ভেতরে বিএনপির স্মরণসভা, বাইরে নেতা-কর্মীর স্লোগান

ভেতরে বিএনপির স্মরণসভা, বাইরে নেতা-কর্মীর স্লোগান

প্রেস ক্লাবের ভেতরে চলছিল বিএনপির স্মরণসভা। বাইরে নেতা-কর্মীদের স্লোগান। ছবি: নিউজবাংলা

প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আলোচনা সভা শুরুর আগে বিএনপি ও দলটির অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মী দিয়ে পরিপূর্ণ হয়ে যায় হলরুম। এ সময় হলরুমে জায়গা না পেয়ে বাইরে জড়ো হন দলটির হাজারের বেশি নেতা-কর্মী।

বিএনপির উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাবে একটি স্মরণসভা হঠাৎ করে জনসমাবেশে রূপ নিয়েছে। প্রেস ক্লাবের ভেতরে সভা চললেও বাইরে চলছিল দলটির নেতা-কর্মীদের শোডাউন।

১৯৯০ সালের ১০ অক্টোবর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে রাজধানীর পল্টনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ছাত্রদলকর্মী নাজির উদ্দিন জেহাদ। তার স্মরণে জেহাদ স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে রোববার সকাল ১০টায় স্মরণসভার আয়োজন করে বিএনপি।

তার আগে সকাল ৯টায় রাজধানীর দৈনিক বাংলা মোড়ে শহীদ জেহাদ স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পণ করে দলটি।

আলোচনা সভার শুরুর আগে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রেস ক্লাবে আসা শুরু করেন।

প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আলোচনা সভা শুরুর আগে বিএনপি ও দলটির অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মী দিয়ে পরিপূর্ণ হয়ে যায় হলরুম। এ সময় হলরুমে জায়গা না পেয়ে বাইরে জড়ো হন দলটির হাজারের বেশি নেতা-কর্মী।

ভেতরে বিএনপির স্মরণসভা, বাইরে নেতা-কর্মীর স্লোগান
জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভেতরে জেহাদ স্মরণে বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

এ সময় উপস্থিত নেতা-কর্মীরা খণ্ড খণ্ড দলে ভাগ হয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন। তারা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নামে স্লোগান দিতে থাকেন।

স্মরণ সভায় লন্ডন থেকে ভিডিও কনফারেন্সরর মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমানসহ সিনিয়র নেতারা।

আরও পড়ুন:
পেশাজীবীদের সঙ্গে দ্বিতীয় দিনের মতো বৈঠকে বিএনপি
সরকারের অধীনে নির্বাচনে ‘যাবে না’ ২০-দলীয় জোট
মা হারালেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সোহেল
ছাত্রদল নেতাকে না পেয়ে বাবা-চাচাকে থানায়
ফখরুলের জন্য কষ্ট হয়: হানিফ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সম্প্রীতি শোভাযাত্রার ডাক যুবলীগের

সম্প্রীতি শোভাযাত্রার ডাক যুবলীগের

গত কিছু দিনে বিভিন্ন মন্দির-মণ্ডপে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ফাইল ছবি

মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ২৩, বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে যুবলীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক কর্মসূচি পালিত হবে। সারা দেশে যুবলীগের প্রতিটি ইউনিটকেও একই কর্মসূচি পালন করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উপর হামলার প্রতিবাদে সারা দেশে শান্তি ও সম্প্রীতি শোভাযাত্রার ঘোষণা দিয়েছে যুবলীগ।

আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল ১১টায় রাজধানীর গুলিস্তানের ২৩, বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে যুবলীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কর্মসূচি পালিত হবে। সারা দেশে যুবলীগের প্রতিটি ইউনিটকেও একই কর্মসূচি পালন করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয়ভাবে আয়োজিত শোভাযাত্রায় যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল উপস্থিত থাকবেন।

দুর্গাপূজা চলাকালে কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মন্দির, পূজামণ্ডপ ও ঘরবাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। রোববার রাতে রংপুরের পীরগঞ্জে আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয় হিন্দুদের অন্তত ২০টি ঘর।

সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা হামলার প্রতিবাদে বেশ সরব হয়েছেন। তবে হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছে সরকার।

আওয়ামী লীগ দাবি করছে, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এ হামলাগুলোতে ইন্ধন দিয়েছে বিএনপি। আর বিএনপি দায়ী করছে সরকারকে।

এ ঘটনায় আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে ফেইসবুকে সাম্প্রদায়িক স্ট্যাটাস দেয়ায় পদ হারিয়েছেন ছাত্রলীগের অন্তত ১২ জন নেতা।

আরও পড়ুন:
পেশাজীবীদের সঙ্গে দ্বিতীয় দিনের মতো বৈঠকে বিএনপি
সরকারের অধীনে নির্বাচনে ‘যাবে না’ ২০-দলীয় জোট
মা হারালেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সোহেল
ছাত্রদল নেতাকে না পেয়ে বাবা-চাচাকে থানায়
ফখরুলের জন্য কষ্ট হয়: হানিফ

শেয়ার করুন

আঘাত দিয়ে বাংলাদেশকে দাবিয়ে রাখা যাবে না: খালিদ

আঘাত দিয়ে বাংলাদেশকে দাবিয়ে রাখা যাবে না: খালিদ

দুর্গাপূজায় কুমিল্লায় মণ্ডপে চালানো হয় প্রথম হামলা। ফাইল ছবি

‘তারা মাথা নিচু করে, কুকুরের মতো লেজ গুটিয়ে আজকে চোরাগোপ্তা হামলা করছে। এই চোরাগোপ্তা হামলাও বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ, বাংলাদেশের জনগণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ।’

সাম্প্রদায়িক আঘাত করে বাংলাদেশকে দাবিয়ে রাখা যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

রাজধানীর বিআইডব্লিউটিসিতে সোমবার শেখ রাসেল দিবসের আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক আঘাত দিয়ে বাংলাদেশকে দাবিয়ে রাখা যাবে না। বাংলাদেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখনই এই সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী আবার নতুনভাবে আঘাত হানছে।

‘তারা মাথা নিচু করে, কুকুরের মতো লেজ গুটিয়ে আজকে চোরাগোপ্তা হামলা করছে। এই চোরাগোপ্তা হামলাও বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ, বাংলাদেশের জনগণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ।’

খালিদ বলেন, ‘পঁচাত্তর থেকে আজকে ২০২১ পর্যন্ত দীর্ঘ ৪৬ বছর যাবত বাংলাদেশে একই গল্প শোনানো হয়েছে, সাম্প্রদায়িকতার গল্প। সংবিধানকে ক্ষত-বিক্ষত করা হয়েছে। সাম্প্রদায়িক বীজ ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। পারে নাই।

‘আমরা যখন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। দারিদ্র্যকে দূর করে যখন একটা উন্নত দেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, যখন এ বাংলাদেশ রাসেলের মতো শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ দেশে পরিণত হচ্ছে, তখন সাম্প্রদায়িকতা দিয়ে এই বাংলাদেশকে আবার পেছনে টেনে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

সব ধর্মের মানুষই এ দেশের নাগরিক উল্লেখ করে খালিদ বলেন, ‘সম্মিলিতভাবে এখানে এই মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। এই যে, সম্মিলিত রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনার ভিত্তিতে সংবিধান রচিত হয়েছিল।’

আরও পড়ুন:
পেশাজীবীদের সঙ্গে দ্বিতীয় দিনের মতো বৈঠকে বিএনপি
সরকারের অধীনে নির্বাচনে ‘যাবে না’ ২০-দলীয় জোট
মা হারালেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সোহেল
ছাত্রদল নেতাকে না পেয়ে বাবা-চাচাকে থানায়
ফখরুলের জন্য কষ্ট হয়: হানিফ

শেয়ার করুন

সাম্প্রদায়িক সহিংসতা: বিএনপির দুই কমিটি

সাম্প্রদায়িক সহিংসতা: বিএনপির দুই কমিটি

ফাইল ছবি

প্রথম কমিটি উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে সহমর্মিতা প্রকাশ করবে। দ্বিতীয় কমিটি ঘটনাগুলোর তদন্ত করে বিএনপির কেন্দ্রে প্রতিবেদন দেবে।

দেশের নানা প্রান্তে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার জন্য সরকার সমর্থকদেরকে দায়ী করার পর ঘটনা তদন্ত করতে দুইটি কমিটি গঠন করেছে বিএনপি।

সোমবার দুপুরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

দুটি কমিটির একটির নেতৃত্বে আছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং একটির নেতৃত্বে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস কাজল।

প্রথম কমিটি উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে সহমর্মিতা প্রকাশ করবে। দ্বিতীয় কমিটি ঘটনাগুলোর তদন্ত করে বিএনপির কেন্দ্রে প্রতিবেদন দেবে।

আগের রাতে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় এই কমিটি গঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ক্ষমতাসীনরা তাদের অবৈধ ক্ষমতা দীর্ঘ স্থায়ী করার লক্ষ্যে বিভাজনের রাজনীতি করছে। রাজনৈতিক দূরভিসন্ধির কারণেই এই রক্তপাত, লুটতরাজ চলছে।’

গত বুধবার দুর্গাপূজা চলাকালে কুমিল্লার একটি মণ্ডপে পবিত্র কোরআন পাওয়াকে কেন্দ্র করে সেই মণ্ডপটি ভাঙচুর করা হয়। এরপর দেশের বিভিন্ন এলাকায় মন্দির, মণ্ডপে চলে হামলা। এর মধ্যে রংপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে আগুনও দেয়া হয়েছে।

সাম্প্রদায়িক এসব হামলার প্রতিবাদও করছেন বহুজন। এমনকি ধর্মীয় অনেক নেতাও সোচ্চার হয়েছেন। তারা বলছেন, যে মুসলমানরা এ ধরনের হামলা করছেন তারাই ইসলামের অবমাননা করছেন।

সরকারও এসব ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। কয়েক হাজার মানুষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারও হয়েছে দুই শতাধিক। তবে এর মধ্যেই গতরাতে রংপুরের পীরগঞ্জের ঘটনাটি নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ফখরুল জানান, তার দলের স্থায়ী কমিটি মনে করে এসব হামলায় সরকার সমর্থকরা জড়িত। দেশে রাজনৈতিক সংকট আছে দাবি করে তিনি এও বলেন যে, তার দল মনে করে এই সংকট থেকে দৃষ্টি সরাতে সাম্প্রদায়িক সংকট তৈরি করছে।

ফখরুল বলেন, তাদের দলের স্থায়ী কমিটি সনাতন ধর্মের অনুসারীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানায় এবং সকল ধর্মে মানুষের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করনে সরকারের ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করা হয়।

অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসার দাবিও জানানো হয়।

কোনো তদন্ত ছাড়াই বিএনপি এর নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তাদেরকে বাড়ি-ঘরে পুলিশি তল্লাশি চালানো হচ্ছে অভিযোগ করে এরও তীব্র নিন্দা জানান ফখরুল।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুন্ন রাখতে সব নাগরিককে সচেতন হওয়ার অনুরোধও করেছে বিএনপি।

আরও পড়ুন:
পেশাজীবীদের সঙ্গে দ্বিতীয় দিনের মতো বৈঠকে বিএনপি
সরকারের অধীনে নির্বাচনে ‘যাবে না’ ২০-দলীয় জোট
মা হারালেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সোহেল
ছাত্রদল নেতাকে না পেয়ে বাবা-চাচাকে থানায়
ফখরুলের জন্য কষ্ট হয়: হানিফ

শেয়ার করুন

রাজনৈতিক সংকট লুকাতে সাম্প্রদায়িক হামলা: বিএনপি

রাজনৈতিক সংকট লুকাতে সাম্প্রদায়িক হামলা: বিএনপি

জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে মিছিল এনে সিলেট নগরের আখালিয়ার হালদার পাড়ায় একটি পূজামণ্ডপে ইটপাটকেল ছোড়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা

‘সভা (বিএনপির স্থায়ী কমিটি) মনে করে, বিরাজমান রাজনৈতিক সংকট থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য সরকার নিজেরাই এ ধরনের সাম্প্রদায়িক সংকট সৃষ্টি করছে। প্রত্যেকটি ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করার ফলে পরিস্থিতি জটিলতর হয়েছে।’

দেশে রাজনৈতিক সংকট রয়েছে অভিযোগ করে বিএনপি দাবি করেছে, এ সংকট লুকাতে সরকার এখন ইচ্ছা করে সাম্প্রদায়িক সংকট তৈরি করার চেষ্টা করছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় পূজামণ্ডপ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা এর অংশ বলেই দাবি করেছে দলটি। তাদের অভিযোগ, এসবের পেছনে সরকার সমর্থকরা জড়িত।

সোমবার দুপুরে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ অভিযোগ করা হয়।

রোববার বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় সিদ্ধান্ত জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিটি পাঠানো হয়।

গত বুধবার দুর্গাপূজা চলাকালে কুমিল্লার একটি মণ্ডপে পবিত্র কোরআন পাওয়াকে কেন্দ্র করে মণ্ডপটি ভাঙচুর করা হয়। এরপর দেশের বিভিন্ন এলাকায় মন্দির, মণ্ডপে চলে হামলা। এর মধ্যে রংপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে আগুনও দেয়া হয়েছে।

সাম্প্রদায়িক এসব হামলার প্রতিবাদও করছেন বহুজন। এমনকি ধর্মীয় অনেক নেতাও সোচ্চার হয়েছেন। তারা বলছেন, যে মুসলমানরা এ ধরনের হামলা করছেন তারাই ইসলামের অবমাননা করছেন।

সরকারও এসব ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। কয়েক হাজার মানুষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারও হয়েছে দুই শতাধিক। তবে এর মধ্যেই গতরাতে রংপুরের পীরগঞ্জের ঘটনাটি নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে মির্জা ফখরুল দাবি করেন, কুমিল্লাসহ দেশের নানা প্রান্তে হিন্দুদের ওপর হামলায় জড়িত সরকার সমর্থকরা। তিনি বলেন, ‘স্থায়ী কমিটির সভায় সনাতন ধর্মের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার সময়ে কুমিল্লায় পবিত্র কোরআন শরিফের অবমাননা এবং পরবর্তীতে শাসকশ্রেণির মদদপুষ্ট দুষ্কৃতকারীদের পূজামণ্ডপে আক্রমণ, ভাঙচুর এবং তারই ধারাবাহিকতায় চাঁদপুর, গাজীপুর, নোয়াখালীর চৌমুহনী, চট্টগ্রাম, ঢাকায় পুলিশের নির্বিচারে গুলিবর্ষণ এবং নিরীহ পথচারী, শিশুসহ কয়েকজনের মৃত্যুতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।’

যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা বিএনপি কীভাবে দেখে, তা জানিয়ে দলের মহাসচিব বলেন, ‘সভা (স্থায়ী কমিটি) মনে করে, বিরাজমান রাজনৈতিক সংকট থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য সরকার নিজেরাই এ ধরনের সাম্প্রদায়িক সংকট সৃষ্টি করছে। প্রত্যেকটি ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করার ফলে পরিস্থিতি জটিলতর হয়েছে।’

বিএনপির অভিযোগ ইন্টারনেটসহ ডিজিটাল সকল মাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করে রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে সরকার ক্ষমতার অপপ্রয়োগ চালাচ্ছে।

জনগণের মৌলিক অধিকার, স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বানও জানিয়েছে দলটি। এ বিষয়ে পরবর্তীতে কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান ফখরুল।

আরও পড়ুন:
পেশাজীবীদের সঙ্গে দ্বিতীয় দিনের মতো বৈঠকে বিএনপি
সরকারের অধীনে নির্বাচনে ‘যাবে না’ ২০-দলীয় জোট
মা হারালেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সোহেল
ছাত্রদল নেতাকে না পেয়ে বাবা-চাচাকে থানায়
ফখরুলের জন্য কষ্ট হয়: হানিফ

শেয়ার করুন

ইউপি নির্বাচন: চেয়ারম্যান পদে ২ ভাইয়ের লড়াই

ইউপি নির্বাচন: চেয়ারম্যান পদে ২ ভাইয়ের লড়াই

সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামু (বাঁয়ে) এবারে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তার ছোট ভাই শেখ কামাল আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে করছেন। ছবি: নিউজবাংলা

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ সমর্থক কামরুজ্জামান কামু এবারে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তার ছোট ভাই শেখ কামাল আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনিত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দুই ভাই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন।

উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ সমর্থক কামরুজ্জামান কামু এবারে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তার ছোট ভাই শেখ কামাল আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনিত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

আপন দুই ভাইয়ের ভোটযুদ্ধ নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, দুই ভাইয়ের মধ্যে পারিবারিক বিবাদ চলছে। ফলে কেউই কাউকে ছাড় দেয়নি। একই পরিবার থেকে দুই ভাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বিপাকে পড়েছেন পরিবারের লোকজন, আত্মীয়-স্বজনসহ পাড়া প্রতিবেশীরা।

কামরুজ্জামান কামু জানান, ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। গতবারও তিনি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি মাত্র ৬৩ ভোটে পরাজিত হন।

তিনি বলেন, ‘আমি এলাকার মানুষের সুখে দুঃখে পাশে ছিলাম। দীর্ঘ দিন ধরে মাঠে কাজ করে যাচ্ছি। এলাকাবাসীর চাপে এবারও নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। এবারও আমিও জিতবো। ছোট ভাই প্রার্থী হবে বিষয়টি পরিবারের কারো সঙ্গে আলোচনা করেনি।’

অপরদিকে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনিত প্রার্থী শেখ কামাল বলেন, ‘দলীয়ভাবে আমাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। দলীয় প্রতীক পাবো ও নির্বাচনে প্রার্থী হবো এ বিষয়টি আমি তার (কামু) কর্মী সমর্থকদের জানিয়েছিলাম। কিন্তু তারপরও তিনি প্রার্থী হয়েছেন।’

আগামী ১১ নভেম্বর তেঁতুলিয়া উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন পরিষদে ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচন হবে।

তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আলী হোসেন জানান, এ ইউনিয়নে দুই ভাই ছাড়াও ৮ প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এখানে ভোটার রয়েছে ৯ হাজার ১২৬ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪ হাজার ৬০০; নারী ভোটার ৪ হাজার ৫২৬ জন।

আরও পড়ুন:
পেশাজীবীদের সঙ্গে দ্বিতীয় দিনের মতো বৈঠকে বিএনপি
সরকারের অধীনে নির্বাচনে ‘যাবে না’ ২০-দলীয় জোট
মা হারালেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সোহেল
ছাত্রদল নেতাকে না পেয়ে বাবা-চাচাকে থানায়
ফখরুলের জন্য কষ্ট হয়: হানিফ

শেয়ার করুন

ভীতি তৈরি করতেই সরকারের কৃত্রিম নৈরাজ্য: রিজভী

ভীতি তৈরি করতেই সরকারের কৃত্রিম নৈরাজ্য: রিজভী

শেরেবাংলা নগরে শহীদ জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে কবর জিয়ারত করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আজকে ভয়-ভীতি ও শঙ্কার যে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি, সেটি সরকার সৃষ্টি করেছে। এই নৈরাজ্য সৃষ্টি করে তারা সারা দেশের মানুষের মধ্যে এক ধরনের ভীতি সৃষ্টি করছে। সরকার কৃত্রিমভাবে কুমিল্লার ঘটনা ঘটিয়েছে।’

জনমানুষের মধ্যে এক ধরনের ভীতি তৈরি করতেই সরকার কৃত্রিমভাবে নৈরাজ্যের সৃষ্টি করেছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

সোমবার দুপুরে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শেরেবাংলা নগরের শহীদ জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জিয়ারত শেষে তিনি এ দাবি করেন।

তিনি বলেন, ‘আজকে ভয়-ভীতি ও শঙ্কার যে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি, সেটি সরকার সৃষ্টি করেছে। এই নৈরাজ্য সৃষ্টি করে তারা সারা দেশের মানুষের মধ্যে এক ধরনের ভীতি সৃষ্টি করছে। সরকার কৃত্রিমভাবে কুমিল্লার ঘটনা ঘটিয়েছে।’

রিজভী বলেন, ‘আজকে মানুষের নিরাপত্তা নেই। সংখ্যালঘুরা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে জীবন-যাপন করছে। অন্যদিকে পবিত্র কোরআন অবমাননা হচ্ছে। আপনারা কুমিল্লার পূজামণ্ডপের অবস্থা দেখেছেন। সরকার নাকি সমস্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে পারে। তাহলে এ ধরনের একটি ঘটনা কীভাবে ঘটল।

সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা বিভাগ বিএনপি নেতা-কর্মীদের পাতাল থেকে খুঁজে বের করে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠাচ্ছে। আর কুমিল্লা, হাজীগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এত বড় ঘটনা ঘটে গেল গোয়েন্দা সংস্থা কিছুই বলতে পারল না।’

সরকার তার নীলনকশা অনুযায়ী কাজ করছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। তিনি বলেন, করোনায় মানুষের সুচিকিৎসা দেয়ার ব্যর্থতা, নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থতা ও দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন যে ঊর্ধ্বগতি তা মোকাবিলা করতে না পেরে সরকার কৃত্রিমভাবে কুমিল্লার ঘটনা ঘটিয়েছে। যাতে মানুষের দৃষ্টি ওই দিকে যায়। মানুষ ওইটা নিয়েই পড়ে থাকে। সরকারের ব্যর্থতাগুলো যেন মানুষ আলোচনা করতে না পারে।

‘সরকারের মন্ত্রীরা একের পর এক আজেবাজে কথা বলে, মিথ্যাচার করে সমাজের মধ্যে বিভেদ-বিভাজন সৃষ্টি করছেন। কয়েক দিন আগে ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন বিএনপি আন্দোলন করতে পারে না, তাদের আন্দোলন করার ক্ষমতা নাই। আর রোববার হাছান মাহমুদ ও ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন, এই সমস্ত ঘটনার জন্য বিএনপি দায়ী।’

রিজভী আরও বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের সাহেব ও হাছান মাহমুদ সাহেব স্মৃতিভ্রমে পড়েছেন। দুদিন আগে কী বলেছেন, কী করেছেন তা তারা ভুলে গেছেন। অর্থাৎ গত পরশু দিন যেটা বলেছেন আজকে তার পুরোপুরি উল্টো কথা বলছেন।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষক তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। অথচ বিএনপি জন্মলগ্ন থেকেই জনগণের পক্ষে কাজ করেছে। তাই জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন গড়ে উঠেছে। জিয়াউর রহমানের যে আদর্শ সেই ১৯ দফাকে ধারণ করেই জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন তাদের মানবসেবামূলক কাজ করে যাচ্ছে।

‘জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাসে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে অসহায়দের কাছে ছুটে যায়। বন্যার সময় তারা ত্রাণ বিতরণ করে, শীতের সময় কম্বল বিতরণ করে। করোনার সময়ও ঢাকাসহ সারা দেশে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন খাদ্য বিতরণ করেছে, অক্সিজেন দিয়েছে। আমি তাদের মঙ্গল ও সাফল্য কামনা করি।’

আরও পড়ুন:
পেশাজীবীদের সঙ্গে দ্বিতীয় দিনের মতো বৈঠকে বিএনপি
সরকারের অধীনে নির্বাচনে ‘যাবে না’ ২০-দলীয় জোট
মা হারালেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সোহেল
ছাত্রদল নেতাকে না পেয়ে বাবা-চাচাকে থানায়
ফখরুলের জন্য কষ্ট হয়: হানিফ

শেয়ার করুন

ভাইরাল ভিডিও কারসাজির, আ.লীগকে জাহাঙ্গীরের ব্যাখ্যা

ভাইরাল ভিডিও কারসাজির, আ.লীগকে জাহাঙ্গীরের ব্যাখ্যা

ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর গাজীপুরের বোর্ডবাজারে মেয়র জাহাঙ্গীরের সমাবেশ। ফাইল ছবি

২২ সেপ্টেম্বর ৪ মিনিটের ও ২৫ সেপ্টেম্বর ৫০ মিনিটের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এতে দেখা যায়, ঘরোয়া আলোচনায় মেয়র তার ঘনিষ্ঠ কারও সঙ্গে কথা বলছেন। ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, মেয়র মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন, বঙ্গবন্ধুর দেশ স্বাধীন করার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। পরে ৩ অক্টোবর জাহাঙ্গীরের ব্যাখ্যা চায় আওয়ামী লীগ।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি এবং শহীদদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অভিযোগে আওয়ামী লীগের করা নোটিশের জবাব দিয়েছেন গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। এতে তিনি দাবি করেছেন, যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে সেটি কারসাজি করা।

সেপ্টেম্বরের শেষে প্রথমে চার মিনিটের ও পরে ৫০ মিনিটের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়।

২২ সেপ্টেম্বর ৪ মিনিটের ভিডিওটি ভাইরাল হলে জাহাঙ্গীরের শাস্তির দাবিতে রাজপথে নামে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাই। সে সময় মেয়র ছিলেন দেশের বাইরে। পরদিন তিনি দেশে ফিরে এই ভিডিওকে বানোয়াট দাবি করেন। যারা ভিডিও ছড়িয়েছেন, তাদেরকে সেটি সরিয়ে নেয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, নইলে তিনি মামলা করবেন।

তবে ২৪ সেপ্টেম্বর নিজের অনুসারীদেরকে নিয়ে বোর্ডবাজারে সমাবেশ করলেও মেয়র পরে কোনো মামলা করেননি।

এ নিয়ে গাজীপুরের রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠার পর ৩ অক্টোবর জাহাঙ্গীরের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করে চিঠি দেয় আওয়ামী লীগ। এতে তাকে ১৫ দিন সময় দেয়া হয়।

বেঁধে দেয়া সময়সীমার আগেই মেয়র জাহাঙ্গীর তার দলের নোটিশের জবাব দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন নিউজবাংলাকে।

তিনি বলেন, ‘শোকজের জবাব অনেক আগেই দিয়ে দিয়েছি।’

ভাইরাল ভিডিও কারসাজির, আ.লীগকে জাহাঙ্গীরের ব্যাখ্যা
ভিডিও ভাইরালের পর গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের একাংশের মিছিল। ফাইল ছবি

কবে এবং কার নিকট শোকজের জবাব দিয়েছেন এমন প্রশ্নে মেয়র বলেন, ‘এটা তো একেবারে আমাদের প্রধানের (শেখ হাসিনা) কাছে পাঠানো হয়েছে। আমাদের (দলের) সভাপতির নিকট দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।’

নোটিশের জবাবে কী বলেছেন- এই প্রশ্নে জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমি বলেছি এটা মিথ্যা, বানোয়াট। আমাকে ফাঁসানোর জন্য, ছোট করার জন্য এটা করা হয়েছে।’

শেখ হাসিনার ওপর আস্থা রেখেই অপেক্ষা করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার যিনি প্রধান, আমার গার্জিয়ান (অভিভাবক), উনি যেটা ভালো মনে করেন সেটাই হবে।’

শোকজের জবাবের পর ক্ষমতাসীন দল মেয়র জাহাঙ্গীরের ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেয় তা নিয়ে গাজীপুরে চলছে নানা আলোচনা।

দলের একটি অংশ প্রকাশিত রেকর্ডের বক্তব্যের জেরে মেয়রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও বহিষ্কার চায়। তবে মেয়রের অনুসারীরা বলছেন, গত তিন বছরে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে মেয়রের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল সুপার এডিট করা বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়েছে।

ভাইরাল দুই ভিডিওতে বেকায়দায় জাহাঙ্গীর

২২ সেপ্টেম্বর ৪ মিনিটের ও ২৫ সেপ্টেম্বর ৫০ মিনিটের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

এতে দেখা যায়, ঘরোয়া আলোচনায় মেয়র তার ঘনিষ্ঠ কারও সঙ্গে কথা বলছেন। সেখানেই আপত্তিকর নানা কথা উঠে আসে।

ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, মেয়র মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন, বঙ্গবন্ধুর দেশ স্বাধীন করার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ ছাড়াও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, হেফাজতের প্রয়াত নেতা জুনায়েদ বাবুনগরীর সঙ্গে তার সখ্য ও রাষ্ট্রীয় দুটি সংস্থা নিয়ে নানা আপত্তিকর মন্তব্য করছেন মেয়র জাহাঙ্গীর।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ফেসবুকে মেয়রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি তোলে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে।

আরও পড়ুন:
পেশাজীবীদের সঙ্গে দ্বিতীয় দিনের মতো বৈঠকে বিএনপি
সরকারের অধীনে নির্বাচনে ‘যাবে না’ ২০-দলীয় জোট
মা হারালেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সোহেল
ছাত্রদল নেতাকে না পেয়ে বাবা-চাচাকে থানায়
ফখরুলের জন্য কষ্ট হয়: হানিফ

শেয়ার করুন