ঢাবির হলে ছাত্রলীগের অস্ত্র নিয়ে মহড়া

ঢাবির হলে ছাত্রলীগের অস্ত্র নিয়ে মহড়া

হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আমি আমার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সোর্স থেকে খবর নিয়েছি। তারা কিছু বলতে পারছে না। আমি আবারও খোঁজ নেব। যে রুম নিয়ে ঝামেলা সে রুমে বরাদ্দ দেব আমরা। অন্য কারও বরাদ্দে সেখানে শিক্ষার্থী ওঠানো হবে না।’

রুম দখলকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে।

বুধবার রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এসএম হলের নিচতলার ৭৯ নম্বর রুমে থাকতেন হল ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুলিয়াস সিজার তালুকদার। রুমটি তিনি ছেড়ে দেয়ায় সেখানে এখন কাদের তোলা হবে তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাসের অনুসারীরদের সঙ্গে মনোমালিন্য চলছিল।

এই বিষয়ে বুধবার রাতে হলের অতিথি রুমে আলোচনায় বসে সনজিত চন্দ্র দাসের অনুসারীরা। সভায় সিদ্ধান্ত আসে প্রতি গ্রুপ থেকে একজন করে মোট ছয়জনকে সেই রুমে তোলা হবে।

তবে এই সিদ্ধান্ত মানেননি জুলিয়াস সিজার তালুকদারের অনুসারীরা। রাত দেড়টার দিকে রড, লাঠি, স্টাম্প ও ছুরি হাতে মহড়া দেয় তারা। একপর্যায়ে এক ছাত্রের গলায় ধরা হয় ছুরি।

এ বিষয়ে জুলিয়াস সিজারের অনুসারী ছাত্রলীগকর্মী তানজীদ তালুকদার বলেন, ‘এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ভাইদের সঙ্গে মনোমালিন্য হয়েছিল। বড় ভাইয়েরা বিষয়টি সমাধান করে দিয়েছেন। গলায় ছুরি ধরার অভিযোগ ভিত্তিহীন।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটা হলেই গ্রুপ থাকে। সেখানে কিছু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হয়। বুধবার নিজেদের ভেতর সিট নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছিল। পরে হল ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান তাপস ভাইয়ের হস্তক্ষেপে বিষয়টি সমাধান হয়।’

এ বিষয়ে জানতে জুলিয়াস সিজারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, তার মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, ‘ঝামেলা হয়েছে শুনেছি। গতকালই সেটি মীমাংসা হয়েছে। গলায় চুরি ধরার বিষয়টি জানি না। আমি খোঁজ নিচ্ছি।’

হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আমি আমার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সোর্স থেকে খবর নিয়েছি। তারা কিছু বলতে পারছে না। আমি আবারও খোঁজ নেব। যে রুম নিয়ে ঝামেলা সে রুমে বরাদ্দ দেব আমরা। অন্য কারও বরাদ্দে সেখানে শিক্ষার্থী ওঠানো হবে না।’

আরও পড়ুন:
কলেজে অস্ত্র নিয়ে ছাত্রলীগের মহড়া
বন্দুক হাতে চেয়ারম্যানের মহড়ার ভিডিও ভাইরাল
যুক্তরাষ্ট্র-দ.কোরিয়া যৌথ সামরিক মহড়া সোমবার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সালাম না দেয়ায় ঢাবির হলে শিক্ষার্থীদের চড়-থাপ্পড়

সালাম না দেয়ায় ঢাবির হলে শিক্ষার্থীদের চড়-থাপ্পড়

‘বড় ভাইদের’ সালাম না দেয়ায় এবং ছাত্রলীগের নিয়মকানুন না মানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীদেরকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত শুক্রবার আমি হল গেটে দাঁড়ানো ছিলাম। পাশ দিয়ে তৃতীয় বর্ষের এক বড় ভাই চলে গিয়েছিল, আমি খেয়াল করিনি। পরদিন ইনফরমাল গেস্টরুমে আমাকে জহুরুল ভাই থাপ্পড় দেয়। আমি দাঁত চেপে সহ্য করতে পারছি। কিন্তু আমার অনেক বন্ধু এটা সহ্য করতে পারে না। তারা কান্না করে দেয়।’

সিনিয়রদের সালাম না দেয়ায় এবং ছাত্রলীগের নিয়ম-কানুন না মানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে রুমে ডেকে নিয়ে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে দ্বিতীয় বর্ষের সাত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।

প্রায় প্রতিদিন প্রথম বর্ষের অন্তত একজন শিক্ষার্থীকে হলের ২২৫ ও ১১৯ নম্বর রুমে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগীরা যাদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলেছেন তারা হলেন ইতিহাস বিভাগের আনিসুর, দর্শন বিভাগের নাফি, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের রাইসুল, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের সজীব, ফারসি বিভাগের জহিরুল, সমাজ কল্যাণ বিভাগের শাকিল ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শামীম। তারা সবাই ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী।

দ্বিতীয় বর্ষের এসব শিক্ষার্থী হল ছাত্রলীগের সহসভাপতি আবদুল্লাহ আল সোবাইলের ‘ছোট ভাই’ হিসেবে পরিচিত। সোবাইল ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের অনুসারী।

হল সূত্রে জানা যায়, হলের অধিকাংশ রুম ছাত্রলীগের দখলে। এসব রুমে ছাত্রলীগ নেতারাই সিট বরাদ্দ দেন। এ রকম একটি রুম হলের ২২৮ নম্বর। এই রুমটি সোবাইলের দখলে। প্রথম বর্ষের ২০ জন শিক্ষার্থী গাদাগাদি করে এই রুমে থাকেন। সোবাইলের অনুসারীরাই মূলত এসব শিক্ষার্থীকে হলে থাকার ব্যবস্থা করেছেন। বিনিময়ে তাদের বাধ্যতামূলকভাবে যেতে হয় ছাত্রলীগের প্রোগ্রামে। আর রাতে বসতে হয় গেস্টরুমে।

গেস্টরুমে ছাত্রলীগকর্মীরা প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের নিয়ম জানিয়ে দেন। এর মধ্যে সিনিয়রদের বাধ্যতামূলক সালাম দেয়া, সালাম দিয়ে হ্যান্ডস শেক (করমর্দন) করা, নিয়মিত রাজনৈতিক প্রোগ্রামে অংশ নেয়া অন্যতম। এ ছাড়া সিনিয়রদের সামনে হলের ক্যান্টিনে খাবার না খাওয়া, হলের লিফটে না চড়ার মতো উদ্ভট অনেক নিয়মও গেস্টরুম থেকে জানিয়ে দেয়া হয়।

এসব নিয়মের ব্যত্যয় ঘটাতেই মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে প্রথম বর্ষের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর ওপর চড়াও হয়েছেন ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী কর্মীরা। নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের রুমে ডেকে চড়-থাপ্পড় এমনকি স্ট্যাম্প দিয়ে পেটানোর অভিযোগও তাদের বিরুদ্ধে।

আবদুল্লাহ আল সোবাইলের অনুসারীরা সপ্তাহে ছয় দিনই প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের গেস্টরুমে নেয়। এসব গেস্টরুম এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বিত হয়। ছয় দিনের মধ্যে তিন দিন আনুষ্ঠানিক এবং বাকি তিন দিন অনানুষ্ঠানিক গেস্টরুম।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আনুষ্ঠানিক গেস্টরুম হয় হলের নিচতলার অতিথি কক্ষে। এখানে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছাড়াও তৃতীয় এবং চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত থাকায় এ গেস্টরুমে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মারধর বা তাদের প্রতি খারাপ ভাষা ব্যবহার করা হয় না।

আর অনানুষ্ঠানিক গেস্টরুম হয় দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের রুমে। কোনো নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে সেখানেই মূলত প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মারধর এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, হলগেটে বড় ভাইদের সালাম না দেয়ায় গত কয়েক দিন ধরে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওপর মারধর চলছে। প্রথমবর্ষের ১৫ থেকে ১৭ জন শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের এসব মারের শিকার হয়েছেন। মারধরের বিষয়টি কাউকে না জানাতেও নির্দেশ দেয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত শুক্রবার আমি হলগেটে দাঁড়ানো ছিলাম। পাশ দিয়ে তৃতীয় বর্ষের এক বড় ভাই চলে গিয়েছিল, আমি খেয়াল করিনি। পরদিন ইনফরমাল গেস্টরুমে আমাকে জহুরুল ভাই থাপ্পড় দেয়। আমি দাঁত চেপে সহ্য করতে পারছি। কিন্তু আমার অনেক বন্ধু এটা সহ্য করতে পারে না। তারা কান্না করে দেয়।’

ভুক্তভোগী আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের গেস্টরুমে ১৪টি নিয়ম শেখানো হয়। প্রতিদিন এগুলো মুখস্থ বলতে হয়, কিন্তু আমি না পারায় আমাকে থাপ্পড় দিয়েছে আনিসুল ভাই। আমি গেস্টরুমে টিশার্ট পরে আসছি এটাও নাকি আমার অপরাধ ছিল।’

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, সপ্তাহের শনি সোম ও বুধবার তাদের ইনফরমাল গেস্টরুম। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরাই মূলত তাদের গায়ে হাত তুলে।

দ্বিতীয় বর্ষের যে সাত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তাদের মধ্যে জহুরুলই সবচেয়ে বেশি উগ্র বলে জানান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।

ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ক্যাম্পাস খোলার পর থেকে সোবাইল ভাইয়ের গ্রুপের ইমিডিয়েট সিনিয়ররা নিয়মিত গেস্টরুম করায়। সেখানে তারা বড় ভাইদের সালাম না দেয়া, হ্যান্ডশেক না করা, প্রোগ্রামে যেতে সামান্য দেরির কারণে মারধর করে।

‘সপ্তাহে তিন দিন আমাদের অনানুষ্ঠানিক গেস্টরুম হয়। প্রতিবারই তারা কাউকে না কাউকে মারধর করে। এ ছাড়া পিতা-মাতার নাম নিয়ে বিশ্রী ভাষায় গালিগালাজও করেন।’

মারধরের প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমার এক বন্ধুকে রাজু ভাস্কর্য কোথায় জিজ্ঞাসা করেছিল দ্বিতীয় বর্ষের বড় ভাইয়েরা। তখন তার মাথায় বিষয়টি আসছিল না, তাই সে বলতে পারেনি। এরপর তাকে জহুরুল ভাই এমন জোরে থাপ্পড় দিয়েছিল, আমার সে বন্ধু কান্না করে দিয়েছে। তার হাঁফানি রোগও ছিল। থাপ্পড় খেয়ে সে হাঁফাচ্ছিল। পরে তাকে গেস্টরুম থেকে ছুটি দিয়ে দেয়।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সোবাইল গ্রুপের অনুসারী দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আনিসুর বলেন, ‘এ বিষয়ে আপনি সোবাইল ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি আমাদের নেতা। এ ছাড়া আমার আর কিছু বলার নেই।’

সোবাইলের অনুসারী শাকিল ও জহিরুল অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। আর নাফি, সজীব, শামীমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে আবদুল্লাহ আল সোবাইল বলেন, ‘আরও কয়েকজনের কাছে ঘটনাটা আমি শুনেছি। এরপর আলাদাভাবে দ্বিতীয় বর্ষ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমি বসেছি। তারা বলেছে, তারা মারধর করেনি। সামান্য উচ্চ বাক্যে বকা বা ধমক দিয়েছে।’

তবে সূত্র বলছে, মারধরের বিষয়ে গণমাধ্যমের কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদকের ফোন পেয়ে সোবাইল তাৎক্ষণিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রলীগ কর্মীদের হলের অতিথি কক্ষে ডেকে আনেন। এরপর তিনি প্রথম বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীর গায়ে হাত তোলা হয়েছে সেটি জানতে চান। শুরুতে বলতে দ্বিধা করলেও পরে সোবাইলের কাছে স্বীকার করেন, তারা প্রথম বর্ষের তিনজন শিক্ষার্থীর গায়ে হাত তুলেছেন, তবে বেশি মারেননি।

এ বিষয়ে নিউজবাংলাকে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘আমি বিষয়টি মাত্র শুনেছি। খোঁজ নিচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
কলেজে অস্ত্র নিয়ে ছাত্রলীগের মহড়া
বন্দুক হাতে চেয়ারম্যানের মহড়ার ভিডিও ভাইরাল
যুক্তরাষ্ট্র-দ.কোরিয়া যৌথ সামরিক মহড়া সোমবার

শেয়ার করুন

জগন্নাথের আরও এক শিক্ষার্থীর ‘আত্মহত্যা’, তিন মাসে চারজন

জগন্নাথের আরও এক শিক্ষার্থীর ‘আত্মহত্যা’, তিন মাসে চারজন

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগের চেয়ারম্যান ক্রিস্টিন রিচার্ডসন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মেয়েটি খুবই ভালো ছাত্রী ছিল। ক্লাসে খুবই মনোযোগী ছিল। খোঁজ নিয়ে দেখলাম, প্রতিটি ক্লাসেই সে এটেন্ড করত। আমাদের বিভাগটি নতুন একটি বিভাগ। বিভাগের তৃতীয় ব্যাচের একজন স্টুডেন্ট সে। বিভাগের পক্ষ থেকে আমরা শোকাহত। আমরা কেউই এমন কিছু চিন্তাও করিনি।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সুমাইয়া মেহজাবিন স্বর্ণার আত্মহত্যার তথ্য পাওয়া গেছে।

গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পলাশপোল মধুমাল্লার ডাঙ্গী গ্রামে বুধবার সকালে এ ঘটনা ঘটে বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে।

এ নিয়ে আগস্ট থেকে চতুর্থ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটল।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জে বাড়ির পাশে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় জগন্নাথের ছাত্র অমিতোষ হালদারের মরদেহ। তিনিও আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

১৩ সেপ্টেম্বর বাড্ডার একটি ছয়তলা ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়লে ঘটনাস্থলেই মারা যান ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অষ্টম ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী চন্দন পার্সি।

২৩ আগস্ট উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের একটি কোচিং সেন্টারের কক্ষ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মিজবাহ উল আজিমের মরদেহ।

স্বর্ণার মৃত্যুর বিষয়ে সাতক্ষীরা থানার সাব-ইনস্পেক্টর শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘সদর হাসপাতাল থেকে বেলা দুইটার দিকে আমাদের স্লিপ দেয়া হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে আমরা গিয়েছি। পরিবার থেকে আমাদের জানিয়েছে, গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। আমাদের তারা আর কিছু জানায়নি। মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যার দিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে আমরা কারণ জানতে পারব।’

স্বর্ণার আত্মহত্যার খবরে তার সহপাঠীদের একটি দল ঢাকা থেকে সাতক্ষীরা যাচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোস্তফা কামাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। আমাদের একজন শিক্ষার্থী এভাবে মারা গেল। কেউ এভাবে মারা যাক, আমরা তা কখনোই চাই না। আমরা খুবই মর্মাহত।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগের চেয়ারম্যান ক্রিস্টিন রিচার্ডসন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মেয়েটি খুবই ভালো ছাত্রী ছিল। ক্লাসে খুবই মনোযোগী ছিল। খোঁজ নিয়ে দেখলাম, প্রতিটি ক্লাসেই সে এটেন্ড করত। আমাদের বিভাগটি নতুন একটি বিভাগ। বিভাগের তৃতীয় ব্যাচের একজন স্টুডেন্ট সে। বিভাগের পক্ষ থেকে আমরা শোকাহত। আমরা কেউই এমন কিছু চিন্তাও করিনি।’

আরও পড়ুন:
কলেজে অস্ত্র নিয়ে ছাত্রলীগের মহড়া
বন্দুক হাতে চেয়ারম্যানের মহড়ার ভিডিও ভাইরাল
যুক্তরাষ্ট্র-দ.কোরিয়া যৌথ সামরিক মহড়া সোমবার

শেয়ার করুন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস আজ, উদযাপন বৃহস্পতিবার

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস আজ, উদযাপন বৃহস্পতিবার

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ছবি

আজ ২০ অক্টোবর, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক বাহক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। রাজধানী ঢাকার সদরঘাট এলাকার কোতোয়ালি থানার চিত্তরঞ্জন এভিনিউতে অবস্থিত একটি স্বায়ত্তশাসিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ২০০৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ৮ম জাতীয় সংসদের ১৮ তম অধিবেশনে “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন–২০০৫” সংসদে উত্থাপিত হয় এবং ওই বছরেরই ২০ অক্টোবর সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে জগন্নাথ কলেজকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণা করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ২০ অক্টোবরকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হিসেবে পালন করে আসছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও স্বাধীনতা পূর্ববর্তী-পরবর্তী সময়ে সকল আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এ প্রতিষ্ঠানটি ২০০৫ খ্রিস্টাব্দের ২০ অক্টোবর জাতীয় সংসদে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে।

১৮৫৮ সালে ঢাকা ব্রাহ্ম স্কুল নামে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। এরপর ১৮৭২ সালে নাম বদলে বালিয়াটির জমিদার কিশোরীলাল রায় চৌধুরী তার বাবার নামে জগন্নাথ স্কুল নামকরণ করেন। ১৮৮৪ সালে এটি একটি দ্বিতীয় শ্রেণির কলেজে ও ১৯০৮ সালে প্রথম শ্রেণির কলেজের রূপ পায়।

১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা শুরু হলে তৎকালিন জগন্নাথ কলেজের স্নাতক কার্যক্রম সাথে আইএ, আইএসসি, বিএ (পাস) শ্রেণি ছাড়াও ইংরেজি, দর্শন ও সংস্কৃতি অনার্স এবং ইংরেজিতে মাস্টার্স চালু বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ইন্টারমিডিয়েট কলেজে অবনমিত করা হয়।

১৯৪৯ সালে আবার কলেজেটিতে স্নাতক পাঠ্যক্রম শুরু হয়। ১৯৬৮ সালে এটিকে সরকারিকরণ করা হয়, কিন্তু পরের বছরেই আবার এটি বেসরকারি মর্যাদা লাভ করে।

২০০৫ সালে জাতীয় সংসদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৫ পাশের মাধ্যমে এটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রূপান্তরিত হয়।

কলেজ থাকাকালে স্থানীয় প্রভাবশালীরা একে একে দখল করে নেয় সবগুলো আবাসিক হল। আবাসন সংকট ও সংকীর্ণ ক্যাম্পাসের ঘানি মাথায় নিয়েই যাত্রা শুরু করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। চরম মানবেতর জীবনযাপন করেও দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

বর্তমানে মোট ৬টি অনুষদে ৩৬টি বিভাগ ও ২টি ইনস্টিটিউট রয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থী, ৯৬০ জন একাডেমিক কর্মী এবং ৮৫০ জন প্রশাসনিক স্টাফ নিয়ে বর্তমানে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

গত বছরের ২০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হল বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের উদ্বোধন করা হয়। ঢাকার কেরানীগঞ্জে ২০০ একর জমির উপর নতুন ক্যাম্পাস স্থাপনের কাজও চলমান। জমি অধিগ্রহণের কাজ হয়ে গেলেও গতি পায়নি সীমানা প্রাচীর নির্মাণসহ অবকাঠামোগত কোনো কাজ।

শিক্ষার পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণে বাংলাদেশের প্রতিটি আন্দোলনে এই প্রতিষ্ঠানের অবদান ছিল গর্ব করার মত। ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ৬২ তে সামরিক সরকারের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, ৬৬ এর ছয়দফা দাবি, ৬৮ এর এগারো দফা দাবি, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন আন্দোলন ও সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস।

বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের কর্মসূচি

আজ ২০ অক্টোবর পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ও লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় এক দিন পিছিয়ে আগামী ২১ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের কর্মসূচি পালিত হবে।

প্রতিবছর নানা কর্মকাণ্ড ও আলোকসজ্জার মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উৎযাপিত হতো। করোনা সংক্রমণের জন্য গতবারের ন্যায় এবারও বিশ্ববিদ্যালয় দিবসটি উৎসবমুখরভাবে উৎযাপিত করা হবে না।

এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে সকাল ১১টায় জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়-এর পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হবে। এরপর বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের শুভ উদ্বোধন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ইমদাদুল হক।

বেলা ১২টায় ভার্চ্যুয়াল প্লাটফরমে আলোচনা সভা হবে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ সংযুক্ত থাকবেন। ।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের দিনেই টিকা ক্যাম্পের উদ্বোধন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপনের দিন ক্যাম্পাসে অস্থায়ী টিকা ক্যাম্প উদ্ধোধন করা হবে।

উদ্বোধনী দিনে প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থীকে করোনার টিকা দেয়া হবে। পরে সব শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের টিকার আওতায় আনার জন্য কার্যক্রম চলমান থাকবে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের দিন থেকেই সশরীরে ক্লাস শুরু

স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের দিন বৃহস্পতিবার থেকেই ব্যবহারিক ও প্রয়োজন সাপেক্ষে তত্ত্বীয় ক্লাস গ্রহণের জন্য বিভাগগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

চলমান তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরপরই একটানা ব্যবহারিক ক্লাস নিয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। যেসব বিষয়ের তত্ত্বীয় ক্লাস ব্যবহারিক ক্লাসের মতোই সশরীরে উপস্থিত থেকে করা অপরিহার্য সেসব বিষয়ের ক্লাসও শুরু করা হবে।

এদিন রসায়ন বিভাগসহ বেশ কয়েকটি বিভাগে ল্যাব ক্লাস শুরুর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পরীক্ষার মধ্যে ল্যাব ক্লাস শুরুর নির্দেশনায় হতাশ শিক্ষার্থীরা। এতে পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ভাটা পড়বে বলছেন বিভাগসমূহের শিক্ষার্থীরা।

উপাচার্য ইমদাদুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, 'চলমান পরীক্ষার ক্লাসগুলো আমরা অনলাইনে শেষ করেছি। কিন্তু ব্যবহারিক ক্লাস বিশেষ করে বিজ্ঞান অনুষদের অনলাইনে নেওয়া সম্ভব না। এছাড়াও কিছু বিভাগের তত্ত্বীয় ক্লাসও সশরীরে নেয়া প্রয়োজন। সেভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস শুরু করতে বলা হয়েছে। বর্তমান পরীক্ষা শেষে পরের সেমিস্টারেরও ক্লাস শুরু হয়ে যাবে।'

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনও পরীক্ষা

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের দিন বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি বিভাগে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ সহ বেশ কয়েকটি বিভাগের বিভিন্ন ব্যাচের পরীক্ষা রয়েছে। এতে ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা৷ তারা বলছেন, এদিন পরীক্ষাটা বন্ধ রাখা যেত।

এর আগেও বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের দিন সেমিস্টার ফাইনাল সহ ল্যাব পরীক্ষা, ক্লাস টেস্ট, মিডটার্ম ও ভাইবা প্রেজেন্টেশন হয়েছে।

আরও পড়ুন:
কলেজে অস্ত্র নিয়ে ছাত্রলীগের মহড়া
বন্দুক হাতে চেয়ারম্যানের মহড়ার ভিডিও ভাইরাল
যুক্তরাষ্ট্র-দ.কোরিয়া যৌথ সামরিক মহড়া সোমবার

শেয়ার করুন

গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষা: ‘এ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ

গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষা: ‘এ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ

গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষার একটি কেন্দ্র। ফাইল ছবি

গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষাবিষয়ক টেকনিক্যাল সাবকমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নূর নিউজবাংলাকে বলেন, “আজ ভর্তি কমিটির সভায় গত ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সে মোতাবেক গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষার ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশ করা হয়েছে।”

দেশের ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষার ‘এ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ করা হয়েছে।

গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষাবিষয়ক কমিটির বুধবারের সভা শেষে ফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয়।

জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ও সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষাবিষয়ক টেকনিক্যাল সাবকমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নূর নিউজবাংলাকে বলেন, “আজ ভর্তি কমিটির সভায় গত ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সে মোতাবেক গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষার ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশ করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থী উপস্থিতির হার ছিল ৯৩ শতাংশ। আর ভর্তি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ স্কোর ৯৫।

গত ১৭ অক্টোবর দেশজুড়ে ২৬টি কেন্দ্রে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা হয়। ওই ইউনিটে আবেদন করেছিলেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৯০১ শিক্ষার্থী। এক ঘণ্টার ভর্তি পরীক্ষা দুপুর ১২টায় শুরু হয়ে শেষ হয় ১টায়।

গুচ্ছভুক্ত ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ২৪ অক্টোবর আর ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষা হবে ১ নভেম্বর।

গুচ্ছভুক্ত ২০ বিশ্ববিদ্যালয়

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

এ ছাড়া রয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

আরও পড়ুন:
কলেজে অস্ত্র নিয়ে ছাত্রলীগের মহড়া
বন্দুক হাতে চেয়ারম্যানের মহড়ার ভিডিও ভাইরাল
যুক্তরাষ্ট্র-দ.কোরিয়া যৌথ সামরিক মহড়া সোমবার

শেয়ার করুন

শিক্ষার্থীরা ইউনিক আইডি পাবে কবে?

শিক্ষার্থীরা ইউনিক আইডি পাবে কবে?

প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মৌলিক ও শিক্ষাসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য এক জায়গায় রাখার জন্য তৈরি করা হচ্ছে ইউনিক আইডি। শিক্ষার্থীর বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হলে এই আইডি জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) রূপান্তরিত হবে।

দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীর জন্য একটি ‘ইউনিক আইডি’ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মৌলিক ও শিক্ষাসংক্রান্ত সব তথ্য থাকবে। কিন্তু করোনা মহামারিতে দীর্ঘদিন স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকা এবং কিছু আইনি জটিলতায় স্থবির হয়ে পড়ে এ কার্যক্রম।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবার পুরোদমে শুরু হয়েছে শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি তৈরির কার্যক্রম। তাদের আশা, আগামী বছরের শুরুতে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ১ কোটি ৬০ লাখ শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেয়া সম্ভব হবে ইউনিক আইডি।

প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি তৈরির জন্য বিদ্যালয় পর্যায়ে ডাটা এন্ট্রি দেয়া শুরু হবে আগামী মাসে। প্রথম ধাপে পাইলটিং হিসেবে ৮০টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি তৈরি করা হবে। সেটি সফল হলে ধাপে ধাপে সব শিক্ষার্থীকে এর আওতায় আনা হবে।

জানতে চাইলে মাধ্যমিক পর্যায়ের ইউনিক আইডির প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক মো. শামসুল আলম বলেন, ‘ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি প্রদানের কার্যক্রম করোনা পরিস্থিতি ও কিছু আইনি জটিলতায় আটকে ছিল। এখন সব ধরনের সমস্যার সমাধান হয়েছে। আশা করছি, আগামী বছরের শুরুতেই পর্যায়ক্রমে ১ কোটি ৬০ লাখ শিক্ষার্থীর হাতে ইউনিক আইডি তুলে দেয়া সম্ভব হবে।’

ইউনিক আইডি তৈরি কার্যক্রমের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ পর্যায়ে। খুব শিগগির শুরু হবে ডাটা এন্ট্রির কাজ। এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হতে থাকবে ইউনিক আইডি। তখন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দেখতে পাবে, তাদের কত শিক্ষার্থীর ইউনিক আইডি তৈরি হলো। এরপর আমরা পর্যায়ক্রমে ইউনিক আইডি ছাপিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করব।’

জন্মনিবন্ধন সনদ না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করতে পারছে না, এ ক্ষেত্রে করণীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে শামসুল আলম বলেন, ‘যেসব শিক্ষার্থীর ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন আছে, তাদের অভিভাবকদের শুধু এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) থাকলেই হবে। তবে যেসব শিক্ষার্থীর ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন নেই, তাদের অভিভাবকদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও জন্মনিবন্ধন দুটিই লাগবে। আইনগত কারণে এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেয়া সম্ভব নয়।’

প্রাথমিকের ডাটা এন্ট্রি শুরু আগামী মাসে

প্রাথমিকের ২ কোটিরও বেশি শিক্ষার্থীর ইউনিক আইডি তৈরির কাজ করছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এ জন্য ডাটা এন্ট্রির সফটওয়্যার তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। আশা করা হচ্ছে, আগামী মাস থেকে ডাটা এন্ট্রি দেয়া শুরু হবে।

জানতে চাইলে প্রাথমিকের ইউনিক আইডির প্রকল্প পরিচালক মো. মঞ্জুরুল আলম প্রধান বলেন, ‘প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি তৈরির জন্য বিদ্যালয় পর্যায়ে আগামী মাস থেকে সফটওয়্যারে ডাটা এন্ট্রি শুরু হবে। এ জন্য সফটওয়্যার তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। এরপর পাইলটিং হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানের ৮০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি তৈরি করা হবে। এরপর সেটি সফল হলে পুরোদমে শুরু হবে কাজ।’

কবে নাগাদ পাইলটিং শুরু হবে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘নির্দিষ্ট করে সময় বলা সম্ভব নয়। আশা করছি, আগামী মাসে ডাটা এন্ট্রি শুরু হলে খুব শিগগির পাইলটিং শুরু হবে।’

ইউনিক আইডি কেন?

প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মৌলিক ও শিক্ষাসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য এক জায়গায় রাখার জন্য তৈরি করা হচ্ছে ইউনিক আইডি। শিক্ষার্থীর বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হলে এই আইডি জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) রূপান্তরিত হবে।

ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি তৈরির দায়িত্বে আছে বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইজ)। আর প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি তৈরি করছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

কেন শিক্ষার্থীদের জন্য ইউনিক আইডি তৈরি করা হচ্ছে, এমন প্রশ্নে প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, ‘কোনো শিশু জন্মগ্রহণ করলেই সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগের অফিস অফ রেজিস্ট্রার জেনারেলের আওতায় তার জন্মনিবন্ধন হয়। আর ১৮ বছর পূর্ণ হওয়া সবার জন্য আছে জাতীয় পরিচয়পত্র। কিন্তু যারা প্রাইমারি, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী, অর্থাৎ যাদের বয়স ১৮-এর নিচে তারা এই সিস্টেমের বাইরে। এ জন্য তাদের সিস্টেমের মধ্যে আনতেই ইউনিক আইডি তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

ফরমে যেসব তথ্য দিতে হয়

স্ট্যাবলিশমেন্ট অফ ইন্টিগ্রেটেড এডুকেশনাল ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (আইইআইএমএস) প্রকল্পের আওতায় তৈরি করা চার পৃষ্ঠার ফরমে শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

ফরমে শিক্ষার্থীর নাম, জন্মনিবন্ধন নম্বর, জন্মস্থান, জেন্ডার, জাতীয়তা, ধর্ম, অধ্যয়নরত শ্রেণি, রোল নম্বর, বৈবাহিক অবস্থা, প্রতিবন্ধিতা (ডিজঅ্যাবিলিটি), রক্তের গ্রুপ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কি না, মা-বাবার নামসহ বেশ কিছু তথ্যের ঘর রয়েছে।

বৈবাহিক অবস্থার অপশন হিসেবে অবিবাহিত, বিবাহিত, বিধবা, বিপত্নীক ছাড়াও স্বামী-স্ত্রী পৃথক বসবাস, তালাকপ্রাপ্ত, বিবাহবিচ্ছেদের ঘরও রয়েছে ফরমে।

আরও পড়ুন:
কলেজে অস্ত্র নিয়ে ছাত্রলীগের মহড়া
বন্দুক হাতে চেয়ারম্যানের মহড়ার ভিডিও ভাইরাল
যুক্তরাষ্ট্র-দ.কোরিয়া যৌথ সামরিক মহড়া সোমবার

শেয়ার করুন

ঐতিহ্য ও গৌরবের জগন্নাথ ১৬৪ বছরে

ঐতিহ্য ও গৌরবের জগন্নাথ ১৬৪ বছরে

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ছবি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ২০ অক্টোবরকে ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। গৌরব ও সাফল্যের ১৬ বছরে ক্যাম্পাসের অনেক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও দেশের উচ্চ শিক্ষা প্রসারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এক অভূতপূর্ব ভূমিকা পালন করে আসছে। ১৮৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্রাহ্ম স্কুলের পরিবর্তিত রূপই এখনকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)। ২০০৫ সালে কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বীকৃতি পায় দেশের অন্যতম প্রাচীন এ বিদ্যাপীঠ। বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সাফল্যের ১৬ বছর পূর্ণ করে ১৭ বছরে পা দিয়েছে জগন্নাথ। পাশাপাশি ১৬৪ বছরে পা দিচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ২০ অক্টোবরকে ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। গৌরব ও সাফল্যের ১৬ বছরে ক্যাম্পাসের অনেক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও দেশের উচ্চ শিক্ষা প্রসারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এক অভূতপূর্ব ভূমিকা পালন করে আসছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির রয়েছে সুদীর্ঘ ইতিহাস।

১৮৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্রাহ্ম স্কুলের পরিবর্তিত রূপই এখনকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ১৮৭২ সালে বালিয়াটির জমিদার কিশোরী লাল রায় তার বাবা জগন্নাথ রায় চৌধুরীর নামে এই বিদ্যাপীঠের নামকরণ করেন। ১৮৮৪ সালে এটি একটি দ্বিতীয় শ্রেণির কলেজ ও ১৯০৮ সালে প্রথম শ্রেণির কলেজে পরিণত হয়।

এই সময় এটিই ছিল ঢাকার উচ্চ শিক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে জগন্নাথ কলেজের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কার্যক্রম বন্ধ করে ইন্টারমিডিয়েট কলেজে অবনমিত করা হয়।

ঐতিহ্য ও গৌরবের জগন্নাথ ১৬৪ বছরে

তৎকালীন জগন্নাথ কলেজের ডিগ্রির শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গ্রন্থাগারের বইপুস্তক ও জার্নাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার সাজাতে তৎকালীন জগন্নাথ কলেজ গ্রন্থাগারের ৫০ ভাগ বই দান করা হয়। পুরান ঢাকার নারী শিক্ষায় বাধা দূর করতে ১৯৪২ সালে সহশিক্ষা চালু করা হয়। ১৯৪৮ সালে তা বন্ধ করে দেয়া হয়।

পরে ১৯৪৯ সালে আবার এই কলেজে স্নাতক পাঠ্যক্রম শুরু হয়। ১৯৬৩ সালে অধ্যক্ষ সাইদুর রহমান পুনরায় সহশিক্ষা চালু করেন। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি সরকারীকরণ করা হলেও পরের বছরেই আবার এটি বেসরকারি মর্যাদা লাভ করে। ২০০৫ সালে মহান জাতীয় সংসদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৫ পাসের মাধ্যমে এটি একটি পরিপূর্ণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়।

পূর্বতন জগন্নাথ কলেজের শিক্ষার্থীরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে গণ্য হন। তাদের নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে। ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা প্রথম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা সনদ লাভ করেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০০৫-২০০৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান।

ঐতিহ্য ও গৌরবের জগন্নাথ ১৬৪ বছরে

বিশ্ববিদ্যালয়টি ১১ দশমিক ১১ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬টি অনুষদে ৩৬টি বিভাগ ও ২টি ইনস্টিটিউটে প্রায় ৬৭৯ শিক্ষক, ১৩ হাজার ১৬৫ শিক্ষার্থী, ৬৮৬ কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নতুন হলেও প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে সুদীর্ঘ দেড় শ বছরেরও পুরোনো ইতিহাস। বাংলদেশের ভাষা আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ৬ দফা ও ১১ দফার আন্দোলন এবং ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুথান ও মুক্তিযুদ্ধসহ প্রতিটি আন্দোলনের ইতিহাসে জগন্নাথের অবদান কখনও অস্বীকার করার মতো নয়।

পাকিস্তান আমলে সরকারবিরোধী আন্দোলন করায় প্রতিষ্ঠানটিকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয় তৎকালীন সরকার।

ভাষা আন্দোলনে জগন্নাথ

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে একাট্টা হয়ে জগন্নাথের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বরাবরের মতোই ছিল উল্লেখ করার মতো। ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে সংশোধনী প্রস্তাব বাতিল হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রদের মিছিলের মাধ্যমে ঢাকায় প্রথম প্রতিক্রিয়া শুরু হয় ২৬ ফেব্রুয়ারি। এসব প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ঢাকা শহরের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করেন। ভাষা আন্দোলনের সময় জগন্নাথ ও মেডিক্যাল কলেজে আলাদা করে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে উঠেছিল।

ঐতিহ্য ও গৌরবের জগন্নাথ ১৬৪ বছরে

রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করে ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত প্রথম পুস্তিকা ‘রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন’ এবং সাব-টাইটেল ছিল ‘কি ও কেন’? যার লেখক ছিলেন জগন্নাথের সাবেক শিক্ষার্থী অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান।

মাতৃভাষা বাংলার রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে প্রথম শহীদ হন জগন্নাথের ছাত্র রফিক উদ্দিন আহমদ। ৫২ সালে তিনি জগন্নাথের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলেন।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে প্রথম যে ১০ জন ১৪৪ ধারা ভেঙে ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন এই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র প্রখ্যাত কথাশিল্পী ও চলচ্চিত্র পরিচালক জহির রায়হান।

ভাষাসৈনিক মো. আবদুল জলিল এই প্রতিষ্ঠানে ছাত্র থাকা অবস্থায় ১৯৪৮ সালে ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ৫২ সালে জগন্নাথ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক শফিউদ্দিন আহমদকে ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করায় কারাবরণ করতে হয়।

ভাষাসৈনিক অজিত কুমার গুহ ১৯৪৮ সালের ১৬ আগস্ট জগন্নাথে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিয়ে একটানা প্রায় ২০ বছর কর্মরত ছিলেন। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের একজন বলিষ্ঠ সংগঠক হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জাতীয় অধ্যাপক ড. সালাহউদ্দীন আহমেদসহ অন্য শিক্ষকরা এখান থেকেই ছাত্রদের ভাষা আন্দোলনে উৎসাহিত করতেন। নুরু মোল্লা ১৯৫০ সালে এই প্রতিষ্ঠানে পড়ার সময় ‘সর্বদলীয় সেন্ট্রাল কমিটি অব অ্যাকশন’ নামে একটি কমিটি হয়। তিনি ওই কমিটির সদস্য ছিলেন।

ঐতিহ্য ও গৌরবের জগন্নাথ ১৬৪ বছরে

জগন্নাথের সাবেক শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশের অন্যতম সংবিধানপ্রণেতা এম. আমিরুল ইসলাম ১৯৫২ সালে চলমান ভাষা আন্দোলন ও পাকিস্তান গণপরিষদে লিয়াকত আলী খানের প্রস্তাবিত ‘বেসিক প্রিন্সিপল রিপোর্ট’-এর বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীতেও ভাষা আন্দোলনে জগন্নাথের অবদানের প্রমাণ পাওয়া যায়। বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, ‘‘১৯৪৮ সালের ১১ মার্চকে ‘বাংলাভাষা দাবি’ দিবস ঘোষণা করা হলো। সামান্য কিছুসংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাড়া শতকরা ৯০ ভাগ ছাত্র এই আন্দোলনে যোগদান করল। জগন্নাথ কলেজ, মিডফোর্ড মেডিক্যাল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ বিশেষ করে সক্রিয় অংশগ্রহণ করল।’’

সাবেক এমপি মরহুম আবদুর রব, মৃণাল বারড়ি ও খলিলুর রহমানের মতো জগন্নাথের নাম না জানা অসংখ্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন।

’৬২ থেকে ’৬৬-তে জগন্নাথ

১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের বীজ মূলত জগন্নাথ ও ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাস থেকেই বপন করা হয়। ঐতিহাসিক শিক্ষা আন্দোলনের নেতা হায়দার আকবর খান বলেন, ‘যতদূর মনে পড়ে জগন্নাথ কলেজ ও ঢাকা কলেজের কয়েকজন ছাত্র প্রথমে ছাত্রদের সমস্যার দিকে দৃষ্টিপাত করে কলেজ থেকেই আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটায়। পরবর্তীকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতারা এই আন্দোলনটি আঁকড়ে ধরেন।’

তৎকালীন সময়ে বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত ছয় দফা আন্দোলনেও জগন্নাথের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক ছয় দফা ঘোষিত হলে তার সমর্থনে সফল হরতাল পালনে ভূমিকা পালন করে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মুজিব বাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান কাজী আরেফ আহমেদ ও চিত্রনায়ক ফারুক।

৬ দফায় জগন্নাথ

১৭ জানুয়ারি ১৯৬৮ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হলে জগন্নাথ ছাত্র সংসদের উদ্যোগেই প্রথম প্রতিবাদ সভা হয়। বঙ্গবন্ধু জেল থেকে ছাড়া পেয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জগন্নাথ কলেজের ছাত্রদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘ আই অ্যাম অ্যাট দ্যা ডিসপোজল অব দ্যা স্টুডেন্টস অব জগন্নাথ কলেজ’।

১১ দফার অন্যতম দাবি ছিল তৎকালীন জগন্নাথ কলেজসহ সকল প্রাদেশিকীকরণ কলেজসমূহ পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেয়া। ১৯৬৯-এর গণ-অভুত্থানে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের বিরোধিতায় কলেজটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে সরকার বাধ্য হয়।

মহান মুক্তিযুদ্ধে জগন্নাথ

সর্বশেষ মহান মুক্তিযুদ্ধের ফল হিসেবে মূলত বাংলাদেশ নামের স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়।

২৫ মার্চ ১৯৭১, পাক বাহিনীর অপারেশন সার্চলাইট মিশনের প্রথম দিকে হামলা চালানো হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, ইকবাল হল ও রাজারবাগ পুলিশ লাইনে। শুরু হয় গণহত্যা।

জগন্নাথ কলেজের শিক্ষার্থীরা হল থেকে বের হয়ে পুরান ঢাকার রাজপথে প্রতিবাদ শুরু করেন। পুরান ঢাকা নিজেদের দখলে নিতে ক্যাম্পাসে তৈরি হয় হানাদার বাহিনীর ক্যাম্প।

প্রতিদিন পুরান ঢাকার মুক্তিকামী মানুষ ধরে এনে হত্যা করার পর গণকবর দেয়া হয় এই ক্যাম্পাসে। ৮ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে কর্তৃপক্ষ সে সময়কার ছাত্রসংসদ কার্যালয়ের সামনে গণকবর খনন করে সাতটি কঙ্কালসহ ছেঁড়া কাপড়, জুতা ইত্যাদি উদ্ধার করে।

যুদ্ধের পর দৈনিক পূর্বদেশ ও দৈনিক বাংলা পত্রিকায় জগন্নাথে পাক বাহিনীর নির্যাতন ও গণহত্যার ওপর প্রতিবেদন ছাপানো হয়। প্রতিবেদনে ভয়াবহ নারী নির্যাতন ও বিপুলসংখ্যক লোকের কঙ্কাল পাওয়ার খবর প্রকাশ পায়।

মুক্তিযুদ্ধে জগন্নাথের বহু ছাত্র ও শিক্ষক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেন। যাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বিখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা, গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া (বীর বিক্রম) ও গণিত বিভাগের তৎকালীন চেয়ারম্যান ড. আবুল কালাম আজাদ।

বিজয় লাভের আগ মুহূর্তে আবুল কালাম আজাদকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। যিনি আমাদের মাঝে এখনও ফিরে আসেননি। মুক্তিযুদ্ধে এই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র মিরাজ, আজমল, নজরুল ও শাহাবুদ্দিন শহীদ হন।

জগন্নাথের গুচ্ছ ভাস্কর্য

স্বাধীনতাকামী বাঙালির ওপর সংঘটিত অর্বণনীয় নির্যাতন এবং গণহত্যার চিত্র তুলে ধরে শহীদদের স্মরণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২০০৮ সালের ৩১ মার্চ নির্মাণ করা হয় মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি ও একাত্তরের গণহত্যা ভাস্কর্য। মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত যা দেশের একমাত্র গুচ্ছ ভাস্কর্য।

২০১০ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারি অনুদান বহাল রাখতে রাজপথে নেমে এসেছিলেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তুমুল আন্দোলনের মুখে জগন্নাথসহ ৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারি অনুদান বহাল রাখতে মহান জাতীয় সংসদে বিল পাস করা হয়।

জগন্নাথের কৃতি ব্যক্তিত্ব

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব কৃতি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর নাম গর্ব করে বলতেই হয় তারা হলেন শিক্ষক হাসান হাফিজুর রহমান, আলাউদ্দিন আল আজাদ, শওকত আলী, আখতারুজ্জামন ইলিয়াস, ইতিহাসবিদ ড. মাহমুদুল হাসান, সাংবাদিক রাহাত খান, আ ন ম বজলুর রহমান, অধ্যাপক সন্তোষ ভট্টাচার্য।

সংগীতশিল্পী সৈয়দ আবদুল হাদী, ড. শামসুজ্জামান খান, হায়াৎ মাহমুদ, বিক্রমপুরের ইতিহাসখ্যাত লেখক শ্রী যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত, গবেষক গোলাম মুরশিদ ও মির্জা হারুন-অর রশিদ, বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ, ভাষা শহীদ রফিক উদ্দিন আহমদও ছিলেন জগন্নাথের কৃতি ব্যক্তিত্ব।

কথাশিল্পী ও চলচ্চিত্র পরিচালক জহির রায়হান, প্রখ্যাত আয়ুর্বেদ শাস্ত্র বিশারদ যোগেশচন্দ্র ঘোষ, শিক্ষাবিদ ড. আনিসুজ্জামান, সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হক, ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেয়া সাঁতারু ব্রজেন দাস, বাঙালি কবি প্রেমেন্দ্র মিত্র ও শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনও ছিলেন বিশ্ববিদ্যায়টির কৃতি শিক্ষার্থী।

লেখক ও দৈনিক কালের কণ্ঠের সদ্য সাবেক সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দীন আহমেদ রাজু, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র সাইদ খোকন, অর্থনীতিবিদ ভবতোষ দত্ত, লেখক কাজী মোতাহার হোসেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ আর ইউসুফ, গায়ক ফকির আলমগীর, কিরণ চন্দ্র রায়, হায়দার হোসেন ও বিপ্লব, অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামান, জাহিদ হাসান, মীর সাব্বির, ফারুক ও প্রবীর মিত্র এবং জাদুকর জুয়েল আইচও জগন্নাথের কৃতি শিক্ষার্থী।

ক্রীড়া ক্ষেত্রে জগন্নাথ

ক্রীড়া ক্ষেত্রেও একসময় খ্যাতি ছিল এই বিদ্যাপীঠের। এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আন্তবিশ্ববিদ্যালয়, আন্তকলেজে ধারাবাহিক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন ছাড়াও শিক্ষার্থীরা জয় করেছিলেন রোনাল্ডসে শিল্ড, স্যার এ এফ রহমান শিল্ড, ফিরোজ নূন কাপসহ একাধিক টুর্নামেন্ট। এই বিদ্যাপীঠেরই শিক্ষার্থী ব্রজেন দাস ৬ বার ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে গড়েছেন বিশ্ব রেকর্ড।

তবে দুঃখজনক হলেও সত্য যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই জানেন না ক্রীড়ায় তাদের এই গৌরবের কথা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়াজগৎ আজ অনেকটাই মলিন। ক্রীড়াচর্চার পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় বড় পর্যায়ে সাফল্য দেখাতে পারছেন না জবিয়ানরা। ২০১৯ এসএ গেমসে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম স্বর্ণপদক জয়ী মারজান আকতার প্রিয়া এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানেরই শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

শুধু বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে জবির পরিমাপ করা যাবে না। জবিকে জ্ঞানের সূর্য বলা যায়। যা ১৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কেবল জ্ঞানের আলো দিয়েই যাচ্ছে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, দেশকে উজাড় করে দিলেও বলার মতো দেশ জবিকে কিছুই দেয়নি।

জগন্নাথকে এখনও অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের লজ্জা বহন করতে হয়। অবকাঠামোগত সমস্যা ও বাজেট বৈষম্যের শিকার বিশ্ববিদ্যালয়টি। ২৫ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য নেই পর্যাপ্ত পরিবহন ও ক্যান্টিন সুবিধা।

তবে খুশির বিষয় এই যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গত ৯ অক্টোবর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয় একনেক। যার মাধ্যমে কেরানীগঞ্জে প্রায় ২০০ একর জায়গার ওপর নির্মিত হবে আধুনিক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

আবাসিক ব্যবস্থা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের একমাত্র অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। এই অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তকমা ঘুচিয়ে ক্যাম্পাসের বিপরীত পাশে বাংলাবাজারসংলগ্ন ছাত্রীদের জন্য ‘বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল’ নামে ১৬ তলাবিশিষ্ট ১ হাজার আসনের একটি হলের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। তবে উদ্বোধন হলেও এখনও চালু হয়নি হলটি।

আবাসন ও যানবাহন সমস্যায় জর্জরিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মনোবল, সাহস ও পরিশ্রমী মানসিকতা অবাক করে অন্য সব বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের। ব্যয়বহুল ঢাকা শহরের মেস-বাসা-বাড়িতে কষ্টে দিন পার করা সত্ত্বেও তারা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে সর্বদা মাতিয়ে রাখেন।

উচ্চ শিক্ষার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

শুধু আন্দোলন আর সংগ্রামেই থেমে নেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। শত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। একটি আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নিজেদের জানান দিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন জবির শিক্ষার্থী ও শিক্ষার্থীরা।

শুরু থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়টির সকল বিভাগে সেমিস্টার পদ্ধতি চালু রয়েছে। অনেক আগেই ইউজিসির প্রতিবেদনে এ-গ্রেড ভুক্ত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা লাভ করেছে এই প্রতিষ্ঠানটি।

বিসিএসসহ সকল প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরিতে সক্ষমতা অর্জন করেছেন এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। ভর্তি পরীক্ষায় গোপন বার-কোড পদ্ধতি চালু করার মাধমে জালিয়াতি রোধে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আর ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথমবারের মতো চালু হয় লিখিত ভর্তি পরীক্ষা।

বাংলাদেশের জন্ম ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই ইতিহাস থেকে অবশ্যই আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। তবেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সার্থকতা লাভ করবে।

আরও পড়ুন:
কলেজে অস্ত্র নিয়ে ছাত্রলীগের মহড়া
বন্দুক হাতে চেয়ারম্যানের মহড়ার ভিডিও ভাইরাল
যুক্তরাষ্ট্র-দ.কোরিয়া যৌথ সামরিক মহড়া সোমবার

শেয়ার করুন

গণরুমে রান্না করলে সিট বাতিল

গণরুমে রান্না করলে সিট বাতিল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তাপসী রাবেয়া হলে গণরুমের ছাত্রীদের ডাইনিংয়ে খাওয়া বাধ্যতামূলক করেছে কর্তৃপক্ষ। ছবি: নিউজবাংলা

হল প্রাধ্যক্ষ ফেরদৌসী মহল বলেন, ‘দীর্ঘদিন হল বন্ধ থাকায় ইলেক্ট্রিসিটির লাইনসহ অনেক কিছু নষ্ট হয়ে গেছে। আজ সকালে গণরুমে গিয়ে দেখি সেখানে অনেকগুলো লাইট নষ্ট। ‘তারা যদি রান্না করতে গিয়ে কোনো দুর্ঘটনার শিকার হয় তার দায় কে নিবে?’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তাপসী রাবেয়া হলে গণরুমের ছাত্রীদের ডাইনিংয়ে খাওয়া বাধ্যতামূলক করেছে কর্তৃপক্ষ।

ওই হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ফেরদৌসী মহল এ বিষয়ে একটি আদেশ জারি করেছেন।

এতে বলা হয়, তাপসী রাবেয়া হলের গণরুমে (কলরব) অবস্থানকারী ছাত্রী রান্নার করতে পারবে না। তাদেরকে হল ডাইনিংয়ে খাওয়া বাধ্যতামূলক।

আদেশ না মানা হলে তাদের হলের সিট বাতিল করে দেয়া হবে বলেও উল্লেখ আছে আদেশে।

তবে এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গণরুমে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী। তাদের অভিযোগ, ডাইনিংয়ের খাবার মানসম্মত নয়। কিন্তু এরপরও তাদের তা খেতে বাধ্য করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হল প্রাধ্যক্ষ ফেরদৌসী মহল বলেন, ‘দীর্ঘদিন হল বন্ধ থাকায় ইলেক্ট্রিসিটির লাইনসহ অনেক কিছু নষ্ট হয়ে গেছে। আজ সকালে গণরুমে গিয়ে দেখি সেখানে অনেকগুলো লাইট নষ্ট। এই পরিস্থিতিতে তারা যদি রান্না করতে যায় তাহলে তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।’

হল ডাইনিংয়ে খাওয়া বাধ্যবাধকতা প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ডাইনিংয়ে তাদের জন্য মানসম্মত খাবার তৈরির দায়িত্ব নেয়া হয়েছে। এটা করা হয়েছে তাদের নিরাপত্তার জন্য।

‘তারা যদি রান্না করতে গিয়ে কোনো দুর্ঘটনার শিকার হয় তার দায় কে নিবে? আমরা যখন হলে ছিলাম তখন থেকে সব হলেই গণরুমে রান্নার কোনো নিয়ম ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আর যারা ব্লকে থাকে তাদের জন্য রান্না ঘরের ব্যবস্থা আছে, তারা সেখানে রান্না করে খেতে পারছে।’

বিশ্ববিদ্যালয় উপউপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে এখনও কিছু জানি না। তবে আমি হলটির প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলব। কি কারণে এমনটা করা হয়েছে জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
কলেজে অস্ত্র নিয়ে ছাত্রলীগের মহড়া
বন্দুক হাতে চেয়ারম্যানের মহড়ার ভিডিও ভাইরাল
যুক্তরাষ্ট্র-দ.কোরিয়া যৌথ সামরিক মহড়া সোমবার

শেয়ার করুন