ঢাবিতে সশরীরে ক্লাস শুরু ১৭ অক্টোবর

ঢাবিতে সশরীরে ক্লাস শুরু ১৭ অক্টোবর

বিজ্ঞান অনুষদের ডিন আবদুস সামাদ বলেন, ‘আগামী ১৭ অক্টোবর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বর্ষের সশরীরে ক্লাস শুরু হবে। তবে কোনো বিভাগে সশরীরে ক্লাস নেয়া সম্ভব না হলে বা তারা কোনো সমস্যা দেখলে অনলাইনে ক্লাস নেবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ১৭ অক্টোবর থেকে সশরীরে ক্লাস শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের বৃহস্পতিবারের জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুস সামাদ।

বিকেল চারটা থেকে এ সভা শুরু হয়। পাঁচটায় সভা শেষ হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

বিজ্ঞান অনুষদের ডিন আবদুস সামাদ বলেন, ‘আগামী ১৭ অক্টোবর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বর্ষের সশরীরে ক্লাস শুরু হবে। তবে কোনো বিভাগে সশরীরে ক্লাস নেয়া সম্ভব না হলে বা তারা কোনো সমস্যা দেখলে অনলাইনে ক্লাস নেবে।

‘এর আগে ১৬ তারিখের মধ্যে সকল শিক্ষার্থীকে টিকা নিতে হবে। সশরীরে ক্লাস নেয়ার ক্ষেত্রে যেসব বিভাগের শিক্ষার্থী কম, তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে একসাথে ক্লাস নেবে। আর যেসব বিভাগে শিক্ষার্থী বেশি তাদের কয়েক শিফটে ক্লাস নিতে হবে, যেন স্বাস্থ্যবিধি এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকে।’

পরীক্ষার সময় ও নম্বর অর্ধেকে কমিয়ে এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের চূড়ান্ত পরীক্ষা অনলাইনে হচ্ছে। সশরীরে পরীক্ষার ক্ষেত্রে এ নিয়ম থাকবে কি না জানতে চাইলে আবদুস সামাদ বলেন, ‘এটা পরিবেশ, পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। ডাবল ডোজ টিকা নেয়ার পরও অনেক শিক্ষার্থী আক্রান্ত হওয়ার নজির আছে।

‘সে ক্ষেত্রে কোনো শিক্ষার্থীর যদি আগে থেকে করোনা হয়ে থাকে এবং তাকেসহ সে বিভাগের শিক্ষার্থীদের কোনো রুমে তিন বা চার ঘণ্টা একসাথে রাখা হয়, তখন সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই পরীক্ষার সময় কমিয়ে রাখা হলে শিক্ষার্থীরা দ্রুত চলে যেতে পারবে।’

দেড় বছরেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর খুলেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো। গত মঙ্গলবার সকাল ৮টায় খুলে দেয়া হয় হল।

দরজা খুলতেই ভেতরে প্রবেশে হুমড়ি খেয়ে পড়েন আগে থেকেই গেটের সামনে অপেক্ষায় থাকা শিক্ষার্থীরা। ফুল, মিষ্টি, চকলেট দিয়ে তাদের বরণ করেন হলের হাউস টিউটর ও কর্মকর্তারা।

হলে প্রবেশের আগে শিক্ষার্থীদের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নেয়ার সনদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র দেখাতে হয়।

আরও পড়ুন:
রোববার সবার জন্য খুলছে ঢাবির হল
খুলল ঢাবির হল, উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা
হলে ছাত্রদের জোরপূর্বক প্রবেশ: প্রভোস্ট কমিটির সভা সন্ধ্যায়
কারাগারে বসে ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা
জোর করে ঢাবির অমর একুশে হলে ছাত্ররা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শিক্ষার্থীরা ইউনিক আইডি পাবে কবে?

শিক্ষার্থীরা ইউনিক আইডি পাবে কবে?

প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মৌলিক ও শিক্ষাসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য এক জায়গায় রাখার জন্য তৈরি করা হচ্ছে ইউনিক আইডি। শিক্ষার্থীর বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হলে এই আইডি জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) রূপান্তরিত হবে।

দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীর জন্য একটি ‘ইউনিক আইডি’ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মৌলিক ও শিক্ষাসংক্রান্ত সব তথ্য থাকবে। কিন্তু করোনা মহামারিতে দীর্ঘদিন স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকা এবং কিছু আইনি জটিলতায় স্থবির হয়ে পড়ে এ কার্যক্রম।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবার পুরোদমে শুরু হয়েছে শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি তৈরির কার্যক্রম। তাদের আশা, আগামী বছরের শুরুতে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ১ কোটি ৬০ লাখ শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেয়া সম্ভব হবে ইউনিক আইডি।

প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি তৈরির জন্য বিদ্যালয় পর্যায়ে ডাটা এন্ট্রি দেয়া শুরু হবে আগামী মাসে। প্রথম ধাপে পাইলটিং হিসেবে ৮০টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি তৈরি করা হবে। সেটি সফল হলে ধাপে ধাপে সব শিক্ষার্থীকে এর আওতায় আনা হবে।

জানতে চাইলে মাধ্যমিক পর্যায়ের ইউনিক আইডির প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক মো. শামসুল আলম বলেন, ‘ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি প্রদানের কার্যক্রম করোনা পরিস্থিতি ও কিছু আইনি জটিলতায় আটকে ছিল। এখন সব ধরনের সমস্যার সমাধান হয়েছে। আশা করছি, আগামী বছরের শুরুতেই পর্যায়ক্রমে ১ কোটি ৬০ লাখ শিক্ষার্থীর হাতে ইউনিক আইডি তুলে দেয়া সম্ভব হবে।’

ইউনিক আইডি তৈরি কার্যক্রমের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ পর্যায়ে। খুব শিগগির শুরু হবে ডাটা এন্ট্রির কাজ। এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হতে থাকবে ইউনিক আইডি। তখন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দেখতে পাবে, তাদের কত শিক্ষার্থীর ইউনিক আইডি তৈরি হলো। এরপর আমরা পর্যায়ক্রমে ইউনিক আইডি ছাপিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করব।’

জন্মনিবন্ধন সনদ না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করতে পারছে না, এ ক্ষেত্রে করণীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে শামসুল আলম বলেন, ‘যেসব শিক্ষার্থীর ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন আছে, তাদের অভিভাবকদের শুধু এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) থাকলেই হবে। তবে যেসব শিক্ষার্থীর ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন নেই, তাদের অভিভাবকদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও জন্মনিবন্ধন দুটিই লাগবে। আইনগত কারণে এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেয়া সম্ভব নয়।’

প্রাথমিকের ডাটা এন্ট্রি শুরু আগামী মাসে

প্রাথমিকের ২ কোটিরও বেশি শিক্ষার্থীর ইউনিক আইডি তৈরির কাজ করছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এ জন্য ডাটা এন্ট্রির সফটওয়্যার তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। আশা করা হচ্ছে, আগামী মাস থেকে ডাটা এন্ট্রি দেয়া শুরু হবে।

জানতে চাইলে প্রাথমিকের ইউনিক আইডির প্রকল্প পরিচালক মো. মঞ্জুরুল আলম প্রধান বলেন, ‘প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি তৈরির জন্য বিদ্যালয় পর্যায়ে আগামী মাস থেকে সফটওয়্যারে ডাটা এন্ট্রি শুরু হবে। এ জন্য সফটওয়্যার তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। এরপর পাইলটিং হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানের ৮০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি তৈরি করা হবে। এরপর সেটি সফল হলে পুরোদমে শুরু হবে কাজ।’

কবে নাগাদ পাইলটিং শুরু হবে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘নির্দিষ্ট করে সময় বলা সম্ভব নয়। আশা করছি, আগামী মাসে ডাটা এন্ট্রি শুরু হলে খুব শিগগির পাইলটিং শুরু হবে।’

ইউনিক আইডি কেন?

প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মৌলিক ও শিক্ষাসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য এক জায়গায় রাখার জন্য তৈরি করা হচ্ছে ইউনিক আইডি। শিক্ষার্থীর বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হলে এই আইডি জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) রূপান্তরিত হবে।

ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি তৈরির দায়িত্বে আছে বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইজ)। আর প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি তৈরি করছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

কেন শিক্ষার্থীদের জন্য ইউনিক আইডি তৈরি করা হচ্ছে, এমন প্রশ্নে প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, ‘কোনো শিশু জন্মগ্রহণ করলেই সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগের অফিস অফ রেজিস্ট্রার জেনারেলের আওতায় তার জন্মনিবন্ধন হয়। আর ১৮ বছর পূর্ণ হওয়া সবার জন্য আছে জাতীয় পরিচয়পত্র। কিন্তু যারা প্রাইমারি, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী, অর্থাৎ যাদের বয়স ১৮-এর নিচে তারা এই সিস্টেমের বাইরে। এ জন্য তাদের সিস্টেমের মধ্যে আনতেই ইউনিক আইডি তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

ফরমে যেসব তথ্য দিতে হয়

স্ট্যাবলিশমেন্ট অফ ইন্টিগ্রেটেড এডুকেশনাল ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (আইইআইএমএস) প্রকল্পের আওতায় তৈরি করা চার পৃষ্ঠার ফরমে শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

ফরমে শিক্ষার্থীর নাম, জন্মনিবন্ধন নম্বর, জন্মস্থান, জেন্ডার, জাতীয়তা, ধর্ম, অধ্যয়নরত শ্রেণি, রোল নম্বর, বৈবাহিক অবস্থা, প্রতিবন্ধিতা (ডিজঅ্যাবিলিটি), রক্তের গ্রুপ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কি না, মা-বাবার নামসহ বেশ কিছু তথ্যের ঘর রয়েছে।

বৈবাহিক অবস্থার অপশন হিসেবে অবিবাহিত, বিবাহিত, বিধবা, বিপত্নীক ছাড়াও স্বামী-স্ত্রী পৃথক বসবাস, তালাকপ্রাপ্ত, বিবাহবিচ্ছেদের ঘরও রয়েছে ফরমে।

আরও পড়ুন:
রোববার সবার জন্য খুলছে ঢাবির হল
খুলল ঢাবির হল, উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা
হলে ছাত্রদের জোরপূর্বক প্রবেশ: প্রভোস্ট কমিটির সভা সন্ধ্যায়
কারাগারে বসে ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা
জোর করে ঢাবির অমর একুশে হলে ছাত্ররা

শেয়ার করুন

ঐতিহ্য ও গৌরবের জগন্নাথ ১৬৪ বছরে

ঐতিহ্য ও গৌরবের জগন্নাথ ১৬৪ বছরে

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ছবি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ২০ অক্টোবরকে ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। গৌরব ও সাফল্যের ১৬ বছরে ক্যাম্পাসের অনেক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও দেশের উচ্চ শিক্ষা প্রসারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এক অভূতপূর্ব ভূমিকা পালন করে আসছে। ১৮৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্রাহ্ম স্কুলের পরিবর্তিত রূপই এখনকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)। ২০০৫ সালে কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বীকৃতি পায় দেশের অন্যতম প্রাচীন এ বিদ্যাপীঠ। বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সাফল্যের ১৬ বছর পূর্ণ করে ১৭ বছরে পা দিয়েছে জগন্নাথ। পাশাপাশি ১৬৪ বছরে পা দিচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ২০ অক্টোবরকে ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। গৌরব ও সাফল্যের ১৬ বছরে ক্যাম্পাসের অনেক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও দেশের উচ্চ শিক্ষা প্রসারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এক অভূতপূর্ব ভূমিকা পালন করে আসছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির রয়েছে সুদীর্ঘ ইতিহাস।

১৮৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্রাহ্ম স্কুলের পরিবর্তিত রূপই এখনকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ১৮৭২ সালে বালিয়াটির জমিদার কিশোরী লাল রায় তার বাবা জগন্নাথ রায় চৌধুরীর নামে এই বিদ্যাপীঠের নামকরণ করেন। ১৮৮৪ সালে এটি একটি দ্বিতীয় শ্রেণির কলেজ ও ১৯০৮ সালে প্রথম শ্রেণির কলেজে পরিণত হয়।

এই সময় এটিই ছিল ঢাকার উচ্চ শিক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে জগন্নাথ কলেজের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কার্যক্রম বন্ধ করে ইন্টারমিডিয়েট কলেজে অবনমিত করা হয়।

ঐতিহ্য ও গৌরবের জগন্নাথ ১৬৪ বছরে

তৎকালীন জগন্নাথ কলেজের ডিগ্রির শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গ্রন্থাগারের বইপুস্তক ও জার্নাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার সাজাতে তৎকালীন জগন্নাথ কলেজ গ্রন্থাগারের ৫০ ভাগ বই দান করা হয়। পুরান ঢাকার নারী শিক্ষায় বাধা দূর করতে ১৯৪২ সালে সহশিক্ষা চালু করা হয়। ১৯৪৮ সালে তা বন্ধ করে দেয়া হয়।

পরে ১৯৪৯ সালে আবার এই কলেজে স্নাতক পাঠ্যক্রম শুরু হয়। ১৯৬৩ সালে অধ্যক্ষ সাইদুর রহমান পুনরায় সহশিক্ষা চালু করেন। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি সরকারীকরণ করা হলেও পরের বছরেই আবার এটি বেসরকারি মর্যাদা লাভ করে। ২০০৫ সালে মহান জাতীয় সংসদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৫ পাসের মাধ্যমে এটি একটি পরিপূর্ণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়।

পূর্বতন জগন্নাথ কলেজের শিক্ষার্থীরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে গণ্য হন। তাদের নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে। ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা প্রথম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা সনদ লাভ করেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০০৫-২০০৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান।

ঐতিহ্য ও গৌরবের জগন্নাথ ১৬৪ বছরে

বিশ্ববিদ্যালয়টি ১১ দশমিক ১১ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬টি অনুষদে ৩৬টি বিভাগ ও ২টি ইনস্টিটিউটে প্রায় ৬৭৯ শিক্ষক, ১৩ হাজার ১৬৫ শিক্ষার্থী, ৬৮৬ কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নতুন হলেও প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে সুদীর্ঘ দেড় শ বছরেরও পুরোনো ইতিহাস। বাংলদেশের ভাষা আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ৬ দফা ও ১১ দফার আন্দোলন এবং ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুথান ও মুক্তিযুদ্ধসহ প্রতিটি আন্দোলনের ইতিহাসে জগন্নাথের অবদান কখনও অস্বীকার করার মতো নয়।

পাকিস্তান আমলে সরকারবিরোধী আন্দোলন করায় প্রতিষ্ঠানটিকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয় তৎকালীন সরকার।

ভাষা আন্দোলনে জগন্নাথ

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে একাট্টা হয়ে জগন্নাথের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বরাবরের মতোই ছিল উল্লেখ করার মতো। ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে সংশোধনী প্রস্তাব বাতিল হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রদের মিছিলের মাধ্যমে ঢাকায় প্রথম প্রতিক্রিয়া শুরু হয় ২৬ ফেব্রুয়ারি। এসব প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ঢাকা শহরের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করেন। ভাষা আন্দোলনের সময় জগন্নাথ ও মেডিক্যাল কলেজে আলাদা করে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে উঠেছিল।

ঐতিহ্য ও গৌরবের জগন্নাথ ১৬৪ বছরে

রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করে ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত প্রথম পুস্তিকা ‘রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন’ এবং সাব-টাইটেল ছিল ‘কি ও কেন’? যার লেখক ছিলেন জগন্নাথের সাবেক শিক্ষার্থী অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান।

মাতৃভাষা বাংলার রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে প্রথম শহীদ হন জগন্নাথের ছাত্র রফিক উদ্দিন আহমদ। ৫২ সালে তিনি জগন্নাথের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলেন।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে প্রথম যে ১০ জন ১৪৪ ধারা ভেঙে ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন এই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র প্রখ্যাত কথাশিল্পী ও চলচ্চিত্র পরিচালক জহির রায়হান।

ভাষাসৈনিক মো. আবদুল জলিল এই প্রতিষ্ঠানে ছাত্র থাকা অবস্থায় ১৯৪৮ সালে ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ৫২ সালে জগন্নাথ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক শফিউদ্দিন আহমদকে ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করায় কারাবরণ করতে হয়।

ভাষাসৈনিক অজিত কুমার গুহ ১৯৪৮ সালের ১৬ আগস্ট জগন্নাথে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিয়ে একটানা প্রায় ২০ বছর কর্মরত ছিলেন। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের একজন বলিষ্ঠ সংগঠক হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জাতীয় অধ্যাপক ড. সালাহউদ্দীন আহমেদসহ অন্য শিক্ষকরা এখান থেকেই ছাত্রদের ভাষা আন্দোলনে উৎসাহিত করতেন। নুরু মোল্লা ১৯৫০ সালে এই প্রতিষ্ঠানে পড়ার সময় ‘সর্বদলীয় সেন্ট্রাল কমিটি অব অ্যাকশন’ নামে একটি কমিটি হয়। তিনি ওই কমিটির সদস্য ছিলেন।

ঐতিহ্য ও গৌরবের জগন্নাথ ১৬৪ বছরে

জগন্নাথের সাবেক শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশের অন্যতম সংবিধানপ্রণেতা এম. আমিরুল ইসলাম ১৯৫২ সালে চলমান ভাষা আন্দোলন ও পাকিস্তান গণপরিষদে লিয়াকত আলী খানের প্রস্তাবিত ‘বেসিক প্রিন্সিপল রিপোর্ট’-এর বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীতেও ভাষা আন্দোলনে জগন্নাথের অবদানের প্রমাণ পাওয়া যায়। বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, ‘‘১৯৪৮ সালের ১১ মার্চকে ‘বাংলাভাষা দাবি’ দিবস ঘোষণা করা হলো। সামান্য কিছুসংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাড়া শতকরা ৯০ ভাগ ছাত্র এই আন্দোলনে যোগদান করল। জগন্নাথ কলেজ, মিডফোর্ড মেডিক্যাল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ বিশেষ করে সক্রিয় অংশগ্রহণ করল।’’

সাবেক এমপি মরহুম আবদুর রব, মৃণাল বারড়ি ও খলিলুর রহমানের মতো জগন্নাথের নাম না জানা অসংখ্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন।

’৬২ থেকে ’৬৬-তে জগন্নাথ

১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের বীজ মূলত জগন্নাথ ও ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাস থেকেই বপন করা হয়। ঐতিহাসিক শিক্ষা আন্দোলনের নেতা হায়দার আকবর খান বলেন, ‘যতদূর মনে পড়ে জগন্নাথ কলেজ ও ঢাকা কলেজের কয়েকজন ছাত্র প্রথমে ছাত্রদের সমস্যার দিকে দৃষ্টিপাত করে কলেজ থেকেই আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটায়। পরবর্তীকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতারা এই আন্দোলনটি আঁকড়ে ধরেন।’

তৎকালীন সময়ে বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত ছয় দফা আন্দোলনেও জগন্নাথের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক ছয় দফা ঘোষিত হলে তার সমর্থনে সফল হরতাল পালনে ভূমিকা পালন করে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মুজিব বাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান কাজী আরেফ আহমেদ ও চিত্রনায়ক ফারুক।

৬ দফায় জগন্নাথ

১৭ জানুয়ারি ১৯৬৮ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হলে জগন্নাথ ছাত্র সংসদের উদ্যোগেই প্রথম প্রতিবাদ সভা হয়। বঙ্গবন্ধু জেল থেকে ছাড়া পেয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জগন্নাথ কলেজের ছাত্রদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘ আই অ্যাম অ্যাট দ্যা ডিসপোজল অব দ্যা স্টুডেন্টস অব জগন্নাথ কলেজ’।

১১ দফার অন্যতম দাবি ছিল তৎকালীন জগন্নাথ কলেজসহ সকল প্রাদেশিকীকরণ কলেজসমূহ পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেয়া। ১৯৬৯-এর গণ-অভুত্থানে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের বিরোধিতায় কলেজটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে সরকার বাধ্য হয়।

মহান মুক্তিযুদ্ধে জগন্নাথ

সর্বশেষ মহান মুক্তিযুদ্ধের ফল হিসেবে মূলত বাংলাদেশ নামের স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়।

২৫ মার্চ ১৯৭১, পাক বাহিনীর অপারেশন সার্চলাইট মিশনের প্রথম দিকে হামলা চালানো হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, ইকবাল হল ও রাজারবাগ পুলিশ লাইনে। শুরু হয় গণহত্যা।

জগন্নাথ কলেজের শিক্ষার্থীরা হল থেকে বের হয়ে পুরান ঢাকার রাজপথে প্রতিবাদ শুরু করেন। পুরান ঢাকা নিজেদের দখলে নিতে ক্যাম্পাসে তৈরি হয় হানাদার বাহিনীর ক্যাম্প।

প্রতিদিন পুরান ঢাকার মুক্তিকামী মানুষ ধরে এনে হত্যা করার পর গণকবর দেয়া হয় এই ক্যাম্পাসে। ৮ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে কর্তৃপক্ষ সে সময়কার ছাত্রসংসদ কার্যালয়ের সামনে গণকবর খনন করে সাতটি কঙ্কালসহ ছেঁড়া কাপড়, জুতা ইত্যাদি উদ্ধার করে।

যুদ্ধের পর দৈনিক পূর্বদেশ ও দৈনিক বাংলা পত্রিকায় জগন্নাথে পাক বাহিনীর নির্যাতন ও গণহত্যার ওপর প্রতিবেদন ছাপানো হয়। প্রতিবেদনে ভয়াবহ নারী নির্যাতন ও বিপুলসংখ্যক লোকের কঙ্কাল পাওয়ার খবর প্রকাশ পায়।

মুক্তিযুদ্ধে জগন্নাথের বহু ছাত্র ও শিক্ষক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেন। যাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বিখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা, গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া (বীর বিক্রম) ও গণিত বিভাগের তৎকালীন চেয়ারম্যান ড. আবুল কালাম আজাদ।

বিজয় লাভের আগ মুহূর্তে আবুল কালাম আজাদকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। যিনি আমাদের মাঝে এখনও ফিরে আসেননি। মুক্তিযুদ্ধে এই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র মিরাজ, আজমল, নজরুল ও শাহাবুদ্দিন শহীদ হন।

জগন্নাথের গুচ্ছ ভাস্কর্য

স্বাধীনতাকামী বাঙালির ওপর সংঘটিত অর্বণনীয় নির্যাতন এবং গণহত্যার চিত্র তুলে ধরে শহীদদের স্মরণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২০০৮ সালের ৩১ মার্চ নির্মাণ করা হয় মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি ও একাত্তরের গণহত্যা ভাস্কর্য। মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত যা দেশের একমাত্র গুচ্ছ ভাস্কর্য।

২০১০ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারি অনুদান বহাল রাখতে রাজপথে নেমে এসেছিলেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তুমুল আন্দোলনের মুখে জগন্নাথসহ ৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারি অনুদান বহাল রাখতে মহান জাতীয় সংসদে বিল পাস করা হয়।

জগন্নাথের কৃতি ব্যক্তিত্ব

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব কৃতি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর নাম গর্ব করে বলতেই হয় তারা হলেন শিক্ষক হাসান হাফিজুর রহমান, আলাউদ্দিন আল আজাদ, শওকত আলী, আখতারুজ্জামন ইলিয়াস, ইতিহাসবিদ ড. মাহমুদুল হাসান, সাংবাদিক রাহাত খান, আ ন ম বজলুর রহমান, অধ্যাপক সন্তোষ ভট্টাচার্য।

সংগীতশিল্পী সৈয়দ আবদুল হাদী, ড. শামসুজ্জামান খান, হায়াৎ মাহমুদ, বিক্রমপুরের ইতিহাসখ্যাত লেখক শ্রী যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত, গবেষক গোলাম মুরশিদ ও মির্জা হারুন-অর রশিদ, বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ, ভাষা শহীদ রফিক উদ্দিন আহমদও ছিলেন জগন্নাথের কৃতি ব্যক্তিত্ব।

কথাশিল্পী ও চলচ্চিত্র পরিচালক জহির রায়হান, প্রখ্যাত আয়ুর্বেদ শাস্ত্র বিশারদ যোগেশচন্দ্র ঘোষ, শিক্ষাবিদ ড. আনিসুজ্জামান, সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হক, ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেয়া সাঁতারু ব্রজেন দাস, বাঙালি কবি প্রেমেন্দ্র মিত্র ও শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনও ছিলেন বিশ্ববিদ্যায়টির কৃতি শিক্ষার্থী।

লেখক ও দৈনিক কালের কণ্ঠের সদ্য সাবেক সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দীন আহমেদ রাজু, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র সাইদ খোকন, অর্থনীতিবিদ ভবতোষ দত্ত, লেখক কাজী মোতাহার হোসেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ আর ইউসুফ, গায়ক ফকির আলমগীর, কিরণ চন্দ্র রায়, হায়দার হোসেন ও বিপ্লব, অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামান, জাহিদ হাসান, মীর সাব্বির, ফারুক ও প্রবীর মিত্র এবং জাদুকর জুয়েল আইচও জগন্নাথের কৃতি শিক্ষার্থী।

ক্রীড়া ক্ষেত্রে জগন্নাথ

ক্রীড়া ক্ষেত্রেও একসময় খ্যাতি ছিল এই বিদ্যাপীঠের। এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আন্তবিশ্ববিদ্যালয়, আন্তকলেজে ধারাবাহিক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন ছাড়াও শিক্ষার্থীরা জয় করেছিলেন রোনাল্ডসে শিল্ড, স্যার এ এফ রহমান শিল্ড, ফিরোজ নূন কাপসহ একাধিক টুর্নামেন্ট। এই বিদ্যাপীঠেরই শিক্ষার্থী ব্রজেন দাস ৬ বার ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে গড়েছেন বিশ্ব রেকর্ড।

তবে দুঃখজনক হলেও সত্য যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই জানেন না ক্রীড়ায় তাদের এই গৌরবের কথা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়াজগৎ আজ অনেকটাই মলিন। ক্রীড়াচর্চার পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় বড় পর্যায়ে সাফল্য দেখাতে পারছেন না জবিয়ানরা। ২০১৯ এসএ গেমসে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম স্বর্ণপদক জয়ী মারজান আকতার প্রিয়া এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানেরই শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

শুধু বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে জবির পরিমাপ করা যাবে না। জবিকে জ্ঞানের সূর্য বলা যায়। যা ১৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কেবল জ্ঞানের আলো দিয়েই যাচ্ছে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, দেশকে উজাড় করে দিলেও বলার মতো দেশ জবিকে কিছুই দেয়নি।

জগন্নাথকে এখনও অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের লজ্জা বহন করতে হয়। অবকাঠামোগত সমস্যা ও বাজেট বৈষম্যের শিকার বিশ্ববিদ্যালয়টি। ২৫ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য নেই পর্যাপ্ত পরিবহন ও ক্যান্টিন সুবিধা।

তবে খুশির বিষয় এই যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গত ৯ অক্টোবর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয় একনেক। যার মাধ্যমে কেরানীগঞ্জে প্রায় ২০০ একর জায়গার ওপর নির্মিত হবে আধুনিক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

আবাসিক ব্যবস্থা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের একমাত্র অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। এই অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তকমা ঘুচিয়ে ক্যাম্পাসের বিপরীত পাশে বাংলাবাজারসংলগ্ন ছাত্রীদের জন্য ‘বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল’ নামে ১৬ তলাবিশিষ্ট ১ হাজার আসনের একটি হলের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। তবে উদ্বোধন হলেও এখনও চালু হয়নি হলটি।

আবাসন ও যানবাহন সমস্যায় জর্জরিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মনোবল, সাহস ও পরিশ্রমী মানসিকতা অবাক করে অন্য সব বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের। ব্যয়বহুল ঢাকা শহরের মেস-বাসা-বাড়িতে কষ্টে দিন পার করা সত্ত্বেও তারা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে সর্বদা মাতিয়ে রাখেন।

উচ্চ শিক্ষার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

শুধু আন্দোলন আর সংগ্রামেই থেমে নেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। শত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। একটি আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নিজেদের জানান দিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন জবির শিক্ষার্থী ও শিক্ষার্থীরা।

শুরু থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়টির সকল বিভাগে সেমিস্টার পদ্ধতি চালু রয়েছে। অনেক আগেই ইউজিসির প্রতিবেদনে এ-গ্রেড ভুক্ত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা লাভ করেছে এই প্রতিষ্ঠানটি।

বিসিএসসহ সকল প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরিতে সক্ষমতা অর্জন করেছেন এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। ভর্তি পরীক্ষায় গোপন বার-কোড পদ্ধতি চালু করার মাধমে জালিয়াতি রোধে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আর ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথমবারের মতো চালু হয় লিখিত ভর্তি পরীক্ষা।

বাংলাদেশের জন্ম ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই ইতিহাস থেকে অবশ্যই আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। তবেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সার্থকতা লাভ করবে।

আরও পড়ুন:
রোববার সবার জন্য খুলছে ঢাবির হল
খুলল ঢাবির হল, উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা
হলে ছাত্রদের জোরপূর্বক প্রবেশ: প্রভোস্ট কমিটির সভা সন্ধ্যায়
কারাগারে বসে ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা
জোর করে ঢাবির অমর একুশে হলে ছাত্ররা

শেয়ার করুন

গণরুমে রান্না করলে সিট বাতিল

গণরুমে রান্না করলে সিট বাতিল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তাপসী রাবেয়া হলে গণরুমের ছাত্রীদের ডাইনিংয়ে খাওয়া বাধ্যতামূলক করেছে কর্তৃপক্ষ। ছবি: নিউজবাংলা

হল প্রাধ্যক্ষ ফেরদৌসী মহল বলেন, ‘দীর্ঘদিন হল বন্ধ থাকায় ইলেক্ট্রিসিটির লাইনসহ অনেক কিছু নষ্ট হয়ে গেছে। আজ সকালে গণরুমে গিয়ে দেখি সেখানে অনেকগুলো লাইট নষ্ট। ‘তারা যদি রান্না করতে গিয়ে কোনো দুর্ঘটনার শিকার হয় তার দায় কে নিবে?’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তাপসী রাবেয়া হলে গণরুমের ছাত্রীদের ডাইনিংয়ে খাওয়া বাধ্যতামূলক করেছে কর্তৃপক্ষ।

ওই হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ফেরদৌসী মহল এ বিষয়ে একটি আদেশ জারি করেছেন।

এতে বলা হয়, তাপসী রাবেয়া হলের গণরুমে (কলরব) অবস্থানকারী ছাত্রী রান্নার করতে পারবে না। তাদেরকে হল ডাইনিংয়ে খাওয়া বাধ্যতামূলক।

আদেশ না মানা হলে তাদের হলের সিট বাতিল করে দেয়া হবে বলেও উল্লেখ আছে আদেশে।

তবে এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গণরুমে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী। তাদের অভিযোগ, ডাইনিংয়ের খাবার মানসম্মত নয়। কিন্তু এরপরও তাদের তা খেতে বাধ্য করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হল প্রাধ্যক্ষ ফেরদৌসী মহল বলেন, ‘দীর্ঘদিন হল বন্ধ থাকায় ইলেক্ট্রিসিটির লাইনসহ অনেক কিছু নষ্ট হয়ে গেছে। আজ সকালে গণরুমে গিয়ে দেখি সেখানে অনেকগুলো লাইট নষ্ট। এই পরিস্থিতিতে তারা যদি রান্না করতে যায় তাহলে তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।’

হল ডাইনিংয়ে খাওয়া বাধ্যবাধকতা প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ডাইনিংয়ে তাদের জন্য মানসম্মত খাবার তৈরির দায়িত্ব নেয়া হয়েছে। এটা করা হয়েছে তাদের নিরাপত্তার জন্য।

‘তারা যদি রান্না করতে গিয়ে কোনো দুর্ঘটনার শিকার হয় তার দায় কে নিবে? আমরা যখন হলে ছিলাম তখন থেকে সব হলেই গণরুমে রান্নার কোনো নিয়ম ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আর যারা ব্লকে থাকে তাদের জন্য রান্না ঘরের ব্যবস্থা আছে, তারা সেখানে রান্না করে খেতে পারছে।’

বিশ্ববিদ্যালয় উপউপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে এখনও কিছু জানি না। তবে আমি হলটির প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলব। কি কারণে এমনটা করা হয়েছে জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
রোববার সবার জন্য খুলছে ঢাবির হল
খুলল ঢাবির হল, উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা
হলে ছাত্রদের জোরপূর্বক প্রবেশ: প্রভোস্ট কমিটির সভা সন্ধ্যায়
কারাগারে বসে ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা
জোর করে ঢাবির অমর একুশে হলে ছাত্ররা

শেয়ার করুন

করোনায় ৩ কোটি ৭০ লাখ শিশুর পড়াশোনা ব্যাহত

করোনায় ৩ কোটি ৭০ লাখ শিশুর পড়াশোনা ব্যাহত

প্রতিবেদনে এশিয়া অঞ্চলে শিক্ষার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শিক্ষা বাজেট গড়ে ১০ শতাংশ বৃদ্ধির পরামর্শ দেয়া হয়। ফাইল ছবি

ইউনিসেফ ও ইউনেস্কোর যৌথভাবে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালের প্রথম দিকে কোভিড-১৯ মহামারি শুরুর পর থেকে স্কুল বন্ধ থাকায় বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ শিশুর এবং দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পূর্ব এশিয়াসহ এশিয়ার প্রায় ৮০ কোটি শিশুর পড়াশোনা ব্যাহত হয়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় দেশের ৩ কোটি ৭০ লাখ শিশুর পড়াশোনা ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ এবং শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো।

মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালের প্রথম দিকে কোভিড-১৯ মহামারি শুরুর পর থেকে স্কুল বন্ধ থাকায় বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ শিশুর এবং দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পূর্ব এশিয়াসহ এশিয়ার প্রায় ৮০ কোটি শিশুর পড়াশোনা ব্যাহত হয়েছে।

ইউনিসেফ ও ইউনেস্কোর যৌথভাবে প্রকাশিত এশিয়ায় শিক্ষা খাতের ওপর ‘কোভিড-১৯ এর প্রভাব ও মোকাবিলা কার্যক্রম বিষয়ক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ’ (সিটএন রিপোর্ট) শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। দেড় বছর পর এ বছরের ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হয় প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

এখন চলতি বছরের ও আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ক্লাস নেয়া হচ্ছে।

অন্যান্য শ্রেণির মধ্যে অষ্টম, নবম, তৃতীয়, চতুর্থ শ্রেণিতে দুই দিন এবং অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একদিন ক্লাসে আসতে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্রমাগত স্কুল বন্ধ থাকার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলোর পরিণতি অত্যন্ত গুরুতর, যার মধ্যে রয়েছে পড়াশোনার ক্ষতি; মানসিক দুর্দশা; স্কুলের খাবার ও নিয়মিত টিকা না পাওয়া; কাঠামোগত শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকি এবং শিশুশ্রম ও বাল্য বিয়ে বেড়ে যাওয়া। এই ভয়াবহ পরিণতিগুলোর মধ্যে অনেকগুলো ইতোমধ্যে অসংখ্য শিশুকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং বাকী গুলো আগামী বছরগুলোতে অনুভূত হতে থাকবে।

প্রতিবেদনে পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ইউনিসেফের পরিচালক মার্কোলুইজি কোরসি বলেন, ‘শিক্ষা সেবার ব্যাঘাত শিশুদের ওপর, বিশেষ করে সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে থাকা শিশুদের ওপর যে প্রভাব ফেলেছে তা আমরা উপেক্ষা করতে পারি না। যখন স্কুল বন্ধ থাকে, তখন শিশুরা শেখার ও বেড়ে ওঠার সবচেয়ে বড় সুযোগটি হারায়।’

করোনার সময়ে বাংলাদেশে তিনজন শিক্ষার্থীর মধ্যে দু’জনের কাছে দূরশিক্ষণ সেবা পৌঁছানো যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বলা হয়, বাংলাদেশে মহামারির কারণে স্কুল বন্ধ থাকার সময়ে প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতি তিনজন শিক্ষার্থীর মধ্যে দু’জনের কাছে দূরশিক্ষণ সেবা পৌঁছানো যায়নি।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি মি. শেলডন ইয়েট বলেন, ‘১৮ মাস বন্ধ রাখার পর বাংলাদেশে এখন স্কুলগুলো খুলে দেয়া হয়েছে। শিক্ষার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দ্রুততার সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে এবং ডিজিটাল বৈষম্য কমিয়ে আনতে বিনিয়োগ করার এখনই সময়।’

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) হিসাব তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, সংকট কাটিয়ে উঠতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া না হলে এশিয়া অঞ্চলে ১ দশমিক ২৩ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে, যা এই অঞ্চলের ২০২০ সালের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫.৪ শতাংশের সমান।

প্রতিবেদনে এশিয়া অঞ্চলে শিক্ষার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শিক্ষা বাজেট গড়ে ১০ শতাংশ বৃদ্ধির পরামর্শ দেয়া হয়।

বলা হয়, এশিয়া যদি আগামী নয় বছরে জাতিসংঘের ২০৩০ সালের এজেন্ডার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার শিক্ষা বিষয়ক লক্ষ্য অর্জন করতে চায় তাহলে এ ধরনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শিক্ষা বাজেট গড়ে ১০ শতাংশ বাড়াতে হবে।

আরও পড়ুন:
রোববার সবার জন্য খুলছে ঢাবির হল
খুলল ঢাবির হল, উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা
হলে ছাত্রদের জোরপূর্বক প্রবেশ: প্রভোস্ট কমিটির সভা সন্ধ্যায়
কারাগারে বসে ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা
জোর করে ঢাবির অমর একুশে হলে ছাত্ররা

শেয়ার করুন

হামলার প্রতিবাদ পথনাটকে

হামলার প্রতিবাদ পথনাটকে

পথনাটকে দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উপর হামলার প্রতিবাদ জানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার বিভাগ। ছবি: নিউজবাংলা

মণ্ডপগুলোতে পূজা চলাকালীন কীভাবে আক্রমণ চালানো হয়েছে আর কীভাবে মণ্ডপ ভাঙচুর করে সেখানে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে, সেটির কাল্পনিক একটি চিত্র শৈল্পিক এ প্রতিবাদে মঞ্চস্থ করা হয়েছে।

কুমিল্লা, নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজামণ্ডপে ভাঙচুর, তাদের বাড়িঘরে আগুন দেয়ার বিরুদ্ধে শৈল্পিক প্রতিবাদ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ।

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলা এবং সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘দেখতে কি পাও, পুড়ছে বাংলা...’ শীর্ষক এক প্রতিবাদী নাট্য পরিবেশনার মাধ্যমে প্রতিবাদ জানান বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

‘গোল হয়ে আসুন সকলে, ঘন হয়ে আসুন সকলে’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত শৈল্পিক প্রতিবাদে বিভাগের শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

মণ্ডপগুলোতে পূজা চলাকালীন কীভাবে আক্রমণ চালানো হয়েছে আর কীভাবে মণ্ডপ ভাঙচুর করে সেখানে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে, সেটির কাল্পনিক একটি চিত্র শৈল্পিক এ প্রতিবাদে মঞ্চস্থ করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারীসহ প্রায় শতাধিক মানুষ এ পরিবেশনা উপভোগ করেছেন।

পরিবেশনার সময়ে বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. ইসরাফিল সাহিন, ড. সাইদুর রহমান লিপন, মোহাম্মদ আহসান খান এবং নাভেদ রহমানসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

পরিবেশানাটির মুখ্য তত্ত্বাবধায়ক তানভির নাহিদ খান বলেন, ‘শারদীয় দুর্গোৎসবে সারা দেশে ঘটে যাওয়া ঘটনা এই বাংলার হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনকে হুমকির মুখে ফেলে, অসাম্প্রদায়িক এই রাষ্ট্রকে সংকটাপন্ন করেছে। সমাজের একজন সচেতন মানুষ হিসেবে এই সাম্প্রদায়িক আচরণের প্রতিবাদ করা নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে হয়েছে। দেশকে বাঁচাতে হলে এই হামলা, সহিংসতা, উগ্র এবং ধর্মান্ধ আচরণ প্রশ্রয় না দিয়ে যার যার অবস্থান থেকে প্রতিহত করতে হবে।’

হামলার প্রতিবাদ পথনাটকে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পথনাটকে হামলার প্রতিবাদ।

বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহমান মৈশান বলেন, ‘ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ, এথনিক জাতীয়তাবাদ ও বুর্জোয়া শ্রেণিবাদ-এই সবই মুক্তিযুদ্ধের ভাবাদর্শের পরিপন্থি। এদেশে একজন মুসলমান ঠিক যতটুকু বাঁচার অধিকার রাখে, একজন হিন্দুও ততটুকুই অধিকার রাখে। বহু জাতির ও বহু ধর্মের বাংলাদেশকে বীভৎস সাম্প্রদায়িকতা ও বর্ণবাদ থেকে রক্ষার জন্য সবাই আওয়াজ তুলুন।’

বিভাগের চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান লিয়ন বলেন, ‘‘আমাদের দেশ অসাম্প্রদায়িক দেশ। ‘সকল ধর্ম, সকল জাতি সম অধিকার’ মুক্তিযুদ্ধের এই মূল প্রতিপাদ্য নিয়ে আমরা বাস করি। যখন এর ব্যত্যয় ঘটে তখন রচিত হয় অন্যায়। এটা নিজ মাতৃভূমি তথা আপন জনের সঙ্গে অন্যায়।

‘আমাদের বিভাগ সব সময় নাট্য এবং শিল্পের ভাষায় প্রতিবাদ করে। মানুষ হিসেবে, সচেতন নাগরিক হিসেবে এবং সর্বপরি শিল্পী হিসেবে দেশ ও মানবতার স্বার্থে আমাদের বিভাগের শিক্ষক- শিক্ষার্থীরা সব সময়ে সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে সক্রিয়।’

প্রসঙ্গত থিয়েটার পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ২০১৬ সালে নাসিরনগরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উপরে সাম্প্রদায়িক আক্রমণ, লুট ও তাণ্ডবের বিরুদ্ধে ‘আমি মালাউন বলছি’ শীর্ষক প্রতিবাদী পরিবেশনা উপস্থাপন করেন।

এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন সময়ের আন্দোলন সংগ্রামে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শৈল্পিক প্রতিবাদী নাট্য পরিবেশনা উপস্থাপন করে থাকেন।

আরও পড়ুন:
রোববার সবার জন্য খুলছে ঢাবির হল
খুলল ঢাবির হল, উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা
হলে ছাত্রদের জোরপূর্বক প্রবেশ: প্রভোস্ট কমিটির সভা সন্ধ্যায়
কারাগারে বসে ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা
জোর করে ঢাবির অমর একুশে হলে ছাত্ররা

শেয়ার করুন

ঢাবির সুফিয়া কামাল হলের আগুন নিয়ন্ত্রণে

ঢাবির সুফিয়া কামাল হলের আগুন নিয়ন্ত্রণে

ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের সদস্যরা ২০ মিনিটের চেষ্টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কবি সুফিয়া কামাল হলের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ছবি: নিউজবাংলা

ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আবদুল হালিম বলেন, ‘৮০৬ নম্বর রুমে গতকাল রাতে এক ছাত্রী ছিলেন। আজ সকালে উনার বাবা হার্ট অ্যাটাক করায় তিনি রুম থেকে দ্রুত বেরিয়ে যান। যাওয়ার সময় বৈদ্যুতিক ইস্ত্রির লাইন চালু রেখে যান। এখান থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কবি সুফিয়া কামাল হলের একটি কক্ষতে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের সদস্যরা ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এর আগে ৯টা ১৫ মিনিটে হলটির প্রদীপ্ত ভবনের অষ্টম তলায় ৮০৬ নম্বর রুম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে।

ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আবদুল হালিম বলেন, ‘৮০৬ নম্বর রুমে গতকাল রাতে এক ছাত্রী ছিলেন। আজ সকালে উনার বাবা হার্ট অ্যাটাক করায় তিনি রুম থেকে দ্রুত বেরিয়ে যান। যাওয়ার সময় বৈদ্যুতিক ইস্ত্রির লাইন ভুলে চালু রেখে যান। এখান থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।’

ফায়ার ম্যান সবুর হোসেন বলেন, ‘ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়নি। একটি তোষক, একটি টেবিল আর কিছু বইপত্র পুড়েছে। রুমে কেউ ছিল না। রুমটা বন্ধই ছিল। আইরন মেশিন থেকে হয়ত আগুনের সুত্রপাত।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. গোলাম রাব্বানী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হলের একটি রুমে আগুন লেগেছে। ফায়ার সার্ভিসকে দ্রুত জানানোই তারা দ্রুত চলে আসে। বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে। তাদের ভাষ্য, কোন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস সেই রুমে অনেকক্ষণ কানেক্ট ছিল। কিন্তু রুমে কেউ ছিল না। তাই সেখান থেকে আগুনের সুত্রপাত।’

গোলাম রাব্বানী আরও বলেন, ‘হলে কিন্তু আগুন লাগেনি। হলের কোন ব্লকেও আগুন লাগেনি। শুধু একটি কক্ষে আগুন লেগেছে। সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে বিষয়টি খেয়াল রাখবেন।’

রাত দশটার দিকে ঘটনাস্থলে আসেন উপ উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সামাদ। এর আগে হলে প্রবেশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আবদুর রহীম এবং হল প্রভোস্ট অধ্যাপক শামিম বানু।

ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়, ৮০৬ নম্বর রুমের শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সুত্রপাত। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। কেউ হতাহত হয়নি।

ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার দেওয়ান আজাদ বলেন, আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা হল থেকে নিচে নেমে আসেন। খবর পেয়ে আগুন নিভাতে ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট সুফিয়া কামাল হলে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে।

আরও পড়ুন:
রোববার সবার জন্য খুলছে ঢাবির হল
খুলল ঢাবির হল, উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা
হলে ছাত্রদের জোরপূর্বক প্রবেশ: প্রভোস্ট কমিটির সভা সন্ধ্যায়
কারাগারে বসে ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা
জোর করে ঢাবির অমর একুশে হলে ছাত্ররা

শেয়ার করুন

স্বাধীনতাবিরোধীরাই সাম্প্রদায়িক হামলা চালাচ্ছে: জবি উপাচার্য

স্বাধীনতাবিরোধীরাই সাম্প্রদায়িক হামলা চালাচ্ছে: জবি উপাচার্য

সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন করে জবি শিক্ষক সমিতি। ছবি: নিউজবাংলা

সমাবেশে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক বলেন, ‘যারা কখনোই এ দেশের স্বাধীনতা চায়নি, স্বাধীনতার বিরোধিতা করে এসেছে, নানান সময়ে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে, তারাই সারা দেশে পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক হামলা চালাচ্ছে।’

স্বাধীনতাবিরোধীরাই সারা দেশে সাম্প্রদায়িক হামলা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মঙ্গলবার জবি শিক্ষক সমিতি (জবিশিস) আয়োজিত সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানবন্ধনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘যারা কখনোই এ দেশের স্বাধীনতা চায়নি, স্বাধীনতার বিরোধিতা করে এসেছে, নানান সময়ে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে, তারাই সারা দেশে পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক হামলা চালাচ্ছে।’

উপাচার্য আরও বলেন, ‘দেশে এমন কোনো ঘটনা ঘটলেই এটিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলা হয়। কিন্তু এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা না। যারা এ দেশকে কখনো চায়নি, তারা নানাভাবে ষড়যন্ত্র করছে। দেশে যে ধরনের ঘটনা ঘটছে এসব তাদেরই পরিকল্পনা।

‘দেশে আমরা হাজার বছর ধরে অসাম্প্রদায়িকতার ঐতিহ্য নিয়ে বাস করি। হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান যারা আছি, সবাই এক পরিবারের মতো বসবাস করি। এভাবেই আমরা চলে আসছি শত শত বছর ধরে। সরকারও সব সময় চায়, দেশ শান্তিপূর্ণ থাকুক। মানুষ শান্তিতে থাকুক। তাই ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের এসব ঘটনা প্রতিহত করতে হবে।’

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ বলেন, ‘দেশের চলমান পরিস্থিতি স্বাধীনতাবিরোধীদের পরিকল্পিত। তারা দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করার পাঁয়তারা করছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সচেতনার মাধ্যমে আমাদের প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে। জবি সব সময়ই এসব সাম্প্রদায়িক হামলার বিরুদ্ধে অবস্থান করবে।’

শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নূরে আলম আব্দুল্লাহর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. শামীমা বেগমের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে বক্তারা সারা দেশে চলমান সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদসহ দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

সম্প্রতি দেশজুড়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয় ভাঙচুর ও তাদের বাড়িঘরে হামলার প্রতিবাদে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

আরও পড়ুন:
রোববার সবার জন্য খুলছে ঢাবির হল
খুলল ঢাবির হল, উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা
হলে ছাত্রদের জোরপূর্বক প্রবেশ: প্রভোস্ট কমিটির সভা সন্ধ্যায়
কারাগারে বসে ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা
জোর করে ঢাবির অমর একুশে হলে ছাত্ররা

শেয়ার করুন