পুলিশ হাসপাতালে ক্যানসার ইউনিট চান আইজিপি

পুলিশ হাসপাতালে ক্যানসার ইউনিট চান আইজিপি

বৃহস্পতিবার কেরানীগঞ্জে মাদকাসক্তি নিরাময় ও মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ কেন্দ্র ওয়েসিসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদ। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘ফেনসিডিল আসে প্রতিবেশী এক দেশ থেকে, ইয়াবা আসে প্রতিবেশী আরেক দেশ থেকে। এখন আবার আসতেছে আইস, যা প্রতিবেশী এক দেশসহ পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ থেকে। এসব মাদকের কোনোটাই কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরে তৈরি হয় না।’

রাজধানীর রাজারবাগে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে বাহিনীর সদস্যদের চিকিৎসার জন্য ক্যানসার ইউনিটের দাবি জানিয়েছেন আইজিপি বেনজীর আহমেদ।

তিনি বলেছেন, ‘আমাদের জব স্ট্রেস থেকে অনেক সময় ক্যানসার রোগ হয়। আমাদের প্রচুর লোক আছে যারা ক্যানসারে আক্রান্ত। আমরা চেষ্টা করি তাদের সাধ্যমতো সাহায্য করার জন্য। ক্যানসারের চিকিৎসা অনেক ব্যয়বহুল।

‘একজন ক্যানসার আক্রান্ত রোগী মৃত্যুবরণ করার আগে তার পরিবারকে রাস্তায় বসিয়ে দিয়ে যায়। এই জন্য পুলিশ হাসপাতালে আমরা একটি ক্যানসার ইউনিট করতে চাই। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানাব আগামী বছরের মধ্যে ইউনিট করে দেয়ার জন্য।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্ট পরিচালিত মাদকাসক্তি নিরাময় ও মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ কেন্দ্র ওয়েসিসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় কোনো মাদকই দেশে তৈরি হয় না দাবি করে পুলিশপ্রধান বলেন, ‘ফেনসিডিল আসে প্রতিবেশী এক দেশ থেকে, ইয়াবা আসে প্রতিবেশী আরেক দেশ থেকে। এখন আবার আসতেছে আইস, যা প্রতিবেশী এক দেশসহ পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ থেকে। এসব মাদকের কোনোটাই কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরে তৈরি হয় না।’

বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘পুলিশে চাকরি করার সুবাদে গরিব বা ধনী পরিবারের কেউ যদি মাদকাসক্ত হয় তাহলে পরিবারটির কী অবস্থা দাঁড়ায় সেটি দেখার দুর্ভাগ্য আমার অনেকবার হয়েছে। এই সমাজের অনেক সম্মানিত ব্যক্তির নীরব কান্না দেখতে হয়েছে আমাকে। এই গোপন কান্না এত কষ্টের যা কারও সঙ্গে শেয়ারও করা যায় না সামাজিক মর্যাদার কারণে।’

তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে আমরা যে কাজটা করার চেষ্টা করি সেটা হচ্ছে মাদকের সাপ্লাই কাট। এসব দমনের জন্য ছয় থেকে সাতটা বাহিনী একসঙ্গে কাজ করে। এ ছাড়া কাস্টমস বিভিন্ন পোর্টে মাদক দমনে কাজ করে। কিন্তু যদি ডিমান্ড থাকে, কোনো না কোনোভাবে দেশে মাদকের সাপ্লাই হবেই। আর সেটা যদি হয় ১ কোটি, ৮০ লাখ ও ৩৬ লাখ তাহলে প্রত্যেক দিন এই মাদক কোনো না কোনোভাবে দেশে ঢোকার চেষ্টা হবেই। এ কারণে অবশ্যই আমাদের মাদকের ডিমান্ড কাট করতে হবে।

‘ডিমান্ড কাট করতে হলে যারা মাদকাসক্ত আছে, তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। এদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। সে ক্ষেত্রে ‘‘ওয়েসিস’’ আমাদের অতি ক্ষুদ্র একটি উদ্যোগ।’

পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের আরেকটি মাদক নিরাময় কেন্দ্র নির্মাণের কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ‘আমরা মানিকগঞ্জের কালিগঙ্গা নদীর তীরে মনোরম পরিবেশে একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্র বা হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা করেছি। সেখানে আমরা ইতোমধ্যে ২০ বিঘা জমি কিনেছি। আমি পারলে ১০০ বিঘা জমি কিনতে চাই। সেখানের পরিবেশে ঢুকলে মানুষের মন যেন এমনিই ভালো হয়ে যায়৷ আমরা এমন একটি পরিবেশে ৫০০ থেকে ১ হাজার বেডের হাসপাতাল তৈরি করতে চাই। এটাকে আমরা মাদক চিকিৎসার ক্ষেত্রে রিজনাল হাব করতে চাই।’

পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আজিজুল ইসলামসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
গুজবের মধ্যে একটা ভালো সংবাদও অনেক গুরুত্বপূর্ণ: আইজিপি
ওসি হতে পারেন হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা: আইজিপি
পুলিশে শৃঙ্খলা ভাঙলে কঠোর ব্যবস্থা: আইজিপি
কনস্টেবল নিয়োগ হবে মেধা ও শারীরিক যোগ্যতায়: আইজিপি
কমিউনিটি ব্যাংকের লেনদেন বিকাশ দিয়ে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

দক্ষতা উন্নয়ন-কর্মসংস্থান বাড়াতে বিশ্বব্যাংকের ঋণ

দক্ষতা উন্নয়ন-কর্মসংস্থান বাড়াতে বিশ্বব্যাংকের ঋণ

চাকরির পরীক্ষা দিচ্ছে পরীক্ষার্থীরা। ফাইল ছবি

ইআরডি বলছে, দেশের শিল্পকারখানাগুলো তুলনায় বেশি প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়েছে। দেশে দেশে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়ছে। শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও চাকরির ক্ষেত্রে এখনও তারা অনেক পিছিয়ে রয়েছে। দক্ষতা উন্নয়ন খাতে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের লক্ষ্যে উচ্চ বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।

দক্ষ শ্রমশক্তি তৈরি ও নতুন করে কর্মসংস্থান বাড়াতে বাংলাদেশকে ৩০ কোটি ডলার বা প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে উন্নয়ন সংস্থা বিশ্বব্যাংক। এ অর্থে দেশের কারিগরি খাতের দক্ষতা উন্নয়ন করে কর্মসংস্থান বাড়ানোর কথা জানিয়েছে সরকার।

সোমবার এ বিষয়ে সংস্থাটির সঙ্গে ঋণচুক্তি স্বাক্ষর করেছে সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ-ইআরডি।

বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন এবং ইআরডি সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন নিজ নিজ পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।

ইআরডি বলছে, দেশের শিল্পকারখানাগুলো তুলনায় বেশি প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়েছে। দেশে দেশে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়ছে। শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও চাকরির ক্ষেত্রে এখনও তারা অনেক পিছিয়ে রয়েছে। দক্ষতা উন্নয়ন খাতে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের লক্ষ্যে উচ্চ বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।

এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শ্রম উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, জেন্ডার আয়ের সমতা বিধান এবং কর্মসংস্থানের উপর বিশেষ করে দেয়া হয়েছে। এ অবস্থায় কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর হাতকে আরও দক্ষ করে তুলতে হবে। এসব বিবেচনায় সরকার ‘এক্সিলারেটিং অ্যান্ড স্ট্রেনদেনিং স্কিলস ফর ইকনোমিক ট্রান্সফরমেশন (এসেট)’ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (আইডএ) এ ঋণ অ্যাসেট প্রকল্পে ব্যয় হবে।

আইডিএ অর্থায়নের এই ঋণ পাঁচ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ (এ সময়ের মধ্যে কোনো ঋণ পরিশোধ করতে হবে না) ৩০ বছরে শোধ দিতে হবে। ঋণের উত্তোলিত অর্থের ওপর বাৎসরিক দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ ও ১ দশমিক ২৫ শতাংশ হারে সুদ পরিশোধ করতে হবে।

এ ছাড়া অনুত্তোলিত অর্থের উপর দশমিক ৫০ শতাংশ হারে কমিটমেন্ট ফি দিতে হবে।

এ প্রকল্পে প্রায় ১ লাখ যুবক ভবিষ্যৎ চাহিদা উপযোগী কর্মসংস্থানের প্রশিক্ষণ পাবে।

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে এ প্রকল্পে প্রধান বাস্তবায়নকারী থাকবে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। সহবাস্তবায়ন সংস্থা হিসেবে থাকবে প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। চলতি বছরের জুলাই থেকে শুরু হয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে।

আরও পড়ুন:
গুজবের মধ্যে একটা ভালো সংবাদও অনেক গুরুত্বপূর্ণ: আইজিপি
ওসি হতে পারেন হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা: আইজিপি
পুলিশে শৃঙ্খলা ভাঙলে কঠোর ব্যবস্থা: আইজিপি
কনস্টেবল নিয়োগ হবে মেধা ও শারীরিক যোগ্যতায়: আইজিপি
কমিউনিটি ব্যাংকের লেনদেন বিকাশ দিয়ে

শেয়ার করুন

৫ বছর স্কুলে না গিয়ে বেতন, শিক্ষক রায়নার অব্যাহতির আবেদন

৫ বছর স্কুলে না গিয়ে বেতন, শিক্ষক রায়নার অব্যাহতির আবেদন

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মেহবুবা রায়না। ছবি: সংগৃহীত

গত ১৫ অক্টোবর ‘তিনি ক্লাস না করিয়ে বেতন তুলছেন পাঁচ বছর ধরে’ শিরোনামে চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মেহবুবা রায়নাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজবাংলা।

কিশোরগঞ্জে পাঁচ বছর ধরে স্কুলে না পড়িয়েও বেতন ভাতা তোলা সেই বিতর্কিত শিক্ষিক মেহবুবা রায়নার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। পরদিনই ওই শিক্ষক চাকরি থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন।

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বণিক রোববার রায়নার বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ মামলার তদন্ত তার অধীনেই হবে।

তিনি জানান, স্কুলে না গিয়ে মেডিক্যাল ছুটি নিয়ে বছরের পর বছর স্কুলে অনুপস্থিত থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সুব্রত জানান, সোমবার মেহবুবা রায়না উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে চাকরি থেকে অব্যাহতির জন্য চিঠি পাঠিয়েছেন।

করিমগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মফিজুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আজ (সোমবার) দুপুরে ডাকযোগে মেহবুবা রায়নার চাকরি থেকে অব্যাহতির আবেদনপত্র পেয়েছি। তার আবেদন পত্রে নানা ভুল-ত্রুটি রয়েছে। সেখানে কোনো তারিখ উল্লেখ নেই। চাকরি থেকে কবে তিনি অব্যাহতি নিতে চান সে বিষয়েরও কোনো উল্লেখ নেই।’

এ কর্মকর্তা জানান, অব্যাহতির আবেদনের ক্ষেত্রে তার সামনে সাক্ষর করে আবেদন জমা দেয়ার নিয়ম থাকলেও করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রায়না ডাকযোগে আবেদন করেছেন।

তাছাড়া অব্যাহতির বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং উপজেলা প্রাথমিক সহকারী কর্মকর্তাকেও অবগত করেননি ওই শিক্ষক।

৫ বছর স্কুলে না গিয়ে বেতন, শিক্ষক রায়নার অব্যাহতির আবেদন

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ‘এ বিষয়গুলো উল্লেখ করে রায়নাকে পুনরায় চিঠি পাঠানো হবে।’

গত ১৫ অক্টোবর ‘তিনি ক্লাস না করিয়ে বেতন তুলছেন পাঁচ বছর ধরে’ শিরোনামে চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মেহবুবা রায়নাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজবাংলা।

এরপরপই ফেসবুকে কিশোরগঞ্জ জেলাভিত্তিক বিভিন্ন গ্রুপে শুরু হয় সমালোচনা। এই অনিয়মের জন্য জেলা এবং উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তাদের দায়ী করে মন্তব্য করেন অনেকে।

রায়না ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা সাহিত্যের ওপর স্নাতক শেষ করে এখন স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে পড়ছেন। তিনি ২০১৬ সালে চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন ২০১৪-২০১৫ সেশনে।

চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, ২০১৬ সালে রায়না স্কুলে যোগ দিয়ে তিনমাস নিয়মিত ক্লাস নিয়েছেন। এরপর স্কুলে যাননি টানা তিন বছর। ২০২০ সালের মার্চে করোনা প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার আগে ছয় মাস মাঝেমধ্যে আসতেন। করোনা শুরু হলে অন্যান্য শিক্ষকরা স্কুলে এলেও তিনি আসেননি এক দিনের জন্যও।

স্কুলটির একজন সহকারী শিক্ষক বলেন, ‘আমরা সারা বছর পরিশ্রম করে যে বেতন পাই, রায়না তার কিছুই না করেও একই বেতন পাচ্ছেন।

‘রায়না সরকারি চাকরি করে কর্মস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার বিষয়টি গোপন করেছেন, আবার অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়েও চাকরির ব্যাপারটা গোপন করেছেন। তিনি একসঙ্গে দুটি অপরাধ করেছেন।’

রায়নার ফেসবুক প্রোফাইল চেক করে দেখা যায়, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার তথ্য সেখানে উল্লেখ করেছেন। তিনি ময়মনসিংহে বসবাস করছেন এবং সেখানে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ানোর ছবি নিয়মিত আপডেটও করেন।

চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী রায়নার নামও বলতে পারেনি। কারণ জানতে চাইলে সে বলে, ‘হেই ম্যাডাম পহেলা কয়েকদিন ইস্কুলে আইছে, পরে আর আইছে না। হের লাইগ্যে হেই ম্যাডামের নামটা মনে নাই।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘মেহবুবা রায়না বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার কারণে ২০১৮ সালের ২০ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তার ইনক্রিমেন্ট স্থগিত করা হয়। পরে তাকে বিদ্যালয়ে যোগদানের অনুমতি দেয়া হয়।’

তিনি জানান, রায়না চাকরিতে যোগ দেয়ার পর তিনি বিভিন্ন মেয়াদে শুধু মেডিক্যাল ছুটি কাটিয়েছেন ২১৩ দিন। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর স্কুল খোলার পর ১২ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকার কারণে ২৩ সেপ্টেম্বর তার কৈফিয়ত তলব করা হয়। দায়িত্বে অবহেলার কারণে কেন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তিন কার্যদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব চাওয়া হয়।

এরপর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম তালুকদার বিষয়টি তদন্ত করেন৷ তদন্ত প্রতিবেদনে তিনি জানান, রায়না ওয়ার্কশিট বিতরণ ও মূল্যায়ন এবং অভিভাকদের সঙ্গে যোগাযোগ সংক্রান্ত কোনো কাজেও অংশগ্রহণ করেননি৷ তাকে প্রধান শিক্ষক ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা জানালেও তিনি তাতে কর্ণপাত করেননি।

পরে রায়নার বেতন বন্ধ করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করেন মফিজুল ইসলাম। আর গত ২৩ সেপ্টেম্বর মেহবুবা রায়নাকে শোকজ করা হয়। ২৭ সেপ্টেম্বর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে এর জবাব দেন রায়না। কিন্তু জবাব সন্তোষজনক মনে না হওয়ায় রায়নার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ফাইলটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে কথা বলতে রায়নার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। পরে মেসেজ দিয়েও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

তার হোয়াটস অ্যাপ এবং ফেসবুক মেসেঞ্জারে একাধিকবার বার্তা পাঠানোর পর তিনি নিউজবাংলার প্রতিবেদকে ব্লক করে দেন।

আরও পড়ুন:
গুজবের মধ্যে একটা ভালো সংবাদও অনেক গুরুত্বপূর্ণ: আইজিপি
ওসি হতে পারেন হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা: আইজিপি
পুলিশে শৃঙ্খলা ভাঙলে কঠোর ব্যবস্থা: আইজিপি
কনস্টেবল নিয়োগ হবে মেধা ও শারীরিক যোগ্যতায়: আইজিপি
কমিউনিটি ব্যাংকের লেনদেন বিকাশ দিয়ে

শেয়ার করুন

‘সাম্প্রদায়িকতা ছড়িয়ে ক্ষমতার স্বপ্ন দেখছে বিএনপি’

‘সাম্প্রদায়িকতা ছড়িয়ে ক্ষমতার স্বপ্ন দেখছে বিএনপি’

বরিশাল নগরীর একটি হোটেলে সোমবার সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা

বরিশালে সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ নেতা আফজাল বলেন, তারেক জিয়ার নেতৃত্বে নানা অপকর্ম হয়েছে। মানুষটির মগজ থেকে ২১ আগস্টের মত ঘটনা তৈরি হয়েছে। তার দল বিএনপি সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার দিবা স্বপ্ন দেখছে।

বিএনপি সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন।

সোমবার বিকালে বরিশাল নগরীর একটি হোটেলে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক সংঘাত নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, বিএনপি একটি সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল। তারা মুখে মুক্তিযুদ্ধের কথা বলেও ধর্মান্ধ ও উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে প্রশ্রয় দেয়। বিভিন্ন সময়ে নির্বাচন ঠেকানোর নামে দলটি সাম্প্রদায়িক উসকানি দিয়েছিল।

ফেসবুকে যারা গুজব ছড়াবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন আওয়ামী লীগের এই নেতা।

সংবাদ সম্মেলনে আফজাল আরও বলেন, তারেক জিয়ার নেতৃত্বে নানা অপকর্ম হয়েছে। মানুষটির মগজ থেকে ২১ আগস্টের মত ঘটনা তৈরি হয়েছে। তার দল বিএনপি সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার দিবা স্বপ্ন দেখছে।

তিনি বলেন, যেসব স্থানে হামলা, ভাংচুর হয়েছে সেখানে স্থানীয়ভাবে সংকট থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক শক্তি সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে আফজাল বলেন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের জন্য আওয়ামী লীগ একাট্টা। সাম্প্রদায়িক উসকানি সৃষ্টি করে যারা হত্যা, সন্ত্রাস করে তাদের বিচার হবে না, তা হতে পারে না।

তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক হামলা ঠেকাতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

দক্ষিণাঞ্চলের দলীয় সব পর্যায়ের নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো: ইউনুস, ঝালকাঠী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খান সাইফুল্লাহ পনিরসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
গুজবের মধ্যে একটা ভালো সংবাদও অনেক গুরুত্বপূর্ণ: আইজিপি
ওসি হতে পারেন হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা: আইজিপি
পুলিশে শৃঙ্খলা ভাঙলে কঠোর ব্যবস্থা: আইজিপি
কনস্টেবল নিয়োগ হবে মেধা ও শারীরিক যোগ্যতায়: আইজিপি
কমিউনিটি ব্যাংকের লেনদেন বিকাশ দিয়ে

শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নথি জালিয়াতির প্রধান আসামির জামিন

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নথি জালিয়াতির প্রধান আসামির জামিন

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

নথি জালিয়াতির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত বদলে দিয়েছিলেন অভিযুক্তরা। পরে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে নথিটি গেলে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে একজনের নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশের নামে প্রতারণার অভিযোগ ছিল নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানের বিরুদ্ধে।

দুদকের করা এই প্রতারণার মামলায় সোমবার জামিন পেয়েছেন প্রধান আসামি শাহজাহান।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশের আদালতে তিনি আইনজীবী শাহীনুল ইসলাম অনির মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। দুদকের পক্ষ থেকে তার জামিনের বিরোধিতা করেন আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক ২০ হাজার টাকা মুচলেকায় ১১ নভেম্বর পর্যন্ত শাহজাহানের অন্তবর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন সংশ্লিষ্ট আদালতের পেশকার ফয়েজ আহমেদ।

মামলাটির নথি থেকে জানা যায়, গত বছর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোষাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের জন্য তিনজনের নাম প্রস্তাব করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। যাদের নাম প্রস্তাব করা হয় তারা হলেন- ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম এনামুল হক, বুয়েটের প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. আব্দুর রউফ এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের সাবেক কোষাধ্যক্ষ অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডোর এম আবদুস সালাম আজাদ।

সেই প্রস্তাবপত্রটি প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করা হলে তিনি অধ্যাপক ড. এম এনামুল হকের নামের পাশে টিক চিহ্ন দেন। পরে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য নথিটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অফিস সহকারী ফাতেমার কাছে ওই প্রস্তাবপত্র। এ সময় তিনি এম আবদুস সালাম আজাদ অনুমোদন না পাওয়ার গোপনীয় তথ্য ছাত্রলীগ নেতা তরিকুলকে ফোনে জানিয়ে দেন।

পরে ২০২০ সালের ১ মার্চ নথিটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কৌশলে বের করে ৪ নম্বর গেটের সামনে আসামি ফরহাদের হাতে তুলে দেন ফাতেমা। পরে এই নথিতে প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ বিকৃত করেন আসামিরা। এই কাজের জন্য ফাতেমাকে তারা ১০ হাজার করে বিকাশে মোট ২০ হাজার টাকা দেন বলে অভিযোগ।

৩ মার্চ আসামিরা নথিটি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠালেও এক পর্যায়ে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। জালিয়াতির ওই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-৭ মোহাম্মদ রফিকুল আলম বাদি হয়ে গত ৫ মে মামলা করেন। এ মামলায় পুলিশ ৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।

অভিযোগ দুদকের এখতিয়ারভুক্ত হওয়ায় কমিশনের উপ-পরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী পরে ৮ জনকে অভিযুক্ত করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত বদলে দেয়ায় অভিযুক্তরা হলেন- নর্থ সাউথ ইউনির্ভাসিটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি (বহিষ্কৃত) তরিকুল ইসলাম মমিন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মচারী ফাতেমা খাতুন, নাজিম উদ্দীন, রুবেল, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফরহাদ হোসেন, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের সাবেক কোষাধ্যক্ষ অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর এম আবদুস সালাম আজাদ ও রবিউল আউয়াল।

আরও পড়ুন:
গুজবের মধ্যে একটা ভালো সংবাদও অনেক গুরুত্বপূর্ণ: আইজিপি
ওসি হতে পারেন হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা: আইজিপি
পুলিশে শৃঙ্খলা ভাঙলে কঠোর ব্যবস্থা: আইজিপি
কনস্টেবল নিয়োগ হবে মেধা ও শারীরিক যোগ্যতায়: আইজিপি
কমিউনিটি ব্যাংকের লেনদেন বিকাশ দিয়ে

শেয়ার করুন

বিরোধী দল চাই, তবে রাষ্ট্রবিরোধী নয়: তাজুল ইসলাম

বিরোধী দল চাই, তবে রাষ্ট্রবিরোধী নয়: তাজুল ইসলাম

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘গণতান্ত্রিক দেশে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল অবশ্যই থাকবে। না থাকার কোনো সুযোগ নেই। আমরা শক্তিশালী ও গঠনমূলক বিরোধী দল চাই। তবে রাষ্ট্রবিরোধী ও স্বাধীনতাবিরোধী দল চাই না।'

দেশে শক্তিশালী বিরোধী দল চাইলেও রাষ্ট্রবিরোধী ও স্বাধীনতাবিরোধী দল চান না স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় সোমবার তিনি এ কথা বলেন।

রাজধানীর কাকরাইলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সভায় তাজুল ইসলাম বলেন, ‘গণতান্ত্রিক দেশে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল অবশ্যই থাকবে। না থাকার কোনো সুযোগ নেই। আমরা শক্তিশালী ও গঠনমূলক বিরোধী দল চাই। তবে রাষ্ট্রবিরোধী ও স্বাধীনতাবিরোধী দল চাই না।

‘যারা মানুষের অকল্যাণ বয়ে আনে তারা নয়, যে দল মানুষের কল্যাণে কাজ করবে তাদের চাই। বিরোধী দল সৃজনশীল হবে, সরকারের দোষ-ত্রুটি, ভুল-ভ্রান্তি জনগণের সামনে তুলে ধরে সরকারকে জবাবদিহির ব্যবস্থা করবে। এমন বিরোধী দল দেশে দরকার।’

তিনি বলেন, ‘এটা হলে সরকার তাদের দায়িত্ব পালনে আরও বেশি সতর্ক হবে। কিন্তু দেশকে ধ্বংস করে দেয়ার জন্য, উন্নয়নকে ব্যাহত করার জন্য এবং বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য চেষ্টায় থাকা বিরোধী দল না থাকা ভালো।

‘রাজনৈতিক দলের কাজ হচ্ছে দেশকে পরিচর্যা করা, মানুষের সেবা করা। ইচ্ছাকৃতভাবে দেশে অশান্তি সৃষ্টি করা না। আর এটা করার অধিকার কারও নেই। যত ষড়যন্ত্র করা হোক না কেন, সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছে যাব।’

বঙ্গবন্ধুর ছোট ছেলে শেখ রাসেলের স্মৃতিচারণা করে মন্ত্রী বলেন, ‘৭৫-এর ১৫ আগস্ট শেখ মুজিব এবং ছোট্ট শিশু রাসেলকে ঘাতকরা নির্মমভাবে হত্যা করে। রাসেল হত্যার নিষ্ঠুরতা যদি নতুন প্রজন্মের কাছে উপস্থাপন করা যায় তাহলে তারা সেদিনের নির্মমতা অনুধাবন করতে পারবে। শেখ রাসেল ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান। তাঁর সম্পর্কে বর্তমান প্রজন্মকে জানতে হবে। শেখ রাসেলের জীবনী পড়লে বর্তমান প্রজন্মের সৃজনশীলতা আরও বাড়বে।

‘শেখ রাসেলকে কেন হত্যা করা হয়েছে? তার কী দোষ ছিল? বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশ স্বাধীন করেছেন, মানুষের মুখে খাদ্য তুলে দিয়েছেন। তিনি সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তার জন্য কি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে? এসব প্রশ্ন আমাদের খুব ব্যথিত করে।’

আরও পড়ুন:
গুজবের মধ্যে একটা ভালো সংবাদও অনেক গুরুত্বপূর্ণ: আইজিপি
ওসি হতে পারেন হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা: আইজিপি
পুলিশে শৃঙ্খলা ভাঙলে কঠোর ব্যবস্থা: আইজিপি
কনস্টেবল নিয়োগ হবে মেধা ও শারীরিক যোগ্যতায়: আইজিপি
কমিউনিটি ব্যাংকের লেনদেন বিকাশ দিয়ে

শেয়ার করুন

আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্যের ৩ দিনের রিমান্ড

আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্যের ৩ দিনের রিমান্ড

নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা দলের সদস্য শামীম হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য শামীম হোসেনের তিন দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। মানিকগঞ্জের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৬ নম্বর আদালতের বিচারক শাকিল আহমদ সোমবার বিকেল ৪টার দিকে এ রায় দেন।

নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য শামীম হোসেনের তিন দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত।

মানিকগঞ্জের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৬ নম্বর আদালতের বিচারক শাকিল আহমদ সোমবার বিকেল ৪টার দিকে এ রায় দেন।

এর আগে দুপুরে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠায় পুলিশের বিশেষ টিম এন্টি টেররিজম ইউনিট।

গ্রেপ্তার শামীম শিবালয় উপজেলার শিমুলিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

মানিকগঞ্জের কোর্ট ইন্সপেক্টর মনিরুল ইসলাম রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শামীম নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের একজন সক্রিয় সদস্য। ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক, মেসেঞ্জার, টেলিগ্রামে উগ্রবাদী কন্টেন্ট প্রচার ও উগ্রবাদী বই দেয়া-নেয়া করতেন।

গোপন তথ্যের মাধ্যমে এন্টি টেররিজম ইউনিট শিমুলিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে বেশ কিছু জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়।

তার বিরুদ্ধে শিবালয় থানায় এন্টি টেররিজম ইউনিটের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়।

আরও পড়ুন:
গুজবের মধ্যে একটা ভালো সংবাদও অনেক গুরুত্বপূর্ণ: আইজিপি
ওসি হতে পারেন হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা: আইজিপি
পুলিশে শৃঙ্খলা ভাঙলে কঠোর ব্যবস্থা: আইজিপি
কনস্টেবল নিয়োগ হবে মেধা ও শারীরিক যোগ্যতায়: আইজিপি
কমিউনিটি ব্যাংকের লেনদেন বিকাশ দিয়ে

শেয়ার করুন

আয় কমেছে সিঙ্গারের

আয় কমেছে সিঙ্গারের

তৃতীয় প্রান্তিকের আয় মিলিয়ে গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে সিঙ্গারের আয় দাঁড়িয়েছে ৫ টাকা ৯৭ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় ছিল ৬ টাকা ২৯ পয়সা।

জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে ব্যবসা খারাপ হওয়ার প্রভাবে চলতি অর্থবছরে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানি সিঙ্গার বিডির আয় কমে গেছে।

জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় তিন ভাগের এক ভাগ হয়ে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে।

এই তিন মাসে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ২৮ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে শেয়ার প্রতি আয় ছিল ৪ টাকা ২৮ পয়সা।

সোমবার কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ তৃতীয় প্রান্তিকের এই অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর তা প্রকাশ করে।

তৃতীয় প্রান্তিকের আয় মিলিয়ে গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে সিঙ্গারের আয় দাঁড়িয়েছে ৫ টাকা ৯৭ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় ছিল ৬ টাকা ২৯ পয়সা।

গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আর্থিক হিসাবে কোম্পানিটি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ আয় করেছিল। চলতি বছর শেয়ার প্রতি এই আয় ছিল ৪ টাকা ৬৯ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ২ টাকা ২ পয়সা।

আয় কিছুটা কমলেও কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদমূল্য বাড়ছে। সেপ্টেম্বর শেষে এই সম্পদমূল্য হয়েছে ৩৫ টাকা। গত ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছর শেষে শেয়ার প্রতি এই সম্পদমূল্য ছিল ৩২ টাকা ১৯ পয়সা।

গত অর্থবছরে শেয়ার প্রতি ৭ টাকা ৮৫ পয়সা আয় করে সিঙ্গার ৩ টাকা করে লভ্যাংশ দিয়েছিল।

কোম্পানিটির শেয়ারদর গত এক বছরে ১৫৮ টাকা ৫০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ২১৪ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত উঠানামা করেছে।

গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া বাজার সংশোধনে অন্যান্য কোম্পানির পাশাপাশি মৌলভিত্তির এই কোম্পানিটির শেয়ারও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে দর হারিয়েছে।

এই আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের দিন শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ১৮৩ টাকা ২০ পয়সা।

গত ৫ সপ্তাহে শেয়ারদর কমেছে ২৫ টাকার বেশি।

আরও পড়ুন:
গুজবের মধ্যে একটা ভালো সংবাদও অনেক গুরুত্বপূর্ণ: আইজিপি
ওসি হতে পারেন হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা: আইজিপি
পুলিশে শৃঙ্খলা ভাঙলে কঠোর ব্যবস্থা: আইজিপি
কনস্টেবল নিয়োগ হবে মেধা ও শারীরিক যোগ্যতায়: আইজিপি
কমিউনিটি ব্যাংকের লেনদেন বিকাশ দিয়ে

শেয়ার করুন