ন্যামভুক্ত দেশে সম্পদের গতিশীলতা চায় বাংলাদেশ

ন্যামভুক্ত দেশে সম্পদের গতিশীলতা চায় বাংলাদেশ

ন্যামের ৬০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। ছবি: সংগৃহীত

ন্যাম সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ন্যামভুক্ত দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন, দারিদ্র্য কমানো ও এসডিজির প্রধান লক্ষ্য অর্জনে আয়ের আরও ন্যায়সংগত বণ্টনে সম্পদের গতিশীলতার ওপর কম বিধিনিষেধ আরোপ করা অপরিহার্য।

করোনাভাইরাস মহামারি-পরবর্তী সময়ে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের (ন্যাম) সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মূলধন, প্রযুক্তি ও শ্রমের অবাধ চলাচল চেয়েছে বাংলাদেশ।

৬০তম ন্যাম সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের উদ্বৃতি দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মঙ্গলবার সকালে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

১৯৬১ সালে সাবেক যুগোস্লাভিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে জন্ম হয় ন্যামের। সেই বেলগ্রেডেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৬০তম ন্যাম সম্মেলন।

ন্যাম সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ন্যামভুক্ত দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন, দারিদ্র্য কমানো ও এসডিজির প্রধান লক্ষ্য অর্জনে আয়ের আরও ন্যায়সংগত বণ্টনে সম্পদের গতিশীলতার ওপর কম বিধিনিষেধ আরোপ করা অপরিহার্য।

কোভিড মহামারি-পরবর্তী অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সাউথ সাউথ কো-অপারেশন গড়ে তুলতে দক্ষিণের দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান মোমেন।

তিনি বলেন, ‘মহামারি-পরবর্তী টেকসই পুনরুদ্ধারে একসঙ্গে কাজ করার জন্য বৈশ্বিক দক্ষিণের পররাষ্ট্র, অর্থ ও উন্নয়ন মন্ত্রীদের একটি ফোরাম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দক্ষিণ-দক্ষিণ এবং ত্রিভুজীয় সহযোগিতা জোরদার করতে হবে।

‘ফোরামটি দক্ষিণাঞ্চলের দেশগুলোর সম্ভাব্যতা অন্বেষণ এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, প্রযুক্তি ও সম্পদ ভাগ করে নেয়ার একটি প্ল্যাটফর্ম সরবরাহ করবে।’

সাম্য, মানবতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে ন্যামের প্রতিষ্ঠিত নীতির প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন মোমেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের শান্তিকেন্দ্রিক পররাষ্ট্রনীতি জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের চেতনার প্রতিধ্বনি দেয়।’

ন্যামের প্রাসঙ্গিকতার ওপর জোর দিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন, সন্ত্রাসবাদ, সহিংসতা ইত্যাদি উদীয়মান চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তুলে ধরেন মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘ নির্যাতনের কথা। রোহিঙ্গা ইস্যুতে জরুরি পদক্ষেপ নিতে ন্যামের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা প্রাপ্তিতে বৈশ্বিক বৈষম্য নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভ্যাকসিন উন্নয়নে আমাদের অসাধারণ অগ্রগতি হলেও ভ্যাকসিন জাতীয়করণ এবং ভ্যাকসিন বণ্টনে রাজনীতির কারণে মারাত্মক ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আমরা ব্যর্থ হয়েছি।’

অবিলম্বে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনকে বৈশ্বিক ও জনসাধারণের সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে সবার জন্য এর প্রাপ্যতা নিশ্চিতের আহ্বান জানান তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেলগ্রেডে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের ৬০তম বার্ষিকী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

এতে নেপাল, কুয়েত, সৌদি আরব, ভারত, ইরাক, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, জিম্বাবুয়ে, উগান্ডা, গেবন, গাম্বিয়া, সুদান, হাইতি, অ্যাঙ্গোলা, ফিলিস্তিনসহ ৭০টির বেশি দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।

জাতিসংঘের মহাসচিব এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতিও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন:
নিজেদের চেহারা দেখুন, যুক্তরাজ্যকে মোমেন
জামালকে ফেরাতে সরকারের দ্বারস্থ সাইফ
করোনা নিয়ন্ত্রণ, বাংলাদেশের জন্য খুলছে দ. কোরিয়ার দুয়ার
আল-জাজিরার প্রতিবেদন মিথ্যা: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কুমিল্লার ঘটনার হোতা মোবাইল ব্যবহার করছেন না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কুমিল্লার ঘটনার হোতা মোবাইল ব্যবহার করছেন না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। ছবি: নিউজবাংলা

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘হয়তো যারা তাকে পাঠিয়েছিল তারা তাকে লুকিয়ে রাখতে পারে। আমরা মূল হোতাকে চিহ্নিত করেছি।’

দুর্গাপূজার সময় কুমিল্লায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মূল হোতা মোবাইল ব্যবহার করছেন না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। বলেছেন, এর ফলে তার অবস্থানও জানা যাচ্ছে না।

সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মূল হোতার নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, ‘হয়তো যারা তাকে পাঠিয়েছিল তারা তাকে লুকিয়ে রাখতে পারে। আমরা মূল হোতাকে চিহ্নিত করেছি।’

কুমিল্লা নগরীর নানুয়ার দিঘিরপাড়ের পূজামণ্ডপে গত ১৩ অক্টোবর ভোরে হনুমানের মূর্তির ওপর পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা।

ওই মণ্ডপের পাশাপাশি আক্রান্ত হয় নগরীর আরও বেশ কিছু পূজামণ্ডপ। পরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে চাঁদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায়।

দুর্গাপূজার সময় এবং পরে দেশের কয়েকটি জেলায় যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা দেখা গেছে সেগুলোকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যা ঘটেছে বিচ্ছিন্ন ঘটনা। কারও মধ্যে কোনো আতঙ্ক নেই। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক আছে, নিয়ন্ত্রণে আছে।’

বিস্তারিত আসছে…

আরও পড়ুন:
নিজেদের চেহারা দেখুন, যুক্তরাজ্যকে মোমেন
জামালকে ফেরাতে সরকারের দ্বারস্থ সাইফ
করোনা নিয়ন্ত্রণ, বাংলাদেশের জন্য খুলছে দ. কোরিয়ার দুয়ার
আল-জাজিরার প্রতিবেদন মিথ্যা: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

শেয়ার করুন

মুজিববর্ষ উপলক্ষে ৫৫ রেলওয়ে স্টেশন আধুনিকায়ন

মুজিববর্ষ উপলক্ষে ৫৫ রেলওয়ে স্টেশন আধুনিকায়ন

ময়মনসিংহের গফরগাঁও স্টেশনের আধুনিকায়নের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আগে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বক্তব্য দেন রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। ছবি: নিউজবাংলা

রেলমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা রেলের উন্নয়নে অনেকগুলো পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। মুজিববর্ষ উপলক্ষে আমরা ৫৫টা স্টেশন আধুনিকায়নের কাজ হাতে নিয়েছি। ঢাকা, জয়দেবপুর, ময়মনসিংহ, জামালপুরসহ কয়েকটি স্টেশন উন্নয়নের কাজ আমরা হাতে নিয়েছি।’

মুজিববর্ষ উপলক্ষে ৫৫টি রেলওয়ে স্টেশনের আধুনিকায়ন হবে বলে জানিয়েছেন রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন।

ময়মনসিংহের গফরগাঁও স্টেশনের আধুনিকায়নের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আগে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে দেয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

রেলওয়ের উন্নয়নে সরকারের নেয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা রেলের উন্নয়নে অনেকগুলো পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। মুজিববর্ষ উপলক্ষে আমরা ৫৫টা স্টেশন আধুনিকায়নের কাজ হাতে নিয়েছি। ঢাকা, জয়দেবপুর, ময়মনসিংহ, জামালপুরসহ কয়েকটি স্টেশন উন্নয়নের কাজ আমরা হাতে নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আজকে ট্রেন নিয়ে আমরা এসেছি কয়েকটি জায়গার স্টেশনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য। এই যে রেললাইনগুলো, এর আরও উন্নয়ন দরকার। এই রেললাইনে যেন ১০০ কিলোমিটারের বেশি বেগে রেল চলতে পারে সেই কাজও শুরু হবে।’

সুজন বলেন, ‘আমরা আজ বের হয়ে রেলের কোথায় কী প্রয়োজন, সেটা দেখে যাচ্ছি। শুধু মিটারগেজ নয়, এর পরে আমাদের যে রেলব্যবস্থা, সেখানে মিটারগেজ থেকে ব্রডগেজে রূপান্তর করতেছি। অনেক জায়গা নিয়ে ব্রডগেজ ট্রেন এবং ১২০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার বেগে চলবে।’

গফরগাঁও স্টেশনের উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘গফরগাঁও স্টেশনে ফুটওভার ব্রিজ ও আরেকটি প্ল্যাটফর্ম করে দেবো। এ ছাড়া রেলের সমান করে প্ল্যাটফর্ম উঁচু হবে, যার ফলে বয়স্ক, নারী ও শিশুদের ট্রেনে উঠতে ঝামেলা না হয়। ভবিষ্যতে আর কোনো সিঁড়ি ব্যবহার করতে হবে না।’

আরও পড়ুন:
নিজেদের চেহারা দেখুন, যুক্তরাজ্যকে মোমেন
জামালকে ফেরাতে সরকারের দ্বারস্থ সাইফ
করোনা নিয়ন্ত্রণ, বাংলাদেশের জন্য খুলছে দ. কোরিয়ার দুয়ার
আল-জাজিরার প্রতিবেদন মিথ্যা: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

শেয়ার করুন

বাংলাদেশ সকল ধর্মের, সকল বর্ণের: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ সকল ধর্মের, সকল বর্ণের: প্রধানমন্ত্রী

কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের নবনির্মিত অফিস ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: নিউজবাংলা

স্বাধীনতা যুদ্ধে কোনো ধর্মীয় পরিচয় দেখা হয়নি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন দিয়েছেন সেখানে কিন্তু কোনো ধর্ম দেখে না। যারা রক্ত দিয়েছেন তাদের সকলের রক্ত, যে যে ধর্মের হোক একাকার হয়ে মিশে গেছে। কাজেই এটা সবার মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ সকল ধর্মের, সকল বর্ণের, সব শ্রেণি পেশার মানুষের। সকলেই একটা মর্যাদা নিয়ে চলবে, সম্মান নিয়ে চলবে, সেটাই আমাদের স্মরণ রাখতে হবে।’

শারদীয় দুর্গাপূজার সময় ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক সহিংসতাকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। এখানে সব ধর্মের লোকদের সম্প্রীতি নিয়ে বাস করতে হবে।

কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের নবনির্মিত অফিস ভবনের উদ্বোধনী আয়োজনে বৃহস্পতিবার দুপুরে গণভবন প্রান্ত থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সরকার প্রধান।

বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনাতেই থাকবে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশে আমরা অসাম্প্রদায়িক সমাজে বসবাস করি। সেখানে সকল ধর্মের সঙ্গে আমাদের সম্প্রীতি থাকবে। সম্প্রীতি নিয়েই আমাদের চলতে হবে। যুগ যুগ ধরেই কিন্তু সকল ধর্মের মানুষ আমরা একসঙ্গে বসবাস করে আসছি।’

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কোনো ধর্মীয় পরিচয় দেখা হয়নি বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন দিয়েছেন সেখানে কিন্তু কোনো ধর্ম দেখে না। যারা রক্ত দিয়েছেন তাদের সকলের রক্ত, যে যে ধর্মের হোক একাকার হয়ে মিশে গেছে। কাজেই এটা সবার মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ সকল ধর্মের, সকল বর্ণের, সব শ্রেণি পেশার মানুষের। সকলেই একটা মর্যাদা নিয়ে চলবে, সম্মান নিয়ে চলবে, সেটা আমাদের স্মরণ রাখতে হবে।’

কুমিল্লার ঘটনাটি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কুমিল্লায় যে ঘটনা ঘটে গেছে সেটা খুব দুঃখজনক। কারণ মানবধর্মকে সম্মান করা এটা ইসলামের শিক্ষা। নিজের ধর্ম পালনের অধিকার যেমন সবার আছে, অন্যের ধর্মকেও কেউ হেয় করতে পারে না। এটা ইসলাম শিক্ষা দেয় না। আর নিজের ধর্মকে সম্মান করার সঙ্গে সঙ্গে অন্যের ধর্মকেও সম্মান করতে হয়। আর অন্যের ধর্মকে যদি হেয় করা হয়, তাহলে নিজের ধর্মকে অসম্মান করা হয়।’

কুমিল্লার ঘটনায় অন্য ধর্মকে অসম্মান করতে গিয়ে পবিত্র কোরআন শরীফ অবমাননা করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আমাদের পবিত্র কোরআন শরীফকে অবমাননা করেছে অন্যের ধর্মকে অসম্মান করতে গিয়ে। এটাই হচ্ছে সব থেকে দুঃখজনক। আমি এটাই বলব, যার যার নিজের ধর্মের সম্মান নিজেকে রক্ষা করতে হবে।’

আইন নিজের হাতে তুলে না নিতেও সবাইকে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আরেকটি কথা, আইন কেউ হাত তুলে নেবে না। কেউ যদি অপরাধ করে সে যেই হোক অপরাধীদের বিচার হবে। আমাদের সরকার সেই বিচার করবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের নবী করিম (সা.) বলেছেন, ধর্ম নিয়ে কেউ বাড়াবাড়ি করবে না। আমাদের সবারই সে কথাটা মেনে চলতে হবে। সে কথাটা স্মরণ করতে হবে। সেই কথাটা জানতে হবে। তাহলেই আমাদের ইসলামের প্রকৃত শিক্ষাটা পাব। প্রতিটি ধর্মই শান্তির বাণীর কথা বলে। সকলেই শান্তি চায়।’

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘আমরা জানি যে, সবসময় এরকম একেকটা ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করা হয়। অথচ বাংলাদেশটা আজকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা মুজিববর্ষ উদযাপন করছি, আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছি। এই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে, মুজিববর্ষে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। এই মর্যাদা রক্ষা করে আমাদের উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে হবে।’

সম্প্রীতি রক্ষায় আওয়ামী লীগকে নির্দেশনা

দেশের কোথাও যাতে সাম্প্রদায়িক সংঘাত না হয়, সেজন্য সারা দেশের আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের এলাকায় এলাকায় নজরদারি বাড়াতে নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

তিনি বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। প্রত্যেকটা এলাকায় এলাকায় আমাদের নেতা-কর্মীদেরকে নজরদারি বাড়াতে হবে এবং শান্তি সম্মেলন, শান্তি মিছিল, শান্তির সভা করতে হবে।’

সারা দেশে সম্প্রীতির ব্যবস্থা নিতেও দলীয় কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান বঙ্গবন্ধু কন্যা। বলেন, ‘যাতে কোনো প্রকার সংঘাত দেখা না দেয়। কারণ এই মাটিতে প্রতিটা ধর্মের মানুষ, সে মুসলমান হোক, হিন্দু হোক, খ্রিস্টান হোক, বোদ্ধ হোক সকলেই যেন ভালোভাবে বাঁচতে পারে।

‘আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মনে রাখতে হবে, আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছে মানুষের সেবা করতে।’

এসময় কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের নতুন কার্যালয় প্রসঙ্গে দলটির প্রধান বলেন, ‘যেহেতু এটা কুমিল্লা শহরে, এটাকে শুধু মহানগর অফিস বললে হবে না, এটা কুমিল্লা আওয়ামী লীগ অফিসই বলতে হবে।’

আরও পড়ুন:
নিজেদের চেহারা দেখুন, যুক্তরাজ্যকে মোমেন
জামালকে ফেরাতে সরকারের দ্বারস্থ সাইফ
করোনা নিয়ন্ত্রণ, বাংলাদেশের জন্য খুলছে দ. কোরিয়ার দুয়ার
আল-জাজিরার প্রতিবেদন মিথ্যা: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

শেয়ার করুন

একাত্তরে গণহত্যা: ময়মনসিংহের ১২ জনকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

একাত্তরে গণহত্যা: ময়মনসিংহের ১২ জনকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

প্রসিকিউটর তাপস কান্তি বল জানান, ‘প্রাথমিক তদন্তে হত্যা-গণহত্যা, অপহরণ, নির্যাতন, লুণ্ঠনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় আমরা তাদের গ্রেপ্তারে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করি। আদালত আমাদের আবেদন শুনানি করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।’

একাত্তরে হত্যা, গণহত্যা, অপহরণ, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ময়মনসিংহ জেলার ১২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

রাষ্ট্রপক্ষের এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি শাহিনুর ইসলামসহ তিন সদস্যের আদালত এ আদেশ দেয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান বাদল ও তাপস কান্তি বল।

আসামিদের গ্রেপ্তারের স্বার্থে তাদের নাম বলতে রাজি হননি প্রসিকিউটররা। শুধু এটুকু জানিয়েছেন, আসামি সবাই ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জের বাসিন্দা।

প্রসিকিউটর তাপস কান্তি বল জানান, ১২ আসামির বিরুদ্ধে হত্যা-গণহত্যা, অপহরণ, নির্যাতন, লুণ্ঠনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্ত চলছে।

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে এসব অভিযোগ আসায় তাদের গ্রেপ্তার করতে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করি। আদালত আমাদের আবেদন শুনানি করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। তারা ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানার বাসিন্দা।’

আরও পড়ুন:
নিজেদের চেহারা দেখুন, যুক্তরাজ্যকে মোমেন
জামালকে ফেরাতে সরকারের দ্বারস্থ সাইফ
করোনা নিয়ন্ত্রণ, বাংলাদেশের জন্য খুলছে দ. কোরিয়ার দুয়ার
আল-জাজিরার প্রতিবেদন মিথ্যা: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

শেয়ার করুন

দেশ উন্নয়নশীল হলে বাণিজ্য সুবিধা কমবে না, বাড়বে

দেশ উন্নয়নশীল হলে বাণিজ্য সুবিধা কমবে না, বাড়বে

রাজধানীর পূর্বাচলের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: নিউজবাংলা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়মনীতির আওতায় যেসব বিকল্প সহায়তা পাওয়া যাবে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে সেগুলো আমরা নেব, নিতে পারব। কাজেই আমার মনে হয় এখানে কোনো অসুবিধা হবে না।…সুবিধা বঞ্চিত হওয়ার থেকেও সুবিধা অর্জন করতে পারব আরও অনেক অনেক বেশি।’

উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হলে বাংলাদেশ বাণিজ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে না, বরং আরও অনেক বেশি সুবিধা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাজধানীর পূর্বাচলে বাণিজ্য মেলার স্থায়ী ঠিকানা ‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার’-এর উদ্বোধনের সময় ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে এ কথা বলেন সরকারপ্রধান।

অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়মনীতির আওতায় যেসব বিকল্প সহায়তা পাওয়া যাবে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে সেগুলো আমরা নেব, নিতে পারব। কাজেই আমার মনে হয় এখানে কোনো অসুবিধা হবে না।

‘অনেকের হয়তো একটু সন্দেহ থাকতে পারে, উন্নয়নশীল দেশ হলে বোধ হয় অনেক সুবিধা বঞ্চিত হব। সুবিধা বঞ্চিত হওয়ার থেকেও সুবিধা অর্জন করতে পারব আরও অনেক অনেক বেশি।’

সুবিধা অর্জন করার সুযোগটা ‘বড় বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেখানে আমরা আরও সুযোগ পাব রপ্তানি সম্প্রসারণ করতে, দেশের বিনিয়োগ সম্প্রসারণ করতে।’

উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বাইরে বিনিয়োগের সম্ভাবনাও সরকার তৈরি করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আমরা আরেকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, অনেক দেশে আমরাও বিনিয়োগ করতে পারি। আমাদের ব্যবসায়ীরাও বিনিয়োগ করতে পারেন। বেসরকারি খাতও বিনিয়োগ করতে পারবে। আমি ভবিষ্যতে সেই সুযোগটাও সৃষ্টি করব। তার জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

নিজের উন্নয়ন দর্শন তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের ধারাবাহিকতা ছিল বলেই দেশের উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘২০০৯ থেকে ধারাবাহিকভাবে এই ২০২১ সাল পর্যন্ত সরকারে আছি বলেই প্রকৃতপক্ষে উন্নয়নটা আমরা পরিকল্পিতভাবে করতে পেরেছি। যার জন্য আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল বাংলাদেশের মর্যাদাটা পেয়েছে। এটাই আমাদের বড় একটা অর্জন।

‘সেজন্য আমি বাংলাদেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানাই, কৃতজ্ঞতা জানাই। যারা আমাদের প্রতি নির্বাচনে সহযোগিতা করেছেন, সমর্থন দিয়েছেন, ভোট দিয়েছেন তাদেরও আমি ধন্যবাদ জানাই।’

মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনে ‘কিপ্টামি’ নয়

দেশের রপ্তানি পণ্যের সংখ্যা ও বাজার বাড়াতে মানসম্মত পণ্য উৎপাদনে উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীদের পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সেখানে কিন্তু কিপ্টামি চলবে না।’

এ সময় রপ্তানি বাজারে টিকে থাকতে ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা তৈরির ওপরও তাগিদ দেন সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘যখনই আপনারা কোনো পণ্য উৎপাদন করবেন সময়ের চাহিদার সঙ্গে মিলিয়ে বা কোন দেশের জন্য করছেন, সেখানকার চাহিদার সঙ্গে মিলিয়ে উন্নতমানের (পণ্য) উৎপাদন করতে হবে। সেখানে কিন্তু কিপ্টামি করলে চলবে না। কাজেই সেটা যদি করতে পারেন, বাজারে টিকে থাকতে পারবেন।’

পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন নতুন বাজার তৈরিতে উদ্যোক্তাদের নজর দেয়ার পরামর্শও দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমাদের যত শিল্প খাত আছে, তাদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। সেই প্রস্তুতিতে আমি এতটুকু বলতে পারি, আপনাদের সরকারের পক্ষ থেকে যত ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন, সেই সহযোগিতাটা আপনারা পাবেন। সেটা আপনাদের আমরা দেব, কিন্তু আপনাদের সেই উদ্যোগ থাকতে হবে।

‘ব্যাবসায়িক সম্প্রদায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো তাদের সবাইকে আমি এই অনুরোধটা করব, আপনারা এই চেষ্টাটা করবেন; আমাদের পণ্যের আরও বহুমুখীকরণ করা, রপ্তানি বাস্কেটটা আরও বৃদ্ধি করা এবং কোন ধরনের পণ্য কোন দেশে আমরা রপ্তানি করতে পারি, সে বিষয়টার ওপর আরও গুরুত্ব দেয়া এবং সেভাবে পণ্য উৎপাদনের ব্যবস্থা নেয়া।’

আরও পড়ুন:
নিজেদের চেহারা দেখুন, যুক্তরাজ্যকে মোমেন
জামালকে ফেরাতে সরকারের দ্বারস্থ সাইফ
করোনা নিয়ন্ত্রণ, বাংলাদেশের জন্য খুলছে দ. কোরিয়ার দুয়ার
আল-জাজিরার প্রতিবেদন মিথ্যা: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

শেয়ার করুন

যৌন হয়রানি: ১ যুগেও রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় রিট

যৌন হয়রানি: ১ যুগেও রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় রিট

প্রতীকী ছবি

রিটে রায় বাস্তবায়নে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং রায় বাস্তবায়নের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, এ মর্মে রুল চাওয়া হয়েছে।

শিক্ষাঙ্গনসহ দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নারী ও শিশুদের যৌন হয়রানি প্রতিরোধে এক যুগ আগে দেয়া উচ্চ আদালতের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় রিট করা হয়েছে।

রিটে রায় বাস্তবায়নে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং রায় বাস্তবায়নের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, এ মর্মে রুল চাওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি রায় বাস্তবায়নের একটি প্রতিবেদন জমার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে।

রিট করার বিষয়টি বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করে আইনজীবী শাহীনুজ্জামান বলেন, এক যুগ আগের দেয়া রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পক্ষে এ রিট করা হয়েছে।

রিটে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, বার কাউন্সিল ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ছাড়াও ৪০টি মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটকারী এ আইনজীবী জানান, ২০০৮ সালের ৭ আগস্ট বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী কর্মস্থল এবং শিক্ষাঙ্গনে নারী ও শিশুদের যৌন হয়রানি প্রতিরোধে দিকনির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট আবেদন করেছিলেন। ওই রিটের শুনানি শেষে ২০০৯ সালের ১৪ মে বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের (বর্তমানে প্রধান বিচারপতি) নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় দিয়েছিল।

তিনি বলেন, ওই রায়ে হাইকোর্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সব প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটিসহ বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছিল। কিন্তু এক যুগেও এ রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তাকে চ্যালেঞ্জ করে ফের রিট করা হয়।

আরও পড়ুন:
নিজেদের চেহারা দেখুন, যুক্তরাজ্যকে মোমেন
জামালকে ফেরাতে সরকারের দ্বারস্থ সাইফ
করোনা নিয়ন্ত্রণ, বাংলাদেশের জন্য খুলছে দ. কোরিয়ার দুয়ার
আল-জাজিরার প্রতিবেদন মিথ্যা: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

শেয়ার করুন

শিশু হত্যার আসামি জাহাঙ্গীরের মৃত্যুদণ্ডের রিভিউ খারিজ

শিশু হত্যার আসামি জাহাঙ্গীরের মৃত্যুদণ্ডের রিভিউ খারিজ

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘নির্দোষ একটা শিশুকে হত্যা করা হলো। যার কোনো অপরাধ নাই, কিচ্ছু নাই। একটা বাচ্চাকে মেরে ফেললেন। মামলার মেরিটে আমরা সন্তোষ নই। তা ছাড়া, মামলায় আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আছে। শিশুটির বয়স মাত্র ৯ বছর। এই বাচ্চাতো অপরাধ করার গণ্ডির মধ্যেই যায়নি।’

শিশু হত্যার দায়ে আসামি মো. জাহাঙ্গীরের মৃত্যুদণ্ড সাজার রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আপিল বিভাগ।

প্রধান বিচারপতিসহ চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ বৃহস্পতিবার রিভিউ আবেদনটি খারিজ করে দেয়।

রায়ের সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘নির্দোষ একটা শিশুকে হত্যা করা হলো। যার কোনো অপরাধ নাই, কিচ্ছু নাই। একটা বাচ্চাকে মেরে ফেললেন। মামলার মেরিটে আমরা সন্তোষ নয়। তা ছাড়া মামলায় আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আছে। শিশুটির বয়স মাত্র ৯ বছর। এই বাচ্চাতো অপরাধ করার গণ্ডির মধ্যেই যায়নি।’

পরে আদালত রিভিউ আবেদন খারিজ করে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার আদেশ দেয়।

আদালতে আসামি জাহাঙ্গীরের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। তার সঙ্গে ছিলেন এ বি এম বায়েজীদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ।

আইনজীবী এ বি এম বায়েজীদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আদালত শুনানি নিয়ে রিভিউ আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন। তবে আমাদের যথেষ্ট গ্রাউন্ড আছে। মক্কেলের সঙ্গে কথা বলে তারা চাইলে দ্বিতীয়বার রিভিউ দায়ের করব।’

এর আগে গত ৮ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ শিশু আরাফাত হোসেনকে হত্যার অভিযোগে আসামি মো. জাহাঙ্গীরের আপিল ডিসমিস করে মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখে।

পরে গত ১০ অক্টোবর রিভিউ আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী।

মামলা সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালী সুধারাম উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর ৯ বছর বয়সী শিশু আরাফাত হোসেনকে ২০০৩ সালের ১৩ মার্চ তার বাড়ি থেকে খেলনা পিস্তল দেখিয়ে স্থানীয় কবরস্থানে নিয়ে হত্যা করেন।

এ ঘটনায় করা মামলায় বিচারিক আদালত ২০০৮ সালের আসামি জাহাঙ্গীরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় দেয়। এরপর হাইকোর্টও সেই মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। আপিল বিভাগেও মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল থাকে।

আরও পড়ুন:
নিজেদের চেহারা দেখুন, যুক্তরাজ্যকে মোমেন
জামালকে ফেরাতে সরকারের দ্বারস্থ সাইফ
করোনা নিয়ন্ত্রণ, বাংলাদেশের জন্য খুলছে দ. কোরিয়ার দুয়ার
আল-জাজিরার প্রতিবেদন মিথ্যা: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

শেয়ার করুন