এক দিনে মৃত্যু ২০, শনাক্ত ৪১৫

এক দিনে মৃত্যু ২০, শনাক্ত ৪১৫

২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১৬ হাজার ৯২৫টি। করোনা শনাক্তের হার ২ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এ নিয়ে টানা ১৯ দিন দেশে করোনার নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে সংক্রমণ ধরা পড়েছে ৪১৫ জনের দেহে, যা ১৬ মের পর সর্বনিম্ন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে শনিবার বিকেলে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, দেশে এ পর্যন্ত করোনা ধরা পড়েছে ১৫ লাখ ৬১ হাজার ৪৭৮ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৬৭৪ জনের।

এক দিনে এর চেয়ে কম শনাক্ত ছিল গত ১৫ মে। সেদিন ৩৬৩ জনের দেহে শনাক্তের খবর দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১৬ হাজার ৯২৫টি। করোনা শনাক্তের হার ২ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এ নিয়ে টানা ১৯ দিন দেশে করোনার নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী কোনো দেশে টানা দুই সপ্তাহ করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে সে দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে বিবেচনা করা হয়।

গত বছরের মার্চে ছড়ানো করোনা বছরের শেষ দিকে নিয়ন্ত্রণে আসার পর চলতি বছর এপ্রিলের আগে থাকে আবার বাড়তে থাকে। এর মধ্যে প্রাণঘাতী ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার পর এপ্রিলের শুরুতে লকডাউন এবং ১ জুলাই থেকে শাটডাউন দেয় দরকার।

তবে সংক্রমণ কমে আসার পর আগস্টের মাঝামাঝি সময় থেকে ধীরে ধীরে সব বিধিনিষেধ তুলে নেয়া হতে থাকে। ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হয় স্কুল-কলেজ। এখন বিশ্ববিদ্যালয় খোলার তারিখও ঘোষণা হয়েছে। এখন কার্যত কোনো বিধিনিষেধই নেই। এই পরিস্থিতিতেও সংক্রমণ ধীরে ধীরে কমে আসায় অনেকটাই স্বস্তিতে সরকার।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষ ১২, নারী ৮ জন। তাদের মধ্যে চল্লিশোর্ধ্ব ৬ জন। ১২ জনের বয়স ৬০ বছরের বেশি আর ২ জনের বয়স ৭০ এর বেশি।

বিভাগ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ৪, খুলনা ১, বরিশাল ১, রংপুরে ৩ ও ময়মনসিংহে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে ৫৪৩ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১৫ লাখ ২৩ হাজার ১৪৩ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৫২ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
পূজায় করোনা বাড়ছে পশ্চিমবঙ্গে
৭ মাসে সর্বনিম্ন মৃত্যু, শনাক্ত ৬৪৫
ভারতে ফের দৈনিক করোনা সংক্রমণের শঙ্কা ৫ লাখ
১৭ মার্চের পর সর্বনিম্ন মৃত্যু, শনাক্ত ৬৬৩
তালতলী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ২২ চীনা কর্মীর করোনা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

রেড ক্রিসেন্টের সহায়তায় দেশে সিনোফার্মের ২ লাখ টিকা

রেড ক্রিসেন্টের সহায়তায় দেশে সিনোফার্মের ২ লাখ টিকা

২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ৬ কোটি ১৪ লাখ ৮৯ হাজার ৭৫৩ জনকে টিকা দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৪ কোটি ৬২ লাখ ৭ হাজার ৬৮৮ জন। দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ২ কোটি ৮ লাখ ৬২ হাজার ৬৫ জন।

আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে করোনাভাইরাসের দুই লাখ ডোজ টিকা দেশে এসেছে।

মঙ্গলবার বিকেলে চীন থেকে সিনোফার্মের ওই টিকা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মাঈদুল ইসলাম প্রধান সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব ও সাবেক রেলওয়ে সচিব ফিরোজ সালাউদ্দিন বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে টিকাগুলো গ্রহণ করেন।

এ সময় তিনি উপস্থিত সংবাদকর্মীদের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা বলেন। তার সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্মারা উপস্থিত ছিলেন। পরে টিকাগুলো সংরক্ষণের জন্য ওয়্যার হাউজে নিয়ে যাওয়া হয়।

দেশে চলতি বছরের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার মাধ্যমে টিকা কার্যক্রম শুরু হয়। গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা দেশে শুরু হয় গণটিকাদান কার্যক্রম। এরপর ৮ মাসেরও বেশি সময় ধরে দেশে অ্যাস্ট্রাজনেকা, ফাইজার, মর্ডানা এবং সিনোফার্মের টিকা দেয়া হচ্ছে।

২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ৬ কোটি ১৪ লাখ ৮৯ হাজার ৭৫৩ জনকে টিকা দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৪ কোটি ৬২ লাখ ৭ হাজার ৬৮৮ জন। দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ২ কোটি ৮ লাখ ৬২ হাজার ৬৫ জন।

২৭ জানুয়ারি থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেয়া ৬ কোটি ১৪ লাখ ৮৯ হাজার ৭৫৩ ডোজের মধ্যে অ্যাস্ট্রাজেনেকার ১ কোটি ৩৭ লাখ ২৩ হাজার ১৩০ ডোজ, ফাইজারের ৬ লাখ ৬ হাজার ১৮৭ ডোজ, সিনোফার্মের ৪ কোটি ১৯ লাখ ৫৬ হাজার ৩২৫ ডোজ এবং মডার্নার ৫২ লাখ ৪ হাজার ১১১ ডোজ টিকা রয়েছে।

আরও পড়ুন:
পূজায় করোনা বাড়ছে পশ্চিমবঙ্গে
৭ মাসে সর্বনিম্ন মৃত্যু, শনাক্ত ৬৪৫
ভারতে ফের দৈনিক করোনা সংক্রমণের শঙ্কা ৫ লাখ
১৭ মার্চের পর সর্বনিম্ন মৃত্যু, শনাক্ত ৬৬৩
তালতলী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ২২ চীনা কর্মীর করোনা

শেয়ার করুন

করোনায় আরও ৬ মৃত্যু, শনাক্ত ২৭৬

করোনায় আরও ৬ মৃত্যু, শনাক্ত ২৭৬

গত একদিনে দেশের ৮৩৩টি ল্যাবে করোনার ১৯ হাজার ১৮৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। দেশে এ নিয়ে টানা ৩৪ দিন করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের গত ২৪ ঘণ্টায় ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে আরও ২৭৬ জনের শরীরে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে মঙ্গলবার বিকেলে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, দেশে এ নিয়ে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৬৮ হাজার ২৫৭ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৮৩৪ জনের।

গত একদিনে দেশের ৮৩৩টি ল্যাবে করোনার ১৯ হাজার ১৮৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। দেশে এ নিয়ে টানা ৩৪ দিন করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে।

গত একদিনে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৪৪৪ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ ১৫ লাখ ৩২ হাজার ১৮০ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৭০ শতাংশ।

২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৫ জন, নারী ১ জন। এর মধ্যে চল্লিশোর্ধ্ব ২, পঞ্চাশোর্ধ্ব ২ ও ষাটোর্ধ্ব ২ জন।

বিভাগ অনুযায়ী চট্টগ্রাম ও খুলনায় ২ জন করে মৃত্যু হয়েছে। একজন করে মৃত্যু হয়েছে রাজশাহী ও সিলেটে বিভাগে।

আরও পড়ুন:
পূজায় করোনা বাড়ছে পশ্চিমবঙ্গে
৭ মাসে সর্বনিম্ন মৃত্যু, শনাক্ত ৬৪৫
ভারতে ফের দৈনিক করোনা সংক্রমণের শঙ্কা ৫ লাখ
১৭ মার্চের পর সর্বনিম্ন মৃত্যু, শনাক্ত ৬৬৩
তালতলী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ২২ চীনা কর্মীর করোনা

শেয়ার করুন

সাধারণ সিগারেটের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর মেন্থল সিগারেট

সাধারণ সিগারেটের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর মেন্থল সিগারেট

এ ধরনের সিগারেটগুলো নানা ফ্লেভারের হয়ে থাকে। নিঃশ্বাসের সঙ্গে সুগন্ধ বের হয়। সে কারণে লম্বা লম্বা টান দেয়ার প্রবণতাও বাড়ে। এতে ফুসফুস বেশি মাত্রায় নিকোটিন গ্রহণ করায় দ্রুত রক্তচাপ বেড়ে যায়।

যেকোনো ধূমপানই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। সিগারেট, বিড়ি, হুক্কা বা এ ধরনের কোনো কিছু একবার গ্রহণ করলেও তা ফুসফুসসহ বিভিন্ন অঙ্গের অসুস্থতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে সাধারণ সিগারেটের চেয়ে মেন্থল সিগারেট বহুগুণ বেশি ক্ষতিকারক। সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন নামের একটি আমেরিকান সংস্থার এক গবেষণামতে, অন্যসব সাধারণ সিগারেট একজন মানুষের যে ক্ষতি করে, মেন্থল সিগারেট শরীরে এর চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতি করে।

মেন্থল সিগারেট কেন বেশি ক্ষতিকারক

মেন্থলজাতীয় সিগারেটের ফিল্টারে এক ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। ধোঁয়ার সঙ্গে মুখ, গলা এবং ফুসফুসের সংস্পর্শে এলে শীতল অনুভূত হয়। মূলত এটিই সমস্ত সমস্যার কারণ। দেখা যায়, এটি ভিন্নধর্মী বলে কম বয়সীরা সিগারেটে অধিক আগ্রহী হয়ে পড়ে। ফলে বাড়ে ধূমপায়ীর সংখ্যা।

এ ছাড়া এ ধরনের সিগারেটে থাকা মেন্থলের প্রভাবে ঠান্ডাভাব অনুভূত হয় বলে ধূমপায়ীদের মধ্যে ধোঁয়া ভিতরে ধরে রাখার প্রবণতা বাড়ে। কারণ এতে এক ধরনের আরাম পাওয়া যায়। ধোঁয়া বেশিক্ষণ ভিতরে ধরে রাখলে শরীর অধিক মাত্রায় নিকোটিন গ্রহণ করে। এতে মানুষ দ্রুত ধূমপানজনিত অসুখগুলোতে আক্রান্ত হয়।

এ ছাড়া দেখা যায়, এ ধরনের সিগারেটগুলো নানা ফ্লেভারের হয়ে থাকে। নিঃশ্বাসের সঙ্গে সুগন্ধ বের হয়। সে কারণে লম্বা লম্বা টান দেয়ার প্রবণতাও বাড়ে। এতে ফুসফুস বেশি মাত্রায় নিকোটিন গ্রহণ করায় দ্রুত রক্তচাপ বেড়ে যায়।

গবেষণা বলে, যারা যত লম্বা টান দেয়, তাদের সিগারেটে আসক্তিও সে হারে বৃদ্ধি পায়। ফলে ধূমপান ত্যাগ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

চিকিৎসকদের দাবি, মেন্থল সিগারেট সাধারণ সিগারেটের তুলনায় শুধু রক্তচাপ বা হৃদরোগের আশঙ্কাই বাড়ায় না, পাশাপাশি ফুসফুস এবং ব্লাড ক্যানসারের মতো অসুখেরও কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সূত্র: মিড এন্ডারসন সেন্টার

আরও পড়ুন:
পূজায় করোনা বাড়ছে পশ্চিমবঙ্গে
৭ মাসে সর্বনিম্ন মৃত্যু, শনাক্ত ৬৪৫
ভারতে ফের দৈনিক করোনা সংক্রমণের শঙ্কা ৫ লাখ
১৭ মার্চের পর সর্বনিম্ন মৃত্যু, শনাক্ত ৬৬৩
তালতলী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ২২ চীনা কর্মীর করোনা

শেয়ার করুন

আইসিইউ থেকে কেবিনে খালেদা জিয়া

আইসিইউ থেকে কেবিনে খালেদা জিয়া

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে বায়োপসি হয়েছে খালেদা জিয়ার। ফাইল ছবি

খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘এটা তো আসলে অপারেশন ঠিক না। এটা একটা ডায়াগনস্টিক পার্ট। যেকোনো ছোটোখাটো কিছুর পরই আইসিইউতে রাখা হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক ঘণ্টা আইসিউতে রেখে রাতেই তাকে কেবিনে শিফট করা হয়েছে।’

বায়োপসির পর কয়েক ঘণ্টা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে কেবিনে নেয়া হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে।

সোমবার রাতেই বেগম জিয়াকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয় বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, ‘এটা তো আসলে অপারেশন ঠিক না। এটা একটা ডায়াগনস্টিক পার্ট। যেকোনো ছোটোখাটো কিছুর পরই আইসিইউতে রাখা হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক ঘণ্টা আইসিইউতে রেখে রাতেই তাকে কেবিনে শিফট করা হয়েছে।’

এর আগে সোমবার দুপুরে খালেদা জিয়ার বায়োপসি হয়। এরপর খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য বিষয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আসে বিএনপি।

সংবাদ সম্মেলনে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের ছোট্ট একটি অপারেশন হয়েছে। শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর চিকিৎসকরা দেখলেন, উনার একটা বায়োপসি করা দরকার। ছোট একটা লাম্প (পিণ্ড) আছে এক জায়গায়। যেহেতু লাম্প আছে, তার নেচার অফ ভিউ জানার জন্য লাম্পে বায়োপসি করা হয়েছে।’

স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ১২ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেই থেকেই হাসপাতালটিতে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

গত ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। শুরুতে গুলশানের বাসভবন ফিরোজার দ্বিতীয় তলায় একটি রুমে চিকিৎসা চলছিল বিএনপি নেত্রীর।

১৫ এপ্রিল এভারকেয়ার হাসপাতালে সিটি স্ক্যান করানো হয় খালেদা জিয়ার। এরপর ফিরিয়ে আনা হয় গুলশানের বাসভবনে। অবস্থার অবনতি হলে ২৭ এপ্রিল একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বিএনপির প্রধানকে।

৩ মে শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে খালেদা জিয়াকে কেবিন থেকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। বিএনপি থেকে খালেদা জিয়ার করোনা মুক্তির খবর দেয়া হয় ৯ মে।

তবে সিসিইউতে থাকা অবস্থায় হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হন খালেদা জিয়া। ৩ জুন চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে কেবিনে ফিরিয়ে আনা হয়। এর ১৬ দিন পর বাসায় ফেরেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

হাসপাতালে নেয়ার কিছুদিন পর খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশ নিয়ে যেতে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার পরিবার ও দল। বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা হয় বিএনপি ও খালেদার পরিবারের।

নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদনও করেন খালেদা জিয়া, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে বিদেশ যেতে অনুমতি দেয়নি সরকার। জানানো হয়, বিএনপি নেত্রী একাধিক দণ্ডিত মামলার আসামি হওয়ায় আইন অনুযায়ী তাকে বিদেশ যেতে অনুমতি দেয়ার সুযোগ নেই।

এর মধ্যে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন খালেদা জিয়া। মহাখালীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ১৯ জুলাই প্রথম ডোজ টিকা নেয়ার পর একই হাসপাতালে দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেন ১৮ আগস্ট।

খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল আছে বলে দল থেকে জানানো হয়েছে। আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, হাঁটুর জটিলতা ছাড়াও নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা রয়েছে তার। ২০১৭ সালে যুক্তরাজ্যে খালেদা জিয়ার চোখেও অপারেশন করা হয়।

এর মধ্যে খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়িয়েছে সরকার।

আরও পড়ুন:
পূজায় করোনা বাড়ছে পশ্চিমবঙ্গে
৭ মাসে সর্বনিম্ন মৃত্যু, শনাক্ত ৬৪৫
ভারতে ফের দৈনিক করোনা সংক্রমণের শঙ্কা ৫ লাখ
১৭ মার্চের পর সর্বনিম্ন মৃত্যু, শনাক্ত ৬৬৩
তালতলী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ২২ চীনা কর্মীর করোনা

শেয়ার করুন

ভেজাল ওষুধ উৎপাদন, ২ কারখানা মালিকের জরিমানা

ভেজাল ওষুধ উৎপাদন, ২ কারখানা মালিকের জরিমানা

রংপুরে ভেজাল ওষুধ কারখানায় অভিযান চালিয়েছে ভ্রম্যমাণ আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

রংপুর নগরীর ‘দি মৌভাষা ইসলামিয়া ঔষধ ফ্যাক্টরি’ এবং কাউনিয়া উপজেলার ‘বি সান্ত ল্যাবরেটরিজ’ ইউনানী ফ্যাক্টরিতে অভিযান চালায় পুলিশ। মালিকদের জরিমানা করে দুই কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রংপুর মহানগরী ও কাউনিয়ার হারাগাছ এলাকায় দুটি ওষুধ কারখানায় অভিযান চালিয়ে ভেজাল ওষুধ জব্দ করেছে পুলিশ।

ভ্রাম্যমাণ আদালত মালিকদের জরিমানা করে ওই দুই কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে।

সোমবার দুপুরে নগরীর ‘দি মৌভাষা ইসলামিয়া ঔষধ ফ্যাক্টরি’ এবং কাউনিয়া উপজেলার ‘বি সান্ত ল্যাবরেটরিজ’ ইউনানী ফ্যাক্টরিতে অভিযান চালানো হয়।

রংপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি অ্যান্ড মিডিয়া) সাজ্জাদ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছের বাহার কাছনা এলাকায় ‘বি সান্ত ল্যাবরেটরিজ' ইউনানী ফ্যাক্টরিতে অভিযান চালানো হয়। ফ্যাক্টরিতে কেমিস্ট না থাকা, অনুমোদন ছাড়া ওষুধ তৈরিসহ নানা অনিয়ম ধরা পড়ে। সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত ফ্যাক্টরির মালিক রাশেদুল আনাম প্রামানিককে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে।

ত্রুটি সংশোধন না করা পর্যন্ত ফ্যাক্টরির সব কার্যক্রম ও উৎপাদন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অন্যদিকে, নগরীর নিউ শালবন এলাকায় ‘দি মৌভাষা ইসলামিয়া ঔষধ ফ্যাক্টরি’তে অভিযান চালানো হয়।

সেখানেও অনুমোদন ছাড়া ওষুধ উৎপাদন, কেমিস্ট না থাকা, ওষুধ উৎপাদনের কাঁচামালের গায়ে মেয়াদ ও ব্যবহার বিধি না থাকা এবং বোতলের গায়ে লাগানো লেভেল ও টোকেন সঠিক না থাকাসহ নানাবিধ অনিয়ম পাওয়া যায়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ফ্যাক্টরির মালিক এমদাদুল ইসলামকে সাত হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন।

সব অনিয়ম দূর না করা পর্যন্ত কারখানার কার্যক্রম ও উৎপাদন বন্ধ রাখার আদেশ দেয়া হয়েছে।

দুই ওষুধ কারখানা থেকে ১৫ লাখ টাকার ভেজাল ওষুধ জব্দ করেছে পুলিশ।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন রংপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাশপিয়া তাসরিন।

অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর রংপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম।

রংপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি অ্যান্ড মিডিয়া) সাজ্জাদ হোসেন জানান, রংপুর মহানগরীতে সব ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, নকল ও অননুমোদিত ওষুধ নির্মূলে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন:
পূজায় করোনা বাড়ছে পশ্চিমবঙ্গে
৭ মাসে সর্বনিম্ন মৃত্যু, শনাক্ত ৬৪৫
ভারতে ফের দৈনিক করোনা সংক্রমণের শঙ্কা ৫ লাখ
১৭ মার্চের পর সর্বনিম্ন মৃত্যু, শনাক্ত ৬৬৩
তালতলী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ২২ চীনা কর্মীর করোনা

শেয়ার করুন

করোনায় আরও ৫ মৃত্যু, শনাক্ত ২৮৯

করোনায় আরও ৫ মৃত্যু, শনাক্ত ২৮৯

ফাইল ছবি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৮৩৩টি ল্যাবে করোনার ২০ হাজার ৭৭৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার এক দশমিক ৩৯ শতাংশ। দেশে এ নিয়ে টানা ৩৩ দিন করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে আরও ২৮৯ জনের শরীরে।

সোমবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, দেশে এ নিয়ে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৬৭ হাজার ৯৮১ জনের শরীরে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৮২৮ জনের।

২৪ ঘণ্টায় দেশের ৮৩৩টি ল্যাবে করোনার ২০ হাজার ৭৭৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার এক দশমিক ৩৯ শতাংশ। দেশে এ নিয়ে টানা ৩৩ দিন করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে।

গত এক দিনে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে ৪১৩ জন। এ পর্যন্ত হয়েছে সুস্থ ১৫ লাখ ৩১ হাজার ৭৪০ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ২ জন ও ৩ জন নারী। এর মধ্যে পঞ্চাশোর্ধ্ব ২, ষাটোর্ধ্ব ৩ জন।

বিভাগ অনুযায়ী ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ২ জন করে মারা গেছে। এছাড়া খুলনা বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

গত বছরের মার্চে ছড়ানো করোনা বছরের শেষে নিয়ন্ত্রণে আসার পর চলতি বছর এপ্রিলের আগে থেকে আবার বাড়তে থাকে। এর মধ্যে প্রাণঘাতী ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার পর এপ্রিলের শুরুতে লকডাউন এবং ১ জুলাই থেকে শাটডাউন দেয় সরকার।

সংক্রমণ কমে আসার পর আগস্টের মাঝামাঝি থেকে ধীরে ধীরে সব বিধিনিষেধ তুলে নেয়া শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হয় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

আরও পড়ুন:
পূজায় করোনা বাড়ছে পশ্চিমবঙ্গে
৭ মাসে সর্বনিম্ন মৃত্যু, শনাক্ত ৬৪৫
ভারতে ফের দৈনিক করোনা সংক্রমণের শঙ্কা ৫ লাখ
১৭ মার্চের পর সর্বনিম্ন মৃত্যু, শনাক্ত ৬৬৩
তালতলী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ২২ চীনা কর্মীর করোনা

শেয়ার করুন

হার্ট অ্যাটাকের কারণ

হার্ট অ্যাটাকের কারণ

কাওয়াসাকি রোগ থেকে থ্রম্বোসিসের সমস্যা হলে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সীরাও ঝুঁকিতে থাকেন। 

আজকাল বহু মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হচ্ছে হার্ট অ্যাটাক। বিশেষ করে ৪০ বছরের ওপর যারা আছেন তাদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি যেন সবচেয়ে বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে হার্ট অ্যাটাকের কিছু বিশেষ কারণ রয়েছে। চলুন জেনে নেয়া যাক কারণগুলো।

১. অনেকেরই জন্মগতভাবে শরীরের বিভিন্ন শিরা বা ধমনির মাপ ছোট হয়ে থাকে। সেসব মানুষ যখন অতিরিক্ত শারীরিক কসরত করে, তখন তাদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

২. কাওয়াসাকি রোগ থেকে থ্রম্বোসিসের সমস্যা হলে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সীরাও ঝুঁকিতে থাকেন।

৩. অতিরিক্ত ধূমপান সিগারেট, গাঁজা বা হুক্কার নেশা করলে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার মতো সমস্যা তৈরি হয়। এর ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি বেড়ে যায়।

৪. লিপিড মেটাবলিজমের সমস্যা থাকলে কম বয়সেই হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারে। এটি হৃদরোগের অন্যতম কারণ বলে বিবেচিত।

৫. কোনো কারণে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলেও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

৬. অতিরিক্ত ফাস্টফুড, তৈলাক্ত বা দুগ্ধজাত খাবার খেলে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা বাড়ে।

৭. অ্যালকোহলে আসক্ত এবং ডায়বেটিস আক্রান্ত মানুষেরও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি।

এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, কম বয়সে আচমকা বুকে সামান্য ব্যথা অনুভব করলে, তা এড়িয়ে না গিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসার সুযোগ আগে থেকেই পাওয়া যায়। ক্রান্তীয় পরিবেশে যেহেতু কোলেস্টেরল আর ডায়াবেটিসের প্রবণতা বেশি, সে ক্ষেত্রে আগাম সতর্কতা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন:
পূজায় করোনা বাড়ছে পশ্চিমবঙ্গে
৭ মাসে সর্বনিম্ন মৃত্যু, শনাক্ত ৬৪৫
ভারতে ফের দৈনিক করোনা সংক্রমণের শঙ্কা ৫ লাখ
১৭ মার্চের পর সর্বনিম্ন মৃত্যু, শনাক্ত ৬৬৩
তালতলী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ২২ চীনা কর্মীর করোনা

শেয়ার করুন