চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন আফসার: প্রধানমন্ত্রী

চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন আফসার: প্রধানমন্ত্রী

নাট্যকার ও শিক্ষক আফসার আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

নাট্যকার ড. আফসার আহমদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী।

বাংলা নাটকে অনন্য অবদানের জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এবং নাট্যকার ড. আফসার আহমদ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রখ্যাত এ নাট্যকারের মৃত্যুতে রোববার এক শোকবার্তায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনাও জানান তিনি।

অধ্যাপক আফসার আহমদ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শনিবার দুপুরে মারা যান।

সাবেক শিক্ষার্থী কমলেশ রায়ের বিয়ে উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাতে খুলনায় গিয়েছিলেন আফসার আহমদ। শুক্রবার কমলেশের বিয়ের আশীর্বাদে অংশ নেন তিনি।

আফসার আহমদের সাবেক শিক্ষার্থী মাসুদ নিক্সন নিউজবাংলাকে জানান, শনিবার সকালে খুলনা থেকে যশোর গিয়ে সাড়ে ১০টার ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন অধ্যাপক। বিমানেই তার হার্ট অ্যাটাক হয়। ঢাকায় পৌঁছার পর তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হয়।

রোববার সকালে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার জামশা গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় এ নাট্যকারকে।

দাফনের আগে উত্তর জামশা কেন্দ্রীয় আদর্শ ঈদগাহ মাঠে তার দ্বিতীয় জানাজা হয়।

আফসার আহমদের বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার উত্তর জামশা গ্রামে ১৯৫৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর জন্ম তার।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন আফসার।

এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘মধ্যযুগের বাংলা আখ্যান কাব্যের আলোকে বাংলাদেশের নৃগোষ্ঠী নাট্য’ শীর্ষক অভিসন্দর্ভের জন্য তাকে পিএইচডি ডিগ্রি দেয়া হয়।

আফসার আহমদের শিক্ষকতার শুরু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে। পরবর্তী সময়ে রবীন্দ্র-উত্তরকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাট্যকার ড. সেলিম আল দীনের সঙ্গে ১৯৮৬-৮৭ শিক্ষাবর্ষে বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন।

প্রতিষ্ঠাকাল থেকে তিনি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে শিক্ষকতায় ছিলেন। তিনি বিভাগের সভাপতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন, প্রক্টর, সিনেট-সিন্ডিকেটের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ড. আফসার একাধারে কবি, নাট্যকার, অনুবাদক, গবেষক ও সাহিত্য সমালোচক ছিলেন।

আরও পড়ুন:
আফসার আহমদের মৃত্যুতে সন্তানের স্বীকৃতি নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বর্ণপ্রভা
চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন আফসার: প্রধানমন্ত্রী
বাবা-দাদার পাশে চিরনিদ্রায় আফসার আহমদ
নাট্যকার অধ্যাপক আফসার আহমদের প্রয়াণ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ইংরেজিতে প্রকাশ পেল বঙ্গবন্ধুর ভাষণ

ইংরেজিতে প্রকাশ পেল বঙ্গবন্ধুর ভাষণ

‘ফাদার অফ দ্য ন্যাশন: সিলেক্টেড স্পিচেস অফ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ বইটি পাওয়া যাচ্ছে বিশ্বের নামকরা অনলাইন বুকস্টোরগুলোতে। ছবি: সংগৃহীত

সংকলনটিতে থাকছে বঙ্গবন্ধুর ২৫টি ভাষণ। এতে স্থান পেয়েছে ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের সংসদে ইংরেজি ভাষায় তার দুটি ভাষণ। বঙ্গবন্ধুর বাকি ২৩টি ভাষণ ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী কবি, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক ও অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন।

প্রথমবারের মতো ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত হলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্বাচিত ভাষণ সংকলন। এটির নাম দেয়া হয়েছে ‘ফাদার অফ দ্য ন্যাশন: সিলেক্টেড স্পিচেস অফ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’।

অস্ট্রেলিয়া থেকে বইটি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশনা সংস্থা হে পাবলিশিং হাউসের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বালবোয়া প্রেস।

অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগ বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ।

সংকলনটিতে থাকছে বঙ্গবন্ধুর ২৫টি ভাষণ। এতে স্থান পেয়েছে ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের সংসদে ইংরেজি ভাষায় তার দুটি ভাষণ।

বঙ্গবন্ধুর বাকি ২৩টি ভাষণ ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী কবি, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক ও অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন।

বইয়ের শুরুতে জাতির পিতার একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী রাখা হয়েছে। এটির মুখবন্ধ লিখেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বইটি উৎসর্গ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে।

বইটির প্রচ্ছদ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার এনজি অ্যালিয়া। আর ইংরেজি ভাষার সম্পাদনা করেছেন নিউজিল্যান্ডের পল মেহু।

বালবোয়া প্রেস, অ্যামাজন, বুকটোপিয়াসহ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অনলাইন বুকস্টোরগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে বইটি। বইটির ই-বুক, পেপারব্যাক ও হার্ডকাভারসহ তিনটি সংস্করণে পাচ্ছেন পাঠকেরা।

শিগগিরই বাংলাদেশেও বইটি পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্বেষা প্রকাশনের মাধ্যমে বইটি দেশের বাজারে পরিবেশন করা হবে।

কুরিয়ার চার্জসহ দেশে বইটির পেপারব্যাক সংস্করণের দাম পড়বে ২ হাজার ২০০ টাকা এবং হার্ডকাভার কিনলে দাম আসবে ৪ হাজার টাকা।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ৬ নভেম্বর বইটির প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। প্রকাশনা উৎসবে প্রধান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের ভার্চুয়ালি যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার মূলধারার বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদ, লেখক ও বাঙালি কমিউনিটি নেতারাও উপস্থিত থাকবেন বলেও আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
আফসার আহমদের মৃত্যুতে সন্তানের স্বীকৃতি নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বর্ণপ্রভা
চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন আফসার: প্রধানমন্ত্রী
বাবা-দাদার পাশে চিরনিদ্রায় আফসার আহমদ
নাট্যকার অধ্যাপক আফসার আহমদের প্রয়াণ

শেয়ার করুন

মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা সংবিধানে যুক্ত করতে রিট

মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা সংবিধানে যুক্ত করতে রিট

ছবি: সংগৃহীত

রিটকারীদের পক্ষে আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে দেশ স্বাধীন হয়েছে, দেশ স্বাধীনের পরে যে সংবিধান হয়েছে, তার কোথাও না কোথাও তো এটি উল্লেখ থাকবে। অথচ সংবিধানের কোথাও মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে কিছু উল্লেখ নেই।’

মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধার বিষয়টি বাংলাদেশের সংবিধানে যুক্ত করার নির্দেশনা চেয়ে রিট করা হয়েছে।

ছয় জন বীর মুক্তিযোদ্ধার করা গত মঙ্গলবারের রিটটি শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে উপস্থাপন করা হবে।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করে রিটকারীদের পক্ষের আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ‘রিটে সংবিধানের সঙ্গতিপূর্ণ স্থানে মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়টি যুক্ত করার কেন নির্দেশ দেয়া হবে না সে মর্মে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে।’

রিটে বিবাদী করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও আইন সচিবকে।

হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে দেশ স্বাধীন হয়েছে, দেশ স্বাধীনের পরে যে সংবিধান হয়েছে, তার কোথাও না কোথাও তো এটি উল্লেখ থাকবে। অথচ সংবিধানের কোথাও মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে কিছু উল্লেখ নেই।’

তার মতে, বিষয়টি নিয়ে সুস্পষ্টভাবে সংবিধানে উল্লেখ না থাকায় ইতিহাস বিকৃতির সম্ভাবনা থাকে।

তিনি বলেন, ‘যাদের জীবনের ও ত্যাগের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হয়েছে সংবিধানে তাদের স্বীকৃতি কেন থাকবে না। দেশটি যে একটি যুদ্ধের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে সেটি সংবিধানে উল্লেখ থাকুক। সে কারণে আমরা রিটটি দায়ের করেছি।’

আরও পড়ুন:
আফসার আহমদের মৃত্যুতে সন্তানের স্বীকৃতি নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বর্ণপ্রভা
চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন আফসার: প্রধানমন্ত্রী
বাবা-দাদার পাশে চিরনিদ্রায় আফসার আহমদ
নাট্যকার অধ্যাপক আফসার আহমদের প্রয়াণ

শেয়ার করুন

কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর উদযাপন করবে ঢাকা-ব্রাসেলস

কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর উদযাপন করবে ঢাকা-ব্রাসেলস

বেলজিয়ামের পররাষ্ট্র সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি মিসেস থিওডোরা জেনজিসের সঙ্গে বৈঠক করেন দেশটিতে সফররত পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। ছবি: নিউজবাংলা

এ বিষয়ে বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রসচিব ও বেলজিয়ামের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি মিসেস থিওডোরা জেনজিসের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে দেশটিতে সফরে থাকা পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেনের।

বাংলাদেশ ও বেলজিয়াম কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। সম্পর্কের এই মাইলফলক উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা ও ব্রাসেলস।

এ উপলক্ষে ২০২২ সালে দেশ দুটির মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময় এবং সাংস্কৃতিক ও ব্যাবসায়িক অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রসচিব ও বেলজিয়ামের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি মিসেস থিওডোরা জেনজিসের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে দেশটিতে সফরে থাকা পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেনের।

বৃহস্পতিবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ব্রাসেলস দূতাবাস থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বেলজিয়ামের ফেডারেল পাবলিক সার্ভিস ফরেন অ্যাফেয়ার্স, ফরেন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন অফ বেলজিয়ামের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় পরামর্শ প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

এ উপলক্ষে আয়োজিত বৈঠকে দুই পক্ষ করোনা পরিস্থিতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বাংলাদেশে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ এবং শিক্ষা, চিকিৎসা গবেষণা ও সংস্কৃতি ইত্যাদি ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। কোভিড-১৯-এর রেড জোন তালিকা থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেয়ারও অনুরোধ জানান পররাষ্ট্রসচিব।

দুই পররাষ্ট্রসচিব বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাতে বিশেষ করে আইসিটি, ফার্মাসিউটিক্যালস, চিকিৎসা গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হন।

বাংলাদেশও বেলজিয়ামের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ মিশন গ্রহণের জন্য তার প্রস্তুতির কথা জানায়। জবাবে বেলজিয়ামপক্ষ আরও ব্যাবসায়িক প্রতিনিধিদল বিনিময় করতে তাদের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে বেলজিয়ামের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট কোনো জাতীয় ইস্যু নয়, এটি একটি আঞ্চলিক সমস্যা এবং বেলজিয়াম রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে সহায়তা অব্যাহত রাখবে।’

পররাষ্ট্রসচিব চতুর্থ বাংলাদেশ-ইইউ কূটনৈতিক পরামর্শে দুই দিনের সফরে বেলজিয়ামে রয়েছেন।

আরও পড়ুন:
আফসার আহমদের মৃত্যুতে সন্তানের স্বীকৃতি নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বর্ণপ্রভা
চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন আফসার: প্রধানমন্ত্রী
বাবা-দাদার পাশে চিরনিদ্রায় আফসার আহমদ
নাট্যকার অধ্যাপক আফসার আহমদের প্রয়াণ

শেয়ার করুন

আসলামুলের ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণের কী হবে

আসলামুলের ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণের কী হবে

প্রয়াত সংসদ সদস্য আসলামুল হক রাজনীতির পাশাপাশি করতেন ব্যবসাও। তার মালিকানাধীন মায়শা গ্রুপের কাছে বিভিন্ন ব্যাংকের পাওনা কয়েক হাজার কোটি টাকা। ফাইল ছবি

ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আসলামুল হক মারা যান গত ৪ এপ্রিল। তিনি রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসাও করতেন। আবাসন ব্যবসায় তার বড় বিনিয়োগ ছিল। পাশাপাশি দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন পেয়েছিলেন। আসলাম ব্যবসার মূলধন জোগাড় করেছেন প্রধানত ব্যাংক থেকে। আর এই মুহূর্তে ব্যাংকের দায় ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। অনাদায়ী সুদযুক্ত হয়ে দিন দিন বাড়ছে এই অঙ্ক।

প্রয়াত সংসদ সদস্য আসলামুল হকের মৃত্যুর পর তার গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠান মাইশা গ্রুপের বিপুল পরিমাণ ব্যাংক ঋণ নিয়ে তৈরি হয়েছে দুশ্চিন্তা।

আসলামুলের মৃত্যুতে তার ব্যবসার হাল ধরেছেন স্ত্রী মাকসুদা হক। তবে তিনি সব টাকা দিতে পারবেন না বলে বিভিন্ন ব্যাংককে জানিয়েছেন। কোনো ব্যাংককে সুদ, কোনো ব্যাংককে আসলের অংশ মওকুফ করার অনুরোধ করেছেন।

মাইশা গ্রুপের ঋণ ছিল পাঁচটি ব্যাংকে। এর মধ্যে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকাই আছে ন্যাশনাল ব্যাংকে। এরই মধ্যে এই ঋণের একটি অংশ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বাকিগুলোও খেলাপি ঘোষণার পর্যায়ে আছে।

আসলাম পত্নীর আবেদনের পর অন্তত তিনটি ব্যাংক তাদের পর্ষদ বৈঠকে বিষয়টি তুলেছিল, কিন্তু সেই আবেদন নাকচ করে দেয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে, আসল বা সুদ-কোনোটা মওকুফের সুযোগ নেই।

ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আসলামুল হক মারা যান গত ৪ এপ্রিল। তিনি রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসাও করতেন। আবাসন ব্যবসায় তার বড় বিনিয়োগ ছিল। পাশাপাশি দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন পেয়েছিলেন।

আসলাম ব্যবসার মূলধন জোগাড় করেছেন প্রধানত ব্যাংক থেকে। আর এই মুহূর্তে ব্যাংকের দায় ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। অনাদায়ী সুদ যুক্ত হয়ে দিন দিন বাড়ছে এই অঙ্ক।

আসলামের মৃত্যুর পরই এই ব্যাংক ঋণের কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সেই অনিশ্চয়তা আরও বড় হয়েছে এ কারণে যে গত ছয় মাসেও ব্যাংককে টাকা ফেরত দেয়া যায়নি। উল্টো সুদ দিতে অপারগতা জানিয়ে অন্তত পাঁচটি ব্যাংকের কাছে চিঠি দিয়েছেন আসলাম পত্নী। আসল পরিশোধেরও চেয়েছেন দীর্ঘ সময়।

তবে এমন প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে মার্কেন্টাইল, জনতা ও অগ্রণী ব্যাংক। আর প্রস্তাব পর্যালোচনা করে মাইশার সঙ্গে যোগাযোগ চালু রেখেছে ন্যাশনাল ব্যাংক।

অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শামস-উল-ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঋণের সুদ মওকুফের কোনো সুযোগ নেই। এটা আমরা তাদের জানিয়ে দিয়েছি। তাদের সঙ্গে আমাদের বৈঠকও হয়েছে। ঋণের বিপরীতে জামানত হিসেবে ন্যাশনাল ব্যাংকের ‍দুটি গ্যারান্টি ছিল। ৩০ ও ৩৫ কোটি টাকার ওই দুটি ব্যাংক গ্যারান্টি নগদায়ন করার জন্য আমরা ন্যাশনাল ব্যাংককে চিঠি দিয়েছি। তারা দেবে বলেছে। ব্যাংক গ্যারান্টির অর্থ সমন্বয় করা না হলে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অভিযোগ জানাব।’

মাইশা গ্রুপের যত ঋণ

বাংলাদেশ ব্যাংক ও ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রয়াত আসলামুল হকের মালিকানাধীন ঢাকার পার্শ্ববর্তী কেরানীগঞ্জে অনুমোদন পাওয়া রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সিএলসি পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের নামে ঋণ রয়েছে ১ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা। তার মালিকানাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মধ্যে এটিই শুধু উৎপাদনে আসতে পেরেছিল।

ঢাকা নর্থ পাওয়ার ইউটিলিটি কোম্পানি লিমিটেডের নামে ৩৭৮ কোটি টাকা ও ঢাকা ওয়েস্ট পাওয়ার লিমিটেডের নামে ৭৯ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে।

রিয়েল এস্টেট কোম্পানি মাইশা প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের নামে ঋণ রয়েছে ৬৫৬ কোটি টাকা।

একই গ্রুপের কোম্পানি মাহিম রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের নামে ৩৮০ কোটি ও মাহিম ট্রেড লিংক লিমিটেডের নামে ১১ কোটি টাকা ঋণ রয়েছে।

সব মিলিয়ে গ্রুপটির কাছে দেশের ব্যাংক খাতের পাওনা প্রায় ৩ হাজার ৭৪ কোটি টাকা।

আসলামুলের ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণের কী হবে
রাজধানীর ধানমন্ডিতে মায়শা গ্রুপের করপোরেট অফিস

মাকসুদা হকের আবেদন

মাইশা গ্রুপের ছয় কোম্পানিকে ঋণ দেয়া ব্যাংকগুলোর ঋণের বিষয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন ব্যাংককে চিঠি দিয়েছেন আসলামুল হকের স্ত্রী মাকসুদা হক।

বেসরকারি ন্যাশনাল, মার্কেন্টাইল ও এক্সিম এবং রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ও জনতা ব্যাংককে দেয়া চিঠিতে ঋণের সুদ পরিশোধে অপারগতা প্রকাশ করেছেন তিনি। চিঠির অনুলিপি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে মাকসুদা হক বলছেন, ব্যাংক ঋণের কোনো সুদ তিনি পরিশোধ করতে পারবেন না। শুধু আসলের সমপরিমাণ অপরিশোধিত অর্থ তিনি পরিশোধ করবেন। সে জন্যও তার দীর্ঘ সময় দরকার।

মাকসুদা হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা সুদ মওকুফের আবেদন করেছি। কিন্তু এখনও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আমরা জানি না।’

ন্যাশনাল ব্যাংকের কমিটি

মাইশা গ্রুপের কাছে সবচেয়ে বেশি পাবে বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ব্যাংক বা এনবিএল। গ্রুপের চার কোম্পানির কাছে তাদের পাওনা ২ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা।

অর্থাৎ মাইশার মোট ঋণের প্রায় ৮৫ শতাংশই ন্যাশনাল ব্যাংকের।

সম্প্রতি দুই কোম্পানির কাছে পাওনা ৯০১ কোটি টাকা খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করেছে ব্যাংক। ব্যাংকটির জেড এইচ সিকদার মেডিক্যাল কলেজ শাখার গ্রাহক মাইশা প্রপার্টির ৬৬৩ কোটি টাকা এবং মাইশা রিয়েল এস্টেটের ২৩৮ কোটি টাকার ঋণ সম্প্রতি খেলাপি করা হয়েছে।

সিএলসি পাওয়ার কোম্পানি ও ঢাকা ওয়েস্ট পাওয়ার কোম্পানির এক হাজার ৬৮৮ কোটি টাকার ঋণও খেলাপি করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

ব্যাংকটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘মাইশা গ্রুপের সঙ্গে ব্যাংক নিয়মিতভাবে যোগাযোগ রাখছে। ঋণ আদায় কীভাবে হবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে। আমরা চাচ্ছি প্রয়াত আসলামুল হকের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো উৎপাদনে আসুক। বিদ্যুৎকেন্দ্র চললে আমরা ব্যাংকের টাকা ফেরত পাব।’

ছাড় দিতে চায় না কোনো ব্যাংক

মাইশা প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের কাছে ৩১ কোটি ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের গাড়ি ঋণ বাবদ ৩ কোটি টাকা পাবে মার্কেন্টাইল ব্যাংক। ব্যাংকটির পাওনা ৩৪ কোটি টাকার বিপরীতে মাত্র ৪ কোটি টাকা পরিশোধের প্রস্তাব দিয়েছে মাইশা গ্রুপ।

বিষয়টি পরিচালনা পর্ষদে তুলেছিল মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। পরিচালনা পর্ষদও এরই মধ্যে আবেদনটি নাকচ করে দিয়েছে।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কামরুল ইসলাম চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মাইশা গ্রুপের আবেদনটি মার্কেন্টাইল ব্যাংক পর্ষদ এরই মধ্যে নাকচ করে দিয়েছে।’

দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের নামে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পাওনা ৪৬০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ঢাকা নর্থ পাওয়ার ইউটিলিটিতে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক পাবে ৩৮০ কোটি টাকা। আর রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) থেকে ঢাকা ওয়েস্ট পাওয়ার লিমিটেডে গেছে ৮০ কোটি টাকা।

এই কেন্দ্র দুটি আদৌ উৎপাদনে আসতে পারবে কি না- এ নিয়ে আছে সংশয়। কেন্দ্র দুটি বাতিলের আলোচনাও আছে।

এই দুই বিদ্যুৎকেন্দ্রের নামে নেয়া ঋণের সুদ মওকুফের আবেদন আছে আসলামপত্নীর চিঠিতে।

তবে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শামস-উল-ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মাইশা গ্রুপের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো উৎপাদনে আনার উদ্যোগ নেয়াই ছিল উত্তম বিকল্প। অন্য কোনো কোম্পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো টেকওভার করতে চাইলে আমরা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।’

জনতা ব্যাংকও সুদ মওকুফে নারাজ। ঢাকা নর্থ পাওয়ার ইউটিলিটি কোম্পানির যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত এই ব্যাংকে ঋণপত্র খোলা হয়েছিল। ঋণপত্রের অর্থ জার্মানির একটি কোম্পানিকে পরিশোধও করেছিল ব্যাংকটি।

এই ঋণের সুদ মওকুফে মাইশা গ্রুপের আবেদনটি জনতা ব্যাংকের পর্ষদে উপস্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু পর্ষদ সেটি নাকচ করে দেয়।

আরও পড়ুন:
আফসার আহমদের মৃত্যুতে সন্তানের স্বীকৃতি নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বর্ণপ্রভা
চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন আফসার: প্রধানমন্ত্রী
বাবা-দাদার পাশে চিরনিদ্রায় আফসার আহমদ
নাট্যকার অধ্যাপক আফসার আহমদের প্রয়াণ

শেয়ার করুন

জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, লাগামহীন দাম বাড়ছে

জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, লাগামহীন দাম বাড়ছে

প্রতীকী ছবি

বিশ্ববাজারে গত এক বছরে এলএনজি, গ্যাসোলিন, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দর বেড়েছে প্রায় ১০০ ভাগ। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কয়লার দর। কেবল জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় এরই মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রতিদিন প্রায় ২১ কোটি টাকা।

গত ছয় মাস ধরে অস্থির বিশ্ব জ্বালানি বাজার। প্রায় প্রতি মাসে আমদানিনির্ভর এই পণ্যের দর বাড়ছে। এই অবস্থায় চাপে পড়েছে জ্বালানি বিভাগ। এমনিতেই বেশি দরে পণ্য এনে কম দামে বিক্রি করে লোকসানে ছিল সরকার। তার ওপর এই অতিরিক্ত লোকসান দুশ্চিন্তায় ফেলেছে সরকারকে। জ্বালানি বিভাগে আলোচনা চলছে, জ্বালানি পণ্যের দর বাড়ানোর।

বিশ্ববাজারে গত এক বছরে লিকুইড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি), গ্যাসোলিন, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দর বেড়েছে প্রায় ১০০ ভাগ। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কয়লার দর।

কেবল জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় এরই মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রতিদিন প্রায় ২১ কোটি টাকা। করোনা কমায় জ্বালানির বৈশ্বিক চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় সংকট তৈরি হয়েছে এই অবস্থা। তবে এখনই দাম সমন্বয়ের পক্ষে নয় পেট্রোলিয়াম করপোরেশন।

অন্যদিকে বাড়তি দামের কারণে তেল ও আমদানীকৃত কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ভর্তুকির চাপ বাড়ছে পিডিবির ওপর।

জ্বালানি বিভাগ জানায়, করোনার ধাক্কা কাটিয়ে চাঙ্গা হতে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতি। যার অন্যতম ইঙ্গিত জ্বালানি পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি। উৎপাদন, সমুদ্র পরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধি, ভূ-রাজনীতিসহ নানা কারণে বাড়তে শুরু করেছে দাম।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি পণ্যের দর বাড়ার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী করা হচ্ছে বড় অর্থনীতির দেশগুলোর মজুত করার মানসিকতাকে। এ ব্যাপারে অভিযোগের আঙুল মূলত চীন ও অস্ট্রেলিয়ার দিকে।

সূত্র জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুর দিকে ব্যারেলপ্রতি অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দর ছিল ৪৯ ডলার। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি তা বেড়ে হয়ে যায় ৬১ ডলার। চার মাস পর জুনের মাঝামাঝি আরও বেড়ে ৭১ ডলারে গিয়ে দাঁড়ায়। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি হয় ৭৫ ডলার। এরপর ধীরে ধীরে বেড়ে এখন তা ৮০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।

বাংলাদেশে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের ৬৫ শতাংশই ডিজেল, যা সবশেষ বিপিসি কিনেছে পরিশোধিত আকারে প্রতি ব্যারেল সাড়ে ৯৭ ডলারে। সে হিসাবে এক লিটারের পেছনে সব মিলিয়ে ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৭৮ টাকারও বেশি। কিন্তু বিপিসি তা বিক্রি করছে ৬৫ টাকায়। ফলে লোকসান দিতে হচ্ছে লিটারে ১৩ টাকা। সে হিসাবে প্রতিদিন দেশের সাড়ে ১২০০ টন ডিজেল বিক্রি করেই বিপিসির লোকসান হচ্ছে ১৯ কোটি টাকা।

তবে আপাতত দর বাড়াতে চায় না বিপিসি। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জুলাই থেকে ডিসেম্বরের যে ফেইজ, তাতে আমরা ডিজেল সরবরাহকারী বিদেশি সংস্থার সঙ্গে যে মূল্য নির্ধারণ করেছিলাম, সেই মূল্যেই এখনও আমরা তা পাচ্ছি। যে কারণে জনগণের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে এমন কোনো সিদ্ধান্তের দিকে আমাদের এখনই যাওয়ার মতো অবস্থা নেই। তবে বর্তমান বাজারমূল্যকে কতটুকু বিবেচনায় নেয়া হবে, সেটা সরকারের পলিসির ওপর নির্ভর করে।’

জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। পিডিবির হিসাবে, বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো কেবল জুলাই মাসেই ব্যবহার করেছে ২ লাখ ৪৫ হাজার টন ফার্নেস অয়েল। আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৯০ হাজার টনে। ফলে বাড়তি চাহিদার এই জ্বালানি আমদানি করতে গিয়ে চড়া দামের জালে আটকা পড়ে বিপিসি। অন্যদিকে মাসের ব্যবধানে বিদ্যুৎকেন্দ্রে ডিজেলের চাহিদাও বেড়ে গেছে তিন গুণের মতো। বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলে বিপিসির লোকসান ৮ টাকা করে মোট ১ কোটি টাকারও বেশি।

তবে বিপিসি চেয়ারম্যান জানান, ‘ফার্নেস অয়েলের দর বাড়লেও সুবিধা হচ্ছে, আমরা এর মূল্য সমন্বয় করছি। যে কারণে এ তেল আনতে খরচ পড়লেও সেই অর্থে আমরা চাপে নেই।’

অন্যদিকে পিডিবির চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের যেহেতু সারা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে, সুতরাং জ্বালানি তেলের কোনো প্রভাব বা জ্বালানি তেলের দামের কোনো প্রভাব নিয়ে আমাদের চিন্তা করার সুযোগ নেই। ভবিষ্যতে যদি এটা এমন একটা অবস্থায় চলে যায়, সে ক্ষেত্রে হয়তো সরকার ভাবলেও ভাবতে পারে।’

মাসে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা আর মূল্যবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে বছরে ৭ হাজার ২০০ কোটি টাকার মতো লোকসান হতে পারে বলে ধারণা বিপিসির।

অস্থির বিশ্ব জ্বালানি বাজার

এক বছরের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে দ্বিগুণের ওপরে। বিশ্বখ্যাত অর্থনৈতিক ওয়েবসাইট ‘ট্রেডিং ইকোনমিক্স’ এর হিসাব অনুযায়ী গত (২০ অক্টোবর) শুক্রবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বা ক্রুড অয়েলের দর ছিল ব্যারেলপ্রতি ৮৩ দশমিক ৭৬ ডলার, যা বৃহস্পতিবার থেকে ১ দশমিক ২৬ ডলার বা ১ দশমিক ৫৩ ভাগ বেশি। সাপ্তাহিক হিসেবে যা ১ দশমিক ৮০ ভাগ, আবার গত মাসের একই সময়ের তুলনায় ১৪ দশমিক ২৭ ভাগ এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭২ দশমিক ৬৩ ভাগ বেশি।

অন্যদিকে বিশ্ববাজারে বর্তমানে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম। শুক্রবার প্রতি ইউনিট বা প্রতি ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট এলএনজির দাম ছিল ৫ দশমিক ৩০ ডলার, আগের দিনের চেয়ে যা প্রায় ২০ সেন্ট বা ৩ দশমিক ৭৭ ভাগ্য বেশি, যদিও আগের সপ্তাহের তুলনায় তা প্রায় ২ ভাগ কম। অন্যদিকে সেপ্টেম্বরের তুলনায় তা ৬ দশমিক ৫৭ ভাগ ও গত বছরের একই সময়ের থেকে ১০৯ ভাগ বেশি।

বিশ্বে এখনও বিদ্যুৎ উৎপাদনে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় খনিজ কয়লা। এই কয়লার দর এখন সবচেয়ে বেশি ঊর্ধ্বমুখী। গত এক বছরে পণ্যটির দর বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। শুক্রবার প্রতিটন কয়লা বিশ্ববাজারে বিক্রি হয়েছে ২৩০ ডলারে, যা আগের দিন থেকে দেড় ডলার বা দশমিক ৬৬ ভাগ বেশি, যদিও তা গত সপ্তাহের তুলনায় ৪ দশমিক ১৭ ভাগ কম আবার গত মাসের তুলনায় ২৩ দশমিক ৭২ ভাগ এবং গত বছরের থেকে ১৮৫ দশমিক ৭১ ভাগ বেশি।

তিন কারণে অস্থির বিশ্ববাজার

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘একদিকে জোগানের সংকট, অন্যদিকে চাহিদা বৃদ্ধি– এ দুটি মিলেই এখন স্পট মার্কেটগুলোতে মূল্যের বৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি।’

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ওপেক দেশগুলোর জ্বালানি তেল উৎপাদন হ্রাস, মেক্সিকো উপসাগরে হারিকেনের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাঘাত এবং বিশ্বব্যাপী চাহিদা বাড়ায় জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা চলছে। আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরে শীতকালে তাপমাত্রা কমতে শুরু করলে তেলের চাহিদা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে তেলের চাহিদা বাড়ার আরেকটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি তেল আমদানিকারক দেশ চীন সরকারের নীতিগত অবস্থান। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ থেকে তেলভিত্তিক বিদ্যুতের দিকে ঝুঁকছে চীন। এই কারণে চীনে তেলের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। এতে তেলের বাজার আরও চড়ছে। বিশ্ববাজারে রেকর্ড দামে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি তেল।

অন্যদিকে বহু বছর পর অস্ট্রেলিয়া-চীনে জ্বালানি পণ্য রপ্তানির ওপর থেকে তাদের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। ফলে সাধারণ অস্ট্রেলিয়ানদের মধ্যেও জ্বালানি মজুতের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।

দেশে কি দর বাড়বে?

চলতি অর্থবছরের বাজেটে সারা বছরের জন্য দেশের জ্বালানি খাতে ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ রয়েছে ১ হাজার কোটি টাকা। অথচ গত ছয় মাসে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কিনতে গিয়ে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছে সরকার। এমন পরিস্থিতিতে দেশের বাজারে গ্যাসের দাম বাড়তে পারে। আর গ্যাসের দাম বাড়লে বিদ্যুতের দামও বাড়বে।

জ্বালানি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, জ্বালানিতে লোকসান যা হয়েছে, তার সিংহ ভাগই এলএনজি কিনতে গিয়ে। এখন তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এই লোকসানের পরিমাণ বাড়বে।

বাড়তি দামে এলএনজি কেনায় সরকারের কত টাকা লোকসান হচ্ছে তার হিসাব করছে সরকারের গ্যাস সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো।

তিতাস গ্যাস, কর্ণফুলী ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড, বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড এবং সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড কোম্পানি তাদের আর্থিক বিশ্লেষণের কাজ শেষে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দেবে মূল্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি)।

একই সঙ্গে পাইকারি গ্যাস সরবরাহকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান ও গ্যাসের সঞ্চালন বা হুইলিং সংস্থা গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডও (জিটিসিএল) দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেবে।

আরও পড়ুন:
আফসার আহমদের মৃত্যুতে সন্তানের স্বীকৃতি নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বর্ণপ্রভা
চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন আফসার: প্রধানমন্ত্রী
বাবা-দাদার পাশে চিরনিদ্রায় আফসার আহমদ
নাট্যকার অধ্যাপক আফসার আহমদের প্রয়াণ

শেয়ার করুন

২০২২-এ বাংলাদেশ-ইইউ রাজনৈতিক সংলাপ

২০২২-এ বাংলাদেশ-ইইউ রাজনৈতিক সংলাপ

ইউরোপিয়ান এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল এনরিক মোরার সঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।

পররাষ্ট্র সচিব রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ইউরোপিয়ান এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল এনরিক মোরার সঙ্গে করা বৈঠকে সংলাপের সিদ্ধান্ত হয়।

২০২২ সালে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে প্রথম রাজনৈতিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। ৫০ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্ককে অংশীদারিত্বে উন্নীত করার উদ্দেশে এই সংলাপে সম্মত হয়েছে দুই পক্ষ।

ইইউ এবং বাংলাদেশের মধ্যে কৌশলগত দিকনির্দেশনা বিনিয়ম এবং বৈদেশিক ও নিরাপত্তা নীতির সহযোগিতা জোরদার করাই এই সংলাপের প্রধান উদ্দেশ্য।

বুধবার ব্রাসেলস দূতাবাসকে উদ্ধৃত করে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, পররাষ্ট্র সচিব রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ইউরোপিয়ান এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল এনরিক মোরার সঙ্গে করা বৈঠকে সংলাপের সিদ্ধান্ত হয়।

এর আগে, পররাষ্ট্র সচিব চতুর্থ বাংলাদেশ-ইইউ কূটনৈতিক পরামর্শে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পুরো বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন ইউরোপিয়ান এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গানার উইগ্যান্ডের সঙ্গে। উভয় পক্ষ সম্পর্ককে ঐতিহ্যগত উন্নয়ন ও বাণিজ্য সহযোগিতার বাইরে নিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে। এনরিক মোরা বলেন, ‘ইইউ একটি জাতি হিসেবে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির গতি ও নতুন আত্মবিশ্বাসকে স্বীকার করেছে এবং ইন্দো-প্যাসিফিকের উপর ফোকাস সহ যৌথ স্বার্থের ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে আরও যুক্ত হওয়ার জন্য উন্মুখ।’

এর আগে পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে তার আলোচনা হয় মূলত কোভিড-১৯ প্রতিক্রিয়া, রোহিঙ্গা সংকট, মিয়ানমার ও আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে।

এ সময় পররাষ্ট্র সচিব একটি দ্বিপাক্ষিক সবুজ অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার জন্য জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে গভীর সংলাপের জন্য আগামী বছরের শুরুতে ইইউ-এর জলবায়ু বিষয়ক রাষ্ট্রদূত মার্ক ভ্যানহেউকেলেনকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

ইইউ-এর সঙ্গে চতুর্থ কূটনৈতিক পরামর্শে বাংলাদেশের সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র সচিব। প্রতিনিধি দলে শ্রম ও কর্মসংস্থান, বাণিজ্য, স্বরাষ্ট্র ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন।

এ ছাড়া বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ ও ইইউতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতরাও উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার ব্রাসেলস সফরের প্রথম দিনে পররাষ্ট্র সচিব বেলজিয়ামের ইউরোপীয় পার্লামেন্টের তিন সদস্যের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।

আরও পড়ুন:
আফসার আহমদের মৃত্যুতে সন্তানের স্বীকৃতি নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বর্ণপ্রভা
চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন আফসার: প্রধানমন্ত্রী
বাবা-দাদার পাশে চিরনিদ্রায় আফসার আহমদ
নাট্যকার অধ্যাপক আফসার আহমদের প্রয়াণ

শেয়ার করুন

সংসদ অধিবেশন বসছে ১৪ নভেম্বর

সংসদ অধিবেশন বসছে ১৪ নভেম্বর

জাতীয় সংসদে অধিবেশনে সদস্যরা। ফাইল ছবি

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একাদশ জাতীয় সংসদের পঞ্চদশ এবং চলতি বছরের পঞ্চম অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় দেয়া ক্ষমতা বলে রাষ্ট্রপতি সংসদ অধিবেশন আহ্বান করেন।

একাদশ জাতীয় সংসদের পঞ্চদশ অধিবেশন শুরু হচ্ছে ১৪ নভেম্বর। সেদিন বিকেল ৪টায় সংসদ অধিবেশন ডেকেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু কথা রয়েছে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার এ কথা জানিয়েছে সংসদ সচিবালয়।

এতে বলা হয়, একাদশ জাতীয় সংসদের পঞ্চদশ এবং চলতি বছরের পঞ্চম অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় দেয়া ক্ষমতা বলে রাষ্ট্রপতি সংসদ অধিবেশন আহ্বান করেন।

সংসদের একটি অধিবেশন শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন বসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এবারও অধিবেশনে কিছু বিল পাস হতে পারে।

৩ জুলাই বাজেট অধিবেশন শেষের পর, ১ সেপ্টেম্বর থেকে চতুর্দশ অধিবেশন আহ্বান করেন রাষ্ট্রপতি। যা শেষ হয় ১৬ সেপ্টেম্বর।

করোনা পরিস্থিতির কারণে গেল অধিবেশনে সীমিত পরিসরে নির্দিষ্ট সংখ্যক সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে পরিচালিত হয়। অধিবেশনে যোগদানে সংসদ সদস্য, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লাগবে করোনা নেগেটিভ সনদ।

তবে আগামী অধিবেশনে করোনা মহামারিকে সামনে রেখে বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কিছু উল্লেখ করেনি সংসদ সচিবালয়।

আরও পড়ুন:
আফসার আহমদের মৃত্যুতে সন্তানের স্বীকৃতি নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বর্ণপ্রভা
চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন আফসার: প্রধানমন্ত্রী
বাবা-দাদার পাশে চিরনিদ্রায় আফসার আহমদ
নাট্যকার অধ্যাপক আফসার আহমদের প্রয়াণ

শেয়ার করুন