১৮৩ বছরের বাগান কবরস্থান

১৮৩ বছরের বাগান কবরস্থান

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত গ্রিনমাউন্ট সিমেটারি। ছবি: লেখক

গ্রিনমাউন্ট সিমেটারিতে শায়িত প্রথম কবর দু’বছর বয়সী ওলিভিয়া কাশিং উইটরিজের। এখানে বিখ্যাত সব ব্যক্তি, কুখ্যাত কিছু ব্যক্তির কবরও রয়েছে। আর এ মুহূর্তে শায়িত আছেন ৬৫ হাজার জন।

সুরম্য এক বাগান। যেরকম বাগান বা পার্কের দেখা হরহামেশাই মেলে যুক্তরাষ্ট্রের সাজানো-গোছানো শহরগুলোয়। তবে বাগানটির কিছু বিশেষত্ব তো আছেই। নইলে আর দেখতে আসা কেন?

পাহাড়ি এলাকার পার্কটিতে ঢোকার একটু পরই অভ্যর্থনা জানাবে সুবজ রঙা এক পরী। কিছুদূর হাঁটতেই বুঝতে পারা যায়, অন্যান্য পার্কের সঙ্গে এর পার্থক্য।

গাছের ফাঁকে ফাঁকে নজরে পড়বে সারি সারি গ্রেভস্টোন বা সমাধিস্তম্ভ। তবু, যেন ঠাহর করতে পারা যায় না, আসলেই এটি কোনো গোরস্থান না বাগান? এর নান্দনিক রূপ দেখে এটিকে দর্শকের সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গিতে বারবারই বাগান বলে ভুল হয়।

এমনই এক গোরস্থান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাচীনতম রুরাল গার্ডেন সিমেটারির মধ্যে অন্যতম, মেরিল্যান্ড রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত গ্রিনমাউন্ট সিমেটারি। খুব বেশি নয়। এই গার্ডেন সিমেটারি বা বাগান গোরস্থানের বয়স মোটে ১৮৩ বছর। তবু তো একটি গোরস্থানই। কী এমন বিশেষত্ব এর যার জন্য এটির কথা বহু বছর ধরেই উঠে আসে সংবাদ আকারে?

১৮৩ বছরের বাগান কবরস্থান

ধরা যাক আপনি একজন ‘বিজার ট্রাভেলার’। অর্থ্যাৎ বেড়াতে বেরিয়ে গতানুগতিক পর্যটকেঠাসা জায়গাগুলো আপনাকে কখনোই আকর্ষণ করে না। পছন্দের তালিকায় থাকে অদ্ভুত কিছু জায়গা। যার ঐতিহাসিক গুরুত্ব, ঝাঁ চকচকে টু্রিস্ট স্পট থেকে অনেক বেশি। এমনকি, এমনসব জায়গা যা স্থানীয়দের সম্পর্কে জানতে খুব বেশি সাহায্য করে। সেক্ষেত্রে এই গ্রিন মাউন্ট সিমেটারি বা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এ ধরণের বাগান সদৃশ গোরস্থান আদর্শ জায়গা। ম্যাসাচুসেটসের মাউন্ট অবার্ন সিমেটারি দেখে এসে মেরিল্যান্ডে একই ধরণের গোরস্থান প্রতিষ্ঠা করতে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৬০ একর জায়গা কিনে ফেলেন, তামাক বণিক স্যামুয়েল ওয়াকার। সময়টা ১৮৩৮ সাল।

পরে, কিছু ধনকুবের বন্ধুর সঙ্গে আলাপ করে ১৮৩৯ সালে গ্রিন মাউন্ট নাম দিয়ে রাজ্য সংসদে অনুমোদনের মাধ্যমে দান করেন সাধারণের জন্য। শর্ত একটাই, প্রোপাইটার বা রক্ষক যেই হোক না কেন, তাদের দায়িত্ব হবে এর সৌন্দর্য বর্ধন করে যাওয়া। যা বছরের পর বছর ধরে একে আউটডোর গ্যালারি অফ আর্টস অ্যান্ড আর্কিটেকচার বা সহজ ভাষায় শিল্প ও স্থাপত্যের এক অনিন্দ্য সুন্দর দর্শনীয় স্থানে পরিণত করেছে। বিশাল এই কবরস্থানে গিয়ে ঢোকার মুখেই মিলে যায় রুট ম্যাপ বা নির্দেশিকা।

দর্শনার্থী হিসেবে চলা যাবে নির্দেশিকা মেনে। এলোমেলো ঘুরলেও কোনো সমস্যা নেই। দুর্দান্ত সুন্দর সব ভাস্কর্য, কবরের নকশা বা সমাধলিপি অথবা এপিটাফ, দেখতে দেখতে আর পড়তে পড়তে অবাক, আবেগআপ্লুত আর মুগ্ধ হতেই হয়।

১৮৩ বছরের বাগান কবরস্থান

বারবার মনে প্রশ্ন জাগে, তবে সমাধিক্ষেত্রও এমন হওয়া সম্ভব? কোনটা রেখে কোনটা দেখা যায়! এই হয়তো স্বর্গদ্বাররক্ষীর ভাস্কর্যের সৌন্দর্যে বিমোহিত হওয়া শুরু হলো তখনই অচেনা এক পাখির ডাকে চোখ ফেরাতেই দেখা মিলল অদ্ভুত এক দেবশিশুর। যে বসে আছে কোনো এক শিশুর কবরের ওপরে।

গ্রিনমাউন্টের মূল নকশাকার তিনজন স্থপতি। যাদের মধ্যে দুজন আবার নিজেদের শেষ ঠিকানা হিসেবে এই কবরস্থানকেই বেছে রেখেছিলেন কাজের শুরুতে। এখানে শায়িত প্রথম কবরটি দু’বছর বয়সী ওলিভিয়া কাশিং উইটরিজের। এ মুহূর্তে শায়িত আছেন ৬৫ হাজার জন।

ভেতরে আছে অপূর্ব স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত একটি চ্যাপেল বা খ্রীস্টিয় ভজনালয়। আকৃতি বিশাল হওয়ায়, ফুলের নাম বা বিশেষ শব্দ দিয়ে চিহ্নিত করা আছে জায়গাগুলো। যেমন, ডেইজি বা ওয়ালনাট এরিয়া। অসংখ্য বিখ্যাত মানুষ চিরনিদ্রায় আছেন গ্রিন মাউন্টে। যুক্তরাষ্ট্রে ফিলানথ্রপিস্ট বা পরোপকারীরা বরাবরই সমাজে বিশেষ অবদান রাখেন। যাদের মধ্যে এই অঞ্চলের অনেকেরই কবর আছে এখানে। যার মধ্যে আবার অন্যতম হলো, চিকিৎসা বিজ্ঞানে গবেষণার জন্য বিশ্বখ্যাত জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা জনস হপকিন্সের কবর।

১৮৩ বছরের বাগান কবরস্থান

আছেন রাজনীতিক, ব্যবসায়ী নেতা, মিলিটারি সদস্য, লেখক, গবেষক, গভর্নর ও মেয়রসহ অসংখ্যা মানুষের কবর। কুখ্যাত ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন এক মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হত্যার ষড়যন্ত্রকারী ও তার সহকারীর কবরও। পাহাড়ি এই কবরস্থানটির সর্বোচ্চ স্থানের উচ্চতা সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ১৯০ ফুট ওপরে।

গ্রিনমাউন্ট পক্ষী বিশারদ ও গবেষকদের জন্যও একটি প্রিয় জায়গা। লোকালয়ে দেখা মেলে না এমন কিছু পাখির অভয়ারণ্য এই বাগান সদৃশ গোরস্থানটি। সুসজ্জিত ওক, মেপল, ওয়ালনাট, লিন্ডেন, চেস্টনাট বা বিচ গাছের ছায়াতলে শতবর্ষ ধরে শায়িতরা যে একটুও একঘেঁয়ে বোধ করেন না তা ওখানেই গেলেই বোঝা যায়।

১৯৮০ সালে গ্রিনমাউন্টকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার ফর হিস্টোরিক প্লেসেসে’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। একই রকম জায়গায় ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হলে এই গার্ডেন সিমেটারিটিই হতে পারে একদম ভিন্নস্বাদের একটি পর্যটকস্থল।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

৩৫তম ফোবানা সম্মেলন নভেম্বরে

৩৫তম ফোবানা সম্মেলন নভেম্বরে

জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি সম্মেলন কক্ষে ফোবানা সম্পর্কিত এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এবারের সম্মেলনের ভেন্যু করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে অবস্থিত ন্যাশনাল হারবারের বিখ্যাত গেলর্ড ন্যাশনাল রিসোর্ট অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারকে।

বাধাবিপত্তি আর করোনার ভয়াবহতাকে মোকাবিলা করে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশন ইন নর্থ আমেরিকা (ফোবানা) সম্মেলন।

নভেম্বরের ২৬ তারিখে শুরু হবে তিন দিনব্যাপী ৩৫তম এই সম্মেলন। এটির আয়োজক আমেরিকান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটি (এবিএফএস)।

এবারের সম্মেলনের ভেন্যু করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে অবস্থিত ন্যাশনাল হারবারের বিখ্যাত গেলর্ড ন্যাশনাল রিসোর্ট অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারকে।

সম্মেলনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘অদম্য বাংলাদেশে অবাক বিশ্ব’।

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি সম্মেলন কক্ষে এ সম্পর্কিত এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

ফোবানা সম্মেলনের সদস্যসচিব শিব্বীর আহমেদের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন এবারের ফোবানা সম্মেলনের কনভেনার জি আই রাসেল।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফোবানা চেয়ারম্যান জাকারিয়া চৌধুরী, স্বাগতিক কমিটির নিরাপত্তাবিষয়ক সাবকমিটির চেয়ারপারসন দেওয়ান জমিরসহ ফোবানার অন্য নেতারা।

বিশ্বে ফোবানা নামটি একটি ‘ব্র্যান্ড’ উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে সদস্যসচিব শিব্বীর আহমেদ বলেন, ‘৩৫ বছর ধরে এই সংগঠনটি উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন শহরে বাংলাদেশিদের মিলনমেলার আয়োজন করে আসছে। এবারও এর ব্যতিক্রম নয়।’

তিনি বলেন, ‘১৯৮৭ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংকের একটি ছোট অডিটরিয়ামে অত্যন্ত ছোট পরিসরে যে ফোবানার জন্ম হয়েছিল, সেই ফোবানার ৩৫তম আসর আজ একই শহরের সবচেয়ে বড় বিলাসবহুল ও ব্যয়বহুল সেন্টারে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।’

সম্মেলনে দেশ ও প্রবাসের লেখক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, শিল্পীসহ গুণিজনরা অংশ নেবেন বলে জানান ফোবানার কনভেনার জি আই রাসেল।

তিনি বলেন, ‘৩৫তম ফোবানার অতিথি তালিকায় যেসব বিশিষ্ট ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, স্টেট মিনিস্টার শাহরিয়ার আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন চেয়ারম্যান ড. শিবলী রুবায়েত উল ইসলাম, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শহিদুল ইসলাম, দুবাইয়ের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাহতাবুর রহমান, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নইম নিজাম, ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, অনন্যা প্রকাশনীর মনিরুল হক, ডিবিসি নিউজের সিইও মনজুরুল ইসলাম, সময় টেলিভিশন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আহমেদ জোবায়ের, চ্যানেল আই প্রধান ফরিদুর রেজা সাগর প্রমুখ।

এ ছাড়াও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী, বাণিজ্যবিষয়ক মন্ত্রী, শিক্ষাবিষয়ক মন্ত্রীকে সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

কনভেনার রাসেল জানান, সম্মেলনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ। তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে ফ্যাশন শো, মিস ফোবানা, ম্যাগাজিন, বিজনেস লাঞ্চ, বইমেলা, মিউজিক আইডল, ড্যান্স আইডল, সেমিনার, ইয়ুথ ফোরাম, ইন্টারফেইথ ডায়ালগসহ নানা ইভেন্টের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নৃত্যশিল্পী সাদিয়া ইসলাম মৌ এবং ওয়ার্দা রিহ্যাব অংশগ্রহণ করবেন।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পর্বে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন, জেমস, তাহসান খান, হৃদয় খান, শফি মণ্ডল, লায়লাসহ জনপ্রিয় শিল্পীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া বৃহত্তর ওয়াশিংটন ও উত্তর আমেরিকার একঝাঁক শিল্পী ৩৫তম ফোবানা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবেন বলেও জানান রাসেল।

এ ছাড়া ২৭ নভেম্বর বিজনেস নেটওয়ার্ক লাঞ্চ অনুষ্ঠিত হবে। এই লাঞ্চে দেশের ও প্রবাসের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা অংশগ্রহণ করবেন।

শেয়ার করুন

মিশিগানে মোটরসিটি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন এশিয়া ইউনাইটেড

মিশিগানে মোটরসিটি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন এশিয়া ইউনাইটেড

এবারের মোটরসিটি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন দল হয় এশিয়া ইউনাইটেড। ছবি: নিউজবাংলা

টুর্নামেন্টে অংশ নেয়া বিভিন্ন দলে বাংলাদেশের জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার তাপস বৈশ্য, ইলিয়াস সানী, আবুল হাসান রাজু ও কামরুল ইসলাম রাব্বির মতো তারকারা ছিলেন। শেষ পর্যন্ত এসব তারকার কোনো দলই ফাইনাল ম্যাচের জন্য উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

মোটরসিটি হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের ডেট্রয়েট সিটির লাস্কি ক্রিকেট মাঠে হলো মোটরসিটি ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল ম্যাচ।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে দুটি সেমিফাইনাল ম্যাচ সমাপ্তির পরই বিকেল ৩টার সময় শুরু হয় ফাইনাল ম্যাচ।

টুর্নামেন্টে অংশ নেয়া বিভিন্ন দলে বাংলাদেশের জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার তাপস বৈশ্য, ইলিয়াস সানী, আবুল হাসান রাজু ও কামরুল ইসলাম রাব্বির মতো তারকারা ছিলেন। শেষ পর্যন্ত এসব তারকার কোনো দলই ফাইনাল ম্যাচের জন্য উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

ফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হয় মিশিগানের দুটি দল এশিয়া ইউনাইটেড ও মিশিগান চিতাস। খেলায় প্রথমে ব্যাটিং করে এশিয়া ইউনাইটেড চার ও ছক্কার সমাহার ঘটিয়ে ২০ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ১৪৮ রান করে।

টুর্নামেন্টের অন্য খেলাগুলোতে বলতে গেলে মিশিগান চিতাস অপ্রতিরোধ্যই ছিল বলা চলে। কিন্তু দলটি শুরুটা করেছিল বেশ অগোছালোভাবে।

শুরুর দিকেই দলের ওপেনার তামিম ১ রান করে আউট হয়ে যান। তারপরই আরেক ব্যাটসম্যান রান আউট। দ্রুত উইকেট পতনে দলের রানের চাকা ঘোরাতে ব্যাটম্যানরা ব্যাকফুটে চলে যান।

মাঝে শাকের আহমেদ ও আরিফুল হক কিছুটা আশ্বস্ত করতে পারলেও এশিয়া ইউনাইটেডের বোলার জুবেল আহমেদের কাছেই ধরাশায়ী হয় মিশিগান চিতাসের ব্যাটম্যানরা।

জুবেল ৪ ওভার বল করে ১৮ রান খরচায় নেন ৬ উইকেট। শেষে এবারের টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন দল হয় এশিয়া ইউনাইটেড।

টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণীতে ছিল ভিন্ন আয়োজন। দুজন উপস্থাপক রশনি চাসমাওয়ালা ও রোম্মান আহমেদের উপস্থাপনা ছিল প্রাণবন্ত।

টুর্নামেন্টে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন এশিয়া ইউনাইটেডের মাসুদ হক, যার সংগ্রহ ৫ ম্যাচে ১৮৫ রান ও ৫ উইকেট।

মিশিগান চিতাসের বোলার শাকের আহমেদ ১৪টি উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির পদকটা পেয়ে যান। টুর্নামেন্টে সেরা ফিল্ডার হন মিশিগান চিতাসের ফয়েজ লিংকন।

এবারের মোটরসিটি ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা বাংলাদেশি-আমেরিকান ক্রিকেটার নিয়ে ১০টি দল গঠন হয়।

বিশাল বাজেটের টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন দলের প্রাইজমানি ছিল ১৭ হাজার ডলার ও দৃষ্টিনন্দন ট্রফি।

শেয়ার করুন

মিশিগানে বিয়ানিবাজার সমিতির নেতৃত্বে আজমল-বাবুল

মিশিগানে বিয়ানিবাজার সমিতির নেতৃত্বে আজমল-বাবুল

মিশিগানে বিয়ানিবাজার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমিতির সভাপতি মো. আজমল হোসেন (বাঁয়ে) ও সাধারণ সম্পাদক বাছির আহমেদ বাবুল

মিশিগানে বিয়ানিবাজার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমিতির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে এবার ১৭টি পদের জন্য প্রার্থীরা প্রতিযোগিতা করেন। মোট ভোটার ছিলেন ২ হাজার ৪৩৭ জন। এর মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন ১ হাজার ৫৪৬ জন।

বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে অনুষ্ঠিত হলো বিয়ানিবাজার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমিতির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন। এতে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আজমল হোসেন আর সাধারণ সম্পাদক পদে জয় পেয়েছেন বাছির আহমেদ বাবুল।

দুটি প্যানেলভুক্ত প্রার্থীদের মধ্যে স্থানীয় সময় রোববার সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণের মধ্যদিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন হয়। দিনের শুরতে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় ভোটাররা স্বতস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে আসেন।

বেলা সাড়ে ১১টায় নির্বাচন পরিচালনার স্থান হ্যামট্রামেক সিটির গেটস অফ কলম্বাসের হল রুমে গিয়ে দেখা যায় ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক নিয়োজিত ছিল পুলিশ।

হলরুমের ভেতরে ভোটাদের ভোট প্রদানের জন্য গোছানো ছিল ১৭টি বুথ। যার মধ্যে নারীদের ছিল জন্য ছয়টি বুথ; বাকিগুলো ছিল পুরুষদের জন্য।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ঐক্য, সেবা, শিক্ষা ও সংস্কৃতির ব্রত নিয়ে ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বিয়ানিবাজার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমিতি।

এবারের নির্বাচনে ১৭টি পদের জন্য প্রার্থীরা প্রতিযোগিতা করেন। মোট ভোটার ছিলেন ২ হাজার ৪৩৭ জন। এর মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন ১ হাজার ৫৪৬ জন।

ভোট গণনা শেষে স্থানীয় সময় সোমবার ভোরের দিকে ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট মহব্বত খান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য সচিব মো. নুরুল ইসলাম ও কমিশনার মো. মোস্তাক আহমেদ।

৭৯৮ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মো. আজমল হোসেন; ৭৮৬ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন বাছির আহমেদ বাবুল।

সাংগঠিক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম। সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে জয় পান মো. আব্দুল আজিজ।

সহ-সভাপতি পদে রুহুল আমিন, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে এহিয়া হক, কোষাধক্ষ পদে জাকারিয়া জামান, দপ্তর সম্পাদক পদে রাসেল হোসেন, প্রচার সম্পাদক পদে দেলোয়ার হোসেন মিয়া, ক্রীড়া সম্পাদক পদে এম রুবেল আহমেদ, ধর্ম ও আইন বিষয়ক সম্পাদক পদে হুসাইন আহমেদ তারেক নির্বাচিত হন।

এ ছাড়া, কার্যকরী সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন আব্বাছ উদ্দিন মিয়া, কবির আহমেদ, কবির আহমেদ লিলু, মহিউল ইসলাম, ছাব্বির আহমেদ, শহিদুজ জামান হুসেইন ও মো. মজির উদ্দিন চৌধুরী বকুল।

শেয়ার করুন

নরওয়ের বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদে নির্বাচিত বাংলাদেশের অর্ণব

নরওয়ের বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদে নির্বাচিত বাংলাদেশের অর্ণব

রাকিন আবসার অর্ণব। ছবি: ফেসবুক

অর্ণব বলেন, ‘আজীবনের রাজনৈতিক চর্চায় শিক্ষার্থীদের পাশে থাকা শিখেছি। নরওয়ে এসে এক মাস সেটিরই চর্চা করেছি। তাই হয়তো কিছু মানুষ ছাত্র সংসদে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে আমাকে যোগ্য মনে করেছে। যদিও সহযোগী সদস্য ছোট পদ, তবে এটাই আমার নরওয়ের রাজনৈতিক অঙ্গনের শুভ সূচনা।’

নরওয়ের ভোলদা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদে প্রথমবারের মতো সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী।

রাকিন আবসার অর্ণব নামে ওই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়টির মিডিয়া অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগে মাস্টার্স করছেন। সেপ্টেম্বরের শেষে ছাত্র সংসদটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

৩০ বছর ধরে ছাত্র সংসদের নির্বাচন হচ্ছে ভোলদা বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রতিবছরই সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত হয় এ নির্বাচন। প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষার্থী এক বছরের জন্য তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করেন।

ভোলদা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের স্লোগান ‘বাই দ্য স্টুডেন্ট, ফর দ্য স্টুডেন্ট’। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনে ছাত্রদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের অর্থনৈতিক অবস্থা, তাদের জীবনযাত্রার মান, বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও ছাত্রকল্যাণ এবং যাতায়াত সুবিধা নিয়ে কাজ করে এই সংসদ।

নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে নিউজবাংলাকে অর্ণব বলেন, ‘আজীবনের রাজনৈতিক চর্চায় শিক্ষার্থীদের পাশে থাকা শিখেছি। নরওয়ে এসে এক মাস সেটিরই চর্চা করেছি। তাই হয়তো কিছু মানুষ ছাত্র সংসদে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে আমাকে যোগ্য মনে করেছে। যদিও সহযোগী সদস্য ছোট পদ, তবে এটাই আমার নরওয়ের রাজনৈতিক অঙ্গনের শুভ সূচনা।’

বাংলাদেশে থাকতে বামপন্থি ছাত্র সংগঠন বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন অর্ণব।

ভোলদা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদে ২২ জন প্রতিনিধি নির্বাচিত হন। এর মধ্যে ১১ জন থাকেন মূল সদস্য এবং ১১ জন সহযোগী সদস্য। প্রতি বিভাগ থেকে চারজন সদস্য নির্বাচিত হন। এর মধ্যে দুইজন মূল সদস্য, আর দুইজন সহযোগী। মিডিয়া অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগ থেকে ভোটের ভিত্তিতে অর্ণব সহযোগী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

অর্ণবের নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে ছাত্র সংসদটির নেতা ট্রন্ড ফ্রেডরিক বলেন, ‘এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের কোনো শিক্ষার্থী আমাদের ছাত্র সংসদে নির্বাচিত হলেন। সে হিসেবে বলা যায়, রাকিন ইতিহাস গড়েছেন। এখানে বাইরের দেশের শিক্ষার্থীরা নির্বাচিত হওয়া বেশ নতুন ঘটনা। এর আগে আমাদের সংসদে ভারত ও পাকিস্তানের শিক্ষার্থী থাকলেও বাংলাদেশের কেউ ছিলেন না।’

শেয়ার করুন

বিনা অপরাধে সৌদি জেলে ২০ বছর কাটাতে হবে বাশারকে?

বিনা অপরাধে সৌদি জেলে ২০ বছর কাটাতে হবে বাশারকে?

সৌদি জেলে বন্দি স্বামীর মুক্তির জন্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ঘুরছেন রাবেয়া। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

রাবেয়া বলেন, ‘অপরিচিত ওই ব্যক্তির প্যাকেট নিতে অস্বীকৃতি জানান আমার স্বামী। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি নিজেকে বিমানের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তাকে ভয়ভীতি দেখান। প্যাকেট না নিলে তাকে ফ্লাইটে উঠতে দেবেন না বলেও ভয় দেখান। এতেও নিতে রাজি না হলে একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি নিজেই জোর করে আমার স্বামীর ব্যাগে প্যাকেটটি ঢুকিয়ে দেয়। ভয়ভীতি দেখানোয় এবং ফ্লাইটের সময় হয়ে যাওয়ায় কারও কাছে কোনো অভিযোগ না দিয়ে আমার স্বামী ফ্লাইটে উঠে পড়েন। কিন্তু সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর নিরাপত্তাকর্মীরা তার ব্যাগ তল্লাশি করলে ইয়াবার প্যাকেট পায় এবং আমার স্বামীকে জেলে পাঠায়।’

আচার আছে বলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক সৌদিপ্রবাসীর ব্যাগে জোর করে একটি প্যাকেট দেন বিমানবন্দরের পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত একে ট্রেডার্সের এসআর সুপারভাইজার নুর মোহাম্মদ। না নিলে বিমানে উঠতে দেয়া হবে না, এমন ভয় দেখানোয় প্যাকেট নিতে বাধ্য হন সৌদিপ্রবাসী আবুল বাশার। প্যাকেট নিয়ে জেদ্দা বিমানবন্দরে ধরা পড়েন তিনি। আচারের প্যাকেটে মেলে ইয়াবা। পরে ইয়াবা পাচারের অভিযোগে সৌদি আরবে ২০ বছরের সাজা হয়েছে বাশারের।

প্রবাসী বাশারের স্ত্রীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নুর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জোর করে বাশারকে প্যাকেট দেয়ার কথাও স্বীকার করেছেন তিনি।

এখন সৌদি আরবে সাজা হওয়া বাশারের কী হবে? বিনা অপরাধেই কী তাকে জেল খাটতে হবে?

নির্দোষ বাশারের মুক্তির জন্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও কোনো সমাধান পাচ্ছেন না তার স্ত্রী রাবেয়া। তার দাবি, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো যেন বাশারকে মুক্ত করার ব্যবস্থা নেয়। পাঁচ বছরের মেয়েকে নিয়ে স্বামীর মুক্তির জন্য সরকারের ঊর্ধ্বতনদের দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি।

রাবেয়া জানান, ছুটি শেষে এ বছরের ১১ মার্চ সৌদি আরব ফিরতে বিমানবন্দরে যান আবুল বাশার। এদিন রাত ১২টার পর বোর্ডিংয়ের জন্য লাইনে দাঁড়ালে নুর মোহাম্মদ তার স্বামীকে একটি প্যাকেট সৌদি আরব নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন। প্যাকেটে কিছু আচার ও খাবার আছে। সৌদিতে তার ভাই মো. সাইদ প্যাকেটটি বিমানবন্দর থেকে নেবেন বলে জানান নুর মোহাম্মদ।

রাবেয়া বলেন, ‘অপরিচিত ওই ব্যক্তির প্যাকেট নিতে অস্বীকৃতি জানান আমার স্বামী। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি নিজেকে বিমানের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তাকে ভয়ভীতি দেখান। প্যাকেট না নিলে তাকে ফ্লাইটে উঠতে দেবেন না বলেও ভয় দেখান। এতেও নিতে রাজি না হলে একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি নিজেই জোর করে আমার স্বামীর ব্যাগে প্যাকেটটি ঢুকিয়ে দেয়। ভয়ভীতি দেখানোয় এবং ফ্লাইটের সময় হয়ে যাওয়ায় কারও কাছে কোনো অভিযোগ না দিয়ে আমার স্বামী ফ্লাইটে উঠে পড়েন। কিন্তু সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর নিরাপত্তাকর্মীরা তার ব্যাগ তল্লাশি করলে ইয়াবার প্যাকেট পায় এবং আমার স্বামীকে জেলে পাঠায়।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ত্যাগের পর থেকেই আমার স্বামীর খোঁজ পাচ্ছিলাম না। ২০ দিন পর ঘটনার বিস্তারিত এবং জেলে থাকার কথা জানিয়ে সৌদি থেকে টেলিফোন করেন তিনি। পরে ১৩ এপ্রিল বিমানবন্দরে গিয়ে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাই।

‘আর্মড পুলিশ আমার অভিযোগের ভিত্তিতে বিমাবন্দরের সিসি ক্যামেরার রেকর্ড চেক করে ঘটনার সত্যতা পায়। ১৪ এপ্রিল বিমানবন্দরে পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত একে ট্রেডার্সের এসআর সুপারভাইজার নুর মোহাম্মদকে আটক করে তারা। এ ঘটনায় আমি বিমানবন্দর থানায় মামলা করি। এরই মধ্যে নুর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

বাশারের স্ত্রী রাবেয়া বলেন, ‘আমার স্বামী অপরাধ না করেও প্রায় ৭ মাস ধরে জেলে আছেন। সৌদি আরবের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে আইনি সহায়তা না পাওয়ায় এক পক্ষীয়ভাবে আদালত তাকে ২০ বছরের সাজা দিয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সহায়তা না পেলে আমার স্বামীকে বিনা অপরাধে ২০ বছর জেল খাটতে হবে। আমি আমার পাঁচ বছর বয়সী কন্যাসন্তানকে নিয়ে দেশে মানবেতর জীবন যাপন করছি।’

বিনা অপরাধে সৌদি জেলে ২০ বছর কাটাতে হবে বাশারকে?
স্বামী আবুল বাশারের সঙ্গে রাবেয়া।

মঙ্গলবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে স্বামীর মুক্তিতে সরকারের সাহায্য চেয়ে আবেদন করেছেন রাবেয়া।

তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী নিরপরাধ। তাকে জোর করে প্যাকেট দিয়ে দিছে। নুর মোহাম্মদ স্বীকারও করেছে। সরকার ও সৌদি আরবে বাংলাদেশ অ্যাম্বাসি সাহায্য না করলে ২০ বছর কোনো অপরাধ না করেই জেলে কাটাতে হবে। আমি সরকারের সাহায্য চাই।’

এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১৩ এপ্রিল সৌদিপ্রবাসী বাশারের স্ত্রী রাবেয়ার অভিযোগ পেয়ে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে নুর মোহাম্মদকে শনাক্ত করি। পরদিন তাকে আটক করি। তিনি আমাদের কাছে অপরাধের কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন। পরে বিমানবন্দর থানায় করা রাবেয়ার মামলায় নুর মোহাম্মদ কারাগারে রয়েছেন।’

জিয়াউল হক বলেন, ‘আমরা অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের বিশেষ শাখায় বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠিয়েছি। বিশেষ শাখা ইন্টারপোলের বাংলাদেশ ডেস্কে পাঠিয়েছে। তারাও সৌদি আরবের ইন্টারপোলকে চিঠি লিখেছে বলে জানি।’

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো) মহিউল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা এপিবিএন থেকে জানার পর ২৫ এপ্রিল এনসিবি রিয়াদকে চিঠি দিয়েছি। কোনো রেসপন্স পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয় দফায় ২৪ আগস্ট আবার লিখেছি। এখনও কোনো রেসপন্স পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। রিয়াদ এনসিবির সঙ্গে আমাদের ভালো সম্পর্ক রয়েছে।’

পুলিশ ও সংশ্লিষ্টরা জানান, বাশারের মুক্তির বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসকে উদ্যোগী হতে হবে। তাহলেই তিনি মুক্তি পেতে পারেন। এর জন্য সরকারের উদ্যোগ ছাড়া সম্ভব না।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল ইসলাম হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঘটনাটা খুবই দুঃখজনক। এয়ারপোর্টের একজনের জন্য নিরীহ প্রবাসী ফেঁসে গেছেন। এখন রাষ্ট্রেরই দায়িত্ব প্রবাসীকে মুক্ত করা। সৌদি সরকারকে বলতে হবে, এই ব্যক্তি নির্দোষ, তার মুক্তি চাই। আর এই অপরাধের জন্য যে দোষী, তাকে শাস্তি দেয়া হচ্ছে।’

শেয়ার করুন

এবার আবুধাবি-দুবাইয়ে বিমানের ফ্লাইট

এবার আবুধাবি-দুবাইয়ে বিমানের ফ্লাইট

ঢাকা-আবুধাবি রুটে প্রতি রোববার ও বৃহস্পতিবার এবং ঢাকা-দুবাই রুটে প্রতি সোমবার, মঙ্গলবার, বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুই জনপ্রিয় গন্তব্য আবুধাবি ও দুবাইয়ে ফ্লাইট আবার চালু করছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

৩ অক্টোবর থেকে আবুধাবি ও ৪ অক্টোবর থেকে দুবাই রুটে ফ্লাইট চালুর তথ্য জানিয়ে শনিবার একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বিমান কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকা-আবুধাবি রুটে সপ্তাহে দুটি এবং ঢাকা-দুবাই রুটে সপ্তাহে ৫টি করে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। যাত্রীরা এখন থেকেই এই দুই রুটে টিকিট কিনতে পারবেন।

আরও জানানো হয়, ঢাকা-আবুধাবি রুটে প্রতি রোববার ও বৃহস্পতিবার এবং ঢাকা-দুবাই রুটে প্রতি সোমবার, মঙ্গলবার, বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।

এদিকে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের জন্য আরটি-পিসিআর টেস্টের খরচ সরকারই বহন করবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমেদ।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে শনিবার বিকেলে প্রবাসীদের সঙ্গে মত বিনিময় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘বিমানবন্দরে প্রবাসীকর্মীদের কোভিড-১৯ আরটি-পিসিআর টেস্টের খরচ এক হাজার ৬০০ টাকা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে পরিশোধ করা হবে।

‘প্রবাসী কর্মীরা আমাদের দেশের রেমিট্যান্স যোদ্ধা। তারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দেশে রেমিট্যান্স প্রেরণ করে। দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদান অনস্বীকার্য। সরকারও তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে সদা তৎপর রয়েছে।’

করোনাভাইরাসের কারণে যেসব দেশ বাংলাদেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, তাদের মধ্যে কয়েকটি দেশ সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ঘোষণা দেয়। নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হলেও বেশ কিছু শর্ত মানতে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে যাওয়া যাত্রীদের, এর মধ্যে যাত্রার ছয় ঘণ্টার মধ্যে বিমানবন্দরে পিসিআর টেস্ট উল্লেখযোগ্য।

বিমানবন্দরে করোনাভাইরাসের আরটি-পিসিআর টেস্টের সুবিধা না থাকায় সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী (ইউএই) যাত্রীদের নেবে না বলে জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির পতাকাবাহী বিমান পরিবহন সংস্থা এমিরেটস।

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার মোট সাতটি প্রতিষ্ঠানকে বিমানবন্দরে পিসিআর টেস্টের অনুমোদন দেয়। তবে এর মধ্যে অন্তত তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে করোনা পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগ ছিল।

শেয়ার করুন