ ফুডে বিকাশ পেমেন্টে ১০% ক্যাশব্যাক

শেয়ার করুন