দুগ্ধদানকারী মায়ের ভাতা পাচ্ছেন আল-আমিন!

দুগ্ধদানকারী মায়ের ভাতা পাচ্ছেন আল-আমিন!

বরগুনায় দুগ্ধদায়ী মাতা হিসেবে ভাতা পাচ্ছেন আল-আমিন চৌকিদার ও তার স্ত্রী সুখি বেগম।

নিম্ন আয়ের কর্মজীবী দুগ্ধদায়ী মায়েদের (ল্যাকটেটিং মাদার) জন্য এই সামাজিক নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম চালু করে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর। জেলা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর এটি বাস্তবায়ন করে। এ ভাতা পাওয়ার কথা শুধু ২০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী মায়েদের।

দুগ্ধদায়ী মাতা হিসেবে ভাতা পাচ্ছেন আল-আমিন চৌকিদার নামে বরগুনার এক পুরুষ। বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের ছোট পোটকাখালী এলাকার এই বাসিন্দার বিকাশ নম্বরে সরকারের চালু করা এ ভাতা ২০১৯ সাল থেকে প্রতি মাসে এসে জমা পড়ছে।

ওই তালিকায় আল-আমিনের স্ত্রী সুখি বেগমও ভাতা পাচ্ছেন। সুখির নামও রয়েছে তালিকায়।

আল-আমিন ও সুখি জানান, তাদের দুজনের নাম ওই তালিকায় তোলার জন্য তারা জেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহকারী নাজমুল হাসানকে ৬ হাজার টাকা দিয়েছেন। এর ফলে তালিকায় তাদের নাম উঠে গেছে।

নিম্ন আয়ের কর্মজীবী দুগ্ধদায়ী মায়েদের (ল্যাকটেটিং মাদার) জন্য এই সামাজিক নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম চালু করে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর। জেলা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর এটি বাস্তবায়ন করে।

মায়ের স্বাস্থ্য এবং শিশুর পুষ্টিসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কর্মসূচির আওতায় শিশুর জন্ম থেকে ৩৬ মাস পর্যন্ত প্রত্যেক মাকে সর্বমোট ২৮ হাজার টাকা সহায়তা দেয়া হয়।

এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা আছে। তাতে বলা হয়েছে, দুগ্ধদায়ী মায়েদের বয়সসীমা ২০ থেকে ৩৫ বছর হতে হবে। শহরে ‘ল্যাকটেটিং মাদার’ ও গ্রামাঞ্চলে ‘মাতৃত্বকালীন ভাতা’ দুটি আলাদা নামে এই কর্মসূচি চলে আসছে। শহরে ‘ল্যাকটেটিং মাদার’ কর্মসূচিতে নীতিমালার শর্ত পূরণ সাপেক্ষে শুধু পৌর শহরের বাসিন্দা নারীরা অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন।

তবে বরগুনায় এ কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়ম ও ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সুবিধাভোগী তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির নামে ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে জেলা মহিলা অধিদপ্তরের উপপরিচালক ও তার অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঘুষ নিয়েও অনেককে ভাতা সুবিধার আওতায় আনতে পারেননি ওই কর্মকর্তারা। তবে ঘুষের টাকা ফেরত দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে বরগুনা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগও করেছেন একজন ভুক্তভোগী।

জেলা মহিলা অধিদপ্তর বরগুনা কার্যালয়ের তথ্যমতে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে পৌরশহরে এ কর্মসূচির সুবিধাভোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৫০ জন। অভিযোগ উঠেছে, নীতিমালা অনুসরণ না করে ঘুষের বিনিময়ে ওই কর্মসূচিতে অনেক সুবিধাভোগীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এখানে ভাতা পাচ্ছেন এমন নারীদের তালিকা ঘেঁটে দেখা যায়, শিশু নেই এমন একাধিক নারী, শিশু ও দুগ্ধদানকারী মায়ের বয়সের শর্ত পূরণ হয় না এমন একাধিক নারী এবং এমনকি একজন পুরুষও এই তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন। এ ছাড়া পৌর শহরের বাসিন্দা নন, এমন শতাধিক নারীর এই তালিকায় স্থান হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, এসব অনিয়মের মূল কারণ ঘুষ-বাণিজ্য। সুবিধাভোগীরাই জানিয়েছেন, বরগুনা মহিলা অধিদপ্তরের অফিস সহকারী নাজমুল হাসান ও জেলা মহিলাবিষয়ক কমকর্তা মেহেরুন নাহার মুন্নি পরস্পরের যোগসাজশে ঘুষের বিনিময়ে তাদের এমন সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন।

আনিসা আক্তার নামের এক নারী ল্যাকটেটিং মাদার কর্মসূচির সুবিধা ভোগ করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আনিসা আক্তারের জাতীয় পরিচয়পত্রে স্বামীর নাম নেই, তবে বাবার নাম ওয়াহেদুল ইসলাম, তার ঠিকানা মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দীন সড়ক, আমতলী পৌরসভা। ওই এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আনিসা আক্তার বরিশালে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন এবং তিনি বরিশালেই বসবাস করেন।

একইভাবে বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের দক্ষিণ মনসাতলি এলাকার বাসিন্দা স্বর্ণা সরকারের শিশু নেই; অথচ তিনি কর্মসূচির আওতায় নিয়মিত ভাতা পেয়ে আসছেন।

বরগুনা পৌর শহরের কলেজ ব্রাঞ্চ সড়কের বিলকিচ বিনা। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার বয়স এখন ৫৩ বছর। তার সন্তান এখন লেখাপড়া করছে দশম শ্রেণিতে। তিনিও ২০১৯ সালে এই প্রকল্পের অধীনে সহায়তা পাচ্ছেন উৎকোচের বিনিময়ে।

নীতিমালা অনুযায়ী ২০ থেকে ৩৫ বছরের দুগ্ধদায়ী মায়েদের এ ভাতা পাওয়ার কথা। এলাকায় গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে দেখা যায়, বিনার বয়স ৫৫ বছর। অথচ তিনিও রয়েছেন ভাতা সুবিধার আওতায়। বিলকিস বেগম অকপটে স্বীকার করেন, তিনি ৬ হাজার টাকা দিয়ে নাম তালিকাভুক্ত করিয়ে নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে ৭ হাজার টাকা চাইছিল, আমি ৬ হাজার টাকা দিয়ে নাম উঠাইয়া টাকা পাইতেছি।’

একইভাবে নিয়মিত ভাতার আওতায় আছেন এমন অর্ধশতাধিক নারীর তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছে নিউজবাংলা। ওই নারীদের সঙ্গে সরাসরি কথা হয়েছে প্রতিবেদকের। এদের অধিকাংশই পৌর শহরের বাইরের বাসিন্দা। এ ছাড়া অনেকের বয়স ও শিশুর বয়স নীতিমালার শর্ত পূরণ করে না।

যেভাবে ঘুষ নেয়া হয়েছে

সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের ভোটার মরিয়ম আক্তার বীথি। মাস্টার রোলে চাকরি করছেন পৌরসভার স্বাস্থ্য বিভাগে। ২০১৭ সালে বরগুনার মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের অফিস সহকারী নাজমুল হাসানকে ৪ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে ভাতা সুবিধার আওতায় আসেন তিনি। পরিচয়ের সুবাদে বীথিকে ঘুষের প্রস্তাব দেন নাজমুল হাসান।

২০১৯ সালের কর্মসূচিতে নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য বীথির কাছে নারীদের তালিকা চান নাজমুল। জনপ্রতি সাড়ে ৭ হাজার টাকার বিনিময়ে এ প্রকল্পের আওতায় যেকোনো এলাকার মায়েদের সহায়তা পাইয়ে দেবেন বলে জানান নাজমুল।

এ প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে মরিয়ম আক্তার বীথি পৌর শহর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৬৯ মায়ের নাম এবং এসব মায়ের কাছ থেকে সাড়ে ১২ লাখ টাকা ঘুষ তুলে নাজমুলের হাতে দেন। ওই তালিকার ১৬৯ জনের মধ্যে ৪৬ জনকে ভাতা সুবিধায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং তারা বিকাশের মাধ্যমে নিয়মিত ভাতা তুলছেন। কিন্তু ১৬৯ জনের মধ্যে বাকি ১২৩ জনের নাম বছরের পর বছর ঘুরেও অন্তর্ভুক্ত করতে পারেননি বীথি। তারা ফেরত পাননি ঘুষের টাকা।

এ নিয়ে বীথির সঙ্গে নাজমুলের বিবাদ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি সালিশ বৈঠকে গড়ায়। সদর উপজেলা বিআরডিবির চেয়ারম্যান রুহুল আমিন সালিশ করে নাজমুলকে নাম অন্তর্ভুক্তি অথবা টাকা ফেরতের শর্ত দেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও নাম বা টাকা ফেরত কোনোটাই দেননি অফিস সহকারী নাজমুল।

বঞ্চিতদের চাপে বিপাকে পড়েন বীথি। অবশেষে গত ২১ অক্টোবর বরগুনা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগকারী মরিয়ম আক্তার বীথির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘অফিস সহকারী নাজমুল হাসানের কথামতো আমি তালিকা ও ১২ লাখ টাকা তার হাতে দিই। কিন্তু তিনি বাকি নামও অন্তর্ভুক্ত করতে পারেননি, আর টাকাও ফেরত দেননি। বাধ্য হয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি।’

বীথি বলেন, ‘আমি নিয়মকানুন জানতাম না, উনি (নাজমুল) আমায় বলেছেন, তুমি শুধু মহিলাদের আইডি কার্ড আর প্রতি নামে ৬ হাজার টাকা ও কাগজপত্র ঠিক করতে ১৫০০ টাকা এনে দেও, বাকিটা আমি দেখব। কিন্তু পরে আমি নীতিমালার বিষয়টি জানতে পারি। ওনারা সবার কাছ থেকেই ঘুষ নিয়েছেন আর ঘুষের বিনিময়েই নাম তালিকাভুক্ত করেছেন।’

বীথি বলেন, সুবিধাভোগীদের যে বিকাশ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা দেয়া হয়, ওই নম্বর ও অ্যাকাউন্ট চেক করলেই থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।’

বীথির মতো আরও একজন পৌর শহরের আমতলারপাড় এলাকার শুক্কুর আলী। তিনি বরগুনা পৌরসভায় পিয়ন পদে চাকরি করেন। শুক্কুর আলী জানান, বরগুনা পৌরসভা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার ১০৩ জন মায়ের নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক মেহেরুন্নাহার মুন্নীর হাতে তিনি সরাসরি জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা করে ঘুষ দিয়েছেন। সেখান থেকে ৬৩ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বঞ্চিত বাকি ৪০টি নামের ঘুষের টাকা ফেরত চাইলে এখন তাকে চিনতেই পারছেন না উপপরিচালক মেহেরুন্নাহার মুন্নী।

শুক্কুর আলী নিজের নম্বর থেকে প্রতিবেদকের সামনেই মেহেরুন্নাহার মুন্নীর নম্বরে কল করলে তাকে না চেনার ভান করেন মুন্নী। এর কিছুক্ষণ পরই মেহেরুন্নাহার মুন্নীর অফিস থেকে আরেকজন শুক্কুরকে ফোন দিয়ে অফিসে যেতে বলেন।

শুক্কুর আলী বিষয়টি ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহিদুল করিম বাবুর কাছে জানান।

জাহিদুল করিম বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি। গত দুই-তিন মাস ধরেই শুক্কুর আলী জানাচ্ছেন, মেহেরুন মুন্নীকে তিনি টাকা দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আমি মেহেরুন মুন্নীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছি, কিন্তু একাধিকবার ফোনে কথা বলে অফিসে গিয়েও তার দেখা পাইনি।’

শুক্কুর আরো বলেন, সদরের বুড়িরচর ইউনিয়েনরও অনেকের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছেন মেহেরুন মুন্নী।

শুক্কুরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী বুড়িরচর ইউনিয়নের সোনাখালী গ্রামের একাধিক নারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রলোভন দেখিয়ে স্থানীয় ২২ নারীর কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে অর্থ। তাদের অনেকে তালিকাভুক্ত হতে পারেননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক নারী জানান, মুন্নী ও নাজমুলকে টাকা দিয়ে তারা নাম তালিকায় ওঠাতে চেয়েছেন। কিন্তু টাকা নিলেও ভাতা পাননি তারা। এখন তারা ঘুষের অর্থ ফেরত চান।

এ বিষয়ে বরগুনা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের অফিস সহকারী নাজমুল হাসানের সঙ্গে তার কার্যালয়ে কথা হয়। এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নাজমুল বলেন, ‘আমি ঘুষ নিয়েছি এর কোনো প্রমাণ নেই।’

এ সময় বীথির সঙ্গে ঘুষের টাকা নিয়ে সালিশ বৈঠকের ভিডিওচিত্র দেখানো হয় তাকে। ওই ভিডিও দেখে তিনি চুপ হয়ে যান এবং প্রতিবেদককে ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করেন।

সালিশ বৈঠকে উপস্থিত বরগুনা সদরের বিআরডিবির (বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড) চেয়ারম্যান এ বি এম রুহুল আমিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি সালিশ বৈঠক করেছিলাম। নাজমুল ভাই টাকা নিয়েছেন স্বীকার করে নাম তালিকাভুক্ত করে দেবেন অথবা টাকা ফেরত দেবেন মর্মে অঙ্গীকার করেন। ওই সালিশের একটি রোয়েদাদও হয়েছিল, যা আমার কাছে সংরক্ষিত আছে।’

বরগুনা পৌর শহরে দীর্ঘদিন ধরে এ প্রকল্প চলে এলেও সংশ্লিষ্ট পৌর মেয়রকে এ বিষয়ে জানানো হয়নি কিছুই। বরগুনা পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান মহারাজ বলেন, ‘এই কর্মসূচির সুবিধাভোগী বাছাই ও সহায়তার টাকা দেয়ার সব কাজই মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর করে থাকে। আমাদের তারা অবহিতও করে না। এমন অনিয়মের বিষয়ে অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের আওতায় আনা জরুরি।’

তবে এমন সব অভিযোগ অস্বীকার করে বরগুনা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক মেহেরুন্নাহার মুন্নী দাবি করেন, নীতিমালা মেনেই সুবিধাভোগী বাছাই ও ভাতা দেয়া হচ্ছে। ঘুষ নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি ভুক্তভোগীদের দাবি নাকচ করে দেন। অফিস সহকারীর ঘুষ নেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তার (নাজমুলের) বিরুদ্ধে কেউ যদি লিখিত অভিযোগ দেয়, তবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
সাত হাজার মানুষের ভাতার টাকা যাচ্ছে কই?
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে কৃষকের ‘কোটি টাকা লোপাট’
বিকাশে ভাতার টাকা যাচ্ছে ‘অন্য নম্বরে’
রাতে বাসায় বসে জন্ম সনদ দেন ইউপি সচিব
ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অন্যের বয়স্ক ভাতা নেয়ার অভিযোগ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগে ছাত্রদল নেতাকে পিটুনি

বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগে ছাত্রদল নেতাকে পিটুনি

মারধরের শিকার মাসুদ রানা জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি ও বেড়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। ছবি: নিউজবাংলা

ওসি রওশন আলী জানান, কিছুদিন ধরে রূপপুর ইউনিয়নের এক প্রবাসীর স্ত্রী সঙ্গে মাসুদ রানার বিয়েবহির্ভূত সম্পর্ক চলছিল। সোমবার দুপুরে ওই গৃহবধূর এক ভাইয়ের বাসা থেকে তাদের দুজনকে ‘আপত্তিকর অবস্থায়’ আটক করেন স্থানীয়রা। পরে মাসুদ উত্তেজিত লোকজনের পিটুনির শিকার হন।

বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ তুলে পাবনার আমিনপুরে ছাত্রদলের এক নেতাকে পিটুনি দিয়েছে এলাকাবাসী।

পুলিশ বলছে, উপজেলার রূপপুর ইউনিয়নের ভূয়াপাড়া এলাকায় সোমবার ঘটনাটি ঘটে।

মারধরের শিকার মাসুদ রানা জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি ও বেড়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক।

এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, কিছুদিন ধরে রূপপুর ইউনিয়নের এক প্রবাসীর স্ত্রী সঙ্গে মাসুদ রানার বিয়েবহির্ভূত সম্পর্ক চলছিল। সোমবার দুপুরে ওই গৃহবধূর এক ভাইয়ের বাসা থেকে তাদের দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করেন স্থানীয়রা।

পরে মাসুদ রানা উত্তেজিত লোকজনের পিটুনির শিকার হন। একপর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালান মাসুদ।

পুলিশ ওই গৃহবধূকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমিনপুর থানায় নিয়ে যায়।

মাসুদ রানার দলীয় পরিচয় নিশ্চিত করে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান প্রিন্স বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা কোনো অভিযোগ পাইনি। ফেসবুকে বিষয়টি জেনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে দলীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রওশন আলী জানান, ওই নারীকে রোষাণল থেকে বাঁচাতে পুলিশি হেফাজতে নেয়া হয়। রাতে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
সাত হাজার মানুষের ভাতার টাকা যাচ্ছে কই?
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে কৃষকের ‘কোটি টাকা লোপাট’
বিকাশে ভাতার টাকা যাচ্ছে ‘অন্য নম্বরে’
রাতে বাসায় বসে জন্ম সনদ দেন ইউপি সচিব
ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অন্যের বয়স্ক ভাতা নেয়ার অভিযোগ

শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ফ্লাইওভারে ফাটল: সিডিএকে দুষছেন সিটি মেয়র

চট্টগ্রামে ফ্লাইওভারে ফাটল: সিডিএকে দুষছেন সিটি মেয়র

চট্টগ্রামের এম এ মান্নান ফ্লাইওভারের আরাকান সড়কমুখী র‍্যাম্পের পিলারে ফাটলের কারণে সোমবার রাত ১০টা থেকে যান চলাচল বন্ধ। ছবি: নিউজবাংলা

চট্টগ্রাম সিটি মেয়র রেজাউল করিম বলেন, ‘যেসব ঠিকাদার এখানে কাজ করেছেন তাদের ত্রুটি আছে কি না, তা খুঁজে বের করবে সিডিএ। আমাদের পক্ষ থেকে তাদের সহযোগিতা করা হবে।’

চট্টগ্রামের এম এ মান্নান ফ্লাইওভারের আরাকান সড়কমুখী র‍্যাম্পের পিলারে ফাটলের ঘটনায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (সিডিএ) দুষছেন সিটি মেয়র রেজাউল করিম।

তিনি বলেন, ‘ফ্লাইওভারের মূল নকশায় র‍্যাম্পের অস্তিত্ব ছিল না। সিডিএ এটা যুক্ত করেছে। তাই তারা ত্রুটি বের করে ব্যবস্থা নেবে।’

ফ্লাইওভারের ফাটলস্থল পরিদর্শন করে মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে সাংবাদিকদের এসব জানান রেজাউল করিম।

তিনি বলেন, ‘ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ করেছে সিডিএ। ফাটলের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে আজকেই তাদের চিঠি দেব। কারণ যেকোনো সময় এখানে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

ফাটলের ঘটনা তদন্তে সিটি করপোরেশন সহযোগিতা করবে জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘যেসব ঠিকাদার এখানে কাজ করেছেন তাদের ত্রুটি আছে কি না, তা খুঁজে বের করবে সিডিএ। আমাদের পক্ষ থেকে তাদের সহযোগিতা করা হবে।’

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস মুঠোফোনে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ফ্লাইওভারে র‌্যাম্পে ফাটলের বিষয়টি শুনেছি। ফ্লাইওভারটা আগের চেয়ারম্যানের সময় তৈরি করা হয়েছিল। তাই এ বিষয়ে কথা বলা যাচ্ছে না। ঘটনাস্থলে আমাদের লোক আছে। আমরা মন্ত্রণালয়ের একটি মিটিংয়ে যোগ দিতে ঢাকায় এসেছি। চট্টগ্রামে ফিরে পিলারগুলো পরীক্ষা করার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

ফাটলের কারণে চট্টগ্রামের এম এ মান্নান ফ্লাইওভারের আরাকান সড়কমুখী র‌্যাম্পে সোমবার রাত ১০টা থেকে যান চলাচল বন্ধ। মঙ্গলবার সকাল থেকে ফ্লাইওভারের দুই পাশের সড়কে দেখা গেছে যানবাহনের তীব্র চাপ।

চট্টগ্রামে ফ্লাইওভারে ফাটল: সিডিএকে দুষছেন সিটি মেয়র

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) মমতাজ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা প্রকল্প ম্যানেজারের কাছ থেকে খবর পেয়ে রাতেই ওই র‌্যাম্পে যান চলাচল বন্ধের ব্যবস্থা করি। এতে মুরাদপুরমুখী ও আরাকান সড়কমুখী গাড়িগুলো ফ্লাইওভারে উঠতে পারছে না।’

আরও পড়ুন:
সাত হাজার মানুষের ভাতার টাকা যাচ্ছে কই?
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে কৃষকের ‘কোটি টাকা লোপাট’
বিকাশে ভাতার টাকা যাচ্ছে ‘অন্য নম্বরে’
রাতে বাসায় বসে জন্ম সনদ দেন ইউপি সচিব
ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অন্যের বয়স্ক ভাতা নেয়ার অভিযোগ

শেয়ার করুন

সাম্প্রদায়িক হামলার পরিকল্পনা লন্ডনে বসে: তথ্যমন্ত্রী

সাম্প্রদায়িক হামলার পরিকল্পনা লন্ডনে বসে: তথ্যমন্ত্রী

রাজশাহী সার্কিট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। ছবি: নিউজবাংলা

মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্য শুনলে মনে হয়, ঠাকুর ঘরে কে রে, আমি কলা খাইনি। কাজটা তারা করে, তারপর টেলিভিশনের সামনে গিয়ে বড় বড় কথা বলে।’

দুর্গাপূজার সময় কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হয়েছে, তার পরিকল্পনা লন্ডনে বসে করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি সাম্প্রদায়িক হামলা দেশের শান্তি নষ্ট করার জন্যই ঘটানো হয়েছে। এর পরিকল্পনা হয়েছে লন্ডনে বসে। আপনারা দেখেছেন না, বিএনপি প্রায় এক মাস ধরে বৈঠক করছে? প্রকাশ্যে বৈঠক করেছে আর গোপনে ষড়যন্ত্র করেছে।

‘সেই ষড়যন্ত্রেরই অংশ হচ্ছে এই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে দুর্গাপূজার সময় পূজামণ্ডপে হামলা করা, আমাদের পবিত্র কোরআন শরিফ পূজামণ্ডপে রেখে আসা।’

রাজশাহী সার্কিট হাউসে মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

দুর্গাপূজায় সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে গত ১৩ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার একটি পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা।

নানুয়ার দিঘির পাড়ের ওই মণ্ডপে চলে ব্যাপক ভাঙচুর, আক্রান্ত হয় নগরীর আরও বেশকিছু পূজামণ্ডপ। পরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে চাঁদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায়।

মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্য শুনলে মনে হয়, ঠাকুর ঘরে কে রে, আমি কলা খাইনি। কাজটা তারা করে, তারপর টেলিভিশনের সামনে গিয়ে বড় বড় কথা বলে।’

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সঙ্গে জড়িত সবাইকে খুঁজে বের করা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে রাজনীতি করে বিএনপি-জামায়াত, ধর্মান্ধ-উগ্রবাদীরা। দেশের কোনো সম্প্রদায়ের লোক একে অপরের ধর্মগ্রন্থ অবমাননা করার মানসিকতা পোষণ করে না।

‘সরকার দেশের বিভিন্ন জেলায় সাম্প্রদায়িক সংঘাতের ঘটনার পর ১০২টি মামলা করেছে, সাত শ’র মতো দুষ্কৃতিকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। কঠোর হস্তে সরকার এটি দমন করেছে। সরকারের এই ভূমিকা আন্তর্জাাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে টেলিভিশনের ক্লিনফিড নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। হাছান মাহমুদ বলেন, ‘দেশে ১৭ বছর পর ক্লিনফিড কার্যকর হয়েছে। এটি সহজ কাজ ছিল না। আমাদের দেশের আকাশ অবশ্যই উন্মুক্ত। দেশের আইন মেনেই উন্মুক্ত আকাশের সুবিধা নিতে হবে। ক্লিনফিড কার্যকর করায় দেশের গণমাধ্যম উপকৃত হচ্ছে।

‘এর সুফল আপনারা কিছুদিন পরেই দেখতে পাবেন। এরই প্রেক্ষিতে প্রতি বছর এই খাতে দুই হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হবে। দেশের স্বার্থে জনগণের স্বার্থে এটি করা হয়েছে। এখান থেকে সরকারও ভ্যাট হিসেবে ৫০০ কোটি টাকা পাবে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিলসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা।

এর আগে সকালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের রাজশাহী উপকেন্দ্র পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। আগামী নির্বাচনের আগে এই কেন্দ্র চালু করা যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
সাত হাজার মানুষের ভাতার টাকা যাচ্ছে কই?
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে কৃষকের ‘কোটি টাকা লোপাট’
বিকাশে ভাতার টাকা যাচ্ছে ‘অন্য নম্বরে’
রাতে বাসায় বসে জন্ম সনদ দেন ইউপি সচিব
ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অন্যের বয়স্ক ভাতা নেয়ার অভিযোগ

শেয়ার করুন

কাঠাঁলগাছ থেকে শিক্ষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

কাঠাঁলগাছ থেকে শিক্ষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

প্রতীকী ছবি

নীলফামারী থানার এসআই জহুরুল ইসলাম জানান, সোমবার রাত ৯টার দিকে খাওয়াদাওয়া শেষে বাড়ি থেকে মন্দিরে যাওয়ার কথা বলে বের হন সুধা রঞ্জন। মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশে কাঁঠালগাছের ডালে তাকে ঝুলন্ত দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন।

নীলফামারী সদরে এক শিক্ষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের উত্তর ডাঙ্গাপাড়া এলাকার বাগান থেকে মঙ্গলবার দুপুরের দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত সুধা রঞ্জন রায়ের বাড়ি ওই এলাকাতেই।

লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড সদস্য জগদীশ চন্দ্র রায় জানান, তিনি স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনে শিক্ষকতা করতেন। পাশাপাশি কৃষিকাজ করে তার সংসার চালাতেন।

পরিবারের বরাত দিয়ে নীলফামারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জহুরুল ইসলাম জানান, সোমবার রাত ৯টার দিকে খাওয়াদাওয়া শেষে বাড়ি থেকে মন্দিরে যাওয়ার কথা বলে বের হন রঞ্জন।

মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশে কাঁঠালগাছের ডালে তাকে ঝুলন্ত দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেয়।

ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান এসআই।

আরও পড়ুন:
সাত হাজার মানুষের ভাতার টাকা যাচ্ছে কই?
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে কৃষকের ‘কোটি টাকা লোপাট’
বিকাশে ভাতার টাকা যাচ্ছে ‘অন্য নম্বরে’
রাতে বাসায় বসে জন্ম সনদ দেন ইউপি সচিব
ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অন্যের বয়স্ক ভাতা নেয়ার অভিযোগ

শেয়ার করুন

উখিয়ায় ৬ রোহিঙ্গা হত্যা: গ্রেপ্তার আরও ৪

উখিয়ায় ৬ রোহিঙ্গা হত্যা: গ্রেপ্তার আরও ৪

উখিয়ার ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা মসজিদ। ছবি: নিউজবাংলা

কক্সবাজার শহর থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে উখিয়ার থাইনখালীর ক্যাম্প-১৮-তে বৃহস্পতিবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসায় হামলা চালায় ৪০ থেকে ৫০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী। তাদের গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ৬ জন নিহত ও ১১ জন আহত হন।

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ব্রাশফায়ারের পর কুপিয়ে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং উখিয়া থানা পুলিশ যৌথভাবে সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তারা করে।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন উখিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গাজী সালাহউদ্দিন।

তিনি জানান, উখিয়া বালুখালী ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাদ্রাসায় ছয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে হত্যার ঘটনায় সোমবার রাতে ১০ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের হেড মাঝি শফিউল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গাজী সালাহউদ্দিন আরও জানান, মঙ্গলবার ভোরে ক্যাম্পের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ফরিদ হোসেন, জাহেদ হোসেন ও মো. হাশিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ নিয়ে এই মামলায় ১৪ রোহিঙ্গাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম জানান, ছয় রোহিঙ্গা হত্যার ঘটনায় ২৫ জনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয়ের আরও ২৫০ জনকে আসামি করে শনিবার রাতে উখিয়া থানায় মামলা করা হয়।

মামলা করেন নিহত মাদ্রাসাছাত্র আজিজুল হকের বাবা নুরুল ইসলাম। তিনি ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ-ব্লকের বাসিন্দা।

মামলায় এরই মধ্যে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মুজিবর রহমান, ৮ নম্বর ক্যাম্পের দিলদার মাবুদ, মো. আয়ুব, ৯ নম্বর ক্যাম্পের মো. আমিন, আব্দুল মজিদ, ১৩ নম্বর ক্যাম্পের মো. আমিন, মো. ইউনুস, ১২ নম্বর ক্যাম্পের জাফর আলম, ১০ নম্বর ক্যাম্পের মো. জাহিদ ও মোহাম্মদ আমিন।

এদের মধ্যে আটজনকে ঘটনার পর এবং দুইজনকে ২১ অক্টোবর রাতে আটক করা হয়। পরে তাদের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহম্মদ সঞ্জুর মোরশেদ জানান, মামলায় আকিজ অলি নামের একজনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

কক্সবাজার ৮-এপিবিএনের কমান্ডিং অফিসার (পুলিশ সুপার) মোহাম্মদ শিহাব কায়সার খান জানান, হত্যায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

কক্সবাজার শহর থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে উখিয়ার থাইনখালীর ক্যাম্প-১৮-তে বৃহস্পতিবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসায় হামলা চালায় ৪০ থেকে ৫০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী। তাদের গুলি ও ধারাল অস্ত্রের আঘাতে ৬ জন নিহত ও ১১ জন আহত হন।

গুলিতে নিহত নুর আলম হালিমের স্বজন ও ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রতি রাতে ওই মাদ্রাসায় শিক্ষক-ছাত্র ও স্থানীয় রোহিঙ্গারা মিলে তাহাজ্জুতের নামাজ আদায় করেন। আমিও নিয়মিত তাহাজ্জুতে শরিক হই। তবে বৃহস্পতিবার আমার ঘুম থেকে উঠতে দেরি হওয়ায় মসজিদে দেরিতে যাই।

‘কিন্তু আমি গিয়ে দেখি মাদ্রাসার ভেতরে সবাই ছোটাছুটি করছে। অনেকে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করছে। তাদের দেখে আমি দূরে সরে যাই। প্রায় আধা ঘণ্টা গোলাগুলি চলে। এরপর সন্ত্রাসীরা চলে যায়।’

আরও পড়ুন:
সাত হাজার মানুষের ভাতার টাকা যাচ্ছে কই?
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে কৃষকের ‘কোটি টাকা লোপাট’
বিকাশে ভাতার টাকা যাচ্ছে ‘অন্য নম্বরে’
রাতে বাসায় বসে জন্ম সনদ দেন ইউপি সচিব
ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অন্যের বয়স্ক ভাতা নেয়ার অভিযোগ

শেয়ার করুন

ইউপি নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাহার নিয়ে সংঘর্ষ

ইউপি নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাহার নিয়ে সংঘর্ষ

সংঘর্ষে আহত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদউল্লাহর সমর্থক কাইয়ূম মিয়া ও ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দীপুর সমর্থক শাহ আলম।

পুলিশ জানায়, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া দীপুকে সমর্থন জানিয়ে দলীয় চাপে মঙ্গলবার দুপুর ৩টার দিকে আসাদউল্লাহ তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। মনোনয়ন প্রত্যাহারে দীপুর সমর্থকরা আনন্দ মিছিল বের করলে আসাদউল্লাহর সমর্থকদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ও গুলি ছোড়ে। এতে দুই পক্ষেরই পাঁচজন গুলিবিদ্ধসহ ১০ জন আহত হয়।

নরসিংদীতে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে পাঁচজন গুলিবিদ্ধসহ ১০ জন আহত হয়েছে।

সদর উপজেলার আলোকবালিতে মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে সংঘর্ষ শুরু হয় বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাওগাতুল ইসলাম।

আহতদের মধ্যে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

তারা হলেন আলোকবালি ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দীপুর সমর্থক শাহ আলম ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদউল্লাহর সমর্থক কাইয়ূম মিয়া। চিকিৎসা নিয়ে তারা বাড়ি চলে গেছেন।

পুলিশ জানায়, বর্তমান চেয়ারম্যান দীপু ও আসাদউল্লাহ দুজনই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তবে মনোনয়ন দেয়া হয় দীপুকে। এ নিয়ে তাদের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। তবে দলীয় চাপে দীপুকে সমর্থন জানিয়ে মঙ্গলবার দুপুর ৩টার দিকে আসাদউল্লাহ তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।

তার মনোনয়ন প্রত্যাহারে দীপুর সমর্থকরা আনন্দ মিছিল বের করলে আসাদউল্লাহর সমর্থকদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ও গুলি ছোড়ে। এতে দুই পক্ষেরই পাঁচজন গুলিবিদ্ধসহ ১০ জন আহত হয়।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠায়।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য দীপু ও আসাদউল্লাহকে ফোন দেয়া হলে তারা কেউ ধরেননি।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সাহেব আলী পাঠান বলেন, ‘ইউপি নির্বাচন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে গন্ডগোল হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।’

এর আগে সোমবার বিকেলে নরসিংদীর রায়পুরার দুর্গম চরাঞ্চল বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও ইউপি নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে পাঁচজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ২০ জন আহতের খবর পাওয়া যায়।

যদিও পুলিশ জানায়, তারা গুলিবিদ্ধ হওয়ার কোনো খবর পায়নি। দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে হট্টগোল হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, রায়পুরা উপজেলার বাঁশগাড়ী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। ইউপি নির্বাচন নিয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান আশরাফুল হক ও বাঁশগাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাসান মিয়ার ছেলে জাকির গ্রুপের মধ্যে সেই বিরোধ চাঙা হয়।

দুই পক্ষ সোমবার বিকেলে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীর মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পাঁচজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান বলেন, এলাকার আধিপত্য ও সামনে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ নিয়ে একটু হট্টগোল হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সাত হাজার মানুষের ভাতার টাকা যাচ্ছে কই?
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে কৃষকের ‘কোটি টাকা লোপাট’
বিকাশে ভাতার টাকা যাচ্ছে ‘অন্য নম্বরে’
রাতে বাসায় বসে জন্ম সনদ দেন ইউপি সচিব
ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অন্যের বয়স্ক ভাতা নেয়ার অভিযোগ

শেয়ার করুন

রিকশাচালক হত্যা মামলায় ২ ভাই কারাগারে

রিকশাচালক হত্যা মামলায় ২ ভাই কারাগারে

বাদীপক্ষের আইনজীবী জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, দুই আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। কিন্তু হত্যার ঘটনাটি স্পর্শকাতর হওয়ায় বিচারক তাদের জামিন দেননি।

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে রিকশাচালক ছকু মিয়া হত্যা মামলার দুই আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

জেলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মঙ্গলবার দুপুরে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন দুই আসামি।

পরে আদালতের বিচারক আশিকুল খবির শুনানি শেষে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আসামিরা হলেন মন্টু মিয়া ও রনজু মিয়া। তারা সাদুল্লাপুর উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের পূর্ব দামোদরপুর গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার এজাহারে বলা হয়, সাদুল্লাপুর উপজেলার পূর্ব দামোদরপুর গ্রামের ছয় ভাই আলমগীর, আংগুর, রনজু, মনজু, সনজু ও মন্টু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় দাদনের কারবারে জড়িত ছিলেন।

তাদের সঙ্গে রিকশাচালক ছকু মিয়ার পারিবারিক ও দাদনের টাকা নিয়ে বিরোধ ছিল। ছকুর ছেলের সঙ্গে মন্টু মিয়ার মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে সেই বিরোধ আরও বাড়ে।

এ নিয়ে গত ১৫ মে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ছকু মিয়াকে তারই বাড়িতে আটকে হাত-পা বেঁধে ফেলে ছয় ভাইসহ তাদের লোকজন। রাতভর ছকুর ওপর চলে অমানবিক নির্যাতন।

এ ঘটনার পাঁচ দিন পর দামোদরপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলাম স্বাধীনের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠকে ‘ছেলের প্রেমের খেসারত’ হিসেবে ছকু মিয়াকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সেই টাকার জন্য ছকুর একমাত্র ঘরটিও ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন দাদন কারবারিরা।

এরপর তাকে ভিটেছাড়া করা হয়। পরে ছকু মিয়া আশ্রয় নেন গাজীপুরের শ্রীপুরে ছেলের বাসার। সেখানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ জুন মৃত্যু হয় তার।

এ ঘটনায় থানায় মামলা না নিলে গত ১৬ জুন ছকু মিয়ার ছেলে মোজাম্মেল হক জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে (সাদুল্লাপুর) মামলা করেন। পরে আদালতের বিচারক শবনম মুস্তারী সাদুল্লাপুর থানাকে মামলা রেকর্ডভুক্ত করে ২৩ জুনের মধ্যে মরদেহ উত্তোলনসহ প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেন। মামলার পর মোজাম্মেলকেও বাড়িছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে।

গত ২১ জুন সাদুল্লাপুর থানার পুলিশ ও জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লোকমান হোসেনের উপস্থিতে মরদেহ তুলে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাদীপক্ষের আইনজীবী জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, দুই আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। কিন্তু হত্যার ঘটনাটি স্পর্শকাতর হওয়ায় বিচারক তাদের জামিন দেয়নি।

আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন সৈয়দ ছামছুল আলম হিরু, আহসানুল করিম লাছু, নিরাঞ্জন কুমার ঘোষ।

আরও পড়ুন:
সাত হাজার মানুষের ভাতার টাকা যাচ্ছে কই?
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে কৃষকের ‘কোটি টাকা লোপাট’
বিকাশে ভাতার টাকা যাচ্ছে ‘অন্য নম্বরে’
রাতে বাসায় বসে জন্ম সনদ দেন ইউপি সচিব
ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অন্যের বয়স্ক ভাতা নেয়ার অভিযোগ

শেয়ার করুন