মোংলায় পাথরবোঝাই জাহাজডুবি, ১০ নাবিক উদ্ধার

মোংলায় পাথরবোঝাই জাহাজডুবি, ১০ নাবিক উদ্ধার

মোংলায় পাথরবোঝাই জাহাজের তলা ফেটে একটি লাইটার জাহাজ ডুবে গেছে। ছবি: নিউজবাংলা

মোংলা বন্দরের দুবলার চরে পাথরবোঝাই জাহাজের তলা ফেটে একটি লাইটার জাহাজ ডুবে গেছে। এ সময় ওই জাহাজে থাকা ১০ নাবিককে জীবিত উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড।

বন্দরের দুবলার চরে শনিবার ভোররাতে ‘এমভি বিউটি লোহাগড়া-২’ নামের জাহাজটি ডুবে যায়।

কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের (মোংলা সদর দপ্তর) গোয়েন্দা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. হাসানুজ্জামান নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফখর উদ্দিন জানান, মোংলা বন্দরের বাইরে ফেয়ারওয়ে এলাকায় অবস্থান করা সিঙ্গাপুর পতাকাবাহী ‘এমভি সাগর রতন’ থেকে ১ হাজার ২০০ টন পাথর নিয়ে খুলনার উদ্দেশে যাচ্ছিল ‘এমভি বিউটি লোহাগড়া-২’ লাইটার জাহাজ। পথে ভোররাতে দুবলার চর এলাকায় তলা ফেটে যাওয়ায় জাহাজটি ডুবতে থাকে।

এ সময় ‘এমভি দেশ দিগন্ত’ জাহাজে করে দুবলার চর ক্যাম্পের কোস্ট গার্ড সদস্যরা দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে ১০ নাবিককে জীবিত উদ্ধার করেন।

এর আগে শুক্রবার দুপুরে পশুর নদীতে সার নিয়ে ‘এমভি দেশ বন্ধু’ নামের আরও একটি লাইটার জাহাজ ডুবে যায়। সেটি উদ্ধারে এখনও কাজ শুরু করতে পারেনি মালিকপক্ষ।

আরও পড়ুন:
ডুবে যাওয়া জাহাজের ১৩ নাবিক ফিরলেন সাঁতরে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

গোবিন্দ প্রামাণিককে গ্রেপ্তার করুন: এমপি বাহার

গোবিন্দ প্রামাণিককে গ্রেপ্তার করুন: এমপি বাহার

কুমিল্লা-৬ আসনের এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার (বাঁয়ে), বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ প্রামাণিক।

এমপি বাহার বলেন, ‘অর্থ-বিত্ত, টাকা-পয়সার লোভে সারা দেশে মুসলিম মৌলবাদীরা যেমন সংঘাত ছড়াচ্ছে, হিন্দু মৌলবাদীরাও সংঘাত ছড়াচ্ছে। তেমনই একজন গোবিন্দ প্রামাণিক। সে বিভিন্ন জায়গায় উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছে। তাকে গ্রেপ্তার করা হোক, নিশ্চয়ই তার কাছে তথ্য আছে।’

কুমিল্লা সদর আসনের এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ও মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর দ্বন্দ্বের জেরে কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনা ঘটতে পারে বলে বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ প্রামাণিকের তোলা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন এমপি বাহার।

মুসলিম মৌলবাদীদের পাশাপাশি হিন্দু মৌলবাদীরাও দেশে সংঘাত ছড়াচ্ছে অভিযোগ তুলে গোবিন্দ প্রামাণিককে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের প্রতিহতের ডাক দিয়ে কুমিল্লায় সোমবার আয়োজিত গণজমায়েত কর্মসূচি থেকে এমপি বাহার এ দাবি জানান।

বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ প্রামাণিক শনিবার অনলাইনভিত্তিক একটি টক শোতে দাবি করেন, কুমিল্লার স্থানীয় লোকজন ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা তাকে বলেছেন, এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ও মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে কুমিল্লা নগরীর নানুয়ার দিঘিরপাড়ে পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

গোবিন্দ প্রামাণিকের ওই বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিষয়টি নিয়ে কুমিল্লায়ও চলছে আলোচনা। তবে বিএনপি থেকে নির্বাচিত মেয়র মনিরুল হক সাক্কু এরই মধ্যে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। আর স্থানীয় হিন্দুনেতারা বলছেন, এ ধরনের কোনো বক্তব্য তারা গোবিন্দর কাছে দেননি।

আরও পড়ুন: গোবিন্দ প্রামাণিকের অভিযোগের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন

কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সোমবার বিকেলে কান্দিরপাড়ে আয়োজিত গণজমায়েতে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার।

গোবিন্দ প্রামাণিককে গ্রেপ্তার করুন: এমপি বাহার
গণজমায়েত কর্মসূচিতে বক্তব্য দিচ্ছেন এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার

তিনি বলেন, ‘এর আগেও কুমিল্লায় নানাভাবে সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা চালিয়েছে ষড়যন্ত্রকারীরা। আমরা তাদের প্রতিহত করেছি। এবার আবার কুমিল্লায় ষড়যন্ত্রের বীজ বোনা হয়েছে, তবে এখানকার হিন্দু-মুসলমান ভাই ও প্রশাসনের দৃঢ়তায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।’

এমপি বাহার বলেন, ‘অর্থ-বিত্ত, টাকা-পয়সার লোভে সারা দেশে মুসলিম মৌলবাদীরা যেমন সংঘাত ছড়াচ্ছে, হিন্দু মৌলবাদীরাও সংঘাত ছড়াচ্ছে। তেমনই একজন গোবিন্দ প্রামাণিক। সে বিভিন্ন জায়গায় উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছে। সে বলে এই দ্বন্দ্ব ওমুকে করছে, তমুকে করেছে। অমুকের কারণে হইছে, তমুকের কারণে হইছে। তাকে গ্রেপ্তার করা হোক, নিশ্চয়ই তার কাছে তথ্য আছে।’

গোবিন্দ প্রামাণিককে উদ্দেশ করে এমপি বাহার বলেন, ‘আপনি কোন ফাঁকে এলেন, কোন ফাঁকে গেলেন? আপনার যদি শক্তি থাকে তাহলে আবার কুমিল্লায় আসেন। আপনাকে হিন্দুরাই মোকাবিলা করবে।’

কুমিল্লার ঘটনার রেশ ধরে রংপুরে হিন্দু ভাইদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে হামলাকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘একটু সাবধান থাকবেন মিয়া ভাইয়েরা। আপনাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। আপনারা যেমন মানুষের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছেন, পেট্রল ঢেলে আপনাদের ঘরবাড়িও জ্বালিয়ে দেওয়া হবে।’

গোবিন্দ প্রামাণিককে গ্রেপ্তার করুন: এমপি বাহার
কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত গণজমায়েত কর্মসূচি

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জহিরুল ইসলাম সেলিম, আব্দুল আলিম কাঞ্চন, ডা. মো. শহিদুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুর রহমান জাহাঙ্গীর, আতিক উল্লাহ খোকন, আদর্শ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম টুটুল, সাংগঠনিক সম্পদক আবদুল হাই বাবলু, চিত্তরঞ্জন ভৌমিক, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল বাশার, সাধারণ সম্পাদক তারিকুর রহমান জুয়েল, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ সহিদ।

এছাড়া, জাগ্রত মানবিতকতার সাধারণ সম্পাদক তাহসিন বাহার সূচনা, মহানগর কৃষক লীগের আহ্বায়ক খোরশেদ আলম, শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক এম এ কাইয়ুম, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান পিয়াস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন এই গণজমায়েতে।

আরও পড়ুন:
ডুবে যাওয়া জাহাজের ১৩ নাবিক ফিরলেন সাঁতরে

শেয়ার করুন

কুমিল্লায় সহিংসতা: নিখুঁত তদন্ত রিপোর্ট চাইলেন ডিসি

কুমিল্লায় সহিংসতা: নিখুঁত তদন্ত রিপোর্ট চাইলেন ডিসি

কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে গত বুধবার কুমিল্লার পূজামণ্ডপে ভাঙচুর করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

ডিসি বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনে আরও তথ্য ও গ্রেপ্তার আসামিদের আরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন আছে। তাই তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। আশা করছি, আমরা আগামী সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন পেয়ে তা প্রকাশ করব।’

কুমিল্লায় একটি পূজামণ্ডপে কোরআন অবমাননার অভিযোগ ও এর জেরে সহিংসতার ঘটনায় নিখুঁত তদন্ত প্রতিবেদন চেয়েছেন জেলা প্রশাসক।

প্রতিবেদন জমা দেয়ার শেষ দিন সোমবার তদন্ত কমিটি জেলা প্রশাসক (ডিসি) কামরুল হাসানের কাছে কয়েকজন সাক্ষীসহ গিয়ে প্রতিবেদন জমা দিলে তিনি আরও তথ্য ও তদন্ত চান।

ডিসি বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনে আরও তথ্য ও গ্রেপ্তার আসামিদের আরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন আছে। তাই তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। আশা করছি, আমরা আগামী সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন পেয়ে তা প্রকাশ করব।’

কুমিল্লা নগরীর নানুয়ার দিঘিরপাড়ে একটি পূজামণ্ডপে গত বুধবার কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে ভাঙচুর করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার বিকেলে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাইদুল আরেফিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়। কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) এম তানভীর আহমেদ ও আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া আফরিন।

আরও পড়ুন:
ডুবে যাওয়া জাহাজের ১৩ নাবিক ফিরলেন সাঁতরে

শেয়ার করুন

সন্তানকে খুনের কথা জানিয়ে জ্ঞান হারালেন মা

সন্তানকে খুনের কথা জানিয়ে জ্ঞান হারালেন মা

প্রতীকী ছবি।

শুক্রবার ৪ মাসের সন্তান নিয়ে ভাসুরের বাড়িতে বেড়াতে আসেন ফাতেমা আক্তার। সোমবার সকালে বাড়ির সবাইকে তিনি জানান, শ্বাসরোধ করে সন্তানকে হত্যা করেছেন। এরপরই জ্ঞান হারান।

গাজীপুরের কাশিমপুরে এক নারীর বিরুদ্ধে সন্তান হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

পূর্ব এনায়েতপুর এলাকায় সোমবার সকাল ৬টায় এ ঘটনা ঘটে।

মৃত শিশুর নাম মোহাম্মদ আবিদুর রহমান। ৪ মাসের আবিদুরের বাড়ি পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া থানায়।

কাশিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবে খোদা এ খবর নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি জানান, চার মাসের আবিদুরকে নিয়ে গত শুক্রবার ভাসুরের বাড়িতে বেড়াতে আসেন মা ফাতেমা আক্তার।

সোমবার সকালে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির সবাইকে তিনি জানান, আবিদুরকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন। এরপরই অচেতন হয়ে পড়েন। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে গাজীপুর পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করান।

ওসি বলেন, ‘মৃতের গলায় আঙুলের ছাপ রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।’

কাশিমপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রায়হান সন্ধ্যায় নিউজবাংলাকে বলেন, শিশুর মায়ের জ্ঞান ফিরেছে। চিকিৎসকের ছাড়পত্র পেলে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

আরও পড়ুন:
ডুবে যাওয়া জাহাজের ১৩ নাবিক ফিরলেন সাঁতরে

শেয়ার করুন

৫ বছর স্কুলে না গিয়ে বেতন, শিক্ষক রায়নার অব্যাহতির আবেদন

৫ বছর স্কুলে না গিয়ে বেতন, শিক্ষক রায়নার অব্যাহতির আবেদন

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মেহবুবা রায়না। ছবি: সংগৃহীত

গত ১৫ অক্টোবর ‘তিনি ক্লাস না করিয়ে বেতন তুলছেন পাঁচ বছর ধরে’ শিরোনামে চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মেহবুবা রায়নাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজবাংলা।

কিশোরগঞ্জে পাঁচ বছর ধরে স্কুলে না পড়িয়েও বেতন ভাতা তোলা সেই বিতর্কিত শিক্ষিক মেহবুবা রায়নার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। পরদিনই ওই শিক্ষক চাকরি থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন।

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বণিক রোববার রায়নার বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ মামলার তদন্ত তার অধীনেই হবে।

তিনি জানান, স্কুলে না গিয়ে মেডিক্যাল ছুটি নিয়ে বছরের পর বছর স্কুলে অনুপস্থিত থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সুব্রত জানান, সোমবার মেহবুবা রায়না উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে চাকরি থেকে অব্যাহতির জন্য চিঠি পাঠিয়েছেন।

করিমগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মফিজুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আজ (সোমবার) দুপুরে ডাকযোগে মেহবুবা রায়নার চাকরি থেকে অব্যাহতির আবেদনপত্র পেয়েছি। তার আবেদন পত্রে নানা ভুল-ত্রুটি রয়েছে। সেখানে কোনো তারিখ উল্লেখ নেই। চাকরি থেকে কবে তিনি অব্যাহতি নিতে চান সে বিষয়েরও কোনো উল্লেখ নেই।’

এ কর্মকর্তা জানান, অব্যাহতির আবেদনের ক্ষেত্রে তার সামনে সাক্ষর করে আবেদন জমা দেয়ার নিয়ম থাকলেও করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রায়না ডাকযোগে আবেদন করেছেন।

তাছাড়া অব্যাহতির বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং উপজেলা প্রাথমিক সহকারী কর্মকর্তাকেও অবগত করেননি ওই শিক্ষক।

৫ বছর স্কুলে না গিয়ে বেতন, শিক্ষক রায়নার অব্যাহতির আবেদন

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ‘এ বিষয়গুলো উল্লেখ করে রায়নাকে পুনরায় চিঠি পাঠানো হবে।’

গত ১৫ অক্টোবর ‘তিনি ক্লাস না করিয়ে বেতন তুলছেন পাঁচ বছর ধরে’ শিরোনামে চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মেহবুবা রায়নাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজবাংলা।

এরপরপই ফেসবুকে কিশোরগঞ্জ জেলাভিত্তিক বিভিন্ন গ্রুপে শুরু হয় সমালোচনা। এই অনিয়মের জন্য জেলা এবং উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তাদের দায়ী করে মন্তব্য করেন অনেকে।

রায়না ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা সাহিত্যের ওপর স্নাতক শেষ করে এখন স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে পড়ছেন। তিনি ২০১৬ সালে চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন ২০১৪-২০১৫ সেশনে।

চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, ২০১৬ সালে রায়না স্কুলে যোগ দিয়ে তিনমাস নিয়মিত ক্লাস নিয়েছেন। এরপর স্কুলে যাননি টানা তিন বছর। ২০২০ সালের মার্চে করোনা প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার আগে ছয় মাস মাঝেমধ্যে আসতেন। করোনা শুরু হলে অন্যান্য শিক্ষকরা স্কুলে এলেও তিনি আসেননি এক দিনের জন্যও।

স্কুলটির একজন সহকারী শিক্ষক বলেন, ‘আমরা সারা বছর পরিশ্রম করে যে বেতন পাই, রায়না তার কিছুই না করেও একই বেতন পাচ্ছেন।

‘রায়না সরকারি চাকরি করে কর্মস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার বিষয়টি গোপন করেছেন, আবার অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়েও চাকরির ব্যাপারটা গোপন করেছেন। তিনি একসঙ্গে দুটি অপরাধ করেছেন।’

রায়নার ফেসবুক প্রোফাইল চেক করে দেখা যায়, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার তথ্য সেখানে উল্লেখ করেছেন। তিনি ময়মনসিংহে বসবাস করছেন এবং সেখানে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ানোর ছবি নিয়মিত আপডেটও করেন।

চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী রায়নার নামও বলতে পারেনি। কারণ জানতে চাইলে সে বলে, ‘হেই ম্যাডাম পহেলা কয়েকদিন ইস্কুলে আইছে, পরে আর আইছে না। হের লাইগ্যে হেই ম্যাডামের নামটা মনে নাই।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘মেহবুবা রায়না বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার কারণে ২০১৮ সালের ২০ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তার ইনক্রিমেন্ট স্থগিত করা হয়। পরে তাকে বিদ্যালয়ে যোগদানের অনুমতি দেয়া হয়।’

তিনি জানান, রায়না চাকরিতে যোগ দেয়ার পর তিনি বিভিন্ন মেয়াদে শুধু মেডিক্যাল ছুটি কাটিয়েছেন ২১৩ দিন। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর স্কুল খোলার পর ১২ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকার কারণে ২৩ সেপ্টেম্বর তার কৈফিয়ত তলব করা হয়। দায়িত্বে অবহেলার কারণে কেন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তিন কার্যদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব চাওয়া হয়।

এরপর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম তালুকদার বিষয়টি তদন্ত করেন৷ তদন্ত প্রতিবেদনে তিনি জানান, রায়না ওয়ার্কশিট বিতরণ ও মূল্যায়ন এবং অভিভাকদের সঙ্গে যোগাযোগ সংক্রান্ত কোনো কাজেও অংশগ্রহণ করেননি৷ তাকে প্রধান শিক্ষক ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা জানালেও তিনি তাতে কর্ণপাত করেননি।

পরে রায়নার বেতন বন্ধ করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করেন মফিজুল ইসলাম। আর গত ২৩ সেপ্টেম্বর মেহবুবা রায়নাকে শোকজ করা হয়। ২৭ সেপ্টেম্বর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে এর জবাব দেন রায়না। কিন্তু জবাব সন্তোষজনক মনে না হওয়ায় রায়নার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ফাইলটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে কথা বলতে রায়নার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। পরে মেসেজ দিয়েও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

তার হোয়াটস অ্যাপ এবং ফেসবুক মেসেঞ্জারে একাধিকবার বার্তা পাঠানোর পর তিনি নিউজবাংলার প্রতিবেদকে ব্লক করে দেন।

আরও পড়ুন:
ডুবে যাওয়া জাহাজের ১৩ নাবিক ফিরলেন সাঁতরে

শেয়ার করুন

আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্যের ৩ দিনের রিমান্ড

আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্যের ৩ দিনের রিমান্ড

নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা দলের সদস্য শামীম হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য শামীম হোসেনের তিন দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। মানিকগঞ্জের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৬ নম্বর আদালতের বিচারক শাকিল আহমদ সোমবার বিকেল ৪টার দিকে এ রায় দেন।

নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য শামীম হোসেনের তিন দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত।

মানিকগঞ্জের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৬ নম্বর আদালতের বিচারক শাকিল আহমদ সোমবার বিকেল ৪টার দিকে এ রায় দেন।

এর আগে দুপুরে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠায় পুলিশের বিশেষ টিম এন্টি টেররিজম ইউনিট।

গ্রেপ্তার শামীম শিবালয় উপজেলার শিমুলিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

মানিকগঞ্জের কোর্ট ইন্সপেক্টর মনিরুল ইসলাম রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শামীম নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের একজন সক্রিয় সদস্য। ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক, মেসেঞ্জার, টেলিগ্রামে উগ্রবাদী কন্টেন্ট প্রচার ও উগ্রবাদী বই দেয়া-নেয়া করতেন।

গোপন তথ্যের মাধ্যমে এন্টি টেররিজম ইউনিট শিমুলিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে বেশ কিছু জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়।

তার বিরুদ্ধে শিবালয় থানায় এন্টি টেররিজম ইউনিটের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়।

আরও পড়ুন:
ডুবে যাওয়া জাহাজের ১৩ নাবিক ফিরলেন সাঁতরে

শেয়ার করুন

কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

খাঁটিহাতা হাইওয়ে পুলিশ জানায়, রবিউল বিজয়নগর থেকে মোটরসাইকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাচ্ছিলেন। হাইওয়ে থানার সামনে সিলেটগামী একটি কাভার্ডভ্যান তার মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই রবিউলের মৃত্যু হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের এক আরোহী নিহত হয়েছেন।

সরাইল উপজেলার ইসলামাবাদ এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার সামনে সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ৩১ বছর বয়সী রবিউল ইসলামের বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামে। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাজী পাম্প ও মোটরসের মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ ছিলেন। শহরেই বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন।

খাঁটিহাতা হাইওয়ে পুলিশ জানায়, রবিউল বিজয়নগর থেকে মোটরসাইকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাচ্ছিলেন। হাইওয়ে থানার সামনে সিলেটগামী একটি কাভার্ডভ্যান তার মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই রবিউলের মৃত্যু হয়।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাজালাল আলম নিউজবাংলাকে জানান, মরদেহ থানায় রাখা হয়েছে। কাভার্ডভ্যান নিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় চালককে আটক করা যায়নি।

তিনি বলেন, ‘নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।’

আরও পড়ুন:
ডুবে যাওয়া জাহাজের ১৩ নাবিক ফিরলেন সাঁতরে

শেয়ার করুন

ছেলেকে তুলে নিয়ে তরুণীর বিয়ে

ছেলেকে তুলে নিয়ে তরুণীর বিয়ে

নাজমুলের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল নোমান জানান, আসামি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাজমুলকে প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। নাজমুল রাজি না হওয়ায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী লঞ্চঘাট এলাকা থেকে ৭-৮ জন অপরিচিত লোক তাকে তুলে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান। সেখানে জোর করে তার কাছ থেকে একটি নীল কাগজে সই নেয়া হয়।

পটুয়াখালীতে কলেজছাত্রকে তুলে নিয়ে গিয়ে জোর করে বিয়ে করার অভিযোগে এক তরুণীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

পটুয়াখালী জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে ৩ অক্টোবর অভিযোগ দেন ওই যুবক। আদালতের নির্দেশে রোববার রাতে মামলাটি নেয় পটুয়াখালী সদর থানা।

মামলার বাদী মো. নাজমুল আকন পটুয়াখালী সরকারি কলেজের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা সদরে। আসামি তরুণীর বাড়িও একই উপজেলায়।

নাজমুলের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল নোমান জানান, আসামি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাজমুলকে প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন।

নাজমুল রাজি না হওয়ায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী লঞ্চঘাট এলাকা থেকে ৭-৮ জন অপরিচিত লোক তাকে তুলে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান। সেখানে জোর করে তার কাছ থেকে একটি নীল কাগজে সই নেয়া হয়। পরে ওই দিনই তাকে শহরে ছেড়ে দেয়া হয়।

নোমানের ধারণা, ওই কাগজ দিয়ে তারা একটি কাবিননামা তৈরি করবেন।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনার পর নাজমুল গত ৩ অক্টোবর পটুয়াখালী জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে মামলার আবেদন করেন। পরে বিচারক মামলাটি নথিভুক্ত করতে পটুয়াখালী সদর থানাকে নির্দেশ দেন।

মামলার কাগজপত্রের সঙ্গে বিয়ের একটি ভিডিও ক্লিপও আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে জানিয়েছেন নাজমুলের আইনজীবী।

ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, নাজমুল ও ওই তরুণী পাশাপাশি দুটি চেয়ারে বসে আছেন। নাজমুলের পেছনে দাঁড়ানো একজন তার ঘাড়ের দুই পাশ ধরে আছেন। অন্য পাশ থেকে একজন তরুণী ও নাজমুলের মুখে মিষ্টিজাতীয় কিছু তুলে দিচ্ছেন। সেখানে নাজমুলকে চুপচাপ দেখা গেলেও তরুণী ছিলেন চঞ্চল।

এ বিষয়ে তরুণী বা তার পরিবারের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, রোববার আদালতের নির্দেশের কপি পাওয়ার পরই মামলা নেয়া হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি কাজও শুরু করেছেন।

আরও পড়ুন:
ডুবে যাওয়া জাহাজের ১৩ নাবিক ফিরলেন সাঁতরে

শেয়ার করুন