ফুল-চকলেটে হলে বরণ ঢাবি শিক্ষার্থীদের

ফুল-চকলেটে হলে বরণ ঢাবি শিক্ষার্থীদের

দীর্ঘদিন পর হলে উঠতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন অনেক শিক্ষার্থী। ছবি: নিউজবাংলা

দীর্ঘদিন পর হলে উঠতে পেরে উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে শিক্ষার্থীদের চোখে মুখে। হল খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত দেরি করে নেয়ার কারণে ক্ষোভও প্রকাশ করেন কেউ কেউ।

স্নাতক চতুর্থ বর্ষ ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের পর এবার সব বর্ষের শিক্ষার্থীদের হলে তোলা শুরু করেছে তুলছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

রোববার সকাল ৮টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা হলে ওঠা শুরু করেন। শিক্ষার্থীদের ফুল, চকলেট, মাস্ক দিয়ে বরণ করে হল কর্তৃপক্ষ।

দীর্ঘদিন পর হলে উঠতে পেরে উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে শিক্ষার্থীদের চোখে মুখে। হল খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত দেরি করে নেয়ার কারণে কেউ কেউ ক্ষোভও প্রকাশ করেন।

চতুর্থ বর্ষ ও মাস্টার্সের সঙ্গে ৫ অক্টোকরই কেন সবাইকে হলে তোলা হয়নি এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্যার এ এফ রহমান হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘অনেকদিন পর আজকে হলে উঠতে পারছি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সুবিবেচনা প্রসূত সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। ৫ অক্টোবর তারা সকল বর্ষের শিক্ষার্থীদের উঠতে দিলে কী সমস্যা হতো আমরা বুঝতে পারছি না।’

বিজয় একাত্তর হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের অনেক শিক্ষার্থীরা ৫ তারিখই হলে উঠে গেছে। এটা আটকাতে না পেরেই বিশ্ববিদ্যালয় বাধ্য হয়ে ১০ তারিখ সবার জন্য হল খুলার তারিখ নির্ধারণ করেছে। যেসব সিদ্ধান্ত মানা যাবে না সেসব সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় না নিলেই ভালো।’

এর আগে গত ৫ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সিদ্ধান্ত নেয়, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষার্থী অন্তত করোনার প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন তাদের সবাইকে হলে ওঠার অনুমতি দেয়া হবে।

হলে ওঠার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি ও স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুসরণ করে টিকা নেয়ার কার্ড/সনদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধ পরিচয়পত্র সংশ্লিষ্ট হল কর্তৃপক্ষকে দেখাতে হবে।

৫ অক্টোবর শুধু চতুর্থ বর্ষ ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের হলে ওঠার অনুমতি দেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর আগে ২৬ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার।

করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির কারণে ২০২০ সালের ১৯ মার্চ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য কার্যক্রমের সঙ্গে বন্ধ করে দেয়া হয় হলও।

হলের ওঠার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানতে শিক্ষার্থীদের কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে আগেই। নির্দেশনাগুলো হলো:

# কক্ষের বাইরে গেলে সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে নিয়মিত ও সার্বক্ষণিক সঠিক নিয়মে নাক-মুখ ঢেকে মাস্ক পরতে হবে।

# স্বাস্থ্যবিধি পালনের জন্য সাবান দিয়ে হাতধোয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

# স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী পরস্পরের কাছ থেকে কমপক্ষে ১ মিটার (৩ ফুট) দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

# কোনো কক্ষের মেঝেতে শোয়া যাবে না। এক বিছানায় একাধিক ব্যক্তি শোয়া যাবে না। কেবল আবাসিক ও দ্বৈতাবাসিক শিক্ষার্থীরা হলে অবস্থান করতে পারবে।

# কোনো বহিরাগত বা বাহির থেকে আসা কাউকে কক্ষে অবস্থান করতে দেয়া যাবে না। প্রয়োজনে কক্ষে ও কক্ষের বাহিরে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

# শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ রুম এবং আশপাশ সবসময় নিজ দায়িত্বে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এক্ষেত্রে হল প্রশাসন সহযোগিতা করবে।

# হল ডাইনিং, ক্যান্টিন, মেস, দোকান, সেলুন, টিভি রুম, অডিটোরিয়াম, অতিথি কক্ষ, পাঠাগার, মসজিদ ও উপাসনালয়ে ভিড় করা যাবে না। এসব স্থানে সামাজিক দূরত্ব মেনে মাস্ক পরতে হবে।

# ডাইনিংয়ে পালাক্রমে খেতে হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অতিথিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সমাবেশ বন্ধ থাকবে।

# বেড়ানো ও ঘোরাঘুরি থেকে বিরত থাকতে হবে এবং সভা-সমাবেশ, রেস্তোরাঁ, পার্টি ও গণপরিবহন এড়িয়ে চলতে হবে।

আরও পড়ুন:
অধ্যাপক মাহবুব আহসানের মৃত্যুতে ঢাবি উপাচার্যের শোক
কপিরাইটবিষয়ক নিবন্ধেও ঢাবি শিক্ষকের চৌর্যবৃত্তি
ঢাবিতে সশরীরে ক্লাস শুরু ১৭ অক্টোবর
রোববার সবার জন্য খুলছে ঢাবির হল

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জবি শিক্ষার্থীদের এনআইডি কার্যক্রমের উদ্বোধন

জবি শিক্ষার্থীদের এনআইডি কার্যক্রমের উদ্বোধন

সোমবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন শুরু হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক বলেন, ‘আমি যখন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছি তখন করোনার জরুরি অবস্থা চলছিল। সরকার থেকেও টিকা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ঘোষণা দেয়া হলো। তারপর সব সহকর্মীদের সহযোগিতা নিয়ে টিকার জন্য কাজ করেছি।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসেই শিক্ষার্থীদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিবন্ধন কার্যক্রমে উদ্বোধন করা হয়েছে। যেসব শিক্ষার্থী এখনও এনআইডি পাননি, তারা এখান থেকেই নিবন্ধন করে অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি সংগ্রহ করতে পারবেন।

সোমবার থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত তিনদিন ব্যাপী সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে এই কার্যক্রম চলবে।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে নিবন্ধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমি যখন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছি তখন করোনার জরুরি অবস্থা চলছিল। সরকার থেকেও টিকা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ঘোষণা দেয়া হলো। তারপর সব সহকর্মীদের সহযোগিতা নিয়ে টিকার জন্য কাজ করেছি।’

উপাচার্য বলেন, ‘টিকা দেয়ার জন্য এনআইডির প্রয়োজন। আমাদের অনেক শিক্ষার্থীরই এনআইডি নেই। আমরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরপরই তারা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।’

২১ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে টিকাদান কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়। টিকার রেজিস্ট্রেশনে এনআইডির প্রয়োজন হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচন করে এনআইডি নিবন্ধনের উদ্যোগ নেয়।

আরও পড়ুন:
অধ্যাপক মাহবুব আহসানের মৃত্যুতে ঢাবি উপাচার্যের শোক
কপিরাইটবিষয়ক নিবন্ধেও ঢাবি শিক্ষকের চৌর্যবৃত্তি
ঢাবিতে সশরীরে ক্লাস শুরু ১৭ অক্টোবর
রোববার সবার জন্য খুলছে ঢাবির হল

শেয়ার করুন

জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডে আবেদনের সময় বাড়ল ৭ দিন

জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডে আবেদনের সময় বাড়ল ৭ দিন

গত বছর জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা ও সিআরআই চেয়ারম্যান সজীব ওয়াজেদ জয় যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দেন। ফাইল ছবি

সমাজকে বদলে দিতে তরুণদের নেয়া নানা উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে ২০১৪ সাল থেকে এই পুরস্কার দিয়ে আসছে ইয়াং বাংলা, যা সিআরআই এর একটি প্রতিষ্ঠান। এবার পঞ্চমবারের মতো দেয়া হবে এ পুরস্কার। জমা পড়া আবেদনগুলো যাচাই বাছাই হবে ৩১ অক্টোবরের পর।

জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডের জন্য আবেদনের সময়সীমা আরও ৭ দিন বাড়িয়েছে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)। বর্ধিত সময়সীমা অনুযায়ী চলতি মাসের শেষ দিন অর্থাৎ ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এই পুরস্কারের জন্য আবেদন করা যাবে।

জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডের উদ্যোক্তা সিআরআই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সমাজকে বদলে দিতে তরুণদের নেয়া নানা উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে ২০১৪ সাল থেকে এই পুরস্কার দিয়ে আসছে ইয়াং বাংলা, যা সিআরআই এর একটি প্রতিষ্ঠান। এবার পঞ্চমবারের মতো দেয়া হবে এ পুরস্কার।

বিজ্ঞপ্তিতে সিআরআই জানায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া অনলাইনে নিবন্ধন চলবে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত। ইয়াং বাংলার ওয়েবসাইটে (http://jbya.youngbangla.org) এ পুরস্কারের জন্য আবেদনের করা যাবে। জমা পড়া আবেদনগুলো যাচাই বাছাই হবে ৩১ অক্টোবরের পর।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ বছর থেকে উন্নয়ন কর্মসূচি ও প্রকল্প, জননীতিতে গবেষণা ও উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা ও সৃজনশীলতা এই চার নীতিতে আজীবন সম্মাননা দেয়া হবে।

এ ছাড়া নেতৃত্বগুণ, সেবার মানসিকতা ও উদ্যোগ এবং গবেষণার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতাত্তোর দেশ গঠনে ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদেরও আজীবন সম্মাননা দেয়া হবে। পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগ ও গোষ্ঠী ভিত্তিক উন্নয়নে দুইটি বিভাগে দেয়া হবে ১০টি পুরস্কার।

১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের সংগঠন বা সংগঠকেরা এখানে আবেদন করতে পারবেন। যে সংগঠন দেশে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু, হিজরা, দলিত ও অনগ্রসর সমাজকে নিয়ে কাজ করে এবং নারীর ক্ষমতায়ন, শিশু অধিকার, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষমতায়ন, পিছিয়ে পড়া মানুষের ক্ষমতায়ন, যুব উন্নয়ন, অতি দরিদ্র মানুষের ক্ষমতায়নে ভূমিকা রেখেছে তারা ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডের’ জন্য আবেদন করতে পারবেন।

এ ছাড়া যেসব যুব সংগঠন তাদের কার্যক্রমের মধ্যে দিয়ে কোন গোষ্ঠী বা এলাকার উন্নতির জন্য কাজ করছে, ‘ইন্টিগ্রেটেড কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট’ এর অধীনে তারাও আবেদন করতে পারবেন।

এবার ছয়টি বিষয়ে আবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে এগুলো হচ্ছে মাদকবিরোধী সচেতনতা অভিযান, পরিবেশ রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তন রোধে কার্যক্রম, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং জরুরী প্রতিক্রিয়া, স্বাস্থ্যসেবা ও সচেতনতা, শিক্ষা, সামাজিক -সাংস্কৃতিক উদ্যোগ। এ বছর থেকে যুক্ত হচ্ছে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু, হিজরা, দলিত ও অনগ্রসর সমাজকে নিয়ে কাজ করার বিষয়টি।

গত বছর জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, বাংলাদেশ তার প্রতিষ্ঠাকালীন ধর্মনিরপেক্ষতার মূলনীতি থেকে সরে যেতে পারে না।

তিনি বলেন, ‘আমরা যে ধর্মেরই হই না কেন, আমরা সবাই বাঙালি।’

গত বছর ১৭ নভেম্বর ইয়াং বাংলা আয়োজিত ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান অনুষ্ঠানে সেন্টার ফর রিচার্স অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) চেয়ারম্যান সজীব ওয়াজেদ জয় যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে তরুণ সংগঠকদের উদ্দেশ্যে জয় বলেন, ‘প্রতিবার আপনাদের দেখে আমি অনুপ্রাণিত হই।’

আরও পড়ুন:
অধ্যাপক মাহবুব আহসানের মৃত্যুতে ঢাবি উপাচার্যের শোক
কপিরাইটবিষয়ক নিবন্ধেও ঢাবি শিক্ষকের চৌর্যবৃত্তি
ঢাবিতে সশরীরে ক্লাস শুরু ১৭ অক্টোবর
রোববার সবার জন্য খুলছে ঢাবির হল

শেয়ার করুন

শিক্ষার্থীদের চুল কর্তন: ফারহানার বিরুদ্ধে প্রমাণ মিলেছে

শিক্ষার্থীদের চুল কর্তন: ফারহানার বিরুদ্ধে প্রমাণ মিলেছে

শিক্ষার্থীদের চুল কাটায় অভিযুক্ত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন। ফাইল ছবি

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও ট্রেজারার আব্দুল লতিফ সোমবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তদন্ত কমিটি সুন্দর প্রতিবেদন দিয়েছে। কমিটির সদস্যরা সুন্দরভাবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছে। তার (ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়টির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি।

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও ট্রেজারার আব্দুল লতিফ সোমবার নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘তদন্ত কমিটি সুন্দর প্রতিবেদন দিয়েছে। কমিটির সদস্যরা সুন্দরভাবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছে। তার (ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

উপাচার্য আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমাদের আলাপ-আলোচনা হয়েছে। আমরা ঐকমত্যে পৌঁছেছি। তারা প্রশাসনিক ভবনের তালা খুলে দিয়েছে। আমাদের কিছু নিয়ম-কানুন বাকি আছে, এটা শেষ হলে আমরা সিন্ডিকেটের সভা ডাকব। আশা করছি, ৮-১০ দিনের সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হবে।’

তদন্ত কমিটি কী তার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে, এমন প্রশ্নে আব্দুল লতিফ বলেন, ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ।’

অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটির এক সদস্যও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সদস্য বলেন, ‘তদন্ত কমিটি ৩৪ জন শিক্ষার্থীর বক্তব্য নিয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রয়েছেন। এ ছাড়া প্রত্যক্ষদর্শী ৫ জন শিক্ষক, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের একজন সহকারী রেজিস্ট্রার এবং ৫ জন কর্মচারী রয়েছেন। সবার বক্তব্যেই ফারহানার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। আমরা তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছি। এখন বিষয়টি সিন্ডিকেট দেখবে।’

ফারহানা ইয়াসমিনের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে গত ২২ অক্টোবর রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকা অফিসে সিন্ডিকেট সভা ডাকা হয়েছিল। এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা হলেও সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয় সভা।

বিষয়টি জানার পর রোববার সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের কান্দাপাড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক ভবনের সামনে অপেক্ষমাণ শিক্ষার্থীরা জরুরি বৈঠক করে ফের আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেন। তারা অনশন কর্মসূচি ও লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা দেন।

শিক্ষার্থীরা দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে শাহজাদপুরের কান্দাপাড়ার প্রশাসনিক ভবনের সামনে অনশন এবং বিসিক বাসস্ট্যান্ড এলাকার শাহজাদপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের একাডেমিক ভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি শুরু করেন।

এতে আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

এর আগে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ট্রেজারার আব্দুল লতিফের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার হলে ঢোকার সময় বিভাগের শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন দরজায় কাঁচি হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। শিক্ষার্থীরা হলে ঢোকার সময় যাদের মাথার চুল হাতের মুঠোর মধ্যে ধরা যায়, তাদের সামনের অংশের বেশ খানিকটা কেটে দেন তিনি। এভাবে ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেন ওই শিক্ষক।

ওই ঘটনা নিয়ে শিক্ষার্থীরা ফেসবুকে পোস্ট দিলে বিষয়টি ভাইরাল হয়।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ফারহানা ইয়াসমিন শিক্ষার্থীদের গালাগালি করে পরীক্ষার হলে যেতে বাধ্য করেন। এর প্রতিবাদ করলে নাজমুল হাসান তুহিন নামের প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে গালাগালি করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের হুমকি দেন।

ওই ঘটনার পর ‘অপমান সইতে না পেরে’ তুহিন রাতে দ্বারিয়াপুরের শাহ মুখদুম ছাত্রাবাসের নিজ কক্ষে দরজা আটকে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। সহপাঠীরা বিষয়টি টের পেয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন তার বিভাগের চেয়ারম্যান পদ, সহকারী প্রক্টর পদ ও প্রক্টরিয়াল বোর্ডের সদস্য পদ থেকে লিখিতভাবে পদত্যাগ করেন।

ঘটনার তদন্তে পরে রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা ফেরদৌস হিমেলকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

আরও পড়ুন:
অধ্যাপক মাহবুব আহসানের মৃত্যুতে ঢাবি উপাচার্যের শোক
কপিরাইটবিষয়ক নিবন্ধেও ঢাবি শিক্ষকের চৌর্যবৃত্তি
ঢাবিতে সশরীরে ক্লাস শুরু ১৭ অক্টোবর
রোববার সবার জন্য খুলছে ঢাবির হল

শেয়ার করুন

গুচ্ছভর্তি: জবির মেডিক্যাল সেন্টারে পরীক্ষা দিলেন তিন শিক্ষার্থী

গুচ্ছভর্তি: জবির মেডিক্যাল সেন্টারে পরীক্ষা দিলেন তিন শিক্ষার্থী

বিশেষ ব্যবস্থাপনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিক্যাল সেন্টারে পরীক্ষা দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে ৪ জন শিক্ষার্থী শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে বিশেষ অনুমতি চেয়ে আবেদন জানায়। তবে পরীক্ষা দিন উপস্থিত ছিলেন ৩ জন।

প্রথমবারের মতো দেশের ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের গুচ্ছ পদ্ধতিতে দ্বিতীয় ধাপের ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে বিশেষভাবে সক্ষম তিন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছেন। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকায় তাদের আবেদনে বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা নেয়া হয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে ৪ জন শিক্ষার্থী শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে বিশেষ অনুমতি চেয়ে আবেদন জানায়। তবে পরীক্ষা দিন উপস্থিত ছিলেন ৩ জন।

এদের মধ্যে একজন ছেলে ও দুইজন মেয়ে। একজন ছেলে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, দুইজন মেয়ের মধ্যে একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী ও আরেকজন গর্ভবতী।

মেডিক্যাল সেন্টারে পরীক্ষা দেয়া দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থী সেলিম ভূঞার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেই শ্রুতিলেখকের ব্যবস্থা করা হয়ে।

নিউজবাংলাকে সেলিম ভূঞা বলেন, ‘আমার শ্রুতিলেখকের প্রয়োজন ছিল। কর্তৃপক্ষ আমাকে সে ব্যবস্থা করে দিয়েছে। পরীক্ষা ভালো হয়েছে, একটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাব বলে আশাবাদী।’

মেডিক্যাল সেন্টারে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা দেয়া আরেক শিক্ষার্থী তাবাচ্ছুম তাবিয়া। গর্ভবতী এ শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমার প্রেগন্যান্সির একদম শেষ পর্যায়ে পরীক্ষার তারিখ পড়েছে। সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে পরীক্ষা দেয়া সম্ভব নয়। এ ব্যবস্থা করার জন্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ।’

এ ছাড়া ইসরাত জাহান অনিমা নামের আরেক শারীরিক প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থী বলেন, ‘আমার শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে এতোটা সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে পরীক্ষা দেয়া সম্ভব নয়। সেজন্য আবেদন জানিয়েছিলাম, আমাকে এখানে পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছে।’

এবিষয়ে জানতে চাইলে ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয়কারী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সরকার আলী আক্কাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পরীক্ষার্থীদের আবেদনে আমরা সাড়া দিয়েছি। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য শ্রুতি লেখক দিয়েছি। তার পছন্দমতো আমরা কাউকে দেইনি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে এসএসসির উপরে নয়, এমন শিক্ষার্থীকে দেয়া হয়েছে। তাকে সম্পূর্ণ আলাদা রুমে দেয়া হয়েছে।’

গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের সমন্বিত ভর্তি কমিটি ২০২০-২০২১-এর যুগ্ম আহ্বায়ক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা সবাইকে সমানভাবে সুযোগ দিতে চাই। যেহেতু তারা জাতীয় পরীক্ষার মাধ্যমে পাশ করে এসেছে, তারা যোগ্য প্রার্থী। তারা প্রতিবন্ধী, তাদেরকেও তো আমাদের সুযোগ দিতে হবে। সেজন্য আমাদের পক্ষ থেকে যা যা করার দরকার আমরা করেছি।’

দেশের ২২টি কেন্দ্রে একযোগে ‘বি’ ইউনিটের গুচ্ছভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানবিক বিভাগের এই ইউনিটে পরীক্ষার্থী ছিলেন ৬৭ হাজার ১১৭ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় কেন্দ্র জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭ হাজার ৭৯৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেন। ৭ হাজার ৩০৪ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত হয় পরীক্ষায়।

আরও পড়ুন:
অধ্যাপক মাহবুব আহসানের মৃত্যুতে ঢাবি উপাচার্যের শোক
কপিরাইটবিষয়ক নিবন্ধেও ঢাবি শিক্ষকের চৌর্যবৃত্তি
ঢাবিতে সশরীরে ক্লাস শুরু ১৭ অক্টোবর
রোববার সবার জন্য খুলছে ঢাবির হল

শেয়ার করুন

এসএসসির প্রবেশপত্র বিতরণ ৩ নভেম্বর

এসএসসির প্রবেশপত্র বিতরণ ৩ নভেম্বর

অফিস আদেশে বলা হয়, ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র বিতরণ শুরু হবে ৩ নভেম্বর। কেন্দ্র সচিব নিজে অথবা তার প্রাধিকারপ্রাপ্ত কোনো শিক্ষককে (স্বাক্ষর সত্যায়িতসহ) কেন্দ্রের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশপত্র অফিস চলাকালীন নিতে হবে।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রবেশপত্র বিতরণ শুরু হবে ৩ নভেম্বর। পরে ৪ থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত প্রবেশপত্রে কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধন করা যাবে।

রোববার ঢাকা শিক্ষা বোডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম আমিরুল ইসলামের সই করা অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা যায়।

অফিস আদেশে বলা হয়, ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র বিতরণ শুরু হবে ৩ নভেম্বর। কেন্দ্র সচিব নিজে অথবা তার প্রাধিকারপ্রাপ্ত কোনো শিক্ষককে (স্বাক্ষর সত্যায়িতসহ) কেন্দ্রের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশপত্র অফিস চলাকালীন নিতে হবে।

আরও বলা হয়, কোনো অবস্থাতেই শিক্ষক ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তিকে প্রবেশপত্র নিতে পারবেন না। তিনি নিজ কেন্দ্রাধীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশপত্র ৩ নভেম্বর বিতরণ করবেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান প্রবেশপত্র যাচাই করে কোনো ক্রটি বা সমস্যা সংশোধন করার জন্য ৪ নভেম্বর থেকে ১১ নভেম্বরের মধ্যে শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) এর কাছে ছক অনুযায়ী আবেদনপত্র জমা দিয়ে সংশোধন করতে পারবেন।

পরীক্ষার কোনো জটিলতার সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানরা দায়ী থাকবেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

চলতি বছরে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে ১৪ নভেম্বর। তা চলবে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত। এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে শুধু নৈর্বাচনিক বিষয়ে।

অন্য আবশ্যিক বিষয়ে আগের পাবলিক পরীক্ষার সাবজেক্ট ম্যাপিং করে মূল্যায়নের মাধ্যমে নম্বর দেয়া হবে। এবার চতুর্থ বিষয়েরও পরীক্ষা নেয়া হবে না।

নির্ধারিত সূচিতে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা ৩০ মিনিট এবং বেলা ২টা থেকে ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা হবে।

কবে কোন পরীক্ষা

১৪ নভেম্বর পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়), ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা ও হিসাববিজ্ঞান এবং ১৬ নভেম্বর রসায়ন (তত্ত্বীয়), ১৮ নভেম্বর শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া (তত্ত্বীয়), ২১ নভেম্বর ভূগোল ও পরিবেশ ও ফিন্যান্স ও ব্যাকিং, ২২ নভেম্বর উচ্চতর গণিত (তত্ত্বীয়) ও জীববিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) এবং ২৩ নভেম্বর পৌরনীতি ও নাগরিকতা, অর্থনীতি ও ব্যবসায় উদ্যোগ পরীক্ষা হবে।

যত নম্বরে পরীক্ষা

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার নম্বর বিভাজন প্রকাশ করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। এসএসসি ও এইচএসসির বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থীরা প্রতি বিষয়ে ৩২ নম্বরের পরীক্ষায় অংশ নেবে। এর মধ্যে রচনামূলক ২০ নম্বর ও এমসিকিউতে (নৈর্ব্যক্তিকে) থাকবে ১২ নম্বর। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের বিষয়গুলোয় শিক্ষার্থীরা ৪৫ নম্বরের পরীক্ষা দেবে। এর মধ্যে ৩০ নম্বর রচনামূলক ও ১৫ নম্বরের নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। রচনামূলক ও নৈর্ব্যক্তিকের নম্বরকে ১০০ নম্বরে রূপান্তর করে প্রাপ্ত নম্বর নির্ধারণ করা হবে।

এসএসসির নম্বর বিভাজন

বিজ্ঞান: ঢাকা বোর্ড প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার নম্বর বিভাজনে বলা হয়েছে, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, উচ্চতর গণিত ও জীববিজ্ঞান বিষয়ে পরীক্ষার রচনামূলক অংশে শিক্ষার্থীদের ৩২ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হবে। এর মধ্যে রচনামূলক ২০ আর নৈর্ব্যক্তিক অংশে ১২ নম্বরের পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে পরীক্ষার্থীদের।

বিজ্ঞান বিভাগের রচনামূলক অংশে ৮টি প্রশ্ন থাকলেও যেকোনো দু’টির উত্তর দিতে হবে শিক্ষার্থীদের। ১০ করে ২০ নম্বর। নৈর্ব্যক্তিক অংশে ২৫টি প্রশ্নের মধ্যে ১২টির উত্তর দিতে হবে। এখানে নম্বর ১২। মোট ৩২ নম্বরের পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষা বোর্ড বলছে, বিজ্ঞানে শিক্ষার্থীদের ২০ নম্বরকে ৫০ ও নৈর্ব্যক্তিকের ১২ নম্বরকে ২৫ নম্বরে রূপান্তর করে মোট প্রাপ্ত নম্বর নির্ধারণ করা হবে।

মানবিক ও ব্যবসায়:এসএসসির মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ৪৫ নম্বরের পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। রচনামূলকে ৩০ নম্বর ও নৈর্ব্যক্তিকে ১৫ নম্বরের পরীক্ষা হবে। এর মধ্যে রচনামূলক অংশে ১১টি প্রশ্ন থাকলেও উত্তর দিতে হবে যেকোনো ৩টির। প্রতিটির মান ১০। নৈর্ব্যক্তিকে ৩০টি প্রশ্ন থাকলেও উত্তর দিতে হবে ১৫টির। প্রতিটি প্রশ্নের জন্য ১ নম্বর করে মোট ১৫।

মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ৩০ নম্বরকে ৭০ ও নৈর্ব্যক্তিকের ১৫ নম্বরকে ৩০ নম্বরে রূপান্তর করে শিক্ষার্থীদের মোট নম্বর নির্ধারণ করবে বোর্ড। প্রতিটি বিষয়ের পরীক্ষা ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিটে হবে। রচনামূলক ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট ও নৈর্ব্যক্তিকে সময় ১৫ মিনিট।

আরও পড়ুন:
অধ্যাপক মাহবুব আহসানের মৃত্যুতে ঢাবি উপাচার্যের শোক
কপিরাইটবিষয়ক নিবন্ধেও ঢাবি শিক্ষকের চৌর্যবৃত্তি
ঢাবিতে সশরীরে ক্লাস শুরু ১৭ অক্টোবর
রোববার সবার জন্য খুলছে ঢাবির হল

শেয়ার করুন

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় কুবিতে অনুপস্থিত ১১৪ জন

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় কুবিতে অনুপস্থিত ১১৪ জন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বি’ ইউনিটের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা

পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এমরান কবির চৌধুরী বলেন, ‘আমরা কড়া নিরাপত্তার আওতায় সব বিধি সম্পন্ন করে এবং সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পেরেছি।’

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বি’ ইউনিটের (মানবিক বিভাগ) গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা।

এক ঘণ্টার এই পরীক্ষা রোববার দুপুর ১২টায় শুরু হয়ে শেষ হয় দুপুর ১টায়। এই কেন্দ্রে ২ হাজার ৫০৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ২ হাজার ৩৯১ জন। অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১১৪। উপস্থিতির হার প্রায় ৯৬ শতাংশ।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষা শুরু হওয়ার ৭ এবং ২২ মিনিট পর দুইজন শিক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মানবিক বিবেচনায় তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেয়।

এ ছাড়া বিভিন্ন কারণে দেরিতে আসা শিক্ষার্থীদের সঠিক সময়ে হলে পৌঁছে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের জয় বাংলা বাইক সার্ভিস।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটক থেকেই বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠন, রোভার, বিএনসিসি সার্বিক সহায়তা করেছে।

পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থী উম্মে হানি বলেন, ‘পরীক্ষা দিতে এসে কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সঠিকভাবে পরীক্ষা দিতে পেরেছি এবং সকলেই সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ করেছে।’

মো. মোস্তফা নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘পরীক্ষা দিতে আসার পর কোনো প্রতিবন্ধকতা আসেনি। সবকিছু ঠিক ছিল।’

পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এমরান কবির চৌধুরী বলেন, ‘আমরা কড়া নিরাপত্তার আওতায় সব বিধি সম্পন্ন করে এবং সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পেরেছি।’

‘বি’ ইউনিটের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক এম এম শরীফুল করীম বলেন, “সবার সার্বিক সহযোগিতায় আমরা ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা সুষ্ঠভাবে শেষ করতে পেরেছি।”

দেশের ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবারই প্রথম গুচ্ছভুক্ত হয়ে ভর্তি পরীক্ষা নিচ্ছে। এতে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগ মিলিয়ে আসন রয়েছে ২২ হাজার ১৩টি। এর বিপরীতে আবেদন করেছেন ২ লাখ ৩২ হাজার ৪৫৫ জন শিক্ষার্থী।

এর মধ্যে ‘এ’ ইউনিটে ১ লাখ ৩১ হাজার ৯০১ জন, ‘বি’ ইউনিটে ৬৭ হাজার ১১৭ জন এবং ‘সি’ ইউনিটে ৩৩ হাজার ৪৩৭ শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন।

আরও পড়ুন:
অধ্যাপক মাহবুব আহসানের মৃত্যুতে ঢাবি উপাচার্যের শোক
কপিরাইটবিষয়ক নিবন্ধেও ঢাবি শিক্ষকের চৌর্যবৃত্তি
ঢাবিতে সশরীরে ক্লাস শুরু ১৭ অক্টোবর
রোববার সবার জন্য খুলছে ঢাবির হল

শেয়ার করুন

হলের ছাদের পলেস্তারায় ঢাবি শিক্ষার্থী আহত

হলের ছাদের পলেস্তারায় ঢাবি শিক্ষার্থী আহত

আহত কামরুল হাসান বলেন, ‘আমি ঘুমাচ্ছিলাম। হঠাৎ ওপর থেকে খসে পড়া পলেস্তারার আঘাতে আমার ঘুম ভেঙে যায়। কপালে হাত দিয়ে দেখি রক্ত। এই পলেস্তারা আমার কপালে না পড়ে চোখেও পড়তে পারত। সবাই ঘুম থেকে উঠে দিনের আলো দেখলেও আমি হয়তো আজ চোখের আলো হারাতাম।’

ঘুমন্ত অবস্থায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে রুমের ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে আহত হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী।

রোববার ভোরে হলের ১৩৬ নং রুমে এ ঘটনা ঘটে। আহত কামরুল হাসান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

১৩৬ নং রুমটিতে চার বেডে আটজন শিক্ষার্থী থাকেন। এর মধ্যে একটি বেডে থাকেন কামরুল ও রুমান। রুমান ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থী। ঘটনার সময় রুমান বাড়িতে ছিলেন।

কামরুল হাসানের আরেক রুমমেট আরফাত চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আজ সকাল ছয়টার দিকে আমি পড়ছিলাম। তখন হঠাৎ আওয়াজ হয়। পাশে তাকিয়ে দেখি কামরুল হাসানের ওপর পলেস্তারা পড়েছে। তার কপাল ফেটে যায়। রক্ত চলে আসে। তবে গুরুতর কিছু না হওয়ায় সে ক্লাসে চলে যায়।’

কামরুল হাসান বলেন, ‘আমি ঘুমাচ্ছিলাম। হঠাৎ ওপর থেকে খসে পড়া পলেস্তারার আঘাতে আমার ঘুম ভেঙে যায়। কপালে হাত দিয়ে দেখি রক্ত। এই পলেস্তারা আমার কপালে না পড়ে চোখেও পড়তে পারত। সবাই ঘুম থেকে উঠে দিনের আলো দেখলেও আমি হয়তো আজ চোখের আলো হারাতাম।’

কামরুল বলেন, ‘আজকে হয়তোবা আমার চোখ রক্ষা পেয়েছে, কিন্তু ভবিষ্যতে হলের প্রায় ২ হাজার শিক্ষার্থীর জীবন কি রক্ষা হবে? এসব দেখার কি কেউ আছে? হল কর্তৃপক্ষ ঐতিহ্যের অজুহাত দিয়ে আমাদের হলটি বৃহৎ আকারে সংস্কার করছে না। শিক্ষার্থীদের জীবনের চেয়ে তাদের কাছে ঐতিহ্য রক্ষা বড় হয়ে গেছে। প্রশাসনের কাছে কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ, শিক্ষার্থীদের জীবনের নিরাপত্তা নাকি ঐতিহ্য রক্ষা করা।’

ঘটনার পরপরই প্রাধ্যক্ষকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হলের কর্মচারী তত্ত্বাবধায়ক হালিম। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমি স্যারকে জানিয়েছি। বেলা ১১টার দিকে আমি সেই রুমে যাই। রুমের ছাদ থেকে খসে পড়তে পারে এ রকম পলেস্তারা ফেলে দিয়ে চলে আসি।’

তবে বিকেল পর্যন্ত ঘটনাস্থলে আসেননি হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মজিবুর রহমান।

বিষয়টি জানাতে তিনবার প্রভোস্ট অফিসে গেলেও একবারও প্রভোস্টের সাক্ষাৎ পাননি বলে জানান ভুক্তভোগী কামরুল হাসান।

হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১৭ সালে একবার এবং সবশেষ ২০১৯ সালের শুরুতে হলের ঝুঁকিপূর্ণ সব রুমের ছাদে নতুন পলেস্তারা লাগানো হয়। তবে তা বেশি দিন স্থায়ী হয়নি।

হল তত্ত্বাবধায়ক আবদুল হালিম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশন হলের ঝুঁকিপূর্ণ রুমগুলোর ছাদে নতুন করে পলেস্তারা লাগিয়ে দিয়েছিল। তবে পলেস্তারা লাগানোর পর এসবে পানি দেয়া প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু রুমগুলোতে শিক্ষার্থীরা উঠে যাওয়ায় আর পানি দেয়া সম্ভব হয়নি।

পলেস্তারা খসে পড়ার বিষয়টি অবগত আছেন বলে জানালেন প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মজিবুর রহমান। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। আমি এখন একটা নিয়োগ বোর্ডের ভাইভাতে আছি। ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশনকে বলেছি তারা যেন হলের প্রতিটি রুম চেক করে। আর আহত শিক্ষার্থীর দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে আমি হলে বলে দিচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
অধ্যাপক মাহবুব আহসানের মৃত্যুতে ঢাবি উপাচার্যের শোক
কপিরাইটবিষয়ক নিবন্ধেও ঢাবি শিক্ষকের চৌর্যবৃত্তি
ঢাবিতে সশরীরে ক্লাস শুরু ১৭ অক্টোবর
রোববার সবার জন্য খুলছে ঢাবির হল

শেয়ার করুন