মানবসৃষ্ট দুর্যোগে ভাবনায় সরকার

মানবসৃষ্ট দুর্যোগে ভাবনায় সরকার

ঢাকার সাভারে ৮ বছর আগে রানা প্লাজা ধসে প্রাণ হারান এক হাজারের বেশি শ্রমিক। দিন দিন বাড়ছে এসব মানবসৃষ্ট দুর্যোগ। ফাইল ছবি

দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান বলেন, অগ্নিকাণ্ডসহ মানবসৃষ্ট দুর্যোগে অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতার জন্য ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২২০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। সেগুলো ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী ও সিটি করপোরেশনগুলোকে দেয়া হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়াতে মন্ত্রণালয়কে আরও ২ হাজার ২৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আগের চেয়ে বেশি সক্ষমতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। তবে মানবসৃষ্ট দুর্যোগে সফলতা মেলেনি সেভাবে। তাই সরকারের নজর এখন মানবসৃষ্ট দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি কমানোতে।

আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস আজ। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে, কাজ করি একসাথে’। বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও পালন করা হচ্ছে দিবসটি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় বলছে, সরকারের পূর্ব প্রস্তুতির কারণে সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াশ’, ‘ফণী বা মহাসেন’ এর মতো সুপার সাইক্লোনের সময় যে ব্যাপক প্রাণহানির শঙ্কা ছিল, তা প্রশমন করা গেছে সহজেই। এটিকে বড় সাফল্য হিসেবে মনে করা হচ্ছে।

প্রাকৃতিক এসব দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। যার মধ্যে উপকূলীয় এলাকায় তৈরি করা হয়েছে ৩২০টি বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র। এ বছরই চালু করা হয়েছে ১১০টি। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ২ লাখ ৫৬ হাজার মানুষ ও প্রায় ৪৪ হাজার গবাদিপশু আশ্রয় নিতে পারবে। একই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকার স্কুল-মাদ্রাসা ভবনগুলোকেও আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

উপকূলীয় ও বন্যা উপদ্রুত ১৪৮টি উপজেলায় তৈরি করা হয়েছে ৫৫০টি ‘মুজিব কেল্লা’। এসব কেল্লায় দুর্যোগে আশ্রয় নেয়ার পাশাপাশি স্বাভাবিক সময়ে খেলার মাঠ বা হাটবাজার হিসেবেও তা ব্যবহার করা যাবে।

বন্যাপ্রবণ এলাকার জন্য তৈরি করা হয়েছে ২৩০টি দ্বিতল বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র। এগুলোতে প্রায় ৯২ হাজার মানুষ ও ২৩ হাজার গবাদিপশু আশ্রয় নিতে পারবে। আগামী বছরের মধ্যে এ সংখ্যা ৪২৩-এ উন্নীত করতে চায় সরকার। বন্যাদুর্গত ১৯টি জেলায় উদ্ধারকাজ চালানোর জন্য ৬০টি মাল্টিপারপাস এক্সেসিবল রেস্কিউ বোট সরবরাহ করা হচ্ছে।

আগে ১৫টি বিপর্যয়কে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, নদীভাঙন, নদীধস, খরা ও ভূমিকম্পের পাশাপাশি এই তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে বজ্রপাতকেও।

নতুন ভাবনা এখন মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলা। সেদিকে জোর দেয়ার কথা জানিয়ে দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডসহ এ ধরনের দুর্যোগে অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতার জন্য ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২২০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। সেগুলো ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী ও সিটি করপোরেশনগুলোকে দেয়া হয়েছে।

‘এখন আমাদের অনেক এরিয়াল প্ল্যাটফর্ম ল্যাডার আছে, যেগুলো ২০ তলা পর্যন্ত অগ্নিনির্বাপণ করতে সক্ষম। টু হুইলার অগ্নিনির্বাপণ ভ্যাহিকেল ও ছোট জিপ এসেছে, যেগুলো পুরান ঢাকার মতো অলিগলিতে অগ্নিনির্বাপণ করতে পারে।’

দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী জানান, সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে মন্ত্রণালয়কে আরও ২ হাজার ২৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে ১৫০ কোটি টাকা আমরা পেয়েছি, যা দিয়ে অনেকগুলো ল্যাডার কেনার প্রস্তুতি নিয়েছি। ইতোমধ্যে ৪৫৬টি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন করা হয়েছে, এটাকে ৫৫০টি করতে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

‘ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মীদের আরও দক্ষ করতে বঙ্গবন্ধু ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স একাডেমি নামে একটি একাডেমি করতে মুন্সিগঞ্জে ১০০ একর জায়গা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।’

প্রতিমন্ত্রী এনামুর বলেন, ‘সব দুর্যোগ মোকাবিলায় আমরা সফলতা অর্জন করেছি, কিন্তু ভূমিকম্পে আমরা এখনও সে রকম সফলতা পাইনি। তবে ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড তৈরি করেছে সরকার। এই বিল্ডিং কোড মেনে যদি আগামীতে ভবন তৈরি করা হয়, তাহলে সেগুলো ভূমিকম্প-সহনীয় হবে।

‘অনেক পুরোনো যেসব ভবন রয়েছে, সেগুলোকে ভূমিকম্প-সহনীয় করতে আমরা জাইকার সঙ্গে একটি সমঝোতায় এসেছি। ৫০ বছর মেয়াদি কর্মসূচি গ্রহণ করেছি আমরা। বেশি পুরোনো ভবন আমরা ডিমিলিশ করে কোড অনুযায়ী নতুন করে ভবন করে দেব।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সিনহার অর্থ আত্মসাৎ মামলার রায়ের অপেক্ষা

সিনহার অর্থ আত্মসাৎ মামলার রায়ের অপেক্ষা

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। ফাইল ছবি

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম আলোচিত এই মামলার রায় পড়ে শোনাবেন। এর আগে গত ৫ অক্টোবর এই মামলার রায়ের তারিখ থাকলেও বিচারক ছুটিতে থাকায় তা পেছানো হয়।

চার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার রায় হবে আজ।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম আলোচিত এই মামলার রায় পড়ে শোনাবেন।

এর আগে গত ৫ অক্টোবর এই মামলার রায়ের তারিখ থাকলেও বিচারক ছুটিতে থাকায় তা পেছানো হয়।

মামলায় আসামিরা খালাশ পাবেন বলে দাবি তাদের আইনজীবী মো. শাহীনুর ইসলাম অনির। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, মামলার শুনানিতে ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হলেও সাক্ষীরা তাদের জবানবন্দিতে মামলার ঘটনা প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছেন। এ ছাড়া, জেরার সময় সাক্ষীরা তাদের বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণ করতে পারেননি।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজলের দাবি, আসামিদের অপরাধ প্রমাণে তারা সক্ষম হয়েছেন। তাই তাদের সর্বোচ্চ সাজা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ৫ অক্টোবর এ রায় ঘোষণার তারিখ ঠিক করেছিলেন আদালত। বিচারক ছুটিতে থাকার কারণে সেদিন আর রায় হয়নি।

গত ২৪ আগস্ট মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। মামলার অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত।

গত বছরের ১৩ আগস্ট একই আদালত ১১ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

ফারমার্স ব্যাংক থেকে ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ২০১৯ সালের ১০ জুলাই দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেছিলেন। মামলা তদন্ত করে একই বছরের ৯ ডিসেম্বর চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের পরিচালক বেনজীর আহমেদ।

আসামিদের মধ্যে ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক চিশতী (বাবুল চিশতী) কারাগারে, ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক এমডি এ কে এম শামীম, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো. শাহজাহান এবং একই এলাকার বাসিন্দা নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা জামিনে আছেন।

এ ছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, ফারমার্স ব্যাংকের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, রণজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায় পলাতক রয়েছেন।

শেয়ার করুন

‘চক্রান্ত সফল হবে না’

‘চক্রান্ত সফল হবে না’

রাজনৈতিক ফায়দা লুটার জন্য একটি মহল চক্রান্ত করছে এমন মন্তব্য করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। ছবি: নিউজবাংলা

প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘সম্প্রীতির বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে নানাভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা করেছে কিছু উগ্রবাদীরা। কখনও কখনও তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে একটি রাজনৈতিক মহল। সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাগুলো শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ এবং উন্নয়নের বাংলাদেশকে ব্যাহত করার একটি চক্রান্ত।’

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে রাজনীতির ফায়দা হাসিলের চক্রান্ত সফল হবে না বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কেন্দ্রে বুধবার এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘সম্প্রীতির বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে নানাভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা করেছে কিছু উগ্রবাদীরা। কখনও কখনও তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে একটি রাজনৈতিক মহল। সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাগুলো শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ এবং উন্নয়নের বাংলাদেশকে ব্যাহত করার একটি চক্রান্ত।’

‘রাজনৈতিক ফায়দা লুটার জন্য একটি মহল এ চক্রান্ত করছে। অতীতে যেমন এ জাতীয় কোন অপচেষ্টা সফল হয়নি, এখনও হবে না। সাম্প্রতিক সময়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। কঠোর হাতে তাদের দমন করা হবে। বাংলাদেশ হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানের সম্প্রীতির রাষ্ট্র। এই দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অবশ্যই অব্যাহত থাকবে।’

এ সময় মন্ত্রণালয়ের নবীন কর্মকর্তাদের তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের জন্য সম্পদ হোন, বোঝা নয়। আন্তরিকতা, নিষ্ঠা, ঐকান্তিক ইচ্ছা ও গভীর মনোনিবেশের সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে হবে। তাহলে সাফল্য আসবে।

‘আর অলসতা ও দায়িত্বহীনতার বল্গাহীন স্রোতে নিজেকে নিমজ্জিত করলে প্রতিষ্ঠানের বোঝায় পরিণত হতে হবে। দায়িত্ব পালনে আত্মোপলব্ধি ও আত্মসমালোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

মন্ত্রী করেন, ‘সকল সৃষ্টির স্রষ্টা একজন। সে ধারাবাহিকতায় আমরা একে অপরের সঙ্গে আত্মিকভাবে সম্পৃক্ত। আমাদের ভেতরে যেন কোনভাবে ধর্ম, বর্ণ, জেন্ডার নিয়ে হানাহানি কখনও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। কেউ যেন কারো জন্য ক্ষতিকর ভূমিকায় অবতীর্ণ না হই।

‘আর অপ্রয়োজনীয় মিথ্যাচার পরিহার করতে হবে। নৈতিকতা ও মূল্যবোধের প্রতি যত্নশীল হতে হবে’, যোগ করেন তিনি।

শেয়ার করুন

সামাজিক মাধ্যমে উসকানি, গুজবের তথ্য চাইল পুলিশ

সামাজিক মাধ্যমে উসকানি, গুজবের তথ্য চাইল পুলিশ

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে সনাতন ধর্মাবলম্বী একই পরিবারের তিন নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ গুজব বলে দাবি করেছেন প্রশাসন, পুলিশ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা।

বুধবার পুলিশ সদর দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যেকোনো বিভ্রান্তিকর তথ্য অথবা গুজব কিংবা উসকানিতে বিভ্রান্ত বা উত্তেজিত না হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো এবং পরিস্থিতির উন্নয়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য দেশের সব নাগরিকের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ গুজব ছড়ালে বা উসকানিমূলক আধেয় প্রচার করলে তা জানাতে বলেছে পুলিশ। বাহিনীটি নিজেও এগুলো চিহ্নিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

কুমিল্লায় একটি পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার ঘটনাটি বিকৃত করে প্রকাশের পাশাপাশি উসকানি দিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা হয়েছে জানিয়ে পুলিশ এও বলছে, তারা সর্বোচ্চ সতর্ক আছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

বুধবার পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (ইন্সপেকশন) মোহাম্মদ শাহ জালাল স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এ বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। গত ১৩ অক্টোবর কুমিল্লার ঘটনার পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘটা অপ্রীতিকর ঘটনা সম্পর্কে পুলিশের বক্তব্য তুলে ধরা হয় এতে।

বিবৃতিতে পুলিশ বলেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও উসকানি রোধকল্পে সাইবার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি রোধকল্পে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সরকারের সব গোয়েন্দা সংস্থা সার্বক্ষণিকভাবে কড়া নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

এতে বলা হয়, ‘যেকোনো বিভ্রান্তিকর তথ্য অথবা গুজব কিংবা উসকানিতে বিভ্রান্ত বা উত্তেজিত না হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো এবং পরিস্থিতির উন্নয়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য দেশের সব নাগরিকের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ।’

সামাজিক মাধ্যমে উসকানি, গুজবের তথ্য চাইল পুলিশ
পুলিশ সদর দপ্তর। ফাইল ছবি

পুলিশ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক নানা সহিংসতায় দেশে সাতজন প্রাণ হারায়। তাদের দুজন হিন্দু সম্প্রদায়ের এবং পাঁচজন মুসলমান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দায়িত্ব পালনকালে ৫০ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।

সংঘটিত এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশে মঙ্গলবার পর্যন্ত ৭২টি মামলা করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৪৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং দুষ্কৃতকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

ঘটনা ও অপরাধের রহস্য উদঘাটনের জন্য থানার পুলিশের পাশাপাশি পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিটগুলোকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, দ্রুততার সঙ্গে ঘটনা-অপরাধের রহস্য উদঘাটনে প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

কুমিল্লার ঘটনায় বক্তব্য

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে সাতটায় কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির উত্তর পাড়ে দর্পণ সংঘের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে মূর্তির পায়ের ওপর কে বা কারা পবিত্র কোরআন শরিফ রেখে চলে যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কতিপয় স্বার্থান্বেষী দুষ্কৃতকারী উসকানিমূলক ও বিকৃত প্রচারণা চালায় এবং পরবর্তী সময়ে আরও উচ্ছৃঙ্খল দুষ্কৃতকারী সংঘবদ্ধ হয়ে মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের চেষ্টা ও পূজামণ্ডপে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।

দুষ্কৃতকারীরা শহরের কাপড়িয়া পট্টি কলোনির চানমনি পূজামণ্ডপ, শ্রীশ্রী রক্ষাকালী মন্দির, কালীতলাসহ আরও কয়েকটি পূজামণ্ডপে হামলা চালায় এবং প্রতিমায় অগ্নিসংযোগ করে।

বিবৃতিতে বলা হয়, কুমিল্লার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সে জন্য সারা দেশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, টহল জোরদার করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ সতর্কতা এবং প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন স্থানে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে বলেও উল্লেখ করা হয় এতে।

চাঁদপুরের ঘটনায় যে বক্তব্য

কুমিল্লার ঘটনার জের ধরে গত ১৩ অক্টোবর রাত সাড়ে আটটায় চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌরসভার শ্রী ত্রিনয়নী সংঘ রাজলক্ষ্মী নারায়ণ জিউর আখড়া, মোকিমাবাদ পূজামণ্ডপে ৫০০-৬০০ দুষ্কৃতকারী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।

বাহিনীটি বলছে, ঠেকানোর চেষ্টা করলে তারা পুলিশের ওপর হামলা করে এবং ৫-৬টি পূজামণ্ডপ ভাঙচুর করে। দুষ্কৃতকারীদের ইটপাটকেলের আঘাতে ১৫ জন পুলিশ সদস্য মারাত্মক আহত হযন। জনগণের জানমাল রক্ষায় এবং আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে। এ ঘটনায় পাঁচজন প্রাণ হারান।

নোয়াখালীর ঘটনা নিয়ে বক্তব্য

কুমিল্লার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় গত ১৪ অক্টোবর বেলা ১১টা ২০ মিনিটে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের ছয়ানী ইউনিয়নের সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গাপূজা মন্দিরের কাছে আট শ থেকে এক হাজার উচ্ছৃঙ্খল লোক জড়ো হয়ে উসকানিমূলক স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে তারা অসংখ্য ইট, লাঠিসোঁটা নিয়ে মন্দিরের সামনে দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও বিজিবির টহল দলের ওপর হামলা চালায়, মন্দিরের মূর্তি ভাঙচুর করে এবং মন্দিরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

এ ঘটনায় একজন প্রাণ হারাযন এবং পরে পুকুর থেকে অপর একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

পীরগঞ্জের ঘটনার বর্ণনা

পুলিশ বলে, গত ১৭ অক্টোবর রংপুর পীরগঞ্জের বড় করিমপুর মাঝিপাড়া গ্রামের একজন তার ফেসবুক আইডিতে কাবা শরিফের অবমাননাকর ছবি আপলোড করে। পরবর্তী সময়ে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে রাত প্রায় ৮টার দিকে এলাকার কিছু দুষ্কৃতকারী ওই গ্রামের একটি মন্দিরসহ ১৮টি পরিবারের ঘরবাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।

অন্যান্য হামলা

কক্সবাজারের পেকুয়া ও চকরিয়া, সিলেটের জকিগঞ্জ, মৌলভীবাজার কুলাউড়া ও কমলগঞ্জ, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটনের কাশিমপুরসহ দেশের আরও কয়েকটি স্থানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

শেয়ার করুন

ভুয়া ভিডিও ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা: র‍্যাব

ভুয়া ভিডিও ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা: র‍্যাব

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে হিন্দু বাড়িতে আগুন (বাঁয়ে) ও নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে যতন সাহার ওপর হামলার ভিডিও দাবি করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে ফেসবুকে। ছবি: সংগৃহীত

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল দেশে এবং বিদেশে বসে আমাদের দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার জন্য চক্রান্ত করে যাচ্ছে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য দেয়ার মাধ্যমে ভিডিও কনটেন্ট ছড়িয়ে দিয়ে জনমনে ভীতি সৃষ্টি করছে।’

যারা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য ও ভুল কনটেন্ট ছড়িয়ে দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন।

বুধবার র‍্যাব সদর দপ্তরে এক অনানুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘যারা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য বা ভুল কনটেন্ট ছড়িয়ে দিচ্ছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি করার চেষ্টা করছে, তাদের র‍্যাবের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই, যারা এমন অপতৎপরতায় লিপ্ত আছেন, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং তাদের আমরা গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় সোপর্দ করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল দেশে এবং বিদেশে বসে আমাদের দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার জন্য চক্রান্ত করে যাচ্ছে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য দেয়ার মাধ্যমে ভিডিও কনটেন্ট ছড়িয়ে দিয়ে জনমনে ভীতি সৃষ্টি করছে।

‘পাশাপাশি অতীতের বিভিন্ন সময়ের ভিডিও কনটেন্টগুলো সাম্প্রতিক বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ভিডিও হিসেবে তারা প্রচার করার চেষ্টা করছে।’

ভুয়া ভিডিও ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা: র‍্যাব

বুধবার র‍্যাব সদর দপ্তরে এক অনানুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন। ছবি: নিউজবাংলা

ফেসবুকে ধর্মীয় উসকানিমূলক, মিথ্যা ও গুজব ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে রাজধানীর বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক রুমা সরকারকে আটক করে র‍্যাব। রাজধানীর বেইলি রোডের বাসা থেকে বুধবার সকালে তাকে আটক করা হয়।

দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক খন্দকার আল মঈন।

তিনি জানান, রাজধানী পল্লবীর সাহিনুদ্দীন হত্যাকাণ্ডের ভিডিও নোয়াখালীর ‌যতন সাহা হত্যাকাণ্ডের বলে অপপ্রচারের অভিযোগে রুমা সরকারকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‍্যাব সদর দপ্তরে নেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী দেশে একটি আগুন ছড়িয়ে যাওয়ার ভিডিও সম্প্রতি দেশের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত জায়গায় আগুন দেয়া হয়েছিল, তার ভিডিও হিসেবে প্রচারের অপচেষ্টা করেছে। এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য ও এ ধরনের অপপ্রচার যারা চালাচ্ছে, এদের ব্যাপারে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র‍্যাব সোচ্চার রয়েছে।’

এ-সংক্রান্ত অভিযোগে যারা সরাসরি জড়িত, যারা বিভিন্ন মন্দিরে হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত, যারা এ ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভুয়া ভিডিও কন্টেন্ট আপলোড করেছে, শেয়ার করেছে এবং বিভিন্ন ধরনের অযাচিত মন্তব্য করেছে, যারা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ব্যত্যয় করেছে, ইতিমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে ঢাকা, কুমিল্লা, ফেনী, নারায়ণগঞ্জ, রংপুর ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করেছি।

‘এ-সংক্রান্ত যারা হোতা, পাশাপাশি পেছন থেকে ইন্ধন দিয়েছে এ রকম প্রায় ২২ জনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি।’

অসৎ উদ্দেশে যারা এসব কন্টেন্ট ছড়িয়ে দিচ্ছে, তাদের সতর্ক করে র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘একটি চক্র জেনেশুনে এসব সম্প্রচার করছে। আরেকটি চক্র নিজেদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ ধরনের ভিডিও কনটেন্ট ছড়িয়ে দিচ্ছে। এসব পেজের বেশ কিছু অ্যাডমিনকে আমরা ইতিমধ্যে শনাক্ত করেছি। যারা এ-সংক্রান্ত লাইক শেয়ার করছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে, তাদের ইতিমধ্যে শনাক্ত করেছি। তাদের ব্যাপারে আমাদের অভিযান চলছে।’

র‍্যাবের মুখপাত্র বলেন, ‘গতকাল মন্ত্রী মহোদয় বলেছেন, আমরা কুমিল্লার ঘটনার যে হোতা তার অনেক কাছাকাছি আছি। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আমরা এ ব্যাপারেও কাজ করছি। এই ধরনের গুজব ছড়ানোর সঙ্গে যারাই জড়িত হচ্ছে সে যেই হোক , যে শ্রেণির লোক হোক তার বিরুদ্ধে আমরা অভিযান পরিচালনা করছি।’

গণমাধ্যমের মাধ্যমে দেশবাসীকে অনুরোধ করে খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘আপনারা অবশ্যই যা করবেন জেনে শুনে করবেন। না জেনে না বুঝে আপনারা কোন ধরনের কমেন্ট ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করবেন না। কারণ আপনার একটি শেয়ার থেকে হয়তো অনেক মানুষ বিভ্রান্ত হবে এবং অনেক ভুল তথ্য অনেক জায়গায় ছড়িয়ে যাবে।’

শেয়ার করুন

ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে আরও ১১২ রোগী

ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে আরও ১১২ রোগী

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে এক শিশু। ফাইল ছবি

কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ২১ হাজার ৮৩৭ জনের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছে ২০ হাজার ৯৪৬ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি ৭৬৮ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১১২ জন। তবে এ সময়ের মধ্যে কোনো ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়নি।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯৯ জন। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৩ জন।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ২১ হাজার ৮৩৭ জন। এর মধ্যে শুরুর ছয় মাস ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ২৭০ জন। এ বছরের জুলাইয়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকে। ওই মাসে রোগী শনাক্ত হয়েছিল ২ হাজার ২৮৬ জন এবং মারা যায় ১২ জন।

আগস্টে ডেঙ্গু রোগী ছিল ৭ হাজার ৬৯৮ জন। আর মারা যায় ৩৪ জন। সেপ্টেম্বরে রোগীর সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৮৪১ জন, মৃত্যু হয় ২৩ জনের। চলতি মাসে ৩ হাজার ৬৪০ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে ১৪ জন।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ২১ হাজার ৮৩৭ জনের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছে ২০ হাজার ৯৪৬ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি ৭৬৮ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার ৪৬টি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে ৫৬৩ রোগী।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে চলতি বছর ৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

শেয়ার করুন

করোনায় ৬ মৃত্যু, শনাক্ত ৩৬৮

করোনায় ৬ মৃত্যু, শনাক্ত ৩৬৮

দেশে এ নিয়ে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬৪ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৭৯১ জনের।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে আরও ৩৬৮ জনের শরীরে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বুধবার বিকেলে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, দেশে এ নিয়ে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬৪ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৭৯১ জনের।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১ দশমিক ৮০ শতাংশ। এ নিয়ে টানা ২৯ দিন সারা দেশে করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৮৩২টি ল্যাবে করোনার ২০ হাজার ৩৯১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়।

গত বছরের মার্চে ছড়ানো করোনা বছরের শেষে নিয়ন্ত্রণে আসার পর চলতি বছর এপ্রিলের আগে থেকে আবার বাড়তে থাকে। এর মধ্যে প্রাণঘাতী ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার পর এপ্রিলের শুরুতে লকডাউন এবং ১ জুলাই থেকে শাটডাউন দেয় দরকার।

তবে সংক্রমণ কমে আসার পর আগস্টের মাঝামাঝি থেকে ধীরে ধীরে সব বিধিনিষেধ তুলে নেয়া হতে থাকে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে থাকায় ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষ ৪, নারী ২ জন। এর মধ্যে ত্রিশোর্ধ্ব ২, পঞ্চাশোর্ধ্ব ১ ষাটোর্ধ্ব ৩ জন।

বিভাগ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। এ ছাড়া রাজশাহীতে ২ জন ও খুলনাতে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদের সবাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৪৮১ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ২৯ হাজার ৫৪৯ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

শেয়ার করুন

এস কে সিনহার কী সাজা, জানা যাবে বৃহস্পতিবার

এস কে সিনহার কী সাজা, জানা যাবে বৃহস্পতিবার

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা

ফারমার্স ব্যাংক থেকে ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ২০১৯ সালের ১০ জুলাই দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেছিলেন। মামলা তদন্ত করে একই বছরের ৯ ডিসেম্বর চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের পরিচালক বেনজীর আহমেদ।

চার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ (এস কে সিনহা) ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।

বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম আলোচিত এই মামলার রায় পড়ে শোনাবেন।

এর আগে গত ৫ অক্টোবর এই মামলার রায় ঘোষণার তারিখ থাকলেও বিচারক ছুটিতে থাকায় নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. শাহীনুর ইসলাম অনি নিউজবাংলার কাছে দাবি করেন, মামলার শুনানিতে ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হলেও সাক্ষীরা তাদের জবানবন্দিতে মামলার ঘটনা প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছেন। এ ছাড়া জেরার সময় সাক্ষীরা তাদের বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণ করতে পারেননি।

তাই বিবাদীপক্ষ আশা করছে, এই মামলায় আসামিরা ন্যায়বিচার ও খালাস পাবেন।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল দাবি করেন, আসামিদের অপরাধ প্রমাণে তারা সক্ষম হয়েছেন। তাই তাদের সর্বোচ্চ সাজা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ৫ অক্টোবর এ রায় ঘোষণার তারিখ ঠিক করেছিলেন আদালত।

গত ২৪ আগস্ট মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। মামলার অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত।

গত বছরের ১৩ আগস্ট একই আদালত ১১ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

ফারমার্স ব্যাংক থেকে ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ২০১৯ সালের ১০ জুলাই দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেছিলেন। মামলা তদন্ত করে একই বছরের ৯ ডিসেম্বর চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের পরিচালক বেনজীর আহমেদ।

আসামিদের মধ্যে ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক চিশতী (বাবুল চিশতী) কারাগারে, ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক এমডি এ কে এম শামীম, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো. শাহজাহান এবং একই এলাকার বাসিন্দা নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা জামিনে আছেন।

এ ছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, ফারমার্স ব্যাংকের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, রণজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায় পলাতক রয়েছেন।

শেয়ার করুন