২৭০ টাকায় ঢাবিতে ৫০ হাজার টাকার স্বাস্থ্যবিমা

২৭০ টাকায় ঢাবিতে ৫০ হাজার টাকার স্বাস্থ্যবিমা

স্বাস্থ্য বিমার জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনায় বাৎসরিক ২৭০ টাকা প্রিমিয়াম প্রদান করে এখন থেকে শিক্ষার্থীরা তালিকাভুক্ত বিভিন্ন হাসপাতালে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকার স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। দেশের প্রথম কোনো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আনল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল নিয়মিত শিক্ষার্থীকে স্বাস্থ্যবিমার প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। দেশের প্রথম কোনো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এমন উদ্যোগ নিল।

দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যবিমার দাবি জানিয়ে আসছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে মঙ্গলবার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনায় বাৎসরিক ২৭০ টাকা প্রিমিয়াম প্রদান করে এখন থেকে শিক্ষার্থীরা তালিকাভুক্ত বিভিন্ন হাসপাতালে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকার স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।

আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এ প্রকল্পের আওতায় থাকলেও এখন থেকে শিক্ষার্থীদেরও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হলো।

আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিমা রয়েছে। তবে এই ধরনের স্বাস্থ্যবিমা এতদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছিল না। র‌্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির পিছিয়ে পড়ার ক্ষেত্রে এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

তারা বলছে, র‌্যাঙ্কিংয়ে অগ্রগতিসহ সামগ্রিক দিক বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে।

প্রতিবছর ভর্তির সময় শিক্ষার্থীদের এককালীন বাৎসরিক মাত্র ২৭০ টাকা প্রিমিয়াম প্রদান করতে হবে। চলমান শিক্ষাবর্ষে ভর্তির সময় যেসব নিয়মিত শিক্ষার্থী বার্ষিক প্রিমিয়ামের টাকা দিতে পারেননি, তারা https://student.eis.du.ac.bd ওয়েবসাইটে লগইন করে health insurance বাটন ক্লিক করে প্রিমিয়ামের টাকা জমা দিতে পারবেন।

টাকা জমা দেয়ার পর শিক্ষার্থীরা বিমা প্রিমিয়ামের একটি জমা রসিদ পাবেন। এটি তাদের সংরক্ষণ করতে হবে। বিমা সুবিধা দাবির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সঙ্গে প্রিমিয়াম জমার রসিদ সংযুক্ত করতে হবে।

প্রত্যেক শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রে বার্ষিক সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা বিমা সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে হাসপাতালে থাকাকালীন কেবিন/ওয়ার্ড ভাড়া, হাসপাতাল সেবা, অস্ত্রোপচারজনিত ব্যয়, চিকিৎসকের পরামর্শ ফি, ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিল বাবদ দৈনিক সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা চিকিৎসা ব্যয় পাওয়া যাবে।

বহির্বিভাগে চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য বার্ষিক ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে বহির্বিভাগে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ফি বাবদ প্রতি ব্যবস্থাপত্রে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা পাওয়া যাবে।

তবে কোনো শিক্ষার্থীর বয়সসীমা ২৮ বছর অতিক্রম করলে অথবা ছাত্রত্ব হারালে বিমা সুবিধা পাওয়া যাবে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট https://www.du.ac.bd থেকে বিমাসংক্রান্ত সব শর্ত ও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। এই ওয়েবসাইট থেকে শিক্ষার্থীরা Claim Form ও Gurantee of Payment ( GOP) Request Form সংগ্রহ করতে পারবেন।

বিমাসংক্রান্ত কাজের জন্য শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বিভাগ/ইনস্টিটিউটের অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।

আরও পড়ুন:
ফুল-চকলেটে হলে বরণ ঢাবি শিক্ষার্থীদের
অধ্যাপক মাহবুব আহসানের মৃত্যুতে ঢাবি উপাচার্যের শোক
ঢাবির ‘চ’ ইউনিটের পরীক্ষা আজ, আসনপ্রতি ১১৪ জন
কপিরাইটবিষয়ক নিবন্ধেও ঢাবি শিক্ষকের চৌর্যবৃত্তি
ঢাবিতে সশরীরে ক্লাস শুরু ১৭ অক্টোবর

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ইউনিক আইডি করতে জন্ম নিবন্ধনের জটিলতা কেন

ইউনিক আইডি করতে জন্ম নিবন্ধনের জটিলতা কেন

প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি করা হচ্ছে স্কুলগুলোয়। এটি করতে গিয়ে অনেক অভিভাবকই ভোগান্তিতে পড়ছেন বলে জানা গেছে। মূল সমস্যাটি দেখা দিচ্ছে শিশুর অনলাইন জন্ম নিবন্ধন নিয়ে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে মা-বাবার জন্ম নিবন্ধনের প্রয়োজন পড়ছে।

দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীর জন্য ‘ইউনিক আইডি’ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মৌলিক ও শিক্ষাসংক্রান্ত সব তথ্য থাকবে। কিন্তু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ইউনিক আইডি ফরম পূরণে পড়ছেন নানা জটিলতায়। বিশেষ করে শিশুর জন্ম নিবন্ধনের পাশাপাশি মা-বাবার জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট চাওয়া হচ্ছে।

এ অবস্থায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রশ্ন: কী হবে এই ‘ইউনিক আইডি’ দিয়ে?

প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মৌলিক ও শিক্ষাসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য এক জায়গায় রাখার জন্য ইউনিক আইডি তৈরি করা হচ্ছে বলে জানান এ প্রকল্পের পরিচালক অধ্যাপক শামসুল আলম।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার প্রত্যেক নাগরিককে একটি আইডি দিয়ে চিহ্নিত করার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। বিশ্বের ১১টি দেশের সঙ্গে সরকার এ বিষয়ে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর নাম দেয়া হয়েছে সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস (সিআরভিএস)।

শামসুল আলম জানান, এর আওতায় দেশের বেসিক স্ট্যাটিসটিকস তৈরি হবে। অফিস অফ রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয় বর্তমানে কোনো শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন করছে। আর যারা ১৮ বছরের ওপরে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) আছে। এই দুই স্তরে আইডেন্টিফিকেশন নম্বর আছে। কিন্তু মাঝখানে বাদ পড়ে যাচ্ছে প্রি-প্রাইমারি থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা, যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে। এদের আইডেন্টিফিকেশনের আওতায় আনার জন্যই ইউনিক আইডি তৈরি করা হচ্ছে।

১৮ বছর পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা সব ধরনের সেবা ইউনিক আইডির মাধ্যমে পাবে জানিয়ে তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থীর সব ধরনের সেবা, যেমন বই নেয়া থেকে শুরু করে ফল প্রকাশ, রেজিস্ট্রেশন, বৃত্তি, উপবৃত্তির অর্থ নেয়া অর্থাৎ যত ধরনের নাগরিক সেবা আছে সবই দেয়া হবে এই আইডির মাধ্যমে। আর যখন শিক্ষার্থীর বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে তখন নির্বাচন কমিশন সচিবালয় তাদের ফিঙ্গার প্রিন্ট নিয়ে এই ইউনিক আইডিই জাতীয় পরিচয়পত্রে রূপান্তর করবে।

শামসুল আলম আরও বলেন, ‘এই ইউনিক আইডির মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের খুঁজে পাব, তারা কোথায় লেখাপড়া করছে, ঝরে পড়ল কি না, অথবা তারা কোন লেভেলে পড়াশোনা করছে, চাকরি পেল কি না ইত্যাদি।’

ইউনিক আইডি চালু হলে অনেক ক্ষেত্রে সরকারের অপচয়ও বন্ধ হবে বলে জানান তিনি। বলেন, ‘উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সঠিক পরিসংখ্যান না থাকায় অনেক সময় আমরা চাহিদার চেয়ে বেশি পরিমাণ বই ছাপাচ্ছি। এতে অনেক টাকা অপচয় হচ্ছে। যখন ইউনিক আইডি তৈরি হয়ে যাবে, তখন কোনো ডুপ্লিকেট শিক্ষার্থী থাকবে না। কারণ তখন শিক্ষার্থীর সঠিক পরিসংখ্যান সরকারের হাতে থাকবে।

ফরমে যেসব তথ্য দিতে হয়

স্ট্যাবলিশমেন্ট অফ ইন্টিগ্রেটেড এডুকেশনাল ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (আইইআইএমএস) প্রকল্পের আওতায় তৈরি করা চার পৃষ্ঠার ফরমে শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

ফরমে শিক্ষার্থীর নাম, জন্ম নিবন্ধন নম্বর, জন্মস্থান, জেন্ডার, জাতীয়তা, ধর্ম, অধ্যয়নরত শ্রেণি, রোল নম্বর, বৈবাহিক অবস্থা, প্রতিবন্ধিতা (ডিজ-অ্যাবিলিটি), রক্তের গ্রুপ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কি না, মা-বাবার নামসহ বেশ কিছু তথ্যের ঘর রয়েছে।

বৈবাহিক অবস্থার অপশন হিসেবে অবিবাহিত, বিবাহিত, বিধবা, বিপত্নীক ছাড়াও স্বামী-স্ত্রী পৃথক বসবাস, তালাকপ্রাপ্ত, বিবাহবিচ্ছেদের ঘরও রয়েছে ফরমে।

ইউনিক আইডির তথ্য ভুল হলে তা সংশোধনের কোনো সুযোগ আছে কি না- এমন প্রশ্নে প্রকল্প পরিচালক শামসুল আলম বলেন, ‘শিক্ষার্থী এবং বাবা-মায়ের জন্ম নিবন্ধন এবং জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে আমরা বেশির ভাগ তথ্য নেব। সেখানে যদি কোনো ভুল থাকে, তাহলে আমাদের কিছুই করার নেই। সংশোধন করতে হলে আগে জন্ম নিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্র ঠিক করতে হবে।

‘জন্ম নিবন্ধনে শিক্ষার্থীর নাম, বাবা-মার নাম মিল থাকার বিষয়টি সবাইকে খেয়াল করার অনুরোধ করছি। এই নির্দেশনা মানলে আর কোনো সমস্যা হবার কথা নয়।’

ইউনিক আইডির ফরমে যেসব তথ্য শিক্ষার্থীরা দিচ্ছেন, তা যেন কোনোভাবে অন্যের হাতে না যায় তা নিশ্চিতে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান প্রকল্প পরিচালক শামসুল আলম। বলেন, ‘শিক্ষার্থীর তথ্য সুরক্ষায় আমরা বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছি। কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে, যেন তথ্য বেহাত না হয়। এর বেশি বলা সম্ভব নয়।’

ইউনিক আইডি করতে জন্ম নিবন্ধনের জটিলতা কেন

ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীর জন্য ‘ইউনিক আইডি’ তৈরি করতে তথ্য সংগ্রহের ফরম। ছবি: নিউজবাংলা

জন্ম নিবন্ধন নিয়ে ভোগান্তি

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত প্রভাতী উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীর ইউনিক আইডির কাগজপত্র নিয়ে স্কুলে এসেছেন অভিভাবক রাবেয়া সুলতানা। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে জানায়, শিক্ষার্থীর ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধনের সঙ্গে অভিভাবকের ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধনও লাগবে। তা না হলে তার ইউনিক আইডির কাগজ জমা নেয়া হবে না।

একই অভিযোগ করলেন রাজধানীর একাধিক বিদ্যালয়ের অভিভাবকরা। তেমনই একজন স্বপ্না রাণী। তিনি বলেন, ‘বাচ্চার ইউনিক আইডির জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বাবা-মায়ের জন্ম নিবন্ধন চাওয়া হচ্ছে। আমাদের জাতীয় পরিচয়পত্র আছে। তাহলে কেন আবার জন্ম নিবন্ধন লাগবে?’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিক আইডির প্রকল্প পরিচালক শামসুল আলম বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে এখন জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। তাই আমরা ধরে নিতেই পারি, সব শিক্ষার্থীর জন্ম নিবন্ধন আছে। যারা স্কুলে ভর্তিই হয়নি, তাদের জন্ম নিবন্ধন নাও থাকতে পারে।

‘সমস্যা হলো জন্ম নিবন্ধনের কোনোটা ম্যানুয়াল, কোনোটা ডিজিটাল। যেসব শিক্ষার্থীর জন্ম নিবন্ধন ম্যানুয়াল, তাদের ডিজিটাল অর্থাৎ অনলাইনে এন্ট্রি দেয়া জন্ম নিবন্ধন লাগবে। কারণ ইউনিক আইডি দেয়ার অন্যতম শর্ত হলো শিক্ষার্থীর বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র বা অনলাইন জন্ম নিবন্ধনের সঙ্গে মিল থাকতে হবে শিক্ষার্থীর জন্ম নিবন্ধনের।

‘যদি কোনো শিক্ষার্থীর বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকে তাহলে সে ইউনিক আইডি পাবে না। কারণ আমরা শিক্ষার্থীদের তথ্যগুলো পাঠাব অফিস অফ রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ে। তারপর সেখান থেকে যাবে নির্বাচন কমিশনে। এরপর তারা ইউনিক আইডি তৈরি করবে। এটাই সিস্টেম। এ জন্য কোনো শিক্ষার্থীর যদি অনলাইন জন্ম নিবন্ধন না থাকে তাহলে সে ইউনিক আইডি পাবে না।’

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন করতে কিছু শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকের নানা ভোগান্তিতে পড়ার কথা স্বীকার করেন শামসুল আলম। বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে আসলে আমাদের কিছুই করার নেই। জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে এন্ট্রি দেয়ার জন্য অফিস অফ রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় অনেক আগেই অফিস আদেশ জারি করেছে।’

শিক্ষার্থীর জন্ম নিবন্ধনে বাবা-মার জন্ম নিবন্ধন কেন প্রয়োজন হয়- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন করতে গেলে শিক্ষার্থীর বাবা-মায়ের জন্ম নিবন্ধন আগে করে নিতে হবে। এটা জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন-২০১৯ অনুযায়ী করা হচ্ছে। সেখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সব নাগরিকের জন্ম নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক। যদি কেউ তা না করে তাহলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’

যেসব শিক্ষার্থীর বাবা-মায়ের জন্ম নিবন্ধন নেই, তাদের করণীয় কী- এমন প্রশ্নে শামসুল আলম বলেন, ‘যেসব শিক্ষার্থীর অনলাইন জন্ম নিবন্ধন ইতিমধ্যে করা আছে, তাদের বাবা-মায়ের শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র থাকলেই শিক্ষার্থী ইউনিক আইডি পাবে। আর যেসব শিক্ষার্থীর অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন এখনও করা হয়নি, তাদের জন্ম নিবন্ধন করতেও বাবা-মায়ের অনলাইন জন্ম নিবন্ধন লাগবে। এটা আইনে স্পষ্ট উল্লেখ আছে।’

শিক্ষার্থীরা ইউনিক আইডি পাবে কবে?

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের আশা, আগামী বছরের শুরুতে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ১ কোটি ৬০ লাখ শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেয়া সম্ভব হবে ইউনিক আইডি।

জানতে চাইলে মাধ্যমিক পর্যায়ের ইউনিক আইডির প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক মো. শামসুল আলম বলেন, ‘আগামী ৩০ নভেম্বর শেষ হবে ইউনিক আইডির ফরম পূরণের কার্যক্রম। এরপর ডাটা এন্ট্রি দেয়া হবে। আশা করছি, আগামী বছরের শুরুতেই পর্যায়ক্রমে ১ কোটি ৬০ লাখ শিক্ষার্থীর হাতে ইউনিক আইডি তুলে দেয়া সম্ভব হবে। তবে এর আগে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ডিসেম্বরে আমরা কিছু উপজেলায় ইউনিক আইডি বিতরণের পরিকল্পনা করছি।’

জানা গেছে, প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য ইউনিক আইডির ডাটা এন্ট্রির সফটওয়্যার তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। আশা করা হচ্ছে, আগামী মাস থেকে ডাটা এন্ট্রি দেয়া শুরু হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে তৈরি হবে ২ কোটির বেশি ইউনিক আইডি।

প্রাথমিকের ইউনিক আইডির প্রকল্প পরিচালক মো. মঞ্জুরুল আলম প্রধান বলেন, ‘প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি তৈরির জন্য বিদ্যালয় পর্যায়ে আগামী মাস থেকে সফটওয়্যারে ডাটা এন্ট্রি শুরু হবে। এ জন্য সফটওয়্যার তৈরির কাজ শেষপর্যায়ে। এরপর পাইলটিং হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানের ৮০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি তৈরি করা হবে। এরপর সেটি সফল হলে পুরোদমে শুরু হবে কাজ।’

আরও পড়ুন:
ফুল-চকলেটে হলে বরণ ঢাবি শিক্ষার্থীদের
অধ্যাপক মাহবুব আহসানের মৃত্যুতে ঢাবি উপাচার্যের শোক
ঢাবির ‘চ’ ইউনিটের পরীক্ষা আজ, আসনপ্রতি ১১৪ জন
কপিরাইটবিষয়ক নিবন্ধেও ঢাবি শিক্ষকের চৌর্যবৃত্তি
ঢাবিতে সশরীরে ক্লাস শুরু ১৭ অক্টোবর

শেয়ার করুন

জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি পুনর্গঠন

জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি পুনর্গঠন

সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব খালেদা সরকারের সই করা প্রজ্ঞাপন থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, জাতীয় শিক্ষাক্রম নীতিকাঠামো ২০১৭ অনুযায়ী ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি’ পুনর্গঠন করা হলো।

মাধ্যমিক স্তরে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাক্রম প্রণয়ন ও পরিমার্জনের জন্য ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি’ পুনর্গঠন করা হয়েছে।

সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব খালেদা সরকারের সই করা প্রজ্ঞাপন থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, জাতীয় শিক্ষাক্রম নীতিকাঠামো ২০১৭ অনুযায়ী ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি’ পুনর্গঠন করা হলো।

কমিটির সভাপতি হিসেবে রয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব।

সদস্য হিসেবে রয়েছেন অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-১), অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-২), বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের একজন প্রতিনিধি, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর মহাপরিচালক, জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির মহাপরিচালক, জাতীয় পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক আন্ত:শিক্ষা বোর্ডের সমন্বয় সাব কমিটির চেয়ারম্যান, মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের পরিচালক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. অমল কৃষ্ণ হালদার, রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. লতিফা জামান, মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহতাব খানম , আইইআরের অধ্যাপক ড. এম তারিক আহসান, রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ইকবাল রউফ মামুন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আবুল মোমেন, সরকারি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজের অধ্যক্ষ এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম এবং পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের দুই সদস্য।

আরও পড়ুন:
ফুল-চকলেটে হলে বরণ ঢাবি শিক্ষার্থীদের
অধ্যাপক মাহবুব আহসানের মৃত্যুতে ঢাবি উপাচার্যের শোক
ঢাবির ‘চ’ ইউনিটের পরীক্ষা আজ, আসনপ্রতি ১১৪ জন
কপিরাইটবিষয়ক নিবন্ধেও ঢাবি শিক্ষকের চৌর্যবৃত্তি
ঢাবিতে সশরীরে ক্লাস শুরু ১৭ অক্টোবর

শেয়ার করুন

প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে জাপানের ৩৯ কোটি টাকা অনুদান

প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে জাপানের ৩৯ কোটি টাকা অনুদান

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন ও জাইকার ঢাকা প্রতিনিধি ইউহো হায়াকাওয়া অনুদানের চুক্তিতে সই করেন। জাপানের পক্ষে ঢাকায় দেশটির রাষ্ট্রদূত ইটো নাওকি এক্সচেঞ্জ অব নোটে সই করেন। ছবি: নিউজবাংলা

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ২০১৮-২০২৩ মেয়াদে বাস্তবায়িত হচ্ছে চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪)। কর্মসূচির আওতায় জাপান সরকারের এ সব অনুদান প্রাথমিকের পাঠ্যক্রম সংশোধন, পাঠ্যপুস্তক উন্নয়ন, শিক্ষকদের ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়ন এবং এবং বাজেট ব্যবস্থাপনা খাতে ব্যবহার করা হবে। প্রথম দুই বছর জাপান এ প্রকল্পে ৭৫ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছিল।

প্রাথমিক পর্যায়ের পাঠ্যক্রম সংশোধন, পাঠ্যপুস্তক উন্নয়ন, শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নে ৩৯ কোটি টাকা অনুদান দিচ্ছে জাপান।

‘চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪)’ শীর্ষক প্রকল্পে তৃতীয় বছরের জন্য ৫০০ মিলিয়ন জাপানি ইয়েন অনুদান দেবে দেশটি। যা বাংলাদেশে মুদ্রায় প্রায় ৩৯ কোটি টাকা।

এই বিষয়ে সোমবার দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে এক্সচেঞ্জ অব নোট এবং অনুদান চুক্তিতে সই করেন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন চুক্তিতে সই করেন। জাপানের পক্ষে ঢাকায় দেশটির রাষ্ট্রদূত ইটো নাওকি এক্সচেঞ্জ অব নোটে (দলিলাদি) সই করেন।

অনুদান চুক্তিতে সই করেন জাইকার ঢাকা প্রতিনিধি ইউহো হায়াকাওয়া।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ২০১৮-২০২৩ মেয়াদে বাস্তবায়িত হচ্ছে চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪)। কর্মসূচির আওতায় জাপান সরকারের এ সব অনুদান প্রাথমিকের পাঠ্যক্রম সংশোধন, পাঠ্যপুস্তক উন্নয়ন, শিক্ষকদের ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়ন এবং এবং বাজেট ব্যবস্থাপনা খাতে ব্যবহার করা হবে। প্রথম দুই বছর জাপান এ প্রকল্পে ৭৫ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছিল।

এর আগে জাপান সরকার ২০১১-২০১৮ মেয়াদে ‘তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৩)’ প্রকল্প বাস্তবায়নে ২৪৯০ মিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা প্রায় ১৯৮ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছিল।

জাপান বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে আর্থিক সহায়তা প্রদানকারী একক বৃহত্তম দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগী। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত দেশটি প্রায় ১৬ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছে।

আরও পড়ুন:
ফুল-চকলেটে হলে বরণ ঢাবি শিক্ষার্থীদের
অধ্যাপক মাহবুব আহসানের মৃত্যুতে ঢাবি উপাচার্যের শোক
ঢাবির ‘চ’ ইউনিটের পরীক্ষা আজ, আসনপ্রতি ১১৪ জন
কপিরাইটবিষয়ক নিবন্ধেও ঢাবি শিক্ষকের চৌর্যবৃত্তি
ঢাবিতে সশরীরে ক্লাস শুরু ১৭ অক্টোবর

শেয়ার করুন

ঝরে পড়া শিশুদের স্কুলে ফেরাতে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

ঝরে পড়া শিশুদের স্কুলে ফেরাতে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

করোনা মহামারিতে স্কুল বন্ধ থাকায় শিশু শিক্ষার্থীরা যোগ দিয়েছে কারখানার কাজে। ফাইল ছবি

আলোচনায় করোনাকালে বাল্যবিয়ের শিকার কন্যাশিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুদের স্কুলে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গে নানাধরণের সুপারিশমালা উঠে এসেছে। এরমধ্যে রয়েছে ছাত্রছাত্রী ও তাদের পরিবারের জন্য প্রণোদনা সুবিধা বাড়ানো, শিক্ষা খাতে সরকারের বাজেট শতকরা ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করা, সার্বক্ষণিক মনিটরিং, বিয়ের পরেও ছাত্রীর জন্য উপবৃত্তি চালু রাখা ও অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা স্তর নির্ধারণ করা।

করোনাকালে ঝরে পড়া শিশুদের স্কুলে ফিরিয়ে আনতে খুব দ্রুত সম্মিলিতভাবে ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি ও বাস্তবায়ন প্রয়োজন। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারি, বেসরকারি সংস্থা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

সোমবার নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

আলোচনায় করোনাকালে বাল্যবিয়ের শিকার কন্যাশিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুদের স্কুলে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গে নানা ধরনের সুপারিশমালা উঠে এসেছে। এরমধ্যে রয়েছে ছাত্রছাত্রী ও তাদের পরিবারের জন্য প্রণোদনা সুবিধা বাড়ানো, শিক্ষা খাতে সরকারের বাজেট শতকরা ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করা, সার্বক্ষণিক মনিটরিং, বিয়ের পরেও ছাত্রীর জন্য উপবৃত্তি চালু রাখা, অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা স্তর নির্ধারণ করা, সোশ্যাল সেফটি নেট প্রোগ্রামে ছাত্রছাত্রী ও তাদের পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত এবং সর্বোপরি তথ্য-উপাত্তগত ব্যবধানে নিরসন।

অনুষ্ঠানে সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম।

এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফম, বাংলাদেশ এর আহ্বায়ক এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ সিপিডি’র ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য স্বাগত বক্তব্যে বলেন, স্কুলের পরিচালনা পর্ষদকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে এবং সেই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি সকল সেক্টরের মধ্যে একটা সমন্বয় ঘটাতে হবে।

বিশেষ বক্তা হিসেবে গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশিদা কে চৌধুরী বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ মাসে ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে ভর্তি হয়েছে এবং সরকার জানে যে কতজন শিশু ভর্তি হয়েছে। কিন্তু সেই তথ্য সরকার আমাদের জানায়নি। এছাড়া কতজন ছাত্রছাত্রী অ্যাসাইমেন্ট গ্রহণ করেছে ও জমা দিয়েছে, সে সম্পর্কিত কোন তথ্যও আমরা পাইনি। এই সমস্যা সমাধানে সঠিক তথ্য উপাত্ত সবচেয়ে প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে করোনা মহামারির সময়ে বাল্যবিয়ের শিকার নীলফামারির মেয়ে আদুরী এবং ঝুঁকিপূণ শিশু শ্রমে নিয়োজিত কিশোর তাইজুল ইসলাম তাদের জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানায়।

ওয়েবিনারটি পরিচালনা করেন সিনিয়র রিসার্চ ফেলো, সিপিডি তৌফিকুল ইসলাম খান। ওয়েবিনারে সরকার গৃহীত বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে এবং মাঠ পর্যায় থেকে সরাসরি কর্ম অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব নাজমা শেখ, মাউশি পরিচালক মো. বেলাল হোসাইন, ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচীর সাবেক পরিচালক ড. শফিকুল ইসলাম এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. মো. নান্নু মোল্লা।

আরও পড়ুন:
ফুল-চকলেটে হলে বরণ ঢাবি শিক্ষার্থীদের
অধ্যাপক মাহবুব আহসানের মৃত্যুতে ঢাবি উপাচার্যের শোক
ঢাবির ‘চ’ ইউনিটের পরীক্ষা আজ, আসনপ্রতি ১১৪ জন
কপিরাইটবিষয়ক নিবন্ধেও ঢাবি শিক্ষকের চৌর্যবৃত্তি
ঢাবিতে সশরীরে ক্লাস শুরু ১৭ অক্টোবর

শেয়ার করুন

জবি শিক্ষার্থীদের এনআইডি কার্যক্রমের উদ্বোধন

জবি শিক্ষার্থীদের এনআইডি কার্যক্রমের উদ্বোধন

সোমবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন শুরু হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক বলেন, ‘আমি যখন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছি তখন করোনার জরুরি অবস্থা চলছিল। সরকার থেকেও টিকা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ঘোষণা দেয়া হলো। তারপর সব সহকর্মীদের সহযোগিতা নিয়ে টিকার জন্য কাজ করেছি।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসেই শিক্ষার্থীদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিবন্ধন কার্যক্রমে উদ্বোধন করা হয়েছে। যেসব শিক্ষার্থী এখনও এনআইডি পাননি, তারা এখান থেকেই নিবন্ধন করে অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি সংগ্রহ করতে পারবেন।

সোমবার থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত তিনদিন ব্যাপী সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে এই কার্যক্রম চলবে।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে নিবন্ধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমি যখন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছি তখন করোনার জরুরি অবস্থা চলছিল। সরকার থেকেও টিকা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ঘোষণা দেয়া হলো। তারপর সব সহকর্মীদের সহযোগিতা নিয়ে টিকার জন্য কাজ করেছি।’

উপাচার্য বলেন, ‘টিকা দেয়ার জন্য এনআইডির প্রয়োজন। আমাদের অনেক শিক্ষার্থীরই এনআইডি নেই। আমরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরপরই তারা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।’

২১ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে টিকাদান কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়। টিকার রেজিস্ট্রেশনে এনআইডির প্রয়োজন হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচন করে এনআইডি নিবন্ধনের উদ্যোগ নেয়।

আরও পড়ুন:
ফুল-চকলেটে হলে বরণ ঢাবি শিক্ষার্থীদের
অধ্যাপক মাহবুব আহসানের মৃত্যুতে ঢাবি উপাচার্যের শোক
ঢাবির ‘চ’ ইউনিটের পরীক্ষা আজ, আসনপ্রতি ১১৪ জন
কপিরাইটবিষয়ক নিবন্ধেও ঢাবি শিক্ষকের চৌর্যবৃত্তি
ঢাবিতে সশরীরে ক্লাস শুরু ১৭ অক্টোবর

শেয়ার করুন

জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডে আবেদনের সময় বাড়ল ৭ দিন

জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডে আবেদনের সময় বাড়ল ৭ দিন

গত বছর জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা ও সিআরআই চেয়ারম্যান সজীব ওয়াজেদ জয় যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দেন। ফাইল ছবি

সমাজকে বদলে দিতে তরুণদের নেয়া নানা উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে ২০১৪ সাল থেকে এই পুরস্কার দিয়ে আসছে ইয়াং বাংলা, যা সিআরআই এর একটি প্রতিষ্ঠান। এবার পঞ্চমবারের মতো দেয়া হবে এ পুরস্কার। জমা পড়া আবেদনগুলো যাচাই বাছাই হবে ৩১ অক্টোবরের পর।

জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডের জন্য আবেদনের সময়সীমা আরও ৭ দিন বাড়িয়েছে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)। বর্ধিত সময়সীমা অনুযায়ী চলতি মাসের শেষ দিন অর্থাৎ ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এই পুরস্কারের জন্য আবেদন করা যাবে।

জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডের উদ্যোক্তা সিআরআই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সমাজকে বদলে দিতে তরুণদের নেয়া নানা উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে ২০১৪ সাল থেকে এই পুরস্কার দিয়ে আসছে ইয়াং বাংলা, যা সিআরআই এর একটি প্রতিষ্ঠান। এবার পঞ্চমবারের মতো দেয়া হবে এ পুরস্কার।

বিজ্ঞপ্তিতে সিআরআই জানায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া অনলাইনে নিবন্ধন চলবে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত। ইয়াং বাংলার ওয়েবসাইটে (http://jbya.youngbangla.org) এ পুরস্কারের জন্য আবেদনের করা যাবে। জমা পড়া আবেদনগুলো যাচাই বাছাই হবে ৩১ অক্টোবরের পর।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ বছর থেকে উন্নয়ন কর্মসূচি ও প্রকল্প, জননীতিতে গবেষণা ও উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা ও সৃজনশীলতা এই চার নীতিতে আজীবন সম্মাননা দেয়া হবে।

এ ছাড়া নেতৃত্বগুণ, সেবার মানসিকতা ও উদ্যোগ এবং গবেষণার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতাত্তোর দেশ গঠনে ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদেরও আজীবন সম্মাননা দেয়া হবে। পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগ ও গোষ্ঠী ভিত্তিক উন্নয়নে দুইটি বিভাগে দেয়া হবে ১০টি পুরস্কার।

১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের সংগঠন বা সংগঠকেরা এখানে আবেদন করতে পারবেন। যে সংগঠন দেশে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু, হিজরা, দলিত ও অনগ্রসর সমাজকে নিয়ে কাজ করে এবং নারীর ক্ষমতায়ন, শিশু অধিকার, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষমতায়ন, পিছিয়ে পড়া মানুষের ক্ষমতায়ন, যুব উন্নয়ন, অতি দরিদ্র মানুষের ক্ষমতায়নে ভূমিকা রেখেছে তারা ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডের’ জন্য আবেদন করতে পারবেন।

এ ছাড়া যেসব যুব সংগঠন তাদের কার্যক্রমের মধ্যে দিয়ে কোন গোষ্ঠী বা এলাকার উন্নতির জন্য কাজ করছে, ‘ইন্টিগ্রেটেড কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট’ এর অধীনে তারাও আবেদন করতে পারবেন।

এবার ছয়টি বিষয়ে আবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে এগুলো হচ্ছে মাদকবিরোধী সচেতনতা অভিযান, পরিবেশ রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তন রোধে কার্যক্রম, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং জরুরী প্রতিক্রিয়া, স্বাস্থ্যসেবা ও সচেতনতা, শিক্ষা, সামাজিক -সাংস্কৃতিক উদ্যোগ। এ বছর থেকে যুক্ত হচ্ছে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু, হিজরা, দলিত ও অনগ্রসর সমাজকে নিয়ে কাজ করার বিষয়টি।

গত বছর জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, বাংলাদেশ তার প্রতিষ্ঠাকালীন ধর্মনিরপেক্ষতার মূলনীতি থেকে সরে যেতে পারে না।

তিনি বলেন, ‘আমরা যে ধর্মেরই হই না কেন, আমরা সবাই বাঙালি।’

গত বছর ১৭ নভেম্বর ইয়াং বাংলা আয়োজিত ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান অনুষ্ঠানে সেন্টার ফর রিচার্স অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) চেয়ারম্যান সজীব ওয়াজেদ জয় যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে তরুণ সংগঠকদের উদ্দেশ্যে জয় বলেন, ‘প্রতিবার আপনাদের দেখে আমি অনুপ্রাণিত হই।’

আরও পড়ুন:
ফুল-চকলেটে হলে বরণ ঢাবি শিক্ষার্থীদের
অধ্যাপক মাহবুব আহসানের মৃত্যুতে ঢাবি উপাচার্যের শোক
ঢাবির ‘চ’ ইউনিটের পরীক্ষা আজ, আসনপ্রতি ১১৪ জন
কপিরাইটবিষয়ক নিবন্ধেও ঢাবি শিক্ষকের চৌর্যবৃত্তি
ঢাবিতে সশরীরে ক্লাস শুরু ১৭ অক্টোবর

শেয়ার করুন

শিক্ষার্থীদের চুল কর্তন: ফারহানার বিরুদ্ধে প্রমাণ মিলেছে

শিক্ষার্থীদের চুল কর্তন: ফারহানার বিরুদ্ধে প্রমাণ মিলেছে

শিক্ষার্থীদের চুল কাটায় অভিযুক্ত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন। ফাইল ছবি

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও ট্রেজারার আব্দুল লতিফ সোমবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তদন্ত কমিটি সুন্দর প্রতিবেদন দিয়েছে। কমিটির সদস্যরা সুন্দরভাবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছে। তার (ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়টির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি।

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও ট্রেজারার আব্দুল লতিফ সোমবার নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘তদন্ত কমিটি সুন্দর প্রতিবেদন দিয়েছে। কমিটির সদস্যরা সুন্দরভাবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছে। তার (ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

উপাচার্য আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমাদের আলাপ-আলোচনা হয়েছে। আমরা ঐকমত্যে পৌঁছেছি। তারা প্রশাসনিক ভবনের তালা খুলে দিয়েছে। আমাদের কিছু নিয়ম-কানুন বাকি আছে, এটা শেষ হলে আমরা সিন্ডিকেটের সভা ডাকব। আশা করছি, ৮-১০ দিনের সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হবে।’

তদন্ত কমিটি কী তার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে, এমন প্রশ্নে আব্দুল লতিফ বলেন, ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ।’

অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটির এক সদস্যও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সদস্য বলেন, ‘তদন্ত কমিটি ৩৪ জন শিক্ষার্থীর বক্তব্য নিয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রয়েছেন। এ ছাড়া প্রত্যক্ষদর্শী ৫ জন শিক্ষক, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের একজন সহকারী রেজিস্ট্রার এবং ৫ জন কর্মচারী রয়েছেন। সবার বক্তব্যেই ফারহানার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। আমরা তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছি। এখন বিষয়টি সিন্ডিকেট দেখবে।’

ফারহানা ইয়াসমিনের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে গত ২২ অক্টোবর রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকা অফিসে সিন্ডিকেট সভা ডাকা হয়েছিল। এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা হলেও সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয় সভা।

বিষয়টি জানার পর রোববার সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের কান্দাপাড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক ভবনের সামনে অপেক্ষমাণ শিক্ষার্থীরা জরুরি বৈঠক করে ফের আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেন। তারা অনশন কর্মসূচি ও লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা দেন।

শিক্ষার্থীরা দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে শাহজাদপুরের কান্দাপাড়ার প্রশাসনিক ভবনের সামনে অনশন এবং বিসিক বাসস্ট্যান্ড এলাকার শাহজাদপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের একাডেমিক ভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি শুরু করেন।

এতে আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

এর আগে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ট্রেজারার আব্দুল লতিফের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার হলে ঢোকার সময় বিভাগের শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন দরজায় কাঁচি হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। শিক্ষার্থীরা হলে ঢোকার সময় যাদের মাথার চুল হাতের মুঠোর মধ্যে ধরা যায়, তাদের সামনের অংশের বেশ খানিকটা কেটে দেন তিনি। এভাবে ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেন ওই শিক্ষক।

ওই ঘটনা নিয়ে শিক্ষার্থীরা ফেসবুকে পোস্ট দিলে বিষয়টি ভাইরাল হয়।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ফারহানা ইয়াসমিন শিক্ষার্থীদের গালাগালি করে পরীক্ষার হলে যেতে বাধ্য করেন। এর প্রতিবাদ করলে নাজমুল হাসান তুহিন নামের প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে গালাগালি করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের হুমকি দেন।

ওই ঘটনার পর ‘অপমান সইতে না পেরে’ তুহিন রাতে দ্বারিয়াপুরের শাহ মুখদুম ছাত্রাবাসের নিজ কক্ষে দরজা আটকে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। সহপাঠীরা বিষয়টি টের পেয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন তার বিভাগের চেয়ারম্যান পদ, সহকারী প্রক্টর পদ ও প্রক্টরিয়াল বোর্ডের সদস্য পদ থেকে লিখিতভাবে পদত্যাগ করেন।

ঘটনার তদন্তে পরে রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা ফেরদৌস হিমেলকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

আরও পড়ুন:
ফুল-চকলেটে হলে বরণ ঢাবি শিক্ষার্থীদের
অধ্যাপক মাহবুব আহসানের মৃত্যুতে ঢাবি উপাচার্যের শোক
ঢাবির ‘চ’ ইউনিটের পরীক্ষা আজ, আসনপ্রতি ১১৪ জন
কপিরাইটবিষয়ক নিবন্ধেও ঢাবি শিক্ষকের চৌর্যবৃত্তি
ঢাবিতে সশরীরে ক্লাস শুরু ১৭ অক্টোবর

শেয়ার করুন