দুগ্ধদায়ী মাতা হিসেবে ভাতা পাচ্ছেন আল-আমিন চৌকিদার নামে বরগুনার এক পুরুষ। বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের ছোট পোটকাখালী এলাকার এই বাসিন্দার বিকাশ নম্বরে সরকারের চালু করা এ ভাতা ২০১৯ সাল থেকে প্রতি মাসে এসে জমা পড়ছে।
ওই তালিকায় আল-আমিনের স্ত্রী সুখি বেগমও ভাতা পাচ্ছেন। সুখির নামও রয়েছে তালিকায়।
আল-আমিন ও সুখি জানান, তাদের দুজনের নাম ওই তালিকায় তোলার জন্য তারা জেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহকারী নাজমুল হাসানকে ৬ হাজার টাকা দিয়েছেন। এর ফলে তালিকায় তাদের নাম উঠে গেছে।
নিম্ন আয়ের কর্মজীবী দুগ্ধদায়ী মায়েদের (ল্যাকটেটিং মাদার) জন্য এই সামাজিক নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম চালু করে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর। জেলা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর এটি বাস্তবায়ন করে।
মায়ের স্বাস্থ্য এবং শিশুর পুষ্টিসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কর্মসূচির আওতায় শিশুর জন্ম থেকে ৩৬ মাস পর্যন্ত প্রত্যেক মাকে সর্বমোট ২৮ হাজার টাকা সহায়তা দেয়া হয়।
এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা আছে। তাতে বলা হয়েছে, দুগ্ধদায়ী মায়েদের বয়সসীমা ২০ থেকে ৩৫ বছর হতে হবে। শহরে ‘ল্যাকটেটিং মাদার’ ও গ্রামাঞ্চলে ‘মাতৃত্বকালীন ভাতা’ দুটি আলাদা নামে এই কর্মসূচি চলে আসছে। শহরে ‘ল্যাকটেটিং মাদার’ কর্মসূচিতে নীতিমালার শর্ত পূরণ সাপেক্ষে শুধু পৌর শহরের বাসিন্দা নারীরা অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন।
তবে বরগুনায় এ কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়ম ও ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সুবিধাভোগী তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির নামে ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে জেলা মহিলা অধিদপ্তরের উপপরিচালক ও তার অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঘুষ নিয়েও অনেককে ভাতা সুবিধার আওতায় আনতে পারেননি ওই কর্মকর্তারা। তবে ঘুষের টাকা ফেরত দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে বরগুনা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগও করেছেন একজন ভুক্তভোগী।
জেলা মহিলা অধিদপ্তর বরগুনা কার্যালয়ের তথ্যমতে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে পৌরশহরে এ কর্মসূচির সুবিধাভোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৫০ জন। অভিযোগ উঠেছে, নীতিমালা অনুসরণ না করে ঘুষের বিনিময়ে ওই কর্মসূচিতে অনেক সুবিধাভোগীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এখানে ভাতা পাচ্ছেন এমন নারীদের তালিকা ঘেঁটে দেখা যায়, শিশু নেই এমন একাধিক নারী, শিশু ও দুগ্ধদানকারী মায়ের বয়সের শর্ত পূরণ হয় না এমন একাধিক নারী এবং এমনকি একজন পুরুষও এই তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন। এ ছাড়া পৌর শহরের বাসিন্দা নন, এমন শতাধিক নারীর এই তালিকায় স্থান হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, এসব অনিয়মের মূল কারণ ঘুষ-বাণিজ্য। সুবিধাভোগীরাই জানিয়েছেন, বরগুনা মহিলা অধিদপ্তরের অফিস সহকারী নাজমুল হাসান ও জেলা মহিলাবিষয়ক কমকর্তা মেহেরুন নাহার মুন্নি পরস্পরের যোগসাজশে ঘুষের বিনিময়ে তাদের এমন সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন।
আনিসা আক্তার নামের এক নারী ল্যাকটেটিং মাদার কর্মসূচির সুবিধা ভোগ করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আনিসা আক্তারের জাতীয় পরিচয়পত্রে স্বামীর নাম নেই, তবে বাবার নাম ওয়াহেদুল ইসলাম, তার ঠিকানা মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দীন সড়ক, আমতলী পৌরসভা। ওই এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আনিসা আক্তার বরিশালে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন এবং তিনি বরিশালেই বসবাস করেন।
একইভাবে বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের দক্ষিণ মনসাতলি এলাকার বাসিন্দা স্বর্ণা সরকারের শিশু নেই; অথচ তিনি কর্মসূচির আওতায় নিয়মিত ভাতা পেয়ে আসছেন।
বরগুনা পৌর শহরের কলেজ ব্রাঞ্চ সড়কের বিলকিচ বিনা। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার বয়স এখন ৫৩ বছর। তার সন্তান এখন লেখাপড়া করছে দশম শ্রেণিতে। তিনিও ২০১৯ সালে এই প্রকল্পের অধীনে সহায়তা পাচ্ছেন উৎকোচের বিনিময়ে।
নীতিমালা অনুযায়ী ২০ থেকে ৩৫ বছরের দুগ্ধদায়ী মায়েদের এ ভাতা পাওয়ার কথা। এলাকায় গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে দেখা যায়, বিনার বয়স ৫৫ বছর। অথচ তিনিও রয়েছেন ভাতা সুবিধার আওতায়। বিলকিস বেগম অকপটে স্বীকার করেন, তিনি ৬ হাজার টাকা দিয়ে নাম তালিকাভুক্ত করিয়ে নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে ৭ হাজার টাকা চাইছিল, আমি ৬ হাজার টাকা দিয়ে নাম উঠাইয়া টাকা পাইতেছি।’
একইভাবে নিয়মিত ভাতার আওতায় আছেন এমন অর্ধশতাধিক নারীর তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছে নিউজবাংলা। ওই নারীদের সঙ্গে সরাসরি কথা হয়েছে প্রতিবেদকের। এদের অধিকাংশই পৌর শহরের বাইরের বাসিন্দা। এ ছাড়া অনেকের বয়স ও শিশুর বয়স নীতিমালার শর্ত পূরণ করে না।
যেভাবে ঘুষ নেয়া হয়েছে
সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের ভোটার মরিয়ম আক্তার বীথি। মাস্টার রোলে চাকরি করছেন পৌরসভার স্বাস্থ্য বিভাগে। ২০১৭ সালে বরগুনার মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের অফিস সহকারী নাজমুল হাসানকে ৪ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে ভাতা সুবিধার আওতায় আসেন তিনি। পরিচয়ের সুবাদে বীথিকে ঘুষের প্রস্তাব দেন নাজমুল হাসান।
২০১৯ সালের কর্মসূচিতে নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য বীথির কাছে নারীদের তালিকা চান নাজমুল। জনপ্রতি সাড়ে ৭ হাজার টাকার বিনিময়ে এ প্রকল্পের আওতায় যেকোনো এলাকার মায়েদের সহায়তা পাইয়ে দেবেন বলে জানান নাজমুল।
এ প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে মরিয়ম আক্তার বীথি পৌর শহর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৬৯ মায়ের নাম এবং এসব মায়ের কাছ থেকে সাড়ে ১২ লাখ টাকা ঘুষ তুলে নাজমুলের হাতে দেন। ওই তালিকার ১৬৯ জনের মধ্যে ৪৬ জনকে ভাতা সুবিধায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং তারা বিকাশের মাধ্যমে নিয়মিত ভাতা তুলছেন। কিন্তু ১৬৯ জনের মধ্যে বাকি ১২৩ জনের নাম বছরের পর বছর ঘুরেও অন্তর্ভুক্ত করতে পারেননি বীথি। তারা ফেরত পাননি ঘুষের টাকা।
এ নিয়ে বীথির সঙ্গে নাজমুলের বিবাদ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি সালিশ বৈঠকে গড়ায়। সদর উপজেলা বিআরডিবির চেয়ারম্যান রুহুল আমিন সালিশ করে নাজমুলকে নাম অন্তর্ভুক্তি অথবা টাকা ফেরতের শর্ত দেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও নাম বা টাকা ফেরত কোনোটাই দেননি অফিস সহকারী নাজমুল।
বঞ্চিতদের চাপে বিপাকে পড়েন বীথি। অবশেষে গত ২১ অক্টোবর বরগুনা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগকারী মরিয়ম আক্তার বীথির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘অফিস সহকারী নাজমুল হাসানের কথামতো আমি তালিকা ও ১২ লাখ টাকা তার হাতে দিই। কিন্তু তিনি বাকি নামও অন্তর্ভুক্ত করতে পারেননি, আর টাকাও ফেরত দেননি। বাধ্য হয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি।’
বীথি বলেন, ‘আমি নিয়মকানুন জানতাম না, উনি (নাজমুল) আমায় বলেছেন, তুমি শুধু মহিলাদের আইডি কার্ড আর প্রতি নামে ৬ হাজার টাকা ও কাগজপত্র ঠিক করতে ১৫০০ টাকা এনে দেও, বাকিটা আমি দেখব। কিন্তু পরে আমি নীতিমালার বিষয়টি জানতে পারি। ওনারা সবার কাছ থেকেই ঘুষ নিয়েছেন আর ঘুষের বিনিময়েই নাম তালিকাভুক্ত করেছেন।’
বীথি বলেন, সুবিধাভোগীদের যে বিকাশ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা দেয়া হয়, ওই নম্বর ও অ্যাকাউন্ট চেক করলেই থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।’
বীথির মতো আরও একজন পৌর শহরের আমতলারপাড় এলাকার শুক্কুর আলী। তিনি বরগুনা পৌরসভায় পিয়ন পদে চাকরি করেন। শুক্কুর আলী জানান, বরগুনা পৌরসভা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার ১০৩ জন মায়ের নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক মেহেরুন্নাহার মুন্নীর হাতে তিনি সরাসরি জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা করে ঘুষ দিয়েছেন। সেখান থেকে ৬৩ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বঞ্চিত বাকি ৪০টি নামের ঘুষের টাকা ফেরত চাইলে এখন তাকে চিনতেই পারছেন না উপপরিচালক মেহেরুন্নাহার মুন্নী।
শুক্কুর আলী নিজের নম্বর থেকে প্রতিবেদকের সামনেই মেহেরুন্নাহার মুন্নীর নম্বরে কল করলে তাকে না চেনার ভান করেন মুন্নী। এর কিছুক্ষণ পরই মেহেরুন্নাহার মুন্নীর অফিস থেকে আরেকজন শুক্কুরকে ফোন দিয়ে অফিসে যেতে বলেন।
শুক্কুর আলী বিষয়টি ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহিদুল করিম বাবুর কাছে জানান।
জাহিদুল করিম বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি। গত দুই-তিন মাস ধরেই শুক্কুর আলী জানাচ্ছেন, মেহেরুন মুন্নীকে তিনি টাকা দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আমি মেহেরুন মুন্নীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছি, কিন্তু একাধিকবার ফোনে কথা বলে অফিসে গিয়েও তার দেখা পাইনি।’
শুক্কুর আরো বলেন, সদরের বুড়িরচর ইউনিয়েনরও অনেকের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছেন মেহেরুন মুন্নী।
শুক্কুরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী বুড়িরচর ইউনিয়নের সোনাখালী গ্রামের একাধিক নারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রলোভন দেখিয়ে স্থানীয় ২২ নারীর কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে অর্থ। তাদের অনেকে তালিকাভুক্ত হতে পারেননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক নারী জানান, মুন্নী ও নাজমুলকে টাকা দিয়ে তারা নাম তালিকায় ওঠাতে চেয়েছেন। কিন্তু টাকা নিলেও ভাতা পাননি তারা। এখন তারা ঘুষের অর্থ ফেরত চান।
এ বিষয়ে বরগুনা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের অফিস সহকারী নাজমুল হাসানের সঙ্গে তার কার্যালয়ে কথা হয়। এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নাজমুল বলেন, ‘আমি ঘুষ নিয়েছি এর কোনো প্রমাণ নেই।’
এ সময় বীথির সঙ্গে ঘুষের টাকা নিয়ে সালিশ বৈঠকের ভিডিওচিত্র দেখানো হয় তাকে। ওই ভিডিও দেখে তিনি চুপ হয়ে যান এবং প্রতিবেদককে ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করেন।
সালিশ বৈঠকে উপস্থিত বরগুনা সদরের বিআরডিবির (বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড) চেয়ারম্যান এ বি এম রুহুল আমিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি সালিশ বৈঠক করেছিলাম। নাজমুল ভাই টাকা নিয়েছেন স্বীকার করে নাম তালিকাভুক্ত করে দেবেন অথবা টাকা ফেরত দেবেন মর্মে অঙ্গীকার করেন। ওই সালিশের একটি রোয়েদাদও হয়েছিল, যা আমার কাছে সংরক্ষিত আছে।’
বরগুনা পৌর শহরে দীর্ঘদিন ধরে এ প্রকল্প চলে এলেও সংশ্লিষ্ট পৌর মেয়রকে এ বিষয়ে জানানো হয়নি কিছুই। বরগুনা পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান মহারাজ বলেন, ‘এই কর্মসূচির সুবিধাভোগী বাছাই ও সহায়তার টাকা দেয়ার সব কাজই মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর করে থাকে। আমাদের তারা অবহিতও করে না। এমন অনিয়মের বিষয়ে অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের আওতায় আনা জরুরি।’
তবে এমন সব অভিযোগ অস্বীকার করে বরগুনা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক মেহেরুন্নাহার মুন্নী দাবি করেন, নীতিমালা মেনেই সুবিধাভোগী বাছাই ও ভাতা দেয়া হচ্ছে। ঘুষ নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি ভুক্তভোগীদের দাবি নাকচ করে দেন। অফিস সহকারীর ঘুষ নেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তার (নাজমুলের) বিরুদ্ধে কেউ যদি লিখিত অভিযোগ দেয়, তবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
আরও পড়ুন:অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের পর নিরাপত্তাহীনতায় পুনরায় বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় গারো পাহাড় সীমান্তে মানব পাচারকারী চক্রের দুই সদস্যসহ ৭ জনকে আটক করেছে বিজিবি।
সোমবার (২৫ আগস্ট) সকাল পৌণে সাতটার দিকে শেরপুরের ঝিনাইগাতি উপজেলার নকশি সীমান্ত পথে নকশি ক্যাম্পের টহলরত বজিবি সদস্যরা তাদের আটক করে বিকেলে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
বিষয়টি ২৬ আগষ্ট সকালে বিজিবি পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়।
আটককৃতরা হলো মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বুরুঙ্গা গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে রমজান আলী (২৪) ও আসমত আলীর ছেলে রাসেল (১৬)। আটক অনুপ্রবেশকারীরা হলো, নড়াইল জেলার কালিয়া থানার বোমবাঘ গ্রামের শামীম শেখ (২৩), আফসানা খানম (২২), রুমা বেগম (৩২), মিলিনা বিশ্বাস (২৮) ও তিন বছর বয়সী শিশু কাশেম বিশ্বাস।
বিজিবি এক প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়, মাথাপিছু ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে গত ২৩ আগস্ট রাতের আধারে নালিতাবাড়ীর সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ পথে নারী এবং শিশুসহ ৫ বাংলাদেশীকে ভারতে পাঠায় মানব পাচারকারী রমজান আলী ও রাসেল। কিন্তু ভারতীয় পুলিশের তৎপরতায় নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে এ পাঁচ বাংলাদেশী। এ কারণে ২৫ আগষ্ট সোমবার সকাল পৌণে সাতটার দিকে ঝিনাইগাতির নকশি সীমান্তের কালিমন্দির এলাকা দিয়ে পুনরায় তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এসময় টহলরত বিজিবি সদস্যরা টের পেয়ে সবাইকে আটক করে। পরে মানব পাচারে জড়িত দুইজনের বিরুদ্ধে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে এবং অন্য ৫ জনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অপরাধে নালিতাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করা হয় এবং সবাইকে নালিতাবাড়ী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ময়মনসিংহ বিজিবি’র ৩৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিজিবির পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।
ঝালকাঠিতে গ্রাহকদের চাহিদা বিবেচনায় এনে ব্রান্ডশপ লোটো ও লি কুপার প্রতিষ্ঠানটি তাদের ১৩২তম ফ্লাগশিপ আউটলেট উদ্বোধন করেছে।
এক্সপ্রেস লেদার প্রোডাক্ট লিঃ এর ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর কাজী জাভেদ ইসলাম সহ কোম্পানির অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের সাথে নিয়ে ফিতা কেটে আউটলেটটি উদ্বোধন করেন ঝালকাঠির পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়।
পৌর শহরের সাধনার মোড়ে মঙ্গলবার ২৬ আগষ্ট সকাল ১০টায় লোটো ও লি কুপারের ফ্ল্যাগশিপ আউটলেটদ্বয়ের শুভ উদ্বোধন আনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পর্যায়ের গ্রাহক ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ঝালকাঠিতে কোম্পানীর এ যাত্রার প্রথম দিনে স্থানীয় ফ্যাশন সচেতন তরুণ তরুণীরা তাদের পছন্দের পন্য কালেকশন বেছে নিতে ভীর জমায়।
কোম্পানীর পক্ষ থেকে জানানো হয় প্রথম তিনদিনের প্রতিদিন প্রথম ৩০ জন পাবেন ৫০% ছাড়, ২য় ৩০ জন পাবেন ৪০% ছাড়, ৩য় ৩০ জন পাবেন ৩০% ছাড়, ৪র্থ ৩০ জন পাবেন ২০% ছাড় এবং তৎপরবর্তী সকল কাস্টমার পাবেন ১০% ছাড়। এই বিশেষ ছাড় ২৬শে আগষ্ট থেকে শুরু হয়ে ২৮ তারিখ পর্যন্ত চলমান থাকবে
নওগাঁয় সপ্তম শ্রেণীর এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে আটক রেখে ধর্ষণ মামলায় আ: সালাম (৩৮) নামে এক আসামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে এক লাখ টাকা অর্থদন্ড ও অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রোববার (২৪ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে নওগাঁর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মেহেদী হাসান তালুকদার এ রায় দেন।
যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আ: সালাম সদর উপজেলার বর্ষাইল মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম ওই শিক্ষার্থীর পরিবার পত্নীতলা উপজেলায় ভাড়া থাকতেন। ভাঙ্গারী ব্যবসার সুবাদে আসামী আ: সালামও পাশাপাশি একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ভিকটিম মাদ্রাসায় যাওয়া আসার পথে আ: সালাম বিভিন্ন সময় কু-প্রস্তাব দিতো এবং রাস্তাঘাটে বিরক্ত করতো। বিষয়টি জানাজানি হলে আসামী আ: সালাম ওই ভিকটিমের পরিবারকে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখাতো। এরই একপর্যায়ে ২০২২ সালের ১১ জুলাই বিকেল তিনটার দিকে আসামী আ: সালাম একটি বাজার এলাকা থেকে ওই শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে নওগাঁ সদর উপজেলার ভবানীপুর দক্ষিন পাড়া গ্রামের মোজাফ্ফর রহমানের ভাড়া বাড়িতে আটক রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই শিক্ষার্থীর বাবা পত্নীতলা থানায় অভিযোগ করলে র্যাব ওই বাড়ি থেকে আসামিকে গ্রেফতার ও মেয়েকে উদ্ধার করে। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা থাকায় আসামী আ: সালামসহ চার জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। আদালত ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহন শেষে আজ আ: সালামকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং একই সঙ্গে এক লাখ টাকা অর্থদন্ড ও অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়। বাকি আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় তাদেরকে খালাস দেওয়া হয়।
মামলার এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রেজাউল করিম সন্তোষ প্রকাশ করেন। আসামী পক্ষের আইনজীবী ফাহমিদা কুলসুম উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানান।
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার রায়কালী ইউনিয়নের বালুকাপাড়া গ্রামে রাগের মাথায় স্ত্রীকে তালাক দিয়ে পুনরায় তাকে বিয়ে করায় এক দম্পতিকে দেড় বছর ধরে 'সমাজচ্যুত' করে রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এ বিষয়ে নালিশ দেওয়ার জের ধরে পেটানো হয় দিনমজুর আব্দুল জলিল প্রামানিককে। প্রতিপক্ষের লোকজনের মারধরে এতে তার বাম হাতের হাঁড় ভেঙে গেছে।
এঘটনায় তিনি একটি থানায় অভিযোগ করেছেন। গত মঙ্গলবার রাতে সেটি মামলাটি হিসেবে রের্কড করা হয়। তবে মামলার এজাহারে সমাজচ্যুত করে রাখার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।
সরেজমিনে বালুকাপাড়া গ্রামে গিয়ে আব্দুল জলিলকে ১৮ মাস ধরে সমাজচ্যুত করে রাখার তথ্য জানা গেছে। আব্দুল জলিলের সমাজচ্যুত করার ঘটনাটি স্থানীয় রায়কালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রশীদ মন্ডলও অবগত আছেন। তিনি দুই পক্ষকে ইউপি কার্যালয়ে ডেকেও সমাজচ্যুত করে রাখার বিষয়টি সমাধান করতে পারেনি।
গ্রামবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পারিবারিক কলহের কারণে আব্দুল জলিল প্রামানিক রাগের মাথায় তার স্ত্রীকে তালাক দেন। এঘটনার ২৯ দিন পর তিনি আবারও স্ত্রীকে বিয়ে করেন। এ ঘটনায় গ্রাম্য মাতব্বরেরা ক্ষুব্ধ হয়ে আব্দুল জলিল প্রামানিকের পরিবারকে সমাজচ্যুত করে রাখেন। সেই সময় জলিল প্রামানিক বিষয়টি আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)কে জানান। ইউএনও রায়কালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রশীদ মণ্ডলকে বিষয়টি সমাধানের দায়িত্ব দেন। ইউপি চেয়ারম্যান উভয়পক্ষকে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে বৈঠকে বসেছিলেন। তবে কার্যত কোন কোনো সমাধান করতে পারেননি। এতে গ্রাম্য মাতব্বরেরা আব্দুল জলিলের ওপর আরও ক্ষুব্ধ হন। সমাজচ্যুত করে রাখা আব্দুল জলিল গত ১৫ আগস্ট রাত আটটার দিকে গ্রামের মসজিদের দিকে রওনা হন। এসময় মাতব্বরেরা তাকে দুই দফায় প্রচন্ড মারধর করেন। এতে তার বাম হাতের হাঁড় ভেঙে যায়। তিনি চিকিৎসা নিয়ে থানায় আট জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
বালুকাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আজিজুল ইসলাম বলেন, দেড় বছর আগে আব্দুল জলিল তার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছিলেন। কয়েক দিন পর আবার সংসার শুরু করেন। এনিয়ে গ্রামের মাতব্বরেরা আব্দুল জলিল প্রামানিককে সমাজচ্যুত করেন। এনিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে মারপিটের ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় বৃদ্ধা লুৎফন নেছা বলেন, আমি কাজ করতে পারিনি। আব্দুল জলিলের বউ আমার বাড়িতে এসে জবাই করা মুরগির তরকারি রান্না করে দিয়েছিল। আমি জলিলের বাড়িতে গিয়ে এক বাটি মুরগির মাংসের তরকারি দিয়ে এসেছি। এতে আমাকেও সমাজচ্যুত করার হুমকি দিয়েছিল।
বালুকাপাড়া গ্রামের মোড়ের দোকানি হাফিজার রহমান বলেন, বউকে তালাক দেওয়ার ঘটনায় আব্দুল জলিল প্রামানিককে গ্রামের মাতব্বরেরা সমাজচ্যুত করেছেন। আব্দুল জলিল গ্রামের সামাজিক কোন কর্মকান্ডে অংশ নিতে দেয় না।
আব্দুল জলিল প্রামানিক বলেন, আমি রাগের মাথায় স্ত্রী তালাক দিয়েছিলাম। ২৯ দিন পর আবার বিয়ে পড়ে নিয়েছি। একারণে গ্রামের মাতব্বর রকি খান, মিল্টন খাঁ, আবু সুফিয়ানসহ আরও ১০-১২ জন আমাকে সমাজচ্যুত করেছেন। রাগের মাথায় স্ত্রীক। তালাক দিলে পুনরায় বিয়ে করা যাবে ঢাকার একজন মুফতির মতামত নিয়ে আসার পরও তারা মানেনি। তারা বলছে হিল্লা বিয়ে ছাড়া আমার বিয়ে বৈধ হবে না। তারা আমাকে দীর্ঘ দেড় বছর ধরে গ্রামের মসজিদে নামাজ আদায়ে করতে ও জানাজায় শরিক হতে বা দেননি। মিলাদ মাহফিল দাওয়াত দেওয়ার মাতব্বরদের চাপে পর ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এমনকি গ্রামের কারও জমিতে দিনমজুরি কাজও করতে পারব না বলে লোকজন জানিয়ে দেন। একারণে কেউ আমাকে কাজে নেয় না। সমাজচ্যুত করার জের ধরে মসজিদে যাওয়ার সময় মাতব্বরদের একাংশের লোকজন আমাকে মেরে হাত ভেঙে দিয়েছেন।
গ্রামের মাতব্বদের একজন মো. মিল্টন খাঁ। তিনি আব্দুল জলিলের দায়ের করা মামলার দুই নম্বর আসামি। তাকে তার বাড়িতে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আব্দুল জলিল সমাজ বিরোধী কাজ করেছেন। একারণে গ্রামের লোকজন তাকে সমাজচ্যুত করেছেন। আব্দুল জলিল সমাজ বিরোধী কি কাজ করেছেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আব্দুল জলিল তার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে আবার স্ত্রীকে নিয়েছেন। এটা সমাজ বিরোধী কাজ।
আক্কেলপুর রায়কালী ইউপির চেয়ারম্যান আব্দুর রশীদ মন্ডল বলেন, আব্দুল জলিল মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। তিনি রাগের মাথায় স্ত্রীকে তালাক দিয়েছিলেন। এঘটনায় গ্রামের মাতব্বরেরা আব্দুল জলিলকে সমাজচ্যুত করেন। আব্দুল জলিল ইউএনও স্যারের কাছে অভিযোগ দিয়েছিলেন। ইউএনও স্যার আমাকে ঘটনাটি সমাধানের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। উভয়পক্ষকে ইউপি কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে বৈঠক করেছি। আব্দুল জলিল যেন সামাজিকভাবে মিশতে পারে সেটি বলেছি। সমাজচ্যুতের ঘটনার জের ধরে আব্দুল জলিলকে মারধর করা হয়েছে। এতে তার বাম হাত ভেঙেছে বলে জেনেছি।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, আব্দুল জলিল প্রামানিক থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছিলেন। অভিযোগটি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় সেটি মামলা হিসেবে রের্কড করা হয়েছে। আসামি আট জনের মধ্যে ইতিমধ্যে আদালত থেকে পাঁচজন আসামি জামিন নিয়েছেন, অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসে ২৭,২৪৯ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। বিগত ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের একই মাসে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল ২১,৯১৬ কোটি টাকা। জুলাই-২০২৫ মাসে বিগত জুলাই-২০২৪ মাসের তুলনায় ৫,৩৩৩ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। জুলাই ২০২৫ মাসে রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধির হার ২৪.৩৩%।
জুলাই’২৫ মাসে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে স্থানীয় পর্যায়ের মূসক থেকে। এ খাত থেকে আদায় হয়েছে ১১,৩৫২ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের জুলাই’২৪ মাসে এই খাতে আদায়ের পরিমান ছিল ৮,৫৭১ কোটি টাকা। জুলাই ২০২৫ মাসে স্থানীয় পর্যায়ের মূসক আদায়ের প্রবৃদ্ধির হার ৩২.৪৫%।
আয়কর ও ভ্রমন কর খাতে জুলাই’২৫ মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৬,২৯৫ কোটি টাকা যা জুলাই’২০২৪ মাসের একই খাতে আদায়কৃত ৫,১৭৫ কোটি টাকার চাইতে ১,১২০ কোটি টাকা বেশি। আয়কর ও ভ্রমন করের ক্ষেত্রে জুলাই ২০২৫ মাসের আদায়ের প্রবৃদ্ধির হার ২১.৬৫%।
২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসে আমদানি ও রপ্তানি খাতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৯,৬০২ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের জুলাই’২৪ মাসে এই খাতে আদায় ছিল ৮,১৭০ কোটি টাকা, প্রবৃদ্ধির হার ১৭.৫২%।
রাজস্ব আদায়ের এ ধারা ভবিষ্যতে অব্যাহত রাখার জন্য আয়কর, মূল্য সংযোজন কর এবং কাস্টমস শুল্ক-কর আদায়ে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারিদের প্রচেষ্টা আরো জোরদার করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নানাবিধ কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
সম্মানিত করদাতাগণ আইনের যথাযথ পরিপালন নিশ্চিত করে যথাযথ পরিমান কর পরিশোধের মাধ্যমে দেশ গড়ার কাজের অন্যতম অংশীদার হবেন মর্মে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আশাবাদী।
কুমিল্লা নাঙ্গলকোটে ইউপি সদস্য আলাউদ্দিনকে বাড়ির সামনে থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামিকে ঢাকার হাতিরঝিল রেল মগবাজার রেলগেট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। শুক্রবার দিনগত রাতে অভিযানটি শেষ করে র্যাব।
গ্রেফতারকৃত আসামী শেখ ফরিদ (৪৫) নাঙ্গলকোট উপজেলার বক্সগঞ্জ আলীয়ারা গ্রামের আবুল খায়েরের ছেলে।
শনিবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে কুমিল্লা অশোকতলা এলাকায় র্যাব অফিসে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দেন
র্যাব ১১ এর কুমিল্লার কোম্পানি কমান্ডার মেজর সাদমান ইবনে আলম।
মেজর সাদমান জানান, নাঙ্গলকোটের আলিয়ারা গ্রামে দুই পরিবারের মধ্যে বংশপরম্পরায় একটি বিরোধ চলে আসছিল। গেল গেল ২৫ জুলাই গরুর ঘাস খাওয়া কে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
সেদিন দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১৫ জন গুলিবিদ্ধসহ ২৫ জন আহত হয়।
এ ঘটনার রেশ ধরে গেলো ৩ আগস্ট দুপুরে আলিয়ারা গ্রামের বাসিন্দা আলাউদ্দিন তার চাচাতো ভাইয়ের জানাজার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা তাকে একটি সিএনজিতে তুলে নিয়ে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করে।
পরে এ ঘটনায় ৫ আগস্ট নিহতের ছেলে বাদী হয়ে নাঙ্গলকোট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বিপদসীমা অতিক্রম করায় নির্ধারিত সময়ের আগেই খোলা হয়েছে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সব জলকপাট। সোমবার (৫ আগস্ট) রাত ১২টা ২ মিনিটে হঠাৎ পানি বাড়তে থাকায় জরুরি ভিত্তিতে কেন্দ্রের ১৬টি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে দেওয়া হয়।
কর্ণফুলি পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, রাতে লেকের পানির উচ্চতা ১০৮.০৫ ফুট ছুঁয়ে গেলে বিপদসীমা অতিক্রম করে। এতে প্রতি সেকেন্ডে ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলি নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, “প্রথমে সোমবার (৪ আগস্ট) বিকেল ৩টায় পানি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা পরের দিন মঙ্গলবার সকাল ৯টায় জলকপাট খোলার ঘোষণা দিয়েছিলাম। কিন্তু হঠাৎ অতিরিক্ত পানি প্রবাহের কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই সোমবার রাতেই জলকপাট খুলে দিতে হয়। তবে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট বর্তমানে সচল রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে আরও ৩২ হাজার কিউসেক পানি লেক থেকে কর্ণফুলিতে গিয়ে পড়ছে। সবমিলিয়ে পানি নিঃসরণের হার এখন প্রতি সেকেন্ডে ৪১ হাজার কিউসেক।
ভাটি এলাকার জনসাধারণের উদ্দেশে তিনি বলেন, “পানি প্রবাহ বাড়লেও আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে, এবং প্রয়োজনে আমরা আগেভাগেই ব্যবস্থা নেব।”
স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও এ বিষয়ে আগেই অবহিত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন কর্তৃপক্ষ।
মন্তব্য