সাইবার স্পেসে নারীর নিরাপত্তায় ‘আনবাউন্ড ২০২১’

সাইবার স্পেসে নারীর নিরাপত্তায় ‘আনবাউন্ড ২০২১’

‘আনবাউন্ড ২০২১’ অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া নারীরা। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সিটিটিসির সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার ইশতিয়াক আহমেদ সাইবার স্পেসে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কী ধরণের পদক্ষেপ নেয়া উচিত সে বিষয়ে আলোচনা করেন।

‘আনবাউন্ড ২০২১’ এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নারীদের সাইবার স্পেসে নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরেছে শ্রেয়া।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে জেন্ডার সমতা ও নারীদের ডিজিটাল নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে জোর দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানের মূল বিষয় ছিল জেন্ডার সমতা ও ডিজিটাল নিরাপত্তার বিষয়ে নারীদের মতামত ও চিন্তা তুলে ধরার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা।

আমন্ত্রিত বক্তা ও অতিথিরা তাদের বক্তব্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ৫ অর্জনে, সমাজে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

অনুষ্ঠানে এসডিজি ৫-এর ওপর গুরুত্ব দিয়ে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা জেন্ডার সমতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সামাজিক মিডিয়াতে কী ধরণের আচরণ করা উচিত সে সম্পর্কিত বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

আয়োজনে প্রাইম ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অফ সেগমেন্টস শায়লা আবেদিন, সাংসদ আরমা দত্ত, শ্রেয়ার প্রতিষ্ঠাতা সানজিদা চৌধুরী স্বর্ণাসহ অন্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। ইউএনএফপির রেসিডেন্ট কো-অর্ডিনেটর আসা টর্কেলসনও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

প্রথম প্যানেল আলোচনায় বাংলাদেশে জাতিসংঘের রেসিডেন্ট কো-অর্ডিনেটর মিয়া সেপ্পো, ইউএনএফপিএ বাংলাদেশর রেসিডেন্ট কো-অর্ডিনেটর আসা টর্কেলসন, ইউএন উইমেনের বাংলাদেশ প্রতিনিধি শোকো ইশিকাওয়া ও ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ এইকো নারিতা জেন্ডার বৈষম্য দূরীকরণে বিভিন্ন উপায় সম্পর্কে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সিটিটিসির সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার ইশতিয়াক আহমেদ সাইবার স্পেসে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কী ধরণের পদক্ষেপ নেয়া উচিত সে বিষয়ে আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে সোলায়মান সুখন, অভিনেত্রী জয়া আহসান ও আজমেরী হক বাঁধন, পিয়া জান্নাতুল সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের কয়েকটি দিক তুলে ধরেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় নারী রাখছে না পশ্চিমারাই

তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় নারী রাখছে না পশ্চিমারাই

তালেবানের সঙ্গে বৈঠকে কোনো নারী সদস্য ছিল না পশ্চিমা দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিদলে। ছবি: এএনআই

আন্তর্জাতিক সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কর্মকর্তা হিদার বার বলেন, ‘বিদেশি দেশ বিশেষ করে সহায়তা সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। কেবল পুরুষপ্রধান বিশ্ব তৈরি করতে চাইছে তালেবান। গোষ্ঠীটির এই চিন্তাধারা যে স্বাভাবিক নয়, তা আমাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের জানান দেয়া উচিত।’

আফগানিস্তানে তালেবান তাদের সরকার গঠনের আগে থেকে পশ্চিমা বিশ্ব ও আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো বারবার গোষ্ঠীটির প্রতি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়ে আসে।

তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর বিভিন্ন সময় নারীসহ অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের অঙ্গীকারও করে।

নিজেদের ৩৩ নেতা নিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারে শেষ পর্যন্ত একজন নারীকেও রাখেনি তালেবান। এ নিয়ে বিশ্বব্যাপী তুমুল সমালোচনা হয়।

তালেবানের ওই পদক্ষেপের সমালোচনায় মুখর থাকা বৈশ্বিক ক্ষমতাধর দেশ ও সহায়তা সংস্থাগুলো এখন উল্টো ব্যাপক সমালোচনার মুখে। কারণ আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে তালেবান সরকারের সঙ্গে সাম্প্রতিক একাধিক বৈঠকে ওই সব দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিদলে কোনো নারীই ছিলেন না।

পশ্চিমা বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে গত দুই মাসে বেশ কয়েকবার বলা হয়, তালেবানের উচিত আফগান নারীদের তাদের প্রাপ্য মর্যাদা দেয়া। আর তা দিতে ব্যর্থ হলে তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়ার পথ কঠিন হবে।

আগস্টে কাবুল পতনের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের ক্ষমতা তালেবানের হাতে যায়। এর কয়েক সপ্তাহ পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে কট্টর ইসলামপন্থি গোষ্ঠীটি।

সরকার গঠনের প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো দেশের স্বীকৃতি অর্জন করতে পারেনি তালেবান। এ নিয়ে চাপেও রয়েছে তারা। কারণ স্বীকৃতি না পাওয়ায় আশানুরূপ অর্থনৈতিক ও মানবিক সহায়তা পাচ্ছে না আফগানিস্তান।

এমন পরিস্থিতিতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, যারা তালেবানকে নারী অধিকারের পক্ষে কাজ করার উপদেশ দিচ্ছে, তারা নিজেরা এ বিষয়ে কতটুকু আন্তরিক, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আফগানিস্তানের জাতীয় মানবাধিকার সংস্থা আফগান ইনডিপেনডেন্ট হিউম্যান রাইটস কমিশনের (এআইএইচআরসি) নির্বাসিত প্রধান শেহেরজাদ আকবর বলেন, ‘আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চাওয়া তালেবান সরকারের সঙ্গে পশ্চিমা দেশ ও সংস্থার বৈঠকে জ্যেষ্ঠ নারী কর্মকর্তা থাকা উচিত। ওই সব বৈঠকে নারীদের বাদ দেয়া ঠিক নয়।’

বিভিন্ন দেশের সরকার ও সহায়তা সংস্থার উদ্দেশে আকবর টুইটবার্তায় বলেন, ‘তালেবান তাদের সরকারে নারী প্রতিনিধি বাদ দিয়েছে। আপনারা একই ধরনের কাজ করে তালেবানের কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেবেন না।’

আন্তর্জাতিক সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কর্মকর্তা হিদার বার বলেন, ‘বিদেশি দেশ বিশেষ করে সহায়তা সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। কেবল পুরুষপ্রধান বিশ্ব তৈরি করতে চাইছে তালেবান। গোষ্ঠীটির এই চিন্তাধারা যে স্বাভাবিক নয়, তা আমাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের জানান দেয়া উচিত।’

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদেশি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করে তালেবান। ওই সব ছবির একটিতেও কোনো নারীকে দেখা যায়নি।

চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাজ্যের বিশেষ দূত সাইমন গ্যাসের সঙ্গে বৈঠক করেন তালেবানের উপপ্রধানমন্ত্রী আব্দুল গনি বারাদার।

যুক্তরাজ্যের এক কর্মকর্তা জানান, বিশেষ দূত ও মিশনপ্রধান দুজনই পুরুষ। এটি কাকতালীয় ঘটনা।

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে ছাড়েননি গত বছর দোহায় তৎকালীন আফগান সরকার ও তালেবানের ব্যর্থ শান্তি আলোচনার অন্যতম অংশগ্রহণকারী ফৌজিয়া কুফি।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বনেতারা যখন নারী অধিকারের কথা বলেন, তখন তাদের সে অনুযায়ী কাজ করা উচিত।

‘কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের নারী অধিকার পক্ষে অবস্থান দেখাতে হবে। এটি কোনো রাজনৈতিক বিবৃতি নয়।’

সমালোচনার জবাবে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অফ দ্য রেড ক্রস, জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ ও ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস জানিয়েছে, কাবুলে তালেবানের সঙ্গে বৈঠকে তারা তাদের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে গঠিত ছোট প্রতিনিধিদল পাঠায়। কাকতালীয়ভাবে তারা সবাই পুরুষ।

শেয়ার করুন

কাবুলের নারীদের স্বস্তির জায়গা একটি বিউটি পারলার

কাবুলের নারীদের স্বস্তির জায়গা একটি বিউটি পারলার

বাধাবিপত্তির মাঝেও বন্ধ হয়নি কাবুলের এই বিউটি পারলার। ছবি: এএফপি

পারলারের মালিক মোহাদেসা বলেন, ‘এখানে কাজ করা নারীরা অনেক সাহসী। হুমকি মাথায় নিয়েও তারা এখানে কাজ করছেন।’

তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর নারীদের ওপর ফের কড়াকড়ি আরোপ করেছে। মেয়ে শিক্ষার্থীদের এখনও স্কুলে যাওয়ার অনুমতি মেলেনি। নারী স্বাস্থ্যকর্মী ছাড়া অন্য পেশার নারীরা কর্মস্থলে আজও ফিরতে পারেননি।

গত দুমাসে নিজেদের অধিকার রক্ষার দাবিতে আফগান নারীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করলেও তালেবান সরকারকে তাদের বিষয়ে এখনও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

এমন রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির মধ্যেও রাজধানী কাবুলে ছোট্ট একটি বিউটি পারলার এখনও খোলা রয়েছে। একমাত্র সেখানেই স্বাধীনতার একটু স্বাদ পান আফগান নারীরা।

কাবুলে ঘরের বাইরে আফগান নারীরা হাতেগোনা যে কয়টি জায়গায় এখনও যেতে পারেন, তার মধ্যে একটি ওই পারলার।

তালেবান সরকারের হুমকির মধ্যেও নিজের বিউটি পারলারটি বন্ধ করেননি মোহাদেসা। আফগান নারীরা সুযোগ পেলেই পারলারটিতে যান। নিজেদের আধুনিক সাজ ও পোশাকে সজ্জিত করেন। ওই সময় দুঃখ-যন্ত্রণা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করেন বা সেসব ভুলে থাকার চেষ্টা করেন। অল্প সময়ের জন্য হলেও হাসিখুশিভাবেই সময়টা পার করেন পারলারটিতে আসা নারীরা।

৩২ বছর বয়সী মোহাদেসা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমরা হার মানব না। কাজও বন্ধ করব না।

‘আমাদের হাতে কাজ রয়েছে, এটা অনেক স্বস্তির। আফগান সমাজে নারীদের কাজ করা জরুরি। অনেকে তাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।’

মোহাদেসা তালেবান যোদ্ধাদের কাছ থেকে কোনো হুমকি পাননি, তা কিন্তু নয়। তার পারলারের বাইরে তালেবান সদস্যরা কয়েকবার গালাগালি করে। তা সত্ত্বেও একচুলও দমেননি মোহাদেসা।

তিনি বলেন, ‘এ পারলারে কাজ করা নারীরা অনেক সাহসী। হুমকি মাথায় নিয়েও তারা এখানে কাজ করছেন। ‘

পারলারটিতে আসা ফ্যাশন ডিজাইনার মারওয়া বলেন, ‘আমি মনে করি, প্রত্যেকটি দেশের মানুষের জন্য ফ্যাশন খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশীয় পোশাক না পরলে অন্যদের কাছে কীভাবে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি তুলে ধরব?

‘নীল বা কালো বোরখা আমাদের পোশাক নয়। আমাদের পোশাক অনেক বেশি বর্ণিল, সুরুচিপূর্ণ ও চমৎকার।’

শেয়ার করুন

নারীদের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম প্রক্রিয়া শেখাল আইডিয়া প্রকল্প

নারীদের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম প্রক্রিয়া শেখাল আইডিয়া প্রকল্প

নারীদের উদ্যোক্তা ইকোসিস্টেম বিষয়ে প্রশিক্ষণে কর্মশালা। ছবি: সৌজন্যে

আইসিটি সচিব জিয়াউল আলম বলেন, উদ্ভাবনী ইকোসিস্টেম তৈরির কারণে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারছে। এখানে লিঙ্গ, মেধা, কিংবা শ্রেণীর বৈষম্য নেই বরং সবাই নিজের পরিশ্রমের দ্বারা দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে।

বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে একটি স্টার্টআপ আইডিয়াকে কীভাবে একজন নারী উদ্যোক্তা বাস্তবে রূপ দিতে পারে সে সম্পর্কে নানারকম ধারণা ও পরামর্শ দিল সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের আইডিয়া প্রকল্প।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারে আইডিয়া প্রকল্প বিভাগে নারী উদ্যোক্তাদের একটি কর্মশালার মাধ্যমে এই ধারণা দেন। আইসিটি বিভাগের আইডিয়া প্রকল্প ও বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন) যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক ড. মো. আব্দুল মান্নান ও আইডিয়া প্রকল্পের পরিচালক মো. আব্দুর রাকিব।

স্বাগত বক্তব্যে মো. আব্দুর রাকিব বলেন, ‘স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম তৈরিতে আইডিয়া প্রকল্প নারীদের উৎসাহ দিয়ে থাকে এবং এখন পর্যন্ত প্রায় শতাধিক উদ্যোগকে অনুদান দেয়ার ক্ষেত্রে মেন্টরিং, নির্দেশনা দেয়াসহ নানারকম সহায়তামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।’

আব্দুল মান্নান বলেন, উদ্যোক্তা বাস্তুতন্ত্র বর্তমান সময়ে একটি বিপুল সম্ভাবনাময় স্বনির্ভর কর্মক্ষেত্র। এক্ষেত্রে নারীদের অগ্রণী ভূমিকা প্রশংসাযোগ্য।

আইসিটি সচিব জিয়াউল আলম বলেন, উদ্ভাবনী ইকোসিস্টেম তৈরির কারণে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারছে। এখানে লিঙ্গ, মেধা, কিংবা শ্রেণীর বৈষম্য নেই বরং সবাই নিজের পরিশ্রমের দ্বারা দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে।

কর্মশালায় ৩০ জন নারী উদ্যোক্তাকে বিভিন্ন প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে ধারণা দেন আইসিটি ডিভিশনের সিনিয়র সহকারী সেক্রেটারি ও আইডিয়া প্রকল্পের কনসালটেন্ট আলাওল কবির।

শেয়ার করুন

আফগানিস্তানে ৫০০ ডলারে মেয়েশিশু বিক্রি

আফগানিস্তানে ৫০০ ডলারে মেয়েশিশু বিক্রি

৫০০ ডলারে এই মেয়েশিশুকে বিক্রি করতে বাধ্য হয় তার পরিবার। ছবি: বিবিসি

‘আফগানিস্তানের বিপন্ন মানুষের কাছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শিগগিরই পৌঁছতে হবে। তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়া হবে কী হবে না, এ বিতর্কে আটকে গেলে এখানকার লাখ লাখ শিশুকে বাঁচানো সম্ভব হবে না।’

তালেবান ক্ষমতা দখলের পর ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে আফগানিস্তান। দীর্ঘ দুই দশক যুদ্ধ চলাকালে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা দেশটিকে সহায়তা করে। যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সরকারকে আগস্টে তালেবান ক্ষমতাচ্যুত করার পর ওই সব সহায়তা বন্ধ হয়ে যায়।

তালেবানের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন হবে, তা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সিদ্ধান্তহীনতার ফল ভুগতে হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটির লাখ লাখ মানুষকে।

সোমবার জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সতর্ক করে জানায়, আসছে শীতে অর্ধেকের বেশি আফগান চরম খাদ্যসংকটে ভুগবে। খাদ্যের অভাবে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু হবে, যদি না দ্রুতই আফগানিস্তানে ত্রাণ পাঠানো হয়।

বিবিসির সাংবাদিক ইয়োগিতা লিমায়ে ও তার দল সম্প্রতি আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত শহরের মেডিসিন্স সানস ফ্রন্ট্রিয়ার্স হাসপাতালের পাশাপাশি শহরটির গ্রামাঞ্চলে যান।

হাসপাতালটি থেকে লামিয়ে বলেন, ‘বিদেশি সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আফগানিস্তানের কমপক্ষে ১০ লাখের বেশি শিশু মৃত্যুঝুঁকিতে রয়েছে।

‘তিন মাস বয়সী এক শিশু ওসমান। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের কারণে জন্মের সময় তার ওজন অনেক কম ছিল। তার বাবার হাতে এখন কোনো কাজ নেই।

‘শুধু ওসমানের বাবা নয়, আফগানিস্তানের আরও লাখ লাখ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বেকার।

ওসমানের মা লামিয়েকে বলেন, ‘আমাদের হাতে কোনো অর্থ নেই। বিশ্ব যেন আমাদের সহায়তায় এগিয়ে আসে, আমরা তা চাই। আমাদের শিশুরা কষ্টে আছে।’

হেরাতের মেডিসিন্স সানস ফ্রন্ট্রিয়ার্সের আশপাশে কয়েক মাইলের মধ্যে আর কোনো হাসপাতাল নেই বলে জানান লামিয়ে।

তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার বড় অংশ বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল, যা এখন বন্ধ।

‘হেরাতের এই হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা গত চার মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। চিকিৎসাসামগ্রী কেনার মতো অর্থ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নেই।’

বিবিসি সাংবাদিক লামিয়ে বলেন, ‘হেরাতের গ্রামাঞ্চলে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে আফগানরা অকল্পনীয় কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।’

পরিচয় গোপন রেখে এক মা লামিয়েকে বলেন, ‘আমার সন্তানরা ক্ষুধায় মারা যাচ্ছিল। এ কারণে আমার ছোট্ট মেয়েশিশুকে বিক্রি করা ছাড়া আর কিছু করার ছিল না।

‘আমি খুব খুশি হতাম যদি আমার মেয়েটাকে বিক্রি করা না লাগত।’

লামিয়ে জানান, ওই মেয়েশিশুর বাবা আবর্জনা কুড়িয়ে সংসার চালাতেন। কিন্তু তা দিয়ে এখন আর সংসার চলছে না।

শিশুটির বাবা বলেন, ‘ঘরে তেল, ময়দা কিছু ছিল না। অনাহারে দিন কাটছিল আমাদের। আমার মেয়ে আমার সম্পর্কে কী ভাবছে জানি না। তবে তাকে বিক্রি করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।’

লামিয়ে বলেন, ‘মেয়েটি একটু বড় না হওয়া পর্যন্ত সে তার মা-বাবার কাছে থাকবে। এরপর যে ব্যক্তি তাকে কিনেছেন, তিনি মেয়েটিকে নিয়ে যাবেন।

‘মেয়েটিকে কিনতে ওই পরিবারকে ৫০০ ডলারের বেশি দিয়েছেন ওই ব্যক্তি। এ টাকায় মেয়েটির পরিবারের কয়েক মাস চলে যাবে।

‘পরিবারটিকে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তির ছেলের সঙ্গে মেয়েটির বিয়ে দেয়া হবে। তবে এ বিষয়ে কেউ নিশ্চিত নয়।’

লামিয়ে বলেন, ‘এখানে আরও অনেক পরিবার তাদের সন্তানদের বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে।

‘আমাদের দলের একজনের কাছে এক আফগান তার সন্তান বিক্রি করতে চেয়েছিলেন। এতে বোঝা যাচ্ছে, কতটা অসহায় হলে মানুষ এমনটা করতে পারে। এখানকার পরিস্থিতি বলার মতো নয়।

‘আফগানিস্তানের এসব বিপন্ন মানুষের কাছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শিগগিরই পৌঁছতে হবে। তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়া হবে কী হবে না, এ বিতর্কে আটকে গেলে এখানকার লাখ লাখ শিশুকে বাঁচানো সম্ভব হবে না।’

শেয়ার করুন

হাসপাতালে জ্বালানি সংকটে ঝুঁকিতে হাইতির নারী-শিশু

হাসপাতালে জ্বালানি সংকটে ঝুঁকিতে হাইতির নারী-শিশু

হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সে স্থানীয়রা কন্টেনারে করে তেল ও পেট্রল সরবরাহ করছেন। ছবি: রয়টার্স

হাইতিতে ইউনিসেফের উপপ্রতিনিধি রাউল ডি টরসি এক বিবৃতিতে জানান, ‘দেশটির হাসপাতালে অনেক গর্ভবতী নারী ও নবজাতক শিশুর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। জ্বালানি ঘাটতির কারণে ওই সব হাসপাতাল নারী ও শিশুদের ঠিকঠাক মতো লাইফ সাপোর্ট দিতে পারছে না।’

হাইতির বিভিন্ন হাসপাতালে জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় হাজার হাজার নারী ও শিশুর জীবন হুমকির মুখে পড়েছে।

জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ স্থানীয় সময় রোববার এ সতর্কবার্তা দেয় বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

কয়েক সপ্তাহ ধরে হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়ে আসছে। দেশটিতে একের পর এক অপহরণের ঘটনা বিশেষ করে চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার একদল মিশনারি অপহৃত হওয়ার পর এ সমস্যা চরম আকার ধারণ করে।

হাইতির পরিবহন শিল্পের নেতাদের ভাষ্য, অপহরণের ঘটনা অনেক বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ করা চালকদের জন্য খুবই বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। অপহরণ বা মালপত্র ছিনতাই হতে পারে- এ ভয়ে তারা জ্বালানি আগের মতো সরবরাহ করছেন না।

ইউনিসেফ জানিয়েছে, রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্স ও হাইতির দক্ষিণাঞ্চলীয় উপদ্বীপের বেশ কয়েকটি হাসপাতালে জ্বালানি সরবরাহ করতে স্থানীয় এক কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছে আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি।

হাইতিতে ইউনিসেফের উপপ্রতিনিধি রাউল ডি টরসি এক বিবৃতিতে জানান, ‘দেশটির হাসপাতালে অনেক গর্ভবতী নারী ও নবজাতক শিশুর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। জ্বালানি ঘাটতির কারণে ওই সব হাসপাতাল নারী ও শিশুদের ঠিকমতো লাইফ সাপোর্ট দিতে পারছে না।’

বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় হাইতির বেশির ভাগ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের জন্য ডিজেলচালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হয়।

জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় হাইতির প্রধান মোবাইল ফোন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাদের সেবা বন্ধ করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশটির শিল্প-কারখানার কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

এ বিষয়ে হাইতি সরকারের তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন

স্কুলে যাওয়া বন্ধ, ব্যবসা শিখছে আফগান কিশোরীরা

স্কুলে যাওয়া বন্ধ, ব্যবসা শিখছে আফগান কিশোরীরা

সেলাই শিখছেন আফগান নারীরা। ছবি: টোলো নিউজ

তালেবানের আগ্রাসনে ক্ষমতাচ্যুত বেসামরিক সরকারের শাসনামলে আফগানিস্তানে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অনেক নারী কর্মরত ছিলেন। গত দুই মাসে তাদের প্রায় সবাই চাকরি হারিয়েছেন। জীবিকা উপার্জনের বিকল্প হিসেবে তারাও হস্তশিল্প শিখছেন এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

কট্টরপন্থি তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর থেকে কিশোরী ও নারীদের স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ। সময় কাটাতে তাই অর্ধশতাধিক কিশোরী ও তরুণী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে ভর্তি হয়েছে। শিখছে কাপড় সেলাই, নিচ্ছে সৌন্দর্যবর্ধন প্রশিক্ষণ।

স্থানীয় টোলো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাড়িতে বসে সময় কাটানো কঠিন বলে একঘেয়েমি দূর করতে হাতের কাছে যে সুযোগ আছে, তারই সদ্ব্যবহার করছে অনেক আফগান কিশোরী ও তরুণী।

সামিরা শারিফি নামের এক শিক্ষার্থী বলে, ‘কয়েক মাস ধরে বাড়িতে বসে আছি। স্কুল-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। কোনো না কোনো কাজ তো শিখতে হবে। এভাবে হাত গুটিয়ে বাড়িতে কতদিনই বা বসে থাকব?’

মেহনাজ গোলামি নামের আরেক ছাত্রী বলে, ‘নিজের ভবিষ্যতের জন্য আর পরিবারকে সাহায্য করতে চাই বলে কোনো কাজ শিখতে চাই আমি। চেয়েছিলাম তো স্কুলে যেতে। স্কুল খোলা থাকলে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারতাম।’

আফগানিস্তানে সম্প্রতি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে যোগ দেয়া প্রশিক্ষণার্থীদের বেশিরভাগই মাধ্যমিকপড়ুয়া অথবা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী।

দেশজুড়ে তালেবান মেয়েদের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পথ বন্ধ রেখেছে। এমন পরিস্থিতিতে হেরাত প্রদেশের অনেক কিশোরী ও নারী কারিগরি প্রশিক্ষণকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে।

শাকাইক গাঞ্জি নামের এক শিক্ষার্থী বলে, ‘আমরা শিক্ষাগ্রহণের পাশাপাশি দর্জির কাজ শেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

লাইলি সোফিজাদা নামের এক শিক্ষিকা বলেন, ‘এখন প্রতিটি নারীর উচিত নিজের পরিবার ও স্বামীকে সহযোগিতার জন্য সেলাই শেখা। কারণ দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভীষণ খারাপ।’

মেয়েদের জন্য স্কুল-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর কারিগরি শিক্ষা কেন্দ্রগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়েছে।

হেরাতের শ্রম ও সমাজকল্যাণ বিভাগের কারিগরি ও কর্মজীবী বিষয়ক পরিচালক ফাতিমা তোখি বলেন, ‘আমাদের শ্রেণিকক্ষগুলোর ধারণক্ষমতা ২০ থেকে ২৫ জনের। এখন একেকটি ক্লাসে ৪৫ জন পর্যন্ত নিতে হচ্ছে আমাদের।

‘স্কুল-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা উদ্যম হারাতে বসেছে।’

হেরাতের শ্রম ও সমাজকল্যাণ বিভাগ জানিয়েছে, প্রদেশটির নারীদের কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদানে নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।

সংস্থাটির প্রধান মোল্লা মোহাম্মদ সাবিত বলেন, ‘শিল্প ও পেশাগত খাত, কিন্ডারগার্টেন বিভাগগুলোতে নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তাদের পূর্ণ সহযোগিতা দিচ্ছি আমরা। নিয়মিত তত্ত্বাবধানও করা হচ্ছে।’

তালেবানের আগ্রাসনে ক্ষমতাচ্যুত বেসামরিক সরকারের শাসনামলে আফগানিস্তানে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অনেক নারী কর্মরত ছিলেন। গত দুই মাসে তাদের প্রায় সবাই চাকরি হারিয়েছেন। জীবিকা উপার্জনের বিকল্প হিসেবে তারাও হস্তশিল্প শিখছেন এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

শেয়ার করুন

কঠিন সময়েও সেবাতেই নজর আফগান মিডওয়াইফদের

কঠিন সময়েও সেবাতেই নজর আফগান মিডওয়াইফদের

আফগানিস্তানের ময়দান শরে কমিউনিটি মিডওয়াইফারি এডুকেশন স্কুলের একটি ক্লাসে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা। ছবি: এএফপি

মিডওয়াইফারি কলেজের শিক্ষক শফিকা বিরোনি বলেন, ‘মানবতাবাদ ও দেশপ্রেমের জায়গা থেকে আমি আমার কাজ করে যাচ্ছি। তালেবান সরকারের কাছে আমাদের দাবি, নারী-শিশুদের সহায়তা করতে আমাদের যেন নিরাপদে কাজ করতে দেয়া হয়।’

বিদেশি সেনারা আফগানিস্তান ছাড়ার শেষ সময়ে দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিজেদের দখলে নিতে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় তালেবান।

চলতি বছরের এপ্রিলে শুরু হওয়া ওই সংঘর্ষে অনেক প্রাণহানি হয়। ভেঙে পড়ে বেশ কয়েকটি স্থাপনা।

আফগানিস্তানের একটি মিডওয়াইফারি কলেজের শিক্ষকদের কার্যালয়ও বুলেটের আঘাতে ঝাঁঝরা হয়। তাদের শেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বোমায় উড়ে যায়।

তা সত্ত্বেও দেশটির গ্রামাঞ্চলে সন্তানসম্ভবা নারী ও নবজাতক শিশুদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন ওই শিক্ষকরা। কঠিন পরিবেশেও শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছেন তারা।

১৫ আগস্ট কাবুল পতনের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের ক্ষমতা তালেবানের দখলে যায়। এর কয়েক সপ্তাহ পর দেশটিতে নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে কট্টর ইসলামপন্থি গোষ্ঠীটি।

নতুন সরকারের কাছে ওই মিডওয়াইফারি কলেজের শিক্ষকদের একটাই চাওয়া, তাদের যেন নিরাপদে কাজ করতে দেয়া হয়।

কলেজটির ৫২ বছর বয়সী শিক্ষক শফিকা বিরোনি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘মানবতাবাদ ও দেশপ্রেমের জায়গা থেকে আমি আমার কাজ করে যাচ্ছি।

‘সমাজের সবচেয়ে নিপীড়িত অংশ নারী ও শিশুদের সেবার প্রয়োজন রয়েছে বলে আমি মনে করি।

‘তালেবান সরকারের কাছে আমাদের দাবি, নারী-শিশুদের সহায়তা করতে আমাদের যেন নিরাপদে কাজ করতে দেয়া হয়।’

আফগানিস্তানের ওয়ারদাক প্রদেশের রাজধানী ময়দান শরে অবস্থিত ওই কলেজের নাম কমিউনিটি মিডওয়াইফারি এডুকেশন স্কুল। এতে ২৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। আগামী বছরের মে মাসে তাদের স্নাতক শেষ হবে।

তালেবান ও আফগানিস্তানের সাবেক সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীর সংষর্ষ স্মরণ করে কলেজটির কোর্স ডিরেক্টর খাতুল ফজলি বলেন, ‘ওই সময় প্রতিদিনই এখানে যুদ্ধ হতো। কঠিন সময় পার করেছি আমরা।’

আফগানিস্তানের মিডওয়াইফারি কলেজ কীভাবে চলবে এসংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা এখনও তালেবান সরকার দেয়নি।

অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের মতো আফগানিস্তানজুড়ে মিডওয়াইফদের সম্প্রতি সবচেয়ে বড় যে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে তা হলো, দেশটির ব্যাংকিংব্যবস্থা কাজ না করায় চার মাস ধরে তারা তাদের বেতন পাচ্ছেন না।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সহায়তা সংস্থার সহযোগিতায় গত ১৫ বছরে ময়দান শরসহ আফগানিস্তানের বিভিন্ন শহরে স্বাস্থ্যসেবা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। তার পরও দেশটির শিশু মৃত্যুহার বিশ্বে অন্যতম সর্বোচ্চ।

এ ছাড়া আফগানিস্তানে প্রতিবছর হাজার হাজার নারী প্রসবকালীন জটিলতায় মারা যায়।

শেয়ার করুন