সিআইবি ডাটাবেইজ সংশোধনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নির্দেশ

সিআইবি ডাটাবেইজ সংশোধনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নির্দেশ

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান ফটকের দৃশ্য। ছবি: নিউজবাংলা

আবেদনকারী ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে তাদের পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যানের সই করা কার্যবিবরণীর প্রথম ও সর্বশেষ পৃষ্ঠাসহ উপর্যুক্ত বিষয়ে সিদ্ধান্তসংবলিত পৃষ্ঠার সত্যায়িত কপি অথবা ঋণ অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের একস্তর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের সত্যায়িত কপি ব্যুরোতে দাখিল করতে হবে।

ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ পরিবর্তনের কারণে সিআইবি ডাটাবেইজ সংশোধনের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) থেকে রোববার এ সার্কুলার জারি করা হয়। যা সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়, ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পরিষদে পরিবর্তনের কারণে সিআইবি ডাটাবেইজ সংশোধনে আবেদনপত্রের সঙ্গে কিছু দলিলের পূর্ণাঙ্গ সেট অবশ্যই ব্যুরোতে দাখিল করতে হবে।

ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের সিআইবি ডাটাবেইজ সংশোধনের জন্য ব্যুরোতে আবেদনপত্র পাঠানোর আগে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবশ্যই তার গ্রাহককে ঋণপ্রদানকারী সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগের পরামর্শ দেবে।

আবেদনকারী ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং এতদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে তাদের পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যানের সই করা কার্যবিবরণীর প্রথম ও সর্বশেষ পৃষ্ঠাসহ উপর্যুক্ত বিষয়ে সিদ্ধান্তসংবলিত পৃষ্ঠার সত্যায়িত কপি অথবা ঋণ অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের একস্তর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের সত্যায়িত কপি ব্যুরোতে দাখিল করতে হবে।

আবেদনপত্রের সঙ্গে বোর্ড মেমো, মেমোরেন্ডাম অ্যান্ড আর্টিকেলস্ অব অ্যাসোসিয়েশন এবং বিভিন্ন সময়ে ব্যুরো নির্দেশিত অন্যান্য দলিলের সত্যায়িত কপি যোগ করতে হবে। ব্যুরোতে আবেদনপত্র পাঠানোর আগে ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের নবাগত পরিচালকদের সিআইবি ডাটাবেইজে ব্যাজ কন্ট্রিবিউশনের মাধ্যমে যোগ করতে হবে।

ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের বিদায়ী পরিচালকের ব্যক্তিগত গ্যারান্টি অথবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের করপোরেট গ্যারান্টি অথবা উভয় গ্যারান্টি বহাল থাকলে আবেদনপত্র পাঠানোর আগেই ব্যাজ কন্ট্রিবিউশনের মাধ্যমে সিআইবি ডাটাবেইজে যোগ করতে হবে। আবেদনকারী ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের বোর্ড রেজল্যুশন এবং ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পরিষদের পরিবর্তন সিআইবি ডাটাবেইজে বাস্তবায়নের জন্য ঋণদাতা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বরাবর আবেদনপত্রের সত্যায়িত কপি সংযুক্ত করতে হবে।

এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে দলিল দাখিলের নির্দেশনার তিন মাসের মধ্যে যদি সিআইবির মাধ্যমে দলিলাদি গ্রহণ না হয়, তবে আবেদনকারী ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আবেদনপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে।

আরও পড়ুন:
অসমন্বিত ব্যয়ের বিপরীতেও প্রভিশন রাখতে হবে
গ্রিন ট্রান্সফরমেশন তহবিলের অর্থ পাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকও

শেয়ার করুন

মন্তব্য

তরুণদের জন্য ক্রেডিট কার্ড আনল ব্র্যাক-মাস্টারকার্ড

তরুণদের জন্য ক্রেডিট কার্ড আনল ব্র্যাক-মাস্টারকার্ড

তরুণদের জন্য ক্রেডিটকার্ড এনেছে ব্র্যাক-মাস্টারকার্ড। ছবি: নিউজবাংলা

‘মাস্টারকার্ড মিলেনিয়াল টাইটেনিয়াম ক্রেডিট কার্ড’ ব্যবহার করে গ্লোরিয়া জিন্স, নর্থ-এন্ড কফি, ক্রিমসন কাপ, কুপার্স ও ডোমিনোজ পিৎজায় মাসে ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা খরচে ১ হাজার রিওয়ার্ড পয়েন্ট জেতা যাবে।

ব্র্যাক ব্যাংক ও মাস্টারকার্ড দেশের তরুণদের জন্য ‘মাস্টারকার্ড মিলেনিয়াল টাইটেনিয়াম ক্রেডিট কার্ড’ চালু করেছে।

দেশের মিলেনিয়াল (২০০০ সাল ও তার পরে জন্মগ্রহণ করা) প্রজন্ম ও কর্মজীবী তরুণদের চাহিদায় এ কার্ড চালু করা হয়েছে বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত বছরগুলোতে দেশের ‘ডিজিটাল-ফার্স্ট’ প্রজন্মের মধ্যে ব্যয়ের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাস্টারকার্ড ও ব্র্যাক ব্যাংকের নতুন এই কার্ড ব্যক্তি বিশেষের চাহিদামাফিক আর্থিক সমাধান দেবে।

এই কার্ড ব্যবহারকারীদের জন্য ‘ওয়েলকাম প্যাক’ হিসেবে থাকছে ই-কমার্স পোর্টাল, পোশাকের দোকান, বিউটি সেলুন ও কফি শপগুলোতে কেনাকাটার বিপরীতে ক্যাশব্যাক, ভাউচার, মূল্যছাড়সহ নানা পুরস্কার ও সুবিধা।

পাশাপাশি আছে দেশের সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি অংশীদার আউটলেটে মুদি পণ্য ও অনলাইনভিত্তিক কেনাকাটায় বোনাস পয়েন্ট রিওয়ার্ড, হোটেলে অবস্থানকালে (বোগো বা বাই-ওয়ান-গেট-ওয়ান) সুবিধা, ডাইনিং ও বিভিন্ন লাইফস্টাইল অফার।

এ ছাড়া আরও থাকবে বিমানবন্দর লাউঞ্জে বছরে দুটি কমপ্লিমেন্টারি ভিজিট ও ভ্রমণের ক্ষেত্রে ৫ হাজার মার্কিন ডলার এনডোর্স করার বিপরীতে ৫০০ বোনাস পয়েন্ট।

এই কার্ড ব্যবহার করে মিলেনিয়ালরা সুদ ছাড়া খুচরা পণ্য কেনার সুযোগ পাবেন।

‘মাস্টারকার্ড মিলেনিয়াল টাইটেনিয়াম ক্রেডিট কার্ড’ ব্যবহার করে গ্লোরিয়া জিন্স, নর্থ-এন্ড কফি, ক্রিমসন কাপ, কুপার্স ও ডোমিনোজ পিৎজায় মাসে ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা খরচে ১ হাজার রিওয়ার্ড পয়েন্ট জেতা যাবে।

সপ্তাহ শেষে নির্ধারিত মুদি পণ্যের দোকানে কেনাকাটায় মাসিক ভিত্তিতে দ্বিগুণ বোনাস রিওয়ার্ড পয়েন্ট এবং নির্দিষ্ট অনলাইন ফুড ডেলিভারি অ্যাপে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাকসহ বছরজুড়ে আরও সুবিধা থাকবে বলে জানানো হয়।

ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম রেজা ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘মাস্টারকার্ডের সঙ্গে যৌথভাবে এই প্রথম বাংলাদেশের মিলেনিয়াল প্রজন্মের জন্য ক্রেডিট কার্ড চালুর ঘোষণা দিতে পেরেছি। আমরা বিশ্বাস করি, তরুণ প্রজন্মকে দেশের অর্থনীতিতে সম্পৃক্ত করা ও তাদের ক্ষমতায়নের জন্য এটাই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এতে তারা নিজেদের পূর্ণ সম্ভাবনা ও গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারবেন।’

মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের প্রধান সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, ‘দেশের মোট জনসংখ্যার বড় এক অংশ মিলেনিয়াল প্রজন্মের। তাই ধারাবাহিক পরিবর্তনের মাধ্যমে মোবাইল ফোনের মতো প্রযুক্তিনির্ভর এই প্রজন্মকে ডিজিটাল লেনদেনে অভ্যস্ত করে তোলার সম্ভাবনা আছে। প্রযুক্তিভিত্তিক অত্যাধুনিক লেনদেন সেবাদাতা কোম্পানি হিসেবে মাস্টারকার্ড মিলেনিয়াল প্রজন্মের গ্রাহকদের জন্য নিরাপদ ও বিরামহীন লেনদেন অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করবে।’

নেমেসিস ব্যান্ড দলের ভোকালিস্ট জোহাদ রেজা চৌধুরী ও অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিন মাস্টারকার্ড মিলেনিয়াল ক্রেডিট কার্ডের প্রচারণা করবেন।

আরও পড়ুন:
অসমন্বিত ব্যয়ের বিপরীতেও প্রভিশন রাখতে হবে
গ্রিন ট্রান্সফরমেশন তহবিলের অর্থ পাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকও

শেয়ার করুন

স্থায়ী ভবন পাচ্ছে এনজিও ফাউন্ডেশন

স্থায়ী ভবন পাচ্ছে এনজিও ফাউন্ডেশন

অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ছবি: সংগৃহীত

অর্থমন্ত্রী জানান, এনজিও ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার পর আয়বিধায়ক তহবিল হিসেবে ১৬২ কোটি টাকা সরকারি অনুদান পেয়েছে। সেখান থেকে মুনাফা নিয়ে সহযোগী সংস্থাকে ১৫৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে ফাউন্ডেশন। তারপরও আয়বিধায়ক তহবিলের স্থিতি ২৭০ কোটি টাকা।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে স্থায়ী ভবন পাচ্ছে এনজিও ফাউন্ডেশন। নিজস্ব ভবনে ফাউন্ডেশনের দারিদ্র্য বিমোচন কাজে গতিশীলতা বাড়বে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।

এনজিও ফাউন্ডেশনের নির্মিতব্য ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়েছে রোববার। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতার, ফাউন্ডেশনের পর্ষদ সদস্য, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ এনজিও প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক সিনিয়র অর্থসচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন।

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘জাতির পিতা দারিদ্র্যমুক্ত ও শোষণমুক্ত একটি সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তার অর্থনৈতিক দর্শন অনুসরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এক দশক দেশে গড়ে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে।

‘করোনার আঘাতে গত বছর বৈশ্বিক অর্থনীতি ৩ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। এমন সময়ে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশ শীর্ষ পাঁচটি সহনশীল অর্থনীতির মধ্যে রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এনজিও ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার পর আয়বিধায়ক তহবিল হিসেবে ১৬২ কোটি টাকা সরকারি অনুদান পেয়েছে। সেখান থেকে মুনাফা নিয়ে সহযোগী সংস্থাকে ১৫৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে ফাউন্ডেশন। তারপরও আয়বিধায়ক তহবিলে স্থিতি ২৭০ কোটি টাকা।

‘এনজিও ফাউন্ডেশন দেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এনজিওর মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত, পিছিয়ে পড়া, অসহায়, অতি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। দারিদ্র্য বিমোচনে তারা কাজ করছে প্রায় সাড়ে সাত হাজার গ্রামে। ১ হাজার ১২০টি এনজিও হতদরিদ্র মানুষের সেবা করে যাচ্ছে ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে। নিজস্ব ভবন পেলে তাদের কাজে আরও গতিশীলতা আসবে বলে মনে করি।’

মাটির নীচে দোতলা বেজমেন্টসহ ১২ তলা ভবন নির্মানে ৩৮ দশমিক ৬৩ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে জানান কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন:
অসমন্বিত ব্যয়ের বিপরীতেও প্রভিশন রাখতে হবে
গ্রিন ট্রান্সফরমেশন তহবিলের অর্থ পাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকও

শেয়ার করুন

চাঙা অর্থনীতি, রাজস্ব আদায়ে জোয়ার 

চাঙা অর্থনীতি, রাজস্ব আদায়ে জোয়ার 

চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বা রাজস্ব আহরণে সামগ্রিকভাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ। এ সময়ে মোট রাজস্ব আহরণ হয় ৫৮ হাজার ৩৫১ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে আদায় হয়েছিল ৪৯ হাজার ৯৯১ কোটি টাকা।

করোনার প্রভাবে সৃষ্ট গভীর খাদ থেকে উঠে দাঁড়িয়েছে দেশের রাজস্ব খাত। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রাজস্ব আদায় বেড়েছে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় পাঁচ গুণ।

অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, করোনার প্রভাব কাটিয়ে দেশের অর্থনীতি যে চাঙা হচ্ছে, এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে রাজস্ব আদায়ে। এটি দেশের জন্য সুসংবাদ বলে মনে করেন তারা।

রোববার প্রকাশিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সবশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বা রাজস্ব আহরণে সামগ্রিকভাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ।

এ সময়ে মোট রাজস্ব আহরণ হয় ৫৮ হাজার ৩৫১ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে আদায় হয়েছিল ৪৯ হাজার ৯৯১ কোটি টাকা।

অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের আদায়ের এই চিত্র সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে রেকর্ড তৈরি করেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ২১ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের প্রথম থেকে রাজস্ব আয়ে গতিশীলতা লক্ষ করা যাচ্ছে। আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে গতি আরও বেড়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, আমদানি-রপ্তানিতে গতি এসেছে। চাঙা হচ্ছে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে রাজস্ব আহরণে।

দেশে করোনা সংক্রমণ হওয়ার পর সবকিছু বন্ধ থাকায় গত বছরের এপ্রিল-মে রাজস্ব আদায় হয়নি বললেই চলে। জুন মাসেও তেমন রাজস্ব আদায় হয়নি।

গত বছরের জুলাই মাস থেকে রাজস্ব আদায় স্বাভাবিক হতে শুরু করে। আর চলতি অর্থবছরের শুরুতে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে করোনার আগের সময়ের ধারায় ফিরে আসে এনবিআর।

করোনার প্রথম ধাপে ২০১৯-২০ অর্থবছর রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক বা নেতিবাচক ছিল। স্বাধীনতা-পরবর্তী আর কখনোই এমনটি দেখা যায়নি। সেই অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে রাজস্ব খাত ক্রমাগত উচ্চ প্রবৃদ্ধির দিকে যাচ্ছে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এখন পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ে নেতৃত্ব দিচ্ছে আমদানি খাত। অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এ খাতে সর্বোচ্চ ২১ শতাংশ হারে আদায় বেড়েছে, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৭ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, করোনা পরিস্থিতি উন্নতির ফলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা চাঙা হওয়ায় আমদানির চাহিদা বেড়েছে। এ কারণে আমদানি শুল্ক বাড়ছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজোরে পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে আদায়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সাধারণত আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বাড়লেও আমদানি শুল্ক বাড়ে। কারণ, তখন বেশি দামের ওপর ভিত্তি করে পণ্যের শুল্কায়ন করা হয়।

এনবিআরের হালনাগাদ পরিসংখ্যান বলছে, চলতি অর্থবছরে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমদানি পর্যায়ে রাজস্ব আহরণ হয় ১৯ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে আয় ছিল ১৫ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকা।

রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ভ্যাটে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৬ শতাংশ। গত অর্থবছর একই সময়ে এটি ছিল মাত্র ১ দশমিক ২৫ শতাংশ।

এ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ভ্যাট আদায় হয়েছে ২১ হাজার ৯২ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে একই সময় আদায় হয় ১৮ হাজার ১১২ কোটি টাকা।

এনবিআরের কর্মকর্তারা বলেন, করোনার দ্বিতীয় ধাক্কার পর গত আগস্ট মাসে বিধিনিষেধ তুলে দেয়া হয়। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙা হয়। যে কারণে ভ্যাট আহরণ বেড়েছে।

অভ্যন্তরীণ আয়ের অন্যতম উৎস আয়কর বা প্রত্যক্ষ কর খাত অন্য দুটি অপেক্ষা কিছুটা পিছিয়ে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে আয়কর আদায় বেড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ হারে, যেখানে গত অর্থবছরে একই সময়ে প্রবৃদ্ধি হয় ২ শতাংশের কিছু বেশি।

এ সময়ে আয়কর আদায় হয়েছে ১৭ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা। গত অর্থবছর এ সময়ে আদায় ছিল ১৫ হাজার ৯২০ কোটি টাকা। এনবিআর বলছে, অর্থবছরে শুরুতে উন্নয়ন কাজের গতি মন্থর থাকায় আয়কর আদায় কম হয়। শুষ্ক মৌসুমে এডিপির কাজের গতি বাড়ে। ফলে আয়কর আদায়ও বাড়বে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এনবিআরের তিনটি উৎস– আমদানি, ভ্যাট ও আয়কর আদায়ে অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ডাবল ডিজিট প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল সিঙ্গেল ডিজিট।

তবে আদায় পরিস্থিতি ভালো হলেও তিন মাসে রাজস্ব আদায় পিছিয়ে আছে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায়। ঘাটতি ৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

বাজেটের মোট অর্থের ৮৬ শতাংশ জোগান দেয় এনবিআর।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে এনবিআরের মাধ্যমে সংগৃহীত রাজস্বের পরিমাণ ধরা হয় মোট ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। তবে এই লক্ষ্যমাত্রাকে অতি উচ্চাভিলাষী বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

গত অর্থবছরে ২ লাখ ৫৯ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়।

যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক ঊর্ধ্বতন পরিচালক বর্তমানে অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের ধারায় ফিরছে। রেমিট্যান্স কিছুটা কমলেও রপ্তানি বাড়ছে। সবকিছু মিলিয়ে অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরছে। এসব কারণে রাজস্ব আদায় বাড়ছে।’

আরও পড়ুন:
অসমন্বিত ব্যয়ের বিপরীতেও প্রভিশন রাখতে হবে
গ্রিন ট্রান্সফরমেশন তহবিলের অর্থ পাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকও

শেয়ার করুন

সোনালী জুট মিলস ফের চালু

সোনালী জুট মিলস ফের চালু

খুলনা নগরীর মিরেরডাঙ্গার সোনালী জুট মিলস আবার চালু করা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

মিল সূত্র জানায়, আর্থিক সংকট, পাটের দাম বৃদ্ধিসহ নানা জটিলতায় মালিকপক্ষ মিলটি বন্ধ করে দেয়। পরে বেসরকারি পাট, সুতা, বস্ত্রকল শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশন, মিলের অ্যাডহক কমিটি এবং খুলনা বিভাগীয় শ্রম পরিচালক মিজানুর রহমান এটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেন।

খুলনা নগরীর সোনালী জুট মিলস আবার চালু করা হয়েছে। ১১ মাস বন্ধ থাকার পর শনিবার মিলটি আংশিক চালু করা হয়।

নগরীর মিরেরডাঙ্গা শিল্প এলাকায় ব্যক্তিমালিকানার মিলটি গেল বছরের ২৮ নভেম্বর বন্ধ করা হয়েছিল।

মিল সূত্র জানায়, আর্থিক সংকট, পাটের দাম বৃদ্ধিসহ নানা জটিলতায় মালিকপক্ষ মিলটি বন্ধ করে দেয়। পরে বেসরকারি পাট, সুতা , বস্ত্রকল শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশন, মিলের অ্যাডহক কমিটি এবং খুলনা বিভাগীয় শ্রম পরিচালক মিজানুর রহমান এটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেন।

মেসার্স জামান ট্রেডিং লিজ হিসেবে মিলটি চালানোর আগ্রহ প্রকাশ করলে শনিবার থেকে এটা পুনরায় চালু হয়।

রোববার সকাল ১০টার দিকে বেসরকারি পাট, সুতা, বস্ত্রকল শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশন জরুরি মতবিনিময় সভা হয়। সোনালী জুট মিলস ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন ফেডারেশনের সভাপতি শেখ আমজাদ হোসেন এতে সভাপতিত্ব করেন। সংগঠনের প্রচার সম্পাদক সাইফুল্লাহ তারেকের পরিচালনায় সভা হয়।

বক্তব্য দেন বেসরকারি পাট, সুতা, বস্ত্রকল শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও মহসেন জুট মিলস ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসুল খান, সংগঠনের সহসভাপতি ও আফিল জুট মিলস মজদুর ইউনিয়নের নেতা কাবিল হোসেন ও নিজামউদ্দিন, মহসেন জুট মিলসের শ্রমিকনেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আসহাফ উদ্দীন, মাহাতাব উদ্দীনসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
অসমন্বিত ব্যয়ের বিপরীতেও প্রভিশন রাখতে হবে
গ্রিন ট্রান্সফরমেশন তহবিলের অর্থ পাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকও

শেয়ার করুন

বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও পিপিই পার্কে ব্রিটিশ হাইকমিশনার

বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও পিপিই পার্কে ব্রিটিশ হাইকমিশনার

বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক এবং বেক্সিমকো পিপিই পার্ক পরিদর্শন করেন ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন।

বেক্সিমকো পিপিই পার্কে উচ্চমানের পিপিই উৎপাদন ও পরীক্ষার জন্য অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধার প্রশংসা করে ব্রিটিশ হাইকমিশনার এই বৈশ্বিক মহামারি পরিস্থিতিতে সময়োপযোগী অত্যাধুনিক কারখানা স্থাপনের জন্য বেক্সিমকোকে ধন্যবাদ জানান এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উচ্চমানের পিপিই উপকরণ প্রাপ্যতার গুরুত্বের ওপর জোর দেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো গ্রুপের দুটি পার্ক পরিদর্শন করেছেন ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন।

রোববার সকালে বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক এবং বেক্সিমকো পিপিই পার্ক পরিদর্শন করেছেন বলে প্রতিষ্ঠানটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

এ সময় ব্রিটিশ হাইকমিশনারের স্ত্রী মিসেস তেরেসা আলবর, হাইকমিশনের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রধান ডেরেক গ্রিফিথস এবং শাসন ও রাজনৈতিক দলের প্রধান টম বার্জ উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সকাল সোয়া ১০টার দিকে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে পৌঁছান। বেক্সিমকো গ্রুপের চেয়ারম্যান সোহেল এফ রহমান এবং গ্রুপের পরিচালক ও বেক্সিমকো টেক্সটাইল, অ্যাপারেলস ও পিপিই ডিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সৈয়দ নাভেদ হোসেন গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান।

হাইকমিশনার বেক্সিমকো পিপিই পার্কের অভ্যন্তরে আধুনিক পিপিই উৎপাদন ও সেন্টার অব এক্সেলেন্স ইন্টারটেক ল্যাব পরিদর্শন করেন। এ সময় বেক্সিমকো পিপিই টিম স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য হাসপাতাল গ্রেড গাউন, কভারঅল, সার্জিক্যাল মাস্ক, রেসপিরেটর এবং নন-উভেন কাপড় তৈরির অত্যাধুনিক উৎপাদন সুবিধা তুলে ধরেন।

বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও পিপিই পার্কে ব্রিটিশ হাইকমিশনার

বেক্সিমকো পিপিই পার্কে উচ্চমানের পিপিই উৎপাদন ও পরীক্ষার জন্য অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধার প্রশংসা করে ব্রিটিশ হাইকমিশনার এই বৈশ্বিক মহামারি পরিস্থিতিতে সময়োপযোগী অত্যাধুনিক কারখানা স্থাপনের জন্য বেক্সিমকোকে ধন্যবাদ জানান এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উচ্চমানের পিপিই উপকরণ প্রাপ্যতার গুরুত্বের ওপর জোর দেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বেক্সিমকো পিপিই পার্ক পরিদর্শন শেষে ব্রিটিশ হাইকমিশনার তার সঙ্গীদের নিয়ে বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের অভ্যন্তরে অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় টেকসই ওয়াশিং প্ল্যান্ট এবং বেক্সিমকো সিরামিক প্লান্ট ও অত্যাধুনিক উৎপাদন কর্মকাণ্ড পরিদর্শন করেন।

আরও পড়ুন:
অসমন্বিত ব্যয়ের বিপরীতেও প্রভিশন রাখতে হবে
গ্রিন ট্রান্সফরমেশন তহবিলের অর্থ পাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকও

শেয়ার করুন

পেঁয়াজ নিয়ে অস্বস্তিতে বাণিজ্যমন্ত্রী

পেঁয়াজ নিয়ে অস্বস্তিতে বাণিজ্যমন্ত্রী

পেঁয়াজ নিয়ে কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে রয়েছেন জানিয়ে টিপু মুনশি বলেন, ‘পেঁয়াজ উৎপাদনে আমাদের ঘাটতি আছে। প্রয়োজনের তুলনায় কম উৎপাদন হচ্ছে। ফলে আমদানি করে ঘাটতি পূরণ করতে হচ্ছে। সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে।’

সংকটকালে ফলন পাওয়া যায় এমন জাতের পেঁয়াজ উদ্ভাবনে জোর দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

দেশে গত কয়েক বছরে পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়লেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এখনও আমদানি করি, এটা থেকে বের হতে সংরক্ষণে জোর দিতে হবে।’

আগামী তিন বছরের মধ্যেই পেঁয়াজ উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পন্ন হবে বলেও প্রত্যাশা করেন মন্ত্রী।

‘বাংলাদেশের ৫০ বছর: কৃষির রূপান্তর ও অর্জন’ শীর্ষক কৃষি সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে জাতীয় দৈনিক বণিক বার্তা এবং বাংলাদেশ কৃষি সাংবাদিক ফোরাম (বিএজেএফ) যৌথভাবে সম্মেলনটির আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম।

বিষয়ের ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন।

পেঁয়াজ নিয়ে কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে রয়েছেন জানিয়ে টিপু মুনশি বলেন, ‘পেঁয়াজের জ্বালায় আমি অস্থির হয়ে পড়েছি। পরিসংখ্যানের একটা ঝামেলা আছে। আমাদের প্রয়োজন ২৪-২৫ লাখ টন পেঁয়াজ। উৎপাদনও হয় ২৫-২৬ লাখ টন। তাহলে আমদানি কেন? এমন প্রশ্ন আসে। সে ক্ষেত্রে বক্তব্য হচ্ছে, প্রায় ২০ শতাংশ পেঁয়াজ আমাদের নষ্ট হয়। সংরক্ষণ করা যায় না।

‘পেঁয়াজ উৎপাদনে আমাদের ঘাটতি আছে। প্রয়োজনের তুলনায় কম উৎপাদন হচ্ছে। ফলে আমদানি করে ঘাটতি পূরণ করতে হচ্ছে। সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে।’

তিনি বলেন, ‘সারা বছর উৎপাদনের জন্য পেঁয়াজের নতুন জাত উদ্ভাবন, উৎপাদিত পেঁয়াজ যাতে নষ্ট না হয় এবং দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়, এমন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।’

টিপু মুনশি বলেন, ‘দেশে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর সময়ে পেঁয়াজের ঘাটতি দেখা দেয়, এই সময়ের জন্য নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন বলে জেনেছি। হয়তো কিছুদিনের মধ্যে আর সংকট থাকবে না। আর তিন-চার বছর হয়তো লাগবে।’

দেশে কৃষির অগ্রগতি তুলে ধরে টিপু মুনশি বলেন, ‘কৃষিক্ষেত্রে আমরা অনেক এগিয়েছি। সরকারের আন্তরিক সহযোগিতায় আধুনিকায়নে সমর্থ হওয়ার কারণেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। সরকার খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন হওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে। যা আমাদের উৎসাহিত করেছে। এতে আমরা বেশ সফলও হয়েছি।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাণিসম্পদে আমরা এখন স্বয়ংসম্পন্ন। একসময় দেশের কোরবানির পশুর চাহিদা মেটাতে বিদেশ থেকে আমদানি করতে হতো, আজ চাহিদার বেশি পশু আমরা উৎপাদন করছি।

‘এখন বাংলাদেশ মাংস রপ্তানির চেষ্টা করছে। মৎস্য চাষে পৃথিবীতে বাংলাদেশের অবস্থান এখন তৃতীয়। দেশে মৎস্য চাষে বিপ্লব ঘটেছে। বাংলাদেশ প্রতিবছর মাছ রপ্তানি করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার প্রতিটি সেক্টরে স্বয়ংসম্পন্ন হতে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।’

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, কৃষি সেক্টরে বাণিজ্যিকীকরণে অনেক এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ, ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। খাদ্য উৎপাদন অনেক বেড়েছে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উৎপাদনে সফল হয়েছি আমরা। অনেক দেশের তুলনায় এখনও আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। তবে এখনও কৃষি খাতে উৎপাদন বাড়ানোর প্রচুর সুযোগ আছে।’

তিনি বলেন, ‘উৎপাদনে প্রযুক্তির ব্যবহার ও নতুন জাত আবিষ্কারের মাধ্যমে আমাদের অনেক দূর এগিয়ে যেতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার নীতিগত ও কারিগরি সহায়তা বৃদ্ধি করেছে।’

ভবিষ্যতে এ ধরনের সহযোগিতা আরও বাড়ানো হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ লাইভস্টক রিসার্স ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. জাহাঙ্গীর আলম, মৎস্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ড. সৈয়দ আরিফ আজাদ, লাল তীর লাইভস্টকের চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা এবং আফতাব বহুমুখী ফার্মস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু লুৎফে ফজলে রহিম খানসহ অন্যরা।

আরও পড়ুন:
অসমন্বিত ব্যয়ের বিপরীতেও প্রভিশন রাখতে হবে
গ্রিন ট্রান্সফরমেশন তহবিলের অর্থ পাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকও

শেয়ার করুন

ইলেকট্রনিকস শিল্প গার্মেন্টসকে ছাড়িয়ে যাবে: সালমান এফ রহমান

ইলেকট্রনিকস শিল্প গার্মেন্টসকে ছাড়িয়ে যাবে: সালমান এফ রহমান

গাজীপুরে ওয়ালটনের কারখানা পরিদর্শনের সময় ওয়ালটনের ১ লাখ ফ্রিজ রপ্তানির সাফল্য উদযাপনে কেক কাটেন সালমান এফ রহমান। ছবি: সংগৃহীত

সালমান এফ রহমান বলেন, ‘ইলেকট্রনিকস ও প্রযুক্তি খাতে ওয়ালটন সরকারের সুযোগ কাজে লাগাতে পেরেছে। তাদের প্রোডাক্ট ডাইভারসিটি অনেক। তারা বিভিন্ন ধরনের পণ্য উৎপাদন করছে। তারা সব ধরনের যন্ত্রাংশও তৈরি করছে। ওয়ালটন যখন বলে মেইড ইন বাংলাদেশ তখন সেটা সত্যিই মেইড ইন বাংলাদেশ। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য অর্জনে গবেষণা ও উন্নয়ন খুব গুরুত্বপূর্ণ। ওয়ালটন এ ক্ষেত্রে ব্যাপক কাজ করছে। বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে তাদের আরএন্ডডি খুবই সমৃদ্ধ।’

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেছেন, বেসরকারি শিল্প খাতের জন্য সরকার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। সেসব কাজে লাগিয়ে ইলেকট্রনিক্স শিল্প খুব দ্রুতই রপ্তানি খাতে গার্মেন্টস শিল্পকে ছাড়িয়ে যাবে।

গাজীপুরের চন্দ্রায় শনিবার ওয়ালটন কারখানা পরিদর্শনের সময় এসব কথা বলেন সালমান এফ রহমান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম শাহ আলম সরোয়ার।

কারখানা কমপ্লেক্সে অতিথিদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ভাইস-চেয়ারম্যান এস এম শামছুল আলম, পরিচালক এস এম রেজাউল আলম, এস এম মঞ্জুরুল আলম ও সাবিহা জারিন অরনা এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মুর্শেদ।

কারখানা পরিদর্শনের সময় ওয়ালটনের ১ লাখ ফ্রিজ রপ্তানির সাফল্য উদযাপনে বিশালাকার কেক কাটেন সালমান এফ রহমান।

এ সময় তিনি বলেন, ‘ইলেকট্রনিকস ও প্রযুক্তি খাতে ওয়ালটন সরকারের সুযোগ কাজে লাগাতে পেরেছে। তাদের প্রোডাক্ট ডাইভারসিটি অনেক। তারা বিভিন্ন ধরনের পণ্য উৎপাদন করছে। তারা সব ধরনের যন্ত্রাংশও তৈরি করছে। ওয়ালটন যখন বলে মেইড ইন বাংলাদেশ, তখন সেটা সত্যিই মেইড ইন বাংলাদেশ। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য অর্জনে গবেষণা ও উন্নয়ন খুব গুরুত্বপূর্ণ। ওয়ালটন এ ক্ষেত্রে ব্যাপক কাজ করছে। বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে তাদের আরএন্ডডি খুবই সমৃদ্ধ।’

ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের এমডি ও সিইও গোলাম মুর্শেদ বলেন, ইলেকট্রনিকস শিল্পই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। ওয়ালটন পণ্য এখন বিশ্বের ৪০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। দেশের রেফ্রিজারেটর মার্কেটের ৭৫ শতাংশ ওয়ালটনের। এসির প্রায় ৫০ শতাংশ আর টিভির ৪০ শতাংশ মার্কেট ওয়ালটনের। এর অর্থ মানুষ ওয়ালটন পণ্যের প্রতি আস্থা ও ভরসা রাখছে।

কারখানা প্রাঙ্গণে অতিথিরা ওয়ালটনের বিশাল কর্মযজ্ঞের ওপর নির্মিত ভিডিও ডকুমেন্টারি উপভোগ করেন। পরে ওয়ালটনের সুসজ্জিত প্রোডাক্ট ডিসপ্লে সেন্টার ঘুরে দেখেন। ওয়ালটনের মেটাল কাস্টিং, কম্প্রেসর, রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, এলইডি টেলিভিশন, কম্পিউটার ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, হোম অ্যাপ্লায়েন্সসহ বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন প্রক্রিয়াও সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন অতিথিরা।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ শফিক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মামুন সরদার, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের ডিএমডি হুমায়ূন কবীর ও আলমগীর আলম সরকার, ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ডিএমডি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, ওয়ালটনের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী পরিচালক কর্নেল (অব.) শাহাদাত আলম, উদয় হাকিম, তানভীর রহমান, আনিসুর রহমান মল্লিক, ফিরোজ আলম, ইউসুফ আলী, মোস্তফা নাহিদ হোসেন, আমিন খান ও ইয়াসির আল ইমরান, আন্তর্জাতিক ব্যবসা ইউনিটের প্রেসিডেন্ট এডওয়ার্ড কিম, নির্বাহী পরিচালক শাহজাদা সেলিম, আবদুল্লাহ আল মামুন, জাহিদুল আলম, শাহজালাল হোসেন লিমন, মহসিন আলী মোল্লাসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
অসমন্বিত ব্যয়ের বিপরীতেও প্রভিশন রাখতে হবে
গ্রিন ট্রান্সফরমেশন তহবিলের অর্থ পাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকও

শেয়ার করুন