আনোয়ার নিয়ে উচ্চাশার প্রভাব নেই আয়-লভ্যাংশে

আনোয়ার নিয়ে উচ্চাশার প্রভাব নেই আয়-লভ্যাংশে

গত বছরের মে মাসেও কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিল ৬৭ টাকা ৫০ পয়সা। চলতি বছরের এপ্রিলের শুরুতে তা দাঁড়ায় ৯৪ টাকা ৭০ পয়সা। এরপর ছয় মাসে সেখান থেকে দাম প্রায় পাঁচ গুণ হয়ে একপর্যায়ে ওঠে ৪৮৩ টাকা। তবে শেষ পর্যন্ত দেখা গেল কোম্পানির আয় ও লভ্যাংশে আহামরি কোনো প্রবৃদ্ধি হয়নি।

গত ছয় মাসে নানা গুঞ্জনে শেয়ার দর পাঁচ গুণ বাড়লেও প্রকৌশল খাতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি আনোয়ার গ্যালভানাইজিংয়ের আয় ও লভ্যাংশ খুব একটা বেড়েছে, এমনটি বলার সুযোগ নেই।

গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় শেয়ারপ্রতি আয় ১ টাকা ৮৯ পয়সা বাড়ার পর কোম্পানিটি লভ্যাংশ বাড়িয়েছে ১৫ শতাংশ।

শনিবার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২০ শতাংশ নগদ এবং ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা শেয়ারপ্রতি পাবেন ২ টাকা করে আর প্রতি ১০টি শেয়ারের বিপরীতে একটি পাবেন বোনাস শেয়ার হিসেবে।

কোম্পানিটির সচিব তাওহিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত তাদের শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৩ টাকা ৯২ পয়সা।

এই লভ্যাংশ নিতে চাইলে আগামী ১৮ নভেম্বর শেয়ার ধরে রাখতে হবে বিনিয়োগকারীদের। অর্থাৎ সেদিন হবে রেকর্ড ডেট। এই লভ্যাংশ চূড়ান্ত হবে আগামী ১২ জানুয়ারির বার্ষিক সাধারণ সভায়।

২০১৬ সালের পর থেকে এবারই সর্বোচ্চ আয় করে সবচেয়ে বেশি লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি।

আগের বছর শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছিল ২ টাকা ৩ পয়সা।

২০২০ সালে শেয়ারপ্রতি ১ টাকা নগদের পাশাপাশি প্রতি ২০টি শেয়ারে একটি বোনাস শেয়ার দিয়েছিল কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ। এর আগের চার বছর টানা ১০ শতাংশ করে লভ্যাংশ দেয়া হয়েছে, যার মধ্যে ২০১৭ সালে ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার দেয়া হয়েছিল। বাকি তিন বছর শেয়ারপ্রতি ১ টাকা করে নগদ লভ্যাংশ দেয়া হয়েছিল।

শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্যও বেড়েছে কিছুটা। আগের বছর এই সম্পদমূল্য ছিল ১০ টাকা ৮৫ পয়সা, এবার তা বেড়ে হয়েছে ১৩ টাকা ৩১ পয়সা।

এই কোম্পানিটির আয় ও লভ্যাংশে প্রবৃদ্ধির বিষয়টি নিঃসন্দেহে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তির খবর। তবে গত এক বছরে শেয়ার দর যেভাবে পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটেছে, তাতে এই আয় ও লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের কতটা খুশি করতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।

গত বছর করোনা সংক্রমণের পর পুঁজিবাজারে কোম্পানিটির শেয়ার দর একপর্যায়ে ৫৭ টাকা ৮০ পয়সায় নেমে আসে। এরপর কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বনিম্ন দর বা ফ্লোর প্রাইস ঠিক হয় ৬৭ টাকা ৫০ পয়সা।

এই দামেই বেশ কিছুদিন হাতবদল হলেও গত বছরের জুলাই থেকে অবিশ্বাস্য উত্থান শুরু হয় শেয়ার দরে। ব্যবসা সম্প্রসারণ, ব্যাপক মুনাফার সম্ভাবনা ইত্যাদি নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর স্বল্প মূলধনি কোম্পানিটির শেয়ার দর ছুটতে থাকে লাগামহীনভাবে।

গত এপ্রিলের শুরু পর্যন্তও শেয়ার দর ছিল ১০০ টাকার নিচে। ওই মাসের শুরুতে দর ছিল ৯৪ টাকা ৭০ পয়সা। এরপর তা টানা বাড়ে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত। একপর্যায়ে দুর্বল এই কোম্পানিটির শেয়ার দর সর্বোচ্চ ওঠে ৪৮৩ টাকায়। পরে সেখান থেকে কিছুটা কমে বৃহস্পতিবার দাঁড়ায় ৪৪৩ টাকা ৬০ পয়সায়।

১৫ কোটি ২৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা পরিশোধিত কোম্পানিটিতে শেয়ার সংখ্যা ১ কোটি ৫২ লাখ ৬০ হাজার।

এ ধরনের স্বল্প মূলধনি বহু কোম্পানির শেয়ার দরই এই সময়ে বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। তবে সবগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে আনোয়ার গ্যালভানাইজিং। গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া দর সংশোধনে স্বল্প মূলধনি বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ার দরে বড় ধরনের সংশোধন এলেও দর অনেকটাই ধরে রাখতে পেরেছে আনোয়ার গ্যালভানাইজিং।

আরও পড়ুন:
তালিকাভুক্ত হয়ে কমল আয়, ইনডেক্স দেবে শেয়ারে আড়াই টাকা
আয়ের চেয়ে বেশি লভ্যাংশ দেবে ফারইস্ট নিটিং
দেশবন্ধু শেয়ারধারীদেরকে দেবে ৫০ পয়সা করে
মহামারি: ঘুরে দাঁড়িয়ে লভ্যাংশ বাড়াল অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার
শেয়ার প্রতি এক টাকা লভ্যাংশ দেবে বে লিজিং

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আয় আরও বাড়ল এনসিসি ব্যাংকের

আয় আরও বাড়ল এনসিসি ব্যাংকের

তৃতীয় প্রান্তিকের এই আয় যোগ হওয়ায় জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে ব্যাংকটি শেয়ার প্রতি ২ টাকা ৪ পয়সা আয় করেছে। আগের বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ১ টাকা ৬৫ পয়সা। অর্থাৎ আয় বেড়েছে ৩৯ পয়সা বা ২৩.৬৩ শতাংশ।

করোনার বছরে ব্যাংক খাতে আয় বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রাখল পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এনসিসি ব্যাংক। চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকেও আগের বছরের ‍তুলনায় বেশি আয় করেছে।

প্রথম প্রান্তিকে ব্যাংকটির আয় কমে গেলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রান্তিক মিলিয়ে আগের বছরের একই সময়ে তুলনায় প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি আয় করেছে ব্যাংকটি।

গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৭১ পয়সা। গত বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ৫৬ পয়সা।

মঙ্গলবার ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে এই অনিরীক্ষিত আয় পর্যালোচনা করে প্রকাশ করা হয়।

তৃতীয় প্রান্তিকের এই আয় যোগ হওয়ায় জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে ব্যাংকটি শেয়ার প্রতি ২ টাকা ৪ পয়সা আয় করেছে। আগের বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ১ টাকা ৬৫ পয়সা।

অর্থাৎ আয় বেড়েছে ৩৯ পয়সা বা ২৩.৬৩ শতাংশ।

আগের বছর কঠিন সময়েও ব্যাংকটি শেয়ার প্রতি ২ টাকা ৩৬ পয়সা আয় করে চমক দেখিয়েছিল। সে বছর লভ্যাংশ হিসেবে ৭৫ পয়সা নগদ ও সাড়ে ৭ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতি ২০০ শেয়ারে ১৫টি বোনাস শেয়ার দিয়েছিল।

চলতি বছর প্রথম প্রান্তিকে ৫৫ পয়সা ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৮৮ পয়সা আয় করতে পারে ব্যাংকটি।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী গত ৩০ সেপ্টেম্বর ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য ছিল ২১ টাকা ৫৭ পয়সা।

ব্যাংকটির শেয়ার মূল্য দীর্ঘদিন ধরেই সম্পদমূল্যের চেয়ে কম। গত এক বছরে শেয়ারদর সর্বনিম্ন ছিল ১২ টাকা ৭০ পয়সা আর সর্বোচ্চ ১৯ টাকা ১০ পয়সা।

আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের দিন শেয়ার মূল্য ছিল ১৪ টাকা ৮০ পয়সা।

আরও পড়ুন:
তালিকাভুক্ত হয়ে কমল আয়, ইনডেক্স দেবে শেয়ারে আড়াই টাকা
আয়ের চেয়ে বেশি লভ্যাংশ দেবে ফারইস্ট নিটিং
দেশবন্ধু শেয়ারধারীদেরকে দেবে ৫০ পয়সা করে
মহামারি: ঘুরে দাঁড়িয়ে লভ্যাংশ বাড়াল অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার
শেয়ার প্রতি এক টাকা লভ্যাংশ দেবে বে লিজিং

শেয়ার করুন

পুঁজিবাজারে পতনে একটি হাউসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

পুঁজিবাজারে পতনে একটি হাউসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

পুঁজিবাজারের টানা দরপতন নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে বিএসইসির বৈঠক। ছবি: নিউজবাংলা

‘আজকে সকালবেলায় একটি ব্রোকার হাউস থেকে ব্যাড প্লে করা হয়েছে। তাদের হাতে থাকা সব শেয়ার বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। মার্কেট প্রথমে ভালো থাকলেও পরে এ জন্য আর টেকেনি। এটার তদন্ত করে কঠিন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

টানা ছয় দিন দরপতনের পর সপ্তম দিনে যখন পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় ছিল, সে সময় একটি ব্রোকারেজ হাউসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মঙ্গলবার ওই হাউসের হাতে থাকা প্রায় সব শেয়ার বিক্রি করে দেয়া হয়েছে বলে জানতে পেরেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। আর দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত উত্থানে থাকার পর বড় পতনের পেছনে এটি একটি কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার কথা পুঁজিবাজারের বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে বৈঠকে বিএসইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে উত্থানে থাকা পুঁজিবাজার গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে সংশোধনে যায়। তবে গত সপ্তাহ থেকেই বাজারের আচরণ ছিল কিছুটা অস্বাভাবিক। হঠাৎ করেই শুরু হয় টানা পতন।

গত ১৬ থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ছয় দিন পতন হয়েছিল। একইভাবে টানা ছয় দিন সূচক পতনের পর সোমবার রাতেই পুঁজিবাজারের বিভিন্ন অংশীজনদের আলোচনার জন্য ডাকে বিএসইসি। সংস্থাটির কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে বিকেলে এই বৈঠক হয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যালয়ে।

এই বৈঠকের দিনও বড় দরপতন হয়েছে বাজারে। এ নিয়ে টানা সাত দিনে সূচক পড়ল ৩৪৭ পয়েন্ট। এ ঘটনায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শরিফ আনোয়ার হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আজকে সকালবেলায় একটি ব্রোকার হাউস থেকে ব্যাড প্লে করা হয়েছে। তাদের হাতে থাকা সব শেয়ার বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। মার্কেট প্রথমে ভালো থাকলেও পরে এ জন্য আর টেকেনি। এটার তদন্ত করে কঠিন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ওই হাউসের নাম কী- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘নামটা কী, মিটিংয়ে সেটা বলা হয়নি।’

বিএসইসির কমিশনার শেখ শাসমুদ্দিন আহমেদও হাউসটির নাম বলতে চাননি। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এটা সেনসেটিভ বিষয়। এই মুহূর্তে নাম ডিসক্লোজ না করাই ভালো।’

বৈঠকে শরিফ আনোয়ার হোসেন ছাড়াও মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছাইদুর রহমান, ব্যাংক এশিয়া সিকিউরিটিজের সিইও সুমন দাশ, লংকাবাংলা সিকিউরিটিজের প্রতিনিধিসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বিকেল সাড়ে চারটায় শুরু হওয়া এই বৈঠক চলে সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত। বৈঠকের বিষয়ে বিএসইসির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়া হয়নি।

তবে বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা জানান, গুজব ছড়িয়ে পুঁজিবাজারকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত চলছে বলে আলোচনা হয়েছে।

ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শরিফ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা চাই, যারা এ ধরনের কাজ করে, বাজারকে মন্দার দিকে নিয়ে যায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হোক। এ বিষয়ে আমরা সবই একমত হয়েছি।’

বৈঠক শেষে বিএসইসির কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘একটি মহল পুঁজিবাজারকে অস্থিতিশীল করার জন্য গুজব ছড়াচ্ছে। এই বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে।’

বিনিয়োগকারীদের অভয় দিয়ে তিনি বলেন, ‘ভয় পাওয়ার কিছু নেই। পুঁজিবাজারের জন্য আমরা কাজ করছি, চেয়ারম্যানও কাজ করছেন। কোনো ব্যক্তি বা কোনো গোষ্ঠী যদি পুঁজিবাজারের কারসাজি করতে চায় বা ক্ষতি করতে চায়… আমরা এখন অনেক শক্তিশালী, আমরা এখন আইডেনটিফাই করতে পারি।’

শামসুদ্দিন আহমেদ জানান, তারা জানতে পেরেছেন যে বিএসইসি চেয়ারম্যান পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন- এমন গুজব ছড়ানো হয়েছে কিন্তু এর কোনো ভিত্তি নেই।

তিনি বলেন, গুজব হিসেবে যা ছড়ানো হয়েছে, সেটি হলে পুঁজিবাজারের জন্য বরং ভালো হবে। কারণ, মহলটি ছাড়িয়েছে যে বিএসইসি চেয়ারম্যানকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর করা হবে।

শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে অনেক বিষয় নিয়ে আমাদের মতবিরোধ আছে। অবণ্টিত লভ্যাংশ ও আমানতের মধ্যে যে পার্থক্য, সেটি নিয়েও আমাদের মতপার্থক্য আছে। আমাদের চেয়ারম্যান যদি ওখানে যান, তাহলে এটা তো আমাদের আর ব্যাখ্যা করে বলতে হবে না। তাহলে তো সেটা পুঁজিবাজারের জন্য আরও ভালো হবে, আরও সৌভাগ্যের বিষয় হবে।

‘এটা তো লুকোচুরির কিছু নয়। এটা নিয়ে গুজব ছড়ানোর কিছু নেই।’

বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি শুভ সংবাদও দেন বিএসইসি কমিশনার। বলেন, ‘পুঁজিবাজারে ক্ষুদ্র ও ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য ৯০০ কোটি টাকার যে তহবিল করা হয়েছিল, সেটির মেয়াদ ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সেটি সরকারকে আর ফেরত দেয়া লাগবে না। নতুন করে ব্যবহার করা যাবে।’

পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিলে এখন পর্যন্ত কত টাকা জমা পড়েছে, এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অনেক কোম্পানি এখন অবণ্টিত লভ্যাংশ বিতরণ করার কথা জানাচ্ছে। তাদেরও আমরা ধরব। আগে কেন দিলেন না, এখন কোথায় পাচ্ছেন লোকদের। এ বিষয়টিও তদন্ত হবে।’

বিএসইসির মুখপাত্র রেজাউল করিম বলেন, ‘বাজারে তারল্য বাড়ানোর জন্য আলোচনা হয়েছে। পুঁজিবাজারে মধ্যস্থতাকারী বন্ড ইস্যু করলে কমিশন দ্রুত তা অনুমোদন দেবে। অবণ্টিত লভ্যাংশের টাকা যেন বন্ডে বিনিয়োগের মাধ্যমে তারল্য বাড়ানো যায়, সেই বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে। ব্যাংকের ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল পুঁজিবাজারে ব্যবহারে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।’

এই বৈঠকের আগে পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানির সঙ্গে বৈঠক করেন কমিশনার শামসুদ্দিন আহমেদ। সেখানে আরও কোম্পানিতে তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
তালিকাভুক্ত হয়ে কমল আয়, ইনডেক্স দেবে শেয়ারে আড়াই টাকা
আয়ের চেয়ে বেশি লভ্যাংশ দেবে ফারইস্ট নিটিং
দেশবন্ধু শেয়ারধারীদেরকে দেবে ৫০ পয়সা করে
মহামারি: ঘুরে দাঁড়িয়ে লভ্যাংশ বাড়াল অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার
শেয়ার প্রতি এক টাকা লভ্যাংশ দেবে বে লিজিং

শেয়ার করুন

বৈঠক ডাকার খবরেও আরও পতনে আতঙ্ক

বৈঠক ডাকার খবরেও আরও পতনে আতঙ্ক

টানা পতনে টাকা হারিয়ে মুষড়ে পড়েছেন পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা। ফাইল ছবি

টানা পতনের মধ্যে পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বিএসইসির বৈঠক ডাকার খবরে দিনের শুরুতে বাজারে ছিল চাঙাভাব। দুপুর সাড়ে ১২টায়ও সূচক আগের দিনের চেয়ে ৭১ পয়েন্ট বেড়ে লেনদেন হচ্ছিল। কিন্তু পরের দুই ঘণ্টায় সেখান থেকে সূচক পড়ে ১৪৭ পয়েন্ট। টানা সাত দিনে সূচক পড়ল ৩৪৭ পয়েন্ট।

টানা ছয় দিন দরপতনের পর উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বিএসইসির বৈঠক ডাকার দিনও বড় পতন হলো পুঁজিবাজারে।

টানা সাত কর্মদিবস পতন এমনকি গত বছর দেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপের পর ধসের মধ্যেও হয়নি। এ ঘটনায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বহু কোম্পানির শেয়ারে বিক্রেতা থাকলেও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না।

গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে পুঁজিবাজারে যে দর সংশোধন শুরু হয়, তা টানা পঞ্চম সপ্তাহে গড়ানোর পর শুরু হয় ধস। আগের চার সপ্তাহ ছোট মূলধনি ও লোকসানি কোম্পানির শেয়ার দর কমলেও এই সপ্তাহে এসে বড় মূলধনি মৌলভিত্তির বহু কোম্পানির শেয়ার দরও কমতে থাকে।

এর মধ্যে গত ১৬ থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ছয় কর্মদিবস সূচক পড়ার যে ঘটনা ঘটেছিল, সেই স্মৃতিকে ফিরিয়ে আনে সোমবারের লেনদেন।

এক বছরের বেশি সময় ধরে পুঁজিবাজারে চাঙাভাবের মধ্যে এই চিত্র বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করার পর সেদিন রাতেই পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্টদের বৈঠকে ডাকে বিএসইসি। মঙ্গলবার বিকেলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যালয়ে এই বৈঠক হবে।

বৈঠক ডাকার পর দিনের শুরুটা ভালোই ছিল। সকাল ১০টায় লেনদেন শুরু হওয়ার ১৫ মিনিটের মধ্যে সূচক বেড়ে যায় ৮৯ পয়েন্ট। দুপুর সাড়ে ১২টায়ও সূচক আগের দিনের চেয়ে ৭১ পয়েন্ট বেড়ে লেনদেন হচ্ছিল।

এরপর থেকেই শুরু হয় পতন। এর পরের দেড় ঘণ্টায় সেখান থেকে সূচক পড়ে ১৬৯ পয়েন্ট। বেলা ২টা নাগাদ আগের দিনের চেয়ে ৮৬ পয়েন্ট পতনে চলছিল লেনদেন। শেষ আধা ঘণ্টায় সেখান থেকে কিছুটা বেড়ে লেনদেন শেষ হয় ৭৬ পয়েন্ট পতনে।

বৈঠক ডাকার খবরেও আরও পতনে আতঙ্ক
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে দিনের সর্বোচ্চ সূচক থেকে দিন শেষে পার্থক্য ১৬৬ পয়েন্ট

এ নিয়ে গত সাত কর্মদিবসে সূচক পড়েছে ৩৪৭ পয়েন্ট। গত ৫ সেপ্টেম্বরের নিচে নেমে গেছে পুঁজিবাজার।

টানা সপ্তম দিনের পতনে শেয়ার মূল্য তুলনামূলক কম কমেছে ব্যাংক খাতে। তবে গত কয়েক দিনের ধারাবাহিকতায় লেনদেনে দেখা গেছে চাঙাভাব। অন্য যেকোনো খাতের চেয়ে বেশি শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে এই খাতে। মোট লেনদেনের ১৮ শতাংশেরও বেশি হয়েছে এই একটি খাতেই।

অন্যদিকে শেয়ার দর বেড়েছে বিমা খাতে। সাধারণ বিমা খাতের ৩৭টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ২৬টির, কমেছে ৭টির দর। জীবন বিমা খাতের ১৪টি কোম্পানির মধ্যে বেড়েছে ১২টির দর, কমেছে দুটির।

বড় পতন হয়েছে বিডি ল্যাপস, এনআরবিসি ব্যাংক, আরডি ফুড, বিচ হ্যাচারি, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের। এই কোম্পানিগুলোর দর ৭ থেকে ১১ শতাংশ কমেছে।

এ ছাড়া ৬ শতাংশের বেশি ও ৭ শতাংশের কম দর কমেছে ১১টি কোম্পানির, ৫ শতাংশের বেশি ও ৬ শতাংশের কম দর কমেছে ৮টি কোম্পানির, ৪ শতাংশের বেশি ও ৫ শতাংশের কম কমেছে ২৩টি কোম্পানির দর। ৩ শতাংশের বেশি ও ৪ শতাংশের কম কমেছে আরও ৩২টির দর।

সব মিলিয়ে দাম কমেছে ২৫৪টি কোম্পানির শেয়ারের। বেড়েছে ৮৭টির।

বৈঠক ডাকার খবরেও আরও পতনে আতঙ্ক
সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে এই ১০টি কোম্পানি

অন্যদিকে যেগুলোর দাম বেড়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে যেটির, সেটির বেড়েছে ৯.৩৩ শতাংশ। বাকিগুলোর মধ্যে ৮ শতাংশের বেশি বেড়ে একটির দর, ৬ শতাংশের বেশি একটির, ৫ শতাংশের বেশি একটির, ৪ শতাংশের বেশি দুটির, ৩ শতাংশের বেশি ৫টির, ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে ১০টি কোম্পানির শেয়ার দর।

সূচক পতনে সবচেয়ে প্রধান ভূমিকায় ছিল লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানি, বেক্সিমকো ফার্মা, আইসিবি, এনআরবিসি, গ্রামীণফোন, পাওয়ারগ্রিড, তিতাস গ্যাস, বেক্সিমকো লিমিটেড ও হাইডেলবার্গ সিমেন্ট। এই ১০টি কোম্পানিই সূচক কমিয়েছে ৪৪.০৮ পয়েন্ট।

অন্যদিকে সূচক টেনে তোলায় ভূমিকা ছিল যে ১০টি কোম্পানির, সেগুলো সম্মিলিতভাবে বাড়াতে পেরেছে মাত্র ১৪.৬৯ শতাংশ। এর কারণ এগুলোর দাম বাড়লেও হয় বৃদ্ধির হার কম, নয় পরিশোধিত মূলধন কম।

কোম্পানিগুলো হলো ডেল্টা লাইফ, ওয়ালটন, মেরিকো, ইউনাইটেড পাওয়ার, ব্র্যাক ব্যাংক, ইউনিলিভার, মবিল যমুনা, লিনডে বিডি, বিকন ফার্মা ও ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স।

বৈঠক ডাকার খবরেও আরও পতনে আতঙ্ক
এই ১০টি কোম্পানির দর বৃদ্ধিতে সূচক কিছুটা বেড়েছে

দিন শেষে সূচকের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ২০ পয়েন্ট, যা গত ৫ সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন অবস্থান। সেদিন সূচক ছিল ৭ হাজার ৫২ পয়েন্ট।

সূচক কমলেও লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। হাতবদল হয়েছে মোট ১ হাজার ৬৮২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, আগের কর্মদিবসে যা ছিল ১ হাজার ৩৯৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।

বিনিয়োগ এখন ব্যাংকমুখি

সোয়া এক মাস ধরে পুঁজিবাজারে দরপতনের মধ্যে খাতওয়ারি দাম কম কমেছে ব্যাংক খাতে। অন্যদিকে সার্বিকভাবে পুঁজিবাজারে লেনদেন কমতে থাকলেও এই খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে চলেছেন বিনিয়োগকারীরা।

টানা সপ্তম দিন দরপতনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে এই খাতটিতে।

এই খাতটিতে হাতবদল হয়েছে ২৬৪ কোটি ৪০ লাখ টাকার শেয়ার, যা আগের দিন ছিল ১৮৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।

লেনদেন বাড়লেও শেয়ারদর কমেছে। ৩২টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে কেবল ৪টির, ৬টির দর ছিল অপরিবর্তিত। কমেছে বাকি ২২টির দর।

বৈঠক ডাকার খবরেও আরও পতনে আতঙ্ক
এই ৬টি খাতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে মঙ্গলবার

দাম সবচেয়ে বেশি কমেছে এনআরবিসির, যেটি আর আগে টানা চার কর্মদিবস বেড়েছিল। একদিনেই ব্যাংকটি শেয়ারদর কমেছে ৯.৪৮ পয়েন্ট। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫.৮৮ শতাংশ দর কমে সাউথবাংলার দর। এই ব্যাংকটির শেয়ারদরও গত চার কর্মদিবসে অনেক বেড়েছিল।

তবে এই দুটি ব্যাংকটি ছাড়া বাকিগুলোর দরপতনের হার খুব একটা বেশি নয়। তৃতীয় সর্বোচ্চ দর হারানো ওয়ান ব্যাংকের শেয়ারের দাম কমেছে ২.৩০ শতাংশ।

যে ব্যাংকগুলোর দর বেড়েছে তার মধ্যে সর্বোচ্চ ৫০ পয়সা বেড়েছে ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার দর। এ ছাড়া সাউথইস্ট ব্যাংকের শেয়ার দর ২০ পয়সা এবং ১০ পয়সা করে বেড়েছে আল আরাফাহ ‍ও পূবালী ব্যাংকের দর।

পতনের বাজারে বিমার দাপট

জুলাই থেকে টানা পতনের মধ্যে থাকা বিমা খাত খানিকটা অবাকই করেছে দিনটিতে। ৫১টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ৪১টির। আগের দিনের দরেই লেনদেন শেষ করেছে তিনটি আর কমেছে কেবল তিনটির দর।

সবচেয়ে বেশি দর বাড়া ডেল্টা লাইফ এই খাতের কোম্পানিই।

সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া ১০টি কোম্পানির ৬টিই জীবন বিমা খাতের। এর মধ্যে ডেল্টা ছাড়া ফারইস্ট লাইফের দর ৫.৯৯ শতাংশ, পদ্মা লাইফের দর ৪.৮২ শতাংশ, পপুলার লাইফের দর ৪.১৬ শতাংশ, প্রগতি লাইফের দর ৩.৯৯ শতাংশ এবং মেঘনা লাইফের দর বাড়ে ৩.২৪ শতাংশ।

সাধারণ বিমা খাতে সবচেয়ে বেশি ২.৬৪ শতাংশ বেড়েছে রূপালী ইন্স্যুরেন্সের দর। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২.৫২ শতাংশ বেড়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের শেয়ার বিক্রির ঘোষণার পর পতনের মধ্যে থাকা ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের দর।

লেনদেনেও এগিয়েছে এই খাত। লেনদেনে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসা খাতটির ১৭৮ কোটি ২৯ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। আগের দিন লেনদেন ছিল ১২৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

লভ্যাংশের খবরে সবচেয়ে বড় পতন বিডি ল্যাপসের

মৌলভিত্তির এই কোম্পানিটি গত বছর শেয়ার প্রতি প্রায় ১০ টাকা লোকসান দেয়ার পর এবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। শেয়ার প্রতি আয় বাড়তে থাকায় শেয়ার দরেও দিয়েছিল লাফ।

মঙ্গলবার প্রকাশিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী এবার কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি ৫ টাকা ১০ পয়সা আয় করে লভ্যাংশ দিয়েছে ২ টাকা।

তবে এই খবরে বিনিয়োগকারীরা খুশি হতে পারেনি। মূল্য বাড়া বা কমার প্রান্তসীমা না থাকার দিন শেয়ারে ২৫ টাকা ৮০ পয়সা দাম কমেছে কোম্পানিটির। শতকরা হারে পতন হয়েছে ১১.০৩ শতাংশ।

শেয়ার প্রতি ২ টাকা ২০ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণার পর তিতাস গ্যাসের শেয়ারের দাম কমেছে ১ টাকা ৮০ পয়সা।

শেয়ার প্রতি ১ টাকা ১০ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় লাভেলো আইসক্রিমের শেয়ার দর কমেছে দেড় টাকা।

আগের বছরের তুলনায় দেড় গুণ আয় করে ১২ শতাংশ বোনাস ও শেয়ার প্রতি ১ টাকা ৩০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়ার ঘোষণার পর ডরিন পাওয়ারের শেয়ারদর ছিল অপরিবর্তিত।

অন্যদিকে ছয় বছরের সর্বোচ্চ লভ্যাংশ ঘোষণা করা মবিল যমুনার শেয়ার দর বেড়েছে ১ টাকা ৯০ পয়সা। এই কোম্পানিটি এবার শেয়ার প্রতি ৫ টাকা ৫০ পয়রা লভ্যাংশ দেবে বলে জানানো হয়েছে।

পতন সব খাতেই

ধসের দিন প্রধান খাতগুলোর মধ্যে বিমা ছাড়া সবগুলোর বিনিয়োগকারীরাই হতাশ হয়েছেন।

তৃতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হওয়া ওষুধ ও রসায়ন খাতে হাতবদল হয়েছে ১৭৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

বস্ত্র খাতের ৫৮ কোম্পানির মধ্যে দর হারিয়েছে ৪৮টি। ৪টি দর ধরে রাখতে পেরেছে আর বেড়েছে কেবল ৬টির দর।

এই খাতে লেনদেন হয়েছে ১৩০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। আগের দিন খাতটিতে হাতবদল হয়েছিল ১১৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।

আগের দিন এই খাতে লেনদেন ছিল ২০৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।

বৈঠক ডাকার খবরেও আরও পতনে আতঙ্ক
বেক্সিমকো লিমিটেড ও লাফার্জ হোলসিমে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে

প্রকৌশল খাতে লেনদেন হয়েছে ১১৫ কোটি ৩১ লাখ টাকা। আগের দিন খাতটিতে হাতবদল হয়েছিল ১১৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

এই খাতে বেড়েছে কেবল ৬টি কোম্পানির শেয়ারদর, কমেছে বাকি ৩৬টির দর।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে লেনদেন হয়েছে ১০৬ কোটি ৬ লাখ টাকা। আগের দিন খাতটিতে হাতবদল হয়েছিল ১০১ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

এই খাতে বেড়েছে ৭টির দর, কমেছে ১৪টির আর একটি দর ধরে রাখতে পেরেছে।

গত এক বছর ধরে চাঙা বেক্সিমকোতে ব্যাপক লেনদেনের কারণে বিবিধ খাত লেনদেনের শীর্ষে থাকতে পারছে না আর।

এই খাতের ১৪টি কোম্পানিতে হাতবদল হয়েছে মোট ৮৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। আগের দিন যা ছিল ৭৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

খাতটির ১৪টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৪টির, কমেছে ৯টির আর একটির দর ছিল অপরিবর্তিত।

দুই সপ্তাহ আগে সিমেন্ট খাতের কেবল লাফার্জ হোলসিমে কোনো কোনো দিন ‍দুইশ কোটি টাকার বেশি। তবে কোম্পানিটির শেয়ার দর হারানোর মধ্যে খাতটিতে লেনদেনে অনাগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

এই খাতের ৭টি কোম্পানিতে লেনদেন হয়েছে মোট ৬৫ কোটি টাকা, যা আগের দিন ছিল ৭৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা।

আর্থিক খাতের ২২টি কোম্পানিতে হাতবদল হয়েছে মোট ৬১ কোটি ৩ লাখ টাকা। আগের দিন যা ছিল ৭৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

কোম্পানির মধ্যে ৫টির শেয়ারের দর বেড়েছে অল্প পরিমাণে। বিপরীতে দর হারিয়েছে ১৫টি।

তথ্য প্রযুক্তি খাতের ১১টি কোম্পানির মধ্যে দর হারিয়েছে ১০টি। লেনদেন হয়েছে মোট ৪২ কোটি ১০ লাখ টাকা। আগের দিন যা ছিল ৪৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

দারুণ লভ্যাংশের পর টানা দরপতনে থাকা মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাত আরও দর হারিয়েছে। এই খাতের ৩৬টি ফান্ডের মধ্যে ইউনিট মূল্য কমেছে ১৯টির, বেড়েছে কেবল ৩টির। দর ধরে রাখতে পেরেছে বাকি ১৪টি।

লেনদেন হয়েছে ১৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা, আগের দিন যা ছিল ১৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন:
তালিকাভুক্ত হয়ে কমল আয়, ইনডেক্স দেবে শেয়ারে আড়াই টাকা
আয়ের চেয়ে বেশি লভ্যাংশ দেবে ফারইস্ট নিটিং
দেশবন্ধু শেয়ারধারীদেরকে দেবে ৫০ পয়সা করে
মহামারি: ঘুরে দাঁড়িয়ে লভ্যাংশ বাড়াল অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার
শেয়ার প্রতি এক টাকা লভ্যাংশ দেবে বে লিজিং

শেয়ার করুন

পতন ঠেকাতে বৈঠক ডেকেছে বিএসইসি

পতন ঠেকাতে বৈঠক ডেকেছে বিএসইসি

গেল কয়দিন কেন টানা সূচকের পতন হয়েছে সেটির অনুসন্ধানসহ বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে মঙ্গলবার বিকেলে বিএসইসি কার্যালয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে। বৈঠকে মার্চেন্ট ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশন এবং ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশন, ডিবিএ প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।

সোমবার পুঁজিবাজারে বড় পতনের পর মঙ্গলবার লেনদেনের শুরু থেকেই উত্থানে সূচক। এক ঘণ্টায় সূচক বেড়েছে ৭৯ পয়েন্ট। টানা ছয় কার্যদিবস সূচকের পতনের পর মঙ্গলবার এমন উত্থানে পুঁজিবাজার আবারও ঘুরে দাঁড়াবে বলে প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের।

গেল কয়দিন কেন টানা সূচকের পতন হয়েছে সেটির অনুসন্ধানসহ বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে মঙ্গলবার বিকেলে বিএসইসি কার্যালয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে। যেখানে মার্চেন্ট ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশন এবং ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশন, ডিবিএ প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।

বেলা সাড়ে ৩টায় অনুষ্ঠেয় বৈঠকের বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন বিএসইসি সূত্র।

গত ফেব্রুয়ারির মতো টানা ৬ দিনের পতনের দিনে সোমবার একপর্যায়ে সূচক একশ পয়েন্টের বেশি পড়ে গেলেও দিনের শেষে কমে আসে পতনের দাপট। এদিন ৮৯ পয়েন্ট সূচকের পতনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চিড় ধরা আত্মবিশ্বাস আরেকটু নড়বড়ে হয়ে যায়।

গত ১১ অক্টোবর থেকে টানা যে পতন শুরু হলো, তাতে ছয় দিনেই কমেছে ২৭০ পয়েন্ট। গত ১৬ থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারিও টানা ছয় দিন সূচকের পতন হয়, তবে এ সময়ের পতনের তুলনায় তখন কম ছিল। সে সময় ৬ দিনে সূচক পড়েছিল ২২৮ পয়েন্ট।

গত ২৯ জুনের পর সোমবারই সবচেয়ে কম সংখ্যক শেয়ার হাতবদল হয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে।

দিন শেষে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৩৯২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। ২৯ জুন এর চেয়ে কম লেনদেন ছিল ১ হাজার ১৪৮ কোটি ৮ লাখ টাকা। লেনদেন হওয়া কোম্পানির মধ্যে বেড়েছে কেবল ৩৩টির দর।

গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে যখন দর সংশোধন শুরু হয়, প্রথমে দুর্বল ও লোকসানি কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর বেশি কমছিল। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে বড় মূলধনি, কোম্পানিগুলোও দর হারাতে থাকে।

এর আগেও এমন অবস্থায় পুঁজিবাজারের স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। গত ২২ মার্চ টানা সূচকের পতনের অস্থির হয়ে উঠে পুঁজিবাজার। তখন গুজব ছিল করোনা মহামারিতে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে পুঁজিবাজারের লেনদেন।

পরবর্তীতে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনার পর স্বাভাবিক হয়ে আসে পুঁজিবাজার। আজকের বৈঠকেও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে কী করা যায় সে বিষয়গুলো গুরুত্ব দেয়া হবে।

এক ঘণ্টার লেনদেন

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এক ঘণ্টায় সূচক বেড়েছে ৭৯ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট। ডিএসইর প্রধান এই সূচক ডিএসইএক্স দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ১৭৭ পয়েন্টে।

শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস ১২ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৩৮ পয়েন্টে।

বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক ২৫ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭০৪ পয়েন্টে।

এই সময়ে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ৩১৪টির। কমেছে ২২টির। আর দর আগের দিনের মতোই আছে ৩৪টির। মোট লেনদেন হয়েছে ৩৬৮ কোটি টাকা।

এ সময় সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে আছে বস্ত্র খাতের রহিম টেক্সটাইল, বিবিধ খাতের উসমানিয়া গ্লাস, বিমা খাতের ডেল্টা লাইফ, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স, আর্থিক খাতের ফাস ফিন্যান্স।

আরও পড়ুন:
তালিকাভুক্ত হয়ে কমল আয়, ইনডেক্স দেবে শেয়ারে আড়াই টাকা
আয়ের চেয়ে বেশি লভ্যাংশ দেবে ফারইস্ট নিটিং
দেশবন্ধু শেয়ারধারীদেরকে দেবে ৫০ পয়সা করে
মহামারি: ঘুরে দাঁড়িয়ে লভ্যাংশ বাড়াল অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার
শেয়ার প্রতি এক টাকা লভ্যাংশ দেবে বে লিজিং

শেয়ার করুন

পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ লভ্যাংশ মবিল যমুনার

পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ লভ্যাংশ মবিল যমুনার

পর্ষদের প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২০ সালের জুলাই থেকে চলতি বছর জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৭ টাকা ৫৩ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ৫ টাকা ৫২ পয়সা। আগের বছর ৪৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়া হলেও এবার ১০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত জ্বালানি খাতের কোম্পানি মবিল যমুনা করোনার বছরে আয় বাড়িয়ে লভ্যাংশও বাড়িয়েছে। কোম্পানিটি এবার শেয়ার প্রতি সাড়ে ৫ টাকা করে অর্থাৎ ৫৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক হিসাব পর্যালোচনা করে সোমবার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ এই সিদ্ধান্ত নেয়।

পর্ষদের প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২০ সালের জুলাই থেকে চলতি বছর জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৭ টাকা ৫৩ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ৫ টাকা ৫২ পয়সা।

গত বছর দেশে করোনার প্রাদুর্ভাবের পর এই এক বছরে একটি বড় সময় বিধিনিষেধের মধ্য দিয়ে গেছে। তারপরেও কোম্পানিটি আয় বাড়ানোর পর কোম্পানিটি যে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে সেটি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের পর সর্বোচ্চ।

ওই বছর কোম্পানিটি ৬০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল, যার মধ্যে ৫০ শতাংশ ছিল নগদ আর ১০ শতাংশ ছিল বোনাস।

পরের বছর ৪৫ শতাংশ নগদ, অর্থাৎ শেয়ারে সাড়ে চার টাকা দেয়া হয় বোনাস হিসেবে। ২০১৮ সালে আবার সাড়ে চার টাকা নগদের পাশাপাশি ৫ শতাংশ দেয়া হয় বোনাস শেয়ার। এরপর ২০১৯ ও ২০২০ সালে শেয়ার প্রতি সাড়ে চার টাকা করে লভ্যাংশ দেয়া হয়।

কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয়ের পাশাপাশি বেড়েছে সম্পদমূল্যও। ২০২০ সালে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি ৩৬ টাকা ৬৬ পয়সার সম্পদ থাকলেও এবার তা বেড়ে হয়েছে ৩৯ টাকা ৬৯ পয়সা।

এই লভ্যাংশ বিষয়ে রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৭ নভেম্বর। অর্থাৎ সেদিন যাদের হাতে শেয়ার থাকবে, তারাই এই লভ্যাংশ পাবে।

লভ্যাংশ চূড়ান্ত করতে বার্ষিক সাধারণ সভা ডাকা হয়েছে আগামী ১৫ ডিসেম্বর।

৩১৬ কোটি ৭৫ লাখ ২০ হাজার টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিটির শেয়ার মূল্য লভ্যাংশ ঘোষণার দিন ছিল ৯৬ টাকা ৮০ পয়সা।

গত এক বছরে শেয়ার দর ৬৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১১৬ টাকা পর্যন্ত উঠানামা করেছে।

আরও পড়ুন:
তালিকাভুক্ত হয়ে কমল আয়, ইনডেক্স দেবে শেয়ারে আড়াই টাকা
আয়ের চেয়ে বেশি লভ্যাংশ দেবে ফারইস্ট নিটিং
দেশবন্ধু শেয়ারধারীদেরকে দেবে ৫০ পয়সা করে
মহামারি: ঘুরে দাঁড়িয়ে লভ্যাংশ বাড়াল অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার
শেয়ার প্রতি এক টাকা লভ্যাংশ দেবে বে লিজিং

শেয়ার করুন

দুই প্রান্তিক পর আবার লোকসানে হাইডেলবার্গ

দুই প্রান্তিক পর আবার লোকসানে হাইডেলবার্গ

দুই প্রান্তিকে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি ১১ টাকা ৭৯ পয়সা মুনাফায় ছিল কোম্পানি। ফলে গত তিন মাসে লোকসান দেয়ার পরও তাদের শেয়ার প্রতি আয় আছে ৯ টাকা ৮৮ পয়সা।

টানা দুই বছর লোকসান দেয়ার পর বহুজাতিক সিমেন্ট কোম্পানি হাইডেলবার্গ চলতি বছরের প্রথম দুই প্রান্তিকে বেশ ভালো মুনাফা করলেও তৃতীয় প্রান্তিকে আবার লোকসানে পড়েছে।

গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি ১ টাকা ৯১ পয়সা লোকসান দিয়েছে। তবে এই লোকসান দেয়ার পরও তিন প্রান্তিক শেষে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মুনাফাতেই আছে কোম্পানিটি।

এর আগের দুই প্রান্তিকে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি ১১ টাকা ৭৯ পয়সা মুনাফায় ছিল কোম্পানি। ফলে গত তিন মাসে লোকসান দেয়ার পরও তাদের শেয়ার প্রতি আয় আছে ৯ টাকা ৮৮ পয়সা।

আগের বছর একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান ছিল ৩ টাকা ২ পয়সা।

বরাবর ভালো আয়ের জন্য প্রসিদ্ধ হাইডেলবার্গ সিমেন্ট গত দুটি বছর কঠিন সময় পার করছে। ২০১৯ সালে শেয়ার প্রতি শেয়ার প্রতি ৩ টাকা ৩০ পয়সা লোকসান দেয়ার পর ওই বছর কোনো লভ্যাংশ দেয়নি কোম্পানিটি।

পরের বছর লোকসান কিছুটা কমিয়ে আনার পর রিজার্ভ থেকে ২০ শতাংশ, অর্থাৎ শেয়ার প্রতি ২ টাকা লভ্যাংশ দেয় তারা। ওই বছর শেয়ার প্রতি লোকসান ছিল ১ টাকা ৪৩ পয়সা।

তবে চলতি বছর থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দেয় কোম্পানিটি। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রথম প্রান্তিকে ৮ টাকা ২৩ পয়সা মুনাফার তথ্য দেয়ার পর শেয়ার মূল্যও বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে যায়। দ্বিতীয় প্রান্তিকে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত মুনাফা কিছুটা কমে হয় ৩ টাকা ৫৬ পয়সা।

করোনার বিধিনিষেধ সীমিত হয়ে যাওয়ার পর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি বাড়া, নির্মাণ কাজ পুরোদমে চলোর পর তৃতীয় প্রান্তিকে আয় আরও বাড়বে বলে আশা করছিলেন বিনিয়োগকারীরা। এই ভরসাতেই শেয়ারদর টানা বাড়ছিল।

লোকসানে পড়ার পর গত বছর শেয়ার মূল্য ১৩৭ টাকায় নেমে গেলেও সম্প্রতি তা ৩৭৯ টাকা পর্যন্ত উঠে। তবে গত কয়েক দিনে সেখান থেকে কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৬১ টাকা ৯০ পয়সা। প্রান্তিক প্রকাশের দিনও শেয়ার মূল্য বেড়েছে ৬ টাকা ২০ পয়সা।

৫৬ কোটি ৫০ লাখ ৪০ হাজার টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিটির ৬০.৬৭ শতাংশ শেয়ার উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে আছে। ২৭.৯৪ শতাংশ শেয়ার কিনেছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে আছে ০.৫২ শতাংশ আর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে আছে বাকি ১০.৮৭ শতাংশ শেয়ার।

আরও পড়ুন:
তালিকাভুক্ত হয়ে কমল আয়, ইনডেক্স দেবে শেয়ারে আড়াই টাকা
আয়ের চেয়ে বেশি লভ্যাংশ দেবে ফারইস্ট নিটিং
দেশবন্ধু শেয়ারধারীদেরকে দেবে ৫০ পয়সা করে
মহামারি: ঘুরে দাঁড়িয়ে লভ্যাংশ বাড়াল অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার
শেয়ার প্রতি এক টাকা লভ্যাংশ দেবে বে লিজিং

শেয়ার করুন

আয় সামান্য কমায় লভ্যাংশও কমাল তিতাস গ্যাস

আয় সামান্য কমায় লভ্যাংশও কমাল তিতাস গ্যাস

আগের বছর কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি ৩ টাকা ৬৪ পয়সা আয় করে ২ টাকা ৬০ পয়সা লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। এবার আয় কমেছে ১৪ পয়সা, লভ্যাংশ কমেছে ৪০ পয়সা। তিতাসের এই লভ্যাংশ ২০১৮ সালের পর সর্বনিম্ন।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস বিতরণ কোম্পানি তিতাস গ্যাস গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কম আয় করে লভ্যাংশ কমিয়েছে।

গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি ৩ টাকা ৫০ পয়সা আয় করে ২ টাকা ২০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সোমবার কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।

আগের বছর কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি ৩ টাকা ৬৪ পয়সা আয় করে ২ টাকা ৬০ পয়সা লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি।

তিতাসের এই লভ্যাংশ ২০১৮ সালের পর সর্বনিম্ন। ওই বছর শেয়ার প্রতি আড়াই টাকা এবং পরের দুই বছর ২ টাকা ৬০ পয়সা করে লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি।

এবার মার্চ পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিক শেষে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি আয় করেছিল তিতাস। সে সময় শেয়ার প্রতি আয় ছিল ২ টাকা ১২ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে আয় ছিল ২ টাকা ১১ পয়সা।

তবে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত চুতর্থ প্রান্তিকে গত বছরের একই সময়ে তুলনায় ১৫ পয়সা কম আয় করে তিতাস। এই সময়ে শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৩৮ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ১ টাকা ৫৩ পয়সা।

আয় সামান্য কমায় লভ্যাংশও কমাল তিতাস গ্যাস

আয় কমলেও কোম্পানির শেয়ার প্রতি সম্পদমূল্য বেড়েছে। গত বছর এই সম্পদমূল্য ছিল ৭১ টাকা ৩৯ পয়সা যা এবার দাঁড়িয়েছে ৭১ টাকা ৫৭ পয়সা।

এবার লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১১ নভেম্বর। অর্থাৎ, যারা লভ্যাংশ নিতে চান, তাদেরকে ওই দিন শেয়ার ধরে রাখতে হবে।

আগামী ২০ নভেম্বর বার্ষিক সাধারণ সভায় এই লভ্যাংশ চূড়ান্ত হবে। সভাটি হবে অনলাইনে।

গত কয়েক বছর ধরেই সম্পদমূল্যের চেয়ে কমে লেনদেন হতে থাকা তিতাসের শেয়ার গত এক বছরে সর্বনিম্ন ৩০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪৭ টাকা ৬০ পয়সা পর্যন্ত উঠানামা করেছে।

লভ্যাংশ ঘোষণার দিন শেয়ারদর ছিল ৪২ টাকা ২০ পয়সা।

আরও পড়ুন:
তালিকাভুক্ত হয়ে কমল আয়, ইনডেক্স দেবে শেয়ারে আড়াই টাকা
আয়ের চেয়ে বেশি লভ্যাংশ দেবে ফারইস্ট নিটিং
দেশবন্ধু শেয়ারধারীদেরকে দেবে ৫০ পয়সা করে
মহামারি: ঘুরে দাঁড়িয়ে লভ্যাংশ বাড়াল অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার
শেয়ার প্রতি এক টাকা লভ্যাংশ দেবে বে লিজিং

শেয়ার করুন