শিক্ষার্থীদের টিকার নিবন্ধন দ্রুত করার আহ্বান ইউজিসির

শিক্ষার্থীদের টিকার নিবন্ধন দ্রুত করার আহ্বান ইউজিসির

ফাইল ছবি

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইউজিসি জানায়, যেসব শিক্ষার্থীর ১৭ ডিজিটের জন্মনিবন্ধন সনদ নেই, তাদেরকে দ্রুত জন্ম নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করে টিকার নিবন্ধন শেষ করতে হবে।

দেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদেরকে ইউনিভ্যাক ওয়েবলিংক (https://univac.ugc.gov.bd)- এর মাধ্যমে কোভিড-১৯ টিকার প্রাথমিক নিবন্ধন প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ে শেষ করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইউজিসি এ আহ্বান জানায়।

এতে বলা হয়, যেসব শিক্ষার্থীর ১৭ ডিজিটের জন্মনিবন্ধন সনদ নেই, তাদেরকে দ্রুত জন্ম নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করে টিকার নিবন্ধন শেষ করতে হবে। নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় কোন সমস্যা হলে শিক্ষার্থীদের ইউনিভ্যাক ফেসবুক গ্রুপে fb.com/groups/univac.support- বিষয়টি জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

ইউনিভ্যাক ওয়েব লিংকে নিবন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা আগামী সপ্তাহ থেকে জন্মনিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে সুরক্ষা অ্যাপে কোভিড-১৯ টিকার জন্য নিবন্ধন শেষ করতে পারবে।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কোভিড-১৯ টিকার আওতায় আনার জন্য একটি ওয়েব লিংক চালু করে ইউজিসি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সশরীরে ক্লাস শুরু রাবিতেও

সশরীরে ক্লাস শুরু রাবিতেও

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগে সশরীরে ক্লাস শুরু হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক বলেন, ‘করোনার পরে আমরা সবাই যে আবার এক হতে পারব এটা ভাবিনি। আমাদের রবীন্দ্র ভবন আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে। আবার উল্লাস ফিরেছে ১২৩ নম্বর ক্লাসে।’

ক্লাসে ক্লাসে ফিরেছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষকরাও প্রস্তুত। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগে সশরীরে ক্লাস শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিক থেকে ক্লাসে আসতে শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৭ অক্টোবর হলসমূহ খুলে দেয়া হয়।

ক্লাসে শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে সকল প্রকার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ ও অনুষদগুলো। এদিকে দীর্ঘদিন পর ক্লাসে ফেরার পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

কথা হয় ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সারওয়ার হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘যতটুকু সম্ভব স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা ক্লাসে অংশ নিয়েছি। প্রায় দুবছর পর ক্লাসে এসেছি আজ। ক্লাসের সকল বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। বেশ ভালোই লাগছে দিনটি।’

সশরীরে ক্লাস শুরু রাবিতেও

শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী সুমন হাসান বলেন, ‘করোনাপরবর্তী ক্লাস আমাদের জন্য একটা ঐতিহাসিক মাইলফলক। অনেক দিন পর আমাদের বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা হলো। মনে হচ্ছে আগের দিনগুলোতে ফিরে এসেছি।’

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক বলেন, ‘করোনার পরে আমরা সবাই যে আবার এক হতে পারব এটা ভাবিনি। আমাদের রবীন্দ্র ভবন আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে। আবার উল্লাস ফিরেছে ১২৩ নম্বর ক্লাসে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘ক্লাস উপলক্ষে সকল বিভাগের কক্ষগুলো পরিষ্কার করা হয়েছে। এই অনুষদের প্রায় সব বিভাগে আজ সশরীরে ক্লাস চলছে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও অনেক।’

বিশ্বিবদ্যালয় জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক আজিজুর রহমান জানান, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে সকাল ১০টায় প্রায় সব বিভাগে সশরীরে ক্লাস শুরু হয়েছে। তবে কিছু বিভাগে পরীক্ষার তারিখ থাকায় তাদের পরীক্ষা চলছে। ক্লাসে শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে সকল প্রকার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন বলেও জানান তিনি

করোনায় গত বছরের ১৭ মার্চ বন্ধ হয়ে যায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। করোনার সংক্রমণ কমে আসলে এ বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের এক সভায় ২১ অক্টোবর সশরীরে ক্লাস নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

শেয়ার করুন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ৭ কলেজে সশরীরে ক্লাস শুরু

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ৭ কলেজে সশরীরে ক্লাস শুরু

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি সশরীরে ক্লাস শুরু হয়েছে ঢাকা কলেজসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ৭ মহাবিদ্যালয়ে। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মশিউর রহমান বলেন, করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসায় বৃহস্পতিবার সশরীরে ক্লাস শুরু হয়েছে। এ ছাড়াও সেশনজট দূর করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের সশরীরে পাঠদান শুরু হয়েছে।

একই সঙ্গে অনলাইনেও শিক্ষা কার্যক্রম চালু থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মশিউর রহমান বলেন, করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসায় বৃহস্পতিবার সশরীরে ক্লাস শুরু হয়েছে। এ ছাড়াও সেশনজট দূর করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকটি গুচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম চলবে। এর মধ্যে প্রথম গুচ্ছে শনি ও মঙ্গলবার, দ্বিতীয় গুচ্ছে রবি ও বুধবার এবং তৃতীয় গুচ্ছে সোম ও বৃহস্পতিবার ধারাবাহিকভাবে অনার্স প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় বর্ষ এবং মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলবে। এর পাশাপাশি অনলাইনে পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এ-সংক্রান্ত সূচি অধিভুক্ত সব কলেজে পাঠিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

জট নিরসনে কী ব্যবস্থা

করোনার কারণে সৃষ্ট সেশনজট নিরসনে কোর্সভুক্ত প্রতিটি বিষয়ে বর্ষওয়ারি ক্লাস শুরু ও শেষ, ফরম পূরণ, পরীক্ষা শুরু ও শেষ এবং ফল প্রকাশের নির্দেশনা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশনজট কমিয়ে আনতে বছরে ১৯৫ দিন শ্রেণি কার্যকাল নির্ধারণ করা হয়েছে।

সে অনুযায়ী চলমান সেশনে ভর্তীকৃত প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে অনার্স ডিগ্রি নিতে পারবে। রুটিন বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ওরিয়েন্টেশন

আজ বিকেলে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশনও হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজীপুর ক্যাম্পাসে বেলা ৩টায় উপাচার্যের কনফারেন্স রুম থেকে ভার্চুয়ালি এ অনুষ্ঠান হবে।

কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। বিশেষ অতিথি থাকবেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

কোন ৭ কলেজে ক্লাস

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মিল রেখে বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজে সশরীরে ক্লাস শুরু হয়েছে। বর্তমানে সাত কলেজে অন্য বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা থাকায় শুধু স্নাতক চতুর্থ বর্ষ এবং স্নাতকোত্তরের ক্লাস চলবে।

ওই সাত প্রতিষ্ঠান হলো ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ ও সরকারি বাঙলা কলেজ।

শেয়ার করুন

সালাম না দেয়ায় ঢাবির হলে শিক্ষার্থীদের চড়-থাপ্পড়

সালাম না দেয়ায় ঢাবির হলে শিক্ষার্থীদের চড়-থাপ্পড়

‘বড় ভাইদের’ সালাম না দেয়ায় এবং ছাত্রলীগের নিয়মকানুন না মানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীদেরকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত শুক্রবার আমি হল গেটে দাঁড়ানো ছিলাম। পাশ দিয়ে তৃতীয় বর্ষের এক বড় ভাই চলে গিয়েছিল, আমি খেয়াল করিনি। পরদিন ইনফরমাল গেস্টরুমে আমাকে জহুরুল ভাই থাপ্পড় দেয়। আমি দাঁত চেপে সহ্য করতে পারছি। কিন্তু আমার অনেক বন্ধু এটা সহ্য করতে পারে না। তারা কান্না করে দেয়।’

সিনিয়রদের সালাম না দেয়ায় এবং ছাত্রলীগের নিয়ম-কানুন না মানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে রুমে ডেকে নিয়ে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে দ্বিতীয় বর্ষের সাত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।

প্রায় প্রতিদিন প্রথম বর্ষের অন্তত একজন শিক্ষার্থীকে হলের ২২৫ ও ১১৯ নম্বর রুমে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগীরা যাদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলেছেন তারা হলেন ইতিহাস বিভাগের আনিসুর, দর্শন বিভাগের নাফি, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের রাইসুল, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের সজীব, ফারসি বিভাগের জহিরুল, সমাজ কল্যাণ বিভাগের শাকিল ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শামীম। তারা সবাই ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী।

দ্বিতীয় বর্ষের এসব শিক্ষার্থী হল ছাত্রলীগের সহসভাপতি আবদুল্লাহ আল সোবাইলের ‘ছোট ভাই’ হিসেবে পরিচিত। সোবাইল ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের অনুসারী।

হল সূত্রে জানা যায়, হলের অধিকাংশ রুম ছাত্রলীগের দখলে। এসব রুমে ছাত্রলীগ নেতারাই সিট বরাদ্দ দেন। এ রকম একটি রুম হলের ২২৮ নম্বর। এই রুমটি সোবাইলের দখলে। প্রথম বর্ষের ২০ জন শিক্ষার্থী গাদাগাদি করে এই রুমে থাকেন। সোবাইলের অনুসারীরাই মূলত এসব শিক্ষার্থীকে হলে থাকার ব্যবস্থা করেছেন। বিনিময়ে তাদের বাধ্যতামূলকভাবে যেতে হয় ছাত্রলীগের প্রোগ্রামে। আর রাতে বসতে হয় গেস্টরুমে।

গেস্টরুমে ছাত্রলীগকর্মীরা প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের নিয়ম জানিয়ে দেন। এর মধ্যে সিনিয়রদের বাধ্যতামূলক সালাম দেয়া, সালাম দিয়ে হ্যান্ডস শেক (করমর্দন) করা, নিয়মিত রাজনৈতিক প্রোগ্রামে অংশ নেয়া অন্যতম। এ ছাড়া সিনিয়রদের সামনে হলের ক্যান্টিনে খাবার না খাওয়া, হলের লিফটে না চড়ার মতো উদ্ভট অনেক নিয়মও গেস্টরুম থেকে জানিয়ে দেয়া হয়।

এসব নিয়মের ব্যত্যয় ঘটাতেই মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে প্রথম বর্ষের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর ওপর চড়াও হয়েছেন ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী কর্মীরা। নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের রুমে ডেকে চড়-থাপ্পড় এমনকি স্ট্যাম্প দিয়ে পেটানোর অভিযোগও তাদের বিরুদ্ধে।

আবদুল্লাহ আল সোবাইলের অনুসারীরা সপ্তাহে ছয় দিনই প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের গেস্টরুমে নেয়। এসব গেস্টরুম এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বিত হয়। ছয় দিনের মধ্যে তিন দিন আনুষ্ঠানিক এবং বাকি তিন দিন অনানুষ্ঠানিক গেস্টরুম।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আনুষ্ঠানিক গেস্টরুম হয় হলের নিচতলার অতিথি কক্ষে। এখানে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছাড়াও তৃতীয় এবং চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত থাকায় এ গেস্টরুমে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মারধর বা তাদের প্রতি খারাপ ভাষা ব্যবহার করা হয় না।

আর অনানুষ্ঠানিক গেস্টরুম হয় দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের রুমে। কোনো নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে সেখানেই মূলত প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মারধর এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, হলগেটে বড় ভাইদের সালাম না দেয়ায় গত কয়েক দিন ধরে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওপর মারধর চলছে। প্রথমবর্ষের ১৫ থেকে ১৭ জন শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের এসব মারের শিকার হয়েছেন। মারধরের বিষয়টি কাউকে না জানাতেও নির্দেশ দেয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত শুক্রবার আমি হলগেটে দাঁড়ানো ছিলাম। পাশ দিয়ে তৃতীয় বর্ষের এক বড় ভাই চলে গিয়েছিল, আমি খেয়াল করিনি। পরদিন ইনফরমাল গেস্টরুমে আমাকে জহুরুল ভাই থাপ্পড় দেয়। আমি দাঁত চেপে সহ্য করতে পারছি। কিন্তু আমার অনেক বন্ধু এটা সহ্য করতে পারে না। তারা কান্না করে দেয়।’

ভুক্তভোগী আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের গেস্টরুমে ১৪টি নিয়ম শেখানো হয়। প্রতিদিন এগুলো মুখস্থ বলতে হয়, কিন্তু আমি না পারায় আমাকে থাপ্পড় দিয়েছে আনিসুল ভাই। আমি গেস্টরুমে টিশার্ট পরে আসছি এটাও নাকি আমার অপরাধ ছিল।’

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, সপ্তাহের শনি সোম ও বুধবার তাদের ইনফরমাল গেস্টরুম। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরাই মূলত তাদের গায়ে হাত তুলে।

দ্বিতীয় বর্ষের যে সাত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তাদের মধ্যে জহুরুলই সবচেয়ে বেশি উগ্র বলে জানান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।

ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ক্যাম্পাস খোলার পর থেকে সোবাইল ভাইয়ের গ্রুপের ইমিডিয়েট সিনিয়ররা নিয়মিত গেস্টরুম করায়। সেখানে তারা বড় ভাইদের সালাম না দেয়া, হ্যান্ডশেক না করা, প্রোগ্রামে যেতে সামান্য দেরির কারণে মারধর করে।

‘সপ্তাহে তিন দিন আমাদের অনানুষ্ঠানিক গেস্টরুম হয়। প্রতিবারই তারা কাউকে না কাউকে মারধর করে। এ ছাড়া পিতা-মাতার নাম নিয়ে বিশ্রী ভাষায় গালিগালাজও করেন।’

মারধরের প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমার এক বন্ধুকে রাজু ভাস্কর্য কোথায় জিজ্ঞাসা করেছিল দ্বিতীয় বর্ষের বড় ভাইয়েরা। তখন তার মাথায় বিষয়টি আসছিল না, তাই সে বলতে পারেনি। এরপর তাকে জহুরুল ভাই এমন জোরে থাপ্পড় দিয়েছিল, আমার সে বন্ধু কান্না করে দিয়েছে। তার হাঁফানি রোগও ছিল। থাপ্পড় খেয়ে সে হাঁফাচ্ছিল। পরে তাকে গেস্টরুম থেকে ছুটি দিয়ে দেয়।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সোবাইল গ্রুপের অনুসারী দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আনিসুর বলেন, ‘এ বিষয়ে আপনি সোবাইল ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি আমাদের নেতা। এ ছাড়া আমার আর কিছু বলার নেই।’

সোবাইলের অনুসারী শাকিল ও জহিরুল অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। আর নাফি, সজীব, শামীমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে আবদুল্লাহ আল সোবাইল বলেন, ‘আরও কয়েকজনের কাছে ঘটনাটা আমি শুনেছি। এরপর আলাদাভাবে দ্বিতীয় বর্ষ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমি বসেছি। তারা বলেছে, তারা মারধর করেনি। সামান্য উচ্চ বাক্যে বকা বা ধমক দিয়েছে।’

তবে সূত্র বলছে, মারধরের বিষয়ে গণমাধ্যমের কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদকের ফোন পেয়ে সোবাইল তাৎক্ষণিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রলীগ কর্মীদের হলের অতিথি কক্ষে ডেকে আনেন। এরপর তিনি প্রথম বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীর গায়ে হাত তোলা হয়েছে সেটি জানতে চান। শুরুতে বলতে দ্বিধা করলেও পরে সোবাইলের কাছে স্বীকার করেন, তারা প্রথম বর্ষের তিনজন শিক্ষার্থীর গায়ে হাত তুলেছেন, তবে বেশি মারেননি।

এ বিষয়ে নিউজবাংলাকে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘আমি বিষয়টি মাত্র শুনেছি। খোঁজ নিচ্ছি।’

শেয়ার করুন

জগন্নাথের আরও এক শিক্ষার্থীর ‘আত্মহত্যা’, তিন মাসে চারজন

জগন্নাথের আরও এক শিক্ষার্থীর ‘আত্মহত্যা’, তিন মাসে চারজন

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগের চেয়ারম্যান ক্রিস্টিন রিচার্ডসন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মেয়েটি খুবই ভালো ছাত্রী ছিল। ক্লাসে খুবই মনোযোগী ছিল। খোঁজ নিয়ে দেখলাম, প্রতিটি ক্লাসেই সে এটেন্ড করত। আমাদের বিভাগটি নতুন একটি বিভাগ। বিভাগের তৃতীয় ব্যাচের একজন স্টুডেন্ট সে। বিভাগের পক্ষ থেকে আমরা শোকাহত। আমরা কেউই এমন কিছু চিন্তাও করিনি।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সুমাইয়া মেহজাবিন স্বর্ণার আত্মহত্যার তথ্য পাওয়া গেছে।

গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পলাশপোল মধুমাল্লার ডাঙ্গী গ্রামে বুধবার সকালে এ ঘটনা ঘটে বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে।

এ নিয়ে আগস্ট থেকে চতুর্থ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটল।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জে বাড়ির পাশে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় জগন্নাথের ছাত্র অমিতোষ হালদারের মরদেহ। তিনিও আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

১৩ সেপ্টেম্বর বাড্ডার একটি ছয়তলা ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়লে ঘটনাস্থলেই মারা যান ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অষ্টম ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী চন্দন পার্সি।

২৩ আগস্ট উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের একটি কোচিং সেন্টারের কক্ষ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মিজবাহ উল আজিমের মরদেহ।

স্বর্ণার মৃত্যুর বিষয়ে সাতক্ষীরা থানার সাব-ইনস্পেক্টর শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘সদর হাসপাতাল থেকে বেলা দুইটার দিকে আমাদের স্লিপ দেয়া হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে আমরা গিয়েছি। পরিবার থেকে আমাদের জানিয়েছে, গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। আমাদের তারা আর কিছু জানায়নি। মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যার দিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে আমরা কারণ জানতে পারব।’

স্বর্ণার আত্মহত্যার খবরে তার সহপাঠীদের একটি দল ঢাকা থেকে সাতক্ষীরা যাচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোস্তফা কামাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। আমাদের একজন শিক্ষার্থী এভাবে মারা গেল। কেউ এভাবে মারা যাক, আমরা তা কখনোই চাই না। আমরা খুবই মর্মাহত।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগের চেয়ারম্যান ক্রিস্টিন রিচার্ডসন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মেয়েটি খুবই ভালো ছাত্রী ছিল। ক্লাসে খুবই মনোযোগী ছিল। খোঁজ নিয়ে দেখলাম, প্রতিটি ক্লাসেই সে এটেন্ড করত। আমাদের বিভাগটি নতুন একটি বিভাগ। বিভাগের তৃতীয় ব্যাচের একজন স্টুডেন্ট সে। বিভাগের পক্ষ থেকে আমরা শোকাহত। আমরা কেউই এমন কিছু চিন্তাও করিনি।’

শেয়ার করুন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস আজ, উদযাপন বৃহস্পতিবার

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস আজ, উদযাপন বৃহস্পতিবার

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ছবি

আজ ২০ অক্টোবর, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক বাহক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। রাজধানী ঢাকার সদরঘাট এলাকার কোতোয়ালি থানার চিত্তরঞ্জন এভিনিউতে অবস্থিত একটি স্বায়ত্তশাসিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ২০০৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ৮ম জাতীয় সংসদের ১৮ তম অধিবেশনে “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন–২০০৫” সংসদে উত্থাপিত হয় এবং ওই বছরেরই ২০ অক্টোবর সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে জগন্নাথ কলেজকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণা করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ২০ অক্টোবরকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হিসেবে পালন করে আসছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও স্বাধীনতা পূর্ববর্তী-পরবর্তী সময়ে সকল আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এ প্রতিষ্ঠানটি ২০০৫ খ্রিস্টাব্দের ২০ অক্টোবর জাতীয় সংসদে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে।

১৮৫৮ সালে ঢাকা ব্রাহ্ম স্কুল নামে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। এরপর ১৮৭২ সালে নাম বদলে বালিয়াটির জমিদার কিশোরীলাল রায় চৌধুরী তার বাবার নামে জগন্নাথ স্কুল নামকরণ করেন। ১৮৮৪ সালে এটি একটি দ্বিতীয় শ্রেণির কলেজে ও ১৯০৮ সালে প্রথম শ্রেণির কলেজের রূপ পায়।

১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা শুরু হলে তৎকালিন জগন্নাথ কলেজের স্নাতক কার্যক্রম সাথে আইএ, আইএসসি, বিএ (পাস) শ্রেণি ছাড়াও ইংরেজি, দর্শন ও সংস্কৃতি অনার্স এবং ইংরেজিতে মাস্টার্স চালু বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ইন্টারমিডিয়েট কলেজে অবনমিত করা হয়।

১৯৪৯ সালে আবার কলেজেটিতে স্নাতক পাঠ্যক্রম শুরু হয়। ১৯৬৮ সালে এটিকে সরকারিকরণ করা হয়, কিন্তু পরের বছরেই আবার এটি বেসরকারি মর্যাদা লাভ করে।

২০০৫ সালে জাতীয় সংসদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৫ পাশের মাধ্যমে এটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রূপান্তরিত হয়।

কলেজ থাকাকালে স্থানীয় প্রভাবশালীরা একে একে দখল করে নেয় সবগুলো আবাসিক হল। আবাসন সংকট ও সংকীর্ণ ক্যাম্পাসের ঘানি মাথায় নিয়েই যাত্রা শুরু করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। চরম মানবেতর জীবনযাপন করেও দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

বর্তমানে মোট ৬টি অনুষদে ৩৬টি বিভাগ ও ২টি ইনস্টিটিউট রয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থী, ৯৬০ জন একাডেমিক কর্মী এবং ৮৫০ জন প্রশাসনিক স্টাফ নিয়ে বর্তমানে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

গত বছরের ২০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হল বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের উদ্বোধন করা হয়। ঢাকার কেরানীগঞ্জে ২০০ একর জমির উপর নতুন ক্যাম্পাস স্থাপনের কাজও চলমান। জমি অধিগ্রহণের কাজ হয়ে গেলেও গতি পায়নি সীমানা প্রাচীর নির্মাণসহ অবকাঠামোগত কোনো কাজ।

শিক্ষার পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণে বাংলাদেশের প্রতিটি আন্দোলনে এই প্রতিষ্ঠানের অবদান ছিল গর্ব করার মত। ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ৬২ তে সামরিক সরকারের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, ৬৬ এর ছয়দফা দাবি, ৬৮ এর এগারো দফা দাবি, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন আন্দোলন ও সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস।

বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের কর্মসূচি

আজ ২০ অক্টোবর পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ও লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় এক দিন পিছিয়ে আগামী ২১ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের কর্মসূচি পালিত হবে।

প্রতিবছর নানা কর্মকাণ্ড ও আলোকসজ্জার মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উৎযাপিত হতো। করোনা সংক্রমণের জন্য গতবারের ন্যায় এবারও বিশ্ববিদ্যালয় দিবসটি উৎসবমুখরভাবে উৎযাপিত করা হবে না।

এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে সকাল ১১টায় জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়-এর পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হবে। এরপর বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের শুভ উদ্বোধন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ইমদাদুল হক।

বেলা ১২টায় ভার্চ্যুয়াল প্লাটফরমে আলোচনা সভা হবে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ সংযুক্ত থাকবেন। ।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের দিনেই টিকা ক্যাম্পের উদ্বোধন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপনের দিন ক্যাম্পাসে অস্থায়ী টিকা ক্যাম্প উদ্ধোধন করা হবে।

উদ্বোধনী দিনে প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থীকে করোনার টিকা দেয়া হবে। পরে সব শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের টিকার আওতায় আনার জন্য কার্যক্রম চলমান থাকবে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের দিন থেকেই সশরীরে ক্লাস শুরু

স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের দিন বৃহস্পতিবার থেকেই ব্যবহারিক ও প্রয়োজন সাপেক্ষে তত্ত্বীয় ক্লাস গ্রহণের জন্য বিভাগগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

চলমান তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরপরই একটানা ব্যবহারিক ক্লাস নিয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। যেসব বিষয়ের তত্ত্বীয় ক্লাস ব্যবহারিক ক্লাসের মতোই সশরীরে উপস্থিত থেকে করা অপরিহার্য সেসব বিষয়ের ক্লাসও শুরু করা হবে।

এদিন রসায়ন বিভাগসহ বেশ কয়েকটি বিভাগে ল্যাব ক্লাস শুরুর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পরীক্ষার মধ্যে ল্যাব ক্লাস শুরুর নির্দেশনায় হতাশ শিক্ষার্থীরা। এতে পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ভাটা পড়বে বলছেন বিভাগসমূহের শিক্ষার্থীরা।

উপাচার্য ইমদাদুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, 'চলমান পরীক্ষার ক্লাসগুলো আমরা অনলাইনে শেষ করেছি। কিন্তু ব্যবহারিক ক্লাস বিশেষ করে বিজ্ঞান অনুষদের অনলাইনে নেওয়া সম্ভব না। এছাড়াও কিছু বিভাগের তত্ত্বীয় ক্লাসও সশরীরে নেয়া প্রয়োজন। সেভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস শুরু করতে বলা হয়েছে। বর্তমান পরীক্ষা শেষে পরের সেমিস্টারেরও ক্লাস শুরু হয়ে যাবে।'

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনও পরীক্ষা

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের দিন বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি বিভাগে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ সহ বেশ কয়েকটি বিভাগের বিভিন্ন ব্যাচের পরীক্ষা রয়েছে। এতে ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা৷ তারা বলছেন, এদিন পরীক্ষাটা বন্ধ রাখা যেত।

এর আগেও বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের দিন সেমিস্টার ফাইনাল সহ ল্যাব পরীক্ষা, ক্লাস টেস্ট, মিডটার্ম ও ভাইবা প্রেজেন্টেশন হয়েছে।

শেয়ার করুন

গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষা: ‘এ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ

গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষা: ‘এ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ

গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষার একটি কেন্দ্র। ফাইল ছবি

গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষাবিষয়ক টেকনিক্যাল সাবকমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নূর নিউজবাংলাকে বলেন, “আজ ভর্তি কমিটির সভায় গত ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সে মোতাবেক গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষার ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশ করা হয়েছে।”

দেশের ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষার ‘এ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ করা হয়েছে।

গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষাবিষয়ক কমিটির বুধবারের সভা শেষে ফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয়।

জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ও সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষাবিষয়ক টেকনিক্যাল সাবকমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নূর নিউজবাংলাকে বলেন, “আজ ভর্তি কমিটির সভায় গত ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সে মোতাবেক গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষার ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশ করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থী উপস্থিতির হার ছিল ৯৩ শতাংশ। আর ভর্তি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ স্কোর ৯৫।

গত ১৭ অক্টোবর দেশজুড়ে ২৬টি কেন্দ্রে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা হয়। ওই ইউনিটে আবেদন করেছিলেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৯০১ শিক্ষার্থী। এক ঘণ্টার ভর্তি পরীক্ষা দুপুর ১২টায় শুরু হয়ে শেষ হয় ১টায়।

গুচ্ছভুক্ত ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ২৪ অক্টোবর আর ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষা হবে ১ নভেম্বর।

গুচ্ছভুক্ত ২০ বিশ্ববিদ্যালয়

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

এ ছাড়া রয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

শেয়ার করুন

শিক্ষার্থীরা ইউনিক আইডি পাবে কবে?

শিক্ষার্থীরা ইউনিক আইডি পাবে কবে?

প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মৌলিক ও শিক্ষাসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য এক জায়গায় রাখার জন্য তৈরি করা হচ্ছে ইউনিক আইডি। শিক্ষার্থীর বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হলে এই আইডি জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) রূপান্তরিত হবে।

দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীর জন্য একটি ‘ইউনিক আইডি’ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মৌলিক ও শিক্ষাসংক্রান্ত সব তথ্য থাকবে। কিন্তু করোনা মহামারিতে দীর্ঘদিন স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকা এবং কিছু আইনি জটিলতায় স্থবির হয়ে পড়ে এ কার্যক্রম।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবার পুরোদমে শুরু হয়েছে শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি তৈরির কার্যক্রম। তাদের আশা, আগামী বছরের শুরুতে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ১ কোটি ৬০ লাখ শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেয়া সম্ভব হবে ইউনিক আইডি।

প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি তৈরির জন্য বিদ্যালয় পর্যায়ে ডাটা এন্ট্রি দেয়া শুরু হবে আগামী মাসে। প্রথম ধাপে পাইলটিং হিসেবে ৮০টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি তৈরি করা হবে। সেটি সফল হলে ধাপে ধাপে সব শিক্ষার্থীকে এর আওতায় আনা হবে।

জানতে চাইলে মাধ্যমিক পর্যায়ের ইউনিক আইডির প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক মো. শামসুল আলম বলেন, ‘ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি প্রদানের কার্যক্রম করোনা পরিস্থিতি ও কিছু আইনি জটিলতায় আটকে ছিল। এখন সব ধরনের সমস্যার সমাধান হয়েছে। আশা করছি, আগামী বছরের শুরুতেই পর্যায়ক্রমে ১ কোটি ৬০ লাখ শিক্ষার্থীর হাতে ইউনিক আইডি তুলে দেয়া সম্ভব হবে।’

ইউনিক আইডি তৈরি কার্যক্রমের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ পর্যায়ে। খুব শিগগির শুরু হবে ডাটা এন্ট্রির কাজ। এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হতে থাকবে ইউনিক আইডি। তখন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দেখতে পাবে, তাদের কত শিক্ষার্থীর ইউনিক আইডি তৈরি হলো। এরপর আমরা পর্যায়ক্রমে ইউনিক আইডি ছাপিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করব।’

জন্মনিবন্ধন সনদ না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করতে পারছে না, এ ক্ষেত্রে করণীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে শামসুল আলম বলেন, ‘যেসব শিক্ষার্থীর ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন আছে, তাদের অভিভাবকদের শুধু এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) থাকলেই হবে। তবে যেসব শিক্ষার্থীর ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন নেই, তাদের অভিভাবকদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও জন্মনিবন্ধন দুটিই লাগবে। আইনগত কারণে এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেয়া সম্ভব নয়।’

প্রাথমিকের ডাটা এন্ট্রি শুরু আগামী মাসে

প্রাথমিকের ২ কোটিরও বেশি শিক্ষার্থীর ইউনিক আইডি তৈরির কাজ করছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এ জন্য ডাটা এন্ট্রির সফটওয়্যার তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। আশা করা হচ্ছে, আগামী মাস থেকে ডাটা এন্ট্রি দেয়া শুরু হবে।

জানতে চাইলে প্রাথমিকের ইউনিক আইডির প্রকল্প পরিচালক মো. মঞ্জুরুল আলম প্রধান বলেন, ‘প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি তৈরির জন্য বিদ্যালয় পর্যায়ে আগামী মাস থেকে সফটওয়্যারে ডাটা এন্ট্রি শুরু হবে। এ জন্য সফটওয়্যার তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। এরপর পাইলটিং হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানের ৮০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি তৈরি করা হবে। এরপর সেটি সফল হলে পুরোদমে শুরু হবে কাজ।’

কবে নাগাদ পাইলটিং শুরু হবে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘নির্দিষ্ট করে সময় বলা সম্ভব নয়। আশা করছি, আগামী মাসে ডাটা এন্ট্রি শুরু হলে খুব শিগগির পাইলটিং শুরু হবে।’

ইউনিক আইডি কেন?

প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মৌলিক ও শিক্ষাসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য এক জায়গায় রাখার জন্য তৈরি করা হচ্ছে ইউনিক আইডি। শিক্ষার্থীর বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হলে এই আইডি জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) রূপান্তরিত হবে।

ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি তৈরির দায়িত্বে আছে বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইজ)। আর প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি তৈরি করছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

কেন শিক্ষার্থীদের জন্য ইউনিক আইডি তৈরি করা হচ্ছে, এমন প্রশ্নে প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, ‘কোনো শিশু জন্মগ্রহণ করলেই সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগের অফিস অফ রেজিস্ট্রার জেনারেলের আওতায় তার জন্মনিবন্ধন হয়। আর ১৮ বছর পূর্ণ হওয়া সবার জন্য আছে জাতীয় পরিচয়পত্র। কিন্তু যারা প্রাইমারি, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী, অর্থাৎ যাদের বয়স ১৮-এর নিচে তারা এই সিস্টেমের বাইরে। এ জন্য তাদের সিস্টেমের মধ্যে আনতেই ইউনিক আইডি তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

ফরমে যেসব তথ্য দিতে হয়

স্ট্যাবলিশমেন্ট অফ ইন্টিগ্রেটেড এডুকেশনাল ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (আইইআইএমএস) প্রকল্পের আওতায় তৈরি করা চার পৃষ্ঠার ফরমে শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

ফরমে শিক্ষার্থীর নাম, জন্মনিবন্ধন নম্বর, জন্মস্থান, জেন্ডার, জাতীয়তা, ধর্ম, অধ্যয়নরত শ্রেণি, রোল নম্বর, বৈবাহিক অবস্থা, প্রতিবন্ধিতা (ডিজঅ্যাবিলিটি), রক্তের গ্রুপ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কি না, মা-বাবার নামসহ বেশ কিছু তথ্যের ঘর রয়েছে।

বৈবাহিক অবস্থার অপশন হিসেবে অবিবাহিত, বিবাহিত, বিধবা, বিপত্নীক ছাড়াও স্বামী-স্ত্রী পৃথক বসবাস, তালাকপ্রাপ্ত, বিবাহবিচ্ছেদের ঘরও রয়েছে ফরমে।

শেয়ার করুন