আঁচল ফাউন্ডেশনের গবেষণা

করোনায় মানসিক সমস্যায় ৮৪ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী

করোনায় মানসিক সমস্যায় ৮৪ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী

প্রতীকী ছবি

করোনাকাল শিক্ষার্থীদের ওপর কী প্রভাব ফেলেছে, তা জানতে জরিপ করে আঁচল ফাউন্ডেশন। এর অংশ হিসেবে সামাজিক সংগঠনটি ২ দুই হাজার ৫৫২ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর সাক্ষাৎকার নেয়।

ঢাকার সাভারের বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম। এইচএসসি পাস করে অস্ট্রেলিয়ার সিডনির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্সে পড়তে গিয়েছিলেন।

সেখান থেকে এক বছরের মাথায় ছুটিতে বাড়িতে আসেন মনিরুল। এরপর দেশে শুরু হয় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ; বন্ধ হয়ে যায় সব দেশের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ। এতে আটকে যায় মনিরুলের বিদেশযাত্রা।

করোনার মধ্যে অনলাইনে মনিরুল ক্লাস করলেও সেটা বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। এ হতাশা ও বিষণ্নতা থেকে মনিরুল অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকেন। ওষুধ গ্রহণ করেন স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে।

তাতে কোনো সমাধান না হওয়ায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন মনিরুল। গত এক মাস ধরে হাসপাতালটিতে চিকিৎসা চলছে তার।

মনিরুলের স্ত্রী মরিয়ম বলেন, ‘এক মাসের চিকিৎসায় মনিরুলের অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। চিকিৎসক বলেছেন আরও কিছুদিন এখানে থাকতে হবে।

‘হতাশা ও বিষণ্নতা থেকে মনিরুলের এমন অবস্থা হয়েছে। এ জন্য করোনাভাইরাস সংক্রমণ দায়ী।’

মনিরুলের মতো লাখো বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী করোনাকালে এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত এক জরিপ প্রতিবেদনেও সে প্রমাণ মিলছে।

করোনাকাল শিক্ষার্থীদের ওপর কী প্রভাব ফেলেছে, তা জানতে জরিপ করে আঁচল ফাউন্ডেশন। এর অংশ হিসেবে সামাজিক সংগঠনটি ২ দুই হাজার ৫৫২ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর সাক্ষাৎকার নেয়।

তাদের জরিপ প্রতিবেদন বলছে, করোনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৮৪ দশমিক ৬ শতাংশ মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে মন খারাপ থাকা, ঠিকমতো ঘুম না হওয়া ও নিজেকে তুচ্ছ ভাবা।

এমন পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলছেন চিকিৎসকরা।

জরিপে আরও উঠে এসেছে, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় বেশি ভুগছেন শহরের শিক্ষার্থীরা। এতে অংশ নেয়া শহরের ৬৯ দশমিক ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। এ ছাড়া গ্রামের ৩০ দশমিক ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী মানসিক সমস্যায় ভুগছেন।

জরিপ অনুযায়ী, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে, যাদের সংখ্যা মোট অংশগ্রহণকারীর ৮৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণকারী ৭৩৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫৯১ জন বা ৮০ দশমিক ৬ শতাংশ মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়েছেন।

চিকিৎসকরা বলছেন, অনলাইনে হলেও পড়াশোনা চলমান থাকায় প্রাইভেটের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক সমস্যা তুলনামূলক কম।

যেসব কারণে মানসিক সমস্যা

আঁচল ফাউন্ডেশনের জরিপে মানসিক সমস্যার কিছু কারণ উঠে এসেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থী বা তার পরিবারের সদস্যদের করোনা, সঠিক সময়ে না ঘুমানো, পরিমিত ঘুম না হওয়া।

শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগ যেহেতু অনলাইনের মাধ্যমে তাদের প্রাত্যহিক কার্যক্রম চালিয়ে গিয়েছেন, তাই দিনের বড় একটা সময় তাদের স্ক্রিনের সামনে কাটাতে হয়েছে। এ কারণে মানসিক সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে উঠে এসেছে জরিপে।

স্ক্রিনের সামনে দীর্ঘ সময় কাটানোতে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, মাথাব্যথা, কাজে মনোযোগ কমে যাওয়া, চোখ দিয়ে পানি পড়া এবং ঘুমেও ব্যাঘাত ঘটেছে।

জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা সংক্রমণের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। এতে অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যেই পড়ালেখার প্রতি অনাগ্রহ দেখা দিয়েছে।

জরিপে প্রাপ্ত ফলে দেখা যায়, করোনা মহামারিতে পড়ালেখা করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন ৭৫ দশমিক ৫ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী।

উত্তরণের পথ

সমস্যা থেকে বের হওয়ার পথ নিয়ে আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তানসেন রোজ বলেন, ‘সমস্যাটা এমন যে, এটা একপাক্ষিকভাবে সমাধান করা কঠিন। আমরা দেখতে পাই যেসব শিক্ষার্থী ঠিকমতো ঘুমাতে যায় না, তাদের মাঝে বিষণ্নতা বেশি।

‘যারা অতিমাত্রায় ডিভাইস ব্যবহার করে তাদের ডিপ্রেশনের হার বেশি। পরিমিত ঘুম, সঠিক মাত্রায় ডিভাইস ব্যবহার, কোনো কিছু নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করার ক্ষেত্রে আমাদের ব্যক্তিগতভাবে সচেতন হতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থীর ভরসার জায়গা হচ্ছে পরিবার। কেউ যখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকে, সে যেন পরিবারের সাথে মন খুলে শেয়ার করতে পারে, সেই ধরনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। সন্তান এবং বাবা-মায়েদের মাঝখানের দূরত্ব কমিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

‘ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার ক্ষেত্রে সমাজেরও দায়বদ্ধতা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের ওপর সমাজ কর্তৃক অযাচিত চাপ প্রয়োগ থেকে বিরত রাখার ব্যাপারে সবার এগিয়ে আসা জরুরি। কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করা, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা, অন্যের সাথে তুলনা করা ইত্যাদি ক্ষেত্রেও সাবধান হওয়া প্রয়োজন।’

এ বিষয়ে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ দীপন সরকার বলেন, করোনাকালে দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার ফলে তাদের বন্ধুদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ কমে গেছে। পাশাপাশি নিয়মিত পড়াশোনার ব্যাঘাত ঘটা এবং ক্যারিয়ার নিয়ে দুশ্চিন্তা শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত জীবন ও সামগ্রিক মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। এমন অবস্থায় শিক্ষার্থীদের উচিত বন্ধু ও পরিচিতজনদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানো এবং নিজের জীবনের লক্ষ্যের প্রতি দৃষ্টি দিয়ে এগিয়ে যাওয়া।

তিনি বলেন, ‘সর্বোপরি মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য প্রয়োজনে সাইকোলজিস্টের শরণাপন্ন হওয়া এবং নিয়মিত কাউন্সেলিং নেওয়া।’

সুপারিশ

আঁচল ফাউন্ডেশনের মতে, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেয়া দরকার, যাতে শিক্ষার্থীরা মনের অভিব্যক্তি সহজে প্রকাশ করার সুযোগ পায়।

সংস্থাটি মনে করে, সরকারের উচিত ‘মনের সুরক্ষা’ নামের একটি অ্যাপ চালু করা, যার মাধ্যমে সারা দেশের যে কেউ তাদের মানসিক সমস্যা বিশেষজ্ঞের সঙ্গে শেয়ার করতে পারে।

সবাইকে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনতে একটি জাতীয় হটলাইন সেবা চালু করা যেতে পারে বলেও মত দিয়েছে আঁচল ফাউন্ডেশন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

দেড় বছর পর করোনায় মৃত্যুশূন্য ঢাকা

দেড় বছর পর করোনায় মৃত্যুশূন্য ঢাকা

সংক্রমণের উদ্বেগজনক দিনগুলোতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে করোনা আক্রান্ত রোগীকে হাসপাতালের ভেতরে নিয়ে যাচ্ছেন স্বজনরা। ফাইল ছবি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী, নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার টানা দুই সপ্তাহ ৫ শতাংশের নিচে থাকলে কোনো দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে ধরা হয়। সে হিসেবে বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে।

দেশে করোনাভাইরাস ধরা পড়েছিল গত বছরের ৮ মার্চ। এর ১০ দিন পর রাজধানী ঢাকায় প্রথম মৃত্যুর সংবাদ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, দেশে করোনা সংক্রমণে প্রথম মৃত্যুর অর্ধমাস পর ২০২০ সালের ৩ এপ্রিল মৃত্যুহীন ছিল দেশ। এরপর থেকে প্রতিদিনই করোনায় আক্রান্ত হয়ে মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এসব মৃত্যুর বেশির ভাগই হয়েছে ঢাকায়।

চলতি বছর ভারতীয় ধরন শনাক্ত হওয়ার পর সীমান্ত এলাকায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়লেও ধীরে ধীরে আবারও সর্বোচ্চ মৃত্যুর স্থানে পরিণত হয় রাজধানী।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে করোনায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। এ সময়ে সর্বোচ্চ ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। এ ছাড়া রাজশাহীতে ২ জন ও খুলনায় ১ আরও একজনের মৃত্যু হয়। তাদের সবাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দেড় বছর পর এদিন মৃত্যুশূন্য ছিল ঢাকা।

দেশে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে গত বছরের ৮ মার্চ। ধীরে ধীরে সংক্রমণ বাড়তে থাকে। করোনার প্রথম ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে। পরে মার্চে আঘাত করে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। এই ঢেউয়ে ভারতীয় ডেল্টা ধরন ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এ ধরন দেশজুড়ে শঙ্কা ও চিকিৎসাসংকট তৈরি করে।

দ্বিতীয় ঢেউয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয় গত জুলাইয়ে। এ মাসে পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। করোনায় আক্রান্ত হয়ে কোনো কোনো দিন আড়াই শর বেশি মানুষেরও মৃত্যু হয়েছে।

তবে গত দেড় মাস ধরে করোনা পরিস্থিতি ক্রমেই উন্নতির দিকে। কমছে মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা। সেই সঙ্গে কমছে শনাক্তের হারও। টানা ২৯ দিন সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের নিচে। জনজীবন স্বাভাবিক হওয়ায় খুলে দেয়া হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞাপ্তিতে জানানো হয়েছে, দেশে এখন পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬৪ জনের শরীরে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৭৯১ জনের। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১৫ লাখ ২৯ হাজার ৫৪৯ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার টানা দুই সপ্তাহ ৫ শতাংশের নিচে হলে কোনো দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে ধরা হয়। সে হিসেবে বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। তবে শূন্যের কোঠায় না আসা পর্যন্ত মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি।

শেয়ার করুন

ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে আরও ১১২ রোগী

ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে আরও ১১২ রোগী

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে এক শিশু। ফাইল ছবি

কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ২১ হাজার ৮৩৭ জনের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছে ২০ হাজার ৯৪৬ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি ৭৬৮ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১১২ জন। তবে এ সময়ের মধ্যে কোনো ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়নি।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯৯ জন। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৩ জন।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ২১ হাজার ৮৩৭ জন। এর মধ্যে শুরুর ছয় মাস ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ২৭০ জন। এ বছরের জুলাইয়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকে। ওই মাসে রোগী শনাক্ত হয়েছিল ২ হাজার ২৮৬ জন এবং মারা যায় ১২ জন।

আগস্টে ডেঙ্গু রোগী ছিল ৭ হাজার ৬৯৮ জন। আর মারা যায় ৩৪ জন। সেপ্টেম্বরে রোগীর সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৮৪১ জন, মৃত্যু হয় ২৩ জনের। চলতি মাসে ৩ হাজার ৬৪০ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে ১৪ জন।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ২১ হাজার ৮৩৭ জনের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছে ২০ হাজার ৯৪৬ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি ৭৬৮ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার ৪৬টি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে ৫৬৩ রোগী।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে চলতি বছর ৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

শেয়ার করুন

করোনায় ৬ মৃত্যু, শনাক্ত ৩৬৮

করোনায় ৬ মৃত্যু, শনাক্ত ৩৬৮

দেশে এ নিয়ে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬৪ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৭৯১ জনের।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে আরও ৩৬৮ জনের শরীরে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বুধবার বিকেলে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, দেশে এ নিয়ে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬৪ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৭৯১ জনের।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১ দশমিক ৮০ শতাংশ। এ নিয়ে টানা ২৯ দিন সারা দেশে করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৮৩২টি ল্যাবে করোনার ২০ হাজার ৩৯১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়।

গত বছরের মার্চে ছড়ানো করোনা বছরের শেষে নিয়ন্ত্রণে আসার পর চলতি বছর এপ্রিলের আগে থেকে আবার বাড়তে থাকে। এর মধ্যে প্রাণঘাতী ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার পর এপ্রিলের শুরুতে লকডাউন এবং ১ জুলাই থেকে শাটডাউন দেয় দরকার।

তবে সংক্রমণ কমে আসার পর আগস্টের মাঝামাঝি থেকে ধীরে ধীরে সব বিধিনিষেধ তুলে নেয়া হতে থাকে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে থাকায় ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষ ৪, নারী ২ জন। এর মধ্যে ত্রিশোর্ধ্ব ২, পঞ্চাশোর্ধ্ব ১ ষাটোর্ধ্ব ৩ জন।

বিভাগ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। এ ছাড়া রাজশাহীতে ২ জন ও খুলনাতে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদের সবাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৪৮১ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ২৯ হাজার ৫৪৯ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

শেয়ার করুন

স্বাস্থ্য খাতে দ্রুতই পৌনে ৫ লাখ নিয়োগ

স্বাস্থ্য খাতে দ্রুতই পৌনে ৫ লাখ নিয়োগ

দ্রুতই স্বাস্থ্য খাতে লোকবল আরও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে একটি জনবলকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। সেটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এটি অনুমোদন দিলে শিগগিরই পৌনে ৫ লাখ নিয়োগ দেয়া হবে স্বাস্থ্য খাতে। এই নিয়োগ কমপ্লিট হলে স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত হবে।

স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে একটি জনবলকাঠামো তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। বলেছেন, এ জন্য শিগগিরই এ খাতে পৌনে ৫ লাখ কর্মী নিয়োগ দেয়া হবে। এ ব্যাপারে একটি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

রাজধানীর একটি হোটেলে বুধবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের (ইউএইচএফপিও) প্রথম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে একটি জনবলকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। সেটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এটি অনুমোদন দিলে শিগগিরই পৌনে ৫ লাখ নিয়োগ দেয়া হবে স্বাস্থ্য খাতে। এই নিয়োগ কমপ্লিট হলে স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত হবে।

‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনায় নাটকীয় পরিবর্তন হয়েছে। এই পরিবর্তন আমাদের ধরে রাখতে হবে। হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার মান উন্নতি করতে হবে। হাসাপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।’

দেশে যাতে করোনাভাইরাসের তৃতীয় ঢেউ না আসে, সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কয়েক দিনে ধরে আবার সংক্রমণ বাড়ছে, আমাদের দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ আবার আসুক, এটা আমরা কেউ চাই না। এ জন্য এখন থেকে সবাইকে সচেতন হতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।’

করোনা প্রতিরোধী টিকা কার্যক্রম নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, করোনা প্রতিরোধে ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রতি মাসে ৩ কোটি এবং তার থেকে বেশি ভ্যাকসিন দেয়ার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। এটা চলমান থাকলে ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ শতাংশ মানুষকে টিকা কর্মসূচির আওতায় আনা সম্ভব হবে।

উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ করে জাহিদ মালেক বলেন, ‘আপনাদের মাধ্যমে সরকারের অর্জন এবং সরকারের দুর্নাম হয়। আপনাদের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি মানুষ স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করে। আপনাদের কাজের ওপর সরকারের ইমেজ নির্ভর করে। তাই গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে আপনাদের আরও সচেতন হতে হবে।’

অনুষ্ঠান স্বাস্থ্যসচিব লোকমান হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলমসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

বয়স ১৮ হলেই টিকা

বয়স ১৮ হলেই টিকা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়, টিকা পেতে সাধারণ নাগরিকের জন্য বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি করা হয়েছে। সুরক্ষা অ্যাপে মঙ্গলবারই অপশনটি চালু হয়েছে।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা কার্যক্রমের আওতা আরও বাড়াল সরকার। এখন থেকে যাদের বয়স ১৮, তারাও টিকা নিতে পারবেন।

টিকার জন্য ১৮ বছর বয়সীরা এখন থেকে ‘সুরক্ষা’ অ্যাপে গিয়ে নিবন্ধন করতে পারছেন। অ্যাপে মঙ্গলবার রাত থেকে এই সুযোগ করে দেয়া হলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানানো হয় বুধবার।

সুরক্ষা অ্যাপে ‘পরিচয় যাচাই’ অপশনে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য নতুন একটি অপশন খোলা হয়েছে।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সেন্টারের (এমআইএস) পরিচালক এবং এইচআইএস অ্যান্ড ই-হেলথের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক মিজানুর রহমান।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘গতকালই এই অপশনটি চালু হয়ে গেছে। টিকা পেতে সাধারণ নাগরিকের জন্য বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি করা হয়েছে। তারা সুরক্ষা অ্যাপ্লিকেশনে গিয়ে নিবন্ধনের ফরম পূরণ করতে পারবেন।’

এর আগে ২৫ বছর বা তার বেশি বয়সী সব নাগরিক করোনাভাইরাসের টিকার জন্য নিবন্ধন করতে পারতেন।

শেয়ার করুন

করোনা: আরও আড়াই কোটি ডলার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

করোনা: আরও আড়াই কোটি ডলার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ভেন্টিলেটরসহ বিভিন্ন সুরক্ষা সামগ্রী দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি এখন পর্যন্ত ১২ কোটি ১০ লাখ ডলারের বেশি সহায়তা দিয়েছে। ফাইল ছবি

বাংলাদেশ যেন জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা ও অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারে এবং টিকা নিরাপদে সংরক্ষণ, পরিবহন ও ব্যবস্থাপনায় কোল্ড চেইন সরঞ্জাম কিনতে পারে, সে জন্য নতুন করে অর্থ সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বাংলাদেশকে আরও ২৫ মিলিয়ন বা আড়াই কোটি ডলার অর্থ সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

দেশটির আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির মাধ্যমে এ সহায়তা দেয়া হবে।

বাংলাদেশ যেন জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা ও অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারে এবং টিকা নিরাপদে সংরক্ষণ, পরিবহন ও ব্যবস্থাপনায় কোল্ড চেইন সরঞ্জাম কিনতে পারে, সে জন্য এ অর্থ দেয়া হচ্ছে।

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের বুধবারের বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বাংলাদেশকে টিকা কার্যক্রম সম্প্রসারণে সহায়তা করার পাশাপাশি গুরুতর অসুস্থ রোগীদের আরও কার্যকরভাবে চিকিৎসা দেয়ায় স্বাস্থ্যসেবা দানকারীদের সক্ষম করে তুলবে। একই সঙ্গে এ অর্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে সেবার মান বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, মহামারির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সরকার করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ১২ কোটি ১০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ সহায়তা দিয়েছে। বাংলাদেশিদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশ সরকার ও অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার বলেন, নতুন আর্থিক সহায়তা বাংলাদেশকে এ বছরের শেষ নাগাদ ৪০ শতাংশ মানুষকে টিকাদানের লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করবে।

শেয়ার করুন

সরকারকে নড়বড়ে দেখানোই উদ্দেশ্য: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সরকারকে নড়বড়ে দেখানোই উদ্দেশ্য: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে মঙ্গলবার শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ছবি: নিউজবাংলা

‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে সরকার পতনের চেষ্টা করছে ষড়যন্ত্রকারীরা। মন্দির ভাঙা প্রধান উদ্দেশ্য নয়। সরকারের অবস্থান নড়বড়ে করে দেয়াটাই প্রধান উদ্দেশ্য।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন মনে করেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় হিন্দুদের ওপর হামলার উদ্দেশ্য সরকারকে নড়বড়ে দেখানো। এটি সরকার পতনের ষড়যন্ত্রের একটি অংশ।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ছেলে শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে মঙ্গলবার শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

দুর্গাপূজা চলাকালে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মণ্ডপে হামলা, এরপর রংপুরে হিন্দুপল্লিতে হামলার ঘটনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে সরকার পতনের চেষ্টা করছে ষড়যন্ত্রকারীরা। মন্দির ভাঙা প্রধান উদ্দেশ্য নয়। সরকারের অবস্থান নড়বড়ে করে দেয়াটাই প্রধান উদ্দেশ্য।’

এই ষড়যন্ত্রে কারা জড়িত, সে বিষয়েও তার ভাবনা তুলে ধরেন জাহিদ মালেকঅ বলেন, ‘একাত্তরে যারা দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করেছে তারাই এখন দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে।’

দেশের স্বাস্থ্যসেবা, করোনা মোকাবেলায় সরকারের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। বাংলাদেশের কোনো মানুষ যেন স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অন্যান্য দেশের তু্লনায় করোনা প্রতিরোধে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।’

দেশের করোনার টিকা কার্যক্রমের প্রসার বেড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে ৬ কোটি টিকা দেয়া হয়ে গেছে। অচিরেই পুরো জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। প্রতি মাসে ৩ কোটি করে টিকা আসছে।

‘শিশুদেরও পরীক্ষামূলক টিকা দেয়া হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদেরকেও টিকা কার্যক্রমের আওতায় আনার কাজ শুরু হবে।’

মন্ত্রী জানান, দেশে ৬০ লাখ ফাইজারের টিকা আসছে। এই টিকা স্কুল পড়ুয়া ৩০ লাখ শিশুকে দেয়া যাবে।

শেয়ার করুন