অনন্ত বিজয় হত্যা: ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের সাক্ষ্য

অনন্ত বিজয় হত্যা: ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের সাক্ষ্য

মুক্তমনা ব্লগার ও বিজ্ঞানমনস্ক লেখক অনন্ত বিজয় দাশ

বুধবার দুপুরে সিলেটের সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক নুরুল আমিন বিপ্লবের আদালতে হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সামসুল ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক রাসেল আহমদ সাক্ষ্য দেন।

বিজ্ঞানমনস্ক লেখক অনন্ত বিজয় দাশ হত্যা মামলায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সামসুল ইসলামসহ দুজন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

বুধবার দুপুরে সিলেটের সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক নুরুল আমিন বিপ্লবের আদালতে সামসুল ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক রাসেল আহমদ সাক্ষ্য দেন।

অনন্ত বিজয়কে হত্যার পর তার মরদেহের ময়ানাতদন্ত করেন সামসুল ইসলাম।

আসামিপক্ষে আইনজীবী প্যানেলের সদস্য মনির উদ্দিন নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মঙ্গলবারের দুজনসহ আলোচিত এই মামলায় এখন পর্যন্ত ২১ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। এই মামলায় মোট ২৯ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

২৬ অক্টোবর সাক্ষ্য গ্রহণের পরের তারিখ ঠিক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

২০১৫ সালের ১২ মে সিলেট নগরের সুবিদবাজারে নুরানি আবাসিক এলাকায় নিজ বাসার সামনে খুন হন অনন্ত। বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখির পাশাপাশি তিনি ‘যুক্তি’ নামে বিজ্ঞানবিষয়ক একটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। এ ছাড়া বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন অনন্ত।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজকর্ম বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে অনন্ত সুনামগঞ্জের জাউয়াবাজারে পূবালী ব্যাংকের ডেভেলপমেন্ট অফিসার পদে কর্মরত ছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের দিন রাতে অনন্তের বড় ভাই রত্নেশ্বর দাশ বাদী হয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের বিমানবন্দর থানায় অজ্ঞাতনামা ৪ জনকে আসামি করে মামলা করেন। এতে বিজ্ঞান বিষয়ে লেখালেখির কারণে অনন্তকে উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে খুন করেছে বলে অভিযোগ করা হয়।

এরপর মামলাটি পুলিশ থেকে অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) স্থানান্তরিত হয়। সিআইডির পরিদর্শক আরমান আলী তদন্ত করে ২০১৭ সালের ৯ মে সম্পূরক অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন। এতে সন্দেহভাজন আটক ১০ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে ৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার আবুল হোসেন, খালপাড় তালবাড়ির ফয়সাল আহমদ, সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বিরেন্দ্রনগরের (বাগলী) মামুনুর রশীদ, কানাইঘাটের পূর্ব ফালজুর গ্রামের মান্নান ইয়াইয়া ওরফে মান্নান রাহী ওরফে এ বি মান্নান ইয়াইয়া ওরফে ইবনে মঈন, কানাইঘাটের ফালজুর গ্রামের আবুল খায়ের রশীদ আহমদ এবং সিলেট নগরের রিকাবীবাজার এলাকার সাফিউর রহমান ফারাবী ওরফে ফারাবী সাফিউর রহমান।

আসামিদের মধ্যে ফারাবী বিজ্ঞান লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যা মামলার রায়ে দণ্ডিত আসামি। অভিযুক্ত আসামিদের মধ্যে মান্নান রাহী আদালতে অনন্ত হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। ২০১৭ সালের ২ নভেম্বর মান্নান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আসামিদের মধ্যে আবুল হোসেন, ফয়সাল আহমদ ও মামুনুর রশীদ পলাতক।

আরও পড়ুন:
সুমন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ১
স্বামী হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
হত্যা মামলায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শুভ্র হত্যা মামলা: তিনজন কারাগারে
কুমিল্লায় জোড়া খুন মামলা: তিন আসামির স্বীকারোক্তি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ফাটলে বন্ধ ফ্লাইওভার: বহদ্দারহাটের রাস্তায় দুর্ভোগ

ফাটলে বন্ধ ফ্লাইওভার: বহদ্দারহাটের রাস্তায় দুর্ভোগ

চট্টগ্রামের এম এ মান্নান ফ্লাইওভারের একটি পিলারে ফাটল দেখা দেয়ায় দুই পাশের সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস মুঠোফোনে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ফ্লাইওভারে র‍্যাম্পে ফাটলের বিষয়টি শুনেছি। ফ্লাইওভারটা আগের চেয়ারম্যানের সময় তৈরি করা হয়েছিল। তাই এ বিষয়ে কথা বলা যাচ্ছে না। ঘটনাস্থলে আমাদের লোক আছে। আমরা মন্ত্রণালয়ের একটি মিটিংয়ে যোগ দিতে ঢাকায় এসেছি। চট্টগ্রামে গিয়ে পিলারগুলো পরীক্ষা করার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

চট্টগ্রামের এম এ মান্নান ফ্লাইওভারের একটি পিলারে ফাটল দেখা দেয়ায় দুই পাশের সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

মহানগর ট্রাফিক পুলিশ বলছে, ফ্লাইওভার বন্ধ থাকায় সড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, এম এ মান্নান ফ্লাইওভারে আরাকান সড়কমুখী র‌্যাম্পে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর আগে সোমবার রাত ১০টার দিকে পিলারে ফাটলের খবর শুনে মহানগর ট্রাফিক পুলিশ ওই স্থানে প্রতিবন্ধক বসিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়।

ফাটলে বন্ধ ফ্লাইওভার: বহদ্দারহাটের রাস্তায় দুর্ভোগ

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস মুঠোফোনে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ফ্লাইওভারে র‌্যাম্পে ফাটলের বিষয়টি শুনেছি। ফ্লাইওভারটা আগের চেয়ারম্যানের সময় তৈরি করা হয়েছিল। তাই এ বিষয়ে কথা বলা যাচ্ছে না। ঘটনাস্থলে আমাদের লোক আছে। আমরা মন্ত্রণালয়ের একটি মিটিংয়ে যোগ দিতে ঢাকায় এসেছি। চট্টগ্রামে গিয়ে পিলারগুলো পরীক্ষা করার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) মমতাজ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা প্রকল্প ম্যানেজারের কাছ থেকে খবর পেয়ে রাতেই ওই র‌্যাম্পে যান চলাচল বন্ধের ব্যবস্থা করি। তবে এম এ মান্নান ফ্লাইওভারের র‌্যাম্প বন্ধ থাকায় ওই র‌্যাম্প দিয়ে মুরাদপুরমুখী ও আরাকান সড়কমুখী গাড়িগুলো ফ্লাইওভারে উঠতে পারছে না।

ফাটলে বন্ধ ফ্লাইওভার: বহদ্দারহাটের রাস্তায় দুর্ভোগ

‘এতে হঠাৎ করে ওই এলাকার সড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ পড়ায় কিছুটা যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ফাটল দেখার পর থেকে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’

ফ্লাইওভারের যে পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে তার কাছাকাছি ফুটপাতে জুতা সেলাইয়ের কাজ করেন নির্মল গুরাইয়া। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই পিলারে ফাটল আসলে অনেক দিন ধরেই ছিল। তবে গতকাল ফাটলটা কিছুটা বেড়ে গেছে।’

ফুটপাতে মাস্ক বিক্রেতা মো. মাসুদ বলেন, ‘আমি ৩ মাস আগে থেকে এই পিলারে ফাটল দেখতেছি। তবে গতকাল ফাটলটা বেড়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে।’

বহদ্দারহাটের চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ছানোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি প্রতিদিন প্রাইভেট কারে করে ফ্লাইওভার হয়ে কালামিয়া বাজারে কর্মস্থলে যাই। কিন্তু আজকে তো দেখতেই পাচ্ছেন, পুরা রোড জ্যাম।’

আরও পড়ুন:
সুমন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ১
স্বামী হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
হত্যা মামলায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শুভ্র হত্যা মামলা: তিনজন কারাগারে
কুমিল্লায় জোড়া খুন মামলা: তিন আসামির স্বীকারোক্তি

শেয়ার করুন

প্রাণ ফিরেছে মেঘনার মাছঘাটে

প্রাণ ফিরেছে মেঘনার মাছঘাটে

লক্ষ্মীপুরের মেঘনার মাছঘাটে ইলিশ বেচাকেনা জমেছে। ছবি: নিউজবাংলা

জেলেরা জানালেন, এক কেজি ওজনের এক হালি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে সাড়ে চার হাজার টাকায়। আর এক কেজির কম ওজনের এক হালি মাছ বিক্রি হচ্ছে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা।

নিষেধাজ্ঞা শেষে ২২ দিন পর আবারও জমে উঠেছে লক্ষ্মীপুরের মেঘনার তীরের সব মাছঘাট। ক্রেতা-বিক্রেতাদের আনাগোনায় প্রাণ ফিরেছে আড়তে।

জেলেরা সোমবার মধ্যরাত থেকে মাছ ধরতে শুরু করেছেন মেঘনায়। তারা জানালেন, ইলিশ ভালো পরিমাণেই পাওয়া যাচ্ছে। তবে প্রায় সবগুলোতেই ডিম আছে।

সদর উপজেলার মজুচৌধুরীরহাট, কমলনগরের মতিরহাট, লূধুয়া ও নাছিরগঞ্জের মাছঘাটগুলোতে মঙ্গলবার সকালে দেখা গেছে, প্রতিটিতেই ব্যাপক ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম। জেলেরা ঘাটে ইলিশ নিয়ে আসা মাত্রই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।

রামগতির চেয়ারম্যানঘাট, বড়খেরী, চরআলেকজান্ডার, বাংলাবাজার, জনতাবাজার, চরকালকিনি, সাজু মোল্লারহাট, আলতাফ মাস্টাররঘাটসহ জেলার ১৬ ঘাট থেকে এমন জমজমাট কেনাবেচার খবর পাওয়া গেছে।

মজুচৌধুরীরহাটের জেলে কালাম মাঝি, ইউনুছ মাঝি ও মো. সোহেল জানালেন, ইলিশ রক্ষায় সরকারের নিষেধাজ্ঞা মেনে তারা ২২ দিন নদীতে নামেননি। ২৫ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে মাছ ধরা শুরু করেছেন।

তারা জানালেন, আগের তুলনায় জালে অনেক ইলিশ ধরা পড়ছে। দামও ভালো পাচ্ছেন। এক কেজি ওজনের এক হালি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে সাড়ে চার হাজার টাকায়। আর এক কেজির কম ওজনের এক হালি মাছ বিক্রি হচ্ছে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা।

তবে তাদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার সময়টা ঠিক হয়নি। এ সময়ে মা ইলিশ ডিম ছাড়তে পারেনি। তাই প্রায় সব মাছে ডিম রয়ে গেছে।

প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় সারা দেশে ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা।

জেলা মৎস্য কর্মকতা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘জেলেদের জালে প্রচুর পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ছে। এতে তারা অনেক খুশি। গত বছর শীতে প্রচুর মাছ পাওয়া গেছে। এবার মাছ আরও বেশি ধরা পড়বে। এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ২৫ হাজার টন।’

আরও পড়ুন:
সুমন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ১
স্বামী হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
হত্যা মামলায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শুভ্র হত্যা মামলা: তিনজন কারাগারে
কুমিল্লায় জোড়া খুন মামলা: তিন আসামির স্বীকারোক্তি

শেয়ার করুন

মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর সন্তানের দায়িত্ব নিলেন বদি

মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর সন্তানের দায়িত্ব নিলেন বদি

কক্সবাজারের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর গর্ভে জন্ম নেয়া এক নবজাতকের দায়িত্ব নিয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

সম্প্রতি সাবেক সংসদ সদস্য বদিকে বাবা দাবি করে আদালতে মামলা করেছিলেন ইসহাক নামের এক যুবক। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেয়া বক্তব্যে বদি তা অস্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন, উখিয়া টেকনাফে যত ছেলে-মেয়ে তাকে বাবা বলে দাবি করবে সবাইকে তিনি ছেলে-মেয়ে হিসেবে স্বীকৃতি দেবেন। 

নানা বিষয় নিয়ে আলোচিত-সমালোচিত কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ ৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি এবার মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর গর্ভে জন্ম নেয়া এক নবজাতকের দায়িত্ব নিয়েছেন। এতে প্রশংসায় ভাসছেন বদি ও তার স্ত্রী শাহীনা আক্তার।

নবজাতক মেয়ে শিশুটির নাম রাখা হয়েছে মরিয়ম জারা। সোমবার বিকেলে টেকনাফ পৌরসভায় শিশুটির জন্ম নিবন্ধন হয় বদি দম্পতির নামে। এরপর তা প্রকাশ করলে মুহূর্তেই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা বলছেন, যে যা বলুক আজ থেকে শিশু মরিয়ম জারার পিতা সাবেক এমপি আব্দুর রহমান বদি ও মা শাহীনা আক্তার। এ মহৎ কাজের জন্য হাজারো মানুষ তাকে স্বাগত জানিয়েছেন।

এ নিয়ে ফেসবুকে জয়নাল উদ্দিন জয় নামে এক যুবক লিখেছেন, ‘টেকনাফে পাগলির মেয়ে রাজকন্যা জারাকে আপন করে নিলেন বর্তমান সংসদ সদস্য শাহিনা আক্তার ও উখিয়া-টেকনাফের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ আব্দুর রহমান বদি।’

মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর সন্তানের দায়িত্ব নিলেন বদি

মরিয়ম জারার নাম উখিয়া-টেকনাফবাসী সারা জীবন মনে রাখবে বলেও স্ট্যাটাসে লেখেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর মেয়েকে দত্তক নিয়ে উখিয়া-টেকনাফের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।’

এ বিষয়ে জানতে বদি দম্পতিকে মুঠোফোনে বারবার কল করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা টিটু চন্দ্র শীল জানান, মা ও মেয়ে সুস্থ আছেন। মঙ্গলবার তাদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে।

এর আগে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শামলাপুরের শিলখালী এলাকায় মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারী ঘোরাঘুরি করতেন। এর মধ্যে তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়েন। ২৪ অক্টোবর রাতে তার প্রসববেদনা উঠলে এলাকার চৌকিদার শহিদ উল্লাহ টেকনাফ থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ তাকে টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সম্প্রতি সাবেক সংসদ সদস্য বদিকে বাবা দাবি করে আদালতে মামলা করেছিলেন ইসহাক নামের এক যুবক। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেয়া বক্তব্যে বদি তা অস্বীকার করেছেন। সেই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন, উখিয়া টেকনাফে যত ছেলে-মেয়ে তাকে বাবা দাবি করবে, সবাইকে তিনি ছেলে-মেয়ে হিসেবে স্বীকৃতি দেবেন।

মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর মেয়ের দায়িত্ব নিয়ে সেই বক্তব্যের প্রতিফলন ঘটিয়েছেন, এমনই বলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আরও পড়ুন:
সুমন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ১
স্বামী হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
হত্যা মামলায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শুভ্র হত্যা মামলা: তিনজন কারাগারে
কুমিল্লায় জোড়া খুন মামলা: তিন আসামির স্বীকারোক্তি

শেয়ার করুন

বামন্দী গ্রামের বাজার মাতাচ্ছে কালো আখ

বামন্দী গ্রামের বাজার মাতাচ্ছে কালো আখ

মেহেরপুরের গাংনীর বামন্দী গ্রামে চাষ হচ্ছে ফিলিপিনো ব্ল্যাক জাতের আখ। ছবি: নিউজবাংলা

সাইফুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে আখ চাষ করতে আমাদের খরচ হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। আর আখ বিক্রি হচ্ছে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত। অন্য যে কোনো ফসলের চেয়ে আখ চাষ লাভজনক।’

মেহেরপুরে গাংনীর বামন্দী গ্রামের দুই বন্ধু সাইফুল ইসলাম ও ইউসুফ আলী। নিজ নিজ বাড়ির পাশের পৌনে দুই বিঘা জমিতে ফিলিপাইন ব্ল্যাক জাতের আখ চাষ করে গ্রামে তারা এখন সুপরিচিত। লোকজন নতুন জাতের আখ দেখতে প্রায়ই তাদের বাড়ি যায়।

সাইফুল ও ইউসুফ বামন্দী বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তারা জানালেন, শখ থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে এই আখের চাষ করেছেন। খরচের দ্বিগুন লাভ হয়েছে বলে তারা উচ্ছ্বসিত।

নিউজবাংলাকে সাইফুল ও ইউসুফ জানান, দেশে সাধারণত যে আখ হয়, তার থেকে ফিলিপাইন ব্ল্যাক জাতের আখ বেশ নরম ও মিষ্টি। একটি আখ থেকে ৭ থেকে ১০ টি বীজ পাওয়া যায়। এ কারণে কম খরচে এর উৎপাদনও বেশি করা যায়।

দুই বন্ধু জানান, ভ্রাম্যমাণ আখ বিক্রেতারা তাদের জমি থেকে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দামে এক একটি আখ কিনে নেয়। বাজারে ক্রেতাদের বেশ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

সাইফুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চাহিদা ও বাজার মুল্য ভালো থাকায় নতুন জাতের আখের বীজ নিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা আসেন এখানে। চারা রোপনের দশ মাস পর থেকে জমি থেকে এই আখ সংগ্রহ করা যায়।

‘এক বিঘা জমিতে আখ চাষ করতে আমাদের খরচ হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। আর আখ বিক্রি হচ্ছে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত। অন্য যে কোনো ফসলের চেয়ে আখ চাষ লাভজনক। এ কারণে অনেকে এই নতুন জাতের আখ চাষে আগ্রহী হচ্ছে।’

বামন্দী গ্রামের বাজার মাতাচ্ছে কালো আখ

ইউসুফ আলী বলেন, ‘আমি আর সাইফুল আমাদের আরেক শিক্ষক ভাইয়ের আখ চাষ দেখে ফিলিপাইন ব্লাক আখ চাষে আগ্রহী হই। ইউটিউব দেখে শিখে নিয়েছি। জমিতে আখের সঙ্গে সাথী ফসল হিসেবে রসুন চাষ করি।

‘সব মিলিয়ে বিঘা প্রতি এক লাখ টাকা খরচ হয়। অথচ সাথী ফসল রসুন বেচে পেয়েছি পঞ্চাশ হাজার টাকা। সব ঠিকঠাক থাকলে প্রতি বিঘাতে তিন থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। তাই বলি শিক্ষিত বেকার যুবক ভাইয়েরা বসে না থেকে যে কোনো কৃষি কাজ বা খামার করা উচিত।’

আখ বিক্রেতা মো. শানারুল বলেন, ‘আমি প্রায় আট বছর গেন্ডারি আখ বাজার ঘাটে বেইচি বেড়াই। তবে এ বছর কালো খয়েরী কালারের ফিলিপাইন গেন্ডারি কাস্টমারে বেশি চাইছে। কারণ এটি খাইতে অনেক মিষ্টি ও খুব নরম।’

গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লাভলী খাতুন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই উপজেলায় নতুন একটি ফসল সম্প্রসারণ হতে যাচ্ছে, তা হলো ফিলিপাইন ব্লাক গেন্ডারি। তিন বছরের মতো হবে এ ফসলটি বাণিজ‍্যিকভাবে চাষ শুরু হয়েছে।

‘যারা এই আখ চাষ করছেন, তারা আমাদের জানিয়েছেন বিঘা প্রতি খরচ হয় ৭৫ থেকে এক লাখ টাকা। আর ফিডব‍্যাক হিসেবে পাওয়া যায় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার মতো। বাজারেও চাহিদা বেশ ভালো। তাই এ উপজেলার জন‍্য এটি একটি অর্থকারী ফসল হয়ে উঠতে পারে।’

আরও পড়ুন:
সুমন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ১
স্বামী হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
হত্যা মামলায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শুভ্র হত্যা মামলা: তিনজন কারাগারে
কুমিল্লায় জোড়া খুন মামলা: তিন আসামির স্বীকারোক্তি

শেয়ার করুন

সরকারি স্কুলের ২ একর জমি ‘বেদখলে’

সরকারি স্কুলের ২ একর জমি ‘বেদখলে’

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এই জমি দখল করে কলাগাছ লাগানোর অভিযোগ উঠেছে। ছবি: নিউজবাংলা

স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিউজবাংলাকে জানান, উপজেলার মাকড়াই মৌজায় অবস্থিত স্কুলটির ২ দশমিক ৩৮ একর জমি স্থানীয় আব্দুল হাকিম ও তার ছেলে আব্দুল মতিন দখল করে রেখেছেন। সেই জমিতে ১৭টি পরিবারকে টাকার বিনিময়ে থাকার অনুমতিও দিয়েছেন তারা। তবে আব্দুল মতিন জানিয়েছেন, জমিটি লিজ নেয়া অনেক বছর ধরেই।

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২ দশমিক ৩৮ একর জমি ভুমিদস্যুদের দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিভিন্ন চেষ্টার পরও জমিটি উদ্ধার করতে পারেননি বলে জানান বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিদ্যুৎ কুমার কবিরাজ।

বিদ্যুৎ কুমার নিউজবাংলাকে জানান, উপজেলার মাকড়াই মৌজায় অবস্থিত স্কুলটির ২ দশমিক ৩৮ একর জমি স্থানীয় আব্দুল হাকিম ও তার ছেলে আব্দুল মতিন দখল করে রেখেছেন। সেই জমিতে ১৭টি পরিবারকে টাকার বিনিময়ে থাকার অনুমতিও দিয়েছেন তারা।

ওই শিক্ষক আরও জানান, জমিটির বর্তমান মূল্য আনুমানিক আড়াই কোটি টাকা। বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধার করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় হয়েছেন হুমকির শিকার।

জমি উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও কোনো কাজ হয়নি বলে দাবি করেছেন বিদ্যুৎ কুমার।

ওই শিক্ষক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা জমি উদ্ধারে গেলে নানা ধরনের হুমকি দেয় আব্দুল হাকিম ও আব্দুল মতিন। আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি জমিটি উদ্ধারের ব্যাপারে।'

‘কয়েক দিন আগে পুলিশ গিয়ে তাদের জায়গা ছেড়ে দিতে বললে তারা ছেড়ে দেবে বলে জানায়। তবে তারা জায়গা ছেড়ে দেয় নাই।’

সরকারি স্কুলের ২ একর জমি ‘বেদখলে’

বিদ্যুৎ কুমার আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে গত ১৭ মার্চ বিদ্যালয়ে বিভিন্ন প্রজাতির ১০০টি চারা রোপনের নির্দেশনা দেয়া হয় সরকার থেকে। সে অনুযায়ী বিদ্যালয়ের দখল করা জমির এক অংশে আমরা চারা রোপণ করতে গেলে তারা আমাদের বাধা দেয়।

‘জমিটি ছেড়ে দেয়ার জন্য গত ৯ সেপ্টেম্বর স্কুলের পক্ষ থেকে আব্দুল হাকিমসহ ১৯ জনকে চিঠি দেয়া হয়। চিঠি পাওয়ার পর ১১ সেপ্টেম্বর সকালে আব্দুল মতিন স্কুলে এসে আমিসহ অন্য শিক্ষকদের হুমকি দিয়ে যায়। আমরা পরদিন ১২ সেপ্টেম্বর বীরগঞ্জ থানায় অভিযোগ করি।’

প্রধান শিক্ষক জানান, অভিযোগ দেয়ার পর আব্দুল হাকিম ও তার ছেলে ওই জমিতে স্কুল কর্তৃপক্ষের রোপণ করা চারার সঙ্গে কলাগাছ রোপণ করেন।

অন্যদিকে আব্দুল মতিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জমিটি পাকিস্তান আমলের পর থেকে আমার বাবা লিজ নিয়ে ভোগদখল করে আসছে। এখানে আরও অনেকেই লিজ নিয়ে ভোগদখল করছে। ২০১৯ সাল পর্যন্ত আমাদের লিজের টাকা পরিশোধ আছে। সোনালী ব্যাংকে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে স্কুলেরই একটি অ্যাকাউন্টে এই টাকা জমা করা হয়।

‘জমির যে অংশে মুজিববর্ষ উপলক্ষে বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে, সে জমিতে কলা আবাদ করেছি। আবাদ শেষ হলে ওই অংশ আমরা ছেড়ে দেব।’

সরকারি স্কুলের ২ একর জমি ‘বেদখলে’

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল কাদের নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বীরগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাকড়াই মৌজার জমিটি উদ্ধারের ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। শিগগিরই জমিটি উদ্ধারে আরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মতিন প্রধান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বীরগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে থানায় একটি অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে জমিটি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
সুমন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ১
স্বামী হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
হত্যা মামলায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শুভ্র হত্যা মামলা: তিনজন কারাগারে
কুমিল্লায় জোড়া খুন মামলা: তিন আসামির স্বীকারোক্তি

শেয়ার করুন

পুকুরে বাবা, মা ও মেয়ের মরদেহ

পুকুরে বাবা, মা ও মেয়ের মরদেহ

খুলনায় পুকুর থেকে একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

কয়রা থানার ওসি তদন্ত শাহাদাৎ হোসেন জানান, মঙ্গলবার সকালে পুকুরে হাবিবুল্লাহ, তার স্ত্রী বিউটি ও কন্যা টুনির মরদেহ ভেসে উঠলে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।

খুলনার কয়রায় একটি পুকুর থেকে একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

উপজেলার বাগালী ইউনিয়ন পরিষদের পাশে মাজেদের বাড়ির পুকুরে ভাসতে থাকা মরদেহগুলো মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উদ্ধার করা হয়।

কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) শাহাদাৎ হোসেন নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মঙ্গলবার সকালে পুকুরে হাবিবুল্লাহ, তার স্ত্রী বিউটি ও কন্যা হাবিবা টুনির মরদেহ ভেসে উঠলে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। থানা পুলিশ গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আব্দুস সামাদ বলেন, হাবিবুল্লাহ ছিলেন দিনমজুর। তার মেয়ে টুনি স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত।

তিনি আরও জানান, তিনজনেরই মুখে ও মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে রাতে তাদের হত্যা করে গুম করার জন্য মরদেহ পুকুরে ফেলা হয়।

আরও পড়ুন:
সুমন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ১
স্বামী হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
হত্যা মামলায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শুভ্র হত্যা মামলা: তিনজন কারাগারে
কুমিল্লায় জোড়া খুন মামলা: তিন আসামির স্বীকারোক্তি

শেয়ার করুন

৬ মাসের সাজা থেকে বাঁচতে ৫ বছর পলাতক

৬ মাসের সাজা থেকে বাঁচতে ৫ বছর পলাতক

সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি জাহাঙ্গীর আলম

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সোমবার সকালে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ।

চেক প্রতারণার দুটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার করেছে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ।

সোমবার বিকেল ৫টার দিকে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। গ্রেপ্তারকৃত জাহাঙ্গীর চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার কোর্টপাড়ার মৃত শেখ আহমদের ছেলে।

পুলিশ জানায়, জাহাঙ্গীর খুলনার কনস্ট্রাকশন ম্যাটেরিয়ালের স্বত্বাধিকারী কামালের সঙ্গে ব্যবসা করতেন। ব্যবসার একপর্যায়ে কিছু টাকা আটকে ফেলেন তিনি। এ ঘটনায় ২০১৩ সালে তার বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা করা হয়।

২০১৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ওই মামলায় জাহাঙ্গীরকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ লাখ ৭ হাজার ৪০০ টাকা অর্থদণ্ড দেন আদালত।

এ ছাড়া ২০১৫ সালে তার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা হয়। চলতি বছরের ২ মার্চ ওই মামলায় তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয় আদালত।

এরপর থেকেই জাহাঙ্গীর পলাতক ছিলেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সোমবার সকালে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন জানান, বিকেলে গ্রেপ্তারকৃত জাহাঙ্গীরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ওই দুটি মামলা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গা, খুলনাসহ বিভিন্ন জেলায় আরও ৭-৮টি মামলা বিচারাধীন।

আরও পড়ুন:
সুমন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ১
স্বামী হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
হত্যা মামলায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শুভ্র হত্যা মামলা: তিনজন কারাগারে
কুমিল্লায় জোড়া খুন মামলা: তিন আসামির স্বীকারোক্তি

শেয়ার করুন