জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য

প্রশাসনে ২ লাখ কর্মী ঢোকানোর পরিকল্পনায় জামায়াত

প্রশাসনে ২ লাখ কর্মী ঢোকানোর পরিকল্পনায় জামায়াত

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তারের পর দুই দফা রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু তথ্য পেয়েছে ডিএমপির ডিবি। ফাইল ছবি

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে নিজেদের লোকজন ঢোকাতে অভিনব পন্থা নিয়েছে জামায়াত। এ জন্য বিশেষভাবে টার্গেট করা হয়েছে ছাত্রলীগকে। নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় আড়াল করে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী বনে যাচ্ছেন শিবিরের নেতা-কর্মীরা।

দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দল প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ ২০৪১ সালকে সামনে রেখে প্রশাসনের ২৫টি সেক্টরে অন্তত দুই লাখ কর্মী ঢোকানোর লক্ষ্য নিয়েছে তারা। আর তা বাস্তবায়নে তৎপর সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব।

পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে নিজ কর্মীদের অনুপ্রবেশ ঘটাচ্ছে জামায়াত।

একই সঙ্গে দেশ ও প্রবাসে থাকা জামায়াত-শিবির কর্মীদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে শক্তিশালী সাইবার টিম। এ টিম রাজনৈতিক গুজব ছড়ানোসহ সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা চালাচ্ছে। রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এসব তৎপরতা চালাচ্ছে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত দলটি।

সম্প্রতি জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তারের পর দুই দফা রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পেয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসায় গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকিরা হলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও হামিদুর রহমান আযাদ, দলের নির্বাহী সদস্য ও ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত, নির্বাহী সদস্য আব্দুর রউফ, মনিরুল ইসলাম, কোরবান আলী, ইজ্জত আলী ও মোবারক হোসেন।

ডিবির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতের স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থান ছিল। সেই অবস্থান এখনও রয়েছে। রাষ্ট্রকে অকার্যকর করার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা করছে দলটি।

তারা জানান, অতীতের মতো জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা যাতে আর রাস্তায় নেমে জানমালের ক্ষতি করতে না পারে, সে জন্য পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িতদের একটি তালিকা করেছে গোয়েন্দারা। এসব নেতা-কর্মীর গতিবিধি নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

ডিএমপি ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জামায়াত তাদের নেতা-কর্মীদের দিয়ে বিভিন্ন সংগঠন করাচ্ছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বানাচ্ছে। আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য দল ও ইউনিটে নিজেদের কর্মী ঢুকাচ্ছে।

‘দেশে-বিদেশে কর্মীদের দিয়ে সাইবার টিম গঠন করে সরকারবিরোধী অপপ্রচার করছে। এগুলোর সবই তাদের মহাপরিকল্পনার অংশ।’

পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিদেশ থেকে প্রচুর অর্থ আসছে বলে জানান ডিবির এ কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় জামায়াত-শিবিরের অনেক নেতা-কর্মী দেশের বাইরে গেছে। তাদের কাছ থেকে এখন সুবিধা পাচ্ছে জামায়াত। বিভিন্ন এনজিওর নামে জামায়াতের ফান্ডে টাকা আসছে। এসব আর্থিক লেনদেনও খতিয়ে দেখা হবে।’

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরগুলোতে নিজেদের লোক ঢোকাতে অভিনব পন্থা নিয়েছে জামায়াত। এ জন্য বিশেষভাবে টার্গেট করা হয়েছে ছাত্রলীগকে। নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় আড়াল করে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী বনে যাচ্ছেন শিবিরের নেতা-কর্মীরা।

জামায়াত নেতাদের গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে কয়েকটি ল্যাপটপ ও অন্যান্য নথি উদ্ধার করে ডিবি। সেগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, জামায়াত তাদের নিয়ন্ত্রিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ানোয় মনোযোগ দিয়েছে। তরুণদের টার্গেট করে সেখানে চাকরি দেয়া হচ্ছে। পরে বানানো হচ্ছে কর্মী।

আরও পড়ুন:
সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর পুলিশ হত্যা: ৯৫ জনের বিচার শুরু
জামায়াতের সেক্রেটারিসহ ৭ জন রিমান্ড শেষে কারাগারে
বাবুর্চিসহ রিমান্ডে জামায়াত নেতা শামসুল
জামায়াতকে স্বাধীনতাবিরোধী বলায় আদালতে মারমুখী আচরণ
জামায়াতের সেক্রেটারিসহ ৯ জন রিমান্ডে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিএনপির শতাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ

বিএনপির শতাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ

বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আজকে আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ হামলা চালায়, গুলি করে। পুলিশ শতাধিক নেতা-কর্মীকে আটক করেছেন। এখনও বিভিন্ন স্থান থেকে আটকের খবর পাওয়া যাচ্ছে।’

নয়াপল্টননে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় শতাধিক নেতা কর্মীকে আটকের অভিযোগ করেছেন নেতারা।

মঙ্গলবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ হামলা চালায়, গুলি করে। পুলিশ শতাধিক নেতা-কর্মীকে আটক করেছেন। এখনও বিভিন্ন স্থান থেকে আটকের খবর পাওয়া যাচ্ছে।’

রিজভী কয়েকজনের নামও উল্লেখ করেন। এরা হলেন, কৃষক দল নেতা শাখাওয়াত হোসেন নান্নু; তাঁতী দলের নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখারর নেতা এ আর বি মামুন, আবদুর রেজ্জাক, ঢাকার যুবদল নেতা মোঃ ফরিদ, চায়না সুমন, মো. জসিম, রেজাউল ইসলাম প্রিন্স, মহানগর বিএনপি নেতা মো. তুহিন, মো. সুমন, মো. রাসেল, মো. রাকিব, বদরুল, জুয়েল, মো. শুক্কুর, মুতাছিন বিল্লাহ, ছাত্রদল নেতা জেহাদুল রঞ্জু, আবু সুফিয়ান, আবু হান্নান তালুকদার, জাসাস নেতা আবদুল কাইয়ুম, জসিম উদ্দিন প্রমুখ।

বিএনপির মুখপাত্রের দাবি, পুলিশের গুলি ও লাঠিপেটায় গুরুতর আহত হয়েছেন, যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক গোলাম মাওলা শাহীন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি এস এম জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামসহ অন্তত ১৫ জন।

রিজভী বলেন, ‘গুরুতর আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।’

অবিলম্বে আটকদের নিঃশর্ত মুক্তি দেয়ার জোর দাবিও জানান তিনি।

যেভাবে সংঘর্ষ

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে নয়াপল্টনে মঙ্গলবার প্রতিবাদ মিছিলে নামা বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে বেলা পৌনে ১২টার দিকে মিছিল শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। এ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নেতা-কর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছুড়তে দেখা যায়। নেতা-কর্মীরাও পুলিশকে উদ্দেশ করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন।

পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দীন মিয়া বলেন, ‘পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩০-৩৫ জনকে আমরা আটক করেছি। যারা আটক আছেন যাচাই বাছাই করে সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়ে মামলার পর তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হবে।’

আরও পড়ুন:
সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর পুলিশ হত্যা: ৯৫ জনের বিচার শুরু
জামায়াতের সেক্রেটারিসহ ৭ জন রিমান্ড শেষে কারাগারে
বাবুর্চিসহ রিমান্ডে জামায়াত নেতা শামসুল
জামায়াতকে স্বাধীনতাবিরোধী বলায় আদালতে মারমুখী আচরণ
জামায়াতের সেক্রেটারিসহ ৯ জন রিমান্ডে

শেয়ার করুন

‘যে কোনো সময়’ আন্দোলনের ডাক বিএনপির

‘যে কোনো সময়’ আন্দোলনের ডাক বিএনপির

রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি নেতা-কর্মীরা। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

“সময় সুযোগ পাবেন না, আপনারা প্রস্তুত থাকুন, যে কোনো সময় আন্দোলনের ডাক আসবে, আজকের মত সবাইকে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। আমাদের দাবি, ‘এক দফা এক দাবি, শেখ হাসিনা এখন যাবি’৷”

যে কোনো সময় সরকার পতনের ডাক আসতে পারে বলে নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত থাকতে বলেছেন বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা। তারা মনে করেন, আন্দোলন ছাড়া তাদের দাবি অর্জন করা সম্ভব নয়।

মঙ্গলবার নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জমায়েতে এই পরামর্শ দেন দলের নেতারা। একাদশ সংসদ নির্বাচন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অংশ নিলেও আগামী নির্বাচনে আর সেটি হবে না বলে জানিয়ে দেন তিনি।

দুর্গাপূজার মহাষ্টমীর দিন কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে কোরআন শরিফ রেখে ইসলাম অবমাননার অভিযোগ তুলে সারা দেশে বিভিন্ন মণ্ডপ, মন্দির, বাড়িঘরে হামলার প্রতিবাদ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের প্রতিবাদে বিএনপির পক্ষ থেকে এই জমায়েত করা হয়।

তবে এর কোনো পূর্ব ঘোষণা ছিল না। হঠাৎ করেই দলের নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়ে যায়। শুরুতে পুলিশেরও কোনো প্রস্তুতি ছিল না।

সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশারফ হোসেন বলেন, ‘আমরা এ সরকারের অধীনে নির্বাচন যাব না। আন্দোলনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায় করে নির্বাচনের বাধ্য করব।

‘এ সরকার ক্ষমতায় থাকলে নেত্রীকে মুক্ত করা যাবে না, আমাদের নেতা তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা যাবে না। তাই এ সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে।’

আন্দোলনের ডাক হঠাৎ করেই আসবে বলে জানান স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, “সময় সুযোগ পাবেন না, আপনারা প্রস্তুত থাকুন, যে কোনো সময় আন্দোলনের ডাক আসবে, আজকের মত সবাইকে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। আমাদের দাবি, ‘এক দফা এক দাবি, শেখ হাসিনা এখন যাবি’৷”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘জনগণের ক্ষমতা জনগণকে ফিরিয়ে দিন, এছাড়া আপনাদের আর কোনো পথ নেই।’

আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া বিএনপির বিকল্প নেতা বলে মনে করেন তিনিও। বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তির একমাত্র পথ আন্দোলন সংগ্রাম, এছাড়া আর কোনো পথ নেই৷ এটাই একমাত্র পথ।’

সরকারকে উদ্দেশ করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘আপনাদের এ খেলা বন্ধ করেন, জনগণের ক্ষমতা জনগণকে ফিরিয়ে দিন, এছাড়া আপনাদের আর কোনো পথ নেই।’

‘সাম্প্রদায়িক হামলায় সরকার নিজেই’

হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর যে হামলা হয়েছে, তাতে হামলায় সরকার নিজেই জড়িত দাবি করেন বিএনপির নেতারা।

গয়েশ্বর বলেন, ‘সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশকে পৃথিবীর সামনে অপমান করছে। আর গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে।’

এই ঘটনায় বিএনপির যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদেরকে সন্ধ্যার মধ্যে মুক্তি দেয়ার দাবি জানান তিনি। বলেন, ‘না দিলে লড়াইটা জনগণের সঙ্গে পুলিশের হবে। আমি বলব, পুলিশের দায়িত্ব পুলিশ পালন করবে। আপনাদের সঙ্গে আমাদের কোনো সংঘাত নাই, পায়ে পাড়া দিয়ে সংঘাত করবেন না।’

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করে, যারা জোর করে জনগণকে বাহিরে রেখে ক্ষমতা দখল করে, গণতন্ত্রকে হত্যা করে তাদের একমাত্র পথ, তারা এ ধরনের কাজ করে।

‘এরশাদের যখন পতন হয়েছে তখনও মন্দিরে হামলা হয়েছে, তখনও এরশাদের ক্ষমতা টিকেনি। এবারও মন্দিরে হামলা করে গদি টেকানো যাবে না।’

সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, আহমেদ আযম খান, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীও এতে বক্তব্য রাখেন।

বিএনপির পাশাপাশি সহযোগী সংগঠনের মধ্যে যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কৃষক দল সভাপতি হাসান জাফির তুহিন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলও জমায়েতে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর পুলিশ হত্যা: ৯৫ জনের বিচার শুরু
জামায়াতের সেক্রেটারিসহ ৭ জন রিমান্ড শেষে কারাগারে
বাবুর্চিসহ রিমান্ডে জামায়াত নেতা শামসুল
জামায়াতকে স্বাধীনতাবিরোধী বলায় আদালতে মারমুখী আচরণ
জামায়াতের সেক্রেটারিসহ ৯ জন রিমান্ডে

শেয়ার করুন

রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে অনুমতি নেবেন না নুর

রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে অনুমতি নেবেন না নুর

গণ অধিকার পরিষদ নামে নতুন রাজনৈতিক দলের ঘোষণা অনুষ্ঠানে নুরুল হক নুরসহ অন্যরা। ছবি: নিউজবাংলা

নুরুল হক নুর বলেন, ‘আমরা আজকের এ অনুষ্ঠান সুশৃঙ্খলভাবে করতে চেয়েছিলাম। যার কারণে ছোট পরিসরে আমরা এটি করছি। কিন্তু রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য তো আমরা কারও কাছে অনুমতি নিতে যাব না। রাজনৈতিক কর্মসূচির অধিকার এদেশের সংবিধান দিয়েছে।’

দল ঘোষণা করেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ- ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেছেন, রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য তারা কারও কাছে অনুমতি নিতে যাবেন না।

মঙ্গলবার দুপুরে পুরানা পল্টনে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কার্যালয়ে নতুন রাজনৈতিক দল গণ অধিকার পরিষদের ঘোষণা করে নূর এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা আজকের এ অনুষ্ঠান সুশৃঙ্খলভাবে করতে চেয়েছিলাম। যার কারণে ছোট পরিসরে আমরা এটি করছি। কিন্তু রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য তো আমরা কারও কাছে অনুমতি নিতে যাব না। রাজনৈতিক কর্মসূচির অধিকার এদেশের সংবিধান দিয়েছে।’

দল ঘোষণার জন্য লক্ষাধিক মানুষের জমায়েত করতে চেয়ে পুলিশ প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেন নূর।

নুরুল হক নূর বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য আমরা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আমরা জায়গা চেয়েছিলাম, কিন্তু পাইনি। যার কারণে এখানে ছোট পরিসরে করতে হচ্ছে। আমরা আর কাউকে এজন্য বলিনি।

‘সভা-সমাবেশ করার অধিকার দেশের সংবিধান দিয়েছে, তবে আমরা অনুমতি চেয়ে পুলিশের কাছে পাইনি। আমরা বাইরে একটা সমাবেশ করতে চেয়েছিলাম। যেখানে লক্ষাধিক লোকের সমাগম হবে। আইন-শৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তার জন্য আমরা বলেছিলাম।’

ডাকসুর সাবেক এই ভিপি বলেন, ‘জাফরুল্লাহ স্যারসহ কিছু বিদেশি মেহমান থাকত, তাদের নিরাপত্তা চেয়েছিলাম। সেটা তারা সহযোগিতা করেননি। সেজন্য আমরা অল্প পরিসরে অনুষ্ঠান করছি। কিন্তু আন্দোলন সংগ্রাম করার জন্য কারও কাছে আমরা অনুমতি নেব না।

নুর বলেন, ‘আমরা উত্থান দেখিয়েছি কোটা সংস্কার আন্দোলনে। ছাত্র সমাজের সঙ্গে কিন্তু আমরা বেইমানি করি নাই। দাবি কিন্তু আদায় করেছি। তাই আশা করছি সামনের দিনগুলোতে শুধু ছাত্র সমাজ নয়, নানা পেশার মানুষ এখানে আছে, তাদের মাধ্যমেই আগামী দিনে মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করতে পারব।’

অন্য দলের সঙ্গে জোট গঠন প্রসঙ্গে নূর বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধান ও আইন মেনে যারা রাজনীতি করতে পারে, বর্তমান সংকটে যারা রাজনীতির মাঠে লড়াই সংগ্রাম করতে প্রস্তুত, তাদের সঙ্গে নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবিতে জোটগত আন্দোলন হতে পারে। কারণ এই দায়িত্ব আমাদের একার না, আর আমরা একা পারব না। সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।’

আরও পড়ুন:
সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর পুলিশ হত্যা: ৯৫ জনের বিচার শুরু
জামায়াতের সেক্রেটারিসহ ৭ জন রিমান্ড শেষে কারাগারে
বাবুর্চিসহ রিমান্ডে জামায়াত নেতা শামসুল
জামায়াতকে স্বাধীনতাবিরোধী বলায় আদালতে মারমুখী আচরণ
জামায়াতের সেক্রেটারিসহ ৯ জন রিমান্ডে

শেয়ার করুন

‘বিএনপি নেতাদের মিথ্যাচার গোয়েবলসকেও হার মানায়’

‘বিএনপি নেতাদের মিথ্যাচার গোয়েবলসকেও হার মানায়’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নিয়ে বিএনপির সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি নেতাদের মিথ্যাচার গোয়েবলসকেও হার মানায়। পূজামণ্ডপে হামলার পর থেকে বিএনপি নেতারা মিথ্যাচার এবং অপপ্রচারের ফানুস উড়িয়ে যাচ্ছেন। তাদের এসব অভিযোগ কল্পনাপ্রসূত, যার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই।’

যেকোনো ইস্যুকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে বিতর্কিত করাই বিএনপির কাজ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বলেন, দলটির নেতাদের মিথ্যাচার গোয়েবলসকেও হার মানায়।

রাজধানীতে নিজ বাসভবনে মঙ্গলবার ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা।

কুমিল্লাসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপে হামলা সরকারের নীলনকশা, সরকার হামলাকারীদের বিচারের উদ্যোগ নেয়নি- বিএনপি নেতাদের এমন মন্তব্যেরও জবাব দেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতাদের মিথ্যাচার গোয়েবলসকেও হার মানায়। পূজামণ্ডপে হামলার পর থেকে বিএনপি নেতারা মিথ্যাচার এবং অপপ্রচারের ফানুস উড়িয়ে যাচ্ছেন। তাদের এসব অভিযোগ কল্পনাপ্রসূত, যার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই।’

গোয়েবলস ১৯৩৩-৪৫ সাল পর্যন্ত নাৎসি জার্মানির প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রধান ছিলেন। মিথ্যা বলা, বিদ্বেষপূর্ণ বক্তৃতা দেয়া এবং ইহুদিবিরোধী তৎপরতার জন্য কুখ্যাত ছিলেন তিনি।

কোন সরকার কি চায় দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে? আর তা করে সরকারের কি লাভ? এমন প্রশ্ন রেখে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দোষারোপের রাজনীতি যেহেতু বিএনপির আদর্শ সেহেতু সরকারের বিরুদ্ধে কিছু না কিছু বলতেই হবে। এ ধরনের কল্পিত ও অন্তসারশূন্য অভিযোগ তারই ধারাবাহিকতা।’

বিএনপি নেতারা হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য মায়াকান্না করলেও প্রকৃতপক্ষে পূজামণ্ডপে হামলার বিচার তারা চাননি বলে দাবি ওবায়দুল কাদেরের। বলেন, ‘ভিডিও ফুটেজ অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হলেও তারা বলছেন বিরোধীদের হেনস্তা করার জন্য মামলা করা হয়েছে। এটা বিএনপির ডাবল স্ট্যান্ডার্ড।’

আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এই নেতা বলেন, ‘ঘটনার পর বিএনপির পক্ষ থেকে কেউ হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ায়নি, অথচ এখন প্রায় দুই সপ্তাহ পর বিএনপির দলীয় টিম বিভিন্ন মন্দির পরিদর্শন করছেন। ঘটনার রেশ কেটে যাওয়ার পর এই লোক দেখানো পরিদর্শন দলীয়ভাবে বিএনপির দায়িত্বহীনতাকেই স্পষ্ট করছে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেছেন সরকার নাকি পুরোহিতদের বাধা দিয়েছে বিএনপির সঙ্গে কথা বলতে, এমন সৃজনশীল মিথ্যাচার বিএনপির মুখেই মানায়।’

আরও পড়ুন:
সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর পুলিশ হত্যা: ৯৫ জনের বিচার শুরু
জামায়াতের সেক্রেটারিসহ ৭ জন রিমান্ড শেষে কারাগারে
বাবুর্চিসহ রিমান্ডে জামায়াত নেতা শামসুল
জামায়াতকে স্বাধীনতাবিরোধী বলায় আদালতে মারমুখী আচরণ
জামায়াতের সেক্রেটারিসহ ৯ জন রিমান্ডে

শেয়ার করুন

আ.লীগের পতন জনগণের দাবিতে পরিণত হয়েছে: ফখরুল

আ.লীগের পতন জনগণের দাবিতে পরিণত হয়েছে: ফখরুল

মিছিলে অস্থায়ী মঞ্চে বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা

ফখরুল বলেন, ‘সংখ্যালঘুদের যে ক্ষতি হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ চাই, যারা খুন হয়েছে তার বিচার চাই। আওয়ামী লীগকে জনগণ ক্ষমতায় দেখতে চায় না। আজ আওয়ামী লীগের পতন জনগণের দাবীতে পরিণত হয়েছে।’

আওয়ামী লীগের পতন জনগণের দাবীতে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার সকালে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পিক-আপ ভ্যানে তৈরি অস্থায়ী মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি এ কথা বলেন।

দুর্গাপূজার মহাষ্টমীর দিন কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে কোরআন শরিফ রাখার ঘটনায় দেশের বেশ কিছু মণ্ডপ, মন্দির, বাড়িঘরে হামলা হয়। এসব হামলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের প্রতিবাদে মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি।

মিছিলের আগে বক্তব্যে ফখরুল বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে র‍্যালি করে প্রেস ক্লাব পর্যন্ত যাব। সকাল থেকে পুলিশ আমাদের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে। সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে জনগণের আন্দোলন থেকে দৃষ্টি সরাতে সারা দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্র করছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের মানুষ হাজার বছর এখানে একসঙ্গে বাস করছে। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তখন তারা হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবার উপর হামলা করে।’

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, ‘সরকার দেশের সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে, মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করছে, প্রশাসনকে দলীয়করণ করেছে। আমাদের সভা সমাবেশ করতে দেয় না। এসব করছে তাদের অবৈধ ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখতে।’

ফখরুল বলেন, ‘সংখ্যালঘুদের যে ক্ষতি হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ চাই, যারা খুন হয়েছে তার বিচার চাই। আওয়ামী লীগকে জনগণ ক্ষমতায় দেখতে চায় না। আজ আওয়ামী লীগের পতন জনগণের দাবীতে পরিণত হয়েছে।’

এ সময় সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের মুক্তি না দিলে পুলিশের সঙ্গে জনগণের লড়াই হবে।’

সরকার পরিকল্পিতভাবে খালেদা জিয়াকে খুন করতে চায় বলেও অভিযোগ করেন গয়েশ্বর।

বেলা ১১টায় মিছিল শুরু করার কথা থাকলেও ১০টার আগ থেকে নয়াপল্টন ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা। পুলিশের কড়া প্রহরার কারণে তারা সামনে আসতে পারেননি।

সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে কাকরাইল মোড় থেকে বড় একটি মিছিল নয়াপল্টন অভিমুখে আসলে পুলিশ কার্যালয়ের সামনে থেকে সরে যায়। পরে বিএনপি নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে আসলে কার্যালয়ের সামনে লোকারণ্য হয়ে যায়।

বিএনপি নেতাকর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে গোটা এলাকা প্রকম্পিত করে তুলে। ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই, দিতে হবে, দিয়ে দাও; লাল সবুজের পতাকায় জিয়া তোমায় দেখা যায়; জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জালো’, এমন সব স্লোগান দিতে থাকে।

নয়াপল্টনে সংক্ষিপ্ত কর্মসূচি শেষ করে কাকরাইল মোড়ের দিকে মিছিল নিয়ে গেলে বাধা দেয় পুলিশ। এ সময় পুলিশ ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়।

মিছিলে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লা আমান, দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর পুলিশ হত্যা: ৯৫ জনের বিচার শুরু
জামায়াতের সেক্রেটারিসহ ৭ জন রিমান্ড শেষে কারাগারে
বাবুর্চিসহ রিমান্ডে জামায়াত নেতা শামসুল
জামায়াতকে স্বাধীনতাবিরোধী বলায় আদালতে মারমুখী আচরণ
জামায়াতের সেক্রেটারিসহ ৯ জন রিমান্ডে

শেয়ার করুন

দল গঠন করেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবি রেজা-নুরের

দল গঠন করেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবি রেজা-নুরের

রেজা কিবরিয়া ও নুরুল হক নুরের নেতৃত্বে যাত্রা শুরু নতুন রাজনৈতিক দল ‘গণঅধিকার পরিষদ’-এর। ছবি: নিউজবাংলা

‘গণঅধিকার পরিষদ’-এর আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘আমি নির্বাচন কমিশন নিয়ে আন্দোলন করা তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে করি না। আমাদের আসল দাবি হলো আমরা একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাই। জাতিসংঘের পরিচালিত একটি নির্বাচনব্যবস্থা আমরা চাই। এটা ছাড়া নির্বাচনে নামার কোনো মানে হয় না।’

আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা ও সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়াকে আহ্বায়ক এবং ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে সদস্যসচিব করে আত্মপ্রকাশ হলো ‘গণঅধিকার পরিষদ’-এর। দলটির পথচলার দিনই তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের দাবি তোলা হয়েছে।

পুরানা পল্টনে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কার্যালয়ে মঙ্গলবার দুপুরে ‘গণঅধিকার পরিষদ’-এর আত্মপ্রকাশ ঘোষণা করেন নুরুল হক নুর। দলটির স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘জনতার অধিকার আমাদের অঙ্গীকার’।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

৮৩ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটিতে নানা পেশার মানুষ স্থান পেয়েছেন বলে জানান নুর। ঘোষণাপত্রে নুর বলেন, ‘৫০ বছর হলো বাংলাদেশের বয়স। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আমরা আজ প্রিয় দেশবাসীর সামনে হাজির হয়েছি। মহান সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা করে, আমূল বদলে দেয়ার বার্তা নিয়ে, নতুন করে বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে।

‘আমরা আজ যখন একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিচ্ছি, তখন আমাদের মাতৃসম পৃথিবী দুটি বড় সংকট মোকাবিলা করছে। আজ সকলের সম্মুখে দাঁড়িয়ে এই প্রত্যয় ঘোষণা করছি যে, আমরা নানান ক্ষেত্রে সৃষ্টি হওয়া বহুস্তরবিশিষ্ট বৈষম্য লাঘব করে বাংলাদেশকে মানবিক উন্নয়নের প্রগতিশীল ধারায় স্থাপন করব ইনশাআল্লাহ।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘আমি নির্বাচন কমিশন নিয়ে আন্দোলন করা তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে করি না। আমাদের আসল দাবি হলো আমরা একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাই। জাতিসংঘের পরিচালিত একটি নির্বাচনব্যবস্থা আমরা চাই। এটা ছাড়া নির্বাচনে নামার কোনো মানে হয় না।

‘যারা এর আগে দুইবার প্রতারণা করেছে, তারা যে আবার করবে না সেটার ভরসা আমি করি না। নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়ে অন্য সব দলের সঙ্গে আমরা আলোচনা করব। আমি আশা করি, দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনতে তারা আমাদের সহযোগিতা করবে।’

‘গণঅধিকার পরিষদ’ কাদের সঙ্গে জোট গড়বে, এমন প্রশ্নে রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘কার সঙ্গে জোট করব সেটা তখনকার পরিস্থিতি দেখে আমরা ঠিক করব। আমাদের পরিকল্পনা ৩০০ আসনে এই মুহূর্তে প্রার্থী দেয়া। তবে পরিস্থিতির ওপর তা নির্ভর করছে।’

দল কাদের টাকায় পরিচালিত হবে, এমন প্রশ্নে রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘দলটি যেহেতু গণমানুষের, সেহেতু গণমানুষের টাকায় এই দল পরিচালিত হবে। কোটিপতিদের টাকা নিয়ে আমরা দল চালাব না।’

আত্মপ্রকাশের অনুষ্ঠানে মোট ২১ দফা খসড়া ঘোষণা করেছে গণঅধিকার পরিষদ।

খসড়া কর্মসূচি পাঠ করেন যুগ্ম-আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খান। তা ছাড়া, দলটির চারটি মূলনীতির কথা জানান তিনি। এগুলো হচ্ছে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, অধিকার এবং জাতীয় স্বার্থ।

আরও পড়ুন:
সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর পুলিশ হত্যা: ৯৫ জনের বিচার শুরু
জামায়াতের সেক্রেটারিসহ ৭ জন রিমান্ড শেষে কারাগারে
বাবুর্চিসহ রিমান্ডে জামায়াত নেতা শামসুল
জামায়াতকে স্বাধীনতাবিরোধী বলায় আদালতে মারমুখী আচরণ
জামায়াতের সেক্রেটারিসহ ৯ জন রিমান্ডে

শেয়ার করুন

পুলিশ বাধা দিলেই বিশৃঙ্খলা করে বিএনপি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পুলিশ বাধা দিলেই বিশৃঙ্খলা করে বিএনপি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নয়াপল্টনে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অতীত অভিজ্ঞতায় দেখেছি বিএনপি সব সময়ই এমন করে। পুলিশ বাধা দিতে গেলেই এ ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করে।’

পুলিশ বাধা দিলেই বিএনপি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

সচিবালয়ে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএফআরএফ) সঙ্গে সংলাপে এ মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এদিন নয়াপল্টনে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘অতীত অভিজ্ঞতায় দেখেছি বিএনপি সব সময়ই এমন করে। পুলিশ বাধা দিতে গেলেই এ ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করে।’

বিএনপির বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি

নয়াপল্টনে প্রতিবাদ মিছিলে নেমে বিএনপি নেতা-কর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাহিনীটি।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দীন মিয়া। তিনি বলেন, ‘যাচাই বাছাই করে, মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে। রাস্তায় যান চলাচল স্বাভবিক রয়েছে।’

বিএনপির মিছিল থেকে নেতাকর্মীদের আটকের কথাও স্বীকার করেছেন ওসি সালাহউদ্দীন মিয়া। তিনি বলেন, ‘পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩০-৩৫ জনকে আমরা আটক করেছি। যারা আটক আছেন যাচাই বাছাই করে সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়ে মামলার পর তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হবে।’

মঙ্গলবার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে নয়াপল্টনে প্রতিবাদ মিছিলে নামে বিএনপি। এসময় দলটির নেতা-কর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে বেলা পৌনে ১২টার দিকে মিছিল শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। এ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নেতা-কর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছুড়তে দেখা যায়। নেতা-কর্মীরাও পুলিশকে উদ্দেশ করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন।

এর আগে সকাল থেকেই দলটির নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন ব্যানার-ফ্যাস্টুন নিয়ে নয়াপল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে নয়াপল্টন এলাকা, নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে কাকরাইল পর্যন্ত সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক

পুলিশের সঙ্গে বিএনপি কর্মীদের সংঘষর্ষের ঘটনায় নয়াপল্টন এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ঘণ্টা ধরে ওই এলাকায় কোনো যান চলাচল করেনি।

নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি কর্মীদের কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিএনপি নেতা-কর্মীরা একটি মিছিলের প্রস্তুতি নিলে পূর্ব অনুমতি না থাকায় তাতে বাধা দেয় পুলিশ।

তখন পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে মিছিল থেকে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। সে সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে পুলিশ।

এসময় নাইটিংগেল মোড় থেকে আরামবাগ মোড় পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ১ ঘণ্টা বন্ধ থাকে যান চলাচল। এর প্রভাব পড়ে আশপাশ এলাকার অন্যান্য সড়কে।

কাকরাইল, বিজয়নগর, শান্তিনগর, রাজারবাগ, প্রেসক্লাব, পল্টন, মতিঝিল এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। সাড়ে ১২ টার দিকে নাইটিংগেল মোড় থেকে আরামবাগ মোড় পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল স্বাভবিক হলেও যানজট রয়েছে সেখানে।

আরও পড়ুন:
সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর পুলিশ হত্যা: ৯৫ জনের বিচার শুরু
জামায়াতের সেক্রেটারিসহ ৭ জন রিমান্ড শেষে কারাগারে
বাবুর্চিসহ রিমান্ডে জামায়াত নেতা শামসুল
জামায়াতকে স্বাধীনতাবিরোধী বলায় আদালতে মারমুখী আচরণ
জামায়াতের সেক্রেটারিসহ ৯ জন রিমান্ডে

শেয়ার করুন