মহাষ্টমীতে এবারও হচ্ছে না কুমারী পূজা

মহাষ্টমীতে এবারও হচ্ছে না কুমারী পূজা

দুর্গাপূজার মহাষ্টমীর সকালে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পুণ্যার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পুরোহিত ধর্মদাশ চট্টোপাধ্যায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুর্গাপূজার অষ্টমী তিথিতে মহামায়ার ষষ্টক অর্থাৎ ৬ বছরের কুমারী রূপ উমার পূজা করা হয়। এর মাধ্যমে পৃথিবীতে যেন নারীর সম্মান প্রতিষ্ঠিত হয় এ বার্তায়ই দেয়া হয়।’

দুর্গাপূজার তৃতীয় দিন মহাষ্টমীর আনুষ্ঠানিকতা পালনে প্রস্তুত মণ্ডপগুলো। তবে করোনাভাইরাসের কারণে গত বছরের মতো এবারও হচ্ছে না এদিনের মূল আকর্ষণ কুমারী পূজা।

রাজধানীর প্রধান মন্দির ঢাকেশ্বরীতে বুধবার সকাল ৯টা বাজতেই শুরু দেবীর মহাষ্টমী কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা।

মহাষ্টমীর সকাল থেকেই রাজধানীর মন্দিরগুলোতে দেখা যায় পুণ্যার্থীদের উপস্থিতি। বেশি ভিড় দেখা যায় ঢাকেশ্বরীতে। মন্দিরের প্রবেশ পথে নারী ও পুরুষের জন্য রয়েছে আলাদা লাইন। সবার জন্য মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পুরোহিত ধর্মদাশ চট্টোপাধ্যায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুর্গাপূজার অষ্টমী তিথিতে মহামায়ার ষষ্টক অর্থাৎ ৬ বছরের কুমারী রূপ উমার পূজা করা হয়। এর মাধ্যমে পৃথিবীতে যেন নারীর সম্মান প্রতিষ্ঠিত হয় এ বার্তায়ই দেয়া হয়।’

তবে গত বছরের মতো এবারও হচ্ছে না কুমারী পূজা। মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কিশোর রঞ্জন মন্ডল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মহামারির কারণে মহাঅষ্টমীর দিন এবারও হচ্ছে না কুমারী পূজা। গত বছরেরর মতো এবারও রামকৃষ্ণ মিশনে কুমারী পূজার আয়োজন করা হয়নি।’

এর আগে মঙ্গলবার হয় দুর্গাপূজার মহাসপ্তমীর আনুষ্ঠানিকতা। এদিন মণ্ডপে মণ্ডপে অঞ্জলি নিতে ভিড় জমান পুণ্যার্থীরা।

আগের দিন উলুধ্বনি, শঙ্খ, ঘণ্টা আর ঢাক-ঢোলের বাজনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় ষষ্ঠীপূজা। এর মাধ্যমে শুরু হয় বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। ঢাক-ঢোলের বাজনা, কাঁসা, শঙ্খের আওয়াজ এবং ভক্তদের উলুধ্বনিতে দেবী দুর্গাকে পৃথিবীতে স্বাগত জানানো হয়।

পঞ্জিকা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার মহানবমীবিহিত পূজা এবং শুক্রবার দশমীবিহিত পূজা সমাপন এবং প্রতিমা বিসর্জন।

পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবার দেবী মর্ত্যে এসেছেন ঘোড়ায় চেপে। পুরাণ অনুযায়ী, দুর্গা ঘোড়ার পিঠে চড়ে এলে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে যুদ্ধ, গৃহযুদ্ধ, ঝড়, রাজনৈতিক অস্থিরতা ইত্যাদি পরিস্থিতি সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। আর ১৫ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে দেবী মর্ত্য ছাড়বেন দোলায় চড়ে। দোলায় গমনেও বাড়বে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্বিপাক।

মহাষ্টমীতে এবারও হচ্ছে না কুমারী পূজা
দুর্গাপূজার মহাষ্টমীর সকালে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে দেবীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা। ছবি: নিউজবাংলা

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্যানুযায়ী, এ বছর সারা দেশে ৩২ হাজার ১১৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছর সারা দেশে দুর্গাপূজার মণ্ডপের সংখ্যা ছিল ৩০ হাজার ২১৩টি।

ঢাকা মহানগরে এবার পূজা হবে ২৩৭টি মণ্ডপে। এর মধ্যে সূত্রাপুর থানায় সবচেয়ে বেশি ২৫টি মণ্ডপ, কোতোয়ালি থানায় ২১টি, ওয়ারীতে ১৬টি, গেন্ডারিয়ায় ১৪টি, হাজারীবাগে ১৩টি, তুরাগে ১২টি, বাড্ডায় ১০টি, বনানীতে ৯টি, মোহাম্মদপুরে ৯টি, দারুসসালাম ও গাবতলীতে ৮টি, ডেমরায় ৮টি এবং তেজগাঁও থানায় ৬টি মণ্ডপ রয়েছে।

পুরাণ অনুযায়ী, ব্রহ্মার বর পেয়ে মানুষ ও দেবতাদের অজেয় হয়ে উঠেছিলেন মহিষাসুর। ফলে তাকে পরাজিত করার জন্য ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর যে মহামায়ারূপী নারী শক্তি তৈরি করেন তিনিই দেবী দুর্গা। দশভূজা দুর্গা টানা ৯ দিন যুদ্ধ করে মহিষাসুরকে বধ করেন।

আরও পড়ুন:
সব ধর্ম নিয়ে দেশের সংস্কৃতি, উৎসব আনন্দ সবার: নাছিম
মুসলিম যুবকদের উদ্যোগে ১৮ বছর পর আলিমুদ্দিনে দুর্গোৎসব
মহাসপ্তমীর অঞ্জলি দিতে প্রস্তুত ঢাকেশ্বরী
উন্নয়নের মূলে ধর্মীয় সম্প্রীতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দুর্গাপূজা উপলক্ষে মন্দিরে মন্দিরে চাল বিতরণ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মেঘাচ্ছন্ন আকাশে প্রবারণা পূর্ণিমা

মেঘাচ্ছন্ন আকাশে প্রবারণা পূর্ণিমা

মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, বৃষ্টির মাঝেই ফানুস উড়িয়ে উদযাপিত হয় প্রবারণা পূর্ণিমা। ছবি: নিউজবাংলা

প্রবারণা উৎসবকে ঘিরে রাঙ্গামাটির রাজবন বিহার আলোয় সজ্জিত করা হয়। বুদ্ধ পতাকা উত্তোলন, পঞ্চশীল প্রার্থনা, বুদ্ধমূর্তিদান, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কারদান, পিণ্ডদানসহ নানাবিধ দানের আয়োজন করা হয়। প্রদীপ পূজা, আলোকসজ্জা, বিশ্বশান্তি কামনায় সম্মিলিত বুদ্ধোপাসনা হয় মন্দিরে মন্দিরে।

সাম্প্রদায়িক সংঘাতের ছায়ায় গুমোট পরিবেশে ধর্মীয় উৎসবে, সহিংসতার রাশ টেনে ধরেছে প্রাণের উচ্ছ্বাস। প্রকৃতিতে একই রূপ। বুধবার প্রবারণা পূর্ণিমার আকাশ ছিল মেঘাছন্ন। তবুও থেমে থাকেনি বৌদ্ধ ধর্মীয় আচার। বিহারে বিহারে উড়েছে ফানুস।

প্রবারণার সকাল শুরু হয় বৌদ্ধ মন্দিরে ভিক্ষু সংঘের প্রাতরাশ, মঙ্গলসূত্র পাঠ, বুদ্ধপূজা, পঞ্চশিল ও অষ্টাঙ্গ উপসথ শিল গ্রহণের মধ্য দিয়ে। এরপর মহাসংসদান, অতিথি আপ্যায়ন, পবিত্র ত্রিপিটক থেকে পাঠ, আলোচনা সভা, প্রদীপ পূজা, আলোকসজ্জা, বিশ্বশান্তি কামনায় সম্মিলিত বুদ্ধোপাসনা হয় মন্দিরে মন্দিরে।

বুধবার সারা দেশে একসঙ্গে উদযাপন হয়েছে মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ঈদে মিলাদুন্নবী, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের লক্ষ্মীপূজা আর বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রবারণা পূর্ণিমা।

রাজধানীর বাসাবো ধর্মরাজিক বৌদ্ধ বিহারে বুধবার সন্ধ্যায় ফানুস ওড়ানোর উৎসব শুরু হয়। তার আগে সেখানে পালন হয়েছে নানা ধর্মীয় আচার। মধ্য বাড্ডার বৌদ্ধ মন্দিরেও দিনভর ছিল নানা আয়োজন। সন্ধ্যায় আকাশে উড়েছে হরেক রকম ফানুস। যদিও দফায় দফায় বৃষ্টি প্রভাব ফেলেছে আয়োজনে।

প্রবারণার সবচেয়ে বড় আয়োজন ছিল রাঙ্গামাটির রাজবন বিহারে। সেখানে সুখ, শান্তি, মঙ্গলপ্রার্থনা ও পরস্পরকে ক্ষমা প্রদর্শন, পুণ্যার্থীদের ভক্তি-শ্রদ্ধা ও পূজার মধ্য দিয়ে মুখর হয়ে ওঠে বিহার।

রাজবন বিহার ছাড়াও সদর উপজেলার যমচুগ বনাশ্রম ভাবনাকেন্দ্রসহ বিভিন্ন শাখা বনবিহারে উৎসব হয়।

বুদ্ধ পতাকা উত্তোলন, পঞ্চশীল প্রার্থনা, বুদ্ধমূর্তিদান, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কারদান, পিণ্ডদানসহ নানা আয়োজন ছিল। প্রবারণা উৎসব ঘিরে পুরো রাজবন বিহার সজ্জিত হয় বর্ণিল আলোয় ।

অন্যদিকে প্রবারণার পরিসমাপ্তির মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার থেকে পার্বত্য তিন জেলায় শুরু হবে দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব।

তবে এ বছর রাজবন বিহারে 'বেইন বুনা' হবে না বলে জানিয়েছে রাঙ্গামাটি রাজবন বিহার পরিচালনা কমিটি।

মেঘাচ্ছন্ন আকাশে প্রবারণা পূর্ণিমা

রাঙ্গামাটির আয়োজনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাজবন বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান। রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী রাখেন বিশেষ বক্তব্য।

পঞ্চশীল প্রার্থনা করেন ৬ নম্বর বালুখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিজয়গিরি চাকমা।

এ সময় পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপমন্ত্রী মণিস্বপন দেওয়ানসহ উপস্থিত ছিলেন অনেকে।

মেঘাচ্ছন্ন আকাশে প্রবারণা পূর্ণিমা

প্রবারণা অনুষ্ঠান বৌদ্ধদের অন্যতম একটি ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব। এটি দিয়ে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বর্ষাবাসের পরিসমাপ্তি, বর্ষাবাস ত্যাগ, প্রায়শ্চিত্তকে বোঝায়। বৌদ্ধ ভিক্ষুদের তিন মাস বর্ষাবাস শেষে তাদের অজান্তে ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে একে অন্যের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করা হয়।

এ ছাড়া প্রবারণাকে আত্ম-অন্বেষণ ও আত্মসমর্পণের তিথিও বলা যায়। আবার এই দিনে পূর্ণাঙ্গ অভিধর্ম দেশনা সমাপ্ত হওয়ায় এই দিনটি অভিধর্ম নামেও পরিচিত।

আরও পড়ুন:
সব ধর্ম নিয়ে দেশের সংস্কৃতি, উৎসব আনন্দ সবার: নাছিম
মুসলিম যুবকদের উদ্যোগে ১৮ বছর পর আলিমুদ্দিনে দুর্গোৎসব
মহাসপ্তমীর অঞ্জলি দিতে প্রস্তুত ঢাকেশ্বরী
উন্নয়নের মূলে ধর্মীয় সম্প্রীতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দুর্গাপূজা উপলক্ষে মন্দিরে মন্দিরে চাল বিতরণ

শেয়ার করুন

প্রবারণা পূর্ণিমা আজ

প্রবারণা পূর্ণিমা আজ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন। তার ধারাবাহিকতায় বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ এ আপ্তবাক্য ধারণ করে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষ যার যার ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করে যাচ্ছেন।’

বৌদ্ধ ধর্মানুসারীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান আজ। মহামতি গৌতম বুদ্ধ নির্বাণ লাভের পর আষাঢ়ি পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা তিথি পর্যন্ত তিন মাস বর্ষাবাস শেষে প্রবারণা পালন করেন। সেই থেকে বৌদ্ধধর্মীয় গুরুরা বর্ষাবাস শেষে দিনটি পালন করে আসছেন।

আত্মশুদ্ধি অর্জনের মধ্য দিয়ে অশুভকে বর্জন করে সত্য ও সুন্দরকে বরণের আয়োজন হলো প্রবারণা।

প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বাংলাদেশ বৌদ্ধ ফেডারেশন রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহারে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এদিন ভিক্ষু সংঘের প্রাতরাশ, মঙ্গলসূত্র পাঠ, বুদ্ধপূজা, পঞ্চশিল ও অষ্টাঙ্গ উপসথ শিল গ্রহণ, মহাসংসদান, অতিথি আপ্যায়ন, পবিত্র ত্রিপিটক থেকে পাঠ, আলোচনা সভা, প্রদীপ পূজা, আলোকসজ্জা, বিশ্বশান্তি কামনায় সম্মিলিত বুদ্ধোপাসনা, ফানুস ওড়ানো ও বুদ্ধকীর্তনসহ নানা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠিত হয়।

দিনটি উপলক্ষে আলাদা বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ধারা অব্যাহত রেখে জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে আরও ত্বরান্বিত করতে সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, ‘মহামতি গৌতম বুদ্ধ একটি শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যময় বিশ্ব গঠনে আজীবন সাম্য, মৈত্রী, মানবতা ও শান্তির অমিয় বাণী প্রচার করে গেছেন। তাঁর আদর্শ ত্যাগের মহিমায় সমুজ্জ্বল ও মানবিকতায় পরিপূর্ণ। বুদ্ধের অহিংস বাণী ও জীবপ্রেম আজও বিশ্বব্যাপী বিপুল সমাদৃত।’

রাষ্ট্রপতির আশা, ধর্মীয় মর্যাদায় কঠিন চীবর দান উদযাপনের মাধ্যমে বৌদ্ধ সমাজের শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আবহমানকাল ধরে বয়ে চলা এ সম্প্রীতি দেশের ঐতিহ্য।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার দেশে বিরাজমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করে বাংলাদেশকে বিশ্বসভায় একটি উন্নত ও শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন। তার ধারাবাহিকতায় বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’এ আপ্তবাক্য ধারণ করে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষ যার যার ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করে যাচ্ছেন।’

আওয়ামী লীগ সরকার দেশে বিরাজমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করে বাংলাদেশকে বিশ্বসভায় একটি উন্নত ও শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বদ্ধপরিকর বলেও জানান সরকারপ্রধান।

আরও পড়ুন:
সব ধর্ম নিয়ে দেশের সংস্কৃতি, উৎসব আনন্দ সবার: নাছিম
মুসলিম যুবকদের উদ্যোগে ১৮ বছর পর আলিমুদ্দিনে দুর্গোৎসব
মহাসপ্তমীর অঞ্জলি দিতে প্রস্তুত ঢাকেশ্বরী
উন্নয়নের মূলে ধর্মীয় সম্প্রীতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দুর্গাপূজা উপলক্ষে মন্দিরে মন্দিরে চাল বিতরণ

শেয়ার করুন

আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী

আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দিনটিকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। আরব জাহান যখন পৌত্তলিকতার অন্ধকারে ডুবে যায়, তখন হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে বিশ্বজগতের ত্রাতা হিসেবে রহমতস্বরূপ পাঠিয়েছিলেন মহান আল্লাহ।

আজ ১২ রবিউল আউয়াল, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। ইসলাম ধর্মের সর্বশেষ নবী ও মহান আল্লাহতালার প্রেরিত রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও মৃত্যুর পুণ্যময় দিন।

৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের এই দিনে সৌদি আরবের মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দের এই দিনে ইহলোক ত্যাগ করেন তিনি।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দিনটিকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। আরব জাহান যখন পৌত্তলিকতার অন্ধকারে ডুবে যায়, তখন হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে বিশ্বজগতের ত্রাতা হিসেবে রহমতস্বরূপ পাঠিয়েছিলেন মহান আল্লাহ।

ন্যায়, নিষ্ঠা ও সত্যবাদিতা দিয়ে বালক বয়স থেকেই ‘আল-আমিন’ তথা বিশ্বাসী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

করুণা, ক্ষমাশীলতা, বিনয়, সহিষ্ণুতা, সহমর্মিতা, শান্তিবাদিতাসহ মানবীয় সব গুণের সমন্বয়ের অধিকারী ছিলেন তিনি। ৪০ বছর বয়সে নবুওয়াত অর্জন করেছিলেন মহানবী। আধ্যাত্মিকতার পাশাপাশি কর্মময়তাও ছিল তার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। ইসলামের সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হিসেবে বিশ্বমানবতার মুক্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা ছিল তার ব্রত। ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সর্বশ্রেষ্ঠ মানবিক গুণাবলির মানুষ হিসেবে তিনি সব কালে, সব দেশেই স্বীকৃত।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তার বাণীতে বলেন, সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের স্মৃতি বিজড়িত পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) সারা বিশ্বের মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র ও মহিমান্বিত দিন। মহান আল্লাহতায়ালা হযরত মুহাম্মদকে (সা.) ‘রহমাতুল্লিল আলামীন’ তথা সমগ্র বিশ্বজগতের রহমত হিসেবে প্রেরণ করেন। দুনিয়ায় তার আগমন ঘটেছিল ‘সিরাজাম মুনিরা’ তথা আলোকোজ্জ্বল প্রদীপরূপে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক বাণীত বলেন, ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর শিক্ষা সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুসরণীয়। মহানবী (সা.) এর সুমহান আদর্শ অনুসরণের মধ্যেই মুসলমানদের অফুরন্ত কল্যাণ, সফলতা ও শান্তি নিহিত রয়েছে। করোনা মহামারিসহ আজকের দ্বন্দ্ব-সংঘাতসময় বিশ্বে প্রিয়নবী (সা.) এর অনুপম জীবনাদর্শ, তার সর্বজনীন শিক্ষা ও সুন্নাহর অনুসরণ এবং ইবাদতের মাধ্যমেই বিশ্বের শান্তি, ন্যায় এবং কল্যাণ নিশ্চিত হতে পারে।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালনের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন নানা কর্মসূচি নিয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মহানবী (সা.)-এর ওপর আলোচনা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। ইসলামিক ফাউন্ডেশন সারা দেশে ১৫ দিনব্যাপী ওয়াজ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, সেমিনার ও ইসলামি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে।

আরও পড়ুন:
সব ধর্ম নিয়ে দেশের সংস্কৃতি, উৎসব আনন্দ সবার: নাছিম
মুসলিম যুবকদের উদ্যোগে ১৮ বছর পর আলিমুদ্দিনে দুর্গোৎসব
মহাসপ্তমীর অঞ্জলি দিতে প্রস্তুত ঢাকেশ্বরী
উন্নয়নের মূলে ধর্মীয় সম্প্রীতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দুর্গাপূজা উপলক্ষে মন্দিরে মন্দিরে চাল বিতরণ

শেয়ার করুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শারীরিক প্রতিবন্ধীদের প্রীতি ক্রিকেট

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শারীরিক প্রতিবন্ধীদের প্রীতি ক্রিকেট

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শারীরিক প্রতিবন্ধীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ। ছবি: নিউজবাংলা

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা খেলোয়াড়রা টিম-এ ও টিম-বি দলে ভাগ হয়ে খেলায় অংশ নেয়। ১০ ওভারের ম্যাচে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে সব উইকেট হারিয়ে ৬৫ রান করে টিম-এ। জবাবে ৯ ওভার চার বলে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় টিম-বি।    

শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শারীরিক প্রতিবন্ধীদের অংশগ্রহণে প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ হয়েছে।

নিয়াজ মোহাম্মদ স্টেডিয়ামে সোমবার বেলা ১১টায় প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করা সংস্থা- ‘ড্রিম ফর ডিসেবিলিটি’র আয়োজনে প্রীতি এই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা খেলোয়াড়রা টিম-এ ও টিম-বি দলে ভাগ হয়ে খেলায় অংশ নেয়। ১০ ওভারের ম্যাচে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে সব উইকেট হারিয়ে ৬৫ রান করে টিম-এ। জবাবে ৯ ওভার ৪ বলে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় টিম-বি।

আয়োজনের প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য র. আ. ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। খেলায় অংশ নেয়াদের মধ্যে পুরস্কার তুলে দেন জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌলা খান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার আনিসুল রহমান, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান লায়ন ফিরোজুর রহমান, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল বারী চৌধুরী মন্টুসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

টিম-এ ক্রিকেট দলের কোচ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই ম্যাচে হার-জিত বলে কিছু নেই। এমন আয়োজনের মাধ্যমে শারীরিক প্রতিবন্ধীদের দক্ষতা ও মেধার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে।’

ড্রিম ফর ডিসেবিলিটির প্রতিষ্ঠাতা হেদাইয়েতুল আজিজ মুন্না বলেন, ‘নিজে যখন থেকে শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েছি, তখন থেকে তাদের নিয়ে কাজ শুরু করি। ওদের চাঙা রাখতে নানা আয়োজনের ব্যবস্থা করি। হুইলচেয়ার ক্রিকেট ম্যাচ এসব আয়োজনের অংশ।’

জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌলা খান বলেন, ‘প্রতিবন্ধীদের নিয়ে সমাজে যে ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে, এই ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। আগামীতে আরও বড় পরিসরে এমন আয়োজন করা হবে।’

আরও পড়ুন:
সব ধর্ম নিয়ে দেশের সংস্কৃতি, উৎসব আনন্দ সবার: নাছিম
মুসলিম যুবকদের উদ্যোগে ১৮ বছর পর আলিমুদ্দিনে দুর্গোৎসব
মহাসপ্তমীর অঞ্জলি দিতে প্রস্তুত ঢাকেশ্বরী
উন্নয়নের মূলে ধর্মীয় সম্প্রীতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দুর্গাপূজা উপলক্ষে মন্দিরে মন্দিরে চাল বিতরণ

শেয়ার করুন

৩৫তম ফোবানা সম্মেলন নভেম্বরে

৩৫তম ফোবানা সম্মেলন নভেম্বরে

জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি সম্মেলন কক্ষে ফোবানা সম্পর্কিত এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এবারের সম্মেলনের ভেন্যু করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে অবস্থিত ন্যাশনাল হারবারের বিখ্যাত গেলর্ড ন্যাশনাল রিসোর্ট অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারকে।

বাধাবিপত্তি আর করোনার ভয়াবহতাকে মোকাবিলা করে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশন ইন নর্থ আমেরিকা (ফোবানা) সম্মেলন।

নভেম্বরের ২৬ তারিখে শুরু হবে তিন দিনব্যাপী ৩৫তম এই সম্মেলন। এটির আয়োজক আমেরিকান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটি (এবিএফএস)।

এবারের সম্মেলনের ভেন্যু করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে অবস্থিত ন্যাশনাল হারবারের বিখ্যাত গেলর্ড ন্যাশনাল রিসোর্ট অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারকে।

সম্মেলনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘অদম্য বাংলাদেশে অবাক বিশ্ব’।

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি সম্মেলন কক্ষে এ সম্পর্কিত এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

ফোবানা সম্মেলনের সদস্যসচিব শিব্বীর আহমেদের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন এবারের ফোবানা সম্মেলনের কনভেনার জি আই রাসেল।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফোবানা চেয়ারম্যান জাকারিয়া চৌধুরী, স্বাগতিক কমিটির নিরাপত্তাবিষয়ক সাবকমিটির চেয়ারপারসন দেওয়ান জমিরসহ ফোবানার অন্য নেতারা।

বিশ্বে ফোবানা নামটি একটি ‘ব্র্যান্ড’ উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে সদস্যসচিব শিব্বীর আহমেদ বলেন, ‘৩৫ বছর ধরে এই সংগঠনটি উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন শহরে বাংলাদেশিদের মিলনমেলার আয়োজন করে আসছে। এবারও এর ব্যতিক্রম নয়।’

তিনি বলেন, ‘১৯৮৭ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংকের একটি ছোট অডিটরিয়ামে অত্যন্ত ছোট পরিসরে যে ফোবানার জন্ম হয়েছিল, সেই ফোবানার ৩৫তম আসর আজ একই শহরের সবচেয়ে বড় বিলাসবহুল ও ব্যয়বহুল সেন্টারে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।’

সম্মেলনে দেশ ও প্রবাসের লেখক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, শিল্পীসহ গুণিজনরা অংশ নেবেন বলে জানান ফোবানার কনভেনার জি আই রাসেল।

তিনি বলেন, ‘৩৫তম ফোবানার অতিথি তালিকায় যেসব বিশিষ্ট ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, স্টেট মিনিস্টার শাহরিয়ার আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন চেয়ারম্যান ড. শিবলী রুবায়েত উল ইসলাম, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শহিদুল ইসলাম, দুবাইয়ের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাহতাবুর রহমান, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নইম নিজাম, ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, অনন্যা প্রকাশনীর মনিরুল হক, ডিবিসি নিউজের সিইও মনজুরুল ইসলাম, সময় টেলিভিশন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আহমেদ জোবায়ের, চ্যানেল আই প্রধান ফরিদুর রেজা সাগর প্রমুখ।

এ ছাড়াও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী, বাণিজ্যবিষয়ক মন্ত্রী, শিক্ষাবিষয়ক মন্ত্রীকে সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

কনভেনার রাসেল জানান, সম্মেলনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ। তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে ফ্যাশন শো, মিস ফোবানা, ম্যাগাজিন, বিজনেস লাঞ্চ, বইমেলা, মিউজিক আইডল, ড্যান্স আইডল, সেমিনার, ইয়ুথ ফোরাম, ইন্টারফেইথ ডায়ালগসহ নানা ইভেন্টের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নৃত্যশিল্পী সাদিয়া ইসলাম মৌ এবং ওয়ার্দা রিহ্যাব অংশগ্রহণ করবেন।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পর্বে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন, জেমস, তাহসান খান, হৃদয় খান, শফি মণ্ডল, লায়লাসহ জনপ্রিয় শিল্পীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া বৃহত্তর ওয়াশিংটন ও উত্তর আমেরিকার একঝাঁক শিল্পী ৩৫তম ফোবানা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবেন বলেও জানান রাসেল।

এ ছাড়া ২৭ নভেম্বর বিজনেস নেটওয়ার্ক লাঞ্চ অনুষ্ঠিত হবে। এই লাঞ্চে দেশের ও প্রবাসের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা অংশগ্রহণ করবেন।

আরও পড়ুন:
সব ধর্ম নিয়ে দেশের সংস্কৃতি, উৎসব আনন্দ সবার: নাছিম
মুসলিম যুবকদের উদ্যোগে ১৮ বছর পর আলিমুদ্দিনে দুর্গোৎসব
মহাসপ্তমীর অঞ্জলি দিতে প্রস্তুত ঢাকেশ্বরী
উন্নয়নের মূলে ধর্মীয় সম্প্রীতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দুর্গাপূজা উপলক্ষে মন্দিরে মন্দিরে চাল বিতরণ

শেয়ার করুন

লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসে আখড়াবাড়ি নিষ্প্রাণ

লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসে আখড়াবাড়ি নিষ্প্রাণ

লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসে আড়ম্বরহীন কুষ্টিয়ার আখড়াবাড়ি। ছবি: নিউজবাংলা

এবার করোনার প্রকোপ কম থাকায় বাউল মেলা হবে ধরে নিয়েই সাধু-ফকির, বাউল ভক্তরা আখড়ায় জড়ো হয়েছেন। লালন ধামে আখড়াবাড়ির ভেতরে এবং বাইরের মাঠের গাছতলায় অবস্থান নিয়েছেন তারা।

মরমী সাধক ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩১তম তিরোধান দিবস রোববার। করোনার কারণে এবারও বাউল মেলার আয়োজন বাতিল করেছে জেলা প্রশাসন। তবে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় আখড়াবাড়ি খোলা থাকায় জড়ো হয়েছেন সাধু-বাউল-ফকিররা। প্রথা অনুযায়ী তারা ভক্তি-শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন সাইঁজির চরণে।

করোনা পরিস্থিতির কারণে ১৩০ বছরের রেওয়াজ ভেঙে গত বছরই প্রথম বাতিল করা হয় লালনের এই স্মরণোৎসব। সে সময় করোনার সংক্রমণ ভয়াবহ পর্যায়ে থাকায় আখড়াবাড়ির গেটও বন্ধ রাখা হয়েছিল।

এবার করোনার প্রকোপ কম থাকায় বাউল মেলা হবে ধরে নিয়েই সাধু-ফকির, বাউল ভক্তরা আখড়ায় জড়ো হয়েছেন। লালন ধামে আখড়াবাড়ির ভেতরে এবং বাইরের মাঠের গাছতলায় অবস্থান নিয়েছেন তারা।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও লালন অ্যাকাডেমির আহ্বায়ক সাইদুল ইসলাম গত ১২ অক্টোবার ঘোষণা দিয়েছেন, এবারও তিরোধান দিবস পালন হবে না। করোনার কারণে গণজমায়েত এড়িয়ে চলতে এ ঘোষণা দিতে হয়েছে বলে তিনি জানান।

আখড়াবাড়ির বাইরে লালন অ্যাকাডেমির মাঠে নিজস্ব রেওয়াজে ভক্তি-শ্রদ্ধা দিতে দেখা গেছে লালন অনুসারীদের।

লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসে আখড়াবাড়ি নিষ্প্রাণ

নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা ফকির বাবু বলেন, ‘এতো দূর থেকে আসলাম। টাকায় মায়া করি নাই, ত্যাগ করেছি আরাম। এসে মনটাই ভেঙে গেল। এখন সাঁইজিকে ভক্তি জানিয়ে চলে যাব। মেলা না হওয়ায় আমরা পাগলরা না খেয়ে থাকার মতো অবস্থা।’

সাধু সঙ্গ ও বাউল মেলা না হওয়ায় হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছে অনেক বাউল, ফকির এবং লালন ভক্ত।

তারপরও আখড়াবাড়ির ভেতরে ও বাইরে চলছে জাতপাতহীন-মানবতার লালন দর্শনের প্রচার। বরাবরের মতো দর্শন প্রচার হচ্ছে তারই গানের মাধ্যমে। কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়া এখন লালনের গানের সুরে প্রকম্পিত।

২০০ বছর আগে কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়ায় বাউল-ফকিরদের দল গঠন করেছিলেন ফকির লালন সাঁই। অহিংস, জাতপাতহীন ও মানবতাবাদী গান বেঁধে প্রচার করতেন তারা। দিনে দিনে তার দল বড় হতে থাকে। বাড়তে থাকে অনুসারী ও ভক্তের সংখ্যা। আজ বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছে লালনের গান, তার বাণী।

১২৯৭ বঙ্গাব্দের পয়লা কার্তিক দেহত্যাগ করেন ফকির লালন। এই ১৩১ বছর ধরে আখড়া বাড়িতে চলা রেওয়াজ হলো, পহেলা কার্তিক লালনের তিরোধান দিবসে তার মাজার ধুয়ে মুছে পরিস্কার করে বাউল-ফকিরদের জন্য অধিবাস, বাল্যসেবা এবং পূর্ণসেবার (খাবার) আয়োজন।

লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসে আখড়াবাড়ি নিষ্প্রাণ

তিন দিন ধরে চলে মেলাসহ সরকারি অনুষ্ঠানমালা। দিন-রাত ধরে চলত গানে গানে লালন দর্শনের প্রচার। দেশ বিদেশের লাখ লাখ মানুষ এতে অংশ নিতেন।

করোনার বাস্তবতায় দুই বছর বন্ধ এসব আয়োজন। ফকির-বাউলরা নিজেদের মতো করে সাঁইজিকে স্মরণ করতে পারছেন, তাতেই অনেকে খুশি।

আখড়ায় এসে ফকির আলম বলেন, ‘ধরা আজ জরাক্রান্ত। এটা আমাদের মেনে নিতে হবে। সাঁইজির কৃপায় এসব কেটে যাবে। আবার সব স্বাভাবিক হবে।’

আরও পড়ুন:
সব ধর্ম নিয়ে দেশের সংস্কৃতি, উৎসব আনন্দ সবার: নাছিম
মুসলিম যুবকদের উদ্যোগে ১৮ বছর পর আলিমুদ্দিনে দুর্গোৎসব
মহাসপ্তমীর অঞ্জলি দিতে প্রস্তুত ঢাকেশ্বরী
উন্নয়নের মূলে ধর্মীয় সম্প্রীতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দুর্গাপূজা উপলক্ষে মন্দিরে মন্দিরে চাল বিতরণ

শেয়ার করুন

‘দেবী’ ফিরলেন দেবালয়ে

‘দেবী’ ফিরলেন দেবালয়ে

শুক্রবার দুপুরের পর থেকে রাজশাহীর পদ্মা নদীতে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন। ছবি: নিউজবাংলা

শুক্রবার দুপুরে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এই উৎসবের বিদায়ের সুর বেজে ওঠে, যার সূচনা হয়েছিল গেল সোমবার। হিন্দু পঞ্জিকা মতে, দেবী দুর্গা এবার ঘোড়ায় চড়ে এসেছেন, গেলেন দোলায় (পালকি) চড়ে। 

সাঙ্গ হলো বাঙালি হিন্দুর সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে ‘দেবালয়ে’ ফিরে গেলেন দেবী দুর্গা।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী ফিরে যান কৈলাসে স্বামীর ঘরে। এক বছর পর আবার তিনি আসবেন মর্তে ‘পিতৃগৃহে’।

শুক্রবার দুপুরে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এই উৎসবের বিদায়ের সুর বেজে ওঠে, যার সূচনা হয়েছিল গেল সোমবার।

হিন্দু পঞ্জিকা মতে, দেবী দুর্গা এবার ঘোড়ায় চড়ে এসেছেন, গেলেন দোলায় (পালকি) চড়ে।

রাজশাহী নগরীর মুন্নুজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে শুক্রবার দুপুরে পদ্মা নদীতে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন।

বিসর্জনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশানের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

মুন্নজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দুপুরের পর সারি সারি ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে প্রতিমা নিয়ে। প্রতিমা বিসর্জনকে ঘিরে বিপুল সংখ্যক নারী পুরুষের সমাগম হয় এখানে।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, প্রতিমা বিসর্জনকে সামনে রেখে পদ্মা নদীর ধারে পুলিশের কন্ট্রোল রুম বসানো হয়েছে। সাদা পোশাকেও কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

নির্বিঘ্নে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান শেষ করতে পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রতিমা নিয়ে যাবার সময় রাস্তায় যাতে যানজট তৈরি না হয় সেজন্য ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।

‘দেবী’ ফিরলেন দেবালয়ে

হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ রাজশাহী নগরের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার ঘোষ জানান, ‘শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হচ্ছে। মুন্নুজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পদ্মা নদীতে চলছে প্রতিমা বিসর্জনের কাজ। শহরের অধিকাংশ প্রতিমা এখানে বিসর্র্জন হবে।’

নগর পুলিশের তথ্য মতে, এবারে রাজশাহীতে মোট ৪৫৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহী নগরীতে ৯৩টি এবং বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ে মণ্ডপ ছিল ৩৬০টি।

আরও পড়ুন:
সব ধর্ম নিয়ে দেশের সংস্কৃতি, উৎসব আনন্দ সবার: নাছিম
মুসলিম যুবকদের উদ্যোগে ১৮ বছর পর আলিমুদ্দিনে দুর্গোৎসব
মহাসপ্তমীর অঞ্জলি দিতে প্রস্তুত ঢাকেশ্বরী
উন্নয়নের মূলে ধর্মীয় সম্প্রীতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দুর্গাপূজা উপলক্ষে মন্দিরে মন্দিরে চাল বিতরণ

শেয়ার করুন