ফেকডিলের লভ্যাংশে উচ্ছ্বাস, লোকসান করাল আনোয়ার

ফেকডিলের লভ্যাংশে উচ্ছ্বাস, লোকসান করাল আনোয়ার

ফারইস্ট নিটিং বা ফেকডিল শেয়ারপ্রতি ১ টাকা লভ্যাংশ দেবে জানানোর পর শেয়ারমূল্য ১৭ টাকা ৯০ পয়সা থেকে এক লাফে হয়েছে ২৪ টাকা ১০ পয়সা। অন্যদিকে আনোয়ার গ্যালভানাইজিং শেয়ারে ২ টাকা ও ১০টি শেয়ারে ১টি বোনাস দেবে জানানোর পর শেয়ারমূল্য ৪৪৩ টাকা ৬০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৪২২ টাকা ৬০ পয়সা।

একটি কোম্পানি লভ্যাংশ দিয়েছে শেয়ারে ১ টাকা, আরেকটি কোম্পানি লভ্যাংশ দিয়েছে শেয়ারে ২ টাকা আর প্রতি ১০ শেয়ারে ১টি বোনাস। আপাতদৃষ্টিতে দ্বিতীয় কোম্পানির লভ্যাংশকে ভালো মনে হলেও দ্বিতীয়টির লভ্যাংশ হতাশ করেছে বিনিয়োগকারীদের।

যে কোম্পানিটি শেয়ারে ১ টাকা লভ্যাংশ দিয়েছে সেটির দর লভ্যাংশের প্রতিক্রিয়ায় বেড়েছে ৩৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ আর অপরটির দর কমেছে ৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

মুনাফা দিল ফারইস্ট নিটিং

যেটির দর বেড়েছে সেটি হলো ফারইস্ট নিটিং অ্যান্ড ডায়িং। গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি ৭৯ পয়সা মুনাফা করে ১ টাকা লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ। বৃহস্পতিবার এ সিদ্ধান্ত হওয়ার পর রোববার তা প্রকাশ পায় ঢাকা ও চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে।

বৃহস্পতিবার শেয়ারটি লেনদেন হয়েছে ১৭ টাকা ৯০ পয়সায়। রোববার লেনদেন শুরুই হয় ১৯ টাকা ২০ পয়সায়। পরে বাড়তে বাড়তে একপর্যায়ে ওঠে ২৪ টাকা ৮০ পয়সায়। দিন শেষে কিছুটা কমে লেনদেন শেষ করেছে ২৪ টাকা ১০ পয়সায়।

গত দুই বছরে এটিই কোম্পানিটির সর্বোচ্চ দর। এক বছরে শেয়ার দর সর্বনিম্ন ছিল ৮ টাকা ৮০ পয়সা। সেখান থেকে বাড়তে শুরু করে মূলত গত মে মাসের শেষ দিক থেকে।

লোকসান করাল আনোয়ার গ্যালভানাইজিং

অন্য কোম্পানি আনোয়ার গ্যালভানাইজিংয়ের দর গত ছয় মাসে বেড়ে পাঁচ গুণের মতো হয়ে গিয়েছিল।

এই কোম্পানিটি লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে শনিবার বিকেলে। এই বিজ্ঞপ্তিও ডিএসই ও সিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশ পেয়েছে রোববার সকালে।

কোম্পানিটি গত বছর ২ টাকা ৩ পয়সা আয় করেছিল। গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরে তাদের আয় হয়েছে ৩ টাকা ৯২ পয়সা।

আয়ে প্রবৃদ্ধি বেশ ভালো। লভ্যাংশও ২০১৫ সালের পর সবচেয়ে বেশি। তারপরেও বিনিয়োগকারীরা খুশি হননি।

বৃহস্পতিবার শেয়ার দর ছিল ৪৪৩ টাকা ৬০ পয়সা। দিনের লেনদেন শুরু হয় ৪৬৭ টাকায়। তবে দিন শেষে তা নেমে আসে ৪২২ টাকা ৬০ পয়সায়। অর্থাৎ দাম কমেছে ২১ টাকা।

তবে দিনের সর্বনিম্ন দাম ছিল ৪১৮ টাকা ৪০ পয়সা।

গত এক বছরে এই কোম্পানিটির শেয়ার দর অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির পেছনে নানা গুঞ্জন কাজ করেছিল। ১৫ কোটি ২৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিটির আয় ব্যাপকভাবে বাড়বে, লভ্যাংশও আসবে ভালো- এমন খবরে আকৃষ্ট হন বিনিয়োগকারীরা। তবে বছর শেষে আয়ে তা সত্য প্রমাণ হয়নি।

তবে আবার চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শেয়ার প্রতি আয়ে বেশ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। গত বছরের আয়ের দেড় গুণ তিন মাসেই করে ফেলেছে কোম্পানিটি।

এ সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৫ টাকা ১৩ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ৮৯ পয়সা।

গত বছর করোনা সংক্রমণের পর পুঁজিবাজারে কোম্পানির শেয়ার দর একপর্যায়ে ৫৭ টাকা ৮০ পয়সায় নেমে আসে। এরপর কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বনিম্ন দর বা ফ্লোর প্রাইস ঠিক হয় ৬৭ টাকা ৫০ পয়সা।

গত এপ্রিলের শুরু পর্যন্তও শেয়ার দর ছিল ১০০ টাকার নিচে। ওই মাসের শুরুতে দর ছিল ৯৪ টাকা ৭০ পয়সা। এরপর তা টানা বাড়ে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত। একপর্যায়ে দুর্বল এই কোম্পানিটির শেয়ার দর সর্বোচ্চ ওঠে ৪৮৩ টাকায়। পরে সেখান থেকে কিছুটা কমে বৃহস্পতিবার দাঁড়ায় ৪৪৩ টাকা ৬০ পয়সায়।

১৫ কোটি ২৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা পরিশোধিত কোম্পানিটিতে শেয়ার সংখ্যা ১ কোটি ৫২ লাখ ৬০ হাজার।

এ ধরনের স্বল্প মূলধনি বহু কোম্পানির শেয়ার দরই এই সময়ে বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। তবে সবগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে আনোয়ার গ্যালভানাইজিং।

ইনডেক্স অ্যাগ্রোতে লভ্যাংশ যত, দাম কমল তার চেয়ে বেশি

চলতি বছর পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি তার শেয়ারধারীদের আড়াই টাকা করে লভ্যাংশ দেবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার হয় পর্ষদ সভা। কোম্পানিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এই লভ্যাংশ কেবল সাধারণ বিনিয়োগকারীদের দেয়া হবে। উদ্যোক্তা-পরিচালকরা কেউ পাবেন না।

এ সিদ্ধান্ত হওয়ার দিন কোম্পানিটির একেকটি শেয়ার হাতবদল হয়েছে ১১৭ টাকা ৫০ পয়সায়। আর আড়াই টাকা লভ্যাংশের খবরে রোববার দাম কমল ৩ টাকা।

বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি পুঁজিবাজার থেকে ৫০ কোটি টাকা তুলেছে। প্রতিটি শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীরা পেয়েছেন ৫০ টাকা করে আর প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্য বিনিয়োগকারীরা পেয়েছে ৬২ টাকা করে।

আরও পড়ুন:
আনোয়ার নিয়ে উচ্চাশার প্রভাব নেই আয়-লভ্যাংশে
তালিকাভুক্ত হয়ে কমল আয়, ইনডেক্স দেবে শেয়ারে আড়াই টাকা
আয়ের চেয়ে বেশি লভ্যাংশ দেবে ফারইস্ট নিটিং
দেশবন্ধু শেয়ারধারীদেরকে দেবে ৫০ পয়সা করে
মহামারি: ঘুরে দাঁড়িয়ে লভ্যাংশ বাড়াল অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

টানা তিন প্রান্তিকে আয় বাড়াল আইপিডিসি

টানা তিন প্রান্তিকে আয় বাড়াল আইপিডিসি

কোম্পানিটি গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে শেয়ার প্রতি ১ টাকা ১১ পয়সা আয় করে। আগের বছর গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ৮৫ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে আগের বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি আয় করার পর তিন প্রান্তিক মিলিয়ে আয় দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৭০ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৩৫ পয়সা।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠান আইপিডিসি ফাইন্যান্স বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিকেও আয় কিছুটা বাড়াতে পেরেছে।

এই তিন মাসে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৫৯ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ৫০ পয়সা। অর্থাৎ আয় বেড়েছে ৯ পয়সা বা ১৮ শতাংশ।

এ নিয়ে চলতি বছরের তিন প্রান্তিকেই কোম্পানিটির আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বাড়ল।

গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৭০ পয়সা, যা গত বছরের এই সময়ে ১ টাকা ৩৫ পয়সা ছিল। অর্থাৎ আয় বেড়েছে ২৫.৯২ শতাংশ।

রোববার কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এই আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর তা প্রকাশ করা হয়।

এর আগে জুন পর্যন্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় আয় বাড়িয়েছিল ৩০ শতাংশের বেশি।

কোম্পানিটি গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে শেয়ার প্রতি ১ টাকা ১১ পয়সা আয় করে। আগের বছর গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ৮৫ পয়সা।

এর মধ্যে দ্বিতীয় প্রান্তিকে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত আয় হয়েছিল শেয়ার প্রতি ৫৫ পয়সার কিছুটা বেশি। আগের বছর এই আয় ছিল ৪৫ পয়সা।

আর জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রথম প্রান্তিকে আয় হয়েছিল ৫৫ পয়সার কিছুটা কম। আগের বছর একই সময়ে আয় ছিল ৪০ পয়সা।

আয়ের পাশাপাশি সম্পদমূল্যও বেড়েছে আইপিডিসির। গত ৩০ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য ছিল ১৬ টাকা ৪৮ পয়সা। জুন শেষে সম্পদমূল্য ছিল ১৫ টাকা ৮৮ পয়সা।

২০২০ সালের ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি ১ টাকা ৯০ পয়সা আয় করে ১ টাকা ২০ পয়সা লভ্যাংশ দিয়েছিল আইপিডিসি।

লভ্যাংশ শেষে গত কোম্পানিটির শেয়ার দরে উল্লম্ফন হয়েছে। লভ্যাংশ ঘোষণার সময় কোম্পানিটির শেয়ার মূল্য ছিল ২৬ টাকা ৮০ পয়সা। সম্প্রতি তা বেড়ে এক পর্যায়ে ৪৯ টাকা ৭০ পয়সা হয়ে যায়। এটি গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দর।

তবে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে শেয়ার মূল্য কমতে শুরু করেছে। রোববার শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ৪১ টাকা ৭০ পয়সা।

আরও পড়ুন:
আনোয়ার নিয়ে উচ্চাশার প্রভাব নেই আয়-লভ্যাংশে
তালিকাভুক্ত হয়ে কমল আয়, ইনডেক্স দেবে শেয়ারে আড়াই টাকা
আয়ের চেয়ে বেশি লভ্যাংশ দেবে ফারইস্ট নিটিং
দেশবন্ধু শেয়ারধারীদেরকে দেবে ৫০ পয়সা করে
মহামারি: ঘুরে দাঁড়িয়ে লভ্যাংশ বাড়াল অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার

শেয়ার করুন

ছয় বছরে সর্বনিম্ন আয়ের পর সবচেয়ে কম লভ্যাংশ নাহীর

ছয় বছরে সর্বনিম্ন আয়ের পর সবচেয়ে কম লভ্যাংশ নাহীর

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নাহী অ্যালুমিনিয়ামের পণ্য

২০২০ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ২ টাকা ১৫ পয়সা। আগের বছর এই আয় ছিল ২ টাকা ৪৭ পয়সা। ওই বছর শেয়ার প্রতি ৮০ পয়সা নগদ লভ্যাংশের পাশাপাশি ৭ শতাংশ অর্থাৎ প্রতি ১০০টি শেয়ারে ৭টি বোনাস শেয়ার দিয়েছিল কোম্পানিটি।

পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানি নাহী অ্যালুমিনিয়াম গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি এক টাকা অর্থাৎ ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

২০১৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর শেয়ার প্রতি সর্বনিম্ন আয় করার পর ইতিহাসের সবচেয়ে কম লভ্যাংশ দিতে যাচ্ছে কোম্পানিটি।

রোববার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের হিসাব পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

এতে জানানো হয় ২০২০ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ২ টাকা ১৫ পয়সা।

আগের বছর এই আয় ছিল ২ টাকা ৪৭ পয়সা। ওই বছর শেয়ার প্রতি ৮০ পয়সা নগদ লভ্যাংশের পাশাপাশি ৭ শতাংশ অর্থাৎ প্রতি ১০০টি শেয়ারে ৭টি বোনাস শেয়ার দিয়েছিল কোম্পানিটি।

এর আগে তালিকাভুক্ত হওয়ার বছরে ২০১৭ সালে শেয়ার প্রতি ২ টাকা ৫৬ পয়সা আয় করে ৫০ পয়সা নগদ ও প্রতি ১০টি শেয়ারে একটি বোনাস দিয়েছিল কোম্পানিটি।

পরের বছর শেয়ার প্রতি আয় আরও বেড়ে হয় ৩ টাকা ৮ পয়সা। বাড়ে লভ্যাংশও। ওই বছর প্রতি ১০টি শেয়ারে একটি বোনাসের পাশাপাশি শেয়ার প্রতি ৭০ পয়সা দেয়া হয় নগদ।

২০১৯ সালে শেয়ার প্রতি আয় আরও বেড়ে হয় ৩ টাকা ৭৮ পয়সা। তবে কমে লভ্যাংশ। সে বছর ২০১৭ সালের মতোই শেয়ার প্রতি ৫০ পয়সা নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাস দেয়া হয়।

তালিকাভুক্ত হওয়ার আগের বছর ২০১৬ সালে নাহীর শেয়ার প্রতি আয় ছিল ২ টাকা ৩৩ পয়সা।

এবার আয় কমলেও শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য সামান্য বেড়েছে। ২০২০ সালে এই সম্পদমূল্য ছিল ১৭ টাকা ৯ পয়সা। ৭ শতাংশ বোনাস শেয়ার যুক্ত হওয়ার পরেও এক বছর শেষে তা বেড়ে হয়েছে ১৭ টাকা ৩৮ পয়সা।

যারা এবার লভ্যাংশ নিতে চান, তাদেরকে আগামী ১০ নভেম্বর শেয়ার ধরে রাখতে হবে। অর্থাৎ, সেদিন রেকর্ড ডেটে লেনদেন থাকবে স্থগিত।
আগামী ১৫ ডিসেম্বর বার্ষিক সাধারণ সভায় এই লভ্যাংশ অনুমোদন হবে।

আরও পড়ুন:
আনোয়ার নিয়ে উচ্চাশার প্রভাব নেই আয়-লভ্যাংশে
তালিকাভুক্ত হয়ে কমল আয়, ইনডেক্স দেবে শেয়ারে আড়াই টাকা
আয়ের চেয়ে বেশি লভ্যাংশ দেবে ফারইস্ট নিটিং
দেশবন্ধু শেয়ারধারীদেরকে দেবে ৫০ পয়সা করে
মহামারি: ঘুরে দাঁড়িয়ে লভ্যাংশ বাড়াল অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার

শেয়ার করুন

পতন টানা পাঁচ দিন, বিনিয়োগ এখন ব্যাংকমুখী

পতন টানা পাঁচ দিন, বিনিয়োগ এখন ব্যাংকমুখী

সপ্তাহের প্রথম দিন ব্যাংক ছাড়া অন্য কোনো খাতের বিনিয়োগকারীরাই স্বস্তিতে ছিলেন না বলা যায়। ছবি: নিউজবাংলা

গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকেই এই খাতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। সেদিন ব্যাংক খাতে হাতবদল হয়েছিল ১৯১ কোটি ২০ লাখ টাকা। পরদিন কিছুটা কমে হয় ১৪০ কোটি ২০ লাখ টাকা। ১২ অক্টোবর আবার বেড়ে হয় ১৭৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। ১৩ অক্টোবর তা আরও বেড়ে হয় ১৯৮ কোটি ২০ লাখ টাকা। ১৪ অক্টোবর পুঁজিবাজারে লেনদেন প্রায় ৫০০ কোটি টাকা কমে গেলেও ব্যাংক খাতে শতকরা হারে হিস্যা আরও বাড়ে। সেদিন এই খাতে লেনদেন হয় ১৯৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা। সেখান থেকে প্রায় ৯০ কোটি টাকা বেড়ে আজ হাতবদল হলো ২৮৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

আগের সপ্তাহে টানা চার কর্মদিবসের পর পুঁজিবাজারে নতুন সপ্তাহের শুরুটাও হলো বাজে। দিনের অর্ধেক সময় বাজার ইতিবাচক থাকলেও শেষ পর্যন্ত বড় পতনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো লেনদেন।

সামগ্রিক পতনের মধ্যেও সবচেয়ে বড় বাজার মূলধনের ব্যাংক খাতে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট হওয়ার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হলো। বহু বছর পর লেনদেনের শীর্ষে উঠে এলো ব্যাংক খাত।

সামগ্রিকভাবে লেনদেন কমলেও এই খাতে লেনদেন বেড়েছে ৯০ কোটি টাকার মতো। মোট লেনদেনের ১৮ শতাংশের মতো হাতবদল হলো একটি খাতে।

আগের সপ্তাহে টানা চার কর্মদিবসে সূচক পড়েছিল ১২৫ পয়েন্টের মতো। রোববার পড়েছে আরও ৫৬ পয়েন্ট।

গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া বাজার সংশোধনে এ নিয়ে টানা পাঁচ কর্মদিবস সূচক কমল, যা গত ২৩ ফেব্রুয়ারির পর আর ঘটেনি। এর আগে গত ১৬ থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ছয় কর্মদিবস সূচক পড়েছিল।

দিনের শেষটা হতাশ করলেও শুরুটা খারাপ ছিল না। ৩৬ পয়েন্ট বেড়ে গিয়ে শুরু হয় লেনদেন। দুপুর ১২টা পর্যন্তও সূচক ৩৫ পয়েন্ট বেড়ে লেনদেন হচ্ছিল। কিন্তু এরপর কেবলই পড়তে থাকে।

বেলা একটা পর্যন্ত সূচক আগের কর্মদিবসের চেয়ে বেশিতে লেনদেন হচ্ছিল। কিন্তু এরপর থেকে কেবলই কমেছে। একপর্যায়ে লেনদেন শেষ হওয়ার ৭ মিনিট আগে সূচক পড়ে যায় ৭৭ পয়েন্ট। পরে সেখান থেকে কিছুটা বাড়ে সূচক।

শেয়ার মূল্য বেড়েছে কেবল ৬৫টি কোম্পানির। বিপরীতে পড়েছে ২৮৭টির। অপরিবর্তিত ছিল বাকি ২৪টির।

পতন টানা পাঁচ দিন, বিনিয়োগ এখন ব্যাংকমুখী
রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের চিত্র

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম বৃদ্ধি পাওয়া ১০টি কোম্পানির তিনটি ছিল ব্যাংক খাতের আর সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া ১৫টি কোম্পানির মধ্যে ছয়টি ছিল এই খাতের। বহু দিন পর এই চিত্র দেখা গেল।

এর মধ্যে নতুন তালিকাভুক্ত সাউথ বাংলা ব্যাংকের শেয়ার দর বেড়েছে এক দিনে যত বাড়া সম্ভব ততই। আগের দিনের দামের সঙ্গে যোগ হলো ৯.৯৪ শতাংশ।

টানা চতুর্থ দিন বৃদ্ধি পাওয়া এনআরবিসির দর বেড়েছে ৮.২২ শতাংশ। এ ছাড়া আইএফআইসি ব্যাংকের শেয়ার দর ৫.০৫ শতাংশ, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের দর ৩.৫১ শতাংশ, আল-আরাফাহ ব্যাংকের দর ৩.৪১ শতাংশ এবং এবি ব্যাংকের দর বেড়েছে ৩.৪০ শতাংশ।

সব মিলিয়ে ৩২টি ব্যাংকের মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ১৯টির। শেয়ার দর ১০ থেকে ৩০ পয়সা কমেছে ৭টি ব্যাংকের, দর অপরিবর্তিত ছিল বাকি ৬টির।

২০২০ সালে যেকোনো খাতের তুলনায় ভালো লভ্যাংশ দেয়া ব্যাংকগুলোর আয় অর্ধবার্ষিকে আরও বেড়েছে। তার মধ্যেও এই খাতটির ঘুমিয়ে থাকা নিয়ে আলোচনার মধ্যে দর সংশোধনের বাজে সময়েও বিনিয়োগকারীরা উৎসাহী হয়ে উঠছেন।

পতন টানা পাঁচ দিন, বিনিয়োগ এখন ব্যাংকমুখী
গত কয়েক দিন ধরেই ব্যাংক খাতে বিনিয়োগ বেড়ে চলার যে প্রবণতা দেখা দিয়েছিল, তা আরও স্পষ্ট হলো

গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকেই এই খাতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। সেদিন ব্যাংক খাতে হাতবদল হয়েছিল ১৯১ কোটি ২০ লাখ টাকা। পরদিন কিছুটা কমে হয় ১৪০ কোটি ২০ লাখ টাকা। ১২ অক্টোবর আবার বেড়ে হয় ১৭৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। ১৩ অক্টোবর তা আরও বেড়ে হয় ১৯৮ কোটি ২০ লাখ টাকা। ১৪ অক্টোবর পুঁজিবাজারে লেনদেন প্রায় ৫০০ কোটি টাকা কমে গেলেও ব্যাংক খাতে শতকরা হারে হিস্যা আরও বাড়ে। সেদিন এই খাতে লেনদেন হয় ১৯৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা। সেখান থেকে প্রায় ৯০ কোটি টাকা বেড়ে আজ হাতবদল হলো ২৮৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

দিন শেষে সূচকের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ১৮৬ পয়েন্ট। গত ১৯ সেপ্টেম্বরের পর সূচকের সর্বনিম্ন অবস্থান এটি।

সূচক কমলেও লেনদেন বেড়েছে কিছুটা। বৃহস্পতিবার হাতবদল হয়েছিল ১ হাজার ৪৩৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। সেখান থেকে খানিকটা বেড়ে আজ লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৬৫৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

ব্যাংক ছাড়া অন্য কোনো খাতেই দিনটি ভালো যায়নি। এর ভিড়ে সবচেয়ে বেশি খারাপ দিন গেছে সিমেন্ট খাতে। গত মাসে হঠাৎ করেই ব্যাপক লেনদেন শুরু হওয়া খাতটির সবগুলো কোম্পানিই দর হারিয়েছে।

আর্থিক খাতের ২২টি কোম্পানির মধ্যে একটি মাত্র দর ধরে রাখতে পেরেছে, পতন হয়েছে বাকি সবগুলোর।

বিমা খাতে কেবল চারটি কোম্পানির দর বেড়েছে, কমেছে বাকি ৪৭টির। লেনদেনের দ্বিতীয় শীর্ষে থাকলেও ওষুধ ও রসায়ন খাতেও পতন হয়েছে। চারটি কোম্পানির দর বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ২৬টির দর।

বস্ত্র খাতে ৭টির দর বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ৪৬টির দর, জ্বালানি খাতে দুটির দর বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ২০টি আর প্রকৌশল খাতে ৭টির দর বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ৩৪টির দর।

বড় মূলধনি ১০ কোম্পানির উত্থানেও ঠেকানো গেল না পতন

টানা দর বাড়তে থাকা ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো কোম্পানির শেয়ার দর আরও ৩.৭৬ শতাংশ বেড়েছে। এই একটি কোম্পানির কারণেই সূচকে যোগ হয়েছে ৩০.৭৭ পয়েন্ট।

এ ছাড়া বেক্সিমকো লিমিটেডের দর বৃদ্ধি পাওয়ায় সূচকে যোগ হয়েছে ৮.১১ পয়েন্ট, গ্রামীণ ফোন বাড়িয়েছে ৪.৮৩ পয়েন্ট।

পতন টানা পাঁচ দিন, বিনিয়োগ এখন ব্যাংকমুখী
পতনের বাজারে সূচক টেনে তুলতে প্রধান ভূমিকায় ছিল যেসব কোম্পানি

অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে এনআরবিসি ৪.০৩, আইএফআইসি ৩.২২, সাউথবাংলা ব্যাংক ৩.১৩, ফরচুন সুজ ২.৯৩, ইসলামী ব্যাংক ২.৩৭, ডেল্টালাইফ ২.০৩ এবং আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক সূচকে যোগ করেছে ২.০১ পয়েন্ট।

অর্থাৎ এই ১০টি কোম্পানিই সূচকে যোগ করেছে মোট ৬৩.৪৩ পয়েন্ট।

অন্যদিকে সূচক সবচেয়ে বেশি কমেছে লাফার্জ হোলসিম সিমেন্টের দরপতনে সূচক থেকে কমেছে ১৫.১৪ পয়েন্ট। অন্যদিকে আইসিবির কারণে ৮.৩ পয়েন্ট, বিকন ফার্মার কারণে ৬.৯৪ পয়েন্ট, রবির কারণে ৬.৬১ পয়েন্ট, ইউনাইটেড পাওয়ারের কারণে ৬.০৯ পয়েন্ট, ওরিয়ন ফার্মার কারণে ৫.৪১ পয়েন্ট, পাওয়ারগ্রিডের কারণে ৫.০৯ পয়েন্ট, জিপিএইচ ইস্পাতের কারণে ৪.১৭ পয়েন্ট, বেক্সিমকো ফার্মার কারণে ৩.৫৬ পয়েন্ট এবং সাবমেরিন কোম্পানির শেয়ারের দরপতনে সূচক কমেছে ৩.৪৩ পয়েন্ট।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানির কারণে সূচকের পতন হয়েছে ৬৪.৭৪ পয়েন্ট।

পতন টানা পাঁচ দিন, বিনিয়োগ এখন ব্যাংকমুখী
সূচক পতনে প্রধান ভূমিকায় ছিল এই ১০টি কোম্পানি

দর হারানো কোম্পানির দাম কমেছে ব্যাপক হারে

টানা দুই মাস ধরে চাঙা থাকা ওরিয়ন ফার্মার শেয়ার এক দিনেই দর হারিয়েছে ৯.৫৪ পয়েন্ট। ১১৫ টাকা ২০ পয়সা থেকে দাম নেমে এসঠে ১০৪ টাকা ২০ পয়সায়।

এছাড় উদ্যোক্তা পরিচালকদের চার কোটিরও বেশি শেয়ার লক ফ্রি হওয়ার খবরে ইন্দোবাংলা ফার্মা দর হারিয়েছে ৮.৮৭ পয়েন্ট।

লোকসানি কোম্পানি ইমাম বাটন ৮.৪৭, আরেক লোকসানি জিলবাংলা সুগার ৮.০৭, শেয়ার এক টাকা লভ্যাংশ ঘোষণার খবরে লাফ দেয়ার পর পতনমুখি ফারইস্ট নিটিং ৭.৭৯ শতাংশ, এক মাস ধরে ঊর্ধ্বমুখি এডভেন্ট ফার্মা ৭.৬৯ শতাংশ, ওরিয়ন গ্রুপের আরেক কোম্পানি ওরিয়ন ইনফিউশন ৭.৩০ শতাংশ, নতুন প্ল্যান্ট উৎপাদনে আসার খবরে উল্লম্ফনে থাকা জিপিএইচ ইস্পাত ৭.২৬ শতাংশ কমেছে।

পতন টানা পাঁচ দিন, বিনিয়োগ এখন ব্যাংকমুখী
ব্যাংক ছাড়া সব খাতের পতনের ভিড়ে সবচেয়ে বেশি বাজে দিন গেছে সিমেন্ট ও আর্থিক খাতে

এক বছরে শেয়ার দর তিন গুণের বেশি বেড়ে যাওয়ার পর পতনমুখি ফুওয়াং সিরামিক ৭.১৭ শতাংশ, অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধির তদন্ত চলতে থাকা জিবিবি পাওয়ার ৭.০৯ শতাংশ, গত এক মাস ধরে তুমুল আলোচিত লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট ৬.৪৬, ওটিসি মার্কেট থেকে মূল মার্কেটে ফিরে ছুটতে থাকার পর এক মাস ধরে পতনের মুখে থাকা পেপার প্রসেসিং আরও ৬.৩৬ শতাংশ, দেড় বছর ধরে অস্বাভাবিক হারে দর বৃদ্ধি পাওয়া ঢাকা ডায়িং ৬.১৮ শতাংশ, দুই বছরে শেয়ার দর ১০ গুণ হয়ে যাওয়া বিকন ফার্মা ৬.১৮ শতাংশ, ছয় মাসে শেয়ার দর পাঁচ গুণ বেড়ে যাওয়ার পর পতনমুখি আনোয়ার গ্যালভানাইজিং ৬.০৪ শতাংশ দর হারিয়েছে।

আরও ১২টি কোম্পানি ৫ শতাংশের বেশি, আরও ২৯টি কোম্পানি ৪ শতাংশের বেশি, ৪৭টি কোম্পানি ৩ শতাংশের বেশি দর হারিয়েছে।

এত বেশি হারে কোম্পানির দরপতনের কারণেই মূলত সূচক কমেছে বেশি।

সূচক লেনদেন

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৫৬ দশমিক ৮০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ১৮৬ দশমিক ৪৬ পয়েন্টে।

শরিয়াভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস ২১ দশমিক ১১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৪৬ দশমিক ৩১ পয়েন্টে।

বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক ১৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭০৫ দশমিক ১৩ পয়েন্টে।

দিনশেষে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৯৫২ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
আনোয়ার নিয়ে উচ্চাশার প্রভাব নেই আয়-লভ্যাংশে
তালিকাভুক্ত হয়ে কমল আয়, ইনডেক্স দেবে শেয়ারে আড়াই টাকা
আয়ের চেয়ে বেশি লভ্যাংশ দেবে ফারইস্ট নিটিং
দেশবন্ধু শেয়ারধারীদেরকে দেবে ৫০ পয়সা করে
মহামারি: ঘুরে দাঁড়িয়ে লভ্যাংশ বাড়াল অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার

শেয়ার করুন

সংশোধনের ঝাপটা কম ব্যাংক খাতে

সংশোধনের ঝাপটা কম ব্যাংক খাতে

গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে পুঁজিবাজারের সিংহভাগ কোম্পানির দরপতন হচ্ছে। এর বাইরে নয় ব্যাংক খাতও। ছবি: নিউজবাংলা

ব্যাংক খাতে সবচেয়ে বেশি ২২ শতাংশ কমেছে লোকসানি আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের দর। এর বাইরে তিনটি ব্যাংকের দর ১০ শতাংশের কম কমেছে। ৮টি ব্যাংকের দর কমেছে ৫ থেকে ৭ শতাংশ। ১২টি ব্যাংকের দর কমেছে ১ থেকে ৫ শতাংশের কম। অর্থাৎ একদিন সর্বোচ্চ পরিমাণ বাড়লেই একটি ছাড়া বাকিগুলো হারিয়ে ফেলা দর ফিরে পাবে। আর সাতটি ব্যাংকের দর বেড়েছে। একটি ব্যাংকের দর পাল্টায়নি।

পুঁজিবাজারে এক বছরের বেশি সময় ধরে উত্থানে ব্যাংক খাতে দর বেড়েছে সামান্যই। এ নিয়ে হতাশার মধ্যে এবার একমাস ধরে টানা দর সংশোধনে এই খাতের শেয়ারধারীরা কিছুটা হলেও স্বস্তিতে আছে।

গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে পুঁজিবাজারে বড় মূলধনি কিছু কোম্পানি ছাড়া সিংহভাগ কোম্পানির দরপতন হচ্ছে। এর বাইরে নয় ব্যাংক খাতও। তবে এই খাতে দরপতনের হার তুলনামূলক কম। যেকোনো একটি ভালো দিনেই কোম্পানিগুলো যেটুকু দর হারিয়েছে, তার সবটুকু ফিরে পেতে পারে।

ব্যাংক খাতে কেবল লোকসানি একটি কোম্পানির শেয়ারদর উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে। আগের দুই মাসে অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়া আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারদর কমেছে ২২ শতাংশ। এটির দাম আরও বেশি কমেছিল, তবে চলতি সপ্তাহে কিছুটা দর ফিরে পেয়েছে।

বাকি ৩১টি কোম্পানির মধ্যে ৯ শতাংশের বেশি কমেছে তিনটি কোম্পানির দর। একটির দর মাস শেষে অপরিবর্তিত আছে একটির, সাতটির দর বেড়েছে। চারটির দর কমেছে এক থেকে দুই শতাংশের মধ্যে। আটটি কোম্পানির শেয়ার দর কমার হার তিন থেকে পাঁচ শতাংশের মধ্যে। ৮টি কোম্পানির শেয়ার দর ৫ শতাংশের বেশি থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।

এই সময়ে মুনাফায় থাকা ব্যাংকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর হারানো ব্যাংকের শেয়ার দর কমেছে ৯.৮৪ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দর কমেছে আরেকটি ব্যাংকের ৯.৪০ শতাংশ, আর তৃতীয় সর্বোচ্চ কমেছে ৯.২৫ শতাংশ।

আরও একটি ব্যাংকের শেয়ারদর আপাতদৃষ্টিতে সাড়ে ৯ শতাংশ কমলেও সেটি ৮ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে এবং সেই লভ্যাংশ সমন্বয় হয়েছে।

অন্যদিকে প্রধান খাতগুলোর মধ্যে বিমা, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক, প্রকৌশল এবং বস্ত্র খাতে ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ এমনকি এর চেয়ে বেশি হারে দর সংশোধন হয়েছে বহু কোম্পানির।

বিমা খাতের ৫১টি কোম্পানির মধ্যে গত এক মাসে দর বেড়েছে কেবল দুটির, প্রকৌশল খাতের ৪২ কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে আটটির, বস্ত্র খাতের ৫৮টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ১৩টির। কমেছে বাকিগুলোর।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ইপিএলের সাবেক গবেষণা প্রধান দেবব্রত কুমার সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেখে মনে হচ্ছে বিনিয়োগাকারীরা ফান্ডামেন্টাল কোম্পানির দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে। আসলে দুর্বল ও লোকসানি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে এক সময় ভালো মুনাফা করলেও এখন দর সংশোধনের সময় দেখা গেছে, তারাই সবচেয়ে বেশি লোকসানে আছে। এ থেকে অভিজ্ঞতা বিনিয়োগকারীরা কিছুটা হলেও শিক্ষা নিয়েছে বলে মনে হয়।

ব্যাংক খাতে সবচেয়ে বেশি কমেছে আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের দর এক বছরেরও বেশি সময় ধরে পুঁজিবাজারে উত্থানের মধ্যে ব্যাংক খাতের একমাত্র লোকসানি কোম্পানিটি আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার দর বেড়েছে ১০০ শতাংশের বেশি।

গত বছরের জুলাইয়ের শেষে কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ২ টাকা ৮০ পয়সা। সেটি এবার বেড়ে হয় সর্বোচ্চ ৭ টাকা ৮০ পয়সা।

গত ২৯ জুলাইও শেয়ার দর ছিল ৪ টাকা ৮০ পয়সা। সেখান থেকে অস্বাভাবিক হারে বেড়ে ২ সেপ্টেম্বর দাম দাঁড়ায় ৭ টাকা ৪০ পয়সা।

অথচ তালিকাভুক্ত হওয়ার পর কখনও মুনাফার মুখ না দেখে কোম্পানিটি চলতি বছরও লোকসানের বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি, এমনকি লোকসান কমাতেও পারেনি। তার পরেও শেয়ার দর কেন এভাবে বাড়ছে, এমন প্রশ্নের মধ্যে ১২ সেপ্টেম্বর সংশোধন শুরু হতে না হতেই লাফিয়ে লাফিয়ে কমতে থাকে।

গত ১০ অক্টোবর সেই ২৭ জুলাইয়ের দাম ৪ টাকা ৮০ পয়সায় নেমে আসে দাম। তবে এরপর সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে চার কর্মদিবসের মধ্যে তিন দিন বেড়ে হয় ৫ টাকা ৬০ পয়সা।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দর কমেছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের দর। এক মাসে ব্যাংকটির শেয়ার দর হারিয়েছে ৯.৮৪ শতাংশ। ১ টাকা ৩০ পয়সা কমে শেয়ার দর ১৩ টাকা ৪০ পয়সা থেকে হয়েছে ১২ টাকা ৮০ পয়সা।

তৃতীয় সর্বোচ্চ দর কমেছে ব্র্যাক ব্যাংকের, যেটির দাম সর্বোচ্চ পরিমাণে কমা কিছুটা অবাক করার মতোই ঘটনা। চলতি বছর অর্ধবার্ষিকে এই ব্যাংকটির আয় দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে।

গত এক মাসে এই ব্যাংকটি দর হারিয়েছে ৪ টাকা ৮০ পয়সা শেয়ার দর ৫০টাকা ৬০ পয়সা থেকে নেমে এসেছে ৪৫ টাকা ৮০ পয়সায়। শতকরা হিসেবে দর কমেছে ৯.৪৮ শতাংশ।

তৃতীয় সর্বোচ্চ দর কমেছে চাপে থাকা এবি ব্যাংক। তবে এটির দর প্রায় সময়ই উঠা নামার মধ্যে থাকে।

৯ সেপ্টেম্বর ব্যাংকটির শেয়ারদর ছিল ১৬ টাকা ২০ পয়সা। সেটি কমে এখন দাঁড়িয়েছে ১৪ টাকা ৭০ পয়সা। কমেছে ১ টাকা ৫০ পয়সা বা ৯.২ শতাংশ।

নতুন তালিকাভুক্ত সাউথবাংলার শেয়ার আপাতদৃষ্টিতে ৯.৪৭ শতাংশ দর হারিয়েছে দেখা গেলেও এর মধ্যে ২০২০ সালে সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ঘোষিত লভ্যাংশ সমন্বয় হয়েছে। এই বছরে ৪ শতাংশ বোনাস ও ৪ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়া হয়েছে। এমনিতে নগদ লভ্যাংশ সমন্বয়ের কথা না থাকলেও বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের পুঁজিবাজারে এই প্রবণতা আছে। এই দুটি বিষয় হিসাব করলে ৪ শতাংশের মতো কমেছে ব্যাংকটির শেয়ার দর।

সংশোধনের ঝাপটা কম ব্যাংক খাতে
পুঁজিবাজারে টানা দরপতনে হতাশ হয়ে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা। ছবি: ফাইল ছবি

৫ থেকে ৭ শতাংশ দর হারিয়েছে যেসব ব্যাংক

এই সময়ে ওয়ান ব্যাংকের শেয়ারদর কমেছে ৭.০৯ শতাংশ। শেয়ারদর ১৪ টাকা ১০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১৩ টাকা ১০ পয়সায়।

ন্যাশনাল ব্যাংকের কম কমেছে ৬.৭৪ শতাংশ। ৬০ পয়সা কমে ৮ টাকা ৯০ পয়সা থেকে দাঁড়িয়েছে ৮ টাকা ৩০ পয়সায়।

মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ টানা বেড়ে যাওয়া ডাচ বাংলা ব্যাংক তিন মাস ধরেই সংশোধনে আছে।

৯৭ টাকা ৭০ পয়সা থেকে কমতে কমতে শেয়ার দর এখন দাঁড়িয়েছে ৭৯ টাকা ৯০ পয়সায়। এর মধ্যে গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে কমেছে ৫ টাকা ৪০ পয়সা বা ৬.৩৩ শতাংশ।

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারদর কমেছে ৬.২৭ শতাংশ। এই সময়ে শেয়ার দর ২২ টাকা ৩০ পয়সা থেকে কমে ২০ টাকা ৯০ পয়সায়।

রূপালী ব্যাংকের শেয়ারদর কমেছে ৬.০২ শতাংশ। এই সময়ে দাম ৩৮ টাকা ২০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৩৫ টাকা ৯০ পয়সায়।

প্রাইম ব্যাংকের শেয়ার দর হারিয়েছে ৫.৯৫ শতাংশ। ১ টাকা ৪০ পয়সা কমে ২৩ টাকা ৫০ পয়সা থেকে হয়েছে ২২ টাকা ১০ পয়সায়।

ট্রাস্ট ব্যাংকের শেয়ারদর এই সময়ে কমেছে ৫.৮৪ শতাংশ। ২ টাকা ১০ পয়া কমে ৩৫ টাকা ৯০ পয়সা থেকে দাঁড়িয়েছে ৩৩ টাকা ৮০ পয়সায়।

৫ শতাংশের কম কমেছে যেগুলোর দর

৪.৮০ শতাংশ কমেছে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের দর। ১০ টাকা ৪০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৯ টাকা ৯০ পয়সা।

৪.৭৮ শতাংশ কমেছে মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের শেয়ারদর। ১ টাকা কমে ২০ টাকা ৯০ পয়সা থেকে শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকা ৯০ পয়সায়।

৪.৪৭ শতাংশ কমেছে এক্সিম ব্যাংকের শেয়ারদর। ৭০ পয়সা কমে ১৫ টাকা ৯০ পয়সা থেকে শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকা ২০ পয়সায়।

৪.৪০ শতাংশ কমেছে এনসিসি ব্যাংকের শেয়ারদর। ৬০ পয়সা কমে ১৩ টাকা ৪০ পয়সা থেকে শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ৮০ পয়সায়।

৪.২১ শতাংশ কমেছে সাউথইস্ট ব্যাংকের শেয়ারদর। ৭০ পয়সা কমে ১৬ টাকা ৬০ পয়সা থেকে শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকা ৯০ পয়সায়।

ঢাকা ব্যাংকের শেয়ারদর কমেছে ৪.০৫ শতাংশ। ৬০ পয়সা কমে ১৪ টাকা ৮০ পয়সা থেকে দাঁড়িয়েছে ১৪ টাকা ২০ পয়সায়।

৩.৩৩ শতাংশ কমেছে এসআইবিএলের দর। ৪০ পয়সা কমে ১৫ টাকা থেকে দাঁড়িয়েছে ১৪ টাকা ৫০ পয়সায়।

৪.৪৭ শতাংশ কমেছে এক্সিম ব্যাংকের শেয়ারদর। ৬০ পয়সা কমে ১৩ টাকা ৪০ পয়সা থেকে শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ৮০ পয়সায়।

২.৯৭ শতাংশ কমেছে ইউসিবির শেয়ারদর। ৫০ পয়সা কমে ১৬ টাকা ৮০ পয়সা থেকে দাঁড়িয়েছে ১৬ টাকা ৩০ পয়সায়।

২.৬৬ শতাংশ কমেছে প্রিমিয়ার ব্যাংকের শেয়ারদর। ৪০ পয়সা কমে ১৫ টাকা থেকে দাঁড়িয়েছে ১৪ টাকা ৬০ পয়সায়।

১.৮৬ শতাংশ কমেছে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের শেয়ারদর। ৩০ পয়সা কমে ১৬ টাকা ১০ পয়সা থেকে দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকা ৮০ পয়সা।

১.৩৬ শতাংশ কমেছে সিটি ব্যাংকের শেয়ারদর। ৪০ পয়সা কমে ২৯ টাকা ২০ পয়সা থেকে দাঁড়িয়েছে ২৮ টাকা ৮০ পয়সায়।

যেগুলোর দর বেড়েছে

বাজার সংশোধনের একমাসে কমে গিয়েও শেষ পর্যন্ত বেড়েছে এনআরবিসির দর। সংশোধন শুরু হওয়ার আগের দিন শেয়ারদর ছিল ২৮ টাকা। সেখান থেকে দর এক পর্যায়ে ২৩ টাকা ৮০ পয়সায় নেমে এসেছিল। কিন্তু গত ৬ কর্মদিবসের মধ্যে ৫ দিন বেড়ে এখন দাম দাঁড়িয়েছে ৩১ টাকা ৬০ পয়সায়।

অর্থাৎ বাজার সংশোধনের মধ্যে ব্যাংকটির দর বেড়েছে ১২.৮৫ শতাংশ বা ৩ টাকা ৬০ পয়সা।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬.৫৮ শতাংশ বেড়েছে আইএফআইসি ব্যাংকের শেয়ার দর। এটির দরও কমে গিয়ে পরে বেড়েছে। বাজার সংশোধন শুরুর আগের দিন দাম ছিল ১৬ টাকা ৭০ পয়সা। ১ টাকা ১০ পয়সা বেড়ে এখন দাম ১৭ টাকা ৮০ পয়সা।

তৃতীয় সর্বোচ্চ ৪.৮০ শতাংশ বেড়েছে যমুনা ব্যাংকের দর। ২২ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ১ টাকা ১০ পয়সা বেড়ে হয়েছে ২৪ টাকা। তবে দাম একপর্যায়ে আরও বেড়ে ২৫ টাকা হয়েছিল।

চতুর্থ সর্বোচ্চ ২.৮৬ শতাংশ বেড়েছে উত্তরা ব্যাংকের দর। ২৪ টাকা ৪০ পয়সা থেকে ৭০ পয়সা বেড়ে হয়েছে ২৫ টাকা ১০ পয়সা।

এছাড়া পূবালী ব্যাংকের শেয়ার দর ২ শতাংশ বেড়ে ২৫ টাকা থেকে ২৫ টাকা ৫০ পয়সা, ব্যাংক এশিয়ার দর ০.৯৪ শতাংশ বেড়ে ২০ টাকা ২০ পয়সা থেকে ২০ টাকা ৪০ পয়সা, আল আরফাহ ইসলামী ব্যাংকের দর ০.৩৮ শতাংশ বেড়ে ২৬ টাকা ১০ পয়সা থেকে হয়েছে ২৬ টাকা ২০ পয়সা।

অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারদর উঠানামা করে ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে। সংশোধন শুরুর আগেও দাম ছিল ৩০ টাকা। এখনও তাই।

আরও পড়ুন:
আনোয়ার নিয়ে উচ্চাশার প্রভাব নেই আয়-লভ্যাংশে
তালিকাভুক্ত হয়ে কমল আয়, ইনডেক্স দেবে শেয়ারে আড়াই টাকা
আয়ের চেয়ে বেশি লভ্যাংশ দেবে ফারইস্ট নিটিং
দেশবন্ধু শেয়ারধারীদেরকে দেবে ৫০ পয়সা করে
মহামারি: ঘুরে দাঁড়িয়ে লভ্যাংশ বাড়াল অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার

শেয়ার করুন

স্বাভাবিক সংশোধন, আতঙ্কের কিছু নেই: আবু আহমেদ

স্বাভাবিক সংশোধন, আতঙ্কের কিছু নেই: আবু আহমেদ

এক মাসের বেশি সময় ধরে দর সংশোধনের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ বলেন, ‘একসময় পুঁজিবাজারে লেনদেন হয়েছে তিন শ-চার শ কোটি টাকা। সূচক পতন হলে ঢালাও পতন হতো। সে অবস্থা এখন নেই। আর হয়ও না। আমাদের বিনিয়োগকারীদের সূচক নিয়ে আগ্রহ বেশি। দিন শেষে সূচক কমে গেলেই তাদের ধারণা পুঁজিবাজার খারাপ হচ্ছে। এ ধারণা ঠিক নয়। এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। লেনদেন এখনও ভালো অবস্থানে আছে। ফলে সূচক ও লেনদেনের কমতিতে সার্বিক পুঁজিবাজারকে খারাপ বলা অযৌক্তিক।’

পুঁজিবাজারে এক মাস ধরে যে দর সংশোধন চলছে, তা বাজারের স্বাভাবিক ঘটনা তুলে ধরে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ।

টানা উত্থানের পর এ ধরনের সংশোধন আগেও এসেছে এবং সেই পর্ব শেষে বাজার এর আগেও উত্থান পর্বে গেছে, সেই বিষয়টিও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি।

জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে টানা উত্থানে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সূচক বাড়ে ১ হাজার ২০০ পয়েন্টের বেশি। ১২ সেপ্টেম্বর থেকে টানা চার সপ্তাহ দর সংশোধনে এবার দেখা গেছে অভিনব ঘটনা। এই সময়ে সূচকের পতন না ঘটে বেশির ভাগ শেয়ারের দরপতন হচ্ছে।

পুঁজিবাজারে দর সংশোধন শুরু হয় গত ১২ অক্টোবর থেকে। তবে এ সময়ে সূচকের টানা পতন হয়নি, যা এর আগে দেখা যেত। তবে এক মাস পরে এসে ১১ থেকে ১৪ অক্টোবর টানা চার কর্মদিবস সূচক পড়েছে ১২৪ পয়েন্ট। টানা পতন গত ফেব্রুয়ারির পরে আর ঘটেনি।

তবে এতেও চিন্তিত নন আবু আহমেদ। বলেন, ‘একসময় পুঁজিবাজারে লেনদেন হয়েছে তিন শ-চার শ কোটি টাকা। সূচক পতন হলে ঢালাও পতন হতো। সে অবস্থা তো এখন নেই। আর হয়ও না। আমাদের বিনিয়োগকারীদের সূচক নিয়ে আগ্রহ বেশি। দিন শেষে সূচক কমে গেলেই তাদের ধারণা পুঁজিবাজার খারাপ হচ্ছে। এ ধারণা ঠিক নয়। এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

‘লেনদেন এখনও ভালো অবস্থানে আছে। ফলে সূচক ও লেনদেনের কমতিতে সার্বিক পুঁজিবাজারকে খারাপ বলা অযৌক্তিক।’

এবার দর সংশোধনে সূচক ধরে রাখা গেছে বড় মূলধনি বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ার দরে উত্থানের কারণে।

তবে সূচক অবস্থান ধরে রাখলেও শেয়ার দর ক্রমেই কমতে থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার শেষ নেই। আরও কমে যাবে ভেবে শেয়ার বিক্রি করে দেয়ার প্রবণতার কারণে দাম আরও কমছে।

তবে সিংহভাগ বিনিয়োগকারী যে শেয়ার ধরে রেখেছেন, সেটি লেনদেনে স্পষ্ট। গত সেপ্টেম্বরে আড়াই থেকে তিন হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি লেনদেন হতে থাকলেও তা দুই হাজার কোটি টাকার নিচে, এমনকি দেড় হাজার কোটিরও নিচে নেমে গেছে।

আবু আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুঁজিবাজারের সূচকের উত্থান-পতন থাকবেই। শেয়ার দরের সঙ্গে সম্পৃক্ত সূচকের উত্থান-পতন হলেও লেনদেন ঠিক থাকলে বিষয়টি আতঙ্কের নয়।’

লেনদেন কমার ‘যে দুই কারণ’

আবু আহমেদ বলেন, ‘লেনদেন এখনও হাজার কোটি টাকায় আছে। গত সপ্তাহের গড় লেনদেন ছিল ২ হাজার ২০০ কোটি টাকার বেশি। ফলে লেনদেন কমে যাচ্ছে, এমনটি ভাবা ঠিক নয়।’

তার পর্যবেক্ষণ বলছে, গত এক মাসে আগে অস্বাভাবিক উত্থানে থাকা দুর্বল কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর বেশি কমেছে। আর বিনিয়োগ আটকে যাওয়ায় লেনদেন কমে গেছে।

তবে মৌলভিত্তির বড় মূলধনির বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ার দর এ সময় বাড়তে দেখা যাচ্ছে। এ সুযোগে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা তাদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে এখন পর্যবেক্ষণে আছে। তার মতে, এটিও লেনদেন কমার একটি কারণ।

স্বাভাবিক সংশোধন, আতঙ্কের কিছু নেই: আবু আহমেদ
পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ। ছবি: নিউজবাংলা

এই পুঁজিবাজার বিশ্লেষক বলেন, ‘প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা অনেক সময় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মতো আচরণ করলেও তারা কিন্তু ফান্ডামেন্টালে বেশি বিনিয়োগ করে থাকে। খারাপ কোম্পানির শেয়ার দর যখন বাড়ছিল, তখন ফান্ডামেন্টাল বা ভালো কোম্পানির শেয়ার দর তলানিতে নেমে গিয়েছিল।

‘এখন আবার সেসব শেয়ারের দর বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা মুনাফা নিয়েছে। কিন্তু দর বৃদ্ধি পেলেও শেয়ার বিক্রি করা যায়, কিন্তু আবার দর না কমা পর্যন্ত কেনা যায় না। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করলেও তারা এখন শেয়ার কিনছে না।’

আবু আহমেদ বলেন, ‘পুঁজিবাজারকে গতিশীল করতে একটি শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা নেয়ার পর অন্য কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করা উচিত। যে কোম্পানির শেয়ারের বিপরীতে মুনাফা হয়েছে, আবার সেই কোম্পানির শেয়ারের দর কমলে কেনা হবে, এমন অবস্থা থেকেই প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বের হয়ে আসা উচিত।

‘মুনাফা পাওয়ার পর অন্য কোম্পানির শেয়ার যেগুলোর দর কম আছে সেগুলোতে বিনিয়োগ হতে পারে। তাহলে অন্তত সূচকের ওপর চাপ আসে না।’

ব্যাংকের শেয়ার দর কেন গতিহীন?

আবু আহমেদ বলেন, ব্যাংকের শেয়ারের দরের উত্থান-পতন কম। গত কয়েক বছর ধরেই চলছে এই চিত্র। বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও একটি ধারণা তৈরি হয়েছে ব্যাংকের শেয়ার থেকে লভ্যাংশ ছাড়া ভালো মুনাফা পাওয়া সম্ভব না। ফলে এ খাতে যারা বিনিয়োগ করে তারা দীর্ঘমেয়াদি হিসেবেই বিনিয়োগ করেন।

আরও পড়ুন:
আনোয়ার নিয়ে উচ্চাশার প্রভাব নেই আয়-লভ্যাংশে
তালিকাভুক্ত হয়ে কমল আয়, ইনডেক্স দেবে শেয়ারে আড়াই টাকা
আয়ের চেয়ে বেশি লভ্যাংশ দেবে ফারইস্ট নিটিং
দেশবন্ধু শেয়ারধারীদেরকে দেবে ৫০ পয়সা করে
মহামারি: ঘুরে দাঁড়িয়ে লভ্যাংশ বাড়াল অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার

শেয়ার করুন

মুনাফা বাড়লেও লভ্যাংশ বাড়ায়নি ডেসকো



মুনাফা বাড়লেও লভ্যাংশ বাড়ায়নি ডেসকো

প্রতীকী ছবি

২০১৬ সালের পর থেকে আয় যেমনই হোক, বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ হারে নগদ লভ্যাংশ দিয়ে আসছে কোম্পানিটি। তার আগে ২০১৫ সালে কোম্পানিটি ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের পাশাপাশি ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর ২০১১ সালে সবচেয়ে বেশি ২৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল ডেসকো।

আয় কম-বেশি হলেও গত ছয় বছর ধরে একই হারে লভ্যাংশ দিয়ে আসছে ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো)।

বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির লভ্যাংশ সংক্রান্ত বোর্ড সভায় গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আগের পাঁচ বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও শেয়ারপ্রতি এক টাকা বা নগদ ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

আগের বছর কোম্পানির আয় ব্যাপক হারে কমে গেলেও সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে তা বাড়াতে পারা অবশ্য স্বস্তির। ২০২০ সালে কোম্পানিটির মেয়ার প্রতি আয় ছিল ১ টাকা ১৫ পয়সা। সেখান থেকে ৭১ পয়সা বেড়ে এবার আয় দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৮৬ পয়সা।

যারা এই লভ্যাংশ নিতে চান, তাদের আগামী ১৮ নভেম্বর শেয়ার ধরে রাখতে হবে। অর্থাৎ সেদিনই হবে রেকর্ড ডেট। আগামী ১৫ জানুয়ারি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বার্ষিক সাধারণ সভায় এই লভ্যাংশ চূড়ান্ত হবে।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিটি গত ছয় বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় করেছিল ২০১৯ সালে। সেই বছর কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ২ টাকা ৭৭ পয়সা। আর সবচেয়ে কম ৪৪ পয়সা আয় করেছিল ২০১৭ সালে।

২০১৬ সালের পর থেকে আয় যেমনই হোক, বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ হারে নগদ লভ্যাংশ দিয়ে আসছে কোম্পানিটি। তার আগে ২০১৫ সালে কোম্পানিটি ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের পাশাপাশি ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর ২০১১ সালে সবচেয়ে বেশি ২৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল ডেসকো।

কোম্পানিটির মোট শেয়ার ৩৯ কোটি ৭৫ লাখ ৬৯ হাজার ৮০৪টি। এর মধ্যে সরকারের কাছে আছে ৬৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ বা ২৬ কোটি ৫০ লাখ ৫৯ হাজার ৭৮৮টি।

ব্যক্তি শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের কাছে আছে ৮ দশমিক ৫২ শতাংশ বা ৩ কোটি ৩৮ লাখ ৭২ হাজার ৯৪৭টি। ২৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ শেয়ার আছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে আছে দশমিক ০৬ শতাংশ শেয়ার।

১৯৯৬ সালে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি থেকে ১৯৯৮ সালে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে যাওয়া ডেসকো ২০০৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়।

রাজধানীর মিরপুর, পল্লবী, কাফরুল, কল্যাণপুর, ক্যান্টনমেন্ট, গুলশান, বনানী, মহাখালী, উত্তরা, উত্তরখান, দক্ষিণখান, বারিধারা, বাড্ডা, টঙ্গী এবং পূর্বাচলসহ প্রায় ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা ডেসকোর আওতাভুক্ত।

আরও পড়ুন:
আনোয়ার নিয়ে উচ্চাশার প্রভাব নেই আয়-লভ্যাংশে
তালিকাভুক্ত হয়ে কমল আয়, ইনডেক্স দেবে শেয়ারে আড়াই টাকা
আয়ের চেয়ে বেশি লভ্যাংশ দেবে ফারইস্ট নিটিং
দেশবন্ধু শেয়ারধারীদেরকে দেবে ৫০ পয়সা করে
মহামারি: ঘুরে দাঁড়িয়ে লভ্যাংশ বাড়াল অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার

শেয়ার করুন

তৃতীয় প্রান্তিক শেষে লাফার্জের আয় বেড়ে দ্বিগুণ

তৃতীয় প্রান্তিক শেষে লাফার্জের আয় বেড়ে দ্বিগুণ

সুনামগঞ্জের ছাতকে লাফার্জ হোলসিম সিমেন্টের কারখানা। ফাইল ছবি

তৃতীয় প্রান্তিকের এই আয় যোগ হওয়ায় চলতি বছর জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ৬৬ পয়সা। গত বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ১ টাকা ২৯ পয়সা ছিল।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিমেন্ট খাতের বহুজাতিক কোম্পানি লাফার্জ হোলসিমের শেয়ার প্রতি আয় আরও বেড়েছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ আয় করেছে কোম্পানিটি।

গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি আয় করেছেন ৮১ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ৫৬ পয়সা।

তৃতীয় প্রান্তিকের এই আয় যোগ হওয়ায় চলতি বছর জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ৬৬ পয়সা। গত বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ১ টাকা ২৯ পয়সা ছিল।

বৃহস্পতিবার কোম্পানির পর্ষদ সভায় এই আর্থিক হিসাব পর্যালোচনা করে প্রকাশ করা হয়।

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিক থেকেই লাফার্জের আয় বাড়ার প্রবণতা দেখা দেয়।

জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয় ৮৯ পয়সা। গত বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ৪৫ পয়সা।

এরপর এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে দ্বিতীয় প্রান্তিকে আয় হয় ৯৬ পয়সা। গত বছর এই সময়ে আয় ছিল ২৮ পয়সা।

দুই প্রান্তিক মিলিয়ে শেয়ার প্রতি আয় ছিল ১ টাকা ৮৫ পয়সা। আগের বছর এই সময়ে আয় ছিল ৭৩ পয়সা।

আয়ের পাশাপাশি শেয়ার প্রতি সম্পদমূল্যও বাড়ছে। সেপ্টেম্বর শেষে এই সম্পদমূল্য ছিল ১৬ টাকা ৬১ পয়সা। জুন শেষে যা ছিল ১৫ টাকা ৮০ পয়সা।

চলতি বছর আয়ের উল্লম্ফনে বহুজাতিক বড় মূলধনি এই কোম্পানিটির শেয়ারদরও ব্যাপকভাবে বাড়ছে।

গত এক বছরে কোম্পানির শেয়ারের সর্বনিম্ন দাম ছিল ৩৬ টাকা ৬০ পয়সা। সাম্প্রতিক উত্থানে সেটি উঠে ১০৭ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত। তবে পরে তা কিছুটা কমে এখন দাঁড়িয়েছে ৯৫ টাকা ৯০ পয়সায়।
সাম্প্রতিক উত্থান পর্ব শুরু হয় আগস্ট থেকে। ২ আগস্ট শেয়ার মূল্য ছিল ৬২ টাকা ৯০ পয়সা। ৬ অক্টোবর সেটি বেড়ে ১০৭ টাকা ৫০ পয়সায় পৌঁছে।

প্রায় দুই দশক ধরে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী কোম্পানিটি একটি সিমেন্ট কারখানা ও তিনটি গ্রাইন্ডিং স্টেশন স্থাপনে প্রায় ৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে, যা সিমেন্ট খাতে এ দেশে সর্বোচ্চ বিদেশী বিনিয়োগ।

এ বিষয়ে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহি রাজেশ সুরানা বলেন, ‘ব্যয় সংকোচন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ আরো একটি দারুণ প্রান্তিক অতিক্রম করেছে। আমরা যে নতুন নতুন পণ্যসমূহ বাজারে এনেছি সেগুলো অত্যন্ত সফল এবং আমাদের গ্রাহকবৃন্দ আমাদের পণ্য ও সমাধান বৈচিত্র্যে আস্থা রেখেছেন। গ্রাহকদের কাছে আমাদের পণ্য পৌঁছাতে আমাদের ডিজিটাল উদ্যোগগুলো এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।’

সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক হোলসিম গ্রুপ ও স্পেনভিত্তিক সিমেন্টোস মলিন্স গ্রুপের যৌথ উদ্যোগ পরিচালিত হচ্ছে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ।

ডিসেম্বর ক্লোজিংয়ের এই কোম্পানিটি ২০২০ সালে ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। ২০২০ সালে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছিল ২ টাকা ০৩ পয়সা। ‘এ‘ ক্যাটাগরির এই কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৬৪.৬৮ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে। ১৭.৮৪ শতাংশ শেয়ার আছে প্রাতিষ্ঠানিক, দশমিক ৭৪ শতাংশ বিদেশী ও ১৬.৭৪ শতাংশ শেয়ার আছে ব্যাক্তিশ্রেনীর বিনিয়োগকারীদের কাছে।

আরও পড়ুন:
আনোয়ার নিয়ে উচ্চাশার প্রভাব নেই আয়-লভ্যাংশে
তালিকাভুক্ত হয়ে কমল আয়, ইনডেক্স দেবে শেয়ারে আড়াই টাকা
আয়ের চেয়ে বেশি লভ্যাংশ দেবে ফারইস্ট নিটিং
দেশবন্ধু শেয়ারধারীদেরকে দেবে ৫০ পয়সা করে
মহামারি: ঘুরে দাঁড়িয়ে লভ্যাংশ বাড়াল অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার

শেয়ার করুন