বাবরের বিরুদ্ধে রায়ের পর্যবেক্ষণে যা বললেন বিচারক

বাবরের বিরুদ্ধে রায়ের পর্যবেক্ষণে যা বললেন বিচারক

অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং তথ্য গোপনের মামলায় রায় উপলক্ষে মঙ্গলবার সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকে ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে আনা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

বিচারক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আসামির অস্ত্র মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড এবং অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে আসামিকে তথ্য গোপনের জন্য দুদক আইন ২০০৪-এর ২৬ (২) ধারায় তিন বছরের কারাদণ্ড এবং জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণভাবে সম্পদ অর্জনের জন্য একই আইনের ২৭ (১) ধারায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের সিদ্ধান্ত নিলাম।’

অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং তথ্য গোপনের মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের আট বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

দুদক আইন ২০০৪-এর ২৬ (২) ধারায় তিন বছর এবং ২৭ (১) ধারায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

দুটি সাজা একসঙ্গে চলবে বলেও জানানো হয়েছে আদালতের আদেশে।

মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৭-এর বিচারক মো. শহিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের বিচারক তার পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘সাক্ষীদের জেরায় আসামিপক্ষের দেয়া সাজেশন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারা অনুসারে আসামিকে পরীক্ষার সময় তার দেয়া লিখিত বক্তব্য ও যুক্তিতর্ক শুনানির সময় আসামিপক্ষ দাবি করেছে যে, ২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বহুল আলোচিত ও কথিত মাইনাস-২ ফর্মুলা বাস্তবায়নে আসামিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক নেতার নামে মিথ্যা কাগজপত্র তৈরি করে মামলা দেয়া হয়।

‘এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের ২ নম্বর সাক্ষী জেরার উত্তরে বলেছেন যে, তিনি শুনেছেন তখনকার সদ্য বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও তার মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তখনকার বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাসহ তার দলের অনেক এমপি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর আসামিপক্ষে ওই দাবির বিরোধিতা করে বলেন যে, আসামি রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে জ্ঞাত আয়বহির্ভূতভাবে অঢেল সম্পদ অর্জন করায় নিয়মতান্ত্রিকভাবে তার নামে মামলা হয়।’

বিচারক বলেন, ‘আসামিপক্ষের ওই দাবি প্রসঙ্গে বলা যায়, রাষ্ট্র অপরাধীকে বিচারের মুখোমুখি করে তার অপরাধের কারণে; তার ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়। সেটি হওয়াও উচিত নয়। আমাদের সংবিধানে ২৮-এর (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, কেবল ধর্মগোষ্ঠী, বর্ণ, নারী, পুরুষভেদে বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য করবে না।’

তিনি বলেন, ‘২৭ অনুচ্ছেদে সব নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান। আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী। ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইনের আশ্রয় লাভ এবং আইন অনুযায়ী ও কেবল আইন অনুযায়ী ব্যবহার লাভ, যেকোনো স্থানে থাকা প্রত্যেক নাগরিকের এবং সাময়িকভাবে বাংলাদেশে থাকা অপরাপর ব্যক্তির অবিচ্ছেদ্য অধিকার।

‘৩২ অনুচ্ছেদে কোনো ব্যক্তিকে তার স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন মানা সকল নাগরিকের কর্তব্য। সংবিধান অমান্যকারী যত বড়ই হোক না কেন তার দায় রাষ্ট্র নেবে না। রাষ্ট্রের দায়িত্ব সংবিধান ও আইন লঙ্ঘনকারী সকল ব্যক্তির বিচার সমানভাবে করা।’

বিচারক বলেন, ‘এ কারণে লুৎফুজ্জামান বাবর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের একজন সাবেক আইনপ্রণেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হয়েও তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণভাবে সম্পদ অর্জ্ন করায় তাকে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারায় শাস্তি প্রদান যুক্তিযুক্ত মনে করি।

‘তবে আসামির অস্ত্র মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড এবং অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে আসামিকে তথ্য গোপনের জন্য দুদক আইন ২০০৪-এর ২৬ (২) ধারায় তিন বছরের কারাদণ্ড এবং জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণভাবে সম্পদ অর্জনের জন্য একই আইনের ২৭ (১) ধারায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের সিদ্ধান্ত নিলাম।’

রায়ের আদেশে বলা হয়, ‘আসামির জ্ঞাত আয়বহির্ভূতভাবে অর্জিত ২৬ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৮ টাকাসহ আসামির প্রাইম ব্যাংক গুলশান শাখার হিসাব নম্বর ২১০৫৭৯৯১-এ জমা করা মালিকানাবিহীন ১০ লাখ ডলার বা ৬ কোটি ৭৯ লাখ ৪৯ হাজার ২১৮ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হলো। আসামিকে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রের অনুকূলে আদায় দেয়ার নির্দেশ দেয়া গেল। ব্যর্থতায় জরিমানার টাকা আদায়ের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮৬ (১) ধারা অনুযায়ী জেলা কালেক্টর, ঢাকা বরাবর মালামাল ক্রোক করে সেটি পরিশোধের নির্দেশ দেয়া বলবৎ করা হবে।

দুদকের কর্মকর্তাকে ভর্ৎসনা

আদালতের রায়ে ২০০৮ সালের দুদক টাস্কফোর্স প্রধান মো. জসীম প্রসঙ্গে দুদকের উপপরিচালক রুপক সাহাকে ভর্ৎসনা করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের ৭ নম্বর সাক্ষী জেরায় স্বীকার করেন, টাস্কফোর্স তত্ত্বাবধানকারী দলের প্রদান মেজর জসীম নিজ স্বাক্ষরে নিজের নামে দুটি ফরেন ডিমান্ড ড্রাফটের (এফডিডি) মাধ্যমে ১০ লাখ ডলার আসামির হিসাবে জমা করেন। প্রাইম ব্যাংক গুলশান শাখা তাকে ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বরে সেটি জানায়।

বিচারক এ বিষয় নিয়ে মন্তব্যে বলেন, ‘এই ইউএস ডলার কার? কার কাছ থেকে এল? কে পাঠাল? মেজর জসীম এর উত্তর দিতে পারতেন যে, তিনি কেন আসামির ব্যাংক হিসাবে ১০ লাখ ডলার জমা দিলেন। কিন্তু মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রুপক কুমার সাহা তাকে রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষী করেননি।

‘রুপক যথাযথ তদন্ত না করে এ বিষয়ে আসামির বিরুদ্ধে মনগড়া অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। তদন্ত কর্মকর্তার অবহেলা রীতিমত দৃষ্টিকটু।’

আরও পড়ুন:
বাবরের এবার ৮ বছর কারাদণ্ড
বাবরের আরেক মামলার রায় মঙ্গলবার
বাবরের অবৈধ সম্পদের মামলার রায় ১২ অক্টোবর
বাবরের সম্পদের মামলায় যুক্তিতর্ক শুরু
সম্পদের মামলায় নির্দোষ দাবি বাবরের

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আরও এক বছর ডিএমপি কমিশনার শফিকুল

আরও এক বছর ডিএমপি কমিশনার শফিকুল

ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। ফাইল ছবি

২৯ অক্টোবর শফিকুলের বয়স ৫৯ বছর পূর্ণ হবে। এর পরদিন থেকে অবসরোত্তর ছুটিতে যাওয়ার কথা ছিল তার।

অবসরে না পাঠিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবে মোহা. শফিকুল ইসলামকে আরও এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা বৃহস্পতিবার এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানিয়েছে।

এতে বলা হয়, সরকারের চাকরি আইন ২০১৮ অনুযায়ী বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের কর্মকর্তা মোহা. শফিকুল ইসলামকে তার অবসরোত্তর ছুটি ও সংশ্লিষ্ট সুবিধাদি স্থগিত করে ৩০ অক্টোবর বা যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য ডিএমপি কমিশনার হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

২৯ অক্টোবর শফিকুলের বয়স ৫৯ বছর পূর্ণ হবে। এর পরদিন থেকে অবসরোত্তর ছুটিতে যাওয়ার কথা ছিল তার।

ডিএমপি কমিশনার হওয়ার আগে শফিকুল ইসলাম সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। তিনি ১৯৮৯ সালে অষ্টম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে যোগ দেন।

চাকরি জীবনে শফিকুল পুলিশ সুপার হিসেবে নারায়ণগঞ্জ, পটুয়াখালী, সুনামগঞ্জ ও কুমিল্লা জেলায় দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি, অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের প্রধান (অতিরিক্ত আইজিপি), পুলিশ সদর প্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরএম) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

পেশাদারি ও দক্ষতার জন্য তিনি একাধিকবার বিপিএম পদক পান।

শফিকুল ইসলামের জন্ম চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায়। ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি (সম্মান) পাস করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
বাবরের এবার ৮ বছর কারাদণ্ড
বাবরের আরেক মামলার রায় মঙ্গলবার
বাবরের অবৈধ সম্পদের মামলার রায় ১২ অক্টোবর
বাবরের সম্পদের মামলায় যুক্তিতর্ক শুরু
সম্পদের মামলায় নির্দোষ দাবি বাবরের

শেয়ার করুন

ফেরি দুর্ঘটনার দ্বিতীয় দিনেও দৌলতদিয়ায় যানজট

ফেরি দুর্ঘটনার দ্বিতীয় দিনেও দৌলতদিয়ায় যানজট

পাটুরিয়ার ৫ নম্বর ঘাটে আমানত শাহ ফেরিটি আংশিক ডুবে যাওয়ায় দৌলতিয়া প্রান্তেও সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। ছবি: নিউজবাংলা

কাভার্ডভ্যানের চালক হাসান বলেন, ‘ঘাট এলাকায় সব সময়ই আমাদের দুর্ভোগ লেগে থাকে। গত রাত ৪টার দিকে ঘাটে এসে এখনো ফেরিতে উঠতে পারি নাই। তারপর আবার ওই পাশের ঘাটে ফেরি উল্টে গেছে। এখন কয়দিনে যে ফেরি পাব কে জানে।’

মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ার ৫ নম্বর ঘাটে আমানত শাহ ফেরিটির আংশিক ডুবে যাওয়ায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথের দৌলতিয়া প্রান্তেও সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট।

ঘাট এলাকায় বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ৪ কিলোমিটার পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি। প্রায় আড়াই কিলোমিটার অংশজুড়ে বাস ও প্রাইভেট কারের জট রয়েছে।

এ ছাড়া দৌলতদিয়া থেকে সাড়ে ১৩ কিলোমিটার দূরে গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় ঢাকা-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় ৩ কিলোমিটার অংশজুড়ে পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।

ঢাকাগামী পূর্বাশা পরিবহনের যাত্রী স্নেহা বলেন, ‘প্রায় ৪ ঘণ্টা ঘাট এলাকায় এসে বসে আছি। এখনো ফেরিতে উঠতে পারিনি। কখন ফেরিতে উঠতে পারব জানি না।’

ফেরি দুর্ঘটনার দ্বিতীয় দিনেও দৌলতদিয়ায় যানজট

কাভার্ডভ্যানের চালক হাসান বলেন, ‘ঘাট এলাকায় সব সময়ই আমাদের দুর্ভোগ লেগে থাকে। গত রাত ৪টার দিকে ঘাটে এসে এখনো ফেরিতে উঠতে পারি নাই। তারপর আবার ওই পাশের ঘাটে ফেরি উল্টে গেছে। এখন কয়দিনে যে ফেরি পাব কে জানে।’

ঢাকা-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের কল্যাণপুরে আটকে থাকা এক ট্রাকচালক জানান, রাত থেকে সেখানে আটকে আছেন। ফাঁকা রাস্তায় হোটেল, দোকান, ওয়াশরুম কিছুই নেই।

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে এখন ১৮টি ফেরি চলছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) আরিচা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী (ড্রেজিং) শরিফুল ইসলাম জানান, ফেরি ডোবার পর থেকে উদ্ধার অভিযান চলছে। বুধবার রাত ৮টা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ৫টি ট্রাক উদ্ধার করা হয়। পানির নিচে আরও ৫টি ট্রাক শনাক্ত করা হয়েছে।

সবশেষ বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টার দিকে আরও একটি ট্রাক উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় উদ্ধার অভিযানে যুক্ত হলে উদ্ধার অভিযান তাড়াতাড়ি শেষ হবে বলেও তিনি জানান।

বুধবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ১৭টি পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, মোটরসাইকেল ও যাত্রী নিয়ে পাটুরিয়ার ৫ নম্বর ঘাটে আমানত শাহ নামে রো রো ফেরিটি নোঙর করছিল। ফেরি থেকে দু-তিনটি যানবাহন নামার পরপরই এটি কাত হয়ে ডুবে যায়।

আরও পড়ুন:
বাবরের এবার ৮ বছর কারাদণ্ড
বাবরের আরেক মামলার রায় মঙ্গলবার
বাবরের অবৈধ সম্পদের মামলার রায় ১২ অক্টোবর
বাবরের সম্পদের মামলায় যুক্তিতর্ক শুরু
সম্পদের মামলায় নির্দোষ দাবি বাবরের

শেয়ার করুন

দাঁত দেখে বয়স মাপে মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি

দাঁত দেখে বয়স মাপে মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি

প্রতীকী ছবি

এ বিষয়ে যুক্তি দেখিয়ে মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. বেলায়েত হুসেন বলেন, ‘অনেক অসাধু অভিভাবক শিক্ষার্থীর বয়স লুকিয়ে ভর্তি করতে চান। তারা যেন এরকম করতে না পারে এজন্য ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে দুধ দাঁতের বিষয়টি উল্লেখ করেছি।’

স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে দাঁত দেখে শিশুদের বয়স নির্ধারণ করছে রাজধানীর মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ। স্কুল কর্তৃপক্ষ বলছে, শিশুদের বয়স নির্ধারণে যুগ যুগ ধরেই এমনটা করে আসছেন তারা।

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হঠাৎ আলোচনা শুরু হয় সেপ্টেম্বর মাসে প্লে গ্রুপে শিক্ষার্থীদের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর।

বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায়, ‘শিক্ষার্থীর যোগ্যতা’ অংশে তিনটি শর্ত রয়েছে। এগুলো হলো—বয়স, উচ্চতা ও ওজন।

বয়সের শর্তে বলা হয়েছে, ১ জানুয়ারি ২০২২ সালে বয়স চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে হতে হবে।

উচ্চতার শর্তে বলা হয়েছে, তিন ফুট থেকে তিন ফুট আট ইঞ্চির মধ্যে হতে হবে।

ওজনের শর্তে লেখা আছে, ১৩ থেকে ২১ কেজির মধ্যে হতে হবে। এখানে আবার

তিনটি আলাদা শর্ত রয়েছে। এগুলো হলো—শিক্ষার্থীর সব দুধদাঁত (২০টি) অটুট থাকতে হবে, শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ হতে হবে এবং ছোঁয়াচে রোগ থাকলে ভর্তির জন্য বিবেচিত হবে না।

প্লে গ্রুপে শিশুশিক্ষার্থী ভর্তির জন্য ২২ অক্টোবর লটারি করা হয়। এখন চলছে ভর্তির অন্যান্য প্রক্রিয়া। জানা যায়, এবার প্লে গ্রুপে বাংলা ও ইংরেজি সংস্করণে মোট ৫৮০ শিশুকে ভর্তি করা হবে।

শিক্ষার্থীদের বয়স লুকানো ঠেকাতেই বিজ্ঞপ্তিতে দুধ দাঁত এবং অন্যান্য শর্ত দেয়া হয়েছে বলে যুক্তি দেখালেন মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. বেলায়েত হুসেন।

তিনি বলেন, ‘অনেক অসাধু অভিভাবক শিক্ষার্থীর বয়স লুকিয়ে ভর্তি করতে চান। তারা যেন এরকম করতে না পারে এজন্য ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে দুধ দাঁতের বিষয়টি উল্লেখ করেছি।’

অদ্ভুত এই যুক্তির সাফাই গেয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এটি করার ফলে কেউ বয়স লুকাতে পারে না। আর এ পদ্ধতি আমরা ১৯৭৬ সালে মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই করে আসছি। আর ছোঁয়াচে অসুখের কথা বলেছি যেন অন্য শিক্ষার্থীরা আক্রান্ত না হয়।’

ইতোমধ্যে প্লে গ্রুপের ফল প্রকাশ করা হয়েছে জানিয়ে বেলাল হুসেন বলেন, ‘অলরেডি আমরা প্লে গ্রুপের লটারির ফল প্রকাশ করে ফেলেছি। এখন এ নিয়ে বির্তকের কিছু নেই।’

বিষয়টি নিয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জানান, স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে সরকারের একটি নীতিমালা রয়েছে, যা সরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুসরণ করে।

তিনি বলেন, ‘যারা এমপিভুক্ত নয় অথবা সম্পূর্ণ বেসরকারি অর্থায়নে পরিচালিত তারা শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে নিজস্ব কিছু কিছু শর্ত আরোপ করে। মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ এমন কিছু করে থাকতে পারে। বিষয়টি আমি খোঁজ নেব।’

আরও পড়ুন:
বাবরের এবার ৮ বছর কারাদণ্ড
বাবরের আরেক মামলার রায় মঙ্গলবার
বাবরের অবৈধ সম্পদের মামলার রায় ১২ অক্টোবর
বাবরের সম্পদের মামলায় যুক্তিতর্ক শুরু
সম্পদের মামলায় নির্দোষ দাবি বাবরের

শেয়ার করুন

বনভূমিবাসীদের নামে মামলা পুনর্বিবেচনার নির্দেশ

বনভূমিবাসীদের নামে মামলা পুনর্বিবেচনার নির্দেশ

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আপনারা জানেন মধুপুর, শেরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বনভূমি রয়েছে। এসব এলাকায় যারা থাকেন তাদের বিরুদ্ধে অনেক মামলা মোকদ্দমা বছরের পর বছর ধরে চলছে। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন এসব মামলা রিভিউ করতে।’

মধুপুর, শেরপুর বা পার্বত্য এলাকায় বনভূমিতে বসবাসকারীদের বিরুদ্ধে থাকা মামলা পুনর্বিবেচনা করতে আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতি হিসেবে গণভবন প্রান্ত থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ নির্দেশ দেন।

সভা শেষে সাংবাদিকদের বিস্তারিত তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন মধুপুর, শেরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বনভূমি রয়েছে। এসব এলাকায় যারা থাকেন তাদের বিরুদ্ধে অনেক মামলা মোকদ্দমা বছরের পর বছর ধরে চলছে।

‘প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন এসব মামলা রিভিউ করতে। এগুলো রিভিউ করে যেগুলোর যৌক্তিকতা নেই সেগুলো তুলে নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে আইন মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।’

বিস্তারিত আসছে......

আরও পড়ুন:
বাবরের এবার ৮ বছর কারাদণ্ড
বাবরের আরেক মামলার রায় মঙ্গলবার
বাবরের অবৈধ সম্পদের মামলার রায় ১২ অক্টোবর
বাবরের সম্পদের মামলায় যুক্তিতর্ক শুরু
সম্পদের মামলায় নির্দোষ দাবি বাবরের

শেয়ার করুন

গাঁজাসহ গ্রেপ্তার দুই যুবক

গাঁজাসহ গ্রেপ্তার দুই যুবক

বাগেরহাটের মোংলা থেকে গাঁজাসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, সন্দেহজনকভাবে চলাফেলা করায় দুই যুবককে থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তাদের হাতে থাকা একটি ব্যাগে তিন কেজি গাঁজার দুইটি প্যাকেট পাওয়া যায়।

বাগেরহাটের মোংলায় তিন কেজি গাঁজাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

উপজেলার পৌর এলাকার মামারঘাট জেটি এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার সকালে তাদের আটক করে মোংলা থানা পুলিশ। পরে তাদের নামে মাদক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দেয়া হয়।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম।

আটক ব্যক্তিরা হলেন নূর আলম ও নূর আলী শেখ। তারা মোংলার মিঠাখালী ইউনিয়নে থাকেন।

ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, মোংলা পৌর এলাকার মামারঘাট এলাকা দিয়ে মাদকের একটি বড় চালান আসছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালায়।

এসময় সন্দেহজনকভাবে চলাফেলা করতে থাকা ওই দুই যুবককে থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তাদের হাতে থাকা একটি ব্যাগে তিন কেজি গাঁজার দুইটি প্যাকেট পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন:
বাবরের এবার ৮ বছর কারাদণ্ড
বাবরের আরেক মামলার রায় মঙ্গলবার
বাবরের অবৈধ সম্পদের মামলার রায় ১২ অক্টোবর
বাবরের সম্পদের মামলায় যুক্তিতর্ক শুরু
সম্পদের মামলায় নির্দোষ দাবি বাবরের

শেয়ার করুন

ভারত থেকে আসছে ৫ মাদক

ভারত থেকে আসছে ৫ মাদক

ভারত থেকে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে আসছে মাদকদ্রব্য। ফাইল ছবি

বাংলাদেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও ভারতের নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরোর মহাপরিচালক পর্যায়ে সপ্তম দ্বিপক্ষীয় সভা হয় বুধবার। সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ভারত থেকে আসছে গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা, ইনজেকশন ও হেরোইন।

প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে বাংলাদেশে আসছে পাঁচ ধরনের মাদক। কোন মাদক কোন পথে আসছে, তা চিহ্নিত করার পর কারবারিরা পথ পরিবর্তন করছে। একেক ধরনের কারবারি একেক সীমান্ত ব্যবহার করছে।

বাংলাদেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও ভারতের নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরোর মহাপরিচালক পর্যায়ে সপ্তম দ্বিপক্ষীয় সভায় বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

সভায় উপস্থিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তারা জানান, বুধবারের সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ভারত থেকে আসছে গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা, ইনজেকশন ও হেরোইন।

কী আলোচনা হয়েছে সভায়

সভায় উভয় পক্ষই সমুদ্রপথকে ব্যবহার করে মাদক চোরাচালান এবং মাদক কারবারিদের উদ্ভাবিত নতুন নতুন পথ সম্পর্কিত তথ্য বিনিময়, রাসায়নিক ব্যবস্থাপনাবিষয়ক নীতিমালা ও বিধি-বিধান নিয়ে তথ্য বিনিময়, ফলপ্রসূ অপারেশনের মাধ্যমে অর্জিত অভিজ্ঞতা বিনিময়, মাদকবিষয়ক প্রাসঙ্গিক অপরাপর সম্যক তথ্য বিনিময় এবং যথাসময়ে তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়ে গুরুত্ব দেয়।

ভারত থেকে আসছে ৫ মাদক

সভায় মাদক চোরাচালান বন্ধে ভারতের উদ্যোগ বা কার্যক্রমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুস সবুর মণ্ডল।

তিনি জানান, ২০১৯ সালের ষষ্ঠ সভায় ভারতের সীমান্তে থাকা ফেনসিডিল কারখানার তালিকা দিয়েছিল বাংলাদেশ। তালিকা অনুযায়ী যেসব কারখানা পাওয়া গেছে, সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারত। ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে তারা।

কোন সীমান্ত দিয়ে আসে কোন মাদক

সভায় উপস্থিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন,

দেশে সবচেয়ে বেশি আসছে ফেনসিডিল। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের তিন দিকের সীমান্ত দিয়েই বাংলাদেশে ফেনসিডিল ঢুকছে।

তিনি জানান, ভারতের সীমান্ত এলাকায় কারখানা স্থাপন করে এ সিরাপ তৈরি করা হচ্ছে। ফেনসিডিল নামটি বেশি পরিচিত হওয়ায় নতুন নতুন নামে এটি তৈরি করে বাংলাদেশে ঢোকানো হচ্ছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, অন্তত পাঁচটি নামে ফেনসিডিল দেশে আসছে। বোতলজাত অবস্থায় আসার পাশাপাশি বড় ড্রাম ও পলিথিনে করেও সীমান্ত দিয়ে ফেনসিডিল আসে।

আগের চেয়ে ফেনসিডিলের ব্যবহার কমলেও সম্প্রতি এটি বেড়েছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

কোরেক্স, এসকাফ, এমকে ডিল (কোডিন ফসফেট), কোডোকফ নামের ফেনসিডিলজাতীয় এ মাদক আসে ভারত থেকে বাংলাদেশে।

সভায় আলোচনার বরাত দিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, গাঁজা পাচারের জন্য চোরাকারবারিরা নতুন নতুন পথ তৈরি করছে। বর্তমানে দেশের উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট সীমান্ত দিয়ে গাঁজা বেশি পাচার হয়ে দেশে প্রবেশ করছে।

ভারত থেকে আসছে ৫ মাদক

তারা জানান, বাংলাদেশের পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে হেরোইন পাচার বেড়েছে। উদ্ধার হওয়া হেরোইন চালান তা-ই নির্দেশ করে।

সভায় বাংলাদেশ জানায়, ইয়াবা পাচারে ভারতের রুটও ব্যবহার করছে পাচারকারীরা। মিয়ানমার থেকে ইয়াবা ভারত হয়ে বাংলাদেশে ঢোকানো হয়। ভারতের ত্রিপুরা, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত ব্যবহার হচ্ছে এ ক্ষেত্রে।

ভারতকে এ বিষয়ে আরও তৎপর হয়ে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ।

ভারত থেকে বিভিন্ন ইনজেকশন প্রবেশ করছে জয়পুরহাট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে।

দুই দেশের কারবারিরা মাদক কেনাবেচার জন্য ভার্চুয়াল মুদ্রা ব্যবহার করছে বলে সভায় আলোচনা হয়। বাংলাদেশের কর্মকর্তারা জানান, মাদকের জন্য হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচার হচ্ছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সভায় বলা হয়, দেশে কোনো মাদক উৎপাদন না হলেও বাংলাদেশ এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। সমস্যা সমাধানে ভারত-বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করলেও সঙ্গ পাওয়া যাচ্ছে না মিয়ানমারের। ভয়াবহ মাদক ইয়াবা আসছে মিয়ানমার থেকেই। নতুন করে যুক্ত হয়েছে আইস।

এ নিয়ে কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করতে ভারত-বাংলাদেশ-মিয়ানমারের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক চায় বাংলাদেশ। এ ব্যাপারে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে ভারত।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর প্রধানের ভাষ্য

সভায় সার্বিক বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুস সবুর মণ্ডল বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে মাদক পাচারের নতুন নতুন রুট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা তাদের কিছু তথ্য দিয়েছি। তারাও কিছু তথ্য দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘দুই দেশের সীমান্ত থাকায় উভয় দেশ আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্ব বহন করে। আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য দুই দেশই ভূমিকা রাখবে।’

মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রক্ষা করে মাদক সমস্যা সমাধানে অগ্রসর হতে হবে বলে জানিয়েছেন মহাপরিচালক।

তিনি বলেন, ভারত, মিয়ানমার ও বাংলাদেশ মিলে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা চলছে। ভারতও এ বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার সরকার মাদক বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয় না। নিলে এ হারে মাদক আসত না।’

মাদক চোরাচালান বন্ধে ভারতের উদ্যোগে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন:
বাবরের এবার ৮ বছর কারাদণ্ড
বাবরের আরেক মামলার রায় মঙ্গলবার
বাবরের অবৈধ সম্পদের মামলার রায় ১২ অক্টোবর
বাবরের সম্পদের মামলায় যুক্তিতর্ক শুরু
সম্পদের মামলায় নির্দোষ দাবি বাবরের

শেয়ার করুন

স্কুলশিক্ষার্থীদের ১ নভেম্বর থেকে টিকার আশা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

স্কুলশিক্ষার্থীদের ১ নভেম্বর থেকে টিকার আশা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

পাঠদান কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের করোনা প্রতিরোধী টিকার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ছবি: নিউজবাংলা

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের হাতে টিকার যথেষ্ট মজুত আছে। এরই মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের তালিকা আমাদের দিয়েছে। আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করি, ১ নভেম্বর থেকেই টিকা কর্মসূচি শুরু করা যাবে। আমরা প্রতিদিন ৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে টিকা দিতে পারব বলে আশা করছি।’

স্কুলশিক্ষার্থীদের মাঝে ১ নভেম্বর থেকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা দেয়া শুরু করার আশা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের হাতে টিকার যথেষ্ট মজুত আছে। এরই মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের তালিকা আমাদের দিয়েছেন। আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।

‘আশা করি, ১ নভেম্বর থেকেই টিকা কর্মসূচি শুরু করা যাবে। আমরা প্রতিদিন ৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে টিকা দিতে পারব বলে আশা করছি।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল রাতেই সিনোফার্মের ৫৫ লাখ টিকা আমাদের কাছে এসেছে। এ নিয়ে আমাদের হাতে প্রায় ২ কোটিরও বেশি টিকার ডোজ রয়েছে। আজকে থেকে নিয়ে আগামীকাল পরশুর মধ্যে প্রায় ৮০ লাখ টিকা আমরা দিয়ে দেব। সেই কর্মসূচি শুরু হয়ে গেছে।

‘ঢাকায় ১২টি কেন্দ্র আমরা স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য ঠিক করেছি। সব ঠিক আছে। অন্য টিকা কার্যক্রমও একই সঙ্গে চলমান থাকবে।’

এর আগে বুধবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় গবেষণা দিবসে বৈজ্ঞানিক অধিবেশন ও অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, ‘স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকা দিতে রেজিস্ট্রেশন চলছে। আশা করছি সপ্তাহ খানেকের মধ্যে স্কুলশিক্ষার্থীদের গণটিকা কার্যক্রম শুরু হবে।’

পাঠদান কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার আওতায় আনতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব শিক্ষার্থীকে গণটিকা দেয়া শুরুর কথা ছিল ৩০ অক্টোবর।

স্কুলশিক্ষার্থীদের মাঝে এরই মধ্যে পরীক্ষামূলক করোনা প্রতিরোধী টিকা দেয়া শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত ১৪ অক্টোবর মানিকগঞ্জে ১০০ শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়া হয়।

বড় পরিসরে স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনতে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
বাবরের এবার ৮ বছর কারাদণ্ড
বাবরের আরেক মামলার রায় মঙ্গলবার
বাবরের অবৈধ সম্পদের মামলার রায় ১২ অক্টোবর
বাবরের সম্পদের মামলায় যুক্তিতর্ক শুরু
সম্পদের মামলায় নির্দোষ দাবি বাবরের

শেয়ার করুন