‘প্রিন্স’ মুসার সম্পদ নেই, তিনি মুখরোচক কথা বলেন: ডিবি

‘প্রিন্স’ মুসার সম্পদ নেই, তিনি মুখরোচক কথা বলেন: ডিবি

ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন মুসা বিন শমসের। ছবি: নিউজবাংলা

ডিবির যুগ্ম কমিশনার বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে উনি (মুসা) অন্তঃসারশূন্য। একটা ভুয়া লোক মনে হয়েছে। ওনার কিচ্ছু নাই। তার একটা বাড়ি রয়েছে গুলশানে। সেটাও স্ত্রীর নামে। বাংলাদেশে তার নামে আর কিছু পাই নাই। তবে উনি মুখরোচক গল্প বলেন।’

নিজেকে ধনকুবের পরিচয় দেয়া মুসা বিন শমসেরকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে এনে সাড়ে তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গোয়েন্দা কর্মকর্তা তাকে ‘অন্তঃসারশূন্য’ বলেছেন। মুসা তার অঢেল সম্পদের যে দাবি করেন, সেসবের কিছু নেই বলে মনে করেন ওই কর্মকর্তা।

তবে জিজ্ঞাসাবাদে মুসা আবার দাবি করেছেন, সুইস ব্যাংকে তার ৮২ বিলিয়ন ডলার আটকে আছে। বাংলাদেশি টাকায় এটি প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকা। এই টাকা আনতে পারলে তিনি পুলিশকে দেবেন ৫০০ কোটি টাকা।

মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা কার্যালয়ে মুসাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

আন্তর্জাতিক অস্ত্র ব্যবসায়ী পরিচয় দেয়া নিজেকে প্রিন্স মুসা নামেও পরিচয় দেন। তিনি নানা সময় বেশ কয়েকজন কথিত দেহরক্ষী নিয়ে প্রকাশ্যে এসেছেন। তবে তিনি ডিবি কার্যালয়ে আসেন স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে।

খয়েরি রঙের সাদামাটা একটি প্রাইভেট কারে করে আসা মুসা পরেছিলেন কালো রঙের স্যুট। প্রাইভেট কারে কয়েকটি জায়গায় অন্য গাড়ি বা অন্য কিছুর আঁচড়, আঘাতও দেখা গেছে। সেগুলোও মেরামত করা হয়নি।

বেলা সাড়ে ৩টার দিকে মিন্টো রোডের গোয়েন্দা কার্যালয়ে ঢোকার পর মুসা বের হন সন্ধ্যা ৭টার দিকে। গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে দাবি করেন, যার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, তিনি তার প্রতারণার শিকার।

অতিরিক্ত সচিব পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার আবদুল কাদেরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে মুসার বিরুদ্ধে। এ অভিযোগেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

‘প্রিন্স’ মুসার সম্পদ নেই, তিনি মুখরোচক কথা বলেন: ডিবি
অন্য সময় বেশ কয়েকজন দেহরক্ষী নিয়ে ঘুরলেও এবার এসেছিলেন ছেলেকে নিয়ে। ছবি: নিউজবাংলা

দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের পরিচয় দিয়ে আসা আব্দুল কাদের চৌধুরী ওরফে কাদের মাঝি ও তার স্ত্রী শারমিন চৌধুরী ছোঁয়াকে গত বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। এই দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগ, ১৪ বছর ধরে প্রতারণা করে সাধারণ মানুষের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তারা।

কাদের মাঝিকে গ্রেপ্তারে গিয়ে কিছু নথি দেখে গোয়েন্দা পুলিশের ধারণা, তার সঙ্গে মুসা বিন শমসেরের ওঠাবসা রয়েছে। এ জন্যই তাকে জিজ্ঞাসাবাদে ডিবি কার্যালয়ে ডাকা হয়।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেছেন, ভুয়া অতিরিক্ত সচিব কাদেরের সঙ্গে সম্পর্কের দায় এড়াতে পারেন না মুসা।

কথোপকথনে মুসা তার কথিত সম্পদ নিয়ে নানা বক্তব্য রেখেছেন। তবে তার সঙ্গে কথা বলে গোয়েন্দা কর্মকর্তার মনে হয়েছে, এসব দাবির সবই অসত্য।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে উনি (মুসা) অন্তঃসারশূন্য। একটা ভুয়া লোক মনে হয়েছে। ওনার কিচ্ছু নাই।

‘তার একটা বাড়ি রয়েছে গুলশানে। সেটাও স্ত্রীর নামে। বাংলাদেশে তার নামে আর কিছু পাই নাই। তবে উনি মুখরোচক গল্প বলেন।’

মুসাকে কী জিজ্ঞাসা করেছেন, জানতে চাইলে হারুন বলেন, ‘ওনাকে আমার কাছে রহস্যময় মানুষ মনে হয়েছে। কাদের নাইন পাস লোক, তাকে উপদেষ্টা বানালেন কেন? ২০ কোটি টাকার চেক দিলেন কেন?

‘উনি (মুসা) বলেছেন লাভ দেবে। কিন্তু উদ্দেশ্য আমরা জানি না। মুসা সাহেব দেখেছেন, কাদের মাঝি বড় বড় লোকের সঙ্গে কথা বলেন। কাদেরের সঙ্গে ওনার অনেক সম্পর্ক রয়েছে। উনি বাবা-সোনা ডাকেন। ছেলের চেয়েও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।’

পুলিশকে ৫০০ কোটি টাকা দেয়ার প্রলোভন

মুসা নানা সময় বিভিন্ন সংস্থা বা ব্যক্তিকে বড় অঙ্কের টাকা অনুদান দেয়ার ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় এসেছেন। যুক্তরাজ্যে নির্বাচনের আগে তিনি অনুদানের ঘোষণা দিয়ে একবার দেশটির গণমাধ্যমের খবর হয়েছিলেন।

যখন পদ্মা সেতুর অর্থায়ন নিয়ে ঝামেলা চলছিল, সে সময় সুইস ব্যাংকে টাকা আছে দাবি করে তা উদ্ধার করে আনতে পারলে এই সেতু করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েও আলোচিত হন।

এবার পুলিশকে ৫০০ কোটি টাকা দেয়ার কথা বলে এসেছেন তিনি।

‘প্রিন্স’ মুসার সম্পদ নেই, তিনি মুখরোচক কথা বলেন: ডিবি
আঁচড় পড়া, সাদামাটা এই গাড়িতেই ডিবি কার্যালয়ে আসেন মুসা বিন শমসের। ছবি: নিউজবাংলা

ডিবির যুগ্ম কমিশনার বলেন, ‘আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। ৮২ বিলিয়ন ডলার প্রসঙ্গে বলেছেন। বলেছেন, সুইস ব্যাংকে টাকাটা আটকা আছে। এই টাকা পেলে তিনি পুলিশকে ৫০০ কোটি টাকা দেবেন, দুদককে ২০০ কোটি টাকা দিয়ে বিল্ডিং করে দেবেন, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু করে দেবেন। এগুলো বলেছেন।’

‘কাদের মাঝির সঙ্গে সম্পর্ক এড়াতে পারেন না’

ডিবি কর্মকর্তা হারুন বলেন, ‘উনি (মুসা) কী টাইপের মানুষ আমরা বুঝি না। তবে ওনার সঙ্গে ভুয়া এডিশনাল সেক্রেটারি কাদের মাঝির যে সম্পর্ক, এর দায় তিনি এড়াতে পারবেন না।’

তিনি জানান, মুসা তাদের কাছে দাবি করেছেন, তিনি প্রতারিত হয়েছেন। উনি নিজেও মামলা করবেন।

‘আমরা সবকিছু তদন্ত করছি। আমরা যেটা করা দরকার সেটাই করব। উনি মামলা করলে সেটাও আমরা তদন্ত করব’- বলেন গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

‘দেহরক্ষী’ ছাড়া কেন?

এর আগে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে মুসা অনেক কথিত দেহরক্ষী নিয়ে গেলেও ডিবি কার্যালয়ে কেবল পরিবার নিয়ে আসার কারণ কী- এমন প্রশ্নও ছিল গণমাধ্যমকর্মীদের।

গোয়েন্দা যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, ‘আমরা বলে দিয়েছিলাম, ডিবির ভেতরে কোনো বডিগার্ড নিয়ে আসা যাবে না।’

অবশ্য মুসার এই দেহরক্ষী নিয়েও নানা মুখরোচক আলোচনা আছে। একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল, এরা কেউ তার দেহরক্ষী নয়। তার প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন শাখার কর্মী। লোক দেখানোর জন্য তাদের দেহরক্ষী বানিয়ে উপস্থাপন করা হয়।

আরও পড়ুন:
ডিবিতে মুসা বিন শমসের
মুসা বিন শমসেরকে ডিবির তলব

শেয়ার করুন

মন্তব্য

এফআর টাওয়ার: চারজনের বিচার শুরু

এফআর টাওয়ার: চারজনের বিচার শুরু

অগ্নিকাণ্ডের শিকার এফআর টাওয়ার।ফাইল ছবি

২০১৯ সালের ২৮ মার্চ এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২৭ নিহত হওয়ার পর এই ভবন নির্মাণে নানা অনিয়মের বিষয়গুলো বেরিয়ে আসতে থাকে।

অগ্নিকাণ্ডের শিকার রাজধানীর বনানীর এফআর টাওয়ারের নকশা জালিয়াতি মামলায় রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন খাদেমসহ চারজনের বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ সৈয়দ কামাল হোসেন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ১৫ নভেম্বর দিন ঠিক করেন।

এ আদালতের পেশকার রফিকুল ইসলাম নিউজবাংলাকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

মামলার অপর তিন আসামি হলেন- রাজউকের ইজারা গ্রহীতা সৈয়দ মো. হোসাইন ইমাম ফারুক, রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (বর্তমান চেয়ারম্যান) লিয়াকত আলী খান মুকুল ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক প্রধান প্রকৌশলি সাইদুর রহমান।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের উপ-পরিচালক আবু বকর সিদ্দিক পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ইমারত বিধিমালা লঙ্ঘন এবং নকশা জালিয়াতির মাধ্যমে ১৮ তলাবিশিষ্ট এফআর টাওয়ার নির্মাণ করেছেন। ১৯৯০ সালে ১৫ তলা ভবন নির্মাণের জন্য রাজউকের অনুমোদন পান এসএমএইচআই ফারুক। পরে ১৯৯৬ সালে ১৮ তলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন চেয়ে সংশোধিত নকশা অনুমোদনের জন্য আবেদন করেন তিনি।

সংশোধিত নকশাটি ইমারত বিধিমালা অনুযায়ী না হওয়ায় এবং প্রস্তাবিত ভবনের উচ্চতা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বিধিনিষেধ অনুযায়ী অনুমোদনযোগ্য নয় বলে জানিয়ে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তার এক মাসের মধ্যেই সংশোধন করে সেই নকশা অনুমোদন করা হয়। এ কাজে অবৈধ লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ আছে।

পরে ১৮ তলা ভবন নির্মাণের জন্য জমির মালিক চুক্তিবদ্ধ হন আবাসন প্রতিষ্ঠান রূপায়ন গ্রুপের সঙ্গে। রূপায়ন ওই জায়গায় অবৈধ নকশার ভিত্তিতেই ১৮ তলা ভবন নির্মাণ করে। ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুসারে ভবনের দুই পাশে যে পরিমাণ জায়গা রাখার কথা ছিল, তা-ও রাখা হয়নি।

পার্কিংয়ের ক্ষেত্রেও উল্লেখিত নির্দিষ্ট পরিমাণের স্থানে রাখা হয় এক-তৃতীয়াংশ জায়গা। আবাসিক ভবন হিসেবে অনুমোদন নেয়া হলেও পুরো ভবনটি ব্যবহার হয় বাণিজ্যিক হিসেবে।

পাঁচ আসামির মধ্যে সাবেক অথরাইজড অফিসার সৈয়দ মকবুল আহমেদ মারা যাওয়ায় তাকে এই মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন বিচারক।

২০১৯ সালের ২৮ মার্চ এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২৭ নিহত হওয়ার পর এই ভবন নির্মাণে নানা অনিয়মের বিষয়গুলো বেরিয়ে আসতে থাকে।

আরও পড়ুন:
ডিবিতে মুসা বিন শমসের
মুসা বিন শমসেরকে ডিবির তলব

শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নথি জালিয়াতির প্রধান আসামির জামিন

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নথি জালিয়াতির প্রধান আসামির জামিন

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

নথি জালিয়াতির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত বদলে দিয়েছিলেন অভিযুক্তরা। পরে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে নথিটি গেলে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে একজনের নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশের নামে প্রতারণার অভিযোগ ছিল নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানের বিরুদ্ধে।

দুদকের করা এই প্রতারণার মামলায় সোমবার জামিন পেয়েছেন প্রধান আসামি শাহজাহান।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশের আদালতে তিনি আইনজীবী শাহীনুল ইসলাম অনির মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। দুদকের পক্ষ থেকে তার জামিনের বিরোধিতা করেন আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক ২০ হাজার টাকা মুচলেকায় ১১ নভেম্বর পর্যন্ত শাহজাহানের অন্তবর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন সংশ্লিষ্ট আদালতের পেশকার ফয়েজ আহমেদ।

মামলাটির নথি থেকে জানা যায়, গত বছর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোষাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের জন্য তিনজনের নাম প্রস্তাব করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। যাদের নাম প্রস্তাব করা হয় তারা হলেন- ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম এনামুল হক, বুয়েটের প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. আব্দুর রউফ এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের সাবেক কোষাধ্যক্ষ অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডোর এম আবদুস সালাম আজাদ।

সেই প্রস্তাবপত্রটি প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করা হলে তিনি অধ্যাপক ড. এম এনামুল হকের নামের পাশে টিক চিহ্ন দেন। পরে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য নথিটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অফিস সহকারী ফাতেমার কাছে ওই প্রস্তাবপত্র। এ সময় তিনি এম আবদুস সালাম আজাদ অনুমোদন না পাওয়ার গোপনীয় তথ্য ছাত্রলীগ নেতা তরিকুলকে ফোনে জানিয়ে দেন।

পরে ২০২০ সালের ১ মার্চ নথিটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কৌশলে বের করে ৪ নম্বর গেটের সামনে আসামি ফরহাদের হাতে তুলে দেন ফাতেমা। পরে এই নথিতে প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ বিকৃত করেন আসামিরা। এই কাজের জন্য ফাতেমাকে তারা ১০ হাজার করে বিকাশে মোট ২০ হাজার টাকা দেন বলে অভিযোগ।

৩ মার্চ আসামিরা নথিটি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠালেও এক পর্যায়ে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। জালিয়াতির ওই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-৭ মোহাম্মদ রফিকুল আলম বাদি হয়ে গত ৫ মে মামলা করেন। এ মামলায় পুলিশ ৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।

অভিযোগ দুদকের এখতিয়ারভুক্ত হওয়ায় কমিশনের উপ-পরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী পরে ৮ জনকে অভিযুক্ত করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত বদলে দেয়ায় অভিযুক্তরা হলেন- নর্থ সাউথ ইউনির্ভাসিটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি (বহিষ্কৃত) তরিকুল ইসলাম মমিন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মচারী ফাতেমা খাতুন, নাজিম উদ্দীন, রুবেল, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফরহাদ হোসেন, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের সাবেক কোষাধ্যক্ষ অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর এম আবদুস সালাম আজাদ ও রবিউল আউয়াল।

আরও পড়ুন:
ডিবিতে মুসা বিন শমসের
মুসা বিন শমসেরকে ডিবির তলব

শেয়ার করুন

আঘাত দিয়ে বাংলাদেশকে দাবিয়ে রাখা যাবে না: খালিদ

আঘাত দিয়ে বাংলাদেশকে দাবিয়ে রাখা যাবে না: খালিদ

দুর্গাপূজায় কুমিল্লায় মণ্ডপে চালানো হয় প্রথম হামলা। ফাইল ছবি

‘তারা মাথা নিচু করে, কুকুরের মতো লেজ গুটিয়ে আজকে চোরাগোপ্তা হামলা করছে। এই চোরাগোপ্তা হামলাও বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ, বাংলাদেশের জনগণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ।’

সাম্প্রদায়িক আঘাত করে বাংলাদেশকে দাবিয়ে রাখা যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

রাজধানীর বিআইডব্লিউটিসিতে সোমবার শেখ রাসেল দিবসের আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক আঘাত দিয়ে বাংলাদেশকে দাবিয়ে রাখা যাবে না। বাংলাদেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখনই এই সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী আবার নতুনভাবে আঘাত হানছে।

‘তারা মাথা নিচু করে, কুকুরের মতো লেজ গুটিয়ে আজকে চোরাগোপ্তা হামলা করছে। এই চোরাগোপ্তা হামলাও বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ, বাংলাদেশের জনগণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ।’

খালিদ বলেন, ‘পঁচাত্তর থেকে আজকে ২০২১ পর্যন্ত দীর্ঘ ৪৬ বছর যাবত বাংলাদেশে একই গল্প শোনানো হয়েছে, সাম্প্রদায়িকতার গল্প। সংবিধানকে ক্ষত-বিক্ষত করা হয়েছে। সাম্প্রদায়িক বীজ ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। পারে নাই।

‘আমরা যখন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। দারিদ্র্যকে দূর করে যখন একটা উন্নত দেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, যখন এ বাংলাদেশ রাসেলের মতো শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ দেশে পরিণত হচ্ছে, তখন সাম্প্রদায়িকতা দিয়ে এই বাংলাদেশকে আবার পেছনে টেনে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

সব ধর্মের মানুষই এ দেশের নাগরিক উল্লেখ করে খালিদ বলেন, ‘সম্মিলিতভাবে এখানে এই মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। এই যে, সম্মিলিত রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনার ভিত্তিতে সংবিধান রচিত হয়েছিল।’

আরও পড়ুন:
ডিবিতে মুসা বিন শমসের
মুসা বিন শমসেরকে ডিবির তলব

শেয়ার করুন

সাম্প্রদায়িক সহিংসতা: বিএনপির দুই কমিটি

সাম্প্রদায়িক সহিংসতা: বিএনপির দুই কমিটি

ফাইল ছবি

প্রথম কমিটি উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে সহমর্মিতা প্রকাশ করবে। দ্বিতীয় কমিটি ঘটনাগুলোর তদন্ত করে বিএনপির কেন্দ্রে প্রতিবেদন দেবে।

দেশের নানা প্রান্তে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার জন্য সরকার সমর্থকদেরকে দায়ী করার পর ঘটনা তদন্ত করতে দুইটি কমিটি গঠন করেছে বিএনপি।

সোমবার দুপুরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

দুটি কমিটির একটির নেতৃত্বে আছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং একটির নেতৃত্বে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস কাজল।

প্রথম কমিটি উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে সহমর্মিতা প্রকাশ করবে। দ্বিতীয় কমিটি ঘটনাগুলোর তদন্ত করে বিএনপির কেন্দ্রে প্রতিবেদন দেবে।

আগের রাতে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় এই কমিটি গঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ক্ষমতাসীনরা তাদের অবৈধ ক্ষমতা দীর্ঘ স্থায়ী করার লক্ষ্যে বিভাজনের রাজনীতি করছে। রাজনৈতিক দূরভিসন্ধির কারণেই এই রক্তপাত, লুটতরাজ চলছে।’

গত বুধবার দুর্গাপূজা চলাকালে কুমিল্লার একটি মণ্ডপে পবিত্র কোরআন পাওয়াকে কেন্দ্র করে সেই মণ্ডপটি ভাঙচুর করা হয়। এরপর দেশের বিভিন্ন এলাকায় মন্দির, মণ্ডপে চলে হামলা। এর মধ্যে রংপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে আগুনও দেয়া হয়েছে।

সাম্প্রদায়িক এসব হামলার প্রতিবাদও করছেন বহুজন। এমনকি ধর্মীয় অনেক নেতাও সোচ্চার হয়েছেন। তারা বলছেন, যে মুসলমানরা এ ধরনের হামলা করছেন তারাই ইসলামের অবমাননা করছেন।

সরকারও এসব ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। কয়েক হাজার মানুষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারও হয়েছে দুই শতাধিক। তবে এর মধ্যেই গতরাতে রংপুরের পীরগঞ্জের ঘটনাটি নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ফখরুল জানান, তার দলের স্থায়ী কমিটি মনে করে এসব হামলায় সরকার সমর্থকরা জড়িত। দেশে রাজনৈতিক সংকট আছে দাবি করে তিনি এও বলেন যে, তার দল মনে করে এই সংকট থেকে দৃষ্টি সরাতে সাম্প্রদায়িক সংকট তৈরি করছে।

ফখরুল বলেন, তাদের দলের স্থায়ী কমিটি সনাতন ধর্মের অনুসারীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানায় এবং সকল ধর্মে মানুষের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করনে সরকারের ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করা হয়।

অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসার দাবিও জানানো হয়।

কোনো তদন্ত ছাড়াই বিএনপি এর নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তাদেরকে বাড়ি-ঘরে পুলিশি তল্লাশি চালানো হচ্ছে অভিযোগ করে এরও তীব্র নিন্দা জানান ফখরুল।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুন্ন রাখতে সব নাগরিককে সচেতন হওয়ার অনুরোধও করেছে বিএনপি।

আরও পড়ুন:
ডিবিতে মুসা বিন শমসের
মুসা বিন শমসেরকে ডিবির তলব

শেয়ার করুন

মণ্ডপে হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে শাহবাগে অবরোধ

মণ্ডপে হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে শাহবাগে অবরোধ

বিভিন্ন জেলার পূজামণ্ডপে হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে শাহবাগ মোড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবরোধ। ছবি: নিউজবাংলা

অবরোধে যোগ দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মিহির লাল শাহ বলেন, ‘আমরা রোহিঙ্গা নই, আমরা বাংলাদেশি। আমরা আমাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের অধিকার রাখি। আমাদের এই অধিকারে যারা হাত দিয়েছে, তাদের হাত আমরা ভেঙে দেব। আমরা এভাবে রাস্তা অবরোধ করতে চাইনি, কিন্তু আমাদের বাধ্য করা হয়েছে। যারা আমাদের কারণে যানজটে পড়ে আছে, তাদের কাছে আমরা ক্ষমা চাই।’

কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার পূজামণ্ডপে হামলাকারীদের শাস্তি নিশ্চিতের দাবিসহ ৭ দফা দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

রোববার সকাল ১০টা থেকে শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে শাহবাগ থেকে পল্টন, সায়েন্স ল্যাব, বাংলামোটর ও টিএসসি অভিমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলসহ বিভিন্ন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা টিএসসি এলাকায় জড়ো হন। সেখান থেকে তারা মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ে আসেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গতকাল রাতে রংপুরের ঘটনার প্রতিবাদে শাহবাগ মোড়ে জগন্নাথ হলের ছাত্ররা অবস্থান নিয়েছে। যান চলাচল বেশ কিছুক্ষণ ধরে বন্ধ আছে। হলের প্রভোস্ট স্যারও আছেন।’

অবরোধে যোগ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মিহির লাল শাহ বলেন, ‘আমরা সবাই বাংলাদেশের মানুষ। সকলের শরীরে একই রক্ত প্রবাহিত হয়। তাহলে এ ধর্মীয় উন্মাদনা কেন? সরকারের প্রতি আমাদের দাবি, এই সাম্প্রদায়িক হামলা বন্ধ করতে হবে। দ্রুত হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক। আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।

‘আমরা রোহিঙ্গা নই, আমরা বাংলাদেশি। আমরা আমাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের অধিকার রাখি। আমাদের এই অধিকারে যারা হাত দিয়েছে, তাদের হাত আমরা ভেঙে দেব। আমরা এভাবে রাস্তা অবরোধ করতে চাইনি, কিন্তু আমাদের বাধ্য করা হয়েছে। যারা আমাদের কারণে যানজটে পড়ে আছে, তাদের কাছে আমরা ক্ষমা চাই।’

মোড়ে অবস্থান নেয়া শিক্ষার্থীরা ‘সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় করতে হবে’, ‘মন্দিরে হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’সহ নানা স্লোগান দিচ্ছেন।

তাদের ৭ দফা হলো:

০১. হামলার শিকার মন্দিরগুলো প্রয়োজনীয় সংস্কার করা।

০২. বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ক্ষতিপূরণ।

০৩. ধর্ষণ ও হত্যার শিকার পরিবারগুলোকে স্থায়ী ক্ষতিপূরণ।

০৪. দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা।

০৫. জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে মন্দির ও সংখ্যালঘুদের বসতবাড়িতে সাম্প্রদায়িক হামলার দায়ে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা।

০৬. সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় ও সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট্রের আধুনিকায়ন করে ফাউন্ডেশনে উন্নীত করা।

০৭. জাতীয় বাজেটে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য জিডিপির ১৫% বরাদ্দ রাখা।

আন্দোলনকারীরা বলছেন, তাদের এসব দাবি মানার আশ্বাস না আসা পর্যন্ত তারা অবরোধ চালিয়ে যাবেন।

আরও পড়ুন:
ডিবিতে মুসা বিন শমসের
মুসা বিন শমসেরকে ডিবির তলব

শেয়ার করুন

বাসের ধাক্কায় বাইক আরোহী নিহত

বাসের ধাক্কায় বাইক আরোহী নিহত

ভাতিজা রুবেল বলেন, ‌আমরা দুজন তেজগাঁও থেকে মোটরসাইকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও যাচ্ছিলাম। মাতুয়াইলে একটি বাস ধাক্কা দিলে দুজন রাস্তায় পড়ে যাই। পরে বাসের চাকায় কাকা পিষ্ট হন।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মাতুয়াইল এলাকায় দুর্ঘটনায় আবুল কাশেম নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় রুবেল নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

সোমবার বেলা তিনটায় কাশেমকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রুবেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন রুবেল। তিনি বলেন, ‘কাশেম কাকাকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁওয়ের বাড়িতে যাচ্ছিলাম। মাতুয়াইল পৌঁছার পর হঠাৎ একটা বাস ধাক্কা দিলে দুজনেই রাস্তায় পড়ে যাই। এরপর কাকাকে চাপা দিয়ে গাড়িটি পালিয়ে যায়। নিজে ছিটকে পড়ার কারণে কোন বাস চাপা দিয়েছে তা দেখতে পাইনি।’

নিহত কাশেম তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় একটি কোম্পানিতে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করতেন।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘মাতুয়াইল এলাকায় বাসচাপায় আহত একজনকে জরুরি বিভাগে আনা হয়েছিল। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহটি মর্গে রাখা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
ডিবিতে মুসা বিন শমসের
মুসা বিন শমসেরকে ডিবির তলব

শেয়ার করুন

গাজীপুরে বিষপানে দম্পতির আত্মহত্যা

গাজীপুরে বিষপানে দম্পতির আত্মহত্যা

বিষপান করে এ দম্পতি আত্মহত্যা করেন। ছবি: নিউজবাংলা

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া দুজনের মৃত্যুর বিষয় নিশ্চিত করে জানান, কী কারণে তারা বিষ খেয়েছেন সেই বিষয়টি জানার চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে বিস্তারিত জানা যাবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে।

গাজীপুরের শ্রীপুরে বিষপান করে এক দম্পতি আত্মহত্যা করেছেন।

হাজী মার্কেট পুকুরপাড় জাহিদ কলোনি এলাকায় রবিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন মো. ফিরোজ ও লিজা আক্তার। ২৫ বছর বয়সী ফিরোজের বাড়ি নওগাঁ জেলায় ও ২২ বছর বয়সী লিজার বাড়ি নীলফামারীতে। তারা দুজনই পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।

মধ্যরাতে অচেতন অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক ভোর ৫টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রতিবেশী রিন্টু মিয়া ওই দম্পতিকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তিনি জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে ওই দুজন একসঙ্গে বিষপান করেন। আমরা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত ঢামেক হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পাশের ঘরের বাসিন্দা এই দুজনের মধ্যে অনেক ভালো সম্পর্ক ছিল। তবে মাঝেমধ্যে বিবাদও হতো। কিন্তু আত্মহত্যা করার মতো ঝগড়া চোখে পড়েনি।’

রিন্টু জানান, ‘১ মাস আগে লিজা চাকরি থেকে রিজাইন দেয়। তবে কী কারণে তারা বিষ খেয়েছেন, এ বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।’

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া দুজনের মৃত্যুর বিষয় নিশ্চিত করে জানান, কী কারণে তারা বিষ খেয়েছেন সেই বিষয়টি জানার চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে বিস্তারিত জানা যাবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ডিবিতে মুসা বিন শমসের
মুসা বিন শমসেরকে ডিবির তলব

শেয়ার করুন