হাসপাতালে ভর্তি খালেদা জিয়া

হাসপাতালে ভর্তি খালেদা জিয়া

এভারকেয়ার হাসপাতালের দশ তলার একটি কেবিনেই রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ছবি: নিউজবাংলা

তার এক চিকিৎসক বলেন, ‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে কয়েক দিন থাকতে হতে পারে। সে জন্য তাকে ভর্তি করানো হয়েছে।’

শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. আরিফ মাহমুদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে খালেদা জিয়ার এক চিকিৎসক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে কয়েক দিন হাসপাতালে থাকতে হতে পারে। সে জন্য তাকে ভর্তি করানো হয়েছে।’

হাসপাতালটির পরিচালক ডা. আরিফ মাহমুদও বিএনপি চেয়ারপারসনকে ভর্তির বিষয়টি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার বিকেল ৩টা ৩৯ মিনিটে সাদা একটি পাজেরো গাড়িতে রাজধানীর গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন। বিকেল ৪টা ৪ মিনিটের দিকে তিনি হাসপাতালে পৌঁছান।

গত ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। শুরুতে গুলশানের বাসভবন ফিরোজার দ্বিতীয় তলায় একটি রুমে চিকিৎসা চলছিল বিএনপি নেত্রীর।

১৫ এপ্রিল এভারকেয়ার হাসপাতালে সিটি স্ক্যান করানো হয় খালেদা জিয়ার। এরপর ফিরিয়ে আনা হয় গুলশানের বাসভবনে। অবস্থার অবনতি হলে ২৭ এপ্রিল একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বিএনপিপ্রধানকে।

৩ মে শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে খালেদা জিয়াকে কেবিন থেকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। বিএনপি থেকে খালেদা জিয়ার করোনামুক্তির খবর দেয়া হয় ৯ মে।

তবে সিসিইউতে থাকা অবস্থায় হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হন খালেদা জিয়া। ৩ জুন চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে কেবিনে ফিরিয়ে আনা হয়। এর ১৬ দিন পর বাসায় ফেরেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুন:
স্বাস্থ্য পরীক্ষায় হাসপাতালে খালেদা জিয়া
বিকেলে এভারকেয়ারে যাচ্ছেন খালেদা জিয়া
নাইকো মামলায় খালেদার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ফের পেছাল
পাঁচ মামলায় খালেদার জামিন এক বছর বাড়ল
খালেদা জিয়ার মুক্তির শর্তে নাখোশ ফখরুল

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সংশোধনী প্রয়োজন: ইনু

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সংশোধনী প্রয়োজন: ইনু

হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘সাইবার নিরাপত্তা এখন মানবাধিকার রক্ষার মৌলিক কাজ। তবে এর অপপ্রয়োগ হচ্ছে। এই অপপ্রয়োগ রোধে কিছু সংশোধনী আনা দরকার। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস দুই বছর পার হয়েছে। সময় এসেছে কিছু সংশোধনী এনে এটাকে সময়োপযোগী করা, যাতে কোনো সাংবাদিক এই আইনের অপপ্রয়োগের শিকার না হন।’

মূলধারার গণমাধ্যমকর্মীদের আইনের অপপ্রয়োগ থেকে রক্ষা করতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সংশোধনীর প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু।

সাতক্ষীরা জেলা জাসদের সম্মেলনে যোগ দেয়ার আগে বুধবার সার্কিট হাউজে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

জাসদ সভাপতি ইনু বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সংশোধনীর প্রয়োজন রয়েছে, যাতে করে মূলধারার গণমাধ্যমকর্মীরা আইনের অপপ্রয়োগ থেকে রক্ষা পায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিস্তারের মাধ্যমে একটি ডিজিটাল জগৎ তৈরি হয়েছে। সেই ডিজিটাল জগৎ সাম্প্রদায়িক শক্তির আক্রমণের মুখে। সাইবার অপরাধীদের আক্রমণের মুখে। নারীর চরিত্র হনন করা হচ্ছে এই মাধ্যমে। সুতরাং সাইবার নিরাপত্তা এখন মানবাধিকার রক্ষার মৌলিক কাজ।

‘তবে এর অপপ্রয়োগ হচ্ছে। এই অপপ্রয়োগ রোধে কিছু সংশোধনী আনা দরকার। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস দুই বছর পার হয়েছে। সময় এসেছে কিছু সংশোধনী এনে এটাকে সময়োপযোগী করা, যাতে কোনো সাংবাদিক এই আইনের অপপ্রয়োগের শিকার না হন।’

দেশে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক সংঘাতের বিষয়েও কথা বলেন এ সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, ‘দেশের ৫০টি জায়গায় সশস্ত্র সাম্প্রদায়িক হামলা হয়েছে। এই হামলার দায় প্রশাসনের ওপর বর্তায়। দেশে ক্ষণে ক্ষণে কখনও মন্দিরে, কখনও আহমদিয়া সম্প্রদায়ের ওপর আবার কখনও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হচ্ছে।

‘এটা দেশের জন্য শুভ লক্ষণ নয়। আগামীতে আর কোথাও সাম্প্রদায়িক হামলা হবে না এর গ্যারান্টি দেয়ায় হচ্ছে রাজনৈতিক দল বা সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ।’

সাম্প্রদায়িক সহিংসতা রোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানান জাসদ নেতা।

আরও পড়ুন:
স্বাস্থ্য পরীক্ষায় হাসপাতালে খালেদা জিয়া
বিকেলে এভারকেয়ারে যাচ্ছেন খালেদা জিয়া
নাইকো মামলায় খালেদার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ফের পেছাল
পাঁচ মামলায় খালেদার জামিন এক বছর বাড়ল
খালেদা জিয়ার মুক্তির শর্তে নাখোশ ফখরুল

শেয়ার করুন

স্বাচিপের সম্প্রীতি সমাবেশে বিএনপিকে দোষারোপ

স্বাচিপের সম্প্রীতি সমাবেশে বিএনপিকে দোষারোপ

শাহবাগের সম্প্রীতি সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন হাসাপাতালের অর্ধশতাধিক চিকিৎসক ও আওয়ামী লীগ নেতারা। ছবি: নিউজবাংলা

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, দেশে আবার অশান্তি সৃষ্টি করলে বিএনপিকে বড় শিক্ষা দেয়া হবে। তারা শান্তি মিছিলের নামে পুলিশকে আক্রমণ করছে। সরকার হটাতে গণঅভ্যুত্থানের নামে তারা পূজামণ্ডপে হামলা করছে। তারা প্রমাণ করতে চায় বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক ও অকার্যকর রাষ্ট্র।

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) সম্প্রীতি সমাবেশ করেছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় সাম্প্রদায়িক হামলার জন্য সমাবেশ থেকে দায়ী করা হয়েছে বিএনপি ও জামায়াতকে।

রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে বুধবার দুপুরে সম্প্রীতি সমাবেশ করে স্বাচিপ। চিকিৎসক ছাড়াও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা এতে অংশ নেন।

সমাবেশে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, ‘দেশে আবার অশান্তি সৃষ্টি করলে বিএনপিকে বড় শিক্ষা দেয়া হবে। তারা শান্তি মিছিলের নামে অশান্তি করছে, পুলিশকে আক্রমণ করছে। সারাদেশে ২০১৩-১৪ সালে পেট্রোল বোমা হামলা ও সন্ত্রাস করে বিএনপি এখন মাশুল দিচ্ছে। জনপ্রতিরোধে বিএনপি-জামায়াত এখন কোনঠাসা হয়ে গেছে।

‘বিএনপি জামায়াত বাংলাদেশের অপশক্তি। সরকার হটাতে গণঅভ্যুত্থানের নামে তারা পূজামণ্ডপে হামলা করে। তারা প্রমাণ করতে চায় বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক ও অকার্যকর রাষ্ট্র। তবে এসব সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে সারাদেশ ঐক্যবদ্ধ। সে ঐক্যের সামনে অপশক্তি পরাজিত হতে বাধ্য।’

সিরাজগঞ্জ ২ আসনের সাংসদ ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না বলেন, ‘বাংলাদেশ যখন উন্নতির শিখরে যাচ্ছে, তখন জামায়াত-বিএনপি দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি তাদেরকে দাঁতভাঙা জবাব দেবে। সকল ধর্মের মানুষ মিলে আমরা তাদের প্রতিরোধ করব।’

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ অধ্যাপক আব্দুল আজিজ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শরফুদ্দিন আহমেদ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের মহাসচিব অধ্যাপক এম এ আজিজ, ডা. আব্দুর রউফ সরদার, অধ্যাপক আবু ইউসুফ ফকির, অধ্যাপক খলিলুর রহমান, মাকসুদুল আলম বাচ্চুসহ স্বাচিপ নেতারা।

রাজধানীর বিভিন্ন হাসাপাতালের অর্ধশতাধিক চিকিৎসকের পাশাপাশি সমাবেশে আওয়ামী লীগের বিপুল সংখ্যাক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
স্বাস্থ্য পরীক্ষায় হাসপাতালে খালেদা জিয়া
বিকেলে এভারকেয়ারে যাচ্ছেন খালেদা জিয়া
নাইকো মামলায় খালেদার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ফের পেছাল
পাঁচ মামলায় খালেদার জামিন এক বছর বাড়ল
খালেদা জিয়ার মুক্তির শর্তে নাখোশ ফখরুল

শেয়ার করুন

তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না: ফখরুল

তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না: ফখরুল

আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল।

যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ফখরুল বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন যুবদল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তখন তিনি এমন একটি দল গঠন করতে চেয়েছিলেন, যে দল ভবিষ্যতে বিএনপিকে নেতৃত্ব দেবে। রাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দেবে এবং জাতি গঠনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখবে।’

নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া এ দেশে আর কোনো নির্বাচন হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফখরুল বলেন, ‘আমরা পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই, একটি নিরপেক্ষ নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া এ দেশে কোন নির্বাচন হবে না। একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনও গঠন করতে হবে। এর মধ্য দিয়েই আমরা একটি নতুন সরকার গঠন করব। আর যুবদলকে অনুরোধ করব তারা যেন স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। তারা যেন স্বপ্ন দেখে একটি আধুনিক রাষ্ট্রের, একটি আধুনিক জাতি গঠনের।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন যুবদল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তখন তিনি এমন একটি দল গঠন করতে চেয়েছিলেন, যে দল ভবিষ্যতে বিএনপিকে নেতৃত্ব দেবে। রাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দেবে এবং জাতি গঠনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখবে। ৪৩ বছরে জাতীয়তাবাদী যুবদল নিঃসন্দেহে তার সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে পেরেছে।’

গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ যুবদলের নেতা-কর্মীদের স্মরণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজ বাংলাদেশের সংকট মুহূর্তে যুবদলকে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। যুবদলের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সারা দেশের মানুষকে সংগঠিত করে আমাদের বুকের উপর চেপে বসা ভয়াবহ দানবীয় সরকারকে পরাজিত করতে হবে। যে সরকার আমাদের গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দীর্ঘদিন ধরে আটক করে রেখেছে, আমাদের স্বপ্নের নেতা তারেক রহমানকে নির্বাসিত করে রেখেছে, অসংখ্য নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে তাদেরকে পরাজিত করতে যুবদলকে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে হবে।’

যুবদল সভাপতি সাইফুল ইসলাম নীরবের সভাপতিত্ব ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের যৌথ সঞ্চলনায় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম সহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

আরও পড়ুন:
স্বাস্থ্য পরীক্ষায় হাসপাতালে খালেদা জিয়া
বিকেলে এভারকেয়ারে যাচ্ছেন খালেদা জিয়া
নাইকো মামলায় খালেদার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ফের পেছাল
পাঁচ মামলায় খালেদার জামিন এক বছর বাড়ল
খালেদা জিয়ার মুক্তির শর্তে নাখোশ ফখরুল

শেয়ার করুন

প্রার্থীদের অজান্তে এমপির নির্দেশে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার!

প্রার্থীদের অজান্তে এমপির নির্দেশে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার!

শরীয়তপুরে ইউপি চেয়ারম্যান পদে ভোট না হলেও সদস্য পদে ভোট হওয়ার কথা ছিল। বুধবার নির্বাচন অফিসে প্রতীক নিতে গিয়ে ইউপি সদস্য প্রার্থীরা জানতে পারেন, তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার হয়েছে। তারা জানান, কোনো কাগজে সই করেননি, তবে কীভাবে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার হলো তারা জানেন না।

শরীয়তপুর সদরের চিতলীয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সদস্য পদে প্রতি ওয়ার্ডে একজন ছাড়া সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র তাদের অজান্তে প্রত্যাহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ইউপির ৯ ওয়ার্ডে সদস্য পদে মনোনয়নপত্র তোলা ৪৮ প্রার্থীর মধ্যে প্রত্যাহার হয়েছে ৩৯ জনের। আর সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১২ প্রার্থীর মধ্যে ৯ জনের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার হয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপুর নির্দেশ পেয়ে নির্বাচন কার্যালয় থেকে এটি করা হয়েছে। প্রার্থীদের সঙ্গে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কথোপকথনের একটি ভিডিও নিউজবাংলার হাতে এসেছে।

ওই ভিডিওতে নিজ কার্যালয়ে নির্বাচন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন প্রার্থীদের বলেন, ‘এমপি স্যার বলেছেন, চিতলীয়া ইউনিয়নে কোনো নির্বাচন হবে না। সিলেকশন হবে।’

নিউজবাংলার প্রতিবেদকের কাছে অবশ্য বিষয়টি অস্বীকার করেছেন নির্বাচন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন। কোন প্রেক্ষাপটে এমন মন্তব্য করেছেন, তা নিশ্চিত নন বলে দাবি করেন তিনি।

প্রার্থীদের অজান্তে এমপির নির্দেশে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার!
শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন

সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপুও বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এমন কোনো কিছু আমি বলতে পারি না। এ বিষয়ে আমার কারও সঙ্গে কোনো কথা হয়নি।’

চিতলীয়া ইউনিয়নে ভোট হওয়ার কথা ছিল ১১ নভেম্বর। মঙ্গলবার স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস সালাম হাওলাদার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় এখানে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান হচ্ছেন হারুন-অর-রশিদ।

চেয়ারম্যান পদে ভোট না হলেও সদস্য পদে ভোট হওয়ার কথা ছিল। তবে বুধবার নির্বাচন অফিসে প্রতীক নিতে গিয়ে ইউপি সদস্য প্রার্থীরা জানতে পারেন তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার হয়েছে।

তারা জানান, কোনো কাগজে সই করেননি, তবে কীভাবে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার হলো তারা জানেন না। নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে প্রতীক চাইতে গেলে তিনি তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানান।

এ বিষয়ে তার কিছু করণীয় নেই বলেও জানান নির্বাচন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন।

বঞ্চিত প্রার্থীদের দাবি, তারা কেউই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেননি। তাদের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে।

চিতলীয়া ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন বলেন, ‘আনন্দ নিয়া উপজেলায় আইছি। প্রতীক পাইমু। নির্বাচন হইব। কিন্তু রিটার্নিং অফিসার কয় নির্বাচন অইব না। আপনারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করছেন। সব সেলেকশনে নির্বাচিত হইছে।

‘আমি আকাশ থিক্কা পড়লাম। কিছুই জানি না, আর নির্বাচন শ্যাষ। প্রত্যাহার তো দূরের কথা, ত্যাজ পাতায়ও সই করি নাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘তয় ক্যামনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার অইল। এর উত্তর চাই। নির্বাচনের চাই। নির্বাচনে যার হাইর জিত হয় মাইন্যা নিমু।’

ওই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি, কিন্তু প্রত্যাহার করিনি। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে প্রতীক নিতে আসি। রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন আমি নাকি প্রত্যাহার করছি। আমি কাগজপত্র দেখতে চাইলাম তিনি আমাকে কিছুই দ্যাখাননি।

‘এই দ্যাশটা কি মগের মুল্লুক? যে যার যা ইচ্ছা তাই করবে। নির্বাচন না দিলে আমরা আইনের ব্যবস্থা নেব। আদালতে যাব।’

প্রার্থীদের সঙ্গে কথোপকথনের ভিডিও সম্পর্কে রিটার্নিং কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনি বিধিমালায় নেই কারো নির্দেশে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করার। এমন কথা কোন প্রেক্ষিতে আমি বলেছি, তা এখন বলতে পারছি না।’

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ইউপি সদস্য হচ্ছেন যারা

উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে জানা যায়, বাকি প্রার্থীদের মনোনয়ন এভাবে প্রত্যাহার হওয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ইউপি সদস্য হতে যাচ্ছেন ১ নম্বর ওয়ার্ডে আব্দুল হাই মৃধা, ২ নম্বর ওয়ার্ডে ছলেমান হাওলাদার, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে নান্নু মাল, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ফারুক মুন্সি, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে তরিকুল ইসলাম, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ধীরেন হালদার, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে সালাম তালুকদার, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে অলিলুর রহমান সরদার ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এস আজিজুল হক।

এ ছাড়া সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১, ২, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে মনোয়ার বেগম, ৪, ৫, ৬ নম্বরে রাজিয়া বেগম ও ৭, ৮, ৯ নম্বরে নীলফার ইয়াসমিন নির্বাচিত হচ্ছেন।

আরও পড়ুন:
স্বাস্থ্য পরীক্ষায় হাসপাতালে খালেদা জিয়া
বিকেলে এভারকেয়ারে যাচ্ছেন খালেদা জিয়া
নাইকো মামলায় খালেদার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ফের পেছাল
পাঁচ মামলায় খালেদার জামিন এক বছর বাড়ল
খালেদা জিয়ার মুক্তির শর্তে নাখোশ ফখরুল

শেয়ার করুন

নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ: বিএনপির ৫০ নেতা-কর্মী কারাগারে

নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ: বিএনপির ৫০ নেতা-কর্মী কারাগারে

বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

মঙ্গলবার পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গ্রেপ্তার বিএনপি নেতা-কর্মীদের আদালতে হাজির করে ১৫ জনের সাত দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার পুলিশের উপপরিদর্শক মনজুরুল হাসান খান। বাকি ৩৫ জনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির ৫০ নেতা-কর্মীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।

বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্যমহানগর হাকিম হাসিবুল হক এই আদেশ দেন।

আসামিপক্ষের অন্যতম আইনজীবী সাদেকুল ইসলাম ভুইয়া জাদু তথ্যটি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

তাদের আদালতে হাজির করে ১৫ জনের সাত দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার পুলিশের উপপরিদর্শক মনজুরুল হাসান খান।

এ ছাড়া বাকি ৩৫ জনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

সিনিয়র আইনজীবী আব্দুল বাসেত মজুমদারের মৃত্যুতে আদালত বন্ধ থাকায় রিমান্ড শুনানি মুলতবি রাখার আবেদন করেন ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি মাসুদ আহমেদ তালুকদার ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক খন্দকার হজরত আলী।

শুনানি শেষে বিচারক রিমান্ড শুনানির জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার তারিখ ঠিক করে সবাইকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

রিমান্ড আবেদন করা আসামিরা হলেন- ছাত্রদল ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, জিহাদুল হক রঞ্জু ও ঝলক মিয়া, সূর্যসেন হল শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু হান্নান তালুকদার, ঢাবি শাখার সাবেক সহসম্পাদক আল ইমরান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কর্মী শাহাদাত হোসেন, বিএনপি কর্মী সজিব, ছাত্রদলের সাবেক নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুবদলের শেরে বাংলা নগর থানা যুবদলের সভাপতি আতিকুর রহমান অপু, যুবদল কর্মী হাসান আলী।

এ ছাড়া ছাত্রদল কর্মী মুতাছিম বিল্লাহ, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা গাজী সুলতান জুয়েল, সাবেক ছাত্রদল নেতা রেজাউল ইসলাম প্রিন্স, বিএনপি কর্মী শুক্কুর এবং আবুল হোসেন হাওলাদার আশিক।

মঙ্গলবার সকালে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সমাবেশের আয়োজন করে বিএনপি। সমাবেশে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ সমাবেশ থেকে ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করে।

মামলায় যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুল ইসলাম নীরব ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুসহ ৯৭ জনকে আসামি করে মামলা করে পল্টন থানার পুলিশ।

আরও পড়ুন:
স্বাস্থ্য পরীক্ষায় হাসপাতালে খালেদা জিয়া
বিকেলে এভারকেয়ারে যাচ্ছেন খালেদা জিয়া
নাইকো মামলায় খালেদার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ফের পেছাল
পাঁচ মামলায় খালেদার জামিন এক বছর বাড়ল
খালেদা জিয়ার মুক্তির শর্তে নাখোশ ফখরুল

শেয়ার করুন

বাংলাদেশকে আমরা রক্ষা করব: শাহজাহান খান

বাংলাদেশকে আমরা রক্ষা করব: শাহজাহান খান

মিছিলে বক্তব্য রাখছেন শাহজাহান খান।

শাহজাহান খান বলেন, ‘তারা উন্মাদনা সৃষ্টি করে আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করছে। বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয় তারা পুড়িয়ে দিচ্ছে, ভাঙচুর করছে এবং এর পেছনে কারা মদদ দিচ্ছে তা এখন মানু্ষের কাছে সুস্পষ্ট হয়ে গেছে।’

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাহজাহান খান বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়ে সাত কোটি মানুষ সেদিন মুক্তিযুদ্ধ করেছিল। ধর্মের নামে সেদিন এক শ্রেণীর মানুষ রাজাকার, আলবদর, আলশামস সৃষ্টি করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল। তারা কিন্তু এখনও বসে নেই। তারা বারবারই হানা দেয়ার চেষ্টা করছে।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শ্রমিক কর্মচারী পেশাজীবী মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ আয়োজিত এক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তি মিছিল থেকে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা পরিষ্কার বলতে চাই, বাংলাদেশ কোন সাম্প্রদায়িক শক্তির নয়। এই অপশক্তিকে রোধ করার জন্য শ্রমিক, কর্মচারী, পেশাজীবী, বীর মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশকে আমরা রক্ষা করব।’

শাহজাহান খান বলেন, ‘তারা উন্মাদনা সৃষ্টি করে আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করছে। বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয় তারা পুড়িয়ে দিচ্ছে, ভাঙচুর করছে এবং এর পেছনে কারা মদদ দিচ্ছে তা এখন মানু্ষের কাছে সুস্পষ্ট হয়ে গেছে। যারা এই সরকারকে উৎখাত করতে চায়, যারা দেশে অশান্তি সৃষ্টি করতে চায়, যারা ধর্মের নামে উন্মাদনা সৃষ্টি করে, যারা এই বাংলাদেশকে একটা অকার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে পরিণত করতে চায়, তারাই রাষ্ট্রে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যারা নিজেদের বীর মুক্তিযোদ্ধা বলে থাকি, আমরা দেশ ও জাতির অতন্দ্র প্রহরী। যখনই বাংলাদেশ কোন সংকটে মুখে পতিত হয়েছে, তখনই বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী পেশাজীবীর মধ্য দিয়ে এই বীর মুক্তিযোদ্ধারা আমরা রুখে দাঁড়িয়েছি। ২০১৩, ১৪, ১৫ সালে আমরা তা করেছি। ২০১৫ সালে যেভাবে মানুষকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে, সেই বিএনপি-জামাতের লাগাতার আন্দোলনকে আমরা অকার্যকর করে দিয়েছি। শ্রমিক কর্মচারী পেশাজীবীরা আমরা বাংলাদেশের যেকোনো সঙ্কটে ভূমিকা রাখতে চাই।’

আরও পড়ুন:
স্বাস্থ্য পরীক্ষায় হাসপাতালে খালেদা জিয়া
বিকেলে এভারকেয়ারে যাচ্ছেন খালেদা জিয়া
নাইকো মামলায় খালেদার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ফের পেছাল
পাঁচ মামলায় খালেদার জামিন এক বছর বাড়ল
খালেদা জিয়ার মুক্তির শর্তে নাখোশ ফখরুল

শেয়ার করুন

বাংলাদেশকে চাপে ফেলতেই কুমিল্লার ঘটনা: চরমোনাই পীর

বাংলাদেশকে চাপে ফেলতেই কুমিল্লার ঘটনা: চরমোনাই পীর

ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বক্তব্য রাখছেন চরমোনাই পীর।

দেশ বিরোধী চক্রান্ত মোকাবেলা ও চলমান সঙ্কট উত্তরণে আগামী ১৭ নভেম্বর ঢাকায় জাতীয় সেমিনার কর্মসূচি ঘোষণা করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমির ও চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমির ও চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, সাম্প্রদায়িক রঙ লাগিয়ে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবে চাপে ফেলতেই কুমিল্লার ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

বুধবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দেশের চলমান সংকট উত্তরণে করণীয় নির্ধারণে ওলামা মাশায়েখ ও রাজনীতিবিদদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

কুমিল্লার ঘটনায় সাম্প্রদায়িক হামলার প্রসঙ্গে চরমোনাই পীর বলেন, ‘একথা স্পষ্ট যে, এ সকল ঘটনায় ধর্মভিত্তিক কোনো দল, সংগঠন বা ধর্মপ্রাণ নাগিরক জড়িত নয়। দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্যে পরিকল্পিতভাবে সারাদেশে ঘটনাগুলো ঘটানো হয়েছে।’

দেশ বিরোধী চক্রান্ত মোকাবেলা ও চলমান সঙ্কট উত্তরণে আগামী ১৭ নভেম্বর ঢাকায় জাতীয় সেমিনার কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি শ্রেণি বিক্ষোভ করে সংবিধান, ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী স্লোগান দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করছে। ওই শ্রেণিটি সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহ ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম তুলে দেয়ার স্লোগান দিচ্ছে। তাদের স্লোগানের সঙ্গে ভারতের উগ্রবাদী সংগঠন বিজিপি’র স্লোগানের মিল রয়েছে।’

তিনি বলেন, কথিত কিছু বুদ্ধিজীবী দেশে কোন সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটলেই আলেম ওলামা ও ইসলামী সংগঠনগুলোকে একতরফা দায়ী করে ৭২-এর সংবিধানে ফিরে যাওয়ার নামে এদেশে ইসলামপন্থীদের সকল তৎপরতা বন্ধের দাবি তুলছে। ইসলামপন্থিদের ঘায়েল করতে পরিকিল্পিতভাবে এগুলো করা হচ্ছে।’

চরমোনাই পীর বলেন, ‘ভারতের মিডিয়া বাংলাদেশ ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। বাংলাদেশে বসেও একটি শ্রেণি তাল মিলাচ্ছে। এদেশের সংখ্যালঘুরা রাষ্ট্রীয় সকল সুযোগ সুবিধা মুসলমানদের চেয়ে বেশি ভোগ করছে, যা বিশ্বে বিরল। সংখ্যালঘুদের ব্যবহার করে কেউ স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিরোধী ষড়যন্ত্র সাজিয়েছে কি-না, তা আমাদেরকে ভাবিয়ে তুলেছে।’

তিনি সংকট নিরসনে দলমত নির্বিশেষে সব দেশপ্রেমিক শক্তির জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী, মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, দৈনিক ইনকিলাবের সহকারি সম্পাদক মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতী মুহিব্বুল্লাহিল বাকি নদভীসহ আলেম-ওলামারা।

মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী বলেন, ‘বাংলাদেশের ওপর কালো মেঘের ঘনঘটা শুরু হয়েছে। কুমিল্লার ঘটনা একটি ষড়যন্ত্র। ইসলাম ও মুসলমানদের ধ্বংসের চক্রান্তস্বরূপ এটা করা হয়েছে। এ ঘটনার সাথে আলেম-ওলামা, ইসলামী সংগঠনের কেউ জড়িত প্রমাণ করতে পারেনি। বিজেপি নেতারা ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশে সৈন্য পাঠাতে বলা প্রমাণ করে ষড়যন্ত্র কতটুকু গড়িয়েছে।’

আরও পড়ুন:
স্বাস্থ্য পরীক্ষায় হাসপাতালে খালেদা জিয়া
বিকেলে এভারকেয়ারে যাচ্ছেন খালেদা জিয়া
নাইকো মামলায় খালেদার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ফের পেছাল
পাঁচ মামলায় খালেদার জামিন এক বছর বাড়ল
খালেদা জিয়ার মুক্তির শর্তে নাখোশ ফখরুল

শেয়ার করুন