মিউচ্যুয়াল ফান্ডে আগ্রহ বাড়াতে বিএসইসিতে ১৬ প্রস্তাব

মিউচ্যুয়াল ফান্ডে আগ্রহ বাড়াতে বিএসইসিতে ১৬ প্রস্তাব

‘বর্তমানে পুঁজিবাজারে মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর দুরবস্থা যাচ্ছে। ভালো লভ্যাংশ দেয়ার পরও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে না। আমাদের মনে হয়েছে, এ-সংক্রান্ত যে সমস্যাগুলো আছে, সেগুলো বিএসইসিকে জানানো উচিত এবং কী কী উদ্যোগ নেয়া হলে মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হবেন, সে বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা চিঠি দিয়েছি।’

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কাছে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের উন্নয়নে ১৬টি প্রস্তাব দিয়েছে।

এর মধ্যে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মোট আয়ের ওপর ৭০ শতাংশ লভ্যাংশ বিতরণ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। ফান্ডগুলো যাতে পুঁজিবাজারের বাইরে বিনিয়োগ করতে না পারে, সে বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

বুধবার বিনিয়োগকারীদের এই সংগঠনের সভাপতি এ কে এম মিজান উর রশিদ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক কাজী আব্দুর রাজ্জাক স্বাক্ষরিত চিঠি বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলামের কাছে দেয়া হয়েছে।

চিঠি সম্পর্কে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ ধরনের একটি চিঠি এসেছে শুনেছি। তবে আমি তা এখনও দেখিনি।’

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বর্তমানে পুঁজিবাজারে মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর দুরবস্থা যাচ্ছে। ভালো লভ্যাংশ দেয়ার পরও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে না।

‘আমাদের মনে হয়েছে, এ-সংক্রান্ত যে সমস্যাগুলো আছে, সেগুলো বিএসইসিকে জানানো উচিত এবং কী কী উদ্যোগ নেয়া হলে মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হবেন, সে বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা চিঠি দিয়েছি।’

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমরা আশা করি, বিএসইসি আমাদের প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করলে এ খাতের প্রতি বিনিয়োগকারীরা আবারও আগ্রহী হবেন।’

সংগঠনের সভাপতি মিজান উর রশিদ চৌধুরীকে নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনার সৃষ্টি হয়। তার পর্যাপ্ত বিনিয়োগ নেই- এই বিষয়টি তুলে আনলে তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজারে বড় বিনিয়োগ থাকলেই বিনিয়োগকারী হবে তা নয়, বরং বিনিয়োগ থাকলেই হবে।’

পুঁজিবাজারে ২০১০ সালে যখন মহাধসের সৃষ্টি হয়, তখন থেকে এই সংগঠনটি মাঠপর্যায়ে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে মিছিল-আন্দোলন করে আসছে। এখনও যখন পুঁজিবাজারে ক্রমাগত পতন দেখা যায়, তখন মতিঝিলের ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সামনে ব্যানার নিয়ে দাঁড়াতে দেখা যায়।

যদিও এই সংগঠনটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন কোম্পানির হয়ে স্বজনপ্রীতি বা বার্ষিক সাধারণ সভায় উপঢৌকন নেয়ার অভিযোগ আছে।

যেসব প্রস্তাব

বছর শেষে মিউচ্যুয়াল ফান্ড থেকে এ খাতের বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশ আশা করে থাকেন। এ জন্য মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মোট ইপিএসের ওপর ৭০ শতাংশ লভ্যাংশ নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক এক নির্দেশনায় ২০২০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি প্রত্যেক ব্যাংকের জন্য ২০০ কোটি টাকা প্রণোদনা তহবিল গঠন করে। তহবিল নীতিমালায় বলা আছে, যেসব মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ড একাদিক্রমে বিগত ৩ বছর ন্যূনতম ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে, কেবল সেসব ফান্ডে তহবিলের টাকা বিনিয়োগ করতে পারবে। এই নির্দেশনার যথাযথ বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখতে হবে।

প্রত্যেক সম্পদ ব্যবস্থাপককে বছরে ন্যূনতম একটি মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ড পুঁজিবাজারে নিয়ে আসা, খাতভিত্তিক এবং সূচকভিত্তিক মিউচ্যুয়াল ফান্ডের প্রচলন করা, পুঁজিবাজারে যাতে বেশি হারে মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ড তালিকাভুক্ত হয়, সে জন্য ফান্ডের আকার ৫০ কোটি টাকার বদলে ২০ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সম্পদ ১২ টাকার, দাম ৬ টাকা
বিনিয়োগের বিকল্প বন্ড, মিউচ্যুয়াল ফান্ড, তবে…
লভ্যাংশ যত ভালো, দরপতন তত বেশি!
লভ্যাংশ ১.৭৫ টাকা, দাম কমল ২ টাকা ৩০ পয়সা
আনরিয়েলাইজড গেইন: দায় ডিএসইকে দিল গ্রামীণ টু

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শেয়ারদরে লাফের পর হতাশ করল আনলিমা ইয়ার্ন

শেয়ারদরে লাফের পর হতাশ করল আনলিমা ইয়ার্ন

কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় ও লভ্যাংশ কখনও আহামরি কিছু ছিল না। গত ৬ বছরে সর্বোচ্চ লভ্যাংশ এসেছে ১০ শতাংশ বা শেয়ার প্রতি এক টাকা। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত টানা তিন বছর এই হারে লভ্যাংশ দিলেও পরের দুই বছর তা কমে যায়। এর মধ্যে ২০১৯ সালে শেয়ার প্রতি ৫০ পয়সা এবং ২০২০ সালে ২০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়া হয়। এবারও একই পরিমাণ লভ্যাংশ ঘোষণা হলো।

গত ছয় মাসে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি আনলিমা ইয়ার্নের শেয়ারদরে উত্থানের সঙ্গে অর্থবছর শেষে আয় ও লভ্যাংশে মিল পাওয়া গেল না।

গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি ৫ পয়সা আয় করে ২০ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে কোম্পানিটি

এবারের আয় তৃতীয় প্রান্তিক শেষে আরও বেশি ছিল। তবে শেষ প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি ৯ টাকা লোকসান দেয়ার পাশাপাশি কোম্পানির শেয়ারদর বিবেচনায় নিলে তা বিনিয়োগকারীদেরকে হতাশ করবে।

গত ১১ এপ্রিল কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ৩১ টাকা। এরপর থেকে টানা উত্থান শুরু হয়। ২০ আগস্ট দাম দাঁড়ায় ৫২ টাকা ৯০ পয়সা।

সে সময় পুঁজিবাজারে স্বল্প মূলধনি কোম্পানির শেয়ারদর টানা বাড়ছিল। কেবল শেয়ার সংখ্যা কম, এ কারণে যাচাই বাছাই ছাড়াই বহু বিনিয়োগকারী হুমড়ি খেয়ে পড়েন নানা কোম্পানিতে।

শেয়ারদরে লাফের পর হতাশ করল আনলিমা ইয়ার্ন

১৭ কোটি ৬৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা পরিশোধিত মূলধনের আনলিমার শেয়ার সংখ্যা কেবল এক কোটি ৭৮ লাখ ৬৭ হাজার ৮০০টি। এই শেয়ারের প্রায় অর্ধেক উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে রয়েছে। ফলে বাজারে ফ্রি ফ্লোট শেয়ারের সংখ্যা ৯০ লাখের মতো। এই বিষয়টিকে ব্যবহার করেই সে সময় গুজব ছড়িয়ে দেয়া হয়, যে শেয়ারদর ৮০ টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

কিন্তু আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে টানা পড়তে পড়তে শেয়ারদর এখন নেমেছে ৩৮ টাকা ৭০ পয়সায়।

কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় ও লভ্যাংশ কখনও আহামরি কিছু ছিল না। গত ৬ বছরে সর্বোচ্চ লভ্যাংশ এসেছে ১০ শতাংশ বা শেয়ার প্রতি এক টাকা।

২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত টানা তিন বছর এই হারে লভ্যাংশ দিলেও পরের দুই বছর তা কমে যায়। এর মধ্যে ২০১৯ সালে শেয়ার প্রতি ৫০ পয়সা এবং ২০২০ সালে ২০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়া হয়।

২০১৬ সালে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি ১ টাকা ১২ পয়সা, ২০১৭ সালে ৫৬ পয়সা, পরের বছর ৫৫ পয়সা, ২০১৯ সালে ৫২ পয়সা এবং ২০২০ সালে আয় করে ১৪ পয়সা।

যারা এই লভ্যাংশ যারা নিতে চান, তাদেরকে আগামী ১৫ নভেম্বর শেয়ার ধরে রাখতে হবে। অর্থাৎ সেদিন হবে রেকর্ড ডেট। লভ্যাংশ চূড়ান্ত করতে বার্ষিক সাধারণ সভা ডাকা হয়েছে ২০ ডিসেম্বর।

কোম্পানিটির আয়ের পাশাপাশি সম্পদমূল্যও কমেছে। গত ৩০ জুন শেয়ার প্রতি সম্পদ দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ৬৩ যা গত বছর জুন শেষে ছিল ১০ টাকা ৬৯ পয়সা।

আরও পড়ুন:
সম্পদ ১২ টাকার, দাম ৬ টাকা
বিনিয়োগের বিকল্প বন্ড, মিউচ্যুয়াল ফান্ড, তবে…
লভ্যাংশ যত ভালো, দরপতন তত বেশি!
লভ্যাংশ ১.৭৫ টাকা, দাম কমল ২ টাকা ৩০ পয়সা
আনরিয়েলাইজড গেইন: দায় ডিএসইকে দিল গ্রামীণ টু

শেয়ার করুন

ব্যাপক আয়ের পর সর্বোচ্চ লভ্যাংশ বিএসআরএম লিমিটেডেরও

ব্যাপক আয়ের পর সর্বোচ্চ লভ্যাংশ বিএসআরএম লিমিটেডেরও

এবার কোম্পানিটি যে ব্যাপক আয় করতে যাচ্ছে, সেটি প্রতি প্রান্তিক শেষে প্রকাশিত হিসাবেই স্পষ্ট ছিল। ২০২০ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি ১ টাকা ৪২ পয়সা, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত শেয়ার প্রতি ৩ টাকা ৫২ পয়সা, জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ৬ টাকা ২৬ পয়সা আয় করে তিন প্রান্তিকে আয় ছিল ১০ টাকা ৯৩ পয়সা। শেষ প্রান্তিকে আয় হয়েছে আরও ৮ টাকা ৩ পয়সা।

বিএসআরএম স্টিলের মতোই একই গ্রুপের আরেক কোম্পানি বিএসআরএম লিমিটেডও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর সর্বোচ্চ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে ব্যাপক আয় করার পর।

গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরে শেয়ার প্রতি ১৮ টাকা ৯৬ পয়সা আয় করে ৫ টাকা নগদ এবং ১০ শতাংশ বোনাস, অর্থাৎ প্রতি ১০টি শেয়ারে একটি শেয়ার বিতরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটি।

অর্থাৎ এবার লভ্যাংশ দেয়া হচ্ছে ৬০ শতাংশ। এর মধ্যে ১০ শতাংশ, অর্থাৎ শেয়ার প্রতি এক টাকা লভ্যাংশ দেয়া হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন। আর চূড়ান্ত লভ্যাংশ হিসেবে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বাকিটা।

শনিবার কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভা শেষে এই সিদ্ধান্ত হয়।

২০১৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর কখনও কোম্পানিটি এত বেশি আয় করতে পারেনি। এবারের মতো এত লভ্যাংশও দেয়া হয়নি কখনও।

তালিকাভুক্ত হওয়ার পর এবারের আগ পর্যন্ত সর্বোচ্চ লভ্যাংশ এসেছে ২০১৯ সালে ২৫ শতাংশ নগদ, অর্থাৎ শেয়ার প্রতি আড়াই টাকা।

ব্যাপক আয়ের পর সর্বোচ্চ লভ্যাংশ বিএসআরএম লিমিটেডেরও

এবার কোম্পানিটি যে ব্যাপক আয় করতে যাচ্ছে, সেটি প্রতি প্রান্তিক শেষে প্রকাশিত হিসাবেই স্পষ্ট ছিল। ২০২০ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি ১ টাকা ৪২ পয়সা, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত শেয়ার প্রতি ৩ টাকা ৫২ পয়সা, জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ৬ টাকা ২৬ পয়সা আয় করে তিন প্রান্তিকে আয় ছিল ১০ টাকা ৯৩ পয়সা।

তালিকাভুক্ত হওয়ার পর কোনো বছরেই এবারের তিন প্রান্তিকের সমান আয় করতে পারেনি বিএসআরএম লিমিটেড। এ কারণে বিনিয়োগকারীরা চতুর্থ প্রান্তিকের দিকে তাকিয়ে ছিল। এই প্রান্তিকে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি আয় করল ৮ টাকা ৩ পয়সা।

তালিকাভুক্ত হওয়ার পর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের বদলে জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত অর্থবছর নির্ধারণে ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত যে ১৮ মাসের হিসাব করা হয়েছিল, তখনও এত বেশি আয় হয়নি।

ওই দেড় বছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় ছিল ৬ টাকা ৮৯ পয়সা। পরের বছর আয় বেড়ে হয় ১২ টাকা ৯৫ পয়সা।

তবে এরপর দুই বছর টানা শেয়ার প্রতি আয় কমে যায়। ২০১৯ সালে আয় কমে দাঁড়ায় ৭ টাকা ৮৮ পয়সা, আর ২০২০ সালে তা আরও কমে দাঁড়ায় ৩ টাকা ৯০ পয়সা।

আয়ে উল্লম্ফনের পাশাপাশি কোম্পানির শেয়ারদরও গত এক বছর ধরে টানা বেড়েছে। এই সময়ে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারের দর সর্বনিম্ন ৫৩ টাকা ৫০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১২৪ টাকা ৪০ পয়সায় উঠে।

গত বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির শেয়ারদর দাঁড়িয়েছে ১১৩ টাকা ১০ পয়সা।

২০১৭ ও ২০১৮ সালে লভ্যাংশ এসেছে শেয়ার প্রতি ১ টাকা ও ১০ শতাংশ করে বোনাস। এর পরের দুই বছর কেবল নগদ লভ্যাংশ দেয়া হয়।

এর মধ্যে ২০১৯ সালে শেয়ার প্রতি আড়াই টাকা এবং গত বছর দেয়া হয় দেড় টাকা করে।

কোম্পানিটির আয়ের পাশাপাশি সম্পদমূল্যও বেড়েছে। গত ৩০ জুন শেয়ার প্রতি এই সম্পদ দাঁড়িয়েছে ১২৭ টাকা ৫৬ পয়সা টাকা যা গত বছর জুন শেষে ছিল ৯৯ টাকা ৮৯ পয়সা।

যারা এবারের লভ্যাংশ যারা নিতে চান, তাদেরকে আগামী ১৮ নভেম্বর শেয়ার ধরে রাখতে হবে। অর্থাৎ সেদিন হবে রেকর্ড ডেট। লভ্যাংশ চূড়ান্ত করতে বার্ষিক সাধারণ সভা ডাকা হয়েছে ২৩ ডিসেম্বর।

আরও পড়ুন:
সম্পদ ১২ টাকার, দাম ৬ টাকা
বিনিয়োগের বিকল্প বন্ড, মিউচ্যুয়াল ফান্ড, তবে…
লভ্যাংশ যত ভালো, দরপতন তত বেশি!
লভ্যাংশ ১.৭৫ টাকা, দাম কমল ২ টাকা ৩০ পয়সা
আনরিয়েলাইজড গেইন: দায় ডিএসইকে দিল গ্রামীণ টু

শেয়ার করুন

তালিকাভুক্তির পর বিএসআরএম স্টিলের সর্বোচ্চ লভ্যাংশ

তালিকাভুক্তির পর বিএসআরএম স্টিলের সর্বোচ্চ লভ্যাংশ

গত বছর শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ৯৭ পয়সা আয় করে দেড় টাকা লভ্যাংশ দিয়েছিল। সে বছর আয়ে ভাটা পড়লেও চলতি বছর করোনার মধ্যেই ঘুরে দাঁড়ায়। কেবল গত বছর নয়, শেষ পর্যন্ত গত পাঁচ বছরের মধ্যেই সর্বোচ্চ আয় করতে পারে কোম্পানিটি। শেষ পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি আয় হয় ৮ টাকা ১০ পয়সা। এর প্রায় অর্ধেক লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ করা হবে।

এক যুগ আগে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পর থেকে প্রকৌশল খাতের কোম্পানি বিএসআরএম স্টিল মিলস লিমিটেড এবার সর্বোচ্চ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৪০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ শতাংশ দেয়া হয়েছিল অন্তর্বর্তীকালীন লভ্যাংশ, আর ৩০ শতাংশ দেয়া হলো চূড়ান্ত লভ্যাংশ।

শনিবার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ এই লভ্যাংশ ঘোষণা করে। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা এবার শেয়ারপ্রতি ৪ টাকা লভ্যাংশ পেতে যাচ্ছেন। এর আগে কোম্পানিটি সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল।

গত বছর শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ৯৭ পয়সা আয় করে দেড় টাকা লভ্যাংশ দিয়েছিল। সে বছর আয়ে ভাটা পড়লেও চলতি বছর করোনার মধ্যেই ঘুরে দাঁড়ায়। কেবল গত বছর নয়, শেষ পর্যন্ত গত পাঁচ বছরের মধ্যেই সর্বোচ্চ আয় করতে পারে কোম্পানিটি।

২০২০ সালের জুলাই থেকে গত জুন পর্যন্ত কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ৮ টাকা ১০ পয়সা আয় করেছে।

এর আগে অর্থবছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের বদলে জুলাই থেকে জুন নির্ধারণে ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত দেড় বছরে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ৮ টাকা ৬৬ পয়সা আয় করে।

ওই দেড় বছরে বিনিয়োগকারীদের সাড়ে ৩ টাকা করে লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি।

২০১৮ সালে এক বছরের হিসাবে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি আয় হয় ৫ টাকা ২৭ পয়সা। ওই বছরে শেয়ারে এক টাকার পাশাপাশি ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার দেয়া হয় লভ্যাংশ হিসেবে।

২০১৯ সালে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ৪ টাকা ৬০ পয়সা আয় করে আড়াই টাকা লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ করে। পরের বছর কোম্পানিটির আয় কমে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হওয়ার পর লভ্যাংশও কমিয়ে দেয়া হয়।

তবে গত জুলাই থেকে করোনার মধ্যেই কোম্পানিটি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি ৯৫ পয়সা এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আরও ২ টাকা ২৫ পয়সা আয় করার পরই বোঝা যায় বছরটা ভালো যাবে কোম্পানিটির।

জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত কোম্পানিটি ৩ টাকা ৬৮ পয়সা আয় করে চমক দেখায়। আর তৃতীয় প্রান্তিক মিলিয়ে তখন আয় দাঁড়ায় ৬ টাকা ৮৮ পয়সা। শেষ প্রান্তিকে আয় হয়েছে ১ টাকা ২২ পয়সা।

কোম্পানিটির আয়ের পাশাপাশি সম্পদমূল্যও বেড়েছে। গত ৩০ জুন এই সম্পদ দাঁড়িয়েছে ৬২ টাকা ৩৮ পয়সা, যা গত বছর জুন শেষে ছিল ৫৬ টাকা ৮৪ পয়সা।

আয় ক্রমে বাড়তে থাকায় কোম্পানির শেয়ার দরেও উল্লম্ফন হয়েছে। গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম সর্বনিম্ন ছিল ৩৭ টাকা। সর্বোচ্চ দাম ছিল ৮২ টাকা ৫০ পয়সা। তবে সাম্প্রতিক দর সংশোধনে দাম কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ৬৯ টাকা ৯০ পয়সা।

যারা এই লভ্যাংশ যারা নিতে চান, তাদের আগামী ১৮ নভেম্বর শেয়ার ধরে রাখতে হবে। অর্থাৎ সেদিন হবে রেকর্ড ডেট। লভ্যাংশ চূড়ান্ত করতে বার্ষিক সাধারণ সভা ডাকা হয়েছে ২৩ ডিসেম্বর।

আরও পড়ুন:
সম্পদ ১২ টাকার, দাম ৬ টাকা
বিনিয়োগের বিকল্প বন্ড, মিউচ্যুয়াল ফান্ড, তবে…
লভ্যাংশ যত ভালো, দরপতন তত বেশি!
লভ্যাংশ ১.৭৫ টাকা, দাম কমল ২ টাকা ৩০ পয়সা
আনরিয়েলাইজড গেইন: দায় ডিএসইকে দিল গ্রামীণ টু

শেয়ার করুন

ছয় বছরে রেনাটার সর্বোচ্চ লভ্যাংশ

ছয় বছরে রেনাটার সর্বোচ্চ লভ্যাংশ

শেয়ারধারীরা শেয়ার প্রতি পাবেন ১৪ টাকা ৫০ পয়সা। আর প্রতি ১০টি শেয়ারের বিপরীতে দেয়া হবে একটি করে শেয়ার। সব মিলিয়ে ১৫৫ শতাংশ লভ্যাংশ ২০১৬ সালের পর সর্বোচ্চ। এর আগে সর্বোচ্চ লভ্যাংশ ছিল ১৪৫ শতাংশ।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি রেনাটা আগের বছরের চেয়ে বেশি আয় করে গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য বিনিয়োগকারীদেরকে ১৪৫ শতাংশ নগদ এবং ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ।

অর্থাৎ শেয়ারধারীরা শেয়ার প্রতি পাবেন ১৪ টাকা ৫০ পয়সা। আর প্রতি ১০টি শেয়ারের বিপরীতে দেয়া হবে একটি করে শেয়ার। সব মিলিয়ে ১৫৫ শতাংশ লভ্যাংশ ২০১৬ সালের পর সর্বোচ্চ। এর আগে সর্বোচ্চ লভ্যাংশ ছিল ১৪৫ শতাংশ।

শনিবার গত অর্থবছরের আর্থিক হিসাব পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেয় রেনাটার পরিচালনা পর্ষদ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২০ সালের জুলাই থেকে গত জুন পর্যন্ত শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৫১ টাকা ৯৪ পয়সা। আগের বছর বোনাস শেয়ার সমন্বয়ের পর আয় ছিল ৪১ টাকা ১৭ পয়সা।

২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত ১৮ মাসের লভ্যাংশ একবারে দেয়ার পর রেনাটার এই আয় সর্বোচ্চ।

ছয় বছরে রেনাটার সর্বোচ্চ লভ্যাংশ

২০১৭ সালে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় ছিল ৪৩ টাকা ৯৮ পয়সা, ২০১৮ সালে তা আরেকটু বেড়ে হয় ৪৪ টাকা ৩৫ পয়সা। ২০১৯ সালে তা আরও বেড়ে হয় ৪৬ টাকা ৬৩ পয়সা। গত বছর তা ছিল ৪৫ টাকা ২৯ পয়সা। পরে ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার সমন্বয়ের কারণে আয় কিছুটা কমে।

২০১৬ সালে রেনাটা মোট ১০০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে, এর মধ্যে ৮৫ শতাংশ নগদ, আর ১৫ শতাংশ বোনাস। পরের বছর বোনাস লভ্যাংশ ঠিক রেখে বাড়ানো হয় নগদ লভ্যাংশ। ওই বছর নগদ দেয়া হয় ১৩০ শতাংশ। সব মিলিয়ে লভ্যাংশ আসে ১৪৫ শতাংশ।

২০১৮ সালে ১৫ শতাংশ বোনাসের সঙ্গে নগদ লভ্যাংশ আসে ৯৫ শতাংশ (শেয়ারে সাড়ে ৯ টাকা), সব মিলিয়ে ১১০ শতাংশ। ২০১৯ সালে ১০০ শতাংশ নগদের সঙ্গে (শেয়ারে ১০ টাকা) বোনাস দেয়া হয় ১০ শতাংশ। গত বছর ১০ শতাংশ বোনাসের সঙ্গে নগদ দেয়া হয় শেয়ারে ১৩ টাকা। সব মিলিয়ে লভ্যাংশ আসে ১৪৫ শতাংশ।

কোম্পানিটির আয়ের পাশাপাশ সম্পদমূল্যও বেড়েছে। গত ৩০ জুন শেষে শেয়ারপ্রতি সম্পদ দাঁড়িয়েছে ২৬৩ টাকা ৮৫ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে এই সম্পদ ছিল ২২৩ টাকা ৩২ পয়সা।

এই লভ্যাংশ যারা নিতে চান, তাদেরকে আগামী ১৫ নভেম্বর শেয়ার ধরে রাখতে হবে। অর্থাৎ সেদিন হবে রেকর্ড ডেট। লভ্যাংশ চূড়ান্ত করতে বার্ষিক সাধারণ সভা ডাকা হয়েছে ১৮ ডিসেম্বর।

আরও পড়ুন:
সম্পদ ১২ টাকার, দাম ৬ টাকা
বিনিয়োগের বিকল্প বন্ড, মিউচ্যুয়াল ফান্ড, তবে…
লভ্যাংশ যত ভালো, দরপতন তত বেশি!
লভ্যাংশ ১.৭৫ টাকা, দাম কমল ২ টাকা ৩০ পয়সা
আনরিয়েলাইজড গেইন: দায় ডিএসইকে দিল গ্রামীণ টু

শেয়ার করুন

স্বল্প মূলধনি ও লোকসানি কোম্পানির দরপতন বেশি

স্বল্প মূলধনি ও লোকসানি কোম্পানির দরপতন বেশি

পুঁজিবাজারে টানা সূচক পতনে হতাশ হয়ে পড়েছেন অনেক বিনিয়োগকারী। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

গত সেপ্টেম্বর থেকে পুঁজিবাজারে যে দর সংশোধন শুরু হয়েছে, তাতে সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে লোকসানি কোম্পানিগুলো। এই কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর আগের দুই থেকে তিন মাসে নানা গুঞ্জনে বাড়ছিল। একইভাবে বেশির ভাগ স্বল্পমূলধনি কোম্পানি ১৬ থেকে ৪২ শতাংশ পর্যন্ত দর হারিয়েছে।

টানা পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা দরপতনে পুঁজিবাজারে বড় মূলধনি কোম্পানির শেয়ার দরে খুব একটা প্রভাব পড়েনি। বিপরীতে স্বল্প মূলধনি ও লোকসানি কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে ব্যাপকভাবে। বিমা খাতেরও বেশ কিছু কোম্পানি উল্লেখযোগ্য হারে দর হারিয়েছে।

গত জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে নানা গুজব ও গুঞ্জনে স্বল্প মূলধনি ও লোকসানি কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর অস্বাভাবিক হারে বাড়ছিল। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি কয়েকটি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করার পর দু-একটি উৎপাদনে এসেছে, কয়েকটি উৎপাদন শুরুর কাছাকাছি অবস্থানে আছে।

কিন্তু এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে যাচাই-বাছাই ছাড়াই লোকসানি প্রায় সব কোম্পানির শেয়ার দর টানা বাড়তে থাকার মধ্যে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক এমনকি বিএসইসির কমিশনারদের কেউ কেউ সতর্ক করেছেন। কিন্তু কোনো কথাই যেন শুনতে চাইছিলেন না বিনিয়োগকারীরা।

লোকসানি কোম্পানির পাশাপাশি স্বল্প মূলধনি কোম্পানিগুলোর পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোর পুরোনো একটি আলোচনা আবার সামনে আসার পর শুরু হয় আরেক হুলুস্থুল। এসব কোম্পানির মূলধন বাড়াতে হলে শেয়ার ইস্যু করতে হবে- এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর হুমড়ি খেয়ে পড়েন বিনিয়োগকারীদের একাংশ। কোম্পানির আয়, মুনাফা, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা কী- এসব বিষয় যাচাই-বাছাইয়ের চেয়ে কেবল শেয়ার সংখ্যা কম- এই বিবেচনাতেই ক্রমাগতভাবে বেশি দামে শেয়ার কিনে গেছেন হাজার হাজার বিনিয়োগকারী।

গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে বাজার সংশোধনে মূলত এই দুই ধরনের কোম্পানির বিনিয়োগকারীরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এখন পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গ্রুপে হাহাকার করছেন মূলত তারাই।

গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ সপ্তাহে সূচকের পতন এমন কিছু হয়নি। বরং এবারই দর সংশোধনে সূচক বেড়ে গিয়ে বেশির ভাগ শেয়ারের দরপতনের প্রবণতা দেখা গেছে। এর কারণ, বড় মূলধনি কয়েকটি কোম্পানির উত্থান।

১২ সেপ্টেম্বর লেনদেন শুরুর দিন সূচক ছিল ৭ হাজার ২৫৮ পয়েন্ট। বর্তমানে তা অবস্থান করছে ৭ হাজার ৪৬ পয়েন্টে। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবারের আগের ৭ দিনই সূচক পড়েছে ৩৪৭ পয়েন্ট।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক রকিবুর রহমান এই বিষয়টি থেকে শিক্ষা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যেসব কোম্পানি ভালো রিটার্ন দিচ্ছে, সেগুলোতে আগ্রহী হওয়া উচিত। তাহলে যখন পুঁজিবাজারে সূচকের পতন হবে বা মন্দা দেখা যাবে, তখন লোকসান না-ও হতে পারে। হলেও সেটি দ্রুত উঠে আসবে।’

তবে দরপতন নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ারও দরকার নেই বলে মনে করেন তিনি। বলেন, ‘শেয়ারের দাম বাড়বে-কমবে, এটা স্বাভাবিক বিষয়। খারাপ বা স্বল্প মূলধনি কোম্পানি তো পুঁজিবাজারের বাইরের কোনো কোম্পানি না।’

স্বল্প মূলধনিতে দরপতন যে হারে

ওটিসি থেকে ফেরা পেপার প্রসেসিংয়ের দর টানা বেড়েই চলছিল। দর সংশোধন শুরুর আগের দিন কোম্পানিটির শেয়ার দর ২৩৫ টাকা ৩০ পয়সায় উঠে যায়। পাঁচ সপ্তাহে সেই শেয়ার দর এখন ১৩৪ টাকা ৮০ পয়সা। কমেছে ১০০ টাকা ৫০ পয়সা। ৪২.৭১ শতাংশ দর হারিয়েছে কোম্পানিটি।

ওটিসিফেরত আরেক কোম্পানি মনোস্পুল পেপারের দর এই সময়ে ২২৫ টাকা থেকে নেমে এসেছে ১৪৮ টাকা ৯০ পয়সায়। কোম্পানিটি দর হারিয়েছে ৩৩.৮২ শতাংশ।

দেশ গার্মেন্টসের দর ২৪২ টাকা থেকে কমে হয়েছে ১৬১ টাকা ৮০ পয়সা। কমেছে ৩৩.১৪ শতাংশ।

এই সময়ে প্রকৌশল খাতের স্বল্প মূলধনি মুন্নু অ্যাগ্রোর শেয়ার দর ৮৬১ টাকা থেকে নেমেছে ৫৯৯ টাকা ৩০ পয়সায়। কমেছে ৩০.৩৯ শতাংশ।

একই গ্রুপের আরেক কোম্পানি মুন্নু সিরামিকের দর ১৭৭ টাকা ৯০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১২৩ টাকা ৭০ পয়সা। কমেছে ৩০.৪৬ শতাংশ।

খাদ্য খাতে অ্যাপেক্স ফুডের শেয়ার দর এই সময়ে ১৮৭ টাকা ৬০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১৩২ টাকা ৬০ পয়সা। কমেছে ২৯.৩১ শতাংশ।

চামড়া খাতে লিগ্যাসি ফুটওয়্যারের দর এই সময়ে ৭৯ টাকা ৬০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৫৭ টাকা ২০ পয়সা। কমেছে ২৮.১৪ শতাংশ।

২০১৯ সালের পর আর হিসাব না দেয়া লিব্রা ইনফিউশনের শেয়ার দর এই সময়ে ১ হাজার ৭৩ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৭৭৮ টাকা ২০ পয়সায় নেমে এসেছে। কমেছে ২৭.৫২ শতাংশ।

আনলিমা ইয়ার্নের শেয়ারদর গত এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বাড়তে থাকে। ৩১ টাকা থেকে শেয়ারদর গত ২২ আগস্ট উঠে যায় ৫২ টাকা ৯০ পয়সা। এরপর থেকে শুরু হয় পতন। এই কোম্পানিটির বর্তমান দর ৩৮ টাকা ৭০ পয়সা। সংশোধন শুরুর পর থেকে কমেছে ২৬.৮৪ শতাংশ। এর মধ্যে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে কমেছে ১৬.০৫ শতাংশ।

প্রকৌশল খাতে রংপুর ফাউন্ড্রির শেয়ার দর এই সময়ে ১৮৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১৪১ টাকা ৩০ পয়সা। কমেছে ২৫.৪৩ শতাংশ।

খাদ্য খাতে বঙ্গজের শেয়ার দর এই সময়ে ১৫৯ টাকা ৬০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১১৯ টাকা ২০ পয়সা। কমেছে ২৫.৩১ শতাংশ।

আমান কটনের শেয়ার দর এই সময়ে ৪৪ টাকা ৯০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৩৫ টাকা ১০ পয়সা। কমেছে ২১.৮২ শতাংশ।

প্রকৌশল খাতে কিউ অ্যান্ড কিউর শেয়ার দর এই সময়ে ৩৭০ টাকা ৭০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২৯২ টাকা ২০ পয়সা। কমেছে ২১.১৭ শতাংশ।

ফুওয়াং ফুডের শেয়ার দর এই সময়ে ২২ টাকা ২০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১৭ টাকা ৫০ পয়সা। কমেছে ২১.১৭ শতাংশ।

চামড়া খাতের অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের শেয়ার দর এই সময়ে ৩৬৬ টাকা থেকে কমে হয়েছে ২৮৯ টাকা ৩০ পয়সা। কমেছে ২১.১২ শতাংশ।

অ্যাপেক্স স্পিনিংয়ের শেয়ার দর এই সময়ে ১৫৬ টাকা ৪০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১২৪ টাকা ৪০ পয়সা। কমেছে ২০.৪৬ শতাংশ।

রহিম টেক্সটাইলের দর ৩২৭ টাকা ৮০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২৬০ টাকা ৯০ পয়সা। কমেছে ২০.৪০ শতাংশ।

এএমসিএল প্রাণের শেয়ার দর এই সময়ে ৩০৭ টাকা ৩০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২৪৬ টাকা। কমেছে ১৯.৯৪ শতাংশ।

ফাইন ফুডের শেয়ার দর এই সময়ে ৫৯ টাকা ৪০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৪৭ টাকা ৭০ পয়সা। কমেছে ১৯.৬৯ শতাংশ।

রহিমা ফুডের শেয়ার দর এই সময়ে ৩৬৪ টাকা ২০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২৯৪ টাকা ৪০ পয়সা। কমেছে ১৯.১৬ শতাংশ।

পাট খাতের সোনালী আঁশের শেয়ার দর এই সময়ে ৫৩৬ টাকা ৬০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৪৪০ টাকা ৭০ পয়সা। কমেছে ১৭.৮৭ শতাংশ।

বস্ত্র খাতের তমিজউদ্দিন টেক্সটাইলের দর ১৮৫ টাকা ৭০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১৫৩ টাকা ৬০ পয়সা। কমেছে ১৭.২৮ শতাংশ।

মুন্নু ফেব্রিক্সের দর ৩১ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২৬ টাকা ৪০ পয়সা। কমেছে ১৬.১৯ শতাংশ।

স্বল্প মূলধনি ও লোকসানি কোম্পানির দরপতন বেশি

বড় মূলধনি ছয়টিরও দরপতন

ফুওয়াং সিরামিকের দর ২৩ টাকা ৯০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১৭ টাকা ৯০ পয়সা। কমেছে ২৫.১০ শতাংশ।

স্বল্প মূলধনি নয়, লোকসানেও নয়, এমন কোম্পানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে এমএল ডায়িং। কোম্পানিটির দর এই সময়ে ৩৪ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২৬ টাকা ২০ পয়সা। কমেছে ২৪.০৫ শতাংশ।

বড় মূলধনির বসুন্ধরা পেপার মিলসও এই সময়ে বেশ ভালো দর হারিয়েছে। কোম্পানিটির শেয়ার দর ৫৩ টাকা ৬০ পয়সা থেকে নেমে এসেছে ৪৫ টাকা ১০ পয়সায়। কমেছে ১৫.৮৫ শতাংশ।

বহুজাতিক কোম্পানি হাইডেলবার্গ সিমেন্টও এই সময়ে বেশ ভালো দর হারিয়েছে। শেয়ার দর ৩৭৩ টাকা ১০ পয়সা থেকে কমে এসেছে ৩১৯ টাকা ৬০ পয়সায়। কমেছে ১৪.৩৩ শতাংশ।

সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার দরের পতন হয়েছে অন্য ইস্যুতে। ২০১৯ সালের ঘোষণা করা নগদ লভ্যাংশ বিতরণ না করায় কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি।

এমনিতে সংশোধনে থাকার মধ্যে এ ঘটনায় কোম্পানিটি দর হারিয়েছে ৩১.৩৯ শতাংশ। শেয়ার দর ২৫ টাকা ৮০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১৭ টাকা ৭০ পয়সা।

এক বছর পর লভ্যাংশ ঘোষণার পর গত মে মাস থেকে কেয়া কসমেটিকসের শেয়ার দরে উল্লম্ফন দেখা দেয়। ৫ টাকা ১০ পয়সা থেকে কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়ে ১১ টাকা ২০ পয়সা হয়ে যায় আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে। এরপর শুরু হয় দরপতন। এর মধ্যে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া সংশোধনে শেয়ার দর কমেছে ২২.৬৮ শতাংশ। শেয়ার দর ৯ টাকা ৭০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৭ টাকা ৫০ পয়সা।

স্বল্প মূলধনি ও লোকসানি কোম্পানির দরপতন বেশি

লোকসানি কোম্পানির দরপতন আরও বেশি

প্রকৌশল খাত

মালিকানা বদলের গুঞ্জনে গত এপ্রিলে ৫ টাকা ১০ পয়সা থেকে অ্যাপোলো ইস্পাতের শেয়ার দর আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে ১৪ টাকা ৮০ পয়সায় পৌঁছে যায়। কিন্তু সেই গুঞ্জন সত্য নয় বলে একটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর থেকে শুরু হয় দরপতন। সেই কোম্পানিটির শেয়ার দর এখন কমতে কমতে নেমেছে ৯ টাকা ৮০ পয়সায়। কমেছে ৩৩.৭৮ শতাংশ।

গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে কোম্পানিটির শেয়ার দর কমেছে ২২.২২ শতাংশ।

বন্ধ থাকা কোম্পানির উৎপাদন চালু হবে, এমন ঘোষণায় উচ্চমূল্যে শেয়ার কিনে বিপাকে পড়েছেন আজিজ পাইপের শেয়ারধারীরা।

গত ২৯ জুলাই শেয়ার দর ছিল ১০০ টাকা ১০ পয়সা। গত ১৯ সেপ্টেম্বর উঠে যায় ১৬৯ টাকায়। সেখান থেকে পড়তে পড়তে এখন দাম দাঁড়িয়েছে ১১৩ টাকা ৮০ পয়সা। কমেছে ৩২.৬৬ শতাংশ।

একই চিত্র আরএসআরএম স্টিলের ক্ষেত্রে। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর উৎপাদন চালুর প্রস্তুতিকে কেন্দ্র করে কোম্পানিটির শেয়ার দর গত ২৭ জুলাই ২১ টাকা থেকে বেড়ে ৩৬ টাকা ৮০ পয়সা হয়ে যায় সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। ১২ সেপ্টেম্বর দর সংশোধন শুরুর আগের দিন দাম ছিল ৩৫ টাকা। এর মধ্যে উৎপাদন চালুর ঘোষণা আসে। কিন্তু এরপর দাম টানা পড়তে থাকে। এই কয়দিনে শেয়ারপ্রতি ১০ টাকা ২০ পয়সা বা ২৯.১৪ শতাংশ কমেছে দাম। গত বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ২৪ টাকা ৮০ পয়সা।

করোনার কারণে ব্যবসা প্রায় হারিয়ে ফেলা ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের শেয়ারদর গত মে মাসের শুরু থেকে টানা বাড়ছিল। সে সময় শেয়ারদর ছিল ৮ টাকা ৭০ পয়সা। আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে তা গিয়ে ঠেকে ১৭ টাকা ৫০ পয়সায়। এরপর থেকে শুরু হয় সংশোধন। শেয়ারদর কমতে কমতে এখন নেমেছে ১২ টাকা ৬০ পয়সায়।

সংশোধন শুরু হওয়ার পর থেকে কমেছে ৪ টাকা ৯০ পয়সা বা ২৮ শতাংশ। এর মধ্যে গত ১২ সেপ্টেম্বরের দাম থেকে কমেছে ২০.৭৫ শতাংশ।

রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি রেনউইক যগেশ্বরের শেয়ার দর ১২ সেপ্টেম্বর ১ হাজার ৩৪১ টাকা থেকে নেমে এসেছে ৯৯৮ টাকা ৯০ পয়সায়। কমেছে ২৫.৫২ শতাংশ।

আরেক রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ন্যাশনাল টিউবের দর এই সময়ে ১২৭ টাকা ৮০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৯৬ টাকা। কমেছে ২৪.৮৮ শতাংশ।

আরেক রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ইস্টার্ন কেব্‌লসের শেয়ার দর এই সময়ে ১৭০ টাকা ৪০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১২৮ টাকা ২০ পয়সা। কমেছে ২৪.৭৬ শতাংশ।

লোকসানি রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি এটলাস বাংলাদেশের শেয়ার দর এই সময়ে ১৩৫ টাকা ৮০ পয়সা থেকে হয়েছে ১০৯ টাকা। কমেছে ১৯.৭৩ শতাংশ।

স্বল্প মূলধনি ও লোকসানি কোম্পানির দরপতন বেশি

খাদ্য খাত

এই খাতের মধ্যে সরকারি দুই চিনিকলের শেয়ারেও ব্যাপক দরপতন হয়েছে। এর মধ্যে বেশি কমেছে শ্যামপুর সুগারের শেয়ার দর, যেটির দাম সংশোধন শুরুর আগে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছিল।

শ্যামপুর সুগারের শেয়ার দর গত ৫ আগস্টও ছিল ৬২ টাকা ২০ পয়সা। আকাশচুম্বী লোকসানে জর্জর কোম্পানিটির এই দরই ছিল অস্বাভাবিক। তারপরেও সেখান থেকে এক লাফে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে উঠে যায় ১৪১ টাকা ২০ পয়সায়। এই কোম্পানির দর সংশোধন পুঁজিবাজারে দর সংশোধন শুরুর এক সপ্তাহ আগেই শুরু হয়। এই কয়দিনে শেয়ার দর কমেছে ৪০.৭২ শতাংশ। শেয়ার দর ১৪১ টাকা ২০ পয়সা থেকে নেমে এসেছে ৮৩ টাকা ৭০ পয়সায়।

এর মধ্যে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে পাঁচ সপ্তাহে কমেছে ৩১.৯৫ শতাংশ।

একই চিত্র জিলবাংলা সুগারের ক্ষেত্রে। গত ১৭ জুন কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিল ৮৬ টাকা ১০ পয়সা। এই দরই অস্বাভাবিক হিসেবে ধরা হতো। কিন্তু আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে দর বেড়ে হয়ে যায় ২০৯ টাকা। সর্বোচ্চ এই অবস্থান থেকে কোম্পানিটি এখন পর্যন্ত দর হারিয়েছে ৩৮.২৭ শতাংশ।

এর মধ্যে গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে কোম্পানিটির শেয়ার দর হারিয়েছে ২১.৫৮ শতাংশ।

বিচ হ্যাচারির দর গত ১২ সেপ্টেম্বর থেমে কমেছে ২৭.৩০ শতাংশ। এক বছরের বেশি উৎপাদন বন্ধ রাখার পর সম্প্রতি আবার চালু হওয়াকে কেন্দ্র করে এই কোম্পানির শেয়ার দরে উত্থান হয়েছিল। এই সময়ে দাম কমেছে ৭ টাকা ৪০ পয়সা বা ২৭.৩০ শতাংশ। বর্তমান দাম ১৯ টাকা ৭০ পয়সা।

বছরের পর বছর লভ্যাংশ না দিলেও প্রায় প্রতিবছর উত্থান হওয়া মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক ও মেঘনা পেটও দর হারিয়েছে এই সময়ে।

এর মধ্যে মেঘনা কনডেন্সড মিল্কের শেয়ার দর ২৩ টাকা ১০ পয়সা থেকে নেমে এসেছে ১৬ টাকা ৭০ পয়সায়। কমেছে ২৭.৭০ শতাংশ।

মেঘনা পেটের দর ২৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২৩ টাকা ২০ পয়সা। কমেছে ২১.৩৫ শতাংশ।

জেমিনি সি ফুডের শেয়ার দর এই সময়ে ২৩৩ টাকা ৭০ পয়সা থেমে নেমে এসেছে ১৮৬ টাকায়। কমেছে ২০.৪১ শতাংশ।

গোল্ডেন হারভেস্ট অ্যাগ্রোর শেয়ার দর এই সমেয় ২১ টাকা ৭০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১৭ টাকা ৮০ পয়সা। কমেছে ১৭.৯৭ শতাংশ।

স্বল্প মূলধনি ও লোকসানি কোম্পানির দরপতন বেশি

চামড়া ও সিরামিক

লোকসানি স্বল্প মূলধনি কোম্পানি সমতা লেদার ফ্লোর প্রাইস উঠে যাওয়ার পর ১০৬ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ২৭ জুন নেমে আসে ৬৯ টাকা ৭০ পয়সা। কিন্তু এরপর থেকে টানা উত্থান শুরু হয়। দর সংশোধন শুরুর আগে ৯ সেপ্টেম্বর দর উঠে যায় ১২৮ টাকায়। দাম কমতে কমতে এখন নেমে এসেছে ৭৭ টাকা ২০ পয়সায়। কমেছে ৩৯.৬৮ শতাংশ।

স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকের শেয়ার দর এই সময়ে ২৬২ টাকা ৫০ পয়সা থেকে হয়েছে ১৮১ টাকা ২০ পয়সা। কমেছে ৩০.৯৭ শতাংশ।

বিবিধ খাত

এই খাতের তিন লোকসানি কোম্পানি ব্যাপকভাবে দর হারিয়েছে। এর মধ্যে সাভার রিফ্র্যাকটরিজের শেয়ার দর এই সময়ে ২৯৯ টাকা ৯০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২০৭ টাকা ৭০ পয়সা। কমেছে ৩০.৭৪ শতাংশ।

মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার দর এই সময়ে ৪২ টাকা ২০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৩১ টাকা ৮০ পয়সা। কমেছে ২৪.৬৪ শতাংশ।

জি কিউ বলপেনের শেয়ার দর এই সময়ে ১৪১ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১০৮ টাকা ৫০ পয়সা। কমেছে ২৩.৩২ শতাংশ।

স্বল্প মূলধনি ও লোকসানি কোম্পানির দরপতন বেশি

আর্থিক খাত

এই খাতের লোকসানি যেসব কোম্পানির শেয়ার দর ক্রমাগত বেড়ে চলেছিল নানা গুঞ্জনে, তার সবগুলোর ব্যাপক দরপতন হয়েছে এই সময়ে।

ফারইস্ট ফাইন্যান্সের শেয়ার দর এই সময়ে ৯ টাকা ৮০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৬ টাকা ১০ পয়সা। কমেছে ৩৭.৭৫ শতাংশ।

ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ফাইন্যান্সের শেয়ার দর এই সময়ে ১০ টাকা ৩০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৭ টাকা ৫০ পয়সা। কমেছে ২৭.১৮ শতাংশ।

ফাস ফাইন্যান্সের শেয়ার দর এই সময়ে ১০ টাকা ৮০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৭ টাকা ৯০ পয়সা। কমেছে ২৬.৮৫ শতাংশ।

বিআইএফসির শেয়ার দর এই সময়ে ৮ টাকা ৪০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৬ টাকা ৩০ পয়সা। কমেছে ২৫ শতাংশ।

ফার্স্ট ফাইন্যান্সের শেয়ার দর এই সময়ে ৮ টাকা ৯০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৭ টাকা ১০ পয়সা। কমেছে ২০.২২ শতাংশ।

বস্ত্র খাত

এই খাতের বন্ধ ও লোকসানি কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর গত মে মাস থেকেই অস্বাভাবিক হারে বেড়ে চলছিল। সেপ্টেম্বর থেকে টানা সংশোধনে ক্ষতির মুখে পড়েছেন এই খাতের অন্তত ১২টি কোম্পানির শেয়ারধারীরা।

মিথুন নিটিংয়ের শেয়ার দর এই সময়ে ২২ টাকা থেকে কমে হয়েছে ১৪ টাকা ২০ পয়সা। কমেছে ৩৫.৪৫ শতাংশ।

রিজেন্ট টেক্সটাইলের শেয়ার দর এই সময়ে ১৬ টাকা থেকে কমে হয়েছে ১১ টাকা ৩০ পয়সা। কমেছে ২৯.৩৭ শতাংশ।

বন্ধ থাকা তুংহাই স্পিনিংয়ের শেয়ার দর গত এপ্রিলের শেষেও ছিল ৩ টাকার নিচে। আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে তা উঠে যায় ৯ টাকায়। ১৬ আগস্ট থেকেই এর দরপতন শুরু। এই সময়ে কমেছে ২৬.৬৬ শতাংশ। বর্তমান দাম ৬ টাকা ৬০ পয়সা।

বন্ধ থাকা স্টাইলক্রাফটে উৎপাদন চালু হবে, এমন ঘোষণায় লাফ দেয়ার পর উচ্চমূল্যে শেয়ার কিনে লোকসানে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা। বাজার সংশোধনের এই সময়ে শেয়ার মূল্য ১৯৭ টাকা থেকে নেমে এসেছে ১৪৬ টাকা ৬০ পয়সায়। কমেছে ২৫.৫৮ শতাংশ।

নুরানী টেক্সটাইলের শেয়ার দর এই সময়ে ১০ টাকা ৩০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৭ টাকা ৯০ পয়সা। কমেছে ২৩.৩০ শতাংশ।

জাহিন টেক্সটাইলের শেয়ার দর এই সময়ে ১০ টাকা ১০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৭ টাকা ৮০ পয়সা। কমেছে ২২.৭৭ শতাংশ।

রিংসাইন টেক্সটাইল মিলসের শেয়ার দর এই সময়ে ১৪ টাকা ১০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১১ টাকা পয়সা। কমেছে ২১.৯৮ শতাংশ।

আরএন স্পিনিংয়ের শেয়ার দর এই সময়ে ৭ টাকা ৯০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৬ টাকা ২০ পয়সা। কমেছে ২১.৫১ শতাংশ।

জাহিন স্পিনিংয়ের শেয়ার দর এই সময়ে ১১ টাকা ১০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৮ টাকা ৯০ পয়সা। কমেছে ১৯.৮১ শতাংশ।

তাল্লু স্পিনিংয়ের শেয়ার দর এই সময়ে ১৪ টাকা ২০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১১ টাকা ৪০ পয়সা। কমেছে ১৯.৭১ শতাংশ।

সোনারগাঁও টেক্সটাইলের শেয়ার দর এই সময়ে ২৬ টাকা ৩০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২১ টাকা ৩০ পয়সা। কমেছে ১৯.০১ শতাংশ।

স্বল্প মূলধনি ও লোকসানি কোম্পানির দরপতন বেশি

পাট খাত

এই খাতের তিনটি কোম্পানিই ব্যাপকভাবে দর হারিয়েছে। এর মধ্যে লোকসানি দুটির মধ্যে নর্দার্ন জুটের শেয়ার দর ৪০৬ টাকা ১০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২৮৬ টাকা। কমেছে ২৯.৫৭ শতাংশ।

জুট স্পিনার্সের দর ১৮০ টাকা ৭০ পয়সা থেকে নেমে এসেছে ১২৮ টাকায়। কমেছে ২৯.১৬ শতাংশ।

কাগজ খাত

এই খাতের দুই লোকসানি কোম্পানি হাক্কানি পাল্পের শেয়ার দর ৯১ টাকা ৪০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৬৪ টাকা ৫০ পয়সা। কমেছে ২৯.৪৩ শতাংশ।

কেপিপিএলের দর ১৬ টাকা ২০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১৩ টাকা ৩০ পয়সা। কমেছে ১৭.৯০ শতাংশ।

বিমায় দরপতন কেমন

গত জুনের মাঝামাঝি থেকে সংশোধনে থাকা বিমা খাত সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে আরও দর হারিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স, ১৯.২৪ শতাংশ। ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স দর হারিয়েছে ১৯.০৯ শতাংশ।

রূপালী লাইফ ১৭.৭৩ শতাংশ, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স ১৭.২৮, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ১৫.৯৯, এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের দর ১৫.৮৬, প্রোগ্রেসিভ লাইফের দর ১৫.৬৯, পদ্মা লাইফ ১৫.৮৪ শতাংশ দর হারিয়েছে।

এ ছাড়া পূরবী জেনারেল, সোনার বাংলা, প্রগতি লাইফ, সিটি জেনারেল, পাইওনিয়ার, নর্দার্ন, পিপলস, সানলাইফের দর কমেছে ১৪ শতাংশের বেশি।

ইসলামী, রিপাবলিক, ফিনিক্স, রিলায়েন্স ও সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর কমেছে ১৩ শতাংশের বেশি।

মেঘনা লাইফের দর এই সময়ে ২৪.৭১ শতাংশ কমলেও এটির লভ্যাংশের ১৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার সমন্বয় হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সম্পদ ১২ টাকার, দাম ৬ টাকা
বিনিয়োগের বিকল্প বন্ড, মিউচ্যুয়াল ফান্ড, তবে…
লভ্যাংশ যত ভালো, দরপতন তত বেশি!
লভ্যাংশ ১.৭৫ টাকা, দাম কমল ২ টাকা ৩০ পয়সা
আনরিয়েলাইজড গেইন: দায় ডিএসইকে দিল গ্রামীণ টু

শেয়ার করুন

তৃতীয় প্রান্তিকে ‘হোঁচটেও’ সিটি ব্যাংকের আয়ে প্রবৃদ্ধি

তৃতীয় প্রান্তিকে ‘হোঁচটেও’ সিটি ব্যাংকের আয়ে প্রবৃদ্ধি

রাজধানীতে সিটি ব্যাংকের কেন্দ্রীয় কার্যালয়

অর্ধবার্ষিকে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় ছিল ২ টাকা ৬ পয়সা। আগের বছর এই আয় ছিল ১ টাকা ছিল। অর্থাৎ আয় বাড়ে ১০৬ শতাংশ। তৃতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৯০ পয়সা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ১ টাকা ৮৯ পয়সা।

প্রথম দুই প্রান্তিকের চমক তৃতীয় প্রান্তিকে ধরে রাখতে না পারলেও তিন প্রান্তিক মিলিয়ে আয়ে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখল সিটি ব্যাংক।

গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকটি শেয়ার প্রতি আয় করেছে ২ টাকা ৯৭ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ২ টাকা ৮৯ পয়সা।

অর্থাৎ আয় বেড়েছে ২.৯৭ শতাংশ।

নিঃসন্দেহে ভালো। তবে দ্বিতীয় প্রান্তিক জুন পর্যন্ত হিসাব বিবেচনায় নিলে বিনিয়োগকারীরা কিছুটা হতাশ হতে পারেন।

অর্ধবার্ষিকে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় ছিল ২ টাকা ৬ পয়সা। আগের বছর এই আয় ছিল ১ টাকা ছিল। অর্থাৎ আয় বাড়ে ১০৬ শতাংশ।

তৃতীয় প্রান্তিকে আয় খুব খারাপ, এমনটা বলার সুযোগ নেই। এই সময়ে শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৯০ পয়সা। তবে আগের বছরের একই সময়ের হিসাব বিবেচনায় নিলে হতাশ হতেও পারে।

গত বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটি শেয়ার প্রতি আয় করেছিল ১ টাকা ৮৯ পয়সা। অর্থাৎ জুন পর্যন্ত শতভাগ আয় বাড়ানো ব্যাংকটি তৃতীয় প্রান্তিকে এসে আয় করেছে আগের বছরের ৫০ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এই অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের পর প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যাংকটির সম্পদমূল্যও বেড়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেয়ার প্রতি সম্পদ ছিল ৩০ টাকা ১১ পয়সা। গত ৩১ ডিসেম্বর এই সম্পদ ছিল ২৭ টাকা ৬৫ পয়সা।

সম্পদমূল্যের চেয়ে কম দামে লেনদেন হওয়া ব্যাংকটি ২০২০ সালে শেয়ার প্রতি ৪ টাকা ২৯ পয়সা আয় করে ১ টাকা ৭৫ পয়সা নগদ ও ৫ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতি ২০টি শেয়ারে একটি বোনাস শেয়ার দিয়েছিল।

প্রান্তিক প্রকাশের দিন সিটি ব্যাংকের শেয়ারদর ছিল ২৮ টাকা ২০ পয়সা।

গত এক বছরে ব্যাংকটির শেয়ারদর ২১ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৩৩ টাকা ৬০ পয়সা পর্যন্ত উঠানামা করেছে।

করোনার মধ্যেও গত বছর ব্যাংক খাত অভাবনীয় আয় করে আকর্ষণীয় লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। চলতি বছর অর্ধবার্ষিকে বেশিরভাগ বাংকই আয় আগের বছরের চেয়ে বাড়াতে পেরেছে। তৃতীয় প্রান্তিকেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট চারটি ব্যাংকের তৃতীয় প্রান্তিকের আয় প্রকাশ পেল। এর মধ্যে শুরু থেকেই লোকসানে থাকা আইসিবি ইসলামী ব্যাংক এবারও লোকসানের বৃ্ত্তেই আছে। শেয়ারদরে গত এক বছরে উল্লম্ফন হলেও কোম্পানিটি লোকসান কমাতে পারেনি, উল্টো বেড়েছে।

অন্য ব্যাংকগুলোর মধ্যে এসসিসি ব্যাংক ২৩ শতাংশ এবং ইসলামী ব্যাংক ১৬ শতাংশ আয় বাড়াতে পেরেছে।

আরও পড়ুন:
সম্পদ ১২ টাকার, দাম ৬ টাকা
বিনিয়োগের বিকল্প বন্ড, মিউচ্যুয়াল ফান্ড, তবে…
লভ্যাংশ যত ভালো, দরপতন তত বেশি!
লভ্যাংশ ১.৭৫ টাকা, দাম কমল ২ টাকা ৩০ পয়সা
আনরিয়েলাইজড গেইন: দায় ডিএসইকে দিল গ্রামীণ টু

শেয়ার করুন

আয় বাড়াল ইসলামী ব্যাংকও

আয় বাড়াল ইসলামী ব্যাংকও

গত করোনার বছরে আগের বছরের চেয়ে বেশি আয় করা ব্যাংকগুলো এবারও জুন পর্যন্ত দ্বিতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত আয়ে চমক দেখায়। দ্বিগুণ, তিন গুণ এমনকি তার চেয়ে বেশি আয় করা ব্যাংকগুলো এখন তৃতীয় প্রান্তিকের হিসাব প্রকাশ করছে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইসলামী ব্যাংকও আগের বছরের চেয়ে চলতি বছর বেশি আয় করতে পারছে।

গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি আয় করতে পেরেছে ২ টাকা ৬৭ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে আয় ছিল (ইপিএস) ২ টাকা ৩০পয়সা। আয় বেড়েছে ৩৭ পয়সা বা ১৬ শতাংশ।

এর আগে এনসিসি ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদনেও আয় বাড়ার বিষয়টি উঠে আসে। এই ব্যাংকটি চলতি বছর তিন প্রান্তিক মিলিয়ে আগের বছর একই সময়ের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি আয় করেছে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো নিয়ে নানা রকম আলোচনা থাকলেও বেশির ভাগ কোম্পানির আয় এবং লভ্যাংশ প্রতিবছরই চমকপ্রদ।

গত করোনার বছরে আগের বছরের চেয়ে বেশি আয় করা ব্যাংকগুলো এবারও জুন পর্যন্ত দ্বিতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত আয়ে চমক দেখায়। দ্বিগুণ, তিন গুণ এমনকি তার চেয়ে বেশি আয় করা ব্যাংকগুলো এখন তৃতীয় প্রান্তিকের হিসাব প্রকাশ করছে।

ইসলামী ব্যাংক জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ৫৯ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ৩৬ পয়সা।

আয়ের পাশাপাশি কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্যও বাড়ছে। ৩০ সেপ্টেম্বর শেয়ারপ্রতি সম্পদ হয়েছে ৪০ টাকা ৫৯ পয়সা। গত ৩০ ডিসেম্বরে এই সম্পদ ছিল ৩৮ টাকা ৮৯ পয়সা।

কোম্পানিটির শেয়ারদর বর্তমানে তার সম্পদের চেয়ে কম। আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের দিন ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩০ টাকায়।

বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমানত ও ঋণদানকারী এই ব্যাংকটির শেয়ারমূল্য গত এক বছর ধরেই স্থিতিশীল। এই সময়ে শেয়ারের সর্বনিম্ন মূল্য ছিল ২৫ টাকা ৪০ পয়সা, আর সর্বোচ্চ মূল্য ছিল ৩২ টাকা।

কোম্পানিটি প্রতিবছরই বেশ ভালো আয় করলেও লভ্যাংশের ইতিহাস খুব একটি ভালো নয়। ২০১৬ সাল থেকে টানা ৫ বছর শেয়ারপ্রতি ১ টাকা করে লভ্যাংশ পেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

আরও পড়ুন:
সম্পদ ১২ টাকার, দাম ৬ টাকা
বিনিয়োগের বিকল্প বন্ড, মিউচ্যুয়াল ফান্ড, তবে…
লভ্যাংশ যত ভালো, দরপতন তত বেশি!
লভ্যাংশ ১.৭৫ টাকা, দাম কমল ২ টাকা ৩০ পয়সা
আনরিয়েলাইজড গেইন: দায় ডিএসইকে দিল গ্রামীণ টু

শেয়ার করুন