জামিন নাকচ, কনক সরওয়ারের বোন কারাগারে

জামিন নাকচ, কনক সরওয়ারের বোন কারাগারে

আদালত প্রাঙ্গণে কনক সারোয়ারের বোন নুসরাত শাহরিন রাকা। ফাইল ছবি

আসামিদের পক্ষে ঢাকা বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক ফারুকী জামিনের আবেদন করেন। তিনি বলেন, ‘রাকাকে জেলে রাখার কোনো উপাত্ত নেই। তাকে দুই মামলায় পাঁচ দিনের জিজ্ঞাসাবাদে কোনো অগ্রগতি নেই। পুলিশ বলছে, মুক্তি পেলে তিনি বিদেশ চলে যাবেন। কিন্তু তিনি কেমনে যাবেন বিদেশে। তার পাসপোর্ট তো আগেই জব্দ করা হয়েছে।’

রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় প্রবাসী সাংবাদিক কনক সরওয়ারের বোন নুসরাত শাহরিন রাকার জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।

ঢাকা মহানগর হাকিম মামুনুর রশীদ শুনানি শেষে মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।

৬ অক্টোবর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় রাকার তিন দিন এবং মাদক মামলায় দুই দিনের রিমান্ড আদেশ দেয় আদালত।

প্রথমে মাদক মামলায় রিমান্ডে নিয়ে রাকাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে রিমান্ড বিষয়ে আদালতকে জানিয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তাকে আরও তিন দিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার রাকাকে আদালতে হাজির করে ওই মামলায় কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই বদরুল মিল্লাত।

আবেদনে বলা হয়, আসামিকে উচ্চ আদালতের নির্দেশনামতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন, যা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আসামির প্রায় সব আত্মীয়স্বজন দেশের বাইরে থাকেন। তাই তার বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

আসামিদের পক্ষে ঢাকা বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক ফারুকী জামিনের আবেদন করেন। তিনি বলেন, ‘রাকাকে জেলে রাখার কোনো উপাত্ত নেই। তাকে দুই মামলায় পাঁচ দিনের জিজ্ঞাসাবাদে কোনো অগ্রগতি নেই। পুলিশ বলছে, মুক্তি পেলে তিনি বিদেশ চলে যাবেন। কিন্তু তিনি কেমনে যাবেন বিদেশে। তার পাসপোর্ট তো আগেই জব্দ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘গত ২৭ নভেম্বর রাকা জানতে পারেন তার নামে ফেসবুকে একটি ভুয়া আইডি খোলা হয়েছে। ১ অক্টোবর তিনি উত্তরা পশ্চিম থানায় এ বিষয়ে একটি জিডি করেন। পরে পুলিশই আবার তাকে গ্রেপ্তার করে। সাংবাদিক কনক সরওয়ার তার ভাই। বিদেশে বসে তিনি সরকার ও দেশ নিয়ে আলোচনা করেন। সেসব তার নিজের বিষয়।’

রাকা তার বোন, শুধু এ জন্যই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে আদালতকে জানান তিনি।

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়।

সংশ্লিষ্ট থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক লিয়াকত আলী বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন।

৪ অক্টোবর দিবাগত রাতে রাজধানীর উত্তরায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের সদস্যরা।

আরও পড়ুন:
কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে অশ্রুসিক্ত রাকা
কনক সারোয়ারের বোন ৫ দিনের রিমান্ডে
কনকের বোনকে ১৪ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ
মাদকসহ গ্রেপ্তার কনক সারোয়ারের বোন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

চলন্ত ট্রেনে পাথর ছুড়ছিল তারা

চলন্ত ট্রেনে পাথর ছুড়ছিল তারা

বিমানবন্দর রেলস্টেশনে ট্রেনে পাথর ছোড়ার সময় আকাশ রহমান, রিফাত ইসলাম ও মো. হাসান নামের তিন তরুণকে গ্রেপ্তার করে রেলওয়ে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

কমলাপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজহারুল হক বলেন, ‘কমলাপুর থেকে পঞ্চগড়গামী একতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি বিমানবন্দর রেলস্টেশন ছেড়ে যাওয়ার সময় গ্রেপ্তার তিন জন চলন্ত ট্রেনকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে। তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। আটকের পরে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।’

রাজধানীর বিমানবন্দর রেলস্টেশনে কমলাপুর থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড়গামী একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে পাথর ছোড়ার সময় থেকে তিন তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে রেলওয়ে পুলিশ।

গ্রেপ্তার আকাশ রহমান, রিফাত ইসলাম ও মো. হাসান তিন জনের বয়স ১৮ থেকে ১৯ বছরের এর মধ্যে।

বুধবার সকালে রাজধানীর বিমানবন্দর রেল স্টেশনে ঢাকার কমলাপুর থেকে পঞ্চগড়গামী একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে পাথর ছোড়ার সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

কমলাপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল হক এ ঘটনা নিশ্চিত করে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কমলাপুর থেকে পঞ্চগড়গামী একতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি বিমানবন্দর রেলস্টেশন ছেড়ে যাওয়ার সময় গ্রেপ্তার তিন জন চলন্ত ট্রেনকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। আটকের পরে মামলা দিয়ে তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়।’

গত ৬ অক্টোবর কুমিল্লার আদর্শ সদরে চলন্ত ট্রেনে দুর্বৃত্তের ছোড়া পাথরে শিশুসহ তিন যাত্রী আহত হন।

ঢাকা থেকে নোয়াখালীগামী আন্ত নগর উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনে আদর্শ সদর উপজেলার গোমতী নদীর বানাশুয়া ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন লাকসাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন।

ট্রেনে পাথর ছোড়া রোধে প্রচার

চলন্ত ট্রেনে পাথর ছোড়া রোধে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক প্রচার শুরু করে রেল বিভাগ।

‘পাথর নিক্ষেপ প্রতিরোধ করুন, নিরাপদ ট্রেন ভ্রমণ নিশ্চিত করুন’- এ স্লোগানে গত ৬ অক্টোবর, থেকে শুরু হয়ে সপ্তাহব্যাপী এই কার্যক্রম।

দেশের অন্য জেলার মতো এই সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে লালমনিরহাট ও নীলফামারীতে।

আরও পড়ুন:
কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে অশ্রুসিক্ত রাকা
কনক সারোয়ারের বোন ৫ দিনের রিমান্ডে
কনকের বোনকে ১৪ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ
মাদকসহ গ্রেপ্তার কনক সারোয়ারের বোন

শেয়ার করুন

গণতদন্ত কমিটি গঠনের দাবি নাগরিক সমাজের

গণতদন্ত কমিটি গঠনের দাবি নাগরিক সমাজের

নাগরিক সমাবেশে দেশের বিভিন্ন কবি, সাহিত্যিক, শিক্ষক, বামপন্থি রাজনৈতিক দলের নেতারা ও তাদের ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন। ছবি: নিউজবাংলা

অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, ‘যদি রাষ্ট্র ধর্মকে ইসলাম করেন আবার যদি এখানে ধর্ম নিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলেন তাহলে দুটো একসঙ্গে কখনোই যাবে না। যতদিন পর্যন্ত এটি পরিবর্তন না করা হবে ততদিন পর্যন্ত এদেশের সংখ্যালঘুরা এদেশে নিজেদের নিরাপদ মনে করবেন না।’ বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার।

কুমিল্লা, নোয়াখালী, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা তদন্তে ‘গণতদন্ত কমিটি’ গঠনের দাবি জানিয়েছে নাগরিক সমাজ।

বুধবার বিকেলে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে দেশের বিভিন্ন কবি, সাহিত্যিক, শিক্ষক, বামপন্থি রাজনৈতিক দলের নেতারা ও তাদের ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এসময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা দিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘ব্যর্থ’ আখ্যা দিয়ে তাকে সরিয়ে দেয়ার দাবিও জানিয়েছে নাগরিক সমাজ।

‘সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ ব্যানারে ‘সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হোন’ শীর্ষক এ সমাবেশের আয়োজন করে সুশীল সমাজের সংগঠন নাগরিক সমাজ।

বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার।

ইমরান এইচ বলেন, ‘শুধু এই হামলা নয়, আগের কোনো সাম্প্রদায়িক হামলার বিচার হয়নি, বরং হামলাকারীদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। দেশে যত সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটেছে সরকারকে সবগুলোর বিচার করতে হবে। প্রয়োজনে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্যে যেমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দ্রুত বিচার করা হয়েছিল, সাম্প্রদায়িক হামলার বিচারেও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে।’

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘জনবান্ধব সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। সামগ্রিকভাবে এই সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে।

পূজার নিরাপত্তার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বের অবহেলা রয়েছে বলে অভিযোগ করে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করতে হবে। যেসব জায়গায় হামলা হয়েছে, সেইসব স্থানে দায়িত্বরত ডিসি- এসপিরা যারা আগে হতেই আভাস পেয়েছে এমন কিছু হতে যাচ্ছে, এই কর্মকর্তাদের অনতিবিলম্বে দায়িত্ব হতে অব্যাহতি দিয়ে তাদেরকে আইনি হেফাজতে আনা হোক৷’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, ‘বাংলাদেশের শাসক শ্রেণি আমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। যেদিন ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করা হয়েছে, সেদিন হতে মুক্তিযুদ্ধের ধর্ম নিরপেক্ষতার নীতি আর থাকল না। আপনি যদি রাষ্ট্র ধর্মকে ইসলাম করেন আবার যদি এখানে ধর্ম নিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলেন তাহলে দুটো একসঙ্গে কখনোই যাবে না। যতদিন পর্যন্ত এটি পরিবর্তন না করা হবে ততদিন পর্যন্ত এদেশের সংখ্যালঘুরা এদেশে নিজেদের নিরাপদ মনে করবেন না।’

সমাবেশে থেকে ঘোষণা পত্র পাঠ করেন সাবেক ছাত্রনেতা বাকি বিল্লাহ। এসময় তিনি আটটি দাবি জানান। দাবিগুলো হলো

১. সারাদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সঙ্গে জড়িত এবং মদদদাতাদের গ্রেফতার করে বিচার করা।

২. অব্যাহত সাম্প্রদায়িক হামলার দায় সরকার ও পুলিশ প্রশাসনকে গ্রহণ করাসহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অপসারণ করা।

৩. সভা-সমাবেশ এবং ইউটিউব-ফেসবুকে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া।

৪. বহুধারার শিক্ষাপদ্ধতি বাতিল করে মাতৃভাষায় এক ধারার বিজ্ঞানমুখী শিক্ষা পদ্ধতি চালু করা।

৫. দেশের প্রতিটি স্কুলে শিল্পকলাবিষয়ক একাধিক শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করাসহ পাঠ্যপস্তকের সাম্প্রদায়িকীকরণ রহিত করার পাশাপাশি ইউনিয়ন পর্যায়ে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করা।

৬. রামু, নাসিরনগর, সাতক্ষীরা, অভয়নগর, শাল্লাসহ পূর্বের সব সাম্প্রদায়িক হামলার বিচার করাসহ সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা তদন্তে ‘গণতদন্ত কমিটি’ গঠন করে তার সুপারিশ বাস্তবায়ন করা।

৭. সব দলকে ধর্মকে রাজনীতি ও ক্ষমতার হাতিয়ার করা থেকে বিরত থাকা।

৮. সংবিধান সংশোধন করে ‘রাষ্ট্রধর্ম’ বাতিল করে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ পুনঃস্থাপন করার পাশাপাশি ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা।

সমাবেশ শেষে একটি মশাল মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি এলিফ্যান্ট রোড, সাইন্সল্যাব, নিউ মার্কেট, নীলক্ষেত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে এসে শেষ হয়।

আরও পড়ুন:
কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে অশ্রুসিক্ত রাকা
কনক সারোয়ারের বোন ৫ দিনের রিমান্ডে
কনকের বোনকে ১৪ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ
মাদকসহ গ্রেপ্তার কনক সারোয়ারের বোন

শেয়ার করুন

‘শান্তিপূর্ণভাবে একই দিনে ৩ ধর্মের উৎসব পালিত’

‘শান্তিপূর্ণভাবে একই দিনে ৩ ধর্মের উৎসব পালিত’

বুধবার সন্ধ্যায় বাসাবো ধর্মরাজিক বৌদ্ধ বিহারে ফানুস ওড়ানোর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি এবং আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া। ছবি: নিউজবাংলা

আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, ‘আজকে একটি বিশেষ দিন। এদিনটি তিনটি ধর্মের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। মুসলমানেরা পালন করছেন ঈদে মিলাদুন্নবী। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পালন করছেন লক্ষ্মীপূজা। আর বৌদ্ধ সম্প্রদায় পালন করছেন প্রবারণা পূর্ণিমা। শান্তিপূর্ণভাবে একই দিনে তিনটি ধর্মীয় উৎসব পালিত হওয়ায় প্রমাণিত এটাই সম্প্রীতির বাংলাদেশ।’

যথাযথ ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে একই দিনে তিনটি ধর্মের তিনটি উৎসব পালিত হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে একই দিনে তিনটি ধর্মীয় উৎসব পালিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি এবং আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, এটাই সম্প্রীতির বাংলাদেশ।

বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাসাবো ধর্মরাজিক বৌদ্ধ বিহারে ফানুস ওড়ানোর অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, ‘আজকে একটি বিশেষ দিন। এদিনটি তিনটি ধর্মের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। মুসলমানেরা পালন করছেন ঈদে মিলাদুন্নবী। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পালন করছেন লক্ষ্মীপূজা। আর বৌদ্ধ সম্প্রদায় পালন করছেন প্রবারণা পূর্ণিমা।’

তিনি বলেন, ‘প্রাকৃতিকভাবেই তিনটি সম্প্রদায়ের তিনটি ধর্মীয় উৎসব এক দিনে পড়েছে। এ ঘটনা আমাদের হাজার বছরের যে অসম্প্রদায়িকতা, মানবসত্ত্বা এক ও অভিন্ন সেটি সারা পৃথিবীর মানুষকে স্মরণ করিয়ে দিল। যেখানে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে কোনো ভেদাভেদ নেই। এটাই সম্প্রীতির বাংলাদেশ।’

তিনি আরও বলেন, ‘হযরত মুহাম্মদ (সা.) শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এসেছিলেন। একইসঙ্গে মহামতি গৌতম বুদ্ধ, তিনিও শান্তি প্রতিষ্ঠার বাণী দিয়েছেন।’

বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, ‘গত কয়েকদিন বিভিন্ন জায়গায় যে সহিংসতা দেখেছি, আমরা সেই জায়গায় আর ফিরে যেতে চাই না। তিনটি ধর্মের উৎসব এক দিনে শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হচ্ছে।

যারা ধর্মের নামে সহিংসতা করতে চায়, সেই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রতিরোধে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

পরে প্রবারণা বৌদ্ধ পূর্ণিমায় ফানুস ওড়ানো উদ্বোধন করেন তিনি। এর আগে এ দিবসটি উপলক্ষ্যে সকাল থেকেই বৌদ্ধ মন্দিরে ভিক্ষু সংঘের প্রাতরাশ, মঙ্গলসূত্র পাঠ, বুদ্ধপূজা, পঞ্চশিল ও অষ্টাঙ্গ উপসথ শিল গ্রহণ, মহাসংসদান, অতিথি আপ্যায়ন, পবিত্র ত্রিপিটক থেকে পাঠ, আলোচনা সভা, প্রদীপ পূজা, আলোকসজ্জা, বিশ্বশান্তি কামনায় সম্মিলিত বুদ্ধোপাসনা আয়োজিত হয়। সন্ধ্যায় ফানুস ওড়ানো হয়।

সারা দেশে একইদিনে উদযাপিত হয়েছে মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ঈদের মিলাদুন্নবী, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের লক্ষ্মীপূজা আর বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা পালন করেছেন প্রবারণা পূর্ণিমা।

আরও পড়ুন:
কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে অশ্রুসিক্ত রাকা
কনক সারোয়ারের বোন ৫ দিনের রিমান্ডে
কনকের বোনকে ১৪ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ
মাদকসহ গ্রেপ্তার কনক সারোয়ারের বোন

শেয়ার করুন

যৌনতার পর টাকা চেয়ে খুন হন শিপন

যৌনতার পর টাকা চেয়ে খুন হন শিপন

বস্তাবন্দী শিপনের মরদেহ ও খুনী জব্বার।

খুনীর স্বীকারোক্তির পর শিপন আক্তারের মোবাইল, বোরকা এবং স্যান্ডেলসহ হত্যাকাণ্ডের অন্যান্য আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ।

খুনীর দাবি অনুযায়ী, টাকার বিনিময়ে পরিচিতদের সঙ্গে সময় কাটাতেন পোশাক শ্রমিক শিপন আক্তার। গত ৮ অক্টোবর রাতে রাজধানীর ভাটারায় ছোলমাইদ ঢালীবাড়ী এলাকায় শিপনকে নিজের ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়েছিলেন গ্যারেজকর্মী আব্দুল জব্বার।

সেই রাতে কোনো টাকা না দিয়ে শিপনকে সারা রাত বাসায় রাখতে চাইলে তিনি এর প্রতিবাদ করেন। আর তখনই গলা টিপে তাকে হত্যা করেন জব্বার।

শুধু তাই নয়, শিপনকে হত্যার পর তার মোবাইল বিক্রি করে ওই টাকায় তিন পিস ইয়াবা কিনে মরদেহের পাশেই বন্ধু হীরাকে নিয়ে বাসায় সেবন করেন জব্বার। পরে দুজন মিলে মরদেহটি বস্তাবন্দি করে রাস্তার পাশে ফেলে আসেন।

হত্যাকাণ্ডের দু’দিন পর গত ১০ অক্টোবর বিকেলে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিপনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ও সিসি টিভির ফুটেজ পর্যালোচনা করে খুনিদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এরই ধারাবাহিতায় হত্যাকারী আব্দুল জবারকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন জব্বার। তার বন্ধু হীরাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনিও স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

ডিবি গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার মশিউর রহমান নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, গত ৮ অক্টোবর জুমার নামাজে পর মোবাইল ফোনে পরিচিত জব্বারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য বের হন শিপন। পরে তাকে নিয়ে যমুনা ফিউচার পার্ক এবং ফুটপাতে ফুসকার দোকানে ঘোরাঘুরি শেষে সন্ধার পর নিজের ভাড়া বাসায় নিয়ে যান গ্যারেজকর্মী জব্বার।

আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জব্বার জানান, তিনি বিবাহিত। কিন্তু ঘটনার দিন তার স্ত্রী ও সন্তান শ্বশুরবাড়ি চাঁদপুরে ছিল। বাসায় যৌনতা শেষে টাকা দাবি করেন শিপন এবং চলে যেতে চান।

এ সময় জব্বার টাকা না দিয়ে শিপনকে সারারাতের জন্য রাখতে চান। কিন্তু রাজি হয় না শিপন। তিনি জব্বারের কথায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন এবং চিৎকার করার হুমকি দেন। জব্বার তখন গলাটিপে শ্বাসরোধ করে শিপনকে হত্যা করেন। রাত ১০টার দিকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

উপ-কমিশনার মশিউর রহমান জানান, জব্বার ইয়াবা আসক্ত। হত্যাকাণ্ডের পর বন্ধু হীরাকে তিনি বাসায় নিয়ে আসেন এবং শিপনের মোবাইল বিক্রির ১ হাজার টাকায় কেনা তিনটি ইয়াবা দুজন মিলে সেবন করেন। ইয়াবা সেবন শেষে তারা মরদেহটি গোপন করার জন্য প্রথমে একটি কার্টুন এবং পরে কার্টুনসহ মরদেহটি একটি বড় বস্তায় ঢুকান।

রাত তিনটার দিকে জব্বার বন্ধু হীরার সহায়তায় মাথায় করে মরদেহটি তিন তলা থেকে নিচে নামান এবং ১০০ টাকার বিনিময়ে একটি রিকশায় ভাড়া করে দূরে ফেলে আসেন।

খুনীর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শিপনের মোবাইল, তার বোরকা এবং স্যান্ডেলসহ হত্যাকাণ্ডের অন্যান্য আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে অশ্রুসিক্ত রাকা
কনক সারোয়ারের বোন ৫ দিনের রিমান্ডে
কনকের বোনকে ১৪ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ
মাদকসহ গ্রেপ্তার কনক সারোয়ারের বোন

শেয়ার করুন

নিজের ঘরে পড়ে ছিল পুলিশ কর্মকর্তার মরদেহ

নিজের ঘরে পড়ে ছিল পুলিশ কর্মকর্তার মরদেহ

এসআই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। ছবি: সংগৃহীত

এসআই নাজমুস সাকিব জানান, মঙ্গলবার রাত আটটা পর্যন্ত ডিউটি করেছেন জিন্নাহ। থানায় নৈশভোজ থাকায় রাত ১০টার দিকে তিনি টিলাবাড়ির ফ্ল্যাটে যান। সেখানে একটি সাততলা ভবনের তৃতীয় তলায় তিনি ভাড়া থাকেন।

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ নামে এক পুলিশ কর্মকর্তার মরদেহ। ৫০ বছর বয়সী জিন্নাহ পুলিশ উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় কর্মরত ছিলেন।

কেরানীগঞ্জের টিলাবাড়ি এলাকার ফ্ল্যাট থেকে বুধবার বেলা তিনটার দিকে মরদেহটি উদ্ধার হয়।

সহকর্মী দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার এসআই নাজমুস সাকিব জানান, মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত ডিউটি করেছেন জিন্নাহ। থানায় নৈশভোজ থাকায় রাত ১০টার দিকে তিনি টিলাবাড়ির ফ্ল্যাটে যান। সেখানে একটি সাততলা ভবনের তৃতীয় তলায় তিনি ভাড়া থাকেন। বুধবার রাতে ডিউটি থাকায় সকালে কেউ তাকে ডাকাডাকি করেননি।

এসআই সাকিব বলেন, ‘দুপুরের দিকে পাশের ঘরের বাসিন্দা থানায় খবর দেন। জিন্নাহর রুম ভেতর থেকে বন্ধ এবং ডাকাডাকি করে সাড়া মিলছে না বলে জানান তিনি। পরে পুলিশ টিম পৌঁছে ঘরের দরজা ভেঙে জিন্নাহকে উদ্ধার করে। খাটে উপুড় হয়ে পড়ে ছিলেন তিনি। দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

এসআই জিন্নাহ ঘুমের মধ্যে স্ট্রোকে মারা যেতে পারেন বলে ধারণা সহকর্মীদের। তবে মৃত্যুর অন্য কারণগুলো খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

সহকর্মীরা জানান, ১৯৯১ সালে কনস্টেবল হিসেবে পুলিশে যোগ দেন জিন্নাহ। এরপর পদোন্নতি পেয়ে এসআই হন। তিনি গত মার্চে মুন্সিগঞ্জ সদর থেকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় যোগ দেন। তার গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার গোলকনগর গ্রামে। কেরানীগঞ্জের ফ্ল্যাটটিতে তিনি একা থাকতেন। পরিবারের অন্যরা থাকেন গ্রামের বাড়িতে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া জানান, বিকেল পাঁচটার দিকে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে হাসপাতালে আনা হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাখা হয়েছে মর্গে।

আরও পড়ুন:
কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে অশ্রুসিক্ত রাকা
কনক সারোয়ারের বোন ৫ দিনের রিমান্ডে
কনকের বোনকে ১৪ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ
মাদকসহ গ্রেপ্তার কনক সারোয়ারের বোন

শেয়ার করুন

দেড় বছর পর করোনায় মৃত্যুশূন্য ঢাকা

দেড় বছর পর করোনায় মৃত্যুশূন্য ঢাকা

সংক্রমণের উদ্বেগজনক দিনগুলোতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে করোনা আক্রান্ত রোগীকে হাসপাতালের ভেতরে নিয়ে যাচ্ছেন স্বজনরা। ফাইল ছবি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী, নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার টানা দুই সপ্তাহ ৫ শতাংশের নিচে থাকলে কোনো দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে ধরা হয়। সে হিসেবে বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে।

দেশে করোনাভাইরাস ধরা পড়েছিল গত বছরের ৮ মার্চ। এর ১০ দিন পর রাজধানী ঢাকায় প্রথম মৃত্যুর সংবাদ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, দেশে করোনা সংক্রমণে প্রথম মৃত্যুর অর্ধমাস পর ২০২০ সালের ৩ এপ্রিল মৃত্যুহীন ছিল দেশ। এরপর থেকে প্রতিদিনই করোনায় আক্রান্ত হয়ে মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এসব মৃত্যুর বেশির ভাগই হয়েছে ঢাকায়।

চলতি বছর ভারতীয় ধরন শনাক্ত হওয়ার পর সীমান্ত এলাকায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়লেও ধীরে ধীরে আবারও সর্বোচ্চ মৃত্যুর স্থানে পরিণত হয় রাজধানী।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে করোনায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। এ সময়ে সর্বোচ্চ ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। এ ছাড়া রাজশাহীতে ২ জন ও খুলনায় ১ আরও একজনের মৃত্যু হয়। তাদের সবাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দেড় বছর পর এদিন মৃত্যুশূন্য ছিল ঢাকা।

দেশে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে গত বছরের ৮ মার্চ। ধীরে ধীরে সংক্রমণ বাড়তে থাকে। করোনার প্রথম ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে। পরে মার্চে আঘাত করে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। এই ঢেউয়ে ভারতীয় ডেল্টা ধরন ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এ ধরন দেশজুড়ে শঙ্কা ও চিকিৎসাসংকট তৈরি করে।

দ্বিতীয় ঢেউয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয় গত জুলাইয়ে। এ মাসে পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। করোনায় আক্রান্ত হয়ে কোনো কোনো দিন আড়াই শর বেশি মানুষেরও মৃত্যু হয়েছে।

তবে গত দেড় মাস ধরে করোনা পরিস্থিতি ক্রমেই উন্নতির দিকে। কমছে মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা। সেই সঙ্গে কমছে শনাক্তের হারও। টানা ২৯ দিন সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের নিচে। জনজীবন স্বাভাবিক হওয়ায় খুলে দেয়া হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞাপ্তিতে জানানো হয়েছে, দেশে এখন পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬৪ জনের শরীরে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৭৯১ জনের। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১৫ লাখ ২৯ হাজার ৫৪৯ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার টানা দুই সপ্তাহ ৫ শতাংশের নিচে হলে কোনো দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে ধরা হয়। সে হিসেবে বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। তবে শূন্যের কোঠায় না আসা পর্যন্ত মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি।

আরও পড়ুন:
কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে অশ্রুসিক্ত রাকা
কনক সারোয়ারের বোন ৫ দিনের রিমান্ডে
কনকের বোনকে ১৪ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ
মাদকসহ গ্রেপ্তার কনক সারোয়ারের বোন

শেয়ার করুন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস আজ, উদযাপন বৃহস্পতিবার

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস আজ, উদযাপন বৃহস্পতিবার

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ছবি

আজ ২০ অক্টোবর, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক বাহক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। রাজধানী ঢাকার সদরঘাট এলাকার কোতোয়ালি থানার চিত্তরঞ্জন এভিনিউতে অবস্থিত একটি স্বায়ত্তশাসিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ২০০৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ৮ম জাতীয় সংসদের ১৮ তম অধিবেশনে “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন–২০০৫” সংসদে উত্থাপিত হয় এবং ওই বছরেরই ২০ অক্টোবর সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে জগন্নাথ কলেজকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণা করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ২০ অক্টোবরকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হিসেবে পালন করে আসছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও স্বাধীনতা পূর্ববর্তী-পরবর্তী সময়ে সকল আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এ প্রতিষ্ঠানটি ২০০৫ খ্রিস্টাব্দের ২০ অক্টোবর জাতীয় সংসদে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে।

১৮৫৮ সালে ঢাকা ব্রাহ্ম স্কুল নামে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। এরপর ১৮৭২ সালে নাম বদলে বালিয়াটির জমিদার কিশোরীলাল রায় চৌধুরী তার বাবার নামে জগন্নাথ স্কুল নামকরণ করেন। ১৮৮৪ সালে এটি একটি দ্বিতীয় শ্রেণির কলেজে ও ১৯০৮ সালে প্রথম শ্রেণির কলেজের রূপ পায়।

১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা শুরু হলে তৎকালিন জগন্নাথ কলেজের স্নাতক কার্যক্রম সাথে আইএ, আইএসসি, বিএ (পাস) শ্রেণি ছাড়াও ইংরেজি, দর্শন ও সংস্কৃতি অনার্স এবং ইংরেজিতে মাস্টার্স চালু বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ইন্টারমিডিয়েট কলেজে অবনমিত করা হয়।

১৯৪৯ সালে আবার কলেজেটিতে স্নাতক পাঠ্যক্রম শুরু হয়। ১৯৬৮ সালে এটিকে সরকারিকরণ করা হয়, কিন্তু পরের বছরেই আবার এটি বেসরকারি মর্যাদা লাভ করে।

২০০৫ সালে জাতীয় সংসদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৫ পাশের মাধ্যমে এটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রূপান্তরিত হয়।

কলেজ থাকাকালে স্থানীয় প্রভাবশালীরা একে একে দখল করে নেয় সবগুলো আবাসিক হল। আবাসন সংকট ও সংকীর্ণ ক্যাম্পাসের ঘানি মাথায় নিয়েই যাত্রা শুরু করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। চরম মানবেতর জীবনযাপন করেও দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

বর্তমানে মোট ৬টি অনুষদে ৩৬টি বিভাগ ও ২টি ইনস্টিটিউট রয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থী, ৯৬০ জন একাডেমিক কর্মী এবং ৮৫০ জন প্রশাসনিক স্টাফ নিয়ে বর্তমানে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

গত বছরের ২০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হল বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের উদ্বোধন করা হয়। ঢাকার কেরানীগঞ্জে ২০০ একর জমির উপর নতুন ক্যাম্পাস স্থাপনের কাজও চলমান। জমি অধিগ্রহণের কাজ হয়ে গেলেও গতি পায়নি সীমানা প্রাচীর নির্মাণসহ অবকাঠামোগত কোনো কাজ।

শিক্ষার পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণে বাংলাদেশের প্রতিটি আন্দোলনে এই প্রতিষ্ঠানের অবদান ছিল গর্ব করার মত। ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ৬২ তে সামরিক সরকারের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, ৬৬ এর ছয়দফা দাবি, ৬৮ এর এগারো দফা দাবি, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন আন্দোলন ও সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস।

বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের কর্মসূচি

আজ ২০ অক্টোবর পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ও লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় এক দিন পিছিয়ে আগামী ২১ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের কর্মসূচি পালিত হবে।

প্রতিবছর নানা কর্মকাণ্ড ও আলোকসজ্জার মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উৎযাপিত হতো। করোনা সংক্রমণের জন্য গতবারের ন্যায় এবারও বিশ্ববিদ্যালয় দিবসটি উৎসবমুখরভাবে উৎযাপিত করা হবে না।

এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে সকাল ১১টায় জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়-এর পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হবে। এরপর বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের শুভ উদ্বোধন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ইমদাদুল হক।

বেলা ১২টায় ভার্চ্যুয়াল প্লাটফরমে আলোচনা সভা হবে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ সংযুক্ত থাকবেন। ।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের দিনেই টিকা ক্যাম্পের উদ্বোধন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপনের দিন ক্যাম্পাসে অস্থায়ী টিকা ক্যাম্প উদ্ধোধন করা হবে।

উদ্বোধনী দিনে প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থীকে করোনার টিকা দেয়া হবে। পরে সব শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের টিকার আওতায় আনার জন্য কার্যক্রম চলমান থাকবে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের দিন থেকেই সশরীরে ক্লাস শুরু

স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের দিন বৃহস্পতিবার থেকেই ব্যবহারিক ও প্রয়োজন সাপেক্ষে তত্ত্বীয় ক্লাস গ্রহণের জন্য বিভাগগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

চলমান তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরপরই একটানা ব্যবহারিক ক্লাস নিয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। যেসব বিষয়ের তত্ত্বীয় ক্লাস ব্যবহারিক ক্লাসের মতোই সশরীরে উপস্থিত থেকে করা অপরিহার্য সেসব বিষয়ের ক্লাসও শুরু করা হবে।

এদিন রসায়ন বিভাগসহ বেশ কয়েকটি বিভাগে ল্যাব ক্লাস শুরুর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পরীক্ষার মধ্যে ল্যাব ক্লাস শুরুর নির্দেশনায় হতাশ শিক্ষার্থীরা। এতে পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ভাটা পড়বে বলছেন বিভাগসমূহের শিক্ষার্থীরা।

উপাচার্য ইমদাদুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, 'চলমান পরীক্ষার ক্লাসগুলো আমরা অনলাইনে শেষ করেছি। কিন্তু ব্যবহারিক ক্লাস বিশেষ করে বিজ্ঞান অনুষদের অনলাইনে নেওয়া সম্ভব না। এছাড়াও কিছু বিভাগের তত্ত্বীয় ক্লাসও সশরীরে নেয়া প্রয়োজন। সেভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস শুরু করতে বলা হয়েছে। বর্তমান পরীক্ষা শেষে পরের সেমিস্টারেরও ক্লাস শুরু হয়ে যাবে।'

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনও পরীক্ষা

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের দিন বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি বিভাগে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ সহ বেশ কয়েকটি বিভাগের বিভিন্ন ব্যাচের পরীক্ষা রয়েছে। এতে ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা৷ তারা বলছেন, এদিন পরীক্ষাটা বন্ধ রাখা যেত।

এর আগেও বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের দিন সেমিস্টার ফাইনাল সহ ল্যাব পরীক্ষা, ক্লাস টেস্ট, মিডটার্ম ও ভাইবা প্রেজেন্টেশন হয়েছে।

আরও পড়ুন:
কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে অশ্রুসিক্ত রাকা
কনক সারোয়ারের বোন ৫ দিনের রিমান্ডে
কনকের বোনকে ১৪ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ
মাদকসহ গ্রেপ্তার কনক সারোয়ারের বোন

শেয়ার করুন