টানা তৃতীয় দিন পতনের হতাশায় ‘আলো’ বিমা খাত

টানা তৃতীয় দিন পতনের হতাশায় ‘আলো’ বিমা খাত

পুঁজিবাজারে দরপতন থামছে না। আবার প্রায় আড়াইশ কোম্পানির শেয়ারদর কমায় হতাশা আরও বেড়েছে বিনিয়োগকারীদের।

সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া ১০টি কোম্পানির সাতটিই বিমা খাতের। সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া ২০টি কোম্পানির ১৫টিই এই একটি খাতের; আর সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া ৩০টি কোম্পানির মধ্যে ২১টিই বিমা কোম্পানি।

পুঁজিবাজারে টানা সংশোধনের মধ্যে পরপর তিন দিন পতন হলো মূল্যসূচকের। গত ২৯ আগস্টের পর এই প্রথম এ ঘটনা ঘটল। আগস্টের শেষে পরপর তিন দিন পতন হয়েছিল, আবার গত ৪ এপ্রিলের পর প্রথম।

সপ্তাহের চতুর্থ কর্মদিবসে পুঁজিবাজারের আচরণ বিনিয়োগকারীদের কেবল হতাশ নয়, ভীত করেছে। সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া দর সংশোধন টানা চতুর্থ সপ্তাহে এসে আরও ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।

পতনের ভিড়ে বিমা খাতে দেখা গেছে অভাবনীয় চিত্র। জুনের দ্বিতীয় ভাগ থেকে ক্রমাগত দর পতনের মুখে থাকা এই খাতের সবগুলো শেয়ার দল বেঁধে বাড়ল। একটি ছাড়া বেড়েছে বাকি ৫০ কোম্পানির শেয়ার দর। দর বৃদ্ধির শতকরা হারও বেশ আগ্রহোদ্দীপক।

সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া ১০টি কোম্পানির সাতটিই বিমা খাতের। সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া ২০টি কোম্পানির ১৫টিই এই একটি খাতের; আর সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া ৩০টি কোম্পানির মধ্যে ২১টি।

এতদিন বড় মূলধনি বেশ কিছু কোম্পানি সূচক টেনে তুললেও এবার পতন হচ্ছে সেগুলোরও। সঙ্গে স্বল্প মূলধনি ও লোকসানি বেশ কিছু কোম্পানি, যেগুলোর শেয়ার দর চলতি বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে বাড়ছিল, সেগুলোর দরপতন অব্যাহত আছে।

স্বল্প পুঁজির বিনিয়োগকারী, যারা শেয়ার দর আরও কমলে নতুন করে কিনে সমন্বয় করতে পারেন না, তারা আরও পতনের আশঙ্কায় কম দামে শেয়ার বিক্রি করে দিয়ে সূচকের পতন আরও ত্বরান্বিত করছেন।

বুধবারের ৬৫ পয়েন্ট পতন গত ১৪ সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ। সেদিন দরপতন হয়েছিল ৭৮ পয়েন্ট। তার আগে ১২ সেপ্টেম্বর পড়েছিল ৫৬ পয়েন্ট।

তার আগে ২৭ জুন সূচক পড়েছিল ১০০ পয়েন্ট। ২৩ জুন পড়েছিল ৮০ পয়েন্ট। ৭ জুন পড়েছিল ৫৩ পয়েন্ট। আর ২০ মে পড়েছিল ৬০ পয়েন্ট।

টানা তৃতীয় দিন পতনের হতাশায় ‘আলো’ বিমা খাত
বুধবার লেনদেনের শুরুতে সূচক বেড়ে গেলেও দিন শেষে বড় পতন হয়

এই পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে গত চার সপ্তাহে বেশির ভাগ শেয়ারের দরপতনের মধ্যেও সূচক বাড়ানো লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট, আইসিবি, পাওয়ারগ্রিড। বেক্সিমকো লিমিটেডের দরপতনেও পড়েছে সূচক।

সঙ্গে বড় মূলধনি ওয়ালটন, স্কয়ার ফার্মা, বিকন ফার্মা, রেনাটা, ইউনাইটেড পাওয়ার ও গ্রামীণফোনের শেয়ার দর হারানোয় পড়েছে সূচক।

এই ১০টি কোম্পানির দরপতনেই সূচক কমেছে ৪৪.২৫ পয়েন্ট।

টানা তৃতীয় দিন পতনের হতাশায় ‘আলো’ বিমা খাত
সূচক পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে এই ১০টি কোম্পানি

দিন শেষে ১১২টি কোম্পানির দর বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ২৪১টির শেয়ার দর। দর ধরে রাখতে পেরেছে কেবল ২৩টি।

বিমা খাত ছাড়া উল্লেখযোগ্য দর বেড়েছে ব্যাংক খাতে এনআরবিসি, বস্ত্র খাতের ঢাকা ডায়িং, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জেনেক্সিল, জ্বালানি খাতের ইস্টার্ন লুব্রিকেন্ট, প্রকৌশল খাতের কে অ্যান্ড কিউ।

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, এনআরবিসি, ডেল্টা লাইফ, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, জেনেক্সিল, আইএফআইসি ব্যাংক, ইবিএল, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স, ওরিয়ন ফার্মা ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের দর না বাড়লে সূচকের আরও পতন হতে পারত।

এই ১০টি কোম্পানি সূচকে যোগ করেছে ১৪.৯৯ পয়েন্ট, যার মধ্যে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো একাই যোগ করেছে ৪.৯৯ পয়েন্ট।

টানা তৃতীয় দিন পতনের হতাশায় ‘আলো’ বিমা খাত
এই ১০টি কোম্পানি সূচক টেনে তুললে সূচকের পতন আরও বড় হতে পারত

মন্দা বাজারে প্রাণের স্পন্দন দিল বিমা খাত

জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে পড়তে থাকা বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর মধ্যে কোনো কোনোটি চার মাসে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত দর হারিয়ে ফেলে।

বাজারে দর সংশোধনের এক মাস শেষ হওয়ার পর দুই দিন ধরে এই বিমা খাতই বিনিয়োগকারীদেরকে যা কিছু স্বস্তি দিচ্ছে।

মঙ্গলবার ৫১টি বিমা কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছিল ৩৪টির। লেনদেন ৮৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছিল ১৩১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। সেটি আরও বেড়ে হয়েছে ১৮৭ কোটি ৩ লাখ টাকা। আর এবার এক সঙ্গে বেড়েছে ৫০টি কোম্পানির দর।

৩৮টি সাধারণ বিমার মধ্যে সবগুলোর দর বেড়েছে। ১৩টি জীবন বিমার মধ্যে ১২টির দর বেড়েছে।

দর পতন হওয়া কোম্পানি ছিল মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স। যার শেয়ার দর কমেছে ২০ পয়সা বা দশমিক ২১ শতাংশ।

টানা তৃতীয় দিন পতনের হতাশায় ‘আলো’ বিমা খাত
বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে এই ছয়টি খাতে

লেনদেনে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের ৯.৯৭ শতাংশ। শেয়ার দর ১০৮ টাকা ২০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১১৯ টাকা। তারপরই আছে জনতা ইন্স্যুরেন্স, যার শেয়ার দর বেড়েছে ৮.১১ শতাংশ; ৪৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫১ টাকা ৯০ পয়সা।

রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের দর ৭.৮৭ শতাংশ, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের দর ৭.১২ শতাংশ, নর্দান ইন্স্যুরেন্সের দর ৬.২৯ শতাংশ, প্রাইম ও পূরবী ইন্স্যুরেন্সের দর ৫.০৬ শতাংশ, সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্সের দর ৪.৯৬ শতাংশ, রূপালী ইন্স্যুরেন্সের দর ৪.৮৫ শতাংশ, বিএসআইসিএলের দর ৪.৬১ শতাংশ, ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের দর ৪.৪১ শতাংশ, ইস্টল্যান্ডের দর ৪.৩৮ শতাংশ, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্সের দর ৪.১৪ শতাংশ বেড়েছে।

আগ্রহ আরও বাড়ছে ব্যাংকে

মঙ্গলবার লেনদেনে ব্যাংক খাতের মাত্র ১০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর বেড়েছিল। বিপরীতে কমেছিল ১৩টি ব্যাংকের। বুধবারও লেনদেনে মাত্র নয়টি ব্যাংকের শেয়ার দর বেড়েছে। কমেছে ১৭টির। বাকি ব্যাংকগুলোর শেয়ার দর ছিল আগের মতোই।

সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া ১০টি কোম্পানির মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এনআরবিসির দর টানা দুই দিন বাড়ল ১০ শতাংশের কাছাকাছি। আরও কয়েকটির দর দিনের শুরুতে বেড়ে গিয়েও পরে কমে যায়।

তৃতীয় প্রান্তিক শেষ করা এই খাতটি এখন চূড়ান্ত ও শেষ প্রান্তিকে পড়েছে। এখনও তৃতীয় প্রান্তিকে আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ পায়নি। তবে চলতি মাসেই প্রকাশ পাবে সবগুলোর আয়।

এই অবস্থায় ব্যাংক খাতে আগ্রহ বাড়তে দেখা যাচ্ছে।

আগের দিন এই খাতে লেনদেন হয়েছিল ১৭৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। সেটি বেড়ে আজ হয়েছে ১৯৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা।

টানা তৃতীয় দিন পতনের হতাশায় ‘আলো’ বিমা খাত
গত এক মাসে সিমেন্ট খাতে আগ্রহ ব্যাপকভাবে বাড়লেও চলতি সপ্তাহে তা কমতে শুরু করেছে

সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের ৩.৫৬ শতাংশ। এছাড়া মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের শেয়ার দর হারিয়েছে ২.৯৩ শতাংশ। ব্র্যাক ব্যাংকের দর কমেছে ১.৪৮ শতাংশ।

অন্যদিকে তবে দর বৃদ্ধিতে এগিয়ে থাকা এনআরবিসির দর বেড়েছে ৯.৯৫ শতাংশ। তারপরই ছিল ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড, যার শেয়ার দর বেড়েছে ১.৮০ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা আইএফআইসি ব্যাংকের শেয়ারের দর বেড়ছে ১.৬৮ শতাংশ।

স্বল্প মূলধনির পতন

পুঁজিবাজার ১০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানি আছে মোট ৩১টি। এরমধ্যে দর বেড়েছে সাতটির। আর দর হারিয়েছে ২৪টি। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টের ৪.৯৯ শতাংশ। তারপরেই আছে কে অ্যান্ড কিউ, যার শেয়ার দর বেড়েছে ৪.৩১ শতাংশ।

অন্যদিকে শ্যামপুর সুগার মিলসের শেয়ার দর কমেছে ৫.৮১ শতাংশ। দেশ গার্মেন্টসের দর ৫.৫১ শতাংশ, এইচআর টেক্সটাইলের দর ৫.১২ শতাংশ, হাক্কানি প্লাম্পের দর কমেছে ৪.১০ শতাংশ, বিডিঅটোকারের দর কমেছে ৪ শতাংশ।

দর হারাচ্ছে সূচক টেনে তোলা কোম্পানিগুলো

সাম্প্রতিক সময়ে বিনিয়োগকারীদের মনযোগের কেন্দ্রে উঠে আসা কোম্পানিগুলোর মধ্যে লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট টানা দ্বিতীয় দিন উল্লেখযোগ্য হারে দর হারিয়েছে। ৫.৮৭ শতাংশ কমে শেয়ারদর ৯৮ টাকা ৮০ পয়সা থেকে হয়েছে ৯৩ পয়সা।

সাম্প্রতিক উত্থানে এই কোম্পানিটির শেয়ার দর ১০৭ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত উঠেছিল। এরপর ৫ অক্টোবর থেকে দরপতন শুরু।

পাওয়ার গ্রিডের দর ৫.৪৯ শতাংশ কমে ৭১ টাকা থেকে হয়েছে ৬৭ টাকা ১০ পয়সা। এই কোম্পানিটির শেয়ার দর চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৭৩ টাকা ৭০ পয়সায় উঠেছিল।

আইসিবির দর ৪.৯৮ শতাংশ কমে ১৪৮ টাকা ৬০ পয়সা থেকে হয়েছে ১৪১ টাকা ২০ পয়সা। গত ৬ অক্টোবর এই কোম্পানিটির শেয়ার দর সর্বোচ্চ ১৭৪ টাকা উঠেছিল। এরপর থেকে পতনের শুরু।

ইউনিক হোটেলের শেয়ার দর ৪.১৫ শতাংশ কমে ৫৫ টাকা ৩০ পয়সা থেকে হয়েছে ৫৩ টাকা। সেপ্টেম্বরের শেষ দিন এই কোম্পানিটির শেয়ার দর ৬৩ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত উঠেছিল।

শেয়ার প্রতি ৯০ পয়সা দর হারিয়েছে বেক্সিমকো লিমিটেডও। গত কয়েকদিনে এই কোম্পানির শেয়ার দর হারিয়েছে ১০ টাকার বেশি। সাম্প্রতিক সময়ে সর্বোচ্চ দর উঠেছিল ১৫১ টাকা ৭০ পয়সা।

সূচক ও লেনদেন

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৬৫ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ২৪৮ দশমিক ৪৪ পয়েন্টে।

শরিয়াভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস ২৪ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৬৬ দশমিক ৬০ পয়েন্টে।

বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক ৩২ দশমিক ৩১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭১৭ দশমিক ৫৬ পয়েন্টে।

দিনশেষে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৯৫২ কোটি টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৮৬৩ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
টানতে পারছে না বড় মূলধনিও, বাড়ছে হতাশা
ব্যাংকের এক্সপোজার লিমিট বড় বাধা: বিএসইসি চেয়ারম্যান
ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে পুঁজিবাজার
বহুদিন পর ব্যাংক, বস্ত্র, মিউচ্যুয়াল ফান্ডের এক দিন
মিউচ্যুয়াল ফান্ডের আকার ১০ গুণ করার পরিকল্পনা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ড্রাগন সোয়েটারের আবার বোনাস লভ্যাংশ

ড্রাগন সোয়েটারের আবার বোনাস লভ্যাংশ

ড্রাগন সোয়েটারের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা। ছবি: কোম্পানির ওয়েবসাইট থেকে নেয়া

তালিকাভুক্তির বছর ২০১৬ ও তার পরের বছর ১৫ শতাংশ করে, ২০১৯ সালে ১০ শতাংশ এবং ২০২০ সালে দেয়া হয় ২০ শতাংশ বোনাস শেয়ার। মাঝে ২০১৮ সালে ২০ শতাংশ বোনাসের পাশাপাশি দেয়া হয় ৫ শতাংশ নগদ। অর্থাৎ সে বছর শেয়ারপ্রতি ৫০ পয়সা লভ্যাংশ পান বিনিয়োগকারীরা।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি ড্রাগন সোয়েটার লভ্যাংশ হিসেবে আবার বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছে।

গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থাৎ শেয়ারধারীরা প্রতি ১০টি শেয়ারের বিপরীতে একটি পাবেন লভ্যাংশ হিসেবে।

রোববার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

২০১৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পর থেকে কেবল এক বছর বোনাসের সঙ্গে কিছু নগদ লভ্যাংশ দেয়া হয়েছিল। বাকি প্রতিবছরই লভ্যাংশ হিসেবে দেয়া হয় বোনাস শেয়ার।

এর মধ্যে তালিকাভুক্তি ও তার পরের বছর ১৫ শতাংশ করে, ২০১৯ সালে ১০ শতাংশ এবং ২০২০ সালে দেয়া হয় ২০ শতাংশ বোনাস শেয়ার। মাঝে ২০১৮ সালে ২০ শতাংশ বোনাসের পাশাপাশি দেয়া হয় ৫ শতাংশ নগদ। অর্থাৎ সে বছর শেয়ারপ্রতি ৫০ পয়সা লভ্যাংশ পান বিনিয়োগকারীরা।

করোনার বছরে কোম্পানিটির আয় আগের বছরের আয়ের প্রায় সমান। তবে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য কমেছে।

২০২০ সালের জুলাই থেকে গত জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ২২ পয়সা। আগের বছর এই আয় ছিল ১ টাকা ২৩ পয়সা।

গত মার্চ পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৯২ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ৭১ পয়সা।

তবে শেষ প্রান্তিকে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির আয় গত বছরের চেয়ে কম হয়েছে। এবার এই আয় হয়েছে ৩০ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৫২ পয়সা।

আগের বছর কোম্পানিটি ১৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার দেয়ার কারণে সম্পদমূল্য কমে গেছে। গত বছর শেয়ারপ্রতি সম্পদ ছিল ১৮ টাকা ৯৮ পয়সা। সেটি কমে এবার দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ৭২ পয়সা।

কোম্পানিটির লভ্যাংশসংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৪ নভেম্বর। অর্থাৎ যারা লভ্যাংশ নিতে চান, তাদের সেদিন শেয়ার ধরে রাখতে হবে। এই লভ্যাংশ অনুমোদনের জন্য বার্ষিক সাধারণ সভা ডাকা হয়েছে আগামী ৫ ডিসেম্বর।

প্রতিবছরই দেখা গেছে লভ্যাংশ ঘোষণার পর ড্রাগনের শেয়ার দর পড়ে যায়, পরে লভ্যাংশ ঘোষণার আগে আগে আবার বাড়ে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

গত এপ্রিলেও কোম্পানিটির শেয়ার ১০ টাকার নিচে লেনদেন হয়েছে। সেখান থেকে উত্থান হয়ে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ওঠে ২৪ টাকা ৮০ পয়সায়। তবে গত দুই সপ্তাহে কিছুটা সংশোধন হয়ে দাম দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকা ১০ পয়সা।

আরও পড়ুন:
টানতে পারছে না বড় মূলধনিও, বাড়ছে হতাশা
ব্যাংকের এক্সপোজার লিমিট বড় বাধা: বিএসইসি চেয়ারম্যান
ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে পুঁজিবাজার
বহুদিন পর ব্যাংক, বস্ত্র, মিউচ্যুয়াল ফান্ডের এক দিন
মিউচ্যুয়াল ফান্ডের আকার ১০ গুণ করার পরিকল্পনা

শেয়ার করুন

ডাচ্-বাংলার দারুণ আয়

ডাচ্-বাংলার দারুণ আয়

জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ৬ টাকা ২৫ পয়সা। আগের বছর এই সময়ে আয় ছিল ৫ টাকা ৪৭ পয়সা। আয় বেড়েছে ৭৮ পয়সা বা ১৪.২৫ শতাংশ।  

করোনার বছরে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক ডাচ্-বাংলার অগ্রগতি অব্যাহত আছে। তিন প্রান্তিকের মধ্যে দুই প্রান্তিকেই আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে বেশি আয় করতে পেরেছে কোম্পানিটি।

গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ২ টাকা ৬৮ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ২ টাকা ৫ পয়সা। আয় বেড়েছে ৬৩ পয়সা বা ৩০.৭৩ শতাংশ।

রোববার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভা শেষে এই হিসাব প্রকাশ করা হয়।

এই তিন মাসের হিসাবসহ জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ৬ টাকা ২৫ পয়সা। আগের বছর এই সময়ে আয় ছিল ৫ টাকা ৪৭ পয়সা। আয় বেড়েছে ৭৮ পয়সা বা ১৪.২৫ শতাংশ।

এর আগের প্রান্তিকে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির আয় কমে গিয়েছিল। ওই তিন মাসে শেয়ারপ্রতি ২ টাকা ১৪ পয়সা আয় হয়েছিল ব্যাংকটির। আগের বছর এই সময়ে আয় হয়েছিল ২ টাকা ২৩ পয়সা।

তবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে হোঁচট খেলেও প্রথম প্রান্তিকে বেশি আয়ের সুবাদে অর্ধবার্ষিকেও আয় বেশি ছিল। ৬ মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৩ টাকা ৫৭ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে তা ছিল ৩ টাকা ৪২ পয়সা।

জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১ টাকা ৬৫ পয়সা। ২০২০ সালের একই সময়ে এই আয় ছিল ১ টাকা ৩৭ পয়সা।

২০২০ সালে শেয়ারপ্রতি ১০ টাকা আয় করে ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল ব্যাংকটি। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ দেয়া হয় বোনাস, আর শেয়ারপ্রতি দেড় টাকা দেয়া হয় নগদ।

কোম্পানিটি লভ্যাংশ ঘোষণার সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী এর চেয়ে বেশি লভ্যাংশ ঘোষণায় আইনি বাধা ছিল। পরে অবশ্য লভ্যাংশের সীমা বাড়িয়ে ৩৭.৫ শতাংশ করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত এক বছরে পুঁজিবাজারে উত্থানের মধ্যেও ব্যাংক খাতের ঘুমিয়ে থাকার মধ্যেও এই ব্যাংকটির শেয়ার দর বেশ বেড়েছিল।

এই সময়ে কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দর ছিল ৫৬ টাকা ৯০ পয়সা। ১৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার যুক্ত হওয়ার পরেও শেয়ার দর পরে বেড়ে ৯৭ টাকা ৭০ পয়সা হয়ে যায়।

তবে গত ২৭ জুন থেকে শেয়ার দর সংশোধনে আছে। সর্বোচ্চ দর থেকে ২০ টাকা কমে প্রান্তিক প্রকাশের দিন শেয়ার দর ছিল ৭৭ টাকা।

কেবল এই ব্যাংকটিই নয়, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত যতগুলো ব্যাংক এখন পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশ করেছে, তার মধ্যে কেবল লোকসানি আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের লোকসান বেড়েছে। অন্যদিকে আয় বাড়াতে পেরেছে এনসিসি, ওয়ান, ইসলামী, সিটি ও প্রিমিয়ার ব্যাংক।

আরও পড়ুন:
টানতে পারছে না বড় মূলধনিও, বাড়ছে হতাশা
ব্যাংকের এক্সপোজার লিমিট বড় বাধা: বিএসইসি চেয়ারম্যান
ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে পুঁজিবাজার
বহুদিন পর ব্যাংক, বস্ত্র, মিউচ্যুয়াল ফান্ডের এক দিন
মিউচ্যুয়াল ফান্ডের আকার ১০ গুণ করার পরিকল্পনা

শেয়ার করুন

আয় কমে গেল ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সের

আয় কমে গেল ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সের

কেবল সবশেষ প্রান্তিকে নয়, কোম্পানিটির আয় কমেছে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসেও। এই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৮৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ২ টাকা ২২ পয়সা।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পরের বছরেই আয় কমে গেল ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সেরও।

গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় করেছে ৭৫ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে আয় ছিল ৯৬ পয়সা।

রোববার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এই আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর প্রকাশ করা হয়।

কেবল সবশেষ প্রান্তিকে নয়, কোম্পানিটির আয় কমেছে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসেও। এই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৮৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ২ টাকা ২২ পয়সা।

তবে গত বছর কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ছিল না। সে সময় ২৪ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিটিতে শেয়ার সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৪০ লাখ। আইপিওতে ১৬ কোটি টাকা তুলে এক কোটি ৬০ লাখ শেয়ার ইস্যুর পর শেয়ার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ।

তালিকাভুক্তির বছরে শেয়ার প্রতি ৪ টাকা ৫৮ পয়সা আয় করে শেয়ারধারীদেরকে এক টাকা করে লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি।

তবে চলতি বছরের শুরু থেকেই কোম্পানির আয়ে ভাটা পড়তে থাকে। প্রথম প্রান্তিকে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত শেয়ার প্রতি ৬৩ পয়সা, দ্বিতীয় প্রান্তিকে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত আরও ৪৬ পয়সা আয় হয়েছিল কোম্পানিটির।

অর্ধবার্ষিকে ক্রিস্টালের শেয়ার প্রতি আয় ছিল ১ টাকা ৯ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১ টাকা ২৫ পয়সা।

১০ টাকা অভিহিত মূল্যে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিটির শেয়ারদর গত জুন থেকে ক্রমাগত কমছে। সে সময় শেয়ারের সর্বোচ্চ দর ছিল ৭৪ টাকা ৩০ পয়সা।

প্রান্তিক প্রকাশের দিন শেয়ার মূল্য ছিল ৫৪ টাকা ৮০ পয়সা।

আরও পড়ুন:
টানতে পারছে না বড় মূলধনিও, বাড়ছে হতাশা
ব্যাংকের এক্সপোজার লিমিট বড় বাধা: বিএসইসি চেয়ারম্যান
ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে পুঁজিবাজার
বহুদিন পর ব্যাংক, বস্ত্র, মিউচ্যুয়াল ফান্ডের এক দিন
মিউচ্যুয়াল ফান্ডের আকার ১০ গুণ করার পরিকল্পনা

শেয়ার করুন

আয় কমে গেল ইসলামিক ফাইন্যান্সের

আয় কমে গেল ইসলামিক ফাইন্যান্সের

কেবল সবশেষ প্রান্তিক নয়, গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর ৯ মাসেও কোম্পানিটির আয় কমেছে। এই তিন প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৮৯ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ৯৯ পয়সা।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক খাতের কোম্পানি ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের আয় কমে গেছে।

গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১৫ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ২৯ পয়সা।

রোববার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এই আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদন করা হয়।

কেবল সবশেষ প্রান্তিক নয়, গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর ৯ মাসেও কোম্পানিটির আয় কমেছে। এই তিন প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৮৯ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ৯৯ পয়সা।

আয় কমলেও কোম্পানিটির শেয়ারদরে উল্লম্ফন হয়েছে। এপ্রিলের শেষেও কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ১৮ টাকার কম। সেখান থেকে বাড়তে বাড়তে সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে তা ৩৫ টাকা ৪০ পয়সা হয়ে যায়।

শেয়ারদর দ্বিগুণ হওয়ার পরে অবশ্য ৩০ নভেম্বর থেকে তা পতনমুখী। সেদিন শেয়ারদর ছিল ৩৪ টাকা। এরপর ১৫ কার্যদিবসে শেয়ারদর কমেছে ৭ টাকা ৭০ পয়সা বা ২২.৬৪ শতাংশ।

২ বছর ধরে শেয়ার প্রতি এক টাকা করে লভ্যাংশ দেয়া কোম্পানিটির শেয়ারদর এক বছরে ১৪ টাকা ৪০ পয়সা থেকে প্রায় আড়াই গুণ বেড়ে সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা ৪০ পয়সা হয়েছিল।

গত বছর শেয়ার প্রতি ১ টাকা ৫৪ পয়সা আয় করা কোম্পানিটির সম্পদমূল্যও কমেছে। গত ৩১ ডিসেম্বর শেয়ার প্রতি সম্পদ ছিল ১৪ টাকা ৯৯ পয়সার। সেটি কমে ৩০ সেপ্টেম্বর দাঁড়িয়েছে ১৪ টাকা ৮৮ পয়সা।

আরও পড়ুন:
টানতে পারছে না বড় মূলধনিও, বাড়ছে হতাশা
ব্যাংকের এক্সপোজার লিমিট বড় বাধা: বিএসইসি চেয়ারম্যান
ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে পুঁজিবাজার
বহুদিন পর ব্যাংক, বস্ত্র, মিউচ্যুয়াল ফান্ডের এক দিন
মিউচ্যুয়াল ফান্ডের আকার ১০ গুণ করার পরিকল্পনা

শেয়ার করুন

প্রিমিয়ারে গত বছরের চেয়ে বেশি আয় ৯ মাসেই

প্রিমিয়ারে গত বছরের চেয়ে বেশি আয় ৯ মাসেই

রাজধানীতে প্রিমিয়ার ব্যাংকের একটি শাখা। ফাইল ছবি

২০২০ সালে ব্যাংকটি শেয়ার প্রতি ২ টাকা ১৩ পয়সা আয় করতে পেরেছিল। এবার টানা তৃতীয় প্রান্তিকে আগের বছরের চেয় বেশি আয় করা ব্যাংকটির ৯ মাসের আয় দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ২৩ পয়সা।

আগের দুই প্রান্তিকের ধারাবাহিকতায় জুলাই থেকে সেপ্টম্বর পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিকেও আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি আয় করে চমক অব্যাহত রেখেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রিমিয়ার ব্যাংক।

এই পান্তিকে ব্যাংকটি শেয়ার প্রতি আয় করেছে ৬৫ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ছিল ৫১ পয়সা। আয় বেড়েছে ১৭ পয়সা বা ৩৩ শতাংশ।

এই আয় মিলিয়ে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ২৩ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ১ টাকা ৪০ পয়সা। আয় বেড়েছে ৮৩ পয়সা বা ৫৯.২৮ শতাংশ।

এই আয় ২০২০ সালের আয়ের চেয়ে বেশি। ওই বছর শেয়ার প্রতি ২ টাকা ১৩ পয়সা আয় করতে পেরেছিল প্রিমিয়ার ব্যাংক।

ব্যাংকটি গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৬ মাসে শেয়ার প্রতি ১ টাকা ৫৮ পয়সা আয় করেছিল। গত বছর এই সময়ে আয় ছিল ৯০ পয়সা। অর্ধবার্ষিকে আয় বাড়ে ৬৮ পয়সা বা ৭৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

গত বছর করোনার মধ্যেও ব্যাংকগুলোর আয় ও লভ্যাংশ ছিল চমক জাগানিয়া। চলতি বছর অর্ধবার্ষিকে আয় আরও বেশে বাড়িয়ে বিনিয়োগকারীদেরকে আরও আশাবাদী করে তুলেছিল ব্যাংকগুলো।

তৃতীয় প্রান্তিক শেষেও এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারছে ব্যাংকগুলো। এখন পর্যন্ত যেসব ব্যাংক প্রান্তিক ঘোষণা করেছে, তার মধ্যে কেবল আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের লোকসান বেড়েছে।

অন্যদিকে এনসিসি, ইসলামী, সিটি, ওয়ান ব্যাংকের আয় বেড়েছে। এর মধ্যে ইসলামী, সিটি ও ওয়ান ব্যাংক তৃতীয় প্রান্তিকে মুনাফা করলেও আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কম আয় করেছে। তবে প্রিমিয়ার তার অবস্থান ধরে রেখেছে।

একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদ অবশ্য কিছুটা কমেছে। ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে এই সম্পদ হয়েছে ২০ টাকা ৫৮ পয়সা। গত ৩১ ডিসেম্বর শেষে এই সম্পদ ছিল ২১ টাকা ২ পয়সার।

গত বছর শেয়ার প্রতি ১ টাকা ২৫ পয়সা ও সাড়ে ৭ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতি ২০০ শেয়ারে ১৫টি বোনাস দেয়া ব্যাংকটির শেয়ারদর তার সম্পদমূল্যের নিচে লেনদেন হচ্ছে।

প্রান্তিক প্রকাশের দিন ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারের দর ছিল ১৪ টাকা ৫০ পয়সা। গত এক বছরে শেয়ার দর ১০ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ১৫ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত উঠানামা করেছে।

আরও পড়ুন:
টানতে পারছে না বড় মূলধনিও, বাড়ছে হতাশা
ব্যাংকের এক্সপোজার লিমিট বড় বাধা: বিএসইসি চেয়ারম্যান
ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে পুঁজিবাজার
বহুদিন পর ব্যাংক, বস্ত্র, মিউচ্যুয়াল ফান্ডের এক দিন
মিউচ্যুয়াল ফান্ডের আকার ১০ গুণ করার পরিকল্পনা

শেয়ার করুন

আয় বাড়লেও তৃতীয় প্রান্তিকে ওয়ান ব্যাংকেরও ‘হোঁচট’

আয় বাড়লেও তৃতীয় প্রান্তিকে ওয়ান ব্যাংকেরও ‘হোঁচট’

ব্যাংকটি তিন প্রান্তিক মিলিয়ে ব্যাংকটির আয় গত বছরের তুলনায় ৪২ শতাংশ বেশি। তবে দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৫৬ শতাংশ। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শেয়ারে মুনাফা হয়েছে ১৮ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ২২ পয়সা।

জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে আগের বছরের তুলনায় দেড় গুণ আয় করা ওয়ান ব্যাংক জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিকে এসে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারেনি।

এই তিন মাসে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি আয় করেছে ১৮ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ২২ পয়সা।

জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৬৪ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে শেয়ার প্রতি আয় ছিল ১ টাকা ১৫ পয়সা।

অর্থাৎ ব্যাংকটি তিন প্রান্তিক মিলিয়ে ব্যাংকটির আয় গত বছরের তুলনায় ৪২ শতাংশ বেশি। তবে দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৫৬ শতাংশ।

গত বছর করোনার মধ্যেও ব্যাংকগুলোর আয় ও লভ্যাংশ ছিল চমক জাগানিয়া। চলতি বছর অর্ধবার্ষিকে আয় আরও বেশে বাড়িয়ে বিনিয়োগকারীদেরকে আরও আশাবাদী করে তুলেছিল ব্যাংকগুলো।

তৃতীয় প্রান্তিক শেষেও এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারছে ব্যাংকগুলো, তবে এখন পর্যন্ত লভ্যাংশ ঘোষণা করা এনসিসি, সিটি ও এবার ওয়ান ব্যাংকের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, তৃতীয় প্রান্তিকে এসে প্রবৃদ্ধি কমেছে। এর মধ্যে মুনাফায় থাকলেও দুটির আয় তৃতীয় প্রান্তিকে কমে গেছ।

ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি সম্পদমূল্যও বেড়েছে। সেপ্টেম্বর শেষে এই সম্পদ দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকা ৩৮ পয়সা। গত ৩১ ডিসেম্বর অর্থবছর শেষে এই সম্পদ ছিল ১৯ টাকা ৩১ পয়সা।

গত বছর শেয়ার প্রতি ৬০ পয়সা ও সাড়ে ৫ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতি ২০০ শেয়ারে ১১টি বোনাস দেয়া ব্যাংকটির শেয়ারদর তার সম্পদমূল্যের নিচে লেনদেন হচ্ছে।

প্রান্তিক প্রকাশের দিন ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারের দর ছিল ১২ টাকা ৭০ পয়সা। গত এক বছরে শেয়ার দর ৯ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ১৫ টাকা ৬০ পয়সা পর্যন্ত উঠানামা করেছে।

আরও পড়ুন:
টানতে পারছে না বড় মূলধনিও, বাড়ছে হতাশা
ব্যাংকের এক্সপোজার লিমিট বড় বাধা: বিএসইসি চেয়ারম্যান
ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে পুঁজিবাজার
বহুদিন পর ব্যাংক, বস্ত্র, মিউচ্যুয়াল ফান্ডের এক দিন
মিউচ্যুয়াল ফান্ডের আকার ১০ গুণ করার পরিকল্পনা

শেয়ার করুন

লভ্যাংশ ঘোষণায় বেক্সিমকোর শেয়ারে হুলুস্থুল

লভ্যাংশ ঘোষণায় বেক্সিমকোর শেয়ারে হুলুস্থুল

পিপিই পার্ক করার পর থেকে বেক্সিমকোর শেয়ারে তুমুল আগ্রহ তৈরি হয়। পরে এই আগ্রহ বাড়ায় সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের কার্যাদেশ। ফাইল ছবি

গত দেড় বছরে কোম্পানিটির শেয়ারদর ১৩ টাকা থেকে বেড়ে দিন শেষে দাঁড়িয়েছে ১৬৭ টাকা ৭০ পয়সা। শেয়ার প্রতি সাড়ে তিন টাকা লভ্যাংশ ঘোষণার জেরে এক পর্যায়ে দাম ১৮০ টাকা উঠে গিয়েছিল। উল্লেখযোগ্য আরও একটি বিষয় হলো মোট লেনদেনের প্রায় ২৪ শতাংশ হয়েছে একটি কোম্পানিতেই।

লেনদেনের প্রায় চার ভাগের একভাগ একটি কোম্পানিতেই। এমন অবিশ্বাস্য চিত্র দেখা গেল দেশের পুঁজিবাজারে।

রোববার সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৪৭১ কোটি ৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে বেক্সিমকো লিমিটেডেরই ৩৪২ কোটি ১৯ লাখ টাকা হাতবদল হয়েছে। অর্থাৎ মোট লেনদেনের ২৩.২৬ শতাংশ।

এই হুলুস্থুল হলো কোম্পানিটির লভ্যাংশ ঘোষণার পর।

২০১০ সালের মহাধসের পর কোম্পানিটি প্রথমবারের মতো ৩৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করল এবার। শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৭ টাকা ৫৩ পয়সা। আগের বছর আয় ছিল ৫১ পয়সা।

গত দেড় বছরে কোম্পানিটির শেয়ারদর ১৩ টাকা থেকে বেড়ে দিন শেষে দাঁড়িয়েছে ১৬৭ টাকা ৭০ পয়সা। তবে এক পর্যায়ে দাম ১৮০ টাকা উঠে গিয়েছিল। এত বেশি হারে কোনো শেয়ারের দাম বাড়েনি দেশের পুঁজিবাজারে।

মূল্য বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেক্সিমকোর শেয়ারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও বাড়ছে। গত জুলাইয়ে কোম্পানিটির চার কোটির বেশি আর আগস্টে সাত কোটি শেয়ার কিনেছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা।

এই এক বছরে বেশিরভাগ দিনই লেনদেনের শীর্ষে ছিল এই কোম্পানিটি। মাঝে কেবল দুই একদিন ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো, গত মাসে লাফার্ম হোলমিস, ওরিয়ন ফার্মা বেক্সিমকোকে ঠেলে নিচে নামিয়েছে। তবে শেয়ারদর বৃদ্ধি থামেনি।

তবে এক এক বছরে কোনো কোম্পানির তিনশ কোটি টাকার বেশি লেনদেনর চিত্র দেখা যায়নি। আজ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হওয়া ওরিয়ন ফার্মাও হাতবদল হয়েছে বেক্সিমকো ফার্মার চার ভাগের এক ভাগের কম। এই কোম্পানিতে হাতবদল হয়েছে ৭৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

পিপিই পার্ক ছাড়াও আরও একটি কারণে বেক্সিমকোর শেয়ারদর ক্রমেই বাড়ছে। কোম্পানিটির সহযোগী প্রতিষ্ঠান বেক্সি পাওয়ার দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে কাজ পেয়েছে। এর মধ্যে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নে একটি ২৮০ মেগাওয়াট ও পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় নির্মিত হচ্ছে ৫৫ মেগাওয়াটের আরও একটি সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র।

এর মধ্যে গাইবান্ধার কেন্দ্রটি নির্মাণ করছে তিস্তা সোলার লিমিটেড আর পঞ্চগড়েরটি নির্মাণ করছে করতোয়া সোলার লিমিটেড নামে কোম্পানি। এই দুটি কোম্পানির ৭৫ শতাংশের মালিক বেক্সিমকোর সহযোগী প্রতিষ্ঠান বেক্সি পাওয়ার। বেক্সি পাওয়ারের ৭৫ শতাংশের মালিক আবার বেক্সিমকো লিমিটেড।

এই দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে উৎপাদনে আসবে।

এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের অর্থায়নের জন্য বেক্মিমকো তিন হাজার কোটি টাকার সুকুক বন্ড ছেড়েছে।

লভ্যাংশ ঘোষণা হওয়া অন্য কোম্পানির চিত্র কী

রোববার লভ্যাংশ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ১৪টি কোম্পানির কোনো মূল্যসীমা ছিল না। এর মধ্যে বেক্সিমকোর মতো চিত্র অন্য কোনো কোম্পানিতে দেখা যায়নি।

বেক্সিমকোর প্রায় দ্বিগুণ লভ্যাংশ ঘোষণা করা স্কয়ার ফার্মার শেয়ারদর কমেছে। কোম্পানিটি এবার শেয়ার প্রতি ৬ টাকা লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই ঘোষণায় শেয়ারদর ২৩৩ টাকা ৮০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২২৬ টাকা ২০ পয়সা।

শেয়ার প্রতি দুই টাকা লভ্যাংশ ঘোষণা করা একই গ্রুপের স্কয়ার টেক্সটাইলের শেয়ারদর ২ টাকা ১০ পয়সা বেড়ে ৪৯ টাকা ৮০ পয়সা থেকে হয়েছে ৫১ টাকা ৯০ পয়সা।

বেক্সিমকো লিমিটেডের সমান লভ্যাংশ ঘোষণা করা একই গ্রুপের বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ারদরও কমেছে। সাড়ে তিন টাকা লভ্যাংশ ঘোষণার প্রভাবে শেয়ারদর ২২৯ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ৩ টাকা ৪০ পয়সা কমে হয়েছে ২২৬ টাকা ২০ পয়সা।

একই গ্রুপের আরেক কোম্পানি শাইনপুকুর সিরামিক শেয়ার প্রতি ২৫ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণার পর শেয়ার দর কমেছে ১ টাকা ৬০ পয়সা। ৩৬ টাকা ৯০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৩৫ টাকা ৩০ পয়সা।

শেয়ারে ১৪ টাকা ৫০ পয়সা ও ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার দেয়ার ঘোষণায়রেনাটার কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ১ টাকা ২০ পয়সা। দাম এক হাজার ৪৪০ টাকা ১০ পয়সা থেকে হয়েছে ১ হাজার ৪৪১ টাকা ৩০ পয়সা।

শেয়ার প্রতি ২০ পয়সা অন্তর্বর্তী লভ্যাংশ ঘোষণা করা মেরিকোর শেয়ারদর বেড়েছে ৭ টাকা ২০ পয়সা। শেয়ারদর দুই হাজার ৩০৮ টাকা ৩০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৩১৫ টাকা ৫০ পয়সা।

শেয়ার প্রতি ৫ টাকা (এর মধ্যে ১ টাকা এসেছিল অন্তর্বর্তী, চূড়ান্ত লভ্যাংশ ৪ টাকা) লভ্যাংশ ঘোষণা করা বিএসআরএম লিমিটেডের দর ১১৩ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১১৯ টাকা।

একই গ্রুপের আরেক কোম্পানি বিএসআরএম স্টিল শেয়ার প্রতি ৪ টাকা (এর মধ্যে ১ টাকা এসেছিল অন্তর্বর্তী, চূড়ান্ত লভ্যাংশ ৩ টাকা) লভ্যাংশ ঘোষণার পর শেয়ারদর ২ টাকা ১০ পয়সা বেড়ে ৬৯ টাকা ৯০ পয়সা থেকে হয়েছে ৭২ টাকা।

শেয়ার প্রতি ১ টাকা ও ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার ঘোষণা করা প্রকৌশল খাতের বিসিএস ক্যাবলস দর হারিয়েছে ৪ টাকা ৭০ পয়সা। ৬৬ টাকা ২০ পয়সা থেকে শেয়ারদর নেমে এসেছে ৬১ টাকা ৫০ পয়সা।

লোকসান দেয়ার পরও রিজার্ভ থেকে শেয়ার প্রতি ২০ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করা বিবিএস দর হারিয়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। শেয়ারদর ১৮ টাকা ৪০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১৬ টাকা ৫০ পয়সা। দাম কমেছে ১০.৩২ শতাংশ।

প্রকৌশল খাতেরই আরেক কোম্পানি ন্যাশনাল পলিমার শেয়ারে এক টাকা লভ্যাংশ ঘোষণার পর দর হারিয়েছে ৩ টাকা ৭০ পয়সা। শেয়ারদর ৫৬ টাকা ৬০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৫২ টাকা ৯০ পয়সা।

দ্বিগুণ আয় করার পর শেয়ার প্রতি ৩ টাকা ৭০ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করা বাংলাদেশ সাবমেরিন কোম্পানি লিমিটেড দর হারিয়েছে ১ টাকা ৯০ পয়সা। শেয়ারদর ২১২ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২১০ টাকা ৬০ পয়সা।

শেয়ার প্রতি ২০ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করা বস্ত্র খাতের আনলিমা ইয়ার্ন দর হারিয়েছে ৩ টাকা ১০ পয়সা। শেয়ারদর ৩৮ টাকা ৭০ পয়সা থেকে নেমে এসেছে ৩৫ টাকা ৬০ পয়সায়।

দিনের সবচেয়ে বেশি পতন হওয়া কোম্পানিটির নাম ফাস ফাইন্যান্স। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরে ১০ টাকার শেয়ারে ১৪ টাকার বেশি লোকসান করার কারণে লভ্যাংশ না দেয়া কোম্পানিটি দর হারিয়েছে ১০.৬৬ শতাংশ। শেয়ারদর ৭ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৬ টাকা ৭০ পয়সা।

আরও পড়ুন:
টানতে পারছে না বড় মূলধনিও, বাড়ছে হতাশা
ব্যাংকের এক্সপোজার লিমিট বড় বাধা: বিএসইসি চেয়ারম্যান
ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে পুঁজিবাজার
বহুদিন পর ব্যাংক, বস্ত্র, মিউচ্যুয়াল ফান্ডের এক দিন
মিউচ্যুয়াল ফান্ডের আকার ১০ গুণ করার পরিকল্পনা

শেয়ার করুন