সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফের এপিএস রিমান্ডে

সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফের এপিএস রিমান্ডে

রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা এইচ এম ফুয়াদ। ছবি: নিউজবাংলা

একটি হত্যা মামলায় তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে পেতে ফুয়াদকে ফরিদপুরের ১ নম্বর আমলি আদালতে বুধবার বিকালে তোলা হয়। বিচারক তাকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন। 

একাধিক মামলার আসামি ফরিদপুর যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা এইচ এম ফুয়াদকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

একটি হত্যা মামলায় তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে পেতে ফুয়াদকে ফরিদপুরের ১ নম্বর আমলি আদালতে বুধবার বিকালে তোলা হয়। বিচারক তাকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন।

কোতয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গফ্ফার হোসেন এই তথ্য নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

ফুয়াদ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের এপিএস ছিলেন।

রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকা থেকে মঙ্গলবার রাতে ফুয়াদকে আটক করে ফরিদপুরে নেয়া হয়। তাকে ২০১৫ সালের ১৫ জুন ফরিদপুর বাসস্ট্যান্ডে ছোটন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বুধবার জেলা পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান জানান, আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার বাড়ি ভাঙচুরের মামলায় সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর এপিএস এইচ এম ফুয়াদকে আটক করা হয়।

এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ফুয়াদ দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। তাকে ধরতে পুলিশ দেশের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে আসছিল। ফুয়াদকে ২০১৫ সালের ১৫ জুন ফরিদপুর বাসস্ট্যান্ডে ছোটন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বুধবারই তাকে আদালতে তোলে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।

পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামান জানান, ফুয়াদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং, হত্যাসহ মোট আটটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে সাতটি মামলায় অভিযোগপত্র দায়ের করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এইচ এম ফুয়াদ দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর যাবৎ হাতুড়িবাহিনী, হেলমেটবাহিনী গঠন করে চাঁদাবাজি, পাসপোর্ট অফিস, বিভিন্ন হাট-বাজার ইজারা নিয়ন্ত্রণ ভূমি দখল করে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।’

ফুয়াদ ছিলেন ফরিদুর জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক।

গত বছরের ১৬ মে রাতে বাড়িতে হামলার ঘটনায় ১৮ মে কোতয়ালি থানায় অজ্ঞাতপরিচয়দের আসামি করে মামলা করেন ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবল চন্দ্র সাহা।

ওই মামলায় সে বছরের ৬ জুন রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে শহর আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেলসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তখন আত্মগোপনে যান ফুয়াদ।

এরপর ২৬ জুন মানি লন্ডারিং আইনে ঢাকার কাফরুল থানায় একটি মামলা করে সিআইডি। তাতেও আসামি করা হয় ফুয়াদকে।

আরও পড়ুন:
সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফের এপিএস আটক

শেয়ার করুন

মন্তব্য

চোর চিনে ফেলায় প্রাণ হারান স্বামী-স্ত্রী

চোর চিনে ফেলায় প্রাণ হারান স্বামী-স্ত্রী

নুরুল আমিন ও তার স্ত্রী কামরুন নাহার। ছবি: সংগৃহীত

পিবিআই পরিদর্শক কবির আহমেদ জানান, চাঁদপুরের শাহরাস্তি নাওড়া এলাকায় গত ১ জুলাই সকাল ১০টায় বাড়ির ছাদে পাওয়া যায় গৃহকর্তা নুরুল আমিনের মরদেহ। তার স্ত্রী কামরুন নাহারের রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায় ঘরের ফ্লোরে।

বাড়ির গেট খোলা পেয়ে ভেতরে ঢুকেছিল পরিচিত চোর মালেক। তাকে চিনে ফেলার কারণে হত্যা করা হয় গৃহকর্তা নুরুল আমিনে ও তার স্ত্রী কামরুন নাহারকে।

চাঁদপুরের শাহরাস্তি নাওড়া এলাকার এ জোড়া খুনের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তার করা হয়েছে খুনে সরাসরি জড়িত আবদুল মালেক ও তার দুই সহযোগীকে।

পিবিআই জানায়, চাঁদপুরের নুরুল আমিন ও কামরুন নাহার দম্পতিকে হত্যার ঘটনায় আবদুল মালেক নামের এক আসামিকে শুক্রবার রাত ৮টায় লাকসাম রেলওয়ে জংশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে মালেক জোড়া খুনের বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন।

মামলাটি তদন্ত করছেন চাঁদপুর জেলার পিবিআই পরিদর্শক কবির আহমেদ। তিনি জানান, গত ১ জুলাই সকাল ১০টায় নিজ বাড়ির ছাদে পাওয়া যায় গৃহকর্তা নুরুল আমিনের মরদেহ। তার স্ত্রী কামরুন নাহারের রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায় ঘরের ফ্লোরে। এ দম্পতির ছেলে জাকারিয়া আহমেদ বাদী হয়ে শাহরাস্তি থানায় মামলা করেন। আসামি করা হয় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের।

শাহরাস্তি থানার পুলিশ প্রায় এক মাস তদন্ত করে হত্যার মোটিভ ও খুনিদের ব্যাপারে ধারণা মেলাতে পারেনি। পরে বাদীর আবেদনে আদালত তদন্তের দায়িত্ব দেয় পিবিআইকে।

চোর চিনে ফেলায় প্রাণ হারান স্বামী-স্ত্রী
চাঁদপুরে দম্পতি খুনের ঘটনায় পিবিআই গ্রেপ্তার করেছে আবদুল মালেক নামের আসামিকে। ছবি: সংগৃহীত

আসামি মালেককে জিজ্ঞাসাবাদের পর পিবিআই জানায়, ঘটনার রাতে নুরুল আমিনের বাড়ির গেট খোলা পেয়ে মালেক চুরি করতে ভেতরে ঢোকেন। সিঁড়ি দিয়ে উঠে ছাদে অবস্থান নেন।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে নুরুল ছাদে উঠলে তাকে পেছন থেকে রড দিয়ে আঘাত করেন। মাথায় আঘাত পেয়ে তিনি পড়ে যান। তখন তার গলায় মোজা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

এরপর মালেক ছাদ থেকে নেমে ঘরের মালামাল লুটের চেষ্টা করেন। তখন একটি ফাইল কেবিনেটের ড্রয়ার টানাটানি করলে জেগে যান কামরুন নাহার। তিনি ঘরের লাইট জ্বালাতেই সামনে দেখতে পান মালেককে। মূলত চিনে ফেলার কারণে লোহার রড দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। কামরুন নাহার রক্তাক্ত অবস্থায় ফ্লোরে পড়ে গেলে মালেক তার কানের দুল ও নুরুল আমিনের মোবাইল ফোন নিয়ে আবার ছাদে যান। হত্যায় ব্যবহার করা লোহার রড ছাদ থেকে উত্তর দিকে ছুঁড়ে ফেলে দেন তিনি। এরপর কাঁঠাল গাছ বেয়ে নিচে নেমে পালিয়ে যান।

পিবিআই জানায়, চুরি করা সেই মোবাইল ফোনটি মালেক বিক্রি করেছিলেন ইলিয়াছ হোসেন নামের একজনের কাছে। তাকে সহযোগিতা করেছিলেন বশির নামের আরেকজন। মালেকের সঙ্গে এ দুজনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জোড়া খুনের ঘটনায় তার সঙ্গে আর কারা ছিল তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

আরও পড়ুন:
সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফের এপিএস আটক

শেয়ার করুন

ইকবাল নারী নির্যাতন, ইকরাম চুরি মামলার আসামি

ইকবাল নারী নির্যাতন, ইকরাম চুরি মামলার আসামি

ওসি আনওয়ারুল আজিম বলেন, ইকবালের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা হয়েছে ২০১৮ সালে, যেটির বিচার চলছে। ইকরামের নামে কুমিল্লায় চুরি, ছিনতাই ও অন্যের জায়গা দখলের অভিযোগে মামলা হয় ২০১৭ সালে। এ ছাড়া ফেনীতে তার বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়।

কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখায় প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন নামে নারী নির্যাতন মামলা রয়েছে। মামলা রয়েছে মণ্ডপে কোরআন রাখার খবর ৯৯৯-এ জানানো ইকরাম হোসেনের নামেও।

পুলিশ বলছে, ইকরাম চুরি ও অন্যের জায়গা দখলের অভিযোগে করা মামলার আসামি। ইকবালের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা হয়েছে ২০১৮ সালে, যেটির বিচার চলছে।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনওয়ারুল আজিম।

তিনি বলেন, ইকরামের নামে কুমিল্লায় চুরি, ছিনতাই ও অন্যর জায়গা দখলের অভিযোগে মামলা হয় ২০১৭ সালে। এ ছাড়া ফেনীতে তার বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়।

দুর্গাপূজায় সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে গত ১৩ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার একটি পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা।

নানুয়ার দিঘির পাড়ের ওই মণ্ডপে চলে ব্যাপক ভাঙচুর, আক্রান্ত হয় নগরীর আরও বেশকিছু পূজামণ্ডপ। পরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে চাঁদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায়।

যেখান থেকে সাম্প্রদায়িক এই সহিংসতার শুরু সেই নানুয়ার দিঘির পাড়ের মণ্ডপে কীভাবে উত্তেজনার শুরু এবং মূল মণ্ডপের বাইরে পূজার থিম হিসেবে রাখা হনুমানের মূর্তির ওপর পবিত্র কোরআন শরিফ কী করে এলো, সে বিষয়ে টানা অনুসন্ধান চালায় নিউজবাংলা।

পূজার আয়োজক, এলাকাবাসী, তদন্তকারী কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনার আগের রাত আড়াইটা পর্যন্ত মন্দিরে পূজাসংশ্লিষ্টদের উপস্থিতি ছিল। এরপর ১৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দুজন নারী ভক্ত মণ্ডপে এসে হনুমানের মূর্তিতে প্রথম কোরআন শরিফটি দেখতে পান।

পূজার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন দিঘির পাড়ের বাসিন্দা তরুণ কান্তি মোদক। স্থানীয়রা তাকে মিথুন নামে চেনেন। মিথুন নিউজবাংলাকে জানান, রাত আড়াইটা পর্যন্ত তিনি মণ্ডপে ছিলেন। তখন পর্যন্ত সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। এরপর তিনি নৈশপ্রহরী শাহিনের কাছে মণ্ডপের নিরাপত্তার দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে বাসায় ফেরেন। সহিংসতার পর নৈশপ্রহরী শাহিনকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিউজবাংলার হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সহিংসতার আগের রাতে শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরি (রা.)-এর মাজারের মসজিদ থেকে একটি কোরআন শরিফ নিয়ে পাশের নানুয়ার দিঘির পাড়ের মণ্ডপের উদ্দেশে রওনা হন ইকবাল।

এর প্রায় এক ঘণ্টা পরের আরেকটি ফুটেজে মণ্ডপে কোরআন রেখে হনুমানের গদা হাতে ইকবালকে ফিরতে দেখা যায়।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের যে অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়া যায়, সেখানে শুরুতে প্রবেশে ব্যর্থ হয়েছিলেন প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন। এরপর তিনি গিয়েছিলেন ওই মণ্ডপ থেকে কিছুটা দূরে দিগম্বরীতলার গুপ্ত জগন্নাথ মন্দিরে।

মন্দিরটির গেটের তালা লাঠি দিয়ে ভাঙতে ব্যর্থ হন ইকবাল। এরপর আবার ফিরে আসেন নানুয়ার দিঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে। এ সময় পূজাসংশ্লিষ্টদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে তিনি কোরআন শরিফটি হনুমানের ওপর রাখেন। মসজিদ থেকে বের হওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর কোরআন রেখে হনুমানের গদা হাতে ফিরে আসেন ইকবাল।

৩০ বছর বয়সী ইকবাল হোসেন কুমিল্লা নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের দ্বিতীয় মুরাদপুর-লস্করপুকুর এলাকার নূর আহম্মদ আলমের ছেলে। নূর আলম পেশায় মাছ ব্যবসায়ী। ইকবালকে গত বৃহস্পতিবার কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ধর্ম অবমাননার মামলায় ইকবালসহ চারজনকে শনিবার সাত দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। অন্য আসামিরা হলেন, মণ্ডপে কোরআন পাওয়ার তথ্য ৯৯৯-এ কল করে জানানো ইকরাম হোসেন এবং নগরীর শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরি (রা.)-এর মাজারের সহকারী খাদেম হুমায়ুন আহমেদ ও ফয়সাল আহমেদ।

আরও পড়ুন:
সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফের এপিএস আটক

শেয়ার করুন

ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ১৬

ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ১৬

ফরিদপুরের সালথায় আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহতের ঘটনায় স্থানীয়দের ঘরবাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। ছবি: নিউজবাংলা

ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুর বর মোল্যা ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থী রফিক মোল্যার সমর্থকদের মধ্যে শনিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক দফা সংঘর্ষে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে মামলা করেন সালথা থানার পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হান্নান। ওসি জানান, দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহতের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ফরিদপুরের সালথায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সালথা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শনিবার রাত থেকে রোববার এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুর বর মোল্যা ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থী রফিক মোল্যার সমর্থকদের মধ্যে শনিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক দফা সংঘর্ষে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে মামলা করেন সালথা থানার পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হান্নান।

শনিবারের সংঘর্ষের জেরে রোববার সকালেও বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়। হামলা ও গ্রেপ্তারের ভয়ে এলাকার অনেক পুরুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশিকুজ্জামান নিউজবাংলাকে জানান, পুলিশের করা মামলায় ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহতের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। এলাকায় এখনও উত্তেজনা চলায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।

ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ১৬

উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া এলাকার আরিফুল ইসলাম শনিবার নিউজবাংলাকে জানান, আসন্ন যদুনন্দী ইউপি নির্বাচনে গত ১৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আব্দুর বর মোল্যা মনোনয়নপত্র জমা দেন। আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন রফিক মোল্যা ও নুরুজ্জামান টুকু ঠাকুর।

বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও রফিকের সঙ্গে বিরোধের জেরে টুকু আব্দুর বর মোল্যা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর মিয়ার সমর্থক হিসেবে কাজ করেন।

নির্বাচন নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে শনিবার সকাল থেকে খারদিয়া এলাকায় রব ও রফিকের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জড়ো হতে থাকেন। বেলা ২টার দিকে শুরু হয় সংঘর্ষ। কয়েক দফা সংঘর্ষে আহত প্রায় ৩০ জনকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৪টার দিকে রফিক মোল্যার সমর্থক মারিজ শিকদারের মৃত্যু হয়।

তার মৃত্যুর সংবাদে রফিক মোল্যার অনুসারীরা আব্দুর রব মোল্যার সমর্থকদের প্রায় ৫০টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালান।

স্থানীয় জালাল শেখ বলেন, ‘শুধু বাড়িঘর ভাঙচুরই নয়, গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন মাল লুটপাট করা হয়েছে। এলাকার নারী ও শিশুরা আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছে। পুরুষরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন।’

মারিজের বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, রোববার বিকেলে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

তার বোন শিল্পী আকতার জানান, মারিজ অন্যের জমিতে কাজ করে সংসার চালাতেন। তার দুই বছরের একটি মেয়ে আছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। তারা এই হত্যার সঠিক বিচার চান।

সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনার পর থেকে আব্দুর রব মোল্যা, রফিক মোল্যা, নুরুজ্জামান টুকু ঠাকুর ও আলমগীর মিয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা কেউ ফোন ধরেননি।

আরও পড়ুন:
সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফের এপিএস আটক

শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট: কারাগারে সেই শিক্ষক

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট: কারাগারে সেই শিক্ষক

ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট দেয়ায় গ্রেপ্তার কলেজ শিক্ষক। ছবি: নিউজবাংলা

ইউএনও রাবেয়া পারভেজ নিউজবাংলাকে জানান, ‘২৩ অক্টোবর সন্ধ্যার দিকে একজন সাংবাদিক আমার ব্যক্তিগত মেসেঞ্জারে ফেসবুক পোস্টের একটি স্ক্রিনশট পাঠান। তাতে দেখি রুহুল আমিন নিজ ফেসবুক আইডি থেকে গত ১৪ অক্টোবর একটি পোস্ট শেয়ার করেন। সেখানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দেয়া। বিষয়টি ধর্মীয় স্পর্শকাতরও বটে।’

ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর ছবি ও পোস্ট শেয়ার করায় গ্রেপ্তার কলেজ প্রভাষক মোহাম্মদ রুহুল আমিনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

কিশোরগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক এ এস এম আনিসুল ইসলাম রোববার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে এ আদেশ দেন।

এর আগে রুহুল আমিন আদালতে জামিন আবেদন করেন। তবে বিচারক শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

শিক্ষক রুহুল আমিন হোসেনপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রভাষক। তার বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার কড়াইকান্দি গ্রামে। তিনি কিশোরগঞ্জ শহরের হয়বতনগর ফিসারি সড়কে একটি ভাড়া বাড়িতে থাকেন।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন কিশোরগঞ্জ আদালতের পুলিশ পরিদর্শক হাম্মাদ।

এর আগে শহরের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম চত্বর থেকে শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাবেয়া পারভেজ নিউজবাংলাকে জানান, ‘২৩ অক্টোবর সন্ধ্যার দিকে একজন সাংবাদিক আমার ব্যক্তিগত মেসেঞ্জারে ফেসবুক পোস্টের একটি স্ক্রিনশট পাঠান। তাতে দেখি রুহুল আমিন নিজ ফেসবুক আইডি থেকে গত ১৪ অক্টোবর একটি পোস্ট শেয়ার করেন। সেখানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দেয়া। বিষয়টি ধর্মীয় স্পর্শকাতরও বটে।

‘পরে আমি কলেজের প্রিন্সিপালের সঙ্গে ফোনে কথা বলি। তারপর আমি নিজেই হোসেনপুর থানা পুলিশকে বিষয়টি জানাই। পরে শনিবার রাতেই তথ্য ও প্রযুক্তি আইনে মামলা নেয় পুলিশ।’

ওসি মোস্তাফিজুর জানান, রুহুল আমিন নিজের প্রোফাইলে পোস্ট শেয়ারের পর সেখান থেকেই এটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়ে শনিবার রাতেই পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা করে। মামলার পরপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুন:
সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফের এপিএস আটক

শেয়ার করুন

কাদেরের স্বাক্ষর ‘জাল’: কারাগারে সেই ভাইস চেয়ারম্যান

কাদেরের স্বাক্ষর ‘জাল’: কারাগারে সেই ভাইস চেয়ারম্যান

স্বাক্ষর জালের মামলায় দিনাজপুর সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ফাইল ছবি

সোহাগের বিরুদ্ধে গত বছরের ১০ অক্টোবর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল ইমাম চৌধুরী। এ মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিনে ছিলেন সোহাগ।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের স্বাক্ষর জালের মামলায় দিনাজপুর সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

দিনাজপুরের জ্যেষ্ঠ মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক ইসমাইল হোসেন রোববার দুপুরে এ আদেশ দেন।

কারাগারে পাঠানো ব্যক্তি হলেন দিনাজপুর সদরের ভাইস চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম সোহাগ।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুর আদালত পুলিশের পরিদর্শক ইসমাইল হোসেন।

তিনি বলেন, ‘আজ (রোববার) দুপুরে ভাইস চেয়ারম্যান সোহাগ আদালতে জামিনের আবেদন করেন। বিচারক তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিকেলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

সোহাগের বিরুদ্ধে গত বছরের ১০ অক্টোবর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল ইমাম চৌধুরী। এ মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিনে ছিলেন সোহাগ।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাবেক কর্মচারী ও ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম সোহাগ ২০২০ সালের ২০ অক্টোবর দিনাজপুর সদর উপজেলা নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে ৫২ হাজার ৪২২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার রায় পান ১৫ হাজার ১৬৯ ভোট।

গত বছর নিজেকে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী দাবি করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের স্বাক্ষর করা একটি অনুমতিপত্র নিয়ে ৭ অক্টোবর দিনাজপুর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন সোহাগ। বিষয়টি নজরে আসলে ১০ অক্টোবর সকালে কোতোয়ালি থানায় সোহাগের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল ইমাম চৌধুরী। পরে রাতে মামলা করা হয়।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, কাদেরের স্বাক্ষর জাল করে নিজেকে দিনাজপুর জেলা কমিটির শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক দাবি করেন সোহাগ। ৭ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের সামনে ওবায়দুল কাদের স্বাক্ষরিত সিলযুক্ত কাগজ প্রদর্শন করেন তিনি।

মামলার বাদী আজিজুল ইমাম জানান, স্বাক্ষরের বিষয় নিশ্চিত হতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দেখা করেন। কাদের তাকে বলেন, ‘আমি জেলা আওয়ামী লীগের সুপারিশ বা মতামত ছাড়া কাউকে অন্তর্ভুক্ত করার গঠনতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ড করতে পারি না এবং এ ধরনের স্বাক্ষরিত কাগজ প্রদান করিনি। যদি সোহাগ এ ধরনের কাগজ প্রদর্শন করে তবে ওই কাগজ সম্পূর্ণ জাল বলে গণ্য হবে।’

ফিজারের বরাত দিয়ে আজিজুল আরও বলেন, রবিউল ইসলাম সোহাগ নামে কাউকে চেনেন না বলেও জানান কাদের। এ ধরনের ভুয়া সিল-স্বাক্ষরযুক্ত কাগজ প্রদর্শন হয়ে থাকলে থানায় মামলার নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

আরও পড়ুন:
সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফের এপিএস আটক

শেয়ার করুন

সিসিটিভি ফুটেজ মিললেও উদ্ধার হয়নি শতবর্ষী ডেগ

সিসিটিভি ফুটেজ মিললেও উদ্ধার হয়নি শতবর্ষী ডেগ

মাদারীপুরের শিবচরের মৌলভী বাড়ির শতবর্ষী ডেগ। ছবি: নিউজবাংলা

হাবিব মুন্সী বলেন, ‘স্থানীয় একটি বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশকে দেয়া হয়েছে। সেখানে ডেগটি নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে। তবে কাউকে আটক করা যায়নি। আমার পূর্বপুরুষের আমানত ডেগটি উদ্ধারও করা যায়নি। পুলিশ একটু কঠোরভাবে চেষ্টা করলে এখনও ডেগটি উদ্ধার করা যায়।’

তিনদিন পার হলেও উদ্ধার করা যায়নি মাদারীপুরের শিবচরের পুকুরপাড় গ্রামের শতবর্ষী সেই পিতলের ডেগ। খবির উদ্দিন মৌলভী বাড়ির এই প্রাচীন নিদর্শনটি চুরির ঘটনায় মামলা হলেও কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

বৃহস্পতিবার ভোর ৩টার দিকে স্থানীয় এক বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরার অস্পষ্ট ফুটেজে করে দেখা যায়, ব্যাটারিচালিত একটি ভ্যানে ডেগটি কাপড় দিয়ে ঢেকে নিয়ে যাচ্ছে তিন-চারজন লোক। ধারণা করা হচ্ছে, ভ্যানে করেই ডেগটি চুরি করে নিয়ে যায় তারা।

ইতোমধ্যেই সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার ফজরের নামাজের সময় মৌলভী বাড়ির সদস্য হাবিব মুন্সী মসজিদে এসে দেখেন ডেগটি নেই। ডেগ যেখানে রাখা ছিল ওই ঘরের একটি খুঁটি ভেঙে কে বা কারা চুরি করে নিয়ে গেছে।

এ ঘটনায় ওইদিন সন্ধ্যায় অজ্ঞাতপরিচয় পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করে শিবচর থানায় মামলা করেন হাবিব মুন্সী। তবে এখনও কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

এ বিষয়ে হাবিব মুন্সী বলেন, ‘স্থানীয় একটি বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশকে দেয়া হয়েছে। সেখানে ডেগটি নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে। তবে কাউকে আটক করা যায়নি। আমার পূর্বপুরুষের আমানত ডেগটি উদ্ধারও করা যায়নি। পুলিশ একটু কঠোরভাবে চেষ্টা করলে এখনও ডেগটি উদ্ধার করা যায়।’

শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিরাজ হোসাইন বলেন, ‘সিসিটিভির ফুটেজ দেখে চোর শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তবে রাতে চুরি হওয়ার কারণে শনাক্ত করতে কষ্ট হচ্ছে। তবুও চেষ্টা করা হচ্ছে ডেগটি উদ্ধারের।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে চেষ্টার কোনো ত্রুটি করা হচ্ছে না। স্থানীয় লোকজদেরও সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে।’

মরহুম মাওলানা খবির উদ্দিন আহমেদ আল কাদেরী প্রায় একশ বছর আগে বাগদাদ থেকে এই ডেগটি এনেছিলেন। তার মাজারের পাশে একটি খোলা ঘরে দর্শনার্থীদের জন্য এই ডেগটি রাখা ছিল। বিশাল এই ডেগটি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে অনেক লোকজন আসত।

স্থানীয়রা জানান, ডেগটিতে খোদাই করে লেখা ছিল ‘ডেগ ওরুচে পিরানে পীর সৈয়দ আব্দুল কাদের জিলানি- গোলাম ফকির-শ্রী মৌলবি খবির উদ্দিন কাদেরি, সাং- উৎরাইল, সন- ১৩১৯’। বাকি লেখাটুকু অস্পষ্ট ছিল। ওই লেখা দেখে ধারণা করা হয়, ডেগটি বাগদাদ থেকে আনা।

বিশালাকৃতির ডেগটির উচ্চতা ৩ ফুট ৬ ইঞ্চি। এর আয়তন ১৪৮ ইঞ্চি। ডেগের উপর দিকে কাঁধ বরাবর চারকোণে চারটি রিং রয়েছে। যার ওজন প্রায় ৪ কেজি করে। কমপক্ষে ৯-১০ মণ খিচুরি এই ডেগের মধ্যে রাখা যেত।

আরও পড়ুন:
সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফের এপিএস আটক

শেয়ার করুন

পীরগঞ্জে সহিংসতা: সেই সৈকতের নামে মামলা

পীরগঞ্জে সহিংসতা: সেই সৈকতের নামে মামলা

পীরগঞ্জে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় অভিযুক্ত সৈকত মণ্ডল রংপুর কারমাইকেল কলেজের ছাত্রলীগ নেতা। সহিংসতার পর তাকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা

এএসপি কামরুজ্জামান বলেন, সৈকত ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছে র‍্যাব। পীরগঞ্জের ঘটনায় করা চার মামলায় এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৬৪ জনকে।

রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দুপল্লিতে সহিংসতার ঘটনায় ‘প্রধান অভিযুক্ত’ সদ্য সাবেক ছাত্রলীগ নেতাসহ দুইজনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছে র‍্যাব।

পীরগঞ্জ থানায় রোববার সকালে এই মামলা করেন র‍্যাব-১৩-এর ডিএডি আব্দুল আজিজ।

আসামিরা হলেন সৈকত মণ্ডল ও তার সহযোগী বটেরহাট মসজিদের ইমাম রবিউল ইসলাম।

মামলার তদন্তভার দেয়া হয়েছে থানার উপপরিদর্শক সুদীপ্ত শাহীনকে।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন এএসপি কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, সৈকত ও রবিউলকে বেলা আড়াইটার দিকে পীরগঞ্জ আমলি আদালতের বিচারক ফজলে এলাহী খানের আদালতে তোলা হবে।

সৈকত মণ্ডল কারমাইকেল কলেজের ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন। ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট দেয়ায় সম্প্রতি তাকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেয়ার কথা জানায় ছাত্রলীগ।

সৈকত ও তার সহযোগীর বিষয়ে শনিবার র‍্যাব জানায়, ‘গ্রেপ্তারকৃতরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অরাজকতা তৈরি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের লক্ষ্যে হামলা-অগ্নিসংযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার এবং মাইকিং করে হামলাকারীদের জড়ো করেন বলে জানিয়েছেন। গ্রেপ্তার সৈকত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক, বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যাচারের মাধ্যমে স্থানীয় জনসাধারণকে উত্তেজিত করে তোলেন। এ ছাড়া তিনি ওই হামলা ও অগ্নিসংযোগে অংশগ্রহণে জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করেন।’

হিন্দুপল্লিতে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় রিমান্ডে থাকা ৩৭ আসামিকেও দুপুরের পর আদালতে তোলা হবে। নতুন করে তাদের রিমান্ড নেয়া হবে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পীরগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, পীরগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় তিনটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা এবং একটি অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় এখন পর্যন্ত ৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে গত রোববার রাতে পীরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তত ২৩টি বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৬০টি পরিবার।

আরও পড়ুন:
সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফের এপিএস আটক

শেয়ার করুন