বন্যার পর ছত্রাকে দিশেহারা চিলমারীর কৃষক

বন্যার পর ছত্রাকে দিশেহারা চিলমারীর কৃষক

ছত্রাকের আক্রমণের ক্ষেতের ফসল লালচে হয়ে যাচ্ছে। ছবি: নাজমুল হোসেন/কুড়িগ্রাম

কৃষক জয়দুল মিয়া বলেন, ‘হঠাৎ এমন পোকার আক্রমণে আমনের ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দেনা করে আবাদ করছি। ফলন আসার আগেই ক্ষেত মরি গেলে দেনা শোধ করমো নাকি সংসার চালাব, জানি না।’

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে আমন ক্ষেতে ছত্রাকের আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক।

তাদের ভাষ্য, ছত্রাকের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত। ওষুধ দিয়েও কাজ হচ্ছে না।

কৃষি বিভাগ পরামর্শ দিচ্ছে সংক্রমিত চারা তুলে ফেলার।

কৃষকরা বলছেন, চলতি বছরের বন্যায় উপজেলায় আমন ক্ষেতে ব্যাপক ক্ষতি হয়। এরপর বন্যা কেটে গেলে তারা ধার-দেনা করে আমন চারা সংগ্রহ করে আবারও রোপণ করেন।

তারা আরও জানান, ছত্রাকের আক্রমণে ক্ষেতের ধানগাছ লালচে বর্ণ হয়ে মরে যাচ্ছে।

উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের গাবেরতল এলাকার কৃষক গোলজার হোসেনের জমির আমন ক্ষেত ছত্রাকের আক্রমণে পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে।

সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে আনছার আলী, মমিন মিয়া, জয়দুল হক, বেলাল হক, আশরাফুল হক, ধলা মিয়া ও আমিন উদ্দিনের ক্ষেতে।

বন্যার পর ছত্রাকে দিশেহারা চিলমারীর কৃষক

গোলজার হোসেন জানান, প্রথম দফা বন্যার পরে আমন ক্ষেত রোপণ করেন তিনি। দ্বিতীয় দফার বন্যায় আমনের সেই ক্ষেত নষ্ট হয়ে যায়। পরে সুদের ওপর টাকা নিয়ে আমন চারা কিনে আবার রোপণ করেন তিনি।

পোকার আক্রমণ দেখা দিলে কৃষি অফিসের পরামর্শে ওষুধ দিয়েও লাভ হয়নি।পরে অন্য ওষুধ দিয়েও সুফল মেলেনি।

পুরো জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে জানান এ কৃষক।

একই এলাকার কৃষক জয়দুল মিয়া বলেন, ‘হঠাৎ এমন পোকার আক্রমণে আমনের ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দেনা করে আবাদ করছি। ফলন আসার আগেই ক্ষেত মরি গেলে দেনা শোধ করমো নাকি সংসার চালাব, জানি না।’

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কুমার প্রণয় বিষাণ দাস বলেন, ‘আক্রান্ত জমিতে কৃষকদের সপসিন, মিপসিন, ইমিটাফ জাতীয় ওষুধ প্রয়োগের পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। তা না করে অন্য ওষুধ দেয়ায় ফল পাওয়া যায়নি। কৃষকদের সংক্রমিত চারা তুলে ফেলার জন্য পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে।’

কৃষকদের কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। আমরা এ বিষয়ে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে আলোচনা করব।’

আরও পড়ুন:
আর্মি এভিয়েশন ফরওয়ার্ড বেস পেল চট্টগ্রাম
শান্তির জন্য ব্যবহার করব পারমাণবিক শক্তি: প্রধানমন্ত্রী
আরও একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দক্ষিণাঞ্চলে
সেনাপ্রধানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
৬ বছরে নিখোঁজ তানজিমা ফিরলেন ২২ বছর পর

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সরকারি জমিতে প্রকাশ্যে আ. লীগ নেতাদের দখল

সরকারি জমিতে প্রকাশ্যে আ. লীগ নেতাদের দখল

সরকারি জমিতে প্রকাশ্যে আ. লীগ নেতাদের দখলের কাজ চলছে। ছবি: নিউজবাংলা

সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইমদাদুল হক বলেন, ‘বাজারটা হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি। অনেকেই দখল করে বড় বড় বিল্ডিং করেছেন। আমি জমি দখল করছি না। আমি প্রাচীরের কাজ করছি।’

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে পৌর শহরের চৌরাস্তা হাটের সরকারি জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের তদারকি না থাকায় কোনো বাধা ছাড়াই জমি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও ভবন নির্মাণ করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জমিটি দখলমুক্ত করতে অবৈধ স্থাপনার কাজ বন্ধ করা হয়েছে। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, কাজ চলছে অবাধে ও প্রকাশ্যেই।

সরকারি জমিতে প্রকাশ্যে আ. লীগ নেতাদের দখল

পৌরসভা দপ্তরে সূত্রে জানা যায়, বাজারটি ১৯৯০ সাল পর্যন্ত পৌরসভা থেকে বার্ষিক ইজারায় দেয়া হয়। এরপর থেকে আর ইজারা দেয়া হয়নি। ভূমি অফিসের লোকজনের সহায়তায় সেখানে রাতারাতি অবৈধভাবে আধাপাকা বাড়ি, পাকা ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেন এলাকার প্রভাবশালীরা।

হাটের জায়গায় ব্যক্তি মালিকানায় অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠায় পরে কর্তৃপক্ষ তা বাজার হিসেবে ইজারা দিতে চাইলেও প্রভাবশালী দখলদারদের ভয়ে কেউ লিজ নিতে রাজি হয়নি।

ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৪-৮৫ এবং ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে দুটি মিস কেসের মাধ্যমে চৌরাস্তা হাটের সম্পত্তি পেরিফেরিভুক্ত করে ভূমি অফিস।

সরকারি জমিতে প্রকাশ্যে আ. লীগ নেতাদের দখল

বাজারের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য ২০০৯ সালে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় ওই বছরই ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসককে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বাস্তবায়নে পীরগঞ্জ পৌর কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করলেও সে সময় কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

সেই সুযোগে শহরের প্রাণকেন্দ্র রঘুনাথপুর মৌজায় (ঢাকাইয়াপট্টি) পেরিফেরিভুক্ত চৌরাস্তা হাটের উত্তর পূর্বাংশে অবৈধভাবে পাকা স্থাপনার কাজ শুরু করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি ইমদাদুল হক এবং সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক বিপ্লব।

শত কোটি টাকা মূল্যের সরকারি হাটের জমি দখল করতে ইমদাদুল হক সীমানা প্রাচীর তুলছেন। আর বিপ্লব ওই জমিতে বানাচ্ছেন বহুতল ভবন।

বিষয়টি নজর আসলে দখল ঠেকাতে চলতি বছরের ১৩ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজাউল করিমকে নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাহাবুবুর রহমান।

সরকারি জমিতে প্রকাশ্যে আ. লীগ নেতাদের দখল

ডিসি নিউজবাংলাকে জানান, নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে পীরগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাকে জানিয়েছেন।

অথচ গত ১৪ অক্টোবর দেখা যায় নির্মাণকাজ চলছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ডিসির নিদের্শনা পর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ না করে দখলদারদের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে চলে যান। সরকারি জমি দখলদারদের পাইয়ে দেয়ার পেছনে খোদ ইউএনও রেজাউল করিম কাজ করেছেন।

এ প্রসঙ্গে ইউএনও রেজাউল বলেন, অভিযোগ ঠিক নয়। কাজ বন্ধ করা হয়েছিল। আবার কাজ চালু হওয়ার বিষয়টি তিনি জানেন না।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে আবারও নির্মাণকাজ বন্ধের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সরকারি জমিতে প্রকাশ্যে আ. লীগ নেতাদের দখল

সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইমদাদুল হক বলেন, ‘বাজারটা হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি। অনেকেই দখল করে বড় বড় বিল্ডিং করেছেন। আমি জমি দখল করছি না। আমি প্রাচীরের কাজ করছি।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক বিপ্লব বলেন, ‘আমি এখানে বিশ বছর ধরে আধাপাকা বাড়ি করে আছি। এখন ভেঙে পাকা বাড়ি নির্মাণ করছি। হাটের পেরিফেরি থেকে জায়গাটা অবমুক্তির জন্য আবেদন করা হয়েছে।’

পীরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা ইকরামুল হক বলেন, ‘পেরিফেরিভুক্ত জমিতে ঘর নির্মাণের অনুমতি পৌরসভা দিতে পারে না। কাজ বন্ধ করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
আর্মি এভিয়েশন ফরওয়ার্ড বেস পেল চট্টগ্রাম
শান্তির জন্য ব্যবহার করব পারমাণবিক শক্তি: প্রধানমন্ত্রী
আরও একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দক্ষিণাঞ্চলে
সেনাপ্রধানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
৬ বছরে নিখোঁজ তানজিমা ফিরলেন ২২ বছর পর

শেয়ার করুন

ফটিকছড়িতে বাবা-ছেলে খুনের রহস্য উন্মোচন

ফটিকছড়িতে বাবা-ছেলে খুনের রহস্য উন্মোচন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বাবা-ছেলে খুনের মামলায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। ঠবি: নিউজবাংলা

আসামি ফিরোজের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে জানা যায়, তার সঙ্গে নিহত ফকিরের লিজ নেয়া ৯ একর জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে ফকিরের সঙ্গে কয়েকবার কথাকাটাকাটিও হয়েছে ফিরোজের। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ফিরোজ, এখলাস ও মান্নান মিলে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ছেলে হত্যার মামলাটি নিয়ে পিবিআইয়ের কাছে যাওয়ার কথা শুনে ভয়ে এজহার মিয়াকেও খুন করেন আসামিরা।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বাবা-ছেলে খুনের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

ঘটনার প্রায় এক বছর পর দায়িত্ব পেয়ে পিবিআই মাত্র ২০ দিনে এই জোড়া খুনের রহস্য উন্মোচন করে। এ মামলায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক কামাল আব্বাস বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন বৃহস্পতিবার।

জোড়া খুনের মামলায় গ্রেপ্তার তিন জন হলেন মো. ফিরোজ, মো. সালাহ উদ্দিন ওরফে মন্নান ও মো. এখলাস। তারা ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের বাসিন্দা।

এর মধ্যে মো. ফিরোজ বুধবার চট্টগ্রাম অ্যাডিশনাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা ইয়াসমিনের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বাকি দুই জনকে তিন দিন করে রিমান্ডে পাঠায় আদালত।

এর আগে মঙ্গলবার খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি থেকে মন্নানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেয়া তথ্যানুযায়ী ভুজপুরের সুয়াবিল থেকে ফিরোজ এবং কাঞ্চননগর থেকে এখলাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক কামাল আব্বাস নিউজবাংলাকে জানান, ২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নে দুইদ্যা খাল থেকে ফকির আহমেদের গলাকাটা দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার পরের দিন ফটিকছড়ি থানায় অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা এজহার মিয়া।

খুনের নয় মাসেও পুলিশ কাউকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে না পাড়ায় মামলাটির তদন্তের বিষয়ে পিবিআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগের সিদ্ধান্ত নেন এজহার মিয়া। আসামিরা বিষয়টি জানতে পারেন।

পিবিআই জানায়, সংস্থাটি মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেলে আর রক্ষা নেই, এই চিন্তা করে এজহার মিয়াকেও খুন করার সিদ্ধান্ত নেন ফকির আহমেদকে খুনের মামলার আসামিরা।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২১ সালের ২৪ জুন কাঞ্চননগর ইউনিয়নের খামার বাড়ির কাছাকাছি লাঙ্গল মেরামতের সময় এজহার মিয়াকেও খুন করেন আসামিরা। পরদিন দক্ষিণ কাঞ্চননগরের গরজইজ্ঞা থেকে এজাহার মিয়ার গলাকাটা দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় ২৬ জুন নিহতের স্ত্রী নাছিমা বেগম ফটিকছড়ি থানায় আরেকটি হত্যা মামলা করেন।

ঘটনার পর এক বছর পেরিয়ে গেলেও বাবা-ছেলে হত্যার কোনো কূল কিনারা খুঁজে না পাওয়ায় মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পিবিআইকে দেয়া হয়।

পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক কামাল আব্বাস বলেন, ‘মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর ওই এলাকার সোর্সকে কাজে লাগিয়ে খুনের সঙ্গে এজহারের মেয়ের জামাই এখলাসেরও জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হই। এরপর লিজ নেয়া ৯ একর জমি নিয়ে মান্নান নামের এক জনের সঙ্গে নিহত ফকিরের বিরোধের তথ্য পাই। পরবর্তীতে মান্নানের কাছে থেকে হত্যার পরিকল্পনাকারী ফিরোজের তথ্য পাই।’

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফকির আহমেদকে খুনের কথা স্বীকার করে ফিরোজ আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা।

ফিরোজের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে পিবিআই জানতে পারে তার সঙ্গে নিহত ফকিরের লিজ নেয়া ৯ একর জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে ফকিরের সঙ্গে কয়েকবার কথাকাটাকাটিও হয়েছে ফিরোজের। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ফিরোজ, এখলাস ও মান্নান মিলে ফকিরকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, ছেলে হত্যার মামলাটি নিয়ে এজহার মিয়া পিবিআইয়ের দারস্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ায় আসামিরা ভয় পেয়ে যান। তাই এজহার মিয়াকেও খুন করেন তারা।

আরও পড়ুন:
আর্মি এভিয়েশন ফরওয়ার্ড বেস পেল চট্টগ্রাম
শান্তির জন্য ব্যবহার করব পারমাণবিক শক্তি: প্রধানমন্ত্রী
আরও একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দক্ষিণাঞ্চলে
সেনাপ্রধানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
৬ বছরে নিখোঁজ তানজিমা ফিরলেন ২২ বছর পর

শেয়ার করুন

‘কিশোরদের দ্বন্দ্বে’ কলেজছাত্রকে হত্যা

‘কিশোরদের দ্বন্দ্বে’ কলেজছাত্রকে হত্যা

নিহত কিশোরে স্বজনদের আহাজারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে। ছবি: নিউজবাংলা

নিহত মো. আকাশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের চিনাইর ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তার বয়স ১৮, বাড়ি উত্তরপাড়া এলাকায়। এ ঘটনায় আহত হয়েছে তার চার বন্ধুও।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে কলেজছাত্রকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় আহত হয়েছে তার চার বন্ধু।

আহতদের অভিযোগ, এলাকায় গাঁজা সেবনকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের জেরে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের সুলতানপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে বুধবার সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত মো. আকাশ সদরের চিনাইর ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তার বয়স ১৮, বাড়ি উত্তরপাড়া এলাকায়।

আহতরা হলো ১৬ বছরের মো. ফায়েজ, ২০ বছরের মো. আরমান, ১৪ বছরের মো. রাকিব ও ১৭ বছরের মো. মাসুম।

মাসুম জানান, সুলতানপুর গ্রামের দক্ষিণ ইউনিয়নের একটি বেসরকারি স্কুলের সামনে একই এলাকার শেখ কামরুলের ছেলে শেখ রিফাত বসে গাঁজা খায়। এ নিয়ে আকাশের সঙ্গে বুধবার সকালে তার তর্কাতর্কি হয়। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি মীমাংসা করলে তারা সরে যায়।

মাসুম বলেন, বিকেলে সুলতানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে খেলতে যান তিনি ও আকাশসহ এলাকার কয়েকজন বন্ধু। খেলা শেষে সন্ধ্যায় তাদের ওপর ছুরি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায় রিফাত ও তার সহযোগীরা।

ছুরির আঘাতে আকাশ গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন আহতদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আকাশকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মামুন নিউজবাংলাকে বলেন, আকাশের মাথা ও বুকে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। হাসপাতালে নেয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। আহতদের সেখানে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

সদর থানার ওসি এমরানুল জানান, ময়নাতদন্তের পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
আর্মি এভিয়েশন ফরওয়ার্ড বেস পেল চট্টগ্রাম
শান্তির জন্য ব্যবহার করব পারমাণবিক শক্তি: প্রধানমন্ত্রী
আরও একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দক্ষিণাঞ্চলে
সেনাপ্রধানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
৬ বছরে নিখোঁজ তানজিমা ফিরলেন ২২ বছর পর

শেয়ার করুন

নালায় পড়ে মৃত্যু: সেবা সংস্থাগুলোকে আইনি নোটিশ

নালায় পড়ে মৃত্যু: সেবা সংস্থাগুলোকে আইনি নোটিশ

ফাইল ছবি

ব্যারিস্টার আবদুল হালিম বুধবার বিকেলে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নালা বা ড্রেন উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। সেটার দায় সিডিএ এড়াতে পারে না। সিটি করপোরেশন ও সিডিএ দুর্ঘটনা রোধে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন তা জানাতে হবে।’

চট্টগ্রামে মুরাদপুরে সবজি বিক্রেতা সালেহ আহমেদ ও আগ্রাবাদে শিক্ষার্থী সেহেরিন মাহবুব সাদিয়ার মৃত্যু হয়েছে দাবি করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) প্রধান নির্বাহীসহ ১৩ জনকে লিগ্যাল নোটিশ দেয়া হয়েছে। এতে সাত দিনের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

চিলড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের (সিসিবি ফাউন্ডেশন) পক্ষে মঙ্গলবার ব্যারিস্টার আবদুল হালিম ও আইনজীবী ইশরাত হাসান এই নোটিশ পাঠান।

সেবা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় না থাকাই চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো স্বাচ্ছন্দ্যের পরিবর্তে নগরবাসীর মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

যাদের নোটিশ দেয়া হয় তারা হলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, সিডিএ চেয়ারম্যান, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী ও সচিব, প্রধান প্রকৌশলী, ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের ডেপুটি ডাইরেক্টর ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ডাইরেক্টর, সিডিএ সচিব, সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এবং ডবলমুরিং থানার ওসি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্যারিস্টার আবদুল হালিম বুধবার বিকেলে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নালা বা ড্রেন উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। সেটার দায় সিডিএ এড়াতে পারে না। সিটি করপোরেশন ও সিডিএ দুর্ঘটনা রোধে কী ব্যবস্থা নিয়েছে তা জানাতে হবে।

‘দুর্ঘটনায় কোনো মামলা হয়েছে কি না, হলে তার অগ্রগতি প্রতিবেদন সাত দিনের মধ্যে জানাতে হবে ডবলমুরিং থানার ওসি ও সিএমপি কমিশনারকে।’

নোটিশে বলা হয়, সালেহ আহমেদ ও সাদিয়ার মৃত্যু কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই হয়েছে। নোটিশের জবাব নির্ধারিত সময়ে দিতে ব্যর্থ হলে বা এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য না দিলে সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষে এক কোটি টাকা করে চাওয়া হবে।

ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা রোধে কী ব্যবস্থা কর্তৃপক্ষ নিবে তার রিপোর্ট প্রকাশ করতে বলা হয়েছে।

গত ২৫ আগস্ট মুরাদপুরে নালায় পড়ে নিঁখোজ হন সালেহ আহমেদ। গতকাল পর্যন্ত তার খোঁজ মেলেনি। এরপর ২৭ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে আগ্রাবাদে নালায় পড়ে মারা যান সাদিয়া। এ দুজনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ী কে, সে প্রশ্ন উঠেছিল বিভিন্ন মহল থেকে। যদিও চসিক ও সিডিএ কেউ দায় স্বীকার করেনি। বরং একে অন্যকে দোষারোপ করে দুই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলরা।

সালেহ আহমেদ ও সাদিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় ব্যারিস্টার আবদুল হালিম ও আইনজীবী ইশরাত হাসানের দেয়া নোটিশেও দায় এড়ানোর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

চসিক বলছে, দুদিকে ফুটপাত করলেও খালের মুখটি অরক্ষিত রেখেছে সিডিএ। তাই এর দায় সিডিএয়ের। আবার সিডিএ বলছে, খালের মালিকানা চসিকের। তাই খালের মুখে সুরক্ষা নিশ্চিতের দায়িত্বও তাদের।

নালা ও খালে পড়ে একের পর এক মৃত্যুতে নগরবাসী ক্ষুব্ধ উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়, দায় এড়ানোর প্রবণতা প্রমাণ করে যে, সেবা সংস্থার মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো স্বাচ্ছন্দ্যের পরিবর্তে নগরবাসীর মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

আরও পড়ুন:
আর্মি এভিয়েশন ফরওয়ার্ড বেস পেল চট্টগ্রাম
শান্তির জন্য ব্যবহার করব পারমাণবিক শক্তি: প্রধানমন্ত্রী
আরও একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দক্ষিণাঞ্চলে
সেনাপ্রধানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
৬ বছরে নিখোঁজ তানজিমা ফিরলেন ২২ বছর পর

শেয়ার করুন

চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলা, ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রেপ্তার ৮০

চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলা, ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রেপ্তার ৮০

নোয়াখালীর একলাশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

নোয়াখালীর এসপি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামিদের চিহ্নিত করে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করি। এ বিষয়ে গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ পর্যন্ত পূজামণ্ডপে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ৪টি মামলায় ৮০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক সংঘাতের ঘটনায় একলাশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এ ছাড়া পূজামণ্ডপে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় এ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ৮০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) শহীদুল ইসলাম বুধবার বেলা ৩টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার রাতে উপজেলার কাদিরপুর ইউনিয়নের মো. ইলিয়াস, একলাশপুর ইউনিয়নের মিজানুর রহমান, গনিপুরের নুরনবীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নোয়াখালীর এসপি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামিদের চিহ্নিত করে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করি। এ বিষয়ে গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ পর্যন্ত পূজামণ্ডপে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ৪টি মামলায় ৮০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
আর্মি এভিয়েশন ফরওয়ার্ড বেস পেল চট্টগ্রাম
শান্তির জন্য ব্যবহার করব পারমাণবিক শক্তি: প্রধানমন্ত্রী
আরও একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দক্ষিণাঞ্চলে
সেনাপ্রধানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
৬ বছরে নিখোঁজ তানজিমা ফিরলেন ২২ বছর পর

শেয়ার করুন

ঠান্ডা মাথায় বাবাকে খুন করেছে ছেলে: র‍্যাব

ঠান্ডা মাথায় বাবাকে খুন করেছে ছেলে: র‍্যাব

র‍্যাব কর্মকর্তারা জানান, আসামির মোটিভ দেখে আমাদের তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হয়নি। বরং সে ঠান্ডা মাথায় এই হত্যা করেছে। ঘটনার পর সে পালিয়ে গিয়ে বারবার স্থান পরিবর্তন করছিল।

ঢাকার সাভারে মধ্যরাতে বৃদ্ধ বাবাকে ঠান্ডা মাথায় ছেলে খুন করেছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব। যদিও হত্যার পর পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ছেলেটি মানসিক ভারসাম্যহীন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে এসব জানায় র‍্যাব-৪।

এতে বলা হয়, আশুলিয়ার জিরানী কোণাপাড়ায় মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে ছেলে আফাজ উদ্দিনের বটির আঘাতে নিজ বাড়িতে নূর মোহাম্মদ নামের এক ব্যক্তি খুন হন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর তার স্বজন ও প্রতিবেশীরা জানায় আফাজ মানসিক ভারসাম্যহীন।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে আফাজকে আসামি করে আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা করে পুলিশ। মামলাটির ছায়া তদন্তে নামে র‍্যাব।

র‍্যাব কর্মকর্তারা জানান, আসামির মোটিভ দেখে আমাদের তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হয়নি। বরং সে ঠান্ডা মাথায় এই হত্যা করেছে। ঘটনার পর সে পালিয়ে গিয়ে বারবার স্থান পরিবর্তন করছিল। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ধামরাই উপজেলার কুশুরা ইউনিয়নের মিসকিন শাহ রহমত উল্লাহ মাজার থেকে তাকে বুধবার ভোরে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই সঙ্গে হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা বটি, লুঙ্গি ও একটি বিছানার চাদর উদ্ধার করা হয়।

তবে র‍্যাবের বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন নিহত নূর মোহাম্মদের পরিবার ও এলাকাবাসী।

নিউজবাংলাকে নূর মোহাম্মদের মেয়ে হোসনে আরা বলেন, ‘ জন্ম থেকেই আমার ভাই মানসিকভাবে অসুস্থ। বাবা ওর দেখভাল করতো, তার সঙ্গেই রাতে ঘুমাতো।’

আফাজের স্ত্রী মোর্শেদা বেগম বলেন, ‘ আমার স্বামীর মানসিক সমস্যার কারণে আড়াই বছর ধরে সন্তানদের নিয়ে আলাদা ঘরে থাকি। মাঝেমধ্যে আমার শ্বশুর ওর সঙ্গে ঘুমাতো।’

স্বপন মিয়া নামের এক প্রতিবেশী বলেন, ‘আফাজ একেক সময় একেক রকম আচরণ করতো। কখনও ভালো আবার কখনও খারাপ।’

র‍্যাব-৪-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রাকিব মাহমুদ খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আফাজ হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তবে কী কারণে হত্যাকাণ্ড তা এখনও জানা যায়নি। তদন্ত চলছে।’

আরও পড়ুন:
আর্মি এভিয়েশন ফরওয়ার্ড বেস পেল চট্টগ্রাম
শান্তির জন্য ব্যবহার করব পারমাণবিক শক্তি: প্রধানমন্ত্রী
আরও একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দক্ষিণাঞ্চলে
সেনাপ্রধানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
৬ বছরে নিখোঁজ তানজিমা ফিরলেন ২২ বছর পর

শেয়ার করুন

ফেসবুক লাইভে থানায় ঢুকে আত্মহত্যার চেষ্টা সেই ছাত্রলীগ নেতার

ফেসবুক লাইভে থানায় ঢুকে আত্মহত্যার চেষ্টা সেই ছাত্রলীগ নেতার

ফেসবুক লাইভে এসে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক রাসেল ইকবাল। ছবি: নিউজবাংলা

রাসেল বলেন, ‘আজকে আমি বেঁচে থাকার কোনো কারণ দেখতেছি না। এই যে এইগুলো (হাতে ছোট একটি বোতল দেখিয়ে) আজকে থানার সামনে এগুলো খাব। আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী থাকবে পুলিশ প্রশাসন যারা আমার বাবাকে ধরে আনছে তারা...। আমার জীবনে আমার বাবাকে কখনও দেখি নাই কোনো মানুষের সঙ্গে অন্যায় করতে, খারাপ ব্যবহার করতে।’

বাঁশখালীতে সংঘর্ষে দুইজন নিহতের ঘটনায় আটক এক ব্যক্তিকে নির্দোষ দাবি করে থানায় ঢুকে ‘বিষ খেয়েছেন’ তার ছেলে।

এর আগে ফেসবুকে লাইভে এসে ওই যুবক অভিযোগ করেন, থানার ওসি, এসআই এবং স্থানীয় শুক্কুর নামের একজন তাকে ও তার বাবাকে সংঘর্ষের ঘটনায় ফাঁসিয়েছেন।

বাঁশখালী থানায় বুধবার বিকেল ৪টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

ওই যুবক হলেন দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক রাসেল ইকবাল। তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

থানায় যাওয়ার আগে অটোরিকশায় বসে ফেসবুক লাইভে এসে রাসেল বলেন, '...আমার বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার শীলকূপ ইউনিয়নে, মুনছুরিয়া বাজার। এর আগেও তিনবার আমাকে পুলিশের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। আমার বাবা নিরপরাধ একজন মানুষ। আমিও কোনো অপরাধ করিনি।

‘আমাদের এলাকায় আজকে দুইটা মারামারি হইছে, সেখানে একজন মানুষ নাকি মারা গেছে। ওই ঘটনায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো প্রমাণ ছাড়া কালা শুক্কুর ডাকাত, পাগলা শাহ আলমের ছেলে মাহি ইসলাম আমাকে বিভিন্নভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করে মামলায়। আজকে আমার বাবাকে ধরে নিয়ে আসছে এসআই হাবিব।’

শুক্কুরের পরামর্শে তার বাবাকে আটক করা হয়েছে দাবি করে রাসেল বলেন, ‘এসআই হাবিব সাহেবের উচিত ছিল ঘটনাস্থলে গিয়ে সব তথ্য প্রমাণ নেয়া, কে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল আর কে ছিল না। ওসি কামাল সাহেবের সঙ্গে কালা শুক্কুরের খুব ভালো সম্পর্ক। কালা শুক্কুর বলছে, সে জন্য আমার বাবাকে ধরে নিয়ে আসছে। এখন আমাকেও নাকি পুলিশ খুঁজতেছে। এখন আমি ছাত্রলীগের একজন কর্মী হয়ে আমার যদি এই অবস্থা হয়, আমার পরিবারের যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে ভালো থাকবে বলেন?’

শুক্কুর নামের ওই ব্যক্তি এর আগে তাকে বিভিন্ন মামলায় ফাঁসিয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘...আমার বন্ধুর সঙ্গে একটা মেয়ের সম্পর্ক ছিল, ওরা পালিয়ে বিয়ে করছে। ওই মামলায় কালা শুক্কুর আমাকে ফাঁসাই দিছে। তারপর আমার বন্ধু একজনের কাছে টাকা পাবে, আমি যখন রাজনীতি করি আমাকে ডাকছে, ওই ছেলেটাকেও ডাকছে। কথা বলতেছি, আমি নাকি তাকে অপহরণ করছি। ওসি সালাউদ্দিন হিরা ছিলেন, তারপর এসআই রফিক ছিলেন, পরিদর্শক শরীফ ছিলেন, ওনারা গিয়ে বাড়িতে আমার বাবাকে মারতেছে। আমার বাবার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা নিছে।’

এরপর তিনি থানায় গিয়ে আত্মহত্যা করবেন বলে জানান লাইভে।

রাসেল বলেন, ‘আজকে আমি বেঁচে থাকার কোনো কারণ দেখতেছি না। এই যে এইগুলো (হাতে ছোট একটি বোতল দেখিয়ে) আজকে থানার সামনে এগুলো খাব। আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী থাকবে পুলিশ প্রশাসন যারা আমার বাবাকে ধরে আনছে তারা...। আমার জীবনে আমার বাবাকে কখনও দেখি নাই কোনো মানুষের সঙ্গে অন্যায় করতে, খারাপ ব্যবহার করতে।’

এরপর লাইভেই তাকে থানায় ঢুকতে দেখা যায় ও কিছু লোকজনের হইচই শোনা যায়। এরপরই লাইভ শেষ হয়। এ বিষয়ে জানতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল উদ্দিনকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তবে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে তাদের তো আসলে আমি চিনি না কে কার বাবা। তা ছাড়া ওদের তো আমি আটক করিনি, আমি শেষ পর্যন্ত ঘটনাস্থলেই ছিলাম। তাহলে তাদের আটক করে আনলাম কখন? আর শুক্কুর নামের যার কথা বলছেন, এই নামের কাউকে তো আমি চিনি না।’

বাঁশখালী পৌরসভার মনছুরিয়া বাজারে পানি নিষ্কাশনের পাইপ বসানো নিয়ে বুধবার দুপুরে দুই পরিবারের সংঘর্ষে দুজন নিহত হন। এই ঘটনায় আহত হন তিনজন।

নিহতরা হলেন ৩৪ বছর বয়সের আব্দুল খালেক ও সোলতান মাহমুদ টিপু। তারা সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা।

বাঁশখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজিজুল হক ঘটনার পরপরই নিউজবাংলাকে জানান, ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তবে তাদের নাম আপাতত প্রকাশ করা হবে না।

রাসেলের আত্মহত্যার চেষ্টার বিষয়ে পরিদর্শক আজিজুল হক বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখতে গিয়েছি আমরা। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসক সঞ্জয় কুমার নাথ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিকেল ৪টার দিকে বিষপান করা রাসেলকে নিয়ে আসা হয়েছিল। তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে।’

জেলা পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক আলাউদ্দিন তালুকদার রাতে নিউজবাংলাকে জানান, রাসেল শঙ্কামুক্ত।

আরও পড়ুন:
আর্মি এভিয়েশন ফরওয়ার্ড বেস পেল চট্টগ্রাম
শান্তির জন্য ব্যবহার করব পারমাণবিক শক্তি: প্রধানমন্ত্রী
আরও একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দক্ষিণাঞ্চলে
সেনাপ্রধানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
৬ বছরে নিখোঁজ তানজিমা ফিরলেন ২২ বছর পর

শেয়ার করুন