সীমান্তে ভারতীয় ও চীনা সেনাদের আবারও ধাক্কাধাক্কি

সীমান্তে ভারতীয় ও চীনা সেনাদের আবারও ধাক্কাধাক্কি

সীমান্তে টহলরত চীনা সেনা

ভারত-চীন সীমান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট করা নেই। এ জন্য প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার ধারণা নিয়ে দুই দেশের মতপার্থক্য রয়েছে।

লাদাখ ও উত্তরাখন্ডের পর এবার অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তে মুখোমুখি হয়েছে ভারতীয় ও চীনা সৈন্যরা। পরে তাদের মধ্যে সামান্য ঝগড়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

গত সপ্তাহে তিব্বত হয়ে প্রায় ২০০ চীনা সৈন্য অরুণাচলের তাওয়াং সেক্টরের ইয়াংস্তি সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভারতীয় প্রতিরক্ষা সূত্র বলছে, চীনা সৈন্যরা নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম করে ভারতের দিকে এসেছিল। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে বাদানুবাদ কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয় এবং বিদ্যমান প্রটোকল অনুযায়ী বিষয়টির সমাধান হয়। তবে এ ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

প্রতিরক্ষা সূত্র আরও জানিয়েছে, ‘পুরো শক্তি’ নিয়ে আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত হয়ে টহল দিচ্ছিল চীনা সৈন্যরা। সে সময়ে ওই এলাকা দিয়েই রুটিন টহলদারিতে গিয়েছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। হঠাৎই দুই পক্ষের মুখোমুখি দেখা হয়ে যায়।

ভারতীয় প্রশাসনের এক কর্তা জানিয়েছেন, সাময়িকভাবে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। এমনকি দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদও চলে বেশ কিছুক্ষণ। কয়েকজন ধাক্কাধাক্কিতেও জড়িয়ে পড়েন। তবে ভারত ও চীনের সেনা কমান্ডাররা দ্রুত বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

সীমান্তের ওই এলাকায় দুই পক্ষই রুটিন টহলদারি চালায়। তবে কোনোভাবে তারা মুখোমুখি হয়ে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে যায়। এলাকাটিতে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে শান্তি বজায় রাখার জন্য নির্দিষ্ট প্রটোকল রয়েছে। দুই পক্ষই সেই প্রটোকল মেনে চলে।

এ ব্যাপারে প্রশাসনের কর্তারা জানিয়েছেন, ভারত-চীন সীমান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট করা নেই। এ জন্য প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার ধারণা নিয়ে দুই দেশের মতপার্থক্য রয়েছে। তবে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই অঞ্চলে শান্তির পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়াও দুই দেশের একাধিক চুক্তির মাধ্যমেও শান্তির পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখা হচ্ছে।

সরকারি কর্তারা আরও জানিয়েছেন, তাওয়াংয়ে টহলরত দুই পক্ষের সেনার একেবারে মুখোমখি হয়ে যাওয়ার ঘটনা বহুদিন পর ঘটেছে। এর আগে ২০১৬ সালে একই ধরনের একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

কিছুদিনের মধ্যেই পূর্ব লাদাখে ভারত ও চীনা সেনা কমান্ডারদের মধ্যে ১৩তম আলোচনা হতে চলেছে। সেই আলোচনায় তাওয়াংয়ের ঘটনার উল্লেখ হতে পারে।

আরও পড়ুন:
সীমান্ত সংঘাতে নিয়ে বৈঠকে চীন-ভার‍ত
সেনাদের বীরত্ব নিয়ে প্রশ্ন, চীনে ব্লগার গ্রেপ্তার
লাদাখ থেকে সেনা সরাচ্ছে ভারত-চীন
ভারতের ৪ কিলোমিটার ভেতরে চীনের গ্রাম

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মণ্ডপে হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে শাহবাগে অবরোধ

মণ্ডপে হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে শাহবাগে অবরোধ

বিভিন্ন জেলার পূজামণ্ডপে হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে শাহবাগ মোড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবরোধ। ছবি: নিউজবাংলা

অবরোধে যোগ দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মিহির লাল শাহ বলেন, ‘আমরা রোহিঙ্গা নয়, আমরা বাংলাদেশি। আমরা আমাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের অধিকার রাখি। আমাদের এই অধিকারে যারা হাত দিয়েছে তাদের হাত আমরা ভেঙে দেব। আমরা এভাবে রাস্তা অবরোধ করতে চাইনি, কিন্তু আমাদের বাধ্য করা হয়েছে। যারা আমাদের কারণে যানজটে পড়ে আছে তাদের কাছে আমরা ক্ষমা চাই।’

কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার পূজামণ্ডপে হামলাকারীদের শাস্তি নিশ্চিতের দাবিসহ ৭ দফা দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

রোববার সকাল ১০টা থেকে শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে শাহবাগ থেকে পল্টন, সায়েন্স ল্যাব, বাংলামোটর ও টিএসসি অভিমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলসহ বিভিন্ন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা টিএসসি এলাকায় জড়ো হন। সেখান থেকে তারা মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ে আসেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গতকাল রাতে রংপুরের ঘটনার প্রতিবাদে শাহবাগ মোড়ে জগন্নাথ হলের ছাত্ররা অবস্থান নিয়েছে। যান চলাচল বেশ কিছুক্ষণ ধরে বন্ধ আছে। হলের প্রভোস্ট স্যারও আছেন।’

অবরোধে যোগ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মিহির লাল শাহ বলেন, ‘আমরা সবাই বাংলাদেশের মানুষ। সকলের শরীরে একই রক্ত প্রবাহিত হয়। তাহলে এ ধর্মীয় উম্মাদনা কেন? সরকারের প্রতি আমাদের দাবি, এই সাম্প্রদায়িক হামলা বন্ধ করতে হবে। দ্রুত হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক। আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।

‘আমরা রোহিঙ্গা নয়, আমরা বাংলাদেশি। আমরা আমাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের অধিকার রাখি। আমাদের এই অধিকারে যারা হাত দিয়েছে তাদের হাত আমরা ভেঙে দেব। আমরা এভাবে রাস্তা অবরোধ করতে চাইনি, কিন্তু আমাদের বাধ্য করা হয়েছে। যারা আমাদের কারণে যানজটে পড়ে আছে তাদের কাছে আমরা ক্ষমা চাই।’

আরও পড়ুন:
সীমান্ত সংঘাতে নিয়ে বৈঠকে চীন-ভার‍ত
সেনাদের বীরত্ব নিয়ে প্রশ্ন, চীনে ব্লগার গ্রেপ্তার
লাদাখ থেকে সেনা সরাচ্ছে ভারত-চীন
ভারতের ৪ কিলোমিটার ভেতরে চীনের গ্রাম

শেয়ার করুন

রংপুরের পুলিশ সুপারকে বদলি

রংপুরের পুলিশ সুপারকে বদলি

পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার। ছবি:সংগৃহীত

রংপুরের পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকারকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে বদলি করা হয়েছে।

সোমবার তিনিসহ বিভিন্ন ইউনিটের সাত কর্মকর্তার বদলির আদেশ হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেয়া হয়েছে।

বিস্তারিত আসছে....।

আরও পড়ুন:
সীমান্ত সংঘাতে নিয়ে বৈঠকে চীন-ভার‍ত
সেনাদের বীরত্ব নিয়ে প্রশ্ন, চীনে ব্লগার গ্রেপ্তার
লাদাখ থেকে সেনা সরাচ্ছে ভারত-চীন
ভারতের ৪ কিলোমিটার ভেতরে চীনের গ্রাম

শেয়ার করুন

লুটপাট, আগুনে নিঃস্ব পীরগঞ্জের হিন্দুপাড়া

লুটপাট, আগুনে নিঃস্ব পীরগঞ্জের হিন্দুপাড়া

রংপুরের পীরগঞ্জে উত্তেজিত জনতার হামলায় ঘরবাড়ি হারিয়ে দিশেহারা এই প্রবীণ নারীর মতো হিন্দু সম্প্রদায়ের অর্ধশতাধিক পরিবার। ছবি: নিউজবাংলা

পীরগঞ্জের বড় করিমপুর কসবা গ্রামের উত্তরপাড়ায় রোববার রাতে অন্তত ২৩ বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন দেয়া হয়েছে। অনেক বাড়ির সামনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ভাঙা আসবাব, লোকজনের চোখে-মুখে আতঙ্ক আর ক্ষোভ। চারদিকে পোড়া গন্ধ আর বিলাপ।

‘হামরা খাবার বচচি, ওটি দেখি হৈ-হাঙ্গাম। পরে দেখি, কোবাকুবি, ফির দেখি আগুন জ্বলছে। পরে ক্যানে দেখি ঘুরি আসি, দোকানে, মন্দির, বাড়িত আগুন লাগি দিল। বউ বেটিত নিয়া, মানসের কানচেত কলার কাচের থোপে আচিনোং। ছাওয়া কান্দিছিল মুখ চিপি ধরি আচিনোং। আসি দেখি, নেপ তুলি কিস্তির সোগ টাতা নিয়ে গেছে।’

(আমরা খাবার খেতে বসছি, পরে দেখি কোপাকুপি, তারপর দেখি আগুন। পরে এসে দেখি দোকানে, মন্দিরে, বাড়িতে আগুন দিয়েছে। ঘরের মেয়ে-বউ-নাতি নিয়ে মানুষের বাড়ির পেছনে কলার গাছের নিচে লুকিয়ে ছিলাম। নাতি কান্না করছিল, তার মুখ চেপে রাখি। এরপর ফিরে এসে দেখি লেপ তুলে কিস্তির সব টাকা নিয়ে গেছে।)

রংপুরের পীরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নের বড় করিমপুর কসবা গ্রামে রোববার রাতে বিভীষিকাময় পরিস্থিতির কথা জানাচ্ছিলেন সুবালা রানী। তিনি থাকেন গ্রামের হিন্দু অধ্যুষিত উত্তরপাড়ায়। রোববার রাতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চলা হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এলাকাটি। এই গ্রামের দক্ষিণপাড়াটি অবশ্য রক্ষা পেয়েছে পুলিশি প্রতিরোধের কারণে।

লুটপাট, আগুনে নিঃস্ব পীরগঞ্জের হিন্দুপাড়া

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) বিপ্লব কুমার সরকার নিউজবাংলাকে জানান, হামলায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে অভিযান শুরু করা হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টা পর্যন্ত আটক হয়েছে ৪০ জন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গ্রামের উত্তরপাড়ার অন্তত ২৩ বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন দেয়া হয়েছে। অনেক বাড়ির সামনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ভাঙা আসবাব, লোকজনের চোখে-মুখে আতঙ্ক আর ক্ষোভ। চারদিকে পোড়া গন্ধ আর বিলাপ।

গ্রামজুড়ে টহল দিচ্ছে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি। নিরাপত্তা তদারকিতে আছেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) বিপ্লব কুমার সরকার।

লুটপাট, আগুনে নিঃস্ব পীরগঞ্জের হিন্দুপাড়া

ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির সামনে শূন্য দৃষ্টিতে বসে থাকা নন্দ রানী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গাড়ি পুড়ি ফেলাইছে, গরু নিয়ে গেছে, চাউল-ডাউল, ট্যাকা-পয়সা সব নিয়ে গেছে, সোনা আছলো এক ভরি- তাকো নিয়ে গেছে। হামরা এখন কী করি খামো বাবা, কী করি খামো।’

ক্ষতিগ্রস্ত আরেক বাড়ির কিরোন বালা বলেন, ‘এই দ্যাশোত থাকার চাইয়ে মরি যাওয়াই ভালো। ভয়ে রাইতোত পালাইয়ে ছিলাম। পরে পুলিশ আসি কয় তোমরা পলাইচেন ক্যান। আইজ আইচচি, আসি দেখি কিচ্চু নাই। সোনা বানা সোহ নিচে।’

(এই দেশে থাকার চেয়ে মরাই ভালো। ভয়ে রাতে পালায় ছিলাম। পরে পুলিশ এসে বলে তোমরা পালাও কেন। এখন এসেছি, দেখি কিছু নাই। সোনা-দানা নিয়ে গেছে।)

বিকাল বাবু নামের একজন জানান, হামলাকারীরা বাড়িঘরে আগুন দিতে শুরু করলে তিনি শিশুসন্তানকে নিয়ে পাশের ক্ষেতে লুকিয়ে ছিলেন।

লুটপাট, আগুনে নিঃস্ব পীরগঞ্জের হিন্দুপাড়া

তিনি বলেন, ‘যেলা আগুন নাগি দিচে, তখন আমি বাচ্চাক নিয়ে ঘাস বাড়ি যায়া নুকাইচিনুং। বাড়ির সোগ টাকা-পইসে নিচে, এখন ছৈলক বিস্কুট কাওয়ামো তার টাকা-পয়সা নাই।’

(যখন আগুন দেয়, তখন আমি বাচ্চা নিয়ে ঘাসের জমিতে লুকিয়ে ছিলাম। বাড়ির সব টাকা-পয়সা নিয়ে গেছে। বাচ্চাকে বিস্কুট কিনে খাওয়ানোর মতো টাকাও নেই।)

এসপি ও গ্রামবাসী জানায়, গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় হিন্দু ধর্মাবলম্বী ১৫ বছরের এক কিশোর রোববার বিকেলে ফেসবুকে কোনো একটি পোস্টে আপত্তিকর একটি কমেন্ট করে।

মুহূর্তে এর স্ক্রিনশট আশপাশের গ্রামের মুসল্লিদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে একদল লোক ওই কিশোরের গ্রামে উপস্থিত হয়।

লুটপাট, আগুনে নিঃস্ব পীরগঞ্জের হিন্দুপাড়া

পুলিশ জানায়, তারা খবর পাওয়ামাত্র সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ লোকজনকে বুঝিয়ে ফেরত পাঠায়। তবে এর দুই ঘণ্টা পর শুরু হয় আকস্মিক হামলা।

গ্রামবাসী জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে কয়েক শ লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে দক্ষিণপাড়া থেকে কিছুটা দূরে ক্ষেতের ওপারে স্থানীয় মসজিদে জড়ো হয়। পরে রাশেদ নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে তারা গ্রামের উত্তরপাড়ায় প্রবেশ করে ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করে।

হামলাকারীরা বাড়িঘরে ভাঙচুর ও আগুন দিতে থাকে। দুটি মন্দিরও ভাঙচুর করা হয়। লুট করা হয় স্বর্ণালংকার, টাকাসহ দরিদ্র পরিবারের নানা জিনিসপত্র। রাত ১১টা পর্যন্ত চলে এ অবস্থা। ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট গিয়ে আগুন নেভায়।

লুটপাট, আগুনে নিঃস্ব পীরগঞ্জের হিন্দুপাড়া

ক্ষতিগ্রস্তরা বলছেন, গায়ের কাপড় ছাড়া তাদের আর কিছু অক্ষত নেই। ওই পাড়ার অর্ধশত পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের অনেকে আছে খোলা আকাশের নিচে।

নারায়ণ চন্দ্র নামের একজন বলেন, ‘আমি বইনের (বোন) বাড়িতে আসছি। রাইতে খেয়ে বসে আছি। হুনতেছি (শুনছি) ওই গ্রামে একজন ফেসবুকে কী লিখছে, পুলিশ আসছে। আমরা শুনতেছি। এর কিছুক্ষণ পর হৈ দিয়ে মানুষ আসলো। ভাঙচুর আর আগুন দেয়া শুরু করল। ভয়ে ভাগনেকে নিয়ে পালায়ে গেছি। পরে ওমরা (হামলাকারীরা) যাবার পর বাড়ি আসি।’

লুটপাট, আগুনে নিঃস্ব পীরগঞ্জের হিন্দুপাড়া

পুলিশ মোতায়েনের পরও কীভাবে এত বড় হামলা হলো জানতে চাইলে এসপি বিপ্লব কুমার সরকার নিউজবাংলাকে জানান, যে কিশোরকে ঘিরে ঘটনার শুরু, তার বাড়ি গ্রামের দক্ষিণপাড়ায়। সন্ধ্যার পর থেকে মূলত ওই পাড়ায়ই থানা পুলিশ মোতায়েন ছিল।

এসপি বলেন, ‘সন্ধ্যা থেকেই ওই কিশোরের বাড়ির আশপাশে থানা পুলিশের সদস্যরা মোতায়েন ছিলেন। সেখানে পুলিশ ক্ষুব্ধ মানুষজনকে বোঝাতে চেষ্টা করে। ওই কিশোরকে আইনের আওতায় আনা হবে বলা হলে তারা শান্ত হয়ে চলে যায়। সে সময় পুলিশ দক্ষিণপাড়ায় অবস্থান করছিল।

‘তবে রাতে উত্তরপাড়ায় হাজার হাজার মানুষ উগ্রবাদী স্টাইলে হামলা চালায়। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ সময় হামলাকারীদের রাবার বুলেট ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চলে।’

লুটপাট, আগুনে নিঃস্ব পীরগঞ্জের হিন্দুপাড়া

এসপি বিপ্লব আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে অনেক তথ্য এসেছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই করছি। যাদের আটক করেছি, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। খুঁজে খুঁজে অন্য হামলাকারীদের বের করা হচ্ছে। যারাই এই ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে।’

ফেসবুকে আপত্তিকর কমেন্ট করা কিশোরকেও পুলিশ খুঁজছে জানিয়ে তিনি বলেন, ওই কিশোরকেও আইনের আওতায় আনা হবে।

সোমবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান বিভাগীয় কমিশনার আবাদুল ওয়াহাব ভুঞা, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য, জেলা প্রশাসক আসিব আহসানসহ প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন তারা।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে খাবার ও পোশাক বিতরণ করা হয়েছে।

লুটপাট, আগুনে নিঃস্ব পীরগঞ্জের হিন্দুপাড়া

এই হামলার প্রতিবাদে রোববার রাতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রলীগ। এর নেতৃত্বে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি তুষার কিবরিয়া। মিছিলে বক্তারা ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

আরও পড়ুন:
সীমান্ত সংঘাতে নিয়ে বৈঠকে চীন-ভার‍ত
সেনাদের বীরত্ব নিয়ে প্রশ্ন, চীনে ব্লগার গ্রেপ্তার
লাদাখ থেকে সেনা সরাচ্ছে ভারত-চীন
ভারতের ৪ কিলোমিটার ভেতরে চীনের গ্রাম

শেয়ার করুন

টাকা চুরি দেখে ফেলায় শিশুকে ‘হত্যা’

টাকা চুরি দেখে ফেলায় শিশুকে ‘হত্যা’

সাভারের আশুলিয়া থানার সামনে নিহতের বড় বোন রুবিনা বেগম ভাইয়ের শোকে স্তব্ধ। ছবি: নিউজবাংলা

নিহত ফেরদৌসের বড় বোন রুবিনা বেগম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার বাবা আশুলিয়া ক্ল্যাসিক পরিবহনের চালক। ছোট ভাই ফেরদৌসকে তিন দিন আগে ওই পরিবহনে কাজে পাঠায়। বাসের হেলপার আর কন্ডাক্টর আমার ভাইকে হত্যা করে মরদেহ রাস্তায় ফেলে রাখে। পরে ভোর রাতে তারাই পুলিশকে খবর দিয়ে আনে।’

ঘুমিয়ে থাকা বাস কন্ট্রাকটরের পকেট থেকে হেল্পারের টাকা চুরি দেখে ফেলায় বাসটির চালকের শিশু ছেলেকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

সাভারের আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকা থেকে সোমবার ভোরের দিকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে শিশুটিকে হত্যা করা হয়, রোববার ১২টার দিকে।

বিষয়টি সোমবার সকাল ১০টার দিকে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করে আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সামিউল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় বাসের ওই কন্ট্রাকটরকে আটক করা হয়েছে। আর পলাতক হেল্পারকে আটকে অভিযান চলছে।

নিহত ১১ বছর বয়সী মো. ফেরদৌস ‘আশুলিয়া ক্ল্যাসিক’ পরিবহনে কাজ করত। সে শেরপুর জেলার সদর থানার মুন্সিপাড়া গ্রামের বাসচালক রইচ উদ্দিনের ছেলে। পরিবারের সঙ্গে থাকত আশুলিয়ার পল্লী বিদ্যুৎ বালুর মাঠ এলাকায়।

এ ঘটনায় আটক ২০ বছর বয়সী মো. হৃদয় ‘আশুলিয়া ক্ল্যাসিক’ পরিবহনের কন্ডাক্টর ছিলেন।

নিহত ফেরদৌসের বড় বোন রুবিনা বেগম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার বাবা আশুলিয়া ক্ল্যাসিক পরিবহনের চালক। ছোট ভাই ফেরদৌসকে তিন দিন আগে ওই পরিবহনে কাজে পাঠায়। বাসের হেলপার আর কন্ডাক্টর আমার ভাইকে হত্যা করে মরদেহ রাস্তায় ফেলে রাখে। পরে ভোর রাতে তারাই পুলিশকে খবর দিয়ে আনে।’

আটক হৃদয়ের বরাতে পুলিশ জানায়, রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর থেকে রাত ১২টার দিকে ‘আশুলিয়া ক্ল্যাসিক’ বাসটি বাইপাইল পৌঁছায়। বাসের মধ্যে কন্ডাক্টর হৃদয় ও হেলপার পারভেজ ঘুমিয়ে পড়েন। এ সময় পারভেজকে হৃদয়ের পকেট থেকে টাকা চুরির ঘটনা দেখে ফেলে ফেরদৌস।

এসআই সামিউল ইসলাম বলেন, পরে ঘুম ভাঙলে পকেট থেকে ৫০০ টাকা খোয়া যাওয়ার বিষয়টি টের পান হৃদয়। এ নিয়ে তিন জনের মধ্যে কথাকাটাকাটির জেরে পারভেজকে টাকা চুরি করতে দেখে ফেলের কথা জানায় ফেরদৌস। একপর্যায়ে পারভেজকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন হৃদয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পারভেজ ফেরদৌসকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

পারভেজ ও হৃদয় মিলে নিহত ফেরদৌসের মরদেহ সড়কে ফেলে রেখে সাভার হাইওয়ে পুলিশকে দুর্ঘটনার খবর দেন বলে জানায় পুলিশ।

পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

দুর্ঘটনায় নিহতের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন না পাওয়ায় বিষয়টি আশুলিয়া থানা পুলিশকে অবহিত করে সাভার হাইওয়ে পুলিশ। এ সময় হৃদয়কে আটক করা গেলেও পারভেজ পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আরও পড়ুন:
সীমান্ত সংঘাতে নিয়ে বৈঠকে চীন-ভার‍ত
সেনাদের বীরত্ব নিয়ে প্রশ্ন, চীনে ব্লগার গ্রেপ্তার
লাদাখ থেকে সেনা সরাচ্ছে ভারত-চীন
ভারতের ৪ কিলোমিটার ভেতরে চীনের গ্রাম

শেয়ার করুন

ইভ্যালির ভাগ্য নির্ধারণে বিচারপতি মানিকের নেতৃত্বে কমিটি

ইভ্যালির ভাগ্য নির্ধারণে বিচারপতি মানিকের নেতৃত্বে কমিটি

ইভ্যালির অবসায়ন সংক্রান্ত বিশেষ একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছে হাইকোর্ট। ছবি: নিউজবাংলা

আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ভাগ্য নির্ধারণে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে দিয়েছে হাইকোর্ট। এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে।

বিচারপতি খুরশীদ আলম সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেয়।

বিস্তারিত আসছে…

আরও পড়ুন:
সীমান্ত সংঘাতে নিয়ে বৈঠকে চীন-ভার‍ত
সেনাদের বীরত্ব নিয়ে প্রশ্ন, চীনে ব্লগার গ্রেপ্তার
লাদাখ থেকে সেনা সরাচ্ছে ভারত-চীন
ভারতের ৪ কিলোমিটার ভেতরে চীনের গ্রাম

শেয়ার করুন

সরকারি সফরে দক্ষিণ কোরিয়ায় সেনাপ্রধান

সরকারি সফরে দক্ষিণ কোরিয়ায় সেনাপ্রধান

সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের চিফ অব স্টাফ জেনারেল ন্যাম ইয়ং শিনের আমন্ত্রণে সিউলে অনুষ্ঠেয় ইন্টারন্যাশনাল এরোস্পেস অ্যান্ড ডিফেন্স এক্সিবিশন-২০২১-এ অংশগ্রহণ করবেন সেনাপ্রধান।

সরকারি সফরে দক্ষিণ কোরিয়া গেছেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

দেশটির উদ্দেশে তিনি রোববার রাতে ঢাকা ত্যাগ করেছেন।

কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের চিফ অব স্টাফ জেনারেল ন্যাম ইয়ং শিনের আমন্ত্রণে সিউলে অনুষ্ঠেয় ইন্টারন্যাশনাল এরোস্পেস অ্যান্ড ডিফেন্স এক্সিবিশন-২০২১-এ অংশগ্রহণ করবেন সেনাপ্রধান।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ০৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন সেনাপ্রধান জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ। সফরকালে দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী, জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ, সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনী প্রধান এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তিনি।

সাক্ষাৎকালে তিনি দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করবেন। সফর শেষে আগামী ২৩ অক্টোবর সেনাপ্রধান দেশে ফিরবেন।

আরও পড়ুন:
সীমান্ত সংঘাতে নিয়ে বৈঠকে চীন-ভার‍ত
সেনাদের বীরত্ব নিয়ে প্রশ্ন, চীনে ব্লগার গ্রেপ্তার
লাদাখ থেকে সেনা সরাচ্ছে ভারত-চীন
ভারতের ৪ কিলোমিটার ভেতরে চীনের গ্রাম

শেয়ার করুন

শেখ রাসেলকে নিয়ে সংকলিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

শেখ রাসেলকে নিয়ে সংকলিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

‘শেখ রাসেল: শৈশবে ঝরে যাওয়া ফুল’ বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বইটি সম্পদনা করেছেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত। ছবি: টিভি ফুটেজ থেকে নেয়া

‘শেখ রাসেল: শৈশবে ঝরে যাওয়া ফুল’ বইয়ের সম্পাদক ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত লিখেছেন, ‘খুবই সংক্ষিপ্ত জীবন ছিল শেখ রাসেলের। তাকে নিয়ে তেমন কোনো লেখা বা তার জীবনযাপনের বিষয় নিয়ে কোনো তথ্যভিত্তিক বিশদ বর্ণনা পাওয়া যায় না। ছোট ভাই রাসেলকে নিয়ে সবচেয়ে তথ্যবহুল লেখাটি লিখেছেন তার বড় বোন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাসেলকে নিয়ে সেই স্মৃতিমধুর লেখায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হৃদয় খুঁড়ে খুঁটিনাটি বহু প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন।’

বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ সন্তান শেখ রাসেলকে নিয়ে সংকলিত দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রথম শেখ রাসেল দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ‘শেখ রাসেল: শৈশবে ঝরে যাওয়া ফুল’ ও ‘শেখ রাসেল: দীপ্ত জয়োল্লাস, অদম্য আত্মবিশ্বাস’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন তিনি।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের যৌথ এ আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক।

বিশেষ অতিথি ছিলেন শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান মো. রকিবুর রহমান, সংগঠনের উপদেষ্টা ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত, তরফদার মো. রুহুল আমিন ও মো. সিরাজুল ইসলাম মোল্লা।

‘শেখ রাসেল: শৈশবে ঝরে যাওয়া ফুল’ বইটির প্রধান উপদেষ্টা যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল। বইটি সম্পাদনা করেছেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত। আর বইটির উপদেষ্টা সম্পাদক বাংলাদেশ রোলার স্কেটিং ফেডারেশনের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ।

জয়ীতা প্রকাশনী থেকে বের হওয়া বই দুটির প্রকাশক ইয়াসিন কবীর জয়। প্রচ্ছদ ও গ্রন্থ পরিকল্পনা করেছেন শাহরিয়ার খান বর্ণ।

‘শেখ রাসেল: শৈশবে ঝরে যাওয়া ফুল’ বইয়ের সম্পাদক ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত লিখেছেন, ‘খুবই সংক্ষিপ্ত জীবন ছিল শেখ রাসেলের। তাকে নিয়ে তেমন কোনো লেখা বা তার জীবনযাপনের বিষয় নিয়ে কোনো তথ্যভিত্তিক বিশদ বর্ণনা পাওয়া যায় না। ছোট ভাই রাসেলকে নিয়ে সবচেয়ে তথ্যবহুল লেখাটি লিখেছেন তার বড় বোন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাসেলকে নিয়ে সেই স্মৃতিমধুর লেখায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হৃদয় খুঁড়ে খুঁটিনাটি বহু প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন।’

চৌধুরী নাফিজ সরাফাত আরও লিখেছেন, ‘শেখ রাসেলকে নিয়ে আরও একটি নিবিড় মমতামাখা রচনা থাকছে বোন শেখ রেহানার। শেখ রেহানা সে সময় বড় বোনের সঙ্গে জার্মানিতে ছিলেন। রাসেলেরও জার্মানিতে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সে সময় তার অসুখ করায় মা যেতে দিতে রাজি হননি। আহা, সে যদি সেদিন চলে যেত বোনদের সঙ্গে।’

বইটিতে শেখ রাসেলকে নিয়ে বিশিষ্ট কথাশিল্পী, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের কয়েকটি লেখাও সংকলিত হয়েছে বলে সম্পাদকীয়তে লিখেছেন ড. নাফিজ সরাফাত। তিনি লিখেছেন, ‘এই লেখাগুলোতে শিশু হত্যার বেদনা ও ঘাতকদের প্রতি ঘৃণাই প্রকাশিত হয়েছে। আর আছে সেই আক্ষেপ, আজ তিনি বেঁচে থাকলে হয়তো দেশ, জাতি ও সমগ্র মানবসমাজের জন্যই অনেক তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখতে পারতেন।’

শেখ রাসেলকে নিয়ে সংকলিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

‘শেখ রাসেল: দীপ্ত জয়োল্লাস, অদম্য আত্মবিশ্বাস’ বইটির সম্পাদনা করেছেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক। বইটির উপদেষ্টা সম্পাদক কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

১৯৬৪ সালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে জন্ম নেন বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ সন্তান শেখ রাসেল। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় ছোট শিশুটিকেও। ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র রাসেলের বয়স তখন ছিল মাত্র ১০ বছর।

নির্মম সেই হত্যাকাণ্ডের ৪৬ বছর পর চলতি বছরের ২৩ আগস্ট মন্ত্রিসভা বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে শেখ রাসেলের জন্মদিনকে জাতীয় দিবসের স্বীকৃতি দেয়া হয়। মন্ত্রিসভা বৈঠকে ১৮ অক্টোবর শেখ রাসেলের জন্মদিনটি ‘শেখ রাসেল দিবস’ হিসেবে জাতীয়ভাবে পালনের অনুমোদন পায়।

দিনটি ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত করে জাতীয়ভাবে পালন করার নির্দেশ দেয়া হয় মন্ত্রিসভা থেকে। দিবসটি জাতীয়ভাবে পালনের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক।

সে হিসেবে এবারই প্রথম দিনটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
সীমান্ত সংঘাতে নিয়ে বৈঠকে চীন-ভার‍ত
সেনাদের বীরত্ব নিয়ে প্রশ্ন, চীনে ব্লগার গ্রেপ্তার
লাদাখ থেকে সেনা সরাচ্ছে ভারত-চীন
ভারতের ৪ কিলোমিটার ভেতরে চীনের গ্রাম

শেয়ার করুন