বাবা-দাদার পাশে চিরনিদ্রায় আফসার আহমদ

বাবা-দাদার পাশে চিরনিদ্রায় আফসার আহমদ

মানিকগঞ্জের জামশায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় নাট্যকর আফসার আহমদকে। ছবি: নিউজবাংলা

সিঙ্গাইর উপজেলার জামশা গ্রামের উত্তর জামশা কেন্দ্রীয় আদর্শ ঈদগাহ মাঠে রোববার সকাল ১০টার দিকে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে বাবা ও দাদার কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এবং নাট্যকার ড. আফসার আহমদকে।

সিঙ্গাইর উপজেলার জামশা গ্রামের উত্তর জামশা কেন্দ্রীয় আদর্শ ঈদগাহ মাঠে রোববার সকাল ১০টার দিকে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

সেখানে জানাজায় অংশ নেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান ইসরাফিল আহমেদ, অধ্যাপক রশিদ হারুন, সহযোগী অধ্যাপক রেজা মোহাম্মদ আরিফ, আনন জামান, কবি কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকার কলা বিভাগের চেয়ারম্যান আল জাবিরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।

প্রিয় ব্যক্তিত্বকে শেষবারের মতো দেখতে জামশায় আফসার আহমদের বাড়িতে জড়ো হন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।


বাবা-দাদার পাশে চিরনিদ্রায় আফসার আহমদ

এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আফসার আহমদের প্রথম জানাজা হয়।

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে শনিবার দুপুরে মারা যান অধ্যাপক আফসার আহমদ।

সাবেক শিক্ষার্থী কমলেশ রায়ের বিয়ে উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার রাতে খুলনায় গিয়েছিলেন আফসার আহমদ। শুক্রবার কমলেশের বিয়ের আশীর্বাদে অংশ নেন তিনি।

আফসার আহমেদের সাবেক শিক্ষার্থী মাসুদ নিক্সন নিউজবাংলাকে জানান, শনিবার সকালে খুলনা থেকে যশোর গিয়ে সাড়ে ১০টার ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন অধ্যাপক। বিমানেই তার হার্ট অ্যাটাক হয়। ঢাকায় পৌঁছার পর তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হয়।

বাবা-দাদার পাশে চিরনিদ্রায় আফসার আহমদ
ছেলে আফসারের প্রয়াণে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন ৯৬ বছর বয়সী মা নুরুননাহার বাতাসী

আফসার আহমদের বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার উত্তর জামশা গ্রামে ১৯৫৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর জন্ম তার।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন আফসার।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘মধ্যযুগের বাংলা আখ্যান কাব্যের আলোকে বাংলাদেশের নৃগোষ্ঠী নাট্য’ শীর্ষক অভিসন্দর্ভের জন্য তাকে পিএইচডি ডিগ্রি দেয়া হয়।

আফসার আহমদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরবর্তীকালে রবীন্দ্র-উত্তরকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাট্যকার ড. সেলিম আল দীনের সঙ্গে ১৯৮৬-৮৭ শিক্ষাবর্ষে বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন।

প্রতিষ্ঠাকাল থেকে তিনি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে শিক্ষকতায় ছিলেন। তিনি বিভাগের সভাপতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন, প্রক্টর, সিনেট-সিন্ডিকেটের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ড. আফসার একাধারে কবি, নাট্যকার, অনুবাদক, গবেষক ও সাহিত্য সমালোচক ছিলেন।

আরও পড়ুন:
আফসার আহমদের মৃত্যুতে সন্তানের স্বীকৃতি নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বর্ণপ্রভা
চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন আফসার: প্রধানমন্ত্রী
বাবা-দাদার পাশে চিরনিদ্রায় আফসার আহমদ
নাট্যকার অধ্যাপক আফসার আহমদের প্রয়াণ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘শামসুর রাহমানের কবিতা সর্বত্রগামী’

‘শামসুর রাহমানের কবিতা সর্বত্রগামী’

বাংলা একাডমিতে কবি শামসুর রাহমানের ৯৩তম জন্মদিন উদ্‌যাপন। ছবি: সংগৃহীত

শামসুর রাহমানের ৯৩তম জন্মদিন উপলক্ষে একক বক্তৃতায় কবি খালেদ হোসাইন বলেন, ‘কবিতাকে তিনি জনমানুষের হৃদয়ের প্রিয় বিষয়ে পরিণত করেছেন এবং প্রতিরোধের নন্দনকলায় সকল অসুন্দরের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রেরণা দিয়ে চলেছেন।’

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমানের ৯৩তম জন্মদিন ছিল শনিবার। এ উপলক্ষে বাংলা একাডেমি রোববার বেলা ১১টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে একক বক্তৃতার আয়োজন করে। এতে বক্তৃতা দেন বিশিষ্ট গবেষক ও কবি অধ্যাপক খালেদ হোসাইন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। এতে শামসুর রাহমানের কবিতা থেকে পাঠ করেন বাচিক শিল্পী ডালিয়া আহমেদ।

কবি খালেদ হোসাইন বলেন, ‘শামসুর রাহমান তার কাব্যিক উন্মেষলগ্ন থেকেই সমসাময়িকদের মধ্যে ছিলেন স্বতন্ত্র। হৃদয়ের আকুতির সঙ্গে পরিপার্শ্বের কোলাহল তার কবিতায় অপরূপ ব্যঞ্জনা লাভ করেছে। একান্ত পাঠ-উপযোগিতার পাশাপাশি তার কবিতা হয়ে উঠেছে সর্বত্রগামী।’

তিনি বলেন, ‘জীবন ও জনতা শামসুর রাহমানের কবিতায় নমিত এবং সোচ্চার ভাষাবিন্যাসে ভাস্বর হয়েছে। দেশীয় এবং পাশ্চাত্য পুরাণের অনন্য ব্যবহারে কবিতাকে তিনি বৈচিত্রপূর্ণ করে তুলেছেন। একই সঙ্গে অসম সাহসে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং শোষণমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে দশকের পর দশক তিনি কাব্যিক লড়াই চালিয়ে গেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘কবিতাকে তিনি জনমানুষের হৃদয়ের প্রিয় বিষয়ে পরিণত করেছেন এবং প্রতিরোধের নন্দনকলায় সকল অসুন্দরের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রেরণা দিয়ে চলেছেন।’

সভাপতির বক্তব্যে কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেন, ‘শামসুর রাহমান আমৃত্যু পঙ্কে পদ্ম ফোটানোর সাধনা করেছেন। তার কবিতা বাঙালি জাতিসত্তার কাব্যিক ভাষ্য নির্মাণে ভূমিকা রেখেছে। পাকিস্তান আমল থেকে বাংলা ভাষা, বাঙালি জাতিসত্তা ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সকল ষড়যন্ত্রকে তিনি তার কাব্যিক হাতিয়ার দিয়ে মোকাবেলা করেছেন। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং এরপর এদেশের সকল গণতান্ত্রিক সংগ্রামে তার কবিতা আমাদের মাঝে উজ্জীবক অস্ত্র হিসেবে কাজ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘কবি শামসুর রাহমান গেরিলা পদ্ধতিতে আজীবন বাংলা, বাঙালিত্ব এবং মানবতার সংগ্রামে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন এবং ক্রমশ হয়ে উঠেছেন চিরজীবিত স্বাধীনতার কবি।’

আরও পড়ুন:
আফসার আহমদের মৃত্যুতে সন্তানের স্বীকৃতি নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বর্ণপ্রভা
চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন আফসার: প্রধানমন্ত্রী
বাবা-দাদার পাশে চিরনিদ্রায় আফসার আহমদ
নাট্যকার অধ্যাপক আফসার আহমদের প্রয়াণ

শেয়ার করুন

জীবনানন্দের স্মৃতি সংরক্ষণের দাবি

জীবনানন্দের স্মৃতি সংরক্ষণের দাবি

বরিশাল শিল্পকলা একাডেমির উন্মুক্ত মঞ্চে শুক্রবার বিকেলে জীবনানন্দ স্মরণানুষ্ঠান হয়। ছবি: নিউজবাংলা

কবির জীবনের ওপর আলোচনা করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনানন্দ রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মুহসিন উদ্দিন, সরকারি ব্রজমোহন কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক দেবাশীষ হালদার ও কবি হেনরী স্বপন।

বরিশালে নানা আয়োজনে কবি জীবনানন্দ দাশের ৬৭তম প্রয়ান দিবস পালিত হয়েছে।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নগরীর শিল্পকলা একাডেমির উন্মুক্ত মঞ্চে জীবনানন্দ স্মরণানুষ্ঠান হয় ।

আলোচনা, কবিতাপাঠসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে জীবনানন্দ দাশের স্মৃতি ধরে রাখতে তার বাড়ি ও সম্পদ রক্ষার দাবি জানান কবিরা।

বরিশাল শিল্পকলা একাডেমির উন্মুক্ত মঞ্চকে তারা কবি জীবনানন্দ দাশ মঞ্চ নামকরণের দাবি জানান।

কবির জীবনের ওপর আলোচনা করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনানন্দ রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মুহসিন উদ্দিন, সরকারি ব্রজমোহন কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক দেবাশীষ হালদার ও কবি হেনরী স্বপন।

এর আগে ব্রজমোহন কলেজ প্রশাসন ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে কবির প্রতিকৃতিতে ফুল দেয়া হয়।

সকালে কবি জীবনানন্দ দাশ মিলনায়তন ও পাঠাগারে জাতীয় কবিতা পরিষদের উদ্যোগে অনুষ্ঠান হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান হাবিব।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি নজমুল হোসেন আকাশ, জাতীয় কবিতা পরিষদ বরিশালের সভাপতি তপঙ্কর চক্রবর্তী, ব্রজমোহন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ স ম ইমামুল হাকিম, ছড়াকার দীপঙ্কর চক্রবর্তীসহ অনেকে।

বরিশাল নগরীর জীবনানন্দ দাশ সড়কে ‘ধানসিঁড়ি’ নামের কবির বাড়িটি বেদখল হয়ে আছে বলে জানান দেবাশীষ হালদার। বাড়িটি উদ্ধার করে সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন:
আফসার আহমদের মৃত্যুতে সন্তানের স্বীকৃতি নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বর্ণপ্রভা
চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন আফসার: প্রধানমন্ত্রী
বাবা-দাদার পাশে চিরনিদ্রায় আফসার আহমদ
নাট্যকার অধ্যাপক আফসার আহমদের প্রয়াণ

শেয়ার করুন

যুবলীগের চিঠি সংকলন ‘প্রিয় বঙ্গবন্ধু’ প্রকাশ

যুবলীগের চিঠি সংকলন ‘প্রিয় বঙ্গবন্ধু’ প্রকাশ

‘প্রিয় বঙ্গবন্ধু’ বইয়ের প্রচ্ছদ।

‘প্রিয় বঙ্গবন্ধু’ চিঠি সংকলন গ্রন্থের সম্পাদক ও প্রকাশক যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও নির্বাহী সম্পাদক যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল। গ্রন্থটির মুখবন্ধ লিখেছেন জাতীয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম ও প্রচ্ছদ করেছেন ইন্দ্রনীল চট্টোপাধ্যায়।

বঙ্গবন্ধুর উদ্দেশে লেখা প্রতীকী চিঠি নিয়ে গ্রন্থ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ। যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের সম্পাদনায় রচিত গ্রন্থটির নাম রাখা হয়েছে ‘প্রিয় বঙ্গবন্ধু’।

১৭ অক্টোবর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে। তারই অংশ ছিল এই চিঠি লেখা কর্মসূচি। সারাদেশ থেকে আসা শতাধিক চিঠি থেকে বাছাইকৃত চিঠি নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে গ্রন্থটি।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শহীদ শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন উপলক্ষে ১৭ অক্টোবর আইইবি মিলনায়তনে যুবলীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আশ্রয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের মাননীয় চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন এমপি, সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি, বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান এমপি, যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতারা ‘প্রিয় বঙ্গবন্ধু’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন।

‘প্রিয় বঙ্গবন্ধু’ চিঠি সংকলন গ্রন্থের সম্পাদক ও প্রকাশক যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও নির্বাহী সম্পাদক যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল। গ্রন্থটির মুখবন্ধ লিখেছেন জাতীয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম ও প্রচ্ছদ করেছেন ইন্দ্রনীল চট্টোপাধ্যায়।

সম্পাদনা সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম মিল্টন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিপ্লব মোস্তাফিজ, উপ গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক অ্যাডভোকেট শেখ নবীরুজ্জামান বাবু এবং উপ প্রচার সম্পাদক আদিত্য নন্দী।

গ্রন্থটির সম্পাদক শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে প্রজন্মের ভাবনা, আবেগ, ভালোবাসা প্রকাশিত হোক- এমন ইতিবাচক উদ্দেশে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ আয়োজন করে বঙ্গবন্ধুর প্রতি প্রতীকী চিঠি লেখা কর্মসূচি। সারাদেশ থেকে প্রাপ্ত বঙ্গবন্ধুকে লেখা চিঠিগুলো থেকে বাছাইকৃত চিঠি নিয়ে প্রকাশিত হলো চিঠি সংকলন গ্রন্থ ‘প্রিয় বঙ্গবন্ধু’।’

প্রিয় বঙ্গবন্ধু গ্রন্থটি বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও শাহাবাগের পাঠক সমাবেশে পাওয়া যাবেও বলে জানান তিনি। এর শুভেচ্ছা মূল্য ধরা হয়েছে ৩২০ টাকা।

আরও পড়ুন:
আফসার আহমদের মৃত্যুতে সন্তানের স্বীকৃতি নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বর্ণপ্রভা
চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন আফসার: প্রধানমন্ত্রী
বাবা-দাদার পাশে চিরনিদ্রায় আফসার আহমদ
নাট্যকার অধ্যাপক আফসার আহমদের প্রয়াণ

শেয়ার করুন

তৃতীয় বিজ্ঞান চলচ্চিত্র উৎসব শুরু শুক্রবার

তৃতীয় বিজ্ঞান চলচ্চিত্র উৎসব শুরু শুক্রবার

বিজ্ঞান চলচ্চিত্র উৎসব শুরু হচ্ছে শুক্রবার। ছবি: সংগৃহীত 

রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে উৎসবের ওয়েবসাইটে দেখা যাবে সব সিনেমা। এ জন্য আগ্রহী দর্শকদের একটি লিংকে নিবন্ধন করার আহ্বান জানিয়েছে গ্যোটে ইনস্টিটিউট।

গ্যোটে ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ তৃতীয়বারের মতো আয়োজন করছে বিজ্ঞান চলচ্চিত্র উৎসব।

বিশ্বের ২২ দেশের ১২২টি চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে আন্তর্জাতিক এ উৎসবে।

গত ১ অক্টোবর শুরু হওয়া উৎসব চলবে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এর মধ্যে বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে ৩২টি চলচ্চিত্র।

শুক্রবার ভার্চুয়াল উদ্বোধন পর্বের মধ্য দিয়ে এসব চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী শুরু হবে।

রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে উৎসবের ওয়েবসাইটে দেখা যাবে সব সিনেমা। এ জন্য আগ্রহী দর্শকদের একটি লিংকে নিবন্ধন করার আহ্বান জানিয়েছে গ্যোটে ইনস্টিটিউট।

উদ্বোধন পর্বের রেজিস্ট্রেশনের জন্য ক্লিক করতে হবে এ লিংকে

উৎসব সামনে রেখে ২০ অক্টোবর সংক্ষিপ্ত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে গ্যোটে ইনস্টিটিউট জানায়, করোনা মহামারিকে মাথায় রেখে এবারের উৎসবে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেয়া হবে।

দেশের দর্শকদের জন্য বোধগম্য করার লক্ষ্যে তিনটি চলচ্চিত্র বাংলায় ডাব করা হয়েছে। আরও তিনটি চলচ্চিত্রে সাবটাইটেল যুক্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞান চলচ্চিত্র উৎসবকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যে বিজ্ঞান যোগাযোগের উৎসব হিসেবে উল্লেখ করেছে গ্যোটে ইনস্টিটিউট।

তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র এবং শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে সমসাময়িক বৈজ্ঞানিক, প্রযুক্তিগত এবং পরিবেশগত সচেতনতা বাড়ানোই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য ৩২টি চলচ্চিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি থাকবে শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের জন্য কর্মশালা, কুইজ ও বিজ্ঞানবিষয়ক আলোচনা।

অনলাইন চলচ্চিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি কিছু চলচ্চিত্র স্থানীয় টেলিভিশনে প্রদর্শন হবে।

এবারের বিজ্ঞান চলচ্চিত্র উৎসবের স্থানীয় পার্টনার হিসেবে থাকছে অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই), ম্যাপেল লিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, চিটাগাং মাস্টার মাইন্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, জাগো ফাউন্ডেশন, টিচ ফর বাংলাদেশ, নেটজ বাংলাদেশ, ব্র্যাক একাডেমি, ইউনেসকো বাংলাদেশ এবং ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)।

সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে গ্যোটে ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের পরিচালক ড. কির্স্টেন হ্যাকেনব্রোক বলেন, ‘বিজ্ঞান যে পরিবর্তন আনতে পারে এবং জীবন বাঁচাতে পারে, তা আমরা সবাই আবার নতুন করে শিখেছি। একজন বিজ্ঞানী হওয়ার অর্থ অজানার পথে হাঁটা, তর্ক-বিতর্কে অনুপ্রাণিত হওয়া, মানবতার জন্য স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ তৈরির লক্ষ্যে সহাবস্থান রাখা।

‘এর শুরু হতে পারে শিশুকাল থেকেই। এ গুরুতর প্রচেষ্টাটি কীভাবে মজাদার হতে পারে, তা দেখানো বিজ্ঞান চলচ্চিত্র উৎসবের একটি লক্ষ্য।’

এ বছর প্রথমবারের মতো উৎসবটি নিজস্ব কুইজ শো পরিচালনা করছে। বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এ কুইজ।

তিনটি পর্যায়ে হবে কুইজ।

১. জাতীয় অনলাইন রাউন্ড (অক্টোবর-নভেম্বর)

২. জাতীয় স্তরের ভিডিও কনফারেন্স রাউন্ড (ডিসেম্বর)

৩. আন্তর্জাতিক স্তরের ভিডিও কনফারেন্স রাউন্ড (ডিসেম্বর)।

কুইজে অংশ নিতে ক্লিক করতে হবে এ লিংকে

আরও পড়ুন:
আফসার আহমদের মৃত্যুতে সন্তানের স্বীকৃতি নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বর্ণপ্রভা
চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন আফসার: প্রধানমন্ত্রী
বাবা-দাদার পাশে চিরনিদ্রায় আফসার আহমদ
নাট্যকার অধ্যাপক আফসার আহমদের প্রয়াণ

শেয়ার করুন

অনলাইন থেকে ঘৃণার বক্তব্য সরান

অনলাইন থেকে ঘৃণার বক্তব্য সরান

সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে কবি-সাহিত্যিক, শিল্পী, সাংবাদিকদের সমাবেশ। ছবি: নিউজবাংলা

‘একটি সম্প্রদায়ের উপর আঘাত মানে আপনার-আমার উপর আঘাত, বাংলাদেশের সংবিধানের উপর আঘাত। কারণ, মুক্তবুদ্ধি, মুক্তচিন্তা, ভিন্নমতের মানুষ ও ভিন্ন ধর্মের মানুষের অধিকার যখন ক্ষুণ্ণ করা হয়, তখন লেখক হিসেবে আমার অধিকারও ক্ষুণ্ণ হয়। এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই।’

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সরকারকে আন্তধর্মীয় সংলাপের উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে কবি-সাহিত্যিক, শিল্পী, সাংবাদিকদের সমাবেশ থেকে। সেই সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে উসকানি ও ঘৃণার বক্তব্য সরানোর দাবি জানানো হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজামণ্ডপে ভাঙচুর, তাদের বাড়িঘরে আগুন দেয়ার প্রতিবাদে মঙ্গলবার শাহবাগে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এসব দাবি জানানো হয়।

‘সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কবি-সাহিত্যিক, শিল্পী, সাংবাদিক’ এর ব্যানারে সমাবেশের সামনে রঙতুলি দিয়ে প্রতিবাদী স্লোগান লিখে প্রতিবাদ জানান চিত্রশিল্পীরা।

সমাবেশে কবি-সাহিত্যিক, শিল্পী-সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে লেখক স্বকৃত নোমান সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিলসহ ৮ দফা দাবি উত্থাপন করেন।

অনলাইন থেকে ঘৃণার বক্তব্য সরান

দাবিগুলো হলো,

সাম্প্রদায়িক হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা;

রামু, নাসিরনগরসহ দেশে সংগঠিত প্রতিটি হামলার প্রকৃত কারণ জনসম্মুখে প্রকাশ এবং এতে রাজনৈতিক ব্যক্তি জড়িত তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কার করে বিচার করা;

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ওয়াজ মাহফিল থেকে সাম্প্রদায়িক এবং নারীবিদ্বেষমূলক বক্তব্য বন্ধের উদ্যোগ নেয়া;

স্কুল কলেজের পাঠ্যপুস্তক থেকে সাম্প্রদায়িক পাঠ বিলুপ্ত করে৷ অসাম্প্রদায়িক পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করা;

সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিল করা।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় সরকারি উদ্যোগে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আন্তধর্মীয় সংলাপের আয়োজন করা;

সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় সারাদেশে সংস্কৃতিচর্চার প্রসার ঘটানো এবং স্বাধীন সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় অনুপ্রাণিত করা;

এবং

দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে পাঠাগার এবং সংস্কৃতি কেন্দ্র স্থাপন করা।

অনলাইন থেকে ঘৃণার বক্তব্য সরান

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে কথা সাহিত্যিক আনিসুল হক বলেন, ‘আমরা আজ অত্যন্ত ক্ষুব্ধ এবং লজ্জিত। লজ্জায় আমরা মাটির সঙ্গে মিশে গিয়েছি। তবে এ মাটি থেকেই আমাদের ওঠে দাঁড়াতে হবে।

‘কারণ, পরাজিত হওয়ার জন্য ৩০ লক্ষ শহিদ বাংলাদেশ স্বাধীন করেনি। দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দুদের পূজামণ্ডপ এবং বাড়ি ঘরে যে হামলা হয়েছে এটা একবিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশে ঘটতে পারে আমরা কল্পনাও করতে পারি না। আমরা চাই, দেশের সমস্ত মানুষ এক হয়ে এ দাঙ্গাবাজ, সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা অনুষদের শিক্ষক অধ্যাপক মাসুদুজ্জামান বলেন, ‘আমি মনে করি, একটি সম্প্রদায়কে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করার চক্রান্ত হয়েছে। একে ইথনিক ক্লিঞ্জিং বলে। এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

‘একটি সম্প্রদায়ের উপর আঘাত মানে আপনার-আমার উপর আঘাত, বাংলাদেশের সংবিধানের উপর আঘাত। কারণ, মুক্তবুদ্ধি, মুক্তচিন্তা, ভিন্নমতের মানুষ ও ভিন্ন ধর্মের মানুষের অধিকার যখন ক্ষুণ্ণ করা হয়, তখন লেখক হিসেবে আমার অধিকারও ক্ষুণ্ণ হয়। এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই।’

কথা সাহিত্যিক মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘আমাদের দেশে যে সংখ্যালঘু শব্দের প্রচলন রয়েছে। আমরা চাই সেটি বন্ধ হোক। এ দেশে কেউ সংখ্যালঘু নয়। যদি কোনো ধর্মের একজনও থেকে থাকে তাহলেও তিনি সংখ্যালঘু না। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকেও আমরা সংখ্যালঘু বলতে চাই না। এই দেশে প্রত্যেকের সমান অধিকার আছে।’

পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধান বলেন, ‘কোনো মুসলমান মন্দিরে আজান দেবে না, কোনো হিন্দুও মন্দিরে কোরআন রাখতে পারে না। যারা এই কাজ করেছে, তারা মানুষরূপী অসুর। চলুন, আজ এই সমাবেশ থেকে ঘোষণা দিই—এসব মানুষরূপী অসুরদের বদ করতে হবে।’

কথাসাহিত্যিক রেজা ঘটক বলেন, ‘সরকার আজ পর্যন্ত একটি ঘটনারও সুষ্ঠু বিচার করেনি। এই বিচারহীনতায় বারবার এ ঘটনাগুলোকে উসকে দিচ্ছে। যারা এসব হামলা করছে তারা ক্ষুদ্র একটি গোষ্ঠী। কিন্তু সেই গোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণ করতে সরকার কেনো বারবার ব্যর্থ হচ্ছে! এটি কি কোনো চক্রান্ত?’

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা বলেন, ‘অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে কেন আজ আমার মূর্তির উপর আঘাত আসে? কেন আজ আমি আমার মাকে শান্তিতে বিসর্জন দিতে পারি না? এই দুঃখ কোথায় রাখব?’

অনলাইন থেকে ঘৃণার বক্তব্য সরান

উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সমাবেশে সংহতি জানিয়ে সংগঠনটির সহ-সাধারণ সম্পাদক সংগীতা ইমাম বলেন, ‘প্রতিটি ঘটনায় আমরা এখানে এসে দাঁড়াই। কিন্তু এই যে সাম্প্রদায়িক হামলাগুলো হচ্ছে, এগুলোর কোনো বিচার হচ্ছে না? রামু থেকে নাসিরনগরের ঘটনাগুলোর বিচার যদি হতো, তবে আজকে চাঁদপুর-নোয়াখালী-কুমিল্লায় এই ধরনের ঘটনাগুলো ঘটতো না।’

একাত্তর টেলিভিশনের সাংবাদিক জুলহাস নুর বলেন, ‘আমি একজন সংবাদকর্মী। আমরা নিউজরুমে কাজ করি। যখন এই ধরনের হামলার ঘটনাগুলো আমাদের কাছে আসে এবং এগুলো নিয়ে আমাদের কাজ করতে হয়, তখন আমরা ভীষণভানে মুষড়ে পড়ি।

‘আমরা যখন এখানে দাঁড়িয়ে আছি, এর আগেই ঘটে গেছে হাজীগঞ্জ, চৌমুহনী, পীরগঞ্জের ঘটনা। এসব ঘটনা যারা ঘটাচ্ছেন, তারা বারবার ঘটিয়ে চলেছে। এই ঘটনাগুলো প্রতিরোধে যে গণপ্রতিরোধ হওয়া দরকার, সরকার-আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনীতিবিদদের যা করা দরকার, আমরা কি তা ঠিকঠাক করছি?’

চারুশিল্পী সংসদের সাধারণ সম্পাদক চিত্রশিল্পী কামাল পাশা চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ কখনও পরাজিত হতে পারে না। এই দেশে হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানে কোনো সমস্যা নেই। সমস্যা আছে মানুষ আর পিশাচে। যারা এসব ঘটাচ্ছে, তারা পিশাচ আর আমরা মানুষ।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন, কবি আলতাফ শাহনেওয়াজ, গৌরব একাত্তরের সাধারণ সম্পাদক এফএম শাহীন, যুবলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুস্তাফিজ বিপ্লব, কথাসাহিত্যিক আহমদ মোস্তফা কামাল, লেখক ও গবেষক চঞ্চল আশরাফ, অভিনয়শিল্পী মৌটুসী বিশ্বাস, চিত্রনির্মাতা মাসুদ প্রতীক, কবি লেখক শিক্ষক ঝর্ণা রহমান, কবি টোকন ঠাকুর, কথা সাহিত্যিক পারভেজ হোসেন, আবৃত্তিশিল্পী মাসুম আজিজুল বাশার, রবীন্দ্র সংগীতশিল্পী মকবুল হোসেনও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন:
আফসার আহমদের মৃত্যুতে সন্তানের স্বীকৃতি নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বর্ণপ্রভা
চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন আফসার: প্রধানমন্ত্রী
বাবা-দাদার পাশে চিরনিদ্রায় আফসার আহমদ
নাট্যকার অধ্যাপক আফসার আহমদের প্রয়াণ

শেয়ার করুন

উজান বইয়ের সেরা আলোচক সরোজ, ইলিয়াস ও মাজেদা

উজান বইয়ের সেরা আলোচক সরোজ, ইলিয়াস ও মাজেদা

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের জমা দেয়া আলোচনার মান যাচাই ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে ১৩ জনের অবস্থান নির্ধারণ করেন পাঁচ সদস্যের বিচারক কমিটি। বিজয়ীদের হাতে শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার তুলে দেয়া হবে।

‘উজান বই আলোচনা প্রতিযোগিতায়’ সেরা আলোচক হয়েছেন কবি ও প্রাবন্ধিক সরোজ মোস্তফা (গোলাম মোস্তফা)। দ্বিতীয় হয়েছেন ইলিয়াস বাবর, তৃতীয় স্থানে আছেন মাজেদা মুজিব।

প্রতিযোগিতায় বিজয়ীরা পাচ্ছেন যথাক্রমে ২০ হাজার, ১৫ হাজার এবং ১০ হাজার টাকা অথবা সমমূল্যের বই। দেশের স্বনামধন্য সাহিত্যিক ও অনুবাদকদের নিয়ে গঠিত পাঁচ সদস্যের বিচারক কমিটির মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়।

উজান থেকে প্রকাশিত অনুবাদ গ্রন্থ ‘কোরিয়ার কবিতা’ (ছন্দা মাহবুবের অনুবাদ) এবং ষড়ৈশ্বর্য মুহম্মদ সম্পাদিত ‘কোরিয়ার গল্প’-এর ওপর এই আলোচনার আয়োজন করা হয়। বই দুটির বাংলা অনুবাদ এবং প্রতিযোগিতা আয়োজনে সহযোগিতা করছে লিটারেচার ট্রান্সলেশন ইনস্টিটিউট অফ কোরিয়া। বই দুটি প্রকাশ করেছে উজান প্রকাশন।

আরও পড়ুন: উজান প্রকাশনের বই আলোচনা প্রতিযোগিতা

প্রতিযোগিতায় আলোচনা জমা দিয়ে নির্বাচিত আলোচক হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন আরও ১০ জন। তারা হলেন, মিলু হাসান, জাহিদ সোহাগ, সিরাজুম মুনিরা, সম্প্রীতি মল্লিক, অলাত এহসান, হারুন সুমন, রুম্মানা জান্নাত, ফাহাদ হোসেন, হাসান জামিল, আবিদা তাহসিন প্রমি। নির্বাচিত আলোচকদের প্রত্যেকে পাচ্ছেন পাঁচ হাজার টাকা মূল্যের বই।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের জমা দেয়া আলোচনার মান যাচাই ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই ১৩ জনের অবস্থান নির্ধারণ করেন পাঁচ সদস্যের বিচারক কমিটি। তারা হলেন, একুশে পদকপ্রাপ্ত সাহিত্যিক সুব্রত বড়ুয়া, কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক কুমার চক্রবর্তী, অনুবাদক রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী, কবি সোহেল হাসান গালিব এবং কোরিয়ান ভাষা বিশেষজ্ঞ ও অনুবাদক শিউলি ফাতেহা।

উজান বই আলোচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার তুলে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।

আরও পড়ুন:
আফসার আহমদের মৃত্যুতে সন্তানের স্বীকৃতি নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বর্ণপ্রভা
চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন আফসার: প্রধানমন্ত্রী
বাবা-দাদার পাশে চিরনিদ্রায় আফসার আহমদ
নাট্যকার অধ্যাপক আফসার আহমদের প্রয়াণ

শেয়ার করুন

১৬ জেলায় হবে শিল্পকলা একাডেমির আধুনিকায়ন: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

১৬ জেলায় হবে শিল্পকলা একাডেমির আধুনিকায়ন: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

প্রতিমন্ত্রী এ কে এম খালিদ বলেন, ‘মাগুরা জেলা শিল্পকলা একাডেমি আগামী ছয় মাসের মধ্যে একটি আধুনিক শিল্পকলা একাডেমিতে রূপান্তর হবে। ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হবে আধুনিক বিভিন্ন সুবিধাসমৃদ্ধ ভবন।’

দেশের সংস্কৃতি রক্ষার্থে মাগুরাসহ ১৬ জেলায় শিল্পকলা একাডেমির আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এ কে এম খালিদ।

মাগুরা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলার সাংস্কৃতিক কর্মীদের সঙ্গে রোববার দুপুরে এক মতবিনিময় সভায় এ কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমাদের মাঝ থেকে গ্রামীণ জারি-সারি গান, যাত্রাপালা, পালাগান হারিয়ে যেতে বসেছে। এগুলো আমাদের সংস্কৃতির প্রাণ, তাই এগুলোকে আমাদের রক্ষা করতে হবে। এ জন্য মাগুরাসহ দেশের ১৬টি জেলায় আধুনিক সাংস্কৃতিক একাডেমি গড়ে তোলার কাজ হাতে নিয়েছে সরকার। অচিরেই আধুনিক মানের ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে। সংস্কৃতির মান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাগুরা জেলা শিল্পকলা একাডেমি আগামী ছয় মাসের মধ্যে একটি আধুনকি শিল্পকলা একাডেমিতে রূপান্তর হবে। ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হবে আধুনিক বিভিন্ন সুবিধাসমৃদ্ধ ভবন।’

সভায় সভাপতিত্ব করেন মাগুরার জেলা প্রশাসক আশরাফুল আলম। উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পঙ্কজ কুণ্ডু, জেলার সিভিল সার্জন শহিদুল্লাহ দেওয়ান, পৌর মেয়র খুরশিদ হায়দার টুটুল এবং জেলা তথ্য কর্মকর্তা রেজাউল করিম।

সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী শহরের সৈয়দ আতর আলী গণগ্রন্থাগার পরিদর্শন করেন। পরে শহরের সার্কিট হাউসে জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তি, সুধীজন ও শিল্পী-কলাকুশলীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

আরও পড়ুন:
আফসার আহমদের মৃত্যুতে সন্তানের স্বীকৃতি নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বর্ণপ্রভা
চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন আফসার: প্রধানমন্ত্রী
বাবা-দাদার পাশে চিরনিদ্রায় আফসার আহমদ
নাট্যকার অধ্যাপক আফসার আহমদের প্রয়াণ

শেয়ার করুন