লেজার থেরাপিতে মেদ কমানো কতটা নিরাপদ

লেজার থেরাপিতে মেদ কমানো কতটা নিরাপদ

প্রতীকী ছবি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লেজার থেরাপির মাধ্যমে মেদ কমানো সাময়িক সমাধান। মেদ কমে আসার পর যদি খাওয়া-দাওয়া নিয়ন্ত্রণ না করা হয় তাহলে আগের চেয়ে বেশি মেদ ফিরে আসে দুই সপ্তাহের মধ্যে। খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ না করলে পরবর্তীতে নানা অসুবিধা দেখা দেয়।

নিজেকে সুন্দর ও পরিপাটি রাখতে বাড়ছে লেজার থেরাপি দিয়ে মেদ কমানোর প্রবণতা। এই থেরাপি কতটা নিরাপদ বা কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আছে কি-না এসব নিয়ে জানাশোনা নেই বেশিরভাগ মানুষের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে কারণে মেদ বাড়ছে সেই কারণ চিহ্নিত না করে লেজার থেরাপি দিয়ে মেদ কমিয়ে সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে।

যেভাবে দেয়া হয় থেরাপি

বডি শেপিংয়ের জন্য নন সার্জিক্যাল ট্রিটমেন্ট লেজার থেরাপি। এই ট্রিটমেন্টে আল্ট্রাসাউন্ড ওয়েভের মাধ্যমে শরীরের নির্দিষ্ট স্থানের চর্বি সেলগুলো ভেঙে দেয়া হয়। যার ফলে শরীরের কাঙ্ক্ষিত আকৃতি অর্জন করা সম্ভব হয়। শরীরের প্রকারভেদে চার থেকে পাঁচটি সেশনের মাধ্যমে এই থেরাপি দেয়া হয়। প্রতি সেশনে ১৫ মিনিট করে নির্দিষ্ট স্থানে একটি মেশিনের মাধ্যমে তাপ দিয়ে মেদ ঝরিয়ে দেয়া হয়।

লেজার থেরাপি গ্রহীতাকে অজ্ঞান করার প্রয়োজন হয় না। এই থেরাপি ব্যথাহীন। স্থুলতা অনুযায়ী সুষম খাদ্য তালিকা গ্রহণের পরামর্শ দেয়া হয়।

শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সহযোগী অধ্যাপক শারমিন সুমী নিউজবাংলাকে বলেন, মেদ কমানোর জন্য যে লেজার থেরাপি এটা বিজ্ঞানসম্মতভাবে মেদ কমানো হয়। মেশিনের মাধ্যামে তাপ দিয়ে মেদটা কম সময়ে কমিয়ে আনা সম্ভব। তবে এটা সাময়িক। মেদ কমে আসার পর যদি খাওয়া-দাওয়া নিয়ন্ত্রণ না করা হয় তাহলে আগের চেয়ে বেশি মেদ ফিরে আসে দুই সপ্তাহের মধ্যে। খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ না করলে পরে নানা অসুবিধা দেখা দেয়।

নেই কোনো নীতিমালা

লেজার থেরাপির বিস্তার দেশে দিন দিন বাড়তে থাকলেও এ বিষয়ে এখনও সরকারি কোনো নীতিমালা তৈরি হয়নি।

তবে মেদ কমানোর মেশিন বিদেশ থেকে আনতে হলে তা ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদন লাগে। আর যারা এই সেবা দিচ্ছেন তাদের সনদ নেয়া আছে কি না তা দেখভাল করার দায়িত্ব বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি)। কিন্তু এসব মানা হচ্ছে খুব কমই।

এই থেরাপিতে একজন প্লাস্টিক সার্জন থাকতে হয়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ডার্মাটো সার্জন দিচ্ছেন লেজার থেরাপি। শুধু তাই নয় চিকিৎসক না হয়েও শুধু বিদেশ থেকে দু-এক সপ্তাহের জন্য প্রশিক্ষণ নিয়ে চেম্বার খুলে বসছেন। ফলে এই সেবা দিনে দিনে চলে যাচ্ছে ‘নন মেডিক্যাল’ ব্যক্তিদের হাতে। যে কারণে অনেকে প্রতারিত হচ্ছেন। সেবা গ্রহণকারীদের একদিকে টাকা যাচ্ছে, অন্যদিকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

লেজার থেরাপিতে মেদ কমানো কতটা নিরাপদ

কীভাবে চলছে এই সেবা

কীভাবে লেজার থেরাপি সেবা দেয়া হচ্ছে রাজধানীতে তার খোঁজ নিয়েছে নিউজবাংলা। চলতি বছরের গত মার্চ থেকে এমন সেবা দিয়ে আসছে ‘লেজার লিপো’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। রাজধানীতে তাদের দুইটি শাখা রয়েছে। প্রতিদিন ওই ক্লিনিকে ১৫ থেকে ২০ জনকে এই সেবা দেয়া হচ্ছে। তাদের ক্লিনিকে কোনো প্লাস্টিক সার্জন নেই। দুই ডার্মাটো সার্জন দিয়ে এই চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

যে মেশিন দিয়ে থেরাপি দেয়া হচ্ছে সেটার অনুমোদন ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর থেকে নেয়া হয়েছে কি না জানতে চাওয়া হয় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আবুল কাশেমের কাছে। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘লেজার থেরাপি দেয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন নিতে হয় না।’

প্লাস্টিক সার্জন ছাড়া এই সেবা দিচ্ছেন কেন, এমন প্রশ্নে আবুল কাশেম দেখালেন করোনাভাইরাসের অজুহাত। তিনি বলেন, ‘প্লাস্টিক সার্জন নেয়ার জন্য আলোচনা চলছে। করোনাকালে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকার কারণে আসলে প্লাস্টিক সার্জন নেয়া সম্ভব হয়নি। কিছু দিনের মধ্যে প্লাস্টিক সার্জন হবে।’

খরচ কেমন

লেজার থেরাপি দিয়ে মেদ কমাতে প্রতি সেশনে শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে এক হাজার টাকা নেয়া হয়। তবে বেসরকারিভাবে এই চিকিৎসা নিতে প্রতি সেশনে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। রাজধানীর কয়েকটি লেজার থেরাপি সেন্টার থেকে এ তথ্য জানা যায়।

রোগী ভেদে তিন দিন পরপর মোট পাঁচটি থেকে ছয়টি সেশন করাতে হয়, যাতে ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা খরচ হয়। যে মেশিনের মাধ্যমে লেজার থেরাপি দেয়া হয় সেই মেশিনে একটি রিসিভার রয়েছে। এটি একটানা চার ঘণ্টা ব্যবহার করা যায়।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সারা বিশ্বে লেজার থেরাপি দিয়ে বিভিন্ন রোগের সেবা দেয়া হচ্ছে। দক্ষ চিকিৎসক ও সঠিক উপায়ে লেজার থেরাপি দিলে দ্রুত সময়ে মেদ কমে আসে; বড় কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় না। যেহেতু সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি হয় একটি মেশিনের মাধ্যমে তাই পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও মেশিনের ওপর নির্ভর করে।

প্লাস্টিক সার্জন শারমিন সুমী বলেন, যদি ভালো মেশিন হয় তাহলে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া তেমন হওয়ার সুযোগ নেই। থেরাপি দেয়ার পর অনেক সময় মেদ লিভারে গিয়ে জমে। তাই অনেকের ক্ষেত্রে ফ্যাটি লিভার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

একটি সরকারি হাসপাতালে এই সেবা

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলাতে বেসরকারিভাবে লেজার থেরাপির মাধ্যমে মেদ কমানোর চিকিৎসা সেবা দেয়া হলেও সরকারিভাবে শুধু শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটেই এই সেবা দেয়া হচ্ছে। তবে সবার জন্য নয়। প্রতি সপ্তাহে রোববার নির্বাচিত কিছু মানুষকে এই সেবা দেয়া হয়ে থাকে। হাসপাতালটিতে গত বছর চালু হয় লেজার থেরাপি।

সবার এই সেবা নেয়া উচিত নয় বলে সর্তক করেছেন প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সহযোগী অধ্যাপক শারমিন সুমী। তিনি বলেন, শুধু থেরাপি দিয়ে মেদ কমিয়ে ধরে রাখা সম্ভব নয়, খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। নিয়মিত শরীর চর্চা করতে হয়।

শারমিন সুমী বলেন, ‘আমাদের পর্যবেক্ষণ বলছে, আমাদের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে যারা সেবা নিয়েছেন কিন্তু সঠিকভাবে জীবন পরিচালনা করেননি তাদের এই থেরাপি কাজে আসেনি। এমনকি বেসরকারিভাবে এই সেবা নিয়েছেন কিন্তু পরে আর কোনো কিছু নিয়ন্ত্রণ করেননি তাদের মেদ কমার চেয়ে বেশি বেড়ে গেছে। এমন রোগীও আমরা পেয়েছি।’

লেজার থেরাপিতে মেদ কমানো কতটা নিরাপদ
শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সহযোগী অধ্যাপক শারমিন সুমী

যাদের দরকার লেজার থেরাপি

প্লাস্টিক সার্জন শারমিন সুমী বলছেন, বেশি মোটা মানুষের এই সেবা নেয়া উচিত না। যারা খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করে চলে তাদের এই সেবা নেয়া ভালো। যারা সেবা নিতে আসবে তাদেরকে আগে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ শুনে থেরাপি নেয়া উচিত।

দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমাধান নয়

লেজার থেরাপি দিয়ে মেদ কমানো দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমাধান নয়। ১৫ দিনে হয়ত অনেকের মেদ কমে আসছে, কিন্তু এটা স্থায়ী থাকছে না। অনেকের ক্ষেত্রে এই থেরাপি নেয়ার এক মাসের মধ্যে আবার আগের মেদ ফিরে আসছে।

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অ্যান্ডোক্রাইনোলজি (হরমোন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শাহজাদা সেলিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চর্বি দূর কারার জন্য লেজার থেরাপির অনুমোদন এখনও কোনো দেশ দেয়নি। এমনকি কোনো দেশ তাদের চিকিৎসা ব্যবস্থায় এর অনুমোদন দেয়নি। যারা এই পদ্ধতিতে মেদ কমাচ্ছে তারা নিয়মের বাইরে করছে।’

এ বিষয়ে দেশে একটি নীতিমালা তৈরির জন্য কাজ চলছে বলেও জানান এই বিশেষজ্ঞ।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

করোনা: আরও আড়াই কোটি ডলার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

করোনা: আরও আড়াই কোটি ডলার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ভেন্টিলেটরসহ বিভিন্ন সুরক্ষা সামগ্রী দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি এখন পর্যন্ত ১২ কোটি ১০ লাখ ডলারের বেশি সহায়তা দিয়েছে। ফাইল ছবি

বাংলাদেশ যেন জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা ও অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারে এবং টিকা নিরাপদে সংরক্ষণ, পরিবহন ও ব্যবস্থাপনায় কোল্ড চেইন সরঞ্জাম কিনতে পারে, সে জন্য নতুন করে অর্থ সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বাংলাদেশকে আরও ২৫ মিলিয়ন বা আড়াই কোটি ডলার অর্থ সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

দেশটির আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির মাধ্যমে এ সহায়তা দেয়া হবে।

বাংলাদেশ যেন জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা ও অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারে এবং টিকা নিরাপদে সংরক্ষণ, পরিবহন ও ব্যবস্থাপনায় কোল্ড চেইন সরঞ্জাম কিনতে পারে, সে জন্য এ অর্থ দেয়া হচ্ছে।

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের বুধবারের বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বাংলাদেশকে টিকা কার্যক্রম সম্প্রসারণে সহায়তা করার পাশাপাশি গুরুতর অসুস্থ রোগীদের আরও কার্যকরভাবে চিকিৎসা দেয়ায় স্বাস্থ্যসেবা দানকারীদের সক্ষম করে তুলবে। একই সঙ্গে এ অর্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে সেবার মান বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, মহামারির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সরকার করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ১২ কোটি ১০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ সহায়তা দিয়েছে। বাংলাদেশিদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশ সরকার ও অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার বলেন, নতুন আর্থিক সহায়তা বাংলাদেশকে এ বছরের শেষ নাগাদ ৪০ শতাংশ মানুষকে টিকাদানের লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করবে।

শেয়ার করুন

সরকারকে নড়বড়ে দেখানোই উদ্দেশ্য: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সরকারকে নড়বড়ে দেখানোই উদ্দেশ্য: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে মঙ্গলবার শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ছবি: নিউজবাংলা

‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে সরকার পতনের চেষ্টা করছে ষড়যন্ত্রকারীরা। মন্দির ভাঙা প্রধান উদ্দেশ্য নয়। সরকারের অবস্থান নড়বড়ে করে দেয়াটাই প্রধান উদ্দেশ্য।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন মনে করেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় হিন্দুদের ওপর হামলার উদ্দেশ্য সরকারকে নড়বড়ে দেখানো। এটি সরকার পতনের ষড়যন্ত্রের একটি অংশ।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ছেলে শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে মঙ্গলবার শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

দুর্গাপূজা চলাকালে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মণ্ডপে হামলা, এরপর রংপুরে হিন্দুপল্লিতে হামলার ঘটনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে সরকার পতনের চেষ্টা করছে ষড়যন্ত্রকারীরা। মন্দির ভাঙা প্রধান উদ্দেশ্য নয়। সরকারের অবস্থান নড়বড়ে করে দেয়াটাই প্রধান উদ্দেশ্য।’

এই ষড়যন্ত্রে কারা জড়িত, সে বিষয়েও তার ভাবনা তুলে ধরেন জাহিদ মালেকঅ বলেন, ‘একাত্তরে যারা দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করেছে তারাই এখন দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে।’

দেশের স্বাস্থ্যসেবা, করোনা মোকাবেলায় সরকারের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। বাংলাদেশের কোনো মানুষ যেন স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অন্যান্য দেশের তু্লনায় করোনা প্রতিরোধে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।’

দেশের করোনার টিকা কার্যক্রমের প্রসার বেড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে ৬ কোটি টিকা দেয়া হয়ে গেছে। অচিরেই পুরো জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। প্রতি মাসে ৩ কোটি করে টিকা আসছে।

‘শিশুদেরও পরীক্ষামূলক টিকা দেয়া হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদেরকেও টিকা কার্যক্রমের আওতায় আনার কাজ শুরু হবে।’

মন্ত্রী জানান, দেশে ৬০ লাখ ফাইজারের টিকা আসছে। এই টিকা স্কুল পড়ুয়া ৩০ লাখ শিশুকে দেয়া যাবে।

শেয়ার করুন

সিনোফার্মের আরও ৫৫ লাখ টিকা আসছে

সিনোফার্মের আরও ৫৫ লাখ টিকা আসছে

দেশে গণটিকা শুরু হয় অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড দিয়ে। ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে আনা হয় সে টিকা। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ৩ কোটি ৪০ লাখ ডোজ কেনার চুক্তি করে সরকার। তবে ৭০ লাখ টিকা দিয়ে সংকটের কারণ দেখিয়ে সে সময় আর টিকা দেয়নি ভারত।

চীনের সিনোফার্মের তৈরি আরও ৫৫ লাখ ডোজ করোনা প্রতিরোধী টিকা বৃহস্পতিবার রাতে দেশে আসবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

দেশে সোমবার রাতেও এসেছে ২০ লাখ ডোজ করোনা প্রতিরোধী টিকা। এর মধ্যে ছিল চীনের সিনোফার্মের ১০ লাখ ডোজ এবং অ্যাস্ট্রাজেনেকার ১০ লাখ ডোজ টিকা।

এর আগে আগস্টের শেষ সপ্তাহে চীনের সিনোফার্মের বিবিআইবিপি-করভি টিকার ৫৫ লাখ ৫৩ হাজার ৬৫০ ডোজ দেশে পৌঁছে। চুক্তির পর দেশে আসা এটাই ছিল চীনের সবচেয়ে বড় টিকার চালান।

কেনার পাশাপাশি চীন থেকে উপহার ও কোভ্যাক্সের মাধ্যমেও ৫৫ লাখ ৭১ হাজার ৬০০ ডোজ টিকা পেয়েছে বাংলাদেশ।

দেশে গণটিকা শুরু হয় অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড দিয়ে। ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে আনা হয় সে টিকা। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ৩ কোটি ৪০ লাখ ডোজ কেনার চুক্তি করে সরকার। তবে ৭০ লাখ টিকা দিয়ে সংকটের কারণ দেখিয়ে সে সময় আর টিকা দেয়নি ভারত।

বর্তমানে সংকট কাটলেও ভারত থেকে টিকার যোগান আশানুরূপ নয়। সে তুলনায় চীনের সিনোফার্মের টিকা আসছে বেশি। ক্রয় চুক্তির বাইরে কোভ্যাক্সের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মডার্নার ৫৫ লাখ, ফাইজারের ১ লাখ ৬২০ ডোজ এবং জাপান থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৩০ লাখ ৫৯ হাজার ৩৮৭ ডোজ টিকা এসেছে দেশে।

শেয়ার করুন

মাসে ৩ কোটি টিকা দেয়ার ঘোষণা

মাসে ৩ কোটি টিকা দেয়ার ঘোষণা

আগামী মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে ১২ কোটি মানুষকে টিকা দেয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। ফাইল ছবি

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘টিকার অভাব নেই। ২১ কোটি ভ্যাকসিন কেনা আছে। নভেম্বর থেকে প্রতি মাসে তিন কোটি করে টিকা দেয়া হবে। চলতি মাসেও তিন কোটি টিকা দেয়া হবে।’

আগামী নভেম্বর থেকে প্রতি মাসে তিন কোটি মানুষকে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এমনটি জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

রাজধানীর মহাখালীতে শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন উপলক্ষে মঙ্গলবার এক আলোচনা সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই পরিকল্পনার কথা জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘টিকার অভাব নেই। ২১ কোটি ভ্যাকসিন কেনা আছে। নভেম্বর থেকে প্রতি মাসে তিন কোটি করে টিকা দেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, চলতি মাসেও তিন কোটি টিকা দেয়া হবে।

আগামী মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে ১২ কোটি মানুষকে টিকা দেয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। সেই লক্ষ্যেই আগামী মাস থেকে এই টিকা কার্যক্রম শুরু হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আগের আরও একটি অনুষ্ঠানে জানিয়েছিলেন প্রতি মাসে একটি করে ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন (টিকাদান কর্মসূচি) ও এবং সপ্তাহে এক কোটি করে টিকা দেয়া হবে।

এক সপ্তাহে কোটি টিকা প্রয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

৩১ জুলাই হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জাপানের উপহার অ্যাস্ট্রাজেনেকার প্রায় ৮ লাখ টিকা গ্রহণের পর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ পরিকল্পনার কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

জাহিদ মালেক বলেন, ‘এক সপ্তাহে এক কোটির বেশি টিকা প্রয়োগের টার্গেট নেয়া হয়েছে। প্রথমেই বয়স্কদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। এর অংশ হিসেবে আগামী ৭ আগস্ট থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে টিকা কার্যক্রম শুরু হবে।’

শেয়ার করুন

১৯ দিনে ডেঙ্গু রোগী ছাড়াল সাড়ে ৩ হাজার

১৯ দিনে ডেঙ্গু রোগী ছাড়াল সাড়ে ৩ হাজার

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে এক শিশু। ফাইল ছবি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১০৫ জন। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৬ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৫১ জন। এ নিয়ে চলতি মাসে মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে সাড়ে ৩ হাজার।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে মঙ্গলবার পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১০৫ জন। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৬ জন।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ২১ হাজার ৭২৫ জন। এর মধ্যে শুরুর ছয় মাস ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ২৭০ জন। এ বছরের জুলাইয়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকে। ওই মাসে রোগী শনাক্ত হয়েছিল ২ হাজার ২৮৬ জন। এ মাসে মারা যায় ১২ জন।

আগস্টে ডেঙ্গু রোগী ছিল ৭ হাজার ৬৯৮ জন। এ মাসে মারা যায় ৩৪ জন। সেপ্টেম্বরে রোগীর সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৮৪১ জন। এ মাসে মৃত্যু হয় ২৩ জনের। চলতি মাসের ৩ হাজার ৫২৮ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে ১৪ জন।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ২১ হাজার ৭২৫ জনের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছে ২০ হাজার ৮৪৪ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি ৭৯৮ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার ৪৬টি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে ৬০৯ ডেঙ্গু রোগী।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে চলতি বছর ৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

শেয়ার করুন

এক দিনে মৃত্যু ৭, শনাক্ত ৪৬৯

এক দিনে মৃত্যু ৭, শনাক্ত ৪৬৯

দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৬৬ হাজার ২৯৬ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৭৮৫ জনের।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে সংক্রমণ ধরা পড়েছে ৪৬৯ জনের দেহে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে মঙ্গলবার বিকেলে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৬৬ হাজার ২৯৬ জনের শরীরে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৭৮৫ জনের।

২৪ ঘণ্টায় দেশের ৮৩২টি ল্যাবে করোনার ২১ হাজার ৩০৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। শনাক্তের হার ২ দশমিক ২০ শতাংশ। এ নিয়ে টানা ২৮ দিন সারা দেশে করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে।

গত বছরের মার্চে ছড়ানো করোনাভাইরাস বছরের শেষ দিকে নিয়ন্ত্রণে আসে, কিন্তু চলতি বছরের এপ্রিলের আগে থেকে সংক্রমণ আবার বাড়তে থাকে। এর মধ্যে প্রাণঘাতী ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়লে এপ্রিলের শুরুতে লকডাউন এবং ১ জুলাই থেকে শাটডাউন দেয় সরকার।

তবে সংক্রমণ কমে আসার পর আগস্টের মাঝামাঝি থেকে ধীরে ধীরে সব বিধিনিষেধ তুলে নেয় সরকার। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে থাকায় ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হয় অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনায় আক্রান্তদের গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৫, নারী ২ জন। এর মধ্যে চল্লিশোর্ধ্ব ২, পঞ্চাশোর্ধ্ব ১ ষাটোর্ধ্ব ১ ও সত্তরোর্ধ্ব ৩ জন।

বিভাগ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ২, খুলনা ১, রংপুরে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের একজন বাসায়, বাকিরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে ৬৯৭ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১৫ লাখ ২৯ হাজার ৬৮ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৬২ শতাংশ।

শেয়ার করুন

বুস্টার ডোজ নিয়ে ভাবছে না সরকার

বুস্টার ডোজ নিয়ে ভাবছে না সরকার

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাণিজ্যিক গবেষণা ছাড়া তৃতীয় বুস্টার ডোজের পক্ষে তেমন কোনো সুপারিশ নেই গবেষকদের। তাই এখনই বুস্টার ডোজের বিষয়ে চিন্তা না করে দ্রুত দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনতে টিকা কার্যক্রম বাড়ানোর পক্ষে তারা।

করোনাভাইরাস মহামারি, বিশেষ করে অতি সংক্রামক ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট রুখতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এরই মধ্যে নিজেদের ব্যবস্থাপনায় তৃতীয় একটি বুস্টার ডোজ দেয়া শুরু করেছে। তবে এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকার কারণে এখনই এ রকম বুস্টার ডোজ নিয়ে ভাবছে না বাংলাদেশ সরকার।

দেশে ৮০ শতাংশ মানুষের টিকাদান নিশ্চিত করতে আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে ১২ কোটি মানুষকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। এ জন্য প্রতি মাসে একটি করে টিকা ক্যাম্পেইন ও সপ্তাহে এক কোটির ওপরে টিকা প্রয়োগের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাণিজ্যিক গবেষণা ছাড়া তৃতীয় বুস্টার ডোজের পক্ষে তেমন কোনো সুপারিশ নেই গবেষকদের। তাই এখনই বুস্টার ডোজের বিষয়ে চিন্তা না করে দ্রুত দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনতে টিকা কার্যক্রম বাড়ানোর পক্ষে তারা। তবে সংক্রমণ যদি আবার বাড়ে, তখন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বুস্টার ডোজ দেয়ার পরিকল্পনা নেয়া যেতে পারে।

দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ কমে আসায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, অন্যান্য দেশের তুলনায় দেশে দ্রুত টিকা কর্মসূচি হাতে নেয়ার কারণে এখানে হার্ড ইমিউনিটি অর্জিত হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই এমনটি বলার সময় আসেনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) পরিচালক মিজানুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বুস্টার ডোজের বিষয়ে এখনও কোনো নির্দেশনা বা পরিকল্পনা আমাদের নেই। এ ছাড়া করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসছে। যদি আবার তৃতীয় ঢেউ দেখা দেয়, এ বিষয়ে হয়তো পরিকল্পনা নেয়া হতে পারে।’

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক সাইদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যেসব দেশ এরই মধ্যে ৭০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনতে পেরেছে, তারাই তৃতীয় বুস্টার ডোজ দিচ্ছে। কোনো কোনো দেশে স্বাস্থ্যকর্মী বা ৬০ বছরের বেশি বয়স্ক লোকেদের বা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের তৃতীয় ডোজ হিসেবে বুস্টার ডোজ দেয়া হচ্ছে। এখনও কোনো দেশ ঢালাওভাবে বুস্টার দিচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘বুস্টার ডোজ যতটা না বিজ্ঞান, তার চেয়ে বেশি বাণিজ্যিক কারণে। যেসব দেশ অনেক বেশি টিকা ইতোমধ্যে দিয়ে ফেলেছে, যেসব দেশের অনেক বেশি টিকা কেনার অর্থ রয়েছে, বা ইতোমধ্যে অনেক বেশি টিকা কিনে মজুত করে রেখেছে, তারা টিকার মেয়াদ শেষ হওয়ার শঙ্কা থেকে বুস্টার ডোজ দেয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেয়নি। তাই এখনই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ নেই।

‘আমাদের দেশে টিকা কার্যক্রম চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হয়েছে। টিকা নিয়ে যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, তার মেয়াদ থাকে ৯ মাস থেকে এক বছর। এ কারণে যাদের টিকা নেয়ার পর ৯ মাস অতিবাহিত হয়েছে, তাদের অধিকাংশের শরীরে এখন অ্যান্টিবডি খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই যদি আমাদের দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ আসে, তখন করোনা মোকাবিলায় সম্মুখসারির যোদ্ধা, যেমন চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীদের বুস্টার ডোজ দেয়া যেতে পারে।’

তিনি বলেন, যেহেতু দেশে এখনও ৭০ শতাংশের বেশি মানুষকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়নি, তাই এখনই বুস্টার ডোজের পরিকল্পনা না করাই ভালো।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব ও জনস্বাস্থ্য কমিটির সদস্য ডা. আবু জামিল ফয়সাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বুস্টার ডোজের বিষয়ে ঢালাওভাবে কোনো নির্দেশনা এখনও দেয়নি। যেসব দেশে বুস্টার ডোজ পরিচালনা করা হচ্ছে, সেসব দেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়েই এই ডোজ দেয়া হচ্ছে। সে জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আমাদের দেশে এখনই ঢালাওভাবে বুস্টার ডোজের দরকার নেই।’

টিকা কার্যক্রমে প্রসার বাড়াতে হবে জানিয়ে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘৮০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনতে হবে। এটি বাস্তবায়ন করতে আমাদের দুটি জিনিসের ওপরে নজর রাখতে হবে। একটা হলো কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করে টিকার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে ক্রয়ের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এ ছাড়া দ্রুত সময়ের মধ্যে সবাইকে টিকা দিতে হবে।’

তৃতীয় বুস্টার ডোজ নিয়ে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনও বিশ্বের কোনো দেশের পরিষ্কার কোনো ধারণা নেই। এ বিষয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে। যদি কোম্পানির পৃষ্ঠপোষকতায় গবেষণা হয়, সেখানে দেখা গেছে টিকা বাণিজ্যের কারণে বুস্টার ডোজ দেয়ার সুপারিশ করা হয়। তবে স্বাধীনভাবে যে গবেষণা হয়েছে, তার কোথাও বুস্টার ডোজ দেয়ার সুপারিশ করা হয়নি।

‘যদি সারা পৃথিবীর মানুষকে দুই ডোজ টিকা দেয়া সম্ভব না হয়, তাহলে পৃথিবীর কোথাও না কোথাও সংক্রমণ ছড়াতে থাকবে। সো বুস্টার ডোজের পরিকল্পনা বাদ দিয়ে দ্বিতীয় ডোজ সবাইকে দেয়ার পরিকল্পনা নেয়া উচিত। অনেক দেশ শুধু একটি ডোজ দিয়ে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। দুই-তিনটা দেশে বুস্টার ডোজ দেয়া হচ্ছে।’

শেয়ার করুন