× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Durga Puja started tomorrow on the sixth day
hear-news
player
google_news print-icon

ষষ্ঠীর বোধনে দুর্গাপূজা শুরু সোমবার

ষষ্ঠীর-বোধনে-দুর্গাপূজা-শুরু-সোমবার
পূজা উদযাপন পরিষদের হিসেবে দেশে এবার প্রায় ৩২ হাজার মণ্ডপে দুর্গাপূজা হচ্ছে। এই সংখ্যা গতবারের চেয়ে প্রায় দুই হাজার বেশি। ঢাকা মহানগরে এবার পূজা হবে ২৩৭টি মণ্ডপে। তবে করোনা মহামারির কারণে এবারও মেনে চলতে হবে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি। মণ্ডপ এলাকায় বসবে না মেলা, থাকবে না আরতি প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন।

ষষ্ঠীতে বোধনের মধ্যে দিয়ে সোমবার শুরু হচ্ছে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। করোনা মহামারির বিবর্ণ সময় পার করে এবারের দুর্গোৎসব জমজমাট করতে প্রস্তুতি সারা দেশে। গতবারের চেয়ে বেড়েছে মণ্ডপের সংখ্যা, জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে দেবীবন্দনায় তৈরি সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবার দেবী মর্ত্যে আসছেন ঘোড়ায় চেপে। পুরাণ অনুযায়ী, দুর্গা ঘোড়ার পিঠে চড়ে এলে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে যুদ্ধ, গৃহযুদ্ধ, ঝড়, রাজনৈতিক অস্থিরতা ইত্যাদি পরিস্থিতি সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। আর ১৫ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে দেবী মর্ত্য ছাড়বেন দোলায় চড়ে। দোলায় গমনেও বাড়বে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্বিপাক। আবহাওয়ার পূর্বাভাসও বলছে, এবার পূজার সময়টিতে ঘটতে পারে ঝড়-বৃষ্টির বিঘ্ন।

পঞ্জিকা অনুযায়ী, সোমবার মহাষষ্ঠীর সকালে হবে দুর্গা দেবীর ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ এবং ষষ্ঠিবিহিত পূজা, সন্ধ্যায় হবে দেবীর বোধন। মঙ্গলবার মহাসপ্তমীবিহিত পূজা, বুধবার মহাষ্টমীবিহিত পূজা, বৃহস্পতিবার মহানবমীবিহিত পূজা এবং শুক্রবার দশমীবিহিত পূজা সমাপন ও প্রতিমা বিসর্জন হবে।

পূজা উদযাপন পরিষদের হিসেবে দেশে এবার প্রায় ৩২ হাজার মণ্ডপে দুর্গাপূজা হচ্ছে। এই সংখ্যা গতবারের চেয়ে প্রায় দুই হাজার বেশি। ঢাকা মহানগরে এবার পূজা হবে ২৩৭টি মণ্ডপে।

তবে করোনা মহামারির কারণে এবারও মেনে চলতে হবে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি। মণ্ডপ এলাকায় বসবে না মেলা, থাকবে না আরতি প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন।

ষষ্ঠীতে ঢাকা মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপে, ঢাকার রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, সিদ্ধেশ্বরী মন্দির, রমনা কালী মন্দির, স্বামীবাগের লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম ও মন্দির, রামসীতা মন্দির, জয়কালী মন্দিরসহ বিভিন্ন মণ্ডপে ষষ্ঠী পূজার আয়োজন করা হয়েছে।

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কিশোর রঞ্জন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি শেষের দিকে। এবার মেলা বসবে না, তবে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের কয়েকটি দোকান থাকবে। পূজাতে আরতি থাকবে, তবে আরতি প্রতিযোগিতা হবে না।’

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সদস্য রজত কুমার সুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঢাকা মহানগরে মোট ২৩৭টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে। এর মধ্যে সূত্রাপুর থানায় সবচেয়ে বেশি ২৫টি মণ্ডপে, কোতোয়ালি থানায় ২১টি, ওয়ারীতে ১৬টি, গেণ্ডারিয়ায় ১৪টি, হাজারীবাগে ১৩টি, তুরাগে ১২টি, বাড্ডায় ১০টি, বনানীতে নয়টি, মোহাম্মদপুরে নয়টি, দারুসসালাম ও গাবতলীতে আটটি, ডেমরায় আটটি এবং তেজগাঁও থানায় ছয়টি মণ্ডপ রয়েছে।’

পুরান অনুযায়ী, ব্রহ্মার বর পেয়ে মানুষ ও দেবতাদের অজেয় হয়ে উঠেছিলেন মহিষাসুর। ফলে তাকে পরাজিত করার জন্য ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর যে মহামায়ারূপী নারী শক্তি তৈরি করেন তিনিই দেবী দুর্গা। দশভূজা দুর্গা টানা ৯ দিন যুদ্ধ করে মহিষাসুরকে বধ করেন।

আরও পড়ুন:
শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি
ক্যাপসুল ও সিরিঞ্জ দিয়ে অভিনব প্রতিমা
পূজা নিয়ে অপপ্রচার মূল জনগোষ্ঠীর কাজ না: ডিএমপি কমিশনার
নিয়মে সীমাবদ্ধ দুর্গাপূজা
বরিশালে দুর্গা পূজার ‘বাজেট কম’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Maradona would have been very happy with this win Messi

এ জয়ে ম্যারাডোনা অনেক খুশি হতেন: মেসি

এ জয়ে ম্যারাডোনা অনেক খুশি হতেন: মেসি কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়েগো ম্যারাডোনার সঙ্গে আর্জেন্টিনার মহাতারকা ফুটবলার লিওনেল মেসি। ছবি: সংগৃহীত
মেসি বলেন, ‘আমি এই রেকর্ডের বিষয়টি সম্প্রতি জানতে পেরেছি। এই ধরনের সফলতার রেকর্ড অর্জন করতে পারায় আমি আনন্দিত। আজ বেঁচে থাকলে ম্যারাডোনা অনেক বেশি আনন্দিত হতেন। কারণ তিনি আমাকে অনেক স্নেহ করতেন। আমার ভালো ও মঙ্গলে তিনি অত্যন্ত খুশি হতেন।’

পোল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে সফল নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নিয়ে আসতে পারায় লিওনেল মেসির ওপর অত্যন্ত খুশি হতেন দিয়েগো ম্যারাডোনা।

কাতার বিশ্বকাপে বুধবার রাতে গ্রুপপর্বে পোল্যান্ডের বিরুদ্ধে বাঁচা-মরার এই ম্যাচে ২-০ গোলে জয়ের পর প্রতিক্রিয়ায় এমনটি জানিয়েছেন দেশটির মহাতারকা ফুটবলার লিওনেল মেসি।

বিশ্বকাপে ২২তম ম্যাচ খেলার মধ্য দিয়ে মেসি তার দেশের কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়েগো ম্যারাডোনাকে টপকে যান। দুই বছর আগে এই কিংবদন্তি ফুটবলারের মৃত্যু হয়।

মেসি বলেন, ‘আমি এই রেকর্ডের বিষয়টি সম্প্রতি জানতে পেরেছি। এই ধরনের সফলতার রেকর্ড অর্জন করতে পারায় আমি আনন্দিত। আজ বেঁচে থাকলে ম্যারাডোনা অনেক বেশি আনন্দিত হতেন। কারণ তিনি আমাকে অনেক স্নেহ করতেন। আমার ভালো ও মঙ্গলে তিনি অত্যন্ত খুশি হতেন।’

পেনাল্টি মিসের পর এই ম্যাচ জয়ে অনেক বেশি স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এই আর্জেন্টাইন ক্যাপ্টেন। এটি তার ক্যারিয়ারে ৩৯তম পেনাল্টি মিসের ঘটনা ছিল।

মেসি বলেন, ‘গ্রুপপর্বের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে ২-০ গোলের বেদনাদায়ক পরাজয়ের পর এই ম্যাচে জয়ের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের প্রধান লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছি। আমরা গ্রুপপর্ব টপকে নকআউটে এসেছি।’

বুধবার দলের শেষ গ্রুপ ম্যাচে পেনাল্টি মিস করেন লিওনেল মেসি। তার পেনাল্টি ঠেকিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি পোল্যান্ডের গোলকিপার ভইচেক শেজনি ও তার দলের।

পোল্যান্ডকে গুড়িয়ে দিয়ে ২-০ গোলে ম্যাচ জিতে সি-গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউটে পৌঁছে যায় আর্জেন্টিনা। শেষ ষোলোতে তারা খেলবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।

সৌদি আরবের বিপক্ষে অনাকাঙ্খিত হার দিয়ে শুরু করা আর্জেন্টিনা নিজেদের শেষ গ্রুপ ম্যাচে খেলেছে বিশ্বসেরা দলের মতোই।

কঠিন সমীকরণে আটকে থেকে বিশ্বকাপে টিকে থাকার ম্যাচে বুধবার রাতে পোল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামে আর্জেন্টিনা।

গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে জয় বাগিয়ে নিতে ব্যর্থ হলে শেষ ষোলোতে খেলা অনিশ্চিত হয়ে যেত দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের।

আরও পড়ুন:
পেনাল্টি মিসকেই শাপে বর মনে করছেন মেসি
মেক্সিকোর বিপক্ষে সৌদির গোলে নকআউটে পোল্যান্ড
মেসির পেনাল্টি মিসের পরও হেসেখেলে নকআউটে আর্জেন্টিনা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
This years cup will be picked up by Messi

‘আশা করছি এবারের কাপটা মেসির হাতেই উঠবে’

‘আশা করছি এবারের কাপটা মেসির হাতেই উঠবে’ আর্জেন্টিনার দুটি গোলে উল্লাসে মেতে ওঠেন শেরপুরের সমর্থকরা। ছবি: নিউজবাংলা
আর্জেন্টিনার সমর্থক শেরপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও ক্রীড়া সংগঠক মো. মেরাজ উদ্দিন বলেন, ‘সৌদি আরবের সঙ্গে প্রথম ম্যাচ হারার পর অনেকেই মনে করেছিল আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ মিশন শেষ হয়েছে। এমন অনেক খেলোয়াড় আছেন, যাদের একজনকে আটকালে অন্যরা জ্বলে ওঠেন। আমরা আশা করছি, এবারের কাপটা মেসির হাতেই উঠবে।’

কাতার বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে হারের পর মেক্সিকোর বিপক্ষে আর্জেন্টিনা বড় জয় পেলেও স্বস্তিতে ছিল না সমর্থকরা। কঠিন সমীকরণে আটকে যাওয়ার পর পোল্যান্ডের বিপক্ষেও জ্বলে ওঠেন দলের খেলোয়াড়রা।

মেসির পেনাল্টি মিসের পর সমর্থকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়লেও পরবর্তী সময়ে দুটি গোলে উল্লাসে মেতে ওঠেন শেরপুরের সমর্থকরা। আর্জেন্টিনার পতাকা নিয়ে স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয় শেরপুরের বিভিন্ন এলাকা। এ ছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় বড় পর্দায় দেখানো হয় খেলা।

ভক্তরা আশা করছেন এবারের বিশ্বকাপটা মেসির হাতেই উঠবে। সামনে আরও ভালো খেলবে প্রিয় দল আর্জেন্টিনা- এ আশায় বুক বাঁধছেন মেসি ভক্তরা।

আর্জেন্টিনার সমর্থক শেরপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও ক্রীড়া সংগঠক মো. মেরাজ উদ্দিন বলেন, ‘সৌদি আরবের সঙ্গে প্রথম ম্যাচ হারার পর অনেকেই মনে করেছিল আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ মিশন শেষ হয়েছে। কিন্তু আর্জেন্টিনার দলে মেসি, দিবালা, ডি মারিয়া, আলবারেস, মার্টিনেস, ডিপলসহ এমন সব খেলোয়াড় আছেন, যাদের একজনকে আটকালে অন্যরা জ্বলে ওঠেন। আমরা আশা করছি, এবারের কাপটা মেসির হাতেই উঠবে।’

অপর সমর্থক হাসানুর রহমান আলাল বলেন, ‘আমরা এবার আর্জেন্টিনা কাপ পাব- এটাই আশা করছি।’

সমর্থক শাহিন বলেন, ‘সৌদির কাছে হঠাৎ হেরে গিয়ে আর্জেন্টিনা আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। কাজেই বিশ্বকাপ এবার মেসির হাতেই উঠবে।’

আরও পড়ুন:
বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের মাটিতে নামাল তিউনিসিয়া
‘হ্যান্ড অফ গডের’ পর এবারে ‘হেয়ার অফ গড’
মেসিকে থামানোর উপায় জানেন না পোল্যান্ডের কোচ
স্বাগতিক হিসেবে সবচেয়ে বাজে রেকর্ড কাতারের
সৌদির কপাল খুলতে দরকার কঠিন হিসাব-নিকাশ

মন্তব্য

পেনাল্টি মিসকেই শাপে বর মনে করছেন মেসি

পেনাল্টি মিসকেই শাপে বর মনে করছেন মেসি আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসি। ছবি: এএফপি
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মেসি বলেন, ‘পেনাল্টি মিসের পর নিজের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম, কিন্তু আমার ভুলের পর দল আরও শক্তিশালী হয়ে উঠে। আমরা জানতাম প্রথমে একটা গোল হয়ে গেলে খেলা বদলে যাবে।’

সৌদি আরবের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ হারের পর আর্জেন্টিনার শেষ ষোলোতে ওঠা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন অনেকে। সে শঙ্কা কিছুটা কাটে মেক্সিকোর বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে, কিন্তু এরপরও পোল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচের আগে নানা সমীকরণ নিয়ে মাঠে নামতে হয়েছিল মেসিদের। সেসব সমীকরণকে অতীত করে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে লিওলেন স্কালোনির দল।

হাই ভোল্টেজ ম্যাচ শেষে তৃপ্তির হাসি নিয়ে সাজঘরে ফিরলেও শুরুটা সাদামাটা ছিল টিম আর্জেন্টিনার। প্রথমার্ধে বলের দখলে এগিয়ে থাকলেও জাল খুঁজে পাচ্ছিল না শটগুলো।

মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়ায় মেসির পেনাল্টি কিক মিস, তবে সে মুহূর্তটাকেই শাপে বর মনে করছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। তার মতে, পেনাল্টিতে গোল না পাওয়ায় মরিয়া হয়ে ওঠে দল।

প্রথমার্ধে কোনো গোল না করে বিরতিতে যাওয়া আর্জেন্টিনা দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ডেডলক ভাঙে। ম্যাচের ৪৬তম মিনিটে আলেক্সিস ম্যাকঅ্যালিস্টারের গোলে এগিয়ে যায় আলবিসেলেস্তেরা। পরে ৬৭তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হুলিয়ান আলভারেস।

এ দুজনের গোলে মেসির স্বপ্নজয়ের সম্ভাবনা বাড়িয়ে সুপার সিক্সটিনে পৌঁছে যায় আর্জেন্টিনা।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক বলেন, ‘পেনাল্টি মিসের পর নিজের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম, কিন্তু আমার ভুলের পর দল আরও শক্তিশালী হয়ে উঠে। আমরা জানতাম প্রথমে একটা গোল হয়ে গেলে খেলা বদলে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগের ম্যাচ থেকে আমরা আত্মবিশ্বাস পেয়েছি। তা ছাড়া আগেই আমাদের জানা ছিল এ ম্যাচ আমাদের জিততে হবে।’

আগামী শনিবার বাংলাদেশ সময়ে রাত ১টায় নকআউট পর্বে আস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। একে সামনে রেখে মেসি বলেন, এবারের বিশ্বকাপে যেকোনো দল যে কাউকেই হারাতে পারে।

সবাইকে সমানভাবেই দেখছেন সাতবারের ব্যালন ডরজয়ী এ তারকা। তার ভাষ্য, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটা খুব কঠিন হতে চলেছে। যে কেউ অন্যকে হারাতে পারে; সবই সমান, তবে আমরা সবসময়ের মতোই প্রস্তুতি নিয়ে তাদের মুখোমুখি হব।

‘আমাদের শান্ত থাকতে হবে। তা ছাড়া ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলা উচিত। এখন আরেকটি বিশ্বকাপ শুরু হলো। আজ আমরা যা করেছি, আশা করছি তা ধরে রাখতে পারব।’

আরও পড়ুন:
বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের মাটিতে নামাল তিউনিসিয়া
‘হ্যান্ড অফ গডের’ পর এবারে ‘হেয়ার অফ গড’
মেসিকে থামানোর উপায় জানেন না পোল্যান্ডের কোচ
স্বাগতিক হিসেবে সবচেয়ে বাজে রেকর্ড কাতারের
সৌদির কপাল খুলতে দরকার কঠিন হিসাব-নিকাশ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Relief at Messis awakening in DU

মেসিদের জাগরণে স্বস্তি ঢাবিতে

মেসিদের জাগরণে স্বস্তি ঢাবিতে মাঠে উদযাপনে টিম আর্জেন্টিনা। ছবি: এএফপি
আমজাদ হোসেন হৃদয় নামের এক ছাত্র বলেন, ‘আজকের খেলায় মেসির কাছে আমাদের প্রত্যাশা ছিল। নিজে গোল দেয়া এবং ফার্নান্দেসকে দিয়ে করানো গোলটা দেখে কিছুটা স্বস্তি অনুভব করছি। মার্টিনেজের সেভটাও দেখার মতো ছিল।’

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের সঙ্গে হেরে খাদের কিনারায় চলে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেখান থেকে উঠে আসতে বিকল্প ছিল না জয়ের।

কাতারের লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে অধরা সেই জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নেমেছিলেন মেসি, ফার্নান্দেসরা, কিন্তু বাংলাদেশ সময় শনিবার মধ্যরাতের ম্যাচের প্রথমার্ধ পর্যন্ত বুক চিনচিন করছিল দর্শকদের। তীর্থের কাকের মতো গোলের অপেক্ষায় ছিলেন তারা।

সে অপেক্ষার অবসান হয় দ্বিতীয়ার্ধে। দলপতি লিওনেল মেসির নীরবতা ভাঙানো গোলে প্রাণ ফেরে দর্শকদের। এরপর এনজো ফার্নান্দেসের দ্বিতীয় গোলে আসে স্বস্তি, যা বহাল ছিল রেফারির শেষ বাঁশি পর্যন্ত।

মেক্সিকোর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার গুরুত্বপূর্ণ এ জয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দর্শকদের মতো প্রাণ ফেরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি, মুহসীন হলের মাঠে বড় পর্দায় খেলা দেখা দর্শকদের। গভীর রাতে তাদের মুখ থেকে বের হয় চাপা অভিমান আর আনন্দের কথা।

বাঁশি বাজিয়ে, মোটরসাইকেলে শোডাউন করে, আর্জেন্টিনার পতাকা গায়ে প্যাঁচিয়ে, নেচে-গেয়ে মেসিদের জয় উদযাপন হয় ঢাবি ক্যাম্পাসে। অনেকে স্লোগান দিতে দিতে ফেরেন হল আর বাসায়।

মেসিদের জাগরণে স্বস্তি ঢাবিতে

এমন মুহূর্তে কথা হয় কিছু আর্জেন্টিনাপ্রেমীর সঙ্গে। তাদের একজন ঢাবি ছাত্র নাসিমুল হুদা বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা আরেকটু বেশি ছিল। তারপরও জয় পেয়েছি দেখে ভালো লাগছে।

‘প্রথমার্ধের খেলায় আমরা মোটেও সন্তুষ্ট হতে পারিনি। যখন খেলা দেখছিলাম, তখন প্রচণ্ড রাগ উঠছিল। কারণ আর্জেন্টিনা এত বাজে খেলবে, সেটা মানতে পারছিলাম না। তাদের আরও ভালো খেলা উচিত ছিল।’

আরেক ছাত্র সিদ্দিক ফারুক বলেন, ‘প্রথমার্ধে মন খারাপ থাকলেও মেক্সিকোর এত ডিফেন্সের ভেতর মেসির গোল এবং ফার্নান্দেসকে দিয়ে করানো গোলটা অসাধারণ ছিল, তবে আমাদের খেলায় আরও অনেক উন্নতি করা দরকার। এই খেলা দিয়ে আমরা ফাইনালের স্বপ্ন দেখার সাহস করতে পারি না।’

আমজাদ হোসেন হৃদয় নামের এক ছাত্র বলেন, ‘আজকের খেলায় মেসির কাছে আমাদের প্রত্যাশা ছিল। নিজে গোল দেয়া এবং ফার্নান্দেসকে দিয়ে করানো গোলটা দেখে কিছুটা স্বস্তি অনুভব করছি। মার্টিনেজের সেভটাও দেখার মতো ছিল।

‘আশা করছি পোল্যান্ডের ম্যাচে আমরা জিতব। আমি অনেক বেশি করে চাইছি, কাতার বিশ্বকাপটা আর্জেন্টিনার হোক।’

এসইএস শাহিনের কাছে মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল ফাইনাল। এতে জয়ের পর তার ভাষ্য, ‘আর্জেন্টিনার সামনে দুইটা ফাইনাল ছিল। একটাতে আজ জিতেছে; আরেকটা আগামী বৃহস্পতিবার।

‘সেটাতেও জিতবে বলে আশা আছে, তবে দলের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, কেউই ফর্মে নাই। তারপরও আমি আশা ছাড়তে চাই না।’

আর্জেন্টিনার বহুল প্রতীক্ষিত এ জয়ের উচ্ছ্বাসের ঢেউ দেখা গেছে ছাত্রীদের হলে। হল গেটের ভেতর থেকে ‘মেসি মেসি’ স্লোগান দিতে দেখা যায় ছাত্রীদের।

প্রিয় দলের খেলা বড় পর্দায় দেখবে বলে অনেক ছাত্রী নির্ধারিত সময় রাত ১০টার মধ্যে হলে ঢোকেননি। খেলা শেষে তারা বাইরে বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করে, আড্ডা দিয়ে রাত কাটিয়েছেন।

এমনই একজন তাসনুভা জাহান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাত ১০টায় হল বন্ধ হয়ে যায়। সেখানে বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা নেই। সবার সঙ্গে বড় পর্দায় খেলা দেখার মজাটাই অন্যরকম। আর সেটা যদি হয় প্রিয় দলের, তাহলে আনন্দটা দ্বিগুণ হয়।

‘তাই আজকে খেলা শেষে বান্ধবীদের সঙ্গে ক্যাম্পাসেই গল্প, আড্ডা করতে করতে রাত কাটাতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আজকে মেসি জিতেছে; অনেক খুশি। এবার অন্তত বিশ্বকাপটা মেসির হোক।’

আরও পড়ুন:
চাপ সামলে জয় অস্ট্রেলিয়ার
আর্জেন্টিনার সামনে যেসব সমীকরণ
সৌদি ফুটবলারদের রোলস রয়েস পাওয়ার খবরটি ভুয়া
মুহিন-ঝিলিকের ‘ছুটছে মেসি ছুটছে নেইমার’
সেই মাঠে আবার নামছে আর্জেন্টিনা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Special discount in Bangkok Hospital for Bangladeshis

বাংলাদেশিদের জন্য ব্যাংকক হসপিটালে বিশেষ ছাড়

বাংলাদেশিদের জন্য ব্যাংকক হসপিটালে বিশেষ ছাড় শনিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর ফার্মগেটে দ্য ডেইলি স্টার ভবনের মাহমুদ সেমিনার হলে আয়োজিত ‘মর্ডান মেডিক্যাল টেকনলোজি অফ ব্যাংকক হসপিটালবিষয়ক প্রেস ব্রিফিং। ছবি: নিউজবাংলা
ব্যাংকক হসপিটালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ শক্তিরঞ্জন পাল বলেন, ‘আমাদের হসপিটালে রেডিয়েশনের মাধ্যমে টিউমার ধ্বংস করা হয়, যেখানে অপারেশন লাগে না। তিন দিন পর রোগী বাড়ি যেতে পারেন। তাছাড়া উন্নত টেকনলোজির মাধ্যমে ডায়াগনোসিস করে যেকোনো রোগ চিহ্নিত করা হয়।’

থাইল্যান্ডের ব্যাংকক হসপিটালে বিশেষ ছাড়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের উন্নত চিকিৎসা দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে অস্ত্রোপচার ছাড়াই টিউমারের চিকিৎসা, ক্যানসার ও হৃদরোগ সারানোর কথাও বলা হয়েছে।

শনিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর ফার্মগেটে দ্য ডেইলি স্টার ভবনের মাহমুদ সেমিনার হলে আয়োজিত ‘মর্ডান মেডিক্যাল টেকনলোজি অফ ব্যাংকক হসপিটালবিষয়ক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন ব্যাংকক হসপিটালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ শক্তিরঞ্জন পাল।

তিনি বলেন, ‘আমাদের হসপিটালে রেডিয়েশনের মাধ্যমে টিউমার ধ্বংস করা হয়, যেখানে অপারেশন লাগে না। তিন দিন পর রোগী বাড়ি যেতে পারেন। তাছাড়া উন্নত টেকনলোজির মাধ্যমে ডায়াগনোসিস করে যেকোনো রোগ চিহ্নিত করা হয়।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে থাই অ্যাম্বাসেডর মাখওয়াদি সুমিতমোর বলেন, ‘ব্যাংকক হসপিটাল কোভিড মহামারির মধ্যেও চিকিৎসা সেবা দিয়ে গেছে। বাংলাদেশসহ সব দেশের জন্য, যারা ব্যাংকক হসপিটালে চিকিৎসা নিতে আসবেন সবাইকে আমরা উন্নত টেকনলোজির মাধ্যমে তাদের সেবাদান করব। এর প্রসার আরও বাড়াতে চাই। মেডিক্যাল সার্ভিসসংক্রান্ত যেকোনো সহযোগিতা করতে ব্যাংকক হসপিটাল প্রস্তুত।’

বিশেষজ্ঞ শক্তিরঞ্জন পাল আরও বলেন, ‘ব্যাংকক হসপিটাল ৫০ বছর ধরে সেবাদান করে আসছে। থাইল্যান্ডের বাইরেও আমাদের হসপিটাল আছে। মেডিক্যাল সংক্রান্ত যেকোনো চেকআপ এবং চিকিৎসায় অত্যাধুনিক টেকনোলজি ব্যবহার করা হয় যেগুলো অনেক ব্যবয়বহুল। তবে ব্যাংকক হসপিটাল উন্নত টেকনলোজির মাধ্যমে এই সেবাগুলো কম খরচে দিচ্ছে।’

‘এখন খাবারের অনিয়ম, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের জন্য হার্টের রোগ, ক্যানসার এই রোগগুলো বাড়ছে। টেকনোলজি ব্যবহার করে আমরা খুব সহজেই এগুলো চিহ্নিত করতে পারি। ডাক্তার এবং স্পেশালিষ্ট অ্যাডভান্স হচ্ছে। একটা সময় বলা হতো ‘ক্যানসার হ্যাজ নো অ্যান্সার। কিন্তু এখন আমরা বলি, ক্যানসার হ্যাজ সাম অ্যান্সার।

তিনি বলেন, ‘আমরা হার্ট ডিজিস এবং ক্যানসারের জন্য উন্নত টেকনলোজি ব্যবহার করছি।

‘করোনারি হার্ট ডিজিজ যেটা পুরুষদের বেশি হলেও এখন নারীদেরও হচ্ছে। এর সঙ্গে ব্রেন স্ট্রোকও সম্পর্কিত বিষয়ে উন্নত চিকিৎসা দেয়া। ডায়াবেটিস, হাই ব্লাড প্রেসার এগুলোর কারণে হার্ট ডিজিজ বাড়ে। আমরা এগুলোর জন্য তিনটি মাধ্যমে – টেকনলোজি, দক্ষ টেকনেশিয়ান ও মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিমওয়ার্ক- কাজ করছি।

প্রতিটি রোগের জন্যই এই তিনটার প্রয়োগ সঠিকভাবে করে আমরা চিকিৎসা দিচ্ছি। এছাড়া থাইল্যান্ডে নার্সিং কেয়ার খুবই উন্নত এবং আন্তরিক। তারা তাদের টিমওয়ার্কের মাধ্যমে উন্নত সেবা দিয়ে আসছে।

গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে শক্তিরঞ্জন বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য স্পেশাল ডিসকাউন্ট রয়েছে। সেটা কোন ধরনের কেস সেটার ওপর ভিত্তি করে ছাড় দেয়া হয়। আমাদের স্পেশাল এক্সরে রয়েছে। এবং সব কিছুই উন্নত টেকনলোজির মাধ্যমে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর ড. নীলাঞ্জন সেন, ব্যাংকক হার্ট হসপিটালের ক্রিয়াংকাই হেংগুসামি, ডিরেক্টর বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর রাফ ক্রিউয়ার এবং আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
বিনা মূল্যে ২২ কোটি টাকার চিকিৎসা পেল রাইয়ান
‘নার্সের ভুলে’ রোগীর মৃত্যু
ভুল অপারেশনে বিউটির দুঃসহ এক বছর
ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতালে ভাঙচুর-সংঘর্ষ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Rabindra Sangeet Utsav returned to the stage after three years

তিন বছর পর মঞ্চে ফিরল রবীন্দ্রসঙ্গীত উৎসব

তিন বছর পর মঞ্চে ফিরল রবীন্দ্রসঙ্গীত উৎসব রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে শুক্রবার তেত্রিশতম জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত উৎসব শুরু হয়েছে (বাঁয়ে), উৎসবে সম্মাননা দেয়া হয় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা বীর মুক্তিযোদ্ধা বাচিকশিল্পী আশরাফুল আলম ও সঙ্গীতশিল্পী রফিকুল আলমকে। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
সম্মাননা প্রাপ্তির অনুভূতি জানাতে গিয়ে বাচিকশিল্পী আশরাফুল আলম বলেন, ‘জগতের বিপুল কর্মযজ্ঞের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম। আমি আজ তার নামাঙ্কিত সম্মাননা পেলাম জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থা থেকে৷ এ সম্মাননাটি আমার কাছে অত্যন্ত সম্মানের৷’ রফিকুল আলম তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামাঙ্কিত এ সম্মাননা আমার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যেন এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো৷’

করোনাকাল পেরিয়ে প্রায় তিন বছর পর মঞ্চে ফিরল বাংলাদেশ রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থা।

শুক্রবার সকাল ১০টায় ‘এই জীবনের ব্যথা যত এইখানে সব হবে গত’- স্লোগান নিয়ে শুরু হলো দুই দিনের রবীন্দ্রসঙ্গীত উৎসব।

কবিগুরুর গানের সুরে সুরে সংস্কৃতির লড়াইকে বেগবান করার প্রত্যয়ের কথা জানায় সংস্থাটি।

রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে দুই দিনের উৎসব ভাগ করা হয়েছে তিন অধিবেশনে।

সকাল ১০টায় প্রথম অধিবেশনে ছিল দুই পর্ব। প্রথমেই দেয়া হয় গুণীজন সম্মাননা।

তেত্রিশতম জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত উৎসবে সম্মাননা দেয়া হয় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা বীর মুক্তিযোদ্ধা বাচিকশিল্পী আশরাফুল আলম ও সঙ্গীতশিল্পী রফিকুল আলমকে। তাদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও অর্থ মূল্য তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।

সম্মাননা প্রাপ্তির অনুভূতি জানাতে গিয়ে বাচিকশিল্পী আশরাফুল আলম বলেন, ‘জগতের বিপুল কর্মযজ্ঞের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম। আমি আজ তার নামাঙ্কিত সম্মাননা পেলাম জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থা থেকে৷ এ সম্মাননাটি আমার কাছে অত্যন্ত সম্মানের৷’

রফিকুল আলম তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামাঙ্কিত এ সম্মাননা আমার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যেন এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো৷’

সংস্থার সভাপতি তপন মাহমুদ বলেন, ‘স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের দুই শব্দসৈনিককে সম্মাননা দিতে পেরে আমরা গর্বিত।’ এর আগে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পীযুষ বড়ুয়া।

উদ্বোধনী অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বে ছিল আমন্ত্রিত পাঁচটি দলের সমবেত পরিবেশনা। এতে অংশ নেয় সঙ্গীতভবন, উত্তরায়ণ, সুরতীর্থ, বুলবুল ললিতকলা একাডেমী (বাফা) ও বিশ্ববীণা।

রবীন্দ্রনাথের পূজা-প্রেম পর্যায়ের গানের পাশাপাশি বৈচিত্র্য পর্যায়ের গান দিয়ে সাজানো এই পর্বটি দর্শক শ্রোতাদের বিমোহিত করে। এই পর্বের শুরুতেই মঞ্চে আসেন সঙ্গীতভবনের শিল্পীরা। তারা পর পর গেয়ে শোনান ‘লহো লহো তুলে লহো নীরব বীণাখানি’ ও ‘হেমন্তে কোন বসন্তেরই বাণী/ পূর্ণশশী ওই-যে দিল আনি’।

তাদের পরিবেশনার পর মঞ্চে আসেন উত্তরায়ণের শিল্পীরা। তারাও গেয়ে শোনান দুইটি গান- ‘সত্য মঙ্গল প্রেমময় তুমি, ধ্রুবজ্যোতি তুমি অন্ধকারে’ও ‘প্রাণে খুশির তুফান উঠেছে/ভয়-ভাবনার বাধা টুটেছে’। সুরতীর্থের শিল্পীর গান ‘কবে আমি বাহির হলেম তোমারি গান গেয়ে’ ও ‘কান্নাহাসির-দোল-দোলানো পৌষ-ফাগুনের পালা’।

বুলবুল ললিতকলা একাডেমি (বাফা)-এর শিল্পীরা শোনান ‘এবার তোর মরা গাঙে বান এসেছে’ ও ‘এখন আর দেরি নয়, ধর্ গো তোরা হাতে হাতে ধর গো’।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রথম অধিবেশনের সমাপ্তি হয় বিশ্ববীণা শিল্পীদের কণ্ঠে সমবেত গানের মধ্য দিয়ে। তারা শোনান ‘হায় হেমন্তলক্ষ্মী, তোমার নয়ন কেন ঢাকা-’ও ‘একি মায়া, /লুকাও কায়া/জীর্ণ শীতের সাজে’।

অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত কণ্ঠশিল্পী রফিকুল আলম পর পর গেয়ে শোনান ‘উত্তর বায় জানায় শাসন/পাতলো তপের শুষ্ক আসন’ ও ‘ওই জানালার কাছে বসে আছে /করতলে রাখি মাথা—’ শিরোনামে দুইটি গান। তার আগে সংবর্ধিত বাচিকশিল্পী আশরাফুল আলম ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ সত্যসুন্দর’- এর কয়েকটি চরণ আবৃত্তি করেন।

অগ্রহায়ণের মিষ্টি সকালে মঞ্চে প্রদীপ জ্বালিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। উৎসবের সূচনা হয় সংগঠনের রীতি অনুযায়ী জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে। এর পর সংস্থা শিল্পীরা দুইটি কোরাস পরিবেশন করেন। গান দুইটি ছিল ‘ও আমার দেশের মাটি তোমার পরে ঠেকাই মাথা’ ও ‘তোমার সুরের ধারা ঝরে যেথায় তারি পারে’।

মাঝখানে বিরতি দিয়ে বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম দিনের দ্বিতীয় অধিবেশন। এতে অংশ নেন প্রায় অর্ধশতাধিক শিল্পী। প্রথম দিনের শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন- খন্দকার খায়রুজ্জামান কাইয়ুম, বুলা মাহমুদ, তানজিমা তমা, অনিকেত আচার্য, সাগরিকা জামালী, বিষ্ণু মণ্ডল, কনক খান, সীমা সরকার আবদুর রশীদ, রিফাত জামাল মিতু, খোকন দাস, আজিজুর রহমান তুহিন, শর্মিলা চক্রবর্তী আহমেদ শাকিল হাশমী, সাজ্জাদ হোসেন, জাফর আহমেদ, রাবিতা সাবাহ, ছন্দা রায়, নির্ঝর চৌধুরীসহ আরও অনেকে।

উৎসবের দ্বিতীয় দিন শনিবার একই মঞ্চে বিকেল ৫টা থেকে হবে আবৃত্তি ও সঙ্গীতানুষ্ঠান।

উৎসবের সারা দেশ থেকে প্রায় ২০০ শিল্পী একক ও দলীয় পরিবেশনায় অংশ নিচ্ছেন।

তাদের মধ্যে রয়েছেন বুলবুল ইসলাম, ফাহিম হোসেন চৌধুরী, রোকাইয়া হাসিনা, অদিতি মহসিন, ড. অরূপ রতন চৌধুরী, চঞ্চল খান, লিলি ইসলামসহ বেশ কয়েকজন প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী।

দুই দিনের অনুষ্ঠানে গানের পাশাপাশি আবৃত্তি পরিবেশনায় অংশ নিচ্ছেন বাকশিল্পী আশরাফুল আলম, জয়ন্ত রায়, বেলায়েত হেসেন. মাহমুদা আখতার ও রেজিওয়ালী লীনা।

৩৩তম উৎসবটি উৎসর্গ করা হয়েছে করোনাকালে যে শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, কবি ও সংস্কৃতজন মারা গেছেন তাদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে। অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত।

আরও পড়ুন:
রবীন্দ্রসঙ্গীত উৎসব শুরু শুক্রবার
১০ ভাষায় গাওয়া হবে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সুজন হাজংয়ের গান
কারামুক্তির পর ‘দুঃখিত’ রাজীব গান্ধীর হত্যাকারী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Men should be asked to build a safe world for women

নারীর জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়তে বদলাতে হবে পুরুষকে

নারীর জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়তে বদলাতে হবে পুরুষকে নারীর প্রতি সহিংস আচরণ দূর করতে পুরুষের মানসিকতায় পরিবর্তন আনার ওপর জোর দিয়েছেন অধিকারকর্মী ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞরা। ফাইল ছবি
প্রতি বছর ২৫ নভেম্বর পালন করা হয় নারীর প্রতি সহিংসতা নির্মূল দিবস। দেশের অধিকারকর্মী ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমাজে বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা বাড়লেও নারীর প্রতি সহিংস আচরণ উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়ে গেছে। এ অবস্থা দূর করতে পুরুষের মানসিকতায় পরিবর্তন আনার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা তিন্নি (ছদ্মনাম)। স্বামী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ভালোবাসার বিয়ের দুই-তিন বছর পরই বদলে যায় স্বামীর আচরণ।

ছোটোখাটো বিষয়ে অকথ্য গালাগালি দিয়ে শুরু, দিনে দিনে তা গড়ায় মারধরে। ততদিনে তিন্নি দুই কন্যাসন্তানের জননী।

একপর্যায়ে তিন্নিকে চাকরি ছেড়ে দিতে চাপ দেন স্বামী। বলা হয় শিক্ষকতা ছেড়ে দিয়ে ‘ভালো গৃহিণী’ হিসেবে সংসার করতে হবে। তবে ঘুরে দাঁড়ান তিন্নি। দুই সন্তানকে নিয়ে বেরিয়ে আসেন সংসার ছেড়ে।

তিন্নি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুই মেয়েকে একসঙ্গে ভালো স্কুলে পড়ানোর সামর্থ্য না থাকায় বড় মেয়েকে বাবার কাছে রেখেছি। সে ভিকারুননেসা নূন স্কুলে দশম শ্রেণিতে পড়ে। সুযোগ পেলেই সে আমার কাছে আসে।’

আর ছোট মেয়ে তিন্নির স্কুলেই তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছে।

তিন্নি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুরুষতান্ত্রিকতার কাছে একটা জায়গায় হার মেনেছি। তবে সংসার ছাড়লেও নিজের পরিচয় ছাড়িনি।’

মিরপুরের একটি এলাকায় সাবলেট বাসায় থাকেন রোজিনা আক্তার (ছদ্মনাম)। স্বামীর আগে বিয়ের কথা না জেনেই ভালোবেসে তাকে বিয়ে করেন। এরপর স্বামীর আগের স্ত্রীর সঙ্গে একই বাসায় থাকতে হচ্ছে রোজিনাকে।

স্বল্পশিক্ষিত এই নারী হাসপাতালে আয়ার চাকরি করেন। বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হয় স্বামীর মারধর। আগের স্ত্রীও নিয়মিত স্বামীর মারধরের শিকার। এসব মেনে নিয়েই সংসার করছেন রোজিনা।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুরুষ মানুষ, রাগ উঠলে একটু আকটু গায়ে হাত তুলবোই। খাওন পড়োন তো দিতাছে।’

সোহানা আর মিথুনের (ছদ্মনাম) তিন বছরের প্রেমের সম্পর্ক। প্রায় এক বছর আগে মিথুন দেশের বাইরে চলে যান। সোহানার সঙ্গে কাটানো কিছু ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি এবং ভিডিও রয়েছে তার কাছে।

সোহানা এই সম্পর্ক থেকে বের হতে চাইলে মিথুন ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেন। এই নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটছে সোহানার।

নারী সহিংসতা প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়ে প্রতি বছর ২৫ নভেম্বর পালন করা হয় নারীর প্রতি সহিংসতা নির্মূল দিবস। দেশের অধিকারকর্মী ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমাজে বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা বাড়লেও নারীর প্রতি সহিংস আচরণ উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়ে গেছে।

এ অবস্থা দূর করতে পুরুষের মানসিকতায় পরিবর্তন আনার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা। একই সঙ্গে নারীর জন্য মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতের তাগিদও দেয়া হয়েছে।

'আমরাই পারি' জোটের প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নারীর প্রতি সহিংসতা কমছে- এটা বলা যাবে না। সহিংসতার ধরনে হয়তো কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। এখন ফেসবুকের মতো বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া এসেছে এবং এগুলোভিত্তিক সহিংসতা বেড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আগে এক ধরনের সহিংসতা ছিল যে মেয়েদের লেখাপড়া করতে দেয়া হতো না, বাইরে যেতে দেয়া হতো না অথবা অনেক ছোট বয়সে বিয়ে দিয়ে দেয়া হতো। ওই জায়গাগুলোতে পরিবর্তন হয়েছে। তবে মেয়েদের ওপর নির্দেশনা চাপিয়ে দেয়ার ব্যাপারটি রয়েই গেছে। একেক সময় একেক ধরনের নির্দেশনা সমাজ বা পরিবার মেয়েদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। সিস্টেমের তো চেঞ্জ হয়নি।’

জিনাত আরা বলেন, ‘আমাদের শিকড়েই সমস্যা রেখে দেয়া হলে ডাল কেটে বা ডাল ছেঁটে কোনো লাভ নেই। কারণ শিকড় থেকে আবার সেই জিনিসটাই বের হচ্ছে। এ কারণে ধর্ষণ, যৌন হয়রানি কমছে না। এখন যখন মেয়েদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, তারা বাইরে যাচ্ছে, চাকরি করছে। এত চাপের পরও মেয়েরা প্রতিবাদ করছে। তখন আরও বেশি শারীরিকভাবে তাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি করেও যখন দেখছে কিছু হচ্ছে না, তখন তাদের মানসিক, সামাজিকভাবে বয়কটের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের কোণঠাসা করে বিচ্ছিন্ন করে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

নারীর জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়তে বদলাতে হবে পুরুষকে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কলা ভবনের সামনের রাস্তায় এক তরুণীকে হেনস্তার ঘটনায় গত ১২ জুন প্রতিবাদ সমাবেশ করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে রোববার বিকেলে প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। ফাইল ছবি

তিনি বলেন, ‘আগের দিনে মেয়েদের রান্নার জন্য মসলা বাটতে হতো। আধুনিকায়নের কারণে এখন গুঁড়া মসলা পাওয়া যাচ্ছে। সেটা সময় বাঁচিয়েছে, কিন্তু সেই মসলার নাম দেয়া হয়েছে রাঁধুনী। অর্থাৎ মেয়েরাই রান্না করবে- এটাই যেন নির্ধারিত। আধুনিকায়নের সঙ্গে মানসিকতার খুব একটা পরিবর্তন হয়নি।’

পুরুষ ও নারীর মানসিকতায় পরিবর্তন ঘটানোর ওপর জোর দিয়ে জিনাত আরা বলেন, ‘ছেলেরা ঘরের কাজ করলে মেয়েরা সারপ্রাইজড হয়ে যায়। মেয়েরা কিন্তু বাইরে ঠিকই যাচ্ছে, আবার সমানভাবে ঘর সামলাচ্ছে। বাচ্চা থেকে শুরু করে বয়স্কদের খেয়াল রাখছে।

‘তবে পুরুষ ঘরে আসেনি। তারা শুধু বাইরেই রয়ে গেছে। ঘরের কাজ যে শুধু মেয়েদের নয়- এই মানসিকতা পুরোপুরি তৈরি হয়নি। তাই মেয়েদের ঘরের কাজের মূল্যায়ন হয়নি। অন্যদিকে নারীকে এখনও নারী হিসেবেই দেখতে চায় পুরুষতান্ত্রিক সমাজ। মেয়েরা অফিসে কাজ করছেন ঠিকই, কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জিং কাজ তাদের দেয়ার ক্ষেত্রে অনেক চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা নারীদের অবস্থার পরিবর্তনে অনেক কাজ করছি, কিন্তু পুরুষের মানসিকতা পরিবর্তনে খুবই কম কাজ করেছি। পুরুষের পরিবর্তন হওয়াটা খুব জরুরি। দক্ষতা ও যোগ্যতার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সমানভাবে কাজ করতে পারে- এমন মানসিকতা পুরুষের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে আনা গেলেই নারীর প্রতি সহিংসতা কমানো যাবে।’

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী ব্যারিস্টার শুভ্রা চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নারীর প্রতি সহিংসতার মূলে রয়েছে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের মধ্যে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পিতৃতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি।’

তিনি বলেন, ‘নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের অনেক উদ্যোগ ও আইন রয়েছে; কিন্তু সেগুলো প্রয়োগের ক্ষেত্রে রয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা। জামিন অযোগ্য মামলার আসামি কোনো না কোনো প্রভাব খাটিয়ে জামিনে মুক্তি পেয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া তদন্তে গাফিলতি, উপযুক্ত প্রমাণ সংগ্রহ ও সংরক্ষণে ব্যর্থতা, সাক্ষীর অপর্যাপ্ততা, পারিপার্শ্বিক চাপ ইত্যাদি কারণে মামলাগুলো গতি হারাচ্ছে।’

নারীর প্রতি সহিংসতা দূর করতে আইনের যথাযথ প্রয়োগের ওপর জোর দিয়ে ব্যারিস্টার শুভ্রা বলেন, ‘এ জন্য সবার নজরদারি বাড়াতে হবে। শিক্ষাঙ্গন ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি ঠেকাতে হাইকোর্টের রায়ের আলোকে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানির অভিযোগ গ্রহণ সংক্রান্ত কমিটি করতে হবে। একই সঙ্গে সুষ্ঠু ও পক্ষপাতহীন তদন্তসাপেক্ষে দ্রুত অপরাধীর বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. তানিয়া হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কোনো সহিংস ঘটনা ঘটলে কিছুদিন প্রতিবাদ, শোভাযাত্রা করে সাময়িকভাবে থামানো গেলেও এটি তো শেষ হয়ে যায় না। কারণ সহিংসতার প্যাটার্নে পরিবর্তন এসেছে, মানসিকতার পরিবর্তন হয়নি। আমরা মানসিকভাবে মানবিক পরিবর্তন ঘটাতে না পারলে এসব ঘটতেই থাকবে।

‘শুধু পুরুষতান্ত্রিক সমাজের দোষ দিয়ে তো লাভ নেই। জেন্ডার ডিসক্রিমিনেশন বা লিঙ্গবৈষম্যের মানসিকতা পরিবার থেকেই শিখে বড় হয় অনেক শিশু। ভালোবাসা, বন্ধন, সমতা- এই শিক্ষাগুলো পরিবার থেকেই আসতে হবে।’

সহিংসতার পেছনে আধুনিক সময়ের প্রযুক্তিও কিছুটা দায় রয়েছে বলে মনে করেন ড. তানিয়া। তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তির অপব্যবহার মানুষকে পরিবার থেকে দূরে নিয়ে যাচ্ছে। সবাই ভার্চুয়ালি যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। এতে তো বন্ধন তৈরি হয় না। পরিবার থেকেই মানুষ সামাজিকতা শেখে। আর সঠিক সামাজিকতা নিয়ে বড় হলে সহিংস মনোভাব অনেক কমে আসবে।’

পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটাতে করণীয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রথমত কোনো একটি সহিংস ঘটনা কেন হলো সেটা নিয়ে গবেষণা করতে হবে। একটা মানুষ এ রকম ঘটনা কেন ঘটাল, তার গোড়া পর্যন্ত যেতে হবে। প্রতিবাদ করেই থেমে যাওয়া যাবে না।

‘একেকটি ঘটনা একেকভাবে ঘটে। সেগুলো বিশ্লেষণ করে মূল জায়গাটিতে পৌঁছাতে হবে। তারপর একেকটি কারণ ধরে সমস্যা সমাধানের পথ বের করতে হবে। আর পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ভালোবাসা, আন্তরিকতা বাড়ানোর বিষয়গুলো নিয়েও কাজ করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
প্রতি তিনজন নারীর একজন সহিংসতার শিকার: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

মন্তব্য

p
উপরে