পূজার উপহার: পচা পণ্য পাল্টে দিলেন ইউএনও

পূজার উপহার: পচা পণ্য পাল্টে দিলেন ইউএনও

ত্রাণের আলু সামনে নিয়ে ভানু রাম দাশ। ছবি: নিউজবাংলা

ইউএনও মাহবুবুর রহমান জানান, সহযোগিতার সব প্যাকেটে সমস্যা ছিল না। বিতরণ করা ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে ৩৩৩ নম্বরে ফোন দেয়া সুবিধাভোগীদের জন্য রাখা ৩৮টি প্যাকেট ছিল। সেখানে থাকা আলুগুলো কিছুদিন আগে প্যাকেট হওয়ায় পচে যায়।

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হতদরিদ্রদের দেয়া পচা পণ্য পাল্টে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএন) মাহবুবুর রহমান মঙ্গলবার দুপুরে পচা পণ্য পাওয়া ৩৮ হতদরিদ্রের হাতে নতুন খাদ্য সহায়তা তুলে দেন।

সনাতন ধর্মাবলম্বী দরিদ্রদের মধ্যে সোমবার এসব ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছিল উপজেলা প্রশাসন। তবে তাতে পচা আলু, চালসহ অন্যান্য পণ্য নিম্নমানের হওয়ায় ভানু রাম দাশ ও লাল চরণ নামে দুজন ইউএনওর কার্যালয়ে গিয়ে ফেরত দিয়ে আসেন।

এ ঘটনা প্রকাশ পেলে শুরু হয় সমালোচনা। পরে উপজেলা চেয়ারম্যান শওকত আলী সরকার বীর বিক্রম ঘটনার সত্যতা পেয়ে ত্রাণের মান যাচাই করে তা বিতরণের নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে ইউএনও মাহবুবুর রহমান জানান, সহযোগিতার সব প্যাকেটে সমস্যা ছিল না। বিতরণ করা ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে ৩৩৩ নম্বরে ফোন দেয়া সুবিধাভোগীদের জন্য রাখা ৩৮টি প্যাকেট ছিল। সেখানে থাকা আলুগুলো কিছুদিন আগে প্যাকেট হওয়ায় পচে যায়।

সেগুলো পরিবর্তন করে ৩৮ জনকে ত্রাণ সহায়তায় দেয়া হয়েছে। অন্য সুবিধাভোগীদের ত্রাণের প্যাকেট নিয়ে অভিযোগ ছিল না।

উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের সুবিধাভোগী ভানু রাম দাশ বলেন, ‘ভালো রিলিপ পায়া মুই খুশি হইছং। টিএনও স্যার মোক রিকশা ভাড়াও দিছে। মুই ওমাক আশীর্বাদ করং, সবাই ভালো থাকুক।’

থানাহাট ইউনিয়নের মজাইগডাঙ্গা গ্রামের সুনিত্রা রানী বলেন, ‘হামার রিলিপের চালগুলো লাল ছিল, আলু মোটামুটি চলে। আর সোয়াবিন তেলের বদলে পামওয়েল তেল দেছিল।’

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, উপজেলায় এ বছর ৩২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপন হচ্ছে। এ উপলক্ষে হতদরিদ্র হিন্দু পরিবারের মাঝে রাজস্ব খাতের টাকায় চাল, ডাল, তেল, আলুসহ বিভিন্ন সামগ্রী দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় উপজেলা প্রশাসন।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সোমবার উপজেলা পরিষদের হলরুমে ১৬০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। সেই প্যাকেটগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটিতে পাওয়া যায় পচা ও নিম্নমানের সামগ্রী।

আরও পড়ুন:
পূজার উপহার পচা পণ্য, ইউএনওকে ক্ষোভে ফেরত

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মেঘনা নদী থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক ২

মেঘনা নদী থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক ২

ভোলায় চাঁদাবাজির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড

কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট এস এম তাহসিন রহমান বলেন, ‘গতকাল (রোববার) লঞ্চঘাট এলাকায় সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী সাতটি বালুবাহী বাল্কহেডকে একদল চাঁদাবাজ মেঘনা নদীর ইলিশা ও ভাংতির খাল এলাকায় নোঙর করতে বলেছে, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় জামান এবং কামরুলকে ৭ হাজার ৯০০ টাকা ও ২টি মোবাইল ফোনসহ আটক করা হয়।’

ভোলা সদরের মেঘনা নদী থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

সদর উপজেলার ইলিশা লঞ্চঘাটের ভাংতির খাল এলাকা থেকে কোস্ট গার্ডের দক্ষিণ জোন রোববার রাতে ওই দুই ব্যক্তিকে আটক করে। পরে তাদের ভোলা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

আটক দুজন হলেন মো. জামান ও মো. কামরুল। তাদের বাড়ি ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা জংশন এলাকায়।

সোমবার বেলা ১১টার দিকে নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট এস এম তাহসিন রহমান।

তিনি বলেন, ‘ইলিশা লঞ্চঘাট এলাকায় কিছু চাঁদাবাজ সিলেট, ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী বাল্কহেডগুলো থেকে বিভিন্ন সময়ে চাঁদাবাজির জন্য আটক করছে এমন খবর পাই।

‘এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল (রোববার) লঞ্চঘাট এলাকায় সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী সাতটি বালুবাহী বাল্কহেডকে একদল চাঁদাবাজ মেঘনা নদীর ইলিশা ও ভাংতির খাল এলাকায় নোঙর করতে বলেছে, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় জামান এবং কামরুলকে ৭ হাজার ৯০০ টাকা ও ২টি মোবাইল ফোনসহ আটক করা হয়।’

কোস্ট গার্ডের এই কর্মকর্তা জানান, আটকদের ভোলা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তারা পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। এখনও মামলা হয়নি।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের এখতিয়ারভুক্ত এলাকাগুলোতে কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
পূজার উপহার পচা পণ্য, ইউএনওকে ক্ষোভে ফেরত

শেয়ার করুন

হোম ডেলিভারি হচ্ছে মা ইলিশ

হোম ডেলিভারি হচ্ছে মা ইলিশ

ফাইল ছবি

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত কয়েক দিনে তিনটি দলে ভাগ হয়ে মেঘনায় মা ইলিশ শিকার করছেন প্রভাবশালী জেলেরা। একদল নদীর পাড়ে অবস্থান নিয়ে পাহারা দেয়। আরেক দল জাল ও নৌকা নিয়ে ইলিশ শিকার করে। শেষ দলের কাজ সেই ইলিশ বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেয়া।

ভোলার মনপুরার মেঘনায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মা ইলিশ নিধন করছেন কিছু অসাধু জেলে। আর সেই ইলিশ আবার হোম ডেলিভারির মাধ্যমে গ্রাহকের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন তারা।

নিষেধাজ্ঞার সময় মা ইলিশ নিধন করায় প্রকৃত ইলিশ জেলেদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত কয়েক দিনে তিনটি দলে ভাগ হয়ে মেঘনায় মা ইলিশ শিকার করছেন প্রভাবশালী জেলেরা। একদল নদীর পাড়ে অবস্থান নিয়ে পাহারা দেয়। আরেক দল জাল ও নৌকা নিয়ে ইলিশ শিকার করে। শেষ দলের কাজ সেই ইলিশ বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেয়া।

মৎস্যজীবী নেতা জাহাঙ্গীর মাঝি ও সাইফুল মাঝির নেতৃত্বে সোমবার সকালে একদল মাঝি মনপুরা প্রেস ক্লাবে অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলন করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হোম ডেলিভারি দেয়া এক জেলে জানান, গ্রাহকের সঙ্গে ফোনে দাম ও কত হালি ইলিশ লাগবে তা নির্ধারণ করা হয়। পরে ভোররাতে গ্রাহকের চাহিদামতো ইলিশ বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়।

এখন ইলিশের দাম কত এমন প্রশ্নে ওই ডেলিভারি সদস্য জানান, প্রতি হালি ইলিশ দেড় হাজার টাকা থেকে ২ হাজার টাকা। প্রতিটি ইলিশের ওজন ১ কেজি ২০০ গ্রাম থেকে দেড় কেজি ওজনের।

এই ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবদুল গাফফার জানান, মেঘনায় অভিযান চলছে। অসাধু জেলেদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম মিঞা বলেন, ‘মনপুরার চারপাশে মেঘনা। তাই মেঘনায় অভিযান চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। তবে ৩টি টিম অভিযান করছে। অসাধু জেলেদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন:
পূজার উপহার পচা পণ্য, ইউএনওকে ক্ষোভে ফেরত

শেয়ার করুন

‘দেশের পরিবেশ নষ্টের জবাব প্রশাসনকে দিতে হবে’

‘দেশের পরিবেশ নষ্টের জবাব প্রশাসনকে দিতে হবে’

বিক্রমী রাম দাস বলেন, ‘দেশের পরিবেশ কেন নষ্ট হয়েছে তার জবাব প্রশাসনকে দিতে হবে। সব ধর্মের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। যদি কেউ কোনো ধর্মকে অবমাননা করে তাহলে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে সে যে ধর্মেরই হোক না কেন।’

দেশের পরিবেশ কেন নষ্ট হয়েছে প্রশাসনের কাছে সেই জবাব দাবি করেছেন দিনাজপুরের শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির ইসকনের অধ্যক্ষ বিক্রমী রাম দাস।

দিনাজপুর প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে সোমবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে মানববন্ধনে তিনি এ দাবি জানান।

নোয়াখালীর ইসকন মন্দিরসহ দেশের বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে হামলা, ভাঙচুর ও হত্যার প্রতিবাদে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) আয়োজিত এই মানববন্ধনে অংশ নেন পাঁচ শতাধিক মানুষ।

‘দেশের পরিবেশ নষ্টের জবাব প্রশাসনকে দিতে হবে’

এ সময় বিক্রমী রাম দাস বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ অসাম্প্রদায়িকতাকে বিশ্বাস করে। এ দেশের মানুষ কখনোই একে অপরের ধর্মকে অবমাননা করতে পারে না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দিরে, পুজামণ্ডপে ও বাড়িতে ভাঙচুরের যে ঘটনা ঘটেছে তার দায়ভার প্রশাসনকে নিতে হবে। সরকারকে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

‘দেশের পরিবেশ কেন নষ্ট হয়েছে তার জবাব প্রশাসনকে দিতে হবে। সব ধর্মের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। যদি কেউ কোনো ধর্মকে অবমাননা করে তাহলে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে সে যে ধর্মেরই হোক না কেন।’

মানববন্ধন শেষে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

এর আগে প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) জেলা শাখা সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে মানববন্ধন করে। এতে বক্তব্য দেন জেলা জাসদের সভাপতি লিয়াকত আলী ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম।

আরও পড়ুন:
পূজার উপহার পচা পণ্য, ইউএনওকে ক্ষোভে ফেরত

শেয়ার করুন

কুমিল্লায় ক্ষতিগ্রস্ত মণ্ডপ পরিদর্শনে ঢাবি শিক্ষক সমিতি

কুমিল্লায় ক্ষতিগ্রস্ত মণ্ডপ পরিদর্শনে ঢাবি শিক্ষক সমিতি

সাধারণ সম্পাদক ড. নিজামুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘ধর্ম যার যায় উৎসব সবার। ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এ দেশের হাজার বছরের ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্য যারা ভাঙতে চায় তারা দেশ ও জাতির শত্রু।’

কুমিল্লা নগরীর নানুয়ার দিঘিরপাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষক সমিতির নেতারা।

তারা সোমবার দুপুর ১২টার দিকে মণ্ডপ পরিদর্শনে যান।

পরিদর্শন শেষে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. রহমত উল্লাহ বলেন, ‘কেউ যদি আইনশৃঙ্খলা লঙ্ঘন করে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চেতনায় আঘাত করতে চায়, তাহলে আমরা তাদের কখনোই সহ্য করব না। আমরা রাষ্ট্রের কাছে জোর দাবি জানাই, ঘটনার সঙ্গে যে বা যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদেরকে চিহ্নিত করে অতি দ্রুতই শাস্তির আওতায় আনা হোক।’

সাধারণ সম্পাদক ড. নিজামুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘ধর্ম যার যায় উৎসব সবার। ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এ দেশের হাজার বছরের ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্য যারা ভাঙতে চায় তারা দেশ ও জাতির শত্রু।’

আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রাব্বানী, টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের অধ্যাপক শফিউল আলম ভূঁইয়া, সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. আবদুর রহিম, সদস্য ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার, শামসুন্নাহার হলের প্রভোস্ট লতিফা জামাল, ড. জিয়া রহমান ও গবেষক আহসানুল কবির।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী প্রক্টর নাজিব হোসেন খান, অধ্যাপক সৌরভ শিকদার, অধ্যাপক ড. আবুল মনসুর আহাম্মদ, ড. রোবায়েত ফেরদৌস, ড. শামীম রেজা, ড. মো. মিজানুর রহমান, ড. কে এম সালাউদ্দীন, ড. মো. আকরাম হোসেন, এ বি এম আশরাফুজ্জামান, ড. মো. আবুল মুহিত, ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, ড. নাজমুন নাহার, ড. ইশতিয়াক এম সৈয়দ ও ড. মুশফিক মান্নান চৌধুরী।

শিক্ষক সমিতির নেতাদের পক্ষ থেকে ২৪ অক্টোবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে দোষীদের শাস্তি দাবি করে স্মারকলিপি দেয়ার কথা জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
পূজার উপহার পচা পণ্য, ইউএনওকে ক্ষোভে ফেরত

শেয়ার করুন

সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী: চট্টগ্রাম ডিআইজি

সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী: চট্টগ্রাম ডিআইজি

ফেনী শহরের ট্রাংক রোডে কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি মন্দির পরিদর্শন করেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা

গুজবে কান না দিতে এবং বিভ্রান্তিমূলক কোনো তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে না ছড়াতে জনসাধারণের প্রতি আহ্বান করেন ডিআইজি আনোয়ার।

দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রতিক্রিয়াশীল একটি গোষ্ঠীর পরিকল্পিত হামলা বলে জানিয়েছেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আনোয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য এসব হামলা করছে একটি প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী। পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে অপরাধিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’

ফেনী শহরের ট্রাংক রোডে কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি মন্দির পরিদর্শনকালে সোমবার দুপুরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ডিআইজি।

তিনি বলেন, ‘খুব শিগগিরি কুমিল্লার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হবে এবং আইনের আওতায় আনা হবে।’

গুজবে কান না দিতে এবং বিভ্রান্তিমূলক কোনো তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে না ছড়াতে জনসাধারণের প্রতি আহ্বান করেন ডিআইজি আনোয়ার।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘(ফেসবুকে) বিভ্রান্তিমুলক কিছু দেখলেই বিশ্বাস করবেন না এবং লাইক কমেন্ট করবেন না। এ ধরনের পোস্ট ঘটনাগুলোকে তরান্বিত করে।’

অপরাধিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে ডিআইজি আনোয়ার বলেন, ‘পুলিশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করছে যাতে কোনো নিরপরাধ লোকের হেনস্তা না হয়।’

ফেনীর পুলিশ সুপারের বদলীর বিষয়ে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের এই ডিআইজি বলেন, ‘অন্য কোনো কারণ নয়, এটি বিভাগীয় রুটিন ওয়ার্ক।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফেনী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি শুসেন চন্দ্র শীল, ফেনীর পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী, পৌর কাউন্সিলর বাহার উদ্দিন, শহরের ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পারভেজুল ইসলাম হাজারী, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শুকদেব নাথ তপন।

কুমিল্লা নগরীর নানুয়ার দিঘীর উত্তরপাড়ের একটি পূজামণ্ডপে গত বুধবার কোরআন শরিফ পাওয়া যাওয়ার ঘটনায় কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার পূজামণ্ডপে হামলা হয়।

এর জেরে গত শনিবার ফেনী শহরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সহকারী পুলিশ সুপার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) অন্তত ২৯ জন আহত হন। সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে ওইদিন বিকেলে হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি সমাবেশ শুরুর পরপরই শুরু হয় সংঘর্ষ।

স্থানীয়রা জানান, শহরের ট্রাংক রোডে কেন্দ্রীয় কালীবাড়ির সামনে সারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করে হিন্দু সম্প্রদায়। এর পাশেই ফেনী বড় জামে মসজিদের অবস্থান। সেখানে আসরের নামাজের পর মুসল্লিদের একাংশের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয় বিক্ষোভকারীদের।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল ছোড়ে পুলিশ। এ সময় জেলার সহকারী পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম, মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসন রিয়াদ মোল্লাসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

আরও পড়ুন:
পূজার উপহার পচা পণ্য, ইউএনওকে ক্ষোভে ফেরত

শেয়ার করুন

ইউপি নির্বাচন: চেয়ারম্যান পদে ২ ভাইয়ের লড়াই

ইউপি নির্বাচন: চেয়ারম্যান পদে ২ ভাইয়ের লড়াই

সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামু (বাঁয়ে) এবারে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তার ছোট ভাই শেখ কামাল আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে করছেন। ছবি: নিউজবাংলা

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ সমর্থক কামরুজ্জামান কামু এবারে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তার ছোট ভাই শেখ কামাল আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনিত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দুই ভাই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন।

উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ সমর্থক কামরুজ্জামান কামু এবারে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তার ছোট ভাই শেখ কামাল আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনিত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

আপন দুই ভাইয়ের ভোটযুদ্ধ নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, দুই ভাইয়ের মধ্যে পারিবারিক বিবাদ চলছে। ফলে কেউই কাউকে ছাড় দেয়নি। একই পরিবার থেকে দুই ভাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বিপাকে পড়েছেন পরিবারের লোকজন, আত্মীয়-স্বজনসহ পাড়া প্রতিবেশীরা।

কামরুজ্জামান কামু জানান, ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। গতবারও তিনি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি মাত্র ৬৩ ভোটে পরাজিত হন।

তিনি বলেন, ‘আমি এলাকার মানুষের সুখে দুঃখে পাশে ছিলাম। দীর্ঘ দিন ধরে মাঠে কাজ করে যাচ্ছি। এলাকাবাসীর চাপে এবারও নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। এবারও আমিও জিতবো। ছোট ভাই প্রার্থী হবে বিষয়টি পরিবারের কারো সঙ্গে আলোচনা করেনি।’

অপরদিকে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনিত প্রার্থী শেখ কামাল বলেন, ‘দলীয়ভাবে আমাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। দলীয় প্রতীক পাবো ও নির্বাচনে প্রার্থী হবো এ বিষয়টি আমি তার (কামু) কর্মী সমর্থকদের জানিয়েছিলাম। কিন্তু তারপরও তিনি প্রার্থী হয়েছেন।’

আগামী ১১ নভেম্বর তেঁতুলিয়া উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন পরিষদে ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচন হবে।

তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আলী হোসেন জানান, এ ইউনিয়নে দুই ভাই ছাড়াও ৮ প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এখানে ভোটার রয়েছে ৯ হাজার ১২৬ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪ হাজার ৬০০; নারী ভোটার ৪ হাজার ৫২৬ জন।

আরও পড়ুন:
পূজার উপহার পচা পণ্য, ইউএনওকে ক্ষোভে ফেরত

শেয়ার করুন

‘আমরা কোথাও যাব না, পালাব না’

‘আমরা কোথাও যাব না, পালাব না’

নীলফামারী জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি সান্ত্বনা চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা সবাই এই দেশে সম্প্রীতি নিয়ে বাস করছি। তবে স্বাধীনতাবিরোধীরা আমাদের মেনে নিতে চায় না। তাই এভাবে হামলা চালাচ্ছে। এটা মেনে নেয়া যায় না। তাই প্রতিবাদ করতে নেমেছি। আমরা কোথাও যাব না, পালাব না।’

যতই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হোক না কেন, কোথাও যাবেন না, পালাবেন না বলে জানিয়েছেন নীলফামারী জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি সান্ত্বনা চক্রবর্তী।

দেশের বিভিন্ন জায়গায় মন্দির ও পূজামণ্ডপে হামলা, ভাঙচুরের প্রতিবাদে করা মানববন্ধনে তিনি এ কথা জানান।

নীলফামারী ইসকন প্রচার কেন্দ্রের উদ্যোগে সোমবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলা শহরের চৌরঙ্গি মোড়ে মানববন্ধন করা হয়।

এতে সান্ত্বনা বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে আমাদের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ উপহার দিয়েছেন। আমরা সবাই এই দেশে সম্প্রীতি নিয়ে বাস করছি। তবে স্বাধীনতাবিরোধীরা আমাদের মেনে নিতে চায় না। তাই এভাবে হামলা চালাচ্ছে।

‘এটা মেনে নেয়া যায় না। তাই প্রতিবাদ করতে নেমেছি। আমরা কোথাও যাব না, পালাব না।’

মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর স্মারকলিপি জমা দেন ইসকন প্রচার কেন্দ্রের নেতারা।

আরও পড়ুন:
পূজার উপহার পচা পণ্য, ইউএনওকে ক্ষোভে ফেরত

শেয়ার করুন