মারধরের অভিযোগে ছেলেকে ১০ মাস ১০ দিনের কারাদণ্ড

মারধরের অভিযোগে ছেলেকে ১০ মাস ১০ দিনের কারাদণ্ড

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় মাকে মারপিটের অভিযোগে ছেলের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

ইউএনও শেখ মহি উদ্দিন জানান, মিশন মিয়া প্রায় সময় টাকার জন্য তার মাকে মারধর করতেন। এর আগেও তার মা অভিযোগ দিয়েছিলেন। শুক্রবার রাতে আবারও টাকার জন্য পাইপ দিয়ে মাকে মারধর করেন মিশন। একপর্যায়ে দা নিয়ে মাকে আক্রমণ করলে স্থানীয়রা তাকে বাধা দেন।

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় মাকে মারধরের অভিযোগে ছেলেকে ১০ মাস ১০ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মহি উদ্দিন শুক্রবার রাত ১০টায় এ দণ্ডাদেশ দেন। শনিবার সকালে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

দণ্ডাদেশ পাওয়া ২০ বছর বয়সী মিশন মিয়ার বাড়ি উপজেলার পূর্ব তিমিরপুর গ্রামে।

স্থানীয়রা জানান, বাবা বেঁচে নেই, কাঁথা সেলাই করে সংসার চালান মা। অথচ ঘরে স্ত্রী রেখে কিছুই করেন না ছেলে। উল্টো সংসারের প্রয়োজনে টাকাপয়সার জন্য মাকে মারধর করেন। ভাঙচুর করেন ঘরের জিনিসপত্র। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার অভিযান চালিয়ে ওই ছেলেকে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ইউএনও শেখ মহি উদ্দিন জানান, মিশন মিয়া প্রায় সময় টাকার জন্য তার মাকে মারধর করতেন। এর আগেও তার মা অভিযোগ দিয়েছিলেন। শুক্রবার রাতে আবারও টাকার জন্য পাইপ দিয়ে মাকে মারধর করেন মিশন। একপর্যায়ে দা নিয়ে মাকে আক্রমণ করলে স্থানীয়রা তাকে বাধা দেন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মিশনকে আটক করা হয়। পরে দোষ স্বীকার করলে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাকে ১০ মাস ১০ দিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
দালাল চক্রের ৩ সদস‍্যকে জরিমানা
কারেন্ট জাল ধ্বংস, চায়না জাল তৈরির কারখানা বন্ধ
ভ্রাম্যমাণ আদালত: কাজ ছাড়া পথে নেই মানুষ  
পটোল ক্ষেতে গাঁজা চাষ, এক বছরের সাজা
বগুড়ায় হাসপাতালে অভিযান, ৭ দালালের কারাদণ্ড

শেয়ার করুন

মন্তব্য

স্কুলছাত্রীকে হত্যার পর আটক কিশোরের মৃত্যু

স্কুলছাত্রীকে হত্যার পর আটক কিশোরের মৃত্যু

টাঙ্গাইলের কালিহাতীর একটি নির্মাণাধীন ভবনের সিঁড়ি থেকে সুমাইয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। ছবি: নিউজবাংলা

র‍্যাব কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, স্কুলছাত্রীর মরদেহের পাশেই রক্তাক্ত অবস্থায় মনিরের পড়ে থাকাটা তদন্তের মোড় অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়। আহত মনিরকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে র‍্যাব হেফাজতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। সুস্থ হলে তাকে আদালতে তোলা হতো।

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে স্কুলছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যার পর ‘আত্মহত্যার’ চেষ্টা করা কিশোর মনির মারা গেছে।

র‌্যাব-১২ সিপিসি-৩ এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মনিরকে আহত অবস্থায় উদ্ধারের পর প্রথমে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানেই সকালে সে মারা যায়।

তিনি আরও জানান, এর আগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিজ্ঞাসাবাদে মনির ওই স্কুলছাত্রীকে হত্যা করে আত্মহত্যার চেষ্টার কথা জানায়।

হত্যার শিকার কিশোরীর নাম সুমাইয়া আক্তার। তার বাড়ি উপজেলার পালিমা এলাকায়। সে এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ত।

মনির মিয়ার বাড়ি উপজেলার ভাবলা গ্রামে। তবে সে মশাজান গ্রামে থেকে কালিহাতীতে পরিবহন শ্রমিক হিসেবে কাজ করত।

কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্কুলছাত্রী সুমাইয়ার মরদেহের পাশেই রক্তাক্ত অবস্থায় মনিরের পড়ে থাকাটা তদন্তের মোড় অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়। আহত মনিরকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে র‌্যাব হেফাজতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। সুস্থ হলে তাকে আদালতে তোলা হতো।

‘সুমাইয়ার সঙ্গে মনিরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। দুই মাস আগে সুমাইয়া অন্য আরেকজনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি মনির সহ্য করতে না পেরে সুমাইয়াকে মারধর করে।

‘বুধবার কোচিংয়ে যাওয়ার সময় একপর্যায়ে মনির সুমাইয়াকে একটি ভবনের নিচ তলার নিয়ে ছুরি দিয়ে হত্যার পর নিজেই আত্মহত্যার চেষ্টা করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে যে ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে সেটি মনিরের দুইটি টিকটক ভিডিওতে দেখা গেছে। মঙ্গলবার মনির তার বন্ধুদের সঙ্গে একটি বৈঠকে বসে অস্ত্রের কথাও বলেছে। পরে মনির ওই স্কুলছাত্রীকে হত্যা করে নিজেই আত্মহত্যার চেষ্টা করে।’

উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার শামসুল হক কলেজের সামনের একটি ভবনের সিঁড়ি থেকে বুধবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে সুমাইয়ার গলাকাটা দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সেখানেই রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় মনিরকে।

তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে জরুরি বিভাগে চিকিৎসক রাজিব পাল চৌধুরী জানিয়েছিলেন, মনিরের গলায়, ঘাড়ে ও শরীরের বিভিন্নস্থানে গভীর ক্ষত ছিল।

আরও পড়ুন:
দালাল চক্রের ৩ সদস‍্যকে জরিমানা
কারেন্ট জাল ধ্বংস, চায়না জাল তৈরির কারখানা বন্ধ
ভ্রাম্যমাণ আদালত: কাজ ছাড়া পথে নেই মানুষ  
পটোল ক্ষেতে গাঁজা চাষ, এক বছরের সাজা
বগুড়ায় হাসপাতালে অভিযান, ৭ দালালের কারাদণ্ড

শেয়ার করুন

আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ছবি: নিউজবাংলা

নিহতের ছেলে ইমরান বলেন, ‘আমার অসুস্থ কাকার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল। তার চিকিৎসার আড়াই লাখ টাকা বাবার সঙ্গে ছিল। ওই টাকাও সন্ত্রাসীরা লুটে নেয়।’

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতা আবু ছায়েদ ভূঞা রিপনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। লুট করা হয়েছে তার সঙ্গে থাকা আড়াই লাখ টাকা।

উপজেলার মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের বাদি গাছতলা এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে বাড়ি থেকে ১০০ গজ দূরে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কমকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক রনি।

নিহত আবু ছায়েদ উপজেলার মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

ওসি জানান, বুধবার রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা ছায়েদকে কুপিয়ে হত্যা করে মরদেহ বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে আরেকটি বাড়ির সামনে ফেলে যায়।

নিহতের ছেলে ইমরান হোসেন জানান, লাল সবুজ বাস পরিবহনের বেগমগঞ্জ চৌরাস্তা বাস কাউন্টারের ম্যানেজার ছিলেন তার বাবা। বুধবার রাতে কাউন্টার থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন ছায়েদ। তার সঙ্গে আড়াই লাখ টাকা ছিল।

ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা হত্যা করে। মরদেহ বারিয়া হাট বাজার সংলগ্ন মোসলে উদ্দিন মাওলানার বাড়ির দরজায় ফেলে রাখা হয়।

ইমরান বলেন, ‘আমার অসুস্থ কাকার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল। তার চিকিৎসার আড়াই লাখ টাকা বাবার সঙ্গে ছিল। ওই টাকাও সন্ত্রাসীরা লুটে নেয়।’

ওসি মীর জাহেদুল জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
দালাল চক্রের ৩ সদস‍্যকে জরিমানা
কারেন্ট জাল ধ্বংস, চায়না জাল তৈরির কারখানা বন্ধ
ভ্রাম্যমাণ আদালত: কাজ ছাড়া পথে নেই মানুষ  
পটোল ক্ষেতে গাঁজা চাষ, এক বছরের সাজা
বগুড়ায় হাসপাতালে অভিযান, ৭ দালালের কারাদণ্ড

শেয়ার করুন

নরসিংদীতে নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত ২

নরসিংদীতে নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত ২

নরসিংদীর রায়পুরায় ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে দুইজন নিহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

ওসি আজিজুর রহমান জানান, নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার পাড়াতলী ইউনিয়নের কাচারিকান্দি গ্রামে শাহ আলম মেম্বার ও একই গ্রামের ছোট শাহ আলমের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছিল। সামনে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই দুই গ্রুপের মধ্যে বৃহস্পতিবার সকালে সংঘর্ষ হলে ছোট শাহ আলম গ্রুপের দুজন নিহত হন।

নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তার ও ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ৩০ জন।

উপজেলার পাড়াতলী ইউনিয়নের কাচারিকান্দি গ্রামে বৃহস্পতিবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন উপজেলার কাচারিকান্দি গ্রামের সাদির মিয়া ও একই গ্রামের মো. হিরণ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুর রহমান।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওসি জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার পাড়াতলী ইউনিয়নের কাচারিকান্দি গ্রামে শাহ আলম মেম্বার ও একই গ্রামের ছোট শাহ আলমের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলেছিল। সেই জেরে ৬ মাস আগে এই দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

ওই সংঘর্ষে ছোট শাহ আলম গ্রুপের ইয়াসিন ও শাহিন নামে দুজন নিহত হন। এ ঘটনায় বড় শাহ আলম গ্রুপের সদস্যরা গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়।

ওসি আরও জানান, ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য শাহ আলম মেম্বারের লোকজন আবার গ্রামে ঢোকার চেষ্টা চালায়। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার ভোরে মেম্বার গ্রুপের সদস্যরা টেঁটা, বল্লম ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে গ্রামে ঢুকে ছোট শাহ আলমের বাড়িতে হামলা চালায়।

এ সময় ছোট আলমের সমর্থকরা বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে এবারও ছোট শাহ আলম গ্রুপের সাদির ও হিরণ নামের দুজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

গুলি ও টেঁটাবিদ্ধ হয়ে আহতদের উদ্ধার করে রায়পুরাসহ নরসিংদীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা সবাই ছোট শাহ আলমের সমর্থক। তাদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় জজ মিয়াকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ রায়পুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে মামলার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলেও জানান ওসি।

আরও পড়ুন:
দালাল চক্রের ৩ সদস‍্যকে জরিমানা
কারেন্ট জাল ধ্বংস, চায়না জাল তৈরির কারখানা বন্ধ
ভ্রাম্যমাণ আদালত: কাজ ছাড়া পথে নেই মানুষ  
পটোল ক্ষেতে গাঁজা চাষ, এক বছরের সাজা
বগুড়ায় হাসপাতালে অভিযান, ৭ দালালের কারাদণ্ড

শেয়ার করুন

প্রতীক বরাদ্দের প্রথম দিনই ধামরাইয়ে উত্তেজনা

প্রতীক বরাদ্দের প্রথম দিনই ধামরাইয়ে উত্তেজনা

স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছেন, তাদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন নৌকার প্রার্থীরা।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের প্রথম দিনই উত্তেজনা ছড়িয়েছে ঢাকার ধামরাইয়ের চার ইউনিয়নে।

উপজেলার রোয়াইল, সোমভাগ, বালিয়া ও গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নে বুধবার বিকেলে ও সন্ধ্যার বিভিন্ন সময় সহিংসতাসহ উত্তেজনার নানা ঘটনা ঘটে।

এসব ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছেন, তাদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন নৌকার প্রার্থীরা।

রোয়াইল ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কালাম সামসুদ্দিন মিন্টু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিকেলে নৌকার লোকজন মোটরসাইকেল নিয়া আমার অফিসের সামনে হামলা করছে। এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুইড়া আতঙ্ক ছড়ায়ে আধাঘণ্টা পর চইলা গেছে।

‘খড়ারচর মাঠে ১০০-১৫০ মোটরসাইকেলে ২-৩ জন কইরা আসছে। প্রত্যেক মোটরসাইকেলে ওদের হাতে একটা কইরা লাঠি আর নৌকার প্রতীক লাগানো। ওরা মূলত চাইছিল আমরা প্রতিবাদ করি। আর প্রতিবাদ করলেই বড় ধরনের সংঘর্ষ হইত। তো আমরা অফিসের ভেতরেই বসা ছিলাম। আমি ওসি সাহেব ও রিটার্নিং অফিসারকে জানাইছি। ওনারা বলছে, লিখিত অভিযোগ দিতে। আমি অভিযোগ দেব।’

এ বিষয়ে রোয়াইল ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজিম উদ্দিন খান বলেন, ‘না, বিষয়টি আমি জানিও না। আমার বিশ্বাস, আমার যারা সমর্থক তারা এই ধরনের কাজ করবে না। আমার শতভাগ আস্থা আছে নিজের মানুষের প্রতি। ওই প্রার্থী আগেও একবার বলছে, একটা মিছিল গিয়ে তার বাড়ির গেট, দেয়াল ভাঙছে। পরে আমি সেই বাড়ির ছবি তুলে এমপি মহোদয়কে দেখাই, সেখানে কিছু হয়নি। সে এমন মিথ্যা অভিযোগ করতেই থাকে।’

সোমভাগ ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী আওলাদ হোসেনের কর্মী-সমর্থকরা অভিযোগ করেন, বানেশ্বর পশ্চিমপাড়া এলাকায় স্থানীয় একটি মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায়ে যান আওলাদ। সে সময় ওই এলাকায় মিছিল বের করেন নৌকার প্রার্থী আজাহার চেয়ারম্যানের সমর্থকরা। আওলাদ মসজিদ থেকে বের হতেই মিছিলের লোকজন তাকে গালমন্দ করতে থাকেন।

এ ঘটনার ভিডিও করতে গেলে আওলাদের এক সমর্থকের ফোন ছিনিয়ে নেয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে আওলাদ হোসেন, তার ছোট ভাই বাবু, সাইফুল, সুরুজসহ তিন-চারজনকে মারধর করা হয়। পরে তারা ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

তবে নৌকার প্রার্থী আজাহার আলী পাল্টা অভিযোগ করেন, ‘একটা মারামারির ঘটনা ঘটছে। আবার আমার নির্বাচনি অফিস ভাঙচুর করেছে আওলাদ হোসেনের লোকজন। সেই বিষয়ে আমি নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে উপজেলা পরিষদে গিয়েছি।’

বালিয়া ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী নূরে আলম নান্নুর কর্মীদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মুজিবুর রহমানের সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

নূরে আলম সিদ্দিকী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিকেলে একটি ভ্যানে মাইক নিয়ে আমার চার কর্মী প্রচার চালিয়ে বালিয়া ইউনিয়নের কামারপাড়ার দিকে যাচ্ছিল। পথে সামনে থেকে আসা প্রায় ৪০-৫০টি মোটরসাইকেলের লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। তারা সবাই নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মুজিবুর রহমানের রাজীব ও সজীবের লোক।

‘রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আমার চারজন কর্মীকেই বেধড়ক মারধর করতে থাকে। এ সময় স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে তারা চলে যায়। পরে চারজনকেই মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে একজনের মাথায় রড দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।’

নূরে আলম আরও বলেন, ‘এলাকার নিরীহ মানুষ এমনিতেই আতঙ্কে আছেন। তার ওপর এ ধরনের ঘটনায় তাদের আতঙ্ক আরও বেড়ে গেছে। আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাচন অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি। এভাবে চললে আমার নিজের নিরাপত্তা নিয়েই শঙ্কিত আমি। আমরা চাই সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হোক। তাই প্রশাসনের প্রতি কঠোর ভূমিকা পালনের অনুরোধ করছি।’

অভিযোগের বিষয়ে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মুজিবুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি আমার জানা নেই। শুনেছি পোলাপান মারামারি করছে। আমি জানি না। অভিযোগের বিষয়টি আপনার কাছেই শুনলাম।’

গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের গান্ধুলিয়া গ্রামে পোস্টার লাগাতে গিয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর কর্মীদের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রহমান বলেন, ‘সন্ধ্যার দিকে আমার কর্মী জাকির হোসেন গান্ধুলিয়া গ্রামে পোস্টার লাগাতে গিয়েছিল। এ সময় আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল কাদের মোল্লার ভাতিজা আবুল কাশেম কাশি তাকে বাধা দেয়। সে প্রতিবাদ জানালে কাশি তাকে চড়-থাপ্পড় দেয়। এ ঘটনায় আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দেব।’

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাওয়া ধামরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরাফাত উদ্দিন বলেন, ’পোস্টার ছেঁড়ার ঘটনা শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্তে আশপাশের লোকজনের কাছ থেকে সত্যতা পেয়েছি। তবে অভিযুক্ত কাউকে ঘটনাস্থলে পাইনি। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল কাদের মোল্লাকে অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে ব্যস্ততার অজুহাতে তিনি ফোন রেখে দেন।

ঢাকা জেলা জ্যেষ্ঠ রিটার্নিং অফিসার মুনীর হোসেন খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখনও কোনো অভিযোগ পাইনি। এসব বিষয় উপজেলা রিটার্নিং অফিসাররা আছেন, তারাই ব্যবস্থা নিবেন। নির্বাচনের দায়িত্বই তাদের। রিটার্নিং বরাবর আবেদন করলে তারা ব্যবস্থা নেবেন।’

ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ হাই জকী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ফাঁকা গুলির ঘটনা আপনার কাছেই শুনলাম। আর সোমভাগ ও বালিয়া ইউনিয়নে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হইছে। কয়েকজন আহত হইছে। তবে এখনও আমার কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। তবে তারা মৌখিক অভিযোগ করেছেন। আমি প্রশাসনকে বলেছি। তারা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।’

আরও পড়ুন:
দালাল চক্রের ৩ সদস‍্যকে জরিমানা
কারেন্ট জাল ধ্বংস, চায়না জাল তৈরির কারখানা বন্ধ
ভ্রাম্যমাণ আদালত: কাজ ছাড়া পথে নেই মানুষ  
পটোল ক্ষেতে গাঁজা চাষ, এক বছরের সাজা
বগুড়ায় হাসপাতালে অভিযান, ৭ দালালের কারাদণ্ড

শেয়ার করুন

‘খুনের পর থেকে খেতে-ঘুমাতে পারি না’

‘খুনের পর থেকে খেতে-ঘুমাতে পারি না’

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বাবা-ছেলে হত্যায় আত্মসমর্পণ করা নজরুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

পিবিআই কর্মকর্তা কামাল আব্বাস বলেন, “নজরুল নিজেকে খুনি দাবি করে বলেন, ‘আমি খুনি; এই খুনের পর থেকে আমি ঠিকমতো খাইতে পারি না, ঘুমাইতে পারি না, কিচ্ছু করতে পারি না। আমি এই খুনের প্রায়শ্চিত্ত করতে চাই। আমাকে গ্রেপ্তার করেন'।”

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বাবা-ছেলে হত্যায় নিজের সম্পৃক্ততা দাবি করে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন এক ব্যক্তি। তিনি চট্টগ্রামের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কার্যালয়ে গিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।

পিবিআইয়ে বাবা-ছেলে হত্যা মামলাটি তদন্ত করছেন উপপরিদর্শক কামাল আব্বাস। তিনি বুধবার রাতে সংবাদমাধ্যমকে জানান, মঙ্গলবার রাতে নজরুল ইসলাম নামের ওই ব্যক্তি কার্যালয়ে হাজির হন। তিনি জানান, তার বাড়ি খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়িতে।

কামাল আব্বাস বলেন, “মঙ্গলবার রাতে তিনজন লোককে সঙ্গে নিয়ে ওই লোক (নজরুল) অফিসে এসে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে আমার সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় তিনি নিজেকে খুনি দাবি করে বলেন, ‘আমি খুনি; এই খুনের পর থেকে আমি ঠিকমতো খাইতে পারি না, ঘুমাইতে পারি না, কিচ্ছু করতে পারি না। আমি এই খুনের প্রায়শ্চিত্ত করতে চাই। আমাকে গ্রেপ্তার করেন'।”

কামাল জানান, নজরুলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বুধবার সকালে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শহিদুল্লাহ কায়সারের আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

কামাল আরও জানান, খুনের ঘটনায় ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর থেকে আরও ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন আবুল কালাম আবু, সোলতান আহমেদ, বাহাদুর, মহিউদ্দিন ও রমজান আলী।


এই পাঁচজনসহ নজরুলকে অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম ফরিদা ইয়াসমিনের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত তাদের তিন দিন করে রিমান্ডে পাঠিয়েছে।

এর আগে বাবা-ছেলে খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. ফিরোজ, সালাহ উদ্দিন ওরফে মন্নান ও মো. এখলাস নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। তারা ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের বাসিন্দা।

এর মধ্যে মো. ফিরোজ গত ২০ অক্টোবর চট্টগ্রাম অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম ফরিদা ইয়াসমিনের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অন্য দুজনকে তিন দিন করে রিমান্ডে পাঠায় আদালত।

২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নে দুইদ্যা খাল থেকে ফকির আহমেদের গলা কাটা দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার পরের দিন ফটিকছড়ি থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন নিহতের বাবা এজহার মিয়া।

খুনের ৯ মাসেও পুলিশ কাউকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে না পাড়ায় মামলাটির তদন্তের বিষয়ে পিবিআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগের সিদ্ধান্ত নেন এজহার মিয়া।

এরপর গত ২৫ জুন কাঞ্চননগর ইউনিয়নের দক্ষিণ কাঞ্চননগরের গরজইজ্ঞা থেকে এজহার মিয়ার গলা কাটা দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ২৬ জুন নিহতের স্ত্রী নাছিমা বেগম ফটিকছড়ি থানায় আরেকটি হত্যা মামলা করেন।

পিবিআই জানায়, সংস্থাটি মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেলে আর রক্ষা নেই, এই চিন্তা করে এজহার মিয়াকেও খুন করার সিদ্ধান্ত নেন ফকির আহমেদকে খুনের মামলার আসামিরা।

দুই মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান পিবিআই কর্মকর্তা কামাল আব্বাস।

আরও পড়ুন:
দালাল চক্রের ৩ সদস‍্যকে জরিমানা
কারেন্ট জাল ধ্বংস, চায়না জাল তৈরির কারখানা বন্ধ
ভ্রাম্যমাণ আদালত: কাজ ছাড়া পথে নেই মানুষ  
পটোল ক্ষেতে গাঁজা চাষ, এক বছরের সাজা
বগুড়ায় হাসপাতালে অভিযান, ৭ দালালের কারাদণ্ড

শেয়ার করুন

স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান: ২৮ বছর পর ফিরলেন বাড়ি

স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান: ২৮ বছর পর ফিরলেন বাড়ি

সুন্দলী ইউনিয়ন পরিষদে বাচ্চু মণ্ডলকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

বাচ্চু মণ্ডল বলেন, ‘স্ত্রী-সন্তান ও আত্মীয়-বন্ধুদের ফেলে দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে আমি সনাতন ধর্মের মানুষের সঙ্গে বসবাস করেছি। এ ইউনিয়নে ৯৯ শতাংশ হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। তারা আমাকে তাদের ভাই হিসেবে সম্মান ও শ্রদ্ধা করেছে। থাকতে দিয়েছে, ভালো খেতে দিয়েছে, ভালো ব্যবহার করেছে। কখনও অন্য ধর্মের মানুষ হিসেবে আমাকে ঘৃণা করেনি। আমি সুন্দলী ইউনিয়নবাসীর কাছে ঋণী।’

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বাচ্চু মণ্ডল স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে বাড়ি ছেড়েছিলেন ২৮ বছর আগে।

১৯৯৩ সালে যেদিন বাড়ি ছাড়েন, সেই দিনই বাসে করে আসেন যশোরের অভয়নগর উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নে। সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মিলেমিশে কাটিয়ে দিয়েছেন দীর্ঘ ২৮ বছর।

ইউনিয়নের কেউ বাচ্চু মণ্ডলের ঠিকানা না জানলেও ভালোবাসতেন সবাই। ডাকতেন বাচ্চু ভাই বলে। অবশেষে সন্ধান পেয়ে মান ভাঙিয়ে তাকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে গেছেন পরিবারের সদস্যরা।

সুন্দলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিকাশ রায় কপিলের মধ্যস্থতায় মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে বাচ্চু মণ্ডলকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বাচ্চু মণ্ডল জানান, স্ত্রী জাহেদা বেগমের ওপর অভিমান করে ৩৬ বছর বয়সে তিনি বাড়ি ছাড়েন। বিভিন্ন যানবাহনে করে ওই দিনই যশোরের মণিহার সিনেমা হলের সামনে পৌঁছান। সেখান থেকে অভয়নগরের নওয়াপাড়া বাজার হয়ে সুন্দলী বাজারে পৌঁছালে রাত হয়ে যায়।

সেই রাতে ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামের নগেন্দ্রনাথ রায় তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে খাওয়া-থাকার শর্তে নগেন্দ্রনাথের কৃষিজমি ও বাড়ির কাজ করতে শুরু করেন তিনি। তিন বছর পর একই ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের মুকুন্দ মল্লিক তাকে তার বাড়িতে থাকার অনুরোধ করেন। সেখানে দুই বছর থাকার পর একই গ্রামের চারু মল্লিকের বাড়িতে চলে যান।

তিনি আরও জানান, ২০০৬ সালে সুন্দলী ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান বিকাশ মল্লিক ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে তাকে একটি ভ্যান উপহার দেন। সেই ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ শুরু করেন তিনি।

পরে তাকে ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। ওই সময় ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ শেখর বিশ্বাস তাকে থাকতে দেন।

২০১০ সালে সুন্দলী ইউনিয়ন পরিষদের নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে বসবাসের সুযোগ দেন তৎকালীন চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা। সেই থেকে সুন্দলী ইউনিয়ন পরিষদই তার বাড়ি।

বাচ্চু মণ্ডল বলেন, ‘আমার মা-বাবা কেউ বেঁচে নেই। চার ভাইয়ের মধ্যে আমি সেজ। স্ত্রী-সন্তান ও আত্মীয়-বন্ধুদের ফেলে দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে আমি সনাতন ধর্মের মানুষের সঙ্গে বসবাস করেছি।

‘এ ইউনিয়নে ৯৯ শতাংশ হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। তারা আমাকে তাদের ভাই হিসেবে সম্মান ও শ্রদ্ধা করেছে। থাকতে দিয়েছে, ভালো খেতে দিয়েছে, ভালো ব্যবহার করেছে। কখনও অন্য ধর্মের মানুষ হিসেবে আমাকে ঘৃণা করেনি। আমি সুন্দলী ইউনিয়নবাসীর কাছে ঋণী।’

বাড়ি ফিরলেও অভয়নগরের সুন্দলী ইউনিয়নে সপরিবারে বেড়াতে আসবেন বলে জানান বাচ্চু মণ্ডল।

বাচ্চু মণ্ডলের ভাইপো শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘চাচা নিখোঁজ হওয়ার পর আমরা অনেক খুঁজেছি। একপর্যায়ে চাচার আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। সম্প্রতি আমাদের এলাকার গ্রাম পুলিশ অসিত বিশ্বাসের মাধ্যমে চাচার সন্ধান মেলে। রাতেই চাচাকে নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হয়েছি।’

তিনি জানান, স্ত্রী জাহেদা অন্তঃসত্ত্বা থাকা অবস্থায় বাচ্চু মণ্ডল বাড়ি ছাড়েন। বর্তমানে জাহিদুল ইসলাম নামে তার ২৭ বছরের একটি ছেলে আছে।

অন্য ধর্মের হলেও তার চাচার সঙ্গে সুন্দলী ইউনিয়নের মানুষের আচরণ সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সুন্দলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিকাশ রায় কপিল বলেন, ‘বাচ্চু মণ্ডলের পরিবার আছে- এমন কথা তিনি কোনো দিন কাউকে বলেননি। দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে তিনি আমাদের ইউনিয়নে আছেন। ২০১০ সাল থেকে পরিষদের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে থাকতেন।

‘খুব ভালো মনের মানুষ তিনি। সবাই তাকে বাচ্চু ভাই বলে ডাকত। ২৮ বছর পর মানুষটিকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে আমরা তৃপ্ত।’

আরও পড়ুন:
দালাল চক্রের ৩ সদস‍্যকে জরিমানা
কারেন্ট জাল ধ্বংস, চায়না জাল তৈরির কারখানা বন্ধ
ভ্রাম্যমাণ আদালত: কাজ ছাড়া পথে নেই মানুষ  
পটোল ক্ষেতে গাঁজা চাষ, এক বছরের সাজা
বগুড়ায় হাসপাতালে অভিযান, ৭ দালালের কারাদণ্ড

শেয়ার করুন

চুলের ‘সুন্নতি কাটিং’: নির্দেশনা প্রত্যাহার করলেন চেয়ারম্যান

চুলের ‘সুন্নতি কাটিং’: নির্দেশনা প্রত্যাহার করলেন চেয়ারম্যান

চুলের কাটিং নিয়ে নোটিশ জারি করা চরফ্যাশন উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন হাওলাদার। ছবি: নিউজবাংলা

চরফ্যাশন উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন হাওলাদার বলেন, ‘ইয়াং ছেলেদের চুলের স্টাইল ও কালার করার বিষয়ে স্থানীয় মুরব্বিরা আমার কাছে একাধিকবার অভিযোগ করেন। আমি তাদের কয়েকজনকে চুল কাটার বিষয়ে বুঝিয়েছি কিন্তু তারা না মানায় স্থানীয় মুসলিমদের সঙ্গে কথা বলে ২৫ অক্টোবর নোটিশ জারি করি।’

ভোলায় চুল কাটার নিয়ম বেঁধে দিয়ে সেলুনে সেলুনে নোটিশ টাঙিয়ে দেন এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান। সমালোচনার মুখে তা প্রত্যাহারও করেছেন।

ঘটনাটি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের। এই ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি সেলুনে ২৫ অক্টোবর টাঙানো হয় নোটিশ।

এতে লেখা, এতদ্বারা জানানো যাচ্ছে যে, ১৪ নং জাহানপুর ইউনিয়নের সকল সেলুন দোকান মালিক ও কারিগরদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যে, সুন্নতি কাটিং, ডিফেন্স/আর্মি কাটিং ব্যাতিত অন্য কোনো কাটিং দেওয়া হলে আইন আনুক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোটিশের নিচে চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন হাওলাদারের সিল, সই ও মোবাইল নম্বর।

চুলের ‘সুন্নতি কাটিং’: নির্দেশনা প্রত্যাহার করলেন চেয়ারম্যান

এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে অনলাইনে, অফলাইনে শুরু হয় আলোচনা। এমন নিয়মের প্রতিবাদ করায় এক কিশোরকে মারধরেরও অভিযোগ ওঠে চেয়ারম্যানের ছেলে তুষারের বিরুদ্ধে।

এরপর বুধবার বিকেলে নিজের ভুল স্বীকার করে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন নাজিম।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ইয়াং ছেলেদের চুলের স্টাইল ও কালার করার বিষয়ে স্থানীয় মুরব্বিরা আমার কাছে একাধিকবার অভিযোগ করেন। আমি তাদের কয়েকজনকে চুল কাটার বিষয়ে বুঝিয়েছি কিন্তু তারা না মানায় স্থানীয় মুসলিমদের সঙ্গে কথা বলে ২৫ অক্টোবর নোটিশ জারি করি।

‘তবে এটা যে আইন বহির্ভূত তা আমার জানা ছিল না। যখন জানলাম তখন ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার দিয়ে প্রতিটা নোটিশ তুলে নিয়েছি। আমার ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করে ক্ষমাও চেয়েছি।’

চুলের ‘সুন্নতি কাটিং’: নির্দেশনা প্রত্যাহার করলেন চেয়ারম্যান

এক কিশোরকে মারধরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের সঙ্গে স্থানীয় জসিমের ছেলের চুল কাটা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে। আমি জানতে পেরে অভিভাবক ডেকে মিটমাট করে নিয়েছি।’

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নোমান রুহুল বলেন, ‘একজন ইউপি চেয়ারম্যান এরকম নোটিশ জারি করতে পারেন না। তিনি যেটা করেছেন তাতে আইন লঙ্ঘন হয়েছে। তিনি মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করেছেন।’

আরও পড়ুন:
দালাল চক্রের ৩ সদস‍্যকে জরিমানা
কারেন্ট জাল ধ্বংস, চায়না জাল তৈরির কারখানা বন্ধ
ভ্রাম্যমাণ আদালত: কাজ ছাড়া পথে নেই মানুষ  
পটোল ক্ষেতে গাঁজা চাষ, এক বছরের সাজা
বগুড়ায় হাসপাতালে অভিযান, ৭ দালালের কারাদণ্ড

শেয়ার করুন