স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটিতে আওয়ামী সংশ্লিষ্টরা

স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটিতে আওয়ামী সংশ্লিষ্টরা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া ত্রাণ বিতরণ করছেন টঙ্গী পূর্ব থানা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক সুবেল। ছবি: সংগৃহীত

পদবঞ্চিতদের অভিযোগ, দলের দুঃসময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে যারা রাজপথে নেতৃত্ব দিয়েছেন, মিথ্যা মামলা ও কারাগারে থেকেছেন তাদেরকে বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান ও সরকারদলের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্তদের কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে।

গাজীপুর মহানগরের আটটি থানা ও একটি সাংগঠনিক থানায় স্বেচ্ছাসেবকদলের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিতে দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান ও কর্মীদের পদ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

৩ অক্টোবর গাজীপুর মহানগরের এসব কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর গত এক সপ্তাহ ধরে মহানগরীর টঙ্গী, কোনাবাড়ি, বাসন, সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও ঝাড়ু মিছিল করেছেন পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা।

মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি আরিফ হোসেন হাওলাদার ও সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন শাহীনের বহিষ্কারের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

পদবঞ্চিতদের অভিযোগ, দলের দুঃসময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে যারা রাজপথে নেতৃত্ব দিয়েছেন, মিথ্যা মামলা ও কারাগারে থেকেছেন তাদেরকে বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান ও সরকারদলের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্তদের কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে।

তাদের দাবি, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিতর্কিতদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতা-কর্মীরা জানান, নতুন এসব কমিটির ঘোষণার চারটিতে মহানগরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর রয়েছে। বাকি পাঁচটি কমিটি কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকদলের দপ্তর সম্পাদক রফিকুল ইসলামের স্বাক্ষরে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তারা আরও জানান, এসব কমিটিতে অন্তত এক ডজনের বেশি বিতর্কিত ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন। এমনকি কেউ কেউ আছেন তারা জানেনই না তাদেরকে কমিটিতে রাখা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে সংগঠনের অনেক নেতা-কর্মী বিষোদগার করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতারা। মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে বিষয়টি সমাধানে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকদলের কাছে একটি চিঠিও পাঠানো হয়েছে।

সংগঠনের নেতা-কর্মীরা জানান, টঙ্গী পূর্ব থানা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক করা হয়েছে আরিফুল হক প্রধান সুবেলকে। তার বাবা অবিভক্ত টঙ্গী থানা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা বজলুল হক মন্টু প্রধান।

এ ছাড়া সুবেলের চাচাতো ভাই লিটন প্রধান টঙ্গী থানা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহসভাপতি। তার আপন ছোট ভাই প্রিন্স প্রধান টঙ্গী থানা ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী।

স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটিতে আওয়ামী সংশ্লিষ্টরা
ত্রাণ দিচ্ছেন টঙ্গী থানা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা বজলুল হক মন্টু প্রধান। পেছনে নীল টি-শার্ট পরা সুবেল

বিভিন্ন সময় টঙ্গী থানা যুবলীগ নেতা বিল্লাল হোসেন মোল্লা ও স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মামুন মোল্লার সঙ্গে মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নেওয়ার ছবিও পাওয়া যায় সুবেলের। করোনার সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে দেয়া ত্রাণ বিতরণেও দেখা গেছে তাকে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে সুবেলের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, টঙ্গী থানা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্টু প্রধান আমার বাবা নয়। আমি অনেক অসুস্থ। পরে কথা বলব।

এ কথার পরই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন সুবেল। পরে আর কল ধরেননি তিনি।

টঙ্গী পশ্চিম থানা স্বেচ্ছাসেবকদলের কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে মনির হোসেনকে। তার বড় ভাই হারুন অর রশিদ ৫৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য। এর আগে টঙ্গী থানা ছাত্রলীগের স্কুল ও ছাত্রবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন হারুন। তৎকালীন সময়ে টঙ্গী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনের হাতের কব্জি কেটে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে হারুনের বিরুদ্ধে।

মনির হোসেন বলেন, ‘আমার ভাই হারুন অর রশিদ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এক সময় ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন, কিন্তু আমি কখনও ছাত্রলীগ করিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্রলীগ করার সময় আমার ভাইকে ছাত্রদল নেতা ও চাঁদাবাজ দেলোয়ার কুপিয়ে আহত করে। পরবর্তীতে সুস্থ হয়ে আমার ভাই দেলোয়ারের হাতের কব্জি কেটে নেয়। আর আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে যেসব ছবি ফেসবুকে ছড়িয়েছে সেগুলো কোনো রাজনৈতিক মিছিলের ছবি না।’

টঙ্গী পূর্ব থানা স্বেচ্ছাসেবকদলের সদস্য রেজাউল ইসলাম রাসেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, যুবলীগ নেতাদের সঙ্গে তিনি বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের কেক কেটে উদযাপন করেছেন। এ নিয়ে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মহানগরীর ৪৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের আহ্বায়ক মনির হোসেন সাগরের সঙ্গে কেক কাটছেন তিনি।

স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটিতে আওয়ামী সংশ্লিষ্টরা
স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মামুন মোল্লার সঙ্গে মিছিলে টঙ্গী পূর্ব থানা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক আরিফুল হক প্রধান সুবেল। ছবি: সংগৃহীত

টঙ্গী পূর্ব থানা স্বেচ্ছাসেবকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মুকলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে রয়েছে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ। গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সিটি করপোরেশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণের সঙ্গে নানা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে দেখা গেছে মুকলেছুরকে।

টঙ্গী পশ্চিম থানা স্বেচ্ছাসেবকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল হান্নানকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী হাসান উদ্দিনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রয়াত সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টারের মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দেখা গেছে।

গাজীপুর মহানগর বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগের সহসভাপতি হাফিজুর রহমানও পদ পেয়েছেন বাসন থানা স্বেচ্ছাসেবকদলের কমিটিতে।

মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক আশিককে কাশিমপুর থানা স্বেচ্ছাসেবকদলের কমিটিতে ৪ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। অথচ আশিক জানেন না তাকে কমিটিতে রাখা হয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবকদলের কমিটিতে পদ দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকে পোস্টও দিয়েছেন আশিক। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের একাধিক ব্যক্তিকে কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ার অভিযোগ পদবঞ্চিতদের।

অভিযোগের বিষয়ে গাজীপুর মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি আরিফ হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘যারা বিক্ষোভ করছে তারা স্বেচ্ছাসেবকদল করে না। কেউ কেউ থাকতে পারে। হয়তো তারা কাঙ্ক্ষিত পদ পায়নি। এরা আওয়ামী লীগের এজেন্টও হতে পারে।’

আওয়ামী পরিবারের ছেলে সুবেল প্রধানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের দলে এমন কোনো গঠনতন্ত্র নাই যে কারও বাবা-দাদা অন্য দল করলে সে স্বেচ্ছাসেবকদল করতে পারবে না৷ প্রত্যেকটি থানায় ৩১ সদস্য বিশিষ্ট সীমিত কমিটি করা হয়েছে৷ অনেককেই কমিটিতে রাখা সম্ভব হয়নি। আর যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সেসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে জানতে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকদলের সহসভাপতি ও ঢাকা বিভাগীয় দলের প্রধান আবুল কালাম আজাদের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

গাজীপুর মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব সোহরাব উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অঙ্গসহযোগী সংগঠনের কমিটির ব্যাপারে আমাদের মতামত নেওয়া হয় না। এ ক্ষেত্রেও আমাদের কোনো সুপারিশ নেওয়া হয়নি। স্বেচ্ছাসেবকদলের বিভাগীয় ও কেন্দ্রীয় কমিটি যাচাই-বাছাই করে কমিটি দিয়েছে।

‘এখানে মহানগর বিএনপির ভূমিকা নেই। আমরা কমিটিকে কেন্দ্র করে নেতা-কর্মীদের রাগ-অভিমান নিরসনের চেষ্টা করছি। সঠিক নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার জন্য আমরা কেন্দ্রকে জানিয়েছি। আশা করছি খুব শিগগিরই বিষয়টা সমাধান হয়ে যাবে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পুলিশে চাকরির আশ্বাসে টাকা লেনদেন, আটক ১

পুলিশে চাকরির আশ্বাসে টাকা লেনদেন, আটক ১

ঘুষ বাণিজ্য ও প্রতারণার অভিযোগে আটক মোহাম্মদ হাসান। ছবি: নিউজবাংলা

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক কে এম শামসুদ্দিন বলেন, ‘সোমবার বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল পদে নিয়োগের বাছাই প্রক্রিয়া চলছিল। তা ঘিরে ১ নম্বর গেটের কাছে ৫০ হাজার টাকা লেনদেন হচ্ছিল। গোয়েন্দা পুলিশ এ সময় টাকাসহ হাতেনাতে আটক করে হাসান নামের এক ব্যক্তিকে। আর যিনি টাকা দিয়েছিলেন ভিড়ের মধ্যে তিনি পালিয়ে যান।’

নওগাঁয় কনস্টেবল পদে নিয়োগের আশ্বাসে টাকা লেনদেনের সময় প্রতারকচক্রের এক সদস্য আটক হয়েছেন। জব্দ হয়েছে লেনদেনের ৫০ হাজার টাকা।

পুলিশ লাইন্সের সামনে সোমবার বেলা ৩টার দিকে তাকে আটক করে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সদস্যরা।

আটক ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ হাসান। ৪৮ বছরের হাসানের বাড়ি পত্নীতলা উপজেলার গগণপুর পূর্ব পাড়ায়।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক কে এম শামসুদ্দিন এসব নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘সোমবার বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল পদে নিয়োগের বাছাই প্রক্রিয়া চলছিল। তা ঘিরে ১ নম্বর গেটের কাছে ৫০ হাজার টাকা লেনদেন হচ্ছিল। গোয়েন্দা পুলিশ এ সময় টাকাসহ হাতেনাতে আটক করে হাসান নামের এক ব্যক্তিকে। আর যিনি টাকা দিয়েছিলেন ভিড়ের মধ্যে তিনি পালিয়ে যান।’

কে এম শামসুদ্দিন আরও বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাসে অভিযোগ স্বীকার করেছেন হাসান। এই চক্রে জড়িত আরও কয়েকজনের তথ্যও পাওয়া গেছে তার কাছ থেকে। সেগুলো তদন্ত হচ্ছে।’

নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ‘ডিবি পুলিশের হাতে আটক হাসানের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও প্রতারণার অভিযোগে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

শেয়ার করুন

ভেজাল ওষুধ উৎপাদন, ২ কারখানা মালিকের জরিমানা

ভেজাল ওষুধ উৎপাদন, ২ কারখানা মালিকের জরিমানা

রংপুরে ভেজাল ওষুধ কারখানায় অভিযান চালিয়েছে ভ্রম্যমাণ আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

রংপুর নগরীর ‘দি মৌভাষা ইসলামিয়া ঔষধ ফ্যাক্টরি’ এবং কাউনিয়া উপজেলার ‘বি সান্ত ল্যাবরেটরিজ’ ইউনানী ফ্যাক্টরিতে অভিযান চালায় পুলিশ। মালিকদের জরিমানা করে দুই কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রংপুর মহানগরী ও কাউনিয়ার হারাগাছ এলাকায় দুটি ওষুধ কারখানায় অভিযান চালিয়ে ভেজাল ওষুধ জব্দ করেছে পুলিশ।

ভ্রাম্যমাণ আদালত মালিকদের জরিমানা করে ওই দুই কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে।

সোমবার দুপুরে নগরীর ‘দি মৌভাষা ইসলামিয়া ঔষধ ফ্যাক্টরি’ এবং কাউনিয়া উপজেলার ‘বি সান্ত ল্যাবরেটরিজ’ ইউনানী ফ্যাক্টরিতে অভিযান চালানো হয়।

রংপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি এ্যান্ড মিডিয়া) সাজ্জাদ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছের বাহার কাছনা এলাকায় ‘বি সান্ত ল্যাবরেটরিজ' ইউনানী ফ্যাক্টরিতে অভিযান চালানো হয়। ফ্যাক্টরিতে কেমিস্ট না থাকা, অনুমোদন ছাড়া ওষুধ তৈরিসহ নানা অনিয়ম ধরা পড়ে। সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত ফ্যাক্টরির মালিক রাশেদুল আনাম প্রামানিককে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে।

ত্রুটি সংশোধন না করা পর্যন্ত ফ্যাক্টরির সব কার্যক্রম ও উৎপাদন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অন্যদিকে, নগরীর নিউ শালবন এলাকায় ‘দি মৌভাষা ইসলামিয়া ঔষধ ফ্যাক্টরি’তে অভিযান চালানো হয়।

সেখানেও অনুমোদন ছাড়া ওষুধ উৎপাদন, কেমিস্ট না থাকা, ওষুধ উৎপাদনের কাঁচামালের গায়ে মেয়াদ ও ব্যবহার বিধি না থাকা এবং বোতলের গায়ে লাগানো লেভেল ও টোকেন সঠিক না থাকাসহ নানাবিধ অনিয়ম পাওয়া যায়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ফ্যাক্টরির মালিক এমদাদুল ইসলামকে সাত হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন।

সব অনিয়ম দূর না করা পর্যন্ত কারখানার কার্যক্রম ও উৎপাদন বন্ধ রাখার আদেশ দেয়া হয়েছে।

দুই ওষুধ কারখানা থেকে ১৫ লাখ টাকার ভেজাল ওষুধ জব্দ করেছে পুলিশ।

ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন রংপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাশপিয়া তাসরিন।

অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর রংপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম।

রংপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি অ্যান্ড মিডিয়া) সাজ্জাদ হোসেন জানান, রংপুর মহানগরীতে সব ধরণের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, নকল ও অননুমোদিত ওষুধ নির্মূলে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

শেয়ার করুন

শেষ মুহূর্তে ৫ জেলের জরিমানা

শেষ মুহূর্তে ৫ জেলের জরিমানা

নিষেধাজ্ঞার শেষ দিনে ইলিশ ধরায় বরগুনা সদরে পাঁচ জেলেকে জরিমানা ও ৩০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল পুড়িয়েছে জেলা প্রশাসন। ছবি: নিউজবাংলা

বরগুনার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু বকর সিদ্দিকি বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা না মেনে বিষখালী নদীতে ইলিশ ধরায় পাঁচ জেলেকে ১৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া জব্দ করা আনুমানিক আট লাখ টাকা মূল্যের কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ফেলা হয়।’

নিষেধাজ্ঞার শেষ দিনে ইলিশ ধরায় বরগুনা সদরে পাঁচ জেলেকে জরিমানা করেছে জেলা প্রশাসন।

এ সময় জব্দ করা ৩০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল পোড়ানো হয়।

সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের ফুলঝুরি বাজারের কাছে বিষখালী নদীতে সোমবার বিকেলে বরগুনার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু বকর সিদ্দিকির নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু বকর সিদ্দিকি বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা না মেনে বিষখালী নদীতে ইলিশ ধরায় পাঁচ জেলেকে ১৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া জব্দ করা আনুমানিক আট লাখ টাকা মূল্যের কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ফেলা হয়।’

মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের দেয়া ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে সোমবার রাতে। চলতি মাসের ৪ থেকে ২৫ তারিখ পর্যন্ত সারা দেশে ইলিশ শিকার বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এ সময় সারা দেশে ইলিশ আহরণ, বিপণন, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন, মজুত ও বিনিময়ও নিষিদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

শেয়ার করুন

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস-শিক্ষার্থী কিছুই নেই, জনবল প্রায় ২০০

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস-শিক্ষার্থী কিছুই নেই, জনবল প্রায় ২০০

সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কার্যক্রম না থাকলেও তিন বছরে ১৭২ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে সবাই নিয়োগ পেয়েছেন এডহক ভিত্তিতে। অভিযোগ আছে, সরকারের নির্দেশনার পরোয়া না করে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে বেশির ভাগ নিয়োগের ঘটনা ঘটেছে।

দেশের চতুর্থ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ২০১৮ সালে কার্যক্রম শুরু হয় সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের। প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব ক্যাম্পাসের জন্য দক্ষিণ সুরমায় ১০০ একর জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু হয়নি। ফলে শুরু হয়নি শিক্ষা কার্যক্রমও।

তেমন কোনো কার্যক্রম না থাকলেও তিন বছরে ১৭২ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে ফেলেছে এই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে সবাই নিয়োগ পেয়েছেন এডহক ভিত্তিতে। অভিযোগ আছে, সরকারের নির্দেশনার পরোয়া না করে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে বেশির ভাগ নিয়োগের ঘটনা ঘটেছে।

নিয়োগপ্রাপ্তদের অনেকের যোগ্যতা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। উপাচার্যের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের দ্বিতীয় শ্রেণির এক কর্মকর্তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা হিসেবে সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

এডহক ভিত্তিতে এ ধরনের নিয়োগকে সম্পূর্ণ অবৈধ বলছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কর্মকর্তারা।

ইউজিসির সচিব ড. ফেরদৌস জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এডহক ভিত্তিতে সব ধরনের নিয়োগ বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। এ ব্যাপারে সরকারের তরফ থেকে তিন দফা চিঠিও দেয়া হয়েছে। ফলে এডহক নিয়োগের এখতিয়ার কারও নেই। কেউ যদি দিয়ে থাকেন সেটা সম্পূর্ণ অবৈধ।’

অবশ্য ২০১৮ সালে পাস হওয়া সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইনে রয়েছে, ‘উপাচার্য সিন্ডিকেটের পুর্বানুমোদনক্রমে কোনো শূন্য পদে সম্পূর্ণ অস্থায়ীভাবে অনধিক (৬ মাসের) জন্য কিছু পদে নিয়োগ করিতে পারিবেন। এবং প্রয়োজনে উক্তরূপ নিয়োগের মেয়াদ ৬ মাস পর্যন্ত বৃদ্ধি করিতে পারবেন। ...শর্ত থাকে যে, বর্ধিত মেয়াদের মধ্যে নিয়োগ নিয়মিত করা না হলে উক্ত মেয়াদ শেষে নিয়োগ বাতিল করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।’

এ আইনে সিন্ডিকেটের পুর্বানুমোদনক্রমে ও সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য অস্থায়ীভাবে নিয়োগের কথা উল্লেখ রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস-শিক্ষার্থী কিছুই নেই, জনবল প্রায় ২০০


তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগের ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের কোনো পুর্বানুমোদন নেয়া হয়নি। এই প্রতিষ্ঠানের সিন্ডিকেট বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে সোমবার দুপুর ২টায়। এ ছাড়া গত তিন বছর ধরে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত কাউকেই স্থায়ী করা হয়নি।

এডহক ভিত্তিতে নিয়োগের কথা স্বীকার করে সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোর্শেদ আহমদ চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জরুরি প্রয়োজন মেটাতে এডহক ভিত্তিতে শ’খানেক লোক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বেশির ভাগই কর্মচারী পদে নিয়োগ পেয়েছেন। যথাযথ নিয়ম মেনেই তাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে।’

নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন

২০১৮ সালের ১৪ নভেম্বর ডা. মোর্শেদ আহমদ চৌধুরীকে সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য নিয়োগ দেয়া হয়। এর আগে তিনি ছিলেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ।

ডা. মোর্শেদ অধ্যক্ষ থাকার সময়ে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন আব্দুস সবুর। দ্বিতীয় শ্রেণির এই কর্মকর্তাকে প্রথম শ্রেণির ষষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা হিসেবে সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরিচালক (অর্থ) হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া একজনের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ১.৬০, যা তৃতীয় শ্রেণির সমমর্যাদার। নিয়োগবিধি অনুসারে, কোনো পরীক্ষায় তৃতীয় শ্রেণিপ্রাপ্ত কাউকে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেয়া যায় না।

কেবল এই দুজনই নয়, সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও অনেকের নিয়োগের ক্ষেত্রেই গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। যোগ্যতা শিথিল করে নিয়োগ দেয়া হয়েছে অনেককে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীদের যোগ্যতার উল্লেখের নিয়ম থাকলেও তা অনুসরণ করেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস-শিক্ষার্থী কিছুই নেই, জনবল প্রায় ২০০

রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশে নিয়োগের পাশাপাশি উপাচার্যের কয়েক স্বজনকেও নিয়োগ দেয়া হয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে।

স্বজনদের নিয়োগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে উপাচার্য ডা. মোর্শেদ আহমদ চৌধুরী। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুজন স্বজন নিয়োগ পেয়েছেন। তবে তারা যোগ্যতার ভিত্তিতেই নিয়োগ পেয়েছেন। বাকিদেরও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।’

শিক্ষার্থী নেই, জনবল অফুরন্ত

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী প্রায় ১০ হাজার। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা আছেন ২৬৪ জন। অন্যদিকে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থীর সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা আছেন ১৪৯ জন।

অথচ সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষার্থী না থাকলেও ইতোমধ্যে সেখানে শ’খানেক কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে পরিচালক পদে এক জন, উপ পরিচালক পদে এক জন, সহকারি পরিচালক পদে ছয় জন, সেকশন অফিসার পদে ৯ জন ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পেয়েছেন ৫২ জন। এছাড়া কর্মচারী পদেও শ’খানেক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

এত জনবল থাকা সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ভবনের নির্মাণ কাজই এখনও শুরু হয়নি। ভবন নির্মাণের জন্য ডিপিপি পাঠানো করা হলেও তা এখনও অনুমোদন পায়নি। ভবন নির্মাণ ও শিক্ষাকার্যক্রম শুরুর চেয়ে জনবল নিয়োগেই গত তিন বছর ধরে বেশি আগ্রহ দেখিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে নগরীর চৌহাট্টায় উপাচার্যের কার্যালয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এই ছোট্ট কার্যালয়ে এতো বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বসার জায়গাও নেই। প্রশাসনিক বিভিন্ন পদে লোকবল নিয়োগ দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রেজিস্ট্রার পদটি শূন্য রয়েছে।

তবে রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়টির পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মো. নঈমুল হক চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষাকার্যক্রম শুরু না হলেও আমাদের আওতাধীন মেডিক্যাল কলেজ ও নার্সিং কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এগুলো বিশ্ববিদ্যালয়কেই দেখভাল করতে হয়। এজন্য অনেক লোকবলের প্রয়োজন হয়।

‘আট জন ডিনের প্রত্যেকের জন্য পাঁচ জন স্টাফ প্রয়োজন। এসব জরুরি প্রয়োজন মেটাতেই যথাযথ নিয়ম মেনে লোকবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে।’

এডহক ভিত্তিতে নিয়োগে সরকারি নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি দাবি করেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞা পুরোনো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য। নতুনদের জন্য নয়। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে উপাচার্য জরুরি প্রয়োজনে নিয়োগ দিতে পারেন।’

রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় আমাদের এখানে অনেক রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের তদবির রয়েছে। এগুলো এড়ানো যায় না। তবে এই তদবিরের মধ্যে যাদের যোগ্যতা রয়েছে এবং আমাদের চাহিদা পুরণ করতে পেরেছেন তাদেরকেই নিয়োগ দেয়া হয়েছে।’

এ পর্যন্ত কতজনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘১৩৫/১৩৬ জনের মতো জনবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে কিছুসংখ্যককে গত জানুয়ারিতে স্থায়ী করা হয়। বাকিদের চাকরিও স্থায়ীকরণের প্রক্রিয়া চলছে।’

সিন্ডিকেটের পুর্বানুমোদন ছাড়া কীভাবে চাকরি স্থায়ী করা হলো, এমন প্রশ্ন করতেই তিনি ‘উপাচার্য মহোদয় আমাকে কল দিয়েছেন’ বলে ফোন রেখে দেন।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস-শিক্ষার্থী কিছুই নেই, জনবল প্রায় ২০০

সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের সদস্য সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিলুর রহমান।

সিন্ডিকেটের বৈঠকের আগে এত জনবল নিয়োগ পাওয়ার প্রসঙ্গে রোববার তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। সোমবার সিন্ডিকেটের বৈঠক আছে। ব্যস্ততার কারণে বৈঠকের আলোচ্যসূচিও এখন পর্যন্ত আমি দেখতে পারিনি। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।’

এডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দিলে ফান্ড বন্ধ

‘স্ট্র্যাটিজিক প্ল্যান ফর হায়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ: ২০১৮-৩০’ বাস্তবায়ন মনিটরিংয়ের লক্ষ্যে ইউজিসি পর্যায়ে গঠিত কমিটির এক বৈঠক হয় গত জুনে। সেই বৈঠকে পাবলিক বিশ্বদ্যালয়গুলোতে এডহক ভিত্তিতে নিয়োগ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইউজিসির কর্মকর্তারা। এডহক ও মাস্টার রোলে নিয়োগ দেয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ড বন্ধের বিষয়েও আলোচনা হয় সেখানে।

ওই বৈঠকে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক দিল আফরোজা বলেন, ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এডহক ও মাস্টার রোলে নিয়োগ অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। যদি কেউ ইউজিসির নির্দেশনা অমান্য করে তবে তার ফান্ড বন্ধ করে দেয়া হবে।’

সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এডহক ভিত্তিতে বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের তথ্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ জামিনুর রহমান। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এত বিপুলসংখ্যক লোক এডহক ভিত্তিকে নিয়োগ হয় কী করে!’

তিনি বলেন, ‘এডহক ভিত্তিতে নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে সবখানেই প্রশ্ন আছে। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় এত লোকবল এডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে পারে না। আমরা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।’

শেয়ার করুন

৮ বছর আত্মগোপনে থাকার পর কারাগারে

৮ বছর আত্মগোপনে থাকার পর কারাগারে

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে জমি ক্রয়সংক্রান্ত জালিয়াতি মামলায় আইমুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

ওসি আবু হাসান কবির জানান, ২০১৩ সালে স্বেচ্ছায় ঘোড়াঘাট থেকে পালিয়ে তিনি প্রথমে বগুড়ায় আত্মগোপন করেন। পরে পাবনার সাঁথিয়া থানার কাশিনাথপুর এলাকায় দীর্ঘদিন অবস্থান করেন। সেখানে থাকাকালে চর অঞ্চলের কিছু লোকের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং সেই সুবাদে তিনি মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর থানার বাকুটিয়া চরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সেখান স্থানীয় এক নারীকে বিয়েও করেন তিনি। 

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে জমি ক্রয়সংক্রান্ত জালিয়াতি মামলায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থানার নয়াগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে রোববার রাতে ৮ বছর ধরে পলাতক ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে ঘোড়াঘাট থানা পুলিশ।

কারাগারে পাঠানো আইমুদ্দিন উপজেলার রুপসীপাড়া (ভেকসি) গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার বরাত দিয়ে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হাসান কবির জানান, ২০১৩ সালে আইমুদ্দিন তার প্রতিবেশী মোজাহার আলীর কাছে ৪২ শতক জমি বিক্রির জন্য চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী মোজাহার ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা আইমুদ্দিনকে দেন। তবে জমি রেজিস্ট্রি করতে গেলে মোজাহার দেখতে পান দলিলে ৪২ শতকের পরিবর্তে ৩৬ শতক লেখা।

এ নিয়ে দুই পক্ষের মাঝে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে আইমুদ্দিন তার জমি ছেলে-মেয়ের নামে লিখে দিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। ওই বছর ১৮ মার্চ তার ছেলে আব্দুল আজিজ আদালতে অপহরণের অভিযোগ এনে মামলা করেন।

ওসি আরও জানান, পুলিশের হাতে আটক হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন মোজাহার। জামিন পেয়ে নিখোঁজ আইমুদ্দিনের বিরুদ্ধে জমি ক্রয়সংক্রান্ত জালিয়াতি মামলা করেন। তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগের সত্যতা পেয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। বিচারক নিখোঁজ আইমুদ্দিনকে ২ বছরের সাজাও দেন।

আইমুদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন জানিয়ে ওসি আবু হাসান কবির জানান, ২০১৩ সালে স্বেচ্ছায় ঘোড়াঘাট থেকে পালিয়ে তিনি প্রথমে বগুড়ায় আত্মগোপন করেন। পরে পাবনার সাঁথিয়া থানার কাশিনাথপুর এলাকায় দীর্ঘদিন অবস্থান করেন।

সেখানে থাকাকালে চর অঞ্চলের কিছু লোকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই সুবাদে তিনি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর থানার বাকুটিয়া চরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সেখান স্থানীয় এক নারীকে বিয়েও করেন তিনি।

সোমবার তাকে গ্রেপ্তার করে দুপুরে দিনাজপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

নাশকতা মামলায় আসলাম চৌধুরীর বিচার শুরু

নাশকতা মামলায় আসলাম চৌধুরীর বিচার শুরু

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী। ছবি: নিউজবাংলা

২০১৩ সালের ৮ নভেম্বর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসভার গোডাউন রোড মহাসড়কে যানবাহনে ভাঙচুর, গাড়িতে আগুন দেয়াসহ নাশকতার ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানার তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফারুক আহাম্মদ আসলাম চৌধুরীসহ বিএনপি-জামায়াতের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীর নামে মামলা করেন। পুলিশ ২০১৫ সালে আসলাম চৌধুরীসহ ৫৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নাশকতা মামলায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীসহ ৫৬ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আদালত। আগামী ২৩ জানুয়ারি থেকে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।

চট্টগ্রামের সপ্তম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আ স ম শহীদুল্লাহ কায়সার সোমবার দুপুরে অভিযোগ গঠন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী আইনজীবী রুবেল পাল নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আসামিদের উপস্থিতিতে আদালত অভিযোগ গঠনের শুনানি করেছে। শুনানি শেষে বিচারক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু আদেশ দেন। ২৩ জানুয়ারি থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।’

২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি-জামায়াত জোটের আন্দোলন চলাকালে ২০১৩ সালের ৮ নভেম্বর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসভার গোডাউন রোড মহাসড়কে যানবাহনে ভাঙচুর, গাড়িতে আগুন দেয়াসহ নাশকতার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানার তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফারুক আহাম্মদ আসলাম চৌধুরীসহ বিএনপি-জামায়াতের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীর নামে মামলা করেন।

তদন্ত শেষে পুলিশ ২০১৫ সালে আসলাম চৌধুরীসহ ৫৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। তাদের মধ্যে ৪৮ আসামি পলাতক। আসলাম চৌধুরী এই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিনে থাকলেও অন্য মামলায় তিনি কাশিমপুর কারাগারে আছেন।

আদালত সাত আসামির উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠন করে। এ সময় দুজন আসামি সময়ের আবেদন করলে আদালত তা নাকচ করেছে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীকে ২০১৬ সালের ১৫ মে রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্টের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বাংলাদেশের সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

তার নামে বিভিন্ন থানায় ২৬টি মামলা আছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে তিনটি মামলার বিচার শুরু হয়েছে।

শেয়ার করুন

বায়ুদূষণ রোধে সচেতনতায় নাটিকা

বায়ুদূষণ রোধে সচেতনতায় নাটিকা

বায়ুদূষণ রোধে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার দাবিতে বাগেরহাটে পথসভা ও নাটিকা করেছে মানব উন্নয়ন সংস্থা বাঁধন। ছবি: নিউজবাংলা

পথসভার আগে ‘ফিরিয়ে দেও পৃথিবী’ শিরোনামে নাটিকা প্রদর্শন করে মানব উন্নয়ন সংস্থা বাঁধনের বিভিন্ন যুব সংগঠনের সদস্যরা।

বায়ুদূষণ রোধে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার দাবিতে বাগেরহাটে পথসভা ও নাটিকা প্রদর্শন করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মানব উন্নয়ন সংস্থা বাঁধন ও প্রাণ বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে সভা ও নাটিকা প্রদর্শিত হয়।

পথসভার আগে ‘ফিরিয়ে দেও পৃথিবী’ শিরোনামে নাটিকা প্রদর্শন করে বাঁধনের বিভিন্ন যুব সংগঠনের সদস্যরা।

নাটিকার মাধ্যমে তরুণরা মাটি, বায়ু ও পানি দূষণমুক্ত রাখার পাশাপাশি শূন্য কার্বনভিত্তিক টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার দাবি জানায়।

পরে অনুষ্ঠিত পথসভায় বক্তব্য রাখেন বাঁধনের নির্বাহী পরিচালক এএসএম মঞ্জুরুল হাসান ও সাংবাদিক আরিফুল হকসহ অনেকে।

শেয়ার করুন