আগুনে পুড়ল ভাসমান রেস্টুরেন্ট

আগুনে পুড়ল ভাসমান রেস্টুরেন্ট

নওগাঁ সদরে আগুন লেগে পুড়েছে ভাসমান রেস্টুরেন্ট। ছবি: নিউজবাংলা

ক্ষতিগ্রস্ত রেস্টুরেন্ট মালিক এরশাদ হোসেন বলেন, ‘আজ সকালে আমার এক প্রতিবেশী ফোন দিয়ে জানায় রেস্টুরেন্টে আগুন লেগেছে। আমি তাড়াহুড়ো করে গিয়ে দেখি সব কিছু পুড়ে যাচ্ছে। রেস্টুরেন্টে ২৮টি ছাগল, শুকনো খাবার ও আনুসাঙ্গিক জিনিসপত্র ছিল।’

নওগাঁ সদরে একটি ভাসমান রেস্টুরেন্টে আগুন লেগে ২৮টি ছাগল, শুকনো খাবার ও আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র পুড়ে গেছে।

উপজেলার নওগাঁ-দুলবহাটি সড়কের পাশে তালতলির বিলে ভাসমান রেস্টুরেন্ট বুধবার সকাল ৭টার দিকে আগুন লাগে।

রেস্টুরেন্ট মালিক ও স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, বিলের পাশে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা রেস্টুরেন্টে আগুন দেখে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। এর পর সকাল ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট গিয়ে আগুন নেভায়।

নওগাঁ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক একেএম মুরশেদ বলেন, ‘এক ব্যক্তির ফোন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে রওনা দেই। সেখানে পৌঁছানের আগেই রেস্টুরেন্টটি পুড়ে যায়।

‘যেহেতু লোকালয় থেকে কিছুটা দূরে তাই আগুন লাগার বিষয়টি জানতে সময় লেগেছে। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষতির পরিমাণ তদন্তের পর জানা যাবে।’

চকপ্রাণ এলাকার বাসিন্দা টিটু আহম্মেদ আহম্মেদ বলেন, ‘এরশাদের ভাসমান রেস্টুরেন্ট কাঁঠ, টিন ও বাঁশ দিয়ে তৈরি করা। তালতলী বিলে যারা ঘুরতে আসত তারা এই ভাসমান রেস্টুরেন্টে বসে সময় কাটাত। আমাদের ধারণা কেউ শক্রতা করে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে আগুন লাগার সঠিক কারণ বের করা হোক এটাই প্রত্যাশা করছি।’

ক্ষতিগ্রস্ত রেস্টুরেন্ট মালিক এরশাদ হোসেন বলেন, ‘আমি ২০১৬ সালে রেস্টুরেন্টটি চালু করি। গত বছর থেকে ছাগল পালছি। রাতের বেলা ভাসমান রেস্টুরেন্টের সঙ্গে লাগানো একটি ঘরে ছাগলগুলো রাখি।

‘আজ সকালে আমার এক প্রতিবেশী ফোন দিয়ে জানায় রেস্টুরেন্টে আগুন লেগেছে। আমি তাড়াহুড়ো করে গিয়ে দেখি সব কিছু পুড়ে যাচ্ছে। রেস্টুরেন্টে ২৮টি ছাগল, শুকনো খাবার ও আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘কয়েক মাস ধরে পাহারার জন্য রাতে কেউ থাকে না। তার সুযোগে হয়তো কেউ আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। কিন্তু কে এমনটা করেছে আমার সঠিক ধারণা নাই। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

নওগাঁ সদর মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ‘ভাসমান রেস্টুরেন্টে আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। রেস্টুরেন্ট মালিক এরশাদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
হোটেল সফিনায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে
আড়াই ঘণ্টা পর কয়েল কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে
প্যাকেজিং ফ্যাক্টরির আগুন নিয়ন্ত্রণে
গফুর টাওয়ারের আগুন নিয়ন্ত্রণে
মাইসাহেবা মসজিদে আগুন, পুড়ল সিসিটিভি কক্ষ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ইউটিউব দেখে কবিরাজি, ফোনে ৪০ নারীর অশ্লীল ভিডিও

ইউটিউব দেখে কবিরাজি, ফোনে ৪০ নারীর অশ্লীল ভিডিও

কবিরাজি চিকিৎসার নামে নারীদের অশ্লীল ভিডিও ধারণ করা অহাদুরকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। ছবি: নিউজবাংলা

র‍্যাব জানায়, কবিরাজ আহাদুর রহমান পড়াশোনা করেছেন পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত। কবিরাজি করার আগে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে বিভিন্ন হোটেল রেস্টুরেন্টে ওয়েটারের কাজ করতেন। দুই বছর আগে ইউটিউব দেখে সে কবিরাজিকে পেশা হিসেবে বেছে নেয়।

হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে অপচিকিৎসা ও নারীদের অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে চাঁদাবাজির অভিযোগে কথিত এক কবিরাজকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

গ্রেপ্তার কবিরাজ আহাদুর রহমানের বাড়ি বানিয়াচং উপজেলার কুর্শা খাগাউড়া গ্রামে।

উপজেলার ইমামবাড়ি বাজার থেকে শুক্রবার দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৯ হবিগঞ্জ ক্যাম্পের সদস্যরা।

এ সময় তার কাছ থেকে একটি কম্পিউটার, মেমোরি কার্ড, দুটি মোবাইল ও অন্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব-৯ হবিগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট মোহাম্মদ নাহিদ হাসান শুক্রবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছেন।

র‌্যাব জানায়, কবিরাজ আহাদুর রহমান পড়াশোনা করেছেন পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত। কবিরাজি করার আগে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে বিভিন্ন হোটেল রেস্টুরেন্টে ওয়েটারের কাজ করতেন। দুই বছর আগে ইউটিউব দেখে সে কবিরাজিকে পেশা হিসেবে বেছে নেয়।

স্থানীয় ইমামবাড়ি বাজারে চেম্বার বসিয়ে কুফরী, বান, বেদ, কন্নি, যাদু, চালান, স্বামী-স্ত্রীর অমিল, বিবাহ না হওয়াসহ নানা বিভিন্ন চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা শুরু করেন বলে জানায় র‍্যাব।

একপর্যায়ে তিনি বিভিন্ন চিকিৎসার নামে নারীদের ফাঁদে ফেলে অশ্লীল ভিডিও ধারণ শুরু করেন। পরে সেগুলো ছড়িয়ে দেয়ার কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করতেন।

জিজ্ঞাসাবাদে আহাদুর রহমান এ পর্যন্ত ৩০-৪০ জন নারীর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে চাঁদাবাজির কথা স্বীকার করেছেন বলে জানায় র‍্যাব।

র‌্যাব-৯ হবিগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার জানান, একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগের পরেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানের আঁচ পেয়ে তার দুই সহযোগী পালিয়ে যায় বলে জানান তিনি।

ওই কর্মকর্তা জানান, রাতেই তাকে বানিয়াচং থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
হোটেল সফিনায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে
আড়াই ঘণ্টা পর কয়েল কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে
প্যাকেজিং ফ্যাক্টরির আগুন নিয়ন্ত্রণে
গফুর টাওয়ারের আগুন নিয়ন্ত্রণে
মাইসাহেবা মসজিদে আগুন, পুড়ল সিসিটিভি কক্ষ

শেয়ার করুন

থানায় ঢুকে বিষপান: সেই ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

থানায় ঢুকে বিষপান: সেই ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

থানায় ঢুকে ফেসবুক লাইভে গিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করা চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক রাসেল ইকবাল। ছবি: নিউজবাংলা

বাঁশখালী থানার ওসি কামাল উদ্দিন বলেন, ‘রাসেলকে শুক্রবার গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। চিকিৎসা শেষ হলে তাকে আদালতে হাজির করা হবে। রাসেল ইকবাল ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, সাক্ষী-প্রমাণও পাওয়া গেছে। তিনি পুলিশকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে থানায় ঢুকে আত্মহত্যার অভিনয় করেন। তবে কাজ হয়নি। এই মামলায় আরও সাক্ষী ও প্রমাণ সংগ্রহ এবং তদন্ত চলছে।’

বাবাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে চট্টগ্রামের বাঁশখালী থানায় ঢুকে ফেসবুকে লাইভ করে বিষপান করা সেই ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার রাসেল ইকবাল চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক। তিনি বাঁশখালীর শীলকূপ ইউনিয়নের মনছুরিয়া বাজার এলাকার সিদ্দিক আহমদের ছেলে।

গত বুধবার বাঁশখালী উপজেলার শীলকূপ ইউনিয়নের মনছুরিয়া বাজার সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে মারামারিতে দুজন নিহত ও তিনজন আহত হয়। ঘটনার পরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে সিদ্দিক আহমদ নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে।

সেদিন বিকেলে গ্রেপ্তার ব্যক্তির ছেলে রাসেল ইকবাল বাবাকে আটকের প্রতিবাদে থানায় ঢুকে ফেসবুকে লাইভে গিয়ে বিষপান করেন। এ ঘটনায় বাঁশখালীতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

বিষপানের পর থেকে চিকিৎসাধীন থাকা রাসেলকে শুক্রবার গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। তিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তাকে পুলিশ আবদুল খালেক ও সুলতান মাহমুদ টিপু হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৪ নম্বর আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখায়।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক রাসেল ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় বলে দাবি করলেও নিহতদের পরিবারের দাবি, রাসেল ও তার লোকজনের হাতেই খুন হয়েছেন আবদুল খালেক ও সুলতান মাহমুদ টিপু।

পুলিশ জানায়, মামলা থেকে বাঁচতেই রাসেল বিষপান ও আত্মহত্যার অভিনয় করেন।

তবে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ পাওয়ার পরই গ্রেপ্তার করা হেছ বলে দাবি করেছে পুলিশ।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল উদ্দিন বলেন, ‘রাসেলকে শুক্রবার গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। চিকিৎসা শেষ হলে তাকে আদালতে হাজির করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাসেল ইকবাল ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, সাক্ষী-প্রমাণও পাওয়া গেছে। তিনি পুলিশকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে থানায় ঢুকে আত্মহত্যার অভিনয় করেন। তবে কাজ হয়নি। এই মামলায় আরও সাক্ষী ও প্রমাণ সংগ্রহ এবং তদন্ত চলছে।’

আরও পড়ুন:
হোটেল সফিনায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে
আড়াই ঘণ্টা পর কয়েল কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে
প্যাকেজিং ফ্যাক্টরির আগুন নিয়ন্ত্রণে
গফুর টাওয়ারের আগুন নিয়ন্ত্রণে
মাইসাহেবা মসজিদে আগুন, পুড়ল সিসিটিভি কক্ষ

শেয়ার করুন

‘চক্রান্তকারীদের বিষদাঁত তুলে ফেলা হবে’

‘চক্রান্তকারীদের বিষদাঁত তুলে ফেলা হবে’

হাজীগঞ্জে হামলার শিকার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ অসম্প্রদায়িক রাজনৈতিতে বিশ্বাস করে। দেশকে অস্থিতিশীল করতে দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীরা অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিষদাঁত তুলে ফেলা হবে। কোন অবস্থাতে ছাড় দেয়া হবে না।’

দেশকে অস্থিতিশীল করতে দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীরা অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। চক্রান্তকারীদের বিষ দাঁত তুলে ফেলা হবে বলে জানিয়েছেন চাঁদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম।

শুক্রবার বিকেল চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে হামলার শিকার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের খোঁজ-খবর নেন এবং হামলার ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন।

মেজর রফিক বলেন, ‘হাজীগঞ্জে ১৫০ বছরে এমন ঘটনা ঘটেনি। হামলাকারীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ নিয়ে কাজ করছে। তদন্তের স্বার্থে এখানে অনেক কথা বলা যাচ্ছেনা। আওয়ামী লীগ হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ অসম্প্রদায়িক রাজনৈতিতে বিশ্বাস করে। দেশকে অস্থিতিশীল করতে দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীরা অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিষদাঁত তুলে ফেলা হবে। কোন অবস্থাতে ছাড় দেয়া হবে না।’

হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

রফিকুল ইসলাম বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার রামপুর এলাকার চৌধুরী বাড়ি পূজামণ্ডপ, হাজীগঞ্জ বাজার এলাকার লক্ষ্মীনারায়ণ জিউর আখড়া, পৌর শশ্মানঘাট মন্দির, বিবেকানন্দ বিদ্যাপীঠ মন্দির পরিদর্শন করেন।

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন হাজীগঞ্জ পৌর মেয়র আ স ম মাহবুব উল আলম লিপন, শাহরাস্তি উপজেলা চেয়ারম্যান নাছরিন জাহান শেফালী, শাহরাস্তি পৌর মেয়র আব্দুল লতিফ, হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার, আওয়ামী লীগ নেতা আহসান হাবীব অরুন, সৈয়দ আহমেদ খসরুসহ অনেকে।

হাজীগঞ্জে পূজামণ্ডপ ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ১০টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ দুটি, আটটি মামলা করেছে ক্ষতিগ্রস্ত পূজামণ্ডপ কর্তৃপক্ষ। এসব মামলায় এজাহারভুক্ত সাত জনসহ আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় প্রায় পাঁচ হাজার জনকে।

এসব মামলায় শুক্রবার পর্যন্ত ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
হোটেল সফিনায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে
আড়াই ঘণ্টা পর কয়েল কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে
প্যাকেজিং ফ্যাক্টরির আগুন নিয়ন্ত্রণে
গফুর টাওয়ারের আগুন নিয়ন্ত্রণে
মাইসাহেবা মসজিদে আগুন, পুড়ল সিসিটিভি কক্ষ

শেয়ার করুন

পীরগঞ্জ হামলার মাস্টারমাইন্ড কে?

পীরগঞ্জ হামলার মাস্টারমাইন্ড কে?

পীরগঞ্জের করিমপুরে হিন্দুপল্লিতে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি বাড়ি। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয়রা জানান, প্রথমে ব্রিজের কাছে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ শুরু হলেও পরে একে একে সব বাড়িতে তাণ্ডব চলে। তবে কার নেতৃত্বে এই তাণ্ডব শুরু হয়, সেটি বোঝা যায়নি।  

পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দু গ্রামে সাম্প্রদায়িক হামলার মূল পরিকল্পনায় কারা ছিলেন, সেটি এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তবে ঘটনাস্থল থেকে ২০০ গজ দূরেই পাশের বটতলা মসজিদের ইমাম রবিউল ইসলামকে খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। হামলার পর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন তিনি। বাড়িতেও কেউ নেই।

প্রতিবেশীরা বলছেন, হামলার পর থেকেই রবিউলের বাড়ির সব সদস্য গা ঢাকা দিয়েছেন।

দুই বছর ধরে ওই মসজিদে ইমামতি করছিলেন রবিউল। তাকে গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করার কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

স্থানীয়রা জানান, রোববার মাগরিবের নামাজের পর ঘটনাস্থলের দক্ষিণ পাড়ায় ফেসবুকে ধর্ম অবমাননায় অভিযুক্ত পরিতোষের বাড়িতে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পুলিশ ও স্থানীয় চেয়ারম্যানরা।

এ সময় মসজিদের মুয়াজ্জিন রাশেদসহ অনেকেই মসজিদের পাশে বটতলা বাজারে ছিলেন। রাশেদও সেদিন থেকে পলাতক রয়েছেন।

ঘটনার শুরু ফেসবুক থেকে

মেহেদী হাসান নামে স্থানীয় এক যুবক বলেন, ‘ঘটনার দিন রোববার সকালে একটি পেজে কমেন্ট করে পরিতোষ সরকার। এটি নজরে আসে খেজমতপুর বউবাজার এলাকার উজ্জ্বল হাসানের।

‘উজ্জ্বল ও পরিতোষ পূর্বপরিচিত। পরিতোষকে গালি দিয়ে ওই কমেন্ট ডিলিট করতে বলে উজ্জ্বল। এ নিয়ে ফোনে এবং কমেন্ট বক্সে দুজনের কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় কমেন্ট ডিলিট করবে না বলে জানায় পরিতোষ।’

তিনি বলেন, “ঘটনার পর উজ্জ্বল বলে, ‘সমস্যা নাই, স্ক্রিনশট রেখে দিছি। বাড়ি গেলে তোরে খেলা দেখাব। মুসলমানরা খেপে গেলে তোর ধর্ম উঠে যাবে। বাড়ি গেলে বটের হাটে সবচেয়ে বড় গাছে তোকে বেঁধে রাখব।’

উজ্জ্বল হাসানের মা রোজিনা খাতুন দাবি করেন, ঘটনার আগের দিন শনিবার দিনাজপুরের বীরগঞ্জে চাকরিতে যোগ দেন উজ্জ্বল। সেখানে কারিগরি প্রশিক্ষণ দেন তিনি। সেখান থেকে ফেসবুকে এসব দেখে শেয়ার দেন উজ্জ্বল।

স্থানীয়রা জানান, রোববার সকালে পরিতোষের ওই কমেন্ট উজ্জ্বল হাসান তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার দেন। সেখান থেকে মুহূর্তেই শত শত শেয়ার হতে থাকে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা ছড়ায়।

করিমপুর হাজিপাড়ার মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ফেসবুকে পরিতোষের ছবি নিয়া বিকাল থাকি উত্তেজনা। সন্ধ্যার পর উত্তেজনা আরও বাড়ে। এ সময় আশপাশের কিছু ছেলে পরিতোষের বাড়ি ভাঙচুর করতে চায়। তবে এলাকাবাসী বাধা দেয়।’

তিনি বলেন, ‘এ সময় চেয়ারম্যান সাদেকুল ইসলামকে খবর দেয়া হয়। পরে ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকেও খবর দেয়া হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পুলিশ, বিজিবি ও ইউএনও আসেন। তারা উত্তেজিত জনতার সঙ্গে কথা বলেন। এমন করতে করতে রাত সাড়ে ৮টা পার হয়। প্রশাসন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিতোষকে গ্রেপ্তারের কথা বলে। মানুষজন শান্ত হয়।’

কীভাবে হামলা হলো হিন্দুপল্লিতে

স্থানীয়রা জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে রামনাথপুরের করিমপুর দক্ষিণ পাড়ায় (হাজিপাড়া) পরিতোষের বাড়িতে ছিল প্রশাসনের লোকজন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে তাদের সঙ্গে কথা বলছিলেন তারা। এ সময় হঠাৎ উত্তর পাড়ার হিন্দুপল্লির দিকে আগুন দেখা যায়।

তারা জানান, বটতলা মসজিদের পাশে ব্রিজের কাছেই রুহিনী চন্দ্র দাসের বাড়িতে গিয়ে প্রথমে পরিবারের সদস্যদের মারধর করে ভাঙচুর করা হয়। এরপর ভাঙচুর করা হয় ভবেশ চন্দ্র দাসের বাড়িতে। অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরে অংশ নেয় শত শত হামলাকারী।

পীরগঞ্জ হামলার মাস্টারমাইন্ড কে?
সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন বটের হাট জামে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয়রা জানান, প্রথমে ব্রিজের কাছে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ শুরু হলেও পরে একে একে সব বাড়িতে তাণ্ডব চলে। তবে কার নেতৃত্বে এই তাণ্ডব শুরু হয়, সেটি বোঝা যায়নি।

রুহিনী চন্দ্র দাস বলেন, ‘আমার বাড়িতে যখন ভাঙচুর করে তখন পালায়ে যাই। রাস্তাত দেখি শোঠা পীরের ওই দিক থেকেও লোক আসতেছে।’

করিমপুর দক্ষিণ পাড়ায় (হাজিপাড়া) যেখানে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবস্থান নিয়েছিল, সেখান থেকে ঘটনাস্থল উত্তর পাড়ার মধ্যে রয়েছে বিশাল ধানক্ষেত। এর দূরত্ব ২৫০ মিটার। পায়ে হেঁটে ঘটনাস্থলে আসতে সময় লাগবে অন্তত ৫ মিনিট।

প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ব্যক্তি জানান, হিন্দুপল্লিতে আগুন দেয়ার পর দূর থেকেই রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে অতিরিক্ত পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বিকেল থেকেই আসতে থাকে মোটরসাইকেল

রামনাথপুরে ঢোকার মুখে পীরগঞ্জের খেজমতপুরের ঘেগার তলে মুদি ব্যবসা করেন ফিরোজ কবির।

তিনি বলেন, ‘রোববার বিকাল হতে না হতে অনেক মোটরসাইকেল যাওয়া শুরু করে। আমরা বলি এত গাড়ি যায় কই। সন্ধ্যার পর আরও বেশি যাওয়া শুরু করে। আমি তো এই মোড়ে ব্যবসা করি। তিন গ্রামের মানষোক চিনি। তবে যারা গেছে তাদের চিনি নাই। যারা গেছে তারা আমাদের গ্রামের লোক নয়।’

বড় মজিদপুর দক্ষিণ পাড়ার মুদি দোকানি মাহবুব রহমান বলেন, ‘এত মোটরসাইকেল সেই দিন কুটি থাকি আইচচে বলতে পারি না। লোকগুলেক আগে দেকিও নাই। কেম্বা অপরিচিত লাগছিল।’

বটতলা বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী মোস্তফা বলেন, ওই দিন হাটের দিন হওয়ায় শত শত মানুষ ব্রিজের কাছে বটতলা বাজারে অবস্থান নেন।

তারা মোটরসাইকেল ও অটোরিকশায় এসেছিলেন। অনেকেই দোকানের সামনে মোটরসাইকেল রাখছিল।

হামলা ঠেকাতে পারেননি ইউপি চেয়ারম্যানও

রামনাথপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাদেকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি অসহায় ভাই। অনেক চেষ্টা করেছি যেন কোনো সমস্যা না হয়। তবে শেষ পর্যন্ত পারিনি।’

রিমান্ডে ৩৭ জন

পীরগঞ্জে সাম্প্রদায়িক হামলার তিন মামলায় এখন পর্যন্ত ৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মামলায় ৩৭ আসামিকে বৃহস্পতিবার তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

বাহিনীটির একটি সূত্র জানিয়েছে, রিমান্ডে থাকা অনেকেই হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

আরও পড়ুন:
হোটেল সফিনায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে
আড়াই ঘণ্টা পর কয়েল কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে
প্যাকেজিং ফ্যাক্টরির আগুন নিয়ন্ত্রণে
গফুর টাওয়ারের আগুন নিয়ন্ত্রণে
মাইসাহেবা মসজিদে আগুন, পুড়ল সিসিটিভি কক্ষ

শেয়ার করুন

ট্রেনে কাটা পড়ে মা-ছেলে নিহত, আহত ২ 

ট্রেনে কাটা পড়ে মা-ছেলে নিহত, আহত ২ 

প্রতীকি ছবি

স্থানীয়রা জানান, সারামণি ও আজগর আলী তাদের দুই ছেলেকে নিয়ে মোটরসাইকেলে হাতিলা এলাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে হাতিলা রেলক্রসিং পাড় হওয়ার কুরিগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনটি তাদের ধাক্কা দেয়। ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান সারামণি ও তার ছোট ছেলে আইয়ান।

টাঙ্গাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে এক নারী ও তার ছেলে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ওই নারীর স্বামী ও আরেক ছেলে।

সদর উপজেলার হাতিলা রেলক্রসিং এলাকায় শুক্রবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত দুজন হলেন ২৫ বছরের সারামণি ও তার আড়াই বছরের ছেলে আব্দুর রহমান আইয়ান। আহত হয়েছেন সারামণির স্বামী আজগর আলী ও তাদের পাঁচ বছরের ছেলে আব্দুল্লাহ।

হতাহতদের বাড়ি বাসাইল উপজেলার ময়থা উত্তরপাড়া এলাকায়। তারা সদর উপজেলার করটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় ভাড়া থাকতেন।

স্থানীয়রা জানান, সারামণি ও আজগর আলী তাদের দুই ছেলেকে নিয়ে মোটরসাইকেলে হাতিলা এলাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে হাতিলা রেলক্রসিং পাড় হওয়ার কুরিগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনটি তাদের ধাক্কা দেয়। ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান সারামণি ও তার ছোট ছেলে আইয়ান।

ঘটনাস্থলেই মারা যান সারামণি ও তার ছোট ছেলে আইয়ান। আহত আজগর আলী ও আব্দুল্লাহকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে আজগরকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসক রাজিব পাল চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হাসপাতালে দুইজনকে আনা হয়েছিল। এদের মধ্যে আজগর আলীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আহত আব্দুল্লাহ সুস্থ আছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।’

টাঙ্গাইলের ঘারিন্দা স্টেশন মাষ্টার সোহেল খান বলেন, ‘কুড়িগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। ওই ট্রেনে কাটা পড়েই দুইজন মারা গেছে। মরদেহ রেলক্রসিং থেকেই তাদের স্বজনরা নিয়ে গেছেন।’

আরও পড়ুন:
হোটেল সফিনায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে
আড়াই ঘণ্টা পর কয়েল কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে
প্যাকেজিং ফ্যাক্টরির আগুন নিয়ন্ত্রণে
গফুর টাওয়ারের আগুন নিয়ন্ত্রণে
মাইসাহেবা মসজিদে আগুন, পুড়ল সিসিটিভি কক্ষ

শেয়ার করুন

লক্ষ্মীপুরের সেই তাহের বাদ, নৌকা পেলেন মাসুম

লক্ষ্মীপুরের সেই তাহের বাদ, নৌকা পেলেন মাসুম

আবু তাহের (বাঁয়ে), মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া। ছবি: সংগৃহীত

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু জানান, লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করাই হলো এখন মূল কাজ। বিতর্কিত কাউকে মনোনয়ন না দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন দলীয় নেতা-কর্মীরা।

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে আলোচনায় আসা লক্ষ্মীপুরের সেই আবু তাহেরকে এবার পৌরসভার মেয়র পদে মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ। এ পদে দল এবার আস্থা রেখেছে জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়ার ওপর।

শুক্রবার বিকেলে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়ার সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে দলটির স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হয়।

আগামী ২৮ নভেম্বর লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় ভোট।

দলের নেতা-কর্মীরা জানান, আবু তাহের লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। দলীয় মনোনয়নে লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় টানা দুবার মেয়র নির্বাচিত হন তিনি।

দলীয় সূত্র জানায়, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আবু তাহের লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আইনজীবী নুরুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় তিনি সারা দেশে আলোচনায় আসেন।

গত ১০ ডিসেম্বর পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়নের জন্য আবু তাহেরের নাম বাদ দিয়ে ১০ নেতার নাম কেন্দ্রে জমা দেয় জেলা আওয়ামী লীগ। তাহেরকে পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়ন না দেয়ার অনুরোধ করে দলের সভাপতির কাছে চিঠি দেন জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।

সাবেক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সাংসদ এ কে এম শাহজাহান কামাল ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক নুরউদ্দীন চৌধুরীসহ চার নেতা চিঠিতে সই করেন।

এ বিষয়ে একাধিকবার আবু তাহেরের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দলীয় মনোনয়ন চেয়ে তিনি পাননি। সেটা দলের সিদ্ধান্ত। এর বাইরে কোনাে কথা বলতে রাজি হননি কেউ।

মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া জানান, দল এবার তাকে মূল্যায়ন করেছে। দলের দুঃসময়ে নেতা-কর্মীদের পাশে ছিলেন। এ ছাড়া আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে থেকে সব কর্মসূচি পালন করেছেন। যখন যেভাবে সুযোগ পেয়েছেন এলাকার উন্নয়নে কাজ করেছেন।

নির্বাচনে বিজয়ী হলে লক্ষ্মীপুরের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবেন তিনি।

মাসুম জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি প্রয়াত আ ন ম ফজলুল করিমের ভাগনে।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু জানান, লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করাই হলো এখন মূল কাজ। বিতর্কিত কাউকে মনোনয়ন না দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন দলীয় নেতা-কর্মীরা।

আরও পড়ুন:
হোটেল সফিনায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে
আড়াই ঘণ্টা পর কয়েল কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে
প্যাকেজিং ফ্যাক্টরির আগুন নিয়ন্ত্রণে
গফুর টাওয়ারের আগুন নিয়ন্ত্রণে
মাইসাহেবা মসজিদে আগুন, পুড়ল সিসিটিভি কক্ষ

শেয়ার করুন

‘ইয়াবা সেবন নিয়ে তর্কের জেরে বন্ধুকে কুপিয়ে হত্যা’

‘ইয়াবা সেবন নিয়ে তর্কের জেরে বন্ধুকে কুপিয়ে হত্যা’

নিহত সাজ্জাদ হোসেন তাপস। ছবি: নিউজবাংলা

গাজীপুর নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য ছায়াবীথি এলাকায় শুক্রবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে একে অপরকে কুপিয়ে জখম করেন দুই বন্ধু। পরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১২টার দিকে মারা যান তাপস। আর পুলিশ প্রহরায় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন শেখর।

গাজীপুরে ইয়াবা সেবনকে কেন্দ্র করে তর্কের জেরে বন্ধুর হাতে একজন খুন হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন অভিযুক্তও।

নিহত ব্যক্তির নাম সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন তাপস। তার বয়স ৫০ বছর। আর অভিযুক্ত ৪৭ বছরের শেখর দাস। তারা দীর্ঘদিনের বন্ধু।

গাজীপুর নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য ছায়াবীথি এলাকায় শুক্রবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে একে অপরকে কুপিয়ে জখম করেন তারা। পরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১২টার দিকে মারা যান তাপস।

আর পুলিশ প্রহরায় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন শেখর।

নিউজবাংলাকে শুক্রবার সন্ধ্যায় এসব নিশ্চিত করেছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম।

নিহতের স্বজনদের বরাতে তিনি বলেন, ‘তাপস ও শেখর দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবায় আসক্ত। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাপসের বাসায় আসেন শেখর। রাতভর তারা ইয়াবা সেবন করেন।

‘ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ইয়াবা সেবন নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে তর্ক বাধে। একপর্যায়ে তাপস তার ঘরে থাকা চাপাতি দিয়ে শেখরকে আঘাত করেন। জবাবে শেখর সেই অস্ত্র কেড়ে নিয়ে তাপসকে এলোপাতাড়ি কোপান।’

ওসি আরও বলেন, ‘চিৎকার শুনে বাড়ির লোকজন আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তাপসের অবস্থার অবনতি হলে উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে দুপুর ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শেখরকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।’

তাপসের মরদেহ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় তাপসের পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানান ওসি রফিকুল ইসলাম।

আরও পড়ুন:
হোটেল সফিনায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে
আড়াই ঘণ্টা পর কয়েল কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে
প্যাকেজিং ফ্যাক্টরির আগুন নিয়ন্ত্রণে
গফুর টাওয়ারের আগুন নিয়ন্ত্রণে
মাইসাহেবা মসজিদে আগুন, পুড়ল সিসিটিভি কক্ষ

শেয়ার করুন