ষষ্ঠীতে শুরু দুর্গাপূজা

ষষ্ঠীতে শুরু দুর্গাপূজা

ষষ্ঠীপূজার সকালে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পুণ্যার্থীদের আরাধনা। ছবি: নিউজবাংলা

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পুরোহিত ধর্মদাশ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘শ্বশুরবাড়ি কৈলাস থেকে কন্যারূপে দেবী দুর্গা বাপের বাড়ি বেড়াতে মর্ত্যলোকে এসেছেন। সঙ্গে চার সন্তান সরস্বতী, লক্ষ্মী, গণেশ ও কার্তিক। আমরা তাকে বরণ করে নিয়েছি। আর এর মাধ্যমেই শুরু হলো দুর্গাপূজার মূল আয়োজন।’

উলুধ্বনি, শঙ্খ, ঘণ্টা আর ঢাক-ঢোলের বাজনার মধ্য দিয়ে শুরু হলো ষষ্ঠীপূজা। আর এর মাধ্যমেই শুরু হলো বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা ।

সোমবার সকাল সোয়া ৮টায় রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে দেবীর ষষ্ঠাদি কল্পারম্ভের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ষষ্ঠীর দিনের পূজা।

এ সময় ঢাক-ঢোলের বাজনা, কাঁসা, শঙ্খের আওয়াজ এবং ভক্তদের উলুধ্বনিতে দেবী দুর্গাকে পৃথিবীতে স্বাগত জানানো হয়। সন্ধ্যায় হবে দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পুরোহিত ধর্মদাশ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘শ্বশুরবাড়ি কৈলাস থেকে কন্যারূপে দেবী দুর্গা বাপের বাড়ি বেড়াতে মর্ত্যলোকে এসেছেন। সঙ্গে চার সন্তান সরস্বতী, লক্ষ্মী, গণেশ ও কার্তিক। আমরা তাকে বরণ করে নিয়েছি। আর এর মাধ্যমেই শুরু হলো দুর্গাপূজার মূল আয়োজন।’

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের মণ্ডপ সোমবার সন্ধ্যায় উন্মুক্ত করা হবে বলে জানান পুরোহিত ধর্মদাশ চট্টোপাধ্যায়।

ষষ্ঠীপূজা উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সকাল থেকেই মানুষের ঢল নামে। এ সময় উৎসব-আনন্দে মেতে ওঠে শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সী মানুষ।

মন্দিরের প্রবেশ পথে নারী ও পুরুষের জন্য রয়েছে আলাদা লাইন। সবার জন্য মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

ষষ্ঠীর সকালে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পূজা দিতে আসা লোকনাথ সরকার বলেন, ‘হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। ষষ্ঠীপূজার সকালে ঢাকেশ্বরীতে না এলে পূজার আনন্দ অনুভব করা যায় না।’

একই কথা বললেন তমাল পাল, ‘দুর্গাপূজায় সবচেয়ে বেশি আনন্দ হয় ষষ্ঠীপূজায়। কেননা এই দিনেই দেবী দূর্গা পৃথিবীতে আসেন। তাই গত কয়েক বছর ধরে ষষ্ঠীপূজায় ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আসি।

পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবার দেবী মর্ত্যে এসেছেন ঘোড়ায় চেপে। পুরাণ অনুযায়ী, দুর্গা ঘোড়ার পিঠে চড়ে এলে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে যুদ্ধ, গৃহযুদ্ধ, ঝড়, রাজনৈতিক অস্থিরতা ইত্যাদি পরিস্থিতি সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। আর ১৫ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে দেবী মর্ত্য ছাড়বেন দোলায় চড়ে। দোলায় গমনেও বাড়বে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্বিপাক।

পঞ্জিকা অনুযায়ী, সোমবার মহাষষ্ঠীতে সকালে দুর্গা দেবীর ষষ্ঠাদি কল্পারম্ভ এবং ষষ্ঠীবিহিত পূজা, সন্ধ্যায় দেবীর বোধন। মঙ্গলবার মহাসপ্তমীবিহিত পূজা, বুধবার মহাষ্টমীবিহিত পূজা, বৃহস্পতিবার মহানবমীবিহিত পূজা এবং শুক্রবার দশমীবিহিত পূজা সমাপন এবং প্রতিমা বিসর্জন।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত জানান, এ বছর সারা দেশে ৩২ হাজার ১১৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছর সারা দেশে দুর্গাপূজার মণ্ডপের সংখ্যা ছিল ৩০ হাজার ২১৩টি।

ঢাকা মহানগরে এবার পূজা হবে ২৩৭টি মণ্ডপে। এর মধ্যে সূত্রাপুর থানায় সবচেয়ে বেশি ২৫টি মণ্ডপ, কোতোয়ালি থানায় ২১টি, ওয়ারীতে ১৬টি, গেন্ডারিয়ায় ১৪টি, হাজারীবাগে ১৩টি, তুরাগে ১২টি, বাড্ডায় ১০টি, বনানীতে ৯টি, মোহাম্মদপুরে ৯টি, দারুসসালাম ও গাবতলীতে ৮টি, ডেমরায় ৮টি এবং তেজগাঁও থানায় ৬টি মণ্ডপ রয়েছে।

তবে করোনা মহামারির কারণে এবারও মেনে চলতে হবে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি। মণ্ডপ এলাকায় বসবে না মেলা, থাকবে না আরতি প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন।

ষষ্ঠীতে ঢাকা মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপে, ঢাকার রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, সিদ্ধেশ্বরী মন্দির, রমনা কালী মন্দির, স্বামীবাগের লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম ও মন্দির, রামসীতা মন্দির, জয়কালী মন্দিরসহ বিভিন্ন মণ্ডপে ষষ্ঠী পূজার আয়োজন করা হয়েছে।

পুরাণ অনুযায়ী, ব্রহ্মার বর পেয়ে মানুষ ও দেবতাদের অজেয় হয়ে উঠেছিলেন মহিষাসুর। ফলে তাকে পরাজিত করার জন্য ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর যে মহামায়ারূপী নারী শক্তি তৈরি করেন তিনিই দেবী দুর্গা। দশভূজা দুর্গা টানা ৯ দিন যুদ্ধ করে মহিষাসুরকে বধ করেন।

আরও পড়ুন:
ভোলার ৩০ মন্দিরে জেলা পরিষদের অনুদান
‘দুর্গাপূজায় তেমন ঝুঁকি দেখছি না, আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছি না’
তন্না-স্বর্ণার তুলির ছোঁয়ায় প্রতিমায় জীবন্ত দেবী
বর্ণিল সাজে প্রস্তুত নারায়ণগঞ্জের ২১৩ মণ্ডপ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আসছে আরও দুই বেসরকারি এয়ারলাইনস

আসছে আরও দুই বেসরকারি এয়ারলাইনস

এয়ার অ্যাসট্রা

দুটি এয়ারলাইনস যাত্রা শুরু করলে দেশে সক্রিয় বেসরকারি এয়ারলাইনসের সংখ্যা দাঁড়াবে চার। এর ফলে এভিয়েশন খাতে অপারেটরদের মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নতুন বছরের শুরুতেই দেশের আকাশে পাখা মেলতে পারে নতুন দুটি বেসরকারি এয়ারলাইনস। এগুলোর নাম হলো ফ্লাই ঢাকা ও এয়ার অ্যাসট্রা।

এর মধ্যে একটিকে ইতিমধ্যে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) দিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। আরেকটির এনওসিও খুব শিগগিরই হয়ে যাবে বলে জানিয়েছে বেবিচক।

এ দুটি এয়ারলাইনস যাত্রা শুরু করলে দেশে সক্রিয় বেসরকারি এয়ারলাইনসের সংখ্যা দাঁড়াবে চার। আর এর ফলে এভিয়েশন খাতে অপারেটরদের মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বেবিচকের ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড রেগুলেশন বিভাগের সদস্য চৌধুরী এম জিয়া উল কবির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুটি এয়ারলাইনস এনওসির জন্য আবেদন করেছিল। এর মধ্যে ফ্লাই ঢাকার আবেদন যাচাই-বাছাই করে তাদের এনওসি দেয়া হয়েছে। এয়ার অ্যাসট্রার আবদেন আমরা যাচাই-বাছাই করছি। খুব শিগগির হয়তো তাদেরও এনওসি দেয়া হবে।’

এনওসি পাওয়া ফ্লাই ঢাকার মূল মালিকানায় রয়েছেন সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তার সাথে আরও কয়েকজন ব্যবসায়ীর বিনিয়োগ রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটিতে। আর এনওসির অপেক্ষায় থাকা এয়ার অ্যাসট্রার মালিকানায় রয়েছেন এক জাপান প্রবাসী ব্যবসায়ী ও তার পরিবারের সদস্যরা।

এনওসি পাওয়ার পরেই যে এয়ারলাইনস দুটি ফ্লাইট শুরু করতে পারবে, তা নয়। তাদের আরও বেশ কয়েকটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তবে এনওসি পাওয়ার কারণে উড়োজাহাজ ভাড়ায় আনার প্রক্রিয়া শুরু করা সহজ হবে।

খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশের ঘোষণা দেয়ার কথা জানিয়েছেন ফ্লাই ঢাকার এক কর্মকর্তা।

এয়ার অ্যাসট্রার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আসিফ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এনওসি পাওয়ার পরে চারটি লম্বা প্রক্রিয়া শেষ করতে পারলে এয়ারওর্দিনেস সার্টিফিকেট পাওয়া যাবে বলে আশা করছি। সব কিছু যদি ঠিক থাকে, তাহলে হয়তো আগামী বছরের জানুয়ারিতেই আমরা আকাশে পাখা মেলতে পারব।’

বেবিচকের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো এয়ারলাইনস ফ্লাইট শুরুর পর প্রথম এক বছর আবশ্যিকভাবে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এক বছর পর আন্তর্জাতিক গন্তব্যে উড়ালের অনুমতি চাইতে পারে এয়ারলাইনস।

নতুন দুই এয়ারলাইনসের কার্যক্রম শুরুর প্রক্রিয়াকে এভিয়েশন খাতের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক হিসেবে দেখছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এ টি এম নজরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রতি বছর দেশের এভিয়েশনের বাজার যেভাবে বাড়ছে, তাতে ক্যাপাসিটি বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। দুটি এয়ারলাইনস যুক্ত হওয়ার মানে আরও ফ্লাইট যুক্ত হওয়া, পাশাপাশি ক্যাপাসিটি বেড়ে যাওয়া।

‘এর ফলে অপারেটরদের মধ্যে প্রতিযোগিতাও ভালো হবে। এখন প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ মানুষ আকাশপথে ভ্রমণ করেন, এর ফলে এটি হয়তো ২৫ লাখ হবে।’

তবে এ ক্ষেত্রে এয়ারলাইনসগুলোর সামনে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। এ টি এম নজরুল বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি সংকট হবে পাইলট ও ইঞ্জিনিয়ারের। পাশাপাশি আগামী ডিসেম্বরে জেট ফুয়েলের দাম বৃদ্ধির একটি সম্ভাবনা আছে। এটিও তাদের মাথায় রাখতে হবে। কয়েক বছর লাভের আশায় না থেকে যাত্রীদের আস্থা অর্জনেই মনোযোগী হওয়া উচিত।’

গত ২৫ বছরে দেশে ১০টি বেসরকারি এয়ারলাইনস যাত্রা শুরু করলেও এখন টিকে আছে মাত্র দুটি। এ সময়ের মধ্যে একে একে পাখা গুটিয়েছে অ্যারো বেঙ্গল, এয়ার পারাবত, রয়্যাল বেঙ্গল, এয়ার বাংলাদেশ, জিএমজি এয়ারলাইনস, বেস্ট এয়ার, ইউনাইটেড এয়ার ও রিজেন্ট এয়ার।

সবশেষ করোনার মধ্যে গত বছরের মার্চ থেকে ফ্লাইট বন্ধ রেখেছে আরেকটি এয়ারলাইনস রিজেন্ট এয়ার। কয়েক দফা চালুর কথা বললেও আর ফ্লাইটে ফেরেনি এয়ারলাইনসটি। বন্ধ হয়ে যাওয়া এয়ারলাইনসগুলোর মধ্যে জিএমজি, রিজেন্ট ও ইউনাইটেড আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও চালাত।

দেশে বর্তমানে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ছাড়াও ফ্লাইটে রয়েছে বেসরকারি এয়ারলাইনস ইউএস বাংলা ও নভো এয়ার।

আরও পড়ুন:
ভোলার ৩০ মন্দিরে জেলা পরিষদের অনুদান
‘দুর্গাপূজায় তেমন ঝুঁকি দেখছি না, আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছি না’
তন্না-স্বর্ণার তুলির ছোঁয়ায় প্রতিমায় জীবন্ত দেবী
বর্ণিল সাজে প্রস্তুত নারায়ণগঞ্জের ২১৩ মণ্ডপ

শেয়ার করুন

করোনার টিকা উৎপাদনে ঢাবি ও এএফসি বায়োটেকের সমঝোতা

করোনার টিকা উৎপাদনে ঢাবি ও এএফসি বায়োটেকের সমঝোতা

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। ছবি- নিউজবাংলা

কোভিড-১৯ টিকার উন্নয়ন ও উৎপাদন ছাড়াও এই স্মারকের আওতায় জিন প্রকৌশল ও জীব প্রযুক্তি বিষয়ক গবেষণাসহ বিভিন্ন ওষুধ তৈরি এবং জীব বিজ্ঞানের উৎকর্ষ সাধনে যৌথ গবেষণা পরিচালিত হবে।

কোভিড-১৯ টিকার উন্নয়ন ও উৎপাদনের লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র (CARS) এবং এএফসি এগ্রো বায়োটেক লিমিটেডের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

সোমবার উপাচার্য লাউঞ্জে এই সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

সমঝোতার আওতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র (CARS) এবং এএফসি এগ্রো বায়োটেক লিমিটেড যৌথভাবে কোভিড-১৯ টিকা (DUBD-vac)-এর উন্নয়ন ও উৎপাদনসহ অন্যান্য টিকা উদ্ভাবনে কাজ করবে।

সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ এবং এএফসি এগ্রো বায়োটেক লিমিটেডের নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবঃ) ড. মো. সারওয়ার হোসেন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতায় স্বাক্ষর করেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের জন্য এএফসি এগ্রো বায়োটেক কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। অন্তর্ভুক্তিমূলক গবেষণার মাধ্যমে দেশ ও জাতি উপকৃত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কোভিড-১৯ টিকার উন্নয়ন ও উৎপাদন ছাড়াও এই স্মারকের আওতায় জিন প্রকৌশল ও জীব প্রযুক্তি বিষয়ক গবেষণাসহ বিভিন্ন ওষুধ তৈরি এবং জীব বিজ্ঞানের উৎকর্ষ সাধনে যৌথ গবেষণা পরিচালিত হবে। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের দুইটি বায়োটেক কোম্পানি জেএনডি বায়োটেক এবং ইমার্জেন্ট বায়োটেক সহযোগিতা প্রদান করবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও প্রবাসী বিজ্ঞানীদের ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রে জেএনডি বায়োটেক এবং ইমার্জেন্ট বায়োটেক কোম্পানি দুটি পরিচালিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
ভোলার ৩০ মন্দিরে জেলা পরিষদের অনুদান
‘দুর্গাপূজায় তেমন ঝুঁকি দেখছি না, আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছি না’
তন্না-স্বর্ণার তুলির ছোঁয়ায় প্রতিমায় জীবন্ত দেবী
বর্ণিল সাজে প্রস্তুত নারায়ণগঞ্জের ২১৩ মণ্ডপ

শেয়ার করুন

১৩ রাজাকারের বিরুদ্ধে ১৬ অভিযোগের তদন্ত সম্পন্ন

১৩ রাজাকারের বিরুদ্ধে ১৬ অভিযোগের তদন্ত সম্পন্ন

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ছবি- সংগৃহীত

১৯৭১ সালে কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর ও রাজারহাট থানায় লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে ১৩ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে আটক রয়েছেন ১১ জন, পলাতক দুইজন।

একাত্তরে সংঘটিত গণহত্যা, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর ও রাজারহাট থানার ১৩ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পন্ন করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির প্রধান সানাউল হক এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, শিগগিরই তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশন বরাবর দাখিল করা হবে। এটি ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার ৮০তম প্রতিবেদন।

তদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়, ১৯৭১ সালে কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর ও রাজারহাট থানায় লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে ১৩ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে আটক রয়েছেন ১১ জন, পলাতক দুইজন।

আটক আসামিরা হলেন- মো. নুরুল ইসলাম ওরফে নুর ইসলাম (৭১), এছাহাক আলী ওরফে এছাহাক কাজী (৭৩), মো. ইসমাইল হোসেন (৭০), মো. ওছমান আলী (৭০), মো. আব্দুর রহমান (৬৫), মো. আব্দুর রহিম ওরফে রহিম মওলানা (৬৫), মো. শেখ মফিজুল হক (৮১), মকবুল হোসেন ওরফে দেওয়ানী মকবুল (৭২), মো. ছাইয়েদুর রহমান মিয়া ওরফে মো. সাইদুর রহমান (৬৪), মো. শাহজাহান আলী (৬৪) ও আব্দুল কাদের (৬৭)।

আসামিদের বিরুদ্ধে ১৬টি অভিযোগের মধ্যে প্রথম অভিযোগের ঘটনাস্থল কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর থানাধীন পাঁচপীর রেলস্টেশন। ১৯৭১ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আনুমানিক ১০টার দিকে এই স্টেশনের আর্মি ও রাজাকার ক্যাম্পের ইনচার্জ আ. হামিদ মওলানা ওরফে দাগ্গিল মওলানার (মৃত) নেতৃত্বে ১৫/১৬ জন সশস্ত্র রাজাকার পাকিস্তানি আর্মি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধার পিতা ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জব্বার আনছারী ওরফে আনছারী মাস্টার ও নিরীহ পনির উদ্দিন মুন্সিকে বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে যান। পরে স্টেশন ক্যাম্পে তাদের আটক রেখে রাতভর নির্যাতন করা হয়। পরদিন সন্ধ্যায় দুজনকেই গুলি করে হত্যার পর পাঁচপীর রেলওয়ে স্টেশনের পাশে মাটিচাপা দেয়া হয়।

অভিযোগ-২: ১৯৭১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ফজরের পর ডাগ্গিল মওলানার নেতৃত্বে রাজাকার নুর ইসলামসহ ১৫/১৬ জন দুর্গাপুর গ্রামে হামলা করে ১০ জনকে আটক করেন। এর মধ্যে মাকরু শেখকে গুলি করে হত্যা করে পাকিস্তানি আর্মি। বাকি সবাইকে রাজাকার বাহিনীতে যোগ দিতে তওবা করিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।

অভিযোগ-৩: ১৯৭১ সালের ১ সেপ্টেম্বর ভোর ৫টায় দাগ্গিল মওলানার নেতৃত্বে মফিজসহ ১৫/১৬ জন সশস্ত্র রাজাকার ৫/৬ জন পাক আর্মি নিয়ে উলিপুর থানার ঢেকিয়ারাম গ্রামে স্বাধীনতার সপক্ষের মানুষদের ওপর হামলা চালান। পরে সেই গ্রামে মুক্তিযোদ্ধার পিতা রজব আলী সরকারকে হাত ও চোখ বেঁধে অপহরণ ও নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর তার মরদেহ পানিতে ফেলে দেয়া হয়।

অভিযোগ-৪: ১৯৭১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর দাগ্গিল মওলানার ঘনিষ্ঠ সহযোগী কাজী এছাহাক দলবল সহ ৫/৬ জন পাক আর্মি নিয়ে আওয়ামী লীগ করার কারণে উলিপুর থানার গোড়াই পাঁচপীর গ্রামের নশির উদ্দিনকে আটক করেন। পরে তাকে নিয়ে স্বাধীনতার সপক্ষের এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আ. জলিল সরকারের বাড়িতে গিয়ে জলিলকে না পেয়ে তার ছোট ভাই আব্দুল মজিদকে আটক করেন। গুলি করে হত্যার আগে তাকে দিয়েই কবর খুঁড়িয়েছিল রাজাকার বাহিনী।

অভিযোগ-৫: ১৯৭১ সালের ১০ অক্টোবর দাগ্গিল মওলানার নেতৃত্বে ইসমাইলসহ ১৫/১৬ জন সশস্ত্র রাজাকার ও ১০/১২ জন পাক আর্মি আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত গোড়াই পাঁচপীর গ্রামে হামলা করে। পরে সেই গ্রামের আকবর আলী সরকার ও আজিজার রহমানকে আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের নির্যাতনের পর গুলি করে হত্যা করা হয়।

অভিযোগ-৬: ১৯৭১ সালের ৯ অক্টোবর ওসমানসহ ১৫/১৬ জন রাজাকার পাক আর্মি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা জহুর উদ্দিন ব্যাপারীর বাড়িতে গিয়ে তাকে অপহরণের পর নির্যাতন ও গুলি করে হত্যা করে।

অভিযোগ-৭: ১৯৭১ সালের ২৫ অক্টোবর রাজাকার আব্দুর রহমান পাকিস্তানি আর্মি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ফুলজার হোসেনকে আটক করেন এবং ফুলজারের পিতা হুসেন আলী ও মাতা গোজন বেওয়াকে নির্যাতন করেন। এ ছাড়া মোখছেদ আলীসহ ফুলজার হোসেনের দুই ভাইকে ধরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করেন।

অভিযোগ-৮: ১৯৭১ সালের ১০ কার্তিক মুক্তিযোদ্ধা আ. গফুর ও আমির উদ্দিন বাবা-মাকে দেখতে উলিপুরের লঘরটারি গ্রামে যান। গোপন এই সংবাদ পেয়ে দাগ্গিল মওলানার নেতৃত্বে রাজাকার মো. আব্দুল বারী দলবলসহ ১০/১২ জন পাক আর্মিকে সঙ্গে নিয়ে লঘরটারী গ্রামে হামলা করেন। পরে মুক্তিযোদ্ধা আ. গফুর ও আজির উদ্দিনকে নির্যাতন করে হত্যা করেন এবং তাদের আশ্রয়দাতা পনির উদ্দিনকেও মারপিট করে মারাত্মক আহত করেন।

অভিযোগ-৯: ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন রমজান মাসে অসুস্থ মাকে দেখতে মুক্তিযোদ্ধা মহব্বত আলী বাড়ি গিয়েছিলেন। তবে রাজাকারদের ভয়ে রাতের বেলা সিদ্ধান্ত মালতি বাড়ি গ্রামে হিন্দুদের পরিত্যক্ত বাড়িতে লুকিয়েছিলেন। গোপন এই সংবাদ পেয়ে দাগ্গিল মওলানার নেতৃত্বে রাজাকার মফিজুল হক ও রহিম মাওলানা দলবলসহ ১০/১২ জন পাক আর্মি নিয়ে সিদ্ধান্ত মালতি বাড়ি গ্রামে হামলা করেন। পরে ওই গ্রামে রাজেন্দ্র চন্দ্র রায়ের বাড়ি থেকে মহব্বত আলীকে নিরস্ত্র অবস্থায় আটক করে পাঁচপীর রেলওয়ে স্টেশন আর্মি ও রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়।

অভিযোগ-১০: মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ নেয়ার কারণে ১৯৭১ সালের ১০ নভেম্বর দুপুরে রাজাকার মকবুল ১০/১২ জন পাক আর্মি নিয়ে মো. মফিজল হক ও তার চাচাতো ভাই নুরুল হোসেনের বাড়িঘর লুটপাট করে পুড়িয়ে দেন।

অভিযোগ-১১: ১৯৭১ সালের ১৩ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা কুড়িগ্রাম জেলার সদর থানায় অর্জুনডারা পাকিস্তানি আর্মি ক্যাম্পে গোলা ছুড়লে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়ে যায়। এই সময়ে পাক আর্মিরা ওসমান মিয়াকে গুলি করে হত্যা করে এবং হিন্দু পাড়ায় আগুন দেয়।

অভিযোগ-১২: ১৯৭১ সালে কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুরে রাজাকাররা পাকিস্তানি আর্মি নিয়ে বেশ কয়েটি গ্রামে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় মোছা. হাছিনা বেগমকে ধর্ষণ ছাড়াও বিপুলসংখ্যক মানুষকে হত্যা করা হয়।

অভিযোগ-১৩: ১৯৭১ সালের ১৩ নভেম্বর রাজাকার নুরুল ইসলাম, কাদের ও ইছাহাক কাজী ১০/১২ জন পাকিস্তানি আর্মি নিয়ে যমুনা গ্রামে হামলা চালান। পরে সেই গ্রামসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে হামলা চালিয়ে ফরহাদ, আছর উদ্দিন ব্যাপারীসহ ২০/২৫ জনকে হত্যা করা হয়।

অভিযোগ-১৪: রাজাকাররা গোড়াই মিয়াজিপাড়া গ্রামে হামলা করে দছির উদ্দিনের বাড়িতে আগুন দেয় এবং নিরীহ তবির উদ্দিনকে হত্যা করে।

অভিযোগ-১৫: ১৯৭১ সালের ২৭ নভেম্বর কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুরে রাজাকার ইছা খলিফা দলবল নিয়ে মফিজ উদ্দিন সরকারকে গুলি করে হত্যা করেন।

অভিযোগ-১৬: দছির উদ্দিন ব্যাপারীকে পাঁচপীর রেলওয়ে স্টেশনে নিয়ে হত্যা করে লাশ মাটিচাপা দেয় রাজাকার বাহিনী।

আরও পড়ুন:
ভোলার ৩০ মন্দিরে জেলা পরিষদের অনুদান
‘দুর্গাপূজায় তেমন ঝুঁকি দেখছি না, আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছি না’
তন্না-স্বর্ণার তুলির ছোঁয়ায় প্রতিমায় জীবন্ত দেবী
বর্ণিল সাজে প্রস্তুত নারায়ণগঞ্জের ২১৩ মণ্ডপ

শেয়ার করুন

ক্ষুধা মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ দক্ষিণ এশিয়া চান প্রধানমন্ত্রী

ক্ষুধা মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ দক্ষিণ এশিয়া চান প্রধানমন্ত্রী

গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন ঢাকায় নবনিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী। ছবি: নিউজবাংলা

পাকিস্তান বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী বলে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানিয়েছেন ঢাকায় নবনিযুক্ত দেশটির হাইকমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী। ১৯৭৪ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে পাকিস্তান সফরের ছবির পেইন্টিং এবং ভিডিও ফুটেজ উপহার দেন প্রধানমন্ত্রীকে।

ক্ষুধা ও নিরক্ষরতার অভিশাপ মুক্ত হতে এবং এ অঞ্চলের জনগণের কল্যাণে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে একযোগে কাজ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ঢাকায় নবনিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সোমবার সরকারপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় পাকিস্তাতি দূত।

বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

পাকিস্তান বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী বলে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন হাইকমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী।

পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পাঠানো একটি বার্তার কপি শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করেন হাইকমিশনার।

১৯৭৪ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে পাকিস্তান সফরের ছবির পেইন্টিং এবং ভিডিও ফুটেজও উপহার দেন প্রধানমন্ত্রীকে।

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক স্মৃতির স্মারক হস্তান্তর করার জন্য দেশটির হাইকমিশনারকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে পাকিস্তান বাংলায় একটি ক্যালিগ্রাফি বই প্রকাশ করায় প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এসময় অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
ভোলার ৩০ মন্দিরে জেলা পরিষদের অনুদান
‘দুর্গাপূজায় তেমন ঝুঁকি দেখছি না, আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছি না’
তন্না-স্বর্ণার তুলির ছোঁয়ায় প্রতিমায় জীবন্ত দেবী
বর্ণিল সাজে প্রস্তুত নারায়ণগঞ্জের ২১৩ মণ্ডপ

শেয়ার করুন

আবাসিকে গ্যাস সংযোগ দিতে নির্দেশ কেন নয়: হাইকোর্ট

আবাসিকে গ্যাস সংযোগ দিতে নির্দেশ কেন নয়: হাইকোর্ট

একইসঙ্গে আবাসিকে গ্যাস সংযোগ দিতে সরকারের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছে।

আবাসিকে গ্যাস সংযোগ না দিয়ে টাকা ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্ত কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে আবাসিকে গ্যাস সংযোগ দিতে সরকারের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি আবেদনকারীদের গ্যাস সংযোগ দিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না সে বিষয়টিও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

চার সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব (জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ), পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান, গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, কর্ণফুলীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাখরাবাদের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. ওয়াজি উল্লাহ, সঙ্গে ছিলেন আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী ও আফরোজা সুলতানা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

গত ২৭ এপ্রিল বিদ্যুৎ, জালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মাসিক সমন্বয় সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ‘আবাসিকে গ্যাস সংযোগ আর চালুর সুযোগ না থাকায় ডিমান্ড নোটের প্রেক্ষিতে যারা টাকা জমা দিয়েছিল তাদেরকে ক্রস চেকের মাধ্যমে টাকা ফেরত দেয়ার কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।’

সরকারের এ সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে চট্টগ্রাম গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি গ্রাহক ঐক্যজোটের সভাপতি আলমগীর নূর ও মহাসচিব একেএম অলিউল্লাহ হক ও সাধারণ গ্রাহক মো. নুরুল আলম গত ৪ অক্টোবর হাইকোর্টে রিট করেন।

রিটকারীদের আইনজীবী ওয়াজি উল্লাহ বলেন, ‘আইনে বলা আছে, ডিমান্ড নোটের (চাহিদাপত্র) প্রেক্ষিতে গ্যাস সংযোগের জন্য টাকা জমা নেয়া হলে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের গ্যাস সংযোগ দিতে সরকার বাধ্য। কিন্তু টাকা জমা নেয়ার পর নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও তাদের গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়নি, বরং তাদের টাকা ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যা আইন সম্মত নয়। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে আমরা আদালতে এসেছি। আদালত শুনানি শেষে রুল জারি করেছেন।’

আরও পড়ুন:
ভোলার ৩০ মন্দিরে জেলা পরিষদের অনুদান
‘দুর্গাপূজায় তেমন ঝুঁকি দেখছি না, আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছি না’
তন্না-স্বর্ণার তুলির ছোঁয়ায় প্রতিমায় জীবন্ত দেবী
বর্ণিল সাজে প্রস্তুত নারায়ণগঞ্জের ২১৩ মণ্ডপ

শেয়ার করুন

বাউল রিতা দেওয়ানসহ ৩ জনের বিচার শুরু

বাউল রিতা দেওয়ানসহ ৩ জনের বিচার শুরু

রিতা দেওয়ানসহ তিনজনের বিচার শুরু হয়েছে সাইবার ট্রাইব্যুনালে। ফাইল ছবি

ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন সোমবার আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী বছরের ২৭ জানুয়ারি সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ঠিক করেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় বাউল রিতা দেওয়ানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দিয়েছে সাইবার ট্রাইব্যুনাল।

এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো আসামিদের বিচার।

ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন সোমবার আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী বছরের ২৭ জানুয়ারি সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ঠিক করেন।

বিচার শুরু হওয়া অপর দুই আসামি হলেন শাজাহান ও ইকবাল হোসেন।

সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর নজরুল ইসলাম শামীম অভিযোগ গঠনের বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন।

আজ তিন আসামিই আদালতে হাজির হন। তাদের পক্ষে আইনজীবীরা অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন করা হয়।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের কাছে জানতে চান, তারা দোষী নাকি নির্দোষ। আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান। এরপর আদালত তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেয়।

গত বছরের ৩১ জানুয়ারি আইনজীবী ইমরুল হাসান রিতা দেওয়ানের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাটি করেন ।

অভিযোগে বলা হয়, ইমরুল ফেসবুক ও ইউটউিবে দেখতে পান, রিতা দেওয়ান একটি পালা গানের আসরে প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করতে গিয়ে ধর্মীয় বিষয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন।

অভিযোগটি তদন্তে পুলিশের বিশেষায়িত সংস্থা পিবিআইয়ের কাছে প্রতিবেদন চান বিচারক।

গত বছরের ২০ অক্টোবর পিবিআইয়ের পরিদর্শক শেখ মো. মিজানুর রহমান তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। সেই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে গত বছরের ২ ডিসেম্বর আদালত রিতা দেওয়ানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পরে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন রিতা।

১ ফেব্রুয়ারি ইউটিউবে ভাইরাল গানটির বিষয়ে ক্ষমা চেয়েছেন রিতা দেওয়ান।

‘গান রুপালি এইচডি’ নামক একটি ইউটিউব চ্যানেলে দুই মেয়েসহ করা একটি ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘এ কথাটা আমার ভুল হয়ে গেছে। মুসলিম ভাই-বোনদের কাছে আমি বলব, আমার ভুল হয়ে গেছে। আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। আমি যেন আর কোনো দিনও ভুল না করি।’

আরও পড়ুন:
ভোলার ৩০ মন্দিরে জেলা পরিষদের অনুদান
‘দুর্গাপূজায় তেমন ঝুঁকি দেখছি না, আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছি না’
তন্না-স্বর্ণার তুলির ছোঁয়ায় প্রতিমায় জীবন্ত দেবী
বর্ণিল সাজে প্রস্তুত নারায়ণগঞ্জের ২১৩ মণ্ডপ

শেয়ার করুন

পাঁচ বছরের কন্যাকে মায়ের জিম্মায় দিতে রুল

পাঁচ বছরের কন্যাকে মায়ের জিম্মায় দিতে রুল

শিশুটির মায়ের পক্ষের আইনজীবী আব্দুল কাইয়ুম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আদালত আমাদের আবেদনের শুনানি নিয়ে রুল জারি করেছে। সেই সঙ্গে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শিশুটিকে বিদেশে নেয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।’

পাঁচ বছরের কন্যাকে দেশের বাইরে না নিতে বাবা মুসফেক আলমের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে ওই সন্তানকে মায়ের জিম্মায় দিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত।

এ সংক্রান্ত এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার বিচারপতি মাহমুদুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

আদালতে মায়ের পক্ষে শুনানি করেন খুরশীদ আলম খান, জেড আই খান পান্না ও এম. আব্দুল কাইয়ুম।

পরে আব্দুল কাইয়ুম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আদালত আমাদের আবেদনের শুনানি নিয়ে রুল জারি করেছেন। সেই সঙ্গে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শিশুটিকে বিদেশে নেয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।’

তিনি বলেন, গত ১৭ মাস ধরে শিশু কন্যাকে মা দেখতে পাচ্ছেন না। সন্তানকে নিজের জিম্মায় চেয়ে মা নিম্ন আদালতে আবেদন করেছিলেন। নিম্ন আদালত শিশুটিকে ভার্চুয়ালি দেখার সুযোগ দিয়ে আবেদনটি খারিজ করে দেয়। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। আদালত শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেয়।

৫ বছরের কন্যা সন্তানকে নিজের জিম্মায় নিতে গত ২০ অক্টোবর হাইকোর্টে আবেদন করেন শিশুটির মা তাসনোভা ইকবাল। আবেদনে সন্তানকে দেড় বছর ধরে দেখতে না দেয়ার অভিযোগ আনা হয়। এ ছাড়া, শিশুকে বিদেশ না নিতে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়।

এতে বিবাদী করা হয় শিশুটির বাবা মুসফেক আলম সৈকত, দাদা পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম ও দাদী মোমতাজ আলমকে।

রাজধানী গুলশানের বাসিন্দা তাসনোভা ইকবালের বাবা ইকবাল কামাল ও মা নাজমা সুলতানা।

আরও পড়ুন:
ভোলার ৩০ মন্দিরে জেলা পরিষদের অনুদান
‘দুর্গাপূজায় তেমন ঝুঁকি দেখছি না, আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছি না’
তন্না-স্বর্ণার তুলির ছোঁয়ায় প্রতিমায় জীবন্ত দেবী
বর্ণিল সাজে প্রস্তুত নারায়ণগঞ্জের ২১৩ মণ্ডপ

শেয়ার করুন