পিইসি পরীক্ষা বাতিলের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে

পিইসি পরীক্ষা বাতিলের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে

ফাইল ছবি

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘শুরু থেকে আমরা পরীক্ষা নেয়ার পক্ষে ছিলাম, কিন্তু অষ্টম শ্রেণির জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় বর্তমানে পঞ্চম শ্রেণির পিইসি-ইইসি পরীক্ষা নেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাবনা হিসেবে সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে। তিনি সম্মতি দিলে পরীক্ষা বাতিলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হবে।’

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে চলতি বছরের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী (ইইসি) পরীক্ষা নভেম্বরের শেষে অথবা ডিসেম্বরে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এখন এ পরীক্ষা বাতিলে প্রাধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিলেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হবে বলে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন।

তিনি বলেন, ‘শুরু থেকে আমরা পরীক্ষা নেয়ার পক্ষে ছিলাম, কিন্তু অষ্টম শ্রেণির জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় বর্তমানে পঞ্চম শ্রেণির পিইসি-ইইসি পরীক্ষা নেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাবনা হিসেবে সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে। তিনি সম্মতি দিলে পরীক্ষা বাতিলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হবে।’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো প্রস্তাবে বলা হয়েছে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি এবং শ্রেণিকক্ষে শিখন-শেখানো কার্যক্রম বিবেচনাক্রমে ২০২১ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা গ্রহণের পরিবর্তে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মূল্যায়ন করে তাদেরকে পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত করা যেতে পারে।

গত ৬ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে নভেম্বর-ডিসেম্বরে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।’

এর আগে ২৮ সেপ্টেম্বর গত বছরের মতো চলতি বছরও অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও মাদ্রাসার জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা হবে না বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

তিনি বলেছিলেন, ‘মনে হয় না জেএসসি নেয়ার সুযোগ পাব। সামনেই এসএসসি-এইচএসসি আছে। তবে আমাদের শ্রেণি সমাপনীটা সব ক্লাসে হবে। সেটা অষ্টম শ্রেণিরও হবে।’

এর আগে গত ৩ অক্টোবর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘চলতি বছরের পিইসি-ইইসি পরীক্ষা কেন্দ্রীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে না। পরীক্ষা নেয়ার জন্য যেসব প্রস্তুতি প্রয়োজন হয়, তা এখনও শুরুই করা হয়নি। এর পরিবর্তে নিজ নিজ স্কুল ও মাদ্রাসায় নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে না হলেও নিজ নিজ বিদ্যালয় একটি পরীক্ষা নিয়ে মূল্যায়ন করবে। কারণ ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য একটি সার্টিফিকেট শিক্ষার্থীর প্রয়োজন হবে। এ ছাড়া ওয়ার্কশিটের মাধ্যমে মূল্যায়ন অথবা কিছু নম্বর যোগ করার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা চলছে।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। এর প্রায় দেড় বছর পর গত ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল-কলেজে ক্লাস শুরু হয়। তবে প্রতিদিন সব শ্রেণিতে ক্লাস হচ্ছে না।

শুধু চলতি বছরের ও আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ক্লাস নেয়া হচ্ছে। আর অন্যান্য শ্রেণির মধ্যে তৃতীয়, চতুর্থ, অষ্টম, নবম শ্রেণিতে দুই দিন এবং অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এক দিন ক্লাসে আসতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সব শিক্ষার্থীকে হলে তুলতে শিগগির সিদ্ধান্ত: ঢাবি ভিসি
খুলল ঢাবির হল, উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা
লক্ষ্মীপুরে প্রাথমিকের দুই শিক্ষার্থীর করোনা
চলতি মাসেই খুলছে বিশ্ববিদ্যালয়
আলিম পরীক্ষা শুরু ২ ডিসেম্বর

শেয়ার করুন

মন্তব্য

এসএসসির প্রবেশপত্র বিতরণ ৩ নভেম্বর

এসএসসির প্রবেশপত্র বিতরণ ৩ নভেম্বর

অফিস আদেশে বলা হয়, ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র বিতরণ শুরু হবে ৩ নভেম্বর। কেন্দ্র সচিব নিজে অথবা তার প্রাধিকারপ্রাপ্ত কোনো শিক্ষককে (স্বাক্ষর সত্যায়িতসহ) কেন্দ্রের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশপত্র অফিস চলাকালীন নিতে হবে।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রবেশপত্র বিতরণ শুরু হবে ৩ নভেম্বর। পরে ৪ থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত প্রবেশপত্রে কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধন করা যাবে।

রোববার ঢাকা শিক্ষা বোডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম আমিরুল ইসলামের সই করা অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা যায়।

অফিস আদেশে বলা হয়, ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র বিতরণ শুরু হবে ৩ নভেম্বর। কেন্দ্র সচিব নিজে অথবা তার প্রাধিকারপ্রাপ্ত কোনো শিক্ষককে (স্বাক্ষর সত্যায়িতসহ) কেন্দ্রের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশপত্র অফিস চলাকালীন নিতে হবে।

আরও বলা হয়, কোনো অবস্থাতেই শিক্ষক ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তিকে প্রবেশপত্র নিতে পারবেন না। তিনি নিজ কেন্দ্রাধীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশপত্র ৩ নভেম্বর বিতরণ করবেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান প্রবেশপত্র যাচাই করে কোনো ক্রটি বা সমস্যা সংশোধন করার জন্য ৪ নভেম্বর থেকে ১১ নভেম্বরের মধ্যে শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) এর কাছে ছক অনুযায়ী আবেদনপত্র জমা দিয়ে সংশোধন করতে পারবেন।

পরীক্ষার কোনো জটিলতার সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানরা দায়ী থাকবেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

চলতি বছরে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে ১৪ নভেম্বর। তা চলবে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত। এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে শুধু নৈর্বাচনিক বিষয়ে।

অন্য আবশ্যিক বিষয়ে আগের পাবলিক পরীক্ষার সাবজেক্ট ম্যাপিং করে মূল্যায়নের মাধ্যমে নম্বর দেয়া হবে। এবার চতুর্থ বিষয়েরও পরীক্ষা নেয়া হবে না।

নির্ধারিত সূচিতে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা ৩০ মিনিট এবং বেলা ২টা থেকে ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা হবে।

কবে কোন পরীক্ষা

১৪ নভেম্বর পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়), ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা ও হিসাববিজ্ঞান এবং ১৬ নভেম্বর রসায়ন (তত্ত্বীয়), ১৮ নভেম্বর শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া (তত্ত্বীয়), ২১ নভেম্বর ভূগোল ও পরিবেশ ও ফিন্যান্স ও ব্যাকিং, ২২ নভেম্বর উচ্চতর গণিত (তত্ত্বীয়) ও জীববিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) এবং ২৩ নভেম্বর পৌরনীতি ও নাগরিকতা, অর্থনীতি ও ব্যবসায় উদ্যোগ পরীক্ষা হবে।

যত নম্বরে পরীক্ষা

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার নম্বর বিভাজন প্রকাশ করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। এসএসসি ও এইচএসসির বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থীরা প্রতি বিষয়ে ৩২ নম্বরের পরীক্ষায় অংশ নেবে। এর মধ্যে রচনামূলক ২০ নম্বর ও এমসিকিউতে (নৈর্ব্যক্তিকে) থাকবে ১২ নম্বর। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের বিষয়গুলোয় শিক্ষার্থীরা ৪৫ নম্বরের পরীক্ষা দেবে। এর মধ্যে ৩০ নম্বর রচনামূলক ও ১৫ নম্বরের নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। রচনামূলক ও নৈর্ব্যক্তিকের নম্বরকে ১০০ নম্বরে রূপান্তর করে প্রাপ্ত নম্বর নির্ধারণ করা হবে।

এসএসসির নম্বর বিভাজন

বিজ্ঞান: ঢাকা বোর্ড প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার নম্বর বিভাজনে বলা হয়েছে, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, উচ্চতর গণিত ও জীববিজ্ঞান বিষয়ে পরীক্ষার রচনামূলক অংশে শিক্ষার্থীদের ৩২ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হবে। এর মধ্যে রচনামূলক ২০ আর নৈর্ব্যক্তিক অংশে ১২ নম্বরের পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে পরীক্ষার্থীদের।

বিজ্ঞান বিভাগের রচনামূলক অংশে ৮টি প্রশ্ন থাকলেও যেকোনো দু’টির উত্তর দিতে হবে শিক্ষার্থীদের। ১০ করে ২০ নম্বর। নৈর্ব্যক্তিক অংশে ২৫টি প্রশ্নের মধ্যে ১২টির উত্তর দিতে হবে। এখানে নম্বর ১২। মোট ৩২ নম্বরের পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষা বোর্ড বলছে, বিজ্ঞানে শিক্ষার্থীদের ২০ নম্বরকে ৫০ ও নৈর্ব্যক্তিকের ১২ নম্বরকে ২৫ নম্বরে রূপান্তর করে মোট প্রাপ্ত নম্বর নির্ধারণ করা হবে।

মানবিক ও ব্যবসায়:এসএসসির মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ৪৫ নম্বরের পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। রচনামূলকে ৩০ নম্বর ও নৈর্ব্যক্তিকে ১৫ নম্বরের পরীক্ষা হবে। এর মধ্যে রচনামূলক অংশে ১১টি প্রশ্ন থাকলেও উত্তর দিতে হবে যেকোনো ৩টির। প্রতিটির মান ১০। নৈর্ব্যক্তিকে ৩০টি প্রশ্ন থাকলেও উত্তর দিতে হবে ১৫টির। প্রতিটি প্রশ্নের জন্য ১ নম্বর করে মোট ১৫।

মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ৩০ নম্বরকে ৭০ ও নৈর্ব্যক্তিকের ১৫ নম্বরকে ৩০ নম্বরে রূপান্তর করে শিক্ষার্থীদের মোট নম্বর নির্ধারণ করবে বোর্ড। প্রতিটি বিষয়ের পরীক্ষা ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিটে হবে। রচনামূলক ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট ও নৈর্ব্যক্তিকে সময় ১৫ মিনিট।

আরও পড়ুন:
সব শিক্ষার্থীকে হলে তুলতে শিগগির সিদ্ধান্ত: ঢাবি ভিসি
খুলল ঢাবির হল, উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা
লক্ষ্মীপুরে প্রাথমিকের দুই শিক্ষার্থীর করোনা
চলতি মাসেই খুলছে বিশ্ববিদ্যালয়
আলিম পরীক্ষা শুরু ২ ডিসেম্বর

শেয়ার করুন

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় কুবিতে অনুপস্থিত ১১৪ জন

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় কুবিতে অনুপস্থিত ১১৪ জন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বি’ ইউনিটের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা

পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এমরান কবির চৌধুরী বলেন, ‘আমরা কড়া নিরাপত্তার আওতায় সব বিধি সম্পন্ন করে এবং সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পেরেছি।’

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বি’ ইউনিটের (মানবিক বিভাগ) গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা।

এক ঘণ্টার এই পরীক্ষা রোববার দুপুর ১২টায় শুরু হয়ে শেষ হয় দুপুর ১টায়। এই কেন্দ্রে ২ হাজার ৫০৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ২ হাজার ৩৯১ জন। অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১১৪। উপস্থিতির হার প্রায় ৯৬ শতাংশ।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষা শুরু হওয়ার ৭ এবং ২২ মিনিট পর দুইজন শিক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মানবিক বিবেচনায় তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেয়।

এ ছাড়া বিভিন্ন কারণে দেরিতে আসা শিক্ষার্থীদের সঠিক সময়ে হলে পৌঁছে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের জয় বাংলা বাইক সার্ভিস।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটক থেকেই বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠন, রোভার, বিএনসিসি সার্বিক সহায়তা করেছে।

পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থী উম্মে হানি বলেন, ‘পরীক্ষা দিতে এসে কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সঠিকভাবে পরীক্ষা দিতে পেরেছি এবং সকলেই সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ করেছে।’

মো. মোস্তফা নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘পরীক্ষা দিতে আসার পর কোনো প্রতিবন্ধকতা আসেনি। সবকিছু ঠিক ছিল।’

পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এমরান কবির চৌধুরী বলেন, ‘আমরা কড়া নিরাপত্তার আওতায় সব বিধি সম্পন্ন করে এবং সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পেরেছি।’

‘বি’ ইউনিটের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক এম এম শরীফুল করীম বলেন, “সবার সার্বিক সহযোগিতায় আমরা ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা সুষ্ঠভাবে শেষ করতে পেরেছি।”

দেশের ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবারই প্রথম গুচ্ছভুক্ত হয়ে ভর্তি পরীক্ষা নিচ্ছে। এতে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগ মিলিয়ে আসন রয়েছে ২২ হাজার ১৩টি। এর বিপরীতে আবেদন করেছেন ২ লাখ ৩২ হাজার ৪৫৫ জন শিক্ষার্থী।

এর মধ্যে ‘এ’ ইউনিটে ১ লাখ ৩১ হাজার ৯০১ জন, ‘বি’ ইউনিটে ৬৭ হাজার ১১৭ জন এবং ‘সি’ ইউনিটে ৩৩ হাজার ৪৩৭ শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন।

আরও পড়ুন:
সব শিক্ষার্থীকে হলে তুলতে শিগগির সিদ্ধান্ত: ঢাবি ভিসি
খুলল ঢাবির হল, উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা
লক্ষ্মীপুরে প্রাথমিকের দুই শিক্ষার্থীর করোনা
চলতি মাসেই খুলছে বিশ্ববিদ্যালয়
আলিম পরীক্ষা শুরু ২ ডিসেম্বর

শেয়ার করুন

হলের ছাদের পলেস্তারায় ঢাবি শিক্ষার্থী আহত

হলের ছাদের পলেস্তারায় ঢাবি শিক্ষার্থী আহত

আহত কামরুল হাসান বলেন, ‘আমি ঘুমাচ্ছিলাম। হঠাৎ ওপর থেকে খসে পড়া পলেস্তারার আঘাতে আমার ঘুম ভেঙে যায়। কপালে হাত দিয়ে দেখি রক্ত। এই পলেস্তারা আমার কপালে না পড়ে চোখেও পড়তে পারত। সবাই ঘুম থেকে উঠে দিনের আলো দেখলেও আমি হয়তো আজ চোখের আলো হারাতাম।’

ঘুমন্ত অবস্থায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে রুমের ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে আহত হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী।

রোববার ভোরে হলের ১৩৬ নং রুমে এ ঘটনা ঘটে। আহত কামরুল হাসান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

১৩৬ নং রুমটিতে চার বেডে আটজন শিক্ষার্থী থাকেন। এর মধ্যে একটি বেডে থাকেন কামরুল ও রুমান। রুমান ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থী। ঘটনার সময় রুমান বাড়িতে ছিলেন।

কামরুল হাসানের আরেক রুমমেট আরফাত চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আজ সকাল ছয়টার দিকে আমি পড়ছিলাম। তখন হঠাৎ আওয়াজ হয়। পাশে তাকিয়ে দেখি কামরুল হাসানের ওপর পলেস্তারা পড়েছে। তার কপাল ফেটে যায়। রক্ত চলে আসে। তবে গুরুতর কিছু না হওয়ায় সে ক্লাসে চলে যায়।’

কামরুল হাসান বলেন, ‘আমি ঘুমাচ্ছিলাম। হঠাৎ ওপর থেকে খসে পড়া পলেস্তারার আঘাতে আমার ঘুম ভেঙে যায়। কপালে হাত দিয়ে দেখি রক্ত। এই পলেস্তারা আমার কপালে না পড়ে চোখেও পড়তে পারত। সবাই ঘুম থেকে উঠে দিনের আলো দেখলেও আমি হয়তো আজ চোখের আলো হারাতাম।’

কামরুল বলেন, ‘আজকে হয়তোবা আমার চোখ রক্ষা পেয়েছে, কিন্তু ভবিষ্যতে হলের প্রায় ২ হাজার শিক্ষার্থীর জীবন কি রক্ষা হবে? এসব দেখার কি কেউ আছে? হল কর্তৃপক্ষ ঐতিহ্যের অজুহাত দিয়ে আমাদের হলটি বৃহৎ আকারে সংস্কার করছে না। শিক্ষার্থীদের জীবনের চেয়ে তাদের কাছে ঐতিহ্য রক্ষা বড় হয়ে গেছে। প্রশাসনের কাছে কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ, শিক্ষার্থীদের জীবনের নিরাপত্তা নাকি ঐতিহ্য রক্ষা করা।’

ঘটনার পরপরই প্রাধ্যক্ষকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হলের কর্মচারী তত্ত্বাবধায়ক হালিম। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমি স্যারকে জানিয়েছি। বেলা ১১টার দিকে আমি সেই রুমে যাই। রুমের ছাদ থেকে খসে পড়তে পারে এ রকম পলেস্তারা ফেলে দিয়ে চলে আসি।’

তবে বিকেল পর্যন্ত ঘটনাস্থলে আসেননি হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মজিবুর রহমান।

বিষয়টি জানাতে তিনবার প্রভোস্ট অফিসে গেলেও একবারও প্রভোস্টের সাক্ষাৎ পাননি বলে জানান ভুক্তভোগী কামরুল হাসান।

হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১৭ সালে একবার এবং সবশেষ ২০১৯ সালের শুরুতে হলের ঝুঁকিপূর্ণ সব রুমের ছাদে নতুন পলেস্তারা লাগানো হয়। তবে তা বেশি দিন স্থায়ী হয়নি।

হল তত্ত্বাবধায়ক আবদুল হালিম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশন হলের ঝুঁকিপূর্ণ রুমগুলোর ছাদে নতুন করে পলেস্তারা লাগিয়ে দিয়েছিল। তবে পলেস্তারা লাগানোর পর এসবে পানি দেয়া প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু রুমগুলোতে শিক্ষার্থীরা উঠে যাওয়ায় আর পানি দেয়া সম্ভব হয়নি।

পলেস্তারা খসে পড়ার বিষয়টি অবগত আছেন বলে জানালেন প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মজিবুর রহমান। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। আমি এখন একটা নিয়োগ বোর্ডের ভাইভাতে আছি। ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশনকে বলেছি তারা যেন হলের প্রতিটি রুম চেক করে। আর আহত শিক্ষার্থীর দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে আমি হলে বলে দিচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
সব শিক্ষার্থীকে হলে তুলতে শিগগির সিদ্ধান্ত: ঢাবি ভিসি
খুলল ঢাবির হল, উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা
লক্ষ্মীপুরে প্রাথমিকের দুই শিক্ষার্থীর করোনা
চলতি মাসেই খুলছে বিশ্ববিদ্যালয়
আলিম পরীক্ষা শুরু ২ ডিসেম্বর

শেয়ার করুন

চুল কর্তন: মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলনের চেষ্টা

চুল কর্তন: মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলনের চেষ্টা

দুপুরের দিকে অনশনে বক্তব্য দেয়ার সময় পকেট থেকে ছোট বোতল বের করে তরল জাতীয় কিছু পান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মো. শামীম। তিনি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগে পড়েন। এর পরপরই শিক্ষার্থীরা বগুড়া-নগরবাড়ি মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। 

সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় দিনের অনশনে বগুড়া-নগরবাড়ি মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের বহিষ্কারের দাবিতে চলা এই কর্মসূচিতে এক শিক্ষার্থী ‘বিষপানে’ আত্মহত্যার চেষ্টা করলে সড়ক অবরোধে একজোট হন আন্দোলনকারীরা।

তবে স্থানীয়দের অনুরোধে তারা সড়ক থেকে সড়ে যান।

বিশ্ববিদ্যালয়ে বিসিক বাসস্ট্যান্ড এলাকার একাডেমিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে রোববার সকাল থেকে এই কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

দুপুরের দিকে অনশনে বক্তব্য দেয়ার সময় পকেট থেকে ছোট বোতল বের করে তরল জাতীয় কিছু পান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মো. শামীম। তিনি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগে পড়েন।

এর পরপরই শিক্ষার্থীরা বগুড়া-নগরবাড়ি মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন।

আন্দোলনরত আরেক শিক্ষার্থী সোহেল মাহমুদ জানান, শামীকে সঙ্গে সঙ্গে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়।

হাসপাতালের চিকিৎসক সোহেল রানা নিউজবাংলাকে জানান, শামীমকে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তিনি শঙ্কামুক্ত।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আবু জাফর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা শনিবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সামনে আমরণ অনশন শুরু করেছি। শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে বহিষ্কার করা না পর্যন্ত এই আন্দোলন চলিয়ে যাব।’

এদিকে রোববার সকালে তদন্ত কমিটির প্রধান সহ অন্যান্য শিক্ষকেরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কাছে যান, তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। সিন্ডিকেট সভায় আইনী প্রক্রিয়ায় এ সমস্যার সমাধান হবে বলেও মনে করেন তারা। তবে তাদের কধায় শিক্ষার্থীরা আশ্বস্ত না হয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে রবীন্দ্র উপাচার্য ও ট্রেজারার আব্দুল লতিফের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে শুক্রবার বিকেলে ঢাকা অফিসে সিন্ডকেট বৈঠক ডাকেন ভিসি। বৈঠক হলেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এ বিষয়ে আন্দোলনকারীদের পক্ষে শিক্ষার্থী শামীম হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুক্রবারের সিন্ডিকেট বৈঠকে শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিনকে স্থায়ীভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত আশা করেছিলাম, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে আমাদের পরীক্ষার হলে ফিরে যেতে বলে। আমরা তাদের এ আদেশ গ্রহণ না করে শিক্ষিকা ফারহানার বহিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত আবারও আন্দোলন শুরু করেছি।’

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (দায়িত্বপ্রাপ্ত) ও কোষাধ্যক্ষ আব্দুল লতিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

চুল কর্তন: মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলনের চেষ্টা

২৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার হলে ঢোকার সময় বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন দরজায় কাঁচি হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। শিক্ষার্থীরা হলে ঢোকার সময় যাদের মাথার চুল হাতের মুঠোর মধ্যে ধরা যায়, তাদের সামনের অংশের বেশ খানিকটা কেটে দেন তিনি। এভাবে ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেন ওই শিক্ষক।

ওই ঘটনা নিয়ে শিক্ষার্থীরা ফেসবুকে পোস্ট দিলে বিষয়টি ভাইরাল হয়। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। শিক্ষক ফারহানার শাস্তির দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে দফায় দফায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বৈঠক হয়। মীমাংসা না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ফারহানা ইয়াসমিন শিক্ষার্থীদের গালাগালি করে পরীক্ষার হলে যেতে বাধ্য করেন। এর প্রতিবাদ করলে নাজমুল হাসান তুহিন নামের প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে গালাগালি করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের হুমকি দেন।

ওই ঘটনার পর ‘অপমান সইতে না পেরে’ তুহিন রাতে দ্বারিয়াপুরের শাহ মখদুম ছাত্রাবাসের নিজ কক্ষে দরজা আটকে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। সহপাঠীরা বিষয়টি টের পেয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ ঘটনার পর থেকে শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের শাস্তির দাবিতে দফায় দফায় আন্দোলন করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন:
সব শিক্ষার্থীকে হলে তুলতে শিগগির সিদ্ধান্ত: ঢাবি ভিসি
খুলল ঢাবির হল, উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা
লক্ষ্মীপুরে প্রাথমিকের দুই শিক্ষার্থীর করোনা
চলতি মাসেই খুলছে বিশ্ববিদ্যালয়
আলিম পরীক্ষা শুরু ২ ডিসেম্বর

শেয়ার করুন

গুচ্ছ পদ্ধতির ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুরু

গুচ্ছ পদ্ধতির ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুরু

গুচ্ছ পদ্ধতির ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন অর্ধ লক্ষাধিক ভর্তিচ্ছু। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

সূচি অনুযায়ী, দেশজুড়ে ২২টি কেন্দ্রে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে বেলা ১২টায়; শেষ হবে দুপুর ১টায়। এই ইউনিটে আবেদন করেছেন ৬৭ হাজার ১১৭ জন।

একসঙ্গে ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষার ‘বি’ ইউনিটের (মানবিক বিভাগ) পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এতে অংশগ্রহণ করেছেন অর্ধ লাখের বেশি শিক্ষার্থী।

সূচি অনুযায়ী, দেশজুড়ে ২২টি কেন্দ্রে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে বেলা ১২টায়; শেষ হবে দুপুর ১টায়। এই ইউনিটে আবেদন করেছেন ৬৭ হাজার ১১৭ জন।

গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল কমিটির আহ্বায়ক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মুনাজ আহমেদ নূর বলেন, ‘আজ ‘বি’ ইউনিট হচ্ছে। ১ নভেম্বর ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষা হবে। পরীক্ষায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সবাইকে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানার অনুরোধ করছি।’

এর আগে গত ১৭ অক্টোবর গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা হয়। ২০ অক্টোবর এ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়।

কোন ইউনিটে আবেদন কত

দেশের ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবারই প্রথম গুচ্ছভুক্ত হয়ে ভর্তি পরীক্ষা নিচ্ছে। এতে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগ মিলিয়ে আসন রয়েছে ২২ হাজার ১৩টি। এর বিপরীতে আবেদন করেছেন ২ লাখ ৩২ হাজার ৪৫৫ জন শিক্ষার্থী।

এর মধ্যে ‘এ’ ইউনিটে ১ লাখ ৩১ হাজার ৯০১ জন, ‘বি’ ইউনিটে ৬৭ হাজার ১১৭ জন এবং ‘সি’ ইউনিটে ৩৩ হাজার ৪৩৭ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন।

পরীক্ষার মানবণ্টন

গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল কমিটি জানিয়েছে, সব বিভাগেই ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হবে। মানবিক বিভাগের ক্ষেত্রে বাংলায় ৪০, ইংরেজিতে ৩৫ ও আইসিটিতে ২৫ নম্বরের পরীক্ষা হবে।

বিজ্ঞান বিভাগের ক্ষেত্রে বাংলায় ১০, ইংরেজিতে ১০, রসায়নে ২০ ও পদার্থবিজ্ঞানে থাকবে ২০ নম্বর। বাকি ৪০ নম্বর আইসিটিতে।

ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের হিসাববিজ্ঞানে ২৫, ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনায় ২৫, বাংলায় ১৩, ইংরেজিতে ১২ ও আইসিটিতে ২৫ নম্বরের পরীক্ষা হবে।

সব ইউনিটে ভুল উত্তরের জন্য কাটা হবে নম্বর। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ কাটা যাবে।

বিভাগ পরিবর্তন যেভাবে

বিভাগ পরিবর্তনের জন্য আলাদাভাবে কোনো পরীক্ষা নেয়া হবে না। একজন শিক্ষার্থী কেবল একটি পরীক্ষায়ই অংশ নেবেন। বিভাগ পরিবর্তন করতে চাইলে সেই পরীক্ষায় পাওয়া নম্বরের ভিত্তিতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুসারে মাইগ্রেশন করে ভর্তি হতে পারবেন।

এসএসসি ও এইচএসসির ফল

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় পাওয়া নম্বরের পাশাপাশি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলও হিসাবে আনা হয়। গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এসএসসি, এইচএসসিতে পাওয়া জিপিএর ভিত্তিতে তাদের নিজস্ব শর্তে ভর্তির সুযোগ দেবে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শর্ত ভিন্ন ভিন্নও হতে পারে।

২০১৯ ও ২০২০ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ফার্স্ট টাইম ও সেকেন্ড টাইম নির্ধারণ করে শিক্ষার্থী ভর্তির সিদ্ধান্ত নেবে নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়।

আরও পড়ুন:
সব শিক্ষার্থীকে হলে তুলতে শিগগির সিদ্ধান্ত: ঢাবি ভিসি
খুলল ঢাবির হল, উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা
লক্ষ্মীপুরে প্রাথমিকের দুই শিক্ষার্থীর করোনা
চলতি মাসেই খুলছে বিশ্ববিদ্যালয়
আলিম পরীক্ষা শুরু ২ ডিসেম্বর

শেয়ার করুন

এইচএসসির ফরম পূরণে সময় ফের বাড়ল

এইচএসসির ফরম পূরণে সময় ফের বাড়ল

ফরম পূরণ চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। আর ফি জমা দেয়া যাবে ২ নভেম্বর পর্যন্ত। এইচএসসির ফরম পূরণে এ নিয়ে দুই দফা সময় বাড়ল। এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর সময় বাড়ানো হয়।

চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় আরেক দফা বাড়ানো হয়েছে। ফরম পূরণ চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। আর ফি জমা দেয়া যাবে ২ নভেম্বর পর্যন্ত।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এম এম আমিরুল ইসলামের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সময় বৃদ্ধির কথা শনিবার জানানো হয়।

এইচএসসির ফরম পূরণে এই নিয়ে দুই দফা সময় বাড়ল। এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর সময় বাড়ানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফরম পূরণের কার্যক্রম সম্পূর্ণ অনলাইনে হবে। কোনো অবস্থায় শিক্ষার্থী বা অভিভাবক সশরীরে প্রতিষ্ঠানে যেতে পারবেন না। করোনার কারণে এবার কোনো নির্বাচনি পরীক্ষা হবে না। তাই এ-সংক্রান্ত কোনো ফি নেয়া যাবে না। কোনো প্রতিষ্ঠান এসব আইন অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।

আরও বলা হয়, কেবল বৈধ রেজিস্ট্রেশনধারী শিক্ষার্থীরা ফরম পূরণ করতে পারবেন। অনুমোদনহীন রেজিস্ট্রেশনধারী শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করলে কোনো ধরনের যোগাযোগ ছাড়াই সেটি বাতিল করা হবে।

গত ১২ আগস্ট থেকে এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু হয়। ২৫ আগস্ট পর্যন্ত ফরম পূরণের সুযোগ দেয়া হয়। পরে সময় বাড়িয়ে ৩১ আগস্ট করা হয়। ১৬ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের আবারও ফরম পূরণের সুযোগ দেয়া হয়েছিল।

কোন বিভাগে কত ফি

বিজ্ঞান বিভাগে ফরম পূরণের জন্য ১ হাজার ১৬০ টাকা, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১ হাজার ৭০ টাকা ফি ধরা হয়েছে। নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা যাবে না। এ-সংক্রান্ত কোনো তথ্য দৃষ্টিগোচর হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ফরম পূরণ প্যানেল বন্ধ করাসহ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কন্ট্রোল রুম

এইচএসসির ফরম পূরণসংক্রান্ত কোনো সমস্যা বা অতিরিক্ত অর্থ আদায় করলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে দেয়া ফোন নম্বরগুলো হলো: ০২-৯৬৬৯৮১৫, ০২-৫৬৬১১০১৮১, ০২-৫৮৬১০২৪৮, ০১৬১০৭১১৩০৭, ০১৬২৫৬৩৮৫০৮ এবং ০১৭২২৭৯৭৯৬৩।

চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে ২ ডিসেম্বর, চলবে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে শুধু নৈর্বাচনিক বিষয়ে। অন্যান্য আবশ্যিক বিষয়ে আগের পাবলিক পরীক্ষার সাবজেক্ট ম্যাপিং করে মূল্যায়নের মাধ্যমে নম্বর দেয়া হবে।

এ ছাড়া চতুর্থ বিষয়েরও পরীক্ষা নেয়া হবে না। নির্ধারিত দিনে সকাল ১০টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট এবং বেলা ২টা থেকে ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর ২০২০ সালের ১৭ মার্চ সারা দেশে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। এর প্রায় দেড় বছর পর গত ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল-কলেজে ক্লাস শুরু হয়। তবে প্রতিদিন সব শ্রেণিতে ক্লাস হচ্ছে না।

শুধু চলতি বছরের ও আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ক্লাস নেয়া হচ্ছে। আর অন্যান্য শ্রেণির মধ্যে তৃতীয়, চতুর্থ, অষ্টম, নবম শ্রেণিতে দুই দিন এবং অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এক দিন ক্লাসে আসতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সব শিক্ষার্থীকে হলে তুলতে শিগগির সিদ্ধান্ত: ঢাবি ভিসি
খুলল ঢাবির হল, উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা
লক্ষ্মীপুরে প্রাথমিকের দুই শিক্ষার্থীর করোনা
চলতি মাসেই খুলছে বিশ্ববিদ্যালয়
আলিম পরীক্ষা শুরু ২ ডিসেম্বর

শেয়ার করুন

ভবিষ্যতে শ্রেণিকক্ষের বদলে অনলাইন ক্লাস বাড়বে

ভবিষ্যতে শ্রেণিকক্ষের বদলে অনলাইন ক্লাস বাড়বে

শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের পাশাপাশি বাইরে থেকে যেন শিখতে পারে, সে বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে। ছবি: সংগৃহীত

এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের পাশাপাশি বাইরে থেকে যেন শিখতে পারে, সে বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে। শ্রেণিকক্ষ থেকেই যে শিক্ষার্থীরা সবকিছু শিখবে, সেটি আর থাকবে না ভবিষ্যতে। তাই ডিজিটাল ক্লাসের সংখ্যা বাড়বে।’

করোনার ঝুঁকি এবং যুগের চাহিদা মেটাতে স্কুল-কলেজের পাঠদান কার্যক্রমে আমূল পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে স্কুল-কলেজে সরাসরি পাঠদানের সংখ্যা কমবে, বাড়বে অনলাইন ক্লাসের সংখ্যা।

এ ছাড়া পর্যায়ক্রমে ছাপা বইয়ের পরিবর্তে বিনা মূল্যে ট্যাবলেট কম্পিউটার (ট্যাব) বিতরণ এবং ‘শিক্ষা ইন্টারনেট প্যাকেজ’ চালুর কথা ভাবা হচ্ছে।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে মহামারির ঝুঁকি বা এ ধরনের সংকটে ভবিষ্যতে দীর্ঘ সময় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার বাইরে থাকবে না। আর এতে শিক্ষার্থীদের কোচিং এবং প্রাইভেট টিউটর নির্ভরতাও কমবে।

গত আগস্টে অনুষ্ঠিত এনসিটিবি প্রণীত পাঠ্যক্রম অনুসারে প্রাক-প্রাথমিক থেকে ১২তম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যক্রমসংক্রান্ত ভার্চুয়াল সভায় এসব সুপারিশ করা হয়।

জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ গোলাম ফারুক বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষে সশরীরে ক্লাসের কোনো বিকল্প নেই। তবে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা বিবেচনায় নিয়ে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী অনলাইনে ক্লাসের পরিধিও বাড়ানো প্রয়োজন। এতে কোনো শিক্ষার্থী সশরীরে একটি ক্লাস মিস করলে সে পরবর্তী সময়ে অনলাইনে ওই ক্লাসটি দেখে নিতে পারবে। এতে শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট টিউটরের কাছে যেতে হবে না। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াতের সময় নষ্ট হবে না।’

একই কথা বললেন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের পাশাপাশি বাইরে থেকে যেন শিখতে পারে, সে বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে। শ্রেণিকক্ষ থেকেই যে শিক্ষার্থীরা সবকিছু শিখবে, সেটি আর থাকবে না ভবিষ্যতে। তাই ডিজিটাল ক্লাসের সংখ্যা বাড়বে, এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। তবে কী পরিমাণ বাড়বে তা এখনই বলা সম্ভব নয়।’

ডিজিটাল ক্লাস বাড়ার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘করোনার সময়ে পৃথিবীর অনেক দেশেই অনলাইনে পুরোদমে ক্লাস হয়েছে। আমাদের পর্যাপ্ত সক্ষমতা না থাকায় আমরা শতভাগ সফল হতে পারিনি। ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে এ ধরনের উদ্যোগ ভালো। তবে এ কথাও ঠিক যে সশরীরে ক্লাসের কোনো বিকল্প নেই। তাই ডিজিটাল ক্লাস এবং সশরীরে ক্লাসের অনুপাত যে সঠিক হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।’

ডিজিটাল ক্লাসের পাশাপাশি সশরীরে ক্লাসেও সমান গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি মনে করেন, তাহলে শিক্ষার্থীরা উভয় ক্ষেত্র থেকেই লাভবান হবে।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর ২০২০ সালের ১৭ মার্চ সারা দেশে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। এর প্রায় দেড় বছর পর গত ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল-কলেজে ক্লাস শুরু হয়। তবে প্রতিদিন সব শ্রেণিতে ক্লাস হচ্ছে না।

শুধু চলতি বছরের ও আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ক্লাস নেয়া হচ্ছে। আর অন্যান্য শ্রেণির মধ্যে তৃতীয়, চতুর্থ, অষ্টম, নবম শ্রেণিতে দুই দিন এবং অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এক দিন ক্লাসে আসতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সব শিক্ষার্থীকে হলে তুলতে শিগগির সিদ্ধান্ত: ঢাবি ভিসি
খুলল ঢাবির হল, উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা
লক্ষ্মীপুরে প্রাথমিকের দুই শিক্ষার্থীর করোনা
চলতি মাসেই খুলছে বিশ্ববিদ্যালয়
আলিম পরীক্ষা শুরু ২ ডিসেম্বর

শেয়ার করুন