বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিতে চায় সার্বিয়া

বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিতে চায় সার্বিয়া

বেলগ্রেডে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্দার ভুসিকের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সৌজন্য সাক্ষাৎ। ছবি: সংগৃহীত

বেলগ্রেডে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্দার ভুসিক বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের কাছে এ আগ্রহের কথা জানান। এজন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া তৈরিতে জোর দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট।

বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ও আধা দক্ষ শ্রমিক নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে ইউরোপের দেশ সার্বিয়া। এজন্য দুই দেশের সরকারের মধ্যে একটি কৌশলগত দিক নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বুধবার সকালে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, বেলগ্রেডে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্দার ভুসিক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনকে এ আগ্রহের কথা জানান।

সার্বিয়ার চলমান উচ্চাভিলাষী উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য যে বিশাল মানবসম্পদের প্রয়োজন তা পূরণে বাংলাদেশের দক্ষ ও আধা-দক্ষ আইটি পেশাজীবী, ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বাদের নিয়োগের প্রস্তাব দেন বৈঠকে মোমেন। সার্বিয়ায় বর্তমানে এসব কাজে অনেক চাহিদা রয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ প্রস্তাব সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট সাদরে গ্রহণ করেন বলে জানানো হয় বিবৃতিতে। বাংলাদেশ থেকে শ্রম ও জনশক্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া তৈরিতে জোর দেন ভুসিক।

বৈঠকে দুই বন্ধু দেশের মধ্যে শক্তিশালী বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সংযোগ গড়ে তোলার ওপর জোর দেন মোমেন। সার্বিয়ান বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশ থেকে আমদানি করার এবং সরকারের দেয়া চমৎকার বিনিয়োগের পরিবেশ ব্যবহার করে দেশে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান তিনি।

করোনাভাইরাস মহামারির চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রার ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রেসিডেন্ট ভুসিক।

বৈঠকে ঢাকা ও বেলগ্রেডের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং ঐতিহ্যগতভাবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে মোমেন বলেন, এ সম্পর্ক ইতিহাসে নিহিত। এ সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক যুগোস্লাভিয়ার প্রেসিডেন্ট জোসিপ ব্রোজ টিটোর ব্যক্তিগত বন্ধুত্বকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি।

সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট এটা জানতে পেরে উচ্ছ্বসিত হন যে, বাংলাদেশ বর্তমানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছে।

বৈঠকে বাংলাদেশ ১২ লাখ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) আশ্রয় দিয়েছে উল্লেখ করে তাদের নিরাপদ, সেচ্ছায় ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার জান্তার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে সার্বিয়ার প্রতি আহবান জানান মোমেন।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশের উদারতার প্রশংসা করে ভুসিক জানান, এ সমস্যা সমাধানে ঢাকার পাশে থাকবে তার দেশ।

মোমেন সার্বিয়ান প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান, সাদরে এ আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন ভুসিক। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকেও সার্বিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
১২ হাজার গার্মেন্ট শ্রমিক নেবে জর্ডান

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিভাগ পাচ্ছে কুমিল্লা, নাম মেঘনা

বিভাগ পাচ্ছে কুমিল্লা, নাম মেঘনা

প্রধানমন্ত্রীর কাছে কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণার দাবি রাখেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার। জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি কুমিল্লা নামে দেব না। কারণ, তোমার ওই কুমিল্লা নামের সঙ্গে মুশতাকের নাম জড়িত। সেজন্য আমি দেব না। ওই কুমিল্লা নাম নিলেই তো মুশতাকের কথা মনে উঠে।’

বৃহত্তর ফরিদপুর ও বৃহত্তর কুমিল্লাকে নিয়ে দেশে আরও দুটি বিভাগ করার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে বিভাগ দুটি কোনো জেলার নামে হবে না; হবে দেশের প্রধান দুটি নদী পদ্মা-মেঘনার নামে।

এর যুক্তি দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “স্বাধীনতা যুদ্ধের ‘তোমার আমার ঠিকানা/পদ্মা, মেঘনা যমুনা’ স্লোগানের আদলে নদীর নামে হবে এই বিভাগ দুটির নাম। সেক্ষেত্রে ফরিদপুর বিভাগের নাম হবে ‘পদ্মা’ আর ‘মেঘনা’ হবে কুমিল্লা বিভাগের নাম।”

কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের নবনির্মিত অফিস ভবনের উদ্বোধনী আয়োজনে বৃহস্পতিবার দুপুরে গণভবন প্রান্ত থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সরকার প্রধান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কুমিল্লাকে বিভাগ হিসেবে ঘোষণার দাবি রাখেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার। তার দাবির সঙ্গে সহমত জানান অনুষ্ঠানে উপস্থিত জেলার সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরাও।

তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিভাগের ব্যাপারে আমি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি দুটি বিভাগ বানাব দুটি নদীর নামে। একটা পদ্মা, একটা মেঘনা। এই দুই নামে দুইটা বিভাগ করতে চাই।’

প্রধানমন্ত্রীর কথা শেষ না হতেই বাহাউদ্দিন বাহার বলেন, ‘আপা, কুমিল্লা নামে করেন।’

উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ওই কু নাম দেব না আমি। কুমিল্লা দেব না আমি।’

সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে আবারও অনুরোধ জানাতে থাকেন বাহার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কুমিল্লা নামে দেব না। কারণ তোমার ওই কুমিল্লা নামের সঙ্গে মুশতাকের নাম জড়িত। সেজন্য আমি দেব না। ওই কুমিল্লা নাম নিলেই তো মুশতাকের কথা মনে উঠে।’

এবার বাহার বলেন, ‘কোনো কুলাঙ্গারের নামে দেশের পরিচয় হয় না আপা। বাংলাদেশের পরিচয় বঙ্গবন্ধুর ওপর, মুনায়েম খানের ওপর না। বঙ্গবন্ধুকেই চেনে সারা বিশ্ব। বাংলাদেশ চিনত না। বলত, শেখ মুজিবের দেশ।’

এ অবস্থায় সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা বাহারকে থামিয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সরকার প্রধান বলেন, ‘তাহলে তুমি বলো, কুমিল্লা নাম হবে কেন? চাঁদপুর বলে আমার নাম হবে, নোয়াখালী বলবে আমাদের নাম…নোয়াখালী সব থেকে পুরনো একটা… কুমিল্লা তো ত্রিপুরার একটা ভগ্নাংশ।’

তারপরও বিরোধিতা করতেই থাকেন বাহাউদ্দিন বাহার।

এবার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ফরিদপুর বিভাগ করব পদ্মা নামে।’

বাহার বলেন, ‘ফরিদপুর বিভাগ কী হবে জানি না, কিন্তু আমাদেরটা আমাদের নামে দেন।’

তবে কুমিল্লা আওয়ামী লীগ নেতারা এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলেও নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “আমি ফরিদপুর বিভাগ করব পদ্মা নামে। ফরিদপুর নামও দিচ্ছি না। কুমিল্লা বিভাগ হবে মেঘনা নামে। কারণ, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা/ তোমার আমার ঠিকানা’ এই স্লোগান দিয়ে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ করেছে, বিজয় অর্জন করেছে।”

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ (কুমিল্লা) নামে অন্য জেলাগুলো আসতে চায় না।’

বাহারের বাড়াবাড়ির কারণে একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আচ্ছা তুমি সবার কাছ থেকে লিখিত নিয়ে আস। তোমাকে দায়িত্ব দিলাম, সবার কাছ থেকে মানিয়ে নিয়ে আস, যাও।’

বাহার বলেন, ‘আপা, আপনি দিলেই মানবে। আপনি মুখ দিয়ে বললেই হয়ে যাবে, আপা।’

আরও কিছুক্ষণ ধরে কুমিল্লা নামেই বিভাগ করতে অনুনয় চালিয়ে যান সংসদ সদস্য বাহার।

শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যদি বিভাগ চাও, আমি মেঘনা নামেই করে দিতে পারি।’

বক্তব্য শেষ করার আগ মুহূর্তেও ‘মেঘনা’ নামে কুমিল্লা বিভাগের নামকরণের প্রস্তাবটা সবাইকে গ্রহণ করার আবেদন জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী পদ্মা ও মেঘনা নামে দুটি বিভাগ ঘোষণা হলে দেশে মোট বিভাগ হবে ১০টি। দেশের সবশেষ বিভাগ হয় ময়মনসিংহ, ২০১৫ সালে।

আরও পড়ুন:
১২ হাজার গার্মেন্ট শ্রমিক নেবে জর্ডান

শেয়ার করুন

কুমিল্লার ঘটনার হোতা মোবাইল ব্যবহার করছেন না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কুমিল্লার ঘটনার হোতা মোবাইল ব্যবহার করছেন না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। ছবি: নিউজবাংলা

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘হয়তো যারা তাকে পাঠিয়েছিল তারা তাকে লুকিয়ে রাখতে পারে। আমরা মূল হোতাকে চিহ্নিত করেছি।’

দুর্গাপূজার সময় কুমিল্লায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মূল হোতা মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। বলেছেন, এর ফলে তার অবস্থানও জানা যাচ্ছে না।

সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মূল হোতার নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, ‘হয়তো যারা তাকে পাঠিয়েছিল তারা তাকে লুকিয়ে রাখতে পারে। আমরা মূল হোতাকে চিহ্নিত করেছি।’

কুমিল্লা নগরীর নানুয়ার দিঘিরপাড়ের পূজামণ্ডপে গত ১৩ অক্টোবর ভোরে হনুমানের মূর্তির ওপর পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা।

ওই মণ্ডপের পাশাপাশি আক্রান্ত হয় নগরীর আরও বেশ কিছু পূজামণ্ডপ। পরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে চাঁদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায়।

দুর্গাপূজার সময় এবং পরে দেশের কয়েকটি জেলায় যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা দেখা গেছে সেগুলোকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যা ঘটেছে বিচ্ছিন্ন ঘটনা। কারও মধ্যে কোনো আতঙ্ক নেই। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক আছে, নিয়ন্ত্রণে আছে।’

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তদন্তসংশ্লিষ্টদের তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার জানা যায়, নানুয়ার দিঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রেখেছিলেন ইকবাল হোসেন নামের স্থানীয় এক যুবক। সহিংসতার আগের রাতে তিনি কোরআনটি নিয়েছিলেন মণ্ডপের পাশের শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরি (রা.)-এর মাজারের মসজিদের বারান্দা থেকে।

ইকবাল রাত ২টা ১০ মিনিটের দিকে কোরআন শরিফটি হাতে নিয়ে মণ্ডপের দিকে রওনা হন। এরপর মূল মণ্ডপের বাইরে পূজার থিম হিসেবে রাখা হনুমানের মূর্তির ওপর কোরআন রেখে ফিরে আসেন। এসব দৃশ্য ধরা পড়েছে ওই এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরায়।

নানুয়ার দিঘির পাশেই শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরি (রা.)-এর মাজারটির অবস্থান। মণ্ডপ থেকে হেঁটে যেতে সময় লাগে ২ থেকে ৩ মিনিট। দারোগাবাড়ী মাজার নামে কুমিল্লাবাসীর কাছে ব্যাপকভাবে পরিচিতি রয়েছে মাজারটির। এই মসজিদের বারান্দায় তিলাওয়াতের জন্য রাখা থাকে বেশ কয়েকটি কোরআন শরিফ। রাত-দিন যেকোনো সময় যে কেউ এখানে এসে তিলাওয়াত করতে পারেন।

ইকবালের বিষয়ে জানতে বুধবার রাতে দারোগাবাড়ী জামে মসজিদের পেশ ইমাম ইয়াছিন নূরীকে ফোন করা হলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে সিসিটিভি ফুটেজ দেখিনি।’

মণ্ডপে সহিংসতার আগের রাতে তিনি কোরআন শরিফটি হাতে নিয়ে মণ্ডপের দিকে রওনা হন। এরপর মূল মণ্ডপের বাইরে পূজার থিম হিসেবে রাখা হনুমানের মূর্তির ওপর কোরআন রেখে ফিরে আসেন ইকবাল। এসব দৃশ্য ধরা পড়েছে ওই এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরায়।

প্রধান অভিযুক্ত ইকবালের সহযোগী হিসেবে অন্তত চারজন এরই মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মনে করছে, ইকবাল গ্রেপ্তার হলেই এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন:
১২ হাজার গার্মেন্ট শ্রমিক নেবে জর্ডান

শেয়ার করুন

মুজিববর্ষ উপলক্ষে ৫৫ রেলওয়ে স্টেশন আধুনিকায়ন

মুজিববর্ষ উপলক্ষে ৫৫ রেলওয়ে স্টেশন আধুনিকায়ন

ময়মনসিংহের গফরগাঁও স্টেশনের আধুনিকায়নের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আগে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বক্তব্য দেন রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। ছবি: নিউজবাংলা

রেলমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা রেলের উন্নয়নে অনেকগুলো পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। মুজিববর্ষ উপলক্ষে আমরা ৫৫টা স্টেশন আধুনিকায়নের কাজ হাতে নিয়েছি। ঢাকা, জয়দেবপুর, ময়মনসিংহ, জামালপুরসহ কয়েকটি স্টেশন উন্নয়নের কাজ আমরা হাতে নিয়েছি।’

মুজিববর্ষ উপলক্ষে ৫৫টি রেলওয়ে স্টেশনের আধুনিকায়ন হবে বলে জানিয়েছেন রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন।

ময়মনসিংহের গফরগাঁও স্টেশনের আধুনিকায়নের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আগে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে দেয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

রেলওয়ের উন্নয়নে সরকারের নেয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা রেলের উন্নয়নে অনেকগুলো পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। মুজিববর্ষ উপলক্ষে আমরা ৫৫টা স্টেশন আধুনিকায়নের কাজ হাতে নিয়েছি। ঢাকা, জয়দেবপুর, ময়মনসিংহ, জামালপুরসহ কয়েকটি স্টেশন উন্নয়নের কাজ আমরা হাতে নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আজকে ট্রেন নিয়ে আমরা এসেছি কয়েকটি জায়গার স্টেশনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য। এই যে রেললাইনগুলো, এর আরও উন্নয়ন দরকার। এই রেললাইনে যেন ১০০ কিলোমিটারের বেশি বেগে রেল চলতে পারে সেই কাজও শুরু হবে।’

সুজন বলেন, ‘আমরা আজ বের হয়ে রেলের কোথায় কী প্রয়োজন, সেটা দেখে যাচ্ছি। শুধু মিটারগেজ নয়, এর পরে আমাদের যে রেলব্যবস্থা, সেখানে মিটারগেজ থেকে ব্রডগেজে রূপান্তর করতেছি। অনেক জায়গা নিয়ে ব্রডগেজ ট্রেন এবং ১২০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার বেগে চলবে।’

গফরগাঁও স্টেশনের উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘গফরগাঁও স্টেশনে ফুটওভার ব্রিজ ও আরেকটি প্ল্যাটফর্ম করে দেবো। এ ছাড়া রেলের সমান করে প্ল্যাটফর্ম উঁচু হবে, যার ফলে বয়স্ক, নারী ও শিশুদের ট্রেনে উঠতে ঝামেলা না হয়। ভবিষ্যতে আর কোনো সিঁড়ি ব্যবহার করতে হবে না।’

আরও পড়ুন:
১২ হাজার গার্মেন্ট শ্রমিক নেবে জর্ডান

শেয়ার করুন

বাংলাদেশ সকল ধর্মের, সকল বর্ণের: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ সকল ধর্মের, সকল বর্ণের: প্রধানমন্ত্রী

কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের নবনির্মিত অফিস ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: নিউজবাংলা

স্বাধীনতা যুদ্ধে কোনো ধর্মীয় পরিচয় দেখা হয়নি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন দিয়েছেন সেখানে কিন্তু কোনো ধর্ম দেখে না। যারা রক্ত দিয়েছেন তাদের সকলের রক্ত, যে যে ধর্মের হোক একাকার হয়ে মিশে গেছে। কাজেই এটা সবার মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ সকল ধর্মের, সকল বর্ণের, সব শ্রেণি পেশার মানুষের। সকলেই একটা মর্যাদা নিয়ে চলবে, সম্মান নিয়ে চলবে, সেটাই আমাদের স্মরণ রাখতে হবে।’

শারদীয় দুর্গাপূজার সময় ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক সহিংসতাকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। এখানে সব ধর্মের লোকদের সম্প্রীতি নিয়ে বাস করতে হবে।

কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের নবনির্মিত অফিস ভবনের উদ্বোধনী আয়োজনে বৃহস্পতিবার দুপুরে গণভবন প্রান্ত থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সরকার প্রধান।

বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনাতেই থাকবে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশে আমরা অসাম্প্রদায়িক সমাজে বসবাস করি। সেখানে সকল ধর্মের সঙ্গে আমাদের সম্প্রীতি থাকবে। সম্প্রীতি নিয়েই আমাদের চলতে হবে। যুগ যুগ ধরেই কিন্তু সকল ধর্মের মানুষ আমরা একসঙ্গে বসবাস করে আসছি।’

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কোনো ধর্মীয় পরিচয় দেখা হয়নি বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন দিয়েছেন সেখানে কিন্তু কোনো ধর্ম দেখে না। যারা রক্ত দিয়েছেন তাদের সকলের রক্ত, যে যে ধর্মের হোক একাকার হয়ে মিশে গেছে। কাজেই এটা সবার মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ সকল ধর্মের, সকল বর্ণের, সব শ্রেণি পেশার মানুষের। সকলেই একটা মর্যাদা নিয়ে চলবে, সম্মান নিয়ে চলবে, সেটা আমাদের স্মরণ রাখতে হবে।’

কুমিল্লার ঘটনাটি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কুমিল্লায় যে ঘটনা ঘটে গেছে সেটা খুব দুঃখজনক। কারণ মানবধর্মকে সম্মান করা এটা ইসলামের শিক্ষা। নিজের ধর্ম পালনের অধিকার যেমন সবার আছে, অন্যের ধর্মকেও কেউ হেয় করতে পারে না। এটা ইসলাম শিক্ষা দেয় না। আর নিজের ধর্মকে সম্মান করার সঙ্গে সঙ্গে অন্যের ধর্মকেও সম্মান করতে হয়। আর অন্যের ধর্মকে যদি হেয় করা হয়, তাহলে নিজের ধর্মকে অসম্মান করা হয়।’

কুমিল্লার ঘটনায় অন্য ধর্মকে অসম্মান করতে গিয়ে পবিত্র কোরআন শরীফ অবমাননা করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আমাদের পবিত্র কোরআন শরীফকে অবমাননা করেছে অন্যের ধর্মকে অসম্মান করতে গিয়ে। এটাই হচ্ছে সব থেকে দুঃখজনক। আমি এটাই বলব, যার যার নিজের ধর্মের সম্মান নিজেকে রক্ষা করতে হবে।’

আইন নিজের হাতে তুলে না নিতেও সবাইকে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আরেকটি কথা, আইন কেউ হাত তুলে নেবে না। কেউ যদি অপরাধ করে সে যেই হোক অপরাধীদের বিচার হবে। আমাদের সরকার সেই বিচার করবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের নবী করিম (সা.) বলেছেন, ধর্ম নিয়ে কেউ বাড়াবাড়ি করবে না। আমাদের সবারই সে কথাটা মেনে চলতে হবে। সে কথাটা স্মরণ করতে হবে। সেই কথাটা জানতে হবে। তাহলেই আমাদের ইসলামের প্রকৃত শিক্ষাটা পাব। প্রতিটি ধর্মই শান্তির বাণীর কথা বলে। সকলেই শান্তি চায়।’

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘আমরা জানি যে, সবসময় এরকম একেকটা ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করা হয়। অথচ বাংলাদেশটা আজকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা মুজিববর্ষ উদযাপন করছি, আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছি। এই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে, মুজিববর্ষে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। এই মর্যাদা রক্ষা করে আমাদের উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে হবে।’

সম্প্রীতি রক্ষায় আওয়ামী লীগকে নির্দেশনা

দেশের কোথাও যাতে সাম্প্রদায়িক সংঘাত না হয়, সেজন্য সারা দেশের আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের এলাকায় এলাকায় নজরদারি বাড়াতে নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

তিনি বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। প্রত্যেকটা এলাকায় এলাকায় আমাদের নেতা-কর্মীদেরকে নজরদারি বাড়াতে হবে এবং শান্তি সম্মেলন, শান্তি মিছিল, শান্তির সভা করতে হবে।’

সারা দেশে সম্প্রীতির ব্যবস্থা নিতেও দলীয় কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান বঙ্গবন্ধু কন্যা। বলেন, ‘যাতে কোনো প্রকার সংঘাত দেখা না দেয়। কারণ এই মাটিতে প্রতিটা ধর্মের মানুষ, সে মুসলমান হোক, হিন্দু হোক, খ্রিস্টান হোক, বোদ্ধ হোক সকলেই যেন ভালোভাবে বাঁচতে পারে।

‘আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মনে রাখতে হবে, আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছে মানুষের সেবা করতে।’

এসময় কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের নতুন কার্যালয় প্রসঙ্গে দলটির প্রধান বলেন, ‘যেহেতু এটা কুমিল্লা শহরে, এটাকে শুধু মহানগর অফিস বললে হবে না, এটা কুমিল্লা আওয়ামী লীগ অফিসই বলতে হবে।’

আরও পড়ুন:
১২ হাজার গার্মেন্ট শ্রমিক নেবে জর্ডান

শেয়ার করুন

একাত্তরে গণহত্যা: ময়মনসিংহের ১২ জনকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

একাত্তরে গণহত্যা: ময়মনসিংহের ১২ জনকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

প্রসিকিউটর তাপস কান্তি বল জানান, ‘প্রাথমিক তদন্তে হত্যা-গণহত্যা, অপহরণ, নির্যাতন, লুণ্ঠনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় আমরা তাদের গ্রেপ্তারে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করি। আদালত আমাদের আবেদন শুনানি করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।’

একাত্তরে হত্যা, গণহত্যা, অপহরণ, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ময়মনসিংহ জেলার ১২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

রাষ্ট্রপক্ষের এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি শাহিনুর ইসলামসহ তিন সদস্যের আদালত এ আদেশ দেয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান বাদল ও তাপস কান্তি বল।

আসামিদের গ্রেপ্তারের স্বার্থে তাদের নাম বলতে রাজি হননি প্রসিকিউটররা। শুধু এটুকু জানিয়েছেন, আসামি সবাই ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জের বাসিন্দা।

প্রসিকিউটর তাপস কান্তি বল জানান, ১২ আসামির বিরুদ্ধে হত্যা-গণহত্যা, অপহরণ, নির্যাতন, লুণ্ঠনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্ত চলছে।

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে এসব অভিযোগ আসায় তাদের গ্রেপ্তার করতে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করি। আদালত আমাদের আবেদন শুনানি করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। তারা ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানার বাসিন্দা।’

আরও পড়ুন:
১২ হাজার গার্মেন্ট শ্রমিক নেবে জর্ডান

শেয়ার করুন

দেশ উন্নয়নশীল হলে বাণিজ্য সুবিধা কমবে না, বাড়বে

দেশ উন্নয়নশীল হলে বাণিজ্য সুবিধা কমবে না, বাড়বে

রাজধানীর পূর্বাচলের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: নিউজবাংলা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়মনীতির আওতায় যেসব বিকল্প সহায়তা পাওয়া যাবে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে সেগুলো আমরা নেব, নিতে পারব। কাজেই আমার মনে হয় এখানে কোনো অসুবিধা হবে না।…সুবিধা বঞ্চিত হওয়ার থেকেও সুবিধা অর্জন করতে পারব আরও অনেক অনেক বেশি।’

উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হলে বাংলাদেশ বাণিজ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে না, বরং আরও অনেক বেশি সুবিধা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাজধানীর পূর্বাচলে বাণিজ্য মেলার স্থায়ী ঠিকানা ‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার’-এর উদ্বোধনের সময় ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে এ কথা বলেন সরকারপ্রধান।

অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়মনীতির আওতায় যেসব বিকল্প সহায়তা পাওয়া যাবে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে সেগুলো আমরা নেব, নিতে পারব। কাজেই আমার মনে হয় এখানে কোনো অসুবিধা হবে না।

‘অনেকের হয়তো একটু সন্দেহ থাকতে পারে, উন্নয়নশীল দেশ হলে বোধ হয় অনেক সুবিধা বঞ্চিত হব। সুবিধা বঞ্চিত হওয়ার থেকেও সুবিধা অর্জন করতে পারব আরও অনেক অনেক বেশি।’

সুবিধা অর্জন করার সুযোগটা ‘বড় বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেখানে আমরা আরও সুযোগ পাব রপ্তানি সম্প্রসারণ করতে, দেশের বিনিয়োগ সম্প্রসারণ করতে।’

উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বাইরে বিনিয়োগের সম্ভাবনাও সরকার তৈরি করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আমরা আরেকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, অনেক দেশে আমরাও বিনিয়োগ করতে পারি। আমাদের ব্যবসায়ীরাও বিনিয়োগ করতে পারেন। বেসরকারি খাতও বিনিয়োগ করতে পারবে। আমি ভবিষ্যতে সেই সুযোগটাও সৃষ্টি করব। তার জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

নিজের উন্নয়ন দর্শন তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের ধারাবাহিকতা ছিল বলেই দেশের উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘২০০৯ থেকে ধারাবাহিকভাবে এই ২০২১ সাল পর্যন্ত সরকারে আছি বলেই প্রকৃতপক্ষে উন্নয়নটা আমরা পরিকল্পিতভাবে করতে পেরেছি। যার জন্য আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল বাংলাদেশের মর্যাদাটা পেয়েছে। এটাই আমাদের বড় একটা অর্জন।

‘সেজন্য আমি বাংলাদেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানাই, কৃতজ্ঞতা জানাই। যারা আমাদের প্রতি নির্বাচনে সহযোগিতা করেছেন, সমর্থন দিয়েছেন, ভোট দিয়েছেন তাদেরও আমি ধন্যবাদ জানাই।’

মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনে ‘কিপ্টামি’ নয়

দেশের রপ্তানি পণ্যের সংখ্যা ও বাজার বাড়াতে মানসম্মত পণ্য উৎপাদনে উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীদের পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সেখানে কিন্তু কিপ্টামি চলবে না।’

এ সময় রপ্তানি বাজারে টিকে থাকতে ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা তৈরির ওপরও তাগিদ দেন সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘যখনই আপনারা কোনো পণ্য উৎপাদন করবেন সময়ের চাহিদার সঙ্গে মিলিয়ে বা কোন দেশের জন্য করছেন, সেখানকার চাহিদার সঙ্গে মিলিয়ে উন্নতমানের (পণ্য) উৎপাদন করতে হবে। সেখানে কিন্তু কিপ্টামি করলে চলবে না। কাজেই সেটা যদি করতে পারেন, বাজারে টিকে থাকতে পারবেন।’

পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন নতুন বাজার তৈরিতে উদ্যোক্তাদের নজর দেয়ার পরামর্শও দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমাদের যত শিল্প খাত আছে, তাদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। সেই প্রস্তুতিতে আমি এতটুকু বলতে পারি, আপনাদের সরকারের পক্ষ থেকে যত ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন, সেই সহযোগিতাটা আপনারা পাবেন। সেটা আপনাদের আমরা দেব, কিন্তু আপনাদের সেই উদ্যোগ থাকতে হবে।

‘ব্যাবসায়িক সম্প্রদায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো তাদের সবাইকে আমি এই অনুরোধটা করব, আপনারা এই চেষ্টাটা করবেন; আমাদের পণ্যের আরও বহুমুখীকরণ করা, রপ্তানি বাস্কেটটা আরও বৃদ্ধি করা এবং কোন ধরনের পণ্য কোন দেশে আমরা রপ্তানি করতে পারি, সে বিষয়টার ওপর আরও গুরুত্ব দেয়া এবং সেভাবে পণ্য উৎপাদনের ব্যবস্থা নেয়া।’

আরও পড়ুন:
১২ হাজার গার্মেন্ট শ্রমিক নেবে জর্ডান

শেয়ার করুন

যৌন হয়রানি: ১ যুগেও রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় রিট

যৌন হয়রানি: ১ যুগেও রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় রিট

প্রতীকী ছবি

রিটে রায় বাস্তবায়নে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং রায় বাস্তবায়নের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, এ মর্মে রুল চাওয়া হয়েছে।

শিক্ষাঙ্গনসহ দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নারী ও শিশুদের যৌন হয়রানি প্রতিরোধে এক যুগ আগে দেয়া উচ্চ আদালতের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় রিট করা হয়েছে।

রিটে রায় বাস্তবায়নে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং রায় বাস্তবায়নের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, এ মর্মে রুল চাওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি রায় বাস্তবায়নের একটি প্রতিবেদন জমার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে।

রিট করার বিষয়টি বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করে আইনজীবী শাহীনুজ্জামান বলেন, এক যুগ আগের দেয়া রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পক্ষে এ রিট করা হয়েছে।

রিটে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, বার কাউন্সিল ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ছাড়াও ৪০টি মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটকারী এ আইনজীবী জানান, ২০০৮ সালের ৭ আগস্ট বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী কর্মস্থল এবং শিক্ষাঙ্গনে নারী ও শিশুদের যৌন হয়রানি প্রতিরোধে দিকনির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট আবেদন করেছিলেন। ওই রিটের শুনানি শেষে ২০০৯ সালের ১৪ মে বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের (বর্তমানে প্রধান বিচারপতি) নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় দিয়েছিল।

তিনি বলেন, ওই রায়ে হাইকোর্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সব প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটিসহ বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছিল। কিন্তু এক যুগেও এ রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তাকে চ্যালেঞ্জ করে ফের রিট করা হয়।

আরও পড়ুন:
১২ হাজার গার্মেন্ট শ্রমিক নেবে জর্ডান

শেয়ার করুন