সরকার ব্যাংকিং ব্যবস্থা ফোকলা করে দিয়েছে: ফখরুল

সরকার ব্যাংকিং ব্যবস্থা ফোকলা করে দিয়েছে: ফখরুল

আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ব্যাংক থেকে আওয়ামী লীগের লোকজন ছাড়া কেউ লোন পায় না। ব্যাংকগুলোর পরিচালকরাও ওই দলের। ১০ কোটি টাকা লোন নিলে তাদের পাঁচ কোটি টাকা ঘুষ দিতে হয়। আর বাকি পাঁচ কোটি ফেরত দিতে হয় না। কারণ আওয়ামী লীগের হুকুমে হয়েছে।’

সরকার আমাদের ব্যাংকিং ব্যবস্থা এক্কেবারে ফোকলা করে দিয়েছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ১০ কোটি টাকা লোন নিতে ঘুষ দিতে হয় ৫ কোটি।

বিএনপি’র সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান আইনজীবী আফসার আহমদ সিদ্দিকী’র ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটের (ডিআরইউ) কার্যালয়ে বুধবার এ আয়োজন করা হয়।

সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার দেশের ব্যাংকগুলো সম্পূর্ণভাবে লুট করে নিয়েছে। প্রত্যেকটি ব্যাংক আজ বিপদগ্রস্ত। আমার এক বন্ধু ব্যাংকে বড় দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেছেন, যারা ব্যাংকে টাকা রাখেন তারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রতিটি ব্যাংকই প্রায় ক্রাফট হয়ে যাওয়ার অবস্থা।’

তিনি বলেন, ‘ব্যাংক থেকে আওয়ামী লীগের লোকজন ছাড়া কেউ লোন পায় না। ব্যাংকগুলোর পরিচালকরাও ওই দলের। ১০ কোটি টাকা লোন নিলে তাদের পাঁচ কোটি টাকা ঘুষ দিতে হয়। আর বাকি পাঁচ কোটি ফেরত দিতে হয় না। কারণ আওয়ামী লীগের হুকুমে হয়েছে। হলমার্কসহ সব দুর্নীতির ঘটনায় চরমভাবে লুট হয়েছে। কারণ সরকার প্রধান বলেছেন, যে যা পারো খেয়ে ফেল।

‘দেশে যেমন বর্গীরা এসে সব সম্পদ লুট করে নিয়ে যায়, এই সরকারও সেরকম একটা অবস্থা তৈরি করেছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বর্তমানে আমরা একটি ভয়ঙ্কর দুঃসময় অতিক্রম করছি। এখানে আমরা যারা আছি তারা অনেকেই স্বাধীনতাযুদ্ধের সঙ্গে ছিলাম। তখন আমরা চিনতাম আমাদের শত্রু কে। আমরা সবাই এক হয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। আমাদের একটিই লক্ষ্য ছিল, পাকিস্তানীদেরকে সরাতে হবে, তাদের বিরুদ্ধে জিততে হবে।

‘অথচ আজকে যাদের যুদ্ধে যাওয়ার সময়, সংগ্রাম করার সময়, যারা এ অন্ধকারকে দূর করে আলো নিয়ে আসবে তারা কোথায়? সেই তরুণরা কোথায়? তাদেরতো সমানে আসতে হবে। প্রতিটি সংগ্রামে তাদের নেতৃত্ব দিতে হবে। ’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশের যে অবস্থা করেছে সেটি বারবার বলতে আর ভালো লাগে না। শেষ করে দিয়েছে সব কিছু। কোনো কিছুই অবশিষ্ট রাখেনি। শ্বাসরুদ্ধকর একটি পরিবেশ তৈরি করেছে।

দেশে আমরা কেউ নিরাপদ নই। প্রতিদিন পত্রিকা খুললেই দেখবেন হত্যা, খুন, জখম, ধর্ষণ, ছিনতাই, দুর্নীতির খবর। এখন নতুন করে বের হচ্ছে ই-কমার্সের লুট করার খবর। ই-কমার্সে যারা লুট করছে তারা কারা? কাদের আশ্রয়ে তারা লুট করছে? কারা তাদের প্রটেকশনটা দিচ্ছে? এর সঙ্গেও আওয়ামী লীগের লোকেরাই জড়িত।’

আফসার আহমদ সিদ্দিকী’র কথা স্মরণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ব্যতিক্রমী রাজনীতিবিদ ছিলেন আফসার উদ্দিন আহমেদ। সম্ভবত তাদের সময়ের রাজনীতিবিদরা সমাজ পরিবর্তনের চিন্তা করতেন। কৃষক, শ্রমিক মজুরদের ভাগ্যের পরিবর্তনের কথা চিন্তা করতেন। কিন্তু বর্তমানে রাজনৈতিক চিন্তা-ভাবনা বদলে গেছে।

‘এখন রাজনীতি হচ্ছে পদ চাই, পদবী চাই আর বাড়ি-গাড়ি চাই। টাকা পয়সা কিভাবে অর্জন করব সেগুলো দরকার। এ দিয়ে কোন পরিবর্তন হয় না। পরিবর্তন আনতে হলে আফসার সিদ্দিকির মতো ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। ভোগ বিলাশ করে সমাজের পরিবর্তন আনা যায় না। যারা বিলিয়ে দিতে জানে তাদের হাত ধরেই সমাজের পরিবর্তন আসে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ছাত্রদল থেকে অনুপ্রবেশ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে বহিষ্কার

ছাত্রদল থেকে অনুপ্রবেশ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে বহিষ্কার

সদ্য বহিস্কার হওয়া গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল মেহেদী রাসেল। ছবি: নিউজবাংলা

স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুল হক আজিজ মুঠোফোনে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাসেল মূলত জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। তিনি মুজিব আদর্শের সৈনিক নন। তিনি বিভিন্ন অপরাধ থেকে বাঁচতে ছাত্রদল থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগে ঢুকে পড়েন।’

ছাত্রদল থেকে আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগে অনুপ্রবেশ করায় আব্দুল্লাহ আল মেহেদী রাসেলকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের দপ্তর সম্পাদক আজিজুল হক আজিজ স্বাক্ষরিত অব্যাহতিপত্রে ২০ অক্টোবর রাতে এই ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

রাসেল গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।

ওই চিঠিতে বলা হয়, রাসেলের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও গঠনতন্ত্র বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এতে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

চলতি মাসে সংগঠনটির জেলা সভাপতি ও সম্পাদকের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

এ বিষয়ে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুল হক আজিজ মুঠোফোনে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাসেল মূলত জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। তিনি মুজিব আদর্শের সৈনিক নন। তিনি বিভিন্ন অপরাধ থেকে বাঁচতে ছাত্রদল থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগে ঢুকে পড়েন।’

এসব কারণে রাসেলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

ছাত্রদল থেকে অনুপ্রবেশ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে বহিষ্কার

রাসেল ২০০১ সালে বামনডাঙ্গা আঞ্চলিক ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ২০০৩ সালে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন বলে জানা গেছে।

২০১০ সালে স্থানীয় আজেপাড়া দাখিল মাদ্রাসায় কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুরের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়।

শেয়ার করুন

ফেতনা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান: তথ্যমন্ত্রী

ফেতনা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান: তথ্যমন্ত্রী

সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে সাংবাদিকদের সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। ছবি: নিউজবাংলা

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইসলামের মূল মর্মবাণী হচ্ছে শান্তি। ইসলামের মূল মর্মবাণী হচ্ছে সম্প্রীতি। ইসলামের মূল মর্মবাণী হচ্ছে সৌহার্দ্য। সেই মূল মর্মবাণী ধারণ করে যারা এই হানাহানি সৃষ্টি করতে চায়, যারা ফেতনা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে।’  

ধর্মের নামে ফেতনা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাজধানীর রমনায় বুধবার সকালে আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার উদ্যোগে জশনে জুলুসে ইসলাম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে উপমহাদেশে ইসলামের প্রসার নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এই ভারতীয় উপমহাদেশে কোনো যুদ্ধবিগ্রহের মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয় নাই। এই উপমহাদেশে আমাদের দেশে অলি-আউলিয়াদের মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারা মানুষকে ভালোবাসা দিয়ে, মানুষকে বুঝিয়ে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে এনেছে এই জনপদে। তাদের মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

‘যারা তাদের বিরুদ্ধে কথা বলে, তারা ফেতনা সৃষ্টিকারী। যারা ইসলামের কথা বলে হানাহানিতে লিপ্ত হয়, তারা ফেতনা সৃষ্টিকারী। যারা ইসলামের কথা বলে অন্য ধর্মাবলম্বীদের ওপর আক্রমণ করে, তারাও ফেতনা সৃষ্টিকারী।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আপনাদের মাধ্যমে আহ্বান জানাব নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ না রেখে, নিজেদের মধ্যে ফেতনা সৃষ্টি না করে ইসলামের কথা বলে দেশে বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি করার উদ্দেশ্যে ধর্মকে ব্যবহার না করার অনুরোধ করছি।’

পৃথিবীতে মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘নিজেদের ঐক্য-সংহতির মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের অধিকার যাতে প্রতিষ্ঠিত হয়, নিজেদের মধ্যে ঐক্য-সংহতির মাধ্যমে মিয়ানমারের মুসলমানরা আজকে যারা বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে এসেছে, তারা যেন পূর্ণ অধিকার নিয়ে আবার মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারে, সেই লক্ষ্যে আমাদের কাজ করা দরকার। পৃথিবীর অন্য জায়গায় যেখানে মুসলমাদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে, সেগুলো বন্ধ করার জন্য আল্লাহর কাছে আজকে ফরিয়াদ করব।’

তিনি বলেন, ‘ইসলামের মূল মর্মবাণী হচ্ছে শান্তি। ইসলামের মূল মর্মবাণী হচ্ছে সম্প্রীতি। ইসলামের মূল মর্মবাণী হচ্ছে সৌহার্দ্য।

‘সেই মূল মর্মবাণী ধারণ করে যারা এই হানাহানি সৃষ্টি করতে চায়, যারা ফেতনা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘ইসলাম ধর্ম সমস্ত ব্যাপারে কত উদার, কত মানবিক এবং কত বাস্তবসম্মত, সেগুলো আমাদের আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আমরা যেন পৃথিবীবাসীর কাছে তুলে ধরতে পারি। ইসলামের নাম নিয়ে যারা ইসলামকে ধ্বংস করতে চায় তারা প্রতিহত হবে।’

শেয়ার করুন

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সরকারের কঠোর সমালোচনায় রিজভী

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সরকারের কঠোর সমালোচনায় রিজভী

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দোয়া মাহফিলে রুহুল কবির রিজভী। ছবি: নিউজবাংলা

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘শেখ হাসিনা চালের দাম, লবনের দাম, পেঁয়াজের দাম, ডালের দাম বাড়াবেন আর তার সিন্ডিকেটদের পকেট ফুলবে। এর মধ্য দিয়ে তার ময়ুরসিংহাসন টিকে থাকবে এটাই হচ্ছে শেখ হাসিনার অভিপ্রায়। তার সিন্ডিকেটকে সুযোগ দিতে জনগণের দৃষ্টি চৌমুহনীতে, হাজীগঞ্জে, চট্টগ্রাম ও পীরগঞ্জে নিয়ে যাচ্ছেন মন্ত্রীরা।’

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বুধবার দুপুরে বিএনপির আয়োজনে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি সরকারের সমালোচনা করেন।

এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘সয়াবিন তেল এক লাফে লিটারে ৭ টাকা বেড়ে ১৬০ টাকা হয়েছে। ওবাদুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী বাজার মনিটরিং করছেন।

‘এই মনিটরিং করতে গিয়েই চালের দাম, ডালের দাম হু হু করে বাড়ছে। এটিই হচ্ছে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক অপকৌশল। রংপুর পুড়ছে চৌমহন ও হাজীগঞ্জ পুড়ছে। এর মধ্য দিয়েই তিনি তার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন।’

রিজভী বলেন, ‘শেখ হাসিনা মনে করেন আমি চালের দাম, লবনের দাম, পেয়াজের দাম, ডালের দাম বাড়াবো, আর আমার সিন্ডিকেটরা পকেট ফোলাবে। এর মধ্য দিয়ে সরকারের ময়ুরের সিংহাসন টিকে থাকবে এটাই হচ্ছে শেখ হাসিনার অভিপ্রায়।

‘তার সিন্ডিকেটকে সুযোগ করে দিতে তিনি জনগণের দৃষ্টি চৌমুহনীতে, হাজীগঞ্জে, চট্টগ্রাম ও পীরগঞ্জে নিয়ে গেছেন। আর ওবায়দুল কাদেরসহ অন্য মন্ত্রীদের উনি বলে রেখেছেন, তোমরা জনগণকে এগুলো নিয়ে ব্যস্ত রাখো। সেই কাজটা তারা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে করে যাচ্ছেন।’

কুমিল্লার পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘কুমিল্লাবাসী ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনও বলছে তারা নিরাপত্তার জন্য জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছে। বলেছিলাম। কিন্তু যথাসময়ে সাড়া না দিয়ে তারা অনেক দেরিতে এসেছে। এ নিয়ে পত্রপত্রিকায়ও লেখালেখি হচ্ছে। অন্যদিকে একের পর এক বিএনপি’র নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন। সাড়া দেশ পুড়ছে আর তিনি ভানুর মতো শুধু দেখছেন।িউনি ভাবছেন, আমার বাড়ি আমি দেখবো না। বাংলাদেশকে নিজের জমিদারিতে পরিণত করেছেন তিনি। আবার বলছেন, তিনি না দেখলে কে দেখবেন। একটা ভয়ঙ্কর মিথ্যার ওপর দিয়ে তারা বসবাস করছেন। অন্যকে বলেছেন মিথ্যেবাদী।

‘উনি যদি আসলেই নামাজ পড়তেন, রাসুল (সা.) এর কয়েকটি বাণী যদি আয়ত্ত্ব করতেন হৃদয় দিয়ে তাহলে তিনি আজকে নিষ্ঠুর ফ্যাসিস্ট এর মত হতেন না। তিনি জালেম সরকারের প্রধান শাসক হতেন না। এটাতো উনি ধারণ করেননি। উনি ধারণ করেছেন, নির্বাচন আগে বোরকা পড়া, হাতে তজবি নেয়া, যার সবটাই ভণ্ডামি।’

রিজভী বলেন, ‘গুম-খুনের রাজনীতিতে, আজকে মিথ্যাচারের রাজনীতিতে আমরা প্রত্যেকে প্রশিক্ষিত হলে এ সরকার বেশি দিন টিকতে পারবে না। আদর্শের কাছে, ন্যায়ের কাছে, ইনসাফের কাছে, সুশাসনের কাছে, নীতির কাছে কখনোই জুলুমকারীরা টিকে থাকতে পারে না। টিকে থাকতে সরকার একটি গভীর নীলনকশা বাস্তবায়ন করছে।’

ওলামা দলের আহ্বায়ক হাফেজ মাওলানা শাহ মোহাম্মাদ নেছারুল হকের সঞ্চালনায় দোয়া মাহফিলে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরাফত আলী সপু ও চিকিৎসক রফিকুল ইসলামসহ অনেকেই বক্তব্য দেন।

শেয়ার করুন

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার দায় বিএনপির: কাদের

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার দায় বিএনপির: কাদের

বিএনপিকে ‘রাজনৈতিকভাবে সাম্প্রদায়িক’ উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘তারা সংখ্যালঘুদের শত্রু মনে করে। তারা ভেবেছে, পূজামণ্ডপে হামলা করলে সরকারের ওপর হিন্দু সম্প্রদায়ের অনাস্থা বাড়বে। আর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিরাজমান বন্ধুত্ব নষ্ট হবে।’

শারদীয়া দুর্গাপূজায় দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ও পূজার পর বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক হামলার জন্য বিএনপি ও তার মিত্রদের দায়ী করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

ঢাকার নিজ বাসভবনে বুধবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘ধর্মকে যারা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য ব্যবহার করে, তারাই পরিকল্পিতভাবে বিভাজন তৈরি করতে চায়।’

বিএনপি নেতারা ‘মিথ্যাচারকে শিল্পে রূপ দিয়েছেন’ বলে মন্তব্য করেন ক্ষমতাসীন দলটির সাধারণ সম্পাদক।

কাদের বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক হামলায় নাকি সরকার জড়িত! আসলে ভিডিও ফুটেজে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসছে দেখে, তারা একচোখা দৈত্যের আচরণ শুরু করেছে।

বিএনপিকে ‘রাজনৈতিকভাবে সাম্প্রদায়িক’ উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘তারা সংখ্যালঘুদের শত্রু মনে করে। তারা ভেবেছে, পূজামণ্ডপে হামলা করলে সরকারের ওপর হিন্দু সম্প্রদায়ের অনাস্থা বাড়বে। আর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিরাজমান বন্ধুত্ব নষ্ট হবে।

‘যারা নিজেরা এদেশের স্বাধীনতা মেনে নিতে পারেনি, মেনে নিতে পারেনা উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি, তারাই জাতিকে বিভাজন করে দুর্বল করতে চায় এবং দেশের ইমেজ নষ্ট করতে চায়। আর এ বিভাজন রেখা তৈরি করতে চায় বিএনপি ও তার দোসররা।’

বিএনপির রাজনীতির সমালোচনা করে কাদের বলেন, ‘বিএনপির চরিত্র হচ্ছে, মুখে শেখ ফরিদ, বগলে ইট। তাদের কথায় পুষ্পবৃষ্টি হলেও অন্তর কদর্যে ভরা।

‘মসজিদগুলো মন্দির হয়ে যাবে, মসজিদে উলুধ্বনি হবে, এসব অপপ্রচার বিএনপি অতীতেও চালিয়েছে’ বলে জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। বলেন, ‘এসব অপকর্ম ও নির্জলা মিথ্যার পেটেন্ট একমাত্র বিএনপির।’

২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর সংখ্যালঘুদের ওপর বিএনপির নির্মমতা একাত্তরকেও হার মানিয়েছিল বলে মনে করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘এখনও তারা সাম্প্রদায়িক রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি।’

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী নিয়েও কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। দিনটি মুসলিম উম্মার জন্য পবিত্র এবং মহিমান্বিত জানিয়ে সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার মহানবীর যে অমর বাণী সেটা অক্ষরে অক্ষরে পালনের জন্য দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।’

সেই সঙ্গে শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সবাইকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান ওবায়দুল কাদের।

শেয়ার করুন

আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর তালিকায় ‘বিএনপি নেতা’

আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর তালিকায় ‘বিএনপি নেতা’

কুড়িগ্রামর নাগেশ্বরী উপজেলা কালীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপি সদস্যের তালিকায় আফতারুজ্জামান বাবুলের নাম। ছবি: নিউজবাংলা

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা-কর্মীর অভিযোগ, আফতারুজ্জামান বাবুল ইউনিয়ন বিএনপির সক্রিয় সদস্য। তবে বাবুলের দাবি, সব অভিযোগ মিথ্যা। এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

কুড়িগ্রামর নাগেশ্বরী উপজেলায় তৃতীয় দফার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন বিএনপির এক সদস্য।

এটি বাতিলের জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগ বরাবর আবেদন করেছেন তালিকায় থাকা দ্বিতীয় ব্যক্তি।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা-কর্মীর অভিযোগ, আফতারুজ্জামান বাবুল ইউনিয়ন বিএনপির সক্রিয় সদস্য। তবে বাবুলের দাবি, সব অভিযোগ মিথ্যা।

নেতা-কর্মী জানান, গত ১৭ অক্টোবর উপজেলার কালীগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাইয়ে সভা হয়।

এতে তৃণমূলের রায়ে ১৪ ভোট পেয়ে আফতারুজ্জামান বাবুল প্রথম হন। ১২ ভোট পেয়ে ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি জুলফিকার আলী সর্দার বাবু দ্বিতীয় ও ৭ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন নুর ইসলাম মিয়া।

এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আজিজুর রহমান বলেন, ‘এর জন্য দায়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান নেতৃত্ব। এটি কোনোভাবে মেনে নেয়ার মতো না।

‘ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পরোক্ষ ইশারায় বিএনপির সক্রিয় সদস্য আওয়ামী লীগের মনোনয়নে স্থান পেয়েছে। এতে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। আমরা ওই তালিকা থেকে আফতারুজ্জামান বাবুলের নাম বাদ দেয়ার আবেদন জানাচ্ছি।’

ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সহসভাপতি জুলফিকার আলী সর্দার বাবু বলেন, ‘বাবুল কালীগঞ্জ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির ১৪ নম্বর সদস্য। বিষয়টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ভালো করেই জানে। তারা সেদিন বর্ধিত সভায় চুপ থেকে তাকে প্রার্থী বাছাইয়ে অংশ নায়ের সুযোগ করে দিয়েছে।

‘সেদিন হাউসের অনেককে ম্যানেজ করে বিতর্কিত ওই ব্যক্তি তৃণমূলর রায় তার পক্ষ নেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর প্রতিবাদে আমি ওই তালিকা থেকে বাবুলর নাম কেটে পরীক্ষিত আওয়ামী লীগ সমর্থকদের নাম দেয়ার জন্য ১৮ অক্টোবর উপজেলা আওয়ামী লীগ বরাবর লিখিত আবেদন করেছি।’

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আফজালুল হক খোকা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বাবুল বিএনপির সদস্য হয়ে থাকলে তার নাম আওয়ামী লীগে কীভাবে এসেছে, সেটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আগের সভাপতি ও সম্পাদক ভালো জানেন।

‘আমরা এর জন্য দায়ী নই। বর্তমানে তার নাম ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগে আছে। আর এ কারণেই তিনি দলীয় প্রার্থী হতে চেষ্টা চালিয়েছেন।’

আফতারুজ্জামান বাবুল বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমি জীবনে কোনো দিন বিএনপি করিনি। বিএনপির তালিকায় কীভাবে নাম গেল, সেটা আমার জানা নেই। ছাত্রলীগের মাধ্যমে আমার রাজনৈতিক জীবন শুরু। ২০১৭ সালে আমি আওয়ামী লীগের গ্রাম কমিটির সদস্য হই। ২০১৮ সালে আমি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগে অন্তর্ভুক্ত হই।’

কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আছলাম হোসেন সওদাগর বলেন, ‘আফতারুজ্জামান বাবুলকে আমি আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবেই চিনি। তিনি ছাত্রলীগ করেছে। ২০০২ সালে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর ছিল।’

শেয়ার করুন

আ.লীগের শান্তি মিছিল লজ্জার: ফখরুল

আ.লীগের শান্তি মিছিল লজ্জার: ফখরুল

হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে শান্তি ও সম্প্রীতির শোভাযাত্রায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী। ছবি: নিউজবাংলা

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘অশান্তি ঘটালেন আপনারা, আগুন দিলেন আপনারা, মারলেন আপনারা, গুলি করলেন আপনারা এবং নিরীহ মানুষদের হত্যা করে আজকে শান্তি মিছিল বের করছেন। এর চেয়ে লজ্জার বিষয় আর কিছু হতে পারে না। এই আওয়ামী লীগ এটাই। এটাই আওয়ামী লীগের খাঁটি চরিত্র। এটাই তারা করে এসেছে জন্মের পর থেকে।’

হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগের সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী শান্তি মিছিলকে ক্ষমতাসীন দলের ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার’ উপায় হিসেবে দেখছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘এই আওয়ামী লীগ সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এ দেশে বিভাজন সৃষ্টি করছে এবং বিভাজন সৃষ্টি করে তারা এটাকে পুঁজি করে সেটাকে আবার তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে চাচ্ছে।

‘অশান্তি ঘটালেন আপনারা, আগুন দিলেন আপনারা, মারলেন আপনারা, গুলি করলেন আপনারা এবং নিরীহ মানুষদের হত্যা করে আজকে শান্তি মিছিল বের করছেন। এর চেয়ে লজ্জার বিষয় আর কিছু হতে পারে না। এই আওয়ামী লীগ এটাই। এটাই আওয়ামী লীগের খাঁটি চরিত্র। এটাই তারা করে এসেছে জন্মের পর থেকে।’

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে এক আলোচনায় বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।

আ.লীগের শান্তি মিছিল লজ্জার: ফখরুল

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা

এবারের পূজামণ্ডপে মানুষজনের কম উপস্থিতি ছিল উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘এই সাম্প্রদায়িক সমস্যা-সংকট সরকার তৈরি করেছে। এখানে দাদা (গয়েশ্বর চন্দ্র রায়) আছেন, দাদার বাড়িতে পূজা হয়েছে, সেই বাড়িতে আমরা গিয়েছিলাম। এর আগের বছর যখন গিয়েছি, তখন দেখেছি কী উৎসব কী আনন্দ! সেখানে কাছাকাছি আরো কয়েকটা পূজামণ্ডপে পূজা হচ্ছে, লোকজন রাস্তায় বোঝাই হয়ে ছিল।

‘এবার গিয়ে দেখলাম দাদার বাড়িতে ওইভাবে লোক নেই। কারণ, মানুষ ভয় পেয়ে গেছে, সেভাবে লোক আসছে না। পূজা সেভাবে হচ্ছে না।

‘ঢাকেশ্বরী মন্দিরেও আমি দেখেছি অনেক কম মানুষ। বনানীতে পূজামণ্ডপে গেছি। সেখানেও অনেক কম মানুষ। কেন? আমাদের অন্যতম ভাই, আমাদের পাড়া-প্রতিবেশী, আমাদের দেশের স্বাধীন নাগরিক তারা কোনো তাদের ধর্মের উৎসব পালন করতে পারবে না?’

সরকার হটানোর আহ্বান

ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যতদিন ক্ষমতায় থাকবে, ততদিন এ দেশের মানুষ অনেক বেশি কষ্ট পাবে। আমাদের অর্জনগুলো সব হারিয়ে যাবে। আমরা আরও বেশি নিচের দিকে নামতে থাকব। তাই আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে সব সচেতন মানুষ যারা আছি তাদের এই দানবীয় সরকারকে সরাতে হবে।’

সরকার পতনের দাবিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি নেতা বলেন, ‘সম্মিলিত প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, সাদা-কালো, বাম-ডান সবাইকে এক হয়ে এদের সরাতে হবে।

‘এদের সরিয়ে এখানে জনগণের একটা রাষ্ট্র নির্মাণ করতে হবে, জনগণের একটা সরকার তৈরি করতে হবে, জনগণের একটা বাসভূমি তৈরি করতে হবে। তাহলেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাহেবকে সবচেয়ে বেশি সম্মান প্রদর্শন করা হবে।’

দেশে গণতন্ত্র নেই অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, ‘গণতন্ত্র তারা নিজের হাতে শেষ করেছে ১৯৭৫ সালে এবং এবার ২০০৮ সাল থেকে শুরু করেছে।

‘বাংলাদেশের আত্মা হচ্ছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, গণতান্ত্রিক সমাজ, মুক্ত সমাজ। সেই আত্মাকে তারা ধ্বংস করছে পরিকল্পিতভাবে। তারা কথা বলতে দেয় না, লিখতে দেয় না।’

বিএনপির এই আয়োজন টেলিভিশনে বড়জোর দুই সেকেন্ড/তিন সেকেন্ড বা ১/২ মিনিট দেখানো যাবে, পত্রিকায় এক কলাম সংবাদ হবে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি নেতা। বলেন, ‘আমি বলি দোষ তাদের না। তাদের ম্যানজেমেন্ট, মালিক… যারা সবাই কোনো না কোনোভাবে সরকারের সঙ্গে জড়িত আছে। হয় ব্যবসা-বাণিজ্য বা অন্য কোনোভাবে অথবা সরকার তাদের নিয়ন্ত্রণ করছে। যদি কিছু লিখতে যায় সাংবাদিকের চাকরি চলে যায়, পত্রিকা বন্ধ হয়ে যায়।’

জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটির ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভা হয়।

সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে ও শামীমুর রহমান শামীমের পরিচালনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, পেশাজীবী নেতা গাজী আব্দুল হক, প্রকৌশলী মিয়া মুহাম্মদ কাইয়ুম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামও রাখেন।

শেয়ার করুন

পুলিশ সঠিক সময়ে আসেনি: রিজভী

পুলিশ সঠিক সময়ে আসেনি: রিজভী

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কর্মিসভায় বক্তব্য রাখেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি: নিউজবাংলা

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আপনারা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে রাজি নন। ফায়দা লুটতে আপনারা খাল কেটে কুমির আনছেন, একসময় সেই কুমির সবকিছু গ্রাস করবে, এটা টের পাচ্ছেন না। এই কুমির সরকারকে খেয়ে ফেলতে পারে। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগিয়ে, নানাভাবে উসকানি দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য বিনষ্ট করছেন। যে আগুন নিয়ে খেলছেন, সেই আগুনে সরকার ছারখার হয়ে যাবে।’

পুলিশ সঠিক সময়ে না আসায় কুমিল্লা, ফেনী, চাঁদপুর ও রংপুরে সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মঙ্গলবার বিকেলে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

সাম্প্রদায়িক সংঘাতের জন্য সরকার ও প্রশাসনকে দায়ী করে রিজভী বলেন, ‘কুমিল্লার জনগণ ঘটনার আগে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে বলেছিল, কিন্তু প্রশাসন সেটা করেনি। পুলিশ সঠিক সময়ে আসেনি বলেই সহিংস ঘটনা ঘটেছে কুমিল্লা, ফেনী, চাঁদপুর ও রংপুরে।’

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় মঙ্গলবার মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছিল ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল।

মিলাদ শেষে কর্মিসভায় রিজভী বলেন, ‘গণতন্ত্রের কথা আওয়ামী লীগের সহ্য হয় না। তার প্রমাণ ২০১৮ সালে দিনের বেলা ভোট করতে তারা সাহস পায়নি। রাতের নির্বাচন নিশ্চিত করতে তারা ১০ মাস আগে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দি করে। যে মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, তিনি তাতে জড়িত ছিলেন না।

‘তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে শেষ করতে সরকার সব আয়োজন সম্পন্ন করেছে। তাদের সেই নীলনকশা আমরা কেন বাস্তবায়ন করতে দেব? জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংস করতে পারবে না কেউ। সুতরাং আমরা একীভূত হতে পারলে স্বৈরশাসককে সরাতে পারব। শেখ হাসিনার ময়ূর সিংহাসন স্থির রাখা যাবে না, এটা আমাদের উল্টাতে হবে।’

সরকারের সমালোচনায় তিনি বলেন, ‘আপনারা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে রাজি নন। ফায়দা লুটতে আপনারা খাল কেটে কুমির আনছেন, একসময় সেই কুমির সবকিছু গ্রাস করবে, এটা টের পাচ্ছেন না। এই কুমির সরকারকে খেয়ে ফেলতে পারে।

‘সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগিয়ে, নানাভাবে উসকানি দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য বিনষ্ট করছেন। যে আগুন নিয়ে খেলছেন, সেই আগুনে সরকার ছারখার হয়ে যাবে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সুলতান সালাউদ্দীন টুকু, সিনিয়র সহসভাপতি মোর্তাজুল করিম বাদরু, মহানগর উত্তরের সভাপতি শফিকুল ইসলাম মিল্টনসহ নেতা-কর্মীরা।

শেয়ার করুন