মিউচ্যুয়াল ফান্ডের আকার ১০ গুণ করার পরিকল্পনা

মিউচ্যুয়াল ফান্ডের আকার ১০ গুণ করার পরিকল্পনা

শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম। নিউজবাংলা

এক অনলাইন অনুষ্ঠানে বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম বলেন, ‘গত সপ্তাহেও মিউচুয়াল ফান্ড বিষয়ে কমিশন সভা করেছে। কীভাবে মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতকে ১০ গুণ করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়। এ জন্য এ খাতের সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা প্রয়োজন।’

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম বলেছেন, ‘আমাদের পুঁজিবাজারে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের আকার মাত্র ১৫ হাজার কোটি টাকা। সেটিকে কীভাবে ১০ গুণ করা যায়, তা নিয়ে কাজ চলছে।’

চেয়ারম্যান বলেন, ‘গত সপ্তাহেও মিউচুয়াল ফান্ড বিষয়ে কমিশন সভা করেছে। কীভাবে মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতকে ১০ গুণ করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়। এ জন্য এ খাতের সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা প্রয়োজন।’

বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ উপলক্ষে শনিবার অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিজ অ্যান্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ড (এএএমসিএমএফ) আয়োজিত ‘ইনস্টিটিউশনাল রোল ইন সাসটেইনেবল ফাইন্যান্সিং’বিষয়ক এক অনলাইন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো সর্বশেষ হিসাবে বছরে যে পরিমাণ লভ্যাংশ দিয়েছে, তা অন্য যেকোনো খাতের তুলনায় ঈর্ষণীয়।

‍শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম বলেন, এ বছর মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো ভালো রিটার্ন দিয়েছে। ফলে এ খাতের উন্নয়নের এখনই সময়।

ফান্ডগুলোর প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দেয়ার বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করে তিনি বলেন, ‘আমি যখনই ভারতের আইপিএল খেলা দেখি, তখনই তাদের মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বিজ্ঞাপন দেখি। দেশের মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো নিজেদের প্রচারের খরচ বেশি মনে করলে তা অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে করুক।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি অ্যান্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ডের সভাপতি ড. হাসান ইমাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান। আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হোসেন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

দেশের রাজস্ব আয়েও পুঁজিবাজার বড় অবদান রাখবে বলে জানান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজার থেকে আগে যে পরিমাণ রাজস্ব আদায় করা হতো, সেটি এখন শত ভাগ বেড়ে যাবে। এ জন্য মিউচুয়াল ফান্ড ও বন্ডে সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন। এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলাপ হয়েছে, তিনিও সম্মতি জানিয়েছেন।’

মিউচ্যুয়াল ফান্ড নিয়ে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে প্রশ্নের সম্মুখীন হন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন আমার কাছে অনেকে ব্যাক্তিগতভাবে কোন মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করবেন তা জানতে চান, পাশাপাশি ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরাও মিউচ্যুয়াল ফান্ড নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।’

তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজার স্থিতিশীল করতে মিউচুয়াল ফান্ডের মতো দক্ষ জনবল কোথাও পাওয়া যায় না। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে ভয় ও নেতিবাচক চিন্তা কাজ করে, সে জায়গা তাদের থেকে বের করে নিয়ে আসতে হবে আপনাদেরই।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির হরহামেশাই দ্বিমত পরিলক্ষিত হয়। সম্প্রতি বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানেও চেয়ারম্যান অবণ্টিত লভ্যাংশ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মন্তব্যের সমালোচনা করেন। বলেন, লভ্যাংশ ও আমানত এক জিনিস নয়।

শনিবারের অনুষ্ঠানে বিএসইসির চেয়ারম্যান পুঁজিবাজার বড় হলে ব্যাংকের আয়ও বাড়ে বিষয়টি স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজারে প্রতিদিন ২ থেকে ৩ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়, যার পুরোটাই চলে যায় ব্যাংকে। সুতরাং পুঁজিবাজার বড় হলে মানি মার্কেটের ক্ষতি হবে, এটা মনে করার কিছু নেই। বরং পুঁজিবাজার যত বড় হবে, নানা ফিসহ ব্যাংকের আয় তত বাড়বে।’

আরও পড়ুন:
এবার ব্যাংক-বিমা, রবির উত্থানেও সূচকের পতন
বেক্সিমকোর সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র আগামী বছরের মাঝামাঝি
দ্বিগুণের বেশি শেয়ারের দরপতনে আবার বাড়ল সূচক
সরকারি জ্বালানি কোম্পানির শেয়ারে জোয়ার
পুঁজিবাজারে এখনকার উত্থান-পতন স্বাভাবিক: সালমান

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আয় আরও বেড়েছে কন্টিনেন্টালের

আয় আরও বেড়েছে কন্টিনেন্টালের

তিন প্রান্তিক মিলিয়ে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৭০ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ১ টাকা ৩২ পয়সা।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিমা খাতের কোম্পানি কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স গত বছরের তুলনায় আরও বেশি আয় করার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পেরেছে।

চলতি বছর জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনটি প্রান্তিকেই আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি আয় করেছে কোম্পানিটি।

সোমবার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রকাশ করেছে।

এতে দেখা যায়, এই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৫৩ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ৩৩ পয়সা।

তিন প্রান্তিক মিলিয়ে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৭০ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ১ টাকা ৩২ পয়সা।

এর আগের দুই প্রান্তিকেও কোম্পানিটি আগের বছরের তুলনায় বেশি আয় করতে পেরেছিল।

গত জুন পর্যন্ত দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় ছিল ১ টাকা ১৭ পয়সা। ২০২০ সালে একই সময়ে এই আয় ছিল ৯৯ পয়সা।

এর মধ্যে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে আয় ছিল ৭০ পয়সা। যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৫৬ পয়সা।

এর আগে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি আয় করে ৪৯ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ৪৫ পয়সা।

সেপ্টেম্বর শেষে কন্টিনেন্টালে শেয়ার প্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ২০ টাকা ৫১ পয়সা, যা জুন শেষে ছিল ১৯ টাকা ৮০ পয়সা।

২০২০ সালে শেয়ার প্রতি ১ টাকা ২৯ পয়সা আয় করে ৬০ পয়সা করে নগদ ও প্রতি ১০০ শেয়ারে ৪টি বোনাস শেয়ার দেয়া কোম্পানিটির শেয়ারে বিনিয়োগ করে শেয়ারধারীরা শুরুতে বেশ মুনাফা করলেও সাম্প্রতিক সময়ে হতাশ হয়েছেন।

২০২০ সালের মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এক দফায় এবং চলতি বছরের মার্চের শেষ প্রান্তিক থেকে জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে দ্বিতীয় দফায় শেয়ার মূল্যে ঊর্ধ্বগতি থাকলেও গত চার মাস ধরে দাম কমছে।

গত বছরের মে মাসে শেয়ার মূল্য ২০ টাকার নিচে থাকলেও অক্টোবরে তা ৬০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। পরে তা কমতে কমতে এক পর্যায়ে মার্চের মাঝামাঝি সময়ে ৩০ টাকায় নেমে আসে। এরপর আরেক দফা উত্থানে মে মাস নাগাদ আবার ৬০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। তবে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া দর সংশোধনে দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৪৬ টাকা ২০ পয়সা।

আরও পড়ুন:
এবার ব্যাংক-বিমা, রবির উত্থানেও সূচকের পতন
বেক্সিমকোর সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র আগামী বছরের মাঝামাঝি
দ্বিগুণের বেশি শেয়ারের দরপতনে আবার বাড়ল সূচক
সরকারি জ্বালানি কোম্পানির শেয়ারে জোয়ার
পুঁজিবাজারে এখনকার উত্থান-পতন স্বাভাবিক: সালমান

শেয়ার করুন

আয় কমেছে সিঙ্গারের

আয় কমেছে সিঙ্গারের

তৃতীয় প্রান্তিকের আয় মিলিয়ে গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে সিঙ্গারের আয় দাঁড়িয়েছে ৫ টাকা ৯৭ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় ছিল ৬ টাকা ২৯ পয়সা।

জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে ব্যবসা খারাপ হওয়ার প্রভাবে চলতি অর্থবছরে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানি সিঙ্গার বিডির আয় কমে গেছে।

জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় তিন ভাগের এক ভাগ হয়ে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে।

এই তিন মাসে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ২৮ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে শেয়ার প্রতি আয় ছিল ৪ টাকা ২৮ পয়সা।

সোমবার কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ তৃতীয় প্রান্তিকের এই অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর তা প্রকাশ করে।

তৃতীয় প্রান্তিকের আয় মিলিয়ে গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে সিঙ্গারের আয় দাঁড়িয়েছে ৫ টাকা ৯৭ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় ছিল ৬ টাকা ২৯ পয়সা।

গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আর্থিক হিসাবে কোম্পানিটি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ আয় করেছিল। চলতি বছর শেয়ার প্রতি এই আয় ছিল ৪ টাকা ৬৯ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ২ টাকা ২ পয়সা।

আয় কিছুটা কমলেও কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদমূল্য বাড়ছে। সেপ্টেম্বর শেষে এই সম্পদমূল্য হয়েছে ৩৫ টাকা। গত ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছর শেষে শেয়ার প্রতি এই সম্পদমূল্য ছিল ৩২ টাকা ১৯ পয়সা।

গত অর্থবছরে শেয়ার প্রতি ৭ টাকা ৮৫ পয়সা আয় করে সিঙ্গার ৩ টাকা করে লভ্যাংশ দিয়েছিল।

কোম্পানিটির শেয়ারদর গত এক বছরে ১৫৮ টাকা ৫০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ২১৪ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত উঠানামা করেছে।

গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া বাজার সংশোধনে অন্যান্য কোম্পানির পাশাপাশি মৌলভিত্তির এই কোম্পানিটির শেয়ারও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে দর হারিয়েছে।

এই আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের দিন শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ১৮৩ টাকা ২০ পয়সা।

গত ৫ সপ্তাহে শেয়ারদর কমেছে ২৫ টাকার বেশি।

আরও পড়ুন:
এবার ব্যাংক-বিমা, রবির উত্থানেও সূচকের পতন
বেক্সিমকোর সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র আগামী বছরের মাঝামাঝি
দ্বিগুণের বেশি শেয়ারের দরপতনে আবার বাড়ল সূচক
সরকারি জ্বালানি কোম্পানির শেয়ারে জোয়ার
পুঁজিবাজারে এখনকার উত্থান-পতন স্বাভাবিক: সালমান

শেয়ার করুন

ফারইস্টের পুনর্গঠিত কমিটির চেয়ারম্যানের পদত্যাগ

ফারইস্টের পুনর্গঠিত কমিটির চেয়ারম্যানের পদত্যাগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের অধ্যাপক ও ডিন রহমত উল্লাহ লেখেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে তাকে অনেক বেশি ব্যস্ত থাকতে হয়। তাই সময়ের অভাবে ফারইস্টের দায়িত্ব পালন একেবারেই অসম্ভব।

পুঁজিবাজার তালিকাভুক্ত বিমা খাতের কোম্পানি ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির পুনগঠন করা বোর্ডের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ রহমত উল্লাহ পদত্যাগ করেছেন।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ এ সক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে। এতে এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে ‘ব্যক্তিগত ব্যস্ততার’ কথা তুলে ধরা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের অধ্যাপক ও ডিন রহমত উল্লাহ লেখেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে তাকে অনেক বেশি ব্যস্ত থাকতে হয়। তাই সময়ের অভাবে ফারইস্টের দায়িত্ব পালন একেবারেই অসম্ভব।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আইডিআরএ নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র এস এম শাকিল আক্তার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত।’

রহমত উল্লাগ যে কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন তার বাইরে কোনো বিষয় আছে কি না, এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘কিছু কারণ তো থাকেই। পুনর্গঠন করা বোর্ডের চেয়ারম্যান কিন্তু কোম্পানির চেয়ারম্যানের মতো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না, তারা শুধু পরামর্শ দিতে পারে।

তিনি বলেন, ‘বিমা কোম্পানি চালানোর জন্য এ খাতের দক্ষ লোক প্রয়োজন। বাইরে থেকে কাউকে এনে বাসলে তার সেটি আয়ত্বে নিতে অনেক সময় প্রয়োজন হয়। সে সময়টা অনেকে দিতে চান না।’

গত ১ সেপ্টেম্বর বিএসইসি ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সে রহমত উল্লাহসহ নয়জন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেয়ার মাধ্যমে আগের পর্ষদ ভেঙে দেয় বিএসইসি।

নতুন বোর্ডকে আগামী ৬ মাসের মধ্যে তাদের কোম্পানির শীর্ষ ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন, করপোরেট ক্যাশ ও সম্পদ ফিরিয়ে আনা, যারা গত ১০ বছরে কোম্পানিতে আর্থিক অপরাধ ও মানি লন্ডারিং করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

নবনির্বাচিত পর্ষদ কোম্পানিটির করপোরেট গভর্নেন্স ২০১৮ আইন অনুসারে একটি নিরীক্ষা কমিটি গঠন করবে বলেও জানানো হয়। একটি নমিনেশন ও রিমুন্যারেশন কমিটি গঠন করার জন্যও বলা হয়।

পুনগঠন করা বোর্ড দায়িত্ব নেয়ার ১৫ দিনের মধ্যে নানা অনিয়মের অভিযোগে কোম্পানিটির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হেমায়েত উল্লাহকে অপসারণ করে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।

এর আগে বিএসইসি যেসব কোম্পানির পর্ষদ পুনগঠন করেছিল সেগুলো ছিল লোকসানি অথবা বন্ধ। উদ্যোক্তা পরিচালকদের ৩০ শতাংশ শেয়ার না থাকলেও পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে।

এসব কোম্পানির মধ্যে আলহাজ্ব টেক্সটাইল ও রিংসাইন টেক্সটাইল এরই মধ্যে উৎপাদন শুরু করেছে। এমারেল্ড অয়েল ১ সেপ্টেম্বর উৎপাদনের ঘোষণা দিয়েও পারেনি।

বাকিগুলোর মধ্যে সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলকে অধিগ্রহণে অনুমতি দেয়া হয়েছে আলিফ গ্রুপকে। ফ্যামিলি টেক্স চালু আছে বলে নতুন পর্ষদ দেখতে পেয়েছে।

এই বোর্ড পুনর্গঠন ইস্যুতে প্রায় সবগুলো কোম্পানির শেয়ার দর অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। আদৌ উৎপাদনে আসা নিয়ে সংশয় থাকা, বা কার্যক্রম চালু হলেও কবে মুনাফায় ফিরবে এ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকার পরেও কোনো কোনো কোম্পানির শেয়ারদর দ্বিগুণ, কোনোটির তিন গুণ, কোনোটির চারগুণ হয়েছে।

ফারইস্ট ইসলামী লাইফের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে ৩০ শতাংশ শেয়ার আছে। ২০২০ সালে লভ্যাংশ ছাড়া বাকি বছরগুলোর নিয়মিত লভ্যাংশও দিয়ে আসছে। কোম্পানিটি পুনর্গঠন করার উদ্দেশ্য আর্থিক অনিয়ম ঠেকানো।

আরও পড়ুন:
এবার ব্যাংক-বিমা, রবির উত্থানেও সূচকের পতন
বেক্সিমকোর সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র আগামী বছরের মাঝামাঝি
দ্বিগুণের বেশি শেয়ারের দরপতনে আবার বাড়ল সূচক
সরকারি জ্বালানি কোম্পানির শেয়ারে জোয়ার
পুঁজিবাজারে এখনকার উত্থান-পতন স্বাভাবিক: সালমান

শেয়ার করুন

শেয়ারে ১ টাকা ১০ পয়সা লভ্যাংশ দেবে লাভেলো আইসক্রিম

শেয়ারে ১ টাকা ১০ পয়সা লভ্যাংশ দেবে লাভেলো আইসক্রিম

সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৪১ পয়সা। তালিকাভুক্ত হওয়ার আগে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছিল ১ টাকা ৩১ পয়সা। এই আয়ের মধ্যে সিংহভাগই হয়েছে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত চতুর্থ প্রান্তিকে। মার্চে তৃতীয় প্রান্তিক শেষে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় ছির ৭৬ পয়সা। পরের তিন মাসে আয় হয় ৬৫ পয়সা।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর আয় সামান্য বাড়াতে পেরেছে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের কোম্পানি লাভেলো আইসক্রিম। গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য বিনিয়োগকারীদেরকে ১১ শতাংশ নগদ, অর্থাৎ শেয়ার প্রতি ১ টাকা ১০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটি।

সোমবার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।

সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৪১ পয়সা। তালিকাভুক্ত হওয়ার আগে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছিল ১ টাকা ৩১ পয়সা।

এই আয়ের মধ্যে সিংহভাগই হয়েছে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত চতুর্থ প্রান্তিকে। মার্চে তৃতীয় প্রান্তিক শেষে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় ছির ৭৬ পয়সা। পরের তিন মাসে আয় হয় ৬৫ পয়সা।

কোম্পানিটি তালিকাভুক্ত হওয়ার সময় শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য ১২ টাকা ৭৫ পয়সা। গত ৩০ জুনেও তাই ছিল।

যারা লভ্যাংশ নিতে চান, তাদেরকে আগামী ১৭ নভেম্বর শেয়ার ধরে রাখতে হবে। অর্থাৎ সেদিন হবে রেকর্ড ডেট।

লভ্যাংশ চূড়ান্ত করতে বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএম ডাকা হয়েছে আগামী ২৮ ডিসেম্বর।

১০ টাকা অভিহিত মূল্যে গত ৯ ফেব্রুয়ারি কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। প্রথম দুই দিন ৫০ শতাংশ করে শেয়ার দর ২২ টাকা ৫০ শতাংশ হয়ে যায়।

সে সময় শেয়ার দর টানা দাম বেড়ে ২৭ টাকা ৫০ পয়সা হয়ে গেছেও পরে দাম কমে ২০ টাকা হয়ে যায়। গত মে মাস থেকে ধাপে ধাপে শেয়ার দর বাড়তে বাড়তে সর্বোচ্চ দাম হয়ে যায় ৪০ টাকা।

তবে লভ্যাংশ ঘোষণার দিন শেয়ার দর কিছুটা কমে হয়েছে ৩৫ টাকা ৮০ পয়সা।

আরও পড়ুন:
এবার ব্যাংক-বিমা, রবির উত্থানেও সূচকের পতন
বেক্সিমকোর সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র আগামী বছরের মাঝামাঝি
দ্বিগুণের বেশি শেয়ারের দরপতনে আবার বাড়ল সূচক
সরকারি জ্বালানি কোম্পানির শেয়ারে জোয়ার
পুঁজিবাজারে এখনকার উত্থান-পতন স্বাভাবিক: সালমান

শেয়ার করুন

টানা পতনের ষষ্ঠ দিনে ধস, লেনদেন তলানিতে

টানা পতনের ষষ্ঠ দিনে ধস, লেনদেন তলানিতে

টানা পতনে হতাশ হয়ে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা। ফাইল ছবি

গত ১১ অক্টোবর থেকে টানা যে পতন শুরু হলো, তাতে ছয় দিনেই পড়ল ২৭০ পয়েন্ট। গত ১৬ থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারিও এত বেশি সূচক পড়েনি। সে সময় ৬ দিনে সূচক পড়েছিল ২২৮ পয়েন্ট।

যত সংখ্যক শেয়ারের দর বেড়েছে, পতন হওয়া কোম্পানির সংখ্যা তার প্রায় ১০ গুণ। এক বছরের বেশি সময় ধরে চাঙা থাকা পুঁজিবাজারে হঠাৎ করেই যে পতন শুরু, সেখান থেকে বের হওয়ার যেন কোনো নাম নেই।

গত ফেব্রুয়ারির মতো টানা ছয় দিনের পতনের দিনে সোমবার এক পর্যায়ে সূচক একশ পয়েন্টের বেশি পড়ে গেলেও দিনের শেষ বেলায় অবশ্য কিছুটা উঠে।

তার পরেও ৮৯ পয়েন্ট সূচকের পতনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চিড় ধরা আত্মবিশ্বাস আরেকটু নড়বড়ে হলো।

গত ১১ অক্টোবর থেকে টানা যে পতন শুরু হলো, তাতে ছয় দিনেই পড়ল ২৭০ পয়েন্ট। গত ১৬ থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারিও এত বেশি সূচক পড়েনি। সে সময় ৬ দিনে সূচক পড়েছিল ২২৮ পয়েন্ট।

কেবল শেয়ার দর না, সেই সঙ্গে কমছে লেনদেন। গত ২৯ জুনের পর সোমবারই সবচেয়ে কম সংখ্যক শেয়ার হাতবদল হয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে।

দিন শেষে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৩৯২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। ২৯ জুন এর চেয় কম লেনদেন ছিল ১ হাজার ১৪৮ কোটি ৮ লাখ টাকা।

লেনদেন হওয়া কোম্পানির মধ্যে বেড়েছে কেবল ৩৩টির দর। বিপরীতে কমেছে ৩২৪টির।

গত ৫ এপ্রিল থেকে লকডাউন ঘোষণার পর আগের দিন আতঙ্কে যে পতন হয়েছিল, এরপর এমন দিন আর আসেনি। সেদিন কেবল ৬টি কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছিল। তবে এত বেশি শেয়ারের দরপতন হয়নি। এর কারণ, সে সময় ফ্লোর প্রাইস থাকায় শতাধিক কোম্পানির শেয়ারের দাম একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের বেশি কমা সম্ভব ছিল না। কিন্তু এখন ফ্লোর প্রাইস না থাকায় শেয়ার দর কমার কোনো সীমা নেই।

টানা পতনের ষষ্ঠ দিনে ধস, লেনদেন তলানিতে
সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের চিত্র

গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে যখন দর সংশোধন শুরু হয়, প্রথমে দুর্বল ও লোকসানি কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর বেশি কমছিল। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে বড় মূলধনি, কোম্পানিগুলোও দর হারাতে থাকে। টানা পরপতন অব্যাহত থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক।

সোমবারের পতনের বিষয়ে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ভিআইপিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও শহিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুঁজিবাজারে যে পতন হয়েছে স্বল্প সময়ের জন্য এমনটি হতে পারে। তবে সূচকের পতনটি কিছুটা সময় নিয়ে হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। আর সূচক শত পয়েন্টের বেশি নেমে আসলে স্বাভাবিকভাবেই সেটিকে অস্বাভাবিক মনে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সচেতনতাটি তৈরি হওয়া উচিত। তারা যেন আতঙ্কে শেয়ার বিক্রি না করে। তাহলে আল্টিমেটলি পুঁজিবাজার ভালো হওয়ার চেয়ে খারাপই হবে।’

আগের দিন একই ৩০ পয়েন্টের বেশি সূচক বাড়ানো ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো কোম্পানির শেয়ারদর কমায় সূচক কমেছে ১১.৭৫ পয়েন্ট। বড় মূলধনি অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে গ্রামীণ ফোরন, ওয়ালটন, স্কয়ার ফার্মা, আইসিবি, বেক্সিমকো ফার্মা, ব্র্যাক ব্যাংক, পাওয়ার গ্রিড, শাহজিবাজার পাওয়া ও তিতাস গ্যাসের কারণে সূচক কমেছে সবচেয়ে বেশি।

টানা পতনের ষষ্ঠ দিনে ধস, লেনদেন তলানিতে
সূচকের বড় পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখা ১০ কোম্পানি

এই ১০টি কোম্পানির কারণেই সূচক পড়েছে ৪৯.১৭ পয়েন্ট।

অন্যদিকে যে ১০টি কোম্পানি সূচক বাড়িয়েছে সেগুলো হলো ইউনাইটেড পাওয়ার, বিএসআরএম লিমিটেড, রবি, সাউথবাংলা ব্যাংক, ওরিয়ন ফার্মা, সোনালী পেপার, এনআরবিসি, হেইডেলবার্গ সিমেন্ট, ফরচুর সুজ ও ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স। তবে এসব শেয়ারের দর বৃদ্ধির হার ও শেয়ার সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকায় এই ১০ কোম্পানি সূচকে যোগ করেছে কেবল ১২.১৪ পয়েন্ট।

টানা পতনের ষষ্ঠ দিনে ধস, লেনদেন তলানিতে
সূচক বাড়ানো ১০টি কোম্পানি যোগ করেছে কেবল ১২ পয়েন্ট

এদিন দর বৃদ্ধিতে এগিয়ে ছিল মৌলভিত্তির ‘এ‘ ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলো।

তবে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে গোল্ডেনসন, যেটি গত কয়েকবছর লোকসানের বৃত্ত ভেঙে এবার মুনাফার মুখ দেখছি। কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ৯.৭৫ শতাংশ।

এছাড়া সাউথবাংলা ব্যাংকের শেয়ার দর বেড়েছে ৫.২৩ শতাংশ। বিএসআরএম এর শেয়ার দর বেড়েছে ৪.৪৭ শতাংশ।

চার খাতে শতভাগ শেয়ারের পতন

চার খাতের একটি কোম্পানির শেয়ার দরও বাড়েনি। এরমধ্যে আছে খাদ্য ও আনুষাঙ্গিক, সিরামিক, ভ্রমন ও অবকাশ, পাট খাত।

খাদ্য ও আনুষাঙ্গিক খাতের ২০টি কোম্পানির সবগুলোর দর পতন সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায়নি।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৮.১০ শতাংশ দর হারিয়েছে মেঘনা কনডেনসড মিল্ক। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ দর হারিয়েছে এমারেল্ড অয়েলের দর। এপেক্স ফুডের দর কমেছে ৪.৬০ শতাংশ। জেমিনি সি ফুডের দর কমেছে ৪.১০ শতাংশ, মেঘনা পেটের ৪ শতাংশ।

টানা পতনের ষষ্ঠ দিনে ধস, লেনদেন তলানিতে
খাদ্যসহ মোট চারটি খাতে সবগুলো কোম্পানির শেয়ারের দরপতন হয়েছে

ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের তালিকাভুক্ত আছে তিনটি কোম্পানি। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে পেনিনসুলার ১.৯৯ শতাংশ। শেয়ার দর ৩০ টাকা থেকে কমে হয়েছে ২৯ টাকা ৪০ পয়সা।

তারপরই আছে ইউনিক হোটেল, যার শেয়ার দর কমেছে ১.৮৫ শতাংশ। সি পার্ল হোটেলের শেয়ার দর কমেছে দশমিক ২১ শতাংশ।

পাট খাতে সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে ‘জেড‘ ক্যাটাগরির জুট স্পিনার্স। ২.৯৮ শতাংশ কমেছে এর দর। এছাড়া নর্দনা জুন ২.৫০ ও সোনালী আশ ২.৫৪ শতাংশ শেয়ার দর হারিয়েছে।

সূচকের বড় পতনে নিভু আলো ব্যাংক বিমায়

অন্য খাতের যেখানে কোম্পানির শেয়ারের দর বৃদ্ধি নিয়ে টানাটানি সেখানে এমন পতনে মুখেও ব্যাংক ও বিমা খাতের শেয়ার দর বৃদ্ধিতে কিছুটা আশার আলো দেখা গেছে।

এদিন ব্যাংক খাতের কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ৭টির। দর হারিয়েছে ১৯টি কোম্পানি। তবে পতনের হার বেশ কম।

টানা পতনের ষষ্ঠ দিনে ধস, লেনদেন তলানিতে
৩২৪টি কোম্পানির দরপতনের ভিড়ে ব্যাংক খাতে পতনের হার ছিল কম

এ খাতের সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ২.৫৭ শতাংশ। আইএফআইসি ব্যাংকের শেয়ার দর কমেছে ২.১৩ শতাংশ। আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার দর কমেছে ১.৭৬ শতাংশ।

অপরদিকে দর বেড়েছে সাউথবাংলা, এমটিবি, এনআরবিসি, সাউথইস্ট, ইউসিবি, উত্তরা, সিটি ব্যাংক।

বিমা খাতের লেনদেনে জীবন বিমা খাতের কোনো কোম্পানির শেয়ার দর বাড়েনি। যে চারটি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে সবগুলোই সাধারণ বিমা খাতের।

লেনদেনে ৪৬টি কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে।

দর বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে আছে ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স, এশিয়া প্যাসিফিক, রূপালী ইন্স্যুরেন্স ও সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্স।

সূচক লেনদেন

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৮৯ দশমিক ১৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৯৭ দশমিক ২৭ পয়েন্টে।

শরিয়াভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস ২১ দশমিক ১৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫২৫ দশমিক ১৭ পয়েন্টে।

বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক ২৬ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৭৮ দশমিক ৫৫ পয়েন্টে।

দিনশেষে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
এবার ব্যাংক-বিমা, রবির উত্থানেও সূচকের পতন
বেক্সিমকোর সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র আগামী বছরের মাঝামাঝি
দ্বিগুণের বেশি শেয়ারের দরপতনে আবার বাড়ল সূচক
সরকারি জ্বালানি কোম্পানির শেয়ারে জোয়ার
পুঁজিবাজারে এখনকার উত্থান-পতন স্বাভাবিক: সালমান

শেয়ার করুন

টানা তিন প্রান্তিকে আয় বাড়াল আইপিডিসি

টানা তিন প্রান্তিকে আয় বাড়াল আইপিডিসি

কোম্পানিটি গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে শেয়ার প্রতি ১ টাকা ১১ পয়সা আয় করে। আগের বছর গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ৮৫ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে আগের বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি আয় করার পর তিন প্রান্তিক মিলিয়ে আয় দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৭০ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৩৫ পয়সা।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠান আইপিডিসি ফাইন্যান্স বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিকেও আয় কিছুটা বাড়াতে পেরেছে।

এই তিন মাসে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৫৯ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ৫০ পয়সা। অর্থাৎ আয় বেড়েছে ৯ পয়সা বা ১৮ শতাংশ।

এ নিয়ে চলতি বছরের তিন প্রান্তিকেই কোম্পানিটির আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বাড়ল।

গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৭০ পয়সা, যা গত বছরের এই সময়ে ১ টাকা ৩৫ পয়সা ছিল। অর্থাৎ আয় বেড়েছে ২৫.৯২ শতাংশ।

রোববার কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এই আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর তা প্রকাশ করা হয়।

এর আগে জুন পর্যন্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় আয় বাড়িয়েছিল ৩০ শতাংশের বেশি।

কোম্পানিটি গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে শেয়ার প্রতি ১ টাকা ১১ পয়সা আয় করে। আগের বছর গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ৮৫ পয়সা।

এর মধ্যে দ্বিতীয় প্রান্তিকে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত আয় হয়েছিল শেয়ার প্রতি ৫৫ পয়সার কিছুটা বেশি। আগের বছর এই আয় ছিল ৪৫ পয়সা।

আর জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রথম প্রান্তিকে আয় হয়েছিল ৫৫ পয়সার কিছুটা কম। আগের বছর একই সময়ে আয় ছিল ৪০ পয়সা।

আয়ের পাশাপাশি সম্পদমূল্যও বেড়েছে আইপিডিসির। গত ৩০ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য ছিল ১৬ টাকা ৪৮ পয়সা। জুন শেষে সম্পদমূল্য ছিল ১৫ টাকা ৮৮ পয়সা।

২০২০ সালের ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি ১ টাকা ৯০ পয়সা আয় করে ১ টাকা ২০ পয়সা লভ্যাংশ দিয়েছিল আইপিডিসি।

লভ্যাংশ শেষে গত কোম্পানিটির শেয়ার দরে উল্লম্ফন হয়েছে। লভ্যাংশ ঘোষণার সময় কোম্পানিটির শেয়ার মূল্য ছিল ২৬ টাকা ৮০ পয়সা। সম্প্রতি তা বেড়ে এক পর্যায়ে ৪৯ টাকা ৭০ পয়সা হয়ে যায়। এটি গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দর।

তবে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে শেয়ার মূল্য কমতে শুরু করেছে। রোববার শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ৪১ টাকা ৭০ পয়সা।

আরও পড়ুন:
এবার ব্যাংক-বিমা, রবির উত্থানেও সূচকের পতন
বেক্সিমকোর সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র আগামী বছরের মাঝামাঝি
দ্বিগুণের বেশি শেয়ারের দরপতনে আবার বাড়ল সূচক
সরকারি জ্বালানি কোম্পানির শেয়ারে জোয়ার
পুঁজিবাজারে এখনকার উত্থান-পতন স্বাভাবিক: সালমান

শেয়ার করুন

ছয় বছরে সর্বনিম্ন আয়ের পর সবচেয়ে কম লভ্যাংশ নাহীর

ছয় বছরে সর্বনিম্ন আয়ের পর সবচেয়ে কম লভ্যাংশ নাহীর

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নাহী অ্যালুমিনিয়ামের পণ্য

২০২০ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ২ টাকা ১৫ পয়সা। আগের বছর এই আয় ছিল ২ টাকা ৪৭ পয়সা। ওই বছর শেয়ার প্রতি ৮০ পয়সা নগদ লভ্যাংশের পাশাপাশি ৭ শতাংশ অর্থাৎ প্রতি ১০০টি শেয়ারে ৭টি বোনাস শেয়ার দিয়েছিল কোম্পানিটি।

পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানি নাহী অ্যালুমিনিয়াম গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি এক টাকা অর্থাৎ ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

২০১৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর শেয়ার প্রতি সর্বনিম্ন আয় করার পর ইতিহাসের সবচেয়ে কম লভ্যাংশ দিতে যাচ্ছে কোম্পানিটি।

রোববার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের হিসাব পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

এতে জানানো হয় ২০২০ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ২ টাকা ১৫ পয়সা।

আগের বছর এই আয় ছিল ২ টাকা ৪৭ পয়সা। ওই বছর শেয়ার প্রতি ৮০ পয়সা নগদ লভ্যাংশের পাশাপাশি ৭ শতাংশ অর্থাৎ প্রতি ১০০টি শেয়ারে ৭টি বোনাস শেয়ার দিয়েছিল কোম্পানিটি।

এর আগে তালিকাভুক্ত হওয়ার বছরে ২০১৭ সালে শেয়ার প্রতি ২ টাকা ৫৬ পয়সা আয় করে ৫০ পয়সা নগদ ও প্রতি ১০টি শেয়ারে একটি বোনাস দিয়েছিল কোম্পানিটি।

পরের বছর শেয়ার প্রতি আয় আরও বেড়ে হয় ৩ টাকা ৮ পয়সা। বাড়ে লভ্যাংশও। ওই বছর প্রতি ১০টি শেয়ারে একটি বোনাসের পাশাপাশি শেয়ার প্রতি ৭০ পয়সা দেয়া হয় নগদ।

২০১৯ সালে শেয়ার প্রতি আয় আরও বেড়ে হয় ৩ টাকা ৭৮ পয়সা। তবে কমে লভ্যাংশ। সে বছর ২০১৭ সালের মতোই শেয়ার প্রতি ৫০ পয়সা নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাস দেয়া হয়।

তালিকাভুক্ত হওয়ার আগের বছর ২০১৬ সালে নাহীর শেয়ার প্রতি আয় ছিল ২ টাকা ৩৩ পয়সা।

এবার আয় কমলেও শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য সামান্য বেড়েছে। ২০২০ সালে এই সম্পদমূল্য ছিল ১৭ টাকা ৯ পয়সা। ৭ শতাংশ বোনাস শেয়ার যুক্ত হওয়ার পরেও এক বছর শেষে তা বেড়ে হয়েছে ১৭ টাকা ৩৮ পয়সা।

যারা এবার লভ্যাংশ নিতে চান, তাদেরকে আগামী ১০ নভেম্বর শেয়ার ধরে রাখতে হবে। অর্থাৎ, সেদিন রেকর্ড ডেটে লেনদেন থাকবে স্থগিত।
আগামী ১৫ ডিসেম্বর বার্ষিক সাধারণ সভায় এই লভ্যাংশ অনুমোদন হবে।

আরও পড়ুন:
এবার ব্যাংক-বিমা, রবির উত্থানেও সূচকের পতন
বেক্সিমকোর সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র আগামী বছরের মাঝামাঝি
দ্বিগুণের বেশি শেয়ারের দরপতনে আবার বাড়ল সূচক
সরকারি জ্বালানি কোম্পানির শেয়ারে জোয়ার
পুঁজিবাজারে এখনকার উত্থান-পতন স্বাভাবিক: সালমান

শেয়ার করুন